ব্যাখ্যা
মাধ্যমিক শিক্ষা সাধারণ, কারিগরি ও মাদ্রাসা এ তিনটি ধারায় পরিচালিত।
(শিক্ষাবিজ্ঞান ও বাংলাদেশে শিক্ষা - আব্দুল মালেক, মরিয়ম বেগম, ফখরুল ইসলাম ও শেখ শাহবাজ রিয়াদ)
৪৯তম বিসিএস ⎯ শিক্ষা [২২১] · তারিখ অনির্ধারিত · ৩১ প্রশ্ন
মাধ্যমিক শিক্ষা সাধারণ, কারিগরি ও মাদ্রাসা এ তিনটি ধারায় পরিচালিত।
(শিক্ষাবিজ্ঞান ও বাংলাদেশে শিক্ষা - আব্দুল মালেক, মরিয়ম বেগম, ফখরুল ইসলাম ও শেখ শাহবাজ রিয়াদ)
শিক্ষা মন্ত্রণালয় বাংলাদেশে মাধ্যমিক শিক্ষা সংক্রান্ত সার্বিক ব্যবস্থাপনা ও পরিচালনা করে থাকে।
(এম এড, স্কুল অব এডুকেশন, বাংলাদেশ ওপেন ইউনিভার্সিটি)
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আওতায় ২টি বিভাগ রয়েছেঃ
১। মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ : ২। কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগ
(বি এড, স্কুল অব এডুকেশন, বাংলাদেশ ওপেন ইউনিভার্সিটি)
বাংলাদেশে মাধ্যমিক শিক্ষার স্তর ৩টি। নিম্ন মাধ্যমিক, মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক।
(শিক্ষাবিজ্ঞান ও বাংলাদেশে শিক্ষা, ইউজিসি)
মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ : মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ শিক্ষা সংক্রান্ত নীতি, কর্মপরিকল্পনা ও কর্মসূচি (প্রাথমিক শিক্ষা স্তর পরবর্তী উচ্চ মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা), প্রণয়ন, পরিকল্পনা, বাস্তবায়ন, পরিবীক্ষন ও মূল্যায়ন করে থাকে। মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ মাধ্যমিক স্তর হতে উচ্চ শিক্ষা পর্যন্ত নীতি নির্ধারণী ও অন্যান্য কার্যক্রম গ্রহণ করে থাকে। এ ছাড়া শিক্ষা বিষয়ক প্রশাসন ও ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে আইন, বিধি-বিধান প্রণয়ন করে থাকে। এ বিভাগের মূল দায়িত্ব হচ্ছে আওতাধীন ২৩টি দপ্তর-সংস্থা এবং মাধ্যমিক পর্যায়ের সকল বিদ্যালয়, মহাবিদ্যালয় ও বিশ্ববিদ্যালয়সমূহের ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম তদারকি করে শিক্ষাকে মানসম্মত এবং সকলের জন্য সহজলভ্য করা।
(মাধ্যমিক শিক্ষা, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়)
বুনিয়াদী প্রশিক্ষণ কোর্স- এটি নায়েম পরিচালিত কোর্সসমূহের মধ্যে অন্যতম যা নিয়মিতভাবে পরিচালিত হয়ে থাকে। শিক্ষা ক্যাডারভুক্ত কলেজের শিক্ষকদের জন্য এ কোর্সটি পরিচালিত হয়ে থাকে। পূর্বে এর মেয়াদ ছিল দুই মাস। বর্তমানে বুনিয়াদী প্রশিক্ষণ কোর্স এর মেয়াদ ৪ মাস করা হয়েছে। এ কোর্সের পাঠ্যসূচির অন্তর্ভুক্ত রয়েছে বাংলাদেশের ইতিহাস ও ঐতিহ্য, সম্পদসমূহ, বাংলাদেশ সরকারের গুরুত্বপূর্ণ নীতিসমূহ, লোক প্রশাসন, ব্যবস্থাপনা এবং ইংরেজি ও বাংলা ভাষা। পরিকল্পিতভাবে প্রশিক্ষণ প্রদানের মাধ্যমে আত্মপ্রত্যয়ী জ্ঞানী ও প্রশিক্ষিত কলেজ শিক্ষক তৈরি করা এর প্রধান উদ্দেশ্য।
(শিক্ষা প্রশাসন ও ব্যবস্থাপনা, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়)
কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের আওতাধীন মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর একটি নবসৃষ্ট সরকারি প্রতিষ্ঠান।, শিক্ষক এমপিওভূক্তকরণ মাদ্রাসা শিক্ষার একাডেমিক এবং কাঠামোগত উন্নয়নের ব্যাপারে মন্ত্রণালয়কে পরার্মশ দেয়া এবং প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করা অধিদপ্তরের প্রধান কাজ।
(উচ্চশিক্ষা, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়)
বাংলাদেশ কেন্দ্রীভূত প্রশাসন ব্যবস্থার অন্তর্ভুক্ত। শিক্ষাখাতেও এই কেন্দ্রীভুত প্রশাসন লক্ষণীয়। বর্তমানে বাংলাদেশের মাধ্যমিক শিক্ষাক্ষেত্রে যদিও কাঠামোগতভাবে বিকেন্দ্রীকরণের ব্যবস্থা রয়েছে (যেমন আঞ্চলিক ও জেলা শিক্ষা অফিস) তথাপি ক্ষমতা চর্চার দিক থেকে তা মূলত কেন্দ্রীভূত। এখানে মাধ্যমিক শিক্ষার সার্বিক প্রশাসন ও পরিচালনার সর্বোচ্চ ক্ষমতা ও দায়িত্ব শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ওপর ন্যস্ত। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নেতৃত্বে বিভিন্ন দপ্তর, অধিদপ্তর, সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানসমূহের মাধ্যমে মাধ্যমিক শিক্ষার প্রশাসন ও ব্যবস্থাপনার কাজ পরিচালিত হয়ে থাকে।
(এম এড, স্কুল অব এডুকেশন, বাংলাদেশ ওপেন ইউনিভার্সিটি)
শিক্ষা মন্ত্রণালয় বাংলাদেশে জাতীয় শিক্ষার বাজেট প্রণয়ন এবং বিভাগ, বিভিন্ন পরিদপ্তর ও সংস্থা বা প্রতিষ্ঠানে অর্থ বরাদ্দ প্রদান করে থাকে।
(মাধ্যমিক শিক্ষা প্রশাসন ও ব্যবস্থাপনা, আলমগীর হোসেন খান)
বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ কর্মকর্তা হলেন চ্যান্সেলর। পদাধিকার বলে মহামান্য রাষ্ট্রপতিই হচ্ছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর। আইন অনুসারে তিনি কতিপয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষেত্রে সিনেটের সুপারিশকৃত তিন নাম বিশিষ্ট প্যানেলথেকে ভাইস চ্যান্সেলর নিয়োগ করেন। কোন কোন বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য চ্যান্সেলর সরাসরি ভাইস চ্যান্সেলর নিয়োগ করেন। চ্যান্সেলর বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন।
(এম এড, স্কুল অব এডুকেশন, বাংলাদেশ ওপেন ইউনিভার্সিটি)
ভাইস চ্যান্সেলর হলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ও প্রশাসনিক কাজের প্রধান কর্মকর্তা। তিনি সিনেট, সিন্ডিকেট ও একাডেমিক কাউন্সিলের সভায় সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের আরো গুরুত্বপূর্ণ কমিটি বা বোর্ডের সভাপতিও তিনি।
(এম এড, স্কুল অব এডুকেশন, বাংলাদেশ ওপেন ইউনিভার্সিটি)
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার পাবলিক ইন্সট্রাকশন অধিদপ্তরে (Directorate of Public Instruction) ১৯৮১ সালে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (DSHE) হিসেবে রূপান্তর করে। তৎকালীন জনশিক্ষা দপ্তরকে পুনর্গঠন করে এই নতুন অধিদপ্তরটি প্রতিষ্ঠিত হয়, যার মূল কাজ হলো দেশের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষাব্যবস্থাকে পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রণ করা এবং শিক্ষা নীতির বাস্তবায়ন করা।
(মাধ্যমিক শিক্ষা, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়)
জাতীয় শিক্ষানীতি ২০১০ অনুসারে উচ্চশিক্ষার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য 9টি.
• কার্যকরভাবে বিশ্বমানের শিক্ষাদান, শিক্ষার্থীদের মধ্যে অনুসন্ধিৎসা জাগানো এবং মানবিক গুণাবলি অর্জনে সহায়তা দান।
• অবাধ বুদ্ধিচর্চা, মননশীলতা ও চিন্তার স্বাধীনতা বিকাশে সহায়তা দান করা।
• পাঠদান পদ্ধতিতে সম্ভাব্য সকল ক্ষেত্রে দেশের বাস্তবতাকে উচ্চশিক্ষার সঙ্গে সম্পৃক্ত করা, রাষ্ট্র ও সমাজের সমস্যা শনাক্ত করা ও সমাধান বের করা।
• নিরলস জ্ঞানচর্চা ও নিত্যনতুন বহুমুখী মৌলিক ও প্রায়োগিক গবেষণার ভেতর দিয়ে জ্ঞানের দিগন্তের ক্রমসম্প্রসারণ।
• আধুনিক ও দ্রুত অগ্রসরমান বিশ্বের সঙ্গে কার্যকর পরিচিতি ঘটানো।
• জাতীয় জীবনের সর্বক্ষেত্রে নেতৃত্বদানের উপযোগী বিজ্ঞানমনষ্ক, অসাম্প্রদায়িক, উদারনৈতিক, মানবমুখী, প্রগতিশীল ও দূরদর্শী নাগরিক সৃষ্টি। • জ্ঞান চর্চা, গবেষণা, সৃজনশীলতা ও উদ্ভাবনী হতে জ্ঞানের নতুন নতুন ক্ষেত্র সৃষ্টি।
• মেধার বিকাশ এবং সৃজনশীল নতুন নতুন পথ ও পদ্ধতির উদ্ধাবন।
• জ্ঞান সৃজনশীলতা এবং মানবিক মূল্যবোধ ও দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ নাগরিক সৃষ্টি।
(জাতীয় শিক্ষানীতি ২০১০)
স্যাডলার কমিশনের সুপারিশের ভিত্তিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯১৭ সালের এই কমিশনটি শুধু কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের নয়, বরং সমগ্র ভারতের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কারের লক্ষ্যে গঠিত হয়েছিল এবং এর ইতিবাচক রিপোর্টের চূড়ান্ত ধাপ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পথ প্রশস্ত করে। অবশেষে, ১৯২০ সালের ১৩ মার্চ ভারতীয় আইন সভায় এই প্রস্তাব গৃহীত হয় এবং ২৩ মার্চ ভারতের তদানীন্তন গভর্নর জেনারেল তাতে সম্মতি প্রদান করেন
(শিক্ষবিজ্ঞান ও বাংলাদেশে শিক্ষা ডঃ আব্দুল মালেক ও অন্যান্য)
সরকারি কলেজের অর্থায়নের প্রধান উৎস সরকারি অনুদান.
(শিক্ষা প্রশাসন ও ব্যবস্থাপনা, অধ্যক্ষ ফাতেমা খাতুন)
বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি)-এর তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ৫৭টি পাবলিক, ১১৫টি প্রাইভেট ও ৩টি আন্তর্জাতিকসহ সবমিলিয়ে ১৭৫ টি বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে। (জুলাই ২০২৪ পর্যন্ত).
(শিক্ষক বাতায়ন)
মাধ্যমিক শিক্ষাক্রমে সরকার পরিবর্তনের পর ২০২৪-২০২৫ সালে একটি বড় পরিবর্তন ঘটে। ২০২২ সালের পাঠ্যক্রম সংক্ষিপ্তভাবে বাস্তবায়নের পর শিক্ষা ব্যবস্থা ২০১২ সালের পাঠ্যক্রম কাঠামোতে ফিরে আসে।
(শিক্ষক বাতায়ন)
মাধ্যমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে প্রধান ইস্যু ও চ্যালেঞ্জসমূহ–
— কারিকুলাম আধুনিকীকরণ
— মাধ্যমিক স্তরের পাঠ্যবই আরও উন্নত, নির্ভুল, আকর্ষণীয় করা এবং ভাষাগত দিক আরও সহজীকরণ
— পাঠ্যবইয়ের ওপর নির্ভরশীলতা বৃদ্ধি ও গাইড বই বন্ধ করা
— পরীক্ষা পদ্ধতি ও প্রশ্ন প্রণয়ন পদ্ধতি পর্যালোচনা এবং মূল্যায়ন প্রক্রিয়ার আধুনিকায়ন
— শিক্ষকদের দক্ষতা উন্নয়নে যথাযথ ও পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ
— শিক্ষকদের বেতন ভাতা ও অন্যান্য সুবিধা বৃদ্ধিকরণ
— মাধ্যমিক শিক্ষার জন্য বাজেটে বরাদ্দ বৃদ্ধি ইত্যাদি।
(শিক্ষক বাতায়ন)
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরেই মাধ্যমিক শিক্ষা ও ব্যবস্থাপনার অন্যতম প্রধান দায়িত্ব মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের। তবে কোন শিক্ষা প্রশাসন ও ব্যবস্থাপনা একক প্রচেষ্টায় পরিচালিত হওয়া সম্ভব নয়। কারণ এর সাথে সংশ্লিষ্ট রয়েছে শিক্ষাক্রম ব্যবস্থাপনা, পরীক্ষা ব্যবস্থাপনা, অর্থ ব্যবস্থাপনা, শিক্ষক প্রশিক্ষণ ব্যবস্থাপনা ইত্যাদি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো। মাধ্যমিক শিক্ষা ব্যবস্থাপনার এসব বিভিন্নমুখী দায়িত্ব পালন করে থাকে শিক্ষামন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ চার ধরনের
বিশেষীকৃত সংস্থা।
(শিক্ষাবিজ্ঞান ও বাংলাদেশে শিক্ষা, ইউজিসি)
মাউশির প্রধান কার্যাবলী নিম্নরূপ
১. মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষার ক্ষেত্রে সরকার কর্ত ৃক গৃহীত নীতিমালা বাস্তবায়ন;
২. দেশের সাধারণ শিক্ষা বিশেষ করে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা সম্পর্কিত সরকারি নীতি প্রণয়নে সরকারকে তথ্য
সরবরাহ ও পরামর্শ প্রদান;
৩. শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষাদান কার্যক্রম পরিচালনা ও তত্ত্বাবধান করা;
৪. উন্নয়নমূলক কর্মসূচী ও প্রকল্পের কাজ বাস্তবায়ন ও তত্ত্বাবধান;
৫. সাধারণ শিক্ষার গুণগতমান বজায় রাখা;
৬. অধিদপ্তরের আওতাধীন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষাক্রম পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তা যাচাই ও বিষয় নির্ধারণ;
৭. রাজস্ব ও উন্নয়ন বাজেট তৈরি এবং সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের হিসাব রক্ষণ, নিরীক্ষণ ও বরাদ্দ প্রদান করা;
৮. সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের দেশে ও বিদেশে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা;
৯. শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমুহের শিক্ষক নিয়োগ, পদোন্নতি, বদলি, অবসর, শৃঙ্খলামুলক ব্যবস্থা প্রভৃতি সংক্রান্ত
প্রশাসন এবং সংস্থাপনের দায়িত্ব পালন করা;
১০. অনুমোদিত প্রতিষ্ঠানসমূহের কাছে শিক্ষা সংক্রান্ত তথ্যাবলি প্রেরণ করা;
১১. সরকারের বিভিন্ন বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করা;
১২. শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসূমহের কাজের মধ্যে সমন্বয়সাধন করা;
১৩. সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে নতুন কোর্স/বিষয় চালু করার উদ্যোগ গ্রহণ করা এবং এ ব্যাপারে
প্রয়োজনীয় শিক্ষক নিয়োগ ও সুবিধাদির ব্যবস্থা করা;
১৪. অধীনস্ত কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ ও বৃত্তির ব্যবস্থা করা।
(শিক্ষা প্রশাসন ও ব্যবস্থাপনা, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়)
আঞ্চলিক শিক্ষা অফিসের সর্বনিম্ন স্তর হলো উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস। মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের আওতাধীন এই অফিসগুলো, বিভাগীয় কার্যালয়ের অধীনে কাজ করে এবং জেলা শিক্ষা অফিসগুলোর পাশাপাশি কাজ করে।
(বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থা, হোসনে আরা শাহেদ সম্পাদিত)
নায়েমের নির্বাহী প্রধান হলেন মহাপরিচালক। তাঁকে দায়িত্ব সম্পাদনে সহায়তা করেন চারজন পরিচালক, সাতজন উপ পরিচালক এবং ১৬জন সহকারী পরিচারক। এছাড়া রয়েছেন একজন রেজিস্ট্রার, একজন গ্রন্থাগারিক ও একজন হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা। সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় প্রতিষ্ঠানের নির্ধারিত উদ্দেশ্য অর্জনে নায়েম নিরলস কর্মকান্ড পরিচালনা করে আসছে।
(শিক্ষাবিজ্ঞান ও বাংলাদেশে শিক্ষা, ইউজিসি)
ইউজিসি প্রধান একজন চেয়ারম্যান।
(ugc.gov.bd)
বিশ্ববিদ্যালয়ের সমস্যা সমাধানে নিচের কোনটি জরুরি :
১. মেধা পাচার রোধে ন্যাশনাল অ্যাকশন প্ল্যান : দেশের সর্বোচ্চ মেধাবীদের দেশেই পিএইচডি এবং মাস্টার্স করার উপযুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা।
২. শিক্ষক এবং উপাচার্য নিয়োগে মানসম্পন্ন গাইডলাইন : ডক্টরেট এমনকি পোস্ট ডক্টরেট, গবেষণা, নেতৃত্ব, কমিউনিকেশন ও নৈতিকতাসহ ওপরে আলোচিত সূচকের ভিত্তিতে নিয়োগ দান। লিখিত পরীক্ষা যদি নিতেই হয় সেটার গুরুত্ব পাবে শেষের দিক থেকে।
৩. স্বতন্ত্র উচ্চশিক্ষা মন্ত্রণালয় গঠন : টএঈ-এর মতো প্রতিষ্ঠান ভেঙে দিয়ে গবেষণাবান্ধব শিক্ষাবিদদের সমন্বয়ে আলাদা উচ্চশিক্ষা মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠা করতে হবে।
৪. গবেষণায় বাজেট বৃদ্ধি : আমরা শিক্ষা খাতে এউচ-র মাত্র ১.৭৮% ব্যয় করি, যা দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে নিচের দিকে, এই বাজেট বাড়িয়ে জাতিসংঘের সুপারিশ অনুযায়ী ন্যূনতম ৪-৬% করতে হবে। গবেষণাগার যন্ত্রপাতি, শিক্ষার্থীদের জন্য স্কলারশিপ এবং গবেষকদের জন্য প্রণোদনার ব্যবস্থা করতে হবে।
৫. মানহীন বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ও পিএইচডি চালু : পিএইচডি পরিচালনায় অক্ষম বিশ্ববিদ্যালয়গুলো সত্তর সক্ষমতা বৃদ্ধির নির্দেশনা প্রদানসহ পর্যায়ক্রমে দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয়ে মাস্টার্স বাই রিসার্চ এবং পিএইচডি প্রোগ্রাম বাধ্যতামূলক করা।
৬. প্রবাসী গবেষকদের ফিরিয়ে আনা : এশিয়া, ইউরোপ, অস্ট্রেলিয়া, আমেরিকাতে কর্মরত হাইপ্রোফাইল বাংলাদেশি গবেষকদের সম্মানজনক সুযোগ-সুবিধাসহ দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য ন্যাশনাল রিকল প্রোগ্রাম চালু করা।
(শিক্ষক বাতায়ন)
সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়সমূহকে অর্থ প্রদান করা হয় মঞ্জুরি কমিশনের মাধ্যমে।
(B. Ed. School of Education, Bangladesh Open University)
শিক্ষা বোর্ডসমূহ স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান এবং নিজেই এর নির্বাহী সংস্থা। ১৯৬১ সালের অর্ডিনেন্সে এর ধারা অনুযায়ী বোর্ডসমূহের মূল দায়িত্ব হল নিজ নিজ এলাকার মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার সংগঠন, নিয়ন্ত্রণ, তত্ত্বাবধান, পরিচালনা এবং উন্নয়ন করা। এছাড়াও নতুন বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও উচ্চ মাধ্যমিক কলেজ প্রতিষ্ঠার অনুমতি ও স্বীকৃতি প্রদান, স্বীকৃতি প্রত্যাহার ও স্বীকৃতি নবায়ন করা শিক্ষা বোর্ডসমূহ এর কাজের আওতায় পড়ে।
(এম এড, স্কুল অব এডুকেশন, বাংলাদেশ ওপেন ইউনিভার্সিটি।)
ভারতবর্ষীয় শিক্ষা অনুরাগী ব্যক্তিবর্গ দ্বারা পরিকল্পিত, প্রতিষ্ঠিত ও পরিচালিত শিক্ষা ব্যবস্থাই হলো দেশীয় শিক্ষা। মধ্য যুগে ভারতে মোগল শাসন অবসানের পর, এমন কি ভারতে ইষ্ট ইন্ডিয়া কোম্পানীর শাসন আমলেও দীর্ঘ দিন ধরে প্রচলিত দেশীয় এ শিক্ষা ব্যবস্থা চালু ছিল। ঊনবিংশ শতাব্দীর প্রথম দিকে দেশীয় শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নের প্রচেষ্টা গ্রহণ করা হয়। এই জন্য এ সময়ে প্রচলিত দেশীয় শিক্ষা ব্যবস্থা সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহের প্রয়োজন পড়ে। এই উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে ভারতের তৎকালীন বড়লাট লর্ড উইলিয়াম বেন্টিক স্কটল্যান্ডবাসী মিশনারী উইলিয়াম এ্যাডামকে বাংলা ও বিহারের দেশীয় শিক্ষা সম্পর্কে তথ্যানুসন্ধানের জন্য দায়িত্ব অর্পন করেন।
(স্কুল অব এডুকেশন, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়)
শিক্ষা প্রশাসন ও ব্যবস্থাপনা কোর্স (অধ্যক্ষদের জন্য): কোর্সটি তিন সপ্তাহব্যাপী। সরকারি ও বেসরকারি
কলেজ এবং সিনিয়র মাদ্রাসার অধ্যক্ষদের জন্য এটি পরিচালিত হয়। এ কোর্সের পাঠ্যসূচি হল: (ক)
শিক্ষা প্রশাসন ও উন্নয়ন; (খ) শিক্ষা উন্নয়ন কার্যক্রম ব্যবস্থাপনা; (গ) প্রতিষ্ঠান পরিচালনা ও অফিস
ব্যবস্থাপনা এবং (ঘ) কর্মী ব্যবস্থাপনা ও আর্থিক ব্যবস্থাপনা। অধ্যক্ষদের দক্ষা প্রশাসক ও ব্যবস্থাপক
হিসেবে গড়ে তোলা এই কোর্সের মূল উদ্দেশ্য।
(naem.gov.bd)
বাংলাদেশ ন্যাশনাল কমিশন ফর ইউনেস্কো শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কাঠামোর অন্তভর্ূৃক্ত একটি সংস্থা। এ কমিশনের দায়িত্ব হচ্ছে ইউনেস্কোর গৃহীত শিক্ষা কর্মসূচী দেশে বাস্তবায়নের মাধ্যমে শিক্ষার উন্নয়নে সহায়তা করা। এটি দেশে ইউনেস্কোর ফোকাল পয়েন্ট হিসেবে স্বীকৃত।
(বি এড, স্কুল অব এডুকেশন, বাংলাদেশ ওপেন ইউনিভার্সিটি)
বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুসারে সিন্ডিকেট বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও ব্যবস্থাপনার সর্বোচ্চ পরিষদ। কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেটের আকার বড়, কয়েকটির ছোট। প্রথমোক্ত বিশ্ববিদ্যালয়সমূহে সতের জন সদস্য নিয়ে সিন্ডিকেট গঠিত হয়; অপরাপর বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সিন্ডিকেট অল্পসংখ্যক সদস্য নিয়ে গঠিত হয়। পদাধিকার হিসাবে সদস্য, বিভিন্ন কেটেগরি থেকে নির্বাচিত ও মনোনীত সদস্য নিয়ে সিন্ডিকেট গঠিত হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান নির্বাহী সংস্থা হিসাবে সিন্ডিকেট বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল ক্রিয়াকলাপ, আর্থিক বিষয়াদি, সাধারণ ব্যবস্থাপনা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, ছাত্র, কর্মকর্তা ও কর্মচারীর উপর তত্ত্বাবধানের ক্ষমতা ও দায়িত্ব পালন করে।
(বাংলাদেশের শিক্ষা প্রশাসন ও ব্যবস্থাপনা, স্কুল অব এডুকেশন, এম এড, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়)
একাডেমিক কাউন্সিল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান একাডেমিক সংস্থা। বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন, সংবিধি ও রেগুলেশনের বিধান অনুসারে এই কর্তৃপক্ষ বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল একাডেমিক কার্যক্রমের লক্ষ্য, উদ্দেশ্য নির্ধারণ, একাডেমিক বর্ষসূচি ও তৎসম্পর্কিত পরিকল্পনা প্রণয়ন, শিক্ষণ, প্রশিক্ষণ ও পরীক্ষার মান নির্ধারণ ও সংরক্ষণের জন্য দায়িত্ব পালন করে। এসব বিষয়ের উপর নিয়ন্ত্রণ ও তত্ত্বাবধানের ক্ষমতা পালন করে এবং শিক্ষা সংক্রান্ত সকল বিষয়ে সিন্ডিকেটকে পরামর্শ দান করে। পদাধিকার হিসাবে সদস্য, বিভিন্ন কেটাগরির নির্বাচিত ও মনোনীত সদস্য নিয়ে একাডেমিক কাউন্সিল গঠিত হয়। আরো কতিপয় কর্তৃপক্ষ বিশ্ববিদ্যালয়ের নানাবিধ প্রশাসন ও ব্যবস্থাপনা কাজের দায়িত্ব পালন করে। এর প্রধান কয়েকটি হল: অনুষদ, কোর্স কমিটি, বোর্ড অব এডভান্সড স্টাডিস, অর্থ কমিটি, পরিকল্পনা ও উন্নয়ন কমিটি, শৃঙ্খলা বোর্ড সিলেকশন বোর্ড/কমিটি ইত্যাদি।
(বাংলাদেশের শিক্ষা প্রশাসন ও ব্যবস্থাপনা, স্কুল অব এডুকেশন, এম এড, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়)