পরীক্ষা আর্কাইভ

গুরুত্বপূর্ণ টপিকের উপর পরীক্ষা - ১৩৫ মার্কস্‌ কাভার

পরীক্ষাগুরুত্বপূর্ণ টপিকের উপর পরীক্ষা - ১৩৫ মার্কস্‌ কাভারতারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়14 minutes
মোট প্রশ্ন৩৯
সিলেবাস
"Award Mania: Season - 16” এর জন্য প্রযোজ্য -------------------------------------------- পরীক্ষা - ১৩ বিষয়: বাংলাদেশ বিষয়াবলি টপিক: i) বাংলাদেশের ইতিহাস: পালবংশ, সেন বংশ, মৌর্যবংশ, সুলতানি আমল, নবাবী আমল, বৃটিশ আমল। ii) বাংলাদেশের ইতিহাস (১৯৪৭ - ৭৫) : ১৯৪৭ সালের পাকিস্তান আন্দোলন, ভাষা আন্দোলন, যুক্তফ্রন্ট, পাকিস্তানের শাসনতন্ত্র আন্দোলন, উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান, মুক্তিযুদ্ধ। iii) বাংলাদেশকে বিভিন্ন দেশের স্বীকৃতি ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার সদস্য পদ অর্জন। iv) জুলাই গণঅভ্যুত্থান [নম্বর কাভার - ৪]
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

গুরুত্বপূর্ণ টপিকের উপর পরীক্ষা - ১৩৫ মার্কস্‌ কাভার

গুরুত্বপূর্ণ টপিকের উপর পরীক্ষা - ১৩৫ মার্কস্‌ কাভার · তারিখ অনির্ধারিত · ৩৯ প্রশ্ন

.
কৈবর্ত বিদ্রোহ কোন পাল রাজার শাসনামলে হয়েছিল?
  1. প্রথম মহীপাল
  2. দ্বিতীয় মহীপাল
  3. রামপাল
  4. ধর্মপাল
সঠিক উত্তর:
দ্বিতীয় মহীপাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দ্বিতীয় মহীপাল
ব্যাখ্যা

কৈবর্ত বিদ্রোহ:
- কৈবর্ত বিদ্রোহকে বলা হয়ে থাকে বাংলাদেশ এমনকি ভারতবর্ষের প্রথম সফল জনবিদ্রোহ।
- বরেন্দ্র বিদ্রোহ নামেও অভিহিত করা হয় একে।
- এ সময় পাল বংশের রাজা ছিলেন দ্বিতীয় মহীপাল, যাঁর রাজত্বকাল ধারণা করা হয় ১০৭৫ সাল থেকে ১০৮০ সালের মধ্যে।
- এই বিদ্রোহের নেতা ছিলেন দিব্যক বা দিব্য। তিনি খুব সম্ভব প্রথম দিকে পালদের একজন রাজকর্মচারী কিংবা সামন্ত ছিলেন। কৈবর্তদের একত্রিত করে একটি শক্তিশালী বাহিনী তৈরি করেন তিনি।
- কৈবর্ত বিদ্রোহের প্রত্যক্ষ কারণ হিসেবে তুলে ধরা হয় ধর্মীয় কারণকে।

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
ii) ইতিহাস, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

.
কত সালে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের উদ্বোধন করা হয়?
  1. ১৯৫৭ সালে
  2. ১৯৫৯ সালে
  3. ১৯৬১ সালে
  4. ১৯৬৩ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯৬৩ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৬৩ সালে
ব্যাখ্যা

কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার:
- শহীদ মিনার ভাষা আন্দোলনের স্মৃতিসৌধ।
- এটি বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার কেন্দ্রস্থলে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ প্রাঙ্গণে অবস্থিত।

⇒ প্রথম শহীদ মিনার নির্মাণ হয়েছিল অতিদ্রুত এবং নিতান্ত অপরিকল্পিতভাবে। ঢাকা মেডিকেল কলেজের ছাত্ররা ১৯৫২ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি বিকেলে স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ শুরু করে রাত্রির মধ্যে তা সম্পন্ন করে। শহীদ মিনারটি ছিল ১০ ফুট উচ্চ ও ৬ ফুট চওড়া। মিনার তৈরির তদারকিতে ছিলেন জিএস শরফুদ্দিন (ইঞ্জিনিয়ার শরফুদ্দিন নামে পরিচিত), ডিজাইন করেছিলেন বদরুল আলম। সাথে ছিলেন সাঈদ হায়দার। ২৪ ফেব্রুয়ারি সকালে, ২২ ফেব্রুয়ারির শহীদ শফিউরেরপিতা অনানুষ্ঠানিকভাবে শহীদ মিনারের উদ্বোধন করেন। ২৬ ফেব্রুয়ারি সকালে দশটার দিকে শহীদ মিনার উদ্বোধন করেন আজাদ সম্পাদক আবুল কালাম শামসুদ্দিন। উদ্বোধনের দিন অর্থাৎ ২৬ ফেব্রুয়ারি পুলিশ ও সেনাবাহিনী মেডিকেলের ছাত্র হোস্টেল ঘিরে ফেলে এবং প্রথম শহীদ মিনার ভেঙ্গে ফেলে।

⇒ বাংলাকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষার স্বীকৃতি দেবার পরে ১৯৫৭ সালের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের কাজ শুরু হয়। এর নির্মাণ কাজ শেষ হয় ১৯৬৩ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বে গঠিত কমিটির তত্ত্বাবধানে। বাংলাদেশের বিখ্যাত চিত্রশিল্পী হামিদুর রহমান মহান ভাষা আন্দোলনের স্মৃতিবিজড়িত শহীদ মিনারের স্থপতি হিসেবে চিহ্নিত হয়ে আছেন। তাঁরই রূপকল্পনা অনুসারে নভেম্বর, ১৯৫৭ সালে তিনি ও নভেরা আহমেদের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে সংশোধিত আকারে শহীদ মিনারের নির্মাণ কাজ কাজ শুরু হয়।
- ১৯৬৩ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি ভাষা আন্দোলনের অন্যতম শহীদ ব্যক্তিত্ব আবুল বরকতের মাতা হাসিনা বেগম কর্তৃক নতুন শহীদ মিনারের উদ্বোধন করা হয়।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

.
প্রথম 'জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভ' কোন জেলায় নির্মিত হয়েছে?
  1. ঢাকা 
  2. নারায়ণগঞ্জ
  3. রংপুর 
  4. চট্টগ্রাম
সঠিক উত্তর:
নারায়ণগঞ্জ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নারায়ণগঞ্জ
ব্যাখ্যা

দেশের প্রথম জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভ:
- দেশের প্রথম 'জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভ' নারায়ণগঞ্জ জেলায় নির্মিত হয়েছে।

⇒ নারায়ণগঞ্জে ২১ জন শহীদের নামে নির্মিত হয়েছে দেশের প্রথম ‘জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভ’।
- ১৪ জুলাই, ২০২৫ তারিখে নারায়ণগঞ্জের হাজীগঞ্জ এলাকায় স্মৃতিস্তম্ভটি উদ্বোধন করেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ৫ উপদেষ্টা। তারা হলেন আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল, শিল্প উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান, শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. চৌধুরী রফিকুল আবরার, রেলপথ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান এবং পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। 
- বৈষম্যের বিরুদ্ধে টানা ৩৬ দিনের আন্দোলনে, অর্থাৎ ৩৬ জুলাই পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জে শহীদ হন ৫৬ জন, আহত হন ৩৭০ জন।
- নিহতদের মধ্যে ২১ জন ছিলেন নারায়ণগঞ্জের স্থানীয় বাসিন্দা।
- শহীদদের স্মরণে সরকারি উদ্যোগে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সহায়তায় নির্মিত হয়েছে এই স্মৃতিস্তম্ভ।

উৎস: i) যুগান্তর।
ii) বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা।

.
১৭৭৩ সালের রেগুলেটিং অ্যাক্ট অনুযায়ী, বাংলার প্রথম গভর্নর-জেনারেল কে নিযুক্ত হন?
  1. লর্ড ক্লাইভ
  2. লর্ড কর্নওয়ালিস
  3. লর্ড ওয়েলেসলি
  4. ওয়ারেন হেস্টিংস
সঠিক উত্তর:
ওয়ারেন হেস্টিংস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ওয়ারেন হেস্টিংস
ব্যাখ্যা

রেগুলেটিং অ্যাক্ট (১৭৭৩):
- উপমহাদেশে কোম্পানির যাবতীয় কাজ প্রথমে ইংল্যান্ডের বোর্ড অব ডাইরেক্টরস পরিচালনা করত।
- কালক্রমে এদেশে রাজ্য বিস্তারের সঙ্গে সঙ্গে শাসন কাজেও নানা বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়।
- এ বিশৃংখলা দূর করার জন্য ব্রিটিশ পার্লামেন্ট সর্বপ্রথম উপমহাদেশের শাসন কাজে হস্তক্ষেপ করে।
- তদানীন্তন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী লর্ড নর্থ ১৭৭৩ সালে উপমহাদেশে শাসন আইন নামে একটি আইন পাস করেন যা 'রেগুলেটিং এ্যাক্ট' নামে ইতিহাসে বিখ্যাত।

⇒ রেগুলেটিং এ্যাক্ট-এর দ্বারা বোর্ড অব ডাইরেকট্রসকে ব্রিটিশ সরকারের নিকট কোম্পানির শাসন ও রাজস্ব সম্পর্কে সকল তথ্য পাঠাতে হতো।
- বাংলার গভর্নরকে গভর্নর জেনারেল আখ্যা দেয়া হয়।
- গভর্নর জেনারেলকে সাহায্য করার জন্য চার সদস্য বিশিষ্ট একটি 'কাউন্সিল' গঠিত হয় এবং সবার সমান অধিকার দেয়া হয়।
- এই রেগুলেটিং এ্যাক্ট অনুসারে বাংলার গভর্নর ওয়ারেন হেস্টিংস প্রথম গভর্নর জেনারেল নিযুক্ত হন।

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
ii) ইতিহাস ১ম পত্র, HSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

.
গুপ্তদের পরবর্তী সময়ে কোন দুটি স্বাধীন রাজ্যের সৃষ্টি হয়? 
  1. মগধ ও থানেশ্বর
  2. বঙ্গ ও ত্রিপুরা
  3. বঙ্গ ও গৌড়
  4. গৌড় ও কামরূপ
সঠিক উত্তর:
বঙ্গ ও গৌড়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বঙ্গ ও গৌড়
ব্যাখ্যা

স্বাধীন গৌড় রাজ্য:
- ৬ষ্ঠ শতাব্দীতে বিশাল গুপ্ত সাম্রাজ্যের পতন ঘটে।
- সেই অস্থিতিশীল পরিবেশে বাংলাদেশে দুটো স্বাধীন রাষ্ট্রের উত্থান ঘটে।
- এর একটি হচ্ছে স্বাধীন 'বঙ্গ রাষ্ট্র', অপরটি 'গৌড় রাজ্য।

উল্লেখ্য,
- সপ্তম শতকের গোড়ার দিকে গৌড়ের রাজা শশাঙ্কের নেতৃত্বে বাংলার পুন্ড্র বা পণ্ড্রবর্ধন, গৌড় এবং বঙ্গকে একত্রিত করে একটি বিশাল গৌড় রাজ্য স্থাপিত হয়।
- শশাঙ্ক আনুমানিক ৬০৬ সালে গৌড়ে এক স্বাধীন রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন।
- স্বাধীন গৌড়রাজ্য বাংলার উত্তর, উত্তর-পশ্চিমাংশ ও মগধে বিস্তৃত ছিল।
- কর্ণসুবর্ণ ছিল গৌড় রাজ্যের রাজধানী।
- ত্রয়োদশ শতাব্দীতে মুসলিম শাসন প্রতিষ্ঠিত হলে গৌড়ের নাম লখনৌতি (প্রদেশের নামে) পরিচিতি পায়।

উৎস: i) বাংলাদেশ স্টাডিজ, বিবিএস প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

.
পাকিস্তান কবে বাংলাদেশকে স্বীকৃতি প্রদান করে?
  1. ২২ ফেব্রুয়ারি, ১৯৭৪
  2. ২৪ ফেব্রুয়ারি, ১৯৭৪
  3. ২৮ ফেব্রুয়ারি, ১৯৭৪
  4. ২৪ আগস্ট, ১৯৭৪
সঠিক উত্তর:
২২ ফেব্রুয়ারি, ১৯৭৪
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২২ ফেব্রুয়ারি, ১৯৭৪
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশকে পাকিস্তানের স্বীকৃতি:
- বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর আনুষ্ঠানিকভাবে মোট ১৫০টি দেশ স্বীকৃতি দিয়েছে।
- বাংলাদেশকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসাবে সর্বপ্রথম স্বীকৃতি দেয় ভুটান এবং ভারত।
- উভয় দেশই বাংলাদেশকে ৬ ডিসেম্বর ১৯৭১ সালে স্বীকৃতি দিয়েছিল।
- অপরদিকে সর্বশেষ দেশ হিসেবে চীন বাংলাদেশকে ১৯৭৫ সালের ৩১ আগস্ট স্বীকৃতি দেয়।

উল্লেখ্য,
- ১৯৭৪ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তান বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়।
- একই বছর বাংলাদেশ জাতিসংঘের সদস্য পদ পায়।

⇒ নানা বাধা-বিপত্তির পরও দেখা যায় স্বাধীন হবার মাত্র চার বছরেরও কম সময়ে বাংলাদেশ জাতিসংঘের সদস্য রাষ্ট্র হয়েছিল আর শতাধিক দেশের স্বীকৃতি আদায় করতে সক্ষম হয়েছিল।
- ১৯৭২ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে যুক্তরাজ্যসহ সুইডেন, নরওয়ে, ডেনমার্ক, ফিনল্যান্ড, আয়ারল্যান্ড, অস্ট্রিয়া নেদাল্যান্ডস এবং জাপান বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়।
- বিজয়ের পর পরই ১৯৭২ জানুয়ারি মাসেই পূর্ব জার্মানি, বুলগেরিয়া, পোল্যান্ড, মিয়ানমার, নেপাল, সোভিয়েত ইউনিয়ন স্বীকৃতি দেয়।

উৎস: i) বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ওয়েবসাইট।
ii) বাংলাপিডিয়া।

.
মুক্তিযুদ্ধের একমাত্র নারী কমান্ডার কে ছিলেন?
  1. তারামন বিবি
  2. সেতারা বেগম
  3. কাকন বিবি
  4. আশালতা বৈদ্য
সঠিক উত্তর:
আশালতা বৈদ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আশালতা বৈদ্য
ব্যাখ্যা

মুক্তিযুদ্ধের একমাত্র নারী কমান্ডার:
- মুক্তিযুদ্ধের একমাত্র নারী কমান্ডার আশালতা বৈদ্য।

⇒ আশালতা বৈদ্যের জন্ম ১৯৫৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি।
- মুক্তিযুদ্ধের বছর তার বয়স ছিল মাত্র পনের বছর।
- মাত্র ১৫ বছর বয়সে মুক্তিযুদ্ধের ৮ ও ৯ নম্বর সেক্টরে কোটালীপাড়া সীমানা সাব-সেক্টরের কমান্ডার হেমায়েত উদ্দিনের বাহিনীতে যোগ দেন
- তিনি মহান মুক্তিযুদ্ধে হেমায়েত বাহিনী/৭১ গোপালগঞ্জ, ফরিদপুর, বরিশাল অঞ্চলে সরাসরি মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন এবং একমাত্র নারী মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করেন।

উৎস: মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় ওয়েবসাইট।

.
স্বাধীন দেশ হিসেবে বাংলাদেশ কত সালে কমনওয়েলথের সদস্যপদ লাভ করে?
  1. ১৯৭২ সালে
  2. ১৯৭৩ সালে
  3. ১৯৭৪ সালে
  4. ১৯৭৫ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯৭২ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৭২ সালে
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশ ও কমনওয়েলথ:
- কমনওয়েলথের মূল রাষ্ট্র যুক্তরাজ্যের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক খুবই ঘনিষ্ঠ।
- বাংলাদেশের মুক্তিসংগ্রামে ১৯৭১ সালে গ্রেট ব্রিটেনের প্রচার মাধ্যমগুলো বিশেষত, বিবিসি, লন্ডন টাইমস, দ্য সান, গার্ডিয়ান, মিরর পত্রিকা স্বাধীনতাকামী বাঙ্গালি জনগণের উপর পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীর নির্মম নির্যাতন প্রচার করে বিশ্বজনমত সৃষ্টি করেছিল।
- ব্রিটেনসহ কমনওয়েলথভুক্ত দেশগুলো ভারতে আশ্রয় নেয়া শরণার্থীদের জন্য ব্যাপক সাহায্য দিয়েছিল।
- স্বাধীনতা লাভের পর বাংলাদেশের বিধ্বস্ত অর্থনীতি পুনর্গঠনে কমনওয়েলথভুক্ত দেশগুলো অকাতরে সাহায্য সহযোগিতা দিয়েছে।

⇒ স্বাধীন দেশ হিসাবে কমনওয়েলথ ভুক্ত দেশগুলো বাংলাদেশকে ১৯৭২ সালেই দ্রুত স্বীকৃতি দেয়।
- বাংলাদেশ কমনওয়েলথের ৩২তম সদস্য।
- বাংলাদেশের অস্থিতিশীল রাজনীতি ও সরকার- বিরাধীদলের দাঙ্গাপূর্ণ সম্পর্ক অবসানে বিভিন্ন সময় কমনওয়েলথ মহাসচিব মধ্যস্থতার চেষ্টা করেছেন।

উল্লেখ্য,
- বাংলাদেশের কমনওয়েলথের সদস্যপদ লাভ করে ১৮ ফিব্রুয়ারি ১৯৭২। এজন্য ক্ষিপ্ত হয়ে পাকিস্তান কমনওয়েলথ ত্যাগ করে ১৯৭২ সালে।

উৎস: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, SSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

.
'অদ্ভুত সাগর' গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. বল্লাল সেন
  2. লক্ষ্মণ সেন
  3. বিজয় সেন
  4. হেমন্ত সেন 
সঠিক উত্তর:
বল্লাল সেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বল্লাল সেন
ব্যাখ্যা

বল্লাল সেন:
- বল্লাল সেন হলো সেন বংশের ২য় রাজা।
- বিজয় সেনের মৃত্যুর পর আনুমানিক ১১৬০ সালে তার পুত্র বল্লাল সেন সিংহাসনে আরোহণ করেন।
- তিনি রাজ্য জয়ের চেয়ে দেশের ভেতরে উন্নয়ন, নতুন প্রথা চালু ও সংস্কারের কাজে অধিকতর মনোযোগী ছিলেন।
- তবে তিনি গোবিন্দপালকে পরাজিত করে মগধের পূর্বাঞ্চল অধিকার করেন।
- কথিত আছে যে, বল্লাল সেন তাঁর পিতার রাজত্বকালে মিথিলা জয় করেন।
- তিনি ব্রতসাগর, আচারসাগর, প্রতিষ্ঠাসাগর, দানসাগর ও অদ্ভুতসাগর নামে পাঁচটি গ্রন্থ রচনা করেন।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১০.
১৯৫৬ সালের সংবিধান অনুযায়ী পাকিস্তানকে কী রাষ্ট্র হিসেবে ঘোষণা করা হয়?
  1. পুঁজিবাদী রাষ্ট্র
  2. সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র
  3. ইসলামী প্রজাতন্ত্র
  4. ফেডারেল রাজতন্ত্র
সঠিক উত্তর:
ইসলামী প্রজাতন্ত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইসলামী প্রজাতন্ত্র
ব্যাখ্যা

পাকিস্তানের প্রথম শাসনতন্ত্র:
- ১৯৫৬ সালের শাসনতন্ত্র ছিল পাকিস্তানের প্রথম শাসনতন্ত্র।
- এটিকে বিলম্বিত শাসনতন্ত্র বলা চলে।
- সুদীর্ঘ ৯ বছর সাধনার পর শাসনতন্ত্র প্রণেতাগণ এ শাসনতন্ত্রটি দিতে পেরেছিলেন।

⇒ ১৯৫৫ সালে পাকিস্তানে দ্বিতীয় গণপরিষদ গঠিত হয়। এর অগ্রভাগে ছিল তৎকালীন গভর্নর জেনারেল গোলাম মোহাম্মদ।
- এ গণপরিষদ গঠিত হয় ৮০ জন সদস্য সমন্বয়ে, যাদের মধ্যে ৪০ জন ছিলেন পূর্ববাংলার এবং বাকি ৪০ জন পশ্চিম পাকিস্তানের সদস্য।
- ১৯৫৫ সালের ৭ই জুলাই এ পরিষদের প্রথম অধিবেশন বসে। 
- অবশেষে ১৯৫৬ সালের ২রা মার্চ গভর্নর জেনারেল ইস্কান্দার মির্জা শাসনতন্ত্র বিলে সম্মতি দেন।
- ২৩ মার্চে এ শাসনতন্ত্র গৃহীত ও প্রবর্তিত হয়।
- ১৯৫৬ সালের ২৩ মার্চ থেকে পাকিস্তানের নতুন সংবিধান কার্যকর হয়।
- পাকিস্তানের সংবিধান, ১৯৫৬ পাকিস্তানের ১৯৫৬ সালের সংবিধানে ২৩৪টি অনুচ্ছেদ, ১৩টি ভাগ এবং ৬টি তফসিল অন্তর্ভুক্ত ছিল।
- পাকিস্তানের সংবিধানে ছিল একটি দীর্ঘ প্রস্তাবনা, যাতে পাকিস্তানকে ইসলামী প্রজাতন্ত্র হিসেবে ঘোষণা করা হয় এবং প্রজাতন্ত্রের সকল কর্মকান্ড সর্বশক্তিমান আল্লাহর বিধান অনুযায়ী পরিচালিত হওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত হয়।

উৎস: i) বাংলাদেশের রাজনৈতিক উন্নয়ন, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) বাংলাপিডিয়া।

১১.
ভাষা আন্দোলনের প্রথম শহীদ কে?
  1. রফিক 
  2. জব্বার 
  3. বরকত
  4. সালাম
সঠিক উত্তর:
রফিক 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রফিক 
ব্যাখ্যা

প্রথম ভাষাশহীদ:
- একুশের প্রথম ভাষাশহীদ রফিকউদ্দিন আহমদ।
- তিনি ছিলেন মানিকগঞ্জ দেবেন্দ্রনাথ কলেজের বাণিজ্য বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র। তাঁর বাবার নাম আবদুল লতিফ এবং মায়ের নাম রাফিজা খানম। রফিক উদ্দিনের জন্ম ১৯২৬ সালে, মানিকগঞ্জের সিঙ্গাইর উপজেলায়।
- ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি তিনি শহীদ হন।
- ঘটনার সময় পুলিশের লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাসের কারণে ছাত্ররা ঢাকা মেডিকেল কলেজের ব্যারাকে আশ্রয় নেন।
- ওই সময় পুলিশের গুলিতে তাঁর মাথার খুলি উড়ে যায়।
- মাটিতে লুটিয়ে পড়ে তখনই মারা যান তিনি। ম্যাজিস্ট্রেট ওবায়দুল্লাহর উপস্থিতিতে তাঁর জানাজার নামাজ পড়ান আজিমপুর মসজিদের ইমাম হাফেজ আবদুল গফুর। আত্মীয়স্বজনকে না জানিয়ে গোপনে আজিমপুর কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়।

⇒ ভাষাশহীদ রফিক ২০০০ সালে মরণোত্তর একুশে পদক পান।

উৎস: প্রথম আলো।

১২.
যুক্তফ্রন্টের মন্ত্রিসভায় মুখ্যমন্ত্রী কে ছিলেন?
  1. এ. কে. ফজলুল হক
  2. হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী
  3. মাওলানা ভাসানী
  4. খাজা নাজিমুদ্দিন
সঠিক উত্তর:
এ. কে. ফজলুল হক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এ. কে. ফজলুল হক
ব্যাখ্যা

যুক্তফ্রন্ট:
- ১৯৫৩ সালে আওয়ামী মুসলিম লীগের কাউন্সিল অধিবেশনে ‘যুক্তফ্রন্ট' গঠনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
- চারটি বিরোধী রাজনৈতিক দল নিয়ে যুক্তফ্রন্ট গঠিত হয়।
- ২১ ফেব্রুয়ারিকে স্মরণীয় করে রাখার জন্য যুক্তফ্রন্টের ইশতেহার করা হয় ২১ দফা। 
- ২১ দফা কর্মসূচির মুখ্য রচয়িতা ছিলেন আবুল মনসুর আহমদ। 
- যুক্তফ্রন্ট তাদের ঐতিহাসিক ২১ দফা দাবিতে গণমানুষের অধিকারের কথা তুলে ধরে।
- ১৯৫৪ সালের ৮ মার্চের নির্বাচন ছিল পূর্ব বাংলায় প্রথম অবাধ ও সর্বজনীন ভোটাধিকারের মাধ্যমে সাধারণ নির্বাচন। ২ এপ্রিল নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশিত হয়। 
- নির্বাচনে মুসলিম লীগ শোচনীয়ভাবে পরাজিত হয়, বিশাল ব্যবধানে জয়লাভ করে যুক্তফ্রন্ট।
- যুক্তফ্রন্ট ১৯৫৪ সালের নির্বাচনে জয়লাভ করে ৪ সদস্য বিশিষ্ট মন্ত্রীসভা গঠন করে।

⇒ যুক্তফ্রন্টের মন্ত্রিসভা:
• মুখ্যমন্ত্রী, অর্থ, রাজস্ব ও স্বরাষ্ট্র বিভাগ: শেরেবাংলা এ কে ফজলুল।
• বিচার, স্বাস্থ্য ও স্থানীয় সরকার: আবু হোসেন সরকার।
• শিক্ষা: সৈয়দ আজিজুল হক।
• কৃষি, সমবায় ও পল্লী উন্নয়ন বিভাগ: বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।

উৎস: i) বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, SSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) বাংলাদেশের রাজনৈতিক উন্নয়ন, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৩.
১৯৭১ সালের আত্মসমর্পণ দলিলের শিরোনাম কী ছিল?
  1. Instrument of Liberation
  2. Instrument of Surrender
  3. Pakistan Capitulation Act
  4. Bangladesh Independence Document
সঠিক উত্তর:
Instrument of Surrender
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Instrument of Surrender
ব্যাখ্যা

পাকিস্তানের আত্মসমর্পণের দলিল: INSTRUMENT OF SURRENDER 1971
- ১৯৭১ সালে পাকিস্তানের আত্মসমর্পণ দলিলটির শিরোনাম INSTRUMENT OF SURRENDER.
- এটি তিন প্রস্থে প্রস্তুত করা হয়। একটি প্রস্থ ভারত সরকার এবং দ্বিতীয় প্রস্থ পাকিস্তান সরকারের কাছে সংরক্ষিত আছে। তৃতীয় প্রস্থটি রয়েছে ঢাকার শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরে।
- ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বিকেল পাঁচটা এক মিনিটে রমনা রেসকোর্সে (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) মুক্তিবাহিনী-মিত্রবাহিনী যৌথ কম্যান্ডের পক্ষে লেফটেন্যান্ট জেনারেল জগজিৎ সিং অরোরা এবং পাকিস্তান বাহিনীর পূর্বাঞ্চলীয় কমান্ডের পক্ষে লেফটেন্যান্ট জেনারেল নিয়াজী পাকিস্তানের আত্মসমপর্ণের দলিলে স্বাক্ষর করেন।

উল্লেখ্য,
- ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭১ সকালে মানেকশ ভারতের পূর্বাঞ্চল বাহিনীর চিফ অব জেনারেল স্টাফ মেজর জেনারেল জে এফ আর জেকবকে আত্মসমর্পণের দলিল ও আনুষ্ঠানিকতা চূড়ান্ত করার জন্য ঢাকায় পাঠান। ১৬ ডিসেম্বর বিকালে ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহ্রাওয়ার্দী উদ্যান) পাকিস্তান সামরিক বাহিনীর ৯৩ হাজার সৈন্য বিনা শর্তে সম্মিলিত বাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণ করে।
- এই আত্মসমর্পণ দলিলে স্বাক্ষর করেন পূর্বাঞ্চলের সম্মিলিত বাহিনী প্রধান লেঃ জেনারেল জগজিত সিং অরোরা ও পাকিস্তান সেনাবাহিনীর পূর্বাঞ্চলীয় অধিনায়ক লেঃ জেঃ এ কে নিয়াজী।
- এই আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ সরকারের প্রতিনিধিত্ব করেন মুক্তিবাহিনীর উপ-সেনা প্রধান ও বিমান বাহিনী প্রধান গ্রুপ ক্যাপ্টেন এ কে খন্দকার।

এছাড়াও,
- এই অনুষ্ঠানে মুক্তিবাহিনীর নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিদের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন এস ফোর্স অধিনায়ক লেঃ কর্নেল কে এম সফিউল্লাহ, ২নং সেক্টরের ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক মেজর এ টি এম হায়দার এবং টাঙ্গাইল মুক্তি বাহিনীর অধিনায়ক জনাব কাদের সিদ্দিকী।

উৎস: i) মুক্তিযুদ্ধ -ই - আর্কাইভ।
ii)  বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্ৰেণি। 
iii) দৈনিক ইত্তেফাক।

১৪.
দিল্লিতে ইবনে বতুতা কোন সুলতানের অধীনে কাজী হিসেবে নিয়োজিত ছিলেন?
  1. ফিরোজ শাহ তুঘলক
  2. আলাউদ্দিন খিলজি
  3. মুহাম্মদ বিন তুঘলক
  4. কুতুবুদ্দিন আইবক
সঠিক উত্তর:
মুহাম্মদ বিন তুঘলক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মুহাম্মদ বিন তুঘলক
ব্যাখ্যা

ইবনে বতুতা:
- মরক্কোর বিখ্যাত পর্যটক ইবনে বতুতা।
- তাঁর পুরো নাম শেখ আবু আবদুল্লাহ মুহম্মদ।
- বাংলায় সফরের উদ্দেশ্য তিনি নিজেই তাঁর ভ্রমন কাহিনীতে উল্লেখ করেছেন এবং তা ছিল কামরূপের পার্বত্য অঞ্চলে বিখ্যাত সুফিসাধক শেখ জালালউদ্দিনের (হযরত শাহজালাল মুজার্রদ-ই-ইয়েমেনী) দর্শন লাভ।
- ইবনে বতুতা ১৩২৫ খ্রিস্টাব্দে একুশ বছর বয়সে বিশ্ব সফরে বের হন এবং আট বছরের মধ্যে সমগ্র উত্তর আফ্রিকা, আরব, পারস্য, ভূমধ্যসাগরের পূর্ব তীরবর্তী অঞ্চল ও কনস্টান্টিনোপল পরিভ্রমণ করেন।
- এরপর তিনি ভারতে আসেন।
- তিনি ১৩৩৪ খ্রিস্টাব্দে দিল্লিতে আসেন এবং সুলতান মুহম্মদ বিন তুঘলকের অধীনে দীর্ঘ প্রায় আট বছর কাজীর পদে নিয়োজিত ছিলেন।

⇒ ইবনে বতুতা ১৩৪৬ খ্রিস্টাব্দে ফখরুদ্দিন মুবারক শাহের শাসনকালে বাংলায় সফর করেন।
- বাংলার যে শহরে ইবনে বতুতা প্রথম পৌঁছেন (৯ জুলাই ১৩৪৬) তার নাম তিনি উল্লেখ করেছেন সাদকাঁও (চাটগাঁও)।
- সেখান থেকে সরাসরি তিনি কামারু (কামরূপ) পার্বত্য অঞ্চল অভিমুখে রওনা হন। 
- তিনি বাংলায় তার ভ্রমণের এক মূল্যবান বিবরণ লিপিবদ্ধ করে যান। এ বিবরণে বাংলার প্রাকৃতিক দৃশ্য, অধিবাসীদের জীবনের বিভিন্ন দিক এবং দেশের সমৃদ্ধির প্রাণবন্ত বর্ণনা পাওয়া যায়। ইবনে বতুতা তার 'আর রিহলা' গ্রন্থে বাংলাকে ‘দোজখ-ই-পুর নিয়ামত (A Hell Full Of Good Things) ’ অর্থাৎ প্রাচুর্যপূর্ণ নরক বলে অভিহিত করেন।
- ইবনে বতুতা সিলেটের প্রখ্যাত সাধক হযরত শাহজালালের সাথে সাক্ষাৎ করেন। পরবর্তীকালে তিনি চীনের রাজদরবার গমনের উদ্দেশ্যে বাংলা ত্যাগ করেন।

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
ii) ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৫.
নানকার বিদ্রোহ প্রধানত কোন অঞ্চলে সংঘটিত হয়েছিল?
  1. ময়মনসিংহ
  2. রাজশাহী
  3. সিলেট
  4. পার্বত্য চট্টগ্রাম
সঠিক উত্তর:
সিলেট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সিলেট
ব্যাখ্যা

নানকার বিদ্রোহ:
- নানকার বিদ্রোহ সিলেটে সংঘটিত হয়েছিল।

⇒ 'নানকার বিদ্রোহ' সিলেট অঞ্চলের একটি কৃষক-আন্দোলন, যা ১৮ আগস্ট ১৯৪৯ সালে সংঘটিত হয়।
- জমিদারের ভূমিদাসদের একটি প্রথাকে 'নানকার প্রথা' বলা হতো।
- বিংশ শতাব্দীর বিশের দশকে শুরু হওয়া এই আন্দোলন ১৯৫০ সালে জমিদারপ্রথা বিলুপ্ত করার মাধ্যমে সমাপ্ত হয়।

⇒ বাঙালি জাতির সংগ্রামের ইতিহাসে বিশেষ করে অধিকারহীন মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য যেসব গৌরবমণ্ডিত আন্দোলন-বিদ্রোহ সংঘটিত হয়েছিল তার মধ্যে অন্যতম প্রধান হলো 'নানকার বিদ্রোহ'। 
- ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের আমলে সামন্তবাদী ব্যবস্থার সবচেয়ে নিকৃষ্টতম শোষণ পদ্ধতি ছিল নানকার প্রথা।
- নানকার প্রজারা জমিদারের দেওয়া বাড়ি ও সামান্য কৃষি জমি ভোগ করত; কিন্তু ওই জমি ও বাড়ির ওপর তাদের কোনো মালিকানা ছিল না।
- নানকার প্রজারা বিনা মজুরিতে জমিদারের বাড়িতে কাজ করত।
- চুন থেকে পান খসলেই তাদের ওপর চলত অকথ্য নির্যাতন।
- মূলত সিলেটের বিয়ানীবাজার, গোলাপগঞ্জ ও দক্ষিণ সুরমার রেঙ্গা পরগনাসমেত এই অঞ্চলে এই সামন্তপ্রথাটি প্রচলিত ছিল। সামন্ত ভূমালিকদের সিলেট অঞ্চলে মিরাশদার এবং বড় মিরাশদারকে জমিদার বলা হতো। 
- ১৯২২ থেকে ১৯৪৯ সাল পর্যন্ত কমিউনিস্ট পার্টি ও কৃষক সমিতির সহযোগিতায় বিয়ানীবাজার, গোলাপগঞ্জ, বড়লেখা, কুলাউড়া, বালাগঞ্জ, ধর্মপাশা থানায় দানা বাঁধতে থাকল নানকার আন্দোলন।
- কমরেড অজয় ভট্টাচার্যের নেতৃত্বে চলতে থাকে নানকার কৃষকসহ সব নির্যাতিত জনগণকে সংগঠিত করার কাজ। 
- সে সময় অজয় ভট্টাচার্য্যের সঙ্গে কাজ করেছেন শিশির ভট্টাচার্য্য, ললিত পাল, জোয়াদ উল্ল্যা, আব্দুস সোবহান ও শৈলেন্দ্র ভট্টাচার্যসহ আরো কয়েক জন। তাদের নেতৃত্বে নানকার কৃষক ঐক্যবদ্ধ হয়ে প্রকাশ্যে বিদ্রোহ করে জমিদারের বিরুদ্ধে। বন্ধ হয়ে যায় খাজনা দেওয়া, এমনকি জমিদারদের হাট-বাজারের কেনাকাটা পর্যন্ত বন্ধ করে দেওয়া হয়। বিভিন্ন জায়গায় জমিদার ও তার লোকজনকে ধাওয়া করে তাড়িয়ে দেওয়ার ঘটনাও ঘটে।

উৎস: i) দ্য ডেইলি স্টার বাংলা।
ii) বাংলাপিডিয়া।

১৬.
স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় 'পোড়ামাটি নীতি' নিম্নের কোন বাহিনী দ্বারা প্রয়োগ করা হয়েছিল?
  1. ভারতীয় সেনাবাহিনী
  2. পাকিস্তানি সেনাবাহিনী
  3. গেরিলা বাহিনী
  4. মিত্রবাহিনী
সঠিক উত্তর:
পাকিস্তানি সেনাবাহিনী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পাকিস্তানি সেনাবাহিনী
ব্যাখ্যা

পোড়ামাটি নীতি (Scorched Earth Policy):
- ১৯৭১ সালের বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় পাকিস্তান সেনাবাহিনী 'পোড়ামাটি নীতি' প্রয়োগ করেছিল।
- পোড়ামাটি নীতি এমন একটি সামরিক কৌশল যা দ্বারা সেনাবাহিনীরা এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় যাওয়ার সময় প্রতিপক্ষের সামরিক বেসামরিক নির্বিশেষে সবাইকে হত্যার পাশাপাশি সবকিছু পুড়িয়ে দেয়। শত্রুর পক্ষে ব্যবহার করা সম্ভব এমন স্থাপনা ও অবকাঠামো পুড়িয়ে দেয়। এ থেকে পরিত্রাণ পায় না খাদ্যের উৎস, পানি সরবরাহ, পরিবহন, যোগাযোগ, শিল্পকারখানা। অর্থাৎ প্রতিপক্ষের সবকিছু জ্বালিয়ে পুড়িয়ে একেবারে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়ায় হলো পোড়ামাটি নীতি।

উল্লেখ্য,
- ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ বেলা ১১টায় মেজর জেনারেল খাদিম হুসেইন রাজাকে ফোনে চার শব্দের এক বার্তা দেন পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর লেফটেন্যান্ট জেনারেল টিক্কা খান। প্রায় এক মাস আগে থেকে তৈরি হতে থাকা একটা সামরিক অভিযানের পরিকল্পনা এভাবেই বাস্তবায়নের চূড়ান্ত অনুমোদন লাভ করে। অভিযানটির নাম ‘অপারেশন সার্চলাইট’।
- নির্ধারিত সময়ের দেড় ঘণ্টা আগেই সেনাবহর রাত সাড়ে ১১টায় ঢাকা সেনানিবাস থেকে বেরিয়ে পড়ে। ফার্মগেটে মিছিলের ওপর গুলি চালিয়ে অপারেশন সার্চলাইটের সূচনা করে তারা। তারপর রাতভর চলে হত্যা ও ধ্বংসযজ্ঞ। পিলখানা, রাজারবাগ পুলিশ লাইনস, পুরান ঢাকা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় চলে নির্বিচার মানবনিধন। 
- জেনারেল টিক্কা, তাঁর ওপর অর্পিত দায়িত্ব অর্থাৎ সশস্ত্র বাঙালি ইউনিট ও ব্যক্তিদের নিরস্ত্রীকরণ এবং বাঙালি নেতাদের আটক করার পরিবর্তে বেসামরিক নাগরিকদের হত্যা এবং পোড়ামাটি নীতি অবলম্বন করেন। সৈন্যদের প্রতি তাঁর নির্দেশ ছিল: “মানুষ না, মাটি চাই।” 

এছাড়াও,
- ১৯৭১ সালের ফেব্রুয়ারির প্রথম দিকেই ‘অপারেশন ব্লিৎজ’ নামে এই অভিযানের কথা প্রথম ভেবেছিলেন পাকিস্তানের সামরিক শাসক ইয়াহিয়া খান। এর আওতায় সামরিক শাসন জারি করে সামরিক বাহিনীকে ‘বিদ্রোহী’ রাজনৈতিক নেতাদের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে হেফাজতে নেওয়ার কথা ভাবা হয়েছিল।

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
ii) প্রথম আলো।

১৭.
মুর্শিদ কুলি খান বাংলার রাজধানী ঢাকা থেকে কোথায় স্থানান্তর করেন?
  1. কলকাতা
  2. রাজমহল
  3. মুর্শিদাবাদ
  4. পাটনা
সঠিক উত্তর:
মুর্শিদাবাদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মুর্শিদাবাদ
ব্যাখ্যা

মুর্শিদ কুলি খান: নবাবি শাসন প্রতিষ্ঠা
- মুর্শিদ কুলি খান (১৭০০-১৭২৭) বাংলায় নবাবি শাসনের প্রতিষ্ঠাতা।
- দাক্ষিণাত্যে শায়েস্তা খানের দিওয়ান হাজী শফী ইস্পাহানী অল্প বয়সী মুর্শিদ কুলিকে কিনে নিয়ে ইসলাম ধর্মে দীক্ষিত করেন এবং তার নাম রাখেন মুহাম্মদ হাদী।
- সম্রাট আওরঙ্গজেব তাঁকে করতলব খান উপাধি দিয়ে ১৭০০ খ্রিস্টাব্দে বাংলার দিওয়ান নিযুক্ত করেন।
- ১৭০৩ খ্রিস্টাব্দে তিনি সম্রাটের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে দাক্ষিণাত্য যান এবং এ সাক্ষাতে তিনি ‘মুর্শিদকুলী খান’ উপাধি লাভ করেন। 

⇒ ১৭১৬ খ্রিস্টাব্দে মুর্শিদকুলী খান বাংলার নাজিম পদে উন্নীত হন।
- ১৭১৭ সালের আগস্ট মাসে তাঁকে বাংলার পূর্ণ সুবাদারের মর্যাদা দেয়া হয়।
- তিনি অসংখ্য উপাধি ও পদবিতে ভূষিত হন। প্রথমে তিনি ‘জাফর খান’ উপাধি পান এবং পরে তাঁকে ‘মুতামিন-উল-মুলক আলা-উদ-দৌলা জাফর খান নাসিরী নাসির জঙ্গ বাহাদুর' উপাধি দেওয়া হয়। তাঁকে সাত হাজারি মনসব প্রদান করা হয়।
- ১৭২৭ খ্রিস্টাব্দের ৩০ জুন মুর্শিদকুলী খানের মৃত্যু হয়।

⇒ বাংলার প্রথম স্বাধীন নবাব মুর্শিদ কুলি খান দায়িত্ব গ্রহণ করে।
- তিনি ঢাকা বাংলার রাজধানী মুর্শিদাবাদে স্থানান্তর করেন ১৭১৭ সালে।
- তিনি অতিরিক্ত রাজস্ব ধার্য না করে সঠিক ব্যবস্থাপনার দ্বারা রাজস্বের পরিমাণ বৃদ্ধি করেন।

উৎস: i) ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশবিদ্যালয়।
ii) বাংলাপিডিয়া।

১৮.
কোন মুঘল সম্রাটের আমলে শায়েস্তা খান চট্টগ্রাম বিজয় করেন?
  1. আকবর 
  2. জাহাঙ্গীর 
  3. শাহজাহান 
  4. আওরঙ্গজেব
সঠিক উত্তর:
আওরঙ্গজেব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আওরঙ্গজেব
ব্যাখ্যা

শায়েস্তা খান:
- ইরানি বংশোদ্ভূত শায়েস্তা খান মোগল আমলে বাংলার একজন বিখ্যাত সুবাদার ছিলেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম ছিল আবু তালিব।
- মুঘল সম্রাট জাহাঙ্গীর তাঁকে শায়েস্তা খান নাম দেন।
- শায়েস্তা খান সম্রাট আওরঙ্গজেবের মামা ছিলেন।
- ১৬৬৩ সালে বাংলার সুবাদার মীর জুমলার মৃত্যু হলে ১৬৬৪ সালে আওরঙ্গজেব তাঁকে বাংলার সুবাদার হিসেবে নিযুক্ত করেন।
- শায়েস্তা খান ৬৩ বছর বয়সে প্রথম বাংলায় আসেন।
- শায়েস্তা খান দুই দফায় সর্বমোট ২২ বছর বাংলা শাসন করেন।

⇒ শায়েস্তা খানের বিজয়াভিযানের মধ্যে চট্টগ্রাম বিজয় উল্লেখযোগ্য।
- ১৪৫৯ সালে আরকান রাজ চট্টগ্রামকে বাংলার সুলতানদের নিকট থেকে দখল করে নিয়েছিলেন। চট্টগ্রাম পুনর্দখলের উদ্দেশ্য শায়েস্তা খান সেনাবাহিনী প্রেরণ করেছিলেন। তাঁর সেনাবাহিনী সন্দ্বীপ দখল করে চট্টগ্রামের দিকে মনোনিবেশ করেন। এ সময় চট্টগ্রামের মগ-রাজা ও স্থানীয় পর্তুগিজদের মধ্যে বিবাদ বাঁধে। চট্টগ্রামের ফিরিঙ্গীরা তখন নোয়াখালিতে এসে আশ্রয় নেয়। শায়েস্তা খান ফিরিঙ্গী নেতাকে নিজ দলভুক্ত করেন। 
- ১৬৬৬ সালে মুঘল সম্রাট আওরঙ্গজেব বাংলার সুবেদার শায়েস্তা খানকে চট্টগ্রাম দখলের নির্দেশ দেন। সুবেদারের পুত্র উমেদ খাঁর নেতৃত্বে কর্ণফুলী নদীর মোহনায় আরাকানীদের পরাজিত করে এবং আরাকানী দূর্গ দখল করে। যথারীতি পর্তুগিজরা আরাকানীদের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করে মোঘলদের পক্ষ নেয়। মোগল সেনাপতি উমেদ খাঁ চট্টগ্রামের প্রথম ফৌজদারের দায়িত্ব পান। শুরু হয় চট্টগ্রামে মোঘল শাসন। 
- তাঁর শাসনামলে তিনি কুচবিহার বিদ্রোহ দমন করেন, চট্টগ্রাম জয় ও মগ দস্যুদের বিতাড়িত করেন (১৬৬৬ সালে)।
- তাঁর শাসনামলে টাকায় আট মণ চাল পাওয়া যেত।
- তিনি লালবাগ কেল্লা, শায়েস্তা খান মসজিদ, ছোট কাটরা, সাত গম্বুজ মসজিদ প্রভৃতি নির্মাণ করেন।
- ১৬৯৪ সালে তিনি ৯৪ বছর বয়সে মারা যান।

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
ii) ইতিহাস, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৯.
বাংলাকে ‘বুলগাকপুর’ নামে অভিহিত করেছিলেন কে?
  1. আল বেরুনি
  2. ইবনে বতুতা
  3. জিয়াউদ্দিন বারানী
  4. মিনহাজ-উস-সিরাজ
সঠিক উত্তর:
জিয়াউদ্দিন বারানী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জিয়াউদ্দিন বারানী
ব্যাখ্যা

বিদ্রোহের নগরী:
- ১২০৪ খ্রিস্টাব্দে ইখতিয়ারউদ্দিন মুহম্মদ বিন বখতিয়ার খলজির মাধ্যমে বাংলায় মুসলিম শাসনের সূচনা হয়।
- এরপর রাজা গণেশের স্বল্পকালীন শাসনকাল ব্যতীত ১৭৬৫ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত বাংলা মুসলিম শাসনাধীনে ছিল।
- বখতিয়ার খলজির বাংলা বিজয়ের পর থেকে ১৩৩৮ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত যেসব খলজি মালিক, তুর্কি শাসক ও বলবনী শাসকগণ বাংলা শাসন করেছেন তাদের অনেকেই পুরোপুরি স্বাধীন ছিলেন না।
- তাঁরা দিল্লির সুলতানদের দ্বারা নিয়োগপ্রাপ্ত হতেন।
- কিন্তু দিল্লি থেকে বাংলা দূরবর্তী স্থানে হওয়ায় তাঁদের অনেকে সুযোগ পেলেই বিদ্রোহ ঘোষণা করতেন।
- এজন্য বাংলাকে 'বুলগাকপুর' বা বিদ্রোহের নগরীও বলা হত।

⇒ দিল্লির ঐতিহাসিক জিয়াউদ্দিন বারানী বাংলার নাম রেখেছিলেন 'বুলগাকপুর'।
- জিয়াউদ্দিন বারানী ছিলেন সুলতান মোহাম্মদ বিন তুঘলক ও ফিরোজ শাহ তুঘলকের সময় দিল্লি সালতানাতের একজন মুসলিম ইতিহাসবিদ ও রাজনৈতিক চিন্তাবিদ।
- ইতিহাসের আকরগ্রন্থ ‘তারিখে ফিরোজশাহী’ লিখে সুপরিচিত।

উৎস: i) বাংলাদেশ স্টাডিজ, বিবিএস প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) বণিক বার্তা।

২০.
মুক্তিযুদ্ধের সময় কোন সেক্টরটির সদরদপ্তর বাংলাদেশের ভূখণ্ডের অভ্যন্তরে ছিল?
  1. ২ নং
  2. ৬ নং
  3. ৮ নং
  4. ১১ নং
সঠিক উত্তর:
৬ নং
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৬ নং
ব্যাখ্যা

মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর:
⇒ ১নং সেক্টর: চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রাম জেলা এবং নোয়াখালী জেলার সমগ্র পূর্বাঞ্চল বেলোনিয়া বুলগের মুহুরী নদীর তীরে নিয়ে গঠিত।
- সদরদপ্তর: হরিণা।
- সেক্টর কমান্ডার: মেজর জিয়াউর রহমান, মেজর রফিকুল ইসলাম। 

⇒ ২নং সেক্টর: ঢাকা, কুমিল্লা এবং ফরিদপুর জেলা এবং নোয়াখালী জেলার অংশ নিয়ে গঠিত।
- সদরদপ্তর: মেলাঘর।
- সেক্টর কমান্ডার: মেজর খালেদ মোশাররফ, মেজর এটিএম হায়দার।

⇒ ৩নং সেক্টর: উত্তরে চূড়ামনকাঠি (শ্রীমঙ্গলের নিকট) থেকে সিলেট এবং দক্ষিণে ব্রাহ্মণবাড়ীয়ার সিঙ্গারবিল পর্যন্ত এলাকা নিয়ে গঠিত হয়।
- সদরদপ্তর: হেজামারা।
- সেক্টর কমান্ডার: মেজর কে এম শফিউল্লাহ, মেজর এএনএম নুরুজ্জামান। 

⇒ ৪ নং সেক্টর: উত্তরে সিলেট জেলার হবিগঞ্জ মহকুমা থেকে দক্ষিণে কানাইঘাট থানা পর্যন্ত ১০০ মাইল বিস্তৃত সীমান্ত এলাকা নিয়ে গঠিত।
- সদরদপ্তর: প্রথমে করিমগঞ্জে এবং পরে আসামের মাসিমপুর।
- সেক্টর কমান্ডার: মেজর চিত্তরাজন দত্ত, ক্যাপ্টেন এ রব।

⇒ ৫নং সেক্টর: সিলেট জেলার দুর্গাপুর থেকে ডাউকি (তামাবিল) এবং জেলার পূর্বসীমা পর্যন্ত বিস্তৃত এলাকা নিয়ে গঠিত।
- সদরদপ্তর: বাঁশতলা।
- সেক্টর কমান্ডার: মেজর মীর শওকত আলী। 

⇒ ৬নং সেক্টর: সমগ্র রংপুর জেলা এবং দিনাজপুর জেলার ঠাকুরগাঁও মহকুমা নিয়ে গঠিত। প্রধানত রংপুর ও দিনাজপুরের ইপিআর বাহিনী নিয়ে এই সেক্টর গঠিত হয়।
- সদরদপ্তর: বুড়িমাড়ি (বাংলাদেশের ভূখণ্ডের অভ্যন্তরে একমাত্র সদর দপ্তর)।
- সেক্টর কমান্ডার: উইং কমান্ডার এম খেদেমুল বাশার। 

⇒ ৭নং সেক্টর: রাজশাহী, পাবনা, বগুড়া এবং দিনাজপুর জেলার দক্ষিণাংশ নিয়ে গঠিত হয়।
- সদরদপ্তর: তরঙ্গপুর।
- সেক্টর কমান্ডার: মেজর নজরুল হক, সুবেদার মেজর এ রব এবং মেজর কাজী নুরুজ্জামান। 

⇒ ৮নং সেক্টর: কুষ্টিয়া, যশোর থেকে খুলনা, সাতক্ষীরা,
- সদরদপ্তর: কল্যাণী।
- সেক্টর কমান্ডার: মেজর আবু ওসমান চৌধুরী, মেজর এম এ মঞ্জুর।

⇒ ৯নং সেক্টর: বরিশাল ও পটুয়াখালি জেলা এবং খুলনা ও ফরিদপুর জেলার অংশবিশেষ নিয়ে গঠিত।
- সদরদপ্তর: বশিরহাট।
- সেক্টর কমান্ডার: মেজর এম জলিল, মেজর এম এ মঞ্জুর এবং মেজর জয়নাল আবেদীন।

⇒ ১০নং সেক্টর: সকল নৌপথ ও সমুদ্র উপকূলীয় অঞ্চল।

⇒ ১১নং সেক্টর: টাঙ্গাইল জেলা এবং কিশোরগঞ্জ মহকুমা ব্যতীত সমগ্র ময়মনসিংহ জেলা নিয়ে গঠিত।
- সদরদপ্তর: মহেন্দ্রগঞ্জ।
- সেক্টর কমান্ডার: মেজর এম আবু তাহের।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

২১.
'বাংলা ব্লকেড' কর্মসূচিটি মূলত কোন আন্দোলনের অংশ ছিল?
  1. ভাষা আন্দোলন
  2. কোটা সংস্কার আন্দোলন
  3. ৬২-এর শিক্ষা আন্দোলন
  4. নিরাপদ সড়ক আন্দোলন
সঠিক উত্তর:
কোটা সংস্কার আন্দোলন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কোটা সংস্কার আন্দোলন
ব্যাখ্যা

বাংলা ব্লকেড:
- কোটা সংস্কার ও মেধাভিত্তিক নিয়োগের জন্য ২০১৮ সালের সরকারি পরিপত্র পুনর্বহালের দাবিতে আন্দোলন করেছে সাধারণ শিক্ষার্থীরা।
- ৫ জুন, ২০২৪ তারিখে হাইকোর্ট ২০১৮ সালের পরিপত্রের আংশিক অবৈধ ঘোষণা করার পর আবার এই আন্দোলন শুরু হয়।
- এটি বাতিলের দাবিতে ৭ জুলাই, ২০২৪ তারিখে সারা দেশে সড়ক-মহাসড়ক অবরোধের ডাক দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।
- শাহবাগ মোড়সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় নির্ধারিত হওয়া এই কর্মসূচির নাম দিয়েছেন ‘বাংলা ব্লকেড’।

⇒ সরকারি চাকরিতে কোটা পদ্ধতির সংস্কারের দাবিতে ২০১৮ সালে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের কারণে সে সময় কোটা পদ্ধতি বাতিল করে সরকার। পরে ২০২১ সালে কয়েকজন বীর মুক্তিযোদ্ধার সন্তান হাইকোর্টে রিট করলে গত ৫ জুন এক রায়ের মাধ্যমে আবারও ফিরে আসে কোটা ব্যবস্থা।
- সরকারি চাকরিতে কোটা পদ্ধতি বাতিলের দাবিতে ১ জুলাই, ২০২৪ থেকে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ব্যানারে আন্দোলনে নামে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।
 
উৎস: i) প্রথম আলো।
ii) BBC.

২২.
কোন যুদ্ধের পর এলাহাবাদ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল?
  1. পলাশীর যুদ্ধ
  2. পানিপথের ৩য় যুদ্ধ
  3. বক্সারের যুদ্ধ
  4. প্লাসির যুদ্ধ
সঠিক উত্তর:
বক্সারের যুদ্ধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বক্সারের যুদ্ধ
ব্যাখ্যা

বক্সারের যুদ্ধের পর এলাহাবাদ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল।

এলাহাবাদ চুক্তি ও বাংলার ক্ষমতা দখল:

- এলাহাবাদ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয় ১৭৬৫ সালে।
- রবার্ট ক্লাইভ ও মুঘল সম্রাট দ্বিতীয় শাহ আলম-এর মধ্যে এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
- এই চুক্তির ফলে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যার দিউয়ানি লাভ করেছিল।
- সম্রাট শাহ আলমকে কোম্পানি প্রতি বছর ২৬ লক্ষ টাকা দান করার প্রতিশ্রুতি দেয়।
- এই চুক্তির ফলে  রাজস্ব আদায় ও দেশ রক্ষার ভার ছিল কোম্পানির উপর, অন্যদিকে নিজামত তথা বিচার ও প্রশাসন বিভাগের দায়িত্ব বর্তায় নবাবের উপর।

⇒ কোম্পানির সরাসরি দিউয়ানির দায়িত্ব গ্রহণের জন্য যে অর্থ ও লোকবল প্রয়োজন তা যেমন ছিলনা, তেমনি এদেশীয় ভাষা ও আইন কানুন সম্পর্কে কোম্পানির কর্মচারীদের জ্ঞানও ছিল না।
- তাই রাজস্ব আদায়ের দায়িত্ব সরাসরি গ্রহণ তাদের জন্য সম্ভব ছিল না।
- এ সকল দিক চিন্তা করেই তারা দ্বৈত শাসন নীতি প্রবর্তন করা হয়েছিল।

উল্লেখ্য,
- বক্সার যুদ্ধের পর কোম্পানির কর্মচারীদের মধ্যে দুর্নীতি ও বিশৃঙ্খলা চরমে উঠলে এবং বাংলার রাজনৈতিক পরিবেশ খারাপ হলে, ইংরেজ সরকার ভীত হয়ে পড়লেন।
- ফলে ইংল্যান্ডের কর্তৃপক্ষ কোম্পানির দুর্নীতি দমন ও স্বার্থ বৃদ্ধির জন্য পুনরায় ক্লাইভকে লর্ড উপাধি দান করে বাংলায় দ্বিতীয়বার প্রেরণ করেন (১৭৬৫-১৭৬৭ খ্রি.)।
- এদেশে এসেই তিনি মীর কাশিমের মিত্রশক্তি অযোধ্যার নবাব সুজাউদ্দৌলা ও দিল্লির সম্রাট দ্বিতীয় শাহ আলমের প্রতি নজর দেন।
- বক্সার যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ বাবদ ৫০ লক্ষ টাকা এবং কারা ও এলাহাবাদ জেলা দু'টি পেয়ে অযোধ্যার নবাবের সাথে মিত্রতা স্থাপন করেন।
- তারপর তিনি দিল্লির দুর্বল সম্রাট দ্বিতীয় শাহ আলমের সাথে সন্ধি স্থাপন করেন।
- ক্লাইভ কারা ও এলাহাবাদ জেলা দু'টি ও বাৎসরিক ২৬ লক্ষ টাকা কর প্রদানের বিনিময়ে সম্রাটের নিকট হতে বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যার দিউয়ানি লাভ করলেন (১৭৬৫ খ্রিস্টাব্দে ১২ আগস্ট ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি দিউয়ানি সনদ লাভ করে)।
- এর ফলে বাংলা তথা ভারতবর্ষে ইংরেজ উপনিবেশের পথ উন্মুক্ত হয়ে যায়।

উৎস: i) ইতিহাস ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২৩.
‘মার্চ ফর জাস্টিস’ কর্মসূচি কত তারিখে পালন করা হয়েছিল?
  1. ৩০ জুলাই, ২০২৪
  2. ৩১ জুলাই, ২০২৪
  3. ১ আগস্ট, ২০২৪
  4. ৩ আগস্ট, ২০২৪
সঠিক উত্তর:
৩১ জুলাই, ২০২৪
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৩১ জুলাই, ২০২৪
ব্যাখ্যা

'মার্চ ফর জাস্টিস' কর্মসূচি:
- বাংলাদেশের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের দাবি- কোটা সংস্কার আন্দোলনের সহিংসতায় অনেক শিক্ষার্থীর প্রাণহানি হয়েছে।
- এমতাবস্থায় আন্দোলন দমনের জন্য সাধারণ ছাত্র ও আন্দোলনের সমন্বয়ক এবং বিরোধী রাজনৈতিক নেতাদের বিরুদ্ধে গণগ্রেপ্তার চালানো হয়েছে।
- যা রীতিমতো দেশের সংবিধান বিরোধী ও মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন বলে দাবি করা হয়েছে।
- আর এরই প্রতিবাদে ছাত্ররা তাদের কর্মসূচি 'মার্চ ফর জাস্টিস' পালন করেছে।

⇒ ৩০ জুলাই, ২০২৪ তারিখে তারা মার্চ ফর জাস্টিস কর্মসূচী পালন করার ঘোষণা দিয়েছে।
- ৩১ জুলাই, ২০২৪ তারিখে তারা মার্চ ফর জাস্টিস কর্মসূচী পালন করেছে।
- ৯ দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে এ কর্মসূচি পালন করা হয়েছে।

উৎস: প্রথম আলো।

২৪.
বীরশ্রেষ্ঠ মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল কত নং সেক্টরের অধীনে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন?
  1. ১ নং
  2. ৪ নং
  3. ৯ নং
  4. ২ নং
সঠিক উত্তর:
২ নং
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২ নং
ব্যাখ্যা

বীরশ্রেষ্ঠ মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল:
- ভোলা জেলায় দৌলতখান উপজেলার পশ্চিম হাজীপাড়া গ্রামে ১৯৪৭ সালে বীরশ্রেষ্ঠ মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল-এর জন্ম হয়।
- মোস্তফা কামাল ১৯৬৭ সালের ১৬ ডিসেম্বর বাড়ি থেকে পালিয়ে ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টে যোগ দেন।
- প্রশিক্ষণ শেষে তাঁকে নিয়োগ করা হয় ৪ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট, কুমিল্লায়।

উল্লেখ্য,
- তিনি ২নং সেক্টরের অধীনে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন।
- ১৯৭১ সালের উত্তাল রাজনৈতিক পরিবেশে পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষ ৪ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টকে অভ্যন্তরীণ গোলযোগ নিয়ন্ত্রণের অজুহাতে সিলেট ও ব্রাহ্মণবাড়ীয়ায় মোতায়েন করে।
- মোস্তফা কামালের গুলিবর্ষণে পাকিস্তানি সৈন্যদের প্রায় ২০-২৫ জন হতাহত হয় এবং তাদের অগ্রগতি মন্থর হয়ে পড়ে।
- পাকিস্তানিরা মরিয়া হয়ে মোস্তফা কামালের অবস্থানের উপর মেশিনগান এবং মর্টারের গোলাবর্ষণ করতে থাকে।
- এক পর্যায়ে মোস্তফা কামালের এল.এম.জি-র গুলি নিঃশেষ হয়ে যায় এবং তিনি মারাত্বক জখম হন।
- তখন পাকিস্তানি সৈনিকরা ট্রেঞ্চে এসে তাঁকে বেয়নেট দিয়ে খুঁচিয়ে হত্যা করে।
- দরুইন গ্রামের জনগণ মোস্তফা কামালকে তাঁর শাহাদাতের স্থানের পাশেই ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় সমাহিত করেন।
- মুক্তিযুদ্ধে সাহসিকতা ও আত্মত্যাগের স্বীকৃতি স্বরূপ বাংলাদেশ সরকার তাঁকে সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মাননা ‘বীরশ্রেষ্ঠ’ খেতাবে ভূষিত করে।

উৎস: i) মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ওয়েবসাইট।
ii) বাংলাপিডিয়া।

২৫.
জুলাই ঘোষণাপত্রের কোন ধারায় শহীদদের ‘জাতীয় বীর’ ঘোষণা করা হয়েছে?
  1. ২৩ নং ধারা
  2. ২৪ নং ধারা
  3. ২৫ নং ধারা
  4. ২৮ নং ধারা
সঠিক উত্তর:
২৪ নং ধারা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২৪ নং ধারা
ব্যাখ্যা

জুলাই ঘোষণাপত্র:
-  ‘জুলাই ঘোষণাপত্র’ হলো ২০২৪ সালের জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানের একটি দলিল যার মাধ্যমে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানকে রাষ্ট্রীয় ও সাংবিধানিকভাবে স্বীকৃতি দেওয়া হবে।
- অন্যদিকে জুলাই জাতীয় সনদ হলো রাষ্ট্রের বিভিন্ন ক্ষেত্রে সংস্কার প্রস্তাব বাস্তবায়নে ঐকমত্যের একটি রাজনৈতিক দলিল।
- অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস ৫ আগস্ট, ২০২৫ তারিখে র ‘৩৬ জুলাই উদ্‌যাপন’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে জুলাই ঘোষণাপত্র পাঠ করেছেন।

⇒ জুলাই ঘোষণাপত্রে ২৮টি ধারা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
- জুলাই ঘোষণাপত্রের ২৪ নং ধারায় জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সকল শহীদদের 'জাতীয় বীর' হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে।
- ২৪ নং ধারা: সেহেতু বাংলাদেশের জনগণ জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সকল শহীদদের জাতীয় বীর হিসেবে ঘোষণা করে শহীদদের পরিবার, আহত যোদ্ধা এবং আন্দোলনকারী ছাত্রজনতাকে প্রয়োজনীয় সকল আইনি সুরক্ষা দেওয়ার অভিপ্রায় ব্যক্ত করছে।

অন্যদিকে, 
- ২৫ নং ধারা: সেহেতু বাংলাদেশের জনগণ যুক্তিসংগত সময়ে আয়োজিতব্য অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ একটি নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত জাতীয় সংসদে প্রতিশ্রুত প্রয়োজনীয় সাংবিধানিক সংস্কারের মাধ্যমে দেশের মানুষের প্রত্যাশা, বিশেষত তরুণ প্রজন্মের আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী আইনের শাসন ও মানবাধিকার, দুর্নীতি, শোষণমুক্ত, বৈষম্যহীন ও মূল্যবোধসম্পন্ন সমাজ এবং গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার অভিপ্রায় ব্যক্ত করছে। 
- ২৭ নং ধারা:  বাংলাদেশের জনগণ এই অভিপ্রায় ব্যক্ত করছে যে ছাত্র-গণ-অভ্যুত্থান ২০২৪-এর উপযুক্ত রাষ্ট্রীয় ও সাংবিধানিক স্বীকৃতি প্রদান করা হবে এবং পরবর্তী নির্বাচনে নির্বাচিত সরকারের সংস্কারকৃত সংবিধানের তফসিলে এ ঘোষণাপত্র সন্নিবেশিত থাকবে।
- ২৮ নং ধারা: ৫ আগস্ট ২০২৪ সালে গণ-অভ্যুত্থানে বিজয়ী বাংলাদেশের জনগণের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন হিসেবে এই ঘোষণাপত্র প্রণয়ন করা হলো।

উৎস: প্রথম আলো।

২৬.
যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রিসভা কে বাতিল করেন?
  1. গোলাম মোহাম্মদ
  2. মোহাম্মদ আলী
  3. নুরুল আমিন
  4. এ. কে. ফজলুল হক
সঠিক উত্তর:
গোলাম মোহাম্মদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গোলাম মোহাম্মদ
ব্যাখ্যা

যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রিসভা বাতিল:
- যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রিসভা সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে ২১ ফেব্রুয়ারি শহীদ দিবস ও ছুটি পালন, শহীদ মিনার নির্মাণ, বর্ধমান হাউসকে বাংলা একাডেমিতে রূপান্তর করা হবে।
- সে সময় 'নিউ ইয়র্ক টাইমস্' পত্রিকার সংবাদদাতা কালাহানকে দেওয়া ফজলুল হকের তথাকথিত সাক্ষাৎকার কেন্দ্রীয় সরকারকে বিচলিত করে তোলে।
- পত্রিকায় প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী ফজলুল হক পূর্ববাংলার স্বাধীনতা ঘোষণার ইচ্ছা প্রকাশ করেন।
- মুখ্যমন্ত্রী ফজলুল হক নানা চেষ্টা করেও কেন্দ্রীয় সরকারকে বোঝাতে ব্যর্থ হন।
- কেন্দ্রীয় সরকার '৫৪ সালের ৩০মে ১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইনের ৯২(ক) ধারা বলে যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রিসভা বরখাস্ত এবং পূর্ববাংলায় গভর্নরের শাসন ঘোষণা করেন।
- এভাবে মাত্র ৫৬ দিনের মাথায় যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রিসভার অবসান ঘটে।

কেন্দ্রীয় সরকার ১৯৫৪ সালের ৩০ মে যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রিসভা বাতিল করে পাকিস্তানের গভর্ণর জেনারেল গোলাম মুহাম্মদ পূর্ব বাংলায় কেন্দ্রের শাসন জারী করেন।
- পূর্ব বাংলায় কেন্দ্রের শাসন জারি ছিল ১৯৫৫ সালের ২ জুন পর্যন্ত।
- মুসলিম লীগ ও কেন্দ্রীয় সরকারের ষড়যন্ত্রে মাত্র চার বছরে সাত মন্ত্রিসভার পতন ঘটে।
- কেন্দ্রীয় সরকার তিনবার গভর্নরের শাসন জারি করে।
- যুক্তফ্রন্টের দলগুলোর মধ্যে ক্ষমতার দ্বন্দ্ব ও কেন্দ্রীয় সরকারের চক্রান্তের ফলে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা গড়ে উঠতে পারেনি।
- ১৯৫৬ সাল পর্যন্ত পূর্ব বাংলায় কেন্দ্রের শাসন বলবৎ ছিল।

উৎস: i) বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, SSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) বাংলাদেশের রাজনৈতিক উন্নয়ন, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২৭.
২৫ মার্চ ১৯৭১-এর গণহত্যার প্রথম প্রত্যক্ষদর্শী বিদেশি সাংবাদিক কে ছিলেন?
  1. মার্ক টালি
  2. এ্যান্থনি ম্যাসকারেনহাস
  3. সাইমন ড্রিং
  4. মাইকেল লরেন্ট
সঠিক উত্তর:
সাইমন ড্রিং
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাইমন ড্রিং
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে ব্রিটিশ সাংবাদিক সাইমন ড্রিং:
- সাইমন ড্রিং (জন্ম ১৯৪৫) একজন ব্রিটিশ সাংবাদিক, টেলিভিশন উপস্থাপক ও পরিচালক এবং ২৫শে মার্চ বর্বর পাকিস্তানি বাহিনীর গণহত্যার প্রথম প্রত্যক্ষদর্শী বিদেশী সংবাদদাতা।
- তিনি লন্ডনের ডেইলি টেলিগ্রাফ, ডেইলি মেইল, দ্য সানডে টাইমস, নিউজউইক, বিবিসি টেলিভিশন রেডিও নিউজ, রয়টার প্রভৃতি গণমাধ্যমে সাংবাদিক হিসেবে কাজ করেন।
- ১৯৯৭ সালে বাংলাদেশে চালুকৃত প্রথম বেসরকারি চ্যানেল একুশে টেলিভিশন-এর তিনি যুগ্ম ব্যবস্থাপনা পরিচালক ছিলেন। 

⇒ দ্য ডেইলি টেলিগ্রাফ-এর প্রতিবেদক হিসেবে কাজ করার সময় ১৯৭১ সালের ৬ মার্চ কম্বোডিয়া থেকে ঢাকায় আসেন সাইমন ড্রিং।
- ১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ রাতে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর অপারেশন সার্চলাইট নামে বাঙালিদের ওপরে সশস্ত্র আক্রমণ ও গণহত্যা, ২৬শে মার্চ প্রথম প্রহরে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা ইত্যাদি পটভূমিতে শুরু হয় ৯ মাসব্যাপী বাঙালিদের সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধ, যাতে ৩০ লক্ষ বাঙালিকে জীবনদান ও কয়েক লক্ষ মা-বোনকে সম্ভ্রম বিসর্জন দিতে হয়।

⇒ ২৫শে মার্চ রাতে বাঙালিদের ওপর পাকিস্তানি বাহিনীর গণহত্যা শুরুর পূর্বে শাহবাগস্থ তখনকার হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে ২শর মতো বিদেশী সাংবাদিককে পাকিস্তানি সামরিক জান্তা কঠোর প্রহরায় বিশেষ কক্ষে আবদ্ধ করে রাখে। তাঁদের মধ্যে লন্ডনের ডেইলি টেলিগ্রাফ পত্রিকার প্রতিনিধি সাইমন ড্রিংও ছিলেন।
- সকলকে পরের দিন প্লেনে তুলে পাঠিয়ে দেয়া হলেও সাইমন ড্রিং ও এসোসিয়েটেড প্রেসের ফটোগ্রাফার মাইকেল লরেন্ট  লুকিয়ে থেকে নিজেদের সাময়িকভাবে রক্ষা করতে সক্ষম হন।
- ২৭শে মার্চ কিছু সময়ের জন্য কারফিউ তুলে নেয়া হলে তাঁরা দুজন ঢাকা শহরে বেড়িয়ে পড়েন এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইকবাল হল (বর্তমান জহুরুল হক হল), জগন্নাথ হল, রাজারবাগ পুলিশ লাইন্স, ঢাকা মেডিকেল কলেজ, বঙ্গবন্ধুর ৩২নং ধানমন্ডির বাস ভবন, রেসকোর্সের কালীবাড়ি মন্দির, পুরনো ঢাকার হিন্দু অধ্যুষিত এলাকাসহ ২৫শে মার্চ রাত থেকে শুরু করে পাকহানাদারদের দ্বারা ধ্বংসপ্রাপ্ত ঢাকা নগরীর বিভিন্ন স্থান সরেজমিনে পরিদর্শন শেষে সাইমন ড্রিং একটি প্রতিবেদন তৈরি করেন।
- এটি ৩০শে মার্চ, ১৯৭১ লন্ডন থেকে প্রকাশিত দ্য ডেইলি টেলিগ্রাফ পত্রিকায় 'Tanks Crush Revolt in Pakistan 7,000 slaughtered: Homes burned' শিরোনামে প্রথম পৃষ্ঠায় তিন কলামে সাইমন ড্রিং (তখন বয়স ২৭)-এর ছবিসহ সবিস্তার ছাপা হয়।
- বর্বর পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর ২৫শে মার্চের হত্যাকাণ্ডের কোনো প্রত্যক্ষদর্শী বিদেশী সাংবাদিকের এটিই ছিল প্রথম প্রতিবেদন।
- এটি প্রকাশিত হওয়ার পর ঢাকায় সে রাতে ও পরবর্তী দুদিন পাকবাহিনী কী নিষ্ঠুর হত্যাকাণ্ড ও ধ্বংসলীলা চালিয়েছিল, সে সম্বন্ধে বিশ্ববাসী জানতে পারে।

উৎস: i) সংগ্রামের নোটবুক।
ii) দ্য ডেইলি স্টার পত্রিকা।

২৮.
'বাংলা ভাষা প্রচলন আইন' প্রণয়ন করা হয় -
  1. ২১ ফেব্রুয়ারি, ১৯৮৭
  2. ৮ মার্চ, ১৯৮৭
  3. ২৬ মার্চ, ১৯৮৭
  4. ১৬ ডিসেম্বর, ১৯৮৭
সঠিক উত্তর:
৮ মার্চ, ১৯৮৭
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৮ মার্চ, ১৯৮৭
ব্যাখ্যা

বাংলা ভাষা প্রচলন আইন, ১৯৮৭:
- ১৯৪৭ সালে ভারত বর্ষ ভাগ হয়ে পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পর প্রথম আঘাতটাই আসে বাংলা ভাষার ওপর।
- ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনেই স্বাধীনতার বীজ বপন করা হয়েছিল, যা অঙ্কুরিত হয়ে ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর পরিপূর্ণতা লাভ করে স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশের জন্ম হয়।
- স্বাধীনতার পরপর সর্বস্তরে বাংলা ভাষা প্রয়োগের জন্য একাধিক পরিপত্র জারি করা হয়।
- সর্বোপরি ১৯৮৭ সালে বাংলা ভাষার প্রচলন আইন সংসদ কর্তৃক পাশ হয়।

উল্লেখ্য,
- ১৯৮৭ সালের ৮ মার্চ ‘বাংলা ভাষা প্রচলন আইন, ১৯৮৭’ প্রণয়ন করা হয়।
- ঐ আইনের ৩(১) ধারায় বলা হয়েছে, ‘এই আইন প্রবর্তনের পর বাংলাদেশের সর্বত্র তথা সরকারি অফিস-আদালত, আধাসরকারি, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান কর্তৃক বিদেশের সঙ্গে যোগাযোগ ছাড়া অন্য সব ক্ষেত্রে নথি ও চিঠিপত্র, আইন-আদালতের সওয়াল-জবাব এবং অন্যান্য আইনানুগ কার্যাবলি অবশ্যই বাংলায় লিখিত হবে।
- এই ধারা মোতাবেক কোনো কর্মস্থলে যদি কোনো ব্যক্তি বাংলা ভাষা ব্যতীত অন্য কোনো ভাষায় আবেদন বা আপিল করেন তা হলে তা বেআইনি ও অকার্যকর বলিয়া গণ্য হবে।’

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

২৯.
শহীদ আবু সাঈদ কবে গুলিবিদ্ধ হয়ে শহীদ হন?
  1. ১৫ জুলাই, ২০২৪
  2. ১৬ জুলাই, ২০২৪
  3. ১৭ জুলাই, ২০২৪
  4. ১৮ জুলাই, ২০২৪
সঠিক উত্তর:
১৬ জুলাই, ২০২৪
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৬ জুলাই, ২০২৪
ব্যাখ্যা

শহীদ আবু সাঈদ:
- রংপুর জেলার পীরগঞ্জ উপজেলা বাবনপুর গ্রামের মোঃ মকবুল হোসেন এর ঘরে জন্ম নেয় আবু সাঈদ।
- ২৫ বছর বয়সী আবু সাঈদ বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের ১২তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন।
- তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের কোটা সংস্কার আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক ছিলেন।
- ১৬ জুলাই, ২০২৪ তারিখে তিনি রংপুরে গুলিবিদ্ধ হয়ে শহীদ হয়েছিলেন।

উল্লেখ্য,
- ২০২৪ সালে সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনে ১৬ জুলাই দুপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে পার্ক মোড়ে গুলিবিদ্ধ হন আবু সাঈদ।
- ১৬ জুলাই কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের কর্মসূচি চলাকালে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনের সড়কে পুলিশ আবু সাঈদকে খুব কাছ থেকে গুলি করে।
- আবু সাঈদ এক হাতে লাঠি নিয়ে দুই হাত প্রসারিত করে বুক পেতে দেন।
- কিছুক্ষণের মধ্যেই তিনি লুটিয়ে পড়েন।
- বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে নিরস্ত্র আবু সাঈদের পুলিশ কর্তৃক গুলিবিদ্ধ হওয়ার ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে সারা দেশে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।
- এই হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে সোচ্চার হন বহু মানুষ, যাতে আরও গতিশীল হয় কোটা সংস্কার আন্দোলন।
- ওই আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় ছাত্র-জনতার বিক্ষোভের মুখে গত ৫ আগস্ট প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান হাসিনা।

উৎস: i) বাংলা সাহিত্য, নবম-দশম শ্রেণি।
ii) দৈনিক ইনকিলাব।

৩০.
কোন তারকা কনসার্ট ফর বাংলাদেশে অংশ নেননি?
  1. বব ডিলান
  2. এরিক ক্ল্যাপটন
  3. লিওন রাসেল
  4. জন লেনন
সঠিক উত্তর:
জন লেনন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জন লেনন
ব্যাখ্যা

কনসার্ট ফর বাংলাদেশ:
- মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে নিউইয়র্কের ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনে ১৯৭১ সালের ১ আগস্ট অনুষ্ঠিত হয়েছিল ‘দ্য কনসার্ট ফর বাংলাদেশ’।
- ৪০ হাজারের বেশি মানুষ নিউইয়র্কের ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনে এমন একটি আয়োজনে যোগ দিয়েছিলেন।

⇒ কনসার্ট ফর বাংলাদেশ'-এর মূল উদ্যোক্তা ছিলেন বিশ্বখ্যাত সেতারবাদক পণ্ডিত রবিশঙ্কর।
- বাংলাদেশের জনগণের সাহায্যার্থে কিছু করার জন্য তিনি প্রথম যোগাযোগ করেন জনপ্রিয় বিটলসের অন্যতম সদস্য জর্জ হ্যারিসনের সঙ্গে।
- জর্জ হ্যারিসন 'কন্সার্ট ফর বাংলাদেশ' থেকে প্রাপ্ত অর্থ মুজিবনগর সরকারের কাছে তুলে দেন।
- ১৯৭১ সালের ১লা অগাস্টের সেই আয়োজনে অংশ নিয়েছিলেন পপ সঙ্গীতের তৎকালীন সুপারস্টার বব ডিলান, জর্জ হ্যারিসন এবং এরিক ক্ল্যাপটনের মত তারকারা।

উল্লেখ্য,
- ‘দ্য কনসার্ট ফর বাংলাদেশ’ শুরু হয়েছিল পণ্ডিত রবিশঙ্করের একটি সংক্ষিপ্ত বক্তৃতা দিয়ে।
- এ কনসার্টের জন্য তিনি তৈরি করেছিলেন ‘বাংলাদেশ ধুন’ বলে নতুন একটি সুর।
- আর তাঁর সঙ্গে সরোদে যুগলবন্দী ছিলেন ওস্তাদ আলী আকবর খান।
- তবলায় সহযোগিতা করেছিলেন বিখ্যাত আল্লারাখা।
- তানপুরায় ছিলেন কমলা চক্রবর্তী। সেদিন ম্যাডিসন স্কয়ারের অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল প্রতিবাদী গানের রাজা বব ডিলান। 
- সেদিন বব ডিলানের সঙ্গে গিটার বাজিয়েছিলেন জর্জ হ্যারিসন, ব্যাস লিওন রাসেল ও ট্যাম্বুরিন রিঙ্গো স্টার।
- সে অনুষ্ঠানে বিটলসের অন্যতম সদস্য রিঙ্গো স্টার, লিওন রাসেল, এরিক ক্ল্যাপটন, বিলি প্রেস্টন, ডন প্রেস্টন প্রমুখ গান গেয়েছেন, গিটার বাজিয়েছেন।

এছাড়াও,
- জন লেনন শেষ পর্যন্ত কনসার্ট ফর বাংলাদেশে অংশ নেননি।

উৎস: i) প্রথম আলো।
ii) BBC।

৩১.
সর্বশেষ কোন দেশ বাংলাদেশকে স্বীকৃতি প্রদান করেছে?
  1. পাকিস্তান
  2. সোভিয়েত ইউনিয়ন
  3. চীন
  4. পশ্চিম জার্মানি
সঠিক উত্তর:
চীন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চীন
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি:
- বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর আনুষ্ঠানিকভাবে মোট ১৫০টি দেশ স্বীকৃতি প্রদান করে। 
- ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের পর বাংলাদেশকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসাবে সর্বপ্রথম ভুটান স্বীকৃতি প্রদান করে।
- ভুটান ও ভারত উভয় দেশই বাংলাদেশকে ১৯৭১ সালের ৬ ডিসেম্বর স্বীকৃতি দিয়েছিল। 
- সর্বশেষ দেশ হিসেবে চীন বাংলাদেশকে ১৯৭৫ সালের ৩১ আগস্ট স্বীকৃতি প্রদান করে। 
 
উল্লেখ্য,
- তৃতীয় দেশ ও প্রথম ইউরোপীয় দেশ হিসেবে পূর্ব জার্মানি ১৯৭২ সালের ১১ জানুয়ারি বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়।
- স্বাধীনতা যুদ্ধে বাংলাদেশের বিজয়ের পর ১৯৭২ সালের ২৪ জানুয়ারি সোভিয়েত ইউনিয়ন বাংলাদেশকে স্বীকৃতি প্রদান করে এবং ২৫ জানুয়ারি রাষ্ট্রদ্বয়ের মধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপিত হয়।

অন্যদিকে,
- বুলগেরিয়া ১৯৭২ সালের ১২ জানুয়ারি বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়।
- পশ্চিম জার্মানি ১৯৭২ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়।
- হাঙ্গেরি ১৯৭২ সালের ২৬ জানুয়ারি বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়।
- ফিনল্যান্ড ১৯৭২ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়।
 
উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
ii) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ওয়েবসাইট।

৩২.
১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানের ফলে কোন স্বৈরশাসকের পতন ঘটে? 
  1. ইয়াহিয়া খান
  2. আইয়ুব খান
  3. ইস্কান্দার মির্জা
  4. জেনারেল নওয়াজ শরীফ
সঠিক উত্তর:
আইয়ুব খান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আইয়ুব খান
ব্যাখ্যা

আইয়ুব খানের স্বৈরশাসনের পতন:
- ১৯৬৯ সালে গণ–অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে আইয়ুব খানের স্বৈরশাসনের পতন ঘটে।
- গণঅভ্যুত্থানের ঐতিহাসিক প্রভাব: ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানের ফলে পাকিস্তানের সামরিক শাসক আইয়ুব খান পদত্যাগ করতে বাধ্য হন
- এর পূর্বে তিনি 'ঐতিহাসিক আগরতলা মামলা' তুলে নেন।
- জেনারেল ইয়াহিয়া খানের নতুন সামরিক সরকার বাধ্য হয় ১৯৭০ সালে পাকিস্তানে সাধারণ নির্বাচন দিতে।
- গণঅভ্যুত্থানের ফলে পূর্ববাংলার জনগণের মধ্যে জাতীয়তাবাদী রাজনৈতিক চিন্তা-ভাবনার বিকাশ ঘটে।

উল্লেখ্য,
⇒ ১৯৫৮ সালের ২৩ মার্চ জেনারেল ইস্কান্দার মির্জা পাকিস্তান ইসলামি প্রজাতন্ত্রের প্রথম প্রেসিডেন্ট মনোনীত হন ও পাকিস্তানে সামরিক আইন জারি করেন।
- ইস্কান্দার মির্জা জেনারেল আইয়ুব খানকে প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক এবং একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ করেন।
- এর মাত্র তিন সপ্তাহ পর, ২৭ অক্টোবর আইয়ুব খান প্রেসিডেন্ট মির্জাকে উৎখাত করে রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করেন।
- এর পরের দিন আইয়ুব খান এক আদেশ জারির মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর পদ বিলুপ্ত ঘোষণা করেন এবং পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেন।
- আইয়ুব খান নিজের ক্ষমতা পাকাপাকি করার জন্য ১৩ জন জেনারেলকে বরখাস্ত করেন এবং নিজেকে ভূষিত করেন ফিল্ড মার্শাল উপাধিতে।
- তা ছাড়া রাজধানী করাচি থেকে প্রথমে স্থানাস্তর করেন রাওয়ালপিন্ডিতে, পরে ইসলামাবাদে।
- জেনারেল আইয়ুব ১৯৫৯ সালে ‘মৌলিক গণতন্ত্র’ নামে নতুন একটা রাজনৈতিক ব্যবস্থা চালু করেন।
- ১৯৬০ সালে এসব মৌলিক গণতন্ত্রীর আস্থা ভোটে আইয়ুব খান প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন।
- ১৯৫৮-১৯৬৯ প্রায় ১০ বছর আইয়ুব খানের সামরিক শাসন স্থায়ী হয়েছিল।

উৎস: i) ইতিহাস ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি।

৩৩.
খানুয়ার যুদ্ধে বাবর কাকে পরাজিত করেন?
  1. ইব্রাহীম লোদী
  2. মেদেনী রাও
  3. রানা সংগ্রাম সিংহ
  4. শের শাহ
সঠিক উত্তর:
রানা সংগ্রাম সিংহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রানা সংগ্রাম সিংহ
ব্যাখ্যা

সম্রাট বাবর:
- জহির উদ্দিন মুহম্মদ বাবর ছিলেন ভারতবর্ষে মুঘল সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা।
- বাবরের পিতা উমর শেখ মির্জা ছিলেন দুধর্ষ সমর নেতা তৈমুরের বংশধর এবং মাতা কুতলুঘ নিগার খানম ছিলেন মোঙ্গল নেতা চেঙ্গিস খানের অধস্তন বংশধর ইউনুস খানের কন্যা।
- মাত্র ১১ বছর বয়সে বাবর পিতৃ সিংহাসনে উপবেশন করেন।
- বাবর অল্পদিনের মধ্যেই সমগ্র আফগানিস্তানে নিজ কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করে 'পাদশাহ' (বাদশাহ) উপাধি গ্রহণ করে ১৫২৬ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত কাবুলের শাসনক্ষমতায় অধিষ্ঠিত ছিলেন।
- ১৫১২ খ্রিস্টাব্দে উজবেকদের সাথে সংঘটিত এক যুদ্ধে বাবর পরাজিত হয়ে সমরকন্দ থেকে বিতাড়িত হন। অতঃপর মধ্য এশিয়ায় রাজ্য স্থাপন অসম্ভব মনে করে বাবর ভারতবর্ষের দিকে মনোনিবেশ করেন।

⇒  ১৫২৬ খ্রিস্টাব্দে পানিপথের প্রথম যুদ্ধে ইব্রাহীম লোদীকে, ১৫২৭ খ্রিস্টাব্দে খানুয়ার যুদ্ধে মেবারের রাজপুত নেতা রানা সংগ্রাম সিংহকে, ১৫২৮ খ্রিস্টাব্দে চান্দেরী অভিযানের সময় মেদেনী রাওকে এবং সর্বশেষ ১৫২৯ খ্রিস্টাব্দে গোগরার যুদ্ধে সম্মিলিত আফগান শক্তিকে পরাস্ত করার মধ্যে বাবরের উন্নত সামরিক কৌশল, রণনিপুণতা এবং একজন সফল সমর নায়কের কৃতিত্ব ফুটে উঠে। 

⇒ জহির উদ্দিন মুহম্মদ বাবর ১৫৩০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত মুঘল সাম্রাজ্য শাসন করেন। তাঁর সময় মুঘল সাম্রাজ্য পশ্চিমে কাবুল থেকে পূর্বে বিহার এবং উত্তরে হিমালয় থেকে দক্ষিণে চান্দেরি পর্যন্ত বিস্তার লাভ করে। মাত্র চার বছরের সংক্ষিপ্ত রাজত্বকালে বাবর বিশাল সাম্রাজ্যে সুষ্ঠু শাসন ব্যবস্থা অব্যাহত রাখেন।
- তবে বাবর খলিফার ক্ষমতাকে অস্বীকার করে স্বয়ং 'বাদশাহ' উপাধি গ্রহণ করেন।
- বাবর সমগ্র সাম্রাজ্যব্যাপী ১৫ মাইল অন্তর অন্তর ডাকচৌকির ব্যবস্থা করেন।
- তিনি তুর্কি ও ফার্সি ভাষায় অসংখ্য কবিতা রচনা করেন। তাঁর রচিত তুর্কি কবিতার সংকলন 'দিওয়ান' নামে পরিচিত। জহির উদ্দিন মুহম্মদ বাবরের সাহিত্যানুরাগের শ্রেষ্ঠ নির্দশন তুর্কি ভাষায় রচিত আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ 'তযুক-ই-বাবরী'। 'তুযুক-ই-বাবরী' মুঘল ইতিহাসের এক অমূল্য দলিল।

উৎস: ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩৪.
মধ্যপ্রাচ্যের ও প্রথম আরব দেশ হিসেবে বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয় -
  1. ইরান
  2. ইরাক
  3. মিশর
  4. সৌদি আরব
সঠিক উত্তর:
ইরাক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইরাক
ব্যাখ্যা

মধ্যপ্রাচ্যের দেশের বাংলাদেশকে স্বীকৃতি:                            
- মধ্যপ্রাচ্যের ও প্রথম আরব দেশ হিসেবে বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয় ইরাক।
- ১৯৭২ সালের ৮ জুলাই ইরাক বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়।

অন্যদিকে -
- লেবানন বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয় ২৮ মার্চ, ১৯৭৩।
- মিশর বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয় ১৫ সেপ্টেম্বর ১৯৭৩।
- জর্ডান বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয় ১৬ অক্টোবর ১৯৭৩। 
- কুয়েত বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয় ৪ নভেম্বর ১৯৭৩।
- ইরান বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয় ২২ ফেব্রুয়ারি ১৯৭৪।
- সৌদি আরব বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয় ১৬ আগস্ট, ১৯৭৫।

উৎস: i) বঙ্গভবনের শতবর্ষ (বঙ্গভবন)।
ii) বাংলাদেশের তারিখ (বিচারপতি মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান)।

৩৫.
মুক্তিযুদ্ধে ‘বীরপ্রতীক’ খেতাবপ্রাপ্ত নারী মুক্তিযোদ্ধা কারা?
  1. তারামন বিবি ও কাঁকন বিবি
  2. ডা. সিতারা বেগম ও কাঁকন বিবি
  3. তারামন বিবি ও ডা. সিতারা বেগম
  4. কাঁকন বিবি ও ফিরোজা বেগম
সঠিক উত্তর:
তারামন বিবি ও ডা. সিতারা বেগম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তারামন বিবি ও ডা. সিতারা বেগম
ব্যাখ্যা

মুক্তিযুদ্ধে নারীর অবদান:
- বাঙালির ইতিহাসে সর্ববৃহৎ এ মুক্তিসংগ্রামের আন্দোলনে পুরুষের পাশাপাশি নারীরাও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।
- মুক্তিযুদ্ধে অসাধারণ কৃতিত্বের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৭২ সালে মোট ৬৭৬ বীর যোদ্ধাকে বিভিন্ন খেতাবে ভূষিত করা হয়েছে। তাদের মধ্যে দুজন নারীও রয়েছেন।
- একজন হলেন ডা. সেতারা বেগম এবং অন্যজন তারামন বিবি; যাদের ‘বীরপ্রতীক’ খেতাব দেওয়া হয়।

উল্লেখ্য,
- তারামন বিবি ১১ নং সেক্টর থেকে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন। তখন ১১ নং সেক্টরের নেতৃত্বে ছিলেন সেক্টর কমান্ডার আবু তাহের। মুক্তিযুদ্ধে বিজয়ের পরে ১৯৭৩ সালে বঙ্গবন্ধু সরকার তাকে স্বাধীনতা যুদ্ধে অসামান্য অবদানের জন্য বীর প্রতীক উপাধিতে ভূষিত করে। ১৯৯৫ সালের ১৯ ডিসেম্বর তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী তারামন বিবির হাতে তুলে দেন বীর প্রতীক সম্মাননা। ২০১৮ সালের ১ ডিসেম্বর সবাইকে ছেড়ে যান মুক্তিযুদ্ধের কিংবদন্তী নারী মুক্তিযোদ্ধা তারামন বিবি বীর প্রতীক।

- ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় আহত বা অসুস্থ মুক্তিযোদ্ধাদের চিকিত্সাসেবা দেওয়ার জন্য বিভিন্ন সেক্টরে হাসপাতাল বা চিকিত্সাকেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছিল। এ রকম একটি হাসপাতাল ছিল ২ নম্বর সেক্টরে। নাম ‘বাংলাদেশ হাসপাতাল’। ডা. সিতারা বেগম বাংলাদেশ হাসপাতালে অসাধ্য সাধনের মতো সব কাজ করতেন। মুক্তিযুদ্ধে এ মহীয়সী নারীর সাহসী আবদানের জন্য তাঁকে ‘বীর প্রতীক’ খেতাবে ভূষিত করা হয়। ১৯৭২ সালে জেনারেল ওসমানী চিঠি দিয়ে তাঁকে বীর প্রতীক খেতাব পাওয়ার কথা জানান। তারপর তা গেজেট আকারে প্রকাশ পায়।

অন্যদিকে,
- কাঁকন বিবি ১৯৭১ সালে সংঘটিত বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের এক বীরযোদ্ধা, বীরাঙ্গনা ও গুপ্তচর।মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন তিনি পাকিস্তানি বাহিনীর বিপক্ষে মুক্তিবাহিনীর হয়ে ৫ নং সেক্টরের গুপ্তচরের কাজ করেন। মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদানের জন্য তাকে বীরপ্রতীক খেতাব দেওয়ার ঘোষণা দেয়া হয়। তবে এ বিষয়ে সরকারি ভাবে কোন গ্যাজেট প্রকাশিত হয়নি।

উৎস: i) প্রথম আলো।
ii) দ্য ডেইলি স্টার বাংলা।

৩৬.
অধীনতামূলক মিত্রতা নীতি কোন ধরনের রাজ্যগুলোর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য ছিল?
  1. সরাসরি ব্রিটিশ শাসিত রাজ্য
  2. ফরাসি প্রভাবাধীন রাজ্য
  3. ব্রিটিশ নিয়ন্ত্রণবর্হিভূত দেশীয় রাজ্য
  4. সবগুলো
সঠিক উত্তর:
ব্রিটিশ নিয়ন্ত্রণবর্হিভূত দেশীয় রাজ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্রিটিশ নিয়ন্ত্রণবর্হিভূত দেশীয় রাজ্য
ব্যাখ্যা

অধীনতামূলক মিত্রতা নীতি:
- জেনারেল লর্ড ওয়েলেসলি হস্তক্ষেপ না করার নীতিকে পরিবর্তন করেন এবং অধীনতামূলক মিত্রতার নীতি গ্রহণ করেন।
- এই নীতি অনুযায়ী ব্রিটিশ নিয়ন্ত্রণবর্হিভূত দেশীয় রাজ্যগুলোকে ব্রিটিশদের অধীনে ও নিরাপত্তায় থেকে রাজ্য শাসনে অভ্যন্তরীণ স্বাধীনতা প্রদান করা হতো।
- এই নীতির মাধ্যমে হায়দ্রাবাদ ও মারাঠারাজ্য কোম্পানির অধীনে আসে।
- টিপু সুলতান এই নীতিগ্রহণে অস্বীকার করলে চতুর্থ মহীশূর যুদ্ধে তিনি ব্রিটিশদের নিকট পরাজিত ও নিহত হন।

⇒ নীতির মূল উদ্দেশ্য:
• নিরাপত্তা ও স্বাধীনতা: এই নীতির আওতায় ব্রিটিশ নিয়ন্ত্রণবর্হিভূত দেশীয় রাজ্যগুলোকে ব্রিটিশদের অধীনে থাকার জন্য অভ্যন্তরীণ স্বাধীনতা প্রদান করা হতো। অর্থাৎ, তারা নিজেদের রাজ্য শাসনে স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারতেন, তবে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের নিরাপত্তার আওতায়।
• রাজ্যগুলোর অধীনে আসা: এই নীতির মাধ্যমে হায়দ্রাবাদ ও মারাঠা রাজ্যগুলো কোম্পানির অধীনে আসে।
• টিপু সুলতানের প্রতিক্রিয়া: টিপু সুলতান এই নীতি গ্রহণে অস্বীকার করেন, যার ফলস্বরূপ চতুর্থ মহীশূর যুদ্ধে তিনি ব্রিটিশদের কাছে পরাজিত ও নিহত হন।

⇒ লর্ড ওয়েলেসলির ভূমিকা:
• শাসনকাল: লর্ড ওয়েলেসলি ১৭৯৮ থেকে ১৮০৫ সাল পর্যন্ত ভারতের গভর্নর জেনারেল ছিলেন।
• নীতির উদ্দেশ্য: তিনি ভারত থেকে ফরাসি প্রভাব দূর করে ব্রিটিশদেরকে উপমহাদেশের সর্বশ্রেষ্ঠ শক্তিতে পরিণত করতে চেয়েছিলেন।
• শিক্ষা সংস্কার: অসামরিক কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণের জন্য ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ প্রতিষ্ঠা করেন।
• সাম্রাজ্যের শক্তি: তাঁর শাসনামল শেষ হওয়ার পরও ওয়েলেসলি ব্রিটিশদের ভারতে একটি শক্তিশালী সাম্রাজ্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে যান।

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
ii) ইতিহাস ১ম পত্র, HSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩৭.
পানিপথের প্রথম যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল -
  1. ১৫১২ খ্রিস্টাব্দে
  2. ১৫২৬ খ্রিস্টাব্দে
  3. ১৫৫৬ খ্রিস্টাব্দে
  4. ১৫৬২ খ্রিস্টাব্দে
সঠিক উত্তর:
১৫২৬ খ্রিস্টাব্দে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৫২৬ খ্রিস্টাব্দে
ব্যাখ্যা

পানিপথের প্রথম যুদ্ধ:
- সময়কাল: ১৫২৬ খ্রিস্টাব্দের ২১ এপ্রিল।
- স্থান: বর্তমান ভারতের রাজধানী দিল্লি থেকে প্রায় ৮০ কিলোমিটার উত্তরে হরিয়ানা রাজ্য।
- পক্ষ: সম্রাট বাবর বনাম ইব্রাহিম লোদী। 
- বাবরের সেনাবাহিনীতে ছিল ১২,০০০ পদাতিক, উল্লেখযোগ্য সংখ্যক অশ্বারোহী ও গোলন্দাজ। অপরদিকে ইব্রাহিম লোদীর সৈন্যবাহিনীতে ছিল ১,০০,০০০ সৈন্য ও ১০০ হস্তী।
- ভারতীয় উপমহাদেশের ইতিহাসে জহির উদ্দিন মুহম্মদ বাবর সর্বপ্রথম এই যুদ্ধে কামানের ব্যবহার করেন।
- সম্রাট বাবর এই যুদ্ধে ভারতবর্ষে প্রথমবারের মতো কামান ও গোলন্দাজ বাহিনী ব্যবহার করেন। ভারতবর্ষে তিনিই সর্বপ্রথম গোলন্দাজ বাহিনী নামে একটি বিশেষ বাহিনী গড়ে তুলেন।
- ফলাফল: শেষ পর্যন্ত যুদ্ধে ইব্রাহিম লোদী পরাজিত ও নিহত হন। ফলে উপমহাদেশে সুলতানি শাসনের অবসান ঘটে এবং ভারতবর্ষে মুঘল সাম্রাজ্যের ভিত্তি স্থাপিত হয়েছিল।

উল্লেখ্য,
- পানিপথের ২য় যুদ্ধ: ১৫৫৬  খ্রিস্টাব্দ।
- পানিপথের ৩য় যুদ্ধ: ১৭৬১ খ্রিস্টাব্দ।

উৎস: ইতিহাস ১ম পত্র, HSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩৮.
‘সর্বদলীয় কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ’-এর আহবায়ক কে ছিলেন?
  1. মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী
  2. আবদুল মতিন
  3. নূরুল হক ভূঁইয়া
  4. কাজী গোলাম মাহবুব
সঠিক উত্তর:
কাজী গোলাম মাহবুব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাজী গোলাম মাহবুব
ব্যাখ্যা

রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ:
- ভাষা ও সংস্কৃতির প্রশ্নে শুরু থেকেই যে আলোড়ন সৃষ্টি হয় তার মধ্য থেকে জন্ম নিতে থাকে অনেক সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান।
- তমদ্দুন মজলিশের উদ্যোগে ভাষা আন্দোলনকে রাজনৈতিক রূপদানের জন্য ১৯৪৭ সালের অক্টোবর মাসে গঠিত হয় প্রথম ‘রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ’।
- এর আহ্বায়ক ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক নূরুল হক ভূঁইয়া।

⇒ ১৯৪৮ সালের ২ মার্চ ছাত্রসমাজ দেশের বরেণ্য বুদ্ধিজীবীদের উপস্থিতিতে দ্বিতীয়বারের মতো রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ গঠন করে।
- এ পরিষদের আহবায়ক মনোনীত হন শামসুল আলম।

⇒ ১৯৫০ সালের ১১ই মার্চ ভাষা আন্দোলনকে কেন্দ্র করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয়।
- এর আহ্বায়ক ছিলেন আবদুল মতিন।

⇒ ১৯৫২ সালের ৩১ জানুয়ারি আওয়ামী মুসলিম লীগ সভাপতি মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর সভাপতিত্বে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সর্বদলীয় সভায় ‘সর্বদলীয় কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ’ গঠিত হয়।
- কাজী গোলাম মাহবুবকে আহবায়ক করে ৪০ সদস্য বিশিষ্ট সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয়।

উৎস: i) ইতিহাস, HSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) প্রথম আলো।

৩৯.
স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের ‘চরমপত্র’ অনুষ্ঠান কে পরিচালনা ও উপস্থাপনা করেন?
  1. এম এ আজিজ
  2. এম আর আখতার মুকুল
  3. কল্যাণ মিত্র
  4. আবু হেনা মোস্তফা কামাল
সঠিক উত্তর:
এম আর আখতার মুকুল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এম আর আখতার মুকুল
ব্যাখ্যা

স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র:
- মুক্তিযুদ্ধ সময়কালে যুদ্ধরত মুক্তিযোদ্ধাদের এবং অবরুদ্ধ এলাকার জনগণের মনোবল অক্ষুন্ন রাখার ক্ষেত্রে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র বিভিন্ন অনুষ্ঠানের মধ্যদিয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
- এই স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে বাংলাদেশ সরকারের রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিপরিষদ সদস্যদের নীতি নির্ধারণী ভাষণসহ জনগণের উদ্দেশ্যে বিভিন্ন নির্দেশাবলী প্রচারিত হয়।
- প্রতিদিনের সংবাদসহ যে সমস্ত অনুষ্ঠান জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিল তার মধ্যে চরমপত্র ও জল্লাদের দরবার অন্যতম।
- যুদ্ধের ময়দানে অস্ত্রশস্ত্রে পিছিয়ে থাকলেও মনের জোরে অনেক অসম্ভবকে সম্ভব করেছিলেন মুক্তিযোদ্ধারা।
- তাঁদের মনের জোর আরও বাড়িয়ে দিয়েছিল স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের ‘চরমপত্র’ অনুষ্ঠানটি।
- বিদ্রূপ ও শ্লেষাত্মক অনুষ্ঠানটি রচনা ও উপস্থাপন করেছিলেন সাংবাদিক ও লেখক এম আর আখতার মুকুল।

⇒ স্বাধীন বাংলা বেতারের অত্যন্ত জনপ্রিয় দুটি অনুষ্ঠান ছিল ‘চরমপত্র‘ ও ‘জল্লাদের দরবার’। জল্লাদের দরবার-এ জেনারেল ইয়াহিয়া খানের অমানবিক চরিত্র ও পাশবিক আচরণকে তুলে ধরা হতো। এই ব্যঙ্গাত্মক সিরিজে তাকে ‘কেল্লা ফতেহ খান’ চরিত্রে চিত্রিত করা হয় এবং এই ভূমিকায় অভিনয় করেন রাজু আহমেদ।
- চরমপত্র সিরিজটি পরিকল্পনা করেন জাতীয় পরিষদ সদস্য আবদুল মান্নান এবং স্থানীয় ঢাকাইয়া উপভাষায় এর স্ক্রিপ্ট তৈরি করেন এম.আর আখতার মুকুল, যিনি নিজেই এর উপস্থাপক ছিলেন। এই ব্যতিক্রমধর্মী অনুষ্ঠানটি জনগণের কাছে বিপুলভাবে সমাদৃত হয়। এতে একইসঙ্গে ছিল তীক্ষ্ণ ব্যঙ্গ ও জাতীয়তা বোধের প্রকাশ যা জনগণের নৈতিক মনোবল দৃঢ়ীকরণে ও স্বাধীনতা সংগ্রামীদের আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধিতে সহায়ক ভূমিকা পালন করেছিল।

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
ii) প্রথম আলো