পরীক্ষা আর্কাইভ

নতুনদের বিসিএস প্রস্তুতি - ২০০ দিনে পুরো সিলেবাস

পরীক্ষানতুনদের বিসিএস প্রস্তুতি - ২০০ দিনে পুরো সিলেবাসতারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়19 minutes
মোট প্রশ্ন২৮
সিলেবাস
সাধারণ বিজ্ঞান: টপিকসমূহ: ভৌত বিজ্ঞান: (পদার্থ বিজ্ঞান বিষয়ক) ১. ভৌত রাশি এবং এর পরিমাপ, ভৌত বিজ্ঞানের উন্নয়ন, আধুনিক পদার্থবিজ্ঞান, পদার্থের চৌম্বকত্ব, তড়িৎ চৌম্বক ও তাড়িত চৌম্বকীয় আবেশ, তরঙ্গ এবং শব্দ, শক্তি। ২. কাজ, শক্তি ও ক্ষমতা; তাপ ও তাপগতি বিদ্যা, পদার্থের গ্যাসীয় ধর্ম, আলোর প্রকৃতি, স্থির এবং চল তড়িৎ, আলোক বিজ্ঞান ও আলোক যন্ত্রপাতি, ট্রান্সফরমার, এক্সরে, তেজস্ক্রিয়তা। উৎস: ষষ্ঠ থেকে মাধ্যমিক শ্রেণির বিজ্ঞান বোর্ড বই, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শ্রেণির পদার্থ বিজ্ঞান বোর্ড বই [NCTB ও উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়], ব্রিটানিকা, যেকোনো গাইডবই। [গাইড বই থেকে পড়ার ক্ষেত্রে কনফিউজিং বিষয়গুলো ক্রসচেক করে পড়া উত্তম।]।
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

নতুনদের বিসিএস প্রস্তুতি - ২০০ দিনে পুরো সিলেবাস

নতুনদের বিসিএস প্রস্তুতি - ২০০ দিনে পুরো সিলেবাস · তারিখ অনির্ধারিত · ২৮ প্রশ্ন

.
‘ব্ল্যাকবক্স’ যন্ত্রটি ব্যবহৃত হয় -
  1. ক) রকেটে
  2. খ) বিমানে
  3. গ) জাহাজে
  4. ঘ) রাডারে
ব্যাখ্যা
সব প্লেনেই ব্ল্যাকবক্স থাকে। এসব বক্স প্লেন চলার সময় বিভিন্ন তথ্য ধারণ করে রাখে।
ব্ল্যাকবক্সের সংখ্যা এক বা ক্ষেত্রবিশেষে দুটি হয়।
একটি ককপিটে পাইলটদের কথোপকথন ধারণ করে, যা ককপিট ভয়েস রেকর্ডার (সিভিআর) নামে পরিচিত।
অপরটি প্লেন চলাচলের বিভিন্ন তথ্য ধারণ করে, যা ফ্লাইট ডেটা রেকর্ডার (এফডিআর) নামে অভিহিত।
.
আলট্রাসনোগ্রাফি হলো -
  1. ক) এক প্রকার আলোক তরঙ্গ
  2. খ) এক্স-রে এর মাধ্যমে ইমেজিং
  3. গ) ছোট তরঙ্গদৈর্ঘ্যর শব্দের দ্বারা ইমেজিং
  4. ঘ) শক্তিশালী শব্দ দিয়ে পিত্তপাথর বিচূর্ণীকরণ
ব্যাখ্যা
আলট্রাসনোগ্রাফি দিয়ে শরীরের ভেতরের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ, মাংসপেশি ইত্যাদির ছবি তোলা হয়।
এটি করার জন্য খুব উচ্চ কম্পাঙ্কের শব্দ ও ছোট তরঙ্গদৈর্ঘ্যের শব্দ ব্যবহার করে তার প্রতিধ্বনিকে শনাক্ত করা হয়।

উৎসঃ পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
.
কোনো চৌম্বকক্ষেত্রের একক ক্ষেত্রফলের মধ্য দিয়ে লম্বভাবে অতিক্রান্ত বলরেখার সংখ্যাকে বলা হয় -
  1. ক) চৌম্বক ফ্লাক্স
  2. খ) চৌম্বক ভ্রামক
  3. গ) চৌম্বক মধ্যতল
  4. ঘ) চৌম্বক দ্বিমেরু
ব্যাখ্যা
চৌম্বক ফ্লাক্স বা চৌম্বক আবেশ:
কোনো চৌম্বকক্ষেত্রের একক ক্ষেত্রফলের মধ্য দিয়ে লম্বভাবে অতিক্রান্ত্ বলরেখার সংখ্যাকে চৌম্বক আবেশ বা ফ্লাক্স ঘনত্ব বা চৌম্বকক্ষেত্র ভেক্টর বলে।

চৌম্বক ফ্লাক্সের (SI) একক ওয়েবার (Weber) বা সংক্ষেপে (Wb).

জার্মান পদার্থবিদ উইলিয়াম এডুয়ার্ড ওয়েবারের নাম অনুসারে এর নামকরণ করা হয়েছে। 
.
মানব চোখের বয়োবৃদ্ধির কারণে উপযোজন ক্ষমতা কমে যাওয়ার ফলে কাছের বস্তু দেখতে অসুবিধা হয়। এ সমস্যাকে বলা হয় -
  1. ক) প্রেসবায়োপিয়া
  2. খ) মাইয়োপিয়া
  3. গ) হাইপারমেট্রোপিয়া
  4. ঘ) কনজাংটিভাইটিস
ব্যাখ্যা
চোখের চালশেকে প্রেসবায়োপিয়া বলে। 
মানব চোখের বয়োবৃদ্ধির কারণে উপযোজন ক্ষমতা কমে যাওয়ার ফলে কাছের বস্তু দেখতে অসুবিধা। চিকিৎসা বিজ্ঞানে এটি প্রেজবিয়োপিয়া নামে পরিচিত
 সাধারণত বয়স চল্লিশ পার হলে এই সমস্যা দেখা দেয়। ছোট অক্ষর পড়তে অসুবিধা হয় তবে অপেক্ষাকৃত একটু দূরে ধরলে কিছুটা ভালো দেখা যায়।
বয়স বৃদ্ধির সাথে সাথে মানুষের চোখের পেশীর স্থিতিস্থাপকতা কমে যায় তখন এই সমস্যা দেখা যায়। 
বাইফোকাল লেন্সের চশমা ব্যবহার করে এই ত্রুটি দূর করা যায়।

উৎসঃ পদার্থবিজ্ঞান-২য় পত্র বই (একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি) ,ড. শাহজাহান তপন
.
সম্পূর্ণ ঘর আলোকিত হয় নিচের কোনটির কারণে?
  1. ক) নিয়মিত প্রতিফলন 
  2. খ) ব্যাপ্ত প্রতিফলন
  3. গ) প্রতিসরণ 
  4. ঘ) পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন
ব্যাখ্যা
ব্যাপ্ত প্রতিফলন
যদি একগুচ্ছ সমান্তরাল আলোক রশ্মি কোন পৃষ্ঠে আপতিত হয়ে প্রতিফলনের পর অসমান্তরাল হয় বা অভিসারী বা অপসারীগুচ্ছে পরিণত না হয় তবে আলোর সেই প্রতিফলনকে ব্যাপ্ত বা বিক্ষিপ্ত বা অনিয়মিত প্রতিফলন বলে।  

প্রশ্নে উল্লেখিত সম্পূর্ণ ঘর আলোকিত হয় ব্যাপ্ত প্রতিফলন এর মাধ্যমে।

উৎসঃ ৯ম- ১০ম শ্রেণির পদার্থ বিজ্ঞান
.
বরফ সাদা দেখায় কেন ?
  1. ক) আলোর সব রশ্মিই প্রতিফলিত করে বলে।
  2. খ) বরফ কঠিন পদার্থ বলে ।
  3. গ) আলোর সব রশ্মিই প্রতিসরণ করে বলে।
  4. ঘ) বরফের বিক্ষেপণ বেশি বলে।
ব্যাখ্যা
আলো এলোমেলোভাবে নানাদিকে প্রতিফলিত ও প্রতিসরিত হয়ে থাকে। 
যে দিক থেকেই ওই বরফ-কেলাসের দিকে দেখা হোক না কেন, প্রত্যেকটিকে সে বিক্ষিপ্তভাবে চারদিকে ছড়িয়ে দেয়। 
আলোর সব রশ্মিই প্রতিফলিত করে ফলে, তা কোনো নির্দিষ্ট বর্ণালী তরঙ্গদৈর্ঘ্যে উত্থাপিত হয় না। যার ফলে সাদা দেখায়।

উৎসঃ ৯ম- ১০ম শ্রেণির পদার্থ বিজ্ঞান
.
বায়ুর তাপমাত্রা 1k বৃদ্ধি পেলে শব্দের বেগের ক্ষেত্রে কী পরিবর্তন হবে?
  1. ক) 0.6 ms-1 বৃদ্ধি পাবে।
  2. খ) 0.6 ms-1 হ্রাস পাবে।
  3. গ) 1.2 ms-1 বৃদ্ধি পাবে।
  4. ঘ) অপরিবর্তিত থাকবে।
ব্যাখ্যা
শব্দের বেগ মাধ্যমের প্রকৃতির উপর নির্ভর করে। তাপমাত্রা বাড়লে শব্দের বেগও বাড়ে।
যেমন, পরীক্ষা করে দেখা গেছে যে, শূন্য ডিগ্রি সেলসিয়াস (0°) তাপমাত্রায় বাতাসে শব্দের গতি প্রতি সেকেন্ডে ৩৩১ মিটার।

কিন্তু প্রতি ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা বাড়ার সাথে সাথে এর বেগ ০.৬ মিটার/সেকেন্ড বৃদ্ধি পাবে।
শব্দের বেগ মাধ্যমের ঘনত্বের উপরও নির্ভর করে। যে মাধ্যমের ঘনত্ব বেশি সে মাধ্যমে শব্দের বেগও বেশি। ফলে পানিতে শব্দের বেগ ১৪৪০ মিটার/সেকেন্ড। কঠিন পদার্থ যেমন কাঠের মধ্যে শব্দের বেগ বায়ু অপেক্ষা ১২ গুণ বেশি। ইস্পাতে শব্দের বেগ বায়ুর চেয়ে ১৫ গুণ বেশি। সহজ কথায়, যে পদার্থের ঘনত্ব বেশি সে পদার্থে শব্দের বেগও বেশি।

উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর সাধারণ বিজ্ঞান বই (উন্মুক্ত)।
.
কোনটিতে উত্তল দর্পণ ব্যবহার করা হয়?
  1. ক) টর্চলাইটে
  2. খ) রাডারে
  3. গ) গাড়িতে
  4. ঘ) সৌরচুল্লিতে
ব্যাখ্যা
যে দর্পণের প্রতিফলক পৃষ্ঠ উত্তল তাকে উত্তল দর্পণ বলে। 
এই দর্পণের উত্তল পৃষ্ঠ প্রতিফলকের কাজ করে। 
উত্তল দর্পণে গঠিত প্রতিবিম্ব সর্বদা ছোট ও সোজা হয়।

উত্তল দর্পণের ব্যবহার 
- বিস্তৃত এলাকা দেখতে দোকান বা শপিংমলে নিরাপত্তার কাজে উত্তল দর্পণ ব্যবহৃত হয়।
- গাড়িতে ভিউ মিরর হিসেবে উত্তল দর্পণ ব্যবহৃত হয়।
- গাড়ির পিছনে বিস্তৃত এলাকা ছোট জায়গায় দেখতে উত্তল দর্পণ ব্যবহৃত হয়।
- রাস্তার বাতিতে প্রতিফলকরূপে উত্তল দর্পণ ব্যবহৃত হয়।
- প্রতিফলক টেলিস্কোপ তৈরিতে উত্তল দর্পণ ব্যবহৃত হয়।

অপরদিকে 
টর্চ লাইটে ব্যবহার অবতল দর্পণ  করা হয়
ছোট চুল্লীতে লেন্স কিন্তু বড় চুল্লীতে গোলীয় অবতল দর্পণ ব্যবহার করা হয়।

উৎসঃ ৯ম- ১০ম শ্রেণির পদার্থ বিজ্ঞান
.
অনুদৈর্ঘ্য তরঙ্গের ক্ষেত্রে কোনটি সঠিক?
  1. ক) বস্তুর কম্পনের দিক তরঙ্গের বেগের সাথে লম্ব
  2. খ) এ তরঙ্গ সংকোচন ও প্রসারণের মাধ্যমে অগ্রসর হয়
  3. গ) আলোক তরঙ্গ, বেতার তরঙ্গ, পানির তরঙ্গ অনুদৈর্ঘ্য তরঙ্গ
  4. ঘ) এ তরঙ্গ মাধ্যমের কণাগুলো সাম্য অবস্থান থেকে উপর-নিচে ওঠা-নামা করে
ব্যাখ্যা
অনুপ্রস্থ তরঙ্গ:
এ তরঙ্গ মাধ্যমের কণাগুলো স্পন্দনের দিকের সাথে সমকোণে বা আড়াআড়ি অগ্রসর হয় বলে একে অনুপ্রস্থ তরঙ্গ বা আড় তরঙ্গ বলে। আলোক তরঙ্গ, বেতার তরঙ্গ, পানির তরঙ্গ অনুপ্রস্থ তরঙ্গ।

অনুদৈর্ঘ্য তরঙ্গ :
যে তরঙ্গ মাধ্যমের কণাগুলোর স্পন্দনের দিকের সাথে সমান্তরালে অগ্রসর হয়, তাকে অনুদৈর্ঘ্য তরঙ্গ বলে। অনুদৈর্ঘ্য তরঙ্গ মাধ্যমের কণাগুলোর সংকোচন ও প্রসারণের মাধ্যমে অগ্রসর হয়। একটি সংকোচন এবং একটি প্রসারণ অংশ নিয়ে একটি তরঙ্গ গঠিত হয়। শব্দ হচ্ছে অনুদৈর্ঘ্য তরঙ্গ।

সূত্রঃ পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত
১০.
বাদুড়ের শ্রাব্যতার ঊর্ধসীমা -
  1. ক) 1,000 Hz
  2. খ) 10,000 Hz
  3. গ) 1,00,000 Hz
  4. ঘ) 10,00,000 Hz
ব্যাখ্যা
মানুষের শ্রাব্যতার পাল্লা ২০ Hz ∼ ২০,০০০ Hz
কুকুরের শ্রাব্যতার পাল্লা ৪ Hz ∼ ৪৫,০০০ Hz
বিড়ালের শ্রাব্যতার পাল্লা ৪৫ Hz ∼ ৬৪,০০০ Hz
ইদুরের শ্রাব্যতার পাল্লা ১,০০০ Hz ∼ ৯১,০০০ Hz
বাদুরের শ্রাব্যতার পাল্লা ২,০০০ Hz ∼ ১,০০,০০০ Hz

সূত্রঃ পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি
১১.
কোনো পরিবাহকের রোধ কয়টি বিষয়ের ওপর নির্ভর করে?
  1. ক) চারটি
  2. খ) দুটি 
  3. গ) তিনটি 
  4. ঘ) পাচঁটি 
ব্যাখ্যা
একটি পরিবাহকের রোধ চারটি বিষয়ের ওপর নির্ভর করে।
১.পরিবাহীর দৈর্ঘ্য,
২.পরিবাহীর প্রস্থচ্ছেদের ক্ষেত্রফল, 
৩.পরিবাহীর উপাদান এবং 
৪.পরিবাহীর তাপমাত্রা।

উৎসঃ পদার্থবিজ্ঞান-২য় পত্র বই (একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি) ,ড. শাহজাহান তপন
১২.
একটি বস্তুকে টান টান করলে এর মধ্যে কোন শক্তি জমা থাকে?
  1. ক) গতি শক্তি
  2. খ) বিভব শক্তি
  3. গ) তাপ শক্তি
  4. ঘ) রাসায়নিক শক্তি
ব্যাখ্যা
বিভবশক্তিকে স্থিতিশক্তিও বলা হয়।
বিভবশক্তি হচ্ছে বস্তুর স্থিতিজনিত শক্তি। কোন বস্তু তার অবস্থা বা অবস্থানে স্থিতিশীল থাকার ফলে যে শক্তি প্রাপ্ত হয় তাই বস্তুটির বিভশক্তির পরিমাপক।
আবার বস্তুও বিভিন্ন অংশের পরিবর্তনের ফলে বস্তু যে শক্তি প্রাপ্ত হয় তাই হচ্ছে বস্তুর বিভব শক্তি।

যেমন পানির ট্যাংকে রক্ষিত পানি এবং দেয়ালে ঝুলানো ছবি যে শক্তি প্রাপ্ত হয় তাই হচ্ছে এদের বিভবশক্তি। বিভবশক্তি যান্ত্রিক শক্তির একটি রূপ।

একইভাবে একটি বস্তুকে টান টান করলে এর মধ্যে বিভব শক্তি জমা থাকে।

সূত্র: পদার্থ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় 
১৩.
নিচের কোনটি সত্য?
  1. ক) চাপ বেশি হলে গলনাঙ্ক কমে যায়।
  2. খ) চাপ বেশি হলে স্ফুটনাঙ্ক কমে যায়।
  3. গ) চাপ বেশি হলে স্ফুটনাঙ্ক বেড়ে যায়।
  4. ঘ) ক ও গ
ব্যাখ্যা
পদার্থের উপর চাপ গলনাঙ্ককে প্রভাবিত করে। চাপের জন্য গলনাঙ্ক দু' ভাবে প্রভাবিত হতে পারে ।
(ক) কিছু কিছু পদার্থ কঠিন অবস্থা থেকে তরল অবস্থায় রূপান্তরের সময় আয়তন বৃদ্ধি পায় যেমন মোম, তামা ইত্যাদি ।
চাপ বাড়ালে ঐসব পদার্থের গলনাঙ্ক বেড়ে যায়। অর্থাৎ বেশি তাপমাত্রায় গলে। বর্ধিত চাপ পদার্থের আয়তন কমিয়ে দেয় ফলে গলনাঙ্ক বেড়ে যায়।

(খ) কিছু কিছু পদার্থ কঠিন অবস্থা থেকে তরল অবস্থায় রূপান্তরের সময় আয়তন হ্রাস পায় যেমন লোহা, বরফ, বিসমাথ ইত্যাদি।
চাপ বাড়ালে ঐসব পদার্থের গলনাঙ্ক কমে যায়। অর্থাৎ এরা কম তাপমাত্রায় গলে। বর্ধিত চাপ পদার্থের আয়তন সংকোচনের সুবিধা করে দেয়। ফলে গলনাঙ্ক কমে যায়। পুনঃশিলীভবন আপনার পরিচিত গলনাঙ্কের উপর চাপের প্রভাবের একটি সুন্দর উদাহরণ ।

চাপ বেশি হলে স্ফুটনাঙ্ক বেড়ে যায়।
উদাহরণ : 
- প্রেসার কুকারে পানির স্ফুটনাংক স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি থাকে।
- স্থির আয়তনে প্রেসার কুকারে উচ্চ চাপের সৃষ্টি হয়। এতে পানির স্ফুটনাংক বেড়ে যায়।
- প্রেসার কুকারে রান্না তাড়াতাড়ি হয় কারণ, কুকারের ভেতরের পানি ফুটন্ত অবস্থায় বাষ্পে পরিণত হয়েই বাইরে আসতে পারে না।
- ফলে উচ্চচাপে তরলের স্ফুটনাংক বৃদ্ধি পায়। এতে বাড়তি তাপ সৃষ্টি হয়ে রান্না হয় তাড়াতাড়ি।

উৎসঃ পদার্থ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়; পদার্থ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি; ব্রিটানিকা।
১৪.
একটি কাগজের পৃষ্ঠা দিয়েই কোন রশ্মির গতি রোধ করা সম্ভব?
  1. ক) আলফা রশ্মি
  2. খ) বিটা রশ্মি
  3. গ) গামা রশ্মি
  4. ঘ) রঞ্জন রশ্মি
ব্যাখ্যা
আলফা রশ্মি মূলত একটি হিলিয়াম নিউক্লিয়াস।
এটি পজিটিভ চার্জযুক্ত।
আলফা রশ্মি খুব বেশি আয়নিত করে শক্তি ক্ষয় করতে পারে বলে একটা কাগজের পৃষ্ঠা দিয়ে এটাকে থামানো সম্ভব।

অন্যদিকে
- বিটা রশ্মিকে থামাতে কয়েক মিলিমিটার পুরু অ্যালুমিনিয়াম ও
- গামা রশ্মির চার্জ না থাকাতে এটিকে থামাতে পুরু সিসার পাতের দরকার হয়।

উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীঃ পদার্থ বিজ্ঞান বই।
১৫.
n-টাইপ অর্ধপরিবাহী তৈরির জন্য সিলিকনের সাথে কোনটি মেশানো হয়?
  1. ক) ফসফরাস
  2. খ) বোরন
  3. গ) কার্বন
  4. ঘ) জার্মেনিয়াম
ব্যাখ্যা
সিলিকন ক্রিস্টালের সাথে এমন একটা পরমাণু (যেমন ফসফরাস) মিশিয়ে দেওয়া হয় যার শেষ কক্ষপথে থাকে ৫টি ইলেকট্রন। ফসফরাসের এই ৫ম ইলেকট্রনটি বাড়তি একটা ইলেকট্রন, কোনো পরমানুরই তার প্রয়োজন নেই, তাই সেসব পরমাণুর মাঝেই প্রায় মুক্তভাবে ঘোরাঘুরি করতে পারে।

ফসফরাস মেশানো এ রকম সেমিকন্ডাক্টর অনেকটাই পরিবাহী, কারণ চার্জ পরিবহনের জন্য এখানে কিছু মুক্ত ইলেকট্রন থাকে। ফসফরাসের মতো শেষ কক্ষপথে ৫ম ইলেকট্রনসহ পরমাণু যোগ করে সেমিকন্ডাক্টরকে মোটামুটি পরিবাহক তৈরি করে ফেলা এই সেমিকন্ডাক্টরকে বলে n-type সেমিকন্ডাক্টর।

সূত্র: পদার্থ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি
১৬.
আপেক্ষিক রোধের একক কী?
  1. ক) ওহম মিটার
  2. খ) কুলম্ব
  3. গ) অ্যাম্পিয়ার 
  4. ঘ) গ্যালভানোমিটার 
ব্যাখ্যা
একক দৈর্ঘ্য এবং একক প্রস্থচ্ছেদ ক্ষেত্রফলবিশিষ্ট কোনো একটি পরিবাহী তার প্রস্থচ্ছেদের অভিলম্বভাবে বিদ্যুৎ প্রবাহে যে পরিমাণ বাধা প্রদান করে তাকে তার আপেক্ষিক রোধ বলে।
আপেক্ষিক রোধের একক (ওহম মিটার)Ωm।

অপরদিকে 
রোধের একক— ওহম।
বিদ্যুৎ প্রবাহের একক —অ্যাম্পিয়ার 

উৎসঃ পদার্থবিজ্ঞান-২য় পত্র বই (একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি) ,ড. শাহজাহান তপন
১৭.
শক্তির ক্ষেত্রে নিচের কোনটি সত্য?
  1. ক) শক্তি সৃষ্টি করা যায় না।
  2. খ) শক্তি ধ্বংস করা যায় না।
  3. গ) শক্তির রূপান্তর হয়।
  4. ঘ) সবগুলো
ব্যাখ্যা
শক্তির নিত্যতার সূত্র:
আমরা আমাদের দৈনন্দিন জীবনে চারপাশে যে শক্তি দেখি সেটি সৃষ্টিও হয় না, ধ্বংস ও হয় না। শুধু তার রূপ পরিবর্তন করে। এটাই হচ্ছে শক্তির নিত্যতার সূত্র৷

যেমনঃ
বাশিঁ বাজালে যান্ত্রিক শক্তি শব্দ শক্তিতে রূপান্তরিত হয়।
ব্যাটারিতে রাসায়নিক শক্তি বৈদ্যুতিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়।
বৈদ্যুতিক মটরে বিদ্যুৎ শক্তি যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়।
বৈদ্যুতিক পাখার ক্ষেত্রে বৈদ্যুতিক শক্তি যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়।

উৎসঃ পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি এবং সপ্তম শ্রেণীর বিজ্ঞান বই।
১৮.
100 W এর একটি বাতি জ্বালালে প্রতি সেকেন্ডে কত ওয়াট শক্তি ব্যয় হয়?
  1. ক) 1W
  2. খ) 100W
  3. গ) 100/60 W
  4. ঘ) 100/3600 W
ব্যাখ্যা
যদি প্রতি সেকেন্ডে 1 জুল কাজ করা হয় তাহলে আমরা বলি 1ওয়াট (W) কাজ করা হয়েছে বা শক্তির রূপান্তর হয়েছে।
আমরা যদি 100 W এর একটা বাতি জ্বালাই তার অর্থ এই বাড়িতে প্রতি সেকেন্ডে 100W শক্তি ব্যয় হচ্ছে।

যখন আমরা খবরের কাগজ পড়ি, দেশে 1000 MW নিউক্লিয়ার বিদ্যুৎকেন্দ্র তৈরি হবে তার অর্থ সেই নিউক্লিয়ার শক্তিকেন্দ্রে প্রতি সেকেন্ডে 1000 x 10J বিদ্যুৎ শক্তি উৎপন্ন হবে।

সূত্র: পদার্থ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি
১৯.
পদার্থের ভৌত অবস্থা মূলত নির্ভর করে -
  1. ক) অণুগুলোর গতিশক্তির উপর
  2. খ) আন্তঃআণবিক শক্তির উপর
  3. গ) চৌম্বক শক্তির উপর
  4. ঘ) ক ও খ
ব্যাখ্যা
- কঠিন পদার্থের নির্দিষ্ট আকৃতি ও আয়তন আছে
- তরল পদার্থের নির্দিষ্ট আয়তন থাকলেও এর কোন নির্দিষ্ট আকৃতি নেই
- গ্যাসীয় পদার্থের নির্দিষ্ট কোন আকার বা আয়তন নেই ।
- আন্ত:আণবিক আকর্ষণ শক্তি ও গতি শক্তি-এ দু প্রকারের শক্তির উপর পদার্থের ভৌত অবস্থা নির্ভর করে।  এ দুটি শক্তি পরস্পর বিপরীতমুখী। তাপমাত্রা বাড়ালে গতিশক্তি বৃদ্ধি পায় কিন্তু আন্তঃআণবিক আকর্ষণ শক্তি হ্রাস পায়।

কঠিন পদার্থ (Solid)- 
কঠিন পদার্থের নির্দিষ্ট আয়তন ও ত্রি মাত্রিক গঠন রয়েছে। কারণ, এক্ষেত্রে আন্ত:আণবিক বলের মান খুব বেশি হওয়ায় অণুগুলো একে অন্য থেকে আলাদা হতে পারে না। অণুগুলোর শুধুমাত্র দোলন বা কম্পনের স্বাধীনতা থাকে। 

তরল পদার্থ (Liquid)- 
তরল পদার্থের নির্দিষ্ট আয়তন থাকলেও এর কোন নির্দিস্ট আকৃতি নেই। কারণ, এ ক্ষেত্রে অণুগুলো একে অপরের কাছাকাছি থাকলেও এদের আন্তঃআণবিক আকর্ষণ বল তুলনামূলকভাবে কঠিন পদার্থের চেয়ে কম। ফলে এদের মধ্যে দূরত্ব বৃদ্ধি পায়। এ জন্য অণুগুলির চলাফেরা করার স্বাধীনতা থাকে। তাই কঠিন পদার্থকে তরল পদার্থে রূপান্তরিত করলে আয়তন বেড়ে যায় ।

পানি ব্যতিক্রম ধর্মী তরল পদার্থ। কারণ বরফকে পানিতে রূপান্তরিত করলে আয়তন কমে যায়। এর কারণ হলো বরফের গঠণ কাঠামোতে অনেক ফাঁকা স্থান থাকে যা তরল পানির ক্ষেত্রে পূরণ হয়। এ ছাড়া তরল পানিতে হাইড্রোজেন বন্ধনের উপস্থিতি পানির আয়তন হ্রাসের অন্যতম কারণ ।

গ্যাস (Gas)- 
বাষ্পীয় বা গ্যাসীয় অবস্থায় পদার্থের অণুসমূহের মধ্যে পারষ্পরিক আকর্ষণ খুবই কম। ফলে এরা যথেষ্ট দূরে দূরে অবস্থান করে এবং বিনা বাধায় চলাফেরা করতে পারে। ফলে পাত্রের পুরো জায়গা এরা দখল করে। তবে চাপ প্রয়োগে অণুসমূহ কাছাকাছি আসে এবং গ্যাসের আয়তন কমে যায়। তাপ বাড়ালে উল্টো ঘটনা ঘটে। আন্ত:আণবিক শক্তি কমে যায় এবং গতিশক্তি বেড়ে যায়। ফলে গ্যাস অণুসমূহ আরো ছড়িয়ে পড়ে এবং গ্যাসের আয়তন বেড়ে যায়।

সূত্র: ৪ পৃষ্ঠা, রসায়ন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২০.
কোনো সিস্টেমের বিশৃংখলার সূচক পরিমাপক -
  1. ক) সিস্টেম লস
  2. খ) কর্মদক্ষতা
  3. গ) এনথালপি
  4. ঘ) এনট্রপি
ব্যাখ্যা
এনট্রপি: কোনো সিষ্টেমের বিশৃঙ্খলা সূচক পরিমাপকে এন্ট্রপি বলে।
আমরা জানি, কোনো গ্যাসকে রুদ্ধতাপীয় প্রক্রিয়ায় সঙ্কুচিত করার সময় কিছু কাজ করা হয়।
ফলে গ্যাসের অভ্যন্তরীণ শক্তি এবং তাপমাত্রা বৃদ্ধি পায়। আবার রুদ্ধতাপীয় প্রক্রিয়ায় গ্যাসকে প্রসারিত হতে দিলে গ্যাসকে কিছু কাজ করতে হয়।
অন্তর্নিহিত শক্তির দ্বারা গ্যাস এই কাজ করে।
ফলে গ্যাসের অভ্যন্তরীণ শক্তি ও তাপমাত্রা উভয়েই হ্রাস পায়।
বিজ্ঞানী ক্লসিয়াস তাপগতিবিদ্যার দ্বিতীয় সূত্র নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষার সময় উপলব্ধি করেন যে, সমোষ্ণ প্রক্রিয়ায় যেমন তাপমাত্রা
স্থির থাকে, রুদ্ধতাপীয় প্রক্রিয়াও তেমনি কোনো একটি রাশি স্থির থাকে।
ক্লসিয়াস এই রাশিটির নাম দেন এনট্রপি। 

সূত্রঃ পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্র, এইচএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়
২১.
পেরিস্কোপ তৈরিতে ব্যবহৃত হয় -
  1. ক) উত্তল লেন্স
  2. খ) সমতল দর্পণ
  3. গ) উত্তল দর্পণ
  4. ঘ) অবতল দর্পণ
ব্যাখ্যা
পেরিস্কোপ তৈরিতে সমতল দর্পণ ব্যবহৃত হয়।
দুটি সমতল দর্পনের ক্রমিক প্রতিফলন ব্যবহার পেরিস্কোপ তৈরী করা হয়। এখানে শুধুমাত্র প্রতিফলন ঘটে।

পেরিস্কোপ তৈরিতে দুইটি সমতল দর্পণের প্রয়োজন হয়। আলো প্রথম দর্পণে এসে প্রতিফলিত হয়ে দ্বিতীয় দর্পণে পড়ে। দ্বিতীয় দর্পণ থেকে আলো প্রতিফলিত হয়ে আমাদের চোখে পড়ে, তখন যে বস্তুটি সরাসরি দেখা যায়, সেইটা আমরা দেখতে পাই।


উৎস: বিজ্ঞান, ষষ্ঠ শ্রেণি এবং জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি জাদুঘর ওয়েবসাইট।
২২.
গ্যাসীয় অবস্থায় পদার্থের
  1. ক) আন্তঃআণবিক আকর্ষণ বল গতি শক্তির তুলনায় অনেক বেশি হয়।
  2. খ) আন্তঃআণবিক আকর্ষণ বল গতি শক্তির তুলনায় অনেক কম হয়।
  3. গ) আন্তঃআণবিক আকর্ষণ বল গতি শক্তির সমান হয়।
  4. ঘ) আন্তঃআণবিক আকর্ষণ বল গতি শক্তির সমানুপাতিক হয়।
ব্যাখ্যা
পদার্থের আন্তঃআণবিক আকর্ষণ বল গতিশক্তির তুলনায় বেশি হলে কঠিন অবস্থা, আন্তঃআণবিক আকর্ষণ বল এবং গতিশক্তি সমান হলে তখন তরল অবস্থা। আর যদি উপাদান কণার গতিশক্তি, আন্তঃআণবিক আকর্ষণ বলের তুলনায় অনেক বেশি হয় তবে পদার্থ গ্যাসীয় অবস্থায় অবস্থান করবে।

সূত্রঃ রসায়ন প্রথম পত্র, এইচএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৩.
একটি পাথর উপর থেকে ছেড়ে দিলে এটি ভূমি স্পর্শ করা পর্যন্ত শক্তির কী কী ধরণের পরিবর্তন ঘটে?
  1. ক) গতি শক্তি > বিভব শক্তি > শব্দ শক্তি
  2. খ) স্থিতি শক্তি > গতি শক্তি > শব্দ শক্তি
  3. গ) বিভব শক্তি > গতি শক্তি > শব্দ শক্তি ও তাপ শক্তি
  4. ঘ) গতি শক্তি > স্থিতি শক্তি > তাপ শক্তি
ব্যাখ্যা
একটি পাথর যখন উপরে স্থির অবস্থায় থাকে তখন এর মধ্যে বিভব শক্তি বা স্থিতি শক্তি জমা থাকে।
যখন পাথরটিকে ছেড়ে দেয়া হবে তখন অভিকর্ষজ বলের প্রভাবে বিভব শক্তি গতি শক্তিতে রুপান্তরিত হবে।
পাথরটি যখন ভূমিতে আঘাত করবে তখন আঘাতের ফলে যে স্থানে আঘাত করবে সেখানে তাপ শক্তি উৎপন্ন হবে এবং একই সাথে শব্দ শক্তি উৎপন্ন হবে।

সুতরাং, শক্তির পরিবর্তন হবে - বিভব শক্তি > গতি শক্তি > শব্দ শক্তি ও তাপ শক্তি 

সূত্র: পদার্থ বিজ্ঞান, নমব-দশম শ্রেণি
২৪.
পোলোনিয়াম ও রেডিয়াম কে আবিষ্কার করেন? 
  1. ক) হেনরি বেকরেল 
  2. খ) মাদাম কুরী এবং পিয়ের কুরী
  3. গ) জাবির ইবনে হাইয়ান
  4. ঘ) বেঞ্জামিন লিস্ট
ব্যাখ্যা
- 1896 খ্রিস্টাব্দে হেনরি বেকারেল তেজস্ক্রিয়তা আবিষ্কার করেন।
- মাদাম কুরী এবং পিয়ের কুরী পিচব্লেণ্ড থেকে পোলোনিয়াম এবং আরও পরে অত্যাধিক তেজস্ক্রিয় পদার্থ রেডিয়াম আবিষ্কার করেন।
- রসায়নের জনক জাবির ইবনে হাইয়ান। 

উৎসঃ ৯ম- ১০ম শ্রেণির পদার্থ বিজ্ঞান
২৫.
নিচের কোনটিতে  ফিউশন বিক্রিয়া ঘটে? 
  1. ক) পারমাণবিক বোমা 
  2. খ) হাইড্রোজেন বোমা
  3. গ) জার বোমা
  4. ঘ) রাসায়নিক বোমা
ব্যাখ্যা
যে নিউক্লিয় বিক্রিয়ায় দুই বা ততোধিক পরমাণু যুক্ত হয়ে এক বা একাধিক ভিন্ন মৌলের পরমাণু তৈরি করে তাই নিউক্লিয় ফিউশন (fusion) বিক্রিয়া। যেমন -
হাইড্রোজেনের দুইটি আইসোটোপ ডিউটেরিয়াম ও ট্রিটিয়াম যুক্ত হয়ে হিলিয়াম তৈরি করে থাকে। 
এই বিক্রিয়াটি সূর্যে ঘটে থাকে।
ফিউশন বিক্রিয়াকে মূলনীতি হিসেবে ধরে হাইড্রোজেন বোমা তৈরি করা হয়।

অপরদিকে যে নিউক্লিয় বিক্রিয়ায় একটি পরমাণু ভেঙ্গে (জোড়পূর্বক অথবা স্বতঃস্ফূর্ত) একাধিক হালকা ভিন্ন মৌলের পরমাণু তৈরি করে তাই ফিশন (fission) বিক্রিয়া। যেমন- 
পারমাণবিক চুল্লিতে ইউরেনিয়াম পরমাণুকে একটি নিউট্রন দ্বারা আঘাত করে এর ফিশন ঘটানো হয়।
ফিশন বিক্রিয়াকে মূলনীতি হিসেবে ধরে পারমাণবিক বোমা তৈরি করা হয়।

উৎসঃ ৯ম- ১০ম শ্রেণির পদার্থ বিজ্ঞান
২৬.
ইলেকট্রোস্কোপ যন্ত্র ব্যবহার করা হয় কেন?
  1. ক) চল বিদ্যুৎ পরীক্ষার জন্য
  2. খ) ভোল্টেজ পরীক্ষার জন্য
  3. গ) রোধ পরীক্ষার জন্য
  4. ঘ) স্থির বিদ্যুৎ পরীক্ষার জন্য
ব্যাখ্যা
স্থির বিদ্যুৎ পরীক্ষার জন্য ইলেকট্রোস্কোপ যন্ত্র ব্যবহার করা হয়। 
এখানে চার্জের অস্তিত্ব বােঝার জন্য রয়েছে খুবই হালকা সােনা, অ্যালুমিনিয়াম বা অন্য কোনাে ধাতুর দুটি পাত। 

উৎসঃ ৯ম- ১০ম শ্রেণির পদার্থ বিজ্ঞান
২৭.
তড়িৎ প্রবাহ প্রকৃতপক্ষে কী?
  1. ক) প্রোটনের প্রবাহ
  2. খ) নিউট্রনের প্রবাহ
  3. গ) ইলেকট্রন-প্রোটনের প্রবাহ
  4. ঘ) ইলেক্ট্রনের প্রবাহ
ব্যাখ্যা
তড়িৎ প্রবাহ প্রকৃতপক্ষে ইলেকট্রনের প্রবাহ।
ধাতুর শেষ কক্ষপথের ইলেকট্রন দুর্বলভাবে নিউক্লিয়াসের সাথে যুক্ত থাকে, সামান্য বিভব পার্থক (voltage) প্রয়োগ করলে ইলেকট্রন মুক্ত হয়ে বর্তনীতে প্রবাহিত হয়। ইলেকট্রনের প্রবাহই তড়িৎ প্রবাহের কারণ। 
প্রোটন ও নিউট্রন অপেক্ষাকৃত ভারী কণা এবং এরা শক্তিশালী Strong Nuclear Force এর জন্য নিউক্লিয়াসে দৃঢ়ভাবে অবস্থান করে।

কিন্তু ইলেকট্রন আবিষ্কারের পূর্বে মানুষের ধারণা ছিল যে ধনাত্মক আধানের প্রবাহের জন্য তড়িৎ প্রবাহ সৃষ্টি হয়। যেহেতু ইলেকট্রন ঋণাত্মক আধানযুক্ত, সেহেতু কনভেনশনাল নিয়ম অনুযায়ী ইলেকট্রন প্রবাহের বিপরীত দিককে তড়িৎ প্রবাহের দিক ধরা হয় ।

উৎসঃ পদার্থবিজ্ঞান-২য় পত্র বই (একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি), ড. শাহজাহান তপন
২৮.
শুষ্ক কোষে কে ইলেকট্রন দান করে?
  1. ক) দস্তার খোল
  2. খ) কার্বন দন্ড
  3. গ) ম্যাঙ্গানিজ ডাই অক্সাইড
  4. ঘ) কয়লার গুড়া
ব্যাখ্যা
বিদ্যুৎ কোষ প্রধাণত দুই প্রকার। যথা- সাধারণ বিদ্যুৎ কোষ ও শুষ্ক বিদ্যুৎ কোষ।

শুষ্ক বিদ্যুৎ কোষে দস্তার তৈরি চোঙ এবং একটি কার্বন দন্ড ব্যবহৃত হয়। দস্তার চোঙে নিশাদল, কয়লার গুড়া এবং ম্যাঙ্গানিজ ডাই-অক্সাইডের মিশ্রণের সাথে সামান্য পানি মিশিয়ে লেই বা কাদার মত অবস্থায় দস্তার চোঙের মধ্যে ভর্তি করা হয়। চোঙের মধ্যে একটি কার্বনের দন্ড এমনভাবে বসানো হয় যাতে তা চোঙটিকে স্পর্শ না করে।
কার্বন দন্ডটির মাথায় পিতলের টুপি লাগানো থাকে। কার্বন দন্ডের চারপাশে গালা বা পিচের স্তর দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়।

অ্যানোডে বিক্রিয়া:  Ζn(s) → Zn2+(aq) + 2e
ক্যাথোডে বিক্রিয়া:  2NH4+(aq) + 2MnO2(s) + 2e → Mn2O3(s) + H2O(l) + 2NH3(aq) 

অর্থাৎ, জিঙ্ক (Zn) বা দস্তা ইলেক্ট্রন দান করে এবং ম্যাঙ্গানিজ ডাই অক্সাইড ইলেক্ট্রন গ্রহণ করে।

এ কোষের দস্তার চোঙটি ঋণ-মেরু এবং কার্বন দন্ড ধন-মেরু হিসেবে কাজ করে। এ কোষে ম্যাঙ্গানিজ ডাই-অক্সাইড পোলারন নিবারনের কাজ করে।
এতে সাধারণত ১.৫ ভোল্ট চাপের বিদ্যুৎ পাওয়া যায়।

উৎসঃ নবম দশম শ্রেণীর সাধারণ বিজ্ঞান বই (উন্মুক্ত)।