পরীক্ষা আর্কাইভ

৯ম - ১৩তম গ্রেড পরীক্ষার প্রস্তুতি

পরীক্ষা৯ম - ১৩তম গ্রেড পরীক্ষার প্রস্তুতিতারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়09 minutes
মোট প্রশ্ন২০
সিলেবাস
[৯ম - ১৩তম গ্রেড নিয়োগ প্রস্তুতি: পরীক্ষা - ২৬] সাধারণ জ্ঞান পরীক্ষা - ৬ টপিক: ১. বৈশ্বিক ইতিহাস, বিপ্লব ও সভ্যতা, ২. বিখ্যাত ব্যক্তি (রাজনীতিবিদ, সমাজ সংস্কারক, বিপ্লবী), ৩. গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের আবিষ্কারক। উৎস: ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা সম্পর্কিত বোর্ড বই [NCTB ও উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়], ব্রিটানিকা, হিস্টরি.কম, সংশ্লিষ্ট ওয়েবসাইট এবং যেকোনো গাইডবই। [গাইড বই থেকে পড়ার ক্ষেত্রে কনফিউজিং বিষয়গুলো ক্রসচেক করে পড়া উত্তম।]
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

৯ম - ১৩তম গ্রেড পরীক্ষার প্রস্তুতি

৯ম - ১৩তম গ্রেড পরীক্ষার প্রস্তুতি · তারিখ অনির্ধারিত · ২০ প্রশ্ন

.
'মেসোপটেমীয়া' শব্দটি একটি -
  1. গ্রিক শব্দ
  2. রোমান শব্দ
  3. আরবি শব্দ
  4. তুর্কি শব্দ
সঠিক উত্তর:
গ্রিক শব্দ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ্রিক শব্দ
ব্যাখ্যা
মেসোপটেমীয় সভ্যতা:
- খ্রিস্টপূর্ব ৫,০০০ অব্দে মিশরে যখন নগর সভ্যতা গড়ে উঠেছিল, সেই সময় আরো কিছু নগর সভ্যতা গড়ে ওঠে।
- এই নগর সভ্যতাগুলোর আলাদা আলাদা নাম থাকলেও, একই ভূখণ্ডে গড়ে ওঠার কারণে এদেরকে একত্রে মেসোপটেমীয় সভ্যতা বলা হয়।
- বর্তমান ইরাক রাষ্ট্রের সীমানার মধ্যেই প্রাচীন মেসোপটেমীয়া অঞ্চল অবস্থিত।
- মেসোপটেমীয়া একটি গ্রিক শব্দ। যার অর্থ দুই নদীর মধ্যবর্তী ভূমি।
- মেসোপটেমীয়া বলতে টাইগ্রিস ও ইউফ্রেটিস (দজলা- ফোরাত) এই দুই নদীর মধ্যবর্তী অঞ্চলকে বোঝায়।
- এই উর্বর ভূখণ্ডের উত্তরে আর্মেনিয়ার পার্বত্যাঞ্চল, পশ্চিম ও দক্ষিণে আরব মরুভূমি; দক্ষিণ-পূর্বে পারস্য উপসাগর, পূর্বে এলাম পার্বত্যাঞ্চল এবং পশ্চিমে ভূমধ্যসাগর অবস্থিত।
- মেসোপটেমীয়ার অর্ন্তভুক্ত সভ্যতাসমূহ প্রাচীন মেসোপটেমীয় অঞ্চলে বেশ কয়েকটি নগর সভ্যতার বিকাশ ঘটে। যেমন: সুমেরীয়, ব্যবিলনীয়, এ্যাসিরীয়, ক্যালডীয় ও আক্কাদীয় সভ্যতা।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
নিচের কোন সভ্যতাকে উপমহাদেশের প্রাচীনতম সভ্যতা হিসেবে ধরা হয়?
  1. মেসোপটেমীয় সভ্যতা
  2. চৈনিক সভ্যতা
  3. সিন্ধু সভ্যতা
  4. গাঙ্গেয় সভ্যতা
সঠিক উত্তর:
সিন্ধু সভ্যতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সিন্ধু সভ্যতা
ব্যাখ্যা
সিন্ধু সভ্যতা:
- সিন্ধু নদের অববাহিকা অঞ্চলে গড়ে উঠেছিল বলে এই সভ্যতার নাম সিন্ধু সভ্যতা।
- সিন্ধু সভ্যতার সংস্কৃতিকে অনেক সময়ে হরপ্পা সংস্কৃতি বা হরপ্পা সভ্যতা বলা হয়ে থাকে।
- বিশ শতকের প্রথম দিকে বাঙালি প্রত্নতত্ত্ববিদ রাখালদাস বন্দ্যোপাধ্যায় পাকিস্তানের সিন্ধু প্রদেশের লারকানা জেলায় মহেঞ্জোদারোতে এবং দয়ারাম সাহানীর চেষ্টায় পাঞ্জাবের পশ্চিম দিকে মন্টোগোমারী জেলার হরপ্পায় এই সভ্যতা আবিষ্কৃত হয়।
- জন মার্শালের নেতৃত্বে পুরাতত্ত্ব বিভাগ অনুসন্ধান চালিয়ে আরো বহু নিদর্শন আবিষ্কার করে।
- মহেঞ্জোদারো ও হরপ্পা উভয় অঞ্চল একই সভ্যতার অন্তর্গত।
- সিন্ধু সভ্যতা উপমহাদেশের প্রাচীনতম সভ্যতা।

ভৌগোলিক অবস্থান:
- উপমহাদেশের প্রাচীনতম সভ্যতার নাম সিন্ধু সভ্যতা হলেও এর বিস্তৃতি ছিল বিশাল এলাকা জুড়ে।
- মহেঞ্জোদারো ও হরপ্পাতে এই সভ্যতার নিদর্শন সবচেয়ে বেশি আবিষ্কৃত হয়েছে।
- তা সত্ত্বেও এই সভ্যতা শুধু সিন্ধু নদীর অববাহিকা বা ঐ দুটি শহরের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিলনা।
- পাকিস্তানের পাঞ্জাব, সিন্ধু প্রদেশ, ভারতের পাঞ্জাব, রাজস্থান, গুজরাটের বিভিন্ন অংশে এই সভ্যতার নিদর্শন পাওয়া গেছে।
- ঐতিহাসিকরা মনে করেন যে পাঞ্জাব থেকে আরব সাগর পর্যন্ত বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে সিন্ধু সভ্যতা গড়ে উঠেছিল।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
কোন সভ্যতা কোনো সময় পুরোপুরি ধ্বংস প্রাপ্ত হয়নি?
  1. চীনা সভ্যতা
  2. মিশরীয় সভ্যতা
  3. ব্যবিলনীয় সভ্যতা
  4. সিন্ধু সভ্যতা
সঠিক উত্তর:
চীনা সভ্যতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চীনা সভ্যতা
ব্যাখ্যা
চীনা সভ্যতার পরিচয় ও অবস্থান:
- চীনের প্রাচীন সভ্যতা একমাত্র সভ্যতা যা কোনো সময় পুরোপুরি ধ্বংস প্রাপ্ত হয়নি। 
- খ্রিস্টপূর্ব ২০০০ অব্দ থেকে আজ পর্যন্ত চিন তার সাংস্কৃতিক ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছে। 
- এককথায় চীনা সভ্যতা পৃথিবীতে বিরাজমান সবচেয়ে পুরাতন সভ্যতা।
- ভৌগোলিক কারণে বৃহত্তর পৃথিবীর সঙ্গে কোনো যোগাযোগ না থাকায় এ অঞ্চলের সভ্যতা- সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে নিজস্ব নিয়মে, ভিন্ন বৈশিষ্ট্য নিয়ে।
- চীন পূর্ব এশিয়ার বৃহত্তম রাষ্ট্র।
- দেশটির তিনটি অঞ্চলে প্রাচীন সভ্যতা গড়ে উঠেছিল।
- একটি হোয়াং হো নদীর তীরে, দ্বিতীয়টি ইয়াং জেকিয়াং নদীর তীরে, তৃতীয়টি দক্ষিণ চীনের ভূখণ্ডে। 
- এই সভ্যতা সৃষ্টি হয়েছিল- শাং ও চৌ রাজাদের আমলে।
- দেশটির সীমান্ত জুড়ে বিরূপ প্রাকৃতিক পরিবেশ থাকার কারণে বাইরের পৃথিবীর সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করা সহজ ছিল না।
- চীনের উত্তর দিকে গোবি মরুভূমি, পূর্ব ও দক্ষিণে প্রশান্ত মহাসাগর এবং পশ্চিমে রয়েছে তিব্বতের পার্বত্য অঞ্চল।
- নদীগুলোর প্রভাবে প্রাচীন চীনে কৃষিভিত্তিক সভ্যতা গড়ে উঠেছিল। 
- যে কারণে অভ্যন্তরীণ ব্যবসায়-বাণিজ্য এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা চালু রাখা সহজ ছিল।
- ধারণা করা হয়, খ্রিস্টপূর্ব ২০০০ অব্দে চীনের প্রাচীন সভ্যতা গড়ে ওঠেছিল। 

চীনের আদি মানুষ:  
- ১৯২৯ খ্রিস্টাব্দে চিনে প্রাগৈতিহাসিক যুগের মানুষের মাথার খুলি পাওয়া গেছে।
- চীনের রাজধানী পিকিং-এর (বর্তমান বেইজিং) কাছে এই খুলি পাওয়া যায়।
- এরাই চীনের আদিম মানুষ; যাদেরকে 'পিকিং মানুষ' বলা হয়। 
- এ থেকে ধারণা করা হয় যে নবোপলীয় যুগ বা নতুন পাথরের যুগে চীনে মানুষের বসবাস ছিল।

অন্যদিকে, 
মিশরীয় সভ্যতা:
- প্রাচীন মিশরীয় সভ্যতার বিস্তৃতিকাল খ্রিস্টপূর্ব ৫০০০-৫২৫ পর্যন্ত।

সিন্ধু সভ্যতার সময়কাল:
- পণ্ডিতদের মতে, খ্রিস্টপূর্ব ৩৫০০ অব্দ থেকে খ্রিস্টপূর্ব ১৫০০ অব্দ পর্যন্ত এ সভ্যতার উত্থান-পতনের কাল।
- ঐতিহাসিকরা মনে করেন, আর্য জাতির আক্রমণের ফলে খ্রিস্টপূর্ব ১৫০০ অথবা ১৪০০ অব্দে সিন্ধু সভ্যতার অবসান ঘটে। 
- এই সভ্যতার সময়কাল মর্টিমার হুইলারের মতে খ্রিস্টপূর্ব ২৫০০ থেকে খ্রিস্টপর্ব ১৫০০ অব্দ পর্যন্ত।

ব্যবিলনীয় সভ্যতা:
- হাম্মুরাবি ১৭৯২-১৭৫০ খ্রিস্টপূর্ব পর্যন্ত শাসন করেন। তারপর পরই ব্যবিলনীয় সভ্যতার পতন ঘটে।
- নয়া-ব্যবিলনীয় সভ্যতার পতন ঘটে ৫৩৯ খ্রিস্টপূর্বে। 

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
History.com
.
প্রাক-রাজবংশীয় যুগে মিশর কতগুলো ছোট ছোট নগর রাষ্ট্রে বিভক্ত ছিল - এগুলোকে কী বলা হত?
  1. নারমার
  2. পের-ও
  3. নোম
  4. মেম্ফিস
সঠিক উত্তর:
নোম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নোম
ব্যাখ্যা
প্রাচীন মিশর: 
- প্রাক-রাজবংশীয় যুগে মিশর কতগুলো ছোট ছোট নগর রাষ্ট্রে বিভক্ত ছিল।
- এগুলোকে 'নোম' বলা হতো।
- মিশরের প্রথম রাজা বা ফারাও-এর (মেনেস বা নারমার) অধিনে ঐক্যবদ্ধ মিশরের রাজধানী ছিল দক্ষিণ মিশরের মেম্ফিস।
- মিশরীয় 'পের-ও' শব্দ থেকে ফারাও শব্দের জন্ম।
- ফারাওরা ছিলেন অত্যন্ত ক্ষমতাশালী।
- তারা নিজেদেরকে সূর্য দেবতার বংশধর মনে করতেন।
- ফারাও পদটি ছিল বংশানুক্রমিক।
- অর্থাৎ ফারাওয়ের ছেলে হতো উত্তরাধিকার সূত্রে ফারাও।
- পেশার উপর ভিত্তি করে মিশরের সমাজের মানুষকে কয়েকটি শ্রেণিতে ভাগ করা যায়।
- যেমন: রাজপরিবার, পুরোহিত, অভিজাত, লিপিকার, ব্যবসায়ী, শিল্পী, কৃষক ও ভূমিদাস।
- মিশরের অর্থনীতি মূলত ছিল কৃষি নির্ভর।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
গ্রিসের পূর্ব নাম ছিল কী ছিল?
  1. ঈজিয়ান
  2. হেলাস
  3. বলকান
  4. এথেন্স
সঠিক উত্তর:
হেলাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হেলাস
ব্যাখ্যা
গ্রীক সভ্যতা: 
- গ্রিসের মহাকবি হোমারের 'ইলিয়ড' ও 'ওডিসি' মহাকাব্য দুটিতে বর্ণিত চমকপ্রদ কাহিনীর মধ্যে লুকিয়ে থাকা সত্যকে খুঁজে বের করার অদম্য ইচ্ছা উৎসাহিত করে তোলে প্রত্নতত্ত্ববিদদের।
- উনিশ শতকের শেষে হোমারের কাহিনী আর কবিতায় সীমাবদ্ধ থাকে না, বেরিয়ে আসে এর ভিতরের সত্য ইতিহাস।
- ঈজিয়ান সাগরের দ্বীপপুঞ্জে এবং এশিয়া মাইনরের পশ্চিম উপকূলে আবিষ্কৃত হয় এক উন্নততর প্রাচীন নগর সভ্যতা।
- সন্ধান মেলে মহাকাব্যের ট্রয় নগরীসহ একশত নগরীর ধ্বংস স্তুপের।
- ইউরোপ মহাদেশের এই অঞ্চলেই প্রথম সভ্যতার উন্মেষ ঘটেছিল।

ভৌগোলিক অবস্থা ও সময়কাল: 
- গ্রিস দেশটি আড্রিয়াটিক সাগর, ভূ-মধ্যসাগর ও ঈজিয়ান সাগর দ্বারা পরিবেষ্টিত।
- ইউরোপের দক্ষিণ দিকে অবস্থিত বলকান উপদ্বীপ।
- এর দক্ষিণাংশে একটি ছোট পাহাড়ি দেশ গ্রিস।
- গ্রিস মূলত একটি পর্বতময় দ্বীপ রাষ্ট্র।
- আনুমানিক খ্রিস্টপূর্ব ১৩০০-১২০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দে গ্রিক সভ্যতার সূচনা হয় যার পূর্ণ বিকাশ ঘটে খ্রিস্টপূর্ব ৬ষ্ঠ ও ৫ম শতকে।
- গ্রিকরা ৩৩৮ খ্রিস্টপূর্বাব্দ পর্যন্ত সভ্যতার বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে সক্ষম হয়।

সভ্যতায় গ্রিসের অবদান:
- গ্রিসের পূর্ব নাম ছিল হেলাস।
- রোমানরা পরবর্তিকালে এর নামকরণ করে গ্রিস।
- গ্রিক সংস্কৃতি হেলেনীয় সংস্কৃতি নামে বেশি পরিচিত।
- অসংখ্য নগররাষ্ট্র নিয়ে গড়ে উঠা প্রাচীন গ্রিসে সংস্কৃতির বিভিন্ন ধারা এবং গণতন্ত্র চর্চার মূল কেন্দ্র ছিল এথেন্স।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
'দ্য পেলোপনেসিয়ান ওয়ার' - বইটি কে লিখেছেন?
  1. হেরোডোটাস
  2. ইউরিপিদিস
  3. এসকাইলাস
  4. থুকিডাইডিস
সঠিক উত্তর:
থুকিডাইডিস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
থুকিডাইডিস
ব্যাখ্যা
প্রাচীন গ্রিসের সাহিত্য:
- সাহিত্যের ক্ষেত্রে প্রাচীন গ্রিসের সৃষ্টি আজও মানব সমাজের মূল্যবান সম্পদ।
- হোমারের মহাকাব্য 'ইলিয়ড' এবং 'ওডিসি' মহাকাব্যের অপূর্ব নিদর্শন।
- বিয়োগান্তক নাটক রচনায় গ্রিকরা বিশেষ পারদর্শী ছিল।
- 'এসকাইলাস'কে এই ধরনের নাটকের জনক বলা হয়।
- তার রচিত বিখ্যাত দুটি নাটকের নাম 'প্রমিথিউস বাউন্ড' ও 'আগামেমন'।
- গ্রিসের শ্রেষ্ঠ নাট্যকার ছিলেন সোফোক্লিস। তিনি একশটিরও বেশি নাটক রচনা করেন।
- তার বিখ্যাত নাটকের মধ্যে রাজা 'অয়দিপাউস', 'আন্তিগোনে' ও 'ইলেকট্রা' অন্যতম।
- আর এক বিখ্যাত নাট্যকারের নাম ইউরিপিদিস।
- এরিস্টোফেনেসের মিলনান্তক ও ব্যঙ্গ রচনায় বিশেষ খ্যাতি ছিল।
- ইতিহাস রচনা শুরু করে গ্রিকরা।
- হেরোডোটাস প্রথম ইতিহাস রচনা শুরু করেন বলে তাঁকে ইতিহাসের জনক বলা হয়।
- তাঁর রচিত ইতিহাস সংক্রান্ত প্রথম বইটি ছিল গ্রিস ও পারস্যের মধ্যকার যুদ্ধ নিয়ে।
- থুকিডাইডিস ছিলেন বিজ্ঞানসম্মত ইতিহাসের জনক।
- তাঁর বইটির শিরোনাম ছিল 'দ্য পেলোপনেসিয়ান ওয়ার'।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
প্রাচীন গ্রিসে সফিস্ট কাদের বলা হত?
  1. যুক্তিহীন দার্শনিক
  2. নাট্যকার
  3. ইতিহাসবিদ
  4. যুক্তিবাদী দার্শনিক
সঠিক উত্তর:
যুক্তিবাদী দার্শনিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যুক্তিবাদী দার্শনিক
ব্যাখ্যা
প্রাচীন গ্রিসের দর্শন: 
- দার্শনিক চিন্তার ক্ষেত্রে গ্রিসের অভূতপূর্ব উন্নতি হয়েছিল।
- পৃথিবী কীভাবে সৃষ্টি হয়েছে, প্রতিদিন কীভাবে এর পরিবর্তন ঘটছে এসব ভাবতে গিয়ে গ্রিসে দর্শন চর্চার সূত্রপাত।
- থালেস ছিলেন প্রথম দিককার দার্শনিক।
- তিনিই প্রথম সূর্য গ্রহণের প্রাকৃতিক কারণ ব্যাখ্যা করেন।
- গ্রিসে যুক্তিবাদী দার্শনিকের আবির্ভাব ঘটে যাদের বলা হতো সফিস্ট। 
- এরা বিশ্বাস করতেন যে চূড়ান্ত সত্য বলে কিছু নেই।
- গণতান্ত্রিক নগর রাষ্ট্র এথেন্সের রাজা পেরিক্লিস এদের অনুসারী ছিলেন।
- সক্রেটিস ছিলেন এ চিন্তার দার্শনিকদের মধ্যে সবচেয়ে খ্যাতিমান।
- তার শিক্ষার মূল দিক ছিল- আদর্শ রাষ্ট্র ও সৎ নাগরিক গড়ে তোলা।
- সক্রেটিসের শিষ্য প্লেটো গ্রিক দর্শনকে চরম উন্নতির দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে সক্ষম হন।
- প্লেটোর শিষ্য এরিস্টটলও একজন বড় দার্শনিক ছিলেন।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
'ইনিড' মহাকাব্যটি কার লেখা?
  1. ভার্জিল
  2. হোরাস
  3. ওভিদ
  4. হোমার
সঠিক উত্তর:
ভার্জিল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভার্জিল
ব্যাখ্যা
সাহিত্যে রোমানদের অবদান:  
- সম্রাট অগাসটাস সীজারের যুগে রোমান সাহিত্যের ক্ষেত্রে সবচেয়ে উন্নতি হয়।
- এ যুগের কবি হোরাস, ভার্জিল যথেষ্ট খ্যাতি অর্জন করেছিলেন।
- ভার্জিলের মহাকাব্য 'ইনিড' বহু ভাষায় অনুবাদ করা হয়েছে।
- ওভিদ ও লিভি ছিলেন এ যুগের দুইজন খ্যাতিমান কবি।

প্রাচীন গ্রিসের সাহিত্য:
- সাহিত্যের ক্ষেত্রে প্রাচীন গ্রিসের সৃষ্টি আজও মানব সমাজের মূল্যবান সম্পদ।
- হোমারের মহাকাব্য 'ইলিয়ড' এবং 'ওডিসি' মহাকাব্যের অপূর্ব নিদর্শন।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
কার নেতৃত্বে ফরায়েজী আন্দোলন গড়ে উঠে?
  1. হাজী শরিয়ত উল্লাহ
  2. মুহসিন উদ্দিন দুদুমিয়া
  3. হাজী মুহম্মদ মহসীন
  4. মীর নিসার আলী
সঠিক উত্তর:
হাজী শরিয়ত উল্লাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হাজী শরিয়ত উল্লাহ
ব্যাখ্যা
ফরায়েজী আন্দোলন: 
- ফরায়েজি আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা হাজী শরিয়ত উল্লাহ।
- তিনি বৃহত্তর ফরিদপুরের মাদারীপুর জেলায় ১৭৮২ খ্রিস্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি দীর্ঘ বিশ বছর মক্কায় অবস্থান করেন।
- সেখানে তিনি ইসলাম ধর্মের উপর লেখাপড়া করে অগাধ পাণ্ডিত্য অর্জন করেন।
- দেশে ফিরে তিনি বুঝতে পারেন যে বাংলার মুসলমানরা ইসলামের প্রকৃত শিক্ষা থেকে অনেক দূরে সরে গেছে।
- তাদের মধ্যে অনৈসলামিক রীতিনীতি, কুসংস্কার, অনাচার প্রবেশ করেছে।
- তিনি ইসলাম ধর্মকে এসব কুসংস্কার আর অনৈসলামিক অনাচার মুক্ত করতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ হন।
- এই প্রতিজ্ঞার বশবর্তী হয়ে তিনি উনিশ শতকের প্রথমার্ধে বাংলার মুসলমানদের মধ্যে এক ধর্মীয় সামাজিক সংস্কার আন্দোলনের সূত্রপাত করেন।
- হাজী শরিয়ত উল্লাহর এই সংস্কার আন্দোলনের নামই ফরায়েজি আন্দোলন।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১০.
কোন ঘটনাকে ফরাসি বিপ্লবের সূচনা হিসেবে বিবেচনা করা হয়?
  1. নেপোলিয়ন এর ক্ষমতা লাভ
  2. চতুর্দশ লুই এর সিংহাসনে আরোহণ
  3. ষোড়শ লুই এর সিংহাসনে আরোহণ
  4. বাস্তিল দূর্গের পতন
সঠিক উত্তর:
বাস্তিল দূর্গের পতন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাস্তিল দূর্গের পতন
ব্যাখ্যা
ফরাসি বিপ্লব:
- আধুনিক ইউরোপের রাজনৈতিক, সামাজিক ও চিন্তার জগতে নতুন দিগন্তের সূচনা করে।
- চতুর্দশ লুইয়ের শাসনামলে (১৬৫১-১৭১৫ খ্রি.) ফ্রান্স একটি শক্তিশালী রাষ্ট্রে পরিণত হয়।
- তবে তার সাম্রাজ্যবাদী নীতি দেশকে ভেতর থেকে দুর্বল করে দেয়।
- তার পুত্র পঞ্চদশ লুই (১৭১৫-১৭৭৪ খি.) এর অমিতব্যায়িতা জন্য এই দুর্বলতা আরও বৃদ্ধি পায়।
- ষোড়শ লুই ১৭৭৪ সালে সিংহাসনে বসে ক্রমশ এক অরাজক পরিস্থিতির মধ্যে পড়েন।
- আর্থ সামাজিক বৈষম্য রাজনৈতিক দুর্বলতার সঙ্গে যুক্ত হয়ে ১৭৮৯ সলে এক বিষ্ফোরক পরিস্থিতির সৃষ্টি করে।
- ঐতিহাসিক আলফ্রেড কোবান (Alfred Cobban) এই অবস্থাকে অনেক ছোট বড় খরস্রোতা নদীর সংমিশ্রণে হঠাৎ ফুলে ফেঁপে ওঠা বিধ্বংসী বন্যার সঙ্গে তুলনা করেছেন। 
- ১৭৮৯ সালের ১৪ জুলাই বাস্তিল কারাদুর্গ আক্রমণ ও এর পতনের মধ্য দিয়ে সূচিত হয় বিশ্ব ইতিহাসের এক নতুন অধ্যায় যা বিখ্যাত হয়েছে ফরাসি বিপ্লব নামে।

উৎস: ইতিহাস দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১১.
কাইজার দ্বিতীয় উইলিয়াম কে ছিলেন?
  1. ফ্রান্সের সম্রাট
  2. ইংল্যান্ডের সম্রাট
  3. রাশিয়ার সম্রাট
  4. জার্মানির সম্রাট
সঠিক উত্তর:
জার্মানির সম্রাট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জার্মানির সম্রাট
ব্যাখ্যা
কাইজার দ্বিতীয় উইলিয়াম (William II, king of Prussia and the last German emperor):
- প্রুশিয়ার রাজা এবং জার্মানির শেষ সম্রাট ছিলেন। 
- তিনি ৩০ বছর ধরে জার্মান সাম্রাজ্য শাসন করেন, তবে শেষ পর্যন্ত সিংহাসনচ্যুত হন।

বিশ্বযুদ্ধের ভূমিকা:
- ১৯১৪ সালে যুদ্ধের পূর্বাভাস পেয়ে, তিনি রাশিয়ার জার নিকোলাসকে চিঠি লেখেন। 
- ইংল্যান্ডের রাজাকেও শান্তির আহ্বান জানান।
- যখন তার চিঠিগুলো উপেক্ষা করা হয়, তিনি অস্ট্রো-হাঙ্গেরিয়ান সাম্রাজ্যকে সার্বিয়ার বিরুদ্ধে আক্রমণ চালিয়ে যেতে উত্সাহিত করেন।
- এর ফলে প্রথম বিশ্বযুদ্ধ শুরু হয়, যেখানে জার্মানি ফ্রান্স এবং রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে।
- যুদ্ধে জার্মানির ভূমিকা নির্ধারণে তিনি নিজেকে সরিয়ে রেখে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ভার তার জেনারেলদের হাতে তুলে দেন।

সিংহাসনচ্যুতি:
- ১৯১৮ সালে, জার্মান চ্যান্সেলর ঘোষণা করেন যে সম্রাট এবং তার উত্তরাধিকারীরা সিংহাসন ত্যাগ করেছেন।
- কাইজার দ্বিতীয় উইলিয়াম নির্বাসনে যেতে বাধ্য হন।

মৃত্যু:
- ১৯১৮ সালের শরৎকালে নেদারল্যান্ডসের ডোরনে নির্বাসিত হন। 
- সেখানে নির্বাসিত অবস্থায় ১৯৪১ সালে তার মৃত্যু হয়।

উৎস: উইলিয়াম II-এর জীবন এবং প্রথম বিশ্বযুদ্ধের ইতিহাস, Britannica.
১২.
হিটলার কোন পার্টির নেতা হিসেবে ক্ষমতায় আসেন?
  1. নাৎসি পার্টি
  2. ফ্যাসিস্ট পার্টি
  3. ন্যাশনাল সোশালিস্ট জার্মান ওয়ার্কার্স পার্টি
  4. ক ও গ উভয়ই
সঠিক উত্তর:
ক ও গ উভয়ই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক ও গ উভয়ই
ব্যাখ্যা
- নাৎসি পার্টির পূর্ণ নাম: ন্যাশনাল সোশালিস্ট জার্মান ওয়ার্কার্স পার্টি (National Socialist German Workers' Party - NSDAP) 

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের কারণ:

- অনেকগুলো পরস্পরবিরোধী কারণ সামনে রেখেই দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শুরু।
- ১৯২০ সালের দিকে ইতালির ফ্যাসিজম, ১৯২০ সালের দিকে জাপানি সামরিকবাদের বিকাশ এবং ঠিক তার এক দশকের মাথায় ১৯৩০ সালে চীন আক্রমণকে এর জন্য দায়ী করা যেতে পারে।
- ১৯৩৩ সালে জার্মানিতে উদ্ভব ঘটে কুশলী রাষ্ট্রনায়ক হিটলারের।
- যাকে বিশ্বের বেশিরভাগ ইতিহাসবিদ ঘৃণ্যতম স্বৈরতান্ত্রিক শাসক হিসেবেই উল্লেখ করেছেন।
- হিটলার ১৯৩৩ সালের দিকে নাৎসি পার্টির নেতা হিসেবে জার্মানির শাসন ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হন।
- তিনি ভার্সাই চুক্তির অপমানজনক শর্তগুলোকে পায়ে মাড়িয়ে জার্মানিকে নতুন উদ্যমে মাথা তুলে দাঁড়াতে প্রণোদিত করেন।
- ১৯৩৯ সালে জার্মান বাহিনী পোল্যান্ড আক্রমণ করে বসলে ব্রিটেন ও ফ্রান্স মিলিতভাবে যুদ্ধ ঘোষণা করে জার্মানির বিরুদ্ধে (দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শুরু)।

নাৎসি পার্টি: 
- পূর্ণ নাম: ন্যাশনাল সোশালিস্ট জার্মান ওয়ার্কার্স পার্টি (National Socialist German Workers' Party - NSDAP)
- প্রতিষ্ঠাকাল: ১৯২০ সালে (মূলত জার্মান ওয়ার্কার্স পার্টি হিসেবে ১৯১৯ সালে প্রতিষ্ঠিত)
- অ্যাডলফ হিটলার ১৯২১ সালে এর প্রধান নেতা হন।
- ১৯৩৩ সালে হিটলার জার্মান চ্যান্সেলর হন।
- এরপর ধাপে ধাপে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো ধ্বংস করে একনায়কতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেন।

আদর্শ:
উগ্র জাতীয়তাবাদ
ইহুদি বিরোধিতা
সামরিকতন্ত্র
একনায়কতন্ত্র

উৎস: Britannica.
ইতিহাস দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৩.
বেনিতো মুসোলিনি কোন দেশের স্বৈরশাসক ছিলেন?
  1. জার্মানি
  2. ইতালি
  3. ফ্রান্স
  4. রাশিয়া
সঠিক উত্তর:
ইতালি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইতালি
ব্যাখ্যা
- বেনিতো মুসোলিনি ইতালির স্বৈরশাসক ছিলেন। 

বেনিতো মুসোলিনি:

- উদারপন্থী শাসনের নামে পুরো ইতালিতে এক নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়।
- বেনিতো মুসোলিনি গঠন করেন আধাসামরিক এক স্বেচ্ছাসেবক বাহিনী যার নাম ফ্যাসিস্ট পার্টি।
- এ বাহিনী তাদের নেতা মুসোলিনির বক্তব্যকেই নীতি ও আদর্শ হিসেবে মেনে প্রাচীন ইতালির সম্ভ্রম পুনরুদ্ধারে ব্যাপৃত হয়।
- অল্প সময়ের মধ্যেই মুসোলিনি একটি শক্তিশালী সামারিক দল গঠন করেন।
- ১৯২২ সালের দিকে হাজার হাজার ফ্যাসিস্ট স্বেচ্ছাসেবক নিয়ে রাজধানী রোমের পথে রওনা হন মুসোলিনি।
- তখনকার রাজা ভিক্টর ইমানুয়েলস বিদ্রোহ দমনের জন্য সেনাবাহিনীকে নির্দেশ দিলেও তারা তার নির্দেশ মানেনি।
- এরপর ক্ষমতায় চলে আসেন ফ্যাসিস্ট পার্টির নেতা মুসোলিনি।
- প্রথমে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ক্ষমতায় আসলেও সময়ের আবর্তে তিনি এক প্রভাবশালী স্বৈরশাসক বনে যান।
- তার নেতৃত্বেই ইতালি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে অক্ষশক্তির স্বপক্ষে যুদ্ধ করে।

উৎস: ইতিহাস দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৪.
শার্লে দ্য গল কে ছিলেন?
  1. ফ্রান্সের ত্রাণকর্তা
  2. জার্মানির ত্রাণকর্তা
  3. ইংল্যান্ডের ত্রাণকর্তা
  4. আমেরিকার ত্রাণকর্তা
সঠিক উত্তর:
ফ্রান্সের ত্রাণকর্তা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফ্রান্সের ত্রাণকর্তা
ব্যাখ্যা
ফ্রান্সের ত্রাণকর্তা শার্লে দ্য গল (Charles de Gaulle): 
- ম্যাজিনো লাইন অতিক্রম করে জার্মান পাঞ্জার ডিভিশনের অবিশ্বাস্য সফলতা দুর্ভাগ্যের দিন ডেকে আনে ফরাসিদের।
- এ সময় ফ্রান্সের ত্রাণকর্তার ভূমিকায় আবির্ভূত হন শার্লে দ্য গল।
- তিনি ১৯৪১ সালের দিকে সুয়েজ খাল অঞ্চলে প্রথম জার্মান বাহিনীর বিরুদ্ধে আক্রমণ পরিচালনা করেছিলেন।
- এরপর যখন যুদ্ধে পরাজয়ের মধ্য দিয়ে ফ্রান্সের ভাগ্য অনিশ্চিত হয়ে পড়ে তখন পুরো জাতির হাল ধরেন তিনিই। 
- তার নেতৃত্ব ফ্রান্সকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ এবং পরবর্তী সংকটকালীন সময়ে দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত করে।
- পূর্ণ নাম: শার্লে আন্দ্রে জোসেফ মেরি দ্য গল (Charles André Joseph Marie de Gaulle)
- জন্ম: ২২ নভেম্বর, ১৮৯০, ফ্রান্সের লিল শহরে।
- মৃত্যু: ৯ নভেম্বর, ১৯৭০, কোলোম্বে-লে-দো-জিগলিস, ফ্রান্স।

কার্যকাল ও অবদান:
- প্রথম বিশ্বযুদ্ধে ফরাসি সেনাবাহিনীতে কাজ করেন।
- দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জার্মানির বিরুদ্ধে প্রতিরোধে নেতৃত্ব দেন।
- ১৯৪০ সালে জার্মানির আক্রমণে ফ্রান্স দখল হওয়ার পর ব্রিটেনে পালিয়ে যান।
- লন্ডন থেকে "ফ্রি ফ্রান্স" আন্দোলনের নেতৃত্ব দেন।
- তার বিখ্যাত বাণী: "ফ্রান্স হারেনি।"

রাজনৈতিক জীবন:
- ১৯৫৮ সালে আলজেরিয়া সংকটের সময় তিনি ফ্রান্সের পঞ্চম প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেন।
- ১৯৫৯ থেকে ১৯৬৯ সাল পর্যন্ত ফ্রান্সের রাষ্ট্রপতি ছিলেন।
- ফ্রান্সের স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি গড়ে তোলেন।
- ন্যাটো থেকে ফ্রান্সকে আংশিকভাবে প্রত্যাহার করেন।
- আধুনিক ফ্রান্সের প্রতিষ্ঠাতা
- তার নেতৃত্বে ফ্রান্সের অর্থনীতি ও জাতীয় গৌরব পুনরুদ্ধার হয়।

উল্লেখযোগ্য কর্ম:
বই: "The Call to Honor" তার লেখা বিখ্যাত স্মৃতিকথা।

উৎস:
ইতিহাস দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
Encyclopaedia Britannica
BBC History
France Diplomacy Archive
১৫.
কোন মার্কিন প্রেসিডেন্ট আনবিক বোমা নিক্ষেপের সিদ্ধান্ত দিয়েছিলেন?
  1. ফ্রাংক্‌লিন রুজভেল্ট
  2. উড্রো উইলসন
  3. হ্যারি এস ট্রুম্যান
  4. আইজেনহাওয়ার
সঠিক উত্তর:
হ্যারি এস ট্রুম্যান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হ্যারি এস ট্রুম্যান
ব্যাখ্যা
হিরোশিমা ও নাগাসাকির ট্র্যাজেডি:
- ১৯৪৫ সালের ৮ মে জার্মানি যুদ্ধে আত্মসমর্পণ করলেও জাপানে সম্রাট হিরোহিতোর বাহিনী ছিল নাছোড়বান্দা।
- তারা সমান তালে লড়ে যাচ্ছিল মিত্রবাহিনীর বিরুদ্ধে।
- যুক্তরাষ্ট্রের পার্ল হারবারে হামলার জন্য মিত্রবাহিনীর অন্যতম অংশীদার যুক্তরাষ্ট্রের চরম ক্ষোভ ছিল জাপানের ওপর।
- মানুষের ইতিহাসে সবচেয়ে ন্যক্কারজনক ঘটনার নজির স্থাপন করে ৬ ও ৯ আগস্ট যথাক্রমে হিরোশিমা ও নাগাসাকিতে নিক্ষেপ করা হয় লিটল বয় ও ফ্যাট ম্যান নামের দুটি ধ্বংসাত্মক আনবিক বোমা।
- ৬ আগস্ট সকাল ৮টা ১৫ মিনিটে হিরোশিমায় প্রথম বোমাটি নিক্ষেপ করা হলে তাৎক্ষণিক প্রাণ যায় ১ লাখ বিশ হাজার মানুষের। আর তার দ্বিগুণ মানুষ মারা যায় এর একটু পরে।
- স্বয়ং মার্কিন প্রেসিডেন্ট হ্যারি এস ট্রুম্যান আনবিক বোমা নিক্ষেপের এ পাশবিক সিদ্ধান্ত দিয়েছিলেন
- এনোলা গে নামের বিমানটি থেকে যখন হিরোশিমায় প্রথম পারমাণবিক বোমাটি নিক্ষেপ করা হয় তখন থমকে গিয়েছে বিশ্ব মানবতা এর ধ্বংসযজ্ঞ দেখে।
- পরপর দুটি আঘাত সইতে না পেরেই জাপানিরা ১৫ আগস্ট এসে নিঃশর্ত আত্মসমর্পণে বাধ্য হয়।

উৎস: ইতিহাস দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৬.
নেলসন মেন্ডেলা কত সালে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন?
  1. ১৯৮৯ সালে
  2. ১৯৯১ সালে
  3. ১৯৯৩ সালে
  4. ১৯৯৫ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯৯৩ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৯৩ সালে
ব্যাখ্যা
বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলনের পথিকৃৎ ব্যক্তিত্ব:
বিশ শতকের দিকে বর্ণবাদ বিরোধী আন্দোলন ব্যাপকতা পায়।
তখন বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে জোরদার হয়ে ওঠে বর্ণবাদ বিরোধী আন্দোলন।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বর্ণবাদের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছিলেন বেশ কয়েকজন নেতা।
তাঁরা জীবনের বেশিরভাগ সময় ব্যয় করেছেন মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে।
এক্ষেত্রে ভারতের মহাত্মা গান্ধী, দক্ষিণ আফ্রিকার নেলসন ম্যান্ডেলা, ডেসমন্ড টুটু, আমেরিকার মার্টিন লুথার কিং জুনিয়র প্রমুখের নাম বলা যেতে পারে। 

নেলসন ম্যান্ডেলা:
কিংবদন্তী রাষ্ট্রনায়ক নেলসন ম্যান্ডেলা ছিলেন দক্ষিণ আফ্রিকার প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি, যিনি বর্ণবাদের অবসান ঘটিয়ে বহু বর্ণভিত্তিক গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন।
তাঁর আকর্ষণীয় ব্যাক্তিত্ব, প্রখর রসবোধ এবং প্রতিপক্ষের দিকে বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়ে দেয়ার মত বিশাল মন বর্ণবাদ বিরোধী আন্দোলনকে পথ দেখায়।
তিনি তাঁর এসব গুনের জোরেই বিশ্বের জনপ্রিয় এবং আকর্ষণীয় নেতা হিসেবে খ্যাতি লাভ করেন।
বর্ণবাদের অবসানের পর ১৯৯৪ সালের ১০ই মে নতুন দক্ষিণ আফ্রিকার প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নিয়েছিলেন নেলসন ম্যান্ডেলা।
এর মাত্র এক দশক আগেও সংখ্যালঘু শ্বেতাঙ্গ শাসিত দক্ষিণ আফ্রিকায় এই রাজনৈতিক পট পরিবর্তন ছিল এক অকল্পনীয় ঘটনা। এই পরিবর্তনের পেছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছিলেন নেলসন ম্যান্ডেলা।
শুধু দক্ষিণ আফ্রিকায় নয়, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে শান্তি প্রতিষ্ঠায়ও তিনি ভূমিকা রাখেন।
বিশ্বের নানা দেশের শান্তি প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখার পাশাপাশি দক্ষিণ আফ্রিকার বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলন সফল করার স্বীকৃতি হিসেবে ১৯৯৩ সালে তিনি শান্তিতে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন
১৯১৮ সালে নেলসন ম্যান্ডেলার জন্ম।
তাঁর বাবা ছিলেন ইস্টার্ন কেপ প্রদেশের থেম্বো রাজকীয় পরিবারের কাউন্সিলর।
দক্ষিণ আফ্রিকায় ম্যান্ডেলা তার গোত্রের দেয়া 'মাদিবা' নামে বিশ্বব্যাপী বেশি পরিচিত।

উৎস: ইতিহাস দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৭.
কে বলশেভিক বিপ্লবের নেতা ছিলেন?
  1. আলেক্সান্দ্রো এফ. ক্যারেনস্কি
  2. জোসেফ স্ট্যালিন
  3. ভ্লাদিমির লেনিন
  4. মাও সে তুং
সঠিক উত্তর:
ভ্লাদিমির লেনিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভ্লাদিমির লেনিন
ব্যাখ্যা
রুশ বিপ্লব:
- ১৯১৭ সালে রাশিয়ায় মূলত দুটি বিপ্লব সংঘটিত হয়।
- এই দুটি বিপ্লব হলো ফেব্রুয়ারি বিপ্লব ও বলশেভিক বিপ্লব।
- এই দুটি বিপ্লবকে একত্রে "১৯১৭ সালের রুশ বিপ্লব" (Russian Revolution of 1917) বলা হয়।
- এই বিপ্লবের ফলে রাশিয়ায় রাজতন্ত্রের অবসান ঘটে ও সমাজতন্ত্রের সূচনা ঘটে।

• ফেব্রুয়ারি বিপ্লব:
- রুশ বিপ্লবের প্রথম পর্যায়কে ফেব্রুয়ারি বিপ্লব বলা হয়।
- ফেব্রুয়ারি বিপ্লবের ফলে রাজতন্ত্রের অবসান ঘটে এবং জার দ্বিতীয় নিকোলাসকে ক্ষমতা থেকে উচ্ছেদ ও বন্দি করা হয়।
- ফেব্রুয়ারি বিপ্লবের নেতৃত্ব ছিলেন আলেক্সান্দ্রো এফ. ক্যারেনস্কি (Aleksandr F. Kerensky)।

• বলশেভিক বিপ্লব/অক্টোবর বিপ্লব:
- রুশ বিপ্লবের দ্বিতীয় পর্যায়কে বলশেভিক বা অক্টোবর বিপ্লব বলে।
- বলশেভিক বিপ্লবের ফলে রাশিয়ায় লেনিনের নেতৃত্বে বিশ্বের প্রথম সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা লাভ করে।
- বলশেভিক বিপ্লবের নেতা ছিলেন ভ্লাদিমির লেনিন ও লিওন ট্রটস্কি।

উৎস: Britannica
History.com
১৮.
সেলুলার ফোনের জনক কে?
  1. স্টিভ জবস
  2. টমাস এডিসন
  3. মার্টিন কুপার
  4. আলেকজান্ডার গ্রাহাম বেল
সঠিক উত্তর:
মার্টিন কুপার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মার্টিন কুপার
ব্যাখ্যা
মোবাইল ফোন বা সেলুলার ফোন (Mobile Phone): 
- মোবাইল ফোন বা সেলফোন বর্তমান বিশ্বে সর্বাধিক জনপ্রিয় এবং ব্যবহৃত যোগাযোগ মাধ্যম।
- এটি প্রকৃত পক্ষে একটি ট্রান্সমিটার ও রিসিভার অর্থাৎ একে এক কথায় ট্রান্সসিভার বলে।
- প্রথম দিকে এটি শুধু যোগাযোগ মাধ্যম হিসাবে ব্যবহৃত হলেও বর্তমানে এটি বিনোদন থেকে শুরু করে ইন্টারনেট ব্যবহার পর্যন্ত সকল কাজেই ব্যবহার করা যায়।
- মোবাইল ফোন এখন একটি ছোটো খাটো কম্পিউটারের ন্যায় কাজ করে।
- এর সাহায্যে গেইম খেলা, গানশুনা, গান ডাইনলোড করা, সিনেমা দেখা, ভিডিও কনফারেন্স করা, ইন্টারনেট ব্যবহার করা, চিঠি-পত্র আদান প্রদান করা, স্থির ও ভিডিও চিত্র গ্রহন ও প্রেরণ ইত্যাদি কাজ সম্পন্ন করা যায়।
- তাছাড়াও মোবাইল ফোন দিয়ে ক্যাশ পেমেন্ট, বিল পরিশোধ, এয়ারপোর্টে চেক-ইন, কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তির দরখাস্ত করা যায়।

 
মার্টিন কুপার:
- মার্টিন কুপার (জন্ম: ২৬ ডিসেম্বর, ১৯২৮, শিকাগো, ইলিনয়, যুক্তরাষ্ট্র) একজন আমেরিকান প্রকৌশলী।
- তিনি ১৯৭২–৭৩ সালে প্রথম মোবাইল সেল ফোন তৈরি করার দলের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। 
- তিনি প্রথম মোবাইল ফোন কল করেন।
- তিনি ব্যাপকভাবে সেলুলার ফোনের জনক হিসেবে পরিচিত। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
Britannica. 
১৯.
ই-মেইল আবিষ্কারের পেছনে কাকে পাইওনিয়ার বা পুরোধা ব্যক্তি বলে ধারণা করা হয়?
  1. বিল গেটস
  2. স্টিভ জবস
  3. রে টমলিনসন
  4. ইলন মাস্ক
সঠিক উত্তর:
রে টমলিনসন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রে টমলিনসন
ব্যাখ্যা
- রে টমলিনসনকে ই-মেইল আবিষ্কারের পেছনে যে অ্যামেরিকানকে পাইওনিয়ার বা পুরোধা ব্যক্তি বলে ধারণা করা হয়। 
- তিনি ইলেকট্রনিক মেসেজ পাঠানোর প্রক্রিয়া প্রথম চালু করেন ১৯৭১ সালে ।
- সেসময় তিনি কাজ করতেন বোস্টনে, একজন কম্পিউটার প্রকৌশলী হিসেবে।
- ইমেইলের ঠিকানায় আমরা যে অ্যাট (@) চিহ্নটা ব্যবহার করি তারও প্রচলন করেছিলেন এই রে টমলিনসন।

উৎস: বিবিসি বাংলা।
২০.
কাকে আয়রন লেডি বলা হতো?
  1. ইন্দিরা গান্ধী
  2. মার্গারেট থ্যাচার
  3. মাদার তেরেসা
  4. অ্যাঞ্জেলা মার্কেল
সঠিক উত্তর:
মার্গারেট থ্যাচার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মার্গারেট থ্যাচার
ব্যাখ্যা
মার্গারেট থ্যাচার:
- যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হওয়া প্রথম নারী ছিলেন মার্গারেট থ্যাচার।
- তিনি ইউরোপের ইতিহাসে এই ধরনের পদে অধিষ্ঠিত প্রথম নারীও ছিলেন। 
- ১৮২০-এর পর প্রথম প্রধানমন্ত্রী যিনি টানা তিনটি নির্বাচনে জয়লাভ করেছিলেন।
- থ্যাচারের ঘোষিত উদ্দেশ্য ছিল "সমাজতন্ত্রকে ধ্বংস করা।"
- তার বলিষ্ঠ নেতৃত্বের কারণে তাকে আয়রন লেডি বলা হতো। 

উৎস: Britannica.