পরীক্ষা আর্কাইভ

ইউনিয়ন সমাজকর্মী প্রস্তুতি [Archived]

পরীক্ষাইউনিয়ন সমাজকর্মী প্রস্তুতি [Archived]তারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়17 minutes
মোট প্রশ্ন২২
সিলেবাস
পরীক্ষা - ৩৬ রিভিশন পরীক্ষা - ৪ টপিক: পরীক্ষা ২৮ থেকে ৩৫ এর সকল টপিক
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

ইউনিয়ন সমাজকর্মী প্রস্তুতি [Archived]

ইউনিয়ন সমাজকর্মী প্রস্তুতি [Archived] · তারিখ অনির্ধারিত · ২২ প্রশ্ন

.
বক্তব্য স্পষ্ট করার জন্যে সমজাতীয় বাক্য পাশাপাশি প্রতিস্থাপন করলে কোন যতিচিহ্ন ব্যবহৃত হয়?
  1. কোলন
  2. ড্যাশ
  3. সেমিকোলন
  4. ত্রিবিন্দু
ব্যাখ্যা
• সেমিকোলন-চিহ্ন (;):
সেমিকোলন বা অর্থচ্ছেদ হলো বাক্যের মধ্যে ব্যবহৃত এক ধরনের বাক্যান্তর্গত চিহ্ন। মনোভাব প্রকাশের বেলায় একটা ভাব একটিমাত্র বাক্যে শেষ হয়ে সন্নিহিত ভাবের নতুন বাক্য শুরু করতে চাইলে একটু বেশি থামতে হয়।

অর্থাৎ একাধিক বাক্যের মধ্যে অর্থের নিকট-সম্মন্ধ থাকলে বাক্যগুলোকে একটু বেশি থামার চিহ্ন দিয়ে ভাগ করতে হয়। এর জন্যে সেমিকোলন বসে। সেমিকোলনের বিরামের অনুপাত কমার (,) দ্বিগুণ। নিম্নলিখিত ক্ষেত্রে সেমিকোলন ব্যবহৃত হয়-

১. একাধিক স্বাধীন বাক্যকে একটি বাক্যে লিখলে সেগুলোর মাঝখানে সেমিকোলন ব্যবহৃত হয়। যেমন- তিনি শুধু তামাশা দেখিতেছিলেন; কোথাকার জল কোথায় গিয়া পড়ে।

২. বক্তব্য স্পষ্ট করার জন্যে সমজাতীয় বাক্য পাশাপাশি প্রতিস্থাপন করলে সেমিকোলন ব্যবহৃত হয়। যেমন- 'বৃদ্ধ তাহারাই যাহারা মায়াচ্ছন্ন নব মানবের অভিনব জয়যাত্রার শুধু বোঝা নয়, বিঘ্ন; শতাব্দীর নব যাত্রীর চলার ছন্দে ছন্দ মিলাইয়া যাহারা কুচকাওয়াজ করিতে জানে না, পারে না; জীব হইয়াও জড়; যাহারা অটল সংস্কারের পাষাণ-স্তূপ আঁকড়িয়া পড়িয়া আছে।'

৩. দুটি বা তিনটি বাক্য যোজক শব্দের সাহায্যে যুক্ত না হলে সেমিকোলন ব্যবহৃত হয়। যেমন- আগে পাঠ্যবই পড়; পরে গল্প-উপন্যাস।

8. কোনো তালিকায় একাধিক ব্যক্তির নাম ও তাঁদের পদের উল্লেখ থাকলে বোঝবার সুবিধার জন্যে সেমিকোলন ব্যবহার করা হয়। যেমন- এবারের নবনির্বাচিত কার্যনির্বাহী পরিষদে যাঁরা রয়েছেন তাঁরা হলেন: আকবরউদ্দিন আহমদ, সভাপতি; আফসার রায়হান, সাধারণ সম্পাদক; চিত্ত বড়ুয়া, প্রচার সম্পাদক; এন্ড্রু গোমেজ, সংস্কৃতি সম্পাদক; ইত্যাদি।

৫. সেজন্যে, তবু, তথাপি, সুতরাং ইত্যাদি যে-সব যোজক বৈপরীত্য বা অনুমান প্রকাশ করে তাদের আগে সেমিকোলন বসে। যেমন- সে ফেল করেছে; সেজন্যে সে মুখ দেখায় না।

৬. যেসব বাক্যে ভাবসাদৃশ্য আছে তাদের মধ্যে সেমিকোলন বসে। যেমন- দিনটা ভালো নয়; মাঝে মাঝে বৃষ্টি পড়ছে।

৭. ছোটো ছোটো বিতর্কিত অংশ নির্দেশ করার জন্যে সেমিকোলন বসে। যেমন- মেয়েটি, যে প্রথম হয়েছে, একটি পুরস্কার পেয়েছে; এবার আশা করা যায়, সে আরো ভালো করবে।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
.
'লোভে পাপ, পাপে মৃত্যু'- এখানে 'লোভে' কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. করণে ৭মী
  2. অপাদানে ৭মী
  3. অধিকরণে ৭মী
  4. কর্মে ৭মী
ব্যাখ্যা
• অপাদান কারক:
প্রথাগত ব্যাকরণ অনুসারে, যা থেকে কিছু বিচ্যুত, গৃহীত, জাত, বিরত, আরম্ভ, দূরীভূত ও রক্ষিত হয় এবং যা দেখে কেউ ভীত হয়, তাকেই অপাদান কারক বলে।
যেমন:
- তিলে তেল হয়।
- গাছ থেকে পাতা পড়ে।
- জমি থেকে ফসল পাওয়া যায়। 
- পাপে বিরত হও।
- বিপদ থেকে বাঁচাও।

• অপাদান কারক নির্ণয়ের জন্যে ক্রিয়াপদকে 'কোথা থেকে', 'কী থেকে', 'কীসের থেকে' এসৰ প্রশ্ন করতে হয় এবং তার উত্তরে অপাদান কারক জানতে পারা যায়।
যেমন:
- বিপদে মোরে রক্ষা করো।
[(কোথা থেকে?- বিপদ থেকে)। তাই 'বিপদে' অপাদান কারক।]

যেমন:
- সুখের চেয়ে শান্তি ভালো।
- লোভে পাপ, পাপে মৃত্যু।
[বাক্যের ক্রিয়াপদকে (কী থেকে মৃত্যু?) প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় 'লোভে'। সুতরাং 'লোভে' অপাদান কারকে ৭মী বিভক্তি।]

অপাদান কারকে বিভক্তির প্রয়োগ
প্রথমা বা শূন্য বিভক্তি:
- গাড়ি ঢাকা ছাড়ল।
- বাড়ি ঘুরে এসো।

দ্বিতীয়া বিভক্তি:
- সবাই বাঘকে ভয় করে।
- বাবাকে ভয় করি না।

সপ্তমী বিভক্তি:
- দুধে ছানা হয়।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
.
'Measure for measure' এর শুদ্ধ বাংলা অনুবাদ কোনটি?
  1. যেমন কুকুর তেমন মুগুর।
  2. ঢিল মারলে পাটকেল পড়ে।
  3. আয় বুঝে ব্যয় কর।
  4. জোর যার মুল্লুক তার।
ব্যাখ্যা
• 'Measure for measure' বাংলা অনুবাদ - যেমন কুকুর তেমন মুগুর।

অন্যদিকে, 
• 'Tit for tat' বাংলা অনুবাদ - ঢিল মারলে পাটকেল পড়ে। 
• 'Cut your coat according to your cloth' বাংলা অনুবাদ - আয় বুঝে ব্যয় কর।
• 'Might is right' বাংলা অনুবাদ - জোর যার মুল্লুক তার।

উৎস: বাংলা একাডেমি, অভিগম্য অভিধান।
.
'আমি খুব খেতাম, এখন পারি না।' বাক্যটি ক্রিয়ার কোন কাল নির্দেশ করে?
  1. নিত্যবৃত্ত বর্তমানকাল
  2. পুরাঘটিত বর্তমানকাল
  3. নিত্যবৃত্ত অতীতকাল
  4. পুরাঘটিত অতীতকাল
ব্যাখ্যা
• সাধারণ অতীতকাল:
বর্তমান কালের পূর্বে যে ক্রিয়া সম্পন্ন হয়ে গিয়েছে, তার সংঘটন কালই সাধারণ অতীত কাল।
যেমন:
- তিনি রাড়ি গেলেন, কাফি এসেছিল ইত্যাদি।

• নিত্যবৃত্ত অতীতকাল:
অতীতকালে কোনো ক্রিয়া সব সময় বা নিয়মিতভাবে ঘটতো এমন বোঝালে কিংবা অভ্যাসগত কোনো কাজ বোঝালে তাকে 'নিত্যবৃত্ত অতীতকাল' বলে। যেমন:
- আমি খুব খেতাম, এখন পারি না।

নিত্যবৃত্ত অতীত কালের প্রয়োগ:
• ইচ্ছা প্রকাশে: আজ যদি ছুটি হতো, কেমন মজা হতো।
• কল্পনায়: 'সাতাশ হতো যদি একশ সাতাশ'।
• সম্ভাবনা প্রকাশে: তুমি যদি যেতে, তবে ভালই হতো।
• ক্রিয়া সংঘটনের অপূর্ণতাজনিত কারণ বোঝাতে: গাড়িটা কিনতাম, কিন্তু দাম বেশি বলে কেনা হল না।
• অপূর্ণতাজনিত খেদ প্রকাশে: যদি তোমার মতো গান গাইতে পারতাম।
• নিশ্চয়তার ভাব প্রকাশে ভবিষ্যৎকালের দ্যোতনায়: এ ঘটনা আজ হোক কাল হোক ঘটতই।

• ঘটমান অতীতকাল:
অতীত কালে যে কাজ চলছিল এবং যে সময়ের কথা বলা হয়েছে তখনো কাজটি সমাপ্ত হয়নি- ক্রিয়া সংঘটনের এরূপ ভাব বোঝালে ক্রিয়ার ঘটমান অতীত কাল হয়।
যেমন:
- মা তখন শিশুকে ঘুম পাড়াচ্ছিলেন।
- কাল সন্ধ্যায় বৃষ্টি পড়ছিল।
- মা আমাদের পড়াশুনা দেখছিলেন।

• পুরাঘটিত অতীতকাল:
যে ক্রিয়া অতীতে বহু পূর্বেই সংঘটিত হয়ে গিয়েছে এবং যার পরে আরও কিছু ঘটনা ঘটে গেছে, তার কালকে পুরাঘটিত অতীত কাল বলে।
যেমন: সেবার তোমাকে সুস্থই দেখেছিলাম।

পুরাঘটিত অতীত কালের প্রয়োগ:
• অতীতে সংঘটিত ঘটনার নিশ্চিত বর্ণনায়: পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধে এক লক্ষ মারাঠা সৈন্য মারা গিয়েছিল।
• অতীতে সংঘটিত ঘটনার পরম্পরা বোঝাতে শেষ ক্রিয়াপদে পুরাঘটিত অতীত কালের প্রয়োগ হয়: বৃষ্টি শেষ হবার পূর্বেই আমরা বাড়ি পৌঁছেছিলাম।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
.
উৎপত্তির বিচারে খাঁটি বাংলা ছন্দ বলা হয় কোনটিকে?
  1. মাত্রাবৃত্ত ছন্দ
  2. অক্ষরবৃত্ত ছন্দ
  3. স্বরবৃত্ত ছন্দ
  4. খ ও গ
ব্যাখ্যা
• অক্ষরবৃত্ত ছন্দ:
উৎপত্তির বিচারে যে ছন্দটিকে আমরা খাঁটি বাংলা অর্থাৎ 'তদ্ভব ছন্দ' নামে আখ্যায়িত করেছি, তাকেই প্রচলিত ভাষায় বলা হয় অক্ষরবৃত্ত ছন্দ।

যে ছন্দে শব্দের আদিতে ও মধ্যে যুগ্মধ্বনি থাকলে তা সংশ্লিষ্ট উচ্চারণে এক-মাত্রা এবং শেষে যুগ্মধ্বনি থাকলে বিশ্লিষ্ট উচ্চারণে দুই মাত্রা ধরা হয়, সে ছন্দকে অক্ষরবৃত্ত ছন্দ বলা হয়।

- এ ছন্দে অক্ষর উচ্চারণের ধ্বনি আচ্ছন্ন করে একটি অতিরিক্ত তান বা সুরের তরঙ্গ সৃষ্টি হয়। ফলে যুক্তাক্ষরবিহীন ও যুক্তাক্ষরবহুল সব চরণই এ ছন্দে দেখা যায়।
- মন্দর বা ধীর লয় বা গতির এ ছন্দ সাধারণত দুই পর্বের হয় এবং ৬, ৮ ও ১০ মাত্রার পর্বই এ ছন্দে বেশি দেখা যায়। বৈচিত্র্যপূর্ণ নানা ছন্দ এ ছন্দের অন্তর্ভুক্ত।

যেমন:
মরিতে চাহিনা আমি । সুন্দর ভুবনে,
মানবের মাঝে আমি । বাঁচিবারে চাই,
এই সূর্যকরে এই । পুষ্পিত কাননে,
জীবন্ত হৃদয় মাঝে । যদি স্থান পাই।

উপর্যুক্ত চরণগুলোর মাত্রাসংখ্যা যথাক্রমে ৮ + ৬ = ১৪ মাত্রার। প্রতি চরণে পর্ব সংখ্যা দুটি করে।

অন্যদিকে, 
• মাত্রাবৃত্ত ছন্দ:
উৎপত্তির বিচারে যে ছন্দকে আমরা বলেছি 'তৎসম' বা 'অর্ধতৎসম ছন্দ', যে ছন্দে প্রাচীন সংস্কৃত ও প্রাকৃত ছন্দের অনেক লক্ষণ অথবা অন্তত কিছুটা লক্ষণও বর্তমান আছে তাকেই বলা হয় 'মাত্রাবৃত্ত ছন্দ'।

• স্বরবৃত্ত ছন্দ:
এই ছন্দের একটি অতি প্রচলিত নাম 'ছড়ার ছন্দ' বা 'লৌকিক ছন্দ / লোকছন্দ'। প্রাচীন ছড়াগুলো এই ছন্দে রচিত এবং এই ছন্দ মূলত লোকজীবনে নিত্যব্যবহৃত কথ্যভাষা-আশ্রিত বলেই এরূপ নামকরণের সার্থকতা স্বীকার করা চলে। রবীন্দ্রনাথও অনেক সময় একে 'ছড়ার ছন্দ' বা 'লোকছন্দ' নামে অভিহিত করেছেন।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
.
'পড়ুয়ারা ক্লাসে পড়ে।'- এখানে 'ক্লাসে' কোন কারক?
  1. অধিকরণ কারক
  2. অপাদান কারক
  3. কর্ম কারক
  4. করণ কারক
ব্যাখ্যা
• অধিকরণ কারক:
প্রথাগত ব্যাকরণ অনুসারে, যে স্থানে বা যে সময়ে ক্রিয়া সম্পাদিত হয় তাকে অধিকরণ কারক বলে।যেমন: ছেলেরা মাঠে খেলে। ছাত্রীরা পাঠাগারে পড়ে। বাক্যে যে পদে ক্রিয়ার আধারকে বোঝায় তাকে বলে অধিকরণ কারক।

ক্রিয়াপদ ধরে কোথায়, কোন স্থানে, কখন, কোন সময়ে, কবে, কোন বিষয়ে বা ব্যাপারে-এসব প্রশ্ন করলে তার উত্তরে অধিকরণ কারক পাওয়া যায়।
যেমন:
- পড়ুয়ারা ক্লাসে পড়ে।
[কোথায় পড়ে? ক্লাসে অর্থাৎ ক্লাসের মধ্যে। তাই ক্লাসে অধিকরণ কারকে ৭মী বিভক্তি।]

- তারা সকালে পড়ে।
[কখন পড়ে? সকালে। 'সকালে' অধিকরণ কারক।]

অধিকরণ কারকে বিভক্তির প্রয়োগ
• প্রথমা বা শূন্য বিভক্তি:
- শফিক চাটগাঁ থাকে।
- তুমি এখন বাড়ি যেতে পার।

• তৃতীয়া বিভক্তি:
- পথ দিয়ে চল।
- বড় রাস্তা দিয়ে যেও।

• পঞ্চমী বিভক্তি:
- ছাদ থেকে পানি পড়ে।
- বাড়ি থেকে টাকাটা চেয়ে দেখ।

• সপ্তমী বিভক্তি:
- আহারে রুচি নেই।
- এ বাড়িতে কেউ নেই।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
.
অশুদ্ধ বানান কোনটি?
  1. অনাকাঙ্ক্ষিত
  2. অংশিদারী
  3. অংশভাগী
  4. অংশনীয়
ব্যাখ্যা
• অশুদ্ধ বানান- অংশিদারী। 

• শুদ্ধ বানান: অংশীদারি (বিশেষ্য পদ),
- সংস্কৃত ও ফারসি শব্দযোগে গঠিত।
অর্থ: 
- মালিকানা। 

• অনাকাঙ্ক্ষিত, অংশভাগী, অংশনীয় বানানগুলো শুদ্ধ।  

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
.
'বুদ্ধির পরিপক্বতা' অর্থে কোন বাগ্‌ধারাটি ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. আক্কেল গুড়ুম
  2. অকালকুষ্মাণ্ড
  3. আক্কেল সেলামি
  4. আক্কেল দাঁত
ব্যাখ্যা
• 'আক্কেল দাঁত' অর্থ - বুদ্ধির পরিপক্বতা।
বাক্য: এসব কথার সে কী জানবে-এখনো তার আক্কেল দাঁতই ওঠেনি।

অন্যদিকে, 
• 'আক্কেল গুড়ুম' অর্থ - হতবুদ্ধি হওয়া।
বাক্য: ছেলের লটারি জেতার কথা শুনে বাবার তো আক্কেল গুডুম।

• 'আক্কেল সেলামি' অর্থ- নির্বুদ্ধিতার দণ্ড
বাক্য: বিনা টিকেটে গাড়িতে চড়ায় ২০০ টাকা আক্কেল সেলামি দিতে হল।

• 'অকালকুষ্মাণ্ড' অর্থ - অপদার্থ / অকেজো লোক। 
বাক্য: অকালকুষ্মাণ্ড ছেলেটার ওপর এ কাজের দায়িত্ব দিলে সব পণ্ড হয়ে যাবে। 

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
.
দুটি সমান্তরাল রেখা কয়টি বিন্দুতে ছেদ করে? 
  1. কখনোই ছেদ করবে না
ব্যাখ্যা
প্রশ্ন: দুটি সমান্তরাল রেখা কয়টি বিন্দুতে ছেদ করে? 

সমাধান: 
- দুটি সমান্তরাল রেখা পরস্পরের মধ্যে সর্বদা সমান দূরত্ব বজায় রেখে চলে।
- তাই রেখা দুটি কখনোই একে অন্যকে ছেদ করবে না। 
১০.
ত্রিভুজের তিন বাহুর দৈর্ঘ্য যথাক্রমে ৬, ৮ ও ১০ মিটার হলে বৃহত্তম ও ক্ষুদ্রতম বাহুর মধ্যবিন্দু দুটির দূরত্ব কত মিটার? 
  1. ২ মিটার
  2. ৪ মিটার
  3. ৬ মিটার
  4. ৮ মিটার
ব্যাখ্যা
প্রশ্ন: ত্রিভুজের তিন বাহুর দৈর্ঘ্য যথাক্রমে ৬, ৮ ও ১০ মিটার হলে বৃহত্তম ও ক্ষুদ্রতম বাহুর মধ্যবিন্দু দুটির দূরত্ব কত মিটার? 

সমাধান:

আমরা জানি, 
ত্রিভুজের যেকোনো দুই বাহুর মধ্যবিন্দুর সংযোজক সরলরেখা তৃতীয় বাহুর সমান্তরাল এবং অর্ধেক। 
∴ DE = ১/২ × BC
= ১/২ × ৮ 
= ৪ মিটার ।
১১.
একটি কোণের পরিমাণ ৮০° হলে একে কী কোণ বলে?
  1. প্রবৃদ্ধ কোণ
  2. সরলকোণ
  3. স্থূলকোণ
  4. সূক্ষ্মকোণ
ব্যাখ্যা
প্রশ্ন: একটি কোণের পরিমাণ ৮০° হলে একে কী কোণ বলে? 

সমাধান: 
আমরা জানি,
• ৯০° অপেক্ষা ছোট কোণকে সূক্ষ্মকোণ বলে। 
অর্থাৎ, একটি কোণের পরিমাণ ৮০° হলে একে সূক্ষ্মকোণ কোণ বলে। 

অন্যদিকে, 
• এক সমকোণ অপেক্ষা বড় কিন্তু দুই সমকোণ অপেক্ষা ছোট কোণকে স্থূলকোণ বলা হয়।
• ১৮০° এর সমান কোণকে সরলকোণ বলে। 
অথবা, দুইটি পরস্পর বিপরীত রশ্মি তাদের সাধারণ প্রান্ত বিন্দুতে যে কোণ উৎপন্ন করে তাকে সরলকোণ বলে।
• দুই সমকোণ থেকে বড় কিন্তু চার সমকোণ থেকে ছোট কোণকে প্রবৃদ্ধ কোণ বলে। 
• দুইটি কোনের সমষ্টি 180° হলো, কোন দুইটির একটিকে অপরটির সম্পূরক কোণ বলে।
১২.
কোনো বৃত্তের ব্যাসার্ধ ৭ সে.মি হলে বৃত্তের বৃহত্তম জ্যা -এর দৈর্ঘ্য কোনটি? 
  1. ২ সে.মি
  2. ৬ সে.মি
  3. ১৪ সে.মি
  4. ১২ সে.মি
ব্যাখ্যা
প্রশ্ন: কোনো বৃত্তের ব্যাসার্ধ ৭ সে.মি হলে বৃত্তের বৃহত্তম জ্যা -এর দৈর্ঘ্য কোনটি? 

সমাধান:
আমরা জানি,
বৃত্তের ব্যাসই বৃহত্তম জ্যা এবং ব্যাসার্ধের দ্বিগুণ হলো ব্যাস।
∴ বৃত্তের বৃহত্তম জ্যা = বৃত্তের ব্যাস 
= ২ × ব্যাসার্ধ 
= (২ × ৭) সে.মি
= ১৪ সে.মি
১৩.
নিচের কোনটি সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম নয়?
  1. গুগল
  2. টুইটার
  3. ফেসবুক
  4. লিংকড-ইন
ব্যাখ্যা
সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম: 
- তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আমাদের সামাজিক যোগাযোগকে দ্রুত, আকর্ষণীয়, এবং কার্যকরী করে তুলেছে। 
- শুধু তা নয়, এর বাইরেও নানানভাবে আমাদের সামাজিক ব্যাপারগুলো ইন্টারনেটে উঠে এসেছে। 
- এখন ইন্টারনেটে গড়ে উঠেছে বেশকিছু সামাজিক যোগাযোগের সম্পূর্ণ সাইট। 
- নিজের ভালো-লাগা মন্দলাগা, অনুষ্ঠানাদি, চাকরিতে প্রমোশন, সন্তানাদির বিয়ে ইত্যাদি নানা বিষয়ের তথ্য, ছবি কিংবা ভিডিও বিনিময় করা যায় এগুলোর যে কোনো একটি থেকে। 
- বর্তমানে প্রায় শতাধিক এরকম সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম রয়েছে। 
যেমন- ফেসবুক (www.facebook.com), লিংকড-ইন (Linked in.com) গুগল প্লাস (plus.google.com), টুইটার (www.twitter.com), জোপা (www.zooppa.com), মাইস্পেস (www.myspace.com) ইত্যাদি।

অন্যদিকে, 
- গুগল ইনকরপোরেটেড মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইন্টারনেট ও সফটওয়্যার সেবাদানকারী বহুজাতিক কোম্পানি। 
- বিশেষভাবে তাদের গুগল সার্চ ইঞ্জিন, অনলাইন বিজ্ঞাপন সেবা ও ক্লাউড কম্পিউটিং সেবার জন্য এটি প্রসিদ্ধ। 

উৎস: তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, অষ্টম শ্রেণি ।
১৪.
কোনো ডাটাবেজের রেকর্ডের ক্ষুদ্রতম অংশকে কী বলে? 
  1. ফাইল
  2. ফিল্ড
  3. রেকর্ড
  4. টেবিল
ব্যাখ্যা
ফিল্ড: 
রেকর্ডের ক্ষুদ্রতম অংশ হলো ফিল্ড
- ফিল্ড হলো ক্ষুদ্রতম ডেটা ইউনিট যা ব্যবহারকারী একই জাতীয় ডেটাকে একটি ক্যাটাগরিতে নামকরণ করেন। 
- রেকর্ডের প্রতিটি উপাদান যেমন- নাম, ঠিকানা, টেলিফোন নম্বর ইত্যাদিকে এক একটি ফিল্ড হিসেবে ধরা হয়। 
- প্রতিটি ফিল্ড সাধারণত কলাম হেডিং হিসেবে থাকে।
- কলামের একটি সেলের (Cell) ডেটাকে আমরা একটি ফিল্ড হিসেবে ধরি এবং পুরাে কলামটিতে থাকে একই ধরনের ডেটা। 

রেকর্ড: 
- অনেকগুলাে ফিল্ডের সমন্বয়ে গঠিত হয় একটি রেকর্ড। 
- সাধারণভাবে পুরাে একটি রাে বা সারিকেই আমরা রেকর্ড হিসেবে বিবেচনা করি। 
- যদি কোনাে টেবিলে গ্রাহকের নাম ও ঠিকানা লিপিবদ্ধ থাকে তবে সে গ্রাহকের নাম ও ঠিকানা মিলে হবে একটি রেকর্ড। 

ফাইল: 
- এক বা একাধিক রেকর্ড নিয়ে একটি ডেটাবেজ ফাইল তৈরী করা যায়। 
- একটি ফাইলে অসংখ্য রেকর্ড রাখা যায়। 

উৎস: কম্পিউটার ও তথ্য প্রযুক্তি-১, এসএসসি ও দাখিল (ভোকেশনাল) এবং কম্পিউটার শিক্ষা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৫.
কূটনীতি সম্পর্কিত ভিয়েনা কনভেনশন কত সালে স্বাক্ষরিত হয়?
  1. ১৯৫৯ সাল
  2. ১৯৬১ সাল
  3. ১৯৬৯ সাল
  4. ১৯৮৫ সাল
ব্যাখ্যা
ভিয়েনা কনভেনশন অন ডিপ্লোমেটিক রিলেশনস: 
- স্বাক্ষরিত: ১৮ এপ্রিল, ১৯৬১ সাল। 
- স্থান: ভিয়েনা, অস্ট্রিয়া।
- কার্যকর: ২৪ এপ্রিল, ১৯৬৪, আর্টিকেল ৫১ অনুযায়ী।
- স্বাক্ষরকারী দেশ: ৬০
- পক্ষভুক্ত দেশ: ১৯৩
- ভিয়েনা কনভেনশন অন ডিপ্লোমেটিক রিলেশনস ১৯৬১ সালের ১৪ এপ্রিল জাতিসংঘের "ডিপ্লোম্যাটিক ইন্টারকোর্স এবং ইমিউনিটিস" বিষয়ে সম্মেলনে গৃহীত হয়।
- এই সম্মেলন ২ মার্চ থেকে ১৪ এপ্রিল, ১৯৬১ পর্যন্ত নিউ হোফবুর্গ, ভিয়েনায় অনুষ্ঠিত হয়।
- কূটনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনা এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্ক উন্নয়নে এর ভূমিকা।
- সম্মেলনে গৃহীত চারটি প্রস্তাবনা অন্তর্ভুক্ত ছিল।
- চুক্তি এবং দুটি প্রোটোকল জাতিসংঘের মহাসচিবের কাছে জমা দেওয়া হয়।
- ফাইনাল অ্যাক্ট অস্ট্রিয়ার ফেডারেল মিনিস্ট্রি ফর ফরেন অ্যাফেয়ার্স-এর আর্কাইভে সংরক্ষিত।
- বাংলাদেশ এই কনভেনশনে ১৩ জানুয়ারি, ১৯৭৮ সালে পক্ষভুক্ত হয়।
- ভিয়েনা কনভেনশন আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক সম্পর্কের মৌলিক কাঠামো গঠনে এবং কূটনৈতিক সুরক্ষা ও সুবিধা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

উৎস: United Nations Treaty Collection ওয়েবসাইট।
১৬.
আফ্রিকা ও এশিয়া মহাদেশকে পৃথক করেছে কোন খাল?
  1. গ্রান্ড খাল
  2. পানামা খাল
  3. সুয়েজ খাল
  4. কিয়েল খাল
ব্যাখ্যা
সুয়েজ খাল: 
- সুয়েজ খাল একটি সমুদ্রপৃষ্ঠের সমতল জলের পথ যা মিশরের সুয়েজ প্রণালী অতিক্রম করে উত্তর-দক্ষিণে বিস্তৃত।
- এটি ভূমধ্যসাগর ও লোহিত সাগরের মধ্যে সংযোগ স্থাপন করে।
- এই খাল আফ্রিকা ও এশিয়া মহাদেশকে পৃথক করেছে।
- এটি ইউরোপ এবং ভারত ও পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরের চারপাশে অবস্থিত ভূমির মধ্যে সবচেয়ে সংক্ষিপ্ত সামুদ্রিক পথ।
- সুয়েজ খালের দৈর্ঘ্য ১৯৩ কিমি (১২০ মাইল)।
- উত্তরে পোর্ট সাঈদ (বুর সাঈদ) থেকে দক্ষিণে সুয়েজ শহর পর্যন্ত প্রসারিত।
- উত্তরে ভূমধ্যসাগরে এবং দক্ষিণে লোহিত সাগরে সংযোগের জন্য খননকৃত প্রবেশ পথ রয়েছে।
- এটি বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত নৌপথ।
- এই খাল বিশ্ব বাণিজ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে কারণ এটি ইউরোপ এবং এশিয়ার মধ্যকার নৌপথের সময় ও দূরত্ব উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনে।
- সুয়েজ খাল নির্মাণের ফলে এটি আন্তর্জাতিক নৌচলাচলে একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোগস্থল এবং মিশরের অর্থনীতির জন্যও একটি প্রধান সম্পদ হিসেবে বিবেচিত।

উৎস: Britannica.
১৭.
ব্রেটন উডস চুক্তির মাধ্যমে কোন প্রতিষ্ঠান গঠিত হয়নি?
  1. জাতিসংঘ
  2. IBRD
  3. IMF
  4. সবগুলো
ব্যাখ্যা
- জাতিসংঘ ব্রেটন উডস চুক্তির মাধ্যমে গঠিত হয়নি। 

ব্রেটন উডস সম্মেলন: 

- সময়কাল: ১-২২ জুলাই, ১৯৪৪ সাল। 
- স্থান: ব্রেটন উডস, নিউ হ্যাম্পশায়ার, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র
- ব্রেটন উডস সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছিল দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে।
- এর মূল উদ্দেশ্য ছিল জার্মানি এবং জাপানের প্রত্যাশিত পরাজয়ের পর বিশ্ব অর্থনীতির জন্য আর্থিক কাঠামো তৈরি করা।
- সম্মেলনে ৪৪টি রাষ্ট্র বা সরকারের বিশেষজ্ঞ প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেছিলেন।
- ব্রেটন উডস সম্মেলনের মাধ্যমে তৈরি সংস্থাগুলি পরবর্তীতে আধুনিক বৈশ্বিক অর্থনীতির ভিত্তি স্থাপনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।

সম্মেলনের প্রধান উদ্যোগ:
i) আন্তর্জাতিক পুনর্গঠন ও উন্নয়ন ব্যাংক (IBRD):
- দেশগুলোর জন্য দীর্ঘমেয়াদি বিদেশি সাহায্য প্রদানে সহায়তা করা।
- যুদ্ধ বিধ্বস্ত দেশগুলোর অর্থনৈতিক পুনর্গঠনে সহায়তা।

ii) আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (IMF):
- আন্তর্জাতিক অর্থপ্রদানের ক্ষেত্রে স্বল্পমেয়াদি অসামঞ্জস্য মোকাবিলা করা।
- মুদ্রা বিনিময় হার স্থিতিশীল রাখা।

উৎস: Britannica.
১৮.
কিয়োটো প্রটোকল এর বিষয়বস্তু কোনটি?
  1. কূটনৈতিক নিরাপত্তা
  2. ওজোন স্তর রক্ষা
  3. বৈশ্বিক উষ্ণায়ন রোধ
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
কিয়োটো প্রোটোকল: 
- গ্রহণের সময়: ডিসেম্বর ১৯৯৭,
- স্থান: জাপানের কিয়োটো শহরে।
- লক্ষ্য বৈশ্বিক উষ্ণায়নে অবদান রাখা গ্রীনহাউস গ্যাস নির্গমন কমানো।
- কার্যকর: ২০০৫ সাল থেকে।
- এটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরিবেশগত চুক্তি হিসেবে প্রশংসিত হয়েছিল।
- তবে অনেক সমালোচক এর কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন।
- কিয়োটো প্রোটোকল পরিবেশ সংরক্ষণে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে গণ্য হয়, যা পরবর্তী জলবায়ু চুক্তিগুলোর জন্য ভিত্তি স্থাপন করেছিল।
- মূল লক্ষ্য ছিল ৪১টি দেশ এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের গ্রীনহাউস গ্যাস নির্গমন ১৯৯০ সালের স্তরের তুলনায় ৫.২ শতাংশ কমানো।

৬টি গ্যাস:
- কার্বন ডাই-অক্সাইড (CO₂)
- মিথেন (CH₄)
- নাইট্রাস অক্সাইড (N₂O)
- হাইড্রোফ্লোরোকার্বনস (HFCs)
- পারফ্লোরোকার্বনস (PFCs)
- সালফার হেক্সাফ্লোরাইড (SF₆)

উৎস: Britannica.
১৯.
একটি দেশের অভ্যন্তরে দেশি বা বিদেশি নাগরিকদের দ্বারা প্রতি বছর উৎপাদিত সকল দ্রব্য ও সেবার মোট আর্থিক মূল্যকে কী বলে?
  1. মোট দেশজ উৎপাদন
  2. মোট জাতীয় উৎপাদন
  3. মাথাপিছু আয়
  4. নেট জাতীয় উৎপাদন
ব্যাখ্যা
মোট দেশজ উৎপাদন (Gross Domestic Product: GDP): 
- একটি দেশের অভ্যন্তরে দেশি বা বিদেশি নাগরিকদের দ্বারা প্রতি বছর উৎপাদিত সকল দ্রব্য ও সেবার মোট আর্থিক মূল্য হচ্ছে মোট দেশজ উৎপাদন (GDP)।
- জিডিপি হিসাব করা হয় মূলত একটি দেশের সামগ্রিক অর্থনীতির শক্তি বা সামর্থ্য বোঝার জন্য।
- তবে দেশের কোনো ব্যক্তি যদি বিদেশে কাজ করে অথবা কোনো কোম্পানি যদি বিদেশে ব্যবসা করে দেশে টাকা পাঠায় সেই আয় মোট অভ্যন্তরীণ উৎপাদন হিসেবে পরিগণিত হবে না অর্থাৎ জিডিপিতে অন্তর্ভুক্ত হবে না।
- মূলত জিডিপি হচ্ছে একটি দেশের অভ্যন্তরীণ উৎপাদনের আর্থিক মূল্য।

মোট জাতীয় উৎপাদন (Gross National Product: GNP): 
- একটি দেশের নাগরিক নির্দিষ্ট সময়ে (সাধারণত এক বছর) যে সকল দ্রব্য ও সেবা উৎপাদন করে তার মোট আর্থিক মূল্য হচ্ছে মোট জাতীয় উৎপাদন (GNP)।
- অর্থাৎ একটি দেশের নাগরিক নিজ দেশসহ বিশ্বের যেখানেই চাকরি বা ব্যবসা করুক না কেন যখন তাদের অর্জিত আয় দেশের অর্থনীতিতে যুক্ত হয় তখন তা মোট জাতীয় উৎপাদন হিসেবে বিবেচিত হবে।
- জিএনপি হিসাব করা হয় একটি দেশের নাগরিকদের অর্থনৈতিক অবদান বোঝার জন্য।
- যেমন-কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান বিদেশে চাকরি বা ব্যবসা করে অর্জিত অর্থের যে পরিমাণ অর্থ বৈধপথে বাংলাদেশে পাঠায় তা বাংলাদেশের মোট জাতীয় উৎপাদনের অংশ হবে।

মাথাপিছু আয় (Per Capita Income: PCI)
- একটি দেশের মোট জাতীয় আয়কে সেই দেশের মোট জনসংখ্যা দ্বারা ভাগ করলে মাথাপিছু আয় পাওয়া যায়।
- এর মাধ্যমে একটি দেশের মানুষের সার্বিক জীবনযাত্রার মান নির্ধারণ করা হয়।
- যে দেশের মাথাপিছু আয় যত বেশি সে দেশের জনগণের জীবনযাত্রার মান তত উন্নত এবং অর্থনীতি তত বেশি সমৃদ্ধ।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, অষ্টম শ্রেণি, বোর্ড বই।
২০.
রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর তথ্য অনুসারে, ২০২৩-২৪ সালে তৈরি পোশাক রপ্তানি থেকে কত আয় হয়? [জানুয়ারি, ২০২৫]
  1. ৪৬ বিলিয়ন ডলার
  2. ৪০ বিলিয়ন ডলার
  3. ৩৬ বিলিয়ন ডলার
  4. ৫০ বিলিয়ন ডলার
ব্যাখ্যা
রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর তথ্য অনুসারে,
- বাংলাদেশের সর্বাধিক বৈদেশিক মুদ্রা তৈরি পোশাক থেকে আসে। 
- ২০২৩-২৪ সালে তৈরি পোশাক রপ্তানি ৩৬১৫১ মিলিয়ন ডলার বা ৩৬.১৫১ বিলিয়ন ডলার।
- এর মধ্যে নিটওয়্যার ১৯২৮২ মিলিয়ন ডলার বা ১৯.২৮২ বিলিয়ন ডলার।
- ওভেন ওয়্যার ১৬৮৬৯ মিলিয়ন ডলার বা ১৬.৮৬৯ বিলিয়ন ডলার।

এছাড়া,
- চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যের রপ্তানি আয় ১০৩৯ মিলিয়ন ডলার বা ১.০৩৯ বিলিয়ন ডলার। 
- কৃষি পণ্যের আয় ৯৬৪ মিলিয়ন ডলার বা ০.৯৬৪ বিলিয়ন ডলার

উৎস: রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর রিপোর্ট।
২১.
নিচের কোনটি চাকমাদের সবচেয়ে জনপ্রিয় ও সর্ববৃহৎ উৎসব?
  1. বিজু
  2. সাংগ্রাই
  3. বৈসু
  4. ওয়ানগালা
ব্যাখ্যা
চাকমাদের সংস্কৃতি: 
- চাকমাদের সবচেয়ে জনপ্রিয় ও সর্ববৃহৎ উৎসব হলো 'বিজু'।
- বাংলা বর্ষের শেষ দুদিন ও নববর্ষের প্রথম দিনে চাকমারা বিজু উৎসব পালন করে।
- অন্যান্য নৃগোষ্ঠীর তুলনায় চাকমারা তুলনামূলকভাবে বেশি শিক্ষিত।
- চাকমাদের নিজস্ব ভাষা ও বর্ণমালা রয়েছে।

এছাড়া, 
- মারমারা পুরাতন বর্ষকে বিদায় ও নববর্ষকে বরণ উপলক্ষে সাংগ্রাই উৎসব উদযাপন করে।
- নতুন ধান মাড়াইয়ে বাঙালির নবান্ন আর গারো নৃগোষ্ঠীর ওয়ানগালা একই সূত্রে গ্রোথিত।
- বৈসু ত্রিপুরাদের উৎসবের নাম। 

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, অষ্টম শ্রেণি, বোর্ড বই।
২২.
বৃহত্তর ময়মনসিংহ অঞ্চলে কোন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী বাস করে?
  1. সাঁওতাল
  2. গারো
  3. লুসাই
  4. ত্রিপুরা
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের বিভিন্ন নৃগোষ্ঠীর ভৌগোলিক অবস্থান:
- সাধারণভাবে ভৌগোলিক অবস্থানভেদে বাংলাদেশে দুই ধরনের নৃগোষ্ঠীর মানুষ আছেন-পাহাড়ি ও সমতলবাসী।
- এদের একটি অংশ বসবাস করে দেশের দক্ষিণ-পূর্বাংশে তথা পার্বত্য চট্টগ্রাম, রাঙামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি জেলায়।
- এসব জেলায় বসবাসকারী নৃগোষ্ঠীগুলো হলো-চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা, ম্রো, তঞ্চঙ্গ্যা, বম, পাংখুয়া, চাক, খ্যাং, খুমি এবং লুসাই
- নৃতাত্ত্বিক বিচারে এরা মঙ্গোলীয় নৃগোষ্ঠীর মানুষ। এরা পাহাড়ি নামেও পরিচিত।
- বাংলাদেশের উত্তর-পূর্বাংশেও মঙ্গোলীয় ভিন্ন নৃগোষ্ঠীর বাস রয়েছে।
- এদের মধ্যে বৃহত্তর ময়মনসিংহ অঞ্চলের গারো, হাজং, কোচ এবং বৃহত্তর সিলেট অঞ্চলে খাসি ও মণিপুরি প্রভৃতি নৃগোষ্ঠীর নাম উল্লেখযোগ্য।
- এছাড়াও কক্সবাজার, পটুয়াখালি ও বরগুনা জেলায় বাস করে মঙ্গোলীয় নৃগোষ্ঠীভুক্ত রাখাইনরা।
- বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিমাংশের দিনাজপুর, রংপুর, রাজশাহী, বগুড়া, পাবনা প্রভৃতি এলাকায় বসবাস করে সাঁওতাল, ওরাঁও, মাহালি মুন্ডা, মাল পাহাড়ি, মালো ইত্যাদি নৃগোষ্ঠী।
- এরা মূলত সমতলবাসী হিসেবে পরিচিত।
- বৃহত্তর সিলেট অঞ্চলেও এসব নৃগোষ্ঠীর কারো কারো অবস্থান রয়েছে।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, অষ্টম শ্রেণি, বোর্ড বই।