পরীক্ষা আর্কাইভ

বার কাউন্সিল প্রস্তুতি - লং কোর্স [আর্কাইভ]

পরীক্ষাবার কাউন্সিল প্রস্তুতি - লং কোর্স [আর্কাইভ]তারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়22 minutes
মোট প্রশ্ন৪২
সিলেবাস
Exam - 10 The Code of Civil Procedure, 1908: Test-2 Topic ➝ • Parties of the Suit (Order 1) • Summon (Sections 27-32 & Order -5 & 16) • Pleadings (Order-6) • Plaint (Order-7)
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বার কাউন্সিল প্রস্তুতি - লং কোর্স [আর্কাইভ]

বার কাউন্সিল প্রস্তুতি - লং কোর্স [আর্কাইভ] · তারিখ অনির্ধারিত · ৪২ প্রশ্ন

.
'Substituted Service of Summon' বলতে কি বুঝায়?
  1. ব্যক্তিগত ভাবে সমন জারি
  2. বিকল্পভাবে সমন জারি
  3. সাক্ষীর নিকট সমন জারি
  4. কোনটি নয়
ব্যাখ্যা
• আরজির মাধ্যমে দাখিলকৃত দেওয়ানী মামলায় বিবাদী পক্ষকে আদালত কর্তৃক নির্ধারিত যে পত্র বা নোটিশের মাধ্যমে আত্মপক্ষ সমর্থনের জন্য হাজির হওয়ার জন্য নির্দেশ দেয়া হয়, তাকে সমন বলে। ক্ষেত্র বিশেষে সাক্ষীর প্রতিও সমন জারি করা যায়।

• দেওয়ানী কার্যবিধির ৫ নং আদেশে, ২১ নং আদেশের ২৪ ও ২৫ নম্বর বিধিতে এবং ১৬ নং আদেশের ৮ নম্বর বিধিতে সমন সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে। 

• দেওয়ানী কার্যবিধির ৫ নং আদেশের ২০ বিধিতে বিকল্প বা প্রতিকল্পনরূপে সমন জারির (Substituted Service of Summon) বিধান রয়েছে। ২০ নং বিধি অনুযায়ী-
যেক্ষেত্রে বিবাদী সমন এড়ানোর জন্য আত্মগোপন করেছে অথবা অন্য কোন কারণে সাধারনভাবে সমন জারি করা যায়না, সেক্ষেত্রে বিবাদীর গৃহের বা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের প্রকাশ্য অংশে সমনের একটি নকল ঝুলিয়ে জারি করার জন্য আদালত আদেশ দিবেন অথবা বহুল প্রচারিত দৈনিক পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দেয়ার আদেশ দিবে যা প্রতিকল্পনরূপে সমন জারি Substituted Service নামে পরিচিত। এই পদ্ধতি ব্যক্তিগতভাবে সমন জারির মতই কার্যকর হবে।

Order 5 Rule 20: Substituted service
(1) Where the Court is satisfied that there is reason to believe that the defendant is keeping out of the way for the purpose of avoiding service, or that for any other reason the summons cannot be served in the ordinary way, the Court shall order the summons to be served by affixing a copy thereof in some conspicuous place in the Court-house, and also upon some conspicuous part of the house (if any) in which the defendant is known to have last resided or carried on business or personally worked for gain, or in such other manner as the Court thinks fit.

(1A) Where the Court under sub-rule (1) pass an order to service the summons by an advertisement in a newspaper, the newspaper shall be a daily newspaper which has circulation in the locality in which the defendant is last known to have actually and voluntarily resided, carried on business or personally worked for gain.

Effect of substituted service-
(2) Service substituted by order of the Court shall be as effectual as if it had been made on the defendant personally.

Where service substituted, time for appearance to be fixed-
(3) Where service is substituted by order of the Court, the Court shall fix such time for the appearance of the defendant as the case may require. 
.
অর্থ আদায়ের মোকদ্দমায় বাদী মোকদ্দমার আরজিতে উল্লেখ করবে-
  1. দাবীকৃত অর্থের যথাযথ পরিমাণ
  2. মূল অর্থসহ জরিমানার পরিমাণ
  3. মূল অর্থ এবং সুদ
  4. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
• অর্থ আদায়ের মোকদ্দমায় বাদী মোকদ্দমার আরজিতে দাবীকৃত অর্থের যথাযথ পরিমাণ (precise amount) উল্লেখ করবে।

• আরজি হল মামলার কারণ সংবলিত বিবরণ যেখানে নালিশের কারণ উল্লেখপূর্বক বাদী প্রতিকার প্রার্থনা করে। অর্থাৎ বাদী মোকদ্দমা দায়েরের সময় আদালতে যে দাবি সংবলিত আবেদন দাখিল করে তাকে আরজি বলে। দেওয়ানী কার্যবিধির ২৬ ধারা এবং ৪নং আদেশের ১নং বিধিমতে প্রত্যেক মোকদ্দমা আরজি দাখিলের মাধ্যমে দায়ের করতে হয়।

• দেওয়ানী কার্যবিধির ৭ নং আদেশের ১ থেকে ১৮ নং বিধিতে আরজি সংক্রান্ত বিষয়ে আলোচনা করা হয়েছে। আরজিতে যে যে বিষয়গুলো সাধারণত উল্লেখ থাকে-

⇒ যে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে তার নাম
⇒ বাদী ও বিবাদীর নাম, পরিচয়, বাসস্থান
⇒ বাদী বা বিবাদী নাবালক অথবা মানসিক বিকারগ্রস্ত হলে, সেই মর্মে বিবৃতি
⇒ মোকদ্দমার মূল্যমান উল্লেখ করতে হবে
⇒ কারণ (Cause of action) এবং কারণ উদ্ভবের সময়
⇒ প্রার্থিত প্রতিকার (relief claimed) ও দাবির কোন অংশ বর্জন করা হলে সেই মর্মে বিবৃতি ইত্যাদি।

• ৭নং আদেশের ২নং বিধিমতে অর্থ আদায়ের মোকদ্দমার ক্ষেত্রে আরজিতে দাবিকৃত অর্থের যথাযথ পরিমান (precise amount), কিন্তু অমিমাংসীত অর্থ ক্ষেত্রে আনুমানিক অর্থ (approximate) লিখতে হবে।

Order 7 Rule 2: In money suits-
Where the plaintiff seeks the recovery of money, the plaint shall state the precise amount claimed: But where the plaintiff sues for mesne profits, or for an amount which will be found due to him on taking unsettled accounts between him and the defendant, the plaint shall state approximately the amount sued for.
.
ভুল বাদীর নামে মোকদ্দমা বা ভুল ব্যক্তিকে পক্ষভুক্ত করা হলে, আদালত মোকদ্দমার যেকোন পর্যায়ে কি আদেশ দিতে পারে?
  1. মোকদ্দমা খারিজ হবে
  2. স্থলাভিষিক্ত বা সংযোজিত
  3. কর্তন বা বাদ দিতে পারে
  4. খ বা গ
ব্যাখ্যা
• পক্ষসমূহের অসংযোগ বা অপসংযোগ (Non-Joinder and Mis-Joinder of Parties)-
মোকদ্দমার প্রয়োজনীয় পক্ষদের পক্ষভুক্ত না করাকে পক্ষাভাব বা Non-Joinder of parties বলে। অন্যদিকে কোন ব্যক্তিকে মোকদ্দমায় পক্ষভুক্ত করলে তাকে অপসংযোগ বা Mis-Joinder of Parties বলে। পক্ষসমূহের অপসংযোগ বা অসংযোগ সংক্রান্ত যে কোন আপত্তি প্রাপ্ত সম্ভাব্য সুযোগে (at earliest possible opportunity) অথবা বিচার্য বিষয় নির্ধারনের সময় অথবা পূর্বে উত্থাপন করতে হবে।

দেওয়ানী কার্যবিধির ১নং আদেশের ১০(১) নং বিধিমতে,
বাদীর নাম ভুল হলে আদালত অন্য কোন ব্যক্তিকে বাদী হিসেবে স্থলাভিষিক্ত বা সংযোজিত (Add/Substitute) করতে পারে।

১০(২) নং বিধিমতে,
ভুল ব্যক্তির(বাদী বা বিবাদী) নামে মোকদ্দমা হলে বা ভুল ব্যক্তিকে পক্ষভুক্ত করা হলে, আদালত তাকে মোকদ্দমার যে কোন পর্যায়ে কর্তন (strike out) বা বাদ দিতে পারে।

অপসংযোগ বা অসংযুক্তের কারণে কোন মোকদ্দমা অচল হবে না অর্থাৎ মামলাটি ব্যর্থ হবে না। তবে কোন মোকদ্দমায় ভ্রান্তভাবে পক্ষভুক্ত করার বিষয়ে কোন আপত্তি উঠানোর পরও, বাদী প্রয়োজনীয় পক্ষভুক্ত না করলে মোকদ্দমাটি খারিজ হবে।
.
The Code of Civil Procedure,1908 এর Order XVI, Rule 12 অনুসারে যথাযথ কারণ ছাড়া কোনো সাক্ষী আদালতে উপস্থিত হতে ব্যর্থ হলে, উক্ত সাক্ষীকে আদালত কত টাকা পর্যন্ত জরিমানা আরোপ করতে পারেন?
  1. ৫০০
  2. ১৫০০
  3. ৩০০০
  4. ১০০০
ব্যাখ্যা
• আদেশ-১৬ এ সাক্ষীর প্রতি সমন এবং হাজিরা সম্পর্কিত বিধি-বিধান রয়েছে।

বিধি-১০ অনুসারে, সাক্ষী সমন মান্য করতে ব্যর্থ হলে আদালত তাকে হাজির হওয়ার জন্য হুলিয়া জারি (Proclamation) করতে পারবে। উক্ত ব্যক্তিকে গ্রেফতারের জন্য ওয়ারেন্ট ইস্যু করতে পারে ও সম্পত্তি ক্রোক করার আদেশ দিতে পারে। সাক্ষী হাজির হলে আদালত সেই ক্রোকাদেশ প্রত্যাহার করতে পারে।

• আর যদি সাক্ষী হাজির হতে ব্যর্থ হয়, তাহলে আদালত আদেশ ১৬ এর বিধি ১২ মোতাবেক-
› অনধিক ৫০০ টাকা জরিমানা এবং
› তার সম্পত্তি ক্রোক ও নিলাম বিক্রয়ের আদেশ দিতে পারবে।

বিধি ১০ এর অধীন পূর্বেই ক্রোক করা হলে জরিমানা সহ ক্রোকের ব্যয় মেটানোর জন্য নিলাম বিক্রয়ের আদেশ দিতে হবে।

Order 16 Rule 12: Procedure if witness fails to appear-
The Court may, where such person does not appear, or appears but fails so to satisfy the Court, impose upon him such fine not exceeding five hundred Taka as it thinks fit, having regard to his condition in life and all the circumstances of the case, and may order his property, or any part thereof, to be attached and sold or, if already attached under rule 10, to be sold for the purpose of satisfying all costs of such attachment, together with the amount of the said fine, if any:
Provided that, if the person whose attendance is required pays into Court the costs and fine aforesaid, the Court shall order the property to be released from attachment.
.
দেওয়ানি কার্যবিধির কত ধারায় "Service of foreign summonses" এর বিধান উল্লেখ আছে?
  1. ধারা ৩১
  2. ধারা ২৯
  3. ধারা ৩০
  4. ধারা ২৮
ব্যাখ্যা
• দেওয়ানি কার্যবিধির ২৯ ধারায় "Service of foreign summonses" উল্লেখ আছে।বাংলাদেশের বাইরে অবস্থিত আদালতের সমন কোন পদ্ধতিতে দেশের ভেতর জারি করা হবে, সেই পদ্ধতি দেয়া হয়েছে। এ পদ্ধতি শুধুমাত্র দেওয়ানি সমনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।

ধারা ২৯ (বিদেশি সমন জারি)-
বাংলাদেশের বাহিরে অবস্থিত কোন দেওয়ানি অথবা রাজস্ব আদালতের সমন এবং অন্যান্য ওয়ারেন্ট বাংলাদেশের আদালতসমূহে প্রেরণ করা যেতে পারে এবং
উক্ত সমন অনুরূপ আদালত মারফত প্রদত্ত সমন হিসাবে জারি করা যেতে পারেঃ
তবে শর্ত থাকে যে, সরকার সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন জারি করে অনুরূপ আদালত সমূহে এই ধারার বিধানসমূহ প্রযোজ্য বলে ঘোষণা করবে।

Section 29: Service of foreign summons-
Summons and other processes issued by any Civil or Revenue Court situate outside Bangladesh may be sent to the Courts in Bangladesh and served as if they were summonses issued by such Courts:
Provided that the Government has by notification in the official Gazette declared the provisions of this section to apply to such Courts.
.
বাদী আরজির সাথে পেশকৃত দলিলসমূহ কোন পদ্ধতিতে জমা দিবে?
  1. আরজির উপর তালিকা লিখে
  2. আরজির সাথে সংযুক্ত করে
  3. ক বা খ
  4. আরজি জমা দেয়ার পর দলিল জমা দিবে
ব্যাখ্যা
• বাদী আরজির সাথে যেসকল দলিল পেশ করে (যদি থাকে),আরজির উপর সেই গুলির একটি তালিকা লিখে বা আরজির সাথে সংযুক্ত করে দিতে হবে।

• দেওয়ানী মোকদ্দমা দায়ের করতে হলে প্রথমে যে দলিল প্রস্তুত করতে হয়, সেটা হলো আরজি। আরজি দাখিলের মধ্য দিয়ে দেওয়ানি মোকদ্দমা শুরু হয়। দেওয়ানী কার্যবিধির ৭নং আদেশের ১ থেকে ১৮নং বিধিতে আরজি সংক্রান্ত বিষয়ে আলোচনা করা হয়েছে।

• দেওয়ানী কার্যবিধির ৭ নং আদেশের ১ নং বিধিতে আরজিতে কি কি বিষয় অবশ্যই উল্লেখ করতে হবে তা  বলা হয়েছে। এই বিধি অনুসারে আরজিতে ৯টি বিষয় উল্লেখ করতে হয়।
এছাড়া আদালতের এখতিয়ার ও কোর্ট ফি নির্ধারণের জন্য আরজিতে মোকদ্দমার মূল্যমান উল্লেখ করতে হয়। অর্থের মোকদ্দমার ক্ষেত্রে, আরজিতে দাবীকৃত অর্থের যথাযথ পরিমাণ [Precise Amount] উল্লেখ হবে।স্থাবর সম্পত্তি সম্পর্কিত মোকদ্দমার ক্ষেত্রে সম্পত্তি সনাক্ত করার জন্য সম্পত্তির বর্ণনা, সীমানা, বা সেটেলমেন্ট পর্যায় উল্লেখিত নম্বর উল্লেখ করতে হবে।বাদী তামাদি আইনে নির্ধারিত সময়ের পর মোকদ্দমা দায়ের করে, সেক্ষেত্রে আরজিতে বাদী তামাদি হতে অব্যাহতির কারণ [Grounds for exemption] উল্লেখ করবে। [বিধি ২-৬]

• আদেশ ৭ বিধি ৯ (আরজি গ্রহণের পদ্ধতি)-

যেসকল দলিল বাদী আরজির সাথে পেশ করে (যদি থাকে), আরজির উপর সেই গুলির একটি তালিকা লিখে বা আরজির সাথে সংযুক্ত করে দিতে হবে। আরজি গৃহীত হলে যতজন বিবাদী রয়েছে, সাদা কাগজে আরজির ততসংখ্যক নকল পেশ করবে। বাদী আরজির সাথে যে তালিকা, সংক্ষিপ্ত বিবৃতি, নকল দাখিল করে তা আদালতের প্রধান কেরানী পরীক্ষাপূর্বক সেগুলো সঠিক থাকলে সেইগুলোতে স্বাক্ষর করবে।

Order 7 Rule 9: Procedure of admitting plaint-
(1) The plaintiff shall endorse on the plaint, or annex thereto, a list of the documents (if any) which he has produced along with it; and, if the plaint is admitted, shall present as many copies on plain paper of the plaint as there are defendants, unless the Court by reason of the length of the plaint or the number of the defendants, or for any other sufficient reason, permits him to present a like number of concise statements of the nature of the claim made, or of the relief claimed in the suit, in which case he shall present such statements.

Concise statements-
(2) Where the plaintiff sues, or the defendant or any of the defendants is sued, in a representative capacity, such statements shall show in what capacity the plaintiff or defendant sues or is sued.

(3) The plaintiff may, by leave of the Court, amend such statements so as to make them correspond with the plaint.

(4) The chief ministerial officer of the Court shall sign such list and copies or statements if, on examination, he finds them to be correct. 
.
প্লিডিংস সংশোধনের আবেদন কখন করা যায়?
  1. আরজি দাখিলের সময়
  2. মোকদ্দমার যে কোন পর্যায়ে
  3. লিখিত জবাব দাখিলের সময়
  4. মোকদ্দমার শুরুতে
ব্যাখ্যা
• প্লিডিংসের সংজ্ঞা (Definition of Pleadings)- দেওয়ানী কার্যবিধির ৬ নং আদেশের ১নং বিধিতে প্লিডিংসের সংজ্ঞা রয়েছে। প্লিডিংস (Pleadings) বলতে আরজি অথবা লিখিত জবাবকে বোঝায় [Pleadings shall mean plaint or written statement]

• বাদীর প্লিডিংস হলো আরজি এবং বিবাদীর প্লিডিংস হলো লিখিত জবাব। বাদীর আরজি বা বিবাদীর লিখিত জবাব একত্রে প্লিডিংস নামে পরিচিত। আরজি হলো যে লিখিত দলিল দাখিলের মাধ্যমে বাদী প্রতিকার চেয়ে দেওয়ানী মোকদ্দমা দায়ের করে। এখানে বাদী তার দাবী এবং দাবীর সমর্থনে ঘটনা উল্লেখ করে। লিখিত জবাব হলো বিবাদী সাধারণত বাদীর দাবী অস্বীকার করে লিখিত যে দলিল পেশ করে।
গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাদি (Material Facts) যার উপর ভিত্তি করে আবেদনকারী বা দরখাস্তকারী তার দাবী উত্থাপন করে বা আত্মপক্ষ সমর্থন করে, সে সব তথ্য প্লিডিংসে (আরজি বা লিখিত জবাবে) উল্লেখ করতে হবে। 

প্লিডিংস সংশোধন (Amendment of pleadings)-

দেওয়ানি কার্যবিধির ৬নং আদেশের ১৭নং বিধিতে প্লিডিংস সংশোধন করার বিধান রয়েছে। ১৭ নং বিধিমতে মোকদ্দমার প্রকৃতি নির্ধারণ ও ন্যায় বিচারের প্রয়োজনে মোকদ্দমার যে কোন পর্যায়ে এমনকি আপিলেও আদালত তার ইচ্ছাধীন ক্ষমতাবলে প্লিডিংস সংশোধন করতে পারে।
প্লিডিংস সংশোধনের জন্য আবেদন করতে হয় বিচারিক আদালতে। তবে বিচার শুরু হওয়ার পর প্লিডিংস সংশোধনীর আবেদন করা যায়। এক্ষেত্রে আবেদনকারীকে যথেষ্ট সতর্কতা অবলম্বন সত্ত্বেও বিচার শুরুর আগে আবেদন না করার কারণ দেখিয়ে, আদালতকে সন্তুষ্ট করতে হবে।
.
একাধিক ব্যক্তিকে কখন মোকদ্দমায় পক্ষভুক্ত করা যায়?
  1. দাবি করা প্রতিকার একই না হলে
  2. দাবি করা প্রতিকার একই কার্য থেকে সৃষ্টি হলে
  3. ন্যায় বিচার বিঘ্ন হলে
  4. ক এবং খ
ব্যাখ্যা
• দেওয়ানী মোকদ্দমায় দুই ধরণের পক্ষ থাকে। যথা-
১. বাদী পক্ষ
২. বিবাদী পক্ষ 

• মোকদ্দমায় পক্ষভুক্ত (Joinder of Parties)-
দেওয়ানী কার্যবিধির ১নং আদেশে কতিপয় ব্যক্তি নির্দিষ্ট শর্তপূরণ সাপেক্ষে মোকদ্দমার পক্ষভুক্ত হতে পারে। একটি মোকদ্দমায় একাধিক ব্যক্তিকে বাদী এবং বিবাদী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা যেতে পারে। একটি মোকদ্দমায় সকল ব্যক্তি বাদী বা বিবাদী হিসেবে যুক্ত হতে পারে, যদি-

১. মোকদ্দমার প্রত্যেক বাদী বা বিবাদীর দাবীকৃত প্রতিকার একই কার্য বা লেনদেন থেকে উৎপত্তি হয় বা
২. মোকদ্দমাটি এমন যে, যদি এই ব্যক্তিরা (বাদী বা বিবাদী) পৃথক মোকদ্দমা দায়ের করে তাহলে আইন বা তথ্য সংক্রান্ত একটি সাধারণ প্রশ্নের উদ্ভব হবে। [বিধি ১-৩]

উদহারণ-'ক' যৌথভাবে 'খ' এবং 'গ' এর সাথে ১০০ কেজি গম বিক্রয়ের চুক্তি করে। 'ক' পরবর্তীতে তা বিক্রয়ে অস্বীকার করে । এখানে 'খ' এবং 'গ' উভয়ের ক্ষতিপূরণ পাওয়ার অধিকার আছে যা একই কার্য (বিক্রয় চুক্তি) থেকে উদ্ভব হয়েছে। তাই 'খ' এবং 'গ' বাদী হিসাবে যৌথভাবে মোকদ্দমা দায়ের করতে পারে ।
.
দেওয়ানী কার্যবিধির কোন বিধান অনুযায়ী, আদালত মামলার পক্ষ বা কোনো পক্ষের সাক্ষী ব্যতীত তৃতীয় কোন ব্যক্তিকে সমন দিতে পারে?
  1. আদেশ-১৬, বিধি-৬
  2. আদেশ-১৬, বিধি-১৩
  3. আদেশ-১৬, বিধি-১১
  4. আদেশ-১৬, বিধি-১৪
ব্যাখ্যা
• আদেশ-১৬ এ সাক্ষীর প্রতি সমন এবং হাজিরা সম্পর্কিত বিধি-বিধান রয়েছে।

• আদেশ ১৬ বিধি-১৪ অনুযায়ী আদালত মোকদ্দমায় আগন্তুককে(৩য় ব্যক্তিকে) ঐচ্ছিক ক্ষমতায় সাক্ষী হিসাবে সমন দিতে পারে

বলা আছে- হাজিরা এবং উপস্থিতি সম্পর্কে উক্ত আইনের বিধানাবলী এবং বর্তমানে বলবৎ অন্য কোন আইন সাপেক্ষে যেক্ষেত্রে আদালত যে কোন সময় মোকদ্দমার পক্ষ নয় এরূপ কোন ব্যক্তিকে এবং মোকদ্দমার পক্ষ কর্তৃক সাক্ষী হিসাবেও ডাকা হয়নি এরূপ কোন ব্যক্তিকে জবানবন্দি করিতে প্রয়োজন বোধ সেক্ষেত্রে আদালত স্বতঃপ্রবৃত্ত হয়ে উক্ত ব্যক্তিকে নির্ধারিত কোন তারিখে সাক্ষ্য দানের নিমিত্ত বা তার হস্তগত কোন দলিল দাখিল করতে সাক্ষী হিসাবে ঐ ব্যক্তিকে সমন করাতে পারবে এবং তাকে সাক্ষী হিসাবে জবানবন্দি গ্রহণ করতে পারবে বা অনুরূপ দলিল দাখিল করতে নির্দেশ দিতে পারবে।

Order 16 Rule 14: Court may of its own accord summon as witnesses strangers to suit-

Subject to the provisions of this Code as to attendance and appearance and to any law for the time being in force, whether the Court at any time thinks it necessary to examine any person other than a party to the suit and not called as a witness by a party to the suit, the Court may, of its own motion, cause such person to be summoned as a witness to give evidence, or to produce any document in his possession, on a day to be appointed, and may examine him as a witness or require him to produce such document]

• অর্থাৎ আদালত উল্লেখিত ক্ষেত্রে ৩য় ব্যক্তিকে সমন দিতে পারে-
১- সাক্ষ্য গ্রহণ
২- দলিল দাখিল
১০.
প্লিডিংস সত্যাখ্যান বা সত্যতা প্রতিপাদন [Verification of Pleadings] হবে-
  1. প্লিডিংস এর উপরে বাম পাশে
  2. প্লিডিংস এর নিচে
  3. প্লিডিংস এর উপরে ডান পাশে
  4. প্লিডিংস এর অপর পৃষ্ঠায়
ব্যাখ্যা
• দেওয়ানী কার্যবিধির ৬ নং আদেশের ১ নং বিধিতে প্লিডিংসের সংজ্ঞা রয়েছে। প্লিডিংস (Pleadings) বলতে আরজি অথবা লিখিত জবাবকে বোঝায়। আরজির নিচে মোকদ্দমার বাদী এবং লিখিত জবাবের নিচে বিবাদী সত্যাখ্যান (সত্যতা প্রতিপাদন) করবে।

• দেওয়ানী কার্যবিধির আদেশ ৬ এর বিধি ১৫ তে প্লিডিংস সত্যাখ্যান [Verification of Pleadings] নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে-

সত্যাখ্যান হলো মামলার পক্ষসমূহ যেমন আরজির ক্ষেত্রে বাদী এবং লিখিত জবাবের ক্ষেত্রে বিবাদী আরজি বা লিখিত জবাবে যে সকল বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে, তা তার জানা বলে স্বীকার করা। আরজির নিচে মোকদ্দমার বাদী এবং লিখিত জবাবের নিচে বিবাদী সত্যাখ্যান (সত্যতা প্রতিপাদন) করবে অথবা আদালত সই হলে, অন্য কোন ব্যক্তি যে মোকদ্দমার বিষয় সম্পর্কে জানে, সে আরজি বা লিখিত জনাবে সত্যাখ্যান করতে পারে।
যে ব্যক্তি সত্যাখ্যান করছে সে সত্যতা প্রতিপাদন অংশে স্বাক্ষর করবে এবং যে দিন এবং স্থানে সত্যাখ্যান স্বাক্ষর করা হয়েছিল তা উল্লেখ করবে।

Order 6 Rule 15: Verification of pleadings-
1) Save as otherwise provided by any law for the time being in force, every pleading shall be verified at the foot by the party or by one of the parties pleading or by some other person proved to the satisfaction of the Court to be acquainted with the facts of the case.

2) The person verifying shall specify, by reference to the numbered paragraphs of the pleading, what he verifies of his own knowledge and what he verifies upon information received and believed to be true.

3) The verification shall be signed by the person making it and shall state the date on which and the place at which it was signed.
১১.
'ক' ২০,০০,০০০ টাকার মূল্যমানের একটি স্থাবর সম্পত্তি সম্পর্কিত মোকদ্দমা সহকারী জজ আদালতে দায়ের করে। এই ক্ষেত্রে আদালত নিম্নলিখিত কোন সিদ্ধান্তটি নিতে পারে?
  1. আরজি প্রত্যাখান
  2. আরজি ফেরত
  3. আরজি সংশোধন
  4. মোকদ্দমা খারিজ
ব্যাখ্যা
• এখতিয়ার বিহীন আদালতে মোকদ্দমা দায়ের করলে, আদালত মোকদ্দমাটি সঠিক আদালতে দায়েরের জন্য আরজি ফেরত পাঠাবে।

• যেহেতু মোকদ্দমাটির মূল্যমান ২০ লক্ষ টাকা, তাই তা সিনিয়র সহকারী জজ আদালতে মোকদ্দমাটি দায়ের করা উচিত ছিল।কারণ সহকারি জজ আদালতের এখতিয়ার সর্বোচ্চ ১৫ লক্ষ টাকা। [The Civil Courts Act,1887]

• দেওয়ানী কার্যবিধির ৭ আদেশের ১০ বিধিতে আরজি ফেরত এবং ৭ আদেশের ১১ বিধিতে আরজি প্রত্যাখ্যান বিষয়ে বিধান উল্লেখ করা হয়েছে।

আরজি ফেরত (Return of Plaint) অর্থ হলো এখতিয়ারবিহীন আদালতে আরজি দাখিল করলে, আরজিটি এখতিয়ারসম্পন্ন আদালতে দাখিলের জন্য ফেরত দেয়া। যদি এমন কোন আদালতে আরজি দাখিল করা হয় যে আদালতে উক্ত মোকদ্দমার বিচার করার আর্থিক বা আঞ্চলিক এখতিয়ার নেই, তখন এখতিয়ারসম্পন্ন আদালতে আরজিটি দাখিলের জন্য আদালত ফেরত দিতে পারে। মোকদ্দমার যেকোন পর্যায়ে আদালত আরজি ফেরতের আদেশ দিতে পারে।

• আরজি ফেরত আদেশের বিরুদ্ধে প্রতিকার:
১. বাদী আরজিটি এখতিয়ারসম্পন্ন আদালতে পুনরায় দাখিল করতে পারে বা
২.আরজি ফেরত আদেশের বিরুদ্ধে আপীল দায়ের করতে পারে। কারণ দেওয়ানী কার্যবিধির ৪৩ আদেশের ১ (ক) বিধি অনুযায়ী আরজি ফেরতের সিদ্ধান্ত একটি আপীলযোগ্য আদেশ।
১২.
বিবাদী অন্য আদালতের এখতিয়ারাধীন এলাকায় বসবাস করলে, তার বিরুদ্ধে সমন কে জারি করবে?
  1. যে আদালতে মোকদ্দমা দায়ের করা হয়েছে
  2. উক্ত এলাকার এখতিয়ারাধীন আদালত
  3. উভয় আদালতকে জারি করতে হবে
  4. ক বা খ
ব্যাখ্যা
• দেওয়ানী কার্যবিধির ৫নং আদেশে কিছু বিশেষ ক্ষেত্রে সমন জারির বিশেষ পদ্ধতি আলোচনা করা হয়েছে।যেমনঃ

(বিধি ২১) যেক্ষেত্রে বিবাদী অন্য আদালতের এখতিয়ারাধীন এলাকায় বসবাস করে সেই ক্ষেত্রে বিবাদী যে এলাকায় বসবাস করে, সেই এলাকার এখতিয়ারাধীন যেকোন সমন জারিকারী আদালত সমনটি পাঠাতে পারে এবং উক্ত আদালত তখন সমন জারি করবে।

(বিধি ২৪) যেক্ষেত্রে বিবাদী জেলে থাকে, সেই ক্ষেত্রে বিবাদীর প্রতি সমন জারির জন্য জেলের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার নিকট সমন পাঠাতে হবে।

(বিধি ২৫,২৬) যেক্ষেত্রে বিবাদী বাংলাদেশের বাইরে বসবাস করে এবং বাংলাদেশে সমন গ্রহণের কোন এজেন্ট নেই, সেই ক্ষেত্রে বিবাদী দেশের বাইরে যেখানে বসবাস করে সেখানে পাঠাতে হবে। এই ক্ষেত্রে রাজনৈতিক প্রতিনিধি বা এমন সমন জারির জন্য প্রতিষ্ঠিত কোন আদালত কর্তৃক সমনটি জারি করা যেতে পারে। 

(বিধি ২৭) সরকারী কর্মকর্তা বা রেলওয়ে বা স্থানীয় কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তার প্রতি সমন জারির জন্য উক্ত অফিসের প্রধানের বরাবর সমন পাঠাতে হবে।

(বিধি ২৮) যেক্ষেত্রে বিবাদী একজন সৈনিক, নাবিক, বা বৈমানিক, সেই ক্ষেত্রে সমন জারি করতে উক্ত বাহিনীর কমান্ডিং অফিসারের নিকট সমন পাঠাতে হবে।
১৩.
দেওয়ানী কার্যবিধির কত নং আদেশে প্রতিনিধিত্বমূলক মোকদ্দমার উল্লেখ আছে?
  1. আদেশ ১ এর ৭ বিধিতে
  2. আদেশ ২ এর ৫ বিধিতে
  3. আদেশ ১ এর ৮ বিধিতে
  4. আদেশ ২ এর ৬ বিধিতে
ব্যাখ্যা
• দেওয়ানী কার্যবিধির ১নং আদেশের ৮ নং বিধিতে প্রতিনিধিত্বমূলক মোকদ্দমা বা [Representative suit] এর বিধান রয়েছে।

• সাধারণত মোকদ্দমার বিষয়বস্তুতে স্বার্থসংশ্লিস্ট সকল ব্যক্তিকে উক্ত মোকদ্দমায় বাদী বা বিবাদী হিসেবে যুক্ত হতে হয়। কিন্তু ১নং আদেশের ৮ নং বিধির আওতায় প্রতিনিধিত্বমূলক মোকদ্দমা এই নিয়মের ব্যতিক্রম। অর্থাৎ ১নং আদেশের ৮ নং বিধিমতে, যেক্ষেত্রে কোন মামলায় বহু সংখ্যক লোকের একই রূপ স্বার্থ (same interest) থাকলে, সেক্ষেত্রে আদালতের অনুমতিক্রমে সকলের পক্ষে এক বা একাধিক ব্যক্তি মামলা দায়ের করতে পারে।এই এক বা একাধিক ব্যক্তি অন্যান্য সকলকে প্রতিনিধিত্ব করে। এই ধরনের মোকদ্দমাকে প্রতিনিধিত্বমূলক মোকদ্দমা বা Representative suit বলা হয়।

• প্রতিনিধিত্বমূলক মোকদ্দমায় আদালতের অনুমতি নেয়া বাধ্যতামূলক।

Order 1 Rule 8: One person may sue or defend on behalf of all in same interest-

1) Where there are numerous persons having the same interest in one suit, one or more of such persons may, with the permission of the Cour sue or be sued, or may defend, in such suit, on behalf of or for the benefit of all persons so interested. But the Court shall in such case give, at the plantiffs expense, notice of the institution of the suit to all such personal either by person service or, where from the number of persons or any other cause such service is not reasonably practicable, by public advertisement as the Court in each case may direct

2) Any person on whose behalf or for whose benefit a suit is instituted or defended under sub-rule (1) may apply to the Court to be made a party to such suit.
১৪.
বিবাদী বা বিবাদীর ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোন প্রতিনিধি না থাকলে,কার উপর সমন জারি করা যাবে?
  1. পরিবারের প্রাপ্ত বয়স্ক সদস্য
  2. পরিবারের প্রাপ্ত বয়স্ক পুরুষ সদস্য
  3. বিবাদীর স্বামী বা স্ত্রীর
  4. বিবাদীর সন্তানের উপর
ব্যাখ্যা

• দেওয়ানি কার্যবিধির ৫নং আদেশের ১৫নং বিধিমতে বিবাদীকে যদি পাওয়া না যায় এবং বিবাদীর ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোন প্রতিনিধি না থাকে, তখন বিবাদীর পরিবারের যে কোন প্রাপ্তবয়স্ক লোক (নারী বা পুরুষ) এর উপর সমন জারি করা যাবে।

• সমন জারির বিভিন্ন পদ্ধতি (Various modes of service of Summons)- দেওয়ানী কার্যবিধির ৫ নং আদেশের ১ থেকে ৩০ বিধিতে উল্লেখ রয়েছে।
বিবাদীর উপর নিম্নলিখিত ৩ ভাবে সমন জারি হতে পারে-
i) ব্যক্তিগতভাবে সমন জারি
ii) বিবাদীর অনুপস্থিতিতে বিকল্প বা ঝুলিয়ে বা প্রতিকল্পনরূপে সমন জারি; এবং
iii) ডাকযোগে বা কুরিয়ারের মাধ্যমে সমন জারি।

• আদেশ-৫, বিধি-১৫: যখন কোন মোকদ্দমায় যদি সমন জারির সময় বিবাদী তার বসবাসের স্থানে অনুপস্থিত থাকে, এবং সমন গ্রহণের ক্ষমতা প্রাপ্ত তার কোনো প্রতিনিধি না থাকে, তাহলে বিবাদীর সাথে বসবাস করে, তার পরিবারের এইরুপ যে কোন প্রাপ্ত বয়স্ক লোকের উপর সমন জারি করা যাবে। দেওয়ানী কার্যবিধির ২০১২ সালের সংশোধনী দ্বারা প্রাপ্ত বয়স্ক পুরুষ সদস্য এর পরিবর্তে প্রাপ্ত বয়স্ক শব্দ প্রতিস্থাপন করা হয়। অর্থাৎ এখন প্রাপ্ত বয়স্ক নারী বা পুরুষ উভয়ের নিকট দেয়া যাবে।

Order 5 Rule 15: Where service may be on adult member of defendant's family-
Where in any suit the defendant cannot be found and has no agent empowered to accept service of the summons on his behalf, service may be made on any adult member of the family of the defendant who is residing with him. 

১৫.
মোকদ্দমায় দাবিকৃত মূল্যমান কত দিনের মধ্যে সংশোধন করতে হয়?
  1. আদালতের নির্ধারিত সময়
  2. সর্বাধিক ২১ দিনের মধ্যে
  3. সর্বাধিক ১৫ দিনের মধ্যে
  4. ক বা খ
ব্যাখ্যা
• আরজিতে দাবিকৃত প্রতিকারের মূল্য কম করে উল্লেখ করা হলে, আদালতের নির্দেশমত নির্ধারিত সময় বা সর্বাধিক ২১ দিনের মধ্যে মোকদ্দমায় মূল্যমান সংশোধন করতে হয়।তা না হলে আদালত আরজি খারিজের আদেশ দিবেন।

• আরজি হল মামলার কারণ সংবলিত বিবরণ যেখানে নালিশের কারণ উল্লেখপূর্বক বাদী প্রতিকার প্রার্থনা করে। অর্থাৎ বাদী মোকদ্দমা দায়েরের সময় আদালতে যে দাবি সংবলিত আবেদন দাখিল করে তাকে আরজি বলে। দেওয়ানী কার্যবিধির ২৬ ধারা এবং ৪নং আদেশের ১ নং বিধিমতে প্রত্যেক মোকদ্দমা আরজি দাখিলের মাধ্যমে দায়ের করতে হয়। দেওয়ানী কার্যবিধির ৭ নং আদেশের ১ থেকে ১৮ নং বিধিতে আরজি সংক্রান্ত বিষয়ে আলোচনা করা হয়েছে।এখানে আরজি প্রত্যাখানের সংজ্ঞা দেয়া হয়নি। তবে দেওয়ানী কার্যবিধির ২(২) ধারা মতে আরজি প্রত্যাখান ডিক্রির অন্তর্ভুক্ত এবং ৭নং আদেশের ১১ নং ধরে আরজি প্রত্যাখানের কারণগুলো দেয়া রয়েছে।

• দেওয়ানী কার্যবিধির ৭ নং আদেশের ১১ বিধি অনুযায়ী দেওয়ানী আদালত ৪টি কারণে আরজি প্রত্যাখান করতে পারে। যথা-

(ক) আরজিতে মামলার কারণ (cause of action) উল্লেখ না করলে,
(খ) আরজিতে দাবিকৃত প্রতিকারের মূল্য কম করে উল্লেখ করা হলে এবং আদালতের নির্দেশমত নির্ধারিত সময় বা সর্বাধিক ২১ দিনের মধ্যে মোকদ্দমায় মূল্যমান সংশোধন এবং অতিরিক্ত কোর্ট ফি প্রদান করতে ব্যর্থ হলে,
(গ) অপর্যাপ্ত স্টাম্প পেপারে লিখলে এবং আদালত কর্তৃক নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় স্ট্যাম্প পেপার সরবরাহ করতে ব্যর্থ হলে,
(ঘ) মামলাটি কোনো আইন অনুযায়ী নিষিদ্ধ বা বারিত হলে। যেমন- তামাদি আইনে বারিত হলে, আদালত আরজি প্রত্যাখান করতে পারে।
১৬.
দেওয়ানী কার্যবিধির কত আদেশের কত বিধি অনুযায়ী বিবাদী লিখিত জবাব সংশোধনের আবেদন করতে পারে?
  1. আদেশ ৬ এর বিধি ১৭
  2. আদেশ ৬ এর বিধি ১৫
  3. আদেশ ৬ এর বিধি ১৮
  4. আদেশ ৮ এর বিধি ১৭
ব্যাখ্যা
• দেওয়ানী কার্যবিধির ৬ নং আদেশের ১ নং বিধিতে প্লিডিংসের সংজ্ঞা রয়েছে। প্লিডিংস (Pleadings) বলতে আরজি অথবা লিখিত জবাবকে বোঝায়। বাদীর প্লিডিংস হলো আরজি এবং বিবাদীর প্লিডিংস হলো লিখিত জবাব। বাদীর আরজি বা বিবাদীর লিখিত জবাব একত্রে প্লিডিংস নামে পরিচিত। আরজি হলো যে লিখিত দলিল দাখিলের মাধ্যমে বাদী প্রতিকার চেয়ে দেওয়ানী মোকদ্দমা দায়ের করে। এখানে বাদী তার দাবী এবং দাবীর সমর্থনে ঘটনা উল্লেখ করে। লিখিত জবাব হলো বিবাদী সাধারণত বাদীর দাবী অস্বীকার করে লিখিত যে দলিল পেশ করে।

• দেওয়ানি কার্যবিধির ৬নং আদেশের ১৭নং বিধিতে প্লিডিংস সংশোধন করার বিধান রয়েছে। ১৭ নং বিধিমতে মোকদ্দমার প্রকৃত এর নির্ধারণ ও ন্যায় বিচারের প্রয়োজনে মোকদ্দমার যে কোন পর্যায়ে এমনকি আপিলেও আদালত তার ইচ্ছাধীন ক্ষমতাবলে প্লিডিংস সংশোধন করতে পারে।

• যেহেতু বিবাদীর প্লিডিংস হলো লিখিত জবাব, সেহেতু বিবাদী দেওয়ানী কার্যবিধির ৬নং আদেশের ১৭ বিধি অনুযায়ী লিখিত জবাব সংশোধনের আবেদন করতে পারে।
উল্লেখ্য যে, প্লিডিংস সংশোধনের জন্য আবেদন করতে হয় বিচারিক আদালতে। তবে বিচার শুরু হওয়ার পর প্লিডিংস সংশোধনীর আবেদনের ক্ষেত্রে আবেদনকারীকে যথেষ্ট সতর্কতা অবলম্বন সত্ত্বেও বিচার শুরুর আগে আবেদন না করার কারণ দেখিয়ে, আদালতকে সন্তুষ্ট করতে হবে।
১৭.
বিকল্পভাবে সমন জারি করা হয়-
  1. বিবাদীর গৃহের প্রকাশ্য অংশে সমনের একটি নকল ঝুলিয়ে
  2. বিবাদীর ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের প্রকাশ্য অংশে সমনের একটি নকল ঝুলিয়ে
  3. দৈনিক পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দেয়ার আদেশের মাধ্যমে
  4. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
• দেওয়ানী কার্যবিধির ৫ নং আদেশে, ২১ নং আদেশের ২৪ ও ২৫ নম্বর বিধিতে এবং ১৬ নং আদেশের ৮ নম্বর বিধিতে সমন সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে। 

• দেওয়ানী কার্যবিধির ৫ নং আদেশের ২০ বিধিতে বিকল্প বা প্রতিকল্পনরূপে সমন জারির (Substituted Service of Summon) বিধান রয়েছে। ২০ নং বিধি অনুযায়ী-
যেক্ষেত্রে বিবাদী সমন এড়ানোর জন্য আত্মগোপন করেছে অথবা অন্য কোন কারণে সাধারনভাবে সমন জারি করা যায়না, সেক্ষেত্রে বিবাদীর গৃহের বা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের প্রকাশ্য অংশে সমনের একটি নকল ঝুলিয়ে জারি করার জন্য আদালত আদেশ দিবেন অথবা বহুল প্রচারিত দৈনিক পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দেয়ার আদেশ দিবে যা প্রতিকল্পনরূপে সমন জারি Substituted Service নামে পরিচিত। এই পদ্ধতি ব্যক্তিগতভাবে সমন জারির মতই কার্যকর হবে। 

Order 5 Rule 20: Substituted service-
(1) Where the Court is satisfied that there is reason to believe that the defendant is keeping out of the way for the purpose of avoiding service, or that for any other reason the summons cannot be served in the ordinary way, the Court shall order the summons to be served by affixing a copy thereof in some conspicuous place in the Court-house, and also upon some conspicuous part of the house (if any) in which the defendant is known to have last resided or carried on business or personally worked for gain, or in such other manner as the Court thinks fit.

(1A) Where the Court under sub-rule (1) pass an order to service the summons by an advertisement in a newspaper, the newspaper shall be a daily newspaper which has circulation in the locality in which the defendant is last known to have actually and voluntarily resided, carried on business or personally worked for gain.

Effect of substituted service-
(2) Service substituted by order of the Court shall be as effectual as if it had been made on the defendant personally.

Where service substituted, time for appearance to be fixed-
(3) Where service is substituted by order of the Court, the Court shall fix such time for the appearance of the defendant as the case may require. 
১৮.
আরজি সত্যাখ্যান (Verification) এর ক্ষেত্রে সঠিক নয়-
  1. আরজির নিচে মোকদ্দমার বাদী সত্যাখ্যান করবে
  2. লিখিত জবাবের অপর পৃষ্ঠায় বিবাদী সত্যাখ্যান করবে
  3. অন্য কোন ব্যক্তি যে মোকদ্দমার বিষয় সম্পর্কে জানে আদালতের অনুমতিক্রমে সত্যাখ্যান করতে পারে
  4. সবগুলো সঠিক
ব্যাখ্যা
• দেওয়ানী কার্যবিধির আদেশ ৬ এর বিধি ১৪ তে প্লিডিংস স্বাক্ষর এবং ১৫ বিধিতে প্লিডিংস সত্যাখ্যান নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।

• বিধি ১৪- প্রত্যেক প্লিডিংস অর্থাৎ আরজি বা লিখিত জবাব স্বাক্ষরিত হতে হবে।
১. সংশ্লিষ্ট পক্ষ কর্তৃক এবং
২. তার উকিল বা Pleader কর্তৃক

অর্থাৎ আরজিতে বাদী এবং তার উকিল স্বাক্ষর করবে এবং লিখিত জবাবে বিবাদী এবং তার উকিল স্বাক্ষর করবে।

• বিধি ১৫- প্লিডিংস সত্যাখ্যান বা সত্যতা প্রতিপাদন [Verification of Pleadings]-
সত্যাখ্যান হলো মামলার পক্ষসমূহ যেমন আরজির ক্ষেত্রে বাদী এবং লিখিত জবাবের ক্ষেত্রে বিবাদী আরজি বা লিখিত জবাবে যে সকল বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে, তা তার জানা বলে স্বীকার করা। আরজির নিচে মোকদ্দমার বাদী এবং লিখিত জবাবের নিচে বিবাদী সত্যাখ্যান (সত্যতা প্রতিপাদন) করবে অথবা আদালত সন্তষ্ট হলে, অন্য কোন ব্যক্তি যে মোকদ্দমার বিষয় সম্পর্কে জানে, সে আরজি বা লিখিত জবাবে সত্যাখ্যান করতে পারে। যে ব্যক্তি সত্যাখ্যান করছে সে সত্যতা প্রতিপাদন অংশে স্বাক্ষর করবে এবং যে দিন এবং স্থানে সত্যাখ্যান স্বাক্ষর করা হয়েছিল তা উল্লেখ করবে।
১৯.
সংযুক্তি মোকদ্দমার ক্ষেত্রে কখন আদালত পৃথক বিচার অনুষ্ঠানের আদেশ দিতে পারেন?
  1. বিবাদী আবেদন করলে
  2. বিচারকে বিলম্বিত করলে
  3. বাদী আবেদন করলে
  4. উল্লেখিত যেকোন ক্ষেত্রে
ব্যাখ্যা
• সংযুক্তি মোকদ্দমায় বাদীদের কোন প্রকার সংযুক্তি যদি মোকদ্দমার বিচারকে ভারগ্রস্ত বা বিলম্বিত করতে পারে, সেক্ষেত্রে আদালত পৃথক বিচার অনুষ্ঠানের আদেশ দিতে পারেন

• দেওয়ানী কার্যবিধির ১নং আদেশে কতিপয় ব্যক্তি নির্দিষ্ট শর্তপূরণ সাপেক্ষে মোকদ্দমার পক্ষভুক্ত হতে পারে। একটি মোকদ্দমায় একাধিক ব্যক্তিকে বাদী এবং বিবাদী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা যেতে পারে। একটি মোকদ্দমায় সকল ব্যক্তি বাদী বা বিবাদী হিসেবে যুক্ত হতে পারে, যদি-

১. মোকদ্দমার প্রত্যেক বাদী বা বিবাদীর দাবীকৃত প্রতিকার একই কার্য বা লেনদেন থেকে উৎপত্তি হয় বা
২. মোকদ্দমাটি এমন যে, যদি এই ব্যক্তিরা (বাদী বা বিবাদী) পৃথক মোকদ্দমা দায়ের করে তাহলে আইন বা তথ্য সংক্রান্ত একটি সাধারণ প্রশ্নের উদ্ভব হবে। 

• তবে কোনো কোনো ক্ষেত্রে আদালত পৃথক বিচার অনুষ্ঠানের আদেশ দিতে পারেন। সেই বিষয়ে ১নং আদেশের বিধি ২ তে বলা আছে-
ভিন্ন উপায়ে বিচার অনুষ্ঠানের আদেশ প্রদানে আদালতের ক্ষমতা। যেক্ষেত্রে আদালতের নিকট প্রতীয়মান হয় যে, বাদীদের কোন প্রকার সংযুক্তি মোকদ্দমার বিচারকে ভারগ্রস্ত বা বিলম্বিত করতে পারে, সেক্ষেত্রে আদালত বাদিদের পছন্দের উপর ছেড়ে দিতে পারে অথবা পৃথক বিচার অনুষ্ঠানের আদেশ অবস্থা বিবেচনায় উপযুক্ত অন্য কোন আদেশ দিতে পারে।

Rule-2: Power of Court to order separate trials-
Where it appears to the Court that any joinder of plaintiffs may embarrass or delay the trial of the suit, the Court may put the plaintiffs to their election or order separate trials or make such other order as may be expedient.
২০.
আরজি প্রত্যাখ্যাত হলে বাদী-
  1. নতুন আরজি দাখিল করতে পারবে না
  2. নতুন আরজি দাখিল করতে পারবে
  3. আরজি সংশোধন করতে পারবে না
  4. কোনটি নয়
ব্যাখ্যা
• দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ৭ এর ১১ বিধিতে উল্লেখিত যে কোন কারণে আরজি প্রত্যাখ্যাত করা হলে, বাদী পরবর্তীতে একই মোকদ্দমার কারণ সমন্ধে নতুন আরজি দাখিল করতে পারবে।  

• দেওয়ানী কার্যবিধির ৭ নং আদেশের ১ থেকে ১৮ নং বিধিতে আরজি সংক্রান্ত বিষয়ে আলোচনা করা হয়েছে। দেওয়ানী কার্যবিধির ৭ নং আদেশের ১১ বিধিতে আরজি প্রত্যাখানের কারণগুলো দেয়া রয়েছে।দেওয়ানী আদালত ৪টি কারণে আরজি প্রত্যাখান করতে পারে। যথা-

(ক) আরজিতে মামলার কারণ (cause of action) উল্লেখ না করলে।
(খ) আরজিতে দাবিকৃত প্রতিকারের মূল্য কম করে উল্লেখ করা হলে এবং আদালতের নির্দেশমত নির্ধারিত সময় বা সর্বাধিক ২১ দিনের মধ্যে মোকদ্দমায় মূল্যমান সংশোধন এবং অতিরিক্ত কোর্ট ফি প্রদান করতে ব্যর্থ হলে।
(গ) অপর্যাপ্ত স্টাম্প পেপারে লিখলে এবং আদালত কর্তৃক নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় স্ট্যাম্প পেপার সরবরাহ করতে ব্যর্থ হলে।
(ঘ) মামলাটি কোনো আইন অনুযায়ী নিষিদ্ধ বা বারিত হলে। যেমন- তামাদি আইনে বারিত হলে, আদালত আরজি প্রত্যাখান করতে পারে।

• বিধি-১৩ঃ যেক্ষেত্রে আরজি প্রত্যাখ্যাত হলে নতুন আরজি দাখিলে বাধা নেই-
পূর্বে উল্লেখিত যে কোন কারণে আরজি প্রত্যাখ্যাত করা হলে স্বীয় প্রভাবে একই মোকদ্দমার কারণ সমন্ধে নতুন আরজি দাখিলে বাদীকে বাধা প্রদান করবে না।

Where rejection of plaint does not preclude presentation of fresh plaint-
The rejection of the plaint on any of the grounds hereinbefore mentioned shall not of its own force preclude the plaintiff from presenting a fresh plaint in respect of the same cause of action.
২১.
প্লিডিংসে কোন কোন বিষয়াবলীর বিস্তারিত বর্ণনা দিতে হয়?
  1. ভ্রান্ত বিবরণ, প্রতারণা
  2. বিশ্বাসভঙ্গ, স্বেচ্ছাকৃত খেলাপ
  3. অন্যায়, অবাঞ্চিত প্রভাবের
  4. উল্লেখিত সকল বিষয়
ব্যাখ্যা
• বাদীর আরজি বা বিবাদীর লিখিত জবাব একত্রে প্লিডিংস নামে পরিচিত। আরজি হলো যে লিখিত দলিল দাখিলের মাধ্যমে বাদী প্রতিকার চেয়ে দেওয়ানী মোকদ্দমা দায়ের করে। এখানে বাদী তার দাবী এবং দাবীর সমর্থনে ঘটনা উল্লেখ করে। লিখিত জবাব হলো বিবাদী সাধারণত বাদীর দাবী অস্বীকার করে লিখিত যে দলিল পেশ করে।

• প্লিডিংস সম্পর্কে নিয়ম:
প্লিডিংসে শুধুমাত্র ঘটনা [ Material Facts] উল্লেখ করতে হবে, আইন [Law] বা সাক্ষ্য [evidence] উল্লেখ করার প্রয়োজন নেই। প্লিডিংসে শুধুমাত্র গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাদি (Material Facts] উল্লেখ থাকবে। গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাদি (Material Facts) যার উপর ভিত্তি করে আবেদনকারী বা দরখাস্তকারী তার দাবী উত্থাপন করে বা আত্মপক্ষ সমর্থন করে, সে সব তথ্য প্লিডিংসে (আরজি বা লিখিত জবাবে) উল্লেখ করতে হবে। সেসব তথ্যাবলীর সংক্ষিপ্ত বিবরণ(concise form) দান করতে হবে, এতদসম্বন্ধীয় প্রমাণাদি দরখাস্তে উল্লেখ করার প্রয়োজন নেই।

• ৬নং আদেশের বিধি-৪ তে কখন প্লিডিংসে বিস্তারিত বর্ণনা দান করতে হবে, তা বলা আছে-
যেক্ষেত্রে প্লিডিংস কোন ভ্রান্ত বিবরণ, প্রতারণা, বিশ্বাসভঙ্গ, স্বেচ্ছাকৃত খেলাপ, অযথা অন্যায় অথবা অবাঞ্চিত প্রভাবের উপর নির্ভর করে এবং অন্যান্য যে সকল ক্ষেত্রে উপরোক্ত ফরমসমূহে প্রদর্শিত বিবরণ ব্যতীত আরও বেশী বিবৃতি দেয়ার প্রয়োজন পড়ে, ঐ সকল ক্ষেত্রে (প্রয়োজনবোধে তারিখ ও দফা উল্লেখ করে) এর বিশদ বিবৃতি(particulars) দিতে হবে।
২২.
বিবাদী যদি সরকারী কর্মচারী হয়ে থাকে, তবে সমনটি জারির জন্য কার নিকট পাঠানো হবে?
  1. বিবাদীর প্রতিনিধিকে
  2. বিবাদীর অফিসের প্রধান কে
  3. বিবাদীর পরিবারের সদস্যকে
  4. ক বা খ বা গ
ব্যাখ্যা
• আরজির মাধ্যমে দাখিলকৃত দেওয়ানী মামলায় বিবাদী পক্ষকে আদালত কর্তৃক নির্ধারিত যে পত্র বা নোটিশের মাধ্যমে আত্মপক্ষ সমর্থনের জন্য হাজির হওয়ার জন্য নির্দেশ দেয়া হয়, তাকে সমন বলে ।

দেওয়ানী কার্যবিধির ৫ নং আদেশে, ২১ নং আদেশের ২৪ ও ২৫ নম্বর বিধিতে এবং ১৬ নং আদেশের ৮ নম্বর বিধিতে সমন সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে।

• ৫নং আদেশে কিছু বিশেষ ক্ষেত্রে সমন জারির বিশেষ পদ্ধতি আলোচনা করা হয়েছে।যেমনঃ

(বিধি ২১)
যেক্ষেত্রে বিবাদী অন্য আদালতের এখতিয়ারাধীন এলাকায় বসবাস করে সেই ক্ষেত্রে বিবাদী যে এলাকায় বসবাস করে, সেই এলাকার এখতিয়ারাধীন যেকোন সমন জারিকারী আদালত সমনটি পাঠাতে পারে এবং উক্ত আদালত তখন সমন জারি করবে।

(বিধি ২৪)
যেক্ষেত্রে বিবাদী জেলে থাকে, সেই ক্ষেত্রে বিবাদীর প্রতি সমন জারির জন্য জেলের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার নিকট সমন পাঠাতে হবে।

(বিধি ২৫,২৬)
যেক্ষেত্রে বিবাদী বাংলাদেশের বাইরে বসবাস করে এবং বাংলাদেশে সমন গ্রহণের কোন এজেন্ট নেই, সেই ক্ষেত্রে বিবাদী দেশের বাইরে যেখানে বসবাস করে সেখানে পাঠাতে হবে। এই ক্ষেত্রে রাজনৈতিক প্রতিনিধি বা এমন সমন জারির জন্য প্রতিষ্ঠিত কোন আদালত কর্তৃক সমনটি জারি করা যেতে পারে। 

(বিধি ২৭)
সরকারী কর্মকর্তা বা রেলওয়ে বা স্থানীয় কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তার প্রতি সমন জারির জন্য উক্ত অফিসের প্রধানের বরাবর সমন পাঠাতে হবে।

(বিধি ২৮)
যেক্ষেত্রে বিবাদী একজন সৈনিক, নাবিক, বা বৈমানিক, সেই ক্ষেত্রে সমন জারি করতে উক্ত বাহিনীর কমান্ডিং অফিসারের নিকট সমন পাঠাতে হবে।
২৩.
নিম্নের কোনটি প্লিডিংসে উল্লেখ থাকবে?
  1. আইন [Law]
  2. গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাদি (Material Facts]
  3. সাক্ষ্য [evidence]
  4. সবগুলো
ব্যাখ্যা
• প্লিডিংসে শুধুমাত্র গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাদি (Material Facts] উল্লেখ থাকবে।

• দেওয়ানী কার্যবিধির ৬নং আদেশের ১ নং বিধিতে প্লিডিংসের সংজ্ঞা রয়েছে। প্লিডিংস (Pleadings) বলতে আরজি অথবা লিখিত জবাবকে বোঝায় [Pleadings shall mean plaint or written statement]

• বাদীর প্লিডিংস হলো আরজি এবং বিবাদীর প্লিডিংস হলো লিখিত জবাব। বাদীর আরজি বা বিবাদীর লিখিত জবাব একত্রে প্লিডিংস নামে পরিচিত। আরজি হলো যে লিখিত দলিল দাখিলের মাধ্যমে বাদী প্রতিকার চেয়ে দেওয়ানী মোকদ্দমা দায়ের করে। এখানে বাদী তার দাবী এবং দাবীর সমর্থনে ঘটনা উল্লেখ করে। লিখিত জবাব হলো বিবাদী সাধারণত বাদীর দাবী অস্বীকার করে লিখিত যে দলিল পেশ করে।

• প্লিডিংস সম্পর্কে নিয়ম:
প্লিডিংসে শুধুমাত্র ঘটনা [Material Facts] উল্লেখ করতে হবে, আইন [Law] বা সাক্ষ্য [evidence] উল্লেখ করার প্রয়োজন নেই। প্লিডিংসে শুধুমাত্র গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাদি [Material Facts] উল্লেখ থাকবে। গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাদি (Material Facts) যার উপর ভিত্তি করে আবেদনকারী বা দরখাস্তকারী তার দাবী উত্থাপন করে বা আত্মপক্ষ সমর্থন করে, সে সব তথ্য প্লিডিংসে (আরজি বা লিখিত জবাবে) উল্লেখ করতে হবে। যেমন- মোকদ্দমার কারণ ইত্যাদি।

Order 6 rule 2: Pleading to state material facts and not evidence-
Every pleading shall contain, and contain only, a statement in a concise form of the material facts on which the party pleading relies for his claim or defence, as the case may be, but not the evidence by which they are to be proved, and shall, when necessary, be divided into paragraphs, numbered consecutively. Dates, sums and numbers shall be expressed in figures. 
২৪.
একটি মোকদ্দমায় 'ক' একাধিক বাদীদের মধ্যে একজন। সকল বাদীদের পক্ষে শুধু 'ক' মোকদ্দমা পরিচালনা করতে পারে যদি-
  1. বাদীপক্ষ লিখিতভাবে ক্ষমতা অর্পণ করে
  2. বিবাদীপক্ষ মৌখিক বা লিখিতভাবে ক্ষমতা অর্পণ করে
  3. আদালত লিখিত ভাবে ক্ষমতা অর্পণ করে
  4. বাদীপক্ষ মৌখিক ভাবে ক্ষমতা অর্পণ করে
ব্যাখ্যা
• আদেশ ১ বিধি ১২ অনুযায়ী-

১) কোন মোকদ্দমায় অধিক সংখ্যক বাদি বিদ্যমান থাকলে তন্মধ্যে যেকোন এক ব্যক্তিকে অথবা একাধিক ব্যক্তিকে সকলে তাদের পক্ষে আদালতে উপস্থিত হয়ে মোকদ্দমাকেন্দ্রিক অভিযোগাদির উত্তর দিতে বা কার্য করতে তথা তদারক করার ক্ষমতা প্রদান করতে পারবে,
অনুরূপভাবে কোন মোকদ্দমার অধিক সংখ্যক বিবাদি বিদ্যমান থাকলে, তন্মধ্যে যেকোন একজনকে বা একাধিক জনকে অপর সকলে তাদের পক্ষে আদালতে হাজির হয়ে মোকদ্দমাকেন্দ্রিক অভিযোগাদির উত্তর দিতে বা কার্য করতে তথা তদারক করার ক্ষমতা অর্পণ করতে পারবে।

২) ক্ষমতা প্রদানকারী পক্ষের স্বাক্ষরে ক্ষমতা অর্পণ লিখিতভাবে করতে হবে এবং তা আদালতে দাখিল করতে হবে।

Appearance of one of several plaintiffs or defendants for others-
(1) Where there are more plaintiffs than one, any one or more of them may be authorized by any other of them to appear, plead or act for such other in any proceedings; and in like manner, where there are more defendants than one, any one or more of them may be authorized by any other of them to appear, plead or act for such other in any proceeding.
(2) The authority shall be in writing signed by the party giving it and shall be filed in Court. 
২৫.
আরজির সাথে দাখিলকৃত দলিলের তালিকা কে পরীক্ষা করে স্বাক্ষর করবে?
  1. আদালতের প্রধান কেরানী পরীক্ষা করবে এবং বিচারক স্বাক্ষর করবে
  2. বিচারক পরীক্ষা করে, স্বাক্ষর করবে
  3. আদালতের প্রধান কেরানী পরীক্ষা করে স্বাক্ষর করবে
  4. বাদীর উকিল পরীক্ষা করবে এবং বাদী স্বাক্ষর করবে
ব্যাখ্যা
• দেওয়ানী মোকদ্দমা দায়ের করতে হলে প্রথমে যে দলিল প্রস্তুত করতে হয়, সেটা হলো আরজি। আরজি দাখিলের মধ্য দিয়ে দেওয়ানি মোকদ্দমা শুরু হয়।দেওয়ানী কার্যবিধির ৭ নং আদেশের ১ থেকে ১৮ নং বিধিতে আরজি সংক্রান্ত বিষয়ে আলোচনা করা হয়েছে।

• আদেশ ৭  বিধি-৯ তে আরজি গ্রহণের পদ্ধতি দেয়া হয়েছে-

যেসকল দলিল বাদী আরজির সাথে পেশ করে (যদি থাকে), আরজির উপর সেই গুলির একটি তালিকা লিখে বা আরজির সাথে সংযুক্ত করে দিতে হবে। আরজি গৃহীত হলে যতজন বিবাদী রয়েছে, সাদা কাগজে আরজির ততসংখ্যক নকল পেশ করবে। বাদী আরজির সাথে যে তালিকা, সংক্ষিপ্ত বিবৃতি, নকল দাখিল করে তা আদালতের প্রধান কেরানী পরীক্ষাপূর্বক সেগুলো সঠিক থাকলে সেইগুলোতে স্বাক্ষর করবে।

Order 7 Rule 9 (Procedure of admitting plaint)-


1) The plaintiff shall endorse on the plant, or annex thereto, a list of the documents (if any) which he has produced along with it; and, if the plaint is admitted, shall present as many copies on plain paper of the plaint as there are defendants, unless the Court by reason of the length of the plaint or the number of the defendants, or any other sufficient reason, permits him to present a like number of concise statements of the nature of the claim made, or of the relief claimed in the suit, in which case he shall present such statements.

2) Concise statements: Where the plaintiff sues, or the defendant or any of the defendants is sued, in a representative capacity, such statements shall show in what capacity the plantiff or defendant sues or is sued.

3) The plaintiff may, by leave of the Court, amend such statements so as to make them correspond with the plaint.
4) The chief ministerial officer of the Court shall sign such list and copies or statements if, on examination, he finds them to be correct.
২৬.
দেওয়ানি কার্যবিধির ৩১ ধারার বিধান অনুযায়ী আদালত কোন ক্ষেত্রে সাক্ষীদের প্রতি সমন জারি করতে পারে?
  1. শুধুমাত্র সাক্ষ্য দান
  2. সাক্ষ্য দান বা দলিল পেশ
  3. সাক্ষ্য দান, দলিল পেশ অথবা অন্যান্য প্রয়োজনীয় বিষয় দাখিল
  4. শুধুমাত্র দলিল পেশ
ব্যাখ্যা
• আরজির মাধ্যমে দাখিলকৃত দেওয়ানী মামলায় বিবাদী পক্ষকে আদালত কর্তৃক নির্ধারিত যে পত্র বা নোটিশের মাধ্যমে আত্মপক্ষ সমর্থনের জন্য হাজির হওয়ার জন্য নির্দেশ দেয়া হয়, তাকে সমন বলে ।

• সমনের উদ্দেশ্য- সমন জারি করা হয় বিবাদীকে মোকদ্দমার বিষয়টি অবহিত করে আদালতে বিবাদীর হাজিরা নিশ্চিত করা এবং মোকদম্মা প্রতিদ্বন্দ্বিতার ক্ষেত্রে তার বক্তব্য পেশের সুযোগ দেয়া।

দেওয়ানী কার্যবিধির ধারা ২৭-৩২, ৫ নং আদেশে, ২১ নং আদেশের ২৪ ও ২৫ নম্বর বিধিতে এবং ১৬ নং আদেশের ৮ নম্বর বিধিতে সমন সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে। 

• দেওয়ানী কার্যবিধির ধারা-৩১ অনুযায়ী,
সাক্ষীদের ক্ষেত্রে সাক্ষ্য দান বা দলিল পেশ অথবা অন্যান্য প্রয়োজনীয় বিষয় দাখিল করার জন্য সমনের ক্ষেত্রে ২৭, ২৮ ও ২৯নং ধারার বিধানসমূহ প্রযোজ্য হবে। অর্থাৎ বিবাদীর ক্ষেত্রে সমনের যে বিধানসমূহ প্রযোজ্য, সাক্ষীদের ক্ষেত্রেও তা প্রযোজ্য হবে।

Sec-31: Summons to witness
The provisions in sections 27, 28 and 29 shall apply to summonses to give evidence or to produce documents or other material objects.
২৭.
আদেশ ১৬ এর অধীন কোনো ব্যক্তির সম্পত্তি ক্রোক করা হলে, ঐ ব্যক্তি একজন ______ হিসেবে গণ্য হবে?
  1. judgment-holder
  2. decree- holder
  3. judgment-debtor
  4. Accused
ব্যাখ্যা

• আদেশ ১৬ এর অধীন কোনো ব্যক্তির সম্পত্তি ক্রোক করা হলে, ঐ ব্যক্তি রায়ের দেনাদার (judgment-debtor) হিসেবে গণ্য হবে।

• আদেশ-১৬ এ সাক্ষীর প্রতি সমন এবং হাজিরা সম্পর্কিত বিধি-বিধান রয়েছে। এই আদেশের অধীন আদালত নিম্নোক্ত ক্ষেত্রে ক্রোকাদেশ দিতে পারেন-

বিধি- ১০ঃ
সাক্ষী সমন মান্য করতে ব্যর্থ হলে আদালত তাকে হাজির হওয়ার জন্য হুলিয়া জারি (Proclamation) করতে পারবে। উক্ত ব্যক্তিকে গ্রেফতারের জন্য ওয়ারেন্ট ইস্যু করতে পারে ও সম্পত্তি ক্রোক করার আদেশ দিতে পারে।

বিধি- ১২ঃ
সাক্ষী হাজির হতে ব্যর্থ হলে আদালত অনধিক ৫০০ টাকা জরিমানা এবং তার সম্পত্তি ক্রোক ও নিলাম বিক্রয়ের আদেশ দিতে পারবে। বিধি ১০ এর অধীন পূর্বেই ক্রোক করা হলে জরিমানা সহ ক্রোকের ব্যয় মেটানোর জন্য নিলাম বিক্রয়ের আদেশ দিতে হবে।

বিধি- ১৩ঃ
উল্লেখিত ক্ষেত্রসমূহে ক্রোকের পদ্ধতি হবে ডিক্রিজারির ফলে সম্পত্তি ক্রোক ও বিক্রয় সম্পর্কে বিধানসমূহ যথাসম্ভব প্রযোজ্য, যে ব্যক্তির সম্পত্তি ক্রোক করা হয় ঐ ব্যক্তি একজন রায়ের দেনাদার ছিল গণ্যে এ আদেশের অধীনে কোন ক্রোক ও নিলাম করার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য বলে গণ্য হবে।

Order 16 Rule 13: Mode of attachment-
The provisions with regard to the attachment and sale property in the execution of a decree shall, so far as they are applicable, be deemed to apply to any attachment and sale under this Order as if the person whose property is so attached were a judgment-debtor.

২৮.
পক্ষসমূহের অপসংযোগ (Mis-Joinder) বা অসংযোগ (Non-Joinder) সংক্রান্ত যে কোন আপত্তি আদালতে কখন উত্থাপন করতে হবে?
  1. মোকদ্দমার যে কোন পর্যায়ে
  2. বিচার্য বিষয় নির্ধারনের সময় অথবা পূর্বে
  3. বিচার্য বিষয় নির্ধারনের পূর্বে
  4. আপিল বা রিভিশন পর্যায়ে
ব্যাখ্যা
• পক্ষসমূহের অপসংযোগ (Mis-Joinder of Parties) বা অসংযোগ (Non-Joinder) সংক্রান্ত যে কোন আপত্তি সম্ভাব্য ১ম সুযোগে (at earliest possible opportunity) অথবা বিচার্য বিষয় নির্ধারনের সময় অথবা পূর্বে উত্থাপন করতে হবে। 

• পক্ষসমূহের অসংযোগ বা অপসংযোগ (Non-Joinder and Mis-Joinder of Parties)- 
মোকদ্দমার প্রয়োজনীয় পক্ষদের পক্ষভুক্ত না করাকে পক্ষাভাব বা Non-Joinder of parties বলে। অন্যদিকে কোন ব্যক্তিকে মোকদ্দমায় পক্ষভুক্ত করলে তাকে অপসংযোগ বা Mis-Joinder of Parties বলে।  ভুল ব্যক্তির নামে মোকদ্দমা হলে বা ভুল ব্যক্তিকে পক্ষভুক্ত করা হলে, আদালত তাকে মোকদ্দমার যে কোন পর্যায়ে কর্তন (strike out) বা বাদ অথবা স্থলাভিষিক্ত বা সংযোজিত (Add/Substitute) করতে পারে দিতে পারে।

• দেওয়ানি কার্যবিধির ১নং আদেশের ১৩নং বিধিমতে, পক্ষসমূহের অপসংযোগ (Mis-Joinder of Parties) বা অসংযোগ (Non-Joinder) সংক্রান্ত যে কোন আপত্তি সম্ভাব্য ১ম সুযোগে (at earliest possible opportunity) অথবা বিচার্য বিষয় নির্ধারনের সময় অথবা পূর্বে উত্থাপন করতে হবে।

Order 1 Rule 13: Objections as to nonjoinder or misjoinder-
All objections on the ground of nonjoinder or misjoinder of parties shall be taken at the earliest possible opportunity and, in all cases where issues are settle, at or before such settlement, unless the ground of objection has subsequently arisen, and any such objection not so taken shall be deemed to have been waived.
২৯.
আরজি ফেরত [Return of Plaint] এর ক্ষেত্রে বিচারক আরজির উপর কি কি উল্লেখ করবে?
  1. আরজি পেশ এবং ফেরতের তারিখ
  2. ফেরতের কারন
  3. দাখিলকারী পক্ষের নাম
  4. ক,খ এবং গ
ব্যাখ্যা
• দেওয়ানী কার্যবিধির ৭ আদেশের ১০ বিধিতে আরজি ফেরত এবং ৭ আদেশের ১১ বিধিতে আরজি প্রত্যাখ্যান বিষয়ে বিধান উল্লেখ করা হয়েছে।

আরজি ফেরত অর্থ হলো এখতিয়ারবিহীন আদালতে আরজি দাখিল করলে, আরজিটি এখতিয়ারসম্পন্ন আদালতে দাখিলের জন্য ফেরত দেয়া। যদি এমন কোন আদালতে আরজি দাখিল করা হয় যে আদালতে উক্ত মোকদ্দমার বিচার করার আর্থিক বা আঞ্চলিক এখতিয়ার নেই, তখন এখতিয়ারসম্পন্ন আদালতে আরজিটি দাখিলের জন্য আদালত ফেরত দিতে পারে। মোকদ্দমার যেকোন পর্যায়ে আদালত আরজি ফেরতের আদেশ দিতে পারে।

আরজি ফেরত প্রদানের পদ্ধতি- বিচারক আরজি ফেরত প্রদানের সময় উহার উপর;
আরজি পেশ করার ও ফেরত নেয়ার তারিখ,
দাখিলকারক পক্ষের নাম এবং
তা ফেরত নিয়ে যাওয়ার কারণ সম্পর্কে একটি সংক্ষিপ্ত বিবরণ লিপিবদ্ধ করবে।  [বিধি ১০(২)]

Order 7 Rule 10(2): Procedure on returning plaint-
On returning a plaint the Judge shall endorse thereon the date of its presentation and return, the name of the party presenting it, and a brief statement of the reasons for returning it. 

• আরজি ফেরত আদেশের বিরুদ্ধে প্রতিকার:
১. বাদী আরজিটি এখতিয়ারসম্পন্ন আদালতে পুনরায় দাখিল করতে পারে বা
২.আরজি ফেরত আদেশের বিরুদ্ধে আপীল দায়ের করতে পারে। কারণ দেওয়ানী কার্যবিধির ৪৩ আদেশের ১ (ক) বিধি অনুযায়ী আরজি ফেরতের সিদ্ধান্ত একটি আপীলযোগ্য আদেশ।
৩০.
বিবাদী একাধিক হলে, সমন কিভাবে জারি করা হয়?
  1. প্রত্যেক বিবাদীর উপর
  2. যেকোনো একজনের উপর
  3. ক বা খ
  4. বাদীর ইচ্ছানুযায়ী
ব্যাখ্যা

বিবাদী একাধিক হলে, সমন প্রত্যেক বিবাদীর উপর জারি করা হয়।

• আরজির মাধ্যমে দাখিলকৃত দেওয়ানী মোকদ্দমায় বিবাদী পক্ষকে আদালত কর্তৃক নির্ধারিত যে পত্র বা নোটিশের মাধ্যমে আত্মপক্ষ সমর্থনের জন্য হাজির হওয়ার জন্য নির্দেশ দেয়া হয়, তাকে সমন বলে।
সমনের উদ্দেশ্য- সমন জারি করা হয় বিবাদীকে মোকদ্দমার বিষয়টি অবহিত করে আদালতে বিবাদীর হাজিরা নিশ্চিত করা এবং মোকদম্মা প্রতিদ্বন্দ্বিতার ক্ষেত্রে তার বক্তব্য পেশের সুযোগ দেয়া।

মোকদ্দমা যথাযথভাবে রুজু হওয়ার পর নির্ধারিত তারিখে হাজির এবং দাবীর সমর্থনে জবাব দানের জন্য মোকদ্দমা রুজুর পাঁচ(৫) কার্যদিবসের মধ্যে আদালত কর্তৃক নিযুক্ত কর্মকর্তা বিবাদির নিকট সমন প্রেরণ করবে। মোকদ্দমায় এক বা একাধিক বিবাদী থাকতে পারে। যেক্ষেত্রে একাধিক বিবাদী থাকে সেক্ষেত্রে সমন আদেশ ৫ এর বিধি ১১ নং অনুসারে জারি করতে হবে।
 
• বিধি ১১-
অনুরূপ নির্দেশ যদি না থাকে তবে ক্ষেত্রে বিবাদির সংখ্যা বহুসংখ্যক হয়, সেক্ষেত্রে বিবাদিগণের প্রত্যেকের উপর সমন জারি করতে হবে।
[Save as otherwise prescribed, where there are more defendants than one, service of the summons shall be made on each defendant.]

৩১.
দেওয়ানি কার্যবিধিতে সমন অমান্যের জন্য সমনপ্রাপ্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে আদালত কি আদেশ দিতে পারেন?
  1. গ্রেফতারী পরোয়ানা জারি করতে পারেন
  2. অনধিক এক হাজার টাকা জরিমানা করতে পারেন
  3. তার সম্পত্তি ক্রোক ও বিক্রয় করতে পারেন
  4. ক বা গ
ব্যাখ্যা
• দেওয়ানী কার্যবিধির ধারা ৩২ অনুসারে, সমন অমান্যের জন্য যাকে সমন প্রদান করা হয়েছে, আদালত তাকে হাজির হতে বাধ্য করতে নিম্নোক্ত আদেশ গুলো দিতে পারে-

ক) গ্রেফতারী পরোয়ানা জারি করতে পারেন;
খ) তার সম্পত্তি ক্রোক ও বিক্রয় করতে পারেন;
গ) অনধিক পাঁচশত টাকা জরিমানা করতে পারেন;
ঘ) তার হাজিরার জন্য তাকে জামানত দেয়ার আদেশ করতে পারেন ও জামানত না দিলে তাকে জেলে প্ররণ করতে পারেন।

Sec. 32: Penalty for default-
The Court may compel the attendance of any person to whom a summons has been issued under section 30 and for that purpose may-
a) issue a warrant for his arrest;
b) attach and sell his property;
c) impose a fine upon him not exceeding five hundred Taka; 
d) order him to furnish security for his appearance and in default commit to the civil prison.
৩২.
বিচারকার্যে বিলম্ব ঘটাতে প্লিডিংস সংশোধনের আবেদন করা হলে,আদালত কি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে?
  1. আবেদনকারীকে কারাদণ্ড দিবে
  2. আপত্তিকারীকে ক্ষতিপূরণের আদেশ
  3. আবেদনকারীর বিরুদ্ধে ডিক্রি দান
  4. আবেদনকারীকে আদালত থেকে বহিষ্কার আদেশ
ব্যাখ্যা
• বিচারকার্যে বিলম্ব ঘটাতে প্লিডিংস সংশোধনের আবেদন করা হলে,আদালত আপত্তিকারীকে যেরকম উপযুক্ত মনে করেন,সেই উপায়ে ক্ষতিপূরণের আদেশ দিবেন।

• বাদীর প্লিডিংস হলো আরজি এবং বিবাদীর প্লিডিংস হলো লিখিত জবাব। বাদীর আরজি বা বিবাদীর লিখিত জবাব একত্রে প্লিডিংস নামে পরিচিত। আরজি হলো যে লিখিত দলিল দাখিলের মাধ্যমে বাদী প্রতিকার চেয়ে দেওয়ানী মোকদ্দমা দায়ের করে। এখানে বাদী তার দাবী এবং দাবীর সমর্থনে ঘটনা উল্লেখ করে। লিখিত জবাব হলো বিবাদী সাধারণত বাদীর দাবী অস্বীকার করে লিখিত যে দলিল পেশ করে।

• দেওয়ানি কার্যবিধির ৬নং আদেশের ১৭নং বিধিতে প্লিডিংস সংশোধন করার বিধান রয়েছে। ১৭ নং বিধিমতে মোকদ্দমার প্রকৃতি নির্ধারণ ও ন্যায় বিচারের প্রয়োজনে মোকদ্দমার যে কোন পর্যায়ে এমনকি আপিলেও আদালত তার ইচ্ছাধীন ক্ষমতাবলে প্লিডিংস সংশোধন করতে পারে। উল্লেখ্য যে, প্লিডিংস সংশোধনের জন্য আবেদন করতে হয় বিচারিক আদালতে। তবে বিচার শুরু হওয়ার পর প্লিডিংস সংশোধনীর আবেদনের ক্ষেত্রে আবেদনকারীকে যথেষ্ট সতর্কতা অবলম্বন সত্ত্বেও বিচার শুরুর আগে আবেদন না করার কারণ দেখিয়ে, আদালতকে সন্তুষ্ট করতে হবে।

• বিচারকার্য আরম্ভ হওয়ার পর যদি সংশোধনের আবেদন করা হয় এবং আদালত এই মত পোষণ করেন যে, বিচারকার্য পরিচালনাকে বিলম্ব করার নিমিত্তে ইহা করা হয়েছে, সেক্ষেত্রে আদালত আপত্তিকারীকে যেরূপ উপযুক্ত মনে করেন তদ্রুপ ক্ষতিপূরণ বাবদ অর্থ পরিশোধ করতে আদেশ দিবেন।
[if an application for amendment is made after the trial has commenced and the Court is of opinion that the application is made to delay the proceedings, the Court shall make an order for the payment to the objector such cost by way of compensation as if thinks fit."]
৩৩.
মোকাবেলা পক্ষ (Pro-forma defendant) বলতে কি বুঝায়?
  1. যেসব ব্যক্তিদের বিচারের প্রয়োজনে মোকদ্দমায় যুক্ত করতে হয়
  2. যাদের বিরুদ্ধে মোকদ্দমায় কোন প্রতিকার চাওয়া হয় না
  3. ক এবং খ
  4. যাদের বিরুদ্ধে মোকদ্দমায় প্রতিকার চাওয়া হয়
ব্যাখ্যা
• মোকাবেলা পক্ষ (Pro-forma defendant )- অনেক সময় এমন অবস্থার সৃষ্টি হয় যে বিবাদী ব্যতীত অন্যান্য কতিপয় ব্যক্তিকে মোকদ্দমা বিচারের প্রয়োজনে মোকদ্দমায় যুক্ত করতে হয়। কিন্তু তাদের বিরুদ্ধে কোন প্রতিকার চাওয়া হয় না বা মোকদ্দমায় তাদের কোনো স্বার্থ নেই। তাদের মোকাবেলা পক্ষ বা (Pro-forma defendant ) বলা হয়।

• দেওয়ানী কার্যবিধির ১নং আদেশের ৫নং বিধি অনুযায়ী-

"বিবাদিগণের বিরুদ্ধে মোকদ্দমায় যেসকল প্রতিকার দাবী করা হয়, তন্মধ্যে সবগুলোই প্রত্যেক বিবাদির স্বার্থসম্পর্কিত হওয়ার দরকার নেই।"
It shall not be necessary that every defendant shall be interested as to all the relief claimed in any suit against him.

উক্ত বিধি দ্বারা পরোক্ষ ভাবে (Pro-forma defendant ) নীতির বৈধতা দেয়া হয়েছে।
৩৪.
যদি বাদী তামাদি আইনে নির্ধারিত সময়ের পর মোকদ্দমা দায়ের করে, সেক্ষেত্রে আরজিতে বাদী নিম্নলিখিত কোন বিষয় উল্লেখ করবে?
  1. তামাদি মার্জনার আবেদন
  2. তামাদি হতে অব্যাহতির কারণ
  3. তামাদি বৃদ্ধির আবেদন
  4. উপরের সবকটি
ব্যাখ্যা
• বাদী মোকদ্দমা দায়েরের সময় আদালতে যে দাবি সংবলিত আবেদন দাখিল করে তাকে আরজি বলে। দেওয়ানী কার্যবিধির ২৬ ধারা এবং ৪নং আদেশের ১ নং বিধিমতে প্রত্যেক মোকদ্দমা আরজি দাখিলের মাধ্যমে দায়ের করতে হয় (Every suit shall be instituted by the presentation of a plaint)।

• দেওয়ানী কার্যবিধির ৭ নং আদেশের ১ থেকে ১৮ নং বিধিতে আরজি সংক্রান্ত বিষয়ে আলোচনা করা হয়েছে। 

আদেশ ৭ বিধি-৬ (তামাদি আইন হতে অব্যাহতি লাভের কারণসমূহ) 
"যদি তামাদি আইনে বিধৃত সময়ের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর মোকদ্দমা দাখিল করা হয়, তাহলে উক্ত তামাদী আইনের বিধান হতে যে কারণে অব্যাহতি দাবী করা হয়, তা আরজিতে উল্লেখ করতে হবে।"

Grounds of exemption from limitation law-
Where the suit is instituted after the expiration of the period prescribed by the law of limitation, the plaint shall show the ground upon which exemption from such law is claimed.
৩৫.
নিম্নের কোনটি সমন পাঠানোর সঠিক মাধ্যম নয়?
  1. ফ্যাক্স বার্তা
  2. মোবাইল মেসেজ
  3. ক এবং খ
  4. কুরিয়ার সার্ভিস
ব্যাখ্যা
• দেওয়ানি কার্যবিধিতে সমন পাঠানোর উল্লেখিত মাধ্যমসমূহ হলো-
⇒ ডাকযোগে
⇒ ফ্যাক্স
⇒ ই-মেইল
⇒ কুরিয়ার সার্ভিস


• আদেশ ৫ বিধি ৯ (জারির জন্য সমন অর্জন অথবা প্রেরণ) -

(১) যে আদালতে মোকদ্দমা দায়ের করা হয়েছে, বিবাদি সেটির এখতিয়ারভুক্ত এলাকায় বসবাস করে, বা সমন গ্রহণ করার ক্ষমতা প্রাপ্ত কোন প্রতিনিধি বিবাদির পক্ষে যদি এরূপ এলাকার ভিতর বসবাস করে, তবে আদালত অন্য কোনরূপ নির্দেশ না দিলে হয় উপযুক্ত কর্মকর্তার নিকট স্বয়ং জারি করার লক্ষ্যে বা তাদের অধঃস্তন কোন ব্যক্তি দ্বারা অথবা উপ-ধারা (৪) এর বিধান অনুযায়ী জেলা জজ কর্তৃক তালিকাভুক্ত কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে সমন অর্পিত বা প্রেরিত হবে।

(২) উপযুক্ত কর্মকর্তা যে আদালতে মোকদ্দমা দায়ের করেছে, সেখানকার না হয়ে অন্য কোন আদালতের কর্মকর্তাও হতে পারেন, এবং অনুরূপ ক্ষেত্রে তার নিকট ডাকযোগে বা আদালত যেভাবে নির্দেশ দিতে পারে অনুরূপ অন্য যে কোন উপায়ে প্রেরণ করা যাবে।

(৩) আদালত উপ-বিধি (১) তে বর্ণিত বিধানের অতিরিক্ত হিসেবে বাদির আবেদনের প্রেক্ষিতে বিবাদিকে হাজির হওয়ার জন্য সমন জারি করতে পারে এবং একইসঙ্গে ফ্যাক্স বার্তার মাধ্যমে বা ইলেক্ট্রনিক মেইল সার্ভিস এর মাধ্যমে নিজ খরচে সমন প্রেরণের নির্দেশ দিবেন।

(৪) জেলা জজ উপ-বিধি (১) এর উদ্দেশ্য পূরণকল্পে কুরিয়ার সার্ভিসের একটি তালিকা প্রস্তুত করবেন (সময় সময় হালনাগাদসহ) এবং তার প্রশাসনিক অধিক্ষেত্রের সকল দেওয়ানি আদালতসমূহকে তা অবহিত করবেন।

(৫) যখন সমন উপযুক্ত কর্মকর্তা বা কুরিয়ার সার্ভিস এর নিকট প্রেরণ করা হয়, তখন তিনি বা কুরিয়ার সার্ভিস উক্ত সমন প্রাপ্তির ত্রিশ দিনের মধ্যে বা প্রেরণ করবেন এবং আদালতকে এতদবিষয়ে অবহিত করবেন:তবে শর্ত থাকে যে, যদি উপযুক্ত কর্মকর্তা বা কুরিয়ার সার্ভিস উক্ত নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে সমন প্রেরণে ব্যর্থ হন, তাহলে উক্ত কর্মকর্তা অসদাচরণের দায়ে দোষী সাব্যস্ত হবেন এবং কুরিয়ার ক্ষেত্রে, জেলা জজ উপ-বিধি (৪) অনুযায়ী প্রস্তুতকৃত তালিকা হতে তা বাদ দিবেন।
৩৬.
ক্ষেত্রবিশেষে সমন বিকল্পভাবে জারি করা হলে, আদালত কার হাজিরার জন্য যথোপযুক্ত সময় নির্ধারিত করবে?
  1. বিবাদীর
  2. বাদীর
  3. উভয়ের
  4. সাক্ষীর
ব্যাখ্যা
সমন বিকল্পভাবে জারি করলে সেক্ষেত্রে আদালত ক্ষেত্রবিশেষে বিবাদির হাজিরার জন্য আদালত যথোপযুক্ত সময় নির্ধারিত করবে।

• আরজির মাধ্যমে দাখিলকৃত দেওয়ানী মামলায় বিবাদী পক্ষকে আদালত কর্তৃক নির্ধারিত যে পত্র বা নোটিশের মাধ্যমে আত্মপক্ষ সমর্থনের জন্য হাজির হওয়ার জন্য নির্দেশ দেয়া হয়, তাকে সমন বলে। দেওয়ানী কার্যবিধির ৫নং আদেশে, ২১নং আদেশের ২৪ ও ২৫ নম্বর বিধিতে এবং ১৬নং আদেশের ৮ নম্বর বিধিতে সমন সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে। 

• দেওয়ানী কার্যবিধির ৫ নং আদেশের ২০ বিধিতে বিকল্প বা প্রতিকল্পনরূপে সমন জারির (Substituted Service of Summon) বিধান রয়েছে। ২০ নং বিধি অনুযায়ী-
যেক্ষেত্রে বিবাদী সমন এড়ানোর জন্য আত্মগোপন করেছে অথবা অন্য কোন কারণে সাধারনভাবে সমন জারি করা যায়না, সেক্ষেত্রে বিবাদীর গৃহের বা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের প্রকাশ্য অংশে সমনের একটি নকল ঝুলিয়ে জারি করার জন্য আদালত আদেশ দিবেন অথবা বহুল প্রচারিত দৈনিক পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দেয়ার আদেশ দিবে যা প্রতিকল্পনরূপে সমন জারি Substituted Service নামে পরিচিত। এই পদ্ধতি ব্যক্তিগতভাবে সমন জারির মতই কার্যকর হবে।

বিধি ২০(৩) অনুসারে, আদালতের নির্দেশ মোতাবেক সমন বিকল্পভাবে জারি করলে সেক্ষেত্রে আদালত ক্ষেত্রবিশেষে বিবাদির হাজিরার জন্য আদালত যথোপযুক্ত সময় নির্ধারিত করবে।
৩৭.
দেওয়ানি কার্যবিধির ৩০ ধারার অধীন কোন কোন ক্ষেত্রে সমন প্রেরণ করা যায়?
  1. শুধুমাত্র সাক্ষ্যদান অথবা দলিল
  2. সাক্ষ্যদান বা দলিল দাখিল বা প্রশ্নাবলী প্রদান ও জবাবদান
  3. শুধুমাত্র প্রশ্নাবলী প্রদান ও জবাবদান
  4. শুধুমাত্র সাক্ষ্যদান
ব্যাখ্যা
• ধারা-৩০ (উদঘাটন ও অনুরূপ বিষয়ের আদেশ দানের ক্ষমতা)

নির্ধারণ শর্ত এবং সীমাবদ্ধতা সাপেক্ষে আদালতে যে কোন সময় স্বতঃপ্রবৃত্ত হয়ে অথবা কোন পক্ষের আবেদনক্রমে-
ক) প্রশ্নাবলী প্রদান ও জবাবদান, দলিল ও তথ্যাবলীর স্বীকৃতি, এবং উদ্ঘাটন, পরিদর্শন, দাখিল, দলিল অন্তরীণ বা প্রত্যর্পণ অথবা সাক্ষ্য হিসাবে দাখিলযোগ্য অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়াবলী সম্পর্কিত সকল বিষয়ে প্রয়োজনীয় ও যুক্তিপূর্ণ হতে পারে এরূপ আদেশ প্রদান করতে পারেন;
খ) সাক্ষ্যদান, অথবা দলিল দাখিল অথবা উপরোক্ত অন্য উদ্দেশ্যে যাদের হাজির হওয়ার প্রয়োজন, তাদের প্রতি সমন প্রেরণ করতে পারেন;
গ) কোন তথ্য এফিডেভিট (শপথ পত্র) দ্বারা প্রমাণের আদেশ করতে পারে।

Sec-30: 
Subject to such conditions and limitations as may be prescribed, the Court may, at any time, either of its own motion or on the application of any party,-
a) make such orders as may be necessary or reasonable in all matters relating to the delivery and answering of interrogatories, the admission of documents and facts, and the discovery, inspection, production, impounding and return of documents or other material objects producible as evidence;
b) issue summonses to persons whose attendance is required either to give evidence or to produce documents or such other objects as aforesaid;
c) order any fact to be proved by affidavit.
৩৮.
দেওয়ানী কার্যবিধির কত আদেশের কত বিধি অনুযায়ী প্লিডিংস কর্তন (Striking Out of Pleadings) এর আবেদন করতে হয়?
  1. Order VII, Rule XVII
  2. Order VI, Rule XVI
  3. Order VI, Rule XVII
  4. Order VI, Rule XV
ব্যাখ্যা
• দেওয়ানী কার্যবিধির ৬নং আদেশে প্লিডিংসের বিধানসমূহ রয়েছে।

প্লিডিংস (Pleadings) বলতে আরজি অথবা লিখিত জবাবকে বোঝায় [Pleadings shall mean plaint or written statement]। বাদীর প্লিডিংস হলো আরজি এবং বিবাদীর প্লিডিংস হলো লিখিত জবাব। আরজি হলো যে লিখিত দলিল দাখিলের মাধ্যমে বাদী প্রতিকার চেয়ে দেওয়ানী মোকদ্দমা দায়ের করে। এখানে বাদী তার দাবী এবং দাবীর সমর্থনে ঘটনা উল্লেখ করে। লিখিত জবাব হলো বিবাদী সাধারণত বাদীর দাবী অস্বীকার করে লিখিত যে দলিল পেশ করে।

• আদেশ-৬, বিধি-১৬: প্লিডিংস কর্তন (Strike out of pleadings)-
দেওয়ানী কার্যবিধির ৬ নং আদেশের ১৬ নং বিধিতে  প্লিডিংস কর্তনের (Strike out) বিধান রয়েছে। ১৬ নং বিধিমতে মোকদ্দমার প্রকৃত প্রশ্ন নির্ধারণ করার জন্য আদালত যে কোন পর্যায়ে প্লিডিংস-এ উল্লেখিত কতিপয় বিষয় কর্তন করার (Strike out) আদেশ নিতে পারেন।

• আদালত প্লিডিংস কর্তন করাতে পারে যদি প্লিডিংস এ উল্লেখিত কোন বিষয়-
⇒ অপ্রয়োজনীয় (Unnecessary matter) বা
⇒ কুৎসাজনক (Scandalous) হলে অথবা
⇒ বিচারে বাধা বা বিলম্ব করলে (Tend to prejudice, embarras or delay fair trial of the suit)
৩৯.
কোন বিষয় নির্ধারণের জন্য মোকদ্দমায় মূল্যমান উল্লেখ করতে হয়?
  1. আদালতের এখতিয়ার
  2. প্রতিকার
  3. সম্পদের পরিমাণ
  4. প্রদেয় আয়কর
ব্যাখ্যা
আদালতের এখতিয়ার ও কোর্ট ফি নির্ধারণের জন্য আরজিতে মোকদ্দমার মূল্যমান উল্লেখ করতে হয়।

• আরজি হল মামলার কারণ সংবলিত বিবরণ যেখানে নালিশের কারণ উল্লেখপূর্বক বাদী প্রতিকার প্রার্থনা করে। অর্থাৎ বাদী মোকদ্দমা দায়েরের সময় আদালতে যে দাবি সংবলিত আবেদন দাখিল করে তাকে আরজি বলে। দেওয়ানী কার্যবিধির ২৬ ধারা এবং ৪নং আদেশের ১ নং বিধিমতে প্রত্যেক মোকদ্দমা আরজি দাখিলের মাধ্যমে দায়ের করতে হয়।

• দেওয়ানী কার্যবিধির ৭ নং আদেশের ১ থেকে ১৮ নং বিধিতে আরজি সংক্রান্ত বিষয়ে আলোচনা করা হয়েছে। আরজিতে যে যে বিষয়গুলো সাধারণত উল্লেখ থাকে-

⇒ যে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে তার নাম
⇒ বাদী ও বিবাদীর নাম, পরিচয়, বাসস্থান
⇒ বাদী বা বিবাদী নাবালক অথবা মানসিক বিকারগ্রস্ত হলে সেই মর্মে বিবৃতি
⇒ মোকদ্দমার মূল্যমান উল্লেখ করতে হবে
⇒ কারণ (Cause of action) এবং কারণ উদ্ভবের সময়।
⇒ প্রার্থিত প্রতিকার (relief claimed) ও দাবির কোন অংশ বর্জন করা হলে সেই মর্মে বিবৃতি ইত্যাদি।
৪০.
মোকদ্দমায় এক বা একাধিক ব্যক্তিকে পক্ষভুক্ত করা যায় যদি-
  1. পৃথক মোকদ্দমা দায়ের করে তাহলে আইন সংক্রান্ত একটি সাধারণ প্রশ্নের উদ্ভব হবে
  2. তথ্য সংক্রান্ত জটিলতা তৈরি হলে
  3. পৃথক মোকদ্দমা দায়ের করে তাহলে আইন বা তথ্য সংক্রান্ত একটি সাধারণ প্রশ্নের উদ্ভব হবে
  4. একই বিবাদীর বিরুদ্ধে হলে
ব্যাখ্যা
• দেওয়ানী মোকদ্দমায় দুই ধরণের পক্ষ থাকে। যথা-
১. বাদী পক্ষ
২. বিবাদী পক্ষ 

• [বিধি ১ থেকে ৩] মোকদ্দমায় পক্ষভুক্ত (Joinder of Parties)-

দেওয়ানী কার্যবিধির ১নং আদেশে কতিপয় ব্যক্তি নির্দিষ্ট শর্তপূরণ সাপেক্ষে মোকদ্দমার পক্ষভুক্ত হতে পারে।একটি মোকদ্দমায় একাধিক ব্যক্তিকে বাদী এবং বিবাদী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা যেতে পারে। একটি মোকদ্দমায় সকল ব্যক্তি বাদী বা বিবাদী হিসেবে যুক্ত হতে পারে, যদি-
১. মোকদ্দমার প্রত্যেক বাদী বা বিবাদীর দাবীকৃত প্রতিকার একই কার্য বা লেনদেন থেকে উৎপত্তি হয় বা
২. মোকদ্দমাটি এমন যে, যদি এই ব্যক্তিরা (বাদী বা বিবাদী) পৃথক মোকদ্দমা দায়ের করে তাহলে আইন বা তথ্য সংক্রান্ত একটি সাধারণ প্রশ্নের উদ্ভব হবে। 

উদাহরণ-'ক' যৌথভাবে 'খ' এবং 'গ' এর সাথে ১০০ কেজি গম বিক্রয়ের চুক্তি করে। 'ক' পরবর্তীতে তা বিক্রয়ে অস্বীকার করে । এখানে 'খ' এবং 'গ' উভয়ের ক্ষতিপূরণ পাওয়ার অধিকার আছে যা একই কার্য (বিক্রয় চুক্তি) থেকে উদ্ভব হয়েছে। তাই 'খ' এবং 'গ' বাদী হিসাবে যৌথভাবে মোকদ্দমা দায়ের করতে পারে ।
৪১.
স্থাবর সম্পত্তি বিষয়ক কোন মোকদ্দমার ক্ষেত্রে সমন কার বরাবর জারি করা যাবে?
  1. মালিকের বরাবর
  2. দখলদারের বরাবর
  3. সম্পত্তির দায়িত্বে থাকা বিবাদির প্রতিনিধির উপর
  4. যে কোন ব্যক্তি বরাবর
ব্যাখ্যা
• সমনের উদ্দেশ্য- সমন জারি করা হয় বিবাদীকে মোকদ্দমার বিষয়টি অবহিত করে আদালতে বিবাদীর হাজিরা নিশ্চিত করা এবং মোকদম্মা প্রতিদ্বন্দ্বিতার ক্ষেত্রে তার বক্তব্য পেশের সুযোগ দেয়া।

• আদেশ ৫ বিধি-১৪ অনুসারে,
স্থাবর সম্পত্তি বিষয়ক কোন প্রতিকার বা এর ক্ষতিপূরণ পাওয়ার উদ্দেশ্যে কোন মোকদ্দমা দায়ের করা হয়, যদি বিবাদির উপর ব্যক্তিগতভাবে সমন জারি করা না যায় এবং যদি বিবাদির ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোন প্রতিনিধি সমন গ্রহণের জন্য না থাকে, তাহলে সম্পত্তির দায়িত্বে থাকা বিবাদির যে কোন প্রতিনিধির উপর সমন জারি করা যাবে।

Rule-14: Service on agent in charge in suits for immovable property-
Where in a suit to obtain relief respecting, or compensation for wrong to, immovable property, service cannot be made on the defendant in person, and the defendant has no agent empowered to accept the service, it may be made on any agent of the defendant in charge of the property.
৪২.
আরজিতে বাদী সাধারণভাবে অথবা বিকল্পভাবে যে প্রতিকার দাবী করে তা দেখাতে হবে-
  1. সুনির্দিষ্টভাবে
  2. সাধারণভাবে
  3. ক বা খ
  4. বাদীর ইচ্ছানুযায়ী
ব্যাখ্যা
• দেওয়ানী কার্যবিধির আদেশ ৭ বিধি-৭ অনুযায়ী আরজিতে প্রতিকার সুনির্দিষ্টভাবে বর্ণনা করতে হয়। 

• আরজি হল মামলার কারণ সংবলিত বিবরণ যেখানে নালিশের কারণ উল্লেখপূর্বক বাদী প্রতিকার প্রার্থনা করে। অর্থাৎ বাদী মোকদ্দমা দায়েরের সময় আদালতে যে দাবি সংবলিত আবেদন দাখিল করে তাকে আরজি বলে। দেওয়ানী কার্যবিধির ২৬ ধারা এবং ৪নং আদেশের ১ নং বিধিমতে প্রত্যেক মোকদ্দমা আরজি দাখিলের মাধ্যমে দায়ের করতে হয় (Every suit shall be instituted by the presentation of a plaint)।

• দেওয়ানী কার্যবিধির ৭ নং আদেশের ১ থেকে ১৮ নং বিধিতে আরজি সংক্রান্ত বিষয়ে আলোচনা করা হয়েছে।

• আদেশ ৭ বিধি ৭-
আরজিতে বাদি সাধারণভাবে অথবা বিকল্পভাবে যে প্রতিকার দাবী করে তা সুনির্দিষ্টভাবে দেখাতে হবে। অবশ্য আদালত কর্তৃক সঙ্গত বিবেচনায় যে প্রতিকার দাবী না করলেও মঞ্জুর করে থাকেন, তা আরজিতে দেখানোর কোন প্রয়োজন নেই। এই নিয়ম বিবাদির লিখিত বিবৃতিতে যে দাবী করা হয়, সেক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে।

Relief to be specifically stated-
Every plaint shall state specifically the relief which the plaintiff claims either simply or in the alternative, and it shall not be necessary to ask for general or other relief which may always be given as the Court may think just to the same extent as if it had been asked for. And the same rule shall apply to any relief claimed by the defendant in his written statement.