পরীক্ষা আর্কাইভ

Science Expert

পরীক্ষাScience Expertতারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়07 minutes
মোট প্রশ্ন১৭
সিলেবাস
পরীক্ষা - ১৮ (নতুন রাউন্ড) টপিক পৌষ্টিকতন্ত্র ও রেচনতন্ত্র, প্রজননতন্ত্র ও কঙ্কালতন্ত্র [Live Class – 36 & 37]
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

Science Expert

Science Expert · তারিখ অনির্ধারিত · ১৭ প্রশ্ন

.
মানুষের চোয়ালে কয় ধরনের স্থায়ী দাঁত থাকে?
  1. ১৬
ব্যাখ্যা
• মানুষের চোয়ালে ৪ ধরনের স্থায়ী দাঁত থাকে। 

• দাঁত:
- মানবদেহে সবচেয়ে শক্ত অংশ দাঁত।

• প্রাপ্ত বয়সে মুখগহ্বরে উপরে ও নিচের চোয়ালে সাধারণত ১৬ টি করে মোট ৩২ টি দাঁত থাকে।
• মানবদেহে দাঁত দুইবার গজায়। প্রথমবার শিশুকালে দুধদাঁত, দুধদাঁত পড়ে গিয়ে ১৮ বছরের মধ্যে দ্বিতীয়বার স্থায়ী দাঁত গজায়।

মানুষের স্থায়ী দাঁত চার ধরনের। সেগুলো হলো:
(i) কর্তন দাঁত (Incisor): এই দাঁত দিয়ে খাবার কেটে টুকরা করা হয়।
(ii) ছেদন দাঁত (Canine): এই দাঁত দিয়ে খাবার ছেঁড়া হয়।
(iii) অগ্রপেষণ দাঁত (Premolar): এই দাঁত দিয়ে চর্বণ, পেষণ উভয় কাজ করা হয়।
(iv) পেষণ দাঁত (Molar): এই দাঁত খাদ্যবস্তু চর্বণ ও পেষণে ব্যবহৃত হয়।

• মানুষের দন্তসংকেত হলো:  ICPM/ ICPM = (৮ × ২) / (৮ × ২) = ১৬ + ১৬ = ৩২

তথ্যসূত্র:
- মাধ্যমিক জীববিজ্ঞান, ৯ম ও ১০ম শ্রেণি।
.
কোন পদার্থের উপস্থিতিতে মূত্রের রং হালকা হলুদ হয়?
  1. ইউরিয়া
  2. ক্রিয়েটিনিন
  3. ইউরোক্রোম
  4. অ্যামোনিয়া
ব্যাখ্যা
• ইউরোক্রোম নামক রঞ্জক পদার্থের উপস্থিতিতে মূত্রের রং হালকা হলুদ হয়। 

• মূত্র:
- নেফ্রনের রেনাল টিউবিউলসে গ্লোমেরুলার ফিলট্রেটের নির্বাচিত পুনঃশোষণের পর যে খড় বর্ণের, তীব্র ঝাঁঝালো গন্ধযুক্ত ও অম্লধর্মী তরল রেচন বর্জ্য মূত্রথলিতে জমা হয় তাকে মূত্র বলে।

• একজন সুস্থ মানুষ দৈনিক গড়ে ১.৫ লিটার মূত্র ত্যাগ করে।
- মূত্রের রাসায়নিক উপাদানের মধ্যে ৯৫% (৯৫-৯৭%) পানি এবং ৫% (৩-৫%) কঠিন পদার্থ। কঠিন পদার্থের মধ্যে জৈব ও অজৈব উপাদান রয়েছে।
- খাদ্যে তরল পদার্থের পরিমাণ বেশি থাকলে মূত্রের মাত্রা বৃদ্ধি পায় ও শরীরে ঘাম বেশি হলে মূত্রের পরিমাণ কমে যায়।
- খাদ্যের প্রকৃতিও অনেক সময় মূত্রের পরিমাণের পার্থক্য ঘটায়। লবণাক্ত খাবার সাধারণত মূত্রের পরিমাণ বাড়ায়।

• দেহে দৈনিক স্বাভাবিকের চেয়ে অতিরিক্ত মূত্র (> ২.৫ লিটার) উৎপাদিত হলে তাকে পলিউরিয়া (polyuria),
- মূত্রের পরিমাণ <৪০০ মি.লি. হলে অলিগোরিয়া (oliguria) এবং
- মূত্রের পরিমাণ<১০০ মি.লি. হলে অ্যানুরিয়া (anuria) বলে।
• কিছু দ্রব্য মূত্রের স্বাভাবিক প্রবাহকে বাড়িয়ে দেয়। এসব দ্রব্য ডাইইউরেটিকস (diuretics) বা মূত্রবর্ধক নামে পরিচিত। পানি, লবণাক্ত পানি, চা ও কফি এ ধরনের দ্রব্য।

• মূত্রের বৈশিষ্ট্য:
→ বর্ণ: স্বাভাবিক মূত্র হালকা হলুদ বা খড় বর্ণের (straw colour)। মূত্রে ইউরোক্রোম (urochrome) নামক রঞ্জক পদার্থ থাকায় মূত্রের রং হালকা হলুদ হয়। 
→ পরিমাণ: প্রাপ্ত বয়স্ক লোকের মূত্রের পরিমাণ ৫০০-২৫০০ মিলিলিটার। পানি পানের মাত্রা, খাদ্যের ধরন ইত্যাদির ওপর মূত্রের উৎপাদন নির্ভর করে।
→ আপেক্ষিক গুরুত্ব: মূত্রের স্বাভাবিক আপেক্ষিক গুরুত্ব ১.০১- ১.৫০।
→ বিক্রিয়া: তাজা মূত্র স্বচ্ছ ও হালকা অম্লধর্মী। মূত্রের গড় pH মান হচ্ছে প্রায় ৬.৫। 
→ গন্ধ: মূত্রের গন্ধ অনেকটা অ্যারোমেটিক (aromatic)। মূত্রে জৈবপদার্থ থাকার জন্য এমন গন্ধ হয়। এছাড়া দুর্গন্ধযুক্ত পদার্থ ইউরিনোড এর উপস্থিতির জন্য মূত্রে গন্ধ হয়।
- স্বাভাবিক মূত্রকে ফেলে রাখলে অ্যামোনিয়ার গন্ধ হয়। মূত্রের ইউরিয়া জীবাণুর সংস্পর্শে এসে অ্যামোনিয়ায় রূপান্তরিত হয়।

তথ্যসূত্র:
- মাধ্যমিক জীববিজ্ঞান, ৯ম ও ১০ম শ্রেণি। 
- জীববিজ্ঞান ২য় পত্র, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণি, গাজী আজমল।
.
মানব ডিম্বাণু কোথায় নিষিক্ত হয়?
  1. ডিম্বাশয়
  2. ফ্যালোপিয়ান টিউব
  3. জরায়ু
  4. যোনি
ব্যাখ্যা
• মানব ডিম্বাণু স্ত্রী প্রজননতন্ত্রের ফেলোপিয়ান নালি বা ডিম্বনালিতে নিষিক্ত হয়। 

• নিষেক:
- পরিণত শুক্রাণু ও ডিম্বাণুর মিলন প্রক্রিয়াকে নিষেক বলা হয়। 

• মানবদেহে যে নিষেক ঘটে তা মূলত সেকেন্ডারি উওসাইট ও পরিণত শুক্রাণুর নিউক্লিয়াসের একীভবন। 
- এ প্রক্রিয়ায় শুক্রাণু ও ডিম্বাণু মিলিত হয়ে তাদের হ্যাপ্লয়েড (n) ক্রোমোজোমবাহী নিউক্লিয়াসের মিলন ঘটিয়ে ডিপ্লয়েড (2n) ক্রোমোজোমবাহী জাইগোট গঠন করে।
- মানুষের নিষেক অন্তঃনিষেক ধরনের।
• নিষেক সাধারণত ফেলোপিয়ান নালি বা ডিম্বনালির উর্ধ্বাংশে সংঘটিত হয়।

• ফ্যালোপিয়ান টিউব:
- ফেলোপিয়ান টিউব হল মানব নারীর প্রজনন তন্ত্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
- এটি ডিম্বাশয় থেকে জরায়ু পর্যন্ত বিস্তৃত পেশল নলাকার অঙ্গ, যা ডিম্বাণু এবং শুক্রাণুকে মিলিত হতে এবং নিষিক্ত ডিম্বাণুকে জরায়ুতে পরিবহন করতে সাহায্য করে। 

• ডিম্বাণু নিষিক্ত হওয়ার প্রক্রিয়া:
→ ডিম্বাণু তৈরি: ডিম্বাশয় থেকে ডিম্বাণু তৈরি হয়।
→ ফ্যালোপিয়ান টিউবে প্রবেশ: ডিম্বাশয় থেকে ডিম্বাণু ফ্যালোপিয়ান টিউবে প্রবেশ করে।
→ শুক্রাণুর সাথে মিলন: শুক্রাণু ফ্যালোপিয়ান টিউবে প্রবেশ করার পর তা ডিম্বাণুর সাথে মিলিত হয়ে নিষেক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে জাইগোট তৈরি করে।
→ জরায়ুতে স্থানান্তর: নিষিক্ত ডিম্বাণু (ভ্রূণ) ফ্যালোপিয়ান টিউব থেকে জরায়ুতে স্থানান্তরিত হয়।
→ ইমপ্লান্টেশন: নিষেকের ৬-৯ দিনের মধ্যে জাইগোটটি ব্লাস্টোসিস্ট অবস্থায় জরায়ুর এন্ডোমেট্রিয়ামে ইমপ্লান্টেশন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সংস্থাপিত হয়। 

তথ্যসূত্র:
- মাধ্যমিক জীববিজ্ঞান, ৯ম ও ১০ম শ্রেণি।
- জীববিজ্ঞান ২য় পত্র, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণি, গাজী আজমল।
.
মানুষের উপাঙ্গীয় কঙ্কাল কতগুলো অস্থি নিয়ে গঠিত?
  1. ৮০ টি
  2. ১২৬ টি
  3. ১৮০ টি
  4. ২০৬ টি
ব্যাখ্যা
• মানুষের উপাঙ্গীয় কঙ্কাল ১২৬ টি অস্থি নিয়ে গঠিত। 

• কঙ্কালতন্ত্র:

- ভ্রূণীয় মেসোডার্ম থেকে উদ্ভূত অস্থি ও তরুণাস্থি (কার্টিলেজ) নামক যোজক টিস্যু সমন্বয়ে গঠিত যে তন্ত্র দেহের কাঠামো সৃষ্টির মাধ্যমে দেহকে নির্দিষ্ট আকৃতি দান করে, দেহের ভার বহন করে, পেশি সংযোগের স্থান প্রদান করে এবং ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে এমন অঙ্গসমূহ রক্ষা করে তাকে কঙ্কালতন্ত্র বলে।

• মানব কঙ্কালতন্ত্রের অধিকাংশই অস্থি নির্মিত। এছাড়া এ তন্ত্রে তরুণাস্থি, টেনডন ও লিগামেন্ট থাকে যারা কঙ্কালতন্ত্রের বিভিন্ন অংশকে সংযুক্ত করে।
- মানুষের ৩০ বছর বয়সের কাছাকাছি সময় পর্যন্ত অস্থির ঘনত্ব সবচেয়ে বেশি থাকে। 
• মানবশিশু জন্মের সময় দেহে প্রায় ৩০০টি অস্থি থাকে। তবে পরিণত মানব অন্তঃকঙ্কাল মোট ২০৬টি অস্থি নিয়ে গঠিত।

• মানুষের অন্তঃকঙ্কালতন্ত্রকে প্রধানত দুভাগে ভাগ করা হয়,
যথা- ১. অক্ষীয় কঙ্কাল এবং ২. উপাঙ্গীয় কঙ্কাল।
→ অক্ষীয় কঙ্কাল (Axial skeleton): কঙ্কালতন্ত্রের যে অংশগুলো দেহের লম্ব অক্ষ বরাবর অবস্থিত সেগুলোকে অক্ষীয় কঙ্কাল বলে।
• মোট ৮০টি অস্থির সমন্বয়ে অক্ষীয় কঙ্কাল গঠিত।
- করোটির অস্থিসংখ্যা - ২৯ টি। 
- মেরুদণ্ডের অস্থিসংখ্যা - ২৬ টি। 
- বক্ষপিঞ্জর অস্থিসংখ্যা- ২৫ টি । 

→ উপাঙ্গীয় কঙ্কাল (Appendicular skeleton): কঙ্কালতন্ত্রের যে অংশগুলো অক্ষীয় কঙ্কালের দুপাশে প্রতিসমভাবে অবস্থান করে সেগুলোকে উপাঙ্গীয় কঙ্কাল বলে।
• মোট ১২৬টি অস্থির সমন্বয়ে উপাঙ্গীয় কঙ্কাল গঠিত।
- বক্ষ অস্থিচক্রের অস্থিসংখ্যা- ৪ টি । 
- বাহুর অস্থিসংখ্যা - ৬০ টি । 
- শ্রোণিচক্রের (pelvic girdle) অস্থিসংখ্যা- ২ টি। 
- পায়ের অস্থিসংখ্যা- ৬০ টি। 

তথ্যসূত্র:
- জীববিজ্ঞান ২য় পত্র, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণি, গাজী আজমল।
.
নিচের কোনটি শর্করা বিশ্লেষী এনজাইম?
  1. লাইপেজ
  2. গ্যাস্ট্রিন
  3. টায়ালিন
  4. কোলাজিনেজ
ব্যাখ্যা
• টায়ালিন একটি শর্করা বিশ্লেষী এনজাইম। 

• পরিপাক:
- যে জৈব রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় মানুষের পৌষ্টিক নালির অভ্যন্তরে জটিল, অদ্রবণীয়, অশোষণযোগ্য খাদ্য উপাদানগুলো নির্দিষ্ট উৎসেচক বা এনজাইম এবং প্রাণরস বা হরমোনের উপস্থিতিতে বিশ্লেষিত হয়ে শোষণযোগ্য এবং দ্রবণীয় সরল উপাদানে পরিণত হয়, তাকে পরিপাক বলে।

• খাদ্য পরিপাক প্রণালী:
- মানুষে অধিকাংশ খাদ্য (শর্করা, আমিষ ও স্নেহদ্রব্য) বৃহৎ অণু হিসেবে মুখগহ্বরে গৃহীত হয়।
- খাদ্যবস্তুর এমন বৃহত্তর জটিল অণুগুলো ক্ষুদ্রতম অণুতে পরিণত না হওয়া পর্যন্ত শোষণ উপযোগী হয় না। 
- মানবদেহে শর্করা , আমিষ ও স্নেহ জাতীয় খাদ্যগুলো জটিল অবস্থা থেকে কতকগুলো এনজাইমের ক্রিয়ায় পরিপাক হয়ে সরল উপাদানে পরিণত হয়। 

• শর্করা জাতীয় খাদ্য- ভাত, রুটি, চিনি, শাক-সবজি।
→ শর্করা বিশ্লেষী বা অ্যামাইলোলাইটিক এনজাইম: টায়ালিন, অ্যামাইলেজ, মল্টেজ, সুক্রেজ। 
→ উৎপন্ন সরল উপাদান: গ্লুকোজ

• আমিষ জাতীয় খাদ্য: মাছ, মাংস, ডিম, ডাল। 
→ আমিষ বিশ্লেষী বা প্রোটিওলাইটিক এনজাইম: পেপসিন, ট্রিপসিন, কাইমোট্রিপসিন ইত্যাদি। 
→ উৎপন্ন সরল উপাদান: অ্যামিনো এসিড

• স্নেহদ্রব্য জাতীয় খাদ্য- ভোজ্যতেল, ঘি, মাখন, প্রাণিজ চর্বি)
→ স্নেহ বিশ্লেষী বা লাইপোলাইটিক এনজাইম: পাকস্থলিয় ও আন্ত্রিক লাইপেজ, ফসফোলাইপেজ, কোলেস্টেরল এস্টারেজ, লেসিথিনেজ ইত্যাদি। 
→ উৎপন্ন সরল উপাদান: ফ্যাটি এসিড ও গ্লিসারল

তথ্যসূত্র:
- মাধ্যমিক জীববিজ্ঞান, ৯ম ও ১০ম শ্রেণি। 
- জীববিজ্ঞান ২য় পত্র, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণি, গাজী আজমল।
.
কোন জাতীয় খাদ্যের বিপাকের ফলে মানবদেহে নাইট্রোজেনঘটিত বর্জ্য সৃষ্টি হয়?
  1. শর্করা
  2. আমিষ
  3. স্নেহ
  4. রাফেজ
ব্যাখ্যা
• আমিষ জাতীয় খাদ্যের বিপাকের ফলে মানবদেহে নাইট্রোজেনঘটিত বর্জ্য সৃষ্টি হয়। 

• রেচন:
- বিপাকের ফলে সৃষ্ট নাইট্রোজেনঘটিত বর্জ্যপদার্থ যে প্রক্রিয়ায় দেহ থেকে দ্রুত ও নিয়মিত নিষ্কাশিত হয় তাকে রেচন বলা হয়। 

• বৃক্ক:
- মানবদেহের প্রধান রেচন অঙ্গকে বলা হয় বৃক্ক। 

• বৃক্কের কাজ:
- রক্ত থেকে নাইট্রোজেনযুক্ত বর্জ্য পদার্থ অপসারণ করা।
- দেহে ও রক্তে পানির ভারসাম্য রক্ষা করা।
- রক্তে বিভিন্ন লবণ, অম্ল ও ক্ষারের ভারসাম্য রক্ষা করা।
- হরমোন ও এনজাইম নিঃসরণ করা।
- দেহের রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করা।
- ভিটামিন ডি ও লোহিত রক্ত কণিকা উৎপাদনে অংশগ্রহণ করা।

• রেচনে বৃক্কের ভূমিকা:
- বৃক্ক প্রধানত নাইট্রোজেনঘটিত বর্জ্য পদার্থ দেহ থেকে নিষ্কাশন করে।
- আমিষ জাতীয় খাদ্য বিপাকের ফলে দেহে অ্যামোনিয়া, ইউরিয়া, ইউরিক এসিড, ক্রিয়েটিনিন ইত্যাদি নাইট্রোজেনঘটিত বর্জ্য সৃষ্টি হয়।
- এগুলো বিষাক্ত ও দেহের জন্য ক্ষতিকর। তাই এসব রেচন পদার্থ দেহ থেকে নিষ্কাশন করা অত্যাবশ্যক।
- বৃক্ক এসব রেচন পদার্থ দেহ থেকে অপসারণ করে দেহকে সুস্থ রাখে। 

তথ্যসূত্র:
- জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
- জীববিজ্ঞান ২য় পত্র, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণি, গাজী আজমল। 
.
পুরুষ প্রজননতন্ত্রের মুখ্য জনন অঙ্গ কোনটি?
  1. পুরুষাঙ্গ
  2. শুক্রাশয়
  3. এপিডিডাইমিস
  4. ক্ষেপণ নালি
ব্যাখ্যা
• পুরুষ প্রজননতন্ত্রের মুখ্য জনন অঙ্গ হলো শুক্রাশয়। 

• পুরুষ প্রজনন অঙ্গ:
- যেসব অঙ্গের সমন্বয়ে প্রধানত শুক্রাণু তৈরি, সঞ্চয় ও পরিবহন সম্পন্ন হয় সেগুলোকে পুরুষ প্রজনন অঙ্গ বলা হয়।

• পুরুষ জনন অঙ্গ ২ ধরনের।
যথা-
- মুখ্য জনন অঙ্গ: পুরুষ প্রজননতন্ত্রের যে অঙ্গ শুক্রাণু উৎপন্ন করে তাকে মুখ্য জনন অঙ্গ বলা হয়। 
- আনুষঙ্গিক জনন অঙ্গ: যে সব অঙ্গ শুক্রাণু সঞ্চয় ও পরিবহনের কাজে নিয়োজিত সেগুলোকে আনুষঙ্গিক জনন অঙ্গ বলে। 

• শুক্রাশয় হচ্ছে মুখ্য জননাঙ্গ।
- এর কারণ হলো শুক্রাশয় থেকে শুক্রাণু উৎপন্ন হয়। 

অন্যদিকে,
•  আনুষঙ্গিক জনন অঙ্গ সমূহ হলো- 
- এপিডিডাইমিস,
- ভাস ডিফারেন্স (Vas deferens) বা শুক্রনালি,
- সেমিনাল ভেসিকল,
- ক্ষেপন নালি,
- ইউরেথ্রা,
- বহিঃযৌনাঙ্গ,
- জনন গ্রন্থি। 

তথ্যসূত্র:
- জীববিজ্ঞান ২য় পত্র, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণি, গাজী আজমল।
.
মানবদেহের কোন অঙ্গ হতে পিত্তরস উৎপন্ন হয়?
  1. ক্ষুদ্রান্ত্র
  2. অগ্ন্যাশয়
  3. যকৃৎ
  4. পিত্তথলি
ব্যাখ্যা
• মানবদেহে যকৃৎ থেকে পিত্তরস উৎপন্ন হয়। 

• পিত্তরস (Bile) বা পিত্ত:
- যকৃত কোষ থেকে নিঃসৃত পিত্তরস হলদে-সবুজ, আঠালো, তিক্ত স্বাদধারী ক্ষারীয় তরল পদার্থ। এর pH মান 8 - 8.6 

• যকৃত কোষ (হেপাটোসাইট) অবিরাম পিত্ত ক্ষরণ করে এবং পিত্তথলিতে জমা রাখে।
- যকৃত কোষ স্টেরয়েড থেকে পিত্ত লবণ, যেমন-সোডিয়াম গ্লাইকোকোলেট (sodium glycocholate) ও সোডিয়াম টরোকোলেট (sodium taurocholate) সংশ্লেষ করে।
- পরিপাক অঙ্গ হিসেবে যকৃতের গুরুত্বপূর্ণ কাজ হলো পিত্ত উৎপাদন ও ক্ষরণ।

• পিত্তরসের কাজ-
- পিত্তরস চর্বিজাতীয় খাদ্যকে ইমালসিফিকেশন (emulsification) প্রক্রিয়ায় ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র কণায় পরিণত করে।
- পিত্তলবণ চর্বি পরিপাককারী এনজাইম লাইপেজকে সক্রিয় করে পরিপাকে সাহায্য করে।
- পিত্তলবণ চর্বিতে দ্রবণীয় ভিটামিন A, D, E, K-কে শোষণে সহায়তা করে ইত্যাদি। 

তথ্যসূত্র:
- মাধ্যমিক জীববিজ্ঞান, ৯ম ও ১০ম শ্রেণি।
- জীববিজ্ঞান ২য় পত্র, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণি, গাজী আজমল।
.
মানবদেহের দুইটি বৃক্কে সর্বমোট কতগুলো নেফ্রন থাকে?
  1. ৫-৬ লক্ষ
  2. ১০-১২ লক্ষ
  3. ১৫-১৬ লক্ষ
  4. ২০-২৪ লক্ষ
ব্যাখ্যা
• মানবদেহের দুইটি বৃক্কে সর্বমোট ২০-২৪ লক্ষ নেফ্রন থাকে। 

• বৃক্ক:
- বৃক্ক হলো মেরুদণ্ডী প্রাণীদের রেচন অঙ্গ, যা দেহের রেচন পদার্থ (যেমন ইউরিয়া) ছেঁকে মূত্র তৈরি করে এবং রক্ত পরিশোধন করে।

• বৃক্কের বাহ্যিক গঠন:
- প্রত্যেক বৃদ্ধ নিরেট, চাপা দেখতে অনেকটা শিম বীজের মতো এবং লালচে রংয়ের।
- একটি পরিণত বৃক্কের দৈর্ঘ্য ১০-১২ সেন্টিমিটার, প্রস্থ ৫-৬ সেন্টিমিটার এবং স্থূলত্ব ৩ সেন্টিমিটার।
- একেকটির ওজন পুরুষে ১৫০-১৭০ গ্রাম এবং নারীদেহে ১৩০-১৫০ গ্রাম।
- বৃক্কের বাইরের দিক উত্তল ও ভিতরের দিক অবতল। অবতল অংশের ভাঁজকে হাইলাম (hilum) বলে।

• নেফ্রন:
- বৃক্কের গাঠনিক ও কার্যকরী একককে নেফ্রন বলা হয়। 
- মানুষের প্রত্যেক বৃক্কে ১০-১২ লক্ষ নেফ্রন রয়েছে। 
- মানবদেহে দুইটি বৃক্কতে মোট ২০-২৪ লক্ষ নেফ্রন থাকে। 
- প্রতিটি নেফ্রন প্রায় ৩ সে.মি. লম্বা।

তথ্যসূত্র:
- মাধ্যমিক জীববিজ্ঞান, ৯ম ও ১০ম শ্রেণি।
- জীববিজ্ঞান ২য় পত্র, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণি, গাজী আজমল।
১০.
রজঃচক্রের সূচনাকে কী বলা হয়?
  1. মেনোপজ
  2. ইমপ্লান্ট্যাশন
  3. মেনার্কি
  4. গ্যাস্ট্রুলেশন
ব্যাখ্যা
• রজঃচক্রের সূচনাকে মেনার্কি (menarche) বলা হয়। 

• রজঃচক্র:
- স্ত্রীলোকের সমগ্র যৌন জীবনকালে প্রতি ২৮ দিন (২৪-৩২ দিন) অন্তর ৩-৫ দিন ধরে জরায়ুর অন্তঃস্থ স্তর বা এন্ডোমেট্রিয়ামের অবক্ষয়ের ফলে রজঃস্রাব এবং পরে দেহের অন্যান্য জননাঙ্গসমূহের যেমন-ডিম্বাশয়, জরায়ু ইত্যাদির যে পর্যায়ক্রমিক পরিবর্তন ঘটে তাকে রজঃচক্র বলে। 

• রজঃচক্রের মূল বিষয়গুলো হলো:  
→ পিরিয়ড বা মাসিক স্রাব:
- এটি রজঃচক্রের প্রথম পর্যায়, যেখানে জরায়ুর ভেতরের স্তর (এন্ডোমেট্রিয়াম) ভেঙে রক্ত ও টিস্যু আকারে শরীর থেকে বের হয়ে যায়।
→ ডিম্বাশয় চক্র:
- ডিম্বাশয়ে ডিম্বাণু পরিপক্ক হয় এবং ডিম্বস্ফোটন (Ovulation) ঘটে, অর্থাৎ ডিম্বাশয় থেকে ডিম্বাণু বের হয়ে আসে।
→ জরায়ু চক্র:
- ডিম্বাণু নিষিক্ত না হলে জরায়ুর ভেতরের স্তরটি ভেঙে যায় এবং মাসিক চক্র আবার শুরু হয়।

• সাধারণত, রজঃচক্র ১০ থেকে ১৬ বছর বয়সের মধ্যে শুরু হয়।
- তবে এটি ভৌগলিক অবস্থান এবং শারীরিক অবস্থার উপর ভিত্তি করে বিভিন্ন হতে পারে। 

• প্রথম রজচক্রকে অর্থাৎ রজঃচক্রের সূচনাকে মেনার্কি (menarche) বলা হয়।
- যৌন জীবনকালের শেষে রজঃচক্রের নিবৃত্তি বা বন্ধ হওয়াকে মেনোপজ (menopause) বলা হয়।

তথ্যসূত্র:
- মাধ্যমিক জীববিজ্ঞান, ৯ম ও ১০ম শ্রেণি।
- জীববিজ্ঞান ২য় পত্র, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণি, গাজী আজমল।
১১.
করোটিকার অস্থিসন্ধি কোন ধরনের অস্থিসন্ধি?
  1. নিশ্চল অস্থিসন্ধি
  2. ঈষৎ সচল অস্থিসন্ধি
  3. পূর্ণ সচল অস্থিসন্ধি
  4. সাইনোভিয়াল অস্থিসন্ধি
ব্যাখ্যা
• করোটিকার অস্থিসন্ধি নিশ্চল ধরনের অস্থিসন্ধি। 

• অস্থিসন্ধি:

- দুই বা ততোধিক অস্থির সংযোগস্থলকে অস্থিসন্ধি বলা হয়। 

• প্রতিটি অস্থিসন্ধির অস্থিগুলো একরকম স্থিতিস্থাপক রজ্জুর মতো বন্ধনী দিয়ে দৃঢ়ভাবে আটকানো থাকে, ফলে অস্থিগুলো সহজে সন্ধিস্থল থেকে বিচ্যুত হতে পারে না।
- অস্থিসন্ধি বিভিন্ন অঙ্গপ্রত্যঙ্গ সঞ্চালনে সাহায্য করে।

• অস্থিসন্ধির প্রকারভেদ:
→ নিশ্চল অস্থিসন্ধি (Fixed Joint): নিশ্চল অস্থিসন্ধিগুলো অনড়, অর্থাৎ এগুলো নাড়ানো যায় না। যেমন- করোটিকা অস্থিসন্ধি।

→ ঈষৎ সচল অস্থিসন্ধি: এসব অস্থিসন্ধি একে অন্যের সাথে সংযুক্ত থাকলেও সামান্য নাড়াচাড়া করতে পারে, ফলে আমরা দেহকে সামনে, পিছনে এবং পাশে বাঁকাতে পারি।
যেমন- মেরুদণ্ডের অস্থিসন্ধি।

→ পূর্ণ সচল অস্থিসন্ধি: এ সকল অস্থিসন্ধি সহজে নড়াচড়া করানো যায়। এ জাতীয় অস্থিসন্ধির মধ্যে বল ও কোটরসন্ধি, কবজাসন্ধি প্রধান।
যেমন- সাইনোভিয়াল অস্থিসন্ধি।
• পূর্ণ সচল অস্থিসন্ধি ২ প্রকার।
যথা- (i) বল ও কোটরসন্ধি,
(ii) কব্জা সন্ধি। 

তথ্যসূত্র:
- মাধ্যমিক জীববিজ্ঞান, ৯ম ও ১০ম শ্রেণি।
১২.
বৃক্ক বিকল প্রতিকারের পন্থা নয় কোনটি?
  1. বেশি পরিমাণ প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার গ্রহণ
  2. বৃক্ক প্রতিস্থাপন
  3. কম পরিমান পটাশিয়াম সমৃদ্ধ খাবার গ্রহণ
  4. ডায়ালাইসিস
ব্যাখ্যা
• বেশি পরিমাণ প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার গ্রহণ বৃক্ক বিকল প্রতিকারের পন্থা নয়।

• বৃক্ক:

- বৃক্ক হলো মেরুদণ্ডী প্রাণীদের রেচন অঙ্গ, যা দেহের রেচন পদার্থ (যেমন ইউরিয়া) ছেঁকে মূত্র তৈরি করে এবং রক্ত পরিশোধন করে।

• বৃক্ক বিকল:
- রোগ-ব্যাধির কারণে বৃক্কের সক্ষমতা কমে যাওয়াকে বৃক্ক বিকল (kidney failure) বলে।
• বৃক্কের বৈকল্য দুই রকমের। যথা-
- দীর্ঘস্থায়ী (chronic), 
- তাৎক্ষণিক (acute) ।

• বৃক্ক বিকল প্রতিকারে করনীয়:
→ নিয়ন্ত্রিত আহার:
- কম পরিমাণ প্রোটিন ও পটাশিয়াম সমৃদ্ধ খাবার গ্রহণ। 
- কম প্রোটিন গ্রহণ করলে কম ইউরিয়া তৈরি হবে যা বৃক্কের জন্য উপকারী হবে। 
- আহারের সময় কম লবণ গ্রহণ করা। 

→ ডায়ালাইসিস: নিয়ন্ত্রিত আহারের পরও যদি রক্তে ইউরিয়ার মাত্রা বেশি হয় তাহলে ডায়ালাইসিস প্রক্রিয়ায় চিকিৎসা নিতে হবে। 

→ বৃক্ক প্রতিস্থাপন: যদি ডায়ালাইসিসে কাজ না হয় তাহলে সর্বশেষ চিকিৎসা হিসেবে বৃক্ক প্রতিস্থাপন করতে হবে। 

তথ্যসূত্র:
- জীববিজ্ঞান ২য় পত্র, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণি, গাজী আজমল।
১৩.
নিচের কোনটি জন্মনিরোধের পদ্ধতি নয়?
  1. ভ্যাসেকটমি
  2. IVF
  3. Tubectomy
  4. লাইগেশন
ব্যাখ্যা
• IVF জন্মনিরোধের পদ্ধতি নয় বরং এটি কৃত্তিম গর্ভধারণের পদ্ধতি। 

• Birth control:
- জন্মনিরোধক (Birth control) হলো এমন পদ্ধতি যা অনাকাঙ্ক্ষিত গর্ভধারণ রোধ করে। 

• জন্মনিরোধের জন্য দুইটি পদ্ধতি রয়েছে।
যথা-
- অস্থায়ী পদ্ধতি।
- স্থায়ী পদ্ধতি। 

• অস্থায়ী পদ্ধতি: যে পদ্ধতিতে অস্থায়ীভাবে জন্মনিরোধ করা হয় তাকে জন্মনিরোধের অস্থায়ী পদ্ধতি বলা হয়। 
উদাহরণ- কনডম, বড়ি, ইঞ্জেকশন ইত্যাদি।

• স্থায়ী পদ্ধতি: যে পদ্ধতিতে স্থায়ীভাবে জন্মনিরোধ করা হয় তাকে জন্মনিরোধের স্থায়ী পদ্ধতি বলা হয়। 
উদাহরণ- ভ্যাসেকটমি , লাইগেশন, টিউবেকটমি ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• IVF বা ইন ভিট্রো ফার্টিলাইজেশন হলো কৃত্তিম গর্ভধারণ পদ্ধতি।
- এটি একটি প্রজনন প্রযুক্তি, যেখানে ডিম্বাণু ও শুক্রাণুকে দেহের বাইরে পরীক্ষাগারে (in vitro) নিষিক্ত করা হয় এবং এরপর নিষিক্ত ভ্রূণ নারীর জরায়ুতে প্রতিস্থাপন করা হয়। 

তথ্যসূত্র:
- জীববিজ্ঞান ২য় পত্র, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণি, গাজী আজমল।
১৪.
কোনটি কঙ্কালতন্ত্রের কাজ নয়?
  1. দেহকাঠামো গঠন
  2. খনিজ লবণ সঞ্চয়
  3. লোহিত রক্তকণিকা পরিবহন
  4. গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ রক্ষা করা
ব্যাখ্যা
• লোহিত রক্তকণিকা পরিবহন করা কঙ্কালতন্ত্রের কাজ নয়, বরং লোহিত রক্তকণিকা উৎপন্ন করা কঙ্কালতন্ত্রের কাজ। 

• কঙ্কালতন্ত্র:
- ভ্রূণীয় মেসোডার্ম থেকে উদ্ভূত অস্থি ও তরুণাস্থি (কার্টিলেজ) নামক যোজক টিস্যু সমন্বয়ে গঠিত যে তন্ত্র দেহের কাঠামো সৃষ্টির মাধ্যমে দেহকে নির্দিষ্ট আকৃতি দান করে, দেহের ভার বহন করে, পেশি সংযোগের স্থান প্রদান করে এবং ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে এমন অঙ্গসমূহ রক্ষা করে তাকে কঙ্কালতন্ত্র বলে।

• মানব কঙ্কালতন্ত্রের অধিকাংশই অস্থি নির্মিত। এছাড়া এ তন্ত্রে তরুণাস্থি, টেনডন ও লিগামেন্ট থাকে যারা কঙ্কালতন্ত্রের বিভিন্ন অংশকে সংযুক্ত করে।

• কঙ্কালতন্ত্রের কাজ:
→ কাঠামো প্রদান:
- কঙ্কাল মানুষের শরীরের কাঠামো তৈরি করে এবং এটিকে একটি নির্দিষ্ট আকার দেয়।  
→ সুরক্ষা:
- কঙ্কাল শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ যেমন- মস্তিষ্ক, হৃদপিণ্ড, ফুসফুস ইত্যাদি কে আঘাত থেকে রক্ষা করে।  
→ চলাচল ও নড়াচড়া:
- কঙ্কাল এবং পেশী একসাথে কাজ করে নড়াচড়া করতে সাহায্য করে।  
→ খনিজ লবণ সঞ্চয়:
- কঙ্কাল ক্যালসিয়াম এবং ফসফরাসের মতো খনিজ লবন সঞ্চয় করে।  
→ রক্তকণিকা উৎপাদন:
- অস্থিমজ্জা থেকে লোহিত রক্তকণিকা তৈরি হয়।   

তথ্যসূত্র:
- মাধ্যমিক জীববিজ্ঞান, ৯ম ও ১০ম শ্রেণি।
১৫.
বৃক্কের মাধ্যমে প্রতি মিনিটে কতটুকু গ্লুমেরুলার ফিলট্রেট পুনঃশোষিত হয়?
  1. ৯০ ঘন সে.মি.
  2. ১২০ ঘন সে.মি.
  3. ১২৪ ঘন সে.মি.
  4. ১২৫ ঘন সে.মি.
ব্যাখ্যা
• বৃক্কের মাধ্যমে প্রতি মিনিটে ১২৪ ঘন সে.মি. গ্লুমেরুলার ফিলট্রেট পুনঃশোষিত হয় এবং রক্তে ফিরে যায়। 

• বৃক্ক:
- বৃক্ক হলো মেরুদণ্ডী প্রাণীদের রেচন অঙ্গ, যা দেহের রেচন পদার্থ (যেমন ইউরিয়া) ছেঁকে মূত্র তৈরি করে এবং রক্ত পরিশোধন করে।

• নেফ্রন:
- বৃক্কের গঠন ও কার্যকরী একককে বলা হয় নেফ্রন।
- প্রতিটি নেফ্রন প্রায় ৩ সে.মি. লম্বা। 

• রেচনের শারীরবৃত্তকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়।
যথা:
- নাইট্রোজেনজাত বর্জ্য উৎপাদন।
- মূত্র সৃষ্টি। 

• বিজ্ঞানী কুশনীর মতে ৩ টি ধাপে মূত্র সৃষ্টি হয়। যথা-
- অতিপরিস্রাবন।
- নির্বাচনমূলক পুনঃশোষণ।
- সক্রিয় ক্ষরণ। 

• নির্বাচনমূলক পুনঃশোষণ:
- মানবদেহে প্রতি মিনিটে ১২৫ ঘন সে.মি. গ্লুমেরুলার ফিলট্রেট উৎপন্ন হয়।
- এর মধ্যে নির্বাচনমূলক পুনঃশোষণের মাধ্যমে ১২৪ ঘন সে.মি. পুনঃশোষিত হয় এবং রক্তে ফিরে যায়। 
- বাকি ১ ঘন সে.মি. গ্লুমেরুলার ফিলট্রেট মূত্র তৈরি করে।
- অর্থাৎ সাধারণত প্রতি মিনিটে কেবল ১ ঘন সে.মি. মূত্র উৎপন্ন হয়। 

তথ্যসূত্র:
- জীববিজ্ঞান ২য় পত্র, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণি, গাজী আজমল।
১৬.
গর্ভাবস্থায় কোনটির ঘাটতিতে অ্যানিমিয়া হয়?
  1. ভিটামিন A
  2. ভিটামিন D
  3. ভিটামিন B9
  4. ভিটামিন B1
ব্যাখ্যা
• গর্ভাবস্থায় ভিটামিন B9 বা ফলিক এসিডের ঘাটতিতে অ্যানিমিয়া হয়। 

• অ্যানিমিয়া:
- গর্ভাবস্থায় যখন শরীরে লোহিত রক্তকণিকা (RBC) যথেষ্ট পরিমাণে তৈরি হয় না তখন সাধারণত অ্যানিমিয়া (রক্তাল্পতা) হয়ে থাকে।
- RBC তৈরির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হলো ফলিক এসিড বা ভিটামিন B9 ।

• অ্যানিমিয়ার লক্ষণ:
- ক্লান্তি, দুর্বলতা, 
- ফ্যাকাশে ত্বক ও চোখ, 
- শ্বাসকষ্ট ও মাথাব্যথা। 

• গর্ভাবস্থায় ফলিক অ্যাসিডের গুরুত্ব:
→ ভ্রূণের নিউরাল টিউব গঠনে সহায়তা:
- ফলিক অ্যাসিড গর্ভাবস্থায় শিশুর মস্তিষ্ক এবং মেরুরজ্জু (neural tube) গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।  
→ জন্মগত ত্রুটি প্রতিরোধ:
- পর্যাপ্ত ফলিক অ্যাসিড গ্রহণ করলে নিউরাল টিউব ত্রুটি যেমন স্পাইনাল বিফিডা এবং অ্যানেনসেফালি (Anencephaly) হওয়ার ঝুঁকি কমে।  
→ কোষ বিভাজন এবং বৃদ্ধি:
- ফলিক অ্যাসিড কোষ বিভাজন এবং বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজনীয়। গর্ভাবস্থায়, এটি ভ্রূণের বৃদ্ধি এবং বিকাশে সহায়তা করে।  
→ লোহিত রক্তকণিকা তৈরি:
- ফলিক অ্যাসিড লোহিত রক্তকণিকা তৈরিতে সাহায্য করে এবং মায়ের রক্তস্বল্পতা প্রতিরোধ করে।  
→ প্লাসেন্টার স্বাস্থ্য:
- ফলিক অ্যাসিড প্লাসেন্টার স্বাস্থ্য বজায় রাখতেও সাহায্য করে। 

তথ্যসূত্র:
- Unicef.
- World Health Organization (WHO): Anaemia in pregnancy.
১৭.
কোন অংশটি পেশি ও অস্থির মধ্যে সংযোগ স্থাপন করে?
  1. অস্থিবন্ধনী
  2. লিগামেন্ট
  3. টেনডন
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
• টেনডন পেশি ও অস্থির মধ্যে সংযোগ স্থাপন করে।

• টেনডন:
- মাংসপেশির যে প্রান্তভাগ রজ্জুর মতো শক্ত হয়ে অস্থিগাত্রের সাথে সংযুক্ত হয় সেই শক্ত প্রান্তকে টেনডন বলা হয়।

• টেনডনের গঠন:
- টেনডন টিস্যু কোলাজেন দিয়ে তৈরি, যা শরীরের সবচেয়ে বেশি প্রোটিন। এই কোলাজেন ফাইবারগুলি স্থিতিস্থাপক, মজবুত এবং নমনীয়।
- টেনডনগুলো স্নায়ু এবং রক্তনালী নিয়ে গঠিত।
- টেনডন ঘন, শ্বেত তন্তুময় যোজক কলা দিয়ে গঠিত। 
- অস্থি বা পেশির তুলনায় টেনডনের ভেঙ্গে বা ছিরে যাওয়ার সম্ভাবনা অনেক কম, তবে যদি কোনোভাবে ছিঁড়ে যায় তাহলে সহজে জোড়া লাগে না।

• টেনডনের কাজ:
- অস্থি বা হাড়ের সাথে পেশী সংযুক্ত করতে সাহায্য করে।
- অস্থিবন্ধনী গঠনে সাহায্য করে। 
- চাপটানের বিরুদ্ধে যান্ত্রিক প্রতিরোধ গড়ে তোলে। 
- লাফ দেওয়ার সময়, দৌড়ানোর সময় পেশীতে আঘাত রোধ করে। সারা শরীর জুড়ে টেনডন পাওয়া যায়।
- অঙ্গ-প্রত্যঙ্গকে নড়াচড়া করতে সাহায্য করে।

তথ্যসূত্র:
- মাধ্যমিক জীববিজ্ঞান, ৯ম ও ১০ম শ্রেণি।