পরীক্ষা আর্কাইভ

ডেইলি কুইজ [২০০ দিন]

পরীক্ষাডেইলি কুইজ [২০০ দিন]তারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়09 minutes
মোট প্রশ্ন২৪
সিলেবাস
বিষয় - বাংলা ভাষা ও ব্যাকরণ টপিক - ধ্বনিতত্ত্ব [বর্ণ-প্রকরণ; যুক্তবর্ণ; ধ্বনির গঠন ও উচ্চারণ বিধি; ধ্বনি পরিবর্তন] উৎস: অষ্টম শ্রেণি ও মাধ্যমিক বাংলা ব্যাকরণ বোর্ড বই (NCTB ও উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়), বাংলা একাডেমির অভিধান অথবা যেকোনো স্কলার (যেমন: ড. হায়াৎ মামুদ)-এর বই। (ব্যাকরণ - এর ক্ষেত্রে গাইড থেকে পড়াশুনা করলে, বিতর্কিত বিষয়গুলো বোর্ড বই ও বাংলা একাডেমি অভিধান থেকে ক্রসচেক করে নিলে উত্তম হবে।) ------------------------- [নির্দেশিকা: এই রুটিনে সারাবছর জুড়ে পরীক্ষা চলমান থাকে। আপনি আজ ১ম পরীক্ষা দেওয়া শুরু করলে ২০০ দিনের মধ্যে পুরো সিলেবাস সম্পন্ন হবে।]
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

ডেইলি কুইজ [২০০ দিন]

ডেইলি কুইজ [২০০ দিন] · তারিখ অনির্ধারিত · ২৪ প্রশ্ন

.
নিচের কোনগুলো ঘোষ মহাপ্রাণ ধ্বনি?
  1. ঘ, ঝ
  2. ঝ, গ 
  3. চ, ছ 
  4. চ, জ
ব্যাখ্যা

ঘোষ মহাপ্রাণ ধ্বনি- ঘ, ঝ। 

• ঘোষ মহাপ্রাণ ধ্বনি:
- ঘোষ মহাপ্রাণ ধ্বনি বলতে সেই ধ্বনিগুলোকে বোঝায়, যেগুলোর উচ্চারণকালে একদিকে ধ্বনিদ্বারের কম্পন বেশি হয় (ঘোষ), অন্যদিকে ফুসফুস থেকে নির্গত বায়ুপ্রবাহও বেশি হয় (মহাপ্রাণ)।
- এই দুই বৈশিষ্ট্য একসঙ্গে থাকার কারণে ঘ ও ঝ ঘোষ মহাপ্রাণ ধ্বনি হিসেবে চিহ্নিত।

----------------
অন্যদিকে,
ঘোষ ব্যঞ্জন: উচ্চারণের সময় ধ্বনিদ্বারের কম্পন তুলনামূলক বেশি থাকে—যেমন: ব, ভ, ম, দ, ধ, ন, র, ল, ড, ঢ, ড়, ঢ়, জ, ঝ, গ, ঘ, ঙ, হ। 
• অঘোষ ব্যঞ্জন: উচ্চারণে ধ্বনিদ্বারের কম্পন তুলনামূলক কম—যেমন: প, ফ, ত, থ, স, ট, ঠ, চ, ছ, শ, ক, খ।
• অল্পপ্রাণ ব্যঞ্জন: বায়ুপ্রবাহ কম—যেমন: প, ব, ত, দ, স, ট, ড, ড়, চ, জ, শ, ক, গ।
• মহাপ্রাণ ব্যঞ্জন: বায়ুপ্রবাহ বেশি—যেমন: ফ, ভ, থ, ধ, ঠ, ঢ, ঢ়, ছ, , খ, ঘ, হ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২সংস্করণ)।

.
বর্গের কোন বর্ণসমূহ অঘোষ ধ্বনি?
  1. ১ম ও ২য় বর্ণ
  2. ১ম ও ৩য় বর্ণ
  3. ২য় ও ৩য় বর্ণ
  4. ২য় ও ৪র্থ বর্ণ
ব্যাখ্যা

বর্গের প্রথম ও দ্বিতীয় বর্ণ অঘােষ ধ্বনি।
--------------------- 
• অঘােষ ধ্বনি:
- বাংলা ভাষায় অঘোষ ব্যঞ্জনধ্বনি বলতে সেই সব ব্যঞ্জনকে বোঝায়, যেগুলো উচ্চারণের সময় স্বরতন্ত্রী কোনো কম্পন সৃষ্টি করে না।
- এ ধরনের ধ্বনির মোট সংখ্যা ১৩টি।
- এর মধ্যে বর্গীয় ব্যঞ্জনের প্রথম ও দ্বিতীয় ধ্বনি—অর্থাৎ ক, খ; চ, ছ; ট, ঠ; ত, থ; প, ফ—এই দশটি ধ্বনি অঘোষ শ্রেণিভুক্ত।
- এদের সঙ্গে যোগ হয় তিনটি উষ্ম ধ্বনি—শ, ষ, স।
- ফলে বর্গীয় ১০টি এবং উষ্ম ৩টি মিলিয়ে বাংলায় মোট ১৩টি অঘোষ ব্যঞ্জনধ্বনি গঠিত হয়েছে।
--------------------
অন্যদিকে,
• বর্গের দ্বিতীয় ও চতুর্থ বর্ণ মহাপ্রাণ ধ্বনি।
• বর্গের পঞ্চম বর্ণ নাসিক্য ধ্বনি।
• বর্গের প্রথম ও তৃতীয় বর্ণ অল্পপ্রাণ ধ্বনি।
• বর্গের তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম বর্ণ ঘােষ ধ্বনি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

.
'ঞ্চ' যুক্তাক্ষরে কোন দুটি বর্ণ রয়েছে? 
  1. ন + চ্‌ 
  2. ঞ্‌ + চ 
  3. ন + ঞ্‌
  4. চ + ঞ্‌
ব্যাখ্যা

• 'ঞ্চ' যুক্তাক্ষরটি ঞ (ইঁয়ো) এবং চ বর্ণের সমন্বয়ে গঠিত।
- ঞ্চ = ঞ্ + চ। 
----------------
'ঞ্চ' যুক্তবর্ণে যে দুটি বর্ণ রয়েছে তা হলো— ঞ্‌ + চ। 

- 'ঞ্চ' ( ঞ্‌ + চ) যুক্তবর্ণ দিয়ে গঠিত কিছু বাংলা শব্দ:
অঞ্চল, 
কাঞ্চন, 
মঞ্চ, 
পঞ্চম, 
চঞ্চল,  
সঞ্চয়,
বঞ্চনা, 
পঞ্চ,  
সঞ্চালন, 
লঞ্চ, 
ইঞ্চ।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান। 

.
যে অক্ষর ব্যঞ্জনধ্বনিতে শেষ হয়, তাকে কী বলে?
  1. মুক্তাক্ষর
  2. দীর্ঘাক্ষর
  3. স্বরাক্ষর
  4. বদ্ধাক্ষর
ব্যাখ্যা

ব্যঞ্জন বা অর্ধস্বরধ্বনিতে সমাপ্ত অক্ষরকে বদ্ধাক্ষর বলা হয়।
—--------------------------- 
• অক্ষর:
- বাগযন্ত্রের একটি প্রয়াসে যে ধ্বনি বা ধ্বনির সমষ্টি উচ্চারিত হয়, তাকে অক্ষর বলা হয়।
- অক্ষর হলো ধ্বনি বা শব্দাংশের সেই ক্ষুদ্রতম একক, যা একবারের উচ্চারণচেষ্টায় সম্পন্ন হয়।
- অক্ষর প্রধানত দুই প্রকার—
- মুক্তাক্ষর ও
- বদ্ধাক্ষর।

বদ্ধাক্ষর:
- যে অক্ষরের সমাপ্তি ব্যঞ্জনধ্বনি বা অর্ধস্বরধ্বনিতে ঘটে, তাকে বদ্ধাক্ষর বলা হয়।
- একে ব্যঞ্জনান্ত বা যুগ্মাস্বরান্ত অক্ষরও বলা হয়।
- যেমন— “বুধ বার দিনরাত হরতাল” বাক্যে (বুধ্‌), (বার্), (দিন্), (রাত), (হর্), (তাল্)—এসবই বদ্ধাক্ষর।
- বদ্ধাক্ষরকে সাধারণত – চিহ্ন দিয়ে প্রকাশ করা হয়।
----------------------------- 
অন্যদিকে, 
মুক্তাক্ষর:
- যে অক্ষরে কেবল একটি বর্ণ থাকে বা যা স্বরধ্বনিতে শেষ হয়, তাকে মুক্তাক্ষর বলা হয়।
- একে অযুগ্ম বা স্বরান্ত অক্ষরও বলা হয়।
- যেমন— “ভালোবাসো সেটা বলনা কেন?” বাক্যে (ভা), (লো), (বা), (সো), (সে), (টা), (ব), (ল), (না), (না), (কে), (ন)—এগুলো সবই মুক্তাক্ষর।
- মুক্তাক্ষরকে U চিহ্ন দিয়ে বোঝানো হয়। 
- এ ধরনের অক্ষর উচ্চারণের শেষে মুখ খোলা থাকে, ফলে প্রয়োজনে উচ্চারণ দীর্ঘ করা যায়।

উৎস:
বাংলা কবিতার ছন্দ বিশ্লেষণ;
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা। 

.
“দন্ত স্পৃষ্ট” ব্যঞ্জনের উদাহরণ কোনটি?
  1. ট, ঠ 
  2. ত, থ
  3. চ, ছ
  4. ড, ঢ
ব্যাখ্যা

“দন্ত স্পৃষ্ট” ব্যঞ্জনের উদাহরণ- ত, থ।
- দন্ত স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন উচ্চারণের সময় দাঁতের সঙ্গে জিভের সংস্পর্শে তৈরি হয়।
----------------------
স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন: 
- যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময় দুটি বাগযন্ত্র পরস্পরের সংস্পর্শে এসে বায়ুপথ বন্ধ করে, সেগুলোকেই স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন বলে।
- এগুলো স্পর্শ ব্যঞ্জন নামেও পরিচিত।
- প, ব, ট, ঠ, ড, ঢ, ত, থ, দ, ধ, চ, ছ, জ, ঝ, ক, খ, গ, ঘ শব্দের প, ব, ট, ঠ, ড, ঢ, ত, থ, দ, ধ, চ, ছ, জ, ঝ, ক, খ, গ, ঘ স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন।

- উচ্চারণের স্থান অনুযায়ী এগুলোকে ওষ্ঠ স্পৃষ্ট, দন্ত স্পৃষ্ট, মূর্ধা স্পৃষ্ট, তালু স্পৃষ্ট এবং কণ্ঠ স্পৃষ্ট—এই পাঁচ ভাগে ভাগ করা যায়।
- যথা—
• ওষ্ঠ স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন: প, ফ, ব, ভ।
দন্ত স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন: ত, থ, দ, ধ।
• মূর্ধা স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন: ট, ঠ, ড, ঢ।
• তালু স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন: চ, ছ, জ, ঝ।
• কণ্ঠ স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন: ক, খ, গ, ঘ

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ৯ম-১০ম শ্রেণি (২০২৫ সংস্করণ)।

.
মুক্তাক্ষরের উচ্চারণের সময় মুখ কেমন থাকে?  
  1. বন্ধ
  2. আংশিক বন্ধ
  3. খোলা
  4. সংকুচিত
ব্যাখ্যা

মুক্তাক্ষর উচ্চারণের সময় মুখ খোলা থাকে।
------------------
• মুক্তাক্ষর:
- অযুগ্ন বা মুক্ত স্বরান্ত ধ্বনিকে মুক্তাক্ষর বলে। 
- একে স্বরান্ত অক্ষরও বলা হয়।
- মুক্তাক্ষর বা মুক্তদল হলো ছন্দের সেই অংশ যা বাক্যের মূল ছন্দের বাইরে থাকে।
- এটি সাধারণত বাক্যের শুরুতে অবস্থান করে।
- মুক্তদল ছন্দের মূল অংশের (বদ্ধাক্ষরের) আগে আসে।
- মুক্তাক্ষরের মাত্রা সাধারণত এক মাত্রা।
- মুক্তাক্ষর হলো ছন্দের সূচনাকারী একমাত্রা। 
- এটি ছন্দের বাকি অংশের সঙ্গে মিলিয়ে বাক্যের গতি ও ছন্দ নির্ধারণে সহায়তা করে।
- যখন মূল বদ্ধাক্ষর (ছন্দের প্রধান অংশ) শুরু হয়, তখন মুক্তাক্ষরের উপস্থিতি বাকি ছন্দের জন্য প্রারম্ভিক তাল ও সমন্বয় তৈরি করে।
- ফলে পুরো বাক্যের ছন্দ এবং গতি সুষম ও স্বাভাবিকভাবে প্রবাহিত হয়।
- মুক্তাক্ষর অংশের ব্যবহার- ছন্দকে স্বতন্ত্র ও প্রাথমিক রূপ প্রদান করে, যাতে মূল ছন্দের প্রবাহ সুন্দরভাবে প্রকাশ পায়।
- উদাহরণস্বরূপ, “কবির কণ্ঠে হে বন্ধু বাজে সুর”–এখানে "হে বন্ধু" অংশটি শুরুতে মুক্তদল হিসেবে বসে, যা বাক্যের বাকি ছন্দকে সুন্দরভাবে সূচনা দেয়।

উৎস:
বাংলা কবিতার ছন্দ বিশ্লেষণ;
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর।

.
তাড়নজাত ধ্বনি- 
  1. ড়
  2. স 
ব্যাখ্যা

তাড়নজাত ধ্বনি:
- বাংলা ভাষায় তাড়নজাত বা তাড়িত ব্যঞ্জনধ্বনি হলো সেই ধ্বনি, যেগুলো উচ্চারণের সময় জিভের ডগা দ্রুত উল্টে মূর্ধায় বা দাঁতের মূলে সংস্পর্শ বা টোকা দেয়।
- বাংলা ভাষায় এ ধরনের দুটি ধ্বনি রয়েছে: ‘ড়’ এবং ‘ঢ়’।
- এই ধ্বনিগুলো উচ্চারণের সময় জিভ দ্রুত সংকুচিত হওয়ার কারণে তাড়নজাত নামে পরিচিত।

- ড়: স্বল্পপ্রাণ মূর্ধন্য তাড়নজাত ধ্বনি। যেমন—বাড়ি, গাড়ি, বড়।
- ঢ়: মহাপ্রাণ মূর্ধন্য তাড়নজাত ধ্বনি। যেমন—গাঢ়, মূঢ়, আষাঢ়।
----------------------------- 
অন্যদিকে,
• পার্শ্বিক ধ্বনি- ল। 
• কম্পনজাত ধ্বনি- র। 
• উষ্ম ব্যঞ্জনধ্বনি- , শ, ষ ও হ। 
• অন্তঃস্থ ধ্বনি- য, ব, র, ল। 

উৎস:
ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ; 
বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ৯ম-১০ম শ্রেণি (২০২৫ সংস্করণ)।

.
'ঝঞ্ঝাট' শব্দের যুক্তবর্ণের সঠিক রূপ কোনটি?
  1. ঝ্‌+ঞ
  2. ঞ+ন্‌ 
  3. ঞ+ঝ
  4. জ্‌+ন্‌+ঞ 
ব্যাখ্যা

 • ঞ্ঝ যুক্তাক্ষরে ঞ + ঝ- এই দুটি বর্ণ রয়েছে। 
ঝঞ্ঝাট শব্দের যুক্তবর্ণের সঠিক রূপ- ঞ + ঝ। 

• ঞ্ঝ (ঞ + ঝ) যুক্তবর্ণ দিয়ে গঠিত কিছু বাংলা শব্দ:
ঝঞ্ঝা, ঝঞ্ঝাট। 

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান। 

.
মোজা > মুজো কোন ধরনের স্বরসঙ্গতির উদাহরণ?
  1. পরাগত স্বরসঙ্গতি
  2. প্রগত স্বরসঙ্গতি
  3. মধ্যগত স্বরসঙ্গতি 
  4. অন্যোন্য স্বরসঙ্গতি
ব্যাখ্যা

মোজা > মুজো অন্যোন্য স্বরসঙ্গতির উদাহরণ। 
-------------------------
• অন্যোন্য স্বরসঙ্গতি-
- একটি শব্দে থাকা দুটি ভিন্ন স্বরধ্বনি যখন পরস্পরের প্রভাবে বদলে গিয়ে নতুন ধ্বনিগত রূপ সৃষ্টি করে, তখন তাকে অন্যোন্য স্বরসঙ্গতি বলে।
- এখানে কোনো একটি স্বর এককভাবে প্রভাব ফেলে না;
- বরং আগের ও পরের স্বরধ্বনি একে অপরকে প্রভাবিত করেই ধ্বনি পরিবর্তন ঘটে; 
- এজন্য একে পারস্পরিক বা অন্যোন্য স্বরসঙ্গতি বলা হয়।
- উদাহরণ:
- মোজা > মুজো, 
- ঝোলা > ঝুলি, 
- পূজা > পুজো, 
- খেলা > খেলো, 
- মেলা > মেলো। 
-------------------------
• স্বরসঙ্গতি (Vowel harmony):
- স্বরসঙ্গতি বলতে বোঝায়—একটি স্বরধ্বনির প্রভাবে শব্দের ভেতরের অন্য স্বরধ্বনি বদলে যাওয়া।
- এতে শব্দের উচ্চারণে মিল বা সামঞ্জস্য তৈরি হয়।
- সহজভাবে বলা যায়, স্বরসঙ্গতি হলো স্বরধ্বনির পারস্পরিক প্রভাবের ফল।
- বাংলার কথ্য ভাষায় এ ধরনের পরিবর্তন বেশি দেখা যায়।
- যেমন:
- দেশি > দিশি,
- বিলাতি > বিলিতি,
- মুলা > মুলো।

- স্বরসঙ্গতি ৪ প্রকারে বিভক্ত-
- প্রগত; 
- পরাগত; 
- মধ্যগত; 
- অন্যোন্য। 
------------------------------------
অন্যদিকে,
• পরাগত স্বরসঙ্গতি (Regressive):
- যখন শব্দের শেষের স্বরধ্বনির কারণে শুরু বা আগের স্বরধ্বনি পরিবর্তিত হয়, তখন তাকে পরাগত স্বরসঙ্গতি বলা হয়।
- এখানে পরের স্বর আগের স্বরকে প্রভাবিত করে।
- উদাহরণ:
- দেশি > দিশি,
- আখো > এখো, 
- মিশে > মেশে।

• প্রগত স্বরসঙ্গতি (Progressive)-
- যখন শব্দের প্রথম স্বরধ্বনির প্রভাবে শেষের স্বরধ্বনি পরিবর্তিত হয়, তখন তাকে প্রগত স্বরসঙ্গতি বলা হয়।
- অর্থাৎ আগের স্বর পরে থাকা স্বরকে বদলে দেয়।
- উদাহরণ:
- মুলা > মুলো,
- শিকা > শিকে,
- তুলা > তুলো।

• মধ্যগত স্বরসঙ্গতি- 
- মধ্যগত স্বরসঙ্গতি বলতে এমন স্বরসঙ্গতিকে বোঝায়, যেখানে শব্দের প্রথম স্বরধ্বনি বা শেষের স্বরধ্বনির প্রভাবে মাঝখানে থাকা স্বরধ্বনি পরিবর্তিত হয়।
- এর ফলে শব্দের ভেতরের স্বরধ্বনিগুলোর মধ্যে ধ্বনিগত মিল বা সামঞ্জস্য তৈরি হয়।
- যেমন—
- বিলাতি থেকে বিলিতি-তে প্রথম ‘ই’ স্বরের প্রভাবে মাঝের ‘আ’ বদলে ‘ই’ হয়েছে।
- আবার জিলাপি থেকে জিলিপি -তে আদি ‘ই’ স্বরের কারণে মধ্যবর্তী ‘আ’ পরিবর্তিত হয়েছে।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; 
বাংলা ২য় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি। 

১০.
নিচের কোনটি অর্ধস্বরধ্বনি?
  1. ঊ 
ব্যাখ্যা

অর্ধস্বরধ্বনি:
- বাংলায় অর্ধস্বরধ্বনি সেই ধ্বনি যা উচ্চারণের সময় পূর্ণ স্বরের মতো সম্পূর্ণ উচ্চারিত হয় না, বরং অর্ধেক বা অস্পষ্টভাবে উচ্চারিত হয়। 
- সাধারণত এটি যৌগিক স্বরের সঙ্গে দ্রুত উচ্চারণের সময় দ্বিতীয় স্বরকে অস্পষ্টভাবে উচ্চারণ করে।
- বাংলায় প্রধান চারটি অর্ধস্বরধ্বনি হলো- , উ, এ, ও।

- এ ধরনের ধ্বনির বৈশিষ্ট্য হলো, উচ্চারণকালে জিহ্বা এক স্বর থেকে অন্য স্বরে দ্রুত সরে যায়। 
- পূর্ণস্বর ও অর্ধস্বরের মধ্যে পার্থক্য স্পষ্ট; যেমন ‘চাই’ শব্দে ‘আ’ পূর্ণস্বর, কিন্তু ‘ই’ অর্ধস্বর কারণ তা অর্ধেক উচ্চারিত হয়।

 - উদাহরণস্বরূপ, 
- ‘যাই’ শব্দে ‘ই’ অর্ধস্বর,
- ‘লাউ’ বা ‘হাওয়াই’ শব্দে ‘উ’ অর্ধস্বর,
- ‘যাও’ শব্দে ‘ও’ অর্ধস্বর, এবং
- ‘খেয়ে’ শব্দে ‘এ’ অর্ধস্বর হিসেবে উচ্চারিত হয়।

উৎস:
বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণি (সংস্করণ ২০১৯);
ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

১১.
অভিশ্রুতি ধ্বনি পরিবর্তনের উদাহরণ কোনটি? 
  1. মাছুয়া > মেছো
  2. মাছুয়া > মাউছ্যা
  3. ফাল্গুন > ফাগুন
  4. সত্য > সইত্য
ব্যাখ্যা

অভিশ্রুতি:
- অভিশ্রুতি অপনিহিতির পরবর্তী পর্যায়।
- অভিশ্রুতি হলো এমন এক ধরনের ধ্বনি পরিবর্তন, যেখানে অপিনিহিতির ফলে সৃষ্ট ই-ধ্বনি বা উ-ধ্বনি পূর্ববর্তী স্বরধ্বনির সঙ্গে মিলিত হয়ে শব্দের উচ্চারণ ও রূপে পরিবর্তন ঘটায়।
- এই প্রক্রিয়ায় শব্দটি ধাপে ধাপে নতুন রূপ লাভ করে এবং উচ্চারণ সহজ হয়।
- যেমন—
- মাছুয়া >মাউছ্যা>মেছো, 
- মানিয়া → মাইন্যা → মেনে,
- শুনিয়া>শুনে, 
- বলিয়া>বলে ।
- করিয়া > কইর‍্যা > করে, 
- রাখিয়া >রাইখা >রেখে,
- আজি >আইজ >আজ,
- মানিয়া >মাইন্যা >মেনে,  
- দেখিয়া > দেইখ্যা > দেখে, 
- গাছুয়া > গাউছ্যা > গেছো, 
- বাছিয়া → বাইছ্যা → বেছে। 
- উদাহরণগুলোতে দেখা যায়, বিপর্যস্ত স্বরধ্বনি পূর্ববর্তী স্বরের সঙ্গে যুক্ত হয়ে ধ্বনিগত রূপান্তর ঘটিয়েছে।
-----------------------------
অন্যদিকে, 
- মাছুয়া >মাউছ্যা, সত্য >সইত্য অপিনিহিতির উদাহরণ। 
অপিনিহিতি:
- অপিনিহিতি হলো এমন এক ধ্বনিগত প্রক্রিয়া, যেখানে শব্দের ভেতরে থাকা ই-কার বা উ-কার তার নিজ অবস্থান ত্যাগ করে আগের ব্যঞ্জনের আগে সরে এসে উচ্চারিত হয়।
- এই রীতিতে ধ্বনির স্থানান্তরের ফলে শব্দের উচ্চারণ সহজ ও স্বাভাবিক হয়ে ওঠে।
- পূর্ববঙ্গ, অর্থাৎ বর্তমান বাংলাদেশের কথ্য বাংলায় অপিনিহিতির ব্যবহার বিশেষভাবে লক্ষণীয়।
- যেমন—
- করিয়া → কইরা,
- সাধু → সাউধ,
- বলিয়া → বইলা,
- দেখিয়া → দেইখা ইত্যাদি। 

- ফাল্গুন → ফাগুন- অন্তর্হতির উদাহরণ। 
অন্তর্হতি: 
- অন্তর্হতি হলো এমন ধ্বনি পরিবর্তন যেখানে কোনো শব্দের মধ্যবর্তী অংশ থেকে একটি ব্যঞ্জনধ্বনি লোপ পায়।
- এতে স্বরধ্বনির পারস্পরিক সংযোগ নয়, বরং ব্যঞ্জনধ্বনির অপসারণই মুখ্য বিষয়।
- যেমন— 
- ফলাহার → ফলার,
- আলাহিদা → আলাদা। 

উৎস: 
ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ; 
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১২.
ভাষার মূল ভিত্তি হচ্ছে - 
  1. বাক্য
  2. ধ্বনি
  3. শব্দ
  4. বর্ণ 
ব্যাখ্যা

ভাষার মূল ভিত্তি - ধ্বনি।
-----------
• ভাষার মূল ভিত্তি:
- ধ্বনি হলো ভাষার মূল ভিত্তি।
- এটি সবচেয়ে ক্ষুদ্র মৌলিক উপাদান, যা মানুষের বাকযন্ত্রের সাহায্যে উৎপন্ন হয়।
- অ, আ, ক, খ ইত্যাদি ধ্বনির সমন্বয়ের মাধ্যমেই অর্থবোধক শব্দ গঠিত হয় এবং সেই শব্দ থেকেই ভাষার কাঠামো দাঁড়িয়ে থাকে।
- যদিও ধ্বনি ভাষার ক্ষুদ্রতম একক, তবু এককভাবে এর কোনো অর্থ থাকে না।
- অর্থ সৃষ্টি হয় একাধিক ধ্বনি মিলিত হয়ে শব্দ গঠনের মাধ্যমে।
- এই কারণেই ধ্বনিকে ভাষার ‘মূল বীজ’ বলা হয়।
- ধ্বনি নিজে অর্থহীন হলেও শব্দ ও বাক্য গঠনের মাধ্যমে ভাষায় অর্থ সৃষ্টির প্রধান ভিত্তি হিসেবে কাজ করে।
--------------------------- 
অন্যদিকে,
• বাক্য ভাষার মূল উপকরণ।
• ভাষার মৌলিক উপাদান- শব্দ।
• ধ্বনি নির্দেশক চিহ্ন - বর্ণ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা। 

১৩.
ব্যঞ্জনদ্বিত্ব ধ্বনি পরিবর্তনের উদাহরণ- 
  1. করলাম > কল্লাম
  2. মারল > মাল্ল
  3. তর্ক > তক্ক
  4. সকাল > সক্কাল
ব্যাখ্যা

ব্যঞ্জনদ্বিত্ব:
- দ্বিত্ব ব্যঞ্জন বা ব্যঞ্জনদ্বিত্ব হলো বাংলা ভাষার একটি ধ্বনি পরিবর্তন প্রক্রিয়া, যেখানে জোর দেওয়া বা উচ্চারণকে সহজ ও স্বাভাবিক করার উদ্দেশ্যে শব্দের ভেতরের কোনো একটি ব্যঞ্জনধ্বনি পরপর দুইবার উচ্চারিত হয়।
- এই ক্ষেত্রে একক ব্যঞ্জনটি রূপান্তরিত হয়ে দ্বিগুণ ব্যঞ্জনে পরিণত হয়।
- সাধারণত কথ্য ভাষায় আবেগ, তীব্রতা বা গুরুত্ব বোঝাতে এই ধরনের দ্বিত্ব ব্যঞ্জনের ব্যবহার বেশি দেখা যায়।
- যেমন—
- সকাল → সক্কাল—এখানে ‘ক’ ব্যঞ্জনটি দ্বিত্ব হয়ে ‘ক্ক’ রূপ ধারণ করেছে।
- এই প্রক্রিয়ায় শব্দের অর্থ অপরিবর্তিত থাকলেও উচ্চারণগত রূপে স্পষ্ট পরিবর্তন ঘটে।

- আরও কিছু উদাহরণ: 
- পাকা > পাক্কা, 
- ছোট > ছোট্ট,
- গপ > গপ্পো,
- শাক > শাক্ক, 
- মুলুক > মুল্লুক, 
- বড় > বড্ড,
- কিছু > কিচ্ছু।
-------------------
অন্যদিকে,
- করলাম > কল্লাম; 
- মারল > মাল্ল;
- তর্ক > তক্ক- র-কার লোপের উদাহরণ। 

- র-কার লোপ:
- আধুনিক চলিত বাংলায় দ্রুত উচ্চারণের সময় যখন কোনো শব্দের মাঝের 'র' বা ‘র-ফলা’ বিলুপ্ত হয়ে যায় এবং তার পরিবর্তে পরবর্তী ব্যঞ্জনবর্ণটি দুইবার উচ্চারিত হয়, তখন তাকে র-কার লোপ বা ‘র’ লোপ বলা হয়।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

১৪.
‘পিশাচ > পিচাশ’ কোন ধরনের ধ্বনি পরিবর্তনের উদাহরণ? 
  1. ধ্বনি বিপর্যয়
  2. অন্তর্হতি
  3. ব্যঞ্জন বিকৃতি
  4. ব্যঞ্জনচ্যুতি 
ব্যাখ্যা

‘পিশাচ > পিচাশ’ ধ্বনি বিপর্যয় এর উদাহরণ।
----------------------------
• ধ্বনি বিপর্যয়:
- উচ্চারণকে সহজ করা বা কথ্য ব্যবহারে স্বাচ্ছন্দ্য আনার জন্য কখনো কখনো একটি শব্দের ভেতরে পাশাপাশি থাকা দুইটি ব্যঞ্জনধ্বনি নিজেদের অবস্থান বদলে ফেলে।
- এই অবস্থান-বদলের ঘটনাকেই ধ্বনি বিপর্যয় (Metathesis) বলা হয়।
- এটি ধ্বনি পরিবর্তনের একটি ধরন।
- যেমন- ‘পিশাচ > পিচাশ’। 
- ‘পিশাচ’ শব্দে শ ও চ ধ্বনি স্থান অদলবদল করে ‘পিচাশ’ হয়েছে।

- একইভাবে কথ্য বা আঞ্চলিক ব্যবহারে কিছু উদাহরণে দেখা যায়, উচ্চারণ সহজ করতে ধ্বনির স্থান বদলে শব্দের রূপ পাল্টে গেছে।
- যেমন- 
- বাকস > বাস্ক,
- রিকশা > রিস্কা,
- লাফ > ফাল,
- তর্ক > তক্ক,
- মুকুট > মুটুক ইত্যাদি। 
------------------------------------------------ 
অন্যদিকে,
• অন্তর্হতি:
- অন্তর্হতি হলো ধ্বনি পরিবর্তনের একটি প্রক্রিয়া।
- এখানে কোনো শব্দের মাঝখানে থাকা একটি ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সুবিধার জন্য লোপ পায় বা বাদ পড়ে যায়।
- ফলে শব্দটি সহজ ও সংক্ষিপ্তভাবে উচ্চারিত হয়।
- যেমন-
- ফাল্গুন > ফাগুন (এখানে মাঝখানের ‘ল’ ব্যঞ্জনধ্বনি লোপ পেয়েছে)।
- ফলাহার > ফলার (এখানে ‘হা’ ধ্বনি অংশটি লোপ পেয়েছে)।
- আলাহিদা > আলাদা (এখানে মধ্যবর্তী ‘হি’ ধ্বনি লোপ পেয়েছে)।

• ব্যঞ্জন বিকৃতি:
-  ব্যঞ্জন বিকৃতি হলো ধ্বনি পরিবর্তনের একটি প্রক্রিয়া।
- এখানে কোনো শব্দের ব্যঞ্জনধ্বনি লোপ না পেয়ে অন্য একটি ব্যঞ্জনধ্বনিতে রূপান্তরিত হয়।
- সাধারণত পাশের ধ্বনির প্রভাব বা উচ্চারণের সুবিধার কারণে এই পরিবর্তন ঘটে।
- ফলে শব্দটির গঠন বদলে গেলেও মূল শব্দটি টিকে থাকে, শুধু ব্যঞ্জনধ্বনিটি বিকৃত রূপ ধারণ করে।
- যেমন- 
- কবাট > কপাট (এখানে ব → প ব্যঞ্জন পরিবর্তন হয়েছে)।
- ধোবা > ধোপা (এখানে ব → প ব্যঞ্জন পরিবর্তন হয়েছে)।

• ব্যঞ্জনচ্যুতি: 
- ব্যঞ্জনচ্যুতি বা সমাক্ষর লোপ হলো ধ্বনি পরিবর্তনের একটি প্রক্রিয়া।
- এই প্রক্রিয়ায় শব্দের ভেতরে পাশাপাশি উচ্চারিত একই বা সমজাতীয় দুটি ব্যঞ্জনধ্বনি থাকলে তাদের মধ্যে একটি ধ্বনি উচ্চারণের সময় বাদ পড়ে যায়।
- সাধারণত দ্রুত কথা বলা বা উচ্চারণ সহজ করার জন্য এই পরিবর্তন ঘটে।
- ফলে শব্দটি সংক্ষিপ্ত হয়, কিন্তু অর্থ অপরিবর্তিত থাকে।
- যেমন-
- বড়দাদা > বড়দা,
- ছোটকাকা > ছোটকা,
- বউদিদি > বউদি। 

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলা ২য় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি। 

১৫.
চ-বর্গীয় ধ্বনিকে কী বলা হয়?
  1. কণ্ঠ্য ধ্বনি
  2. তালব্য ধ্বনি
  3. মূর্ধন্য ধ্বনি
  4. দন্ত্য ধ্বনি
ব্যাখ্যা

চ-বর্গীয় ধ্বনি:
- চ-বর্গীয় ধ্বনির অন্তর্ভুক্ত চ, ছ, জ, ঝ ও ঞ—এই পাঁচটি বর্ণ উচ্চারণের সময় জিহ্বার অগ্রভাগ চ্যাপটা হয়ে তালুর সামনের অংশের সঙ্গে স্পর্শ ও ঘর্ষণ সৃষ্টি করে।
- এই বিশেষ উচ্চারণপ্রক্রিয়ার কারণেই এগুলোকে তালব্য স্পর্শধ্বনি বলা হয়।
- যেহেতু ধ্বনিগুলোর উৎপত্তিস্থান মূলত তালু, তাই চ-বর্গীয় ধ্বনিগুলোকে প্রধানত তালব্য ধ্বনি হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করা হয়।
- পাশাপাশি, উচ্চারণের সময় প্রথমে স্পর্শ এবং পরে ঘর্ষণ সৃষ্টি হওয়ায় ধ্বনিতাত্ত্বিক দৃষ্টিতে এগুলোকে ঘৃষ্ট বর্ণ বা ঘৃষ্ট ব্যঞ্জন (affricate) নামেও অভিহিত করা হয়।
-----------------------
অন্যদিকে,
- বাংলা ব্যঞ্জনধ্বনিগুলো উচ্চারণস্থানের ভিত্তিতে বিভিন্ন বর্গে বিভক্ত।

• ক-বর্গীয় ধ্বনিগুলো জিহ্বার মূল অংশ কণ্ঠদেশে স্পর্শ করে উচ্চারিত হয়, তাই এগুলোকে জিহ্বামূলীয় বা কণ্ঠ্য স্পর্শধ্বনি বলা হয়।

• ট-বর্গীয় ধ্বনিগুলো উচ্চারণের সময় জিহ্বা কিছুটা উল্টো হয়ে ওপরের মাড়ির গোড়ার শক্ত অংশ, অর্থাৎ মূর্ধায় স্পর্শ করে উচ্চারিত হয়, এজন্য এগুলোকে দন্তমূলীয় প্রতিবেষ্টিত বা মূর্ধন্য ধ্বনি বলা হয়।

• ত-বর্গীয় ধ্বনির ক্ষেত্রে জিহ্বা সামনে প্রসারিত হয়ে অগ্রভাগ দিয়ে ওপরের দাঁতের পাটির গোড়ায় স্পর্শ করে; ফলে ত, থ, দ, ধ, ন—এই ধ্বনিগুলো দন্ত্য ধ্বনি হিসেবে পরিচিত।

উল্লেখ্য, 
• প-বর্গীয় ধ্বনিগুলোর উচ্চারণে ওষ্ঠ ও অধরের পারস্পরিক স্পর্শ ঘটে, তাই প, ফ, ব, ভ, ম—এই ধ্বনিগুলোকে ওষ্ঠ্য ধ্বনি বলা হয়।

উৎস: 
ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ;
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৬.
নিচের কোনটি উষ্ম বর্ণ নয়?
  1. শ  
  2. ষ 
  3. হ 
ব্যাখ্যা

চ উষ্ম বা শিস বর্ণ নয়।
- চ হলো তালব্য স্পর্শধ্বনি।
-----------------------
উষ্ম বর্ণ:
- বাংলা বর্ণমালায় উষ্ম বর্ণ মোট চারটি।
- এগুলো হলো— শ, ষ, স ও হ।
- এই বর্ণগুলোর উচ্চারণের সময় শ্বাসবায়ুর প্রবাহ বেশি সক্রিয় থাকে এবং ধ্বনিগুলো অনেকটা শিসের মতো শোনা যায়, যার কারণে এগুলোকে উষ্ম বর্ণ বা শিস বর্ণ বলা হয়।
- উচ্চারণস্থানের ভিন্নতার ভিত্তিতে শ হলো তালব্য শ, ষ হলো মূর্ধন্য ষ, স হলো দন্ত্য স এবং হ হলো হ-ধ্বনি।

নোট-
- যদিও কোনো কোনো ক্ষেত্রে উষ্মধ্বনি তিনটি (শ, স, হ) বলে গণনার রীতি দেখা যায়।
- তবে শুদ্ধ ব্যাকরণগত দৃষ্টিকোণ থেকে বাংলা ভাষায় উষ্ম বর্ণের সংখ্যা চারটিই স্বীকৃত।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৭.
বাংলায় কতটি যৌগিক স্বর লিখিত রূপে পাওয়া যায়?
  1. ১টি
  2. ২টি
  3. ৩টি
  4. ৪টি 
ব্যাখ্যা

যৌগিক স্বর:
- যৌগিক স্বর হলো সেই ধ্বনি পরিবর্তন, যেখানে পাশাপাশি দুটি স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময় একত্র হয়ে একটি সংযুক্ত স্বরধ্বনি হিসেবে উচ্চারিত হয়।
- এই ধরনের মিলিত স্বরধ্বনিকে বাংলায় যৌগিক স্বর বলা হয়। 
- যৌগিক স্বরকে দ্বিস্বর, সন্ধিস্বর বা সন্ধ্যক্ষর ধ্বনিও বলা হয়।

- বাংলা ভাষায় মোট ২৫টি যৌগিক স্বরধ্বনি বিদ্যমান।
- তবে এদের মধ্যে শুধু দুটি স্বর—ঐ এবং ঔ—লিখিত রূপে প্রকাশিত হয়।
- বাংলা যৌগিক স্বরবর্ণ ২টি- ঐ এবং ঔ। 

- বাকি ২৩টি যৌগিক স্বরধ্বনি কেবল উচ্চারণে ব্যবহৃত হয় এবং এদের জন্য কোনো নির্দিষ্ট বর্ণ নেই।
- উদাহরণস্বরূপ-
- বই (অ + ই),
- বউ (অ + উ),
- ময়না (অ + য়),
- হও (অ + ও),
- লও (অ + ও) ইত্যাদি। 
----------------------- 
নোট- 
- মুহম্মদ আবদুল হাই এর মতে, যৌগিক স্বরধ্বনি ৩১টি পর্যন্ত হতে পারে। 
- সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়ের মতে যৌগিক স্বরধ্বনি ২৫টি। 
- পবিত্র সরকারের মতে, যৌগিক স্বরের সংখ্যা ১৭টি। 

উৎস:
ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ;
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৮.
চন্দন > চন্নন কোন ধরনের ধ্বনি পরিবর্তনের উদাহরণ?
  1. প্রগত সমীভবন
  2. পরাগত সমীভবন
  3. অন্যোন্য সমীভবন
  4. কোনটি নয়
ব্যাখ্যা

• চন্দন > চন্নন প্রগত সমীভবন ধ্বনি পরিবর্তনের উদাহরণ। 
----------------- 
• সমীভবন:
- সমীভবন বা সমীকরণ হলো ধ্বনি পরিবর্তনের এমন একটি প্রক্রিয়া। 
- এই প্রক্রিয়ায় শব্দের মধ্যে পাশাপাশি থাকা অসম ব্যঞ্জনধ্বনি একে অপরের প্রভাবে উচ্চারণে সঙ্গতি বা সাম্য অর্জন করে।
- যদিও এটি স্বরধ্বনিতেও ঘটতে পারে, তবে মূলত ব্যঞ্জনধ্বনিতে দেখা যায় এবং তাই ব্যাকরণ অনুযায়ী এটি ব্যঞ্জনধ্বনির সমীভবন নামে পরিচিত।
- উদাহরণস্বরূপ—
- জন্ম > জম্ম,
- কাঁদনা > কান্না।

• সমীভবনের তিনটি ধরন রয়েছে:

প্রগত সমীভবন (Progressive Assimilation):
- পূর্ববর্তী ব্যঞ্জনধ্বনির প্রভাবে পরবর্তী ব্যঞ্জনধ্বনি তার সমতা গ্রহণ করে।
- যেমন—
- চন্দন > চন্নন,
- পদ্ম > পদ্য,
- স্বর্ণ > সন্ন।

পরাগত সমীভবন (Regressive Assimilation):
- পরবর্তী ব্যঞ্জনধ্বনির প্রভাবে পূর্ববর্তী ব্যঞ্জনধ্বনি তার সমতা গ্রহণ করে।
- যেমন—
- কাঁদনা > কান্না,
- কর্ম > কম্ম,
- ধর্ম > ধম্ম।

অন্যোন্য সমীভবন (Mutual/Reciprocal Assimilation):
- পূর্ববর্তী ও পরবর্তী ব্যঞ্জনধ্বনি উভয়েই পরস্পরের প্রভাবে রূপান্তরিত হয়ে সাম্য লাভ করে।
- যেমন—
- বৎসর > বচ্ছর,
- বিশ্রী > বিচ্ছিরি,
- কুৎসিত > কুচ্ছিত।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ। 

১৯.
'আহ্নিক' শব্দের যুক্তবর্ণের সঠিক রূপ কোনটি? 
  1. ণ + হ
  2. ঞ + ন্‌ + হ 
  3. হ + ন
  4. হ + ণ
ব্যাখ্যা

• হ্ন যুক্তাক্ষরে হ + ন- এই দুটি বর্ণ রয়েছে।
- আহ্নিক' শব্দের যুক্তবর্ণের সঠিক রূপ- হ+ন। 

• হ্ন (হ+ন) যুক্তবর্ণ দিয়ে গঠিত কিছু বাংলা শব্দ:
- আহ্নিক,
- মধ্যাহ্ন,
- চিহ্নিত,
- জাহ্নবী,
- বহ্নি,
- অপহ্নুতি,
- সায়াহ্ন। 

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান। 

২০.
বাংলা লিপিতে কতটি হ্রস্বস্বর আছে?    
  1. ২টি
  2. ৩টি
  3. ৪টি
  4. ৫টি
ব্যাখ্যা

বাংলা লিপি: 
- বাংলা লিপিতে মোট মূল বর্ণের সংখ্যা ৫০টি।
- এর মধ্যে স্বরবর্ণ ১১টি এবং ব্যঞ্জনবর্ণ ৩৯টি।
- এই বর্ণগুলো সাধারণত বাম থেকে ডানে লেখা হয়। 

- বাংলা লিপি মূলত ব্রাহ্মী লিপি থেকে উদ্ভূত।
- প্রায় আড়াই হাজার বছর আগে উপমহাদেশে ব্রাহ্মী লিপির জন্ম হয়।
- এবং তা পশ্চিমী ভারতীয় শাখার মাধ্যমে দশম শতকের দিকে কুটিল লিপি নামে পরিচিতি পায়।
- বাংলা লিপি হলো সেই কুটিল লিপির বিবর্তিত রূপ।
- এছাড়া অহমিয়া, বোড়ো, মণিপুরি ইত্যাদি ভাষাও বাংলা লিপিতে লেখা হয়।
- অতীতকালে সংস্কৃত এবং মৈথিলি ভাষাও এই লিপিতে লিখিত হতো।

- স্বরের উচ্চারণ কাল অনুযায়ী বাংলা স্বরধ্বনিকে হ্রস্ব ও দীর্ঘ স্বর হিসেবে ভাগ করা হয়।
- বাংলা লিপিতে ২টি দীর্ঘস্বর আছে: ঈ ও ঊ।
- বাংলা বর্ণমালায় (লিপিতে) মৌলিক হ্রস্বস্বর বা হ্রস্ব স্বরবর্ণের সংখ্যা ৪টি।
- এগুলো হলো— অ, ই, উ, এবং ঋ

উৎস:
মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়;
বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ- ২০২১)।

২১.
বাংলা ভাষায় কয়টি বর্ণমালা রয়েছে?
  1. ১টি
  2. ২টি
  3. ৩টি
  4. ৫০টি
ব্যাখ্যা

বাংলা বর্ণমালা:
- বাংলা বর্ণমালা হলো বাংলা ভাষা লেখার জন্য ব্যবহৃত ৫০টি অক্ষরের সুবিন্যস্ত সমষ্টি।
- বাংলা বর্ণমালার গঠন অনুযায়ী, স্বরবর্ণগুলো হলো: অ, আ, ই, ঈ, উ, ঊ, ঋ, এ, ঐ, ও, ঔ।
- ব্যঞ্জনবর্ণগুলো ক থেকে চন্দ্রবিন্দু পর্যন্ত বিস্তৃত।

- বর্ণ বলতে বোঝায় ধ্বনি নির্দেশক চিহ্ন। 
- স্বরবর্ণ হলো স্বরধ্বনি প্রকাশক চিহ্ন। 
- আর ব্যঞ্জনবর্ণ হলো ব্যঞ্জনধ্বনি প্রকাশক চিহ্ন।
- কোনো ভাষায় ব্যবহৃত সব লিখিত বর্ণসমষ্টিকেই বর্ণমালা বলা হয়। 
- বাংলা ভাষার ক্ষেত্রে বর্ণমালা একটি।

- এই বর্ণমালায় ৩২টি পূর্ণমাত্রা, ৮টি অর্ধমাত্রা এবং ১০টি মাত্রাহীন বর্ণ রয়েছে।
- মাত্রাহীন বর্ণ ১০টি বর্ণের মধ্যে স্বরবর্ণ ৪টি (এ, ঐ, ও, ঔ) এবং ব্যঞ্জনবর্ণ ৬টি (ঙ, ঞ, ৎ, ং, ঃ, ঁ)।
- পূর্ণমাত্রা বর্ণ ৩২টির মধ্যে স্বরবর্ণ ৬টি এবং ব্যঞ্জনবর্ণ ২৬টি।
- অর্ধমাত্রা বর্ণ ৮টির মধ্যে স্বরবর্ণ ১টি (ঋ) এবং ব্যঞ্জনবর্ণ ৭টি (খ, গ, ণ, থ, ধ, প, শ)।

- বাংলা বর্ণমালা একটি সিলেবিক লিপি, যা বিশ্বের প্রধান লিখন পদ্ধতিগুলোর মধ্যে সর্বাধিক ব্যবহৃত।
- এই বর্ণমালায় মৌলিক স্বরধ্বনি ৭টি—অ, আ, ই, উ, এ, ও, অ্যা।
- বাংলা ভাষায় মোট ২৫টি যৌগিক স্বরধ্বনি রয়েছে।
- তবে এদের মধ্যে শুধুমাত্র দুটি (ঐ এবং ঔ) লিখিত রূপে পাওয়া যায়।
- বাকি ২৩টি যৌগিক স্বর কেবল উচ্চারণে ব্যবহৃত হয় এবং এদের কোনো নির্দিষ্ট লিখিত বর্ণ নেই।

উৎস:
ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ;
মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২২.
কণ্ঠ্যধ্বনি উচ্চারণে কোন অঙ্গ গুরুত্বপূর্ণ?
  1. দাঁত
  2. কোমল তালু
  3. নাসিকা
  4. ফুসফুস
ব্যাখ্যা

কণ্ঠ্যধ্বনি উচ্চারণে বিশেষভাবে কোমল তালু ও জিভমূল ভূমিকা রাখে।
------------------------
• বাগযন্ত্র:
- বাগযন্ত্র হলো ধ্বনি উচ্চারণে সরাসরি ভূমিকা রাখার জন্য মানবদেহের বিভিন্ন অঙ্গের সমষ্টি।
- মূলত বাগযন্ত্র হলো ধ্বনি উৎপাদনের জন্য ফুসফুস থেকে ঠোঁট পর্যন্ত থাকা সকল অঙ্গের সক্রিয় ব্যবস্থাপনা।
- ধ্বনি তৈরি করার জন্য ফুসফুস থেকে আসা বাতাসকে ব্যবহার করে বাগযন্ত্র বিভিন্ন ধ্বনি উৎপন্ন করে।
- বাগযন্ত্রের সবচেয়ে সচল অঙ্গ হলো জিহ্বা (জিভ)।
- বাগযন্ত্রের প্রধান কাজ হলো ফুসফুস থেকে বাতাস বের করার মাধ্যমে বিভিন্ন ধ্বনি তৈরি করা।

বাগযন্ত্রের গুরুত্বপূর্ণ অংশসমূহ হলো:
• ফুসফুস: বাতাস সরবরাহ করে।
• স্বরযন্ত্র / ল্যারিংস: মৌলিক ধ্বনি উৎপাদন করে।
• গলবিল, মুখবিবর, জিহ্বা, তালু, দাঁত, দন্তমূল, নাসিকা: বিভিন্ন ধ্বনির উচ্চারণে ভূমিকা পালন করে।
কণ্ঠ্যধ্বনি উচ্চারণে বিশেষভাবে কোমল তালু ও জিভমূল গুরুত্বপূর্ণ।
ফুসফুস থেকে বাতাস বের হওয়ার পথ সাধারণত মুখবিবর বা নাসারন্ধ্র।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২৫ সংস্করণ)। 

২৩.
বাংলা লিপির প্রমাণ সর্বপ্রথম কোথায় পাওয়া যায়?
  1. জাপানের হরিয়জি বৌদ্ধমঠে ৬ষ্ঠ শতাব্দীর হস্তলিখিত পুথিতে
  2. পাল রাজাদের সময় বাংলাদেশের তাম্রশাসনে
  3. আদিত্য সেনের শাসনকালে 
  4. ৯ম শতাব্দীর নারায়ণ পালের সময়
ব্যাখ্যা

বাংলা লিপি:
- বাংলা লিপির উদ্ভব মূলত ব্রাহ্মী লিপি থেকে।
- ব্রাহ্মী লিপির তিনটি প্রধান রূপ রয়েছে—সারদা, নাগর ও কুটিল।
- বাংলায় লিপির প্রাথমিক নমুনা দেখা যায় জাপানের হরিয়জি বৌদ্ধমঠের ৬ষ্ঠ শতাব্দীর একটি হস্তলিখিত পুথিতে।
- ৭ম শতাব্দীতে আদিত্য সেনের শাসনকালে লিপির প্রমাণ পাওয়া যায়।
- পরে পালবংশের শাসনামলে লিপিটি ক্রমবিকাশ ঘটে।
- এবং ৯ম শতাব্দীতে বাংলাদেশে পালবংশীয় রাজা নারায়ণ পালের তাম্রশাসনে বাংলা লিপি সুস্পষ্ট রূপ লাভ করে।
- আজকের বাংলা লিপি সেই ধারার পরবর্তী বিবর্তিত রূপ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

২৪.
স্পর্ধা > আস্পর্ধা কোন ধরনের ধ্বনি পরিবর্তনের উদাহরণ? 
  1. আদি স্বরাগম
  2. মধ্য স্বরাগম
  3. অন্ত্য স্বরাগম
  4. কোনটি নয় 
ব্যাখ্যা

• স্পর্ধা > আস্পর্ধা আদি স্বরাগম ধ্বনি পরিবর্তনের উদাহরণ। 
---------------------------
• স্বরাগম: 
- স্বরাগম হলো ধ্বনি পরিবর্তনের এমন একটি প্রক্রিয়া, যেখানে স্বরধ্বনি শব্দের কোনো স্থানে যুক্ত হয়ে উচ্চারণকে সহজ বা স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ করে। - নতুন করে স্বরবর্ণের আগমন হচ্ছে স্বরাগম। 

- স্বরাগমের তিনটি প্রধান ধরণ রয়েছে:
• আদি স্বরাগম (Prosthesis):
- উচ্চারণের সুবিধা বা অন্যান্য কারণে যখন কোনো শব্দের শুরুতে একটি স্বরধ্বনি (সাধারণত 'ই' বা 'উ') যুক্ত করা হয়, তখন তাকে আদি স্বরাগম বা Prothesis বলা হয়।
- এই প্রক্রিয়ায় মূল শব্দের শুরুতে অতিরিক্ত স্বরধ্বনি যোগ হয়ে নতুন উচ্চারণ বা রূপ তৈরি হয়।
- উদাহরণস্বরূপ—
- স্কুল > ইস্কুল,
- স্টেশন > ইস্টিশন,
- স্পর্ধা > আস্পর্ধা

মধ্য স্বরাগম / বিপ্রকর্ষ / স্বরভক্তি (Anaptyxis):
- উচ্চারণের সুবিধা বা ছন্দ রক্ষার জন্য কখনো কখনো সংযুক্ত ব্যঞ্জনধ্বনির মধ্যে একটি স্বরধ্বনি প্রবেশ করে, যাকে মধ্য স্বরাগম, বিপ্রকর্ষ বা স্বরভক্তি বলা হয়।
- এই প্রক্রিয়ায় সংযুক্ত ব্যঞ্জনধ্বনিগুলো বিচ্ছিন্ন হয়ে আলাদা উচ্চারণে প্রকাশ পায়।
- উদাহরণস্বরূপ—
- রত্ন > রতন,
- ধর্ম > ধরম,
- স্বপ্ন > স্বপন,
- হর্ষ > হরষ,
- প্রীতি > পিরীতি,
- ক্লিপ > কিলিপ,
- ফিল্ম > ফিলিম।

অন্ত্যস্বরাগম (Apotheosis):
- কোনো শব্দের শেষে অতিরিক্ত স্বরধ্বনি যুক্ত হলে তাকে অন্ত্যস্বরাগম বলা হয়।
- উদাহরণস্বরূপ—
- দিশ > দিশা,
- সত্য > সত্যি, 
- বেঞ্চ > বেঞ্চি।

উৎস:
ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ;
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।