পরীক্ষা আর্কাইভ

ডেইলি কুইজ [২০০ দিন]

পরীক্ষাডেইলি কুইজ [২০০ দিন]তারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়09 minutes
মোট প্রশ্ন১৩
সিলেবাস
[For iPad Mania] --------------------------- বিষয় - বাংলা ভাষা ও ব্যাকরণ টপিক - শব্দ প্রকরণ [প্রকৃতি - প্রত্যয়; ক্রিয়ার কাল ও এর প্রয়োগ] উৎস: অষ্টম শ্রেণি ও মাধ্যমিক বাংলা ব্যাকরণ বোর্ড বই (NCTB ও উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়), বাংলা একাডেমির অভিধান অথবা যেকোনো স্কলার (যেমন: ড. হায়াৎ মামুদ)-এর বই। (ব্যাকরণ - এর ক্ষেত্রে গাইড থেকে পড়াশুনা করলে, বিতর্কিত বিষয়গুলো বোর্ড বই ও বাংলা একাডেমি অভিধান থেকে ক্রসচেক করে নিলে উত্তম হবে।)
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

ডেইলি কুইজ [২০০ দিন]

ডেইলি কুইজ [২০০ দিন] · তারিখ অনির্ধারিত · ১৩ প্রশ্ন

.
নিচের কোনটি তদ্ধিত প্রত্যয় সাধিত শব্দ?
  1. খেলনা
  2. গন্তব্য
  3. সাহিত্যিক
  4. চিরুনি
ব্যাখ্যা
• প্রত্যয়: 
- শব্দ ও ধাতুর পরে অর্থহীন যেসব শব্দাংশ যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ তৈরি হয়, সেগুলােকে প্রত্যয় বলে।

• তদ্ধিত প্রত্যয়: 
শব্দের পরে যেসব প্রত্যয় যুক্ত হয়, সেগুলােকে তদ্ধিত প্রত্যয় বলে।
- তদ্ধিত প্রত্যয় দিয়ে সাধিত শব্দকে বলে তদ্ধিতান্ত শব্দ।
যেমন,
সাহিত্যিক= সাহিত্য + ইক।

• কৃৎপ্রত্যয়: 
ধাতুর পরে যেসব প্রত্যয় যুক্ত হয়, সেগুলােকে কৃৎপ্রত্যয় বলে। 
- কৃপ্রত্যয় দিয়ে সাধিত শব্দকে বলে কৃদন্ত শব্দ।
যেমন,
√ খেল্‌ + অনা = খেলনা।
√ গম্‌ + তব্য + গন্তব্য।
√ চির্‌ + অনি = চিরুনি। 

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি- ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন।
.
'আমি আপনার আশায় সংবাদটি পৌঁছে দিব।'- ক্রিয়ার কোন কাল নির্দেশ করেছে?
  1. সাধারণ ভবিষ্যৎ কাল
  2. ঘটমান ভবিষ্যৎ কাল
  3. পুরাঘটিত ভবিষ্যৎ কাল
  4. ভবিষ্যৎ অনুজ্ঞা
ব্যাখ্যা
• ভবিষ্যৎ কাল:
যে ক্রিয়া ভবিষ্যতে সঙ্ঘটিত হবে তার কালকে ভবিষ্যৎ কাল বলে। যেমন - অয়ন গোসল করবে।

ভবিষ্যৎ কাল চেনার উপায়:
ক্রিয়ার শেষে বে, ব, বা, বেন, তে থাকিবে, তে থাকিবা, যা থাকিব, যা থাকিবা যোগ হয়। যেমন - করিব, করিবে, করিবেন, খাইতে থাকব, যাইবে, যাইতে থাকিব, যাইয়া থাকিব।

মাধ্যমিক বাংলা ব্যাকরণ পুরাতন সংস্করণ অনুসারে,

পুরাঘটিত ভবিষ্যৎ কাল:
পুরাঘটিত ভবিষ্যৎ কালের অর্থ প্রকাশের জন্য মূল ধাতুর সঙ্গে অসমাপিকা ক্রিয়া বিভক্তি- ইয়া/ এ যোগ করে এবং ধাতুর সঙ্গে সাধারণ ভবিষ্যতের ক্রিয়াবিভক্তি যুক্ত করে যৌগিক ক্রিয়াপদ তৈরি হয়।
যে বাক্যে ভবিষ্যৎ কালে ক্রিয়াটি সংঘটিত হবে এবং শেষ হয়ে থাকবে বোঝায় তা পুরাঘটিত ভবিষ্যৎ কাল। 
তাই এটা পুরাঘটিত ভবিষ্যৎ কাল হবে।
অন্যদিকে, সাধারণ ভবিষ্যৎ কাল:
যে ক্রিয়া ভবিষ্যতে বা পরে সংঘঠিত হবে তাই সাধারণ ভবিষ্যৎ কাল।
যেমন- আমি ভাত খাব। রানা স্কুলে যাবে।
বাংলা একাডেমি প্রমিত বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (১ম খণ্ড) অনুসারে,

পুরাঘটিত ভবিষ্যতের অর্থ বাংলায় ঠিক নির্মিত হয়না।
'বলে থাকব, খেয়ে থাকব, পড়ে থাকব'- ইত্যাদি প্রয়োগ খানিকটা সংশয়বাচক অর্থ প্রকাশ করবে।
এ থেকে বোঝা যায়- পুরাঘটিত ভবিষ্যৎ কালে এ ধরনের 'বলে থাকব, খেয়ে থাকব, পড়ে থাকব' শব্দ ব্যবহৃত হয়।
অন্যদিকে, সাধারণ ভবিষ্যৎ কালে 'যাব, শুনব' এ ধরনের শব্দ ব্যবহৃত হয় এবং কোন নিজস্ব বিভক্তি যুক্ত হয়না।
 
সে হিসাবে 'আমি আপনার আশায় সংবাদটি পৌঁছে দিব' বাক্যটি সাধারণ ভবিষ্যৎ কাল।
(প্রশ্নটি প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি ড. হায়াৎ মামুদের বই থেকে হুবুহু করা হয়েছিল। )

ভবিষ্যৎ কালের চারটি রূপ যথা-

• সাধারণ ভবিষ্যৎ কাল:
যে কাজ হয়নি, ভবিষ্যতে হবে তার কালকে সাধারণ ভবিষ্যৎ কাল বলে।
যেমন:
- ঐশী গান গেয়ে শোনাবে।
- ভাত খাব।

• ঘটমান ভবিষ্যৎ কাল:
যে ক্রিয়া ভবিষ্যতে আরম্ভ হয়ে চলতে থাকবে এমন বোঝায় তাকে ঘটমান ভবিষ্যৎ কাল বলে।
যেমন:
- আমি হাঁটতে থাকব।
- তোমরা গান গাইতে থাকবে।

• পুরাঘটিত ভবিষ্যৎ কাল :
ভবিষ্যৎ কালে কোনো ক্রিয়া সংঘটিত হবে এবং শেষ হয়ে থাকবে, এরূপ বোঝালে তার কালকে পুরাঘটিত ভবিষ্যৎ কাল বলে।
যেমন:
- আমার কথা হয়তো মনে পড়ে থাকবে।

• ভবিষ্যৎ অনুজ্ঞা :
ভবিষ্যতে কোনো কাজ করার জন্য আদেশ, উপদেশ, অনুরোধ, প্রার্থনা ইত্যাদি বোঝালে ভবিষ্যৎ অনুজ্ঞা হয়।
যেমন:
- ক্লাসে সবসময় মনোযোগ দেবে
- প্রত্যহ ভোরে ঘুম থেকে উঠবে।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যকরণ ও নির্মিতি - ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন।
.
ঘটমান বর্তমান কালের উদাহরণ কোনটি?
  1. ক) আমি রোজ স্কুলে যাই।
  2. খ) ইভা গান গাইছে।
  3. গ) আমি অঙ্কটি করেছি।
  4. ঘ) আমরা স্কুলে এসেছি।
ব্যাখ্যা
ঘটমান বর্তমান কাল:
যে কাজ শেষ হয়নি, এখনও চলছে, সে কাজ বোঝানোর জন্য ঘটমান বর্তমান কাল ব্যবহৃত হয়,
যথা:
- আরিফ বই পড়ছে।
- ইভা গান গাইছে।
- আমি স্কুলে যাচ্ছি।
- আমাদের পরীক্ষা চলছে।

অন্যদিকে,
'আমি রোজ স্কুলে যাই।'- সাধারণ বর্তমান কালের উদাহরণ।  
‘আমি অঙ্কটি করেছি।‘, আমরা স্কুলে এসেছি।' পুরাঘটিত বর্তমানের উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
.
প্রত্যয় শব্দের কোথায় বসে?
  1. ক) পূর্বে
  2. খ) মাঝে
  3. গ) শেষে
  4. ঘ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
• প্রত্যয়: 
- শব্দ ও ধাতুর পরে অর্থহীন যেসব শব্দাংশ যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ তৈরি হয়, সেগুলােকে প্রত্যয় বলে।

• কৃৎ প্রত্যয়:
যে-প্রত্যয় ধাতুর সঙ্গে যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ গঠন করে তাকে কৃৎ-প্রত্যয় বলে।
আর কৃৎ প্রত্যয়ান্ত শব্দকে বলে কৃদন্ত শব্দ। (অর্থাৎ যার অন্তে বা শেষে কৃৎ প্রত্যয় আছে) ।
যেমন: পডু + আ = পড়া। এখানে পড়া’ শব্দটি কৃদন্ত শব্দ। কৃৎ প্রত্যয়ে ধাতুর আগে ক্রিয়ামূল বা ধাতুমূল চিহ্ন √ বসে।
- ‘আভাসিত’ শব্দটির প্রত্যয় বিশ্লেষণ: আ + √ ভাসি + ত। 

তদ্ধিত প্রত্যয়:
শব্দের পরে যেসব প্রত্যয় যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ তৈরি হয় তাকে বলে তদ্ধিত প্রত্যয়।
যেমন, মধুর+ষ্ণ = মাধুর্য , - এখানে 'ষ্ণ' প্রত্যয় যোগে নতুন শব্দ তৈরি হয়েছে। 

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান, প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি- ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন। 
.
নিচের কোন প্রকৃতি- প্রত্যয় সঠিক নয়?
  1. √ পূজি + ণক = পূজক
  2. √ চল + ণক = চালক
  3. √ জনি + ণক = জনক;
  4. সত্য + √ বদ + ইন্‌ = সত্যবাদী
ব্যাখ্যা
• চালক এর সঠিক প্রকৃতি- প্রত্যয়: √ চালি + ণক/অক = চালক। 

• ণক প্রত্যয় পরে থাকলে ণিজন্ত ধাতুর ই- কারের লোপ হয়।
যেমন-
√ জনি + ণক = জনক; 
√ পূজি + ণক = পূজক;
√ চালি + ণক/অক = চালক;

• সত্য + √ বদ + ইন্‌ = সত্যবাদী কৃৎ প্রত্যয় সাধিত শব্দ। 

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি - ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন, বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
.
নিচের কোন শব্দে নিন্দা জ্ঞাপনে আমি বা আমো প্রত্যয় যুক্ত হয়েছে?
  1. ক) ঠকামো
  2. খ) জেঠামি
  3. গ) চোরামি
  4. ঘ) ইতরামি
ব্যাখ্যা
• 'জেঠা + আমি = জেঠামি' শব্দে নিন্দা জ্ঞাপনে আমি প্রত্যয় যুক্ত হয়েছে।

• আমি/ আম/ আমো/ মি- প্রত্যয়: 
(ক) ভাব অর্থে: ইতর + আমি= ইতরামি, চোর + আমি = চোরামি। 
(খ) বৃত্তি বা ব্যবসায় অর্থে: ঠক + আমো = ঠকামো, ঘর +  আমি = ঘরামি। 
(ঘ) নিন্দা জ্ঞাপনে: জেঠা + আমি = জেঠামি, ছেলে + আমি = ছেলেমি। 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০১৯ ও ২০২২ সংস্করণ)।
.
ভাব অর্থে প্রত্যয়যুক্ত শব্দ নয় কোনটি?
  1. ক) শৈশব
  2. খ) গৌরব
  3. গ) কৈশোর
  4. ঘ) মানব
ব্যাখ্যা
• ভাব অর্থে ষ্ণ (অ) প্রত্যয়যুক্ত শব্দ:
- শিশু + ষ্ণ = শৈশব,
- গুরু + ষ্ণ = গৌরব,
- কিশোর + ষ্ণ = কৈশোর। 

• মনু + অ = মানব' অপত্য অর্থে ষ্ণ (অ) প্রত্যয়যুক্ত শব্দ।

• অ (ষ্ণ) - প্রত্যয়: বিভিন্ন অর্থে অ (ষ্ণ)- প্রত্যয় ব্যবহৃত হয়।

- অপত্য অর্থে : যদু + অ = যাদব, দনু + অ = দানব, পাণ্ডু + অ = পাণ্ডব, মনু + অ = মানব। 
- ভক্ত বা উপাসক অর্থে : শিব + অ = শৈব, শক্তি + অ = শাক্ত, বিষ্ণু + অ = বৈষ্ণব।
- রচিত অর্থে : ব্যাকরণ + অ = বৈয়াকরণ, স্মৃতি + অ = স্মার্ত।
- বিকার অর্থে : তিল + অ = তৈল, হেম + অ = হৈম।
- স্বভাব অর্থে : তপস + অ = তাপস, ছত্র + অ = ছাত্র।
- তৎ-সম্বন্ধীয় অর্থে : পৃথিবী + অ = পার্থিব, নিশা + অ = নৈশ।
- ভাবার্থে : মুনি + অ = মৌন, গুরু + অ = গৌরব, লঘু + অ = লাঘব।
- অবস্থা অর্থে : শিশু + অ = শৈশব, যুবন + অ = যৌবন।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি- ড. হায়াৎ মামুদ ও মোহাম্মদ আমীন, বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
.
নিচের কোন শব্দটি 'উয়া' প্রত্যয়যোগে গঠিত?
  1. ক) বাড়িওয়ালা
  2. খ) রিকশাওয়ালা
  3. গ) পড়ুয়া
  4. ঘ) সাপুড়িয়া
ব্যাখ্যা
•'পড়ুয়া' হচ্ছে কৃৎ প্রত্যয় সাধিত শব্দ যা ‘উয়া’ প্রত্যয় যোগে গঠিত। 

• ‘উয়া’ প্রত্যয় যোগে গঠিত শব্দ: 
- পড়ুয়া = পড়ু + উয়া (কৃৎপ্রত্যয়)।
- মাছোয়া = মাছ + উয়া (তদ্ধিতান্ত প্রত্যয়)।

• বাকি অপশনগুলো হচ্ছে-
- বাড়িওয়ালা = বাড়ি + ওয়ালা (তদ্ধিতান্ত প্রত্যয়)।
- রিক্সাওয়ালা = রিকশা + ওয়ালা (তদ্ধিতান্ত প্রত্যয়)।
- সাপুড়িয়া= উড়িয়া প্রত্যয়যোগে গঠিত শব্দ। 
 
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২২ সংস্করণ)। 
.
'কামাল পুরস্কার পেয়েছে।' কোন ধরনের বর্তমান কালের উদাহরণ?
  1. ক) ঘটমান বর্তমান কাল
  2. খ) পুরাঘটিত বর্তমান কাল
  3. গ) সাধারণ বর্তমান কাল
  4. ঘ) বর্তমান অনুজ্ঞা
ব্যাখ্যা
• ক্রিয়ার কাল:
ক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার সময়কে ক্রিয়ার কাল বলে। ক্রিয়ার কাল তিন প্রকার:
- বর্তমান কাল,
- অতীত কাল,
- ভবিষ্যৎ কাল।

• বর্তমান কাল:
বর্তমানে যে ক্রিয়া সম্পন্ন হয় তাকে বর্তমান কাল বলে।

• বর্তমান কাল চার প্রকার:
- সাধারণ বর্তমান,
- ঘটমান বর্তমান,
- পুরাঘটিত বর্তমান এবং
- অনুজ্ঞা বর্তমান।

• সাধারণ বর্তমান:
যে ক্রিয়া বর্তমান কালে নিয়মিতভাবে ঘটে, তাকে সাধারণ বর্তমান কাল বলে। যেমন -
- আমি স্কুলে যাই।
- সূর্য পূর্ব দিকে ওঠে।

• ঘটমান বর্তমান:
যে ক্রিয়া বর্তমানে চলছে বোঝায়, তাকে ঘটমান বর্তমান কাল বলে। যেমন -
- আমি স্কুলে যাচ্ছি।
- আমাদের পরীক্ষা চলছে।

• পুরাঘটিত বর্তমান:
এইমাত্র সম্পন্ন ক্রিয়ার কালকে পুরাঘটিত বর্তমান কাল বলে। যেমন -
- আমি অঙ্কটি করেছি।
- তারা বাড়িতে ফিরেছে।

• বর্তমান অনুজ্ঞা:
বর্তমানে কোনো ক্রিয়া সম্পাদনের আদেশ, উপদেশ, আশীবার্দ, অভিশাপ, অনুরোধ, প্রার্থনা প্রভৃতি বোঝানোর জন্য বর্তমান অনুজ্ঞা ব্যবহৃত হয়।

আদেশ অর্থে বর্তমান অনুজ্ঞার ব্যবহার হয়েছে- 
- হাতমুখ ধুয়ে পড়তে বসো।
- কাজটি তাড়াতাড়ি সম্পন্ন করো। 
 
অনুরোধ অর্থে বর্তমান অনুজ্ঞার ব্যবহার হয়েছে- 
- অনুগ্রহপূর্বক আমার কথাগুলো শুনুন। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি, ২০২২ সংস্করণ, প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি- ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন।
১০.
'বর্ষীয়ান' এর প্রকৃতি- প্রত্যয় কোনটি?
  1. ক) বৃদ্ধ +ঈয়স
  2. খ) বর্ষ + ইয়ান
  3. গ) বর্ষ + ইয়ন
  4. ঘ) বৃদ্ধ + ইয়স
ব্যাখ্যা
বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
'বর্ষীয়ান' এর প্রকৃতি- প্রত্যয়: 'বৃদ্ধ +ঈয়স'। 

• 'বর্ষীয়ান' এর অর্থ- প্রবীণ ও অভিজ্ঞ।  

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
১১.
'ঢাকাই' শব্দটি কীভাবে গঠিত হয়েছে?
  1. ক) সন্ধিযোগে
  2. খ) প্রত্যয়যোগে
  3. গ) সমাসযোগে
  4. ঘ) উপসর্গযোগে
ব্যাখ্যা
'ঢাকাই' শব্দটি প্রত্যয়যোগে সাধিত শব্দ। 
ঢাকা+আই = ঢাকাই। 

'আই' প্রত্যয়যোগে গঠিত তদ্ধিত শব্দ। 
- ঢাকা → ঢাকাই; 'জাত' অর্থে প্রকাশিত শব্দ। 

 আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি অনুসারে - ঢাকাই বাংলা শব্দ।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
১২.
নিচের কোন শব্দে বৃত্তি অর্থে 'ই/ঈ' প্রত্যয়যুক্ত হয়েছে?
  1. ক) বাহাদুরি
  2. খ) চাষি
  3. গ) জমিদারী
  4. ঘ) ভাগলপুরি
ব্যাখ্যা
বৃত্তি অর্থে 'ই/ ঈ' প্রত্যয়টি ব্যবহৃত হয়েছে- 'চাষি' শব্দে। 

• ভাব অর্থে :
বাহাদুর +ই = বাহাদুরি, উমেদার- উমেদারি।

• বৃত্তি বা ব্যবসায় অর্থে :
ডাক্তার-ডাক্তারি, মােক্তার-মােক্তারি, পােদ্দার-পােদ্দারি, ব্যাপার- ব্যাপারি, চাষ-চাষি।

• মালিক অর্থে :
জমিদার-জমিদারি, দোকান-দোকানি।

• জাত, আগত বা সম্বন্ধ বােঝাতে :
ভাগলপুর-ভাগলপুরি, মাদ্রাজ-মাদ্রাজি, রেশম-রেশমি, সরকার-সরকারি (সম্বন্ধ বাচক)।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ৯ম-১০ম শ্রেণি ( ২০১৯ সংস্করণ)।
১৩.
প্রত্যয়ের বৈশিষ্ট্যের ক্ষেত্রে কোনটি সঠিক নয়?
  1. ক) নিজস্ব কোনো অর্থ নেই।
  2. খ) প্রত্যয় যুক্ত হলে অর্থের পরিবর্তন হয়।
  3. গ) শব্দ ও ধাতুর পরে যুক্ত হয়।
  4. ঘ) শব্দের পরে প্রত্যয় যুক্ত হলে তাকে কৃৎপ্রত্যয় বলে।
ব্যাখ্যা
প্রত্যয়:
- নিজস্ব কোনো অর্থ নেই।
- প্রত্যয় যুক্ত হলে অর্থের পরিবর্তন হয়। 
- শব্দ ও ধাতুর পরে যুক্ত হয়। 
- শব্দের পরে যেসব প্রত্যয় যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ তৈরি হয় তাকে বলে তদ্ধিত প্রত্যয়।
- যে-প্রত্যয় ধাতুর সঙ্গে যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ গঠন করে তাকে কৃৎ-প্রত্যয় বলে।

তদ্ধিত প্রত্যয়:
শব্দের পরে যেসব প্রত্যয় যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ তৈরি হয় তাকে বলে তদ্ধিত প্রত্যয়।
যেমন, মধুর+ষ্ণ = মাধুর্য , - এখানে 'ষ্ণ' প্রত্যয় যোগে নতুন শব্দ তৈরি হয়েছে।

কৃৎ প্রত্যয়: 
যে-প্রত্যয় ধাতুর সঙ্গে যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ গঠন করে তাকে কৃৎ-প্রত্যয় বলে।
- আর কৃৎ প্রত্যয়ান্ত শব্দকে বলে কৃদন্ত শব্দ। (অর্থাৎ যার অন্তে বা শেষে কৃৎ প্রত্যয় আছে) ।
যেমন: পডু + আ = পড়া। এখানে পড়া’ শব্দটি কৃদন্ত শব্দ। কৃৎ প্রত্যয়ে ধাতুর আগে ক্রিয়ামূল বা ধাতুমূল চিহ্ন √ বসে। 
-------------------------------
তাই বলা যায় যে, 'শব্দের পরে প্রত্যয় যুক্ত হলে তাকে কৃৎপ্রত্যয় বলে।' বাক্যটি সঠিক নয়। 

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ, বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ ২০২১)।