পরীক্ষা আর্কাইভ

Science Expert

পরীক্ষাScience Expertতারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়07 minutes
মোট প্রশ্ন১৮
সিলেবাস
পরীক্ষা – ১৮ টপিক: - রোগের কারণ ও প্রতিকার, ইম্যুনাইজেশন ও ভ্যাকসিনেশন - সংক্রামক রোগ, HIV, পোলিও, টিবি(যক্ষ্মা) [ক্লাস – ৩৮, ৩৯] (২য় রাউন্ড)
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

Science Expert

Science Expert · তারিখ অনির্ধারিত · ১৮ প্রশ্ন

.
জিনতত্ত্ব ও আধুনিক জীববিজ্ঞানে ভাইরাস কী হিসেবে ব্যবহৃত হয়?
  1. অনুঘটক
  2. এনজাইম
  3. ভেক্টর
  4. হরমোন
ব্যাখ্যা

• ভাইরাস জিন স্থানান্তরের বাহক (Vector) হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

• ভাইরাসের উপকারিতা:

- বিজ্ঞানীরা অনেক গবেষণা ও পরীক্ষার মাধ্যমে ভাইরাসকে মানবকল্যাণে বিভিন্নভাবে ব্যবহারযোগ্য উপাদানে রূপান্তর করতে সক্ষম হয়েছেন। ভাইরাসের উল্লেখযোগ্য উপকারিতাগুলো হলো—

- বসন্ত, পোলিও এবং জলাতঙ্ক রোগের প্রতিরোধক টিকা (Vaccine) ভাইরাস ব্যবহার করেই তৈরি করা হয়।
- ভাইরাসের মাধ্যমে উদ্ভিদের রোগ প্রতিরোধক টিকা তৈরি করা সম্ভব হয়েছে।
- ভাইরাসকে কখনো কখনো অ্যালার্জি, জিনতত্ত্ব ও আধুনিক জীববিদ্যা গবেষণায় বাহক (Vector) হিসেবে ব্যবহার করা হয়।
- ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া নিয়ন্ত্রণে ভাইরাস ব্যবহৃত হয়। যেমন— ফাজ ভাইরাস ব্যাকটেরিয়াকে ধ্বংস করে ব্যাকটেরিয়াজনিত বিভিন্ন রোগ থেকে মানুষকে রক্ষা করে।
- কিছু ভাইরাস ব্যবহার করে ক্ষতিকর পোকামাকড় ও কীটপতঙ্গ দমন করা সম্ভব হয়েছে।
- কোষীয় প্রক্রিয়া, অভিব্যক্তি ও জেনেটিক নিয়ন্ত্রণ সম্পর্কে জ্ঞান অর্জনে ভাইরাস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
- ভাইরাস জীব ও জড়ের মধ্যবর্তী বৈশিষ্ট্য প্রদর্শন করে, যা জীববিজ্ঞানের মৌলিক ধারণা বোঝার ক্ষেত্রে সহায়ক।
 
• ভাইরাসের কৃষিক্ষেত্রে প্রভাব (উদাহরণ):

- লাল টিউলিপ ফুলে ভাইরাস আক্রমণের ফলে লম্বা লম্বা সাদা দাগ সৃষ্টি হয়।
- এর ফলে ফুলের সৌন্দর্য বৃদ্ধি পায় এবং বাজারে ফুলের মূল্য বেড়ে যায়।

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

.
এইচআইভি (HIV) কোন রোগ সৃষ্টি করে?
  1. ডেঙ্গু
  2. এইডস
  3. জলাতংক
  4. পোলিও
ব্যাখ্যা

• HIV ভাইরাস মানুষের AIDS রোগের সৃষ্টি করে।

• ভাইরাসজনিত রোগ (উদাহরণ):

- এইচআইভি (HIV):
- পোষক: মানুষ,
- রোগ: এইডস।

- র‌্যাবিস ভাইরাস:
- পোষক: মানুষ,
- রোগ: জলাতঙ্ক।

- ডেঙ্গু ভাইরাস:
- পোষক: মানুষ,
- রোগ: ডেঙ্গু।

- পোলিও ভাইরাস:
- পোষক: মানুষ,
- রোগ: পোলিওমাইলাইটিস।

- ফুট অ্যান্ড মাউথ ডিজিজ ভাইরাস:
- পোষক: গরু, ভেড়া, ছাগল, মহিষ,
- রোগ: পা ও মুখের ক্ষত।



উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

.
Bacillus subtilis ব্যাকটেরিয়া থেকে কোন অ্যান্টিবায়োটিক প্রস্তুত করা হয়?
  1. স্ট্রেপ্টোমাইসিন 
  2. পলিমিক্সিন
  3. সাবটিলিন
  4. পেনিসিলিন
ব্যাখ্যা

• Bacillus subtilis ব্যাকটেরিয়া থেকে সাবটিলিন প্রস্তুত করা হয়।

• চিকিৎসাক্ষেত্রে ব্যাকটেরিয়া:

- অ্যান্টিবায়োটিক প্রস্তুতকরণ:
-ব্যাকটেরিয়া থেকে বিভিন্ন অ্যান্টিবায়োটিক প্রস্তুত করা হয়।
- যেমন— Bacillus subtilis থেকে সাবটিলিন এবং Bacillus polymyxa থেকে পলিমিক্সিন প্রস্তুত করা হয়।

-টিকা (Vaccine) প্রস্তুতকরণ:
- ব্যাকটেরিয়া থেকে কলেরা, টাইফয়েড ও যক্ষ্মা রোগের টিকা প্রস্তুত করা হয়।

- ডি.পি.টি. (DPT) টিকা:
- ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ও ধনুষ্টঙ্কার রোগের প্রতিরোধে ব্যাকটেরিয়া থেকে টিকা প্রস্তুত করা হয়।
- যেমন— Corynebacterium diphtheriae (D), Bordetella pertussis (P) এবং Clostridium tetani (T)।
- এই তিনটি রোগের সম্মিলিত টিকাকে DPT টিকা বলা হয়।

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

.
যক্ষ্মা রোগের জন্য দায়ী ব্যাকটেরিয়ার নাম কোনটি?
  1. Salmonella typhosa
  2. Vibrio cholerae
  3. Mycobacterium tuberculosis
  4. Clostridium tetani
ব্যাখ্যা

• রোগ: যক্ষ্মা, ব্যাকটেরিয়ার নাম: Mycobacterium tuberculosis.

• রোগ ও সংশ্লিষ্ট ব্যাকটেরিয়ার তালিকা:

- যক্ষ্মা:
- ব্যাকটেরিয়ার নাম: Mycobacterium tuberculosis.

- নিউমোনিয়া:
- ব্যাকটেরিয়ার নাম: Diplococcus pneumoniae.

- টাইফয়েড:
- ব্যাকটেরিয়ার নাম: Salmonella typhosa.

- কলেরা:
- ব্যাকটেরিয়ার নাম: Vibrio cholerae.

- ডিপথেরিয়া:
- ব্যাকটেরিয়ার নাম: Corynebacterium diphtheriae.

- আমাশয়: 
ব্যাকটেরিয়ার নাম: Bacillus dysenteriae.

- ধনুষ্টঙ্কার:
- ব্যাকটেরিয়ার নাম: Clostridium tetani.

- হুপিং কাশি:
ব্যাকটেরিয়ার নাম: Bordetella pertussis.

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

.
গ্রাইসিওফুলভিন কোন ধরনের রোগের চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়?
  1. ব্যাকটেরিয়াজনিত রোগ
  2. ভাইরাসজনিত রোগ
  3. ছত্রাকজনিত ত্বকের রোগ
  4. পরজীবীজনিত রোগ
ব্যাখ্যা

• গ্রাইসিওফুলভিন দাদ ও অন্যান্য ছত্রাকজনিত ত্বক রোগে ব্যবহৃত হয়।

• অ্যান্টিবায়োটিক ও ঔষধ শিল্পে ছত্রাকের ব্যবহার:

- গ্রাইসিওফুলভিন প্রস্তুতকরণ:
- Penicillium griseofulvum নামক ছত্রাক প্রজাতি থেকে গ্রাইসিওফুলভিন নামক ঔষধ প্রস্তুত করা হয়।
- এই ঔষধ মানুষ ও অন্যান্য প্রাণীর দাদ ও ত্বকের বিভিন্ন ছত্রাকজনিত রোগ নিরাময়ে ব্যবহৃত হয়।

- পেনিসিলিনের আবিষ্কার ও উৎপাদন:
- ১৯২৮ সালে আলেকজান্ডার ফ্লেমিং অ্যান্টিবায়োটিক পেনিসিলিন (Penicillin) আবিষ্কার করেন।
- তিনি প্রথমে Penicillium notatum ছত্রাক থেকে পেনিসিলিন প্রস্তুত করেন।

- বাণিজ্যিক উৎপাদন:
- পরবর্তীতে Penicillium notatum থেকে উৎপাদন কম হওয়ায়,
- Penicillium chrysogenum থেকে উচ্চ মানের ও অধিক পরিমাণে পেনিসিলিন বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদন করা হয়।

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

.
ত্বকের এপিডার্মিস স্তরে উৎপন্ন মেলানিনের প্রধান কাজ কী?
  1. জীবাণু ধ্বংস করা
  2. ত্বক মসৃণ রাখা
  3. অতিবেগুনি রশ্মি শোষণ করা
  4. ঘাম নিঃসরণ করা
ব্যাখ্যা

• মেলানিন সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি শোষণ করে।

• প্রতিরক্ষায় ত্বকের ভূমিকা:

- ত্বক মানুষের শরীরের প্রথম স্তরের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা হিসেবে কাজ করে।
- এটি দেহকে বিভিন্ন ধরনের জীবাণু, ক্ষতিকর রাসায়নিক পদার্থ এবং পরিবেশগত ক্ষতি থেকে সুরক্ষা প্রদান করে।

• সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি থেকে সুরক্ষা:
- ত্বকের এপিডার্মিস স্তরের কোষে মেলানিন (melanine) নামক রঞ্জক পদার্থ উৎপন্ন হয়, যা সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি শোষণ করে ত্বককে ক্যান্সারসহ বিভিন্ন ক্ষতিকর প্রভাব থেকে রক্ষা করে।

• যান্ত্রিক বাধা সৃষ্টি:
- ত্বকের বাইরের স্তরটি দৃঢ় ও কেরাটিনাইজড (keratinized) আবরণ দ্বারা গঠিত, যা দেহের ভেতরে জীবাণু, বিষাক্ত পদার্থ ও ব্যাকটেরিয়ার প্রবেশে একটি কার্যকর বাধা সৃষ্টি করে।

• ফ্যাগোসাইটোসিস প্রক্রিয়া:
ত্বক কেটে গেলে বা ক্ষত সৃষ্টি হলে, ত্বকে উপস্থিত হিস্টিওসাইট (ম্যাক্রোফেজ) জীবাণুকে গ্রাস করে দেহকে সংক্রমণ থেকে রক্ষা করে।

• অম্লীয় পরিবেশ সৃষ্টি:
- ঘাম ও তেল গ্রন্থির নিঃসরণ ত্বকের উপরিভাগের pH মানকে অম্লীয় (pH = 3–5) করে তোলে। এর ফলে অধিকাংশ অণুজীব দীর্ঘ সময় ত্বকে টিকে থাকতে পারে না।

• উপকারী ব্যাকটেরিয়ার ভূমিকা:
কিছু উপকারী ব্যাকটেরিয়া ত্বকে অবস্থান করে অ্যাসিড ও বিপাকীয় বর্জ্য নিঃসরণ করে, যা ক্ষতিকর অণুজীবের বংশবিস্তার রোধ করে।

• লাইসোজাইমের কার্যকারিতা:
ঘাম নিঃসৃত লবণ ও ফ্যাটি এসিডে উপস্থিত লাইসোজাইম (lysozyme) ব্যাকটেরিয়ার কোষ প্রাচীর ধ্বংস করে।

• লিপিড স্তরের সুরক্ষা:
- ত্বকের নিঃসৃত লিপিড পদার্থ অণুজীবের বৃদ্ধি প্রতিরোধ করে এবং দেহকে সংক্রমণ থেকে সুরক্ষিত রাখে।
 
 উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

.
অ্যান্টিজেন বলতে কী বোঝায়?
  1. দেহের নিজস্ব প্রোটিন
  2. দেহে উপস্থিত এনজাইম
  3. বহিরাগত প্রোটিন বা পলিস্যাকারাইড
  4. দেহে উৎপন্ন অ্যান্টিবডি
ব্যাখ্যা

• অ্যান্টিজেন হলো non-self বা বহিরাগত পদার্থ।

• অ্যান্টিজেন (Antigen):

- অ্যান্টিজেন হলো যেকোনো বিজাতীয় প্রোটিন বা পলিস্যাকারাইড, যা দেহে স্বাভাবিকভাবে উপস্থিত থাকে না।
- এই ধরনের পদার্থ দেহে প্রবেশ করলে দেহের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় হয়।

উদাহরণ:
- ব্যাকটেরিয়া বা তাদের নিঃসৃত বিষাক্ত পদার্থ (Toxin) দেহে প্রবেশ করলে,
- দেহকোষে উপস্থিত নির্দিষ্ট প্রোটিনের সঙ্গে প্রতিক্রিয়া করে অ্যান্টিজেন হিসেবে কাজ করে।

• অ্যান্টিজেন–অ্যান্টিবডি সম্পর্ক:
- একটি নির্দিষ্ট অ্যান্টিজেন দেহে প্রবেশ করলে তার বিরুদ্ধে একটি নির্দিষ্ট অ্যান্টিবডি (Antibody) উৎপন্ন হয়।
- এই প্রক্রিয়াকে Antibody generation বলা হয়।

• অ্যান্টিজেনের বৈশিষ্ট্য:
- অ্যান্টিজেন অবশ্যই non-self বা বহিরাগত পদার্থ হতে হবে।
- এতে ইমিউনোজেনিসিটি (Immunogenicity) অর্থাৎ রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা উদ্দীপিত করার সক্ষমতা থাকতে হবে।
- অধিকাংশ অ্যান্টিজেন প্রোটিনধর্মী বা জটিল গঠনবিশিষ্ট হয়।
- অ্যান্টিজেনের আণবিক ভর সাধারণত ১০,০০০ ডাল্টনের বেশি হয়।

• অ্যান্টিজেনের গঠনগত প্রকৃতি:
- অ্যান্টিজেন সাধারণত—
- প্রোটিন,
- বৃহৎ পলিস্যাকারাইড,
- গ্লাইকোপ্রোটিন অথবা,
- নিউক্লিওপ্রোটিন,
- প্রকৃতির হতে পারে।

• অ্যান্টিবডির সাথে সম্পর্ক:
- অ্যান্টিজেনের নির্দিষ্ট অংশের সাথে অ্যান্টিবডি যুক্ত হয়ে দেহকে সংক্রমণ থেকে সুরক্ষা প্রদান করে।

 উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

.
টিকা সাধারণত কী দিয়ে তৈরি করা হয়?
  1. সম্পূর্ণ সক্রিয় জীবাণু
  2. নিষ্ক্রিয় বা দুর্বলকৃত জীবাণু
  3. অ্যান্টিবডি
  4. এনজাইম
ব্যাখ্যা

• টিকা তৈরিতে মৃত বা দুর্বলকৃত অণুজীব ব্যবহৃত হয়।

• প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় টিকার ভূমিকা:

• টিকার উৎপত্তি ও অর্থ:
- ভ্যাকসিন শব্দটি ল্যাটিন শব্দ ভ্যাকসিনা (vaccinus) থেকে এসেছে, যার আক্ষরিক অর্থ হলো গরু থেকে প্রাপ্ত।

• টিকার আবিষ্কার:
- ড. এডওয়ার্ড জেনার (Dr. Edward Jenner) ১৭৯৬ খ্রিষ্টাব্দে সর্বপ্রথম বসন্ত রোগের টিকা আবিষ্কার করেন।
- পরবর্তীকালে বহু বছর গবেষণার মাধ্যমে জলাতঙ্কসহ বিভিন্ন সংক্রামক রোগের টিকা আবিষ্কৃত হয়।

• টিকার সংজ্ঞা:
- টিকা হলো দেহে রোগ সৃষ্টিকারী অণুজীবের নিষ্ক্রিয় বা দুর্বলকৃত রূপ, যা দেহে প্রবেশ করিয়ে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা সৃষ্টি করা হয়।

• টিকার গঠন ও প্রকার:
- টিকা তৈরিতে ব্যবহৃত অণুজীব (ভাইরাস বা ব্যাকটেরিয়া) হতে পারে—
- জীবিত কিন্তু দুর্বলকৃত, অথবা
- সম্পূর্ণ মৃত।

• টিকার কার্যপ্রণালি:
- টিকা দেহে প্রবেশ করলে এটি অ্যান্টিজেনের মতো আচরণ করে, ফলে দেহে নির্দিষ্ট অ্যান্টিবডি উৎপন্ন হয়।
- এর মাধ্যমে দেহ ভবিষ্যতে একই রোগজীবাণুর আক্রমণের বিরুদ্ধে দীর্ঘস্থায়ী রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা অর্জন করে।

• টিকার উৎস:
 - অধিকাংশ ক্ষেত্রে টিকা ভাইরাস থেকে প্রস্তুত করা হয়।

 উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

.
নিম্নের কোন রোগের টিকা Killed vaccine শ্রেণিভুক্ত?
  1. হাম
  2. মাম্পস
  3. ইনফ্লুয়েঞ্জা
  4. যক্ষ্মা
ব্যাখ্যা

• ইনফ্লুয়েঞ্জা টিকা মৃত জীবাণু দিয়ে তৈরি।

• টিকার প্রকারভেদ:
মানবদেহে বিভিন্ন রোগ সৃষ্টিকারী জীবাণুকে দমন করার জন্য চিকিৎসা বিজ্ঞানে বিভিন্ন ধরনের টিকা আবিষ্কার করা হয়েছে। প্রধান টিকার প্রকারভেদগুলো হলো—

• নিষ্ক্রিয় বা দুর্বলকৃত জীবন্ত টিকা (Attenuated Live Vaccine):
- কালচার করা, ক্ষতিকর বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় বা দুর্বল করে দেওয়া জীবন্ত জীবাণু দিয়ে এ ধরনের টিকা তৈরি করা হয়।
- উদাহরণ: BCG, হাম, মাম্পস, পোলিও, জলাতঙ্ক, যক্ষ্মা, গুটিবসন্ত, গুটিবসন্ত, টাইফয়েড প্রভৃতি রোগের টিকা।

• মৃত জীবাণুবিশিষ্ট নিষ্ক্রিয় টিকা (Killed Vaccine):
- মৃত জীবাণু ব্যবহার করে এ ধরনের টিকা প্রস্তুত করা হয়।
- উদাহরণ: ইনফ্লুয়েঞ্জা, কলেরা প্রভৃতি রোগের টিকা।

• নিষ্ক্রিয় রাসায়নিক টিকা (Toxoid Vaccine):
- জীবাণু নিঃসৃত বিষাক্ত টক্সয়েডকে নিষ্ক্রিয় করে এ ধরনের টিকা তৈরি করা হয়।
- উদাহরণ: ডিপথেরিয়া, টিটেনাস, হুপিং কাশির টিকা।

• দেহ তলের রাসায়নিক বস্তু টিকা (Surface Chemical Molecule Vaccine):
- সংক্রামক জীবাণুর দেহ তল থেকে নির্দিষ্ট রাসায়নিক উপাদান, সাধারণত প্রোটিন অংশ, পৃথক করে টিকা তৈরি করা হয়।
- উদাহরণ: হেপাটাইটিস-B টিকা, হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাস (HPV) টিকা।

• ডিএনএ টিকা (DNA Vaccine):
- রিকম্বিন্যান্ট DNA প্রযুক্তির মাধ্যমে DNA ব্যবহার করে এ ধরনের টিকা তৈরি করা হয়।
- এটি আধুনিক জিন প্রকৌশলভিত্তিক টিকা।

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১০.
বাংলাদেশে শিশুদের টিকাদান কর্মসূচি EPI পরিচালনা করে কোন সংস্থা?
  1. FAO
  2. WHO
  3. UNESCO
  4. World Bank 
ব্যাখ্যা

• বাংলাদেশে EPI কর্মসূচি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) এর অধীনে পরিচালিত।

• বাংলাদেশে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (World Health Organization – WHO):
- বাংলাদেশে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) এর অধীনে পরিচালিত Expanded Program on Immunization (EPI) কার্যক্রমের আওতায় শিশুদের প্রাণঘাতী বিভিন্ন রোগের বিরুদ্ধে টিকা প্রদান করা হয়।

বর্তমানে বাংলাদেশে EPI-তে মোট টিকার সংখ্যা ১২ টি।
- যক্ষ্মা
- ডিফথেরিয়া
- হুপিং কাশি
- ধনুষ্টংকার
- পোলিওমাইলাইটিস
- হাম
- হেপাটাইটিস–বি জনিত রোগ
- হিমোফিলাস ইনফ্লুয়েঞ্জা টাইপ–বি জনিত রোগ
- রুবেলা
- নিউমোনিয়া
- জরায়ুমুখ ক্যান্সার
- টাইফয়েড

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, WHO website, প্রথম আলো এবং যুগান্তর পত্রিকা রিপোর্ট।

১১.
রক্তে শর্করার মাত্রা কমে যাওয়ার অবস্থাকে কী বলা হয়?
  1. ডায়াবেটিস
  2. হাইপারগ্লাইসেমিয়া
  3. হাইপোগ্লাইসেমিয়া
  4. অ্যানিমিয়া
ব্যাখ্যা

• রক্তে শর্করার মাত্রা কমে গেলে তাকে হাইপোগ্লাইসেমিয়া বলে।

• শর্করা গ্রহণ ও স্বাস্থ্যের প্রভাব:
- আহারে শর্করা কম বা বেশি গ্রহণ উভয়ই দেহের জন্য ক্ষতিকর।
- শর্করার অভাবে দেহে অপুষ্টি দেখা দেয়।
- রক্তে শর্করার পরিমাণ কমে গেলে দেহে বিপাক ক্রিয়ার সমস্যা সৃষ্টি হয়।

• হাইপোগ্লাইসেমিয়া (Hypoglycemia):
- রক্তে শর্করার মাত্রা স্বাভাবিকের নিচে নেমে গেলে হাইপোগ্লাইসেমিয়া দেখা দেয়।
- এ অবস্থায় বিভিন্ন শারীরিক লক্ষণ প্রকাশ পায়।

• হাইপোগ্লাইসেমিয়ার লক্ষণসমূহ:
- ক্ষুধা অনুভব করা,
- বমি বমি ভাব,
- অতিরিক্ত ঘামানো,
- হৃদস্পন্দন হঠাৎ বেড়ে যাওয়া বা কমে যাওয়া।

উৎস: বিজ্ঞান, ৮ম শ্রেণি।

১২.
রাতকানা রোগের প্রধান কারণ কী?
  1. ভিটামিন A-এর অভাব 
  2. ভিটামিন B-এর অভাব
  3. ভিটামিন C-এর অভাব
  4. ভিটামিন D-এর অভাব
ব্যাখ্যা

• রোগ: রাতকানা,
মূল কারণ: ভিটামিন ‘এ’-এর অভাব,
ঝুঁকিপূর্ণ গোষ্ঠী: শিশু,
প্রতিরোধ: ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল।

• রাতকানা (Night Blindness):
- রাতকানা একটি রোগ, যেখানে স্বল্প আলোতে, বিশেষ করে রাতে, স্পষ্টভাবে দেখতে সমস্যা হয়।
- শিশুরা এ রোগে বেশি আক্রান্ত হয়।
- দীর্ঘদিন ধরে এ অবস্থা চলতে থাকলে চোখ সম্পূর্ণরূপে অন্ধ হয়ে যেতে পারে।

• কারণ ও ঝুঁকি:
- রাতকানা রোগ মূলত ভিটামিন ‘এ’-এর অভাবে হয়ে থাকে।
- অপুষ্টি ও অপর্যাপ্ত খাদ্যগ্রহণ এ রোগের ঝুঁকি বাড়ায়।

• প্রতিরোধ ও করণীয়:
- রাতকানা প্রতিরোধে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল অত্যন্ত কার্যকর।
- আক্রান্ত শিশুদের সবুজ শাকসবজি ও রঙিন ফলমূল খাওয়ানো উচিত।
- আমাদের দেশে টিকা দেওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন টিকা কেন্দ্রে শিশুদের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হয়।

উৎস: বিজ্ঞান, ৮ম শ্রেণি।

১৩.
ভিটামিন ‘K’ কোন প্রোটিন তৈরিতে সহায়তা করে?
  1. হিমোগ্লোবিন
  2. ইনসুলিন
  3. প্রোথ্রম্বিন
  4. অ্যালবুমিন
ব্যাখ্যা

• ভিটামিন ‘K’ প্রোথ্রম্বিন তৈরিতে সহায়তা করে, যা রক্ত জমাট বাঁধতে সাহায্য করে।

• ভিটামিন ‘K’:
- ভিটামিন ‘K’ প্রধানত সবুজ রঙের শাকসবজি ও কিছু তেলজাত খাদ্যে পাওয়া যায়।

• ভিটামিন ‘K’-এর উৎসসমূহ:
- সবুজ রঙের শাকসবজি,
- লেটুস পাতা,
- ফুলকপি,
- বাঁধাকপি,
- ডিমের কুসুম,
- সয়াবিন তেল,
- যকৃত।

• ভিটামিন ‘K’-এর কাজ:
- দেহে প্রোথ্রম্বিন নামক গুরুত্বপূর্ণ প্রোটিন তৈরিতে সহায়তা করে।
- প্রোথ্রম্বিন রক্ত জমাট বাঁধতে সহায়তা করে।

• ভিটামিন ‘K’-এর অভাবজনিত সমস্যা:
- যকৃত থেকে পিত্তরস নিঃসৃত হয়।
- পিত্তরস নিঃসরণে সমস্যা হলে ভিটামিন ‘K’-এর শোষণ কমে যায়।
- ভিটামিন ‘K’-এর অভাবে ত্বকের নিচে ও দেহের অভ্যন্তরে রক্তক্ষরণ হতে পারে।
- রক্তক্ষরণ বন্ধ করার ব্যবস্থা না নিলে রোগীর মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে।
- এ অবস্থায় অস্ত্রোপচারের সময় রক্তক্ষরণ সহজে বন্ধ হয় না, ফলে রোগীর জীবন ঝুঁকির মধ্যে পড়ে।

উৎস: বিজ্ঞান, ৮ম শ্রেণি।

১৪.
বাণিজ্যিকভাবে অধিক পরিমাণে পেনিসিলিন উৎপাদনের জন্য কোন ছত্রাক ব্যবহৃত হয়?
  1. Penicillium notatum
  2. Penicillium griseofulvum
  3. Penicillium chrysogenum
  4. Rhizopus stolonifer
ব্যাখ্যা

• বাণিজ্যিকভাবে অধিক ও উন্নত মানের পেনিসিলিন Penicillium chrysogenum থেকে উৎপাদিত হয়।

• অ্যান্টিবায়োটিক ও ঔষধ শিল্পে ছত্রাকের ব্যবহার:

- গ্রাইসিওফুলভিন প্রস্তুতকরণ:
- Penicillium griseofulvum নামক ছত্রাক প্রজাতি থেকে গ্রাইসিওফুলভিন নামক ঔষধ প্রস্তুত করা হয়।
- এই ঔষধ মানুষ ও অন্যান্য প্রাণীর দাদ ও ত্বকের বিভিন্ন ছত্রাকজনিত রোগ নিরাময়ে ব্যবহৃত হয়।

- পেনিসিলিনের আবিষ্কার ও উৎপাদন:
- ১৯২৮ সালে আলেকজান্ডার ফ্লেমিং অ্যান্টিবায়োটিক পেনিসিলিন (Penicillin) আবিষ্কার করেন।
- তিনি প্রথমে Penicillium notatum ছত্রাক থেকে পেনিসিলিন প্রস্তুত করেন।

- বাণিজ্যিক উৎপাদন:
- পরবর্তীতে Penicillium notatum থেকে উৎপাদন কম হওয়ায়,
- Penicillium chrysogenum থেকে উচ্চ মানের ও অধিক পরিমাণে পেনিসিলিন বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদন করা হয়।

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৫.
বায়ুদূষণের ফলে বায়ুতে কোন গ্যাসের পরিমাণ বৃদ্ধি পেলে শ্বাসকষ্ট ও অক্সিজেনের ঘাটতিজনিত সমস্যা দেখা যায়?
  1. অক্সিজেন
  2. নাইট্রোজেন
  3. কার্বন মনোক্সাইড
  4. হাইড্রোজেন
ব্যাখ্যা

• কার্বন মনোক্সাইড হিমোগ্লোবিনের সাথে যুক্ত হয়ে রক্তে অক্সিজেন পরিবহন ব্যাহত করে, ফলে শ্বাসকষ্ট ও শ্বাসজনিত জটিলতা দেখা দেয়।
 
• বায়ুদূষণের প্রভাব:
- বায়ু দূষিত হলে সেই বায়ুতে ক্ষতিকর গ্যাসের পরিমাণ বৃদ্ধি পায়, যা মানুষের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর।
- বায়ুতে কার্বন মনোক্সাইডের পরিমাণ বেড়ে গেলে মানুষের শ্বাসকষ্টজনিত রোগ থেকে শুরু করে ক্যানসারের মতো মারাত্মক রোগ হতে পারে।
- এছাড়া শিল্পকারখানা থেকে নির্গত ধোঁয়া বায়ুতে মিশে গিয়ে অম্লীয় বৃষ্টি সৃষ্টি করতে পারে।
- এই অম্লীয় বৃষ্টি শুধু মানুষকেই ক্ষতিগ্রস্ত করে না, জলজ প্রাণীকেও ক্ষতি করে।
- এর ফলে বনভূমি ধ্বংস হয়।

• বায়ুদূষণ ও বৈশ্বিক উষ্ণতা:
- বায়ুদূষণের ফলে পৃথিবীর তাপমাত্রা আগের তুলনায় অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে।
- বিজ্ঞানীদের মতে, এভাবে তাপমাত্রা বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে সমুদ্রপৃষ্ঠের গড় উচ্চতা বেড়ে যাবে।
- এর ফলে পৃথিবীর সমুদ্র উপকূলবর্তী নিচু অঞ্চল পানিতে তলিয়ে যাবে।
- আবার কোনো কোনো অঞ্চলে খরা দেখা দিতে পারে।
- এর ফলে স্থানীয় জলবায়ুর পরিবর্তন ঘটবে।
- এতে শুধু মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হবে না, অসংখ্য উদ্ভিদ ও প্রাণী পৃথিবী থেকে বিলুপ্ত হয়ে যেতে পারে।
- পরিশেষে সার্বিকভাবে পৃথিবী ধ্বংসের মুখে পড়তে পারে।

উৎস: বিজ্ঞান, ৭ম শ্রেণি।

১৬.
নিম্নের কোন রোগের টিকা EPI কর্মসূচির আওতাভুক্ত?
  1. ম্যালেরিয়া
  2. যক্ষা
  3. এইডস
  4. ডেঙ্গু
ব্যাখ্যা

• যক্ষা রোগের টিকা EPI কর্মসূচির অন্তর্ভুক্ত।

• বাংলাদেশে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (World Health Organization – WHO):
- বাংলাদেশে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) এর অধীনে পরিচালিত Expanded Program on Immunization (EPI) কার্যক্রমের আওতায় শিশুদের প্রাণঘাতী বিভিন্ন রোগের বিরুদ্ধে টিকা প্রদান করা হয়।

• বর্তমানে বাংলাদেশে EPI-তে মোট টিকার সংখ্যা ১২ টি।
- যক্ষ্মা
- ডিফথেরিয়া
- হুপিং কাশি
- ধনুষ্টংকার
- পোলিওমাইলাইটিস
- হাম
- হেপাটাইটিস–বি জনিত রোগ
- হিমোফিলাস ইনফ্লুয়েঞ্জা টাইপ–বি জনিত রোগ
- রুবেলা
- নিউমোনিয়া
- জরায়ুমুখ ক্যান্সার
- টাইফয়েড

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, WHO website, প্রথম আলো এবং যুগান্তর পত্রিকা রিপোর্ট।

১৭.
রিকেটস রোগের প্রধান কারণ কী?
  1. ভিটামিন A-এর অভাব
  2. ভিটামিন B-এর অভাব
  3. ভিটামিন D-এর অভাব
  4. ভিটামিন K-এর অভাব
ব্যাখ্যা

• রোগ: রিকেটস,
- মূল কারণ: ভিটামিন D-এর অভাব,
- প্রধান প্রভাব: হাড় দুর্বল ও বেঁকে যাওয়া,
- প্রতিরোধ: সূর্যালোক ও ভিটামিন D সমৃদ্ধ খাদ্য।

• রিকেটস (Rickets):
- রিকেটস কোনো ভাইরাসজনিত বা ব্যাকটেরিয়াজনিত রোগ নয়।
- ভিটামিন D-এর অভাবে এ রোগ হয়ে থাকে।
- দেহে ক্যালসিয়াম ও ফসফরাসের শোষণ, দাঁত ও হাড়ের গঠনসহ বিভিন্ন শারীরবৃত্তীয় কাজে ভিটামিন D অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।

• ভিটামিন D-এর উৎস:
- দুধ, মাখন, ডিম, কডলিভার তেল ও হাঙরের তেলে প্রচুর ভিটামিন D পাওয়া যায়।
- সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মির প্রভাবে মানুষের ত্বকে জমা কোলেস্টেরল থেকেও ভিটামিন D তৈরি হয়।
- তবে ভিটামিন D তৈরির শেষ ধাপটি সম্পন্ন হয় কিডনিতে।

• রিকেটস রোগের লক্ষণ:
- দেহের হাড় দুর্বল হয়ে যাওয়া।
- শিশুদের হাঁটা শেখার সময় গিট খুলে যাওয়া।
- হাড় বিশেষ করে পায়ের হাড় বেঁকে যাওয়া।
- অনেক ক্ষেত্রে দেহের কাঠামো ঠিক না থাকা।
- হাড় ভঙ্গুর হয়ে যাওয়া ও কবজি সরু হয়ে যাওয়া।

• প্রতিরোধ ও করণীয়:
- শিশুদের পর্যাপ্ত পরিমাণে ভিটামিন D সমৃদ্ধ খাবার খাওয়াতে হবে।
- চোখ ও জনসম্মুখ থেকে রক্ষা করে শিশুকে কিছু সময় রোদে রাখা উচিত।
- সূর্যালোকের অতিবেগুনি রশ্মির প্রভাবে শরীরে স্বাভাবিকভাবে ভিটামিন D তৈরি হয়।
- সারাদিন শিশুকে ঘরের ভেতরে রাখা বা শরীর সম্পূর্ণ ঢেকে রাখলে পর্যাপ্ত সূর্যালোক পাওয়া যায় না।
- এর ফলে ভিটামিন D-এর ঘাটতি দেখা দিতে পারে এবং রিকেটস রোগের ঝুঁকি বাড়ে।

উৎস: জীববিজ্ঞান, ৯ম-১০ম শ্রেণি।

১৮.
ধনুষ্টঙ্কার রোগ সৃষ্টিকারী ব্যাকটেরিয়ার নাম কী?
  1. Bordetella pertussis
  2. Clostridium tetani
  3. Corynebacterium diphtheriae
  4. Bacillus dysenteriae
ব্যাখ্যা

• রোগ: ধনুষ্টঙ্কার, ব্যাকটেরিয়ার নাম: Clostridium tetani.

• রোগ ও সংশ্লিষ্ট ব্যাকটেরিয়ার তালিকা:

- যক্ষ্মা:
- ব্যাকটেরিয়ার নাম: Mycobacterium tuberculosis.

- নিউমোনিয়া:
- ব্যাকটেরিয়ার নাম: Diplococcus pneumoniae.

- টাইফয়েড:
- ব্যাকটেরিয়ার নাম: Salmonella typhosa.

- কলেরা:
- ব্যাকটেরিয়ার নাম: Vibrio cholerae.

- ডিপথেরিয়া:
- ব্যাকটেরিয়ার নাম: Corynebacterium diphtheriae.

- আমাশয়: 
ব্যাকটেরিয়ার নাম: Bacillus dysenteriae.

- ধনুষ্টঙ্কার:
- ব্যাকটেরিয়ার নাম: Clostridium tetani.

- হুপিং কাশি:
ব্যাকটেরিয়ার নাম: Bordetella pertussis.

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।