পরীক্ষা আর্কাইভ

৫১তম বিসিএস ফাইনাল মডেল টেস্ট ও রিভিশন

পরীক্ষা৫১তম বিসিএস ফাইনাল মডেল টেস্ট ও রিভিশনতারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়35 minutes
মোট প্রশ্ন৪৬
সিলেবাস
৪১তম বিসিএস ২৫ দিনে ফাইনাল রিভিশন - বাংলা ব্যাকরণ সম্পূর্ণ [১০০ নাম্বার]
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

৫১তম বিসিএস ফাইনাল মডেল টেস্ট ও রিভিশন

৫১তম বিসিএস ফাইনাল মডেল টেস্ট ও রিভিশন · তারিখ অনির্ধারিত · ৪৬ প্রশ্ন

.
ক্রিয়ামূল/ধাতু বা শব্দের পরে পরে যে শব্দখন্ড যুক্ত হয়ে শব্দগঠন করে তাকে ___ বলে।
  1. ক) প্রকৃতি
  2. খ) কৃদন্ত পদ
  3. গ) প্রত্যয়
  4. ঘ) প্রাতিপদিক
ব্যাখ্যা

প্রত্যয়:
যে বর্ণ বা বর্ণগুচ্ছ ধাতু বা প্রাতিপদিকের সঙ্গে যুক্ত হয়ে শব্দগঠন করে তাকে প্রত্যয় বলে।
অথবা, ক্রিয়ামূল/ধাতু বা শব্দের পরে পরে যে শব্দখন্ড যুক্ত হয়ে শব্দগঠন করে তাকে প্রত্যয় বলে।
যেমন -
√চল্‌ + আ = চলা। (ক্রিয়ামূলের সাথে যুক্ত হয়ে)
ঢাকা + আই = ঢাকাই (নাম শব্দের সাথে যুক্ত হয়ে)

উৎসঃ ভাষা শিক্ষা বই, ড. হায়াৎ মামুদ।

.
নিচের কোন বাক্যটি শুদ্ধ?
  1. ক) কে এই ভাগ্যবান মহিলা?
  2. খ) তোমার মতো এমন বুদ্ধিমান বালিকা আমি আর দ্বিতীয়টি দেখি নি।
  3. গ) বেগম রোকেয়া একজন বিদুষী মহিলা।
  4. ঘ) সবগুলো শুদ্ধ
ব্যাখ্যা

অপশন ক ও খ -তে প্রদত্ত বাক্যে লিঙ্গ-সঙ্গতি জনিত ভুল রয়েছে।
স্ত্রীবাচক শব্দের আগে স্ত্রীবাচক বিশেষণ বসে।
ক) ও খ দুটি বাক্যের শুদ্ধরূপঃ
- কে এই ভাগ্যবতী মহিলা?
- তোমার মতো এমন বুদ্ধিমতী বালিকা আমি আর দ্বিতীয়টি দেখি নি।

অপশন গ) এ প্রদত্ত বাক্যটি শুদ্ধ। বিদ্বান - এর স্ত্রীবাচক শব্দ - বিদুষী

উৎসঃ ভাষা শিক্ষা বই, ড. হায়াৎ মামুদ ও বাংলা একাডেমী অভিধান।

.
কোন বাক্যটিতে পুনরুক্তি বা বাহুল্যজনিত অশুদ্ধি রয়েছে?
  1. ক) তিনি স্বস্ত্রীক ঢাকায় থাকেন।
  2. খ) শুধুমাত্র এই কটা টাকা দিলে?
  3. গ) মন্ত্রীর অনুপস্থিতে সচিব দায়িত্ব পালন করবেন।
  4. ঘ) রুমানা একটি ভাগ্যবান মেয়ে।
ব্যাখ্যা

অপশন খ) তে পুনরুক্তি বা বাহুল্যজনিত ভুল বিদ্যমান।
বাক্যটির শুদ্ধরূপ হবে - শুধু এই কটা টাকা দিলে?
এরকম আরো উদাহরণ -
অশুদ্ধ -----------------------------------শুদ্ধ
- সমূলসহ বৃক্ষটি উৎপাটিত হয়েছে --- বৃক্ষটি সমূল উৎপাটিত হয়েছে।
- ব্যাপারটা আমার আয়ত্তাধীন নয় --- ব্যাপারটা আমার আয়ত্ত নয়।
- তৎকালীন সময়ের রাজা নসিবুল্লা অদ্যাপি নিরুদ্দেশ --- তৎকালীন রাজা নসিবুল্লাহ অদ্যাপি নিরুদ্দেশ।

ক ও গ - তে যথার্থ শব্দ প্রয়োগ না করার ভুল হয়েছে।
ঘ) অপশনে লিঙ্গ-সঙ্গতি জনিত ভুল রয়েছে।

উৎসঃ ভাষা শিক্ষা বই, ড. হায়াৎ মামুদ।

.
নিচের কোন বাক্যে কোন ভুল নেই?
  1. ক) রচনাটির উৎকর্ষতা অনস্বীকার্য।
  2. খ) এরূপ জীবন কল্পনা করতেও আমাদের আতঙ্ক হয়েছিল।
  3. গ) জ্যোৎস্না রাত বড়ই মাধুর্যময়।
  4. ঘ) সর্ব বিষয়ে বাহুল্যতা বর্জন করিবে।
ব্যাখ্যা

প্রদত্ত বাক্যগুলোর মধ্যে খ) তে কোন ভুল নেই।
অন্যান্য অপশনগুলোতে ভুল থাকা বাক্যগুলোর শুদ্ধরূপঃ
- রচনাটির উৎকর্ষ অনস্বীকার্য।
- জ্যোৎস্না রাত বড়ই মধুর।
- সর্ব বিষয়ে বাহুল্য বর্জন করিবে।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

.
নিচের কোন বাক্যে বহুবচনের অপপ্রয়োগ জনিত অশুদ্ধি রয়েছে?
  1. ক) ক্লাসে অনেক ছাত্রছাত্রী এসেছিল।
  2. খ) অনাবশ্যকীয় ব্যাপারে কৌতুহল ভালো নয়।
  3. গ) অন্যান্য বিষয়গুলোর আলোচনা পরে হবে।
  4. ঘ) সকল ছাত্র পাঠে মনোযোগী নয়।
ব্যাখ্যা

বহুবচনের পরে দ্বিত্ব প্রয়োগ হয় না, অর্থ্যাৎ কোন শব্দকে একবার বহুবচনে রূপান্তরিত করলে পুনরায় তার বহুত্ব অপ্রয়োজনীয়।
কোন বাক্যে এরকম করা হলে তাতে বহুবচনের অপপ্রয়োগজনিত অশুদ্ধি ঘটে।
প্রদত্ত অপশনগুলোর মধ্যে, ক ও ঘ - সঠিক বাক্য। কোন অশুদ্ধি ঘটে নি।

- অপশন খ) তে বিশেষ্য পদের বাহুল্য প্রয়োগজনিত ভুল রয়েছে।
এর সঠিক রূপঃ অনাবশ্যক ব্যাপারে কৌতুহল ভালো নয়।
- অপশন গ) তে বহুবচনের অপপ্রয়োগজনিত অশুদ্ধি রয়েছে।
এর শুদ্ধরূপ হবেঃ অন্য বিষয়গুলোর আলোচনা পরে হবে।

উৎসঃ ভাষা শিক্ষা বই, ড. হায়াৎ মামুদ।

.
নিচের কোনটি সংস্কৃত কৃৎ-প্রত্যয়ান্ত শব্দ?
  1. ক) ডুবুরী
  2. খ) পূজারী
  3. গ) বর্ধমান
  4. ঘ) উড়ুয়া
ব্যাখ্যা

'শানচ্‌' একটি সংস্কৃত কৃৎ-প্রত্যয়। এই প্রত্যয় যোগে গঠিত কয়েকটি শব্দঃ
√দীপ্‌ + শানচ্‌ = দীপ্যমান;  √চল্‌ + শানচ্‌ = চলমান
√বৃধ্‌ + শানচ্‌ = বর্ধমান।

ডুবুরী, পূজারী ও উড়ুয়া - বাংলা কৃৎ-প্রত্যয়।

উৎসঃ নবম - দশম শ্রেণির বাংলা ব্যাকরণ বোর্ড বই।

.
‘যুক্তি খণ্ডন হয়েছে, তবে মুক্তি মেলেনি।’ - বাক্যটিতে কোন ধরনের ভুল রয়েছে?
  1. ক) বহুবচনের অপপ্রয়োগজনিত
  2. খ) বিশেষণের বাহুল্য প্রয়োগজনিত
  3. গ) বাচ্যজনিত
  4. ঘ) পুনরুক্তিজনিত
ব্যাখ্যা

কর্তৃবাচ্যে বিশেষ্য ও করা ক্রিয়ার রূপ থাকলে কর্মবাচ্যে বিশেষণ ও হওয়া ক্রিয়ার রূপ হবে। অন্যথায় বাচ্যজনিত ভুল সংঘটিত হয়।
উল্লেখিত বাক্যটির শুদ্ধরূপঃ
- যুক্তি খণ্ডিত হয়েছে, তবে মুক্তি মেলে নি।

এরূপ আরো কয়েকটি উদাহরণ -
অশুদ্ধ ----------------------শুদ্ধ
- আমি অপমান হয়েছি -- আমি অপমানিত হয়েছি।
- বিধি লঙ্ঘন হয়েছে -- বিধি লঙ্ঘিত হয়েছে।
- এ কথা প্রমাণ হয়েছে -- এ কথা প্রমাণিত হয়েছে।

উৎসঃ ভাষা শিক্ষা বই, ড. হায়াৎ মামুদ।

.
নিচের কোন শব্দটির প্রয়োগ শুদ্ধ?
  1. ক) পার্বতীয়
  2. খ) সম্ভ্রান্তশালী
  3. গ) আবশ্যকতা
  4. ঘ) ক + খ
ব্যাখ্যা

আবশ্যকতা শব্দটির প্রয়োগ শুদ্ধ।
আবশ্যকতা ((বিশেষ্য)) - প্রয়োজনীয়তা।
উদাহরণ - ইহার আবশ্যকতা নাই।

অন্যদিকে,
- পার্বতীয় শব্দটি বাক্যে প্রয়োগে ভুল হবে।
সঠিক ব্যবহারিক রূপ - পার্বত্য
- সম্ভ্রান্তশালী ও ভুল। এর সঠিক রূপ - সম্ভ্রান্ত

উৎসঃ বাংলা একাডেমী অভিধান ও ভাষা শিক্ষা বই, ড. হায়াৎ মামুদ।

.
কোনটি বিদেশী তদ্ধিত প্রত্যয়ান্ত শব্দ নয়?
  1. ক) টেকসই
  2. খ) জবানবন্দি
  3. গ) মানানসই
  4. ঘ) নামসই
ব্যাখ্যা

কয়েকটি বিদেশি তদ্ধিত প্রতয়ঃ

ওয়ান>আন (হিন্দি) : গাড়ি - গাড়োয়ান; দার - দারোয়ান।
গর>কর (ফারসি) : কারিগর, বাজিকর, সওদাগর।
বন্দি (বন্দ - ফারসি) : জবানবন্দি, সারিবন্দি, নজরবন্দি, কোমরবন্দ।
সই (মতো অর্থে) : জুতসই, মানানসই, চলনসই, টেকসই।

উল্লেখ্য, 'টিপসই' ও 'নামসই' - শব্দ দুটির 'সই' প্রত্যয় নয়।
এটি 'সহি' শব্দ থেকে উৎপন্ন। এর অর্থ - স্বাক্ষর

উৎসঃ নবম - দশম শ্রেণির বাংলা ব্যাকরণ বোর্ড বই।

১০.
নিচের কোনটি নিপাতনে সিদ্ধ কৃৎ-প্রত্যয়?
  1. ক) √শক্‌ + ক্তি = শক্তি
  2. খ) √শ্রম্‌ + ক্তি = শ্রান্তি
  3. গ) √বচ্‌ + ক্তি = উক্তি
  4. ঘ) সবগুলো
ব্যাখ্যা

বিশেষ নিয়মে কৃৎ-প্রত্যয় সাধিত শব্দঃ 
ক) ক্তি - প্রত্যয় যোগ করলে কোন কোন ধাতুর অন্ত ব্যঞ্জনের লোপ হয়।
যেমন - √মন্‌ + ক্তি = মতি; √রম্‌ + ক্তি = রতি।

খ) কোনো কোনো ধাতুর উপধা অ-কারের বৃদ্ধি হয়, অর্থ্যাৎ অ-কার হয় না।
যেমন - √শ্রম্‌ + ক্তি = শ্রান্তি; √শম্‌ + ক্তি = শান্তি।

গ) 'চ' এবং 'জ' এর স্থলে 'ক' হয়।
যেমন - √বচ্‌ + ক্তি = উক্তি; √মুচ্‌ + ক্তি = মুক্তি

ঘ) নিপাতনে সিদ্ধ - 
উদাহরণঃ √গৈ + ক্তি = গীতি; √সিধ্‌ + ক্তি = সিদ্ধি
√বুধ্‌ + ক্তি = বুদ্ধি; √শক্‌ + ক্তি = শক্তি

উৎসঃ নবম - দশম শ্রেণির বাংলা ব্যাকরণ বোর্ড বই।

১১.
‘লেজ - লেজুড়’ শব্দটিতে ‘উড়’ প্রত্যয়টি কোন অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. ক) সম্পর্কিত অর্থে
  2. খ) বিশেষণ গঠনে
  3. গ) সংশ্লিষ্ট অর্থে
  4. ঘ) অর্থহীনভাবে
ব্যাখ্যা

বাংলা তদ্ধিত প্রতয় - এর ব্যবহারঃ

- সম্পর্কিত অর্থে উয়া/ওয়া>ও প্রত্যয় -- ঘর + ওয়া = ঘরোয়া; জল + উয়া = জলুয়া>জলো (দুধ)।
- অর্থহীনভাবে 'উড়' প্রত্যয় -- লেজ - লেজুড়।
- বিশেষণ গঠনে 'আটিয়া/টে' - প্রত্যয় -- তামা - তামাটিয়া > তামাটে; ঝগড়া - ঝগড়াটে।
- বিশেষণ গঠনে 'উক' - প্রত্যয় -- লাজ - লাজুক; মিশ - মিশুক; মিথ্যা - মিথ্যুক।

উৎসঃ নবম - দশম শ্রেণির বাংলা ব্যাকরণ বোর্ড বই।

১২.
নিচের কোন বাক্যটি ‘যোগ্যতা’ হারিয়েছে?
  1. ক) বর্ষার রৌদ্র প্লাবনের সৃষ্টি করে।
  2. খ) পৃথিবী সূর্যের চারদিকে ঘোরে।
  3. গ) বর্ষার বৃষ্টিতে প্লাবনের সৃষ্টি হয়।
  4. ঘ) কাল আমাদের স্কুলে পুরস্কার বিতরণী উৎসব হবে।
ব্যাখ্যা

বাক্যের একটি অন্যতম গুণ হচ্ছে - যোগ্যতা।
বাক্যস্থিত পদসমূহের অন্তর্গত ও ভাবগত মিলবন্ধনের নাম যোগ্যতা
যেমন - 'বর্ষার বৃষ্টিতে প্লাবনের সৃষ্টি হয়।'
এটি একটি যোগ্যতা সম্পন্ন বাক্য; কেননা - বাক্যটিতে পদসমূহের অর্থগত ও ভাবগত সমন্বয় রয়েছে।

কিন্তু, 'বর্ষার রৌদ্র প্লাবনের সৃষ্টি করে।' বললে বাক্যটি যোগ্যতা হারাবে। কারণ, রৌদ্র প্লাবন সৃষ্টি করে না।

উৎসঃ নবম - দশম শ্রেণির বাংলা ব্যাকরণ বোর্ড বই।

১৩.
নিচের কোনটি সঠিক?
  1. ক) সুর + ষ্ণ (অ) = সৌর
  2. খ) মেধা + বিন = মেধাবী
  3. গ) গুণ + মান্‌ = গুণবান
  4. ঘ) তেজঃ + বিন্‌ = তেজস্বী
ব্যাখ্যা

বিন (বী) প্রত্যয় -- 'আছে' অর্থে বিশেষণ গঠনেঃ
মেধা + বিন্‌ = মেধাবী
মায়া + বিন্‌ = মায়াবী
তেজঃ + বিন্‌ = তেজস্বী
যশঃ + বিন্‌ = যশস্বী

অন্যদুটি শব্দের সঠিক প্রত্যয়ান্ত রূপঃ
সূর্য + ষ্ণ = সৌর (নিপাতনে সিদ্ধ)
গুণ + বতুপ্‌ = গুণবান

উৎসঃ নবম - দশম শ্রেণির বাংলা ব্যাকরণ বোর্ড বই।

১৪.
গুরুচণ্ডালী দোষ সৃষ্টি হয় -
  1. ক) তদ্ভব - চলিত শব্দের মিশ্রণ হলে
  2. খ) বাগধারার ভুল প্রয়োগ করলে
  3. গ) তৎসম - দেশি শব্দের মিশ্রণ হলে
  4. ঘ) উপমার ভুল প্রয়োগ করলে
ব্যাখ্যা

গুরুচন্ডালী দোষঃ
তৎসম শব্দের সাথে দেশীয় শব্দের প্রয়োগ কখনো কখনো গুরুচন্ডালী দোষ সৃষ্টি করে।
গুরুচন্ডালী দোষে দুষ্ট শব্দ তার যোগ্যতা হারায়।
যেমন -
গরুর শকট, শবপোড়া, মড়াদাহ ইত্যাদি।
যথাক্রমে, এগুলোর শুদ্ধরূপ হচ্ছে -
গরুর গাড়ি, শবদাহ, মড়াপোড়া
উৎসঃ নবম - দশম শ্রেণির বাংলা ব্যাকরণ বোর্ড বই।

১৫.
‘তুমি আমার সাথে প্রপঞ্চ করেছো’ - বাক্যটিতে রীতিসিদ্ধ অর্থবাচকতার ক্ষেত্রে কোন ধরনের ভুল রয়েছে?
  1. ক) উপমার ভুল প্রয়োগ
  2. খ) বাহুল্য-দোষ
  3. গ) দুর্বোধ্যতা
  4. ঘ) বাগধারার ভুল প্রয়োগ
ব্যাখ্যা

দুর্বোধ্যতাঃ
অপ্রচলিত, দুর্বোধ্য শব্দ ব্যবহার করলে বাক্যের যোগ্যতা বিনষ্ট হয়।
যেমন - তুমি আমার সাথে প্রপঞ্চ করেছো।
এখানে, প্রপঞ্চ শব্দটি 'মায়া' অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে; কিন্তু শব্দটি প্রচলিত নয়।

উৎসঃ নবম - দশম শ্রেণির বাংলা ব্যাকরণ বোর্ড বই।

১৬.
গঠনগতভাবে শব্দ কত প্রকার?
  1. ক) দুই
  2. খ) তিন
  3. গ) চার
  4. ঘ) পাঁচ
ব্যাখ্যা

গঠনগত দিক থেকে শব্দ দুই প্রকার
যথা- মৌলিক ও সাধিত শব্দ।

উৎসগত দিক থেকে শব্দ ৪ প্রকার
যথা- তৎসম, তদ্ভব, দেশি ও বিদেশি শব্দ।

অর্থগত দিক থেকে শব্দ তিন প্রকার‌
যথা- যৌগিক শব্দ, রূঢ়ি বা রূঢ় শব্দ ও যোগরূঢ় শব্দ।

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (নতুন সংস্করণ)।

১৭.
বিশেষ নিয়মে সাধিত সন্ধি কোনটি?
  1. ক) আ + চর্য = আশ্চর্য
  2. খ) গো + পদ = গোষ্পদ
  3. গ) ষট্ + দশ = ষোড়শ
  4. ঘ) উৎ + স্থান = উত্থান
ব্যাখ্যা

বিশেষ নিয়মে সাধিত কতগুলো সন্ধি হচ্ছে -
উৎ + স্থান = উত্থান,
সম্ + কার = সংস্কার,
সম্ + বিধান = সংবিধান,
উৎ + স্থাপন = উত্থাপন,
সম্ + কৃত = সংস্কৃত ইত্যাদি।

নিপাতনে সিদ্ধ কতগুলো সন্ধির উদাহরণ -
আ + চর্য = আশ্চর্য,
গো + পদ = গোষ্পদ,
ষট্ + দশ = ষোড়শ

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি

১৮.
নিচের কোন বানানটি সঠিক?
  1. ক) পরিস্কার
  2. খ) নষ্ট
  3. গ) ভাসণ
  4. ঘ) উষা
ব্যাখ্যা

ট–বর্গীয় ধ্বনির সঙ্গে 'ষ' যুক্ত হয়৷
যথা: কষ্ট, স্পষ্ট, নষ্ট, কাষ্ঠ, ওষ্ঠ ইত্যাদি।

আবার কতগুলো শব্দে স্বভাবতই 'ষ' হয়৷
যথা: ষড়ঋতু, ভাষণ, ঊষা, ভূষণ, ঔষধ ইত্যাদি৷

র-ধ্বনির পরে যদি অ, আ ভিন্ন অন্য স্বরধনি থাকে, তবে তার পরে 'ষ' বসে। যেমন - পরিষ্কার।

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, ৯ম-১০ম শ্রেণি

১৯.
'আলো' শব্দের সমার্থক শব্দ কোনটি?
  1. ক) দুহিতা
  2. খ) কিরণ
  3. গ) বিভা
  4. ঘ) খ ও গ উভয়ই
ব্যাখ্যা

আলো - আলোক, বিভা, কিরণ, দীপ্তি, প্রভা, জ্যোতি, ময়ূখ, রওশন, নুর, আভা৷
অন্যদিকে,
কন্যা - মেয়ে, নন্দিনী, দুহিতা, আত্মজা, সুতা, তনয়া, তনজা, ঝি, বেটি৷
উৎসঃ ভাষা - শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ

২০.
'Ad hoc'-এর বাংলা পরিভাষা কোনটি?
  1. ক) অধিবিদ্যা
  2. খ) উপদেষ্টা
  3. গ) তদর্থক
  4. ঘ) অধিবক্তা
ব্যাখ্যা
Ad hoc - অনানুষ্ঠানিক / তদর্থক
Academic - অধিবিদ্যা / শিক্ষায়তনিক
Adviser - উপদেষ্টা
Advocate - অধিবক্তা / উকিল৷
উৎসঃ ভাষা - শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ
২১.
নিচের কোনটি যৌগিক শব্দ?
  1. ক) গোলাপ
  2. খ) গবেষণা
  3. গ) কর্তব্য
  4. ঘ) পঙ্কজ
ব্যাখ্যা

যে সকল শব্দের ব্যুৎপত্তিগত অর্থ ও ব্যবহারিক অর্থ একই রকম, সেগুলোকে যৌগিক শব্দ বলে ।

যেমন–

গায়ক = গৈ + ণক (অক)

অর্থ: গান করে যে।

কর্তব্য = কৃ + তব্য

অর্থ: যা করা উচিত।

বাবুয়ানা = বাবু + আনা

অর্থ: বাবুর ভাব। 

'গবেষণা' শব্দটি রূঢ়ি শব্দ।

'পঙ্কজ' যোগরূঢ় শব্দ।

'গোলাপ' মৌলিক শব্দ৷ 


উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যকরণ (নবম - দশম শ্রেণী)

২২.
নিচের কোনটি অন্তস্থ ধ্বনি ?
  1. ক) য
  2. খ) ল
  3. গ) র
  4. ঘ) সবকটি
ব্যাখ্যা
স্পর্শ বা উষ্ম ধ্বনির অন্তরে অর্থাৎ মাঝে থাকে বলে য, র, ল, ব এ ধ্বনিগুলোকে অন্তস্থ ধ্বনি বলে এবং এই ধ্বনিগুলোর লিখিত রূপকে বলে অন্তস্থ বর্ণ।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণী
২৩.
সমঅর্থবহ শব্দগুচ্ছ কোনটি?
  1. ক) বিভাবরী, রজনী
  2. খ) যামিনী, দ্বিজ
  3. গ) তনু, নিশা
  4. ঘ) কলেবর, পক্ষধর
ব্যাখ্যা

রাত্রি - নিশা, রজনী, যামিনী, নিশীথিনী, শর্বরী, বিভাবরী, ক্ষণদা।
পাখি - পক্ষী, বিহগ, পতগ, বিহঙ্গ, খগ, দ্বিজ, খেচর, পক্ষধর, চিড়িয়া, পাখপাখালি।
শরীর - দেহ, কায়া, কলেবর, তনু, বপু৷

উৎসঃ ভাষা - শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ

২৪.
'উগ্র' শব্দের বিপরীত শব্দ চিহ্নিত করুন৷
  1. ক) প্রীতি
  2. খ) সংকীর্ণ
  3. গ) সৌম্য
  4. ঘ) উন্মুখ
ব্যাখ্যা
উগ্র - সৌম্য/কোমল;
ঈর্ষা - প্রীতি;
উদার - অনুদার / সংকীর্ণ;
উন্মুখ - বিমুখ।

উৎসঃ ভাষা - শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ
২৫.
'High Commissioner'–এর বাংলা পরিভাষা হলো-
  1. ক) পরিষদ সচিব
  2. খ) মহাসচিব
  3. গ) রাষ্ট্রদূত
  4. ঘ) প্রশাসক
ব্যাখ্যা
রাষ্ট্রদূত - High Commissioner
পরিষদ-সচিব - Parliamentary secretary.
Secretary General - কোনো বৃহৎ সংগঠনের (যেমন জাতিসংঘের) প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা; মহাসচিব।
স্বরাষ্ট্র সচিব - Home Secretary.
উৎসঃ ভাষা - শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা একাডেমী অভিধান
২৬.
একচ্ছত্র - এর সন্ধিবিচ্ছেদ করুন৷
  1. ক) এক + ছত্র
  2. খ) এক + ছাত্র
  3. গ) এক + চ্ছ
  4. ঘ) এক + ছদ
ব্যাখ্যা
স্বরধ্বনির পর ‘ছ’ থাকলে উক্ত ব্যঞ্জনধ্বনিটি দ্বিত্ব (চ্ছ) হয়৷

যেমন-
এক + ছত্র = একচ্ছত্র

কথা + ছলে = কথাচ্ছলে

পরি + ছদ = পরিচ্ছদ
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
২৭.
নিচের কোনটি কর্মধারয় সমাস?
  1. ক) ধোয়ামোছা
  2. খ) বিদ্যাহীন
  3. গ) বিয়েপাগলা
  4. ঘ) বিলাতফেরত
ব্যাখ্যা

কার্যে পরম্পরা বোঝাতে দুটি কৃদন্ত বিশেষণ পদে কর্মধারয় সমাস হয়৷
যেমন - আগে ধোয়া পরে মোছা = ধোয়ামোছা।
বিদ্যাহীন, বিয়েপাগলা, বিলাতফেরত হলো তৎপুরুষ সমাস৷
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যকরণ, নবম - দশম শ্রেণি

২৮.
‘গুরুভক্তি’ কোন ধরনের সমাস?
  1. ক) অলুক তৎপুরুষ
  2. খ) নঞ্‌ তৎপুরুষ
  3. গ) উপপদ তৎপুরুষ
  4. ঘ) চতুর্থী তৎপুরুষ
ব্যাখ্যা

পূর্বপদে চতুর্থী বিভক্তি (কে, রে, জন্য, নিমিত্ত ইত্যাদি) লোপে যে সমাস হয়, তাকে চতুর্থী তৎপুরুষ সমাস বলে।
যেমনঃ বিয়ের জন্য পাগল - বিয়েপাগল,
গুরুকে ভক্তি - গুরুভক্তি,
বিদ্যার জন্য আলয় - বিদ্যালয়।
উৎসঃ ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ

২৯.
সংযোজক অব্যয়ের উদাহরণ কোনটি?
  1. ক) বরং
  2. খ) অধিকন্তু
  3. গ) অথবা
  4. ঘ) নতুবা
ব্যাখ্যা
সংকোচক অব্যয় - কিন্তু, বরং, অথচ।
সংযোজক অব্যয় - আর, অধিকন্তু, সুতরাং।
বিয়োজক অব্যয় - বা, অথবা, নতুবা, নয়তো।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণী
৩০.
শন শন করে বাতাস বইছে— বাক্যে 'শন শন' কী ধরনের অব্যয়?
  1. ক) অনুসর্গ
  2. খ) অনন্বয়ী
  3. গ) অনুকার
  4. ঘ) সমুচ্চয়ী
ব্যাখ্যা
যে সকল অব্যয় অব্যক্ত রব, শব্দ বা ধ্বনির অনুকরণে গঠিত হয়, সেগুলোকে অনুকার বা ধ্বন্যাত্মক অব্যয় বলে।
ধ্বন্যাত্মক অব্যয়ের উদাহরণঃ বাতাসের গতি - শন শন, বজ্রের ধ্বনি - কড় কড়, স্রোতের ধ্বনি - কলকল, শুষ্ক পাতার শব্দ - মর মর।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণী
৩১.
‘আবার’ শব্দটি কী পদ?
  1. ক) বিশেষ্য
  2. খ) অব্যয়
  3. গ) বিশেষণ
  4. ঘ) সর্বনাম
ব্যাখ্যা
ন ব্যয় = অব্যয়।
যার ব্যয় বা পরিবর্তন হয় না, অর্থাৎ যা অপরিবর্তনীয় শব্দ তাই অব্যয়।
যেমন- আর, আবার, হ্যাঁ, না, এবং, জন্য, আর, সহসা, হঠাৎ, সুতরাং, কিন্তু, ও, আবার, আলবত, বহুত, খুব ইত্যাদি।
বাংলা ভাষায় তিন প্রকার অব্যয় শব্দ রয়েছে৷
যথা- বাংলা অব্যয় শব্দ, তৎসম অব্যয় শব্দ এবং বিদেশী অব্যয় শব্দ৷
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণী
৩২.
নিচের কোন শব্দযুগল সঠিক বিপরীতার্থক নয়?
  1. ক) ঐশ্বর্য - অনৌদার্য
  2. খ) ঐহিক - পারত্রিক
  3. গ) ঐহলৌকিক - পারলৌকিক
  4. ঘ) ঔজ্জ্বল্য - ম্লানিমা
ব্যাখ্যা
ঐশ্বর্য - দারিদ্র্য;
ঔদার্য - অনৌদার্য;
ঐহিক - পারত্রিক;
ঐহলৌকিক - পারলৌকিক;
ঔজ্জ্বল্য - ম্লানিমা।

উৎসঃ ভাষা - শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ ও বাংলা একাডেমি অভিধান।
৩৩.
লাফ > ফাল কীসের উদাহরণ?
  1. ক) অপিনিহিতি
  2. খ) মধ্য স্বরাগম
  3. গ) ধ্বনি বিপর্যয়
  4. ঘ) ব্যঞ্জনচ্যুতি
ব্যাখ্যা
শব্দের মধ্যে দুটি ব্যঞ্জনের পরস্পর পরিবর্তন ঘটলে তাকে ধ্বনি বিপর্যয় বলে।
যেমনঃ বাক্‌স > বাস্‌ক, রিক্‌সা > রিস্‌কা।
এরূপ- পিশাচ > পিচাশ, লাফ > ফাল।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণী
৩৪.
স্বরধ্বনির সংক্ষিপ্ত রূপকে বলে-
  1. ক) বিভক্তি
  2. খ) উপসর্গ
  3. গ) কার
  4. ঘ) ফলা
ব্যাখ্যা
স্বরধ্বনির সংক্ষিপ্ত রূপকে বলে সংক্ষিপ্ত স্বরচিহ্ন বা কার।
বাংলা ভাষায় কার রয়েছে ১০ টি৷ অ-কারের সংক্ষিপ্ত রূপের জন্য কোন চিহ্ন নেই৷

উৎসঃ ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ৷
৩৫.
কম্পনজাত বর্ণ কোনটি?
  1. ক) ড়
  2. খ) ঢ়
  3. গ) র
  4. ঘ) ল
ব্যাখ্যা
কম্পনজাত ব্যঞ্জন ধ্বনির একমাত্র উদাহরণ হলো : র।
এই ধ্বনির লিখিত রূপকে বলে কম্পনজাত বর্ণ বলে৷
ড়, ঢ় হলো তাড়িত ব্যঞ্জনবর্ণ। ল হলো পার্শ্বিক ব্যঞ্জনবর্ণ।
উৎসঃ ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ৷
৩৬.
'ঊনপাঁজরে' বাগধারাটির অর্থ কী?
  1. ক) অপদার্থ
  2. খ) পাগলামি
  3. গ) গোঁজামিল দেওয়া
  4. ঘ) প্রবল প্রতিদ্বন্দ্বী
ব্যাখ্যা
'ঊনপাঁজরে' - অপদার্থ
ঊনপঞ্চাশ বায়ু - পাগলামি
এন্ডায় গন্ডায় - গোঁজামিল দেওয়া
এক বনে দুই বাঘ - প্রবল প্রতিদ্বন্দ্বী
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর
৩৭.
'কুল কাঠের আগুন' বাগধারাটির অর্থ -
  1. ক) নির্মম আত্নীয়
  2. খ) অনভিজ্ঞ
  3. গ) ঘরকুনো
  4. ঘ) দীর্ঘস্থায়ী মনঃকষ্ট
ব্যাখ্যা
কুল কাঠের আগুন - দীর্ঘস্থায়ী মনঃকষ্ট
কংস মামা - নির্মম আত্নীয়
কূপমন্ডুক - ঘরকুনো / সীমাবদ্ধ জ্ঞান সম্পন্ন
কেবলা হাকিম - অনভিজ্ঞ
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর
৩৮.
বাক্যের অর্থ পরিষ্কারভাবে বোঝার জন্য এক পদের পর অন্য পদ শোনার যে ইচ্ছা তাকে কী বলে?
  1. ক) আসত্তি
  2. খ) যোগ্যতা
  3. গ) আকাঙ্ক্ষা
  4. ঘ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
বাক্যের অর্থ পরিষ্কারভাবে বোঝার জন্য এক পদের পর অন্য পদ শোনার যে ইচ্ছা তা-ই আকাঙ্ক্ষা।
যেমন- 'চন্দ্র পৃথিবীর চারদিকে'– এটুকু বললে বাক্যটি সম্পূর্ণ মনোভাব প্রকাশ করে না, আরও কিছু শোনার ইচ্ছা থাকে৷

বাক্যটি এভাবে পূর্ণাঙ্গ করা যায়: ''চন্দ্র পৃথিবীর চারদিকে ঘোরে''৷
এখানে আকাঙ্ক্ষার নিবৃত্তি হয়েছে বলে এটি পূর্ণাঙ্গ বাক্য৷
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, ৯ম-১০ম শ্রেণি
৩৯.
ভাষার বিচারে একটি বাক্যের কয়টি গুণ থাকা আবশ্যক?
  1. ক) ১ টি
  2. খ) ২ টি
  3. গ) ৩ টি
  4. ঘ) ৪ টি
ব্যাখ্যা
যে সুবিন্যস্ত পদসমষ্টি দ্বারা কোনো বিষয়ে বক্তার মনোভাব সম্পূর্ণভাবে প্রকাশিত হয়, তাকে বাক্য বলে৷
ভাষার বিচারে একটি বাক্যের ৩টি গুণ থাকা আবশ্যক৷

যথা- আকাঙ্ক্ষা, আসত্তি ও যোগ্যতা৷
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, ৯ম-১০ম শ্রেণি
৪০.
শুদ্ধ বানানটি চিহ্নিত করুন।
  1. ক) অপরাহ্ন
  2. খ) আপরাহ্ণিক
  3. গ) পরাহ্ন
  4. ঘ) সায়াহ্ণ
ব্যাখ্যা
আপরাহ্ণিক (বিশেষণ) : বৈকালিক; অপরাহ্ণকালীন।
পরাহ্ণ (বিশেষ্য) : বৈকাল; অপরাহ্ণ; বিকাল।
সায়াহ্ন (বিশেষ্য) : সন্ধ্যা; সাঁঝ।
উৎসঃ বাংলা একাডেমি অভিধান
৪১.
'বাঞ্ছিত' শব্দটি বিশ্লেষণ করলে কোনটি পাওয়া যায়?
  1. ক) ছ + ঙ
  2. খ) ঞ + চ
  3. গ) ণ + ছ
  4. ঘ) ঞ্ + ছ
ব্যাখ্যা
'বাঞ্ছিত' শব্দটি বিশ্লেষণ করলে পাওয়া যায় ঞ্ছ = ঞ্ + ছ।

এর কিছু উদাহরণ হলো- বাঞ্ছনীয়, বাঞ্ছা ইত্যাদি৷
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যকরণ, নবম-দশম শ্রেণি৷
৪২.
নিচের কোনটি সঠিক?
  1. ক) ত্রিনয়ণ
  2. খ) দুর্ণিবার
  3. গ) সর্বনাম
  4. ঘ) নিপুন
ব্যাখ্যা
সমাসবদ্ধ শব্দে সাধারণত ণ-ত্ব বিধান খাটে না। এরূপ ক্ষেত্রে ন হয়।
যেমন- ত্রিনয়ন, সর্বনাম, দুর্নীতি, দুর্নাম, দুর্নিবার, পরনিন্দা, অগ্রনায়ক ইত্যাদি।
কতগুলো শব্দে স্বভাবতই 'ণ' হয়।
যেমন- নিপুণ, মাণিক্য, বাণিজ্য, লবণ, মণ, কল্যাণ, গুণ, বিপণি, পাণি ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
৪৩.
অন্বেষণ—এর সন্ধি বিচ্ছেদ নির্ণয় করুন৷
  1. ক) অন্ব + এষন
  2. খ) অন্ব + এষণ
  3. গ) অনু + এষন
  4. ঘ) অনু + এষণ
ব্যাখ্যা
উ-কার কিংবা ঊ-কারের পর উ-কার ও ঊ-কার ভিন্ন অন্য স্বর থাকলে উ বা ঊ স্থানে ব-ফলা এবং লেখার সময় ব-ফলা পূর্ববর্তী বর্ণের সাথে লেখা হয়।

যেমন - উ + ঈ = ব + ঈ (তনু + ঈ = তন্বী)

উ + এ = ব + এ (অনু + এষণ = অন্বেষণ)
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর বাংলা ব্যাকরণ বই।
৪৪.
'Sanction'-এর পারিভাষিক শব্দ -
  1. ক) অনুমোদন
  2. খ) দানপত্র
  3. গ) বাধিত করা
  4. ঘ) পরিশোধ
ব্যাখ্যা
অনুমোদন - Sanction
দানপত্র - Deed of gift
বাধিত করা - Oblige
পরিশোধ - Payment
উৎসঃ ভাষা - শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা একাডেমী অভিধান
৪৫.
তৎসম শব্দের উদাহরণ হলো-
  1. ক) কুলা
  2. খ) জ্যোছনা
  3. গ) ছেরাদ্দ
  4. ঘ) নক্ষত্র
ব্যাখ্যা
যেসব শব্দ সংস্কৃত ভাষা থেকে সোজাসুজি বাংলায় এসেছে এবং যাদের রূপ অপরিবর্তিত রয়েছে সেসব শব্দকে বলা হয় তৎসম শব্দ।
উদাহরণ: চন্দ্র, সূর্য, নক্ষত্র, ভবন, ধর্ম, পাত্র, মনুষ্য ইত্যাদি।
জ্যোছনা ও ছেরাদ্দ অর্ধতৎসম শব্দ এবং কুলা দেশি শব্দ।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
৪৬.
মাথা ঝিম ঝিম্ করছে। এখানে 'ঝিম ঝিম্ করছে' কোন ধরনের ক্রিয়া?
  1. ক) প্রযোজক ক্রিয়া
  2. খ) মিশ্র ক্রিয়া
  3. গ) যৌগিক ক্রিয়া
  4. ঘ) অকর্মক ক্রিয়া
ব্যাখ্যা

বিশেষ্য, বিশেষণ ও ধ্বনাত্মক অব্যয়ের সঙ্গে কর্, হ্, দে, পা, যা, কাট্, গা, ছাড়, ধর্, মার্ প্রভৃতি ধাতুযোগে গঠিত ক্রিয়াপদ বিশেষ বিশেষ অর্থে মিশ্র ক্রিয়া গঠন করে।
যেমন- মাথা ঝিম ঝিম্ করছে; ঝম্ ঝম্ করে বৃষ্টি পড়ছে৷ (ধ্বন্যাত্মক অব্যয়ের পরে)৷
তোমাকে দেখে বিশেষ প্রীত হলাম (বিশেষণের পরে)৷
আমরা তাজমহল দর্শন করলাম; এখন গোল্লায় যাও (বিশেষ্যের পরে)৷
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।