পরীক্ষা আর্কাইভ

IBA ফ্যাকাল্টি ভিত্তিক প্রস্তুতি

পরীক্ষাIBA ফ্যাকাল্টি ভিত্তিক প্রস্তুতিতারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়07 minutes
মোট প্রশ্ন১৯
সিলেবাস
পরীক্ষা - ২৪ বিষয়: বাংলা - ৪ টপিক: উপসর্গ; শব্দ প্রকরণ; বাগ্‌ধারা; সমাস; দ্বিরুক্ত শব্দ।
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

IBA ফ্যাকাল্টি ভিত্তিক প্রস্তুতি

IBA ফ্যাকাল্টি ভিত্তিক প্রস্তুতি · তারিখ অনির্ধারিত · ১৯ প্রশ্ন

.
"পরাণপ্রিয়" কোন প্রকার সমাস?
  1. তৎপুরুষ 
  2. বহুব্রীহি
  3. কর্মধারয় 
  4. দ্বিগু 
  5. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা

• পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাস:
- পূর্বপদে পঞ্চমী বিভক্তি (হতে, থেকে ইত্যাদি) লোপে যে তৎপুরুষ সমাস হয়, তাকে পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাস
যথা:
খাঁচা থেকে ছাড়া = খাঁচাছাড়া, 
বিলাত থেকে ফেরত = বিলাতফেরত ইত্যাদি।

⇒ সাধারণত চ্যুত, আগত, ভীত, গৃহীত, বিরত, মুক্ত, উত্তীর্ণ, পালানো, ভ্রষ্ট ইত্যাদি পরপদের সঙ্গে যুক্ত হলে পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাস হয়। যেমন 
স্কুল থেকে পালানো = স্কুলপালানো,
জেল থেকে মুক্ত  =জেলমুক্ত ইত্যাদি।
- এ রকম জেলখালাস, বোঁটাখসা, আগাগোড়া, শাপমুক্ত, ঋণমুক্ত ইত্যাদি। 

⇒ কোনো কোনো সময় পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাসের ব্যাসবাক্যে 'এর' 'চেয়ে' ইত্যাদি অনুসর্গের ব্যবহার হয়।
যথা- পরাণের চেয়ে প্রিয় = পরাণপ্রিয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

.
’আটঁকুড়ো’ বাগ্‌ধারার অর্থ কী?
  1. উচ্ছৃঙ্খল
  2. নি:সন্তান
  3. অলস
  4. অনভিজ্ঞ
  5. হতভাগ্য
ব্যাখ্যা

’আটঁকুড়ো’ বাগ্‌ধারার অর্থ- নি:সন্তান।

অন্যদিকে,
• ’উড়নচণ্ডী ’বাগ্‌ধারার অর্থ - উচ্ছৃঙ্খল।
• ’ইতুনিদকুঁড়ে’ বাগ্‌ধারার অর্থ   - অলস।
• ’আনাড়ি’ বাগ্‌ধারার অর্থ - অনভিজ্ঞ।
• ’আটকপালে’ বাগ্‌ধারার অর্থ - হতভাগ্য।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

.
কোনটি ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্বের উদাহরণ?
  1. মোটাসোটা
  2. গরম গরম
  3. ঝমঝম 
  4. আমটাম
  5. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা

• ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব:
- কোনো প্রাকৃতিক ধ্বনির অনুকরণে যেসব শব্দ তৈরি হয়, সেগুলোকে ধ্বন্যাত্মক শব্দ বলে।
- আর ধ্বন্যাত্মক শব্দের পনেরাবৃত্তিকে ধ্বান্যাত্মক দ্বিত বলে।
- যেমন- ঝমঝম, কুটুস- কুটুস, কুট কুট, জ্বলজ্বল, খক খক, খুটুর খুটুর, টুং টুং, জ্বলজ্বল, ঝমঝম, টসটস।

অন্যদিকে,
অনুকার দ্বিত্ব:
- পরপর প্রয়োগ হওয়া কাছাকাছি চেহারার শব্দকে অনুকার দ্বিত্ব বলে।
- এতে প্রথম শব্দটি অর্থপূর্ণ হলেও প্রায় ক্ষেত্রে দ্বিতীয় শব্দটি অর্থহীন হয় এবং প্রথম শব্দের অনুকরণে তৈরি হয়।
যেমন: গুটিশুটি, ঝিকিমিকি, মোটাসোটা, আমটাম, এলোমেলো ইত্যাদি।

পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব:
পুনরায় আবৃত্ত হলে তাকে পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব বলে।
যেমন: গরম গরম, জ্বর জ্বর, পর পর, কবি কবি, কথায় কথায়, ঘুম ঘুম ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২৫ সংস্করণ)।

.
’কুর্নিশ’ শব্দটি কোন ভাষা থেকে গৃহীত হয়েছে?
  1. আরবি
  2. তুর্কি 
  3. ফার্সি
  4. ফরাসি
  5. বাংলা
ব্যাখ্যা

• বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
- ’কুর্নিশ’ শব্দটি তুর্কি ভাষা থেকে গৃহীত
- এটি একটি বিশেষ্য পদ।
অর্থ:
-  সম্ভ্রমপূর্ণ অভিবাদন।।

• তুর্কি ভাষা থেকে গৃহীত গুরত্বপূর্ণ কিছু শব্দ :
- সওগাত, বাবুর্চি, , বেগম, কাবু, কাঁচি, তোপ, উজবুক, কোর্মা, চাকু, চোগা, তকমা।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

.
নঞ্‌ বহুব্রীহি সমাসের উদাহরণ কোনটি?
  1. নাতিদীর্ঘ
  2. নির্ভুল
  3. নাতিখর্ব
  4. অভাব
  5. কোনোটি নয়
ব্যাখ্যা

• নঞ্‌ বহুব্রীহি:
- বিশেষ্য পূর্বপদের আগে নঞ (না অর্থবোধক) অব্যয় যোগ করে বহুব্রীহি সমাস করা হলে তাকে নঞ বহুব্রীহি বলে। নঞ বহুব্রীহি সমাসে সাধিত পদটি বিশেষণ হয়।

যেমন:
- ন (নাই) জ্ঞান যার = অজ্ঞান,
- বে (নাই) হেড যার = বেহেড,
- না (নাই) চারা (উপায়) যার = নাচার।
- নি (নাই) ভুল যার= নির্ভুল,
- না (নয়) জানা যা = নাজানা, অজানা ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• নঞ্‌ তৎপুরুষ সমাস:
- না বাচক নঞ অব্যয় (না, নেই, নাই, নয়) পূর্বে বসে যে তৎপুরুষ সমাস হয়, তাকে নঞ তৎপুরুষ সমাস বলে। 
যথা-
- ন আচার = অনাচার,
- ন কাতর = অকাতর।
এরূপ – অনাদর, নাতিদীর্ঘ, নাতিখর্ব, অভাব, বেতাল ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

.
দেশি উপসর্গ যোগে গঠিত শব্দ কোনটি ? 
  1. অবতরণ
  2. অনুশীলন
  3. পরিহার
  4. অকাজ
  5. উৎক্ষেপণ
ব্যাখ্যা

• দেশি উপসর্গ যোগে গঠিত শব্দ = অকাজ।(অ-উপসর্গ)

- বাকি শব্দগুলো তৎসম উপসর্গযোগে গঠিত শব্দ। (অব,পরি, উৎ, অনু)

• বাংলা উপসর্গ:
- বাংলা উপসর্গ মোট একুশটি।
যথা-
- অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, উন (উনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

• তৎসম (সংস্কৃত) উপসর্গ:
- বাংলা ভাষায় বহু সংস্কৃত শব্দ হুবহু এসে গেছে। সেই সঙ্গে সংস্কৃত উপসর্গও তৎসম শব্দের আগে বসে শব্দের নতুন রূপে অর্থের সংকোচন সম্প্রসারণ করে থাকে।
- তৎসম উপসর্গ বিশটি:
যথা-
- প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অপি, অভি, উপ, আ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ৯ম-১০ম শ্রেণি,২০২৫ সালের সংস্করণ।

.
’হাতভারী’ বাগ্‌ধারার অর্থ কী?
  1. ভান করা
  2. নষ্ট করা
  3. লায়ন করা
  4. ব্যয়কুণ্ঠ
  5. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা

• ’হাতভারী’ বাগ্‌ধারার অর্থ  - ব্যয়কুণ্ঠ। 

অন্যদিকে,
মাথা খাওয়া - নষ্ট করা।
ভেক ধরা - ভান করা।
গা ঢাকা দেয়া - পলায়ন করা।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

.
প্রাকৃতিক ধ্বনির অনুকরণে সৃষ্ট শব্দের পুনরাবৃত্তিকে কী বলে?
  1. অনুকার দ্বিত্ব
  2. পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব
  3. ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব
  4. শব্দ দ্বিত্ব
  5. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা

• ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব:
⇒ কোনো প্রাকৃতিক ধ্বনির অনুকরণে যেসব শব্দ তৈরি হয়, সেগুলোকে ধ্বন্যাত্মক শব্দ বলে। যেমন ঠন একটি ধ্বন্যাত্মক শব্দ।
⇒  কোনো ধাতব পদার্থের সঙ্গে অন্য কোনো ধাতব পদার্থের সংঘর্ষে এই ধরনের ধ্বনি তৈরি হয়। ঠন শব্দটি পরপর দুই বার বা কখনো ততোধিক বার ব্যবহৃত হলে ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব সৃষ্টি হয়। 

• কয়েকটি ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্বের উদাহরণ:
কুট কুট, কোঁত কোঁত, কুটুস-কুটুস, খক খক, খুটুর-খুটুর, টুং টুং, ঠুক ঠুক, ধুপ ধুপ, দুম দুম, ঢং ঢং, চকচক, জ্বলজ্বল, ঝমঝম, টসটস, থকথকে, ফুসুর ফুসুর, ভটভট, শোঁ শোঁ, হিস হিস।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২৫ সংস্করণ)।

.
নিচের কোনটি আরবি ভাষা থেকে আগত শব্দ?
  1. কাজি
  2. খোয়াব
  3. আসমান
  4. আর্জি
  5. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা

 • আরবি ভাষা থেকে আগত কিছু গুরুত্বপূর্ণ শব্দ হলো:
হালাল, হারাম, কুমকুম, আমানত, আমামা, আমিন, আমির, আমিরাত, আম্বর, আয়াত, আয়েশ, আরশ, আর্জি, আলামত, আলিশান, আলেম, আশেক, আসর।

অন্যদিকে,
• ফারসি ভাষা থেকে আগত কিছু শব্দ হলো:
 নামাজ, বেহেশত, দারোগা, লুঙ্গি, সাদা, আসমান, কাজি, খোয়াব, চেহারা, কাগজ, চশমা, চারপায়া, ছয়লাপ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

১০.
কোনটি অনুকার দ্বিত্ব?
  1. টুং টুং
  2. জ্বলজ্বল
  3. গরম গরম
  4. কুট কুট
  5. গুটিশুটি
ব্যাখ্যা

• অনুকার দ্বিত্ব:
- পরপর প্রয়োগ হওয়া কাছাকাছি চেহারার শব্দকে অনুকার দ্বিত্ব বলে।
- এতে প্রথম শব্দটি অর্থপূর্ণ হলেও প্রায় ক্ষেত্রে দ্বিতীয় শব্দটি অর্থহীন হয় এবং প্রথম শব্দের অনুকরণে তৈরি হয়।
যেমন: গুটিশুটি, ঝিকিমিকি, মোটাসোটা, আমটাম, এলোমেলো ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব:
- কোনো প্রাকৃতিক ধ্বনির অনুকরণে যেসব শব্দ তৈরি হয়, সেগুলোকে ধ্বন্যাত্মক শব্দ বলে।
- আর ধ্বন্যাত্মক শব্দের পনেরাবৃত্তিকে ধ্বান্যাত্মক দ্বিত বলে।
- যেমন- ঝমঝম, কুটুস- কুটুস, কুট কুট, জ্বলজ্বল, খক খক, খুটুর খুটুর, টুং টুং, জ্বলজ্বল, ঝমঝম, টসটস।

• পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব:
পুনরায় আবৃত্ত হলে তাকে পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব বলে।
যেমন: গরম গরম, জ্বর জ্বর, পর পর, কবি কবি, কথায় কথায়, ঘুম ঘুম ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২৫ সংস্করণ)।

১১.
’ভ্রমরকৃষ্ণকেশ’ কোন প্রকার সমাসের উদাহরণ?
  1. উপমিত কর্মধারয়
  2. রূপক কর্মধারয়
  3. মধ্যপদলোপী কর্মধারয়
  4. উপমান কর্মধারয়
  5. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা

• উপমান কর্মধারয়: 
⇒ উপমান অর্থ তুলনীয় বস্তু। প্রত্যক্ষ কোনো বস্তুর সাথে পরোক্ষ কোনো বস্তুর তুলনা করলে প্রত্যক্ষ বস্তুটিকে বলা হয় উপমেয়, আর যার সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে তাকে বলা হয় উপমান। 

-  যেমন – ভ্রমরের ন্যায় কৃষ্ণ কেশ = ভ্রমরকৃষ্ণকেশ। এখানে ভ্রমর উপমান এবং কেশ উপমেয়। কৃষ্ণত্ব হলো সাধারণ ধর্ম। সাধারণ ধর্মবাচক পদের সাথে উপমানবাচক পদের যে সমাস হয়, তাকে উপমান কর্মধারয় সমাস বলে। 

• তুষারের ন্যায় শুভ্র =  তুষারশুভ্র, 
• অরুণের ন্যায় রাঙা  = অরুণরাঙা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২০ সংস্করণ)।

১২.
'আমমোক্তার' শব্দে ব্যবহৃত 'আম' কোন উপসর্গ?
  1. ফারসি
  2. আরবি
  3. ইংরেজি
  4. হিন্দি
  5. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা

'আমমোক্তার' শব্দে ব্যবহৃত 'আম' আরবি উপসর্গ।

• বিদেশি উপসর্গ:

- আরবি, ফারসি, ইংরেজি, হিন্দি এসব ভাষার বহু শব্দ দীর্ঘকাল ধরে বাংলা ভাষায় প্রচলিত আছে। এছাড়া কিছু বিদেশি উপসর্গও বাংলায় চালু আছে। বিদেশি উপসর্গ অনির্দিষ্ট বা অনির্ণেয়।

যেমন:
- আরবি উপসর্গ: আম, খাস, লা, গর, বাজে এবং খয়ের।
- ফারসি উপসর্গ: কার, দর, না, নিম, ফি, বদ, বে, বর, ব, কম।
- উর্দু উপসর্গ: হর
- ইংরেজি উপসর্গ: হেড, সাব, ফুল, হাফ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২১ সংস্করণ)।

১৩.
‘জলভাত’ বাগ্‌ধারার অর্থ কী?
  1. অকর্মণ্য
  2. অপ্রয়োজনীয়
  3. সহজ সাধ্য
  4. ক্ষণস্থায়ী
  5. গুজব
ব্যাখ্যা

- ‘জলভাত’ বাগ্‌ধারার অর্থ - সহজ সাধ্য।

ভিন্ন অর্থে ব্যবহৃত প্রায় একই দেখতে বাগ্‌ধারাগুলো হলো:
- ‘উড়ো কথা’ বাগ্‌ধারার অর্থ - গুজব।
- ‘উড়ো চিঠি’ বাগ্‌ধারার অর্থ - বেনামি পত্র।
- ‘ঢাকের বাঁয়া’ বাগ্‌ধারার অর্থ - অপ্রয়োজনীয়।
- ‘ঢেঁকি অবতার’ বাগ্‌ধারার অর্থ - নির্বোধ লোক।
- ‘জলের দাগ’ বাগ্‌ধারার অর্থ - ক্ষণস্থায়ী।
- ‘ঠুঁটো জগন্নাথ’ বাগ্‌ধারার অর্থ - অকর্মণ্য।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৪.
নিচের কোনটি ’রুঢ়ি শব্দ’?
  1. কর্তব্য 
  2. গবেষণা
  3. গায়ক
  4. চিকামারা
  5. জলধি
ব্যাখ্যা

 • রুঢ়ি শব্দ:
⇒ যে শব্দ প্রত্যয় বা উপসর্গযোগে মূল শব্দের অর্থের অনুগামী না হয়ে অন্য কোনো বিশিষ্ট অর্থ জ্ঞাপন করে, তাকে রূঢ়ি শব্দ বলে।
যেমন:
গবেষণা, বাঁশি, তৈল, সন্দেশ, প্রবীণ, হরিণ, পাঞ্জাবী, হস্তী ইত্যাদি।

• যৌগিক শব্দ:
⇒ যেসব শব্দের ব্যুৎপত্তিগত ও ব্যবহারিক অর্থ অভিন্ন তাদের যৌগিক শব্দ বলে।
যেমন:
গায়ক, দৌহিত্র, চিকামারা, বাবুয়ানা, মধুর, কর্তব্য ইত্যাদি।

• যৌগরূঢ় শব্দ:
⇒ সমাসনিষ্পন্ন যেসব শব্দ সমস্যমান পদসমূহের অনুগামি না হয়ে কোন বিশিষ্ট অর্থ গ্রহণ করে তাকে যৌগরূঢ় শব্দ বলে।
যেমন:
পঙ্কজ, রাজপুত, জলধি, মহাযাত্রা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১৫.
"ভালো ভালো আম নিয়ে এসো বাজার থেকে।" এখানে 'ভালো ভালো’ দ্বিরুক্তিটি কোন অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1.  স্বল্পকাল স্থায়ী
  2. আগ্রহ
  3. আধিক্য
  4. তীব্রতা
  5. কোনোটি নয়
ব্যাখ্যা

• বিশেষণ শব্দযুগলের বিশেষণ রূপে ব্যবহার:
১. আধিক্য বোঝাতে: ভালো ভালো আম নিয়ে এসো। ছোট ছোট ডাল কেটে ফেল।
. তীব্রতা বা সঠিকতা বোঝাতে: গরম গরম জিলাপি, নরম নরম হাত।
৩. সামান্যতা বোঝাতে: উড়ু উড়ু ভাব; কালো কালো চেহারা।

উল্লেখ্য,
পদের দ্বিরুক্তি
⇒ দুটি পদে একই বিভক্তি প্রয়োগ করা হয়, শব্দ দুটি ও বিভক্তি অপরিবর্তিত থাকে।
যেমন- ঘরে ঘরে লেখাপড়া হচ্ছে। দেশে দেশে ধন্য ধন্য করতে লাগল। মনে মনে আমিও এ কথাই ভেবেছি।

⇒ দ্বিতীয় পদের আংশিক ধ্বনিগত পরিবর্তন ঘটে, কিন্তু পদ-বিভক্তি অবিকৃত থাকে।
 যেমন- চোর হাতে নাতে ধরা পড়েছে। আমার সন্তান যেন থাকে দুধে ভাতে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

১৬.
নিচের কোনটি মৌলিক শব্দ?
  1. লাল
  2. নীলাকাশ
  3. দোলনা
  4. ডুবুরি
  5. ধুমাধুম 
ব্যাখ্যা

• মৌলিক শব্দ:
যে-সব শব্দ বিশ্লেষণ করা বা ভাঙা যায় না, গােটা শব্দটাই নিজে নিজেই সমপূর্ণ হয়ে আছে বা স্বয়ংসিদ্ধ, তাকে মৌলিক শব্দ বলে। মৌলিক শব্দ ভাঙতে চাইলেও তার ভগ্ন বা বিশ্লিষ্ট অংশের কোনাে অর্থ হয় না; সে কারণে অবিভাজ্য ও অর্থযুক্ত শব্দই মৌলিক শব্দ অর্থাৎ স্পষ্ট অর্থ ও অবিভাজ্যতাই মৌলিক শব্দের প্রধান বৈশিষ্ট্য।
যেমন- মা, পা, ঘােড়া, উট, বউ, গােলাপ, নাক, লাল, শাল, তিন, লতা ইত্যাদি।

• সাধিত শব্দ:
যেসব শব্দকে বিশ্লেষণ করলে তার মধ্যে এক বা একাধিক অর্থপূর্ণ অংশ থাকে, সেগুলােকে সাধিত শব্দ বলে। উপসর্গ বা প্রত্যয় যােগ করে অথবা সমাস প্রক্রিয়ায় সাধিত শব্দ তৈরি হয়।
যেমন - পরিচালক, গরমিল, সম্পাদকীয়, সংসদ সদস্য, নীলাকাশ, ডুবুরি, চলন্ত, দোলনা ইত্যাদি।
শব্দের দ্বিত্ব করেও সাধিত শব্দ হয়ে থাকে। যেমন: ফিসফিস, ধুমাধুম ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

১৭.
'উড়নপেকে' বাগ্‌ধারাটির অর্থ কী?
  1. অপব্যয়ী
  2. গ্মভীর প্রকৃতি
  3. ধীরে ধীরে
  4. দুর্লভ বস্তু
  5. মিতব্যয়ী
ব্যাখ্যা

• 'উড়নপেকে' বাগ্‌ধারাটির অর্থ - অপব্যয়ী।

কিছু গুরুত্বপূর্ণ বাগ্‌ধারা:

- 'আকাশের চাঁদ' বাগ্‌ধারাটির অর্থ - দুর্লভ বস্তু।
- 'দফা নিকেশ' বাগ্‌ধারাটির অর্থ - সমূহ সর্বনাশ।
- ‘নয় ছয়’ বাগ্‌ধারাটির অর্থ - অপব্যয়।
- 'ডিমে রোগা' বাগ্‌ধারার অর্থ - সর্বদা রুগ্‌ণ।
- "রাশভারী" বাগ্‌ধারার অথ - গ্মভীর প্রকৃতি।
- 'তিলেতিলে' বাগ্‌ধারার অর্থ - ধীরে ধীরে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৮.
নিচের কোনটি ফারসি উপসর্গযোগে গঠিত শব্দ?
  1. খাসমহল
  2. বেগতিক
  3. হররোজ
  4. গরমিল
  5. লাজওয়াব
ব্যাখ্যা

ফার্সি উপসর্গ সহযোগে গঠিত শব্দ = বেগতিক।

• বিদেশি উপসর্গ:
- আরবি, ফারসি, ইংরেজি, হিন্দি এসব ভাষার বহু শব্দ দীর্ঘকাল ধরে বাংলা ভাষায় প্রচলিত আছে। এছাড়া কিছু বিদেশি উপসর্গও বাংলায় চালু আছে। বিদেশি উপসর্গ অনির্দিষ্ট বা অনির্ণেয়।

যেমন:
- আরবি উপসর্গ: আম, খাস, লা, গর, বাজে এবং খয়ের।
- ফারসি উপসর্গ: কার, দর, না, নিম, ফি, বদ, বে, বর, ব, কম।
- উর্দু উপসর্গ: হর।
- ইংরেজি উপসর্গ: হেড, সাব, ফুল, হাফ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২১ সংস্করণ)।

১৯.
কোনটি দ্বিগু সমাসের উদাহরণ?
  1. তেমাথা
  2. দশগজি
  3. তেপায়া 
  4. চারহাতি
  5. চৌচালা
ব্যাখ্যা

দ্বিগু সমাস:
- সমাহার (সমষ্টি) বা মিলন অর্থে সংখ্যাবাচক শব্দের সঙ্গে বিশেষ্য পদের যে সমাস হয়, তাকে দ্বিগু সমাস বলে। দ্বিগু সমাসে সমাসনিষ্পন্ন পদটি বিশেষ্য পদ হয়।

যেমন:
- তিন কালের সমাহার = ত্রিকাল,
- চৌরাস্তার সমাহার = চৌরাস্তা,
- তিন মাথার সমাহার = তেমাথা,
- ত্রি (তিন) পদের সমাহার = ত্রিপদী,
- পাঁচ সেরের সমাহার = পঁসুরি ইত্যাদি।

অন্যদিকে, 
সংখ্যাবাচক বহুব্রীহি সমাস - দশ গজ পরিমাণ যার = দশগজি, চৌ (চার) চাল যে ঘরের = চৌচালা, সে (তিন) তার (যে যন্ত্রের) = সেতার।
 এরূপ -চারহাতি, তেপায়া ইত্যাদি

উৎস:
১) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২১ সংস্করণ)।
২) ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।