পরীক্ষা আর্কাইভ

বাংলাবিদ (সাহিত্য)

পরীক্ষাবাংলাবিদ (সাহিত্য)তারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়07 minutes
মোট প্রশ্ন১৮
সিলেবাস
পরীক্ষা – ১৬ টপিক রিভিশন [পরীক্ষা: ১১ থেকে ১৫]
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলাবিদ (সাহিত্য)

বাংলাবিদ (সাহিত্য) · তারিখ অনির্ধারিত · ১৮ প্রশ্ন

.
'জন্ম যদি তব বঙ্গে' শওকত ওসমান রচিত কোন ধরনের সাহিত্যকর্ম?
  1. নাটক
  2. কাব্যগ্রন্থ
  3. উপন্যাস
  4. গল্পগ্রন্থ
সঠিক উত্তর:
গল্পগ্রন্থ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গল্পগ্রন্থ
ব্যাখ্যা
'জন্ম যদি তব বঙ্গে' গল্পগ্রন্থ:
- 'জন্ম যদি তব বঙ্গে' শওকত ওসমান রচিত একটি গল্পগ্রন্থ। ১৯৭৫ সালে গল্পগ্রন্থটি প্রথম প্রকাশিত হয়।
- এটি মুক্তিযুদ্ধ ও রাজনীতি বিষয়ক একটি গল্পগ্রন্থ।

-------------------
• শওকত ওসমান:
- কথাসাহিত্যিক শওকত ওসমান পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার সবল সিংহপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম 'শেখ আজিজুর রহমান'।

তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য সাহিত্যকর্মগুলো হলো-
• উপন্যাস:
- জননী (প্রথম প্রকাশিত)
- চৌরসন্ধি,
- সমাগম,
- রাজা উপাখ্যান,
- পতঙ্গ পিঞ্জর,
- রাজসাক্ষী,
- পুরাতন খঞ্জর,
- বনি আদম ইত্যাদি।

তাঁর মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস:
- দুই সৈনিক,
- নেকড়ে অরণ্য, 
- জলাঙ্গী। 
- জাহান্নাম হইতে বিদায়। 

• নাটক:
- তস্কর লস্কর, 
- পূর্ণ স্বাধীনতা চূর্ণ স্বাধীনতা,
- আমলার মামলা, 
- কাঁকর মণি, 
- বাগদাদের কবি ইত্যাদি।

• গল্পগ্রন্থ:
- ঈশ্বরের প্রতিদ্বন্দী,
- পিঁজরাপোল,
- জন্ম যদি তব বঙ্গে ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর। 
.
কোনটি দীনবন্ধু মিত্র রচিত প্রহসন?
  1. নবীন তপস্বিনী
  2. কমলে কামিনী
  3. বিয়ে পাগলা বুড়ো
  4. লীলাবতী
সঠিক উত্তর:
বিয়ে পাগলা বুড়ো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিয়ে পাগলা বুড়ো
ব্যাখ্যা
• দীনবন্ধু মিত্র:
- দীনবন্ধু মিত্র (১৮৩০-১৮৭৩) নাট্যকার। পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার চৌবেড়িয়া গ্রামে এক দরিদ্র পরিবারে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতৃদত্ত নাম গন্ধর্বনারায়ণ।
- দীনবন্ধু কলেজে পড়ার সময়ই ঈশ্বর গুপ্তের সংস্পর্শে গিয়ে সংবাদ প্রভাকর, সাধুরঞ্জন প্রভৃতি পত্রিকায় কবিতা লিখতে শুরু করেন। তবে নাটক ও প্রহসন লিখেই তিনি সর্বাধিক খ্যাতি অর্জন করেন।

তাঁর রচিত সাহিত্যকর্মগুলো হলো:
• 'নীলদর্পণ' (১৮৬০) তাঁর শ্রেষ্ঠ নাটক এবং শ্রেষ্ঠ রচনাও। সমকালের নীলচাষ ও নীলকর সাহেবদের প্রজাপীড়ন এবং শাসকশ্রেণীর পক্ষপাতমূলক আচরণ নাটকটির বিষয়বস্তু। নাটকটি তৎকালীন সমাজে বিশেষ আলোড়ন সৃষ্টি করে এবং কৃষকদের নীলবিদ্রোহে ইন্ধন জোগায়।

• 'নবীন তপস্বিনী' (১৮৬৩) দীনবন্ধু মিত্রের দ্বিতীয় নাটক। এতে যে দুটি ভিন্ন কাহিনি স্থান পেয়েছে তা পরিপূর্ণভাবে মিশ্রিত হয় নি। 'তে গ্রাম্যতা ও রুচিবিকল্পতা থাকলেও তা গুরুত্বপূর্ণ রচনা।

'বিয়ে পাগলা বুড়ো' (১৮৬৬) বাস্তব ঘটনা অবলম্বনে লিখিত একটি প্রহসন। নামের মাধ্যমেই এর পরিচয় প্রকাশমান।

• দীনবন্ধু মিত্রের 'লীলাবতী' (১৮৬৭) নাটকটি রচনা হিসেবে সার্থকতা লাভ করতে পারেনি।
• 'কমলে কামিনী' (১৮৮৩) তাঁর শেষ রচনা। রোম্যান্টিক প্রণয়চিত্র হিসেবে এর গুরুত্ব।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহাবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।
.
তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের গল্প নয় কোনটি?
  1. রাইকমল
  2. কালিন্দী
  3. ডাক-হরকরা
  4. রসকলি
সঠিক উত্তর:
কালিন্দী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কালিন্দী
ব্যাখ্যা
'কালিন্দী' তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস। 

-------------------
তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের গল্পসসমূহ:
- ১৩৪৩ বঙ্গাব্দের কার্তিক সংখ্যা 'প্রবাসী' পত্রিকায় তারাশঙ্করের বিখ্যাত গল্প 'ডাক-হরকরা' প্রকাশিত হয়। ঐ বছর বৈশাখে তাঁর 'ছলনাময়ী' গল্পগ্রন্থ বেরোয়।

- 'ডাক-হরকরা' গল্পটি তারাশঙ্করের অন্যতম শ্রেষ্ঠ গল্প। এর আগেই বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় (যেমন, পূর্ণিমা, কল্লোল, উপাসনা, কালি-কলম, উত্তরা নবশক্তি, ভারতবর্ষ, বঙ্গশ্রী, শনিবারের চিঠি দেশ, প্রবাসী প্রভৃতি) তাঁর ৫৩টি গল্প বেরিয়েছে।

- এদের মধ্যে 'রসকলি', 'রাইকমল', 'ডাইনীর বাঁশী', 'মেলা', 'আখড়াইয়ের দীঘি', 'নারী ও নাগিনী', 'তারিণী মাঝি'-র মতো বিখ্যাত ও জনপ্রিয় গল্পও আছে। 'ডাক হরকরা' গল্পটি প্রকাশের আগেই গল্পকার হিসেবে তারাশঙ্কর খ্যাতি ও জনপ্রিয়তা পেয়েছেন। ছোটগল্পের আর্ট তাঁর আয়ত্তে এসেছে।

তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস:
- চৈতালি ঘূর্ণি,
- ধাত্রীদেবতা,
- কালিন্দী,
- কবি,
- হাঁসুলি বাঁকের উপকথা,
- গণদেবতা,
- আরগ্য,
- নিকেতন,
- পঞ্চপুণ্ডলী,
- রাধা ইত্যাদি।

উৎস: 'ডাক-হরকরা' গল্প এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
.
জহির রায়হানের প্রথম গল্পসংগ্রহ কোনটি?
  1. সূর্যগ্রহণ
  2. সোনার হরিণ
  3. হারানো বলয়
  4. নয়াপত্তন
সঠিক উত্তর:
সূর্যগ্রহণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সূর্যগ্রহণ
ব্যাখ্যা
• জহির রায়হান:
- জহির রায়হান ছিলেন চলচ্চিত্র নির্মাতা ও লেখক। তিনি ১৯৩৫ সালে ফেনি জেলায় জন্মগ্রহণ করেন।
- জহির রায়হানের প্রকৃত নাম মোহাম্মদ জহিরুল্লাহ।
- ছাত্রজীবনেই তিনি লেখালেখিতে আগ্রহ প্রকাশ করেন। ১৩৬২ বঙ্গাব্দে তাঁর প্রথম গল্পসংগ্রহ 'সূর্যগ্রহণ' প্রকাশিত হয়।
- তিনি ১৯৭০ সালে প্রকাশিত ইংরেজি পত্রিকা দ্য উইকলি এক্সপ্রেস প্রকাশের উদ্যোক্তাদের অন্যতম। এ ছাড়া তিনি কতিপয় সাহিত্য পত্রিকার সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। 'হাজার বছর ধরে' উপন্যাসের জন্য তিনি আদমজী পুরস্কার লাভ করেন। ১৯৭২ সালে তাঁকে বাংলা একাডেমী পুরস্কার প্রদান করা হয়।
- তাঁর পরিচালিত প্রথম চলচ্চিত্র 'কখনো আসে নি'।
- তিনি লেট দেয়ার বি লাইট নামে একটি ইংরেজি ছবি নির্মাণ শুরু করেন। কিন্তু মুক্তিযুদ্ধ শুরু হওয়ায় তিনি তা শেষ করতে পারেন নি।
- জহির রায়হানের উর্দু ছবি সঙ্গম ছিল পাকিস্তানের প্রথম রঙ্গীন ছবি। তাঁর অপর উর্দু ছবি বাহানা ছিল সিনেমাস্কোপ। তিনি কাঁচের দেয়াল ছবির জন্য অনেক পুরস্কার লাভ করেন।

জহির রায়হানের অন্যান্য গল্পসমগ্রগুলো হলো-
- সূর্যগ্রহণ প্রথম গল্পগ্রন্থ (১৩৬২ বঙ্গাব্দ),
- সোনার হরিণ,
- সময়ের প্রয়োজনে,
- একটি জিজ্ঞাসা,
- হারানো বলয়,
- বাঁধ,
- নয়াপত্তন,
- মহামৃত্যু,
- ভাঙাচোরা,
- অপরাধ,
- স্বীকৃতি.

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর। জহির রায়হান
.
আধুনিক বাংলা মহাকাব্য ধারার শেষ কবি বলা হয় কাকে?
  1. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  2. কায়কোবাদ
  3. কালীপ্রসন্ন সিংহ
  4. হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর:
কায়কোবাদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কায়কোবাদ
ব্যাখ্যা
• কায়কোবাদ:
- কায়কোবাদ (১৮৫৭-১৯৫১) ছিলেন আধুনিক বাংলা মহাকাব্য ধারার শেষ কবি, তিনি বাঙ্গালি মুসলিম কবিদের মধ্যে প্রথম সনেট রচয়িতা এবং আধুনিক বাংলাসাহিত্যের প্রথম মুসলিম কবি।
- তাঁর প্রকৃত নাম মোহাম্মদ কাজেম আল কোরেশী, 'কায়কোবাদ' তাঁর সাহিত্যিক ছদ্মনাম। ১৮৫৭ সালে ঢাকা জেলার নবাবগঞ্জ উপজেলার আগলা গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- অতি অল্পবয়স থেকে কায়কোবাদের সাহিত্য-প্রতিভার স্ফুরণ ঘটে। মাত্র তেরো বছর বয়সে তাঁর প্রথম কাব্য বিরহবিলাপ (১৮৭০) প্রকাশিত হয়।
- কবির মৃত্যুর বহুদিন পরে প্রেমের ফুল; প্রেমের বাণী; প্রেম-পারিজাত; মন্দাকিনী-ধারা; ও গওছ পাকের প্রেমের কুঞ্জ প্রকাশিত হয়।
- সম্প্রতি বাংলা একাডেমি কায়কোবাদ রচনাবলী (৪ খণ্ড, ১৯৯৪-৯৭) প্রকাশ করেছে।

তাঁর অন্যান্য কাব্যগ্রন্থগুলো হচ্ছে:
- কুসুম কানন,
- অশ্রুমালা,
- মহাশ্মশান,
- শিব-মন্দির,
- অমিয়ধারা,
- শ্মশান-ভস্ম ও
- মহরম শরীফ।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
.
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত ছোটগল্প কোনটি?
  1. শাস্তি
  2. সমাপ্তি
  3. বিলাসী
  4. একরাত্রি
সঠিক উত্তর:
বিলাসী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিলাসী
ব্যাখ্যা
• 'বিলাসী' ছোটগল্প:
- এটি শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত ছোটগল্প।
- গল্পে অস্পৃশ্যতার বিরুদ্ধাচারণ করা হয়েছে মৃত্যুঞ্জয়-বিলাসীর বিয়ে সংঘটনের মাধ্যমে।
- বিলাসী গল্পে 'ন্যাড়া' চরিত্রের মধ্যে শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় এর নিজের ছায়াপাত ঘটেছে।

• শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত ছোটগল্প:
- মহেশ,
- বিলাসী,
- সতী,
- মামলার ফল ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত অন্যান্য গল্প:
- রামের সুমতি,
- মেজদিদি,
- বিন্দুর ছেলে,
- ছবি ইত্যাদি।

অন্যদিকে, 
• শাস্তি, সমাপ্তি ও একরাত্রি - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত ছোটগল্প। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
.
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উপন্যাস কোনটি?
  1. বন্দী শিবির থেকে
  2. রেইনকোট
  3. পূর্ণ স্বাধীনতা চূর্ণ স্বাধীনতা
  4. দ্বিতীয় দিনের কাহিনী
সঠিক উত্তর:
দ্বিতীয় দিনের কাহিনী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দ্বিতীয় দিনের কাহিনী
ব্যাখ্যা
• 'দ্বিতীয় দিনের কাহিনী' উপন্যাস:
- লেখক সৈয়দ শামসুল হকের মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক আরেকটি উপন্যাস 'দ্বিতীয় দিনের কাহিনী' (১৯৮৪)।

- মুক্তিযুদ্ধ-পরবর্তী আর্থসামাজিক ও রাজনৈতিক বাস্তবতাকে চমৎকারভাবে চিহ্নিত করেছেন তিনি। বাঙালি জাতিসত্তার আত্মপরিচয়, সংগ্রাম, স্বপ্ন ও আকাঙ্ক্ষার কথা পরম মমতায় তুলে ধরেছেন এ উপন্যাসে।

- লেখক মুক্তিযুদ্ধ-পরবর্তী যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে, যেখানে মানুষজন তাদের আপনজন ও বসতভিটা হারিয়ে অসহায় অবস্থায় দিন কাটাচ্ছে।  
 
- একজন প্রধান শিক্ষক তাহের উদ্দীন খন্দকারের আত্মোপলব্ধি, অন্বেষণ ও স্মৃতিচারণার মধ্য দিয়ে উঠে আসে মুক্তিযুদ্ধে জলেশ্বরীর দুর্বার ভূমিকার কথা। বিভিন্ন জায়গা ছড়িয়ে থাকা জলেশ্বরীর সন্তানদের মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেওয়ার বিষয়টিও উঠে আসে তাহেরের স্মৃতিচারণায়।

অন্যদিকে,
• শামসুর রাহমানের মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক কাব্যগ্রন্থ - বন্দী শিবির থেকে। 
• আখতারুজ্জামান ইলিয়াস রচিত 'রেইনকোট' গল্পে রেইনকোট বহন করছে- মুক্তিযুদ্ধের চেতনা।
• শওকত ওসমান রচিত নাটক - পূর্ণ স্বাধীনতা চূর্ণ স্বাধীনতা। 

উৎস: 'দ্বিতীয় দিনের কাহিনী' উপন্যাস এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
.
নীলিমা ইব্রাহিম রচিত নাটক নয় কোনটি?
  1. যে অরণ্যে আলো নেই
  2. এক পথ দুই বাঁক
  3. রোদ জ্বলা বিকেল
  4. সূর্যাস্তের পর
সঠিক উত্তর:
এক পথ দুই বাঁক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এক পথ দুই বাঁক
ব্যাখ্যা
'এক পথ দুই বাঁক' নীলিমা ইব্রাহিম রচিত একটি উপন্যাস। 

-------------------
নীলিমা ইব্রাহিম:
- তিনি ছিলেন শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক ও সমাজকর্মী।
- ১৯২১ সালের ১১ অক্টোবর বাগেরহাট জেলার ফকিরহাট উপজেলার মূলঘর গ্রামের এক জমিদার পরিবারে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতা প্রফুল্লকুমার রায়চৌধুরী এবং মাতা কুসুমকুমারী দেবী।
- তিনি ১৯৯৬ সালে রোকেয়া পদক এবং ২০০০ সালে একুশে পদক লাভ করেন।

• তাঁর রচিত প্রবন্ধ-গবেষণা:
- শরৎ প্রতিভা,
- বাংলার কবি মধুসূদন,
- ঊনবিংশ শতাব্দীর বাঙালী সমাজ ও বাংলার নাটক,
-বাঙালী মানস ও বাংলা সাহিত্য,
-অগ্নিস্নাত বঙ্গবন্ধুর ভস্মাচ্ছাদিত কন্যা আমি,
- আমি বীরাঙ্গনা বলছি।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- বিশ শতকের মেয়ে,
- এক পথ দুই বাঁক,
- কেয়াবন সঞ্চারিণী,
- বহ্নিবলয় ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত নাটক:
- যে অরণ্যে আলো নেই,
- দুয়ে দুয়ে চার,
- রোদ জ্বলা বিকেল,
- সূর্যাস্তের পর ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত আত্মজীবনী:
- বিন্দু বিসর্গ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
.
'সূর্যমুখী' বঙ্কিমচন্দ্রের কোন উপন্যাসের অন্তর্ভুক্ত চরিত্র?
  1. রাজসিংহ
  2. দুর্গেশনন্দিনী
  3. বিষবৃক্ষ
  4. চন্দ্রশেখর
সঠিক উত্তর:
বিষবৃক্ষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিষবৃক্ষ
ব্যাখ্যা
• 'বিষবৃক্ষ' উপন্যাস:
- 'বিষবৃক্ষ' (১৮৭৩) বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত সামাজিক উপন্যাস।
- উপন্যাসের কেন্দ্রীয় সমস্যার সঙ্গে বিধবা বিবাহ পুরুষের একাধিক বিবাহ তার রূপতৃষ্ণা ও নৈতিকতার দ্বন্দ্ব, নারীর আত্মসম্মান ও অধিকারবোধ প্রভৃতি ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত।
- চরিত্রায়ণে, ঘটনা সংস্থানে এবং জীবনের কঠিন সমস্যার রূপায়ণে 'বিষবৃক্ষ' বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ উপন্যাস।
- বাল্যবিধবা কুন্দনন্দিনীর প্রেম ও কামনার বিকাশকে তৎকালীন সমাজ যে প্রশ্রয় দেয় নি, এ উপন্যাস তার প্রমাণ। লেখকও মনে করেছেন, কুন্দনন্দিনীর কাহিনি পাঠ করার ফলে ঘরে ঘরে অমৃত ফলবে অর্থাৎ এ ধরনের প্রণয়াকাঙ্ক্ষা রহিত হবে।
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় কী চেয়েছেন সেটি মুখ্য নয়। 'বিষবৃক্ষে' তিনি সমস্যার যে যথার্থ রূপায়ণ করতে পেরেছেন এটাই আসল। 'বিষবৃক্ষ' আজও শ্রেষ্ঠ উপন্যাসগুলোর একটি।

উল্লেখযোগ্য চরিত্রগুলো হলো:
- কুন্দনন্দিনী,
- নগেন্দ্রনাথ,
- হীরা,
- সূর্যমুখী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর। 
১০.
বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত আত্মজীবনীমূলক রচনা কোনটি?
  1. চাঁদের পাহাড়
  2. তৃণাঙ্কুর
  3. বিপিনের সংসার
  4. দেবযান
সঠিক উত্তর:
তৃণাঙ্কুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তৃণাঙ্কুর
ব্যাখ্যা
• "তৃণাঙ্কুর":
"তৃণাঙ্কুর" বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের লেখা একটি বিখ্যাত রচনা। এটি মূলত একটি আত্মজীবনীমূলক উপন্যাস, যেখানে লেখক প্রকৃতির সান্নিধ্যে কাটানো তার জীবনের অভিজ্ঞতা ও অনুভূতি ফুটিয়ে তুলেছেন।

অন্যদিকে, 
• 'চাঁদের পাহাড়' প্রখ্যাত সাহিত্যিক বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত একটি বাংলা রোমাঞ্চকর উপন্যাস।

• 'বিপিনের সংসার' বিখ্যাত সাহিত্যিক বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত একটি উপন্যাস। এই উপন্যাসের কাহিনি গড়ে উঠেছে ব্রিটিশ ভারত-এর ইংরেজ শাসন আমলের শেষ সময়ে পশ্চিমবঙ্গ-এর গ্রামীণ পটভূমিতে।

• 'দেবযান' হলো প্রখ্যাত কথাসহিত্যিক বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত একটি বাংলা উপন্যাস। এই উপন্যাস মৃত্যু ও জীবন উপলব্দি নিয়ে রচিত।

--------------
• বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপন্যাসগুলো হলো-
- পথের পাঁচালী,
- অপরাজিত,
- আরণ্যক,
- অংশনি সংকেত (অসমাপ্ত),
- আদর্শ হিন্দু হোটেল,
- দৃষ্টিপ্রদীপ,
- চাঁদের পাহাড়,
- বিপিনের সংসার,
- দেবযান ইত্যাদি।

• ছোটগল্প:
- মেঘমল্লার,
- মৌরীফুল,
- যাত্রাবদল,
- কিন্নরদল ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং "তৃণাঙ্কুর" গ্রন্থ।
১১.
লাহিনীপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন কোন লেখক?
  1. মীর মশাররফ হোসেন
  2. বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
  3. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  4. আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
সঠিক উত্তর:
মীর মশাররফ হোসেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মীর মশাররফ হোসেন
ব্যাখ্যা
• মীর মশাররফ হোসেন:
- মীর মশাররফ হোসেন ছিলেন ঔপন্যাসিক, নাট্যকার, প্রাবন্ধিক।
- ১৮৪৭ সালের ১৩ নভেম্বর কুষ্টিয়া জেলার লাহিনীপাড়ায় তাঁর জন্ম।
- পিতা মীর মোয়াজ্জেম হোসেন ছিলেন জমিদার। নিজগৃহে মুনশির নিকট আরবি ও ফারসি শেখার মাধ্যমে মশাররফ হোসেনের লেখাপড়ার হাতেখড়ি হয়।
- মশাররফ হোসেন ছাত্রাবস্থায় সংবাদ প্রভাকর ও কুমারখালির গ্রামবার্তা প্রকাশিকা-র মফঃস্বল সংবাদদাতার দায়িত্ব পালন করেন।
- এখানেই তাঁর সাহিত্যজীবনের শুরু। গ্রামবার্তার সম্পাদক কাঙাল হরিনাথ ছিলেন তাঁর সাহিত্যগুরু। পরে তাঁর দ্বিতীয়া স্ত্রী বিবি কুলসুমও এক্ষেত্রে বিরাট অবদান রাখেন।
- মশাররফ আজিজননেহার ও হিতকরী নামে দুটি পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।
- মীর মোশাররফ ছিলেন বঙ্কিমযুগের অন্যতম প্রধান গদ্যশিল্পী ও উনিশ শতকের বাঙালি মুসলমান সাহিত্যিকদের পথিকৃৎ।
- মীর মশাররফের প্রথম উপন্যাস রত্নবতী (১৮৬৯) প্রকাশিত হয়।
- বঙ্কিমচন্দ্রের দুর্গেশনন্দিনী (১৮৬৫) উপন্যাস প্রকাশিত হওয়ার চার বছর পর মশাররফের প্রথম উপন্যাস রত্নবতী (১৮৬৯) প্রকাশিত হয়।

তাঁর রচিত সাহিত্যকর্মগুলো হলো-
• নাটক:
- বসন্তকুমারী,
- জমীদার দর্পণ,
- বেহুলা গীতাভিনয়,
- টালা অভিনয়।

• উপন্যাস:
- বিষাদ সিন্ধু।

• আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ:
- উদাসীন পথিকের মনের কথা,
- গাজী মিয়াঁর বস্তানী।
- আমার জীবনী,
- কুলসুম জীবনী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১২.
বাংলা সঙ্গীতে সর্বপ্রথম ঠুমরি ধারার আমদানি করেন কে?
  1. আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী
  2. দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
  3. অতুলপ্রসাদ সেন
  4. সতেন্দ্রনাথ দত্ত
সঠিক উত্তর:
অতুলপ্রসাদ সেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অতুলপ্রসাদ সেন
ব্যাখ্যা
• অতুলপ্রসাদ সেন:
- অতুলপ্রসাদ সেন ছিলেন একজন কবি, গীতিকার ও গায়ক।
- তিনি ১৮৭১ সালে ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন।
- বাংলা সঙ্গীতে তিনি সর্বপ্রথম ঠুমরি ধারার আমদানি করেন।
- তিনি সুরকার ও গীতিকার হিসেবে বাংলা সঙ্গীত জগতে অনন্য স্থান দখল -করেন।
-তাঁর রচিত জনপ্রিয় গান 'মোদের গরব, মোদের আশা, আ মরি বাংলা ভাষা' ষাটের দশকে পূর্ব বাংলার বাঙালি জাতীয়তাবাদী আন্দোলনকারীদের মনে উদ্দীপনা সৃষ্টি করেছিল। তাঁর রচিত গানের সংখ্যা প্রায় ২০০টি।

তাঁর গানের সংকলন:
- কয়েকটি গান ও গীতিগুঞ্জ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৩.
'আগুন নিয়ে খেলা' উপন্যাসের রচয়িতা কে?
  1. আবু ইসহাক
  2. অন্নদাশঙ্কর রায়
  3. আল মাহমুদ
  4. আবু জাফর শামসুদ্দীন
সঠিক উত্তর:
অন্নদাশঙ্কর রায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অন্নদাশঙ্কর রায়
ব্যাখ্যা
• অন্নদাশঙ্কর রায়:
- একজন স্বনামধন্য ঔপন্যাসিক, প্রাবন্ধিক, কবি ও চিন্তাবিদ।
- আমেরিকার টেকসাসের বিদুষী তরুণী অ্যালিস ভার্জিনিয়া ওনডর্ফ ১৯৩০ সালে ভারতে আসেন ভারতীয় সঙ্গীত বিষয়ে গবেষণার জন্য।
- লেখক ভবানী মুখোপাধ্যায়ের মাধ্যমে অ্যালিসের সঙ্গে অন্নদাশঙ্করের পরিচয় ঘটে এবং পরে তাঁরা বিবাহ-বন্ধনে আবদ্ধ হন।
- সে সময় অন্নদাশঙ্কর 'লীলাময় রায়' ছদ্মনামে লিখতেন।
- রবীন্দ্রনাথ অ্যালিসের নতুন নামকরণ করেন 'লীলা রায়'।
- অন্নদাশঙ্করের জীবনে লীলা রায়ের প্রভাব ব্যাপক। বহু ভাষায় পারদর্শী লীলা রায় নিজেও সাহিত্যিক এবং অনুবাদক হিসেবে খ্যাতিলাভ করেন।

অন্নদাশঙ্কর রায় রচিত উপন্যাস:
- অসমাপিকা,
- আগুন নিয়ে খেলা,
- পুতুল নিয়ে খেলা,
- সত্যাসত্য ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৪.
আবু জাফর শামসুদ্দীন কোন ছদ্মনামে সংবাদপত্রে কলাম লিখতেন?
  1. বহুদর্শী
  2. দৃষ্টিহীন
  3. মৈনাক
  4. অল্পদর্শী
সঠিক উত্তর:
অল্পদর্শী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অল্পদর্শী
ব্যাখ্যা
আবু জাফর শামসুদ্দীন:
- আবু জাফর শামসুদ্দীন ছিলেন একজন সাংবাদিক ও সাহিত্যিক।
- ১৯১১ সালের ১২ মার্চ ঢাকা জেলার গাজীপুরের দক্ষিণবাগ গ্রামে তাঁর জন্ম।
- মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত 'অল্পদর্শী' ছদ্মনামে দৈনিক সংবাদে 'বৈহাসিকের পার্শ্বচিন্তা' শীর্ষক সাপ্তাহিক কলাম লিখে তিনি বিপুল জনপ্রিয়তা অর্জন করেন।
- তাঁর প্রথম উপন্যাস 'পরিত্যক্ত স্বামী' প্রকাশিত হয় ১৯৪৭ সালে।

আবু জাফর শামসুদ্দীন এর ত্রয়ী উপন্যাস:
- ভাওয়াল গড়ের উপাখ্যান,
- পদ্মা মেঘনা যমুনা এবং
- সংকর সংকীর্তন।

তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনা হলো:
• উপন্যাস:
- ভাওয়াল গড়ের উপাখ্যান,
- পদ্মা মেঘনা যমুনা,
-সংকর সংকীর্তন,
- দেয়াল,
- পরিত্যক্ত স্বামী।

• গল্পগ্রন্থ:
- জীবন,
- রাজেন ঠাকুরের তীর্থযাত্রা,
- ল্যাংড়ী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৫.
আখতারুজ্জামান ইলিয়াস 'খোয়াবনামা' উপন্যাসের জন্য কোন পুরস্কার লাভ করেন?
  1. আলাওল সাহিত্য পুরস্কার
  2. বাংলা একাডেমি পুরস্কার
  3. সাদত আলী আখন্দ পুরস্কার
  4. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
সাদত আলী আখন্দ পুরস্কার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাদত আলী আখন্দ পুরস্কার
ব্যাখ্যা
• 'খোয়াবনামা' উপন্যাস:
- ঐতিহাসিক উপাদান নির্ভর উপন্যাস 'খোয়াবনামা' এর রচয়িতা আখতারুজ্জামান ইলিয়াস।
- গ্রাম বাংলার নিম্নবিত্ত শ্রমজীবী মানুষের জীবনলেখ্যসহ ফকির-সন্ন্যাসী বিদ্রোহ, আসামের ভূমিকম্প, তেভাগা আন্দোলন, ১৯৪৩ সালের-এর মন্বন্তর, পাকিস্তান আন্দোলন, সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা ইত্যাদি ঐতিহাসিক উপাদান নিপুনভাবে উপস্থিত করা হয়েছে।
- তিনি ১৯৯৫ সালে 'খোয়াবনামা' উপন্যাসের জন্য 'সাদত আলী আখন্দ পুরস্কার' ও ১৯৯৬ সালে কলকাতার 'আনন্দ পুরস্কার' লাভকরেন।

উল্লেখ্য, 
• বাংলা ভাষা ও বাংলা সাহিত্যে অবদানের জন্য তিনি ‘বাংলা একাডেমী পুরস্কার’ (১৯৮২)। 

------------
তাঁর রচিত গ্রন্থসমূহ হলো:
• উপন্যাস:
- চিলেকোঠার সেপাই,
- খোয়াবনামা।
(এই দুটি হলো তার মহাকাব্যোচিত উপন্যাস)। 

• গল্পগ্রন্থ:
- অন্য ঘরে অন্য স্বর,
- খোয়ারি,
- দুধভাতে উৎপাত,
- দোজখের ওম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৬.
বুদ্ধদেব বসুর জীবনকাল কোনটি?
  1. ১৯০৮ - ১৯৭২
  2. ১৯০৮ - ১৯৭৪
  3. ১৯০৮ - ১৯৭৬
  4. ১৯০৮ - ১৯৭৫
সঠিক উত্তর:
১৯০৮ - ১৯৭৪
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯০৮ - ১৯৭৪
ব্যাখ্যা
• বুদ্ধদেব বসুর জীবনকাল- (১৯০৮ - ১৯৭৪)। 

------------------
• বুদ্ধদেব বসু:

- বুদ্ধদেব বসু ছিলেন তিরিশের দশকের একজন সাহিত্যিক, সমালোচক, সম্পাদক।
- ১৯০৮ সালের ৩০ নভেম্বর কুমিল্লায় জন্ম। তাঁর পরিবারের আদি নিবাস ছিল বিক্রমপুরের মালখানগরে।
- শুধু কবিতা নয়, বাংলা সাহিত্যের বিভিন্ন শাখায় বুদ্ধদেবের স্বচ্ছন্দ বিচরণ ছিল।
- তিনি রোম্যান্টিক কবিচেতনার অধিকারী ছিলেন; তবে পরবর্তীকালে তিনি আবেগ অপেক্ষা মননশীলতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
- মননশীল প্রবন্ধ ও সাহিত্য-সমালোচনায় তিনি সূক্ষ্ম বুদ্ধিবৃত্তির পরিচয় দিয়েছেন।
- তাঁর গদ্যশৈলীতে আছে ব্যক্তিত্বের ছাপ। পদ্যগদ্য মিলিয়ে তাঁর গ্রন্থসংখ্যা শতাধিক।
- রবীন্দ্রনাথের পর বাংলা সাহিত্যে তাঁকে সব্যসাচী লেখক বলা হয়।
- বাংলা কাব্যের পঞ্চপাণ্ডদের একজন বুদ্ধদেব বসু।

বুদ্ধদেব বসু রচিত গল্পগ্রন্থগুলো হলো:
- অভিনয়, অভিনয় নয়,
- রেখাচিত্র,
- হাওয়া বদল ইত্যাদি।

বুদ্ধদেব বসু রচিত উপন্যাস:
- তিথিডোর,
- সাড়া,
- সানন্দা,
- লালমেঘ,
- পরিক্রমা,
- কালো হাওয়া,
- নির্জন স্বাক্ষর,
- নীলাঞ্জনার খাতা ইত্যাদি।

বুদ্ধদেব বসু রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- কঙ্কাবতী,
- দময়ন্তী,
- মর্মবাণী,
- যে আঁধার আলোর অধিক।

বুদ্ধদেব বসু রচিত নাটক:
- মায়া মালঞ্চ,
- তপস্বী ও তরঙ্গিনী,
- কলকাতার ইলেক্টা ও সত্যসন্ধ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৭.
স্বাধীনতাযুদ্ধে সংগ্রামী বাঙালি জনতাকে জীবনানন্দ দাশের কোন কাব্যগ্রন্থের কবিতাগুলো তীব্রভাবে অনুপ্রাণিত করে?
  1. রূপসী বাংলা
  2. বনলতা সেন
  3. ধূসর পাণ্ডুলিপি
  4. মহাপৃথিবী
সঠিক উত্তর:
রূপসী বাংলা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রূপসী বাংলা
ব্যাখ্যা
• জীবনানন্দ দাশ:
- জীবনানন্দ দাশ ছিলেন একজন কবি ও শিক্ষাবিদ। তিনি ১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁদের আদি নিবাস ছিল বিক্রমপুরের গাওপাড়া গ্রামে।
- তাঁর পিতা সত্যানন্দ দাশ ছিলেন স্কুলশিক্ষক ও সমাজসেবক। তিনি ব্রহ্মবাদী পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ছিলেন। মাতা কুসুমকুমারী দাশ ছিলেন একজন বিখ্যাত কবি।
- জীবনানন্দ ছিলেন বাংলা কাব্যান্দোলনে রবীন্দ্রবিরোধী তিরিশের কবিতা নামে খ্যাত কাব্যধারার অন্যতম কবি।
- তাঁর 'ধূসর পাণ্ডুলিপি' কাব্যের অন্তর্গত 'মৃত্যুর আগে' কবিতার সাথে আইরিশ কবি ডব্লিউ. বি. ইয়েটস-এর 'The falling of the Leaves' কবিতার মিল রয়েছে।
- তাঁর 'মহাপৃথিবী' কাব্যের অন্তর্গত 'হায় চিল' কবিতার সাথে ইয়েটস্-এর 'He reproves the curlow' কবিতার মিল রয়েছে।
- 'বনলতা সেন' কবিতাটিতে অ্যাডগার এলেন পো-র 'টু হেলেন' কবিতার প্রভাব রয়েছে। জীবনানন্দ দাশের 'বনলতা সেন' কাব্যগ্রন্থ নিখিলবঙ্গ রবীন্দ্রসাহিত্য সম্মেলনে পুরস্কৃত (১৯৫৩) হয়।
- বাংলাদেশে ষাটের দশকে বাঙালির জাতিসত্তা বিকাশের আন্দোলনে এবং ১৯৭১ সালের স্বাধীনতাযুদ্ধে সংগ্রামী বাঙালি জনতাকে তাঁর 'রূপসী বাংলা' কাব্যগ্রন্থের কবিতাগুলো তীব্রভাবে অনুপ্রাণিত করে।
- এছাড়া জীবনানন্দ দাশের 'শ্রেষ্ঠ কবিতা' গ্রন্থটিও ভারত সরকারের সাহিত্য আকাদেমি পুরস্কার (১৯৫৪) লাভ করে। ১৯৫৪ সালের ২২ অক্টোবর কলকাতায় তাঁর মৃত্যু হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৮.
"হারানো অর্কিড" কবিতাগ্রন্থটি কার রচনা?
  1. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
  2. বুদ্ধদেব বসু
  3. অমিয় চক্রবর্তী
  4. বিষ্ণু দে
সঠিক উত্তর:
অমিয় চক্রবর্তী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অমিয় চক্রবর্তী
ব্যাখ্যা
• "হারানো অর্কিড" কবিতাগ্রন্থটি কবি অমিয় চক্রবর্তীর লেখা।

-----------------
• অমিয় চক্রবর্তী:

- অমিয় চক্রবর্তীর জন্ম ১৯০১ সালে পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলায়।
- তিরিশের পঞ্চকবির মধ্যে তিনি অন্যতম একজন।
- 'বাংলাদেশ' কবিতাটি আমিয় চক্রবর্তী রচিত 'অনিঃশেষ' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত।
- এটি অক্ষরবৃত্ত ছন্দে রচিত। বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রেক্ষাপটে রচিত হয়েছে কবিতাটি।

অমিয় চক্রবর্তী রচিত কাব্যগ্রন্থ-
- কবিতাবলী (প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ),
- উপহার,
- অনিঃশেষ,
- খসড়া,
- এক মুঠো,
- মাটির দেওয়াল,
- অভিজ্ঞান বসন্ত,
- হারানো অর্কিড,
- পুষ্পিত ইমেজ,
- অমরাবতী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।