পরীক্ষা আর্কাইভ

বাংলাবিদ (ব্যাকরণ)

পরীক্ষাবাংলাবিদ (ব্যাকরণ)তারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়07 minutes
মোট প্রশ্ন১৯
সিলেবাস
"বাংলাবিদ ব্যাকরণ: পরীক্ষা ⎯ ৩ টপিক: ণ-ত্ব ও ষ-ত্ব বিধান [লাইভ ক্লাস ⎯ ৫ ও ৬]"
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলাবিদ (ব্যাকরণ)

বাংলাবিদ (ব্যাকরণ) · তারিখ অনির্ধারিত · ১৯ প্রশ্ন

.
"ই-কারান্ত ও উ-কারান্ত উপসর্গের পরে কিছু ধাতুতে মূর্ধন্য ষ ব্যবহৃত হয়" - নিচের কোন শব্দটি এই নিয়মে গঠিত?  
  1. অনুষঙ্গ
  2. অনুষ্ঠান
  3. অভিষেক
  4. উপরের সবগুলোই 
সঠিক উত্তর:
উপরের সবগুলোই 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপরের সবগুলোই 
ব্যাখ্যা

• ষ-ত্ব বিধান:
- সংস্কৃত ভাষায় মূর্ধন্য ষ ব্যবহারের নিয়ম আছে।
- সেই কারণে বাংলা ভাষায় যেসব অবিকৃত সংস্কৃত শব্দ ব্যবহৃত হয়, সেগুলোর বানানেও মূর্ধন্য ষ-এর ব্যবহার প্রচলিত।
- অবিকৃত সংস্কৃত শব্দে কোন নিয়মে মূর্ধন্য ষ লেখা হবে—এই বিধানকেই ষ-ত্ব বিধান বলা হয়।

- বাংলা ভাষায় মূর্ধন্য ষ-এর জন্য আলাদা কোনো বিশেষ উচ্চারণ নেই।
- তাই খাঁটি বাংলা শব্দ ও বিদেশি শব্দের বানানে মূর্ধন্য ষ ব্যবহারের প্রয়োজন হয় না।

• 'ষ' ব্যবহারের নিয়ম:
- ই-কারান্ত ও উ-কারান্ত উপসর্গের পরে কিছু ধাতুতে মূর্ধন্য ষ ব্যবহৃত হয়।
- যেমন:
- অভি + সেক → অভিষেক,
- অনু + সঙ্গ → অনুষঙ্গ,
- প্রতি + সেধক → প্রতিষেধক,
- অনু + স্থান → অনুষ্ঠান

উৎস: বাংলা ২য় পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

.
কোন বর্গীয় ধ্বনির আগে দন্ত্য ন সহযোগে যুক্তবর্ণ তৈরি হলে দন্ত্য ন সাধারণত মূর্ধন্য ণ-এ রূপান্তরিত হয়?
  1. ক-বর্গীয়
  2. ট-বর্গীয়
  3. চ-বর্গীয়
  4. প-বর্গীয়
সঠিক উত্তর:
ট-বর্গীয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ট-বর্গীয়
ব্যাখ্যা

ট-বর্গীয় (ট, ঠ, ড, ঢ) ধ্বনির আগে থাকা ন → ণ হয়।
------------------------------ 
• ণ-ত্ব বিধান:
- বাংলা ব্যাকরণের ণ-ত্ব বিধান অনুযায়ী, ট-বর্গীয় ধ্বনির (ট, ঠ, ড, ঢ) পূর্বে যদি দন্ত্য ন ধ্বনি থাকে এবং ওই দন্ত্য ন সহযোগে যদি যুক্তবর্ণ তৈরি হয় তা হলে তা সর্বদা মূর্ধন্য ণ-এ রূপান্তরিত হয়।
- এটি মূলত তৎসম (সংস্কৃতমূল) শব্দে প্রযোজ্য।
- উচ্চারণকে সহজ ও স্পষ্ট করার জন্য এই নিয়ম প্রয়োগ করা হয়।
- উদাহরণস্বরূপ, বণ্টন, লুণ্ঠন, খণ্ড, কণ্টক, পাণ্ডব, ভণ্ডামি ইত্যাদি শব্দে ‘ন’ এর পরিবর্তে ‘ণ’ ব্যবহৃত হয়েছে। 
-------------------- 
উল্লেখ্য,
- বিদেশি শব্দে এই নিয়ম প্রযোজ্য নয়।
- যেমন কান্ট, ট্রানজিট, পেন্ডুলাম ইত্যাদি বিদেশি শব্দে ট-বর্গের আগে দন্ত্য ন বসেছে। 

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ। 

.
নিচের কোন শব্দে স্বভাবতই মূর্ধন্য ষ ব্যবহার হয়েছে?
  1. শোষণ
  2. ঋষি
  3. স্পষ্ট
  4. প্রতিষেধক
সঠিক উত্তর:
শোষণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শোষণ
ব্যাখ্যা

ষ-ত্ব বিধান:
- কিছু শব্দে স্বভাবতই সব সময় মূর্ধন্য ষ থাকে।
- যেমন:
- আষাঢ়, ঊষা, ঊষর, আভাষ, অভিলাষ, ঈষৎ, ঈর্ষা, কষায়, কোষ, পাষণ্ড, পাষাণ, ভাষা, ভাষণ, মানুষ, সরিষা, ঔষধ, ওষধি, ঘোষণা, পৌষ, কলুষ, শোষণ, ষড়যন্ত্র, সুষম।
---------------------------
অন্যদিকে,
- ই-কারান্ত ও উ-কারান্ত উপসর্গের পরে কিছু ধাতুতে মূর্ধন্য ষ ব্যবহৃত হয়।
- যেমন:
- অভি + সেক → অভিষেক,
- অনু + সঙ্গ → অনুষঙ্গ,
- প্রতি + সেধক → প্রতিষেধক

• ‘ষ’ ব্যবহারের নিয়ম:
১. 'ঋ' এবং 'ঋ-কার' এর পর 'ষ' হয়। যেমন - ঋষি, দৃষ্টি, কৃষক, উৎকৃষ্ট ইত্যাদি।
২. ট-বর্গীয় ধ্বনির সাথে 'ষ' যুক্ত হয়। যেমন - কষ্ট, স্পষ্ট, নষ্ট, কাষ্ঠ, ওষ্ঠ ইত্যাদি।
৩. অ, আ ভিন্ন অন্য স্বরধ্বনি এবং ক ও র-এর পরে প্রত্যয়ের ‘স’ ‘ষ’ হয়। যেমন- ভবিষ্যৎ, মুমূর্ষু, চক্ষুষ্মান, চিকীর্ষা ইত্যাদি।
৪. ই-কারান্ত এবং উ-কারান্ত উপসর্গের পর কতগুলো ধাতুতে ‘ষ” হয়। যেমন- অভিসেক > অভিষেক, সুসুপ্ত > সুষুপ্ত, অনুসঙ্গ > অনুষঙ্গ, সুসমা > সুষমা ইত্যাদি।
৫. তৎসম শব্দে ‘র’-এর পর ‘ষ’ হয়। যেমন: বর্ষা, ঘর্ষণ, বর্ষণ।

উৎস: বাংলা ২য় পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

.
স্বভাবতই মূর্ধন্য ণ বসে কোন বানানে? 
  1. কর্তণ 
  2. ক্রন্দণ
  3. বন্ধণ
  4. বিপণী
সঠিক উত্তর:
বিপণী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিপণী
ব্যাখ্যা

• ণ-ত্ব বিধান:
- বাংলা ভাষায় বহু তৎসম বা সংস্কৃত শব্দে মূর্ধন্য- ণ এর ব্যবহার আছে।
- তৎসম বা সংস্কৃত শব্দে মূর্ধন্য - ণ এর ব্যবহার বাংলায় অবিকৃতভাবে রক্ষিত হয়।
- তৎসম শব্দের বানানে ণ - এর সঠিক ব্যবহারের নিয়মই ণ-ত্ব বিধান।
- ণ-ত্ব বিধান শুধু তৎসম শব্দের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য।
- যেমন— ঋণ, কারণ, মরণ, ভীষণ, ভাষণ ইত্যাদি।

- বাংলা ভাষায় এমন কিছু শব্দ আছে, যেগুলোর বানানে সব সময়ই মূর্ধন্য ণ ব্যবহৃত হয়।
- কোনো নিয়ম ছাড়াই স্বভাবতই মূর্ধন্য-ণ ব্যবহৃত হয় যেসব শব্দে— 
- চিক্কণ, নিক্বণ, মাণিক্য, গণ, বাণিজ্য, লবণ, মণ, বেণু, বীণা, কঙ্কণ, কণিকা, কল্যাণ, শোণিত, মণি, গুণ, পুণ্য, বিপণী, ক্ষণিকা, লাবণ্য, বাণী, গৌণ, কোণ, ভাণ, পণ।

- আবার কিছু শব্দে কখনোই মূর্ধন্য ণ হয় না;
- সেখানে সব সময় দন্ত্য ন-ই ব্যবহৃত হয়।
- যেমন—
- কর্তন, ক্রন্দন, বন্ধন ইত্যাদি।

উৎস:
বাংলা ২য় পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়; 
ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ। 

.
'ষ' ত্ব বিধান এর সঠিক প্রয়োগ ঘটেছে কোন শব্দে?
  1. মাষ্টার
  2. ষ্টেশন
  3. পোষ্ট
  4. সুষুপ্ত
সঠিক উত্তর:
সুষুপ্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুষুপ্ত
ব্যাখ্যা

• 'ষ' ত্ব বিধান মতে সঠিক প্রয়োগ ঘটে 'সুষুপ্ত' শব্দে। 
- এটি একটি তৎসম শব্দ। 

'ষ-ত্ব' বিধান অনুযায়ী- 
- কেবল তৎসম শব্দেই  'ষ-ত্ব' বিধান প্রযোজ্য। 
- বিদেশি শব্দে 'ষ-ত্ব' বিধান প্রযোজ্য নয়। 

- 'পোষ্ট' ও 'মাষ্টার' 'ষ্টেশন' এবং 'পোষাক' এর সঠিক বানান - পোস্ট, মাস্টার, স্টেশন ও পোশাক।   
- পোস্ট, মাস্টার ইংরেজি শব্দ ও পোশাক ফারসি ভাষার শব্দ,।
 তাই এতে 'ষ'-ত্ব বিধান প্রযোজ্য হবে না।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।

.
ষ-ত্ব বিধানের নিয়ম অনুসারে গঠিত শব্দ কোনটি?
  1. ঈর্ষা
  2. আষাঢ়
  3. পাষাণ
  4. ভাষণ
সঠিক উত্তর:
ঈর্ষা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঈর্ষা
ব্যাখ্যা

ষ-ত্ব বিধান:
বাংলা ভাষায় সাধারণত মূর্ধন্য-ষ ধ্বনির ব্যবহার নেই। তাই দেশি, তদ্ভব ও বিদেশি শব্দের বানানে মূর্ধন্য-ষ লেখার প্রয়োজন হয় না। কেবল কিছু তৎসম শব্দে ষ-এর প্রয়োগ রয়েছে। তৎসম শব্দের বানানে মূর্ধন্য-ষ এর ব্যবহারের নিয়মকে ষ-ত্ব বিধান বলে।

• ‘ষ’ ব্যবহারের নিয়ম:
১. 'ঋ' এবং 'ঋ-কার' এর পর 'ষ' হয়। যেমন - ঋষি, কৃষক, উৎকৃষ্ট, কৃষ্ণ, তৃষ্ণা, তৃষা ইত্যাদি।
২. ট-বর্গীয় ধ্বনির সাথে 'ষ' যুক্ত হয়। যেমন - কষ্ট, স্পষ্ট, নষ্ট, কাষ্ঠ, ওষ্ঠ ইত্যাদি।
৩. অ, আ ভিন্ন অন্য স্বরধ্বনি এবং ক ও র-এর পরে প্রত্যয়ের ‘স’ ‘ষ’ হয়। যেমন- ভবিষ্যৎ, মুমূর্ষু, চক্ষুষ্মান, চিকীর্ষা ইত্যাদি।
৪. ই-কারান্ত এবং উ-কারান্ত উপসর্গের পর কতগুলো ধাতুতে ‘ষ” হয়। যেমন- অভিসেক > অভিষেক, সুসুপ্ত > সুষুপ্ত, অনুসঙ্গ > অনুষঙ্গ, সুসমা > সুষমা ইত্যাদি।
৫. তৎসম শব্দে ‘র’/রেফ-এর পর ‘ষ’ হয়। যেমন: বর্ষা, ঘর্ষণ, বর্ষণ, বর্ষী, ঈর্ষা, পর্ষদ, শীর্ষক।
৬. কতগুলো শব্দে স্বভাবতই 'ষ' ব্যবহৃত হয়। যেমন - ষড়ঋতু, রোষ, কোষ, আষাঢ়, ভাষণ, ভাষা, ঊষা, পৌষ, কলুষ, পাষাণ, মানুষ, ঔষধ, ষড়যন্ত্র, ভূষণ, দ্বেষ ইত্যাদি।

• যে সব ক্ষেত্রে ষ-ত্ব বিধান প্রযোজ্য নয়:
- আরবি, ফারসি, ইংরেজি ইত্যাদি বিদেশি ভাষা থেকে আগত শব্দে স হয় না। যেমন- জিনিস, পোশাক, মাস্টার, পোস্ট ইত্যাদি।
- সংস্কৃত ‘সাৎ’ প্রত্যয়যুক্ত পদেও ‘ষ’ হয় না। যেমন- অগ্নিসাৎ, ধূলিসাৎ, ভূমিসাৎ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) ও ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

.
নিচের কোন শব্দটি ষ-ত্ব বিধান অনুযায়ী শুদ্ধ?
  1. ভবিষ্যৎ
  2. খোষ 
  3. অগ্নিষাৎ 
  4. নকষা 
সঠিক উত্তর:
ভবিষ্যৎ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভবিষ্যৎ
ব্যাখ্যা

ষ-ত্ব বিধান:
- ‘ভবিষ্যৎ’ শব্দটিতে ষ-ত্ব বিধান সঠিকভাবে প্রয়োগ করা হয়েছে।
- নিয়ম অনুযায়ী, যদি কোনো শব্দে ‘অ’ বা ‘আ’-এর ভিন্ন স্বরধ্বনি এবং ক বা র-এর পরে প্রত্যয়ের ‘স’ থাকে, তবে সেটি মূর্ধন্য ‘ষ’ হয়ে লেখা হয়।
- ‘ভবিষ্যৎ’ শব্দে দেখা যায়, ‘ভ’ এর সঙ্গে ‘ই’ কার যুক্ত আছে, যা ‘অ/আ’ থেকে ভিন্ন স্বরধ্বনি, এবং প্রত্যয়ের পূর্ববর্তী ব্যঞ্জনে ‘স’ এর স্থলে ‘ষ’ বসানো হয়েছে।
 --------------------------
অন্যদিকে,
• খোষ বানানটি অশুদ্ধ। 
- শুদ্ধ বানান- খোশ। 
- খোশ ফারসি শব্দ। 
- ফারসি শব্দের পরে 'ষ' ব্যবহার করা হয়না। 

• সাৎ প্রত্যয়যুক্ত শব্দে 'ষ' হয়না। তাই অগ্নিষাৎ শব্দটি ষ-ত্ব বিধান অনুযায়ী অশুদ্ধ। 

• নকশা আরবি শব্দ। আরবি শব্দের পরে 'ষ' হয়না। তাই নকষা শব্দটি ষ-ত্ব বিধান অনুযায়ী অশুদ্ধ। 

উৎস: 
ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ; 
বাংলা ২য় পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

.
কোথায় ‘ণ-ত্ব’ বিধান খাটেনা?
  1. ‘ট’ বর্গীয় ধ্বনির আগে
  2. ঋ, র, ষ-বর্ণের পরে 
  3. প্র, পরা, পরি, নির— উপসর্গগুলোর পর
  4. সমাসবদ্ধ শব্দে
সঠিক উত্তর:
সমাসবদ্ধ শব্দে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সমাসবদ্ধ শব্দে
ব্যাখ্যা

‘ণ-ত্ব’ বিধান খাটেনা- সমাসবদ্ধ পদে।
- সমাসবদ্ধ শব্দে দুইপদেরই অর্থের প্রাধান্য থাকলে ণ-ত্ব বিধান খাটে না।
- যেমন-
- ত্রিনয়ন, সর্বনাম, দুর্নীতি, দুর্নাম, দুর্নিবার, পরনিন্দা, অগ্রনায়ক ইত্যাদি।
-------------------------
অন্যদিকে,
- বাংলা ব্যাকরণের ণ-ত্ব বিধান অনুযায়ী, ট-বর্গীয় ধ্বনির (ট, ঠ, ড, ঢ) পূর্বে যদি দন্ত্য ন ধ্বনি থাকে এবং ওই দন্ত্য ন সহযোগে যদি যুক্তবর্ণ তৈরি হয় তা হলে তা সর্বদা মূর্ধন্য ণ-এ রূপান্তরিত হয়।

- ঋ, র, ষ - এর পরে মূর্ধন্য ‘ণ’ হয়। 

- প্র, পরা, পরি, নির— উপসর্গগুলোর পর মূর্ধন্য ‘ণ’ হয়। 

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ। 

.
নিচের কোন শব্দটিতে সম্বোধনসূচক রূপে মূর্ধন্য ‘ষ’ সঠিকভাবে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. সুজনীয়াষু 
  2. কল্যাণীয়াষু 
  3. সুজনেষু 
  4. প্রিয়তমাষু 
সঠিক উত্তর:
সুজনেষু 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুজনেষু 
ব্যাখ্যা

সুজনেষু শব্দটিতে সম্বোধনসূচক রূপে মূর্ধন্য ‘ষ’ সঠিকভাবে ব্যবহৃত হয়েছে। 
----------------------------- 
মূর্ধন্য ‘ষ’ এর সঠিক ব্যবহার:
- সম্বোধনসূচক শব্দে পুরুষ ও স্ত্রীবাচকের ভেদে ‘স/ষ’-এর ব্যবহার আলাদা হয়।
- যখন কোনো পুরুষবাচক সম্বোধনসূচক শব্দে এ-কার থাকে, তখন তার পরে থাকা স দন্ত্য স মূর্ধন্য ‘ষ’ হয়ে যায়। 
- যেমন— কল্যাণীয়েষু, প্রিয়বরেষু, সুজনেষু, প্রীতিভাজনেষু, শ্রদ্ধাভাজনেষু।

- কিন্তু যখন স্ত্রীবাচক সম্বোধনসূচক শব্দে আ-কার থাকে, তখন সেখানে মূর্ধন্য ষ হয় না, বরং দন্ত্য ‘স’ই থাকে।
- যেমন — কল্যাণীয়াসু, সুচরিতাসু, পূজনীয়াসু, মাননীয়াসু, প্রিয়তমাসু, সুজনীয়াসু

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ। 

১০.
‘অপরাহ্ন’ শব্দটি অশুদ্ধ- 
  1. বাহুল্যজনিত কারণে 
  2. ণত্ব বিধি লঙ্ঘনের কারণে 
  3. প্রত্যয়জনিত কারণে 
  4. সন্ধিজনিত কারণে 
সঠিক উত্তর:
ণত্ব বিধি লঙ্ঘনের কারণে 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ণত্ব বিধি লঙ্ঘনের কারণে 
ব্যাখ্যা

ণ-ত্ব বিধি লঙ্ঘন করেছে বিধায় ‘অপরাহ্ন’ শব্দটি অশুদ্ধ।
----------------------
• ণ-ত্ব বিধান:
- ণ-ত্ব বিধান বাংলা ভাষায় মূর্ধন্য ‘ণ’-এর সঠিক প্রয়োগের নিয়মাবলি নির্দেশ করে।
- ণ-ত্ব বিধান বাংলা ব্যাকরণের সেই নিয়ম যা নির্দেশ করে যে কখন তৎসম (সংস্কৃত থেকে আগত) শব্দে দন্ত্য ‘ন’ পরিবর্তিত হয়ে মূর্ধন্য ‘ণ’ হবে।
- মূলত এটি তৎসম শব্দের জন্য প্রযোজ্য, কারণ দেশি বা তদ্ভব শব্দে ‘ণ’ ব্যবহার হয় না।
- নিয়ম অনুযায়ী, যদি ঋ, র, ষ বর্ণের পরে দন্ত্য ‘ন’ থাকে, তবে তা ‘ণ’ হয়, যেমন: ঋণ, বর্ণ, ঘৃণা।
- এছাড়া, ঋ, র, ষ এর পরে যদি স্বরবর্ণ, ক-বর্গ, প-বর্গ, য, ব, হ বা অনুস্বার থাকে, তবুও ‘ণ’ হয়, যেমন: কৃপণ, নির্বাণ, গ্রহণ।

- প্র, পরা, পূর্ব, অপর- এইগুলার পর অহ্ন শব্দ থাকলে দন্ত্য 'ন' মূর্ধন্য 'ণ' হয়।
- যেমন: প্রাহ্ণ, পরাহ্ণ, পূর্বাহ্ণ, অপরাহ্ণ ইত্যাদি।

- ‘অপরাহ্ন'’ শব্দে — প্র, পরা, পূর্ব, অপর- এইগুলার পর অহ্ন শব্দ থাকলে দন্ত্য 'ন' মূর্ধন্য 'ণ' হয় — নিয়ম অনুযায়ী ‘অপরাহ্ণ' হবে।
- ‘ন' ব্যবহার করায় ‘অপরাহ্ন’ শব্দটি ভুল। 
- এর শুদ্ধ রূপ হলো- অপরাহ্ণ। 

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ। 

১১.
ই-কার বা উ-কারের পরে ক, খ, প, ফ বর্ণ থাকলে বিসর্গ সন্ধিতে কোন বর্ণ বসে?
  1. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যাখ্যা

ষ-ত্ব বিধান:
- বাংলা ব্যাকরণে বিসর্গ সন্ধির একটি গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম হলো— ক, খ, প, ফ এই ব্যঞ্জনগুলোর আগে যদি ই-কার বা উ-কার থাকে, তাহলে সন্ধির ফলে বিসর্গ লোপ না হয়ে তার জায়গায় মূর্ধন্য ‘ষ’ বসে
- অর্থাৎ, বিসর্গের পরিবর্তে সব সময় ষ ব্যবহৃত হয়।

- এই নিয়ম অনুযায়ী—
- আবিঃ + কার → আবিষ্কার,
- আয়ুঃ + কাল → আয়ুষ্কাল,
- নিঃ + পাপ → নিষ্পাপ,
- দুঃ + কর → দুষ্কর,
- নিঃ + পত্র → নিষ্পত্র,
- চতুঃ + পদ → চতুষ্পদ,
- নিঃ + ফল → নিষ্ফল,
- চতুঃ + ফল → চতুষ্ফল। 

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ। 

১২.
ণ-ত্ব বিধান অনুসারে কোন বানানটি ভুল? 
  1. অন্ত
  2. গ্রন্থ
  3. ক্রন্দন
  4. কোনটিই নয়  
সঠিক উত্তর:
কোনটিই নয়  
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কোনটিই নয়  
ব্যাখ্যা

ণত্ব বিধান:
- বাংলা ব্যাকরণের ণত্ব বিধান অনুযায়ী, ত-বর্গীয় বর্ণ (ত, থ, দ, ধ, ন) এর আগে কখনও মূর্ধন্য ণ বসে না।
- বরং সব সময় দন্ত্য ন ব্যবহৃত হয়।
- এটি বাংলা বানানের একটি গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম।
- মূল কারণ হলো, ত-বর্গীয় বর্ণগুলো দন্ত্য মূল থেকে উচ্চারিত হয়, তাই তাদের সাথে যুক্ত দন্ত্য ন সহজ ও স্বাভাবিক উচ্চারণ নিশ্চিত করে। - উদাহরণস্বরূপ:
- অন্ত, গ্রন্থ, ক্রন্দন, বৃন্দ, বৃন্ত, ভ্রান্ত, মন্তব্য, ছন্দ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ২য় পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

১৩.
কোন দুটি মূর্ধন্য বর্ণের আগে সর্বদা মূর্ধন্য ‘ষ’ ব্যবহৃত হয়? 
  1. ড, ঢ
  2. ট, ঠ
  3. ড়, ঢ়
  4. ঢ, ণ
সঠিক উত্তর:
ট, ঠ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ট, ঠ
ব্যাখ্যা

মূর্ধন্য ‘ষ’ এর ব্যবহার:
- বাংলা বর্ণমালায় মূল মূর্ধন্য বর্ণ ৭টি।
- এগুলো হলো—ট-বর্গীয় ধ্বনিসমূহ (ট, ঠ, ড, ঢ, ণ) এবং 'ড়', 'ঢ়' । 

- বাংলা ব্যাকরণে একটি নির্দিষ্ট নিয়ম হলো— ট ও ঠ এই দুটি মূর্ধন্য বর্ণের আগে সর্বদা মূর্ধন্য ‘ষ’ ব্যবহৃত হয়, দন্ত্য ‘স’ নয়। 
- কারণ ট ও ঠ নিজেই মূর্ধন্য উচ্চারণস্থানভুক্ত ব্যঞ্জন, তাই তাদের পূর্ববর্তী ‘স’ ধ্বনি উচ্চারণের সামঞ্জস্য বজায় রাখতে মূর্ধন্য ‘ষ’-এ রূপান্তরিত হয়।
- উদাহরণস্বরূপ- 
- কষ্ট, নষ্ট, দুষ্ট, কাষ্ঠ, শ্রেষ্ঠ, অনিষ্ট, অনাবৃষ্টি, দৃষ্টি, মিষ্ট, ওষ্ঠ, সুষ্ঠু ইত্যাদি। 

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ। 

১৪.
কোন ক্ষেত্রে সর্বদা দন্ত্য (‘ন’) ব্যবহার হয়? 
  1. ক্রিয়াপদের শেষে 
  2. ত-বর্গীয় বর্ণের ক্ষেত্রে 
  3. বিদেশি শব্দের ক্ষেত্রে 
  4. উপরের সবকয়টি 
সঠিক উত্তর:
উপরের সবকয়টি 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপরের সবকয়টি 
ব্যাখ্যা

স্বভাবতই দন্ত্য ন (‘ন’) ব্যবহার:
- বাংলা ব্যাকরণের ণ-ত্ব বিধান মূলত তৎসম শব্দে প্রযোজ্য, যেখানে ঋ, র বা ষ-এর পরে দন্ত্য ন → মূর্ধন্য ণ হয়।
- তবে ক্রিয়াপদের অন্তঃস্থিত বা শেষে এই নিয়ম প্রযোজ্য নয়।
- অর্থাৎ, ক্রিয়াপদের শেষে সর্বদা দন্ত্য ন (‘ন’) ব্যবহার হয়, মূর্ধন্য ণ কখনও বসে না।
- উদাহরণস্বরূপ, ‘করন’, ‘ধরেন’, ‘মারেন’, ‘যাবেন’, ‘খাবেন’, ‘হবেন’—এই সব ক্রিয়াপদের শেষের ন সাধারণ দন্ত্য ন হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। 
- করন মানে কাজ সম্পাদন করা, এটি একটি ক্রিয়াপদ। 
- তাই করন শব্দটিতে স্বভাবতই দন্ত্য ন (‘ন’) ব্যবহার হয়েছে। 

- ত-বর্গীয় বর্ণের সাথে যুক্ত 'ন' সর্বদা দন্ত্য ‘ন’ (ন) হয়। 
- যেমন- সন্তান, অন্ত, বৃন্ত, গ্রন্থ, পন্থা ইত্যাদি। 

- বিদেশি (ইংরেজি, আরবি, ফারসি ইত্যাদি) শব্দের বানানে 'ণ' হয় না, সর্বদা 'ন' (দন্ত্য-ন) হয়। 
- বিদেশি শব্দে ণত্ব বিধান খাটে না।
- উদাহরণসমূহ:
- কর্নার, গভর্নর, সিলেবাস, বাস, মেশিন, ফার্নিচার ইত্যাদি। 

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ। 

১৫.
নিচের কোন শব্দে ষ-ত্ব বিধান সঠিকভাবে প্রয়োগ হয়েছে?
  1. চক্ষুষ্মান
  2. মুমূর্ষু
  3. চিকীর্ষা
  4. সবগুলো 
সঠিক উত্তর:
সবগুলো 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সবগুলো 
ব্যাখ্যা

চক্ষুষ্মান, মুমূর্ষু, চিকীর্ষা- সবগুলো শব্দেই ষ-ত্ব বিধানের সঠিক প্রয়োগ হয়েছে। 
------------------- 
• ষ-ত্ব বিধান:
- বাংলা ভাষায় সাধারণত মূর্ধন্য-ষ ধ্বনির ব্যবহার নেই। তাই দেশি, তদ্ভব ও বিদেশি শব্দের বানানে মূর্ধন্য-ষ লেখার প্রয়োজন হয় না।
- কেবল কিছু তৎসম শব্দে ষ-এর প্রয়োগ রয়েছে।
- তৎসম শব্দের বানানে মূর্ধন্য-ষ এর ব্যবহারের নিয়মকে ষ-ত্ব বিধান বলে।

- ষ-ত্ব বিধান অনুযায়ী যদি কোনো তৎসম শব্দে অ, আ–এর ভিন্ন স্বরধ্বনি এবং ক বা র–এর পরে প্রত্যয়ের ‘স’ থাকে, তবে সেই ‘স’ মূর্ধন্য ষ হয়।
- উদাহরণ:
- চক্ষুষ্মান → ‘ক’-এর পরে ‘স’ এসেছে, মূর্ধন্য ষ এর সঠিক প্রয়োগ হয়েছে।
- মুমূর্ষু → ‘ম’ বা ‘র’-এর পরে ‘স’ এসেছে, মূর্ধন্য ষ এর সঠিক প্রয়োগ হয়েছে।
- চিকীর্ষা → ‘ক’-এর পরে ‘স’ এসেছে, মূর্ধন্য ষ এর সঠিক প্রয়োগ হয়েছে। 

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ। 

১৬.
ষত্ব বিধান অনুসারে কোন বানানটি ভুল? 
  1. ষ্টেশন
  2. সুষম
  3. মিথস্ক্রিয়া
  4. নিষ্পাপ
সঠিক উত্তর:
ষ্টেশন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ষ্টেশন
ব্যাখ্যা

ষত্ব বিধান:
- ষত্ব বিধান অনুসারে ষ্টেশন বানানটি ভুল। 
- ষত্ব বিধানের নিয়ম অনুযায়ী, বিদেশি শব্দে কখনো মূর্ধন্য-ষ (ষ) ব্যবহৃত হয় না।
- ‘স্টেশন’ শব্দটি ইংরেজি (Station) থেকে আগত একটি বিদেশি শব্দ, তাই এতে ‘ষ’ ব্যবহার করা ব্যাকরণগতভাবে ভুল।
- শুদ্ধ বানানটি হবে স্টেশন। 
------------------- 
অন্যদিকে,
- সুষম একটি তৎসম শব্দ।
- ষত্ব বিধান অনুযায়ী, ‘ই’ কারান্ত এবং ‘উ’ কারান্ত উপসর্গের পর কতগুলো ধাতুতে ‘ষ’ হয় (সু + সম = সুষম)। 

- মিথস্ক্রিয়া: ‘অ’ বা ‘আ’ কারের পর বিসর্গ থাকলে এবং তারপর ক, খ, প, ফ থাকলে বিসর্গের স্থানে দন্ত্য-স (স) হয়। 
- এখানে ‘মিথঃ + ক্রিয়া = মিথষ্ক্রিয়া’ নিয়মে দন্ত্য-স সঠিক। 

- নিষ্পাপ সন্ধিজাত শব্দ।
- ষত্ব বিধান অনুযায়ী, ই-কারান্ত বা উ-কারান্ত বিসর্গের পর ক, খ, প, ফ থাকলে বিসর্গের স্থলে ‘ষ’ হয় (নিঃ + পাপ = নিষ্পাপ)

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ। 

১৭.
কোন দুটি স্বরবর্ণের পরে 'ষ' এর প্রয়োগ হয় না? 
  1. ঐ, উ
  2. ই, ঋ
  3. অ, আ
  4. এ, ঐ 
সঠিক উত্তর:
অ, আ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অ, আ
ব্যাখ্যা

ষত্ব বিধান:
- বাংলা ব্যাকরণের ষত্ব বিধান সব ক্ষেত্রে কার্যকর হয় না।
- বিশেষ করে ‘অ’ ও ‘আ’ স্বরবর্ণের পরে সাধারণত মূর্ধন্য ‘ষ’ বসে না; সেখানে দন্ত্য ‘স’-ই ব্যবহৃত হয়।
- কারণ এই দুই স্বর উচ্চারণের সময় জিহ্বার অবস্থান এমন থাকে যে ‘ষ’ ধ্বনি উচ্চারণের প্রয়োজনীয় পরিবেশ তৈরি হয় না।
- কিন্তু ই, উ, ঋ প্রভৃতি স্বরবর্ণের পরে কিংবা ক-বর্গীয় ও প-বর্গীয় ব্যঞ্জনের পরে, উচ্চারণকে সহজ করতে অনেক সময় স → ষ রূপান্তর ঘটে।

- এই নিয়মের কারণেই পুরস্কার, অসৎ, আসন—এ ধরনের শব্দে ‘স’ ব্যবহৃত হয়, ‘ষ’ নয়।
-----------------------
- ষত্ব বিধানের নিয়ম:
• ঋ, র, ষ বর্ণের পরে মূর্ধন্য ষ হয়।
• ই-কারান্ত এবং উ-কারান্ত উপসর্গের পরে মূর্ধন্য ষ হয়।
• ট বর্গীয় ধ্বনির সঙ্গে যুক্ত দন্ত্য স মূর্ধন্য ষ হয়।
--------------------------
উল্লেখ্য,
- যেসব ক্ষেত্রে ‘ষ’-এর ব্যবহার হয় না—
১. খাঁটি বাংলা শব্দ এবং ক্রিয়াপদে কখনোই ‘ষ’ হয় না। যেমন—করিস, দিস্‌, যাস ইত্যাদি।
২. বিদেশি শব্দে কখনোই ‘ষ’ হয় না। যেমন—পোশাক, জিনিস, অফিস, স্টেশন ইত্যাদি।
৩. ‘স্পৃহ’ বা ‘স্পন্দ’ ধাতুর ‘স’ কখনো ‘ষ’ হয় না। যেমন—নিস্পৃহ, নিস্পন্দ ইত্যাদি।
৪. চ-বর্গীয় বর্ণ অর্থাৎ তালব্য বর্ণ এবং ত-বর্গীয় বর্ণ অর্থাৎ দন্ত্য বর্ণের সঙ্গে কখনোই ‘ষ’ যুক্ত হয় না। যেমন—নিশ্ছিদ্র, বিস্তর, দুস্থ ইত্যাদি।

উৎস: 
ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ; 
বাংলা ২য় পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

১৮.
কোন ভাষার শব্দে ণ থাকলে তা অবিকৃতভাবে রাখতে হয়?
  1. দেশী শব্দে
  2. বিদেশি শব্দে
  3. অর্ধতৎসম শব্দে
  4. তৎসম শব্দে
সঠিক উত্তর:
তৎসম শব্দে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তৎসম শব্দে
ব্যাখ্যা

• ণ-ত্ব বিধান:
- তৎসম শব্দ হলো বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত সেই শব্দগুলো, যেগুলো সংস্কৃত ভাষা থেকে কোনো পরিবর্তন ছাড়াই এসেছে। 
- ‘তৎ’ মানে সংস্কৃতের এবং ‘সম’ মানে তুল্য বা অপরিবর্তিত।
- বাংলা ভাষায় মূর্ধন্য-ণ (ণ) ব্যবহারের নিয়ম মূলত তৎসম বা সংস্কৃত শব্দের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য।
- এ নিয়মকে বলা হয় ণত্ব বিধান।
- ণত্ব বিধান অনুযায়ী, তৎসম শব্দে দন্ত্য-ন (ন) নির্দিষ্ট পরিবেশে মূর্ধন্য-ণ (ণ)-এ রূপান্তরিত হয় এবং সেই বানান অবিকৃতভাবেই রাখতে হয়।
-
বাংলা তদ্ভব, দেশি ও বিদেশি শব্দে সাধারণত মূর্ধন্য-ণ ব্যবহৃত হয় না।
- যেমন— কুরআন,সিলেবাস, স্টেশন ইত্যাদি শব্দে কখনোই ণত্ব বিধান খাটে না।
------------------------ 

• ণত্ব বিধানের প্রধান নিয়ম হলো—
- ঋ, র, রেফ (র্), র-ফলা ও ষ-এর পরে যদি দন্ত্য-ন থাকে, তবে তা মূর্ধন্য-ণ হয়।
- উদাহরণ—
- ঋ-এর পরে: ঋণ, ঘৃণা, মৃণাল। 
- র-এর পরে: কারণ, বরণ, মরণ। 
- রেফ (র্)-এর পরে: বর্ণ, চূর্ণ, শীর্ণ। 
- র-ফলা-এর পরে: ত্রাণ, দ্রোণ, অগ্রহায়ণ। 
- ষ-এর পরে: ভীষণ, বিশেষণ, পাষাণ। 

- এছাড়া ঋ, র বা ষ-এর পরে যদি স্বরবর্ণ, ক-বর্গীয় বা প-বর্গীয় ব্যঞ্জন, য, ব, হ কিংবা অনুস্বার থাকে, তাহলে তার পরবর্তী দন্ত্য-নও ণ হয়ে যায়।
- যেমন— কৃপণ, নির্বাণ, গ্রহণ, অগ্রহায়ণ।

- যুক্তব্যঞ্জনে ট-বর্গীয় বর্ণের আগে থাকা দন্ত্য-ন সাধারণত মূর্ধন্য-ণ হয়।
- যেমন— ঘণ্টা, লুণ্ঠন, কাণ্ড, ভণ্ড।

- কিছু শব্দ আছে যেগুলোতে কোনো নির্দিষ্ট নিয়ম ছাড়াই স্বাভাবিকভাবে মূর্ধন্য-ণ ব্যবহৃত হয়।
- এগুলোকে বলা হয় নিপাতনে সিদ্ধ শব্দ।
- যেমন— চাণক্য, মাণিক্য, গণ, কল্যাণ, শোণিত, মণ, বেণু, অণু, পুণ্য ইত্যাদি।

উৎস:
বাংলা ২য় পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়;
ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ। 

১৯.
‘ঋ’ ‘র’ ‘ষ’-এর পরে কি বসে?
  1. ন 
সঠিক উত্তর:
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যাখ্যা

ণ-ত্ব-বিধান অনুযায়ী ‘ঋ’ ‘র’ ‘ষ’-এর পরে 'ণ' বসে। 
------------------------
• ণ-ত্ব-বিধান:
- যে রীতি অনুসারে বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত তৎসম বা সংস্কৃত শব্দের বানানে ‘ণ’ ব্যবহৃত হয় তাকে ণত্ব-বিধান বলে।
- বাংলা ব্যাকরণের ণ-ত্ব বিধান অনুসারে, শুধুমাত্র তৎসম (সংস্কৃতমূল) শব্দে ঋ (ঋ), র (র/র-ফলা/রেফ) এবং ষ (ষ)–এর পরবর্তী দন্ত্য ন (ন) মূর্ধন্য ণ (ণ)–এ রূপান্তরিত হয়।
 - এই নিয়ম খাঁটি বাংলা বা বিদেশি শব্দের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।
- যেমন- 
- তদ্ভব শব্দ: কান, সোনা, চুন।
- বিদেশি শব্দ: কোরআন, ইরান, নিশান, হর্ন, গভর্নর। 

- নিয়মের প্রয়োগে দেখা যায়—
 • ঋ–এর পরে ন থেকে ণ রূপান্তর ঘটে।
 - যেমন- ঋণ, তৃণ, ঘৃণা ইত্যাদি। 

• র (র, র-ফলা বা রেফ থাকলে) –এর পরে দন্ত্য ন (ন) মূর্ধন্য ণ (ণ)–এ রূপান্তরিত হয়।
 - যেমন- বারণ, বর্ণ, কারণ, মরণ, বরণ, বিকিরণ, ব্যাকরণ ইত্যাদি।

 • ষ–এর পরে ন থেকে ণ রূপান্তর ঘটে।
 - যেমন- ভাষণ, উষ্ণ, বিষ্ণু, ভূষণ প্রভৃতি।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।