পরীক্ষা আর্কাইভ

বার কাউন্সিল প্রস্তুতি - লং কোর্স [আর্কাইভ]

পরীক্ষাবার কাউন্সিল প্রস্তুতি - লং কোর্স [আর্কাইভ]তারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়14 minutes
মোট প্রশ্ন৩২
সিলেবাস
Exam - 32 The Limitation Act, 1908 : Test-1 Topic: Section 1-29 • Preliminary • Limitation of suits, appeals and applications • Computation of period of limitation • Acquisition of ownership by possession • Savings and repeals
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বার কাউন্সিল প্রস্তুতি - লং কোর্স [আর্কাইভ]

বার কাউন্সিল প্রস্তুতি - লং কোর্স [আর্কাইভ] · তারিখ অনির্ধারিত · ৩২ প্রশ্ন

.
তামাদি আইনের কোন ধারা বিলম্ব মওকুফের (Condonation of delay) বিষয়ে কথা বলে?
  1. ধারা ৩
  2. ধারা ৫
  3. ধারা ২৭
  4. ধারা ২৮
সঠিক উত্তর:
ধারা ৫
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধারা ৫
ব্যাখ্যা
⇒ তামাদি আইনের ধারা ৫ অনুযায়ী ৫ টি ক্ষেত্রে তামাদির মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ার পর আদালতকে যথেষ্ট কারণ (sufficient cause) দেখিয়ে সন্তুষ্ট করতে পারলে আদালত বিলম্ব মওকুফ করতে পারে। এটিকে Condonation of delay বা বিলম্ব মওকুফ করা বলে।

তামাদি আইন, ১৯০৮ এর ধারা ৫ : বিলম্ব মওকুফ (Condonation of Delay)
- ধারা ৫ অনুযায়ী নির্ধারিত মেয়াদ শেষে আবেদন গ্রহণযোগ্য করতে হলে পর্যাপ্ত কারণ দেখাতে হবে।
- আদালত যদি "Sufficient Cause" দেখে সন্তুষ্ট হয়, তবে বিলম্ব মওকুফ করতে পারে।
- এই বিধানকে আইনগত ভাষায় Condonation of Delay বলা হয়।

 ধারা ৫ যে ৫টি ক্ষেত্রে প্রযোজ্য:
১) আপিল (Appeal)।
২) আপিলের অনুমতির দরখাস্ত (Leave to appeal)।
৩) রায় পুনর্বিবেচনার দরখাস্ত (Revision)।
৪) রায় পুনঃনিরীক্ষণের দরখাস্ত (Review)।
৫) অন্য কোনো দরখাস্ত (Any other application)।

যেসব ক্ষেত্রে ধারা ৫ প্রযোজ্য নয়:
- মূল মোকদ্দমার ক্ষেত্রে (যেমন: স্বত্ব ঘোষণা, নিষেধাজ্ঞা, অগ্রক্রয় মামলা)।
- কোনো বিশেষ আইনের অধীন মামলা, যেখানে নিজস্ব সময়সীমা নির্ধারিত আছে।
.
তামাদি আইনের কোন ধারায় জবরদখলের মাধ্যমে মালিকানা বিলুপ্তি বিষয়ের উল্লেখ আছে?
  1. ২০ ধারায়
  2. ২৩ ধারায়
  3. ২৮ ধারায়
  4. ২৯ ধারায়
সঠিক উত্তর:
২৮ ধারায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২৮ ধারায়
ব্যাখ্যা
⇒ তামাদি আইন, ১৯০৮ এর ২৮ ধারায় বলা হয়েছে, যদি কোনো ব্যক্তি নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে নিজের স্থাবর সম্পত্তি (যেমন—ভূমি, ঘর) থেকে জবরদখলকারীকে উচ্ছেদ করার জন্য আদালতে মামলা না করে, তবে তার মালিকানা বিলুপ্ত হয়ে যায়।
অন্যভাবে বললে, যিনি দীর্ঘ সময় (যেমন ১২ বছর) ধরে কোনো প্রতিবাদ বা মামলা ছাড়া ভূমির উপর শান্তিপূর্ণ, উন্মুক্ত ও নিরবচ্ছিন্ন দখল বজায় রাখেন, তিনি "দখলের ভিত্তিতে অধিকার" (adverse possession) লাভ করেন। তখন প্রকৃত মালিকের আইনগত অধিকার তামাদি হয়ে যায় এবং জবরদখলকারী মালিক হিসেবে স্বীকৃত হন।

⇒ ধারা ২৮-এর মূল পয়েন্ট: এই ধারায় দাবি তামাদি হয়ে গেলে কেবল মামলা করার অধিকারই হারায় না, বরং সম্পত্তির উপর মালিকানার স্বত্বও বিলুপ্ত হয়ে যায়। এ ধারা মূলত Adverse Possession বা প্রতিকূল দখলের মাধ্যমে অধিকার লাভ সম্পর্কিত।
অর্থাৎ, তামাদি আইন অনুযায়ী জবরদখলের মাধ্যমে মালিকানা বিলুপ্তির বিধান ২৮ ধারায় উল্লেখ করা হয়েছে।

⇒ তামাদি আইনের ধারা ২৮: সম্পত্তির অধিকার বিলুপ্তি:
কোনো সম্পত্তির দখল প্রাপ্তির জন্য মামলা দায়ের করার ব্যাপারে এই আইনে যে মেয়াদ নির্ধারিত করে দেয়া হয়েছে, তা উত্তীর্ণ হওয়ার পর সেই সম্পত্তিতে বাদীর অধিকার বিলুপ্ত হয়ে যাবে।

⇒ The Limitation Act, 1908, Section 28: Extinguishment of right to property:
At the determination of the period hereby limited to any person for instituting a suit for possession of any property, his right to such property shall be extinguished.
.
তামাদি আইনের অধীনে কোন অপারগতাকে বৈধ অপারগতা হিসেবে বিবেচনা করা হয় না?
  1. উন্মাদতা
  2. নাবালকতা
  3. দারিদ্র্যতা
  4. জড়বুদ্ধিতা
সঠিক উত্তর:
দারিদ্র্যতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দারিদ্র্যতা
ব্যাখ্যা
⇒ তামাদি আইন, ১৯০৮ অনুযায়ী কিছু নির্দিষ্ট শারীরিক বা মানসিক অক্ষমতা বৈধ অপারগতা (legal disability) হিসেবে গণ্য হয়, যার ফলে তামাদির সময় গণনায় অবকাশ (extension) পাওয়া যায়। উদাহরণস্বরূপ:
১) উন্মাদতা (Insanity) – ধারা ৬ অনুসারে বৈধ অপারগতা।
২) নাবালকতা (Minority) – ধারা ৬ অনুযায়ী বৈধ অপারগতা।
৩) জড়বুদ্ধিতা (Idiocy or mental infirmity) – এটিও ধারা ৬ অনুযায়ী বৈধ অপারগতা।
কিন্তু দারিদ্র্যতা (Poverty) – এটি আইনি দৃষ্টিতে কোন বৈধ অপারগতা নয়।
একজন ব্যক্তি গরিব হলেও, তা তাকে তামাদি সময় গণনার ক্ষেত্রে বাড়তি সময় দেওয়ার বা আইনি সুরক্ষা পাওয়ার ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত হয় না। আইন বলেছে, আইন অলস বা অসাবধান ব্যক্তিকে সাহায্য করে না, এবং দারিদ্র্যতা এমন কোন অক্ষমতা নয় যা কাউকে মামলা দায়ের করতে বাধা দেয় বলে ধরা হয়।

⇒ তামাদি আইন, ১৯০৮ এর ধারা ৬ – যেখানে নাবালকতা, উন্মাদতা, এবং জড়বুদ্ধিতাকে বৈধ অপারগতা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

⇒ অর্থাৎ দারিদ্র্যতা কোনো বৈধ অপারগতা নয় কারণ এটি আইনত স্বীকৃত মানসিক বা শারীরিক অক্ষমতার মধ্যে পড়ে না। তাই তামাদির সময় গণনায় এর জন্য বাড়তি সময় পাওয়া যাবে না।
.
তামাদি মেয়াদ শুরু হওয়ার পর যদি ব্যক্তি আইনগত অক্ষম হয়, তবে কী ঘটে?
  1. তামাদি মেয়াদ স্থগিত হয়
  2. তামাদি মেয়াদ অব্যাহত থাকে
  3. মামলা স্বয়ংক্রিয়ভাবে খারিজ হয়
  4. আদালত নতুন মেয়াদ নির্ধারণ করে
সঠিক উত্তর:
তামাদি মেয়াদ অব্যাহত থাকে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তামাদি মেয়াদ অব্যাহত থাকে
ব্যাখ্যা
⇒ তামাদি আইন, ১৯০৮–এর ধারা ৯ অনুযায়ী, যদি কোনো ব্যক্তি মামলা করার অধিকার লাভের সময় আইনগতভাবে সক্ষম থাকে, এবং তামাদি মেয়াদ ইতোমধ্যে শুরু হয়ে যায়, তাহলে পরে সে ব্যক্তি আইনগত অক্ষম হলেও — তামাদি মেয়াদ চলতে থাকবে, অর্থাৎ স্থগিত হবে না।

⇒ The Limitation Act, 1908, Section 9: Continuous running of time:
- Where once time has begun to run, no subsequent disability or inability to sue stops it: 
Provided that where letters of administration to the estate of a creditor have been granted to his debtor, the running of the time prescribed for a suit to recover the debt shall be suspended while the administration continues.

- অর্থাৎ একবার তামাদি মেয়াদ গণনা শুরু হলে, পরবর্তীতে যদি কোনো আইনগত অক্ষমতা (যেমন: নাবালকত্ব, উন্মাদ অবস্থা ইত্যাদি) তৈরি হয়, তবুও সময় গণনা বন্ধ হবে না।
.
তামাদি আইন অনুযায়ী, প্রতারণার শিকার ব্যক্তি কখন থেকে তামাদি মেয়াদ গণনার সুবিধা পাবে?
  1. মামলার ফাইল করার দিন থেকে
  2. প্রতারণার বিষয় জানার দিন থেকে
  3. প্রতারণা সংঘটিত হওয়ার দিন থেকে
  4. আদালতে অভিযোগ করার দিন থেকে
সঠিক উত্তর:
প্রতারণার বিষয় জানার দিন থেকে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রতারণার বিষয় জানার দিন থেকে
ব্যাখ্যা
⇒ তামাদি আইন, ১৯০৮ এর ধারা ১৮ অনুযায়ী, যদি কোনো ব্যক্তি প্রতারণার মাধ্যমে তার অধিকার সম্পর্কে জানতে না পারেন অথবা যদি তার অধিকার প্রতিষ্ঠায় প্রয়োজনীয় দলিল প্রতারণার মাধ্যমে গোপন রাখা হয়, তাহলে তামাদি মেয়াদ গণনা শুরু হবে সেদিন থেকে, যেদিন তিনি প্রথম প্রতারণার বিষয়টি জানতে পারেন, অথবা যেদিন তিনি গোপন দলিল উপস্থাপন করতে পারেন বা অন্য পক্ষকে বাধ্য করতে পারেন উপস্থাপন করার জন্য।

⇒ তামাদি আইনের ১৮ ধারার বিধান প্রতারণার ফলাফল- যেক্ষেত্রে কোনো ব্যক্তি একটা মামলা দায়ের বা দরখাস্ত দাখিল করার অধিকারী হয়। কিন্তু প্রতারণার মাধ্যমে তাকে সেই অধিকারের বিষয় অথবা যেই স্বত্বের উপর উক্ত অধিকার প্রতিষ্ঠিত সেই বিষয় জানতে দেওয়া হয়নি অথবা যেক্ষেত্রে উক্ত অধিকার প্রতিষ্ঠিত করার জন্য যে দলিল প্রয়োজনীয়, তা প্রতারণা করে তার নিকট হতে গোপন রাখা হয়েছে, সে সকল ক্ষেত্রে-
(ক)প্রতারণার জন্য দোষী ব্যক্তির বা তার সহযোগীর বিরুদ্ধে, অথবা
(খ) যে ব্যক্তি সরল বিশ্বাসে এবং মূল্যের বিনিময় ভিন্ন অন্যভাবে উক্ত দোষী ব্যক্তির মাধ্যমে স্বত্ব দাবি করে তার বিরুদ্ধে-
ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি সর্বপ্রথম যেদিন প্রতারণার কথা জানতে পারে, সেদিন হতে অথবা দলিল গোপন করা হয়ে থাকলে, ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি সর্বপ্রথম যেদিন দলিলটি উপস্থাপন করতে সমর্থ হয় বা অপর পক্ষকে তা উপস্থাপন করার জন্য বাধ্য করতে পারে, সেদিন হতে মামলা দায়ের বা দরখাস্ত দাখিলের জন্য নির্ধারিত তামাদির মেয়াদ গণনা করতে হবে।
- যেদিন ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি সর্বপ্রথম প্রতারণার কথা জানতে পারে, সেদিন থেকে অথবা দলিল গোপন করা হয়ে থাকলে সর্বপ্রথম যেদিন ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি দলিলটি উত্থাপন করতে সমর্থ হয় বা অপর পক্ষকে উত্থাপন করার জন্য বাধ্য করতে পারে, সেদিন থেকে মামলা দায়ের বা দরখাস্ত দাখিলের জন্য নির্ধারিত তামাদির মেয়াদ গণনা করতে হবে।
-----------
⇒ The Limitation Act, 1908, Section 18: Effect of fraud:
Where any person having a right to institute a suit or make an application has, by means of fraud, been kept from the knowledge of such right or of the title on which it is founded, or where any document necessary to establish such right has been fraudulently concealed from him, the time limited for instituting a suit or making an application-
(a) against the person guilty of the fraud or accessory thereto, or
(b) against any person claiming through him otherwise than in good faith and for a valuable consideration,
shall be computed from the time when the fraud first became known to the person injuriously affected thereby, or, in the case of the concealed document, when he first had the means of producing it or compelling its production.
.
তামাদি আইনের ২০ ধারা অনুযায়ী ঋণের সুদ পরিশোধ করলে তামাদি মেয়াদ গণনা কীভাবে পরিবর্তিত হয়?
  1. মেয়াদ স্থগিত হয়
  2. মেয়াদ বাতিল হয়
  3. পূর্বের মেয়াদ বহাল থাকে
  4. নতুন করে মেয়াদ গণনা শুরু হয়
সঠিক উত্তর:
নতুন করে মেয়াদ গণনা শুরু হয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নতুন করে মেয়াদ গণনা শুরু হয়
ব্যাখ্যা
⇒ তামাদি আইনের ধারা ২০ অনুসারে, যদি কোনো ব্যক্তি কোনো ঋণ বা দায়ের বিপরীতে সুদ পরিশোধ করে (বা আংশিক টাকা পরিশোধ করে), তবে উক্ত অর্থ প্রদানের তারিখ থেকে নতুন করে তামাদির মেয়াদ গণনা শুরু হবে। এটি একটি স্বীকৃতি হিসেবে গণ্য হয় এবং আইন অনুযায়ী এটি তামাদি মেয়াদ পুনরারম্ভের জন্য যথেষ্ট।

⇒ তামাদি আইনের ২০ ধারা অনুযায়ী, ঋণ বা লিগ্যাসির সুদ পরিশোধ করার ফলে তামাদির মেয়াদ নবায়ন হবে।
অর্থাৎ, যখন ঋণগ্রহীতা বা তার প্রতিনিধি সুদ পরিশোধ করেন, তখন তামাদির মেয়াদ পুনরায় শুরু হবে এবং নতুন মেয়াদ গণনা শুরু হবে।
তবে, এটা শর্তসাপেক্ষ যে, পরিশোধের জন্য লিখিত স্বীকৃতি বা সাক্ষর থাকা উচিত, যাতে পরিশোধের প্রমাণ থাকে।
এটি ঋণগ্রহীতা বা লিগ্যাসির অধিকারী ব্যক্তির জন্য সুবিধাজনক, কারণ তারা পরিশোধের মাধ্যমে নতুন সময় শুরু করতে পারেন।

⇒ The Limitation Act:- Section- 20. Effect of payment on account of debt as of interest on legacy:
(1) Where payment on account of a debt or of interest on a legacy is made before the expiration of the prescribed period by the person liable to pay the debt or legacy, or by his duly authorized agent, a fresh period of limitation shall be computed from the time when the payment was made:
Provided that, save in the case of a payment of interest made before the 1st day of January, 1928, an acknowledgment of the payment appears in the handwriting of, or in a writing signed by the person making the payment.
.
তামাদি আইনের কোন ধারায় বলা হয়েছে যে, একবার মেয়াদ গণনা শুরু হলে তা পরে কোনো অপারগতার কারণে বন্ধ হবে না?
  1. ধারা ৩
  2. ধারা ৫
  3. ধারা ৮
  4. ধারা ৯
সঠিক উত্তর:
ধারা ৯
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধারা ৯
ব্যাখ্যা
⇒ তামাদি আইন, ১৯০৮-এর ধারা ৯ স্পষ্টভাবে বলে যে: “যেই মুহূর্তে কোনো মামলা দায়েরের অধিকার সৃষ্টি হয়, সেই মুহূর্ত থেকে তামাদির সময় গণনা শুরু হবে; এবং একবার সেই সময় গণনা শুরু হলে, পরবর্তীকালে যদি কোনো অপারগতা (disability) বা অক্ষমতা (incapacity) দেখা দেয়, তাও তামাদির সময় গণনাকে বন্ধ করবে না।”

উদাহরণ:
- একজন ব্যক্তি ১৫ বছর বয়সে একটি সম্পত্তির অধিকার লাভ করে এবং ১৮ বছর বয়সে সাবালক হয়। তখন থেকেই তার তামাদির সময় গণনা শুরু হয়। যদি সে ২০ বছর বয়সে মানসিক ভারসাম্য হারায়, তবুও তার তামাদির সময় থেমে যাবে না। কারণ ধারা ৯ অনুসারে “একবার শুরু হলে তা আর বন্ধ হয় না।”

অর্থাৎ ধারা ৯-এ উল্লেখ আছে, তামাদির মেয়াদ একবার শুরু হয়ে গেলে, পরবর্তীকালের কোনো বৈধ অপারগতা (যেমন উন্মাদতা, জড়বুদ্ধিতা) তার গতি থামাতে পারে না।
সুতরাং, উত্তর ঘ) ধারা ৯ সঠিক।

⇒ তামাদি আইন, ১৯০৮–এর ধারা ৯ অনুযায়ী, যদি কোনো ব্যক্তি মামলা করার অধিকার লাভের সময় আইনগতভাবে সক্ষম থাকে, এবং তামাদি মেয়াদ ইতোমধ্যে শুরু হয়ে যায়, তাহলে পরে সে ব্যক্তি আইনগত অক্ষম হলেও — তামাদি মেয়াদ চলতে থাকবে, অর্থাৎ স্থগিত হবে না।

⇒ The Limitation Act, 1908, Section 9: Continuous running of time:
- Where once time has begun to run, no subsequent disability or inability to sue stops it: 
Provided that where letters of administration to the estate of a creditor have been granted to his debtor, the running of the time prescribed for a suit to recover the debt shall be suspended while the administration continues.

- অর্থাৎ একবার তামাদি মেয়াদ গণনা শুরু হলে, পরবর্তীতে যদি কোনো আইনগত অক্ষমতা (যেমন: নাবালকত্ব, উন্মাদ অবস্থা ইত্যাদি) তৈরি হয়, তবুও সময় গণনা বন্ধ হবে না।
.
তামাদি আইন, ১৯০৮ অনুসারে কোন ধরনের মামলায় আইনগত অক্ষমতার সুবিধা প্রযোজ্য নয়?
  1. ফৌজদারি আপীল
  2. অগ্রক্রয়ের মামলা
  3. দেওয়ানী মামলা
  4. সম্পত্তি দাবির মামলা
সঠিক উত্তর:
অগ্রক্রয়ের মামলা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অগ্রক্রয়ের মামলা
ব্যাখ্যা
⇒ তামাদি আইন, ১৯০৮–এর ধারা ৮ অনুসারে, সাধারণভাবে আইনগত অক্ষম ব্যক্তিদের (যেমন নাবালক, উন্মাদ, জড়বুদ্ধি) ক্ষেত্রে তামাদির মেয়াদ গণনায় বিশেষ সুবিধা দেওয়া হয়। অর্থাৎ, তারা আইনগতভাবে যখন মামলা করতে সক্ষম হবে, তখন থেকেই তামাদির সময় গণনা শুরু হবে।
তবে ধারা ৮-এ একটি ব্যতিক্রম (exception) উল্লেখ করা হয়েছে- "অগ্রক্রয়ের মামলা (Pre-emption suit)"-এর ক্ষেত্রে এই আইনগত অক্ষমতার সুবিধা প্রযোজ্য নয়।

⇒ Section 8 of Limitation Act, 1908 "Nothing in Section 6 or 7 shall be deemed to extend, for more than three years from the cessation of the disability or the death of the person affected thereby, the period of limitation for any suit or application.
Nor shall it apply to a suit to enforce a right of pre-emption."

 অর্থাৎ,
১. অক্ষমতা দূর হওয়ার সর্বোচ্চ তিন বছরের মধ্যে মামলা করতে হবে,
২. আর অগ্রক্রয়ের মামলা হলে, সে ক্ষেত্রে কোনোভাবেই আইনগত অক্ষমতার সুবিধা পাওয়া যাবে না।
.
লিখিতভাবে দায় স্বীকার করলে তামাদির মেয়াদ গণনা কখন থেকে নতুন করে শুরু হবে?
  1. ঋণ নেওয়ার দিন থেকে
  2. মামলা দায়েরের দিন থেকে
  3. লিখিত দায় স্বীকারের দিন থেকে
  4. ঋণ পরিশোধের নির্ধারিত সময় অতিক্রমের দিন থেকে
সঠিক উত্তর:
লিখিত দায় স্বীকারের দিন থেকে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লিখিত দায় স্বীকারের দিন থেকে
ব্যাখ্যা
⇒ তামাদি আইন, ১৯০৮-এর ধারা ১৯ অনুযায়ী, যদি তামাদি মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ার আগে কোনো ব্যক্তি লিখিতভাবে দায় স্বীকার করে (যেমন—ঋণ বা পাওনা স্বীকার করে), তাহলে সেই দায় স্বীকারের দিন থেকে নতুন করে তামাদির মেয়াদ গণনা শুরু হবে।

- তামাদি আইনের ১৯ ধারায় লিখিত প্রাপ্তি স্বীকারের ফলাফল সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে। কোন মামলা দায়ের বা দরখাস্ত দাখিলের জন্য আইন দ্বারা নির্ধারিত তামাদির মেয়াদ শেষ হওয়ার পূর্বেই অপর পক্ষ যদি উক্ত মামলার বা দরখাস্তের বিষয়বস্তু সম্পর্কিত সম্পত্তি বা অধিকার সম্পর্কে লিখিত প্রাপ্তি স্বীকারের মাধ্যমে দায় স্বীকার করে নেয় সেক্ষেত্রে উত্তরুপ স্বীকৃতি স্বাক্ষরিত হওয়ার দিন থেকে নতুন করে তামাদির মেয়াদ গণনা করতে হবে।
তামাদি আইনের ১৯ ধারার শর্তসমূহ নিম্নরূপ-
- লিখিত হতে হবে
- উক্ত পক্ষ কর্তৃক স্বাক্ষরিত হতে হবে
- অবশ্যই তামাদি মেয়াদ শেষ হওয়ার পূর্বেই করতে হবে
- উক্ত স্বীকৃতি অবশ্যই সম্পত্তি বা অধিকার সম্পর্কে হবে।

⇒ The Limitation Act, 1908, Section 19: Effect of acknowledgement in writing-
(1) Where, before the expiration of the period prescribed for a suit or application in respect of any property or right, an acknowledgement of liability in respect of such property or right has been made in writing signed by the party against whom such property or right is claimed, or by some person through whom he derives title or liability, a fresh period of limitation shall be computed from the time when the acknowledgement was so signed.
(2) Where the writing containing the acknowledgement is undated, oral evidence may be given of the time when it was signed; but, subject to the provisions of the Evidence Act, 1872, oral evidence of its contents shall not be received.
Explanation I- For the purposes of this section an acknowledgement may be sufficient though it omits to specify the exact nature of the property or right, or avers that the time for payment, delivery, performance or enjoyment has not yet come, or is accompanied by a refusal to pay, deliver, perform or permit to enjoy, or is coupled with a claim to a set-off, or is addressed to a person other than the person entitled to the property or right.
Explanation II- For the purposes of this section, “signed” means signed either personally or by an agent duly authorized in this behalf.
Explanation III- For the purposes of this section an application for the execution of a decree or order is an application respect of a right.
১০.
নিলামে ক্রয়কৃত সম্পত্তির দখল পুনরুদ্ধারের মামলার তামাদি মেয়াদ থেকে কোন সময় বাদ দেওয়া হয়?
  1. ঋণ পরিশোধের সময়
  2. সম্পত্তি রেজিস্ট্রির দিন থেকে সময়
  3. নিলাম রদের মামলা চলাকালীন সময়
  4. নিলামের দিন থেকে দখল পাওয়া পর্যন্ত সময়
সঠিক উত্তর:
নিলাম রদের মামলা চলাকালীন সময়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিলাম রদের মামলা চলাকালীন সময়
ব্যাখ্যা
⇒ তামাদি আইনের ১৬ ধারায় নিলাম বিক্রয় সম্পর্কে বলা আছে। নিলামে ক্রয়কৃত সম্পত্তির দখল পুনরুদ্ধারের ক্ষেত্রে, যদি নিলাম বাতিল করার মামলা চলতে থাকে, তাহলে তামাদি সময়ের হিসাব থেকে সেই সময় বাদ দেওয়া হবে। এটাই ধারা ১৬ অনুসারে স্পষ্ট আইনি বিধান।
- সঠিক উত্তর: গ) নিলাম রদের মামলা চলাকালীন সময়।
-  অর্থাৎ নিলাম বিক্রয় রদ করার জন্য মামলা দায়ের করা হলে, মামলা যতদিন চলবে সেই সময় নিলাম গ্রহিতার বা যিনি নিলাম কিনেছেন তার উক্ত সম্পত্তি উদ্ধারের জন্য মামলা করার প্রয়োজন হলে নিলাম রদ করার মামলায় যে সময় ব্যয় হয়েছে তা তামাদি মেয়াদ থেকে বাদ যাবে।

⇒ তামাদি আইন, ১৯০৮ - ধারা ১৬- ডিক্রি জারিকৃত বিক্রয় বাতিলের কার্যক্রম চলাকালে সময় বাদ দেওয়া:
যে ক্ষেত্রে কোনো ব্যক্তি ডিক্রি জারির ভিত্তিতে নিলাম বিক্রয়ের মাধ্যমে ক্রেতা হয়ে দখল পাওয়ার জন্য মামলা দায়ের করে, সেই ক্ষেত্রে তামাদি সময় গণনার সময় বিক্রয় বাতিল করার জন্য যে সময়কাল মামলা বা কার্যক্রম চালানো হয়েছে, তা তামাদি সময় থেকে বাদ দেওয়া হবে।
----------
⇒ The Limitation Act, 1908, Section 16: Exclusion of time during which proceedings to set aside execution-sale are pending:
In computing the period of limitation prescribed for a suit for possession by a purchaser at a sale in execution of a decree, the time during which a proceeding to set aside the sale has been prosecuted shall be excluded.
১১.
নিচের কোন ক্ষেত্রে মৃত ব্যক্তির প্রতিনিধি তামাদির সুবিধা পাবেন না?
  1. চুক্তিভঙ্গের মামলা
  2. অগ্রক্রয় সংক্রান্ত মামলা
  3. দানপত্র সম্পর্কিত মামলা
  4. দখল হস্তান্তরের মামলা
সঠিক উত্তর:
অগ্রক্রয় সংক্রান্ত মামলা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অগ্রক্রয় সংক্রান্ত মামলা
ব্যাখ্যা
⇒ তামাদি আইন, ১৯০৮-এর ধারা ১৭(৩) অনুযায়ী, নিচের মামলাগুলোর ক্ষেত্রে যদি বাদী বা বিবাদী মৃত্যুবরণ করেন এবং তাদের প্রতিনিধি না থাকেন, তাহলেও তামাদি মেয়াদ বন্ধ হবে না বা স্থগিত হবে না।
- অর্থাৎ, আইনানুগ প্রতিনিধি তামাদির সুবিধা পাবেন না।
এই মামলাগুলো হলো:
১) অগ্রক্রয় (Pre-emption) সংক্রান্ত মামলা।
২) স্থাবর সম্পত্তির দখল (Possession of immovable property) সংক্রান্ত মামলা।
৩) বংশগত পদ (Hereditary office) সংক্রান্ত মামলা।

⇒ The Limitation Act, 1908 এর ১৭ ধারা (অধিকার অর্জনের পূর্বে মৃত্যুর ফলাফল) অনুযায়ী- কোন ব্যক্তি জীবিত থাকলে মোকদ্দমা বা দরখাস্ত দায়েরের অধিকারী হত কিন্তু অধিকারটি সৃষ্টি হওয়ার আগেই তার মৃত্যু হলে সেই ব্যক্তির আইনগত প্রতিনিধি ঐ মোকদ্দমা বা দরখাস্ত দায়ের করার যোগ্যতা সম্পন্ন হওয়ার সময় থেকে তামাদির মেয়াদ গণনা হবে। একইভাবে কারো বিরুদ্ধে অধিকার সৃষ্টি হওয়ার আগেই তার মৃত্যু হলে তার আইনগত প্রতিনিধির বিরুদ্ধে আইনগত যোগ্যতা সাপেক্ষে উক্ত মোকদ্দমা বা দরখাস্ত দায়েরের তামাদি গণনা হবে।
এই ধারার ব্যতিক্রম হলো অগ্রক্রয়, স্থাবর সম্পত্তির দখলের মোকদ্দমা এবং বংশগত পদের মোকদ্দমা।

⇒ The Limitation Act:- Section 17- Effect of death before right to sue accrues:
(1) Where a person, who would, if he were living, have a right to institute a suit or make an application, dies before the right accrues, the period of limitation shall be computed from the time when there is a legal representative of the deceased capable of instituting or making such suit or application.
(2) Where person against whom, if he were living, a right to institute a suit or make an application would have accrued dies before the right accrues, the period of limitation shall be computed from the time when there is a legal representative of the deceased against whom the plaintiff may institute or make such suit or application.
(3) Nothing in sub-sections (1) and (2) applied to suits to enforce rights of pre-emption or to suits for the possession of immoveable property or of an hereditary office.
১২.
কোনো দলিল গোপন করার ফলে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তির তামাদির মেয়াদ গণনা কখন শুরু হবে?
  1. দলিল গোপন করার দিন থেকে
  2. দলিল উপস্থাপনের দিন থেকে
  3. দলিল তৈরি করার দিন থেকে
  4. আদালতে মামলা দায়েরের দিন থেকে
সঠিক উত্তর:
দলিল উপস্থাপনের দিন থেকে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দলিল উপস্থাপনের দিন থেকে
ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: খ) দলিল উপস্থাপনের দিন থেকে।
⇒ তামাদি আইন, ১৯০৮-এর ধারা ১৮ অনুযায়ী, যদি কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রতারণার মাধ্যমে কোনো দলিল গোপন করা হয়, এবং সেই দলিল তার অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য প্রয়োজনীয় হয়, তাহলে তামাদি মেয়াদ গণনা শুরু হবে: যেদিন ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি দলিলটি উপস্থাপন করতে সমর্থ হয় অথবা অপর পক্ষকে তা উপস্থাপন করতে বাধ্য করতে সক্ষম হয়, সেই দিন থেকে।

⇒ তামাদি আইনের ১৮ ধারার বিধান প্রতারণার ফলাফল- যেক্ষেত্রে কোনো ব্যক্তি একটা মামলা দায়ের বা দরখাস্ত দাখিল করার অধিকারী হয়। কিন্তু প্রতারণার মাধ্যমে তাকে সেই অধিকারের বিষয় অথবা যেই স্বত্বের উপর উক্ত অধিকার প্রতিষ্ঠিত সেই বিষয় জানতে দেওয়া হয়নি অথবা যেক্ষেত্রে উক্ত অধিকার প্রতিষ্ঠিত করার জন্য যে দলিল প্রয়োজনীয়, তা প্রতারণা করে তার নিকট হতে গোপন রাখা হয়েছে, সে সকল ক্ষেত্রে-
(ক)প্রতারণার জন্য দোষী ব্যক্তির বা তার সহযোগীর বিরুদ্ধে, অথবা
(খ) যে ব্যক্তি সরল বিশ্বাসে এবং মূল্যের বিনিময় ভিন্ন অন্যভাবে উক্ত দোষী ব্যক্তির মাধ্যমে স্বত্ব দাবি করে তার বিরুদ্ধে-
ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি সর্বপ্রথম যেদিন প্রতারণার কথা জানতে পারে, সেদিন হতে অথবা দলিল গোপন করা হয়ে থাকলে, ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি সর্বপ্রথম যেদিন দলিলটি উপস্থাপন করতে সমর্থ হয় বা অপর পক্ষকে তা উপস্থাপন করার জন্য বাধ্য করতে পারে, সেদিন হতে মামলা দায়ের বা দরখাস্ত দাখিলের জন্য নির্ধারিত তামাদির মেয়াদ গণনা করতে হবে।
- যেদিন ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি সর্বপ্রথম প্রতারণার কথা জানতে পারে, সেদিন থেকে অথবা দলিল গোপন করা হয়ে থাকলে সর্বপ্রথম যেদিন ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি দলিলটি উত্থাপন করতে সমর্থ হয় বা অপর পক্ষকে উত্থাপন করার জন্য বাধ্য করতে পারে, সেদিন থেকে মামলা দায়ের বা দরখাস্ত দাখিলের জন্য নির্ধারিত তামাদির মেয়াদ গণনা করতে হবে।
-----------
⇒ The Limitation Act, 1908, Section 18: Effect of fraud:
Where any person having a right to institute a suit or make an application has, by means of fraud, been kept from the knowledge of such right or of the title on which it is founded, or where any document necessary to establish such right has been fraudulently concealed from him, the time limited for instituting a suit or making an application-
(a) against the person guilty of the fraud or accessory thereto, or
(b) against any person claiming through him otherwise than in good faith and for a valuable consideration,
shall be computed from the time when the fraud first became known to the person injuriously affected thereby, or, in the case of the concealed document, when he first had the means of producing it or compelling its production.
১৩.
তামাদি আইন, ১৯০৮ কবে প্রণীত হয়েছিল?
  1. ৭ আগস্ট ১৯০৮
  2. ১৫ জুলাই ১৯০৮
  3. ১০ সেপ্টেম্বর ১৯০৮
  4. ২৫ নভেম্বর ১৯০৮
সঠিক উত্তর:
৭ আগস্ট ১৯০৮
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৭ আগস্ট ১৯০৮
ব্যাখ্যা
⇒ তামাদি আইন, ১৯০৮ (The Limitation Act, 1908) হল একটি প্রক্রিয়াগত (procedural) আইন, যা মূলত দেওয়ানি মামলা, আপিল, দরখাস্ত ইত্যাদির জন্য নির্ধারিত সময়সীমা নির্ধারণ করে দেয়।
- এই আইনটি ৭ আগস্ট ১৯০৮ সালে ব্রিটিশ ভারতের অধীনে প্রণীত হয়।
- এটি ৯ নং আইন (Act No. IX of 1908) হিসেবে পরিচিত।
- আইনটি কার্যকর হয় ১ জানুয়ারি ১৯০৯ থেকে।
এই আইন প্রণয়নের প্রধান উদ্দেশ্য ছিল যাতে কোনো ব্যক্তি অনন্তকাল পর্যন্ত মামলা করে বিরোধ সৃষ্টি করতে না পারে এবং বিরোধ নিরসনের জন্য একটি নির্দিষ্ট সময় নির্ধারণ করে সামাজিক শৃঙ্খলা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা যায়।
→ অর্থাৎ তামাদি আইন ৭ আগস্ট ১৯০৮ তারিখে প্রণীত হয়েছিল।
১৪.
তামাদি আইনের কোন ধারায় বলা হয়েছে যে, চলমান মামলায় নতুন পক্ষভুক্ত ব্যক্তি মামলাটি দায়ের করেছে বলে ধরা হবে পক্ষভুক্তির দিন থেকে?
  1. ধারা ২২
  2. ধারা ২১
  3. ধারা ২০
  4. ধারা ১৯
সঠিক উত্তর:
ধারা ২২
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধারা ২২
ব্যাখ্যা
⇒ তামাদি আইন, ১৯০৮ এর ধারা ২২ অনুযায়ী: যদি কোনো চলমান মামলায় (pending suit) নতুন করে বাদী বা বিবাদীকে যুক্ত (পক্ষভুক্ত) করা হয়, তাহলে তাদের জন্য মামলাটি দায়ের হয়েছে বলে গণ্য হবে যেদিন তারা পক্ষভুক্ত হয়েছেন, অর্থাৎ মামলায় যুক্ত হওয়ার দিন থেকে তাদের তামাদি মেয়াদ গণনা শুরু হবে।
- তবে এই নিয়ম সবক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। যদি মূলতবী মামলায় শুধুমাত্র স্বত্ব হস্তান্তরের কারণে কাউকে যুক্ত করা হয়, তখন মামলা দায়েরের তারিখ হবে মূল মামলার দায়েরের তারিখ, পক্ষভুক্তির দিন নয়।

⇒ তামাদি আইনের ধারা ২২ এর বিধান নতুন বাদী বা বিবাদীকে কারও স্থলাভিষিক্ত বা পক্ষভুক্ত করার ফলাফল:-
(১) যেক্ষেত্রে মামলা দায়ের করার পর নতুন কোনো বাদী বা বিবাদীকে কারও স্থলাভিষিক্ত বা পক্ষভুক্ত করা হয়, সেক্ষেত্রে সেই ব্যক্তি যেই তারিখে অনুরূপ পক্ষভুক্ত হয়েছে, তার জন্য মামলাটি সেই তারিখে দায়ের করা হয়েছে বলে গণ্য হবে।
(২) যেক্ষেত্রে মামলা মুলতবি থাকাকালে স্বত্বার্পণ বা কোনো স্বত্ব হস্তান্তরের কারণে কাউকে পক্ষভুক্ত বা স্থলাভিষিক্ত করা হয় অথবা যেক্ষেত্রে বাদীকে বিবাদী কিংবা বিবাদীকে বাদীতে রূপান্তরিত করা হয়, সেক্ষেত্রে (১) উপধারার কোনো কিছুই প্রযোজ্য হবে না।

⇒ The Limitation Act:- Section-22: Effect of substituting or adding new plaintiff or defendant-
(1) Where, after the institution of a suit, a new plaintiff or defendant is substituted or added, the suit shall, as regards him, be deemed to have been instituted when he was so made a party.
(2) Nothing in sub-section (1) shall apply to a case where a party is added or substituted owing to an assignment or devolution of any interest during the pendency of a suit or where a plaintiff is made a defendant or a defendant is made a plaintiff.
১৫.
মৃত ব্যক্তির আইনানুগ প্রতিনিধি মামলা দায়ের করার যোগ্যতা অর্জন করলে তামাদি মেয়াদ গণনা শুরু হয় কখন থেকে?
  1. মৃত্যুর দিন থেকে
  2. মামলার কারণ উদ্ভবের দিন থেকে
  3. প্রতিনিধির যোগ্যতা অর্জনের দিন থেকে
  4. আদালতের অনুমতি পাওয়ার দিন থেকে
সঠিক উত্তর:
প্রতিনিধির যোগ্যতা অর্জনের দিন থেকে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রতিনিধির যোগ্যতা অর্জনের দিন থেকে
ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: গ) প্রতিনিধির যোগ্যতা অর্জনের দিন থেকে।
⇒ মৃত ব্যক্তির আইনানুগ প্রতিনিধি মামলার তামাদি (সময়সীমা) গণনা শুরু হয় তখন থেকে যখন তিনি মামলা দায়ের করার যোগ্যতা অর্জন করেন, অর্থাৎ যখন তিনি আইনি প্রতিনিধিত্ব পাওয়ার মাধ্যমে মৃত ব্যক্তির অধিকার নিয়ে মামলা করতে সক্ষম হন।
⇒ তামাদি আইন, ১৯০৮-এর ধারা ১৭ অনুযায়ী: যদি কোনো ব্যক্তি, যিনি জীবিত থাকলে মামলা দায়ের করার অধিকার পেতেন, কিন্তু মৃত্যু হয়ে যান মামলার অধিকার সৃষ্টির আগেই, তাহলে তামাদি শুরু হবে সেই সময় থেকে যখন মৃত ব্যক্তির আইনানুগ প্রতিনিধি মামলা দায়েরের যোগ্যতা অর্জন করে।
সুতরাং, তামাদি গণনা শুরু হয় প্রতিনিধির যোগ্যতা অর্জনের দিন থেকে।

⇒ The Limitation Act, 1908 এর ১৭ ধারা (অধিকার অর্জনের পূর্বে মৃত্যুর ফলাফল) অনুযায়ী- কোন ব্যক্তি জীবিত থাকলে মোকদ্দমা বা দরখাস্ত দায়েরের অধিকারী হত কিন্তু অধিকারটি সৃষ্টি হওয়ার আগেই তার মৃত্যু হলে সেই ব্যক্তির আইনগত প্রতিনিধি ঐ মোকদ্দমা বা দরখাস্ত দায়ের করার যোগ্যতা সম্পন্ন হওয়ার সময় থেকে তামাদির মেয়াদ গণনা হবে। একইভাবে কারো বিরুদ্ধে অধিকার সৃষ্টি হওয়ার আগেই তার মৃত্যু হলে তার আইনগত প্রতিনিধির বিরুদ্ধে আইনগত যোগ্যতা সাপেক্ষে উক্ত মোকদ্দমা বা দরখাস্ত দায়েরের তামাদি গণনা হবে।
এই ধারার ব্যতিক্রম হলো অগ্রক্রয়, স্থাবর সম্পত্তির দখলের মোকদ্দমা এবং বংশগত পদের মোকদ্দমা।

⇒ The Limitation Act:- Section 17- Effect of death before right to sue accrues:
(1) Where a person, who would, if he were living, have a right to institute a suit or make an application, dies before the right accrues, the period of limitation shall be computed from the time when there is a legal representative of the deceased capable of instituting or making such suit or application.
(2) Where person against whom, if he were living, a right to institute a suit or make an application would have accrued dies before the right accrues, the period of limitation shall be computed from the time when there is a legal representative of the deceased against whom the plaintiff may institute or make such suit or application.
(3) Nothing in sub-sections (1) and (2) applied to suits to enforce rights of pre-emption or to suits for the possession of immoveable property or of an hereditary office.
১৬.
তামাদি আইন, ১৯০৮ অনুসারে রোয়েদাদ নাকচের জন্য দরখাস্তের তামাদি মেয়াদ গণনা শুরু হয় কখন থেকে?
  1. রোয়েদাদ ঘোষণার দিন থেকে
  2. দরখাস্ত দাখিলের দিন থেকে
  3. রোয়েদাদের নকল প্রাপ্তির দিন থেকে
  4. আদালতের অনুমতি নেওয়ার দিন থেকে
সঠিক উত্তর:
রোয়েদাদের নকল প্রাপ্তির দিন থেকে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রোয়েদাদের নকল প্রাপ্তির দিন থেকে
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: গ) রোয়েদাদের নকল প্রাপ্তির দিন থেকে।
⇒ তামাদি আইন অনুযায়ী, যখন কোন পক্ষ রোয়েদাদ (আদালতের আদেশ বা আদেশ সদৃশ আদবকায়দা) বাতিল বা নাকচ করতে চায়, তখন সেই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে দরখাস্ত করতে হলে সংশ্লিষ্ট রোয়েদাদের সার্টিফায়েড কপি (নকল) সংগ্রহ করতে হয়। “রায় বা ডিক্রী বা রোয়েদাদের বিরুদ্ধে আপীল, পুনঃনিরীক্ষণ বা দরখাস্ত করতে হলে, তামাদি গণনার শুরু হবে যখন সেই রায় বা রোয়েদাদের নকল তোলা হবে।”
⇒ তামাদি আইন, ১৯০৮-এর ১২(৪) উপধারা অনুসারে, যদি কেউ রোয়েদাদ (Award) বাতিল করার জন্য দরখাস্ত করে, তাহলে রোয়েদাদের নকল (certified copy) সংগ্রহ করতে যে সময় লাগে, তা তামাদি মেয়াদ থেকে বাদ যাবে। অর্থাৎ, তামাদি গণনা শুরু হবে নকল প্রাপ্তির দিন থেকে, ঘোষণার দিন থেকে নয়।

⇒ তামাদি আইনের ১২ ধারা অনুযায়ী, মামলা, আপিল বা দরখাস্তের তামাদি মেয়াদ গণনা করার সময় তামাদি শুরু হওয়ার দিনটি বাদ দেওয়া হয়।
- তামাদি আইনের ১২(১) উপধারা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করে যে, মামলা, আপিল বা দরখাস্তের তামাদি গণনার ক্ষেত্রে সেই দিনটি বাদ যাবে, যেদিন থেকে তামাদি গণনা শুরু হওয়ার কথা।
- ১২(২) উপধারা অনুযায়ী, আপিল বা পুনঃবিবেচনার ক্ষেত্রে রায় ঘোষণার দিন এবং আপিলের জন্য প্রয়োজনীয় ডিক্রি, আদেশ বা দণ্ডাদেশের নকল সংগ্রহে লেগে যাওয়া সময় বাদ দেওয়া হবে।
- ১২(৩) উপধারা অনুযায়ী, যদি কোনো ডিক্রি বা রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করা হয়, তাহলে সেই রায়ের অনুলিপি সংগ্রহে যতদিন লাগে তাও বাদ যাবে।
- ১২(৪) উপধারা অনুসারে, রোয়েদাদ (Award) বাতিল করার আবেদন করলে, রোয়েদাদের নকল সংগ্রহের সময়টুকু বাদ যাবে।

⇒ The Limitation Act: Section 12. Exclusion of time in legal proceedings:
(1) In computing the period of limitation prescribed for any suit, appeal or application, the day from which such period is to be reckoned shall be excluded. 
(2) In computing the period of limitation prescribed for an appeal, an application for leave to appeal and an application for a review of judgment, the day on which the judgment complained of was pronounced, and the time requisite for obtaining a copy of the decree, sentence or order appealed from or sought to be reviewed, shall be excluded. 
(3) Where a decree is appealed from or sought to be reviewed, the time requisite for obtaining a copy of the judgment on which it is founded shall also be excluded. 
(4) In computing the period of limitation prescribed for an application to set aside an award, the time requisite for obtaining a copy of the award shall be excluded.

১৭.
বেসরকারি সম্পত্তিতে সুখাধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য কত বছর শান্তিপূর্ণভাবে ভোগ করতে হয়?
  1. ১২ বছর
  2. ২০ বছর
  3. ৩০ বছর
  4. ৬০ বছর
সঠিক উত্তর:
২০ বছর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২০ বছর
ব্যাখ্যা
⇒ তামাদি আইন, ১৯০৮ এর ২৬ ধারায় বলা হয়েছে, যদি কেউ বেসরকারি সম্পত্তিতে কোন একটি সুখাধিকার যেমন: আলো-বাতাস, রাস্তা/পথ, পানি ব্যবহার, জলস্রোত, ইত্যাদি শান্তিপূর্ণ, নিরবচ্ছিন্ন এবং প্রকাশ্যভাবে ২০ বছর ধরে ভোগ করে আসেন এবং সেটি অধিকার বলে ভোগ করেন, তাহলে উক্ত ব্যক্তি ঐ সুখাধিকারের উপর একটি নিরঙ্কুশ ও অলঙ্ঘনীয় অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে পারেন।
- তবে, এই ২০ বছর পূর্ণ হওয়ার পরবর্তী ২ বছরের মধ্যে তাকে আদালতে মামলা দায়ের করতে হবে, অন্যথায় অধিকার প্রতিষ্ঠার সুযোগ নষ্ট হয়ে যাবে।
বেসরকারি সম্পত্তি → ২০ বছর।
সরকারি সম্পত্তি → ৬০ বছর।

⇒ তামাদি আইনের ২৬ ধারার বিধান: সুখাধিকার সমূহ অর্জন (Acquisition of right to easements):
(১) যেইক্ষেত্রে কোন দালানে আলো বা বাতাসের প্রবেশ ও ব্যবহার সুখাধিকার হিসাবে এবং অধিকার হিসাবে অব্যাহতভাবে এবং বিশ বৎসর যাবত শান্তিপূর্ণভাবে ভোগ করা হইয়াছে,
এবং যেইক্ষেত্রে কোন পথ বা জলস্রোত অথবা কোন পানির ব্যবহার অথবা অন্য যে কোন সুখাধিকার (ইতিবাচক, নৈতিবাচক যাহাই হউক না কেন) কোন ব্যক্তি সুখাধিকার ও অধিকার হিসাবে উহাতে স্বত্ব দাবি করিয়া অব্যাহতভাবে এবং বিশ বৎসর যাবত শান্তিপূর্ণভাবে ও প্রকাশ্যে ভোগ করিয়াছে, সেইক্ষেত্রে অনুরূপ আলো-বাতাসের প্রবেশ ও ব্যবহার, পথ, জলস্রোত, পানির ব্যবহার অথবা অন্য কোন সুখাধিকার নিরঙ্কুশ ও অলংঘনীয় অধিকারে পরিণত হইবে।
যদি কোন মামলায় উক্তরূপ কোন অধিকারের দাবির বিরোধিতা করা হয়, সেই মামলায় উক্ত উভয় ক্ষেত্রেই বিশ বৎসর বলিতে মামলা দায়েরের তারিখের অব্যবহিত পূর্ববতী দুই বৎসরের মধ্যে সমাপ্ত বিশ বৎসর বুঝাইবে।
(২) যে সম্পত্তির উপর (১) উপধারা অনুসারে অধিকার দাবি করা হয়, তাহা যদি সরকারের সম্পত্তি হয় তবে উক্ত উপধারায় বিশ বৎসর কথাগুলির স্থলে ষাট বৎসর কথাগুলি প্রতিস্থাপিত হইবে।

ব্যাখ্যা: এই ধারার অর্থানুসারে কোন কিছুই ব্যাহত হইবে না যদি দাবিদার ব্যতীত অন্য কোন লোকের কার্য দ্বারা বাধার ফলে দখল বা ভোগে প্রকৃত বিরতি না হয় এবং যদি উক্ত বাধা মানিয়া না লওয়া হয় অথবা উহাতে মৌন সম্মতি প্রকাশ না করা হয় এবং তাহা দাবিদারের গোচরীভূত হইবার পর এক বৎসর অতিবাহিত হয়।

উদাহরণ: (ক) পথ চলার অধিকারে বাধা প্রদানের জন্য ১৯১১ সালে একটি মামলা দায়ের করা হয়। বিবাদী বাধা প্রদানের কথা স্বীকার করে কিন্তু পথ চলার অধিকারের প্রতি অস্বীকৃতি জানায়। বাদী প্রমাণ করে যে, সে এই অধিকার ১৮৯০ সালের ১লা জানুয়ারি হইতে ১৯১০ সালের ১লা জানুয়ারি পর্যন্ত অব্যাহতভাবে উহাতে সুখাধিকার হিসাবে স্বত্ব দাবি করিয়া শান্তিপূর্ণভাবে ও প্রকাশ্যে ভোগ করিয়াছে। বাদী স্বীয় অনুকূলে রায় পাইবার অধিকারী।
(খ) অনুরূপ এক মামলায় বাদী দাবি করে যে, সে এই অধিকার শান্তিপূর্ণভাবে ও প্রকাশ্যে বিশ বৎসর যাবত ভোগ করিয়াছে, বিবাদী প্রমাণ করে যে, ঐ বিশ বৎসরের মধ্যে বাদী একবার এই অধিকার ভোগের জন্য তাহার অনুমতি প্রার্থনা করিয়াছিল। মামলাটি খারিজ হইয়া যাইবে।
১৮.
তামাদি আইনের কোন ধারার বিধান অনুসারে সুদ বা দায় পরিশোধের তারিখ থেকে নতুন করে তামাদি গণনা শুরু হবে?
  1. ১২ ধারার
  2. ১৫ ধারার
  3. ২০ ধারার
  4. ২২ ধারার
সঠিক উত্তর:
২০ ধারার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২০ ধারার
ব্যাখ্যা
⇒ তামাদি আইন, ১৯০৮-এর ধারা ২০ মূলত এই বিষয়টি নিয়ন্ত্রণ করে। এই ধারায় বলা হয়েছে, যদি দেনাদার তার দায় (loan/debt) বা তার সুদ আংশিক বা পূর্ণরূপে পরিশোধ করে, অথবা লিখিতভাবে দায় স্বীকার করে, তাহলে যে তারিখে অর্থ পরিশোধ বা স্বীকারোক্তি দেওয়া হয়েছে, সেই তারিখ থেকে পুনরায় তামাদি গণনা শুরু হবে।

উদাহরণ:
আপনি কাউকে ১ লাখ টাকা ধার দিয়েছেন এবং সে পরিশোধের সময়সীমা পেরিয়ে গেছে। এরপর সেই ব্যক্তি ২ বছর পর ৫০০০ টাকা সুদ পরিশোধ করে বা একটি লিখিত স্বীকারোক্তি দেয় যে সে বাকি টাকা শোধ করবে।
- তখন সেই দিন থেকে আবার তামাদির সময় গণনা শুরু হবে, আগের সময় বাতিল হয়ে যাবে।

⇒ তামাদি আইন, ১৯০৮-এর ধারা ২০ বলছে: “Where payment on account of a debt or of interest on a legacy is made... a fresh period of limitation shall be computed from the time when the payment was made...”
অর্থাৎ, যদি কোনো দেনা বা ঐতিহ্যগত সুদ (interest on legacy) পরিশোধ করা হয়, এবং তা তামাদি মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই করা হয়, তাহলে যেদিন সেই অর্থ পরিশোধ করা হয়েছে, সেদিন থেকে নতুন করে তামাদির মেয়াদ গণনা শুরু হবে।

সঠিক উত্তর: গ) ২০ ধারার।
১৯.
তামাদি আইনের কোন ধারায় বলা হয়েছে যে মেয়াদ উত্তীর্ণের পর মামলা দায়ের করলে তা খারিজ হবে?
  1. ৩ ধারা
  2. ৪ ধারা
  3. ৫ ধারা
  4. ৯ ধারা
সঠিক উত্তর:
৩ ধারা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৩ ধারা
ব্যাখ্যা
⇒ তামাদি আইন, ১৯০৮ এর ধারা ৩ (Section 3 of the Limitation Act, 1908) অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি ধারা। এই ধারায় স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে: "যদি কোনো মামলা, আপীল বা দরখাস্ত নির্ধারিত তামাদির মেয়াদের পর দাখিল করা হয়, তবে তা খারিজ করে দিতে আদালত বাধ্য থাকবে— এমনকি প্রতিপক্ষ (বিবাদী) যদি তামাদির প্রশ্ন না-ও তোলে, তবুও।"
অর্থাৎ, মামলা, আপিল বা দরখাস্ত যদি তামাদির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর দায়ের করা হয়, তাহলে আদালত নিজ থেকেই সেটি খারিজ করে দেবে, এটি আদালতের জন্য বাধ্যতামূলক (mandatory)।
⇒ তামাদি আইন, ১৯০৮ এর ধারা ৩ মোতাবেক- প্রথম তফসিলে এতদুদ্দেশ্যে নির্ধারিত তামাদি মেয়াদ উত্তীর্ণ হবার পর মামলা, আপিল বা দরখাস্ত রুজু, দায়ের বা দাখিল করা হলে বিবাদীপক্ষ যদি তামাদির প্রশ্ন উত্থাপন নাও করে, তারপরও উক্ত মামলা, আপিল বা দরখাস্ত খারিজ বলে বিবেচিত হবে।

⇒ যা যা খারিজ হবে:
- Suit (মামলা)
- Appeal (আপিল)
- Application (আবেদন)
২০.
বারবার চুক্তি ভঙ্গের ক্ষেত্রে তামাদি মেয়াদ গণনা কিভাবে হয়?
  1. প্রথম চুক্তি ভঙ্গের দিন থেকে
  2. বাদীর ইচ্ছামত দিনের থেকে
  3. সর্বশেষ চুক্তি ভঙ্গের দিন থেকে
  4. আদালতের আদেশের দিন থেকে
সঠিক উত্তর:
সর্বশেষ চুক্তি ভঙ্গের দিন থেকে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সর্বশেষ চুক্তি ভঙ্গের দিন থেকে
ব্যাখ্যা
⇒ তামাদি আইনের ২৩ ধারা অনুসারে, যদি একটি চুক্তি পুনরাবৃত্তভাবে ভঙ্গ করা হয় (recurring breach of contract), তাহলে প্রতিবার চুক্তি ভঙ্গ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে একটি নতুন cause of action সৃষ্টি হয়।
- সেক্ষেত্রে প্রতিবার চুক্তি ভঙ্গের জন্য পৃথক পৃথক তামাদি মেয়াদ শুরু হয়। তবে যদি আপনি সবশেষ ভঙ্গের জন্য মামলা করতে চান, তাহলে সর্বশেষ চুক্তি ভঙ্গের দিন থেকেই তামাদি মেয়াদ গণনা শুরু হবে।

⇒ তামাদি আইনের ২৩ ধারার বিধান অবিরাম চুক্তিভঙ্গ বা অন্যায় করা:
-যেইক্ষেত্রে অবিরাম চুক্তি ভঙ্গ করা হয় এবং যেইক্ষেত্রে অবিরাম চুক্তি নিরপেক্ষভাবে অন্যায় করা হয়, সেইক্ষেত্রে চুক্তি ভঙ্গ বা অন্যায় চলাকালীন সময়ের প্রতি মুহূর্তেই নূতন করিয়া তামাদির মেয়াদ অতিবাহিত হইতে শুরু করে।
- এমন অনেক চুক্তি রহিয়াছে, যাহা ভঙ্গ হইলে প্রতি মুহূর্তে নালিশের কারণ উদ্ভব হইতে পারে। চুক্তি বহির্ভূত এমন অনেক লোকসান রহিয়াছে, যাহা প্রতিমুহূর্তে নালিশের কারণের উদ্ভব ঘটায়। এইসব ক্ষেত্রে তামাদির মেয়াদ প্রতি মুহূর্তে বৃদ্ধি পায়।
------------
⇒ The Limitation Act, 1908, Section-23.Continuing breaches and wrongs:
-In the case of a continuing breach of contract and in the case of a continuing wrong independent of contract, a fresh period of limitation begins to run at every moment of the time during which the breach or the wrong, as the case may be, continues.
২১.
যেক্ষেত্রে মামলা মুলতবি থাকাকালে স্বত্ব হস্তান্তর হয় এবং তাতে নতুন পক্ষভুক্ত করা হয়, তবে মামলাটি দায়ের হয়েছে ধরা হবে কোন তারিখে?
  1. পক্ষভুক্তির তারিখে
  2. স্বত্ব হস্তান্তরের তারিখে
  3. মূল মামলা দায়েরের তারিখে
  4. আদালতের অনুমতির তারিখে
সঠিক উত্তর:
মূল মামলা দায়েরের তারিখে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মূল মামলা দায়েরের তারিখে
ব্যাখ্যা
⇒ তামাদি আইন, ১৯০৮-এর ধারা ২২ অনুযায়ী: যেক্ষেত্রে মামলা মুলতবি থাকাকালে স্বত্ব হস্তান্তরের কারণে (যেমন: বিক্রয়, উপহার, উত্তরাধিকার প্রাপ্তি ইত্যাদি) কাউকে বাদী বা বিবাদী হিসেবে পক্ষভুক্ত করা হয়, তাহলে সে ক্ষেত্রে তামাদি মেয়াদ গণনা করা হবে মূল মামলা দায়েরের তারিখ থেকে, নতুন পক্ষভুক্তির তারিখ থেকে নয়।

⇒ তামাদি আইনের ধারা ২২ এর বিধান নতুন বাদী বা বিবাদীকে কারও স্থলাভিষিক্ত বা পক্ষভুক্ত করার ফলাফল:-
(১) যেক্ষেত্রে মামলা দায়ের করার পর নতুন কোনো বাদী বা বিবাদীকে কারও স্থলাভিষিক্ত বা পক্ষভুক্ত করা হয়, সেক্ষেত্রে সেই ব্যক্তি যেই তারিখে অনুরূপ পক্ষভুক্ত হয়েছে, তার জন্য মামলাটি সেই তারিখে দায়ের করা হয়েছে বলে গণ্য হবে।
(২) যেক্ষেত্রে মামলা মুলতবি থাকাকালে স্বত্বার্পণ বা কোনো স্বত্ব হস্তান্তরের কারণে কাউকে পক্ষভুক্ত বা স্থলাভিষিক্ত করা হয় অথবা যেক্ষেত্রে বাদীকে বিবাদী কিংবা বিবাদীকে বাদীতে রূপান্তরিত করা হয়, সেক্ষেত্রে (১) উপধারার কোনো কিছুই প্রযোজ্য হবে না।

⇒ The Limitation Act:- Section-22: Effect of substituting or adding new plaintiff or defendant:-
(1) Where, after the institution of a suit, a new plaintiff or defendant is substituted or added, the suit shall, as regards him, be deemed to have been instituted when he was so made a party.
(2) Nothing in sub-section (1) shall apply to a case where a party is added or substituted owing to an assignment or devolution of any interest during the pendency of a suit or where a plaintiff is made a defendant or a defendant is made a plaintiff.
২২.
যদি চলমান মামলায় নতুন বাদী বা বিবাদীকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়, তাহলে তাদের জন্য মামলাটি কবে দায়ের হয়েছে বলে গণ্য হবে?
  1. সাক্ষ্যগ্রহণের দিন
  2. পক্ষভুক্ত হওয়ার দিন
  3. মামলার মূল দায়েরের তারিখ
  4. আদালতের রায় ঘোষণার দিন
সঠিক উত্তর:
পক্ষভুক্ত হওয়ার দিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পক্ষভুক্ত হওয়ার দিন
ব্যাখ্যা
⇒ তামাদি আইন, ১৯০৮-এর ধারা ২২(১) অনুযায়ী: "Where, after the institution of a suit, a new plaintiff or defendant is substituted or added, the suit shall, as regards him, be deemed to have been instituted when he was so made a party."
অর্থাৎ, যদি চলমান মামলায় নতুন করে বাদী বা বিবাদী যুক্ত করা হয়, তাহলে সেই নতুন ব্যক্তির জন্য মামলাটি যেদিন তাকে পক্ষভুক্ত করা হয়েছে, সেই দিন থেকেই মামলা দায়ের হয়েছে বলে ধরা হবে।
- তবে একটি ব্যতিক্রম: ধারা ২২(২) বলছে, যদি কাউকে স্বত্ব হস্তান্তর বা উত্তরাধিকারসূত্রে পক্ষভুক্ত করা হয়, তাহলে তার জন্য মামলার মূল দায়েরের তারিখই প্রযোজ্য হবে।

⇒ তামাদি আইন, ১৯০৮-এর ধারা ২২ অনুযায়ী, যখন একটি চলমান মামলায় নতুন কোনো পক্ষ—বাদী বা বিবাদী—স্থলাভিষিক্ত বা অন্তর্ভুক্ত হয়, তখন সেই নতুন পক্ষের দৃষ্টিকোণ থেকে মামলাটি দায়ের হয়েছে বলে ধরা হবে যেদিন তাকে পক্ষভুক্ত করা হয়েছে, অর্থাৎ: "পক্ষভুক্ত হওয়ার দিন" থেকে মামলার তামাদি গণনা শুরু হবে নতুন পক্ষের জন্য।

উদাহরণ:
ধরুন, মামলাটি মূলত ১ জানুয়ারি ২০২০ সালে দায়ের হয়েছে। কিন্তু ১ জুন ২০২৩-এ মামলায় নতুন একজন বিবাদীকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
 তখন নতুন বিবাদীর দৃষ্টিকোণ থেকে মামলাটি ১ জুন ২০২৩ থেকে দায়ের হয়েছে বলে গণ্য হবে।

ব্যতিক্রম (ধারা ২২ অনুসারে):
যেক্ষেত্রে মামলা মুলতবি থাকাকালে স্বত্ব হস্তান্তর বা উত্তরাধিকার সূত্রে কেউ পক্ষভুক্ত হয় (যেমন সম্পত্তি ট্রান্সফার হয়েছে), তখন সেই নতুন ব্যক্তির জন্য মামলাটি মূল দায়েরের তারিখ থেকেই ধরে নেওয়া হবে। কিন্তু এটি সাধারণ পক্ষভুক্তির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।

অর্থাৎ,  সাধারণ পক্ষভুক্তির ক্ষেত্রে → পক্ষভুক্তির দিন থেকে তামাদি গণনা। স্বত্ব হস্তান্তরের ক্ষেত্রে → মূল দায়েরের দিন থেকে গণনা।
- সঠিক উত্তর: খ) পক্ষভুক্ত হওয়ার দিন।

⇒ তামাদি আইনের ধারা ২২ এর বিধান নতুন বাদী বা বিবাদীকে কারও স্থলাভিষিক্ত বা পক্ষভুক্ত করার ফলাফল:-
(১) যেক্ষেত্রে মামলা দায়ের করার পর নতুন কোনো বাদী বা বিবাদীকে কারও স্থলাভিষিক্ত বা পক্ষভুক্ত করা হয়, সেক্ষেত্রে সেই ব্যক্তি যেই তারিখে অনুরূপ পক্ষভুক্ত হয়েছে, তার জন্য মামলাটি সেই তারিখে দায়ের করা হয়েছে বলে গণ্য হবে।
(২) যেক্ষেত্রে মামলা মুলতবি থাকাকালে স্বত্বার্পণ বা কোনো স্বত্ব হস্তান্তরের কারণে কাউকে পক্ষভুক্ত বা স্থলাভিষিক্ত করা হয় অথবা যেক্ষেত্রে বাদীকে বিবাদী কিংবা বিবাদীকে বাদীতে রূপান্তরিত করা হয়, সেক্ষেত্রে (১) উপধারার কোনো কিছুই প্রযোজ্য হবে না।

⇒ The Limitation Act:- Section-22: Effect of substituting or adding new plaintiff or defendant:-
(1) Where, after the institution of a suit, a new plaintiff or defendant is substituted or added, the suit shall, as regards him, be deemed to have been instituted when he was so made a party.
(2) Nothing in sub-section (1) shall apply to a case where a party is added or substituted owing to an assignment or devolution of any interest during the pendency of a suit or where a plaintiff is made a defendant or a defendant is made a plaintiff.
২৩.
তামাদি আইনের কোন ধারায় বলা হয়েছে যে, বিবাদীর বিদেশে অবস্থানকাল তামাদি মেয়াদ থেকে বাদ যাবে?
  1. ১২ ধারা
  2. ১৩ ধারা
  3. ১৫ ধারা
  4. ১৭ ধারা
সঠিক উত্তর:
১৩ ধারা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৩ ধারা
ব্যাখ্যা
⇒ তামাদি আইনের ১৩ ধারা (Section 13 of the Limitation Act) এ বলা হয়েছে “যদি কোন বিবাদী বাংলাদেশে অবস্থান না করেন এবং বাংলাদেশ সরকারের অধীন প্রশাসনিক এলাকার বাইরেও থাকেন, তাহলে সেই অনুপস্থিত সময়কাল তামাদি মেয়াদ গণনা থেকে বাদ যাবে।”
অর্থাৎ, যদি বিবাদী বিদেশে থাকেন এবং তার বিরুদ্ধে মামলা করার সময় বাদী তাকে আইনি নোটিশ পাঠাতে না পারেন বা আদালতে হাজির করাতে না পারেন, তাহলে বিবাদীর অনুপস্থিত সময়টুকু বাদ দিয়ে পরবর্তী সময়ে তামাদি গণনা শুরু হবে।

⇒ তামাদি আইনের ১৩ ধারা অনুযায়ী, বাদীর যখন মামলা করার অধিকার জন্মায় তখন যদি বিবাদী উক্ত সময়ে সরকারের কার্যের অংশ হিসাবে দেশের বাইরে থাকে, বিবাদী যতদিন বিদেশে থাকবে ততদিন তামাদির মেয়াদ গণনা স্থগিত থাকবে। তাই বলা যায় যে, বিবাদীর বিদেশে অবস্থানের সময়টুকু তামাদি থেকে বাদ যাবে।

⇒ The Limitation Act:- Section 13: Exclusion of time of defendant’s absence from Bangladesh and certain other territories-
In computing the period of limitation prescribed for any suit, the time during which the defendant has been absent from Bangladesh and from the territories beyond Bangladesh under the administration of the Government shall be excluded.
২৪.
সুখাধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য মামলা দায়েরের সময়সীমা কত?
  1. ১ বছর
  2. ২ বছর
  3. ৩ বছর
  4. ৫ বছর
সঠিক উত্তর:
২ বছর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২ বছর
ব্যাখ্যা
⇒ তামাদি আইন, ১৯০৮ এর ২৬ ধারার ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, কোন ব্যক্তি যদি কারো বেসরকারি সম্পত্তিতে ২০ বছর বা সরকারি সম্পত্তিতে ৬০ বছর ধরে নিরবচ্ছিন্ন, শান্তিপূর্ণ ও প্রকাশ্যভাবে কোনো সুখাধিকার ভোগ করে থাকেন (যেমন আলো, বাতাস, রাস্তা, পানি ইত্যাদি), এবং অধিকার বলে ভোগ করে থাকেন, তবে তিনি ঐ সুখাধিকারের উপর আইনি অধিকার দাবি করতে পারবেন।
তবে, এই অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য ২০ বা ৬০ বছর পূর্ণ হওয়ার পরবর্তী ২ বছরের মধ্যে মামলা দায়ের করতে হয়।
 অর্থাৎ, বেসরকারি জমির ক্ষেত্রে: ২০ বছর ভোগ + ২ বছর সময়সীমা (তামাদি মেয়াদ)।
- সরকারি জমির ক্ষেত্রে: ৬০ বছর ভোগ + ২ বছর সময়সীমা।
- যদি এই ২ বছরের মধ্যে মামলা না করা হয়, তাহলে আর সুখাধিকার প্রতিষ্ঠার আইনি সুযোগ থাকবে না।

⇒ তামাদি আইনের ২৬ ধারার বিধান: সুখাধিকার সমূহ অর্জন (Acquisition of right to easements):
(১) যেইক্ষেত্রে কোন দালানে আলো বা বাতাসের প্রবেশ ও ব্যবহার সুখাধিকার হিসাবে এবং অধিকার হিসাবে অব্যাহতভাবে এবং বিশ বৎসর যাবত শান্তিপূর্ণভাবে ভোগ করা হইয়াছে,
এবং যেইক্ষেত্রে কোন পথ বা জলস্রোত অথবা কোন পানির ব্যবহার অথবা অন্য যে কোন সুখাধিকার (ইতিবাচক, নৈতিবাচক যাহাই হউক না কেন) কোন ব্যক্তি সুখাধিকার ও অধিকার হিসাবে উহাতে স্বত্ব দাবি করিয়া অব্যাহতভাবে এবং বিশ বৎসর যাবত শান্তিপূর্ণভাবে ও প্রকাশ্যে ভোগ করিয়াছে, সেইক্ষেত্রে অনুরূপ আলো-বাতাসের প্রবেশ ও ব্যবহার, পথ, জলস্রোত, পানির ব্যবহার অথবা অন্য কোন সুখাধিকার নিরঙ্কুশ ও অলংঘনীয় অধিকারে পরিণত হইবে।
যদি কোন মামলায় উক্তরূপ কোন অধিকারের দাবির বিরোধিতা করা হয়, সেই মামলায় উক্ত উভয় ক্ষেত্রেই বিশ বৎসর বলিতে মামলা দায়েরের তারিখের অব্যবহিত পূর্ববতী দুই বৎসরের মধ্যে সমাপ্ত বিশ বৎসর বুঝাইবে।
(২) যে সম্পত্তির উপর (১) উপধারা অনুসারে অধিকার দাবি করা হয়, তাহা যদি সরকারের সম্পত্তি হয় তবে উক্ত উপধারায় বিশ বৎসর কথাগুলির স্থলে ষাট বৎসর কথাগুলি প্রতিস্থাপিত হইবে।

ব্যাখ্যা: এই ধারার অর্থানুসারে কোন কিছুই ব্যাহত হইবে না যদি দাবিদার ব্যতীত অন্য কোন লোকের কার্য দ্বারা বাধার ফলে দখল বা ভোগে প্রকৃত বিরতি না হয় এবং যদি উক্ত বাধা মানিয়া না লওয়া হয় অথবা উহাতে মৌন সম্মতি প্রকাশ না করা হয় এবং তাহা দাবিদারের গোচরীভূত হইবার পর এক বৎসর অতিবাহিত হয়।

উদাহরণ:
(ক) পথ চলার অধিকারে বাধা প্রদানের জন্য ১৯১১ সালে একটি মামলা দায়ের করা হয়। বিবাদী বাধা প্রদানের কথা স্বীকার করে কিন্তু পথ চলার অধিকারের প্রতি অস্বীকৃতি জানায়। বাদী প্রমাণ করে যে, সে এই অধিকার ১৮৯০ সালের ১লা জানুয়ারি হইতে ১৯১০ সালের ১লা জানুয়ারি পর্যন্ত অব্যাহতভাবে উহাতে সুখাধিকার হিসাবে স্বত্ব দাবি করিয়া শান্তিপূর্ণভাবে ও প্রকাশ্যে ভোগ করিয়াছে। বাদী স্বীয় অনুকূলে রায় পাইবার অধিকারী।
(খ) অনুরূপ এক মামলায় বাদী দাবি করে যে, সে এই অধিকার শান্তিপূর্ণভাবে ও প্রকাশ্যে বিশ বৎসর যাবত ভোগ করিয়াছে, বিবাদী প্রমাণ করে যে, ঐ বিশ বৎসরের মধ্যে বাদী একবার এই অধিকার ভোগের জন্য তাহার অনুমতি প্রার্থনা করিয়াছিল। মামলাটি খারিজ হইয়া যাইবে।
২৫.
তামাদি আইনের কোন ধারায় বলা আছে যে, স্বত্ব হস্তান্তর বা পক্ষ পরিবর্তনের ক্ষেত্রে মামলার মূল দায়েরের দিনই প্রযোজ্য হবে?
  1. ২০ ধারা
  2. ২১ ধারা
  3. ২২ ধারা
  4. ২৩ ধারা
সঠিক উত্তর:
২২ ধারা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২২ ধারা
ব্যাখ্যা
⇒ তামাদি আইনের ২২ ধারায় বলা হয়েছে যে, যদি কোনো মামলা চলাকালীন সময়ে স্বত্ব হস্তান্তর বা পক্ষ পরিবর্তন (যেমন: বাদী থেকে বিবাদী বা বিবাদী থেকে বাদীতে রূপান্তর) ঘটে,
তাহলে নতুন পক্ষের জন্য মামলাটি নতুন করে দায়ের করা গণ্য হবে না। বরং মামলাটির মূল দায়েরের তারিখই প্রযোজ্য থাকবে।
অর্থাৎ, নতুন পক্ষ যুক্ত হলেও মামলার শুরু তারিখ অপরিবর্তিত থাকবে, এবং সেই তারিখ থেকেই তামাদি মেয়াদ গণনা হবে।

⇒ তামাদি আইন, ১৯০৮-এর ধারা ২২(১) অনুযায়ী: "Where, after the institution of a suit, a new plaintiff or defendant is substituted or added, the suit shall, as regards him, be deemed to have been instituted when he was so made a party."
অর্থাৎ, যদি চলমান মামলায় নতুন করে বাদী বা বিবাদী যুক্ত করা হয়, তাহলে সেই নতুন ব্যক্তির জন্য মামলাটি যেদিন তাকে পক্ষভুক্ত করা হয়েছে, সেই দিন থেকেই মামলা দায়ের হয়েছে বলে ধরা হবে।
- তবে একটি ব্যতিক্রম: ধারা ২২(২) বলছে, যদি কাউকে স্বত্ব হস্তান্তর বা উত্তরাধিকারসূত্রে পক্ষভুক্ত করা হয়, তাহলে তার জন্য মামলার মূল দায়েরের তারিখই প্রযোজ্য হবে।
অর্থাৎ,  সাধারণ পক্ষভুক্তির ক্ষেত্রে → পক্ষভুক্তির দিন থেকে তামাদি গণনা। স্বত্ব হস্তান্তরের ক্ষেত্রে → মূল দায়েরের দিন থেকে গণনা।

⇒ The Limitation Act:- Section-22: Effect of substituting or adding new plaintiff or defendant-
(1) Where, after the institution of a suit, a new plaintiff or defendant is substituted or added, the suit shall, as regards him, be deemed to have been instituted when he was so made a party.
(2) Nothing in sub-section (1) shall apply to a case where a party is added or substituted owing to an assignment or devolution of any interest during the pendency of a suit or where a plaintiff is made a defendant or a defendant is made a plaintiff.
২৬.
তামাদি আইন, ১৯০৮ অনুসারে আইনগত অক্ষম ব্যক্তি মারা গেলে তার অধিকার কে প্রয়োগ করতে পারে?
  1. সম্পত্তির মালিক
  2. তার বৈধ প্রতিনিধি
  3. আদালতের প্রতিনিধি
  4. কোনো ব্যক্তি নয়
সঠিক উত্তর:
তার বৈধ প্রতিনিধি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তার বৈধ প্রতিনিধি
ব্যাখ্যা
⇒ তামাদি আইন, ১৯০৮ অনুসারে, যদি কোনো ব্যক্তি আইনগত অক্ষম (Legally Disabled) অবস্থায় যেমন: নাবালক, উন্মাদ, বা জড়বুদ্ধিসম্পন্ন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন, তাহলে তার অধিকার সম্পূর্ণভাবে নষ্ট হয়ে যায় না।
- বরং, তার পক্ষে তার "বৈধ প্রতিনিধি" (legal representative) আদালতে মামলা দায়ের করতে পারেন বা তার অধিকার প্রয়োগ করতে পারেন।

⇒ তামাদি আইন, ১৯০৮ অনুসারে, আইনগত অক্ষম ব্যক্তির মৃত্যুর পর তার অধিকার কে প্রয়োগ করতে পারে—এই বিষয়ে ধারা ৬, ৭ ও ৮ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। 
ধারা ৬ – আইনগত অক্ষমতা (Legal Disability):
যদি কোনো ব্যক্তি যখন মামলা করার অধিকারী হন, সেই সময় তিনি:
(১) নাবালক (Minor),
(২) উন্মাদ (Insane), অথবা
(৩) জড়বুদ্ধি বা বুদ্ধিহীন (Idiot) হন—
তাহলে তার বিরুদ্ধে তামাদি মেয়াদ গণনা শুরু হবে না, যতক্ষণ না উক্ত অক্ষমতা অবসান (ceases) হয়।
ধারা ৭ – একাধিক আইনগত অক্ষমতা:
যদি একজন ব্যক্তি একই সময়ে একাধিক অক্ষমতায় ভোগ করেন (যেমন, নাবালক এবং উন্মাদ), তাহলে তামাদি মেয়াদ তখনই শুরু হবে, যখন সর্বশেষ অক্ষমতা অবসান ঘটবে।
ধারা ৮ – আইনগত অক্ষম ব্যক্তির মৃত্যু:
যদি আইনগত অক্ষম ব্যক্তি মৃত্যুবরণ করেন এবং মৃত্যুকালে যদি তার বৈধ প্রতিনিধি (Legal Representative) যেমন উত্তরাধিকারী বা অভিভাবক, তিনিও যদি নাবালক, উন্মাদ, বা জড়বুদ্ধি সম্পন্ন হন, তাহলে তাদের আইনগত অক্ষমতার সময়ও তামাদি গণনায় বাদ যাবে।
তবে, ধারা ৮-এ একটি গুরুত্বপূর্ণ সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে:
- আইনগত অক্ষমতার অবসান বা
- আইনগত অক্ষম ব্যক্তির মৃত্যু–
যেটাই হোক না কেন, তার ৩ (তিন) বছরের মধ্যে মোকদ্দমা দায়ের করতে হবে।
অন্যথায়, মামলাটি তামাদিতে খারিজ হয়ে যাবে।
২৭.
তামাদি আইনের ২০ ধারায় কোন বিষয়ের স্বীকৃতির ফলে নতুন করে তামাদি মেয়াদ গণনা শুরু হয়?
  1. মৌখিক প্রতিশ্রুতি
  2. সম্পত্তি হস্তান্তর
  3. লিখিত দায় স্বীকার
  4. সুদ বা আংশিক অর্থ পরিশোধ
সঠিক উত্তর:
সুদ বা আংশিক অর্থ পরিশোধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুদ বা আংশিক অর্থ পরিশোধ
ব্যাখ্যা
⇒ তামাদি আইনের ২০ ধারা অনুযায়ী, যদি কোনো দায় বা ঋণের ক্ষেত্রে সুদ প্রদান বা আংশিক অর্থ পরিশোধ করা হয়, তাহলে সেই পরিশোধের তারিখ থেকে নতুন করে তামাদি মেয়াদ গণনা শুরু হবে।
অর্থাৎ ২০ ধারায় বলা হয়েছে — কোনো দায় বা ঋণের সুদ বা আংশিক অর্থ পরিশোধ হলে, সেদিন থেকেই তামাদি মেয়াদ নতুন করে শুরু হবে।
- তাই সঠিক উত্তর: ঘ) সুদ বা আংশিক অর্থ পরিশোধ।

⇒ তামাদি আইনের ২০ ধারা অনুযায়ী, ঋণ বা লিগ্যাসির সুদ পরিশোধ করার ফলে তামাদির মেয়াদ নবায়ন হবে।
অর্থাৎ, যখন ঋণগ্রহীতা বা তার প্রতিনিধি সুদ পরিশোধ করেন, তখন তামাদির মেয়াদ পুনরায় শুরু হবে এবং নতুন মেয়াদ গণনা শুরু হবে।
তবে, এটা শর্তসাপেক্ষ যে, পরিশোধের জন্য লিখিত স্বীকৃতি বা সাক্ষর থাকা উচিত, যাতে পরিশোধের প্রমাণ থাকে।
এটি ঋণগ্রহীতা বা লিগ্যাসির অধিকারী ব্যক্তির জন্য সুবিধাজনক, কারণ তারা পরিশোধের মাধ্যমে নতুন সময় শুরু করতে পারেন।

⇒ The Limitation Act:- Section- 20. Effect of payment on account of debt as of interest on legacy:
(1) Where payment on account of a debt or of interest on a legacy is made before the expiration of the prescribed period by the person liable to pay the debt or legacy, or by his duly authorized agent, a fresh period of limitation shall be computed from the time when the payment was made:
Provided that, save in the case of a payment of interest made before the 1st day of January, 1928, an acknowledgment of the payment appears in the handwriting of, or in a writing signed by the person making the payment.
২৮.
তামাদি আইন, ১৯০৮-এর ধারা ১৭ অনুযায়ী স্থাবর সম্পত্তির দখল সংক্রান্ত মামলায় মৃত ব্যক্তির প্রতিনিধির বিরুদ্ধে তামাদি মেয়াদ গণনা:
  1. স্থগিত হয়
  2. অব্যাহত থাকে
  3. নতুন করে শুরু হয়
  4. আদালত নির্ধারণ করে
সঠিক উত্তর:
অব্যাহত থাকে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অব্যাহত থাকে
ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: খ) অব্যাহত থাকে।
⇒ তামাদি আইন, ১৯০৮-এর ধারা ১৭(৩) অনুযায়ী: "Nothing in sub-sections (1) and (2) applied to suits to enforce rights of pre-emption or to suits for the possession of immoveable property or of an hereditary office."
অর্থাৎ যদি কোনো ব্যক্তি মারা যান এবং তাঁর বিরুদ্ধে স্থাবর সম্পত্তির দখল সংক্রান্ত মামলা দায়ের করার অধিকার সৃষ্টি হয়, তাহলে ধারা ১৭(২) অনুযায়ী যে সুবিধা বা সময় গণনার বিশেষ নিয়ম প্রযোজ্য—তা স্থাবর সম্পত্তির দখলের মামলার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।
ফলে, এমন কোনো মামলা হলে মৃত ব্যক্তির আইনানুগ প্রতিনিধি থাকুক বা না থাকুক, তামাদির সময় গণনা অব্যাহত থাকবে, স্থগিত বা পুনরায় শুরু হবে না।

⇒ The Limitation Act, 1908 এর ১৭ ধারা (অধিকার অর্জনের পূর্বে মৃত্যুর ফলাফল) অনুযায়ী- কোন ব্যক্তি জীবিত থাকলে মোকদ্দমা বা দরখাস্ত দায়েরের অধিকারী হত কিন্তু অধিকারটি সৃষ্টি হওয়ার আগেই তার মৃত্যু হলে সেই ব্যক্তির আইনগত প্রতিনিধি ঐ মোকদ্দমা বা দরখাস্ত দায়ের করার যোগ্যতা সম্পন্ন হওয়ার সময় থেকে তামাদির মেয়াদ গণনা হবে। একইভাবে কারো বিরুদ্ধে অধিকার সৃষ্টি হওয়ার আগেই তার মৃত্যু হলে তার আইনগত প্রতিনিধির বিরুদ্ধে আইনগত যোগ্যতা সাপেক্ষে উক্ত মোকদ্দমা বা দরখাস্ত দায়েরের তামাদি গণনা হবে।
এই ধারার ব্যতিক্রম হলো অগ্রক্রয়, স্থাবর সম্পত্তির দখলের মোকদ্দমা এবং বংশগত পদের মোকদ্দমা।

⇒ The Limitation Act:- Section 17- Effect of death before right to sue accrues:
(1) Where a person, who would, if he were living, have a right to institute a suit or make an application, dies before the right accrues, the period of limitation shall be computed from the time when there is a legal representative of the deceased capable of instituting or making such suit or application.
(2) Where person against whom, if he were living, a right to institute a suit or make an application would have accrued dies before the right accrues, the period of limitation shall be computed from the time when there is a legal representative of the deceased against whom the plaintiff may institute or make such suit or application.
(3) Nothing in sub-sections (1) and (2) applied to suits to enforce rights of pre-emption or to suits for the possession of immoveable property or of an hereditary office.
২৯.
লিখিত দায় স্বীকারের ফলে তামাদি মেয়াদ নতুন করে গণনা শুরু হয় কোন ধারার অধীনে?
  1. ধারা ১৭
  2. ধারা ১৮
  3. ধারা ১৯
  4. ধারা ২০
সঠিক উত্তর:
ধারা ১৯
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধারা ১৯
ব্যাখ্যা
⇒ তামাদি আইনের ধারা ১৯ অনুযায়ী, যদি কোন ব্যক্তি মামলার বিষয়বস্তু সম্পর্কিত সম্পত্তি বা অধিকার সম্পর্কে তামাদি মেয়াদ শেষ হওয়ার পূর্বে লিখিতভাবে দায় স্বীকার করে, তাহলে সেই দায় স্বীকারের দিন থেকে নতুন করে তামাদি মেয়াদ গণনা শুরু হয়। এই ধারা নিশ্চিত করে যে, লিখিত দায় স্বীকারের মাধ্যমে নতুন সময়সীমা শুরু হবে, যা পাওনাদারকে আবারো মামলা করার সুযোগ দেয়।

⇒ তামাদি আইনের ১৯ ধারায় লিখিত প্রাপ্তি স্বীকারের ফলাফল সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে। কোন মামলা দায়ের বা দরখাস্ত দাখিলের জন্য আইন দ্বারা নির্ধারিত তামাদির মেয়াদ শেষ হওয়ার পূর্বেই অপর পক্ষ যদি উক্ত মামলার বা দরখাস্তের বিষয়বস্তু সম্পর্কিত সম্পত্তি বা অধিকার সম্পর্কে লিখিত প্রাপ্তি স্বীকারের মাধ্যমে দায় স্বীকার করে নেয় সেক্ষেত্রে উত্তরুপ স্বীকৃতি স্বাক্ষরিত হওয়ার দিন থেকে নতুন করে তামাদির মেয়াদ গণনা করতে হবে।
তামাদি আইনের ১৯ ধারার শর্তসমূহ নিম্নরূপ-
- লিখিত হতে হবে
- উক্ত পক্ষ কর্তৃক স্বাক্ষরিত হতে হবে
- অবশ্যই তামাদি মেয়াদ শেষ হওয়ার পূর্বেই করতে হবে
- উক্ত স্বীকৃতি অবশ্যই সম্পত্তি বা অধিকার সম্পর্কে হবে।

⇒ The Limitation Act, 1908, Section 19: Effect of acknowledgement in writing-
(1) Where, before the expiration of the period prescribed for a suit or application in respect of any property or right, an acknowledgement of liability in respect of such property or right has been made in writing signed by the party against whom such property or right is claimed, or by some person through whom he derives title or liability, a fresh period of limitation shall be computed from the time when the acknowledgement was so signed.
(2) Where the writing containing the acknowledgement is undated, oral evidence may be given of the time when it was signed; but, subject to the provisions of the Evidence Act, 1872, oral evidence of its contents shall not be received.
Explanation I- For the purposes of this section an acknowledgement may be sufficient though it omits to specify the exact nature of the property or right, or avers that the time for payment, delivery, performance or enjoyment has not yet come, or is accompanied by a refusal to pay, deliver, perform or permit to enjoy, or is coupled with a claim to a set-off, or is addressed to a person other than the person entitled to the property or right.
Explanation II- For the purposes of this section, “signed” means signed either personally or by an agent duly authorized in this behalf.
Explanation III- For the purposes of this section an application for the execution of a decree or order is an application respect of a right.
৩০.
তামাদি আইন, ১৯০৮ অনুসারে কাদের আইনগত অক্ষম হিসেবে বিবেচনা করা হয়?
  1. নাবালক
  2. উন্মাদ ব্যক্তি
  3. জড়বুদ্ধি সম্পন্ন ব্যক্তি
  4. উল্লিখিত সকল
সঠিক উত্তর:
উল্লিখিত সকল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উল্লিখিত সকল
ব্যাখ্যা
⇒ তামাদি আইন, ১৯০৮-এর ধারা ৬ থেকে ৯-এ আইনগত অপারগতা সংক্রান্ত বিধান বর্ণনা করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যখন মামলা করার অধিকার অর্জন করেন কিন্তু কোনো কারণে সে সময় আইনগতভাবে মামলা করতে অক্ষম (Legally Disabled) থাকেন, তখন তামাদি মেয়াদ (Limitation Period) গণনার নিয়ম কিছুটা ভিন্ন হয়।

⇒ তামাদি আইন, ১৯০৮ (Limitation Act, 1908) এর ধারা ৬ এর বিধান অনুসারে, যেসব ব্যক্তি তাদের বয়স, মানসিক অবস্থা বা বিচারবোধের অভাবের কারণে আইনি কার্যক্রম শুরু করতে স্বাভাবিকভাবে সক্ষম নন, তাদের "আইনগত অক্ষম" (legally disabled) ব্যক্তি হিসেবে গণ্য করা হয়। এই আইন অনুযায়ী তিন শ্রেণির মানুষকে আইনগত অক্ষম হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে:
১) নাবালক (Minor) – যার বয়স ১৮ বছরের নিচে।
২) উন্মাদ ব্যক্তি (Person of Unsound Mind) – মানসিক ভারসাম্যহীন ব্যক্তি।
৩) জড়বুদ্ধি সম্পন্ন ব্যক্তি (Intellectually Disabled) – বিচারবোধ বা সিদ্ধান্তগ্রহণে অক্ষম ব্যক্তি।
- এইসব ব্যক্তিদের জন্য তামাদি মেয়াদ (Limitation Period) স্থগিত থাকে যতদিন না তারা সম্পূর্ণভাবে সক্ষম হন (অর্থাৎ সাবালক বা মানসিকভাবে সুস্থ)। তারা যখন সম্পূর্ণ সক্ষম হবেন, তখন থেকেই তামাদি মেয়াদ গণনা শুরু হবে।
- তিনটি অপশন সঠিক এবং তামাদি আইন অনুযায়ী "উল্লিখিত সকল" ব্যক্তিকে আইনগত অক্ষম ধরা হয়। তাই সঠিক উত্তর: ঘ) উল্লিখিত সকল।

- যদি কোনো ব্যক্তি যখন মামলা করার অধিকারী হন, তখন তিনি এই তিনটি অবস্থার যেকোনো একটিতে থাকেন, তাহলে তার তামাদি মেয়াদ শুরু হবে না।
- মেয়াদ গণনা শুরু হবে তখনই, যখন ওই অপারগতার অবসান ঘটবে (যেমন: সাবালক হওয়া, সুস্থ হওয়া ইত্যাদি)।

⇒ তামাদি আইন, ১৯০৮-এর ধারা ৭: যৌথ স্বার্থে আইনগত অপারগতা: 
যদি একাধিক ব্যক্তি যৌথভাবে কোনো অধিকার অর্জন করেন এবং তাদের মধ্যে একজন বা একাধিক ব্যক্তি আইনগতভাবে অক্ষম হন, তবে:
- যদি তারা পৃথকভাবে মামলা করতে না পারেন (যেমন—অবিচ্ছেদ্য স্বার্থ), তবে সকলের ক্ষেত্রেই তামাদি মেয়াদ স্থগিত থাকবে, যতক্ষণ না অক্ষম ব্যক্তির অক্ষমতা দূর হয়।
- তবে যদি অন্য ব্যক্তিরা আলাদাভাবে মামলা করতে সক্ষম হন, তাহলে তাদের জন্য তামাদি মেয়াদ চলবে।

⇒ তামাদি আইন, ১৯০৮-এর ধারা ৮: ব্যতিক্রম (Exception to Sections 6 & 7)
এই ধারা অনুসারে, কিছু বিশেষ ক্ষেত্রে ধারা ৬ ও ৭-এ দেওয়া সুবিধা প্রযোজ্য হবে না। যেমন:
১. অগ্রক্রয়ের (Pre-emption) মামলায় – এই ধরনের মামলায় আইনগত অপারগতার কোনো সুবিধা প্রযোজ্য নয়।
২. সর্বোচ্চ সময়সীমা নির্ধারণ – যখন আইনগত অপারগতা দূর হয় বা অক্ষম ব্যক্তি মারা যান, তখন থেকে সর্বোচ্চ ৩ বছরের মধ্যে মামলা করতে হবে।
- যদি ৩ বছরের মধ্যে মামলা না করা হয়, তাহলে তামাদি মেয়াদ পেরিয়ে যাবে এবং মামলা খারিজ হবে।

⇒ তামাদি আইন, ১৯০৮-এর ধারা ৯: অপারগতার পরবর্তী অক্ষমতা:
- যখন একজন ব্যক্তি মামলা করার অধিকার অর্জনের সময় সক্ষম (legally capable) থাকেন এবং তামাদি মেয়াদ শুরু হয়ে যায়,
- এরপর যদি তিনি পরবর্তীতে অক্ষম হয়ে পড়েন (যেমন উন্মাদ হন), তাহলে এর প্রভাব তামাদি মেয়াদে পড়বে না।
- অর্থাৎ, একবার শুরু হওয়া তামাদি মেয়াদ আর স্থগিত হবে না।
৩১.
তামাদি আইনের ২১ ধারা মূলত কাদের স্বীকৃতি বা অর্থপ্রদানের বৈধতা নির্ধারণ করে?
  1. মুসলিম উত্তরাধিকারী
  2. যৌথ ব্যবসায়িক অংশীদার
  3. হিন্দু অবিভক্ত পরিবারের সদস্য
  4. আদালতের আদেশপ্রাপ্ত ব্যক্তি
সঠিক উত্তর:
হিন্দু অবিভক্ত পরিবারের সদস্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হিন্দু অবিভক্ত পরিবারের সদস্য
ব্যাখ্যা
⇒ তামাদি আইনের ২১ ধারা মূলত হিন্দু অবিভক্ত পরিবারের ম্যানেজার বা ক্ষমতাপ্রাপ্ত প্রতিনিধির দায় স্বীকার বা অর্থ প্রদানের বৈধতা নিশ্চিত করে, যা পুরো পরিবারের পক্ষ থেকে দায় স্বীকার হিসেবে গণ্য হয়।
⇒ তামাদি আইনের ২১ ধারার মূল উদ্দেশ্য হলো, কিছু বিশেষ পরিস্থিতিতে দায় স্বীকার বা অর্থ প্রদানকে বৈধ স্বীকৃতি হিসেবে গণ্য করা — বিশেষ করে যখন এটি একজন অক্ষম ব্যক্তি বা হিন্দু অবিভক্ত পরিবারের পক্ষ থেকে আসে।
২১ ধারায় যাদের স্বীকৃতি বৈধ হিসেবে গণ্য হয়:
→ অক্ষম ব্যক্তির আইনগত অভিভাবক, কমিটি বা ম্যানেজার যদি স্বীকৃতি দেয় বা অর্থ প্রদান করে — তা ধারা ১৯ ও ২০ অনুসারে বৈধ গণ্য হয়।
→ হিন্দু অবিভক্ত পরিবারের বর্তমান ম্যানেজার যদি স্বীকৃতি দেয় বা অর্থ প্রদান করে, তাহলে তা পুরো পরিবারের পক্ষ থেকে দায় স্বীকার হিসেবে বিবেচিত হয়।
→ বিধবা বা সীমিত স্বত্বভোগী নারী যদি স্বীকৃতি দেয় (বা তার যথাযথভাবে ক্ষমতাপ্রাপ্ত এজেন্ট দেয়), তবে তা পরবর্তী উত্তরাধিকারীর প্রতিকূলে বৈধ স্বীকৃতি হিসেবে ধরা হয়।

⇒ তামাদি আইনের ২১ ধারার বিধান: অক্ষম ব্যক্তির প্রতিনিধি:
(১) “তাঁহার পক্ষ থেকে যথাযথভাবে ক্ষমতাপ্রাপ্ত এজেন্ট” শব্দবন্ধটি, ধারাঃ ১৯ ও ২০-এর ক্ষেত্রে, একজন অক্ষম ব্যক্তির ক্ষেত্রে, তাঁর আইনগত অভিভাবক, কমিটি বা ব্যবস্থাপক, অথবা এমন একজন এজেন্টকে অন্তর্ভুক্ত করবে যিনি এই অভিভাবক, কমিটি বা ব্যবস্থাপকের দ্বারা স্বীকৃতি বা অর্থ প্রদান স্বাক্ষরের জন্য যথাযথভাবে ক্ষমতাপ্রাপ্ত।
(২) উল্লিখিত ধারাগুলোর অধীনে একাধিক যৌথ চুক্তিকারক, অংশীদার, নির্বাহী বা বন্ধকী কর্তাকে শুধুমাত্র অন্য একজন বা তাঁদের এজেন্টের দ্বারা স্বাক্ষরিত লিখিত স্বীকৃতি বা অর্থ প্রদানের কারণে দায়বদ্ধ করবে না।
(৩) উল্লিখিত ধারাগুলোর উদ্দেশ্যে-
(a) একজন বিধবা বা অন্য সীমিত মালিকের দ্বারা স্বাক্ষরিত একটি স্বীকৃতি, অথবা কোনো দায়ের জন্য অর্থ প্রদান, অথবা যথাযথভাবে ক্ষমতাপ্রাপ্ত এজেন্টের দ্বারা, যিনি হিন্দু আইন দ্বারা পরিচালিত, তা সংশ্লিষ্ট পুনঃসূত্রের বিরুদ্ধে একটি বৈধ স্বীকৃতি বা অর্থ প্রদান হিসেবে গণ্য হবে;
(b) যখন একটি হিন্দু অখণ্ড পরিবারের পক্ষে কোনো দায়ভার সৃষ্টি করা হয়, তখন বর্তমান ব্যবস্থাপক বা তাঁর যথাযথভাবে ক্ষমতাপ্রাপ্ত এজেন্টের দ্বারা করা স্বীকৃতি বা অর্থ প্রদান সম্পূর্ণ পরিবারের পক্ষে করা হয়েছে বলে বিবেচিত হবে।
-------------
⇒ The Limitation Act, 1908, Section-21. Agent of persons under disability:
(1) The expression “agent duly authorised in his behalf,” in sections 19 and 20, shall, in the case of a person under disability, include his lawful guardian, committee or manager, or an agent duly authorised by such guardian, committee or manager to sign the acknowledgement or make the payment.
(2) Nothing in the said sections renders one of several joint contractors, partners, executors or mortgagees chargeable by reason only of a written acknowledgment signed or of a payment made by, or by the agent of, any other or others of them.
(3) For the purposes of the said sections-
(a) an acknowledgment signed, or a payment made, in respect of any liability, by, or by the duly authorised agent of, any widow or other limited owner of property who is governed by the Hindu law, shall be a valid acknowledgment or payment, as the case may be, as against a reversioner succeeding to such liability; and
(b) where a liability has been incurred by, or on behalf of, a Hindu undivided family as such, an acknowledgment or payment made by, or by the duly authorised agent of, the manager of the family for the time being shall be deemed to have been made on behalf of the whole family.
৩২.
প্রতারণার ক্ষেত্রে তামাদির মেয়াদ গণনার সুবিধা পাওয়ার জন্য কোন বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ?
  1. সরল বিশ্বাস
  2. আইনি জ্ঞান
  3. আর্থিক সামর্থ্য
  4. সাক্ষীর উপস্থিতি
সঠিক উত্তর:
সরল বিশ্বাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সরল বিশ্বাস
ব্যাখ্যা
⇒ তামাদি আইন, ১৯০৮-এর ধারা ১৮ অনুযায়ী, যখন কেউ প্রতারণার শিকার হয়ে তাঁর অধিকার থেকে বঞ্চিত হন, তখন তাঁকে তামাদি মেয়াদ গণনার ক্ষেত্রে বিশেষ সুবিধা দেওয়া হয়।
কিন্তু এই সুবিধা পাওয়ার মূল শর্ত হলো— ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি “সরল বিশ্বাসে” প্রতারণার শিকার হয়েছেন।
⇒ সরল বিশ্বাস বলতে বোঝায় ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে অজ্ঞান বা উদাসীন ছিলেন না, তিনি বুদ্ধি, সতর্কতা এবং সাধারণ সচেতনতা বজায় রেখেও প্রতারণার শিকার হয়েছেন, তিনি সত্যকে জানার যথাসাধ্য চেষ্টা করেছেন।
⇒ প্রতারণার ক্ষেত্রে তামাদি মেয়াদ গণনার সুবিধা পেতে হলে, ব্যক্তি প্রতারণার বিষয়ে সরল বিশ্বাসে অজ্ঞ ছিলেন এবং তিনি প্রতারণা জানার পর দ্রুত আইনি পদক্ষেপ নিয়েছেন – এটি প্রমাণ করা আবশ্যক। তাই, "সরল বিশ্বাস" এই সুবিধার কেন্দ্রবিন্দু, যা তামাদির গণনায় গুরুত্বপূর্ণ বিবেচ্য।
- প্রতারণার ক্ষেত্রে তামাদির সুবিধা পাওয়ার জন্য ‘সরল বিশ্বাস’ অপরিহার্য বিষয়, তাই সঠিক উত্তর: ক) সরল বিশ্বাস।

⇒ তামাদি আইনের ১৮ ধারার বিধান প্রতারণার ফলাফল- যেক্ষেত্রে কোনো ব্যক্তি একটা মামলা দায়ের বা দরখাস্ত দাখিল করার অধিকারী হয়। কিন্তু প্রতারণার মাধ্যমে তাকে সেই অধিকারের বিষয় অথবা যেই স্বত্বের উপর উক্ত অধিকার প্রতিষ্ঠিত সেই বিষয় জানতে দেওয়া হয়নি অথবা যেক্ষেত্রে উক্ত অধিকার প্রতিষ্ঠিত করার জন্য যে দলিল প্রয়োজনীয়, তা প্রতারণা করে তার নিকট হতে গোপন রাখা হয়েছে, সে সকল ক্ষেত্রে-
(ক)প্রতারণার জন্য দোষী ব্যক্তির বা তার সহযোগীর বিরুদ্ধে, অথবা
(খ) যে ব্যক্তি সরল বিশ্বাসে এবং মূল্যের বিনিময় ভিন্ন অন্যভাবে উক্ত দোষী ব্যক্তির মাধ্যমে স্বত্ব দাবি করে তার বিরুদ্ধে-
ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি সর্বপ্রথম যেদিন প্রতারণার কথা জানতে পারে, সেদিন হতে অথবা দলিল গোপন করা হয়ে থাকলে, ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি সর্বপ্রথম যেদিন দলিলটি উপস্থাপন করতে সমর্থ হয় বা অপর পক্ষকে তা উপস্থাপন করার জন্য বাধ্য করতে পারে, সেদিন হতে মামলা দায়ের বা দরখাস্ত দাখিলের জন্য নির্ধারিত তামাদির মেয়াদ গণনা করতে হবে।
- যেদিন ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি সর্বপ্রথম প্রতারণার কথা জানতে পারে, সেদিন থেকে অথবা দলিল গোপন করা হয়ে থাকলে সর্বপ্রথম যেদিন ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি দলিলটি উত্থাপন করতে সমর্থ হয় বা অপর পক্ষকে উত্থাপন করার জন্য বাধ্য করতে পারে, সেদিন থেকে মামলা দায়ের বা দরখাস্ত দাখিলের জন্য নির্ধারিত তামাদির মেয়াদ গণনা করতে হবে।
-----------
⇒ The Limitation Act, 1908, Section 18: Effect of fraud:
Where any person having a right to institute a suit or make an application has, by means of fraud, been kept from the knowledge of such right or of the title on which it is founded, or where any document necessary to establish such right has been fraudulently concealed from him, the time limited for instituting a suit or making an application-
(a) against the person guilty of the fraud or accessory thereto, or
(b) against any person claiming through him otherwise than in good faith and for a valuable consideration,
shall be computed from the time when the fraud first became known to the person injuriously affected thereby, or, in the case of the concealed document, when he first had the means of producing it or compelling its production.