পরীক্ষা আর্কাইভ

নৈতিকতা, মূল্যবোধ ও সুশাসন

পরীক্ষানৈতিকতা, মূল্যবোধ ও সুশাসনতারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়07 minutes
মোট প্রশ্ন১২
সিলেবাস
পরীক্ষা – ২ টপিক: i) সু-শাসনের বৈশিষ্ট্য, শর্ত, উপাদান, স্তম্ভ, সু-শাসন ও বিভিন্ন সংস্থা সু-শাসন সম্পর্কিত সূচক, বই, টার্ম। ii) নীতিবিদ্যার ধারণা, বৈশিষ্ট্য, প্রকারভেদ, আদর্শ। [Live Class – 3 & 4]
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

নৈতিকতা, মূল্যবোধ ও সুশাসন

নৈতিকতা, মূল্যবোধ ও সুশাসন · তারিখ অনির্ধারিত · ১২ প্রশ্ন

.
নীতিবিদ ম্যুর-এর মতে, শুভর ______ ও অশুভর প্রতি _______ হচ্ছে নৈতিকতা।
  1. রাগ, অনুরাগ
  2. অনুরাগ, বিরাগ
  3. বিরাগ, অনুরাগ
  4. অনুরাগ, রাগ
ব্যাখ্যা
নৈতিকতা:
- নৈতিকতা মূলত ব্যক্তিগত ও সামাজিক ব্যাপার।
- নৈতিকতার অর্থ সঠিক আচরণ বা চরিত্র'।
- নৈতিকতা হচ্ছে ভালো-মন্দ আচরণ, স্বচ্ছতা, সততা ইত্যদির সাথে সম্পর্কযুক্ত একটি বিশেষগুণ।
- তাই নৈতিকতাকে বলা হয় মানবজীবনের নৈতিক আদর্শ।
- জোনাথান হেইট এর মতে, 'ধর্ম, ঐতিহ্য এবং মানব আচরণ- তিনটি থেকেই নৈতিকতার উদ্ভব হয়েছে।'

⇒ সক্রেটিস বলেছেন, 'সৎ গুণই জ্ঞান' (Virtue is knowledge)।
- নীতিবিদ ম্যুর বলেছেন, শুভর প্রতি অনুরাগ ও অশুভর প্রতি বিরাগই হচ্ছে নৈতিকতা।
- Collins English Dictionary- তে বলা হয়েছে যে, 'Morality is concerned with on negating to human behaviour, esp. the distinction between good and bad and right and wrong behaviour-.
 
উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
.
নিম্নোক্ত সংস্থাগুলোর মধ্যে কোনটি সুশাসনের সর্বোচ্চ সংখ্যক উপাদান বর্ণনা করেছে?
  1. জাতিসংঘ
  2. ইউএনডিপি
  3. বিশ্বব্যাংক
  4. জাতিসংঘ মানবাধিকার কমিশন
ব্যাখ্যা
UNDP ও সুশাসন:
- UNDP-এর মতে, “একটি দেশের সার্বিক স্তরের কার্যাবলি পরিচালনার জন্য অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক এবং প্রশাসনিক কর্তৃত্বের চর্চার বা প্রয়োগের পদ্ধতিই হলো সুশাসন”।
- UNDP ১৯৯৭ সালে 'স্থায়ী মানব উন্নয়নের জন্য শাসন' (Governance for Sustainable Human Development) শিরোনামে এর নীতি নথিতে সুশাসনের সংজ্ঞা নির্ধারণ করেছে।
- এতে বলা হয়েছে- "কোন দেশের অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষের সকল পর্যায়ের কাজে। মধ্যে শাসনপ্রক্রিয়া প্রত্যক্ষ করা যায়।"

• UNDP এর মতে সুশাসনের উপাদান ৯টি। এগুলো হলো:
- স্বচ্ছতা, আইনের শাসন, সকলের অংশগ্রহণ, সংবেদনশীলতা, সংখ্যাগরিষ্ঠ মতের প্রাধান্য, সমতা, ন্যায্যতা, জবাবদিহিতা কৌশলগত লক্ষ্য।

অন্যদিকে,
- জাতিসংঘের মতে, সুশাসনের মূল উপাদান ৮টি।
- বিশ্বব্যাংকের এর মতে, সুশাসনের মূল উপাদান ৬টি।
- জাতিসংঘ মানবাধিকার কমিশন বা UNHCR এর মতে, সুশাসনের মূল উপাদান ৫টি।

উৎস: i) পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) সংশ্লিষ্ট সংস্থার ওয়েবসাইট।
.
সুশাসন প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশে কবে 'মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইন' কার্যকর করা হয়?
  1. ২০০৯ সালে
  2. ২০১০ সালে
  3. ২০১১ সালে
  4. ২০১২ সালে
ব্যাখ্যা
সুশাসন ও বাংলাদেশ:
- সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সরকার নানামুখী পদক্ষেপ নিয়েছে।
- সোনার বাংলা গড়ার প্রত্যয়ে ২০১২ সালে জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল বাস্তবায়ন করতে চলছে। প্রত্যেক বছর সরকার প্রতিটি বিভাগে শুদ্ধাচার পুরস্কার প্রদান করছে।
- দুর্নীতি দমনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে আইন প্রণীত হয়েছে তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো 'সন্ত্রাস বিরোধী আইন, ২০০৯', 'তথ্য অধিকার আইন, ২০০৯', 'ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯', 'সরকারি অর্থ ও বাজেট ব্যবস্থাপনা আইন, ২০০৯', 'জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন, ২০০৯', 'চার্টার্ড সেক্রেটারিজ আইন, ২০১০', 'জনস্বার্থ-সংশ্লিষ্ট তথ্য প্রকাশ (সুরক্ষা প্রদান) আইন, ২০১১', 'মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইন, ২০১২', 'মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২', 'প্রতিযোগিতা আইন, ২০১২' ইত্যাদি।

⇒ বাংলাদেশ জাতিসংঘের United Nations Convention Against Corruption (UNCAC) এর অনুসমর্থনকারী দেশ।
- দুর্নীতি নির্মূলের জন্য 'ফৌজদারি আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ ও আন্তর্জাতিক আইনের মাধ্যমে দুর্নীতির প্রতিকার ছাড়াও দুর্নীতির ঘটনা যাতে না ঘটে তার জন্য প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণকে' সবচেয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে এই
কনভেনশনে।
- বাংলাদেশের ষষ্ঠ পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা (২০১১-২০১৬) এবং 'রূপকল্প ২০২১' এবং 'পরিপ্রেক্ষিতে পরিকল্পনা ২০১০-২০২১'-এও সমধর্মী কর্মসূচি চিহ্নিত করা হয়েছে।

এছাড়া,
- সুশাসন নিশ্চিতে জরুরি সেবার হটলাইন চালু করেছে সরকার।
- তাহলো বাংলাদেশের জরুরি কল সেন্টার ৯৯৯; দুর্নীতি দমন কমিশনের কল সেন্টার ১০৬; সরকারি আইনি সহায়তা কল সেন্টার ১৬৪৩০; কৃষি বিষয়ক যে কোন পরামর্শ পেতে বিনামূল্যে কল করুন ১৬১২৩; নারী নির্যাতন বা বাল্যবিবাহ হতে দেখলেই বিনামূল্যে কল করুন এই নাম্বারে ১০৯ ইত্যাদি।
- সর্বোপরি সুশাসন বাস্তবায়ন সরকারের একার পক্ষে সম্ভব নয়। সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় কাঙ্ক্ষিত সোনার বাংলা গঠন করা সম্ভব হবে।

উৎস: তথ্য অধিদপ্তর ওয়েবসাইট।
.
'Hedonism' বলতে বোঝায় -
  1. সুখবাদ
  2. আকারবাদ
  3. পূর্ণতাবাদ
  4. স্বজ্ঞাবাদ
ব্যাখ্যা
সুখবাদ:
- গ্রীক 'hedone' শব্দের অর্থ 'সুখ' (pleasure)।
- কাজেই, যে মতবাদ অনুসারে সুখই জীবনের পরমার্থ, তাকে বলা হয় 'Hedonism' বা 'সুখবাদ'।
- সাধারণত সেইসব প্রত্যক্ষবাদী দার্শনিক (empiricists) সুখবাদের সমর্থক যারা মনে করেন যে, মানুষ মূলত ইন্দ্রিয়াসক্ত এবং ইন্দ্রিয়সেবার মাধ্যমে সুখলাভই তার একমাত্র লক্ষ্য।
 মানুষের জীবনে সুখই কেবল স্বতঃমূল্যবান, আর সবই পরতঃমূল্যবান।
- আমরা অর্থ, বিত্ত, স্বাস্থ্য ইত্যাদি কামনা করি ঐ সবের জন্য নয়, কামনা করি সুখের আশায়।
- সুখকে কামনা করি কেবল সুখের জনাই।
- সুখবাদীরা সুখের বিচারে কর্মের নৈতিক বিচার করেন যে কাজ দুঃখের তুলনায় অধিক পরিমাণে সুখ দেয় তা 'ভাল', আর যে কাজ সুখের তুলনায় অধিক পরিমাণে দুঃখ দেয় তা 'মন্দ'।

⇒ আত্মসুখবাদ ও সর্বজনীন সুখবাদ, স্থুল সুখবাদ ও সুক্ষ্ম সুখবাদ ইত্যাদি বিভিন্ন ধরনের সুখবাদ রয়েছে।

অন্যদিকে,
- স্বজ্ঞাবাদ (Intuitionism): স্বজ্ঞা এমন একটি বৃত্তি যার সাহায্যে আমরা প্রত্যক্ষভাবে বুদ্ধি বা সংবেদনের সাহায্য ছাড়াই কোন কিছু সম্পর্কে নিশ্চিত জ্ঞানলাভ করতে পারি।
- আকারবাদ (IFormalism): নৈতিকতা সামাজিক ব্যাপার হলেও এর মর্যাদার কারণেই এর ভিত্তিটি মানবিক অভিজ্ঞতার ঊর্ধ্বে বিশুদ্ধ বুদ্ধিতে প্রোথিত। ঐ উৎস থেকে নিয়ম বা আইনের আকারে এ উৎসারিত হয়।
- পূর্ণতাবাদ (Perfectionism): পূর্ণতাকে যে নীতি নৈতিকতার মান হিসেবে গ্রহণ করে তাকে পূর্ণতাবাদ বলে। একে বুঝতে হলে পূর্ণতা শব্দটির অর্থ সম্পর্কে আমাদের জানতে হবে।

উৎস: i) Sitaram Mahato Memorial College.
ii) নীতিবিদ্যা, দর্শন চতুর্থ পর্ব, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
নীতিবিদ্যার কোন ধারা অভিজ্ঞতানির্ভর ও বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিকোণ থেকে রচিত?
  1. বর্ণনামূলক নীতিবিদ্যা
  2. পরানীতিবিদ্যা
  3. ব্যবহারিক নীতিবিদ্যা
  4. মানমূলক নীতিবিদ্যা
ব্যাখ্যা
নীতিবিদ্যার মূল ধারা:
- নীতিবিদ্যার চারটি ও ধারা বা ধরনের কথা চিন্তা করা যায়।
- এগুলো হচ্ছে বর্ণনামূলক নীতিবিদ্যা, মানমূলক নীতিবিদ্যা, বিশ্লেষণী বা পরানীতিবিদ্যা ও ব্যবহারিক নীতিবিদ্যা।

১. বর্ণনামূলক নীতিবিদ্যা:
- বর্ণনামূলক নীতিবিদ্যা মূলত অভিজ্ঞতানির্ভর ও বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিকোণ থেকে রচিত। এর প্রকৃষ্ট উদাহরণ হচ্ছে বিবর্তনবাদী নীতিবিদ্যা। বিবর্তনবাদ নিম্ন শ্রেণীর প্রাণী থেকে উচ্চ শ্রেণীর প্রাণীর বিকাশের কথা বলে। এই নীতি বিভেদ শেষপর্যন্ত ভালমন্দের বিভেদে পরিণত হয়। আচরণের ক্ষেত্রে এই এ ভাল মন্দ ধারণা এ সম্প্রসারিত হলে নৈতিকতার উদ্ভব ঘটে।

২. মানমূলক নীতিবিদ্যা:
- মানমূলক নীতিবিদ্যায় কতগুলো মানদন্ড বা আদর্শের আলোকে আমাদের আচরণের ভালমন্দ নির্ণিত হয়।

৩. বিশ্লেষণী নীতিবিদ্যা বা পরানীতিবিদ্যা:
- পরানীতিবিদ্যা হচ্ছে নৈতিক পদ ও অবধারণ তথা নৈতিক ভাষার অর্থ ও যুক্তি সংক্রান্ত আলোচনা। নীতিবিদ্যার যে শাখায় নৈতিক মূল্যায়নের জন্য ব্যবহৃত গুরুত্বপূর্ণ পদগুলির অর্থ নিরূপণ করাহয়, তাকে পরানীতিবিদ্যাবলে। পরানীতিবিদ্যাকে দ্বিতীয় স্তরের অনুসন্ধান বলে অভিহিত করা হয়।

৪.ব্যবহারিক নীতিবিদ্যা:
- ব্যবহারিক নীতিবিদ্যার লক্ষ্য হলো আমাদের বাস্তব জীবনের কিছু চলতি সমস্যাকে নৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিচার করা। নীতিবিদ্যার যে শাখায় নীতিতাত্ত্বিকেরা আমাদের জীবনের বাস্তব সমস্যাগুলির আলোচনা করেন, তাকে ব্যাবহারিক নীতিবিদ্যা বলে। পরিবেশ রক্ষা, প্রাণীহত্যা, আত্মহত্যা, কৃপাহত্যা প্রভৃতি বিষয়গুলি ব্যাবহারিক নীতিবিদ্যার আলোচ্য বিষয়।

উৎস: নীতিবিদ্যা, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ অনুযায়ী নিম্নের কোনটি গুরুদণ্ড?
  1. নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য বেতন বৃদ্ধি স্থগিতকরণ
  2. চাকরি হতে অপসারণ
  3. তিরস্কার
  4. ক্ষতিপূরণ আদায়
ব্যাখ্যা
সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮:
- সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮ এর দশম অধ্যায়ের ৩২ নং অনুচ্ছেদ অনুসারে কেবলমাত্র নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষকে লঘু ও গুরু দন্ড আরোপের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। যার কারণে নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষের অধস্তন কোনো কর্তৃপক্ষের বা ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষের বা কর্মচারীর বিভাগীয় মামলায় এই ধারায় উল্লিখিত গুরু বা লঘু দন্ড আরোপের এখতিয়ার বা ক্ষমতা নাই। এই ধারায় এই ক্ষমতা অর্পণেরও কোনো বিধান রাখা হয় নাই। যদিও সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ অনুযায়ী নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ কর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষের বা কর্মচারীর লঘু দন্ড আরোপের ক্ষমতা রয়েছে, যা এই আইনের পরিপন্থী হওয়ায় এই আইনের আওতাধীন কর্মচারীদের জন্য শৃংখলা ও আপীল বিধিমালার আইনটি অকার্যকর।

দণ্ড:
- নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ, বিভাগীয় কার্যধারায় দোষী সাব্যস্ত কোনো কর্মচারীকে এতৎসংক্রান্ত বিধির বিধান সাপেক্ষে, নিম্নবর্ণিত এক বা একাধিক লঘু বা গুরুদণ্ড আরোপ করতে পারবে, যথা:

• লঘু দণ্ডসমূহ:
- তিরস্কার;
- নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য পদোন্নতি বা বেতন বৃদ্ধি স্থগিতকরণ;
- বেতন স্কেলের নিম্নধাপে অবনমিতকরণ;
- কোনো আইন বা সরকারি আদেশ অমান্যকরণ অথবা কর্তব্যে ইচ্ছাকৃত অবহেলার কারণে সরকারি অর্থ বা সম্পত্তির ক্ষতি সংঘটিত হইলে যথোপযুক্ত ক্ষতিপূরণ আদায়।

• গুরু দণ্ডসমূহ:
- নিম্ন পদ বা নিম্নতর বেতন স্কেলে অবনমিতকরণ;
- বাধ্যতামূলক অবসর প্রদান;
- চাকরি হতে অপসারণ;
- চাকরি হতে বরখাস্ত।

উৎস: সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮।
.
'নীতিবিদ্যা হল সমাজে বসবাসকারী মানুষের আচরণ সম্পর্কিত এমন একটি আদর্শনিষ্ঠ বিজ্ঞান'- উক্তিটি করেছেন -
  1. পি. ডব্লিও. টেইলার
  2. উইলিয়াম লিলি
  3. উইলিয়াম. কে. ফ্রাংকেনার
  4. জে.এস. ম্যাকেনজি
ব্যাখ্যা
নীতিবিদ্যার কিছু প্রচলিত সংজ্ঞা:
⇒ বিংশ শতাব্দীর মধ্যভাগে উইলিয়াম লিলি'র মতে নীতিবিদ্যা হচ্ছে, "সমাজে বসবাসকারী মানুষের আচরণের একটি আদর্শনিষ্ঠ বিজ্ঞান যা যথোচিত-অযথোচিত, ভাল-মন্দ কিংবা অনুরূপ পার্থক্যের ভিত্তিতে আচরণের বিচার করে"।

অন্যদিকে, 
⇒ উইলিয়াম. কে. ফ্রাংকেনার মতে নীতিবিদ্যা হচ্ছে, "নৈতিকতা, নৈতিক সমস্যা এবং নৈতিক অবধারণ সম্পর্কিত দার্শনিক চিন্তা"।

⇒ পি. ডব্লিও. টেইলার নীতিবিদ্যাকে বলেছেন, "নৈতিকতার প্রকৃতি এবং ভিত্তি সম্পর্কে দার্শনিক অনুসন্ধান।"

⇒ ডি.ডি. রাফায়েলের মতে, "আদর্শ বা মূল্য সম্পর্কে, যথোচিত-অযথোচিত এবং শুভ-অশুভের ধারণা সম্পর্কে অথবা কি করা উচিত এবং কি করা উচিত নয় সে সম্পর্কে দার্শনিক অনুসন্ধান হচ্ছে নীতিদর্শন"।

⇒ জে.এস. ম্যাকেনজি নীতিবিদ্যাকে এমন একটি বিদ্যা হিসেবে গণ্য করেছেন যা মানুষের আচরণের যথোচিত্য বা ভালত্ব নিয়ে আলোচনা করে। তাঁর ভাষায় "নীতিবিদ্যা হচ্ছে আচরণের সাধারণ মতবাদ এবং মানুষকে তাদের যথোচিত্য ও অ-যথোচিত্য এবং তাদের শুভ বা অশুভের প্রবণতার নিরিখে বিবেচনা করে"।

উৎস: নীতিবিদ্যা, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
'মানুষ সবকিছুর পরিমাপক'- উক্তিটি কোন মতবাদের ধারণাকে প্রকাশ করে?
  1. অভিজ্ঞতাবাদ
  2. অস্তিত্ববাদ
  3. স্বজ্ঞাবাদ
  4. ভাববাদ
ব্যাখ্যা
অভিজ্ঞতাবাদ:
- অভিজ্ঞতাবাদ জ্ঞানের উৎপত্তি সম্পর্কে এমন একটি মতবাদ, যা অভিজ্ঞতাকেই জ্ঞানের একমাত্র উৎস বলে মনে করে।
- অভিজ্ঞতাবাদের ইতিহাস আলোচনা করলে দেখা যায়, প্রাচীন গ্রিসের পরমাণুবাদীরা এবং সোফিস্টরা সর্বপ্রথম অভিজ্ঞতাবাদের কথা প্রচার করেন।
- সোফিস্টদের মতে, ইন্দ্রিয়-প্রত্যক্ষণই জ্ঞান লাভের একমাত্র উপায়।
- প্রোটাগোরাস-এর মতে, ‘মানুষই সবকিছুর পরিমাপক বা নির্ধারক।’

অন্যদিকে,
- স্বজ্ঞাবাদ: স্বজ্ঞাবাদ জ্ঞানের উৎপত্তি সম্পর্কীয় এমন একটি মতবাদ, যা স্বজ্ঞাকে জ্ঞানের একমাত্র উৎস বলে মনে করে। স্বজ্ঞাবাদ অনুসারে অভিজ্ঞতা বা বুদ্ধি জগত ও জীবন সম্পর্কে সঠিক জ্ঞান দিতে পারে না। একমাত্র সজ্ঞাই জগত ও জীবন সম্পর্কে সঠিক জ্ঞান দিতে পারে।

- ভাববাদ: ভাববাদ এমন একটি দার্শনিক মতবাদ, যা ভাব বা ধারণা বা আত্মাকে একমাত্র প্রকৃত সত্তা বলে মনে করে। ভাববাদকে অধ্যাত্মবাদও বলা হয়ে থাকে। অর্থাৎ এ মতবাদ অনুসারে মন বা আত্মাই প্রাথমিক ও মৌলিক সত্তা। জড়বাদ যেমন জড় থেকে সব বস্তুর উৎপত্তির কথা বলে, তেমনি ভাববাদ যাবতীয় বস্তুর সৃষ্টির মূলে মন, ধারণা, চিন্তা বা আত্মার কথা বলে। জড়, গতি, শক্তি ইত্যাদি বস্তুতান্ত্রিক কথার পরিবর্তে ভাববাদ আত্মা, চেতনা, চিন্তা, বুদ্ধি ইত্যাদির কথা বলে। 

- অস্তিত্ববাদ: অস্তিত্ববাদ স্বাধীনতার ওপর অধিকতর গুরুত্ব আরোপ করে। কোন অর্থে মানুষ স্বাধীন, কতটুকু স্বাধীন ইত্যাদির ব্যাখ্যা দেওয়ার মাধ্যমে মানুষকে সচেতন করাই অস্তিত্ববাদের মুখ্য উদ্দেশ্য। অস্তিত্ববাদের মতে, মানুষ স্বাধীনতার মধ্য দিয়েই মূল্যের মাপকাঠি তৈরি করে এবং নিজেই নিজের অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে তা বাস্তব জীবনে প্রয়োগ করে। 

উৎস: i) জ্ঞানতত্ত্ব, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) Britannica.
.
নিম্নের কোনটি নাগরিকের দায়িত্ব নয়?
  1. নিয়মিত কর প্রদান
  2. জাতীয় সম্পদ রক্ষা
  3. বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিতকরণ
  4. সৎ ও যোগ্য নেতৃত্ব নির্বাচন
ব্যাখ্যা
বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিতকরণ নাগরিকের দায়িত্ব নয়, এটি সরকারের দায়িত্ব।

নাগরিকের দায়িত্ব:

- কর্তব্য বলতে নাগরিকের দায়িত্ব বোঝায়।
- নাগরিকগণ যেমন রাষ্ট্র প্রদত্ত অধিকার ভোগ করে, তেমনি রাষ্ট্রের প্রতি নাগরিকের কর্তব্যও রয়েছে।

• সুশাসন প্রতিষ্ঠায় নাগরিকের কর্তব্য:
- সামাজিক দায়িত্ব পালন।
- রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য প্রদর্শন।
- আইন মান্য করা।
- সৎ ও যোগ্য নেতৃত্ব নির্বাচন
- নিয়মিত কর প্রদান
- রাষ্ট্রের সেবা করা।
- সন্তানদের শিক্ষাদান।
- রাষ্ট্রীয় উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ।
- জাতীয় সম্পদ রক্ষা।
- আইন শৃঙ্খলা রক্ষায় সাহায্য করা।
- সচেতন ও সজাগ হওয়া।
- সংবিধান মেনে চলা।
- সুশাসনের আগ্রহ।
- উদার ও প্রগতিশীল দলের প্রতি সমর্থন।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
১০.
প্রশাসনিক ভাষায় "সবুজপত্র" বলতে কী বোঝায়?
  1. গোপন চিঠি
  2. আদালতের রায়
  3. জনমত যাচাইয়ের জন্য প্রস্তাবিত নীতিপত্র
  4. আইন প্রণয়ন
ব্যাখ্যা
সবুজপত্র:
- সবুজপত্র মূলত বিভিন্ন জনস্বার্থ বিষয়ক সমস্যার জন্য ব্যাপক আলোচনার উদ্দেশ্যে জারী করা হয়।
- ব্রিটিশ সংসদীয় প্রথায় ’সবুজপত্র’ জারী করার রীতিও বিদ্যমান।
- সবুজপত্রে সরকার কোনো নির্দিষ্ট সমস্যা উল্লেখ করে এ সমস্যা সমাধানের পথ সম্পর্কিত দিক নির্দেশনা দেয়।
- এর উপর জনসাধারণের মতামত আহবান করে। কানাডা ও অস্ট্রেলিয়া ছাড়াও ইউরোপীয় কমিশনে এ প্রথা অনুসূত হয়।

উল্লেখ্য,
- যুক্তরাজ্যসহ পশ্চিমা দেশ সবুজপত্র প্রকাশ করার যে প্রথা অনুসরণ করে, সে প্রথা বাংলাদেশে নেই। তবে নীতি সংক্রা্ন্ত বিষয় অথবা অন্য কোন জনগুরুত্বপূর্ণ সরকারি পদক্ষেপ গ্রহণের পূর্বে ওয়ার্কশপ বা সেমিনারের মাধ্যমে এ বিষয়গুলো সংশ্লিষ্ট সবার সাথে আলোচনা করার রেওয়াজ রয়েছে। এ প্রক্রি্য়ায় দাতাগোষ্ঠীদেরও মতামত গ্রহণ করা হয়। উদাহরণ হিসেবে দারিদ্র বিমোচন কৌশলপত্র, স্থানীয় সরকার ও জনপ্রশাসন সংস্কারের বিষয় উল্লেখ করা যায়। এ ছাড়া, চিন্তাবিদদের নিয়ে গঠিত বেসরকারি সংস্থাও সংস্কারমূলক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সম্পর্কে সরকারকে পরামর্শ দিয়ে থাকে। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১১.
বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম সূচক প্রকাশ করে কোন প্রতিষ্ঠান?
  1. UNCTAD
  2. Reporters without Borders
  3. Institute of Economic and Peace
  4. The World Justice Project
ব্যাখ্যা
বিভিন্ন সূচক প্রকাশকারী প্রতিষ্ঠান:
- বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম সূচক প্রকাশ করে: Reporters without Borders.
- ই-কমার্স সূচক প্রকাশ করে: UNCTAD.
- গণতন্ত্র সূচক প্রকাশ করে: The Economist Intelligence Unit.
- আইনের শাসন সূচক প্রকাশ করে: The World Justice Project (USA).
- মানব উন্নয়ন সূচক প্রকাশ করে: UNDP.
- সুখ সূচক প্রকাশ করে: Sustainable Development Solution Network (SDSN).
- বৈশ্বিক শান্তি সূচক প্রকাশ করে: Institute of Economic and Peace (IEP).
- দূর্নীতি সূচক প্রকাশ করে: Transparency International.

উৎস: World Justice Project ওয়েবসাইট।
১২.
E-Governance কে 'SMART Government' বলে অভিহিত করেছেন কে?
  1. কাসু ব্রহ্মানন্দ রেড্ডি
  2. ই.এম হোয়াইট
  3. এফ. আই গ্লাউড
  4. চন্দ্রবাবু নাইডু
ব্যাখ্যা
E-Governance:
- সুশাসন প্রতিষ্ঠার আধুনিকতম একটি উদ্যোগ হল ই-গর্ভনেন্স।
- E-Governance-এর পূর্ণরূপ হলো Electronic governance।
- দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করাই হচ্ছে ই-গভর্নেন্সের লক্ষ্য।
- ই-গর্ভনেন্স হল তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি ব্যবহার করে সরকারি সেবা সমাজের সকল মানুষের কাছে পৌঁছে দেয়া।
- ই-গর্ভনেন্স ব্যবস্থায় একজন নাগরিক স্বল্প ব্যয়ে, ঝামেলাবিহীনভাবে সপ্তাহে সাত দিন; দিনে চব্বিশ ঘন্টা সরকারি সেবা পেতে পারে।
- এর ফলে শাসন ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা আসে, দুর্নীতি হ্রাস পায়।
- এভাবে মূলত সুশাসনই নিশ্চিত হয়।

উল্লেখ্য,
ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রবাবু নাইডু E-Governance কে 'SMART Government' বলে অভিহিত করেছেন। তাঁর মতে “SMART” শব্দটির পূর্ণরূপ হলো- Simple Moral Accountable Responsive Transparent অর্থাৎ যদি কোনো সরকার ব্যবস্থা সহজ সরল (Simple), নৈতিক আদর্শপূর্ণ (Moral), জবাবদিহিমূলক (Accountable), সংবেদনশীল বা দ্রুত সাড়া প্রদানকারী (Responsive) এবং কাজকর্মে স্বচ্ছ হয় তাকেই চন্দ্রবাবু নাইডু 'SMART Governance' বলতে চেয়েছেন।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।