উত্তর
ব্যাখ্যা
- "প্রলয় শিখা" কাজী নজরুল ইসলাম রচিত ষোড়শ কাব্যগ্রন্থ। ১৯৩০ খ্রিষ্টাব্দের আগষ্ট মাসে কলিকাতা থেকে গ্রন্থাকারে কাব্যগ্রন্থটি প্রকাশিত হয়।
- কবি নজরুল নিজ নামে ও নিজের দায়িত্বে 'প্রলয়-শিখা' প্রকাশ করেছিলেন, অর্থাৎ নিজেই প্রকাশক ও মুদ্রাকর ছিলেন। ১৭ই সেপ্টেম্বর (বুধবার ৩১ ভাদ্র ১৩৩৭), তৎকালীন সরকার ফৌজদারি দণ্ডবিধি ১২৪-ক এবং ১৫৩-ক ধারা অনুসারে এই গ্রন্থটি নিষিদ্ধ ঘোষণা করেন।
কাব্যটি রচনার সংক্ষিপ্ত বিবরণ:
কাজী নজরুল ইসলামের প্রায় সব বিখ্যাত ও উল্লেখযোগ্য জনপ্রিয় বইগুলোই শাসক ব্রিটিশরা বাজেয়াপ্ত ও নিষিদ্ধ করে; এর মধ্যে 'প্রলয়-শিখা' কাব্যগ্রন্থ অন্যতম। সরকারি রোষের তোপে পড়েছিলো এটি। প্রাণাধিক প্রিয় পুত্র বুলবুল মারা গেছেন, কবির মনোজগতে তখন তোলপাড় চলছে। বিদ্রোহ-বিপ্লবের পুরোধা কবি কেঁদে কেঁদে আকুল। চোখে জল কিন্তু বুকে আগুন। সেই আগুনের ফুলকি ছড়িয়ে পড়লো 'প্রলয় শিখা'র প্রতিটি শব্দে। বিদ্যুৎ-গতিতে 'প্রলয় শিখা' ছুটলো পুরো বাংলায়। এই কাব্যগ্রন্থে বিদ্রোহী কবি সোচ্চার হয়েছেন পরাধীনতা ও শোষণের বিরুদ্ধে। শব্দের তেজস্বী অলংকরণে মানবচেতনায় বোধ জাগিয়ে তোলাই ছিলোই 'প্রলয়-শিখা'র মূল উদ্দেশ্য।
-----------------
• কাজী নজরুল ইসলামের নিষিদ্ধ গ্রন্থের সংখ্যা ৫টি।
নিষিদ্ধ গ্রন্থগুলো হলো:
• যুগবাণী: প্রবন্ধ গ্রন্থ, নিষিদ্ধ হয় ২৩ নভেম্বর, ১৯২২, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার ১৯৪৭।
• বিষের বাঁশী: কবিতাগ্রন্থ, নিষিদ্ধ ২২ অক্টোবর, ১৯২৪, নিষেধাজ্ঞাপা প্রত্যাহার ২৭ এপ্রিল, ১৯৪৫।
• ভাঙার গান: কবিতাগ্রন্থ, নিষিদ্ধ ১১ অক্টোবর, ১৯২৪।
• প্রলয় শিখা: কবিতাগ্রন্থ, নিষিদ্ধ, ১৭ সেপ্টেম্বর, ১৯৩০।
• চন্দ্রবিন্দু: গানের সংকলন, নিষিদ্ধ ১৪ অক্টোবর, ১৯৩১।
উৎস: "প্রলয় শিখা" কাব্যগ্রন্থের ভূমিকা এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।