পরীক্ষা আর্কাইভ

প্রাইমারি ডেইলি কুইজ

পরীক্ষাপ্রাইমারি ডেইলি কুইজতারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়07 minutes
মোট প্রশ্ন১৪
সিলেবাস
বিষয়: সাধারণ জ্ঞান (আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি) টপিক: বৈশ্বিক ইতিহাস (যুদ্ধ-বিগ্রহ, সভ্যতা, বিপ্লব ইত্যাদি)। উৎস: ব্রিটানিকা, ওয়ার্ল্ড এটলাস, বাংলাপিডিয়া, বোর্ড বই (NCTB ও উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়), যেকোনো ভালো গাইড বই।
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

প্রাইমারি ডেইলি কুইজ

প্রাইমারি ডেইলি কুইজ · তারিখ অনির্ধারিত · ১৪ প্রশ্ন

.
প্রথম শিল্পবিপ্লবের সূচনা কোন আবিষ্কারের মাধ্যমে হয়েছিল?
  1. বাষ্পীয় ইঞ্জিন
  2. কম্পিউটার
  3. বিদ্যুৎ
  4. সেমি কনডাক্টর
ব্যাখ্যা

• শিল্প বিপ্লব:
- বর্তমান বিশ্ব টিকে আছে শিল্পভিত্তিক অর্থনীতির ওপর।
- বিশ্ব অর্থনীতির সবচেয়ে বেশি অগ্রগতি হয়েছে শিল্পবিপ্লবের ফলে।

⇒ ১ম শিল্প বিপ্লব:
- ১৭৮৪ সালে পানি ও বাষ্পীয় ইঞ্জিনের নানামুখী ব্যবহারের কৌশল আবিষ্কারের মাধ্যমে সংঘটিত হয়েছিল প্রথম শিল্পবিপ্লব।
- প্রথম শিল্প বিপ্লব সংঘটন কাল: ১৭৬০ সাল।
- ১৭৬০ সাল থেকে ইউরোপের দেশ ইংল্যান্ডে প্রথম শিল্প বিপ্লব শুরু হয়। 
- তাই ইংল্যান্ডকে শিল্প বিপ্লবের জন্মস্থান বলা হয়।

⇒ ২য় শিল্প বিপ্লব:
- দ্বিতীয় শিল্প বিপ্লব সংঘটন কাল: ১৮৭০ সাল।
- এই সময়ে প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে পণ্য উৎপাদন ব্যবস্থা উন্নতকরণ, টেলিগ্রাফ, রেলযোগাযোগ ব্যবস্থা, পানিসরবরাহ ইত্যাদির আবিষ্কার হয়।
- এসবের ফলে দ্রুত যোগাযোগ স্থাপন ও জীবনযাপন এর মান বৃদ্ধি পায়।
- বিভিন্ন অস্ত্রশস্ত্র আবিষ্কার হতে থাকে যা সেনাবাহিনীর আধুনিকায়নে সাহায্য করে।

⇒ ৩য় শিল্প বিপ্লব:
- দ্বিতীয় শিল্পবিপ্লবের ঠিক ১০০ বছরের মাথায় ১৯৬৯ সালে আবিষ্কৃত হয় ইন্টারনেট।
- শুরু হয় ইন্টারনেটভিত্তিক তৃতীয় শিল্পবিপ্লব।
- তৃতীয় শিল্পবিপ্লবের সময় তথ্যপ্রযুক্তির সহজ ও দ্রুত বিনিময় শুরু হলে সারা বিশ্বের গতি কয়েকগুণ বেড়ে যায়।
- ম্যানুয়াল জগৎ ছেড়ে যাত্রা শুরু হয় ভার্চুয়াল জগতের।

⇒ ৪র্থ শিল্প বিপ্লব:
- প্রযুক্তিনির্ভর ডিজিটাল বিপ্লবকেই বলা হচ্ছে চতুর্থ শিল্পবিপ্লব।
- যেখানে মানুষের আয়ত্তে আসছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং ইন্টারনেট অব থিংস বা যন্ত্রের ইন্টারনেট, যা সম্পূর্ণ রূপেই মানবসম্পদের বিকল্প হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে।

তথ্যসূত্র: Britannica.

.
‘কিউনিফর্ম’ মূলত কোন সভ্যতার নিদর্শন?
  1. মিশরীয়
  2. সুমেরীয়
  3. অ্যাসেরীয়
  4. ব্যাবিলনীয়
ব্যাখ্যা

• সুমেরীয় সভ্যতা:
- সুমেরীয়দের আবিষ্কৃত লিখন পদ্ধতির নাম “কিউনিফর্ম” (Cuneiform)।
- কিউনিফর্ম লিপি বাম থেকে ডানদিকে লেখাঁ হত এবং এর বর্ণের সংখ্যা ছিলো — ৩২টি।
- তারা বিশ্বের প্রথম মহাকাব্য হিসাবে বিবেচিত — “গিলগামেশের মহাকাব্য” (Epic of Gilgamesh) রচনা করেছিলেন।   

তথ্যসূত্র: ব্রিটানিকা ও হিস্টরি.কম এবং বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, অষ্টম শ্রেণি।

.
সম্প্রতি, ‘ডুরাল্ড লাইন’ সীমান্তে সংঘর্ষে জড়িয়েছে কোন দুটি দেশ? [নভেম্বর, ২০২৫]
  1. পাকিস্তান ও ভারত
  2. পাকিস্তান ও আফগানিস্তান
  3. আফগানিস্তান ও ইরান
  4. ভারত ও চীন
ব্যাখ্যা

• পাকিস্তান ও আফগানিস্তান সংঘর্ষ: 
- ১৮৯৩ সালে, ব্রিটিশ সরকারের পররাষ্ট্র সচিব স্যার হেনরি মর্টিমার ডুরান্ড এবং আফগানিস্তানের আব্দুর রহমান খানের মধ্যে আলোচনার ফলে ডুরান্ড চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়, যা আফগানিস্তান এবং ব্রিটিশ-শাসিত ভারতের মধ্যে সীমানাকে সংজ্ঞায়িত করে।
- পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে সাম্প্রতিকতম সংঘাতের আবহে আরো একবার শিরোনামে উঠে এসেছে সেই ডুরান্ড লাইন, যাকে কেন্দ্র করে বিতর্কও দীর্ঘদিন ধরেই চলে আসছে।
- দুই দেশের মধ্যে সাম্প্রতিকতম সংঘর্ষের সূত্রপাত চলতি মাসে (অক্টোবর, ২০২৫) আফগানিস্তান বেশ কিছু সময় ধরেই পাকিস্তানের বিরুদ্ধে তাদের সীমান্ত ও আকাশসীমা লঙ্ঘনের অভিযোগ করে আসছে।

- অন্যদিকে, পাকিস্তান আফগানিস্তানের তালেবান সরকারের কাছে নিষিদ্ধ তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তানের (টিটিপি) বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়ে আসছে।
- সাম্প্রতিক সময়ে পাকিস্তান যখন কাবুলে হামলা চালায় সেই সময় তারা দাবি করে এই অভিযানের নিশানায় ছিল টিটিপি।
- আফগানিস্তানও পাল্টা জবাব দেয়।
- ডুরান্ড লাইনের কাছে থাকা পাকিস্তানি সামরিক বাহিনীকেও নিশানা করে আফগানিস্তান।
- এই সংঘাত সমাধানের উদ্দেশ্যে দোহায় অনুষ্ঠিত পাকিস্তান-আফগানিস্তান বৈঠকে ডুরান্ড লাইনকে 'কাল্পনিক' বলে আখ্যা দেন আফগানিস্তানের ক্ষমতাসীন তালেবান সরকারের প্রতিরক্ষামন্ত্রী মোল্লা ইয়াকুব।
- তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন,
    ''এই সীমান্ত আফগানিস্তান কোনোদিন মেনে নেয়নি এবং এই বিষয়ে কী করণীয় তা নির্ধারণ করবে আফগানরাই।''

তথ্যসূত্র: বিবিসি। (Link)

.
ব্যাবিলনের কিংবদন্তি শূন্য উদ্যানের অবস্থান কোথায় ছিল?
  1. লেবানন
  2. ইরান
  3. ইরাক
  4. জর্ডান
ব্যাখ্যা

- ব্যাবিলনের কিংবদন্তি শূন্য উদ্যানের অবস্থান বর্তমান ইরাকে

• ব্যাবিলনের শূন্য উদ্যান:
- ‘ব্যাবিলনের শূন্য উদ্যান' নির্মাণ করেন রাজা নেবুচাঁদনেজার।
- প্রাচীন মেসোপটেমীয় সভ্যতার একটি শহর ব্যাবিলন।
- এই ব্যাবিলন শহরের (বর্তমান ইরাক) ইউফ্রেটিস নদীর তীরে খ্রিস্টপূর্ব ৬০০ সালে রাজা দ্বিতীয় নেবুচাঁদনেজার তাঁর রানি আমিতিসের মনোরঞ্জনের উদ্দেশ্যে একটি ছাদবাগান নির্মাণ করেন।
- একেই ব্যাবিলনের শূন্য উদ্যান বা ঝুলন্ত বাগান বলে।

উল্লেখ্য,
- একে ঝুলন্ত উদ্যান বলার কারণ হচ্ছে, এর ভিত্তিস্থাপন করার পর মাটি থেকে এর উচ্চতা ছিল ৮০ ফুট।
- জানা গেছে, প্রায় ৪ হাজার শ্রমিক দিনরাত পরিশ্রম করে তৈরি করেছিল এই উদ্যান।
- ৫১৪ খ্রিস্টাব্দে পার্শ্ববর্তী পারস্য রাজ্যের সাথে এক ভয়াবহ রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে এই সুন্দর উদ্যানটি সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস হয়ে যায়।
- এই সময় ব্যাবিলনের রাজপ্রাসাদ-সহ বিভিন্ন স্থাপনা ধ্বংস করে দেওয়া হয়।

তথ্যসূত্র: i) Britannica.
ii) বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, ষষ্ঠ শ্রেণি।

.
সাম্প্রতিক ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধ কতদিন স্থায়ী হয়েছিল? [নভেম্বর, ২০২৫]
  1. ১০ দিন
  2. ১২ দিন
  3. ১৩ দিন
  4. ১৪ দিন
ব্যাখ্যা

• ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধ:
- ১৩ জুন ইরানে  ইসরায়েলের হামলার মধ্য দিয়ে যুদ্ধ শুরু হয়।
- ২২ জুন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের তিনটি পরমাণু কেন্দ্রে হামলার মধ্য দিয়ে এই যুদ্ধে জড়িয়ে যায়।
- ২৩ জুন ইরান কাতারসহ মধ্যপ্রাচ্যের তিনটি দেশের মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে পাল্টা হামলা চালায়।
- মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধ বিরতির কথা জানান ২৪ জুন।
- ইরান-ইসরায়েল ১২ দিনের যুদ্ধে উভয়ের দেশেরই ব্যাপক অর্থনৈতিক ক্ষতি হয়েছে উভয় দেশের।

উল্লেখ্য,
- ১৩ জুন ২০২৫  ইসরায়েলের বিমান হামলায় নিহত হন ইরানের ছয় শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা, ৯ পরমাণু বিজ্ঞানীসহ অন্তত ২৯ জন।
- পাল্টা জবাবে ইরান শতাধিক ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ে, যার কিছু তেল আবিবে আঘাত হানে– ৩৫ জন হতাহত হয়েছে। 

তথ্যসূত্র: ডয়েচে ভেলে। (Link)

.
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় মার্কিন নৌবাহিনীর ঘাঁটিতে পার্ল হারবারে আক্রমণ চালিয়েছিল কোন দেশ?
  1. জাপান
  2. জার্মানি
  3. রাশিয়া
  4. ইতালি
ব্যাখ্যা

• পার্ল হারবার আক্রমণ:
- উত্তর প্রশান্ত মহাসাগরের হাওয়াই দ্বীপপুঞ্জ পার্ল হারবার ছিল যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় নৌঘাঁটি।
- ঘাঁটিটি বানানো হয় ১৯০৮ সালে।
- ১৯৪০ সালে যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান নৌঘাঁটি ক্যালিফোর্নিয়া থেকে হাওয়াই দ্বীপপুঞ্জের পার্ল হারবারে স্থানান্তর করা হয়।
- কৌশলগত দিক দিয়ে এই ঘাঁটি ছিল যুক্তরাষ্ট্রের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সামরিক এলাকা।

- যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ড থেকে প্রায় দুই হাজার মাইল এবং জাপান থেকে প্রায় চার হাজার মাইলে দূরে অবস্থিত ছিল এই নৌঘাঁটি।
- ১৯৪১ সালের ৭ ডিসেম্বর পার্ল হারবারে অবস্থিত মার্কিন নৌঘাঁটিতে আক্রমণ করে বসে জাপানের সামরিক বাহিনী।
- জাপানের এই আক্রমণের সঙ্গে সঙ্গে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সব হিসাব নিকাশ পাল্টে যায়।
- জাপানের এই অতর্কিত ও ধ্বংসাত্মক হামলার পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্বযুদ্ধে উদাসীন থাকা যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধে অংশ নেয় সক্রিয়ভাবে।

উল্লেখ্য,
- দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের আগে জাপান ছিল আগ্রাসি একটা দেশ।
- চীনের সঙ্গে পরপর দুটি যুদ্ধজয়ের পর রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধজয়ে জাপান আরও বেশি আগ্রাসি হয়ে ওঠে।
- এরপর প্রথম বিশ্বযুদ্ধে জয়লাভ করায় জাপান আরও সাম্রাজ্যবাদী হয়ে ওঠে।
- ১৯৩১ সালে চীনের মাঞ্চুরিয়া আক্রমণের মধ্য দিয়ে জাপান তাদের আধিপত্য বিস্তার শুরু করে।

তথ্যসূত্র: i) Britannica.
ii) প্রথম আলো।

.
চীনের সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবের নেতা কে ছিলেন?
  1. মাও সে তুং
  2. চিয়াং কাই-শেক
  3. সান ইয়েৎ সেন
  4. শি জিন পং
ব্যাখ্যা

• গণচীন:
- ১৯১২ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি চীনে প্রায় দুই হাজার বছরের রাজতন্ত্র উচ্ছেদ হয়ে প্রজাতন্ত্রের সূচনা হয়।
- এই দিন চীনের কিং রাজবংশের সর্বশেষ সম্রাট পুয়িকে সিংহাসন থেকে উৎখাত করা হয়।
- ১৯৪৯ সালে মাও সেতুং এর নেতৃত্বে চীনে সমাজতান্ত্রিক বিপ্লব সংঘটিত হয় এবং গণপ্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়।
- ১৯৪৯ সালের ১লা অক্টোবর, এক রক্তক্ষয়ী বিপ্লবের মাধ্যমে China) বা গণচীন প্রতিষ্ঠিত হয়।
- মাও সেতুং কে গণচীনের জনক বলা হয়।

উল্লেখ্য,
- ১৯১১ সালের অক্টোবরে সান ইয়েৎ সেনের নেতৃত্বে চীনে প্রজাতান্ত্রিক বিপ্লব সংঘটিত হয়।
- ১৯৬৬ সালে কমিউনিস্ট নেতা মাও সেতুং- এর আহ্বানে চীনের সাংস্কৃতিক বিপ্লব শুরু হয়।
- এটি ১৯৭৬ সালে সমাপ্ত হয়।

তথ্যসূত্র: ব্রিটানিকা।

.
'দ্বিতীয় ইন্দোচীন' যুদ্ধ নামে পরিচিত যুদ্ধ কোনটি?
  1. কোরিয়া যুদ্ধ
  2. ভিয়েতনাম যুদ্ধ
  3. আফিম যুদ্ধ
  4. উপসাগরীয় যুদ্ধ
ব্যাখ্যা

• ভিয়েতনাম যুদ্ধ:
- ভিয়েতনাম যুদ্ধ দ্বিতীয় ইন্দোচীন যুদ্ধ নামে পরিচিত।
- এটি একটি দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত যা প্রায় ২০ বছর (১৯৫৪-৭৫) ধরে চলে।
- এটি ছিল উত্তর ভিয়েতনাম (সমাজতান্ত্রিক) ও দক্ষিণ ভিয়েতনামের (মার্কিন-সমর্থিত) মধ্যে সংঘটিত একটি গৃহযুদ্ধ।

উল্লেখ্য,
- ১৯৭৩ সালে মার্কিন সৈন্য প্রত্যাহারে উত্তর ভিয়েতনাম ও আমেরিকার মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
- ১৯৭৫ সালের ৩০ এপ্রিল উত্তর ভিয়েতনাম জয়লাভ করে এবং দক্ষিণ ভিয়েতনাম দখল করে নেয়।
- উত্তর ও দক্ষিণ ভিয়েতনামে সমাজতান্ত্রিক শাসনে একীভূত হয়।

তথ্যসূত্র: History.com

.
'বোস্টন টি পার্টি' কোন বিপ্লবের শুরু হিসেবে বিবেচিত?
  1. অরেঞ্জ বিপ্লব
  2. অক্টোবর বিপ্লব
  3. আমেরিকান বিপ্লব
  4. টিউলিপ বিপ্লব
ব্যাখ্যা

• বোস্টন টি পার্টি:
- 'বোস্টন টি পার্টি' আমেরিকান বিপ্লবের সূচনা করে।
- এটি ছিল ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক প্রতিবাদ এবং এটি আমেরিকান স্বাধীনতা যুদ্ধের দিকে পরিচালিত করে।

- Boston Tea party সংঘটিত হয়েছিল ১৭৭৩ সালের ১৬ ডিসেম্বর।
- এই পার্টিটি ছিল বোস্টনে সন অব লিবার্টিদের একটি রাজনৈতিক প্রতিবাদ।
- মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে টি পার্টিটি একটি ঐতিহাসিক ঘটনা।
- ১৭৭০ সালের ৫ মার্চ বোস্টন রাজস্ব বিভাগের সামনে আমেরিকানদের সাথে ব্রিটিশ সৈনিকরা কর আদায়ের ইস্যুকে কেন্দ্র করে কয়েক দফা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।
- তখন ব্রিটিশরা উত্তেজিত ব্যবসায়ীদের দিকে গুলি ছুড়লে সেখানে ৫ জন নিহত হয়।
- অংশগ্রহণকারীরা কেউ কেউ আদিবাসী মার্কিনীদের ছদ্মবেশে চা আইনের বিরোধিতায়, ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি কর্তৃক প্রেরিত চায়ের একটি গোটা চালান ধ্বংস করে দেন।
- তারা এরপর জাহাজে উঠে পড়েন এবং চায়ের সিন্দুকগুলো বোস্টন পোতাশ্রয়ে ছুড়ে ফেলেন।
- ব্রিটিশ সরকার এর কঠোরভাবে জবাব দেয় এবং এই ঘটনাটি মার্কিন বিপ্লবের দিকে এগিয়ে যায়।
- এই ঘটনাটি ১৭৭৬ সালে আমেরিকার স্বাধীনতা যুদ্ধকে ত্বরান্বিত করে।

তথ্যসূত্র: History.com.

১০.
ইসলামের ইতিহাসে বিখ্যাত বদরের যুদ্ধ সংঘটিত হয় কবে?
  1. ৬২৫ সালে
  2. ৬২৪ সালে
  3. ৬২৭ সালে
  4. ৬২৯ সালে
ব্যাখ্যা

• বদরের যুদ্ধ
- সংঘটন কাল:- ৬২৪ খিস্টাব্দ (২য় হিজরী)।
- যুদ্ধের পক্ষ:- মুসলমান এবং মক্কার কুরাইশগণ।
- ইসলামের ইতিহাসে প্রথম যুদ্ধ। ৩১৩ জন মুসলিম সৈন্য মক্কার কুরাইশদের প্রায় ১০০০ সৈন্যকে হারিয়ে দেয়। এই যুদ্ধ জয়ের ফলে ইসলাম ধর্মের্র রাজনৈতিক ভিত্তি প্রতিষ্ঠিত হয়।      
- ১৭ রমজান ঐতিহাসিক বদর দিবসকে পবিত্র কোরআনে ‘ইয়াওমুল ফুরকান’ বা সত্য-মিথ্যা প্রভেদের দিন নামে আখ্যা দেওয়া হয়েছে।  

উল্লেখ্য, 
- উহুদের যুদ্ধ ৬২৫ খ্রিস্টাব্দ (৩য় হিজরী)
- খন্দকের যুদ্ধ ৬২৭ খিস্টাব্দ (৫ম হিজরী)
- খায়বারের যুদ্ধ ৬২৯ খিস্টাব্দ (৭ম হিজরী)  

তথ্যসূত্র: ব্রিটানিকা।

১১.
নিচের কোন যুদ্ধের সাথে “ম্যানহাটন প্রজেক্ট” সম্পর্কিত?
  1. ১ম বিশ্বযুদ্ধ
  2. ২য় বিশ্বযুদ্ধ
  3. রুশ-ইউক্রেন যুদ্ধ
  4. ভিয়েতনাম যুদ্ধ
ব্যাখ্যা

• ম্যানহাটান প্রজেক্ট:
- পারমাণবিক বোমা তৈরি করতে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় যুক্তরাষ্ট্র একটি প্রকল্প হাতে নিয়েছিল।
- এই প্রকল্পের নাম ছিল 'ম্যানহাটান প্রজেক্ট'।
- পারমাণবিক বোমার জনক রবার্ট ওপেনহেইমার ছিলেন ম্যানহাটান প্রজেক্টের প্রধান।
- জাপানের দুটি শহরে এই বোমা ফেলার পর বিপুল প্রাণহানি আর ধ্বংসলীলা ঘটেছিল।
- ৬ আগস্ট, ১৯৪৫ জাপানের হিরোশিমা শহরে যুক্তরাষ্ট্র প্রথম লিটলবয় নামের পারমাণবিক বোমা নিক্ষেপ করে।
- ৯ আগস্ট, ১৯৪৫ ফ্যাটম্যান নামের বোমা নিক্ষেপ করা হয় নাগাসাকি শহরে।
- ৩৩তম মার্কিন প্রেসিডেন্ট হ্যারি এস ট্রুম্যান এই পারমাণবিক বোমা বর্ষণের নির্দেশ দেন।

তথ্যসূত্র: Britannica.

১২.
ফকল্যান্ড দ্বীপকে কেন্দ্র করে কোন দুটি দেশের মধ্যে যুদ্ধ হয়েছিল?
  1. যুক্তরাজ্য ও আর্জেন্টিনা
  2. যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্স
  3. আর্জেন্টিনা ও স্পেন
  4. যুক্তরাজ্য ও স্পেন
ব্যাখ্যা

• ফকল্যান্ড যুদ্ধ (Falklands War)
- যুদ্ধ সংঘটনকাল: ২ এপ্রিল, ১৯৮২ — ১৪ জুন, ১৯৮২ সাল পর্যন্ত।
- পক্ষসমূহ: যুক্তরাজ্য ও আর্জেন্টিনা। 
- যুদ্ধ সংঘটনের স্থান: ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ, দক্ষিণ জর্জিয়া দ্বীপ ও দক্ষিণ স্যান্ডুইচ দ্বীপ।  
- ফলাফল: যুক্তরাজ্য বিজয়ী ও ফকল্যান্ড সহ কয়েকটি দ্বীপাঞ্চলে যুক্তরাজ্যের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হয়।

- ২ এপ্রিল, ১৯৮২ সালে আর্জেন্টিনার তৎকালীন সামরিক সরকার দক্ষিণ আটলান্টিক মহাসাগরে অবস্থিত ব্রিটিশ নিয়ন্ত্রিত ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ, দক্ষিণ জর্জিয়া ও দক্ষিণ স্যান্ডুইচ দ্বীপে আক্রমণ করে দখল করে নেয়।
- ব্রিটিশ তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী মার্গারেট থ্যাচার আর্জেন্টিনার উপর সর্বাত্মক যুদ্ধ ঘোষণা করেন।    
- সকল নৌযুদ্ধে হেরে আর্জেন্টিনা ১৪ জুন, ১৯৮২ সালে আত্মসমর্পনে সম্মত হয়।
- এর ফলে ঐসকল দ্বীপে আবার ব্রিটিশ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হয়। যুদ্ধে পরাজয়ের ফলে ১৯৮৩ সালে আর্জেন্টিনায় সামরিক সরকার ক্ষমতা হারায়।    

তথ্যসূত্র: হিস্টোরি ডটকম এবং ব্রিটানিকা।   

১৩.
'ওয়েস্টফেলিয়া চুক্তি' কোন ঐতিহাসিক যুদ্ধের শেষে স্বাক্ষরিত হয়েছিল?
  1. ত্রিশ বছরের যুদ্ধ
  2. সলফারিনো যুদ্ধ
  3. শতবর্ষী যুদ্ধ
  4. পেলোপনেসীয় যুদ্ধ
ব্যাখ্যা

• ওয়েস্টফেলিয়া চুক্তি:
- ১৬৪৮ সালের ২৪শে অক্টোবর ওয়েস্টফালিয়া চুক্তি এর মাধ্যমে ত্রিশবছরব্যাপী যুদ্ধের সমাপ্তি ঘটে।
- এই চুক্তির মাধ্যমে প্রটেস্ট্যান্ট রাষ্ট্রগুলি ধর্মীয় স্বাধীনতা পায়, ফ্রান্সকে শক্তিশালী করতে সাহায্য করে এবং ইউরোপে তাদের রাজনৈতিক প্রভাব বৃদ্ধি পায়, অস্ট্রিয়ার হাবসবার্গ সম্রাটদের ক্ষমতা হ্রাস পায়।

» ত্রিশ বছরের যুদ্ধ (Thirty years war):
- ত্রিশবছরব্যাপী যুদ্ধ ছিল ১৬১৮ খ্রিস্টাব্দ - ১৬৪৮ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত সংঘটিত একটি দীর্ঘমেয়াদি অনুক্রমিক যুদ্ধ।
- সপ্তদশ শতাব্দীর প্রথমভাগে ইউরোপে প্রোটেস্ট্যান্ট এবং ক্যাথলিকদের মধ্যে এই যুদ্ধ সংগঠিত হয়।
- ধর্মই এই যুদ্ধের একমাত্র কারণ ছিলো তা নয়, বরং ধর্ম এবং রাজনীতি উভয় কারণে এক জটিল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়ে এটি একটি আন্তর্জাতিক যুদ্ধে পরিণত হয়।
- এই যুদ্ধে প্রোটেস্টান্ট এবং ক্যাথলিক উভয়েই তাদের নিজস্ব শক্তি বজায় রেখে এগিয়ে যেতে থাকে।
- দীর্ঘ ত্রিশবছর ধরে যুদ্ধে সমগ্র জার্মানি ধ্বংসস্তুপে পরিণত হয়।

তথ্যসূত্র: i) Britannica.
ii) আধুনিক ইউরোপের ইতিহাস, এস এস এইচ এল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৪.
কোন সভ্যতার মানুষ সর্বপ্রথম সপ্তাহকে ৭ দিনে ভাগ করেছিল?
  1. ব্যাবিলনীয়
  2. সুমেরীয়
  3. অ্যাসেরীয়
  4. ক্যালডীয়
ব্যাখ্যা

• ক্যালডীয় সভ্যতা:
- ব্যাবিলন শহরকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছিলো ক্যালডীয় সভ্যতা।
- ইতিহাসে এটি নতুন ব্যাবিলনীয় সভ্যতা হিসাবেও পরিচিত।
- ক্যালডীয় সভ্যতার স্থপতি সম্রাট নেবুচাদনেজার ব্যাবিলনের শূন্যউদ্যান নির্মান করেন।
- ক্যালডীয়রাই প্রথম সপ্তাহকে ৭ দিনে ভাগ করে।
- ক্যালডীয়রা ১২ টি নক্ষত্রপুঞ্জের সন্ধান পান যার থেকে ১২ টি রাশিচক্রের সৃষ্টি হয়।

তথ্যসূত্র: নবম ও দশম শ্রেনীর ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা বই।