পরীক্ষা আর্কাইভ

৪৯তম বিসিএস ⎯ রাষ্ট্রবিজ্ঞান [৩৪১]

পরীক্ষা৪৯তম বিসিএস ⎯ রাষ্ট্রবিজ্ঞান [৩৪১]তারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়25 minutes
মোট প্রশ্ন৩৭
সিলেবাস
Exam - 14 Topics: B. The Liberation War and its Background: Language Movement, 1952; Constitutional Movement, 1962; Autonomy Movement, 1966; Mass Movement, 1968, 1969; Non- Cooperation Movement, 1971,Liberation War-Courses and various Dimensions. Source: Class - 10 and Relavant Books
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

৪৯তম বিসিএস ⎯ রাষ্ট্রবিজ্ঞান [৩৪১]

৪৯তম বিসিএস ⎯ রাষ্ট্রবিজ্ঞান [৩৪১] · তারিখ অনির্ধারিত · ৩৭ প্রশ্ন

.
ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট(এন. ডি. এফ) গঠন করেন-
  1. আল্লামা ইকবাল
  2. হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী 
  3. শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক
  4. মওলানা আকরম খাঁ
ব্যাখ্যা

গণতান্ত্রিক শাসন প্রতিষ্ঠার জন্য হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী সকল রাজনৈতিক দলের নেতাকে ঐক্যবদ্ধ করার প্রয়াত চালান। তাঁরই প্রচেষ্টায় ১৯৬২ সালে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যকে সামনে রেখে 'National Democratic Front' (NDF) গঠিত হয়। এজন্য আইয়ুব খান তাঁকে কারারুদ্ধ করেন। গণতন্ত্রে জনগণের কথাই যে শেষ কথা, তা তিনি মনেপ্রাণে বিশ্বাস করতেন। তিনি বিশ্বাস করতেন যে, 'ভাল সরকার স্বশাসিত সরকারের বিকল্প নয়' (Good government is no substitue for self-government) |

তথ্যসূত্রঃ পৌরনীতি ও সুশাসন

.
'এখানে যারা প্রাণ দিয়েছে রমনার ঊর্ধ্বমুখী কৃষ্ণচূড়ার নিচে, সেখানে আমি কাঁদতে আসিনি'- এর রচয়িতা-
  1. গাফফার চৌধুরী
  2. জহির রায়হান
  3. মাহবুব-উল-আলম চৌধুরী
  4. শামসুর রাহমান
ব্যাখ্যা

১৯৫২ খ্রিস্টাব্দের একুশে ফেব্রুয়ারিতে কবি মাহবুব উল আলম চৌধুরী রচিত একুশের প্রথম সৃষ্টি প্রথম কবিতা ‘কাঁদতে আসিনি ফাঁসির দাবি নিয়ে এসেছি’। মাহবুব উল আলম চৌধুরী ছিলেন ভাষা আন্দোলনের একজন নিবেদিতপ্রাণ সক্রিয় সংগঠক- চট্টগ্রাম জেলা রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদের আহবায়ক ও চট্টগ্রাম জেলা সর্বদলীয় সংগ্রাম পরিষদের সম্পাদক। একুশে ফেব্রুয়ারি রাতেই চট্টগ্রামে রচিত হয়ে যায় একুশের প্রথম কবিতা- ‘কাঁদতে আসিনি ফাঁসির দাবি নিয়ে এসেছি’।

.
মুক্তিযুদ্ধের সময়ে ৮ম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট নিয়ে কোন ব্রিগেড ফোর্স গঠিত হয়?
  1. এস ফোর্স
  2. জেড ফোর্স
  3. কে ফোর্স
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা

ব্রিগেড ফোর্স:
- মুক্তিযুদ্ধের সময় ৩টি ব্রিগেড ফোর্স গঠন করা হয়।
• জেড ফোর্স,
• কে ফোর্স,
• এস ফোর্স।

⇒ জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে জেড ফোর্স।
- ‘জেড ফোর্স’ নামে পরিচিত নিয়মিত বাহিনীর প্রথম ব্রিগেডটি জুলাই মাসে গঠিত হয়।
- ব্রিগেডটি ১ম, ৩য় ও ৮ম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট নিয়ে গঠিত হয়।

⇒ কে.এম.সফিউল্লাহর নেতৃত্বে এস ফোর্স।
- ‘এস ফোর্স’ নামে পরিচিত দ্বিতীয় নিয়মিত ব্রিগেডটি অক্টোবরে গঠিত হয়।
- ব্রিগেডটি দ্বিতীয় ও একাদশ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের সৈনিকদের নিয়ে অক্টোবরে গঠিত হয়।

⇒ খালেদ মোশাররফের নেতৃত্বে কে ফোর্স।
- ‘কে ফোর্স’ গঠিত হয় ৪র্থ, ৯ম ও ১০ম ইস্ট বেঙ্গলের সদস্যদের নিয়ে।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া ও বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়

.
স্বাধীনতার কত বছর পরে বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমানের দেহাবশেষ পাকিস্তান হতে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনা হয়?
  1. ২৫ বছর
  2. ২৯ বছর
  3. ৩৫ বছর
  4. ৩৭ বছর
ব্যাখ্যা

১৯৭১ সালে নিয়মিত কাজের আড়ালে বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ফ্লাইট লেঃ মতিউর রহমান একটি বিমান ছিনতাই করে মুক্তিযুদ্ধে যোগদানের পরিকল্পনা করতে থাকেন। এনিয়ে তিনি কয়েকজন দেশপ্রেমিক বাঙালি অফিসারের সাথে আলোচনা করেন। পরিকল্পনা মোতাবেক ২০শে আগস্ট ১৯৭১ সকাল ১১.১৫ মিনিটে পাঞ্জাবী পাইলট অফিসার রাশেদ মিনহাজসহ টি-৩৩ প্রশিক্ষণ বিমান (কল সাইন ব্লু-বার্ড-১৬৬) ছিনতাই করে ভারত অভিমূখে উড্ডয়ন করেন। অপর পাইলটের সাথে কন্ট্রোল নিয়ে ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে সিন্ধুর বেদিনে বিমানটি বিধ্বস্ত হলে উভয়েই শাহাদত বরণ করেন। পরে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর সদস্যরা তার লাশ উদ্ধার করে মশরুর বিমান ঘাটির ৪র্থ শ্রেণীর কবরস্তানে অত্যন্ত অমর্যাদার সাথে দাফন করে।

উল্লেখ্য,
- শাহাদতের ৩৫ বছর পর ২৪ জুন ২০০৬ মতিউরের দেহাবশেষ পাকিস্তান থেকে দেশে এনে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবি কবর স্থানে পুনঃসমাহিত করা হয়।
উৎস: মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় 

.
ড. মোহাম্মদ শামসুজ্জোহা শহীদ হন-
  1. ৫২ এর ভাষা আন্দোলনে
  2. ৬২ এর শিক্ষা আন্দোলনে
  3. ৬৬ এর ছয়-দফা আন্দোলনে
  4. ৬৯ এর গণঅভ্যুত্থানে
ব্যাখ্যা

ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানে ১৯৬৯ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তান সেনাবাহিনী বেয়োনেট চার্জ করে ড. মোহাম্মদ শামসুজ্জোহাকে হত্যা করে।
তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক এবং প্রক্টর ছিলেন। আন্দোলনরত ছাত্রদের বাচাঁতে গিয়ে তিনি নিজেই শহীদ হন।
তার মৃত্যুর ফলে আইয়ুর বিরোধী আন্দোলন আরও তীব্র আকার ধারণ করে এবং শেষ পর্যন্ত আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা প্রত্যাহার ও আইয়ুব খান পদত্যাগে বাধ্য হন।
[সূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী এবং বাংলাপিডিয়া]

.
গণপরিষদের অধিবেশনে বাংলাকে অন্যতম ভাষা হিসেবে অন্তর্ভুক্তির দাবি জানান কোন সদস্য?
  1. শামসুল হক
  2. ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত
  3. শামসুর রাহমান 
  4. আতাউর রহমান খান
ব্যাখ্যা

১৯৪৮ পাকিস্তান গণপরিষদের প্রথম অধিবেশনে ইংরেজির পাশাপাশি উর্দুতে কার্যক্রম শুরু হলে পূর্ব বাংলা কংগ্রেস পার্টির সদস্য কুমিল্লার ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত এর প্রতিবাদ করেন এবং বাংলাকেও অধিবেশনের অন্যতম ভাষা হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানান। মুসলিম লীগের সকল সদস্য এ দাবি প্রত্যাখ্যান করে।
উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম ও দশম শ্রেণি 

.
তারামন বিবি কত নং সেক্টর থেকে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন? 
  1. ২ নং
  2. ৪ নং
  3. ৮ নং
  4. ১১ নং
ব্যাখ্যা

ক্যাপ্টেন ডা. সেতারা বেগম ২নং সেক্টর এবং তারামন বিবি ১১নং সেক্টর থেকে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। 

বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম ও দশম শ্রেণি।

.
তমুদ্দিন মজলিশের মুখপত্র ছিল-
  1. সাপ্তাহিক ইত্তেহাদ
  2. সাপ্তাহিক দেশ
  3. সাপ্তাহিক সৈনিক
  4. কোনো মুখপত্র ছিল না
ব্যাখ্যা

তমদ্দুন মজলিশের বাংলা মুখপত্র ছিল সাপ্তাহিক সৈনিক। ১৯৪৮ সালের ১৪ নভেম্বর সৈনিকের প্রকাশনা শুরু হয়। তমদ্দুন মজলিসের উদ্যোগে ১৯৪৮ সালে প্রকাশিত সাপ্তাহিক সৈনিকের সম্পাদনার দায়িত্বে ছিলেন শাহেদ আলী ও এনামুল হক। পরে সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি ছিলেন শাহেদ আলী। 
তথ্যসূত্রঃ বাংলাপিডিয়া, দৈনিক পত্রিকা

.
পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ সরকারের প্রতিনিধিত্ব করেন-
  1. কর্নেল এমএ জি ওসমানী
  2. ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর
  3. গ্রুপ ক্যাপ্টেন এ কে খন্দকার
  4. লে. জেনারেল জগজিৎ সিং অরোরা
ব্যাখ্যা

১৯৭১ সালের ৬ - ১৬ ডিসেম্বর যৌথ বাহিনীর দুর্বার আক্রমণে পর্যুদস্ত পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী অবশেষে আত্মসমর্পণে সম্মত হয়।
১৬ ডিসেম্বর তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে পাকিস্তান বাহিনীর ইস্টার্ন কমান্ডের প্রধান লে. জেনারেল আমীর আবদুল্লাহ খান নিয়াজী ৯৩ হাজার সৈন্যসহ যৌথ বাহিনীর নিকট আত্মসমর্পণ করেন। পাকিস্তানের পক্ষে নিয়াজী এবং যৌথ বাহিনীর পক্ষে আত্মসমর্পণ দলিলে স্বাক্ষর করেন ভারতীয় সেনাবাহিনীর ইস্টার্ন কমান্ডের প্রধান লে. জেনারেল জগজিৎ সিং অরোরা। বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে গ্রুপ ক্যাপ্টেন এ কে খন্দকার উপস্থিত ছিলেন।
[সূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী]

১০.
গণপরিষদ বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষার স্বীকৃতি দেয় কত সালে?
  1. ১৯৫২
  2. ১৯৫৪
  3. ১৯৫৬
  4. ১৯৫৮
ব্যাখ্যা

৯ মে ১৯৫৪ সালে পাকিস্তানের গণপরিষদের অধিবেশনে বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষার স্বীকৃতি দেয়া হয়। বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষার সাংবিধানিক স্বীকৃতি দেয়া হয় তারও দু'বছর পর ১৯৫৬ সালে।
তথ্যসূত্রঃ 

বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১১.
‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানাে একুশে ফেব্রুয়ারি' গানটির বর্তমান সুরকার কে?
  1. আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী
  2. আবদুল লতিফ
  3. আলতাফ মাহমুদ
  4. কেউই নন
ব্যাখ্যা

“আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারী, আমি কি ভুলিতে পারি।”
- এই কবিতাটি রচনা করেছিলেন ঢাকা কলেজের ছাত্র আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী। এটি হাসান হাফিজুর রহমান সম্পাদিত ও মোহাম্মদ সুলতান কর্তৃক প্রকাশিত “একুশে ফেব্রুয়ারি” সংকলনে 'একুশের গান' হিসেবে ছাপা হয় ১৯৫৩ সালের মার্চ মাসে। এটি প্রথমে সুর করেন - আবদুল লতিফ এবং বর্তমানে যে সুরে গাওয়া হয়, তা করেছেন - আলতাফ মাহমুদ।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন ও বাংলাপিডিয়া।

১২.
পাকিস্তান গণপরিষদের সরকারি ভাষা হিসেবে কোন দুটি ভাষা নির্বাচন করা হয়?
  1. ইংরেজি, বাংলা
  2. বাংলা, উর্দু
  3. ইংরেজি, উর্দু
  4. পশতু, উর্দু
ব্যাখ্যা

পাকিস্তানের গণপরিষদের সরকারি ভাষা হিসেবে ইংরেজি ও উর্দুকে নির্বাচন করা হয়। যদিও পাকিস্তানের শতকরা মাত্র ৩.২৭ ভাগ লোকের মাতৃভাষা ছিল উর্দু। তথাপি পাকিস্তানের মুদ্রা, ডাকটিকেট, মানি অর্ডার ফরম, রেলের টিকেট প্রভৃতিতে কেবল ইংরেজি ও উর্দুভাষা ব্যবহার করা হয়। পাকিস্তানের পাবলিক সার্ভিস কমিশনের বিষয়তালিকা থেকে এবং নৌ ও অন্যান্য বিভাগের নিয়োগ পরীক্ষায় বাংলাকে বাদ দেয়া হয়। এমনকি পাকিস্তানের গণপরিষদের সরকারি ভাষা হিসেবে ইংরেজি ও উর্দুকে নির্বাচন করা হয়। 

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম দশম শ্রেণি

১৩.
১৯৫২ সালের একুশে ফেব্রুয়ারি বাংলা তারিখ ছিল- 
  1. ৭ই ফাল্গুন
  2. ৮ই ফাল্গুন
  3. ৯ই ফাল্গুন
  4. ১০ই ফাল্গুন
ব্যাখ্যা

১৯৫২ সালের একুশে ফেব্রুয়ারি ছিল বৃহস্পতিবার, ৮ ফাল্গুন ১৩৫৮ বঙ্গাব্দ।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম দশম শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৪.
প্রথম ‘রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ’ কবে গঠিত হয়েছিল?
  1. ১৯৪৮ সালের মার্চ
  2. ১৯৪৭ সালের ডিসেম্বর
  3. ১৯৫২ সালের ফেব্রুয়ারি
  4. ১৯৪৬ সালের ডিসেম্বর
ব্যাখ্যা

তমদ্দুন মজলিশের উদ্যোগে ভাষা আন্দোলনকে রাজনৈতিক রূপদানের জন্য ১৯৪৭ সালের ডিসেম্বর মাসে গঠিত হয় প্রথম 'রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ', যার আহ্বায়ক মনোনীত হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক নূরুল হক ভূইয়া।
উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম ও দশম শ্রেণি।

১৫.
আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার কোন আসামিকে ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে বন্দি অবস্থায় গুলি করে হত্যা করা হয়?
  1. ফ্লাইট সার্জেন্ট ফজলুল হককে
  2. সার্জেন্ট জহুরুল হককে
  3. ফ্লাইট সার্জেন্ট মফিজুল্লাহকে
  4. ক্যাপ্টেন শওকত আলীকে
ব্যাখ্যা

আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার ১৭ নং আসামী সার্জেন্ট জহুরুল হককে ১৫ ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯ ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে বন্দি অবস্থায় গুলি করে হত্যা করা হয়। এতে করে গণআন্দোলন আরো প্রবল হয় এবং ফলশ্রুতিতে আইয়ুব খান সরকার ১৯৬৯ সালের ২২শে ফেব্রয়ারি আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা প্রত্যাহার করে বঙ্গবন্ধু সহ সকল রাজবন্দিদের মুক্তিদানে বাধ্য হয়।
সূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী, অসমাপ্ত আত্মজীবনী এবং বাংলাপিডিয়া

১৬.
'Friend not Master' গ্রন্থটি কার?
  1. ইসকান্দর মির্জা
  2. জেনারেল আইয়ুব খান
  3. চৌধুরী মোহাম্মদ আলী
  4. কেউই নন
ব্যাখ্যা

Friend not Master' গ্রন্থটি জেনারেল আইয়ুর খানের। 
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য এবং বাঙালি সংস্কৃতির প্রতি প্রেসিডেন্ট জেনারেল আইয়ুব খানের উন্নাসিকতা ও ঘৃণা ছিল সর্বজনবিদিত। তিনি তার 'Friend not Master' গ্রন্থে নিজেই তা উল্লেখ করেছেন। তিনি একসময় এরূপ সিদ্ধান্তে পৌঁছান যে, বাংলা ভাষায় প্রচলিত সংস্কৃত শব্দগুলো পরিহার এবং এর পরিবর্তে উর্দু ও আরবি শব্দ প্রতিস্থাপন করে একে 'ইসলামিকরণ' ও 'পাকিস্তানিকরণ' করতে হবে। তার এ অভিপ্রায়কে বাস্তবায়নের জন্য উঠে পড়ে লাগলেন পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর ও চাটুকার-মোসাহেব মোনায়েম খান এবং তথ্য ও বেতারমন্ত্রী খাজা শাহাবুদ্দীন।

তথ্যসূত্রঃ পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র, প্রফেসর মো মোজাম্মেল হক 

১৭.
১৯৬২ সালের শাসনতন্ত্রটি ছিল-
  1. প্রথম শাসনতন্ত্র
  2. দ্বিতীয় শাসনতন্ত্র
  3. তৃতীয় শাসনতন্ত্র 
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা

১৯৬২ সালের শাসনতন্ত্র হল পাকিস্তানের দ্বিতীয় শাসনতন্ত্র। পাকিস্তান সৃষ্টির দীর্ঘ ৯ বছর পর ১৯৫৬ সালের ২৩ মার্চ প্রথম শাসনতন্ত্র প্রণীত হয়। অল্প দিনের মধ্যেই এ শাসনতন্ত্রকে ব্যর্থতায় পেয়ে বসে। ১৯৫৮ সালেই এ শাসনতন্ত্রের সমাধি রচিত হয়।সামরিক বাহিনীর সর্বাধিনায়ক জেনারেল মোহাম্মদ আইয়ুব খান প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক নিযুক্ত হন। তিনি এক ঘোষণায় পাকিস্তানের প্রথম শাসনতন্ত্র বাতিল ঘোষণা করেন।
প্রেসিডেন্ট আইয়ুব খাঁন পাকিস্তানের জন্য তাঁর নিজস্ব ধারায় একটি নতুন শাসনতন্ত্র প্রণয়নের মনোযোগী হন। তিনি ১৯৬০ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি ১১ সদস্য বিশিষ্ট একটি শাসনতন্ত্র প্রণয়ন সংস্থা গঠন করেন। এ সংস্থা শাসনতন্ত্র প্রণয়নের জন্য কতিপয় প্রশ্নমালা রচনা করেন। এই প্রশ্নমালা আলোচনা ও পর্যালোচনার পর শাসনতন্ত্র সংস্থা ১৯৬১ সালের ৬ মে প্রেসিডেন্টের নিকট বিবরণী পেশ করেন। অবশেষে ১৯৬২ সালের ১লা মার্চ তারিখে প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ আইয়ুব খান পাকিস্তানের জন্য আরেক নতুন শাসনতন্ত্র ঘোষণা করেন। এটিই পাকিস্তানের ইতিহাসে ৬২-এর শাসনতন্ত্র নামে পরিচিত।

১৮.
'ছয় দফা' কত সালে ঘোষণা করা হয়?
  1. ৫ জানুয়ারি ১৯৬৬
  2. ৫ ফেব্রুয়ারি ১৯৬৬
  3. ২৩ মার্চ ১৯৬৬
  4. ২৬ মার্চ ১৯৬৬
ব্যাখ্যা

১৯৬৬ সালের ৫-৬ ফেব্রুয়ারি লাহোরে অনুষ্ঠিত বিরোধী দলগুলোর সম্মেলনে শেখ মুজিবুর রহমান ঐতিহাসিক 'ছয় দফা কর্মসূচি' পেশ করেন। এরপর তিনি তা দেশবাসীর সামনে তুলে ধরে জনমত সৃষ্টি করতে প্রয়াসী হন। এ কর্মসূচিকে তিনি 'পূর্ব পাকিস্তানের বাঁচার দাবি' বলে অভিহিত করেন। ছয় দফা কর্মসূচি দ্রুত বাঙালি জনগণ কর্তৃক সমাদৃত হয়।

১৯.
ছয় দফা দাবির মূল উদ্দেশ্য কী ছিল?
  1. স্বাধীনতা অর্জন 
  2. প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন
  3. শিক্ষা সংস্কার
  4. রাষ্ট্রভাষা বাংলা
ব্যাখ্যা

ছয় দফা বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় যে, এর মূল উদ্দেশ্য ছিল পূর্ণ প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন প্রতিষ্ঠা। অগণতান্ত্রিক শাসন যেন আর প্রতিষ্ঠিত হতে না পারে সেজন্য প্রথম দফাতে বলা হয়েছিল, "লাহোর প্রস্তাবভিত্তিক সংসদীয় ও যুক্তরাষ্ট্রীয় সরকার প্রতিষ্ঠ করা হবে।" অর্থনৈতিক শোষণ ও মুদ্রা পাচার রোধের জন্য তৃতীয় দফায় দুটি মুদ্রার কথা কিংবা একই মুদ্রাসহ কার্যক সাংবিধানিক বিধিনিষেধ আরোপের কথা বলা হয়েছিল। ৪র্থ দফায় পাকিস্তানের সকল প্রদেশকে বাণিজ্যিক অধিকার প্রদানের দাবি করা হয়েছিল। ষষ্ঠ দাবি ছিল আঞ্চলিক সেনাবাহিনী গঠনের। এ দাবি উত্থাপন করার প্রয়োজন দেখা দিত না যদি পাকিস্তান সরকার সামরিক ক্ষেত্রে বাঙালিদেরকে অরক্ষিত এবং চরম অসহায় পর্যায়ে ঠেলে না দিত।
তথ্যসূত্রঃ পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র, প্রফেসর মো মোজাম্মেল হক 

২০.
১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে জাতীয় পরিষদের মোট কয়টি আসনের জন্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়?
  1. ২০০
  2. ২৩৭
  3. ৩০৯
  4. ৩১৩
ব্যাখ্যা

জাতীয় পরিষদ ৩০০ জন নির্বাচিত এবং ১৩ জন মনোনীত মহিলা সদস্যসহ সর্বমোট ৩১৩ জন সদস্যের সমন্বয়ে গঠিত হবে। এই ৩১৩টি আসনের মধ্যে জনসংখ্যা অনুপাতে পূর্ব পাকিস্তান পাবে ১৬৯টি আসন। পাকিস্তানের উভয় অংশে প্রাদেশিক পরিষদের আসন থাকবে ৩০০টি।
তথ্যসূত্রঃ পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র, প্রফেসর মো মোজাম্মেল হক
পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র, অধ্যাপক বদর উদ্দিন আহমদ

২১.
১৯৬২ সালের সংবিধানে কোনটি গুরুত্ব পায়?
  1. স্থানীয় সরকারের ক্ষমতা 
  2. সংসদের ক্ষমতা
  3. বিচার বিভাগের ক্ষমতা 
  4. রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা
ব্যাখ্যা

১৯৬২ সালের সংবিধানে প্রাদেশিক শাসন ব্যবস্থাকে প্রত্যক্ষভাবে নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা প্রেসিডেন্টের হাতে ন্যস্ত ছিল। মোটের উপর প্রেসিডেন্ট ছিলেন প্রভৃত ক্ষমতার অধিকারী।

প্রথম, 'তিনি দেশের শাসন ব্যবস্থার মূলনীতি নির্ধারণ করতেন।

দ্বিতীয়, শাসন বিভাগীয় কর্মচারীদের নিযুক্ত করতেন এবং প্রয়োজনবোধে তাদের বরখাস্ত করতে পারতেন।

তৃতীয়, তিনি দেশের অর্থনৈতিক নীতি নির্ধারণ করতেন।

চতুর্থ, তিনি বৈদেশিক সম্পর্ক পরিচালনা করতেন এবং দেশের পররাষ্ট্রনীতি নির্ধারণ করতেন।

পঞ্চম, আইন প্রণয়ন বিষয়ে তিনি নেতৃত্বদান করতে পারতেন।

সর্বশেষে, শাসন সংক্রান্ত সকল বিষয়ে সমস্যা সমাধান করতে পারতেন।

তথ্যসূত্রঃ রাষ্ট্রবিজ্ঞানের কথা, ড: এমাজউদ্দীন আহমদ 

২২.
১৯৬২ সালের সংবিধানের বৈশিষ্ট্য ছিল-
  1. রাষ্ট্রপতি শাসিত
  2. গণভোট
  3. ইসলামি ব্যবস্থা 
  4. সবগুলো
ব্যাখ্যা

- ১৯৬২ সালের এই সংবিধানে ইসলামী নীতির উপর রাষ্ট্রকে প্রতিষ্ঠিত করার প্রচেষ্টা গ্রহণ করা হয়। ইসলামী ব্যবস্থাসমূহ এই সংবিধানের অন্যতম বৈশিষ্ট্য।
- এই সংবিধানে যুক্তরাষ্ট্রীয় সরকার প্রবর্তিত হয়। পূর্ব পাকিস্তান ও পশ্চিম পাকিস্তান এ দু প্রদেশের সমন্বয়ে পাকিস্তান যুক্তরাষ্ট্র গঠিত হয়। প্রাদেশিক ও কেন্দ্রীয়-এ দু প্রকার সরকার গঠিত হয়।
- সংবিধানে গণভোট পদ্ধতির প্রবর্তন করা হয়। এটিও সংবিধানের একটি উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য। প্রেসিডেন্ট ও জাতীয় পরিষদের মধ্যে কোন সময়ে কোন বিষয়ে মতানৈক্য দেখা দিলে বিষয়টিকে গণভোটে পেশ করার ব্যবস্থা করা হয়েছিল এবং তার ফলাফল উভয়ে মানতে বাধ্য থাকতেন।

তথ্যসূত্রঃ রাষ্ট্রবিজ্ঞানের কথা- এমাজউদ্দীন আহমদ 

২৩.
১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের ফলে জন্ম নেয়-
  1. সামাজিক চেতনা
  2. মুক্তিযুদ্ধ
  3. ভাষাভিত্তিক জাতীয়তাবাদ 
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা

ভাষা আন্দোলনের মাধ্যমে পূর্ব বাংলার বিভিন্ন শ্রেণীর জনসাধারণ-কৃষক-শ্রমিক, ছাত্র-জনতা, বুদ্ধিজীবী এক পংক্তিতে দণ্ডায়মান হন এবং এই আন্দোলনের মাধ্যমে পূর্ব বাংলায় ভাষাভিত্তিক জাতীয়তাবাদের (Linguistic Nationalism) জন্ম হয়। এই জাতীয়তাবাদই বহু চড়াই উৎরাই অতিক্রম করে একাত্তরের রক্ত ঝরা দিনগুলোতে পূর্ণাঙ্গ জাতীয়তাবাদে রূপলাভ করে।
তথ্যসূত্রঃ রাষ্ট্রবিজ্ঞানের কথা- ড এমাজউদ্দীন আহমদ 

২৪.
ছয়দফার প্রধান দাবী কী ছিল?
  1. সামরিক শাসন
  2. কেন্দ্রিয় শাসন
  3. স্বায়ত্তশাসন 
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা

ছয় দফার প্রধান দাবি ছিল মূলত পূর্ণ ও কার্যকর প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসনের দাবি। পূর্ব বাংলার জনগণের প্রাণের দাবি।
ছয়-দফা কর্মসূচির লক্ষ্য ছিল ত্রিবিধ। প্রথম, রাজনৈতিক ক্ষেত্রে এই কর্মসূচী পাকিস্তানে এক রাষ্ট্র-সমবায় (Confederal System) গঠনে প্রয়াসী ছিল। দ্বিতীয়, অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে তা বাংলার সম্পদ বাঙালী নেতৃবর্গের হাতে ন্যস্ত করতে উদ্যত হয়। তৃতীয়, সামরিক ক্ষেত্রে এই কর্মসূচী পূর্ববাংলাকে স্বয়ং সম্পূর্ণ করতে চেয়েছিল।
তথ্যসূত্রঃ রাষ্ট্রবিজ্ঞানের কথা- ড এমাজউদ্দিন আহমদ 

২৫.
১৯৬৯ সালের ১১ দফার প্রথমি দফায় কোনটি ছিল?
  1. পার্লামেন্টারি গণতন্ত্র
  2. প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন 
  3. শিক্ষা সমস্যার সমাধান 
  4. আগরতলা মামলায় আটককৃতদেরি মুক্তি
ব্যাখ্যা

ঐতিহাসিক আগরতলা মামলার প্রধান আসামি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ অন্যান্য রাজনৈতিক নেতার মুক্তির দাবিতে ছাত্রসমাজ প্রতিবাদমুখর হয়ে ওঠে। এক পর্যায়ে তারা ১১ দফা দাবি নিয়ে মাঠে নামে। পূর্ব পাকিস্তানের ছাত্রসমাজ ১১ দফা দাবিতে সর্বাত্মক ও অপ্রতিরোধ্য আন্দোলন গড়ে তোলে এবং তারাই এতে নেতৃত্ব দেয়। ১৯৬৯ সালের জানুয়ারি মাসে 'সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ' ছাত্রদের এ ১১ দফা দাবি প্রকাশ করে। ১১ দফা দাবির প্রথম দফায় শিক্ষা সমস্যার আশু সমাধান দাবি করে প্রস্তাব পেশ করা হয়। 
[পৌরনীতি ও সুশাসন, ২য় পত্র, বদরউদ্দিন আহমদ]

২৬.
'জননিরাপত্তা আইন' অনুসারে গ্রেফতার করা হয়-
  1. সিরাজুল আলম খান
  2. আব্দুর রাজ্জাক
  3. হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী 
  4. কেউই নয়
ব্যাখ্যা

NDF-এর সরকার বিরোধী তথা গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে পরিচালিত কর্মকাণ্ড রাজনীতি সচেতন মানুষকে অগ্র ও আশাবাদী করে তোলে। NDF-এর স্বপ্নদ্রষ্টা ও মূল নেতা ছিলেন হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী। NDF গঠিত হলে প্রেসিডেন্ট জেনারেল আইয়ুব খান ভীত ও বিচলিত হয়ে পড়েন। এজন্যই NDF গঠনের মাত্র এক সপ্তাহ পর করাচিতে সোহরাওয়াদীতে 'জননিরাপত্তা আইনে' গ্রেপ্তার করা হয়। সোহরাওয়ার্দী এ সময় ছিলেন খুবই জনপ্রিয় নেতা। তাঁকে গ্রেপ্তার করায় সমগ্র পাকিস্তানে বিশেষ করে পূর্ব পাকিস্তানের মানুষ বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। এ সময় প্রেসিডেন্ট জেনারেল আইয়ুব খান ঢাকা সফ্যা এলে বিক্ষুব্ধ ছাত্রজনতা তার বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরু করে। আইয়ুব খান 'জননিরাপত্তা অর্ডিন্যান্স' জারি করে নির্মমভাবে। আন্দোলন দমনের চেষ্টা চালান। শেখ মুজিবুর রহমান, আবুল মনসুর আহমদ, কফিলউদ্দিন চৌধুরী, সৈয়দ আলতাফ হোসেন। তাজউদ্দিন আহমদ, কোরবান আলী প্রমুখ প্রগতিশীল রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং প্রখ্যাত সাংবাদিক তোফাজ্জল হোসেন (মানিক মিয়া), প্রখ্যাত ছাত্রনেতা কাজী জাফর আহমেদ প্রমুখ আইয়ুব খানের দমননীতির শিকার হন এবং বিনা বিচারে কারারুদ্ধ হন।
তথ্যসূত্রঃ পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র, প্রফেসর মো: মোজাম্মেল হক

২৭.
আইয়ুব সরকার 'ইত্তেফাক' পত্রিকা নিষিদ্ধ ঘোষণা করে-
  1. ১৬ মে ১৯৬৬
  2. ১৬ জুন ১৯৬৬
  3. ১৬ জুলাই ১৯৬৭
  4. ১৬ মে ১৯৬৮
ব্যাখ্যা

৮ মে শেখ মুজিবুর রহমান ও আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরূপ অন্যায়ভাবে হয়রানির বিরুদ্ধে ১৯৬৬ সালের ৭ জুন প্রদেশব্যাপী হরতাল আহ্বান করা হয়। ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে জনগণ স্বতঃস্ফূর্তভাবে ছিয় দফার সপক্ষে সভা ও শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণ করে। এ আন্দোলনে প্রায় এক হাজার আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মী গ্রেপ্তার হন। এদিন পুলিশের গুলিতে ১২ জন নিহত এবং শত শত লোক আহত হয়। ১৬ জুন আইয়ুব সরকার 'ইত্তেফাক' পত্রিকা নিষিদ্ধ ঘোষণা করে এবং এর সম্পাদক তোফাজ্জল হোসেন (মানিক মিয়া)-কে গ্রেপ্তার করেন। কিন্তু শত চেষ্টা করেও সরকার এ আন্দোলন  দমন করতে ব্যর্থ হয়।

তথ্যসূত্রঃ পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র, প্রফেসর মো মোজাম্মেল হক 

২৮.
মুক্তিযুদ্ধের সময় 'আফসার ব্যাটালিয়ন' কোন অঞ্চলে যুদ্ধ করে?
  1. পাবনা
  2. রাজশাহী
  3. রংপুর
  4. ময়মনসিংহ
ব্যাখ্যা

আঞ্চলিক বাহিনী:
- ময়মনসিংহের দক্ষিণাঞ্চলে মেজর আফসারউদ্দিন আহমেদের নেতৃত্বে গঠিত হয় অনিয়মিত আফসার বাহিনী।
- এ বাহিনীর যুদ্ধক্ষেত্র ছিল —দক্ষিণ ময়মনসিংহের ভালুকা, ত্রিশাল, ফুলবাড়ীয়া ও গফরগাঁও; টাঙ্গাইল জেলার কালিহাতী, ঘাটাইল ও সখিপুর এবং বর্তমান গাজীপুর জেলার শ্রীপুর ও কালিয়াকৈর থানার বিস্তীর্ণ এলাকা। 

এছাড়াও,
- কাদেরিয়া বাহিনী (টাঙ্গাইল)।
- বাতেন বাহিনী (টাঙ্গাইল)।
- হেমায়েত বাহিনী (গোপালগঞ্জ, বরিশাল)।
- হালিম বাহিনী (মানিকগঞ্জ)।
- আকবর বাহিনী (মাগুরা)।
- লতিফ মীর্জা বাহিনী (সিরাজগঞ্জ, পাবনা)।
- জিয়া বাহিনী (সুন্দরবন)।
- এছাড়া ছিল ঢাকার গেরিলা দল, যা 'ক্র্যাক প্লাটুন' নামে পরিচিত।
- ঢাকা শহরের বড় বড় স্থাপনা, বিদ্যুৎ কেন্দ্র, হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল, ব্যাংক ও টেলিভিশন ভবনে বোমা বিস্ফোরণ ঘটায় ঢাকার গেরিলারা।

সূত্র - বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, অষ্টম শ্রেণি এবং সংগ্রাম নোটবুক।

২৯.
শরিফ কমিশনের শিক্ষা প্রতিবেদন প্রকাশিত হয় কোন সালে?
  1. ১৯৬৪ সাল
  2. ১৯৫৬ সাল
  3. ১৯৬২ সাল
  4. ১৯৬৫ সাল
ব্যাখ্যা

১৯৬২ সালের আগস্টে শরিফ কমিশনের শিক্ষা-সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে ছাত্রসমাজের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
- এই প্রতিবেদনের সুপারিশ শিক্ষার্থীদের ক্ষতির কারণ হতে পারে এমন আশঙ্কায় ছাত্ররা আন্দোলনে নেমে পড়ে।
- ১৫ আগস্ট থেকে ১০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত টানা মিছিল ও বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। ১৭ সেপ্টেম্বর হরতাল চলাকালে পুলিশের গুলিতে কয়েকজন নিহত ও বহু আহত হয়।
- এর ফলে সরকার শরিফ কমিশনের সুপারিশ স্থগিত করতে বাধ্য হয় এবং ছাত্ররা আইয়ুববিরোধী আন্দোলনের শক্তিশালী অংশে পরিণত হয়।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম ও দশম শ্রেণি।

৩০.
'জুলুম প্রতিরোধ দিবস' পালিত হয় কোন তারিখে?
  1. ২১শে ফেব্রুয়ারি
  2. ৭ই মার্চ
  3. ৬ই ডিসেম্বর
  4. ২৬শে মার্চ
ব্যাখ্যা

১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান:
- ১৯৬৮ সালের নভেম্বর মাসে ছাত্র অসন্তোষের মাধ্যমে যে আন্দোলনের সূচনা হয়, তা অল্প সময়ের মধ্যেই শ্রমিক, কৃষক ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে।
- পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আইয়ুব খানের স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে এই আন্দোলন দ্রুত দুর্বার রূপ নেয় এবং ইতিহাসে উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান নামে পরিচিত হয়।
- পূর্ব পাকিস্তানের প্রতি বৈষম্য, নিপীড়ন ও বঞ্চনার কারণে মানুষের মাঝে দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা ক্ষোভ এই আন্দোলনে নতুন মাত্রা যোগ করে।
- মওলানা ভাসানীর নেতৃত্বে এই আন্দোলন আরও জোরদার হয়।
- ৬ই ডিসেম্বর ‘জুলুম প্রতিরোধ দিবস’ পালন উপলক্ষে ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি, শ্রমিক ফেডারেশন ও কৃষক সমিতি পল্টন ময়দানে বিশাল জনসভার আয়োজন করে।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম ও্র দশম শ্রেণি।

৩১.
ভাষা আন্দোলনের সময় অধ্যাপক আবুল কাশেম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোন বিভাগের অধ্যাপক হিসেবে নিয়োজিত ছিলেন?
  1. রসায়ন বিজ্ঞান
  2. পদার্থ বিজ্ঞান
  3. গণিত
  4. জীববিজ্ঞান
ব্যাখ্যা

১৯৪৭ সালের ১৫ই সেপ্টেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আবুল কাশেমের নেতৃত্বে ভাষা আন্দোলনের প্রথম সংগঠন ‘তমুদ্দুন মজলিস’ গঠিত হয়। ‘তমুদ্দুন মজলিস’ ভাষা আন্দোলনের প্রথম সংগঠন হিসেবে পরিচিত। এই সংগঠন ভাষা আন্দোলনের প্রথম পুস্তিকা ‘পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা বাংলা না উর্দু’ প্রকাশ করে। পুস্তিকায় রাষ্ট্রভাষা বাংলা করার পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করা হয়।

৩২.
সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ’ গঠিত হয় কবে? 
  1. ৪ জানুয়ারী ১৯৬৯
  2. ১১ জানুয়ারী ১৯৬৯
  3. ৫ ডিসেম্বর ১৯৬৮
  4. ২২ ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯
ব্যাখ্যা

১৯৬৯ সালের ৪ জানুয়ারি ডাকসু ভবনে ছাত্রলীগ, ছাত্র ইউনিয়ন (মতিয়া), ছাত্র ইউনিয়ন (মেনন) ও ডাকসু'র উদ্যোগে সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয়। এর নেতৃত্বে ছিলেন তৎকালীন ডাকসু ভিপি তোফায়েল আহমেদ। এই পরিষদের পক্ষ থেকে ১১ দফা দাবি উত্থাপন করা হয়। সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের প্রবল আন্দোলনে ১৯৬৯ সালের ২২ শে ফেব্রুয়ারি আইয়ুব খান বঙ্গবন্ধুকে মুক্তি দিতে বাধ্য হন এবং ২৫ শে মার্চ ১৯৬৯ আইয়ুব খান পদত্যাগে বাধ্য হন।
(সূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী)

৩৩.
সমগ্র বাংলাদেশকে ১১ টি সেক্টরে বিভক্ত করা হয় কবে?
  1. ১০ এপ্রিল
  2. ১১ এপ্রিল
  3. ১৭ এপ্রিল
  4. ১০ মে
ব্যাখ্যা

১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল অস্থায়ী প্রবাসী সরকার গঠিত হয়। এ সরকার প্রথমে ১০ এপ্রিল সমগ্র দেশকে ৪ টি সেক্টরে ভাগ করে। ১১ এপ্রিল তা পুর্নগঠন করে ১১ টি সেক্টরে বিভক্ত করা হয়। এছাড়া তিনটি বিগ্রেড ফোর্স গঠন এবং ১১ টি সেক্টরকে ৬৪ টি সাব সেক্টরে বিভক্ত করা হয়।
(সূত্র: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী)

৩৪.
মুক্তিযুদ্ধের সময় কোন দেশটি বাংলাদেশকে সমর্থন প্রদান করে?
  1. ইরাক
  2. মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র
  3. চীন
  4. সৌদি আরব
ব্যাখ্যা

১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় ভারত, সোভিয়েত ইউনিয়ন ও অন্যান্য সমাজতান্ত্রিক দেশগুলো মুক্তিযুদের পক্ষে সমর্থন জানায়। অন্যদিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, চীন, সৌদি আরব, ইরান প্রভৃতি দেশ বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করে। মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে ইরাক মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে সমর্থন জানায়। পশ্চিমা দেশগুলোর গণমাধ্যমসমূহ মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে সোচ্চার ভূমিকা পালন করে। জাতিসংঘ কার্যকর ভূমিকা গ্রহণে ব্যর্থ হয়।
 (সূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী)

৩৫.
পাকবাহিনীর গণহত্যার খবর বহির্বিশ্বে প্রথম কে তুলে ধরেন?
  1. সাইমন ড্রিং
  2. অ্যান্থনি মাসকারেনহাস
  3. ডেভিট ফ্রস্ট
  4. অ্যালেন গিন্সবার্গ
ব্যাখ্যা

১৯৭১ সালে অপারেশন সার্চ লাইটের সময় ব্রিটেনের ডেইলি টেলিগ্রাফ পত্রিকার সাংবাদিক সাইমন ড্রিং ঢাকা ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে গোপনে অবস্থান করে পাকবাহিনীর ধ্বংসযজ্ঞ প্রত্যক্ষ করেন। পরে ৩০ মার্চ টেলিগ্রাফ পত্রিকায় 'ট্যাংকস ক্র্যাশ রিভোল্ড ইন পাকিস্তান' শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশ করে সর্বপ্রথম পাকবাহিনীর হত্যাযজ্ঞের খবর বহির্বিশ্বে প্রচার করেন। এ ঘটনার পর তাকে ঢাকা ছাড়তে হয়। পরবর্তীতে ১৬ ডিসেম্বর মিত্রবাহিনীর ট্যাংকে চড়ে তিনি ঢাকা প্রবেশ করেন।
(সূত্রঃ দৈনিক প্রথম আলো)

৩৬.
মুক্তিযুদ্ধের সময় 'বাংলাদেশ ফিল্ড হাসপাতাল' কত নং সেক্টরে অবস্থিত ছিল?
  1. ২ নং
  2. ৪ নং
  3. ১০ নং
  4. ১১ নং
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশ ফিল্ড হাসপাতাল:
- মহান মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন আহত মুক্তিযোদ্ধাদের চিকিৎসায় গড়ে উঠেছিল ফিল্ড হাসপাতাল।
- বাংলাদেশ হাসপাতাল নামে পরিচিত ওই চিকিৎসাকেন্দ্র।
- মুক্তিযুদ্ধের সময় 'বাংলাদেশ ফিল্ড হাসপাতাল' ২ নং সেক্টরে অবস্থিত ছিল।
উৎস: বাংলাপিডিয়া

৩৭.
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকালীন দিল্লীতে কর্মরত প্রবাসী বাঙালি কূটনীতিক ছিলেন -
  1. হোসেন আলী
  2. আবুল হাসান মাহমুদ আলী
  3. আবুল মাল আব্দুল মুহিত
  4. হুমায়ুন রশিদ চৌধুরী
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে বিদেশের দূতাবাসসমূহে কর্মরত বাঙালি কূটনীতিকবৃন্দের পাকিস্তানের পক্ষ ত্যাগ করে বাংলাদেশের মুক্তিসংগ্রামের প্রতি সমর্থন ব্যক্ত করেন।
- তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন: কোলকাতার পাকিস্তানী ডেপুটি হাই কমিশনের হোসেন আলী এবং অন্যান্য বাঙালি স্টাফ (১৮.০৪.৭১), নিউইয়র্কে পাকিস্তান কনসুলেট জেনারেলের ভাইস কনসাল আবুল হাসান মাহমুদ আলী (২৬.০৪.৭১), লন্ডনস্থ পাকিস্তান হাই কমিশনের দ্বিতীয় সেক্রেটারি মহিউদ্দিন আহমদ (১.০৮.৭১), ওয়াশিংটনে পাকিস্তানী দূতাবাসে ইকনমিক কাউন্সিল পদে কর্মরত আবুল মাল আব্দুল মুহিত (১.০৮.৭১), আবুল ফতেহ (ইরাকে কর্মরত ২১.০৮.৭১), হুমায়ুন রশিদ চৌধুরী (দিল্লীতে কর্মরত, ৪.১০.৭১), আবদুল মোমিন (আর্জেন্টিনায় কর্মরত, ১১.১০.৭১), ওয়ালিউর রহমান (সুইজারল্যান্ডে কর্মরত, ০৩.১১.৭১) প্রমুখ।
উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।