পরীক্ষা আর্কাইভ

৪৫ দিনে ৫০তম বিসিএস প্রস্তুতি [বিষয়ভিত্তিক] - Archived

পরীক্ষা৪৫ দিনে ৫০তম বিসিএস প্রস্তুতি [বিষয়ভিত্তিক] - Archivedতারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়14 minutes
মোট প্রশ্ন১৭
সিলেবাস
পরীক্ষা - ২১ ভূগোল, পরিবেশ ও দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা টপিক: সম্পূর্ণ সিলেবাস উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ সম্পর্কিত অষ্টম, মাধ্যমিক ও উচ্চ-মাধ্যমিক শ্রেণির বোর্ড বই [NCTB ও উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়], ওয়ার্ল্ড এটলাস ওয়েবসাইট, ব্রিটানিকা এবং যেকোনো গাইডবই। [গাইড বই থেকে পড়ার ক্ষেত্রে কনফিউজিং বিষয়গুলো ক্রসচেক করে পড়া উত্তম।]।
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

৪৫ দিনে ৫০তম বিসিএস প্রস্তুতি [বিষয়ভিত্তিক] - Archived

৪৫ দিনে ৫০তম বিসিএস প্রস্তুতি [বিষয়ভিত্তিক] - Archived · তারিখ অনির্ধারিত · ১৭ প্রশ্ন

.
'লালমাই পাহাড়' বাংলাদেশের কোন প্রাকৃতিক অঞ্চলের মধ্যে অবস্থিত?
  1. টারশিয়ারি যুগের পাহাড়
  2. উত্তর-পূর্ব পাহাড়
  3. প্লাইস্টোসিনকালের সোপান
  4. সাম্প্রতিককালের প্লাবন সমভূমি
সঠিক উত্তর:
প্লাইস্টোসিনকালের সোপান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্লাইস্টোসিনকালের সোপান
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের ভূপ্রকৃতি:
- ভূপ্রকৃতির ভিত্তিতে বাংলাদেশকে প্রধানত তিনটি শ্রেণিতে ভাগ করা যায়।
১. টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহ;
২. প্লাইস্টোসিনকালের সোপানসমূহ;
৩. সাম্প্রতিককালের প্লাবন সমভূমি। 

প্লাইস্টোসিনকালের সোপানসমূহ:
→ আনুমানিক ২৫,০০০ বছর পূর্বের সময়কে প্লাইস্টোসিনকাল বলে।
→ উত্তর-পশ্চিমাংশের বরেন্দ্রভূমি, মধ্যভাগের মধুপুর ও ভাওয়ালের গড় এবং কুমিল্লা জেলার লালমাই পাহাড় বা উচ্চভূমি এ অঞ্চলের অন্তর্গত।

• লালমাই পাহাড়:
→ কুমিল্লা শহর থেকে ৮ কিলোমিটার পশ্চিমে লালমাই থেকে ময়নামতি পর্যন্ত এ পাহাড়টি বিস্তৃত।
→ লালমাই-ময়নামতি পাহাড় উত্তর-দক্ষিণে প্রায় ১১ মাইল লম্বা এবং পূর্ব-পশ্চিমে প্রায় ২ মাইল চওড়া।
→ এ পাহাড়ের সর্বোচ্চ উচ্চতা ৪৬ মিটার।
→ ১৯৮৯ সালের এপ্রিলে এবং ১৯৯১ সালের জুলাই মাসে লালমাই পর্বতমালায় প্রত্নতাত্ত্বিক অনুসন্ধান কার্যক্রম চালানো হয়।
→ এই অনুসন্ধানে এখানে ১১টি প্রাগৈতিহাসিক প্রত্নক্ষেত্রের সন্ধান পাওয়া গেছে।

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
.
'প্রতিপাদ স্থান' বলতে কী বোঝায়?
  1. পৃথিবীর কেন্দ্রস্থল
  2. মহাকাশ কেন্দ্র
  3. সমুদ্র তলদেশের কেন্দ্র
  4. বিপরীত দিকে অবস্থিত দুই স্থান
সঠিক উত্তর:
বিপরীত দিকে অবস্থিত দুই স্থান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিপরীত দিকে অবস্থিত দুই স্থান
ব্যাখ্যা
প্রতিপাদ স্থান (Antipodes):
- পৃথিবীর কেন্দ্র ভেদ করে একটি কল্পিত রেখা যা পৃথিবীর ঠিক বিপরীত দিকে টানা হয়, ওই কল্পিত রেখার উভয় বিন্দুই একটি অপরটির প্রতিপাদ স্থান।
- অর্থাৎ ভূপৃষ্ঠের উপর অবস্থিত কোন স্থানের ঠিক বিপরীত স্থানকে ঐ স্থানের প্রতিপাদ স্থান বা Antipodes বলে।
- প্রতিপাদ স্থান সম্পূর্ণরূপে একে অন্যের বিপরীত দিকে থাকে।
- কোনো বিন্দুর অক্ষাংশ যত ডিগ্রি হবে, তার প্রতিপাদ স্থানের অক্ষাংশও তত ডিগ্রি হবে।
- তবে স্থান দুটি নিরক্ষরেখার দুই পাশে অবস্থান করে বিধায় একটি উত্তর অক্ষাংশ হলে অন্যটি দক্ষিণ অক্ষাংশ হবে।
- যেমন: ঢাকার প্রতিপাদ স্থান দক্ষিণ আমেরিকার অন্তর্গত চিলির নিকট প্রশান্ত মহাসাগরে অবস্থিত।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
.
ইংলিশ চ্যানেল উত্তর সাগর এবং কোন মহাসাগরকে সংযুক্ত করে?
  1. প্রশান্ত মহাসাগর
  2. ভারত মহাসাগর
  3. দক্ষিণ মহাসাগর
  4. আটলান্টিক মহাসাগর
সঠিক উত্তর:
আটলান্টিক মহাসাগর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আটলান্টিক মহাসাগর
ব্যাখ্যা
ইংলিশ চ্যানেল:
- ইংলিশ চ্যানেল আটলান্টিক মহাসাগরের একটি অংশ।
- এই চ্যানেল উত্তর সাগর ও আটলান্টিক মহাসাগরকে সংযুক্ত করেছে।
- এটি উত্তর ফ্রান্স থেকে গ্রেট ব্রিটেনের দ্বীপকে পৃথক করে।
- এটি প্রায় ৫৬৩ কিমি (৩৫০ মাইল) দীর্ঘ এবং এর প্রস্থে ২৪০ কিমি (১৫০ মাইল)।

উল্লেখ্য,
- ডোভার প্রণালী হলো এই চ্যানেলের সবচেয়ে সংকীর্ণ অংশ।
- পূর্বদিকে এর বিস্তার কমে মাত্র ৩৪ কিলোমিটার হয়ে যায় এবং সেখানে এটি ডোভার প্রণালীর মাধ্যমে উত্তর সাগরের সাথে সংযুক্ত।
- ইংলিশ চ্যানেলের প্রধান দ্বীপগুলির মধ্যে আছে আইল অভ ওয়াইট এবং চ্যানেল দ্বীপপুঞ্জ।

তথ্যসূত্র: Britannica.
.
‘দেবতাখুম’ কোথায় অবস্থিত?
  1. খাগড়াছড়ি
  2. রাঙামাটি
  3. বান্দরবান
  4. কক্সবাজার
সঠিক উত্তর:
বান্দরবান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বান্দরবান
ব্যাখ্যা
দেবতাখুম:
- 'খুম' অর্থ হচ্ছে জলাধার।
- দেবতাখুম (Debotakhum) বান্দরবান জেলার রোয়াংছড়ি উপজেলায় অবস্থিত। 
- দেবতাখুম মূলত তারাছা নামের একটি খালের অংশ, যার দুই পাশে পাহাড় দিয়ে ঘেরা এবং গভীর পানির পাথুরে জায়গা।
- স্থানীয়দের মতে, খুমের দৈর্ঘ্য প্রায় ৪০০-৬০০ ফুট এবং এই খুমের কিছু জায়গা প্রায় ৫০ ফুট গভীর।
- এই খুমের দুইপাশে রয়েছে বিশাল জঙ্গল।
- উঁচু পাহাড়ের কারণে খুমের ভিতর সরাসরি সূর্যের আলো পৌঁছায় না, তাই খুমের যত ভিতরে যাওয়া যায় ততই শীতল মনে হয়।
- দেবতাখুম বান্দরবানের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটক কেন্দ্র।

তথ্যসূত্র: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
.
জোয়ার-ভাঁটার তেজকটাল কখন ঘটে?
  1. অষ্টমীতে
  2. অমাবস্যায়
  3. পঞ্চমীতে
  4. একাদশীতে
সঠিক উত্তর:
অমাবস্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অমাবস্যায়
ব্যাখ্যা
• জোয়ার-ভাঁটা: 
- মহাকর্ষ শক্তি এবং কেন্দ্রাতিগ শক্তির কারণে সমুদ্রের পানি নির্দিষ্ট সময় ব্যবধানে একই জায়গায় ফুলে  ওঠে আবার অন্য সময় নেমে যায়। সমুদ্রের পানির এইরূপ ফুলে ওঠাকে জোয়ার এবং নেমে যাওয়াকে ভাঁটা বলে। 
- সমুদ্রের একই জায়গায় প্রতিদিন দুইবার জোয়ার এবং দুইবার ভাঁটা সংঘটিত হয়। 
- জোয়ার ভাঁটাকে প্রধানত চারভাগে ভাগ করা যায়। যথা:

১. মুখ্য জোয়ার: 
- চন্দ্র পৃথিবীর চারদিকে আবর্তনকালে পৃথিবীর যে অংশ চন্দ্রের নিকটবর্তী হয়, সেখানে চন্দ্রের আকর্ষণ সর্বাপেক্ষা বেশি হয়। এই আকর্ষণে চারদিক থেকে জলরাশি এসে চন্দ্রের দিকে ফুলে ওঠে এবং জোয়ার হয়। এরুপে সৃষ্ট জোয়ারকে মুখ্য জোয়ার বা প্রত্যক্ষ জোয়ার বলে। 

২. গৌণ জোয়ার: 
- চাঁদ পৃথিবীর যে পার্শ্বে আকর্ষণ করে তার বিপরীত দিকের জলরাশির ওপর মহাকর্ষ শক্তির প্রভাব কমে যায় এবং কেন্দ্রাতিগ শক্তির সৃষ্টি হয়। এতে চারদিক থেকে পানি ঐ স্থানে এসে জোয়ারের সৃষ্টি করে। এভাবে চাঁদের বিপরীত দিকে যে জোয়ার হয় তাকে গৌণ জোয়ার বা পরোক্ষ জোয়ার বলে। 

৩. ভরা কটাল বা তেজ কটাল: 
- অমাবস্যা ও পূর্ণিমা তিথিতে পৃথিবী, চাঁদ ও সূর্য একই সরল রেখায় অবস্থান করলে, চন্দ্র ও সূর্যের মিলিত বলের প্রবল আকর্ষণে যে তীব্র জোয়ারের সৃষ্টি হয়, তাকে তেজ কটাল বা ভরা কটাল বা ভরা জোয়ার বলে। 

৪. মরা কটাল: 
- চন্দ্র ও সূর্য যখন পৃথিবীর সাথে এক সমকোণে থেকে পৃথিবীকে আকর্ষণ করে তখন চন্দ্রের আকর্ষণে সেখানে জোয়ার হয় এবং সূর্যের আকর্ষণে সেখানে ভাটা হয়। এই ধরনের জোয়ারকে মরা কটাল বা মরা জোয়ার বলে। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
মহাকাশে তারকার বিস্ফোরণকে কী বলে?
  1. ব্ল্যাকহোল
  2. শ্বেতবামন
  3. সুপারনোভা
  4. আলফা সেন্টুরি
সঠিক উত্তর:
সুপারনোভা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুপারনোভা
ব্যাখ্যা
সুপারনোভা:
- সুপারনোভা শব্দটির বাংলা করলে দাড়ায় ‘অতিনবতারা’।
- সুপারনোভা হল এক ধরনের নাক্ষত্রিক বিস্ফোরণ প্রক্রিয়া, যার কারণে একটি নক্ষত্র ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়ে যায় এবং অবশেষরূপে থাকে শীতল নীহারিকা এবং কৃষ্ণবিবর।
- কোটি কোটি বছর ধরে জ্বলতে থাকা তারকার যখন জ্বালানি সম্পূর্ণরূপে শেষ হয়ে যায়, তখন নক্ষত্রটি তার পরিণতিতে পৌঁছে যাওয়ার আগে স্ফিত এবং উজ্জ্বল হয়ে ওঠে এবং বিস্ফোরিত হয়। - - দূর হতে আপাতদৃষ্টিতে মনে হয় তারকাটি উজ্জ্বল হয়ে উঠেছে।
- উজ্জ্বল হয়ে ওঠা এই ঘটনাটাই সুপারনোভা হিসেবে পরিচিত।
- এই ধরনের বিস্ফোরণে বিপুল পরিমাণ শক্তি নির্গত হয় এবং সে সময়ে সংশ্লিষ্ট নক্ষত্রটি সাময়িকভাবে কখনো কখনো পুরো ছায়াপথের চেয়েও বেশি উজ্জ্বল হয়ে ওঠে।
- আর এই সুপারনোভা ঘটনার মাধ্যমেই একটি নক্ষত্রের মৃত্যু ঘটে।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
নিচের কোনটির নিজস্ব আলো রয়েছে?
  1. গ্রহ
  2. নক্ষত্র
  3. উপগ্রহ
  4. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
নক্ষত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নক্ষত্র
ব্যাখ্যা
সৌরজগৎ ও ভূ-মন্ডল:
⇒ মহাবিশ্বের মহাকাশে গ্রহ, উপগ্রহ, নক্ষত্র, ধূমকেতু, নীহারিকা, ছায়াপথ, গ্যালাক্সি ও উল্কা ইত্যাদিকে জ্যোতিষ্ক বলে।

নক্ষত্র:
- যে সকল জ্যোতিষ্কের নিজস্ব আলো আছে, তাদেরকে নক্ষত্র বলে।
যেমন- সূর্য।

গ্রহ:
- আলোকবিহীন জ্যোতিষ্ককে গ্রহ বলে। যেমন-পৃথিবী, সূর্যের আলোতে আলোকিত হয়।

উপগ্রহ:
- গ্রহসমূহের চারিদিকে ঘূর্ণায়মান নিজস্ব আলোকবিহীন জ্যোতিষ্ককে উপগ্রহ বলে। যেমন- চাঁদ, পৃথিবীর একমাত্র উপগ্রহ।

তথ্যসূত্র - ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
বাংলাদেশের প্রমাণ সময় গ্রিনিচের সময় অপেক্ষা কত সময় অগ্রবর্তী?
  1. ৪ মিনিট
  2. ৬ মিনিট
  3. ৬ ঘণ্টা
  4. ১২ ঘণ্টা
সঠিক উত্তর:
৬ ঘণ্টা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৬ ঘণ্টা
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের প্রমাণ সময় ও গ্রিনিচ মান:
- পৃথিবীতে প্রতি ডিগ্রি দ্রাঘিমার জন্যে সময়ের পার্থক্য হয় ৪ মিনিট করে।
- বাংলাদেশ মূল মধ্যরেখা বা গ্রিনিচ মানমন্দির থেকে ৯০ ডিগ্রি পূর্বদিকে অবস্থিত।
- গ্রিনিচের পূর্ব দিকে অবস্থিত স্থানগুলোর সময় গ্রীনিচের থেকে এগিয়ে থাকে।
- যার ফলে, বাংলাদেশের সাথে গ্রিনিচের সময়ের পার্থক্য ৯০ x ৪ = ৩৬০ মিনিট বা ৬ ঘণ্টা অর্থাৎ, ৬ ঘণ্টা আগে।

উল্লেখ্য,
- গ্রিনিচ মানমন্দির যুক্তরাজ্যের লন্ডন শহরে অবস্থিত।
- এর উপর দিয়ে মূল মধ্যরেখা বা শূন্য ডিগ্রি দ্রাঘিমারেখা গেছে।
- ১৮৮৪ সালের ১ নভেম্বর জিএমটি আন্তর্জাতিকভাবে প্রমাণ সময় হিসেবে গৃহীত হয়।
- তবে ১৯৭২ সালে GMT এর পরিবর্তে আন্তর্জাতিক প্রমাণ সময় হিসেবে UTC (Coordinated Universal Time) গৃহীত হয়।
- গ্রিনিচ মানমন্দির অফিসিয়াল টাইম জোন হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

তথ্যসূত্র - ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
নিরক্ষরেখার অপর নাম কী?
  1. বিষুবরেখা
  2. কর্কটক্রান্তি রেখা
  3. মকরক্রান্তি রেখা
  4. ২৩.৫° দক্ষিণ অক্ষরেখা
সঠিক উত্তর:
বিষুবরেখা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিষুবরেখা
ব্যাখ্যা
নিরক্ষরেখা : 
- গোলাকার পৃথিবীর পৃষ্ঠদেশের ঠিক মাঝ বরাবর যে রেখা পূর্ব–পশ্চিমে সমগ্র পৃথিবীকে বেষ্টন করে আছে, তাকে নিরক্ষরেখা বলে।
- নিরক্ষরেখা পৃথিবীকে উত্তর ও দক্ষিণ দুই ভাগে বিভক্ত করেছে।
- নিরক্ষরেখার অপর নাম হলো- বিষুবরেখা (Equator), ০° অক্ষরেখা (০° Latitude), মহাবৃত্ত (Great circle)। 

উল্লেখ্য,
- উত্তর গোলার্ধে ২৩.৫° উত্তর অক্ষরেখাকে কর্কটক্রান্তি রেখা এবং দক্ষিণ গোলার্ধে ২৩.৫° দক্ষিণ অক্ষরেখাকে মকরক্রান্তি রেখা বলে। 
- আমাদের বাংলাদেশের উপর দিয়ে কর্কটক্রান্তি রেখা অতিক্রম করেছে।
- উত্তর গোলার্ধে ৬৬.৫° উত্তর অক্ষরেখাকে সুমেরুবৃত্ত এবং ৬৬.৫° দক্ষিণ অক্ষরেখাকে কুমেরুবৃত্ত বলে। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
১০.
নিম্নের কোনটি ভূ-বেষ্টিত রাষ্ট্র?
  1. জর্ডান
  2. মরক্কো
  3. মিশর
  4. আফগানিস্তান
সঠিক উত্তর:
আফগানিস্তান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আফগানিস্তান
ব্যাখ্যা
ভূ-বেষ্টিত রাষ্ট্র (Landlocked country):
- ভূ-বেষ্টিত রাষ্ট্র হলো এমন দেশ, যার চারপাশে শুধুমাত্র স্থলভূমি রয়েছে এবং কোনো সাগর বা মহাসাগরের সরাসরি প্রবেশাধিকার নেই।
- এটি তাদের অর্থনীতি, পরিবহন, বাণিজ্য এবং সামরিক কৌশলে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলে, কারণ এসব রাষ্ট্রকে বাণিজ্যের জন্য প্রতিবেশী দেশগুলোর ওপর নির্ভর করতে হয়।
- আফগানিস্তান একটি ভূ-বেষ্টিত দেশ।
- এটি দক্ষিণ এশিয়া এবং মধ্য এশিয়ার সংযোগস্থলে অবস্থিত।
- আফগানিস্তান চারদিকে স্থলসীমা দ্বারা বেষ্টিত এবং সমুদ্রের সাথে কোন সরাসরি সংযোগ নেই।
- এর চারপাশে ইরান, পাকিস্তান, তুর্কমেনিস্তান, উজবেকিস্তান, তাজিকিস্তান এবং চীন রয়েছে।

অন্য দেশগুলো:
জর্ডান - লোহিত সাগরের সাথে সংযুক্ত।
মরক্কো - ভূমধ্যসাগর এবং আটলান্টিক মহাসাগরের সাথে সংযুক্ত।
মিশর - ভূমধ্যসাগর এবং লোহিত সাগরের সাথে সংযুক্ত।

তথ্যসূত্র - Britannica.com
১১.
নিচের কোনটি দুর্যোগের পরবর্তী ব্যবস্থাপনার উপাদান নয়?
  1. উন্নয়ন
  2. সাড়াদান
  3. প্রতিরোধ
  4. পুনরুদ্ধার
সঠিক উত্তর:
প্রতিরোধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রতিরোধ
ব্যাখ্যা
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা:
- দুর্যোগের দীর্ঘস্থায়ীত্ব হ্রাস এবং দুর্যোগের পূর্ব প্রস্তুতিকেই দুর্যোগ প্রশমন বলে।
- প্রাকৃতিক দুর্যোগকে পুরোপুরি নির্মূল করা সম্ভব না হলেও যথাযথ ব্যবস্থাপনার দ্বারা এর ক্ষতির পরিমাণ অনেকটাই কমিয়ে আনা সম্ভব।

- দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার মূখ্য উপাদানসমূহ:
• দুর্যোগ প্রতিরোধ,
• দুর্যোগ প্রশমন এবং
• দুর্যোগের পূর্বপ্রস্তুতি।

- দুর্যোগ সংগঠনের পরপরই এর ব্যবস্থাপনার অন্যান্য উপাদানের মধ্যে রয়েছে:
• সাড়াদান,
• পুনরুদ্ধার ও
• উন্নয়ন।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর।
১২.
কোন দিনকে 'শারদ বিষুব' বলা হয়?
  1. ২১শে মার্চ
  2. ২১ জুন
  3. ২৩ সেপ্টেম্বর
  4. ২২ ডিসেম্বর
সঠিক উত্তর:
২৩ সেপ্টেম্বর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২৩ সেপ্টেম্বর
ব্যাখ্যা
বাসন্ত বিষুব ও শারদ বিষুব: 
- ২১শে মার্চ ও ২৩শে সেপ্টেম্বর সূর্য নিরক্ষরেখার (০) উপর লম্বভাবে কিরণ দেয় বলে এই দুই দিন পৃথিবীর সর্বত্র দিন রাত্রির দৈর্ঘ্য সমান হয়। একে বিষুব বলা হয়।
- প্রকৃতপক্ষে, বাসন্ত বিষুব ও শারদ বিষুব উভয় গোলার্ধের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।
- একটি গোলার্ধে বিষুব অবস্থা চলাকালীন যে ঋতু বিরাজ করে, উক্ত ঋতু অনুসারে ঐ গোলার্ধে বাসন্ত বা শারদ বিষুব হয়।
- ২১শে মার্চ উত্তর গোলার্ধে বসন্তকাল থাকায় এই উত্তর গোলার্ধে বিষুব 'বাসন্ত বিষুব' নামে অভিহিত।
- অপরদিকে, ২৩শে সেপ্টেম্বর উত্তর গোলার্ধে শরৎকাল বিরাজ করায় উত্তর গোলার্ধে এই বিষুব 'শারদ বিষুব' নামে অভিহিত হয়।

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৩.
দক্ষিণ এশিয়ার বৃহত্তম প্রাকৃতিক মৎস প্রজনন ক্ষেত্র কোনটি?
  1. সাঙ্গু নদী
  2. হালদা নদী
  3. যমুনা নদী
  4. কর্ণফুলি নদী
সঠিক উত্তর:
হালদা নদী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হালদা নদী
ব্যাখ্যা
হালদা নদী:
- হালদা বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের একটি নদী।
- পার্বত্য চট্টগ্রামের বাটনাতলী পাহাড় হতে উৎপন্ন হয়ে এটি ফটিকছড়ির মধ্য দিয়ে চট্টগ্রাম জেলায় প্রবেশ করেছে।
- এর মোট দৈর্ঘ্য ৮১ কিলোমিটার। 
- এটি কালুরঘাটের নিকটে কর্ণফুলী নদীর সাথে মিলিত হয়েছে।
- হালদা নদী হলো দক্ষিণ এশিয়ার বৃহত্তম প্রাকৃতিক মৎস প্রজনন ক্ষেত্র।
- প্রতিবছর এপ্রিল থেকে জুনের মধ্যে হালদা নদীতে কার্প জাতীয় মাতৃমাছ প্রচুর পরিমাণ ডিম ছাড়ে।
- চট্টগ্রাম শহরের পণ্যসামগ্রীর অধিকাংশই হালদা নদীপথে বড় মালবাহী নৌকার মাধ্যমে পরিবহণ করা হয়।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
১৪.
নিচের কোনটি আমেরিকা, ইউরোপ ও আফ্রিকা মহাদেশ বেষ্টিত?
  1. চীন সাগর
  2. প্রশান্ত মহাসাগর
  3. ভারত মহাসাগর
  4. আটলান্টিক মহাসাগর
সঠিক উত্তর:
আটলান্টিক মহাসাগর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আটলান্টিক মহাসাগর
ব্যাখ্যা
আটলান্টিক মহাসাগর:
- আটলান্টিক মহাসাগর পৃথিবীর ২য় বৃহত্তম মহাসাগর।
- পৃথিবীর পৃষ্ঠের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ জুড়ে এটি অবস্থিত।
- আয়তনের দিক থেকে আটলান্টিক মহাসাগরের স্থান দ্বিতীয় এবং গভীরতার দিক থেকে আটলান্টিক মহাসাগরের স্থান তৃতীয়।
- এর আয়তন ৮,৫১,৩৩,০০০ বর্গ কিলোমিটার।
- অবস্থান: আমেরিকা, ইউরোপ ও আফ্রিকা।
- আটলান্টিক মহাসাগর পূর্বে ইউরোপ ও আফ্রিকা মহাদেশে পৌঁছে উত্তর আমেরিকা এবং পশ্চিমে দক্ষিণ আমেরিকা পর্যন্ত বিস্তৃত।
- এটি উত্তরে আর্কটিক মহাসাগর থেকে দক্ষিণে অ্যান্টার্কটিকার কাছে দক্ষিণ মহাসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত।

তথ্যসূত্র: Britannica.com
১৫.
নাফ নদীর উৎপত্তিস্থল কোথায়?
  1. সিকিম
  2. আরাকান
  3. দার্জিলিং
  4. আসাম
সঠিক উত্তর:
আরাকান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আরাকান
ব্যাখ্যা
• নাফ নদী (Knaf):
- নাফ নদীর উৎপত্তি স্থল মিয়ানমার।
- আরাকান ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় সীমান্তের অন্যান্য পাহাড় থেকে উৎসারিত নাফ নদী বঙ্গোপসাগরে এসে পড়েছে।
- এ নদী বাংলাদেশের টেকনাফ ও মিয়ানমার সীমানা নির্দেশ করে বঙ্গোপসাগরে পতিত হয়েছে।
- নাফ নদীর মোহনা অত্যন্ত প্রশস্ত।
- বাংলাদেশের দক্ষিণতম উপজেলা টেকনাফ নাফ নদীর ডান তীরে অবস্থিত।
- মায়ানমারের আকিয়াব বন্দর নাফ নদীর বাম তীরে অবস্থিত। 

বিভিন্ন নদীর উৎপত্তিস্থল:

- পদ্মা নদীর উৎপত্তিস্থল গঙ্গা নামে হিমালয় পর্বতের গাঙ্গোত্রী হিমবাহ।
- মেঘনা নদীর উৎপত্তিস্থল আসামের লুসাই পাহাড়।
- যমুনা নদীর উৎপত্তিস্থল ব্ৰহ্মপুত্ৰ নামে কৈলাশ শৃঙ্গের মানস সরোবর হ্রদ।
- কর্ণফুলী নদীর উৎপত্তিস্থল মিজোরামের লুসাই পাহাড়।
- করতোয়া নদীর উৎপত্তিস্থল সিকিমের পার্বত্য অঞ্চল।
- সাঙ্গু নদীর উৎপত্তিস্থল মিয়ানমার-বাংলাদেশ সীমানার আরাকান পাহাড়।
- হালদা নদীর উৎপত্তিস্থল খাগড়াছড়ির বাদানাতলী পর্বতশৃঙ্গ।
- মহানন্দা নদীর উৎপত্তিস্থল মহালড্রীম, দার্জিলিং।

তথ্যসূত্র - ভূগোল ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৬.
বান্দরবানের পাহাড়সমূহ কোন যুগের পাহাড়?
  1. প্লাইস্টোসিন কালের
  2. টারশিয়ারি যুগের
  3. সাম্প্রতিক কালের
  4. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
টারশিয়ারি যুগের
উত্তর
সঠিক উত্তর:
টারশিয়ারি যুগের
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের ভূপ্রকৃতি:
- ভূপ্রকৃতি অনুযায়ী বাংলাদেশকে তিনটি ভাগে ভাগ করা যায়। এগুলো হলো:
• টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহ,
• প্লাইস্টোসিনকালের সোপানসমূহ এবং
• সাম্প্রতিককালের প্লাবন সমভূমি।

টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহ:
- টারশিয়ারি যুগে হিমালয় পর্বত উত্থিত হওয়ার সময় যে সকল পর্বতের সৃষ্টি হয়েছে, সেগুলো টারশিয়ারি যুগের পাহাড় নামে পরিচিত।
- রাঙামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি, চট্টগ্রাম, সিলেট, মৌলভীবাজার এবং হবিগঞ্জের পাহাড়গুলো টারশিয়ারি যুগের।
- এ পাহাড়গুলোকে আসামের লুসাই এবং মিয়ানমারের আরাকান পাহাড়ের সমগোত্রীয় বলে ধারণা করা হয়।
- এ যুগের পাহাড়সমূহ বেলেপাথর, শেল ও কর্দম দ্বারা গঠিত।
- টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহকে দুইভাগে ভাগ করা হয়েছে। যথা:

ক. দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়সমূহ:
- রাঙামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি এবং কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম জেলার পূর্বাংশ এ অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত।

খ. উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়সমূহ:
- ময়মনসিংহ ও নেত্রকোনা জেলার উত্তরাংশ, সিলেট জেলার উত্তর ও উত্তর- পূর্বাংশ এবং মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলার দক্ষিণের পাহাড়গুলো এ অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত।

উৎস:
i) ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
ii) বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি।
১৭.
বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ বিল কোনটি?
  1. চলন বিল
  2. সোনাই বিল
  3. ঘুগরার বিল
  4. তাগরাই বিল
সঠিক উত্তর:
চলন বিল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চলন বিল
ব্যাখ্যা
চলন বিল:
বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বিলের নাম চলনবিল।
- এটি রাজশাহী, নাটোর, সিরাজগঞ্জ, এবং পাবনা জেলা জুড়ে বিস্তৃত।
- নাটোর, সিরাজগঞ্জ ও পাবনা জেলার বিস্তৃত অংশ জুড়ে যে জলভূমি, বর্ষা এবং বর্ষা পরবর্তী সময়ে দেখা যায় সেটাই বিখ্যাত চলনবিল।
- ব্রহ্মপুত্র নদ যখন তার প্রবাহপথ পরিবর্তন করে বর্তমান যমুনায় রূপ নেয়, সে সময়েই চলনবিলের সৃষ্টি।
- আসলে চলনবিল অনেকগুলো ছোট ছোট বিলের সমষ্টি। 
- গঠিত হওয়ার সময় চলনবিলের আয়তন ছিল প্রায় ১ হাজার ৮৮ বর্গকিলোমিটার।
- বর্তমানে চলনবিল অনেকখানি হ্রাস পেয়ে আয়তন দাঁড়িয়েছে ১১৫০ বর্গকিলেমিটারে।
- চলনবিলের সবচেয়ে বড় অংশ পড়েছে নাটোর জেলায়।

উৎস: বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন।