পরীক্ষা আর্কাইভ

নতুনদের বিসিএস প্রস্তুতি - ২০০ দিনে পুরো সিলেবাস

পরীক্ষানতুনদের বিসিএস প্রস্তুতি - ২০০ দিনে পুরো সিলেবাসতারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়17 minutes
মোট প্রশ্ন৩১
সিলেবাস
বাংলাদেশ বিষয়াবলি: টপিকসমূহ: বাংলাদেশের জাতীয় বিষয়াবলি: [বাংলাদেশের ইতিহাস, কৃষ্টি ও সংস্কৃতি সম্পর্কিত] i) আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা ও ৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান ii) সত্তরের নির্বাচন iii) একাত্তরের অসহযোগ আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধ iv) বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতার বৈশ্বিক স্বীকৃতি v) স্বাধীনতা পরবর্তী সময় থেকে সমসাময়িক ইতিহাস উৎস: ইতিহাস সংক্রান্ত বোর্ড বই (NCTB ও উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়), স্বাধীনতা যুদ্ধের দলিলপত্র, বাংলাপিডিয়া বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ সহ সংশ্লিষ্ট ওয়েবসাইট ও যেকোনো গাইডবই। [গাইড বই থেকে পড়ার ক্ষেত্রে কনফিউজিং বিষয়গুলো ক্রসচেক করে পড়া উত্তম।]
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

নতুনদের বিসিএস প্রস্তুতি - ২০০ দিনে পুরো সিলেবাস

নতুনদের বিসিএস প্রস্তুতি - ২০০ দিনে পুরো সিলেবাস · তারিখ অনির্ধারিত · ৩১ প্রশ্ন

.
‘সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ’ কত সালে গঠন করা হয়েছিল?
  1. ক) ১৯৪৭ সালে
  2. খ) ১৯৫২ সালে
  3. গ) ১৯৬৬ সালে
  4. ঘ) ১৯৬৯ সালে
সঠিক উত্তর:
ঘ) ১৯৬৯ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ১৯৬৯ সালে
ব্যাখ্যা
উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান
- ১৯৬৮-৬৯ সালে পূর্ব পাকিস্তানে আইয়ুববিরোধী গণআন্দোলন চূড়ান্ত পর্যায়ে উপনীত হওয়ার সময় আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দু কারারুদ্ধ হলে আন্দোলন কিছুটা স্তিমিত হয়ে পড়ে তখন ছাত্ররা এ আন্দোলনের নেতৃত্ব গ্রহণ করে।
- ১৯৬৯ সালের ৪ঠা জানুয়ারি ডাকসু কার্যালয়ে ছাত্রলীগ, ছাত্র ইউনিয়ন এবং ডাকসুর যৌথ উদ্যোগে ডাকসুর তৎকালীন সহসভাপতি তোফায়েল আহমেদের নেতৃত্বে ‘সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ’ গঠন করা হয়। 
- সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ ১১ দফা দাবি নিয়ে গণঅভ্যুত্থানের ডাক দেয় যার মধ্যে বঙ্গবন্ধুর ১৯৬৬ সালে ঘোষিত ছয় দফা দাবি অন্তর্ভুক্ত ছিল।
- তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য কিছু দাবি ছিল-
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কুখ্যাত অর্ডিন্যান্স বাতিলসহ সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি,
বাক-স্বাধীনতা,
ব্যক্তি-স্বাধীনতা ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতা,
বৃহৎ শিল্পের জাতীয়করণ,
শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি প্রদান,
ট্রেড ইউনিয়ন গঠন,
বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও পানি সম্পদের সঠিক ব্যবহার,
জরুরি আইন,
নিরাপত্তা আইন ও
অবিলম্বে গ্রেফতারকৃত নেতাকর্মীদের মুক্তি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি। 
.
বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত 'আমার সোনার বাংলা'-কে জাতীয় সঙ্গীত হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয় কোথায়?
  1. ক) মুজিবনগরে
  2. খ) ঢাকার পল্টনে
  3. গ) আগরতলায়
  4. ঘ) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে
সঠিক উত্তর:
ক) মুজিবনগরে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) মুজিবনগরে
ব্যাখ্যা
- ১৯০৫ সালে ব্রিটিশ সরকার বাংলাকে বিভক্ত করে পূর্ববঙ্গ ও আসাম নামে একটি নতুন প্রদেশ সৃষ্টি করে যার পরিপ্রেক্ষিতে ১৯০৫ সালে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ‘ আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালোবাসি’- সঙ্গীতটি রচনা করেন।
- বিশ শতকের প্রথম দুই দশকে স্বদেশী আন্দোলনের সময় এটি অত্যন্ত জনপ্রিয় ছিল।
- এ গানটি ১৯৭১ সালের ৩রা জানুয়ারি ঢাকায় এক বিশাল জনসভায় এবং পরে ৩রা মার্চ ছাত্রলীগ ও শ্রমিক লীগ আয়োজিত জনসভায় পুনরায় গাওয়া হয়।
- মুজিবনগরে বাংলাদেশের প্রথম সরকার এই গানকে বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত হিসেবে স্বীকৃতি দেয় এবং মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে গানটি স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে নিয়মিত প্রচার হতো। 
- স্বাধীনতার পরে সাংবিধানিকভাবে ( অনুচ্ছেদ ৪.১)-এ ‘আমার সোনার বাংলা’ গণপ্রজাতন্রী বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীতরূপে ঘোষিত হয়। 
- এই গানের প্রথম ১০ লাইন কণ্ঠসঙ্গীত এবং প্রথম ৪ লাইন যন্ত্রসঙ্গীত হিসেবে পরিবেশনের বিধান রাখা হয়।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
.
বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতিতে কতটি বিষয়কে গুরুত্ব দিয়েছিলেন?
  1. ক) ১টি
  2. খ) ২টি
  3. গ) ৩টি
  4. ঘ) ৪টি
সঠিক উত্তর:
খ) ২টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ২টি
ব্যাখ্যা
- বঙ্গবন্ধু ১৯৭২ সালের ১০ই জানুয়ারি দেশে ফিরে আসার পূর্বে ভুটান ও ভারত ছাড়া আর কোন রাষ্ট্রের স্বীকৃতি পায়নি।
- বঙ্গবন্ধু তাঁর রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও মেধা দিয়ে উপলব্ধি করেছেন যে, বাংলাদেশের পররাষ্ট্র নীতিতে  ২ টি বিষয়কে গুরুত্ব দিতে হবে। যথা-
১। স্বীকৃতি আদায়ের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধি করা এবং 
২। দেশ পুনর্গঠনে বিদেশি সাহায্য-সহযোগিতা নিশ্চিত করা।
- স্বয়ং বঙ্গবন্ধু নবীন রাষ্ট্রটির পররাষ্ট্রনীতি নির্ধারকের ভূমিকায় ছিলেন।
- তিনি পররাষ্ট্রনীতির দিক-নির্দেশনা দিতে গিয়ে বলেন, ‘ আমরা বাংলাদেশকে দক্ষিণ এশিয়ার সুইজারল্যান্ড হিসেবে গড়ে তুলতে চাই'।
- ১৯৭২ সালের সংবিধানে পররাষ্ট্রনীতির রূপরেখায় বঙ্গবন্ধুর চিন্তা-ভাবনার প্রতিফলন লক্ষ্য করা যায় যার মূল কথা হলো- শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান এবং সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারও সঙ্গে শত্রুতা নয়।
- বাংলাদেশ সবসময় সাম্রাজ্যবাদ, উপনিবেশবাদ ও বর্ণবাদের বিরুদ্ধে বিশ্বের নিপীড়িত জনগণের পক্ষে থাকবে।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
.
১৯৭১ সালের কত তারিখে রায়ের বাজার বধ্যভূমির সন্ধান পাওয়া যায়?
  1. ক) ১৪ ডিসেম্বর
  2. খ) ১৬ ডিসেম্বর
  3. গ) ১৭ ডিসেম্বর
  4. ঘ) ১৮ ডিসেম্বর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ১৮ ডিসেম্বর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ১৮ ডিসেম্বর
ব্যাখ্যা
- মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও তাদের এদেশীয় দোসররা লক্ষ্য লক্ষ্য মানুষ হত্যা করেছে। তাই সারা দেশেই ছড়িয়ে আছে অগণিত বধ্যভূমি ও গণকবর।
- তখন রায়ের বাজার এলাকাটি ছিল বেশ নিরিবিলি।
- এটি কালুশাহ পুকুরপাড় থেকে গোল মসজিদ পর্যন্ত প্রায় তিন কিলোমিটার দীর্ঘ ছিল। মার্চ মাস থেকেই রায়ের বাজার বধ্যভূমিতে পরিণত হয়।
- এখানে মানুষ হত্যা ছাড়াও অগণিত লাশ এনে ফেলা হয়েছে যার কারণে মুক্তিযুদ্ধের ৯ মাস এই রাস্তা দিয়ে মানুষ চলাচল করতে সাহস পায়নি।
- ১৯৭১ সালের ১৮ই ডিসেম্বর রায়ের বাজার বধ্যভূমির সন্ধান পাওয়া যায়
- সেদিন এই বধ্যভূমির বিভিন্ন গর্ত থেকে প্রচুর গলিত ও বিকৃত লাশ উদ্ধার করা হয় যাদের মধ্যে বেশীরভাগই ছিল অধ্যাপক, সাংবাদিক, সাহিত্যিক ও চিকিৎকের লাশ। 
- বুদ্ধিজীবীদের এই হত্যা কাণ্ডে আলবদর ও রাজাকাররা প্রধান ভুমিকা পালন করে।
- রায়ের বাজারে উদ্ধারকৃত লাশগুলো এতটাই বিকৃত হয়ে পড়ে যে পরিচয় জানা সম্ভব হয়নি, তবে যে কয়েকজনের পরিচয় জানা সম্ভব হয়েছে। যেমন- অধ্যাপক মুনীর চৌধুরী, সাংবাদিক সেলিনা পারভীন, ডা. ফজলে রাব্বি, চক্ষু চিকিৎসক ডা. আলীম চৌধুরী প্রমুখ। 

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
.
বাঙালির প্রতিবাদী মনোভাব ও মুক্তিযোদ্ধাদের লড়াকু চেতনার মূর্ত প্রতীক কোনটি?
  1. ক) জাতীয় স্মৃতিসৌধ
  2. খ) মুজিবনগর স্মৃতিসৌধ
  3. গ) অপরাজেয় বাংলা
  4. ঘ) বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধ
সঠিক উত্তর:
গ) অপরাজেয় বাংলা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) অপরাজেয় বাংলা
ব্যাখ্যা
অপরাজেয় বাংলা
- বাঙালির প্রতিবাদী মনোভাব ও মুক্তিযোদ্ধাদের লড়াকু চেতনার মূর্ত প্রতীক অপরাজেয় বাংলা। 
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা ভবন চত্ত্বরে ৬ ফুট উঁচু বেদির ওপর নির্মিত। মূল ভাস্কর্যের উচ্চতা ১২ ফুট, প্রস্থ ৮ ফুট ও ব্যাস ৬ ফুট। 
- বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন থেকে একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ প্রতিটি সংগ্রামে ছাত্রদের গৌরবময় ত্যাগকে স্মরণীয় করার জন্য অপরাজেয় বাংলা নির্মাণ করা হয়। 
- মুক্তিযোদ্ধা ভাস্কর সৈয়দ আবদুল্লাহ খালিদ এটি নির্মাণ করেন।
- ১৯৭৩-১৯৭৯ সাল পর্যন্ত এই ভাস্কর্যের নির্মাণকাজ চলে।
- এই ভাস্কর্যে অসম সাহসী তিনজন তরণ-তরুণি মুক্তিযোদ্ধার অবয়ব অপূর্ব দক্ষতায় ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। 
- দুইজন তরুণ রাইফেল হাতে শত্রুর মোকাবেলায় দৃড়প্রতিজ্ঞ আর ঔষধের ব্যাগ কাঁদে তরুণি মুক্তিযোদ্ধাদের সেবায় নিবেদিত প্রাণ।
- অপরাজেয় বাংলা বাংলাদেশের ছাত্র-সমাজের প্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।
- বাংলাদেশের প্রতিটি গণতান্ত্রিক আন্দোলন-সংগ্রামে ছাত্র-সমাজের গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি। 
.
বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণ স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে কী নামে প্রচারিত হতো?
  1. ক) প্রতিধ্বনি
  2. খ) বজ্রকন্ঠ
  3. গ) চরমপত্র
  4. ঘ) দৃষ্টিপাত
সঠিক উত্তর:
খ) বজ্রকন্ঠ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) বজ্রকন্ঠ
ব্যাখ্যা
- ১৯৭০ সালের নির্বাচনে সামরিক সরকার নির্বাচিত প্রতিনিধিদের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর না করায় পাকিস্তানের রাজনৈতিক অঙ্গনে এক অস্থিরতা সৃষ্টি হয়।
- সারা দেশে নানারকম উদ্বেগ, উত্তেজনার মধ্যে বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণ ছিল জাতির জন্য সুস্পষ্ট দিক নির্দেশনা।
- ১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ আহূত জাতীয় পরিষদের অধিবেশনে যোগদানের জন্য বঙ্গবন্ধু চারটি দাবি তাঁর ভাষণে উপস্থাপন করেন। এগুলো হলো- 
১। চলমান সামরিক আইন প্রত্যাহার
২। সৈন্যদের ব্যারাকে ফিরিয়ে নেয়া
৩। গণহত্যার তদন্ত করা এবং 
৪। নির্বাচিত প্রতিনিধিদের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করা। 
এর বাইরেও আরও কিছু দাবি বঙ্গবন্ধুর ভাষণে উপস্থাপন করা হয়। তিনি বাংলাদেশের সকল অফিস-আদালত ও শিক্ষা-প্রতিষ্ঠান অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেন।
- বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের সমাবেশে স্বাধীনতা ঘোষণা করলে ব্যাপক হত্যাযজ্ঞ চালানো হবে বলে বঙ্গবন্ধু কৌশলে স্বাধীনতার ঘোষণায় বলেন- ‘প্রত্যেক গ্রাম, প্রত্যেক মহল্লায় আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে সংগ্রাম পরিষদ গড়ে তোলো এবং তোমাদের যা কিছু আছে ,তাই নিয়ে প্রস্তুত থাকো। মনে রাখবা, রক্ত যখন দিয়েছি, রক্ত আরো দেবো। এই দেশের মানুষকে মুক্ত করে ছাড়াবো ইনশাল্লাহ। এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম। জয় বাংলা'।
- বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণ স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে ‘বজ্রকণ্ঠ’ নামে প্রচারিত হয়, যা বাঙালিকে স্বাধীনতা সংগ্রামে অনুপ্রাণিত করে

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
.
১১ দফার সাথে সংশ্লিষ্ট-
  1. ক) আওয়ামী লীগ
  2. খ) ছাত্রলীগ
  3. গ) ছাত্র ইউনিয়ন
  4. ঘ) ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ
সঠিক উত্তর:
ঘ) ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ
ব্যাখ্যা
উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান
- ১৯৬৮-৬৯ সালে পূর্ব পাকিস্তানে আইয়ুববিরোধী গণআন্দোলন চূড়ান্ত পর্যায়ে উপনীত হওয়ার সময় আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দু কারারুদ্ধ হলে আন্দোলন কিছুটা স্তিমিত হয়ে পড়ে তখন ছাত্ররা এ আন্দোলনের নেতৃত্ব গ্রহণ করে।
- ১৯৬৯ সালের ৪ঠা জানুয়ারি ডাকসু কার্যালয়ে ছাত্রলীগ, ছাত্র ইউনিয়ন এবং ডাকসুর যৌথ উদ্যোগে ডাকসুর তৎকালীন সহসভাপতি তোফায়েল আহমেদের নেতৃত্বে ‘সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ’ গঠন করা হয়। 
- সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ ১১ দফা দাবি নিয়ে গণঅভ্যুত্থানের ডাক দেয় যার মধ্যে বঙ্গবন্ধুর ১৯৬৬ সালে ঘোষিত ছয় দফা দাবি অন্তর্ভুক্ত ছিল
- তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য কিছু দাবি ছিল-
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কুখ্যাত অর্ডিন্যান্স বাতিলসহ সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি,
বাক-স্বাধীনতা,
ব্যক্তি-স্বাধীনতা ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি। 
.
আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার প্রধান বিচারপতি কে ছিলেন?
  1. ক) এস.এ.রহমান
  2. খ) এস.আর.খান
  3. গ) মকসুদুল হাকিম
  4. ঘ) টি.এইচ.খান
সঠিক উত্তর:
ক) এস.এ.রহমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) এস.এ.রহমান
ব্যাখ্যা
- আগরতলা মামলার বিচারকার্য পরিচালনার জন্য বিশেষ ট্রাইবুনাল গঠন করা হয়।
- ১৯৬৮ সালের ১৯ জুন বেলা এগারটায় কুর্মিটোলা ক্যান্টনমেন্টের একটি বিশেষ কক্ষে মামলার শুনানি শুরু হয়।
- মামলাটি ছিল পাকিস্তান দণ্ডবিধির ১২ ক এবং ১৩১ ধারা অনুসারে।
- মামলায় সাক্ষীর সংখ্যা ছিল ১১ জন, রাজসাক্ষীসহ মোট ২২৭ জন।
- প্রখ্যাত আইনজীবী আবদুস সালাম খানের নেতৃত্বে অভিযুক্তদের আইনজীবীদের নিয়ে একটি আত্মপক্ষ সমর্থকদল গঠন করা হয়।
- অন্যদিকে যুক্তরাজ্য প্রবাসী বাঙালিরা ব্রিটেনের প্রখ্যাত আইনজীবী স্যার টমাস উইলিয়াম এমপিকে বিশেষ ট্রাইবুনালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আইনজীবী হিসেবে প্রেরণ করেন। তাঁকে সহযোগিতা করেন আবদুস সালাম খান, আতাউর রহমান খান প্রমুখ ।
- পাকিস্তান সরকারের পক্ষে প্রধান কৌসুলী ছিলেন সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী মনজুর কাদের ও অ্যাডভোকেট জেনারেল টি.এইচ.খান।
- ট্রাইবুনালের প্রধান বিচারপতি ছিলেন এস.এ.রহমান
- অপর দুই বিচারপতি ছিলেন এম.আর.খান ও মকসুমুল হাকিম।
- ২৯ জুলাই ১৯৬৮ মামলার শুনানি শুরু হয়। এ সময় স্যার টমাস উইলিয়াম ট্রাইবুনালে উপস্থিত ছিলেন ।
- তিনি ৫ জুলাই বঙ্গবন্ধুর পক্ষে বিশেষ ট্রাইবুনালের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট আবেদন দাখিল করেন।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ ও উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
মুজিবনগর সরকারের আইন ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী কে ছিলেন?
  1. ক) খন্দকার মোশতাক আহমদ
  2. খ) এ. এইচ. এম কামারুজ্জামান
  3. গ) ক্যাপ্টেন এম. মনসুর আলী
  4. ঘ) তাজউদ্দিন আহমদ
সঠিক উত্তর:
ক) খন্দকার মোশতাক আহমদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) খন্দকার মোশতাক আহমদ
ব্যাখ্যা
- মহান মুক্তিযুদ্ধ সঠিকভাবে পরিচালনার জন্য ১৯৭১ সালের ১০ই এপ্রিল গঠিত হয় বাংলাদেশের প্রথম সরকার তথা মুজিবনগর সরকার।
- এই সরকার ১৭ই এপ্রিল মেহেরপুর জেলার বৈদ্যনাথতলায় শপথ গ্রহণ করে। 
- এই সরকারের প্রধান ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যার নাম অনুসারে বৈদ্যনাথতলার নামকরণ করা হয় মুজিবনগর এবং সরকারও পরিচিতি লাভ করে মুজিবনগর সরকার নামে।
- এ সরকার গঠনের মাত্র ২ ঘণ্টা পর পাকিস্তানি বিমান বাহিনী মুজিবনগরে বোমাবর্ষণ করে মেহেরপুর দখল করে নেয় ফলে মুজিবনগর সরকারের সদর দপ্তর কলকাতার ৮ নং থিয়েটার রোডে স্থানান্তর করা হয়।

-     বাংলাদেশ সরকার(মুজিবনগর সরকার)

রাষ্ট্রপতি (সর্বাধিনায়ক) ⇒ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান
উপ-রাষ্ট্রপতি ⇒ সৈয়দ নজরুল ইসলাম
প্রধানমন্ত্রী ⇒ তাজউদ্দিন আহমদ
অর্থমন্ত্রী ⇒ ক্যাপ্টেন এম. মনসুর আলী
স্বরাষ্ট্র, ত্রান ও পুনর্বাসন, কৃষি মন্ত্রী ⇒ এ. এইচ. এম কামারুজ্জামান
পররাষ্ট্র, আইন ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী ⇒ খন্দকার মোশতাক আহমদ
প্রধান সেনাপতি ⇒ কর্নেল (অব.) এম. এ. জি ওসমানী
চিফ অব স্টাফ ⇒ লে. কর্নেল (অব.) আবদুর রব
ডেপুটি চিফ অব স্টাফ ⇒ গ্রুপ ক্যাপ্টেন এ. কে খন্দকার।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
১০.
ঐতিহাসিক আগরতলা মামলায় কতজন আসামী ছিলেন?
  1. ক) ৩২জন
  2. খ) ৩৩জন
  3. গ) ৩৪জন
  4. ঘ) ৩৫জন
সঠিক উত্তর:
ঘ) ৩৫জন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ৩৫জন
ব্যাখ্যা
- আইয়ুব-মোনায়েম চক্র ১৯৬৮ সালে পূর্ব-পাকিস্তানের কয়েকজন সামরিক ও বেসামরিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে পাকিস্তানের স্বার্থ বিরোধী এক ষড়যন্ত্রে লিপ্ত থাকার অভিযোগ আনে।
- প্রকৃতপক্ষে ছয় দফা আন্দোলনকে নস্যাৎ করাই ছিল এ মামলার মুখ্য উদ্দেশ্য।
- পাকিস্তানের সামরিক সরকার এটিকে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা নাম দিয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবসহ মোট ৩৫ জনকে আসামি করে মামলা করে
- মামলায় বলা হয় আসামিরা ভারতের যোগসাজশে পূর্ব-পাকিস্তানকে পাকিস্তান রাষ্ট্র হতে বিচ্ছিন্ন করে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র গঠনের চেষ্টা করেছে।
- সরকারের উদ্দেশ্য ছিল বঙ্গবন্ধুসহ ৩৫ জনকে দেশের শত্রু হিসেবে প্রমাণ করে চরম শাস্তি দিয়ে বাঙালির ছয় দফা ও স্বাধিকার আন্দোলন চিরদিনের মতো স্তব্ধ করে দেওয়া।
- কিন্তু শেষ পর্যন্ত ছাত্র-জনতার তীব্র আন্দোলনের মুখে সামরিক সরকার মামলাটি প্রত্যাহার করে সকল বন্দিকে মুক্তি দিতে বাধ্য হয়।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, সপ্তম শ্রেণি। 
১১.
মুক্তিযোদ্ধের পূর্বে মুজিবনগরের নাম কী ছিল?
  1. ক) আকাশডাঙ্গা
  2. খ) মাথাভাঙ্গা
  3. গ) বৈদ্যনাথতলা
  4. ঘ) পলাশডাঙ্গা
সঠিক উত্তর:
গ) বৈদ্যনাথতলা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) বৈদ্যনাথতলা
ব্যাখ্যা
- মহান মুক্তিযুদ্ধ সঠিকভাবে পরিচালনার জন্য ১৯৭১ সালের ১০ই এপ্রিল গঠিত হয় বাংলাদেশের প্রথম সরকার তথা মুজিবনগর সরকার।
- এই সরকার ১৭ই এপ্রিল মেহেরপুর জেলার বৈদ্যনাথতলায় শপথ গ্রহণ করে।
- এই সরকারের প্রধান ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যার নাম অনুসারে বৈদ্যনাথতলার নামকরণ করা হয় মুজিবনগর। 
- এই সরকারও পরিচিতি লাভ করে মুজিবনগর সরকার নামে।
- এ সরকার গঠনের মাত্র ২ ঘণ্টা পর পাকিস্তানি বিমান বাহিনী মুজিবনগরে বোমাবর্ষণ করে মেহেরপুর দখল করে নেয়।
- পরে মুজিবনগর সরকারের সদর দপ্তর কলকাতার ৮ নং থিয়েটার রোডে স্থানান্তর করা হয়। 

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
১২.
মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় ডেপুটি চিফ অব স্টাফের দায়িত্ব কে পালন করেন?
  1. ক) খন্দকার মোশতাক আহমদ
  2. খ) লে. কর্নেল (অব.) আবদুর রব
  3. গ) কর্নেল (অব.) এম. এ. জি ওসমানী
  4. ঘ) গ্রুপ ক্যাপ্টেন এ. কে খন্দকার।
সঠিক উত্তর:
ঘ) গ্রুপ ক্যাপ্টেন এ. কে খন্দকার।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) গ্রুপ ক্যাপ্টেন এ. কে খন্দকার।
ব্যাখ্যা
- মহান মুক্তিযুদ্ধ সঠিকভাবে পরিচালনার জন্য ১৯৭১ সালের ১০ই এপ্রিল গঠিত হয় বাংলাদেশের প্রথম সরকার তথা মুজিবনগর সরকার।

-    বাংলাদেশ সরকার(মুজিবনগর সরকার)

রাষ্ট্রপতি (সর্বাধিনায়ক) ⇒ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান
উপ-রাষ্ট্রপতি ⇒ সৈয়দ নজরুল ইসলাম
প্রধানমন্ত্রী ⇒ তাজউদ্দিন আহমদ
অর্থমন্ত্রী ⇒ ক্যাপ্টেন এম. মনসুর আলী
স্বরাষ্ট্র, ত্রান ও পুনর্বাসন, কৃষি মন্ত্রী ⇒ এ. এইচ. এম কামারুজ্জামান
পররাষ্ট্র, আইন ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী ⇒ খন্দকার মোশতাক আহমদ
প্রধান সেনাপতি ⇒ কর্নেল (অব.) এম. এ. জি ওসমানী
চিফ অব স্টাফ ⇒ লে. কর্নেল (অব.) আবদুর রব
ডেপুটি চিফ অব স্টাফ ⇒ গ্রুপ ক্যাপ্টেন এ. কে খন্দকার

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
১৩.
বঙ্গবন্ধু জাতীয় পরিষদের অধিবেশনে যোগদানের জন্য কতটি দাবি উপস্থাপন করেন?
  1. ক) ৩টি
  2. খ) ৪টি
  3. গ) ৫টি
  4. ঘ) ৬টি
সঠিক উত্তর:
খ) ৪টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ৪টি
ব্যাখ্যা
- ১৯৭০ সালের নির্বাচনে সামরিক সরকার নির্বাচিত প্রতিনিধিদের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর না করায় পাকিস্তানের রাজনৈতিক অঙ্গনে এক অস্থিরতা সৃষ্টি হয়।
- সারা দেশে নানারকম উদ্বেগ, উত্তেজনার মধ্যে বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণ ছিল জাতির জন্য সুস্পষ্ট দিক নির্দেশনা।
- ১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ আহূত জাতীয় পরিষদের অধিবেশনে যোগদানের জন্য বঙ্গবন্ধু চারটি দাবি তাঁর ভাষণে উপস্থাপন করেন। এগুলো হলো- 
১। চলমান সামরিক আইন প্রত্যাহার
২। সৈন্যদের ব্যারাকে ফিরিয়ে নেয়া
৩। গণহত্যার তদন্ত করা এবং 
৪। নির্বাচিত প্রতিনিধিদের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করা। 
এর বাইরে আরও কিছু দাবি বঙ্গবন্ধু করেন। তিনি বাংলাদেশের সকল অফিস-আদালত ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেন।
- এ সমাবেশে স্বাধীনতা ঘোষণা করলে ব্যাপক হত্যাযজ্ঞ চালানো হবে বলে বঙ্গবন্ধু কৌশলে স্বাধীনতার ঘোষণা করেন। 
- তাঁর এ ভাষণ স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে ‘বজ্রকণ্ঠ’ নামে প্রচারিত হয়, যা বাঙালিকে স্বাধীনতা সংগ্রামে অনুপ্রাণিত করে।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
১৪.
মুজিবনগর সরকারের উপদেষ্টা কমিটির প্রধান কে ছিলেন?
  1. ক) তাজউদ্দীন আহমেদ
  2. খ) অধ্যাপক মোজাফফর আহমদ
  3. গ) আবদুল হামিদ খান ভাসানী
  4. ঘ) ক্যাপ্টেন মনসুর আলী
সঠিক উত্তর:
গ) আবদুল হামিদ খান ভাসানী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) আবদুল হামিদ খান ভাসানী
ব্যাখ্যা
মুজিবনগর সরকারের উপদেষ্টা কমিটি গঠন
- মুজিবনগর সরকারকে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ে উপদেশ প্রদান করার জন্য মুক্তিযুদ্ধে সমর্থনদানকারী বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দকে নিয়ে একটি উপদেষ্টা কমিটি গঠিত হয় (৯ সেপ্টেম্বর ১৯৭১)।
- মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী এই কমিটির নেতা
- এর আহবায়ক ছিলেন তাজউদ্দীন আহমেদ।
- কমিটির অন্যান্য সদস্যরা ছিলেন:
অধ্যাপক মোজাফফর আহমদ (মস্কোপন্থী ন্যাপ এর প্রতিনিধি)
মনিসিংহ (কমিউিনিস্ট পার্টির প্রতিনিধি)
মনোরঞ্জন ধর (কংগ্রেস দলের নেতা)
ক্যাপ্টেন মনসুর আলী (আওয়ামী লীগ দলের প্রতিনিধি)
এ. এইচ. এম. কামারুজ্জামান (আওয়ামী লীগ দলের প্রতিনিধি)
খন্দকার মোশতাক আহমদ (মুজিবনগর সরকারের প্রতিনিধি)।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৫.
মুক্তিযুদ্ধের সময় রাজশাহী জেলা কোন সেক্টরের অধীনে ছিল?
  1. ক) ছয়
  2. খ) সাত
  3. গ) আট
  4. ঘ) নয়
সঠিক উত্তর:
খ) সাত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) সাত
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধের ১১টি সেক্টর:
- মুক্তিযুদ্ধের সময় যুদ্ধ পরিচালনার সুবিধার্থে বাংলাদেশকে ১১টি সেক্টরে বিভক্ত করে ১১ জন সেক্টর কমান্ডার নিযুক্ত করা হয়। প্রত্যেক সেক্টর বেশ কয়েকটি সাব- সেক্টরে বিভক্ত ছিল।
- সেক্টরগুলোর পরিচয় নিচে তুলে ধরা হলো-
এক নম্বর সেক্টর: চট্টগ্রাম, পার্বত্য চট্টগ্রাম ও ফেনী নদী পর্যন্ত এলাকা।
দুই নম্বর সেক্টর: নোয়াখালী, আখাউড়া, ভৈরব রেললাইন পর্যন্ত, কুমিল্লা জেলা, সিলেট জেলার হবিগঞ্জ (বর্তমানে জেলা), ঢাকা ও ফরিদপুর জেলার কিছু অংশ।
তিন নম্বর সেক্টর: আখাউড়া, ভৈরব রেললাইন থেকে পূর্ব দিকে কুমিল্লা জেলা, সিলেট, ঢাকা জেলার অংশবিশেষ ও কিশোরগঞ্জ।
চার নম্বর সেক্টর: সিলেট জেলার পূর্বাঞ্চল, খোয়াই-শায়েস্তাগঞ্জ রেললাইন ছাড়াও পূর্ব ও উত্তর দিকে ডাউকি সড়ক পর্যন্ত অঞ্চল।
পাঁচ নম্বর সেক্টর: সিলেট জেলার পশ্চিমাঞ্চল, সিলেট-ডাউকি সড়ক থেকে সুনামগঞ্জ ময়মনসিংহ সড়ক পর্যন্ত এলাকা।
ছয় নম্বর সেক্টর: রংপুর জেলা, দিনাজপুরের ঠাকুরগাঁও মহকুমা (বর্তমানে জেলা)।
সাত নম্বর সেক্টর: দিনাজপুর জেলার দক্ষিণাঞ্চল, রাজশাহী, পাবনা ও বগুড়া জেলা
আট নম্বর সেক্টর: কুষ্টিয়া, যশোর, ফরিদপুরের অধিকাংশ এবং খুলনা জেলার দৌলতপুর-সাতক্ষীরা সড়ক পর্যন্ত এলাকা।
নয় নম্বর সেক্টর: দৌলতপুর-সাতক্ষীরা সড়ক থেকে খুলনা জেলার দক্ষিণাঞ্চল, ফরিদপুর জেলার অংশবিশেষ এবং বরিশাল ও পটুয়াখালী জেলা।
দশ নম্বর সেক্টর: দশ নম্বর সেক্টরের অধীনে ছিল নৌ-কমান্ডো, সমুদ্র উপকূলীয় অঞ্চল ও অভ্যন্তরীণ নৌপথ।
এগার নম্বর সেক্টর: কিশোরগঞ্জ ছাড়া ময়মনসিংহ ও টাঙ্গাইল জেলা।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, অষ্টম শ্রেণি। 
১৬.
অপারেশন সার্চলাইট - এ ঢাকা শহরে গণহত্যার মূল দায়িত্ব দেওয়া হয় কাকে?
  1. ক) জেনারেল টিক্কা খান
  2. খ) জেনারেল ইয়াহিয়া খান
  3. গ) জেনারেল খাদিম হোসেন রেজা
  4. ঘ) জেনারেল রাও ফরমান আলী
সঠিক উত্তর:
ঘ) জেনারেল রাও ফরমান আলী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) জেনারেল রাও ফরমান আলী
ব্যাখ্যা
- অপারেশন সার্চলাইট অনুযায়ী ঢাকা শহরে গণহত্যার মূল দায়িত্ব দেওয়া হয় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর মেজর জেনারেল রাও ফরমান আলীকে
- পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রথমেই ঢাকা শহরের পিলখানার ইপিআর হেডকোয়ার্টার্স এবং রাজারবাগ পুলিশ লাইন্সের নিয়ন্ত্রণভার পাকিস্তানি সেনাদের গ্রহণ করার কথা ছিল।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় আক্রমণ, বঙ্গবন্ধুকে গ্রেফতার, টেলিফোন এক্সচেঞ্জ ও রেডিও- টেলিভিশন নিয়ন্ত্রণ, স্টেট ব্যাংক নিয়ন্ত্রণ, আওয়ামী লীগ নেতাদের গ্রেফতার, ঢাকা শহরের যাতায়াত ব্যবস্থাসহ শহর নিয়ন্ত্রণ ছিল হানাদার সৈন্যদের প্রাথমিক দায়িত্ব।
- অপারেশন সার্চলাইট অপারেশনে ঢাকার বাইরে গণহত্যার মূল দায়িত্ব দেওয়া হয় জেনারেল খাদিম হোসেন রেজাকে। 
- সার্বিকভাবে এ পরিকল্পনার তত্ত্ববধান করেন গভর্নর লে. জেনারেল টিক্কা খান।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, অষ্টম শ্রেণি।
১৭.
মুক্তিযুদ্ধে 'ক্র্যাক প্লাটুন' কোন শহরে সক্রিয় ছিল?
  1. ক) চট্টগ্রাম
  2. খ) খুলনা
  3. গ) ঢাকা
  4. ঘ) বরিশাল
সঠিক উত্তর:
গ) ঢাকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ঢাকা
ব্যাখ্যা
আঞ্চলিক বাহিনী:
- সেক্টর এলাকার বাইরে আঞ্চলিক পর্যায়ে যেসব বাহিনী গড়ে উঠে তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে-
• কাদেরিয়া বাহিনী (টাঙ্গাইল),
• আফসার ব্যাটালিয়ন (ভালুকা,ময়মনসিংহ),
• বাতেন বাহিনী (টাঙ্গাইল),
• হেমায়েত বাহিনী (গোপালগঞ্জ, বরিশাল),
• হালিম বাহিনী (মানিকগঞ্জ), আকবর বাহিনী (মাগুরা),
• লতিফ মীর্জা বাহিনী (সিরাজগঞ্জ, পাবনা) ও
• জিয়া বাহিনী (সুন্দরবন)।
- এছাড়া ছিল ঢাকার গেরিলা দল, যা 'ক্র্যাক প্লাটুন' নামে পরিচিত
- ঢাকা শহরের বড় বড় স্থাপনা, বিদ্যুৎ কেন্দ্ৰ, হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল, ব্যাংক ও টেলিভিশন ভবনে বোমা বিস্ফোরণ ঘটায় ঢাকার গেরিলারা।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, অষ্টম শ্রেণি। 
১৮.
দেবদুলাল বন্দ্যোপাধ্যায় মুক্তিযুদ্ধের সময় নিম্নের কোনটি পাঠ করে বাংলাদেশের ঘরে ঘরে পরিচিত হয়ে উঠেন?
  1. ক) বিবিসি
  2. খ) সংবাদ পরিক্রমা
  3. গ) বজ্রকণ্ঠ
  4. ঘ) চরমপত্র
সঠিক উত্তর:
খ) সংবাদ পরিক্রমা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) সংবাদ পরিক্রমা
ব্যাখ্যা
- ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় বিবিসির সাংবাদিক মার্ক টালি পুরোটা সময় বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে খবর প্রচার করে পেছেন।
- এদিকে দেশে অবরুদ্ধ থেকেও অনেক বাঙালি সাংবাদিক ঝুঁকি নিয়ে বিদেশে খবর পাঠিয়েছে। এজন্য তাদের শত্রুর হাতে চরম মূল্যও দিতে হয়।
- একাত্তরের শহিদ নিজামউদ্দিন ও নাজমুল হক এরকমই দুজন সাংবাদিক।
- এছাড়া আকাশবাণী, বিবিসি, ভোয়া প্রভৃতি বেতারকেন্দ্র আমাদের মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে প্রচারণা চালিয়েছিল।
- আকাশবাণী কলকাতা থেকে প্রতি রাতে প্রচারিত 'সংবাদ পরিক্রমা' খুবই জনপ্রিয় অনুষ্ঠান ছিল।
- 'সংবাদ পরিক্রমা' পাঠ করে দেবদুলাল বন্দ্যোপাধ্যায় বাংলাদেশের ঘরে ঘরে পরিচিত হয়ে উঠেন
- স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের 'বজ্রকন্ঠ' ও 'চরমপত্রসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠান শ্রোতাদের মুক্তিযুদ্ধে উদ্বুদ্ধ করেছে।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, অষ্টম শ্রেণি। 
১৯.
বাংলাদেশ ও ভারত সরকার কখন যৌথ বাহিনী গঠন করেন?
  1. ক) ২০ নভেম্বর
  2. খ) ৭ নভেম্বর
  3. গ) ২১ নভেম্বর
  4. ঘ) ৩ ডিসেম্বর
সঠিক উত্তর:
গ) ২১ নভেম্বর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ২১ নভেম্বর
ব্যাখ্যা
- মুজিবনগর সরকারের সেক্টরভিত্তিক যুদ্ধ পরিকল্পনার ফলে একাত্তরের মে মাস থেকেই মুক্তিযোদ্ধারা রণাঙ্গনে সাহসের সঙ্গে পাকিস্তানি বাহিনীর মোকাবিলা শুরু করে।
- জুন মাস থেকে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত বাঙালি গেরিলা যোদ্ধারা দেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করে পাকিস্তানি বাহিনীর উপর ব্যাপক আক্রমণ চালাতে থাকে। এতে পাকিস্তানি বাহিনী দিশেহারা হয়ে পড়ে।
- মূলত মধ্য নভেম্বর থেকে ভারতীয় বাহিনী পাকিস্তানি সেনাদের বিরুদ্ধে মুক্তিবাহিনীকে সম্মুখ যুদ্ধে কার্যকর সহায়তা দিতে থাকে।
- ১৩ই নভেম্বর ট্যাংকসহ দুই ব্যাটালিয়ন ভারতীয় সৈন্য যশোরে ঘাঁটি স্থাপন করে।
- পাকিস্তানি বাহিনীর উপর আরও সুদৃঢ় আক্রমণের জন্য ১৯৭১ সালের ২১শে নভেম্বর বাংলাদেশ ও ভারত সরকার একটি যৌথবাহিনী গঠন করে
- মুক্তিবাহিনী ও মিত্রবাহিনীর সমন্বয়ে এটি গঠিত হয়।
- যুদ্ধকালীন মুক্তিবাহিনীর সহায়তাকারী ভারতীয় বাহিনীকে মিত্রবাহিনী বলা হতো।
- যৌথবাহিনী গঠনের ফলে স্বাভাবিকভাবেই যুদ্ধ দারুণ গতি লাভ করে।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, অষ্টম শ্রেণি।
২০.
মুক্তিযুদ্ধের আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে মুজিবনগর সরকারের প্রতিনিধিত্ব করেন কে?
  1. ক) লে. জেনারেল জগজিৎ সিং অরোরা
  2. খ) গ্রুপ ক্যাপ্টেন এ.কে. খন্দকার
  3. গ) লে. কর্নেল (অব.) আবদুর রব
  4. ঘ) কর্নেল (অব.) এম. এ. জি ওসমানী
সঠিক উত্তর:
খ) গ্রুপ ক্যাপ্টেন এ.কে. খন্দকার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) গ্রুপ ক্যাপ্টেন এ.কে. খন্দকার
ব্যাখ্যা
- বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের চূড়ান্ত বিজয় অর্জিত হয় ১৯৭১ সালের ১৬ই ডিসেম্বর পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর আত্মসমর্পণের মধ্য দিয়ে।
- ঐদিন হানাদার বাহিনী তাদের শোচনীয় পরাজয় মেনে নিয়ে মুক্তিবাহিনী ও মিত্রবাহিনী নিয়ে গঠিত যৌথবাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণ করে।
- আমরা লাভ করি প্রিয় মাতৃভূমি স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ।
- আত্মসমৰ্পণ অনুষ্ঠানে নেতৃত্ব দেন যৌথবাহিনীর কমান্ডার লে.জেনারেল জগজিৎ সিং অরোরা।
- আত্মসমৰ্পণ অনুষ্ঠানে তাঁর সঙ্গে ছিলেন মুজিবনগর সরকারের প্রতিনিধি মুক্তিবাহিনীর উপ-প্রধান সেনাপতি গ্রুপ ক্যাপ্টেন এ.কে. খন্দকার। 
- রেসকোর্স ময়দানের খোলা আকাশের নিচে একটি টেবিলে বসে যৌথবাহিনীর পক্ষে লে. জেনারেল অরোরা এবং পরাজিত পাকিস্তানি বাহিনীর পক্ষে লে. জেনারেল এ.এ.কে নিয়াজি আত্মসমর্পণ দলিলে স্বাক্ষর করেন।
- বন্দী করা হয় পাকিস্তানি বাহিনীর প্রায় ৯৩ হাজার সদস্যকে।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, অষ্টম শ্রেণি।
২১.
সমুদ্র উপকূলীয় অঞ্চল মুক্তিযুদ্ধের সময় কোন সেক্টরের অধীনে ছিল?
  1. ক) দুই নং সেক্টর
  2. খ) সাত নং সেক্টর
  3. গ) দশ নং সেক্টর
  4. ঘ) এগার নং সেক্টর
সঠিক উত্তর:
গ) দশ নং সেক্টর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) দশ নং সেক্টর
ব্যাখ্যা
- মুজিবনগর সরকার সুষ্ঠু ও পরিকল্পিতভাবে মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার জন্য ব্যাপক পরিকল্পনা গ্রহণ করে।
- মুক্তিবাহিনীর প্রধান সেনাপতি ছিলেন কর্নেল এম.এ. জি. ওসমানী।
- এছাড়া চিফ অব স্টাফ ছিলেন কর্নেল (অব.) আবদুর রব।
- ডেপুটি চিফ অব স্টাফ ছিলেন গ্রুপ ক্যাপ্টেন এ. কে. খন্দকার। 

- মুক্তিযুদ্ধের ১১টি সেক্টর :
- মুক্তিযুদ্ধের সময় যুদ্ধ পরিচালনার সুবিধার্থে বাংলাদেশকে ১১টি সেক্টরে বিভক্ত করে ১১ জন সেক্টর কমান্ডার নিযুক্ত করা হয়। প্রত্যেক সেক্টর বেশ কয়েকটি সাব- সেক্টরে বিভক্ত ছিল।
- সেক্টরগুলোর পরিচয় নিচে তুলে ধরা হলো-
এক নম্বর সেক্টর: চট্টগ্রাম, পার্বত্য চট্টগ্রাম ও ফেনী নদী পর্যন্ত এলাকা।
দুই নম্বর সেক্টর: নোয়াখালী, আখাউড়া, ভৈরব রেললাইন পর্যন্ত, কুমিল্লা জেলা, সিলেট জেলার হবিগঞ্জ (বর্তমানে জেলা), ঢাকা ও ফরিদপুর জেলার কিছু অংশ।
তিন নম্বর সেক্টর: আখাউড়া, ভৈরব রেললাইন থেকে পূর্ব দিকে কুমিল্লা জেলা, সিলেট, ঢাকা জেলার অংশবিশেষ ও কিশোরগঞ্জ।
চার নম্বর সেক্টর: সিলেট জেলার পূর্বাঞ্চল, খোয়াই-শায়েস্তাগঞ্জ রেললাইন ছাড়াও পূর্ব ও উত্তর দিকে ডাউকি সড়ক পর্যন্ত অঞ্চল।
পাঁচ নম্বর সেক্টর: সিলেট জেলার পশ্চিমাঞ্চল, সিলেট-ডাউকি সড়ক থেকে সুনামগঞ্জ ময়মনসিংহ সড়ক পর্যন্ত এলাকা।
ছয় নম্বর সেক্টর: রংপুর জেলা, দিনাজপুরের ঠাকুরগাঁও মহকুমা (বর্তমানে জেলা)।
সাত নম্বর সেক্টর: দিনাজপুর জেলার দক্ষিণাঞ্চল, রাজশাহী, পাবনা ও বগুড়া জেলা।
আট নম্বর সেক্টর: কুষ্টিয়া, যশোর, ফরিদপুরের অধিকাংশ এবং খুলনা জেলার দৌলতপুর-সাতক্ষীরা সড়ক পর্যন্ত এলাকা।
নয় নম্বর সেক্টর: দৌলতপুর-সাতক্ষীরা সড়ক থেকে খুলনা জেলার দক্ষিণাঞ্চল, ফরিদপুর জেলার অংশবিশেষ এবং বরিশাল ও পটুয়াখালী জেলা।
দশ নম্বর সেক্টর: দশ নম্বর সেক্টরের অধীনে ছিল নৌ-কমান্ডো, সমুদ্র উপকূলীয় অঞ্চল ও অভ্যন্তরীণ নৌপথ।
এগার নম্বর সেক্টর: কিশোরগঞ্জ ছাড়া ময়মনসিংহ ও টাঙ্গাইল জেলা।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, অষ্টম শ্রেণি। 
২২.
মুজিবনগর সরকারের পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য নন কে?
  1. ক) রুহুল কুদ্দুস
  2. খ) ড. মুজাফফর আহমদ চৌধুরী
  3. গ) ড. আনিসুজ্জামান
  4. ঘ) ড. এস. আর. বোস
সঠিক উত্তর:
ক) রুহুল কুদ্দুস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) রুহুল কুদ্দুস
ব্যাখ্যা
- মুজিবনগর সরকার একটি পূর্ণাঙ্গ সচিবালয় প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।
- জনাব রুহুল কুদ্দুস প্রধান সচিব নিযুক্ত হয়েছিলেন।

পরিকল্পনা কমিশন গঠন
- দেশ শত্রুমুক্ত করার পরপরই যেহেতু পুনর্গঠন একটি কাজ হবে এবং সে কাজে সরকারের পক্ষে কোনরূপ কালক্ষেপণ করা যাবে না।
- তাই স্বল্পমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রণয়নের লক্ষ্যে মুজিবনগর সরকার পাঁচ সদস্য বিশিষ্ট একটি পরিকল্পনা কমিশন গঠন করে।
- কমিটির চেয়ারম্যান নিযুক্ত হয়েছিলেন ড. মুজাফফর আহমদ চৌধুরী এবং
- অন্যান্য সদস্য ছিলেন (১) ড. খান সরওয়ার মুর্শেদ, (২) ড. মোশাররফ হোসেন, (৩) ড. এস. আর. বোস এবং (৪) ড. আনিসুজ্জামান। 

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৩.
মুক্তিযুদ্ধে লক্ষ লক্ষ নাম না-জানা শহীদের অমর স্মৃতির উদ্দেশ্যে নির্মিত নিম্নের কোনটি?
  1. ক) জাতীয় স্মৃতিসৌধ
  2. খ) অপরাজেয় বাংলা
  3. গ) মুজিবনগর স্মৃতিসৌধ
  4. ঘ) শিখা চিরন্তন
সঠিক উত্তর:
ক) জাতীয় স্মৃতিসৌধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) জাতীয় স্মৃতিসৌধ
ব্যাখ্যা
জাতীয় স্মৃতিসৌধ:
- মুক্তিযুদ্ধে লক্ষ লক্ষ নাম না-জানা শহিদের অমর স্মৃতির উদ্দেশ্যে নির্মিত জাতীয় স্মৃতিসৌধ
- এটি ঢাকা শহর থেকে ৩৫ কি.মি. উত্তর-পশ্চিমে সাভারে অবস্থিত। 
- স্থপতি মঈনুল হোসেনের নকশা অনুযায়ী জাতীয় স্মৃতিসৌধ নির্মাণ করা হয়।
- সাতটি জোড়া ত্রিভুজাকার দেয়ালের মাধ্যমে ছোট থেকে বড় হয়ে ধাপে ধাপে সৌধটি ১৫০ ফুট উচ্চতায় পৌঁছেছে।
- মূল স্মৃতিসৌধে সাত জোড়া দেয়াল, মূলত বাঙালির গৌরবময় সংগ্রামের প্রতীক।
- এই রাজনৈতিক ঘটনাগুলো হলো ১৯৫২, ১৯৫৪, ১৯৫৬, ১৯৬২, ১৯৬৬, ১৯৬৯ এবং ১৯৭১। বলার অপেক্ষা রাখে না, এই সাতটি গুরুত্বপূর্ণ সালের মধ্যেই আমাদের মুক্তি সংগ্রামের ইতিহাস নিহিত। 
- ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন থেকে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ পর্যন্ত ঘটনার ফলেই পরাধীনতার শৃঙ্খল ভেঙে বাঙালি স্বাধীনতা অর্জনে সক্ষম হয়েছে। আর জাতীয় স্মৃতিসৌধ বারবার আমাদের সেই মহান শহিদদের কথাই মনে করিয়ে দেয়।
- ১৯৭২ সালের জাতীয় স্মৃতিসৌধের নির্মাণকাজ শুরু হয়।
- ১৯৮২ সালে তিনটি পর্যায়ে তা সম্পন্ন হয়।
- বাঙালির অহংকার, গৌরব আর মর্যাদার প্রতীক এই স্মৃতিসৌধ।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি। 
২৪.
ভুটান বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয় কত তারিখে?
  1. ক) ৬ ডিসেম্বর, ১৯৭২
  2. খ) ৬ ডিসেম্বর, ১৯৭১
  3. গ) ৭ ডিসেম্বর, ১৯৭২
  4. ঘ) ৮ ডিসেম্বর, ১৯৭২
সঠিক উত্তর:
খ) ৬ ডিসেম্বর, ১৯৭১
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ৬ ডিসেম্বর, ১৯৭১
ব্যাখ্যা
- ৬ ডিসেম্বর ভূটান ও ভারত বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়
- মার্কিন প্রেসিডেন্ট নিক্সন ও পররাষ্ট্র মন্ত্রী হেনরি কিসিঞ্জার পাকিস্তানকে রক্ষার আপ্রাণ চেষ্টা করে।
- মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র জাতিসংঘে যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব আনলে সোভিয়েত ইউনিয়ন তিন তিনবার ভেটো দেয়।
- মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বঙ্গোপসাগরে ৭ম নৌবহর প্রেরণ করে।
- তার পাল্টা ভারত মহাসাগরে অবস্থিত সোভিয়েত ইউনিয়নের ২০তম নৌবহর ৭ম নৌবহরের পিছু নেয়।
- মিত্র বাহিনীও মার্কিন নৌবহরের চট্টগ্রাম অবতরণের সকল ব্যবস্থাই অচল করে দেয়।
- শেষপর্যন্ত জেনারেল আবদুল্লাহ নিয়াজী ১৬ ডিসেম্বর রেসকোর্সের যে স্থানে বঙ্গবন্ধু ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ দিয়েছিলেন সেখানে ৯৩ হাজার সৈন্য ও অফিসারসহ আত্মসমর্পণের দলিলে স্বাক্ষর করেন।
- যৌথবাহিনীর পক্ষে স্বাক্ষর করেন লে. জেনারেল জগজিৎ সিং অরোরা, জিওসি এবং পূর্বাঞ্চলীয় ভারতীয় বাহিনী ও বাংলাদেশ বাহিনীর সর্বাধিনায়ক।
- আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের পক্ষে গ্রুপ ক্যাপ্টেন এ. কে. খোন্দকার উপস্থিত ছিলেন।
- ভারতীয় বাহিনীর সংগে ঢাকায় আগত কাদের সিদ্দিকীও ঐ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
- ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর এই আত্মসমর্পণ দলিলে স্বাক্ষরের মাধ্যমে ১৯৭১ সালের ৯ মাস ব্যাপী মুক্তিযুদ্ধের অবসান ঘটে এবং সূচিত হয় স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের ‘আনুষ্ঠানিক অভ্যুদয়’।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৫.
বঙ্গবন্ধু পাকিস্তান কারাগার থেকে মুক্ত হয়ে স্বদেশে প্রত্যাবর্তন করেন কবে?
  1. ক) ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭১
  2. খ) ১০ জানুয়ারি ১৯৭২
  3. গ) ৮ জানুয়ারি ১৯৭২
  4. ঘ) ১১ জানুয়ারি ১৯৭২
সঠিক উত্তর:
খ) ১০ জানুয়ারি ১৯৭২
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ১০ জানুয়ারি ১৯৭২
ব্যাখ্যা
- ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর পাকিস্তান বাহিনীর আত্মসমর্পণের কয়েকদিনের মধ্যেই মুজিবনগর প্রশাসনের সিনিয়র আমলাবৃন্দ (সচিব রুহুল কুদ্দুসের নেতৃত্বে) ঢাকায় এসে প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণভার গ্রহণ করেন।
- ২২ ডিসেম্বর মুজিবনগর সরকারের সদস্যবৃন্দ ঢাকায় আসেন। ঢাকায় পৌছে তাজউদ্দীন আহমেদ তাঁর অবস্থান সুদৃঢ় করার পদক্ষেপ গ্রহণ করেন।
- ১৯৭২ সালের ৮ জানুয়ারি পাকিস্তানের কারাগার থেকে মুক্তিলাভের পর লন্ডন-দিল্লি হয়ে ১০-০১-৭২ তারিখে বঙ্গবন্ধু ঢাকায় প্রত্যাবর্তন করেন
- ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল তাজউদ্দিন আহমদ কর্তৃক প্রবাসী সরকার গঠনের সময়েই বঙ্গবন্ধু ঐ সরকারের প্রেসিডেন্ট মনোনীত হয়েছিলেন।
- মুক্তিযুদ্ধের নয় মাস তাঁর অনুপস্থিতিতেও বঙ্গবন্ধু সেই পদে বহাল ছিলেন।
- বঙ্গবন্ধু ১০.১.১৯৭২ তারিখে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট হিসেবেই নিজ মাতৃভূমিতে প্রত্যাবর্তন করেন।
- ঢাকায় ফেরার পরদিন (১১.১.৭২ তারিখ রাতে) বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশের ‘অন্তবর্তীকালীন শাসনতন্ত্র আদেশ, ১৯৭২' জারি করেন।
- এই আদেশের মাধ্যমে বাংলাদেশে সংসদীয় সরকার পদ্ধতি প্রতিষ্ঠিত হয়।
- ১২ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু প্রধান বিচারপতির কাছে প্রথমে দেশের রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন এবং পরে পদত্যাগ করে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
- এভাবেই বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশের সরকার প্রধানের দায়িত্ব লাভ করেন।
- তখন বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট নিযুক্ত হন বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরী।
- প্রধান বিচারপতি মনোনীত হন বিচারপতি আবু সাদাত মোঃ সায়েম।
- ১২ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু ১২ সদস্য বিশিষ্ট মন্ত্রিসভা গঠন করেন ।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৬.
বঙ্গবন্ধু যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ পুনর্গঠনে কৃষিব্যবস্থার উন্নয়নে কত বিঘা পর্যন্ত জমির খাজনা মওকুফ করেন?
  1. ক) ১৫ বিঘা
  2. খ) ২০ বিঘা
  3. গ) ২৫ বিঘা
  4. ঘ) ৩০ বিঘা
সঠিক উত্তর:
গ) ২৫ বিঘা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ২৫ বিঘা
ব্যাখ্যা
কৃষির উন্নয়ন:
- বাংলাদেশের শতকরা ৮৫ ভাগ জনগণের জীবিকা ছিল কৃষির ওপর নির্ভরশীল।
- জাতীয় আয়ের অর্ধেকেরও বেশি আসত কৃষিখাত থেকে। 
- তাই বঙ্গবন্ধু যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ পুনর্গঠনে কৃষিব্যবস্থার উন্নয়নে বিশেষ মনোযোগ দিয়েছিলেন। যেমন-
ক) ২৫ বিঘা পর্যন্ত জমির খাজনা মওকুফসহ পূর্বের সমস্ত বকেয়া খাজনা মওকুফ করে দেন
খ) একটি পরিবারের সর্বাধিক ১০০ বিঘা পর্যন্ত জমির মালিকানা নির্ধারণ করেন.
গ) বাইশ লাখের অধিক কৃষক পরিবার পুনর্বাসন করা হয়।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
২৭.
১৪ই ডিসেম্বর কোন দিবসটি পালন করা হয়?
  1. ক) বিজয় দিবস
  2. খ) শহীদ দিবস
  3. গ) শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস
  4. ঘ) স্বাধীনতা দিবস
সঠিক উত্তর:
গ) শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস
ব্যাখ্যা
বুদ্ধিজীবী হত্যা:
- যৌথ বাহিনীর ঢাকার উপকণ্ঠে আগমণ ও ভারতীয় বিমান বাহিনীর ঢাকা আক্রমণের প্রেক্ষাপটে ১৪ ডিসেম্বর গভর্ণর মালিকের নেতৃত্বাধীন সরকার পদত্যাগ করে।
- এ সময় পাকিস্তান বাহিনী তাদের এদেশীয় দোসর রাজাকার, আলবদর ও আল শামস এর সহযোগিতায় ব্যাপক গণহত্যা চালায়।
- যুদ্ধের শুরু থেকেই পাকিস্তানি বাহিনী বাংলাদেশের খ্যাতিমান শিক্ষক, চিকিৎসক ও সাংবাদিকসহ অনেক বুদ্ধিজীবীকে হত্যা করা হয়।
- তবে ১০-১৪ ডিসেম্বর পরিকল্পিতভাবে আলবদর বাহিনী বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করে।
- বাংলাদেশের ইতিহাস এ ঘটনাটি অত্যন্ত মর্মান্তিক।
- হত্যাকাণ্ডের শিকার বুদ্ধিজীবীদের স্মরণে ১৪ ডিসেম্বর শহিদ বুদ্ধিজীবী দিবস পালিত হয়

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
২৮.
গণপরিষদের প্রথম অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয় কত তারিখে?
  1. ক) ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল
  2. খ) ১৯৭২ সালের ১০ এপ্রিল
  3. গ) ১৯৭২ সালের ২৩ মার্চ
  4. ঘ) ১৯৭২ সালের ২৬ মার্চ
সঠিক উত্তর:
খ) ১৯৭২ সালের ১০ এপ্রিল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ১৯৭২ সালের ১০ এপ্রিল
ব্যাখ্যা
- সংবিধান রচনার জন্য বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমান ১৯৭২ সালের ২৩ মার্চ ‘বাংলাদেশ গণপরিষদ আদেশ' জারি করেন।
- এই আদেশে অনুসারে ১৯৭০ সালের নির্বাচনে নির্বাচিত প্রাদেশিক ও জাতীয় পরিষদের সদস্যরা গণপরিষদের সদস্য হবেন।
- সংবিধান প্রণয়নই ছিল গণপরিষদের একমাত্র লক্ষ্য। আদেশটি ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ থেকে কার্যকর করা হয়।
- এই আদেশ জারির মধ্য দিয়ে সংবিধান প্রণয়নের আনুষ্ঠানিক কাজ শুরু হয়।
- আওয়ামী লীগ পার্লামেন্টারি পার্টি বঙ্গবন্ধুকে গণপরিষদের দলীয় নেতা নির্বাচন করে।
- ৪৩০ সদস্য বিশিষ্ট গণপরিষদের প্রথম অধিবেশন ১৯৭২ সালের ১০ এপ্রিল ঢাকায় অনুষ্ঠিত হয়

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
২৯.
সংবিধান প্রণয়ন কমিটির সদস্য সংখ্যা কত জন ছিল?
  1. ক) ৩২জন
  2. খ) ৩৩জন
  3. গ) ৩৪জন
  4. ঘ) ৩৫জন
সঠিক উত্তর:
গ) ৩৪জন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ৩৪জন
ব্যাখ্যা
- গণপরিষদের প্রথম অধিবেশনে আইনমন্ত্রী ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে ৩৪ সদস্য বিশিষ্ট ‘একটা খসড়া সংবিধান প্রণয়ন কমিটি' (Draft Constitution Committee) গঠিত হয়
- এ কমিটিতে সংসদে নারী আসন থেকে বেগম রাজিয়া বানু ছিলেন একমাত্র মহিলা সদস্য।
- কমিটি মোট ৭৪টি বৈঠক মিলিত হয়।
- কমিটি ১৯৭২ সালের ১০ জুন অনুষ্ঠিত সভায় সংবিধানের প্রাথমিক খসড়া অনুমোদন করে।
- খসড়া সংবিধান নিয়ে আলোচনা পর্যালোচনা শেষে ১১ অক্টোবর কমিটির শেষ সভায় সংবিধানের পূর্ণাঙ্গ খসড়া চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়া হয়।
- ১২ অক্টোবর গণপরিষদের দ্বিতীয় অধিবেশনে খসড়া সংবিধান বিল আকারে পেশ করা হয়।
- ১৯৭২ সালের ৪ নভেম্বর বাংলাদেশের সংবিধান গৃহিত হয় এবং ১৬ ডিসেম্বর থেকে তা কার্যকর হয়।
- বঙ্গবন্ধুর সরকার মাত্র দশ মাসে বাংলাদেশকে একটি সংবিধান উপহার দিতে সক্ষম হয়।
- এটি বঙ্গবন্ধু সরকারের সবচেয়ে বড় সফলতাগুলোর মধ্যে অন্যতম। 

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩০.
অস্থায়ী সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র কে পাঠ করেন?
  1. ক) ব্যারিস্টার আমিরুল ইসলাম
  2. খ) সৈয়দ নজরুল ইসলাম
  3. গ) এম এ হান্নান
  4. ঘ) অধ্যাপক ইউসুফ আলী
সঠিক উত্তর:
ঘ) অধ্যাপক ইউসুফ আলী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) অধ্যাপক ইউসুফ আলী
ব্যাখ্যা
- ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ পাকিস্তান সামরিক বাহিনী গণহত্যা শুরু করলে প্রাথমিকভাবে পূর্ব প্রস্তুতি ও সাংগঠনিক তৎপরতা ছাড়াই পূর্ব পাকিস্তানের মানুষ তাদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলে।
- ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানি বাহিনীর আক্রমণ ও গণহত্যা শুরু হলে পূর্ব পাকিস্তান হতে নির্বাচিত জাতীয় ও প্রাদেশিক পরিষদের অধিকাংশ সদস্য প্রতিবেশি দেশ ভারতে আশ্রয় নেন।
- তারা একত্রিত হয়ে মুক্তিযুদ্ধ সঠিকভাবে পরিচালনার জন্য ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল স্বাধীন বাংলাদেশের একটি অস্থায়ী সরকার গঠন করেন।
- ১৩ এপ্রিল আগরতলায় অনুষ্ঠিত জাতীয় ও প্রাদেশিক পরিষদের এক সভায় সরকার গঠন অনুমোদন করা হয়।
- ১৭ এপ্রিল অস্থায়ী সরকারের সদস্যগণ মেহেরপুর বৈদ্যনাথ তলায় শপথ গ্রহণ করেন।
- সরকারের প্রধান ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
- তাঁর নাম অনুসারে বৈদ্যনাথ তলার নামকরণ করা হয় মুজিবনগর এবং দেশে-বিদেশে সরকার পরিচিত হয় মুজিবনগর সরকার নামে ।
- আওয়ামী লীগের চীপ হুইপ অধ্যাপক ইউসুফ আলী অস্থায়ী সরকারের (মুজিবনগর সরকার নামে পরিচিত) সদস্যদের শপথ পাঠ করান।
- শপথ অনুষ্ঠানে অধ্যাপক ইউসুফ আলী স্বাধীনতার ঘোষণা পত্র পাঠ করেন
- এ সরকার গঠনের মাত্র দুই ঘন্টা পর পাকিস্তানি বাহিনীর বিমান মুজিবনগরে বোমাবর্ষণ করে এবং মেহেরপুর দখল করে নেয়।
- ফলে মুজিবনগর সরকারের সদর দপ্তর কলকাতার ৮নং থিয়েটার রোডে স্থানান্তরিত হয়।

উৎস: ইতিহাস প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৩১.
মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বপূর্ণ অবদানের জন্য কত ধরনের উপাধি দেয়া হয়?
  1. ক) ৩ ধরনের
  2. খ) ৪ ধরনের
  3. গ) ৫ ধরনের
  4. ঘ) ৬ ধরনের
সঠিক উত্তর:
খ) ৪ ধরনের
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ৪ ধরনের
ব্যাখ্যা
- মুক্তিযোদ্ধাদের ৪ ধরনের খেতাব দেয়া হয়। যেমন- বীর শ্রেষ্ঠ, বীর উত্তম, বীর বিক্রম এবং বীর প্রতীক। 
- এর মধ্যে ৭ জন বীর শ্রেষ্ঠ, ৬৮ জন বীর উত্তম, ১৭৫ জন বীর বিক্রম এবং ৪২৬ জন বীর প্রতীক খেতাব পান।
- এর মধ্যে ২৮৬ জন আবার সেনাবাহিনী, ২১ জন নৌবাহিনী, ২১ জন বিমান বাহিনী, ১৪১ জন বিডিআর, ৫ জন পুলিশ এবং ২০২ জন ছাত্র, জনতা ও অন্যান্য পেশার গণবাহিনীর সদস্য।
- যে ৭ জন বীর শ্রেষ্ঠ উপাধিতে ভূষিত হন। তাঁরা হলেন- 
১। ল্যান্স নায়েক নূর মোহাম্মদ শেখ
২। ল্যান্স নায়েক মুন্সী আবদুর রউফ
৩। ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর
৪। ইঞ্জিন রুম আর্টিফিসার মোহাম্মদ রুহুল আমিন
৫। সিপাহী মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল
৬। ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান এবং
৭। সিপাহী মোহাম্মদ হামিদুর রহমান।

উৎস: ইতিহাস-৩, বিএ ৪র্থ সেমিস্টার, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।