পরীক্ষা আর্কাইভ

১০০ দিনে বিসিএস প্রস্তুতি [বিষয়ভিত্তিক]

পরীক্ষা১০০ দিনে বিসিএস প্রস্তুতি [বিষয়ভিত্তিক]তারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়27 minutes
মোট প্রশ্ন৪৮
সিলেবাস
পরীক্ষা - ১৬ বিষয়: বাংলাদেশ বিষয়াবলী (সম্পূর্ণ সিলেবাস)
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

১০০ দিনে বিসিএস প্রস্তুতি [বিষয়ভিত্তিক]

১০০ দিনে বিসিএস প্রস্তুতি [বিষয়ভিত্তিক] · তারিখ অনির্ধারিত · ৪৮ প্রশ্ন

.
স্বদেশি আন্দোলনের সময় কোন ধরনের পণ্য বর্জন করা হয়েছিল?
  1. খাদি কাপড়
  2. মসলিন কাপড়
  3. বিদেশি পণ্য
  4. উপরের কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
বিদেশি পণ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিদেশি পণ্য
ব্যাখ্যা
স্বদেশী আন্দোলন:
- স্বদেশী আন্দোলন ছিলো একটি ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলন।
- ১৯০৫ সালের অক্টোবর মাস থেকে স্বদেশী ভাবধারা, বিদেশী পণ্য বর্জন, 'বয়কট' ইত্যাদি পন্থায় বঙ্গভঙ্গ বিরোধী যে আন্দোলন বাংলায় গড়ে উঠেছিল তাকেই স্বদেশী আন্দোলন বলা হয়।
- এটি বঙ্গভঙ্গকে কেন্দ্র করে বাংলায় গড়ে উঠলেও অচিরেই ছড়িয়ে পড়ে ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের একটি ধারা হিসেবে সমগ্র ভারতে।
- তাছাড়া এ আন্দোলন শুরুতে তরুণদের দেশপ্রেম, ঔপনিবেশিক শক্তিবিরোধী শাড়িপূর্ণ নিষ্ঠা ও আদর্শ নিয়ে শুরু হলেও ক্রমে তা থেকে চরম ও সশস্ত্র ধারার ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের জন্ম নেয়।
- ফলে ব্রিটিশ শক্তি শেষ পর্যন্ত বঙ্গভঙ্গ বাতিল করতে বাধ্য হয়।

⇒ এই আন্দোলনের প্রধান উদ্দেশ্য ছিল বিলেতি পণ্য বর্জন।
- পরে বিলেতি শিক্ষা বর্জনও এ কর্মসূচির অন্তর্ভুক্ত হয়।
- কংগ্রেস নেতারা গ্রামে-গঞ্জে-শহরে প্রকাশ্য সভায় বিলেতি পণ্য পুড়িয়ে ফেলে।
- সঙ্গে সঙ্গে বাংলার বিভিন্ন অঞ্চলে গড়ে উঠে বাংলার নিজস্ব তাঁতবস্ত্র, সাবান, লবণ, চিনি ও চামড়ার দ্রব্য তৈরির কারখানা।
- অপর দিকে বিলেতি শিক্ষা বর্জন এবং আন্দোলনের সাথে যুক্তদের বিভিন্ন সরকারি স্কুল-কলেজ থেকে বের করে দেওয়ার ফলে প্রয়োজনে গড়ে উঠে জাতীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।
- এই আন্দোলনকে কেন্দ্র করে বাংলা ভাষায় বাঙালি জাতীয়তাবাদে উদ্বুদ্ধকারী শ্রেষ্ঠ দেশাত্মবোধক গানগুলো রচনা করেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, দ্বিজেন্দ্রলাল রায় এবং রজণীকান্ত সেন প্রমুখ।
- আমাদের জাতীয় সঙ্গীত 'আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালোবাসি' গানটি রবীন্দ্রনাথ ঐ সময় রচনা করেন। 
- তবে মুসলমানরা বঙ্গভঙ্গের পক্ষে ছিলো, তাই তারা স্বদেশী আন্দোলনে সম্পৃক্ত হয়নি।
- যার কারণে স্বদেশী আন্দোলনের ফলে বাংলার হিন্দু-মুসলমান সম্পর্কের অবনতি হয়।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
মসলিন কাপড় কেমন সুতা দিয়ে বোনা হতো?
  1. হালকা
  2. ভারী
  3. মোটা
  4. সূক্ষ্ম
সঠিক উত্তর:
সূক্ষ্ম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সূক্ষ্ম
ব্যাখ্যা
মসলিন কাপড়:
- মসলিন ‘ঢাকাই মসলিন’ নামে বিশ্বব্যাপী পরিচিত এক ধরনের মিহি সুতিবস্ত্র।
- ঢাকা শহর ও এর পার্শ্ববর্তী এলাকায় স্থানীয় কারিগররা ফুটি কার্পাস নামক তুলা থেকে তৈরি অতি সূক্ষ্ম সুতা দিয়ে মসলিন প্রস্তুত করত।
- মুঘল আমলে প্রাচীন বাংলার গৌরব মসলিন কাপড় ঢাকায় তৈরী হতো।

⇒ মুঘল আমলে বাংলার রাজধানী ঢাকায় স্থানান্তরিত হওয়ার পর থেকে ঢাকাই মসলিনের খ্যাতি বেড়ে যায়।
- মুঘল সম্রাট ও অভিজাতরা ঢাকার মসলিন শিল্পের প্রসারে পৃষ্ঠপোষকতা করেন।
- সে সময়ে সম্রাট, প্রাদেশিক শাসনকর্তা এবং পদস্থ কর্মকর্তা ও অভিজাতদের ব্যবহারের জন্য প্রচুর পরিমাণে সূক্ষ্ম মসলিন বস্ত্র সংগ্রহ করা হতো।
- সম্রাট, উজির, নওয়াব ও অভিজাত শ্রেণির জন্য বোনা হতো সূক্ষ্ম ও মিহি বস্ত্র এবং দরিদ্রদের জন্য মোটা ও ভারী কাপড়।
- কাপড়ের সূক্ষ্মতা ও স্বচ্ছতা, উৎপাদনের উৎস এবং ব্যবহারভেদে ঢাকাই মসলিনের মলমল, ঝুনা, রঙ্গ, আবিরাওয়ান, খাস, শবনম, আলাবালি, তনজিব, নয়ন-সুখ, জামদানি ইত্যাদি নাম দেওয়া হতো।
- বিভিন্ন রকম মসলিনের মধ্যে জামদানি এখনো প্রচলিত।

⇒ কথিত আছে, মসলিনে তৈরি করা পোশাকগুলো এতই সূক্ষ্ম ছিল যে ৫০ মিটার দীর্ঘ মসলিনের কাপড়কে একটি দিয়াশলাই বাক্সে ভরে রাখা যেত।

উল্লেখ্য,
- ঢাকাই মসলিনের শেষ প্রদর্শনী হয়েছিল লন্ডনে ১৮৫০ সালে।
- ইতিমধ্যেই ঢাকাই মসলিনের জিআই স্বত্বের অনুমোদন পাওয়া গেছে।

উৎস: i) বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, পঞ্চম শ্রেণি।
ii) প্রথম আলো।
.
কত সালে মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনটি প্রবর্তন করা হয়?
  1. ২০০১ সালে
  2. ২০০৮ সালে
  3. ২০১১ সালে
  4. ২০১২ সালে
সঠিক উত্তর:
২০১২ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২০১২ সালে
ব্যাখ্যা
মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন:
- মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ সংক্রান্ত বিদ্যমান আইন ও অধ্যাদেশ রহিতক্রমে এতদসংক্রান্ত আইন পুনঃপ্রণয়নের উদ্দেশ্যে প্রণীত আইন।
- মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনটি প্রবর্তন করা হয় ২০১২ সালে।

⇒ মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন -
- এই আইন মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ নামে অভিহিত হইবে।
- ইহা ৩ মাঘ, ১৪১৮ বঙ্গাব্দ/১৬ জানুয়ারি, ২০১২ খ্রিস্টাব্দ তারিখ হতে কার্যকর হয়েছে বলে গণ্য হবে।

উল্লেখ্য,
⇒ দেশে মানি লন্ডারিং ঠেকাতে ২০০২ সালে প্রথম মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন করা হয়।
- পরে কয়েক দফা এই আইনের সংশোধন করা হয়।
- মানি লন্ডারিং আইন অনুযায়ী, অর্থ বা সম্পত্তি পাচারের অর্থ হচ্ছে দেশের বিদ্যমান আইন লঙ্ঘন করে দেশের বাইরে অর্থ বা সম্পদ পাঠানো কিংবা রক্ষণ করা।
- আবার দেশের বাইরে এমন অর্থ বা সম্পত্তি, যাতে বাংলাদেশের স্বার্থ রয়েছে, কিন্তু তা আনা হয়নি, তা–ও মানি লন্ডারিং আইনে অপরাধ।
- আবার বিদেশ থেকে প্রকৃত পাওনা দেশে না আনা কিংবা বিদেশে প্রকৃত দেনার অতিরিক্ত টাকা পরিশোধ করা এই আইনে অপরাধ হিসেবে গণ্য হয়।

⇒ মানিলণ্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০০২ বাংলাদেশের একটি আইন যা ২০০২ সালের ৭ নং আইন হিসাবে চিহ্নিত এবং ৭ই এপ্রিল, ২০০২ তারিখে আইন হিসাবে প্রচারিত। আইনটি ৩০শে এপ্রিল ২০০২ তারিখ থেকে কার্যকর হয়। এ আইনটি “মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ (সংশোধন) আইন” দ্বারা ২০০৩ সালে সংশোধন করা হয়। পরে, ২০১২ সালে এই আইনটি রহিত করা হয়।

উৎস: আইন মন্ত্রণালয় ওয়েবসাইট।
.
কোনো বিল অর্থবিল কিনা তাতে কার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত বলে গৃহীত হয়?
  1. রাষ্ট্রপতি
  2. প্রধানমন্ত্রী
  3. স্পিকার
  4. অর্থমন্ত্রী
সঠিক উত্তর:
স্পিকার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্পিকার
ব্যাখ্যা
অর্থবিল:
- অর্থবিল একটি গুরুত্বপূর্ণ বিল।
- কোনো বিল অর্থবিল কিনা এ প্রশ্নে স্পিকারের দেওয়া সার্টিফিকেট চূড়ান্ত মত বলে গৃহীত হয়।
- অর্থবিল বা অর্থব্যয় সংক্রান্ত বিলের উদ্যোক্তা সরকার।

⇒ প্রতি বছর পরবর্তী বছরের জন্য সরকারের আর্থিক প্রস্তাবাবলি কার্যকর করার উদ্দেশ্যে অর্থবিল সংসদে উত্থাপন করা হয়।
- সংসদে উত্থাপনের পর যথানিয়মে বিভিন্ন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে বিলটি পাস করতে হয়।
- অর্থবিল রাষ্ট্রপতির সম্মতির জন্য উপস্থাপিত হলে পনের দিনের মধ্যে তিনি বিলটিতে সম্মতি প্রদান করেন।
- রাষ্ট্রপতি সম্মতি প্রদানে অসমর্থ হলে উক্ত মেয়াদের শেষে বিলটি আইনে পরিণত হয়।

উল্লেখ্য,
- বাংলাদেশের সংবিধানের ৮১ নং অনুচ্ছেদে 'অর্থবিল' নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।

উৎস: i) বাংলাদেশের সংবিধান।
ii) বাংলাপিডিয়া।
.
মহারাসলীলা কোন সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় উৎসব?
  1. হাজং
  2. সাঁওতাল
  3. খাসিয়া
  4. মণিপুরী
সঠিক উত্তর:
মণিপুরী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মণিপুরী
ব্যাখ্যা
মণিপুরী:
- মণিপুরী বাংলাদেশের অন্যতম আদিবাসী সম্প্রদায়।
- জাতিগত দিক থেকে মণিপুরীরা মঙ্গোলীয় মানবগোষ্ঠীর তিব্বতি-বর্মি পরিবারের কুকি-চীন গোত্রভুক্ত। 
- বাংলাদেশের বৃহত্তর সিলেট অঞ্চলের সিলেট, হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজার ও সুনামগঞ্জ জেলা এবং ঢাকায় মণিপুরী সম্প্রদায় বসবাস করে।
- আঠারো শতকের শেষের দিকে মণিপুরীরা ভারতের মণিপুর রাজ্য থেকে বাংলাদেশের পূর্বাঞ্চলে এসে বসতি স্থাপন করে।
- মণিপুরীদের মেইতেই নামেও অভিহিত করা হতো। 

⇒ মণিপুরে তিন গোষ্ঠী সম্প্রদায়ের বাস- বিষ্ণুপ্রিয়া, মৈতৈ ও পাঙান।
- বাংলাদেশের মণিপুরীদের মধ্যে বিষ্ণুপ্রিয়ারা সংখ্যাগরিষ্ঠ।
- মণিপুরী সংস্কৃতির সবচেয়ে সমৃদ্ধ শাখা হচ্ছে মণিপুরী নৃত্য।

⇒ মণিপুরী সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় উৎসব 'মহা রাসলীলা'।

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
ii) জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
.
বাংলাদেশের প্রথম কয়লানির্ভর বিদ্যুৎ কেন্দ্র -
  1. মাতারবাড়ি বিদ্যুৎ কেন্দ্র
  2. রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র
  3. বড়পুকুরিয়া বিদ্যুৎ কেন্দ্র
  4. পায়রা বিদ্যুৎ কেন্দ্র
সঠিক উত্তর:
বড়পুকুরিয়া বিদ্যুৎ কেন্দ্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বড়পুকুরিয়া বিদ্যুৎ কেন্দ্র
ব্যাখ্যা
বড়পুকুরিয়া বিদ্যুৎ কেন্দ্র:
- বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র বাংলাদেশের দিনাজপুর জেলার পার্বতীপুর উপজেলার হামিদপুর ইউনিয়নে অবস্থিত।
- এটি একটি কয়লা ভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র।
- এটি দেশের প্রথম কয়লা নির্ভর বিদ্যুৎ কেন্দ্র।
- এটি ২০০৬ সালে গড়ে ওঠে।
- এর মোট উৎপাদন ক্ষমতা ৫২৫ মেগাওয়াট।
- কেন্দ্রটিতে বড়পুকুরিয়া কয়লাখনির কয়লা ব্যবহার করা হয়।
- এটি পরিচলনা করে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড।

অন্যদিকে -
- মাতারবাড়ি বিদ্যুৎ কেন্দ্রতে ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হবে।
- রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে ২০২২ সালে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হয়।
- পায়রা বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে ২০২০ সালে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হয়।

উৎস: বিদ্যুৎ বিভাগ ওয়েবসাইট।
.
বাংলাদেশের ব্লু-ইকোনমির চ্যালেঞ্জ নয় কোনটি?
  1. দক্ষ জনশক্তির অভাব
  2. প্রযুক্তিগত জ্ঞানের অভাব
  3. পর্যাপ্ত নীতিমালার অভাব
  4. উপরের কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
উপরের কোনটিই নয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপরের কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
Blue economy:
- সুনীল অর্থনীতি বা Blue economy হচ্ছে সমুদ্রের সম্পদনির্ভর অর্থনীতি।
- সমুদ্রের বিশাল জলরাশি ও এর তলদেশের বিভিন্ন প্রকার সম্পদকে কাজে লাগানোর অর্থনীতি।
- ব্লু ইকোনমি সম্পর্কে প্রথম ধারণা দেন বেলজিয়ামের অর্থনীতিবিদ গ্রুন্টার পাউলি।
- ১৯৯৪ সালে তিনি প্রথম এই প্রত্যয়টি ব্যবহার করেন।

⇒ বিশ্বব্যাংক আধুনিক ব্লু ইকোনোমির সংজ্ঞায় বলেছে - ব্লু ইকোনোমি হলো টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করার জন্য সামুদ্রিক পরিবেশের সুরক্ষা করে সমুদ্রের ব্যবহারযোগ্য সকল ধরণের সম্পদ সঠিকমাত্রায় ব্যবহার করা। এখানে, ইকোনোমি শুধু ব্যবসায়িক দিক বুঝায় না, বরং সমুদ্রের জীবন্ত প্রাণীদের জন্য প্রাকৃতিক পরিবেশ নিশ্চিতের পাশাপাশি টেকসই উন্নয়নে অবদান রাখাও বুঝায়।
- ২০১৪ সালে বাংলাদেশ মিয়ানমারের নিকট থেকে সমুদ্রসীমা বিজয়ের পর বঙ্গোপসাগরে অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয় এবং ব্লু ইকোনমির বড় অংশীদার হয়। বিশাল সমুদ্রজয়ের পর সমুদ্র অর্থনীতি ঘিরে নতুন স্বপ্ন দেখা শুরু হয় বাংলাদেশের।
- বাংলাদেশের 'ব-দ্বীপ পরিকল্পনা - ২১০০' বাস্তবায়নে ব্লু ইকোনমির উপর জোর দেওয়া হয়েছে।

⇒ বাংলাদেশের ব্লু-ইকোনমির চ্যালেঞ্জ:
- পর্যাপ্ত নীতিমালার ও সঠিক কর্মপরিকল্পনার অভাব
- দক্ষ জনশক্তির অভাব
- প্রযুক্তিগত জ্ঞানের অভাব।
- সম্পদের পরিমাণ ও মূল্য সম্পর্কে সঠিক তথ্যের অভাব।
- মেরিন রিসোর্সভিত্তিক পর্যাপ্ত গবেষণা না হওয়া।
- ব্লু-ইকোনমি সম্পর্কিত আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক যোগাযোগের অভাব।
- সমুদ্রে গমন এবং গবেষণা কার্যক্রম সম্পাদনের জন্য গবেষণা জাহাজ না থাকা।

উৎস: i) United Nation ওয়েবসাইট।
ii) জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
.
দাবা খেলায় বাংলাদেশের সর্বকনিষ্ঠ আন্তর্জাতিক মাস্টার কে? [ডিসেম্বর, ২০২৪]
  1. নিয়াজ মোর্শেদ
  2. রিয়াজ বিন সাত্তার
  3. জিয়াউর রহমান
  4. মনন রেজা
সঠিক উত্তর:
মনন রেজা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মনন রেজা
ব্যাখ্যা
দাবায় বাংলাদেশের সর্বকনিষ্ঠ আন্তর্জাতিক মাস্টার:
- ১৯৮৪ সাল থেকে দাবা অলিম্পিয়াডে অংশ নিচ্ছে বাংলাদেশ দাবা দল।
- বর্তমানে মনন রেজা দেশের সর্বকনিষ্ঠ আন্তর্জাতিক মাস্টার।
- অক্টোবর, ২০২৪-এ বিশ্ব দাবা সংস্থার চতুর্থ ফিদে জোন কাউন্সিলের সভায় তার আন্তর্জাতিক মাস্টারের খেতাব অনুমোদন হয়।
- তিনি আন্তর্জাতিক মাস্টার হয়েছেন গ্র্যান্ডমাস্টার নিয়াজ মোরশেদের রেকর্ড ভেঙে।

⇒ আন্তর্জাতিক মাস্টার হতে ২৪০০ রেটিং ও তিনটি নর্ম প্রয়োজন।

অন্যদিকে,
- নিয়াজ মোরশেদ আন্তর্জাতিক মাস্টার হয়েছিলেন ১৫ বছর পাঁচ মাস বয়সে।
- ১৪ বছর তিন মাস বয়সে এই কৃতিত্ব অর্জন করলেন মনন।
- তাকে নিয়ে বাংলাদেশে এখন আন্তর্জাতিক মাস্টারের সংখ্যা দাঁড়াল পাঁচ।
- বাকি চারজন জিল্লুর রহমান, আবু সুফিয়ান, মিনহাজ উদ্দিন, ফাহাদ রহমান।

উৎস: প্রথম আলো।
.
বিশ্বের কয়টি দেশে বাংলাদেশ মাছ রপ্তানি করে? [ডিসেম্বর, ২০২৪]
  1. ৪৪টি
  2. ৫২টি
  3. ৬১টি
  4. ৬৭টি
সঠিক উত্তর:
৫২টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৫২টি
ব্যাখ্যা
[এই প্রশ্নের তথ্য পরিবর্তনশীল। অনুগ্রহ করে সাম্প্রতিক তথ্য দেখে নিন। সাম্প্রতিক আপডেট তথ্য জানার জন্য Live MCQ ডাইনামিক ইনফো প্যানেল, সাম্প্রতিক সমাচার বা অথেনটিক সংবাদপত্র দেখুন।]

বিশ্বের মাছ রপ্তানী:

- পৃথিবীর ৫২টি দেশে বাংলাদেশ মাছ রপ্তানি করে।

⇒ ২০২২-'২৩ অর্থবছরে মৎস্য উৎপাদন হয়েছে ৪৯.১৫ লাখ মে. টন।
- বর্তমানে মৎস্য সেক্টরে ১৪ লক্ষ নারীসহ প্রায় ১ কোটি ৯৫ লক্ষ মানুষ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জীবিকা নির্বাহ করছে।
- ২০২২-'২৩ অর্থবছরে জিডিপিতে মৎস্য খাতের অবদান ২.৫৩%, কৃষিজ জিডিপিতে মৎস্য খাতের অবদান ২২.২৬% এবং জিডিপির প্রবৃদ্ধির হার ২.৮১%।
- মাছ ইলিশের উৎপাদন একক প্রজাতি হিসেবে মোট মৎস্য উৎপাদনের প্রায় ১২%।
- এছাড়া বিশ্বে ইলিশ উৎপাদনকারী ১১টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশ প্রথম।
- জিডিপিতে ইলিশের অবদান শতকরা ১% এর বেশি।
- বর্তমানে দেশের চাহিদা মিটিয়ে মৎস্য ও মৎস্যজাত পণ্য পৃথিবীর ৫২টি'র অধিক দেশে রপ্তানি করছে।
- সম্প্রতি জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) দ্য স্টেট অব ওয়ার্ল্ড ফিশারিজ অ্যান্ড অ্যাকোয়াকালচার-২০২৪ এর প্রতিবেদন অনুযায়ী মিঠা পানির মাছ আহরণে বাংলাদেশ চীনকে টপকে বিশ্বে ২য় অবস্থানে উঠে এসেছে।

উৎস: i) মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়। [link]
ii) প্রথম আলো।
১০.
মুসলমান নারী কর্তৃক লিখিত প্রথম বাংলা সাহিত্যকর্ম ‘রূপজালাল’–এর লেখক –
  1. বেগম রোকেয়া
  2. নুরুন্নেসা খাতুন বিদ্যাবিনোদিনী
  3. নওয়াব ফয়জুন্নেসা চৌধুরী
  4. সুফিয়া কামাল
সঠিক উত্তর:
নওয়াব ফয়জুন্নেসা চৌধুরী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নওয়াব ফয়জুন্নেসা চৌধুরী
ব্যাখ্যা
নওয়াব ফয়জুন্নেসা:
- অবিভক্ত ভারতীয় রক্ষণশীল মুসলিম নারীদের মধ্যে এক উজ্জল নক্ষত্র নওয়াব ফয়জুন্নেসা সততা, মহানুভবতা, সাহিত্য সাধনা ও সমাজসেবার ক্ষেত্রে অনন্য ভূমিকা রেখে তিনি চিরস্মরণীয় হয়ে আছেন।
- জনকল্যাণে তাঁর অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ ইংল্যান্ডের তৎকালীন মহারানী ভিক্টেরিয়া তাকে নওয়াব উপাধিতে ভূষিত করেন।
- ১৮৩৪ সালে ত্রিপুরা জেলার (বর্তমানে কুমিল্লা) লাকসাম থানার পশ্চিমগাঁও গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম জমিদার পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।
- স্বীয় প্রতিভা বলে দ্রুত বিদুষী হিসেবে প্রসিদ্ধি লাভ করেন।
- দানবীর হাজী মোঃ মুহসীনের জনহিতকর কার্যবলীর সাথে তাঁর দানশীলতাকে তুলনা করা যেতে পারে।
- তিনিই এক মাত্র ভারতীয় মহিলা যিনি ব্রিটিশ কর্তৃক ভারতীয়দের জন্য দেওয়া শ্রেষ্ঠতম সম্মান নওয়াব উপাধি লাভ করেন।

তাঁকে নারী শিক্ষার অগ্রদূত বলা যায়:
- নারী শিক্ষার জন্য নিজ গ্রামে এম. ই. স্কুল, কুমিল্লায় ফয়জুন্নেসা গার্লস হাই স্কুল ও একটি পাঠশালা, পশ্চিমগাঁও এ স্বীয় কন্যার নামে বদরুন্নেসা উচ্চ বিদ্যালয় তাঁর অমর কীর্তি।পশ্চিমগাঁও এ স্বীয় কন্যার নামে বদরুন্নেসা উচ্চ বিদ্যালয় তাঁর অমর কীর্তি।
- কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজ স্থাপনেও তিনি সাহায্যের হাত বাড়ায়।

সহিত্য সাধনা:
- তাঁর সাহিত্য কর্মের অন্যতম নিদর্শণ রূপজালাল বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে কোন মুসলমান মহিলা প্রকাশিত ১৮৭৬ সালের ১০ ফেব্রুয়ারী প্রথম কাব্যগ্রন্থ।

উৎস: সমাজকল্যাণ ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১১.
বাংলাদেশে সশস্ত্র বাহিনী দিবস পালিত হয় -
  1. ১ নভেম্বর
  2. ১১ নভেম্বর
  3. ২১ নভেম্বর
  4. ২৮ নভেম্বর
সঠিক উত্তর:
২১ নভেম্বর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২১ নভেম্বর
ব্যাখ্যা
সশস্ত্র বাহিনী দিবস:
- ২১ নভেম্বর সশস্ত্র বাহিনী দিবস।

উল্লেখ্য,
- মহান মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে গড়ে ওঠা সশস্ত্র বাহিনী জাতির গর্ব ও আস্থার প্রতীক।
- মহান মুক্তিযুদ্ধকালীন ১৯৭১ সালের ২১ নভেম্বর বাংলাদেশের সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনী সম্মিলিতভাবে পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে আক্রমণ পরিচালনা করে।
- তিন বাহিনীর সম্মিলিত এই প্রয়াস আমাদের বিজয়কে ত্বরান্বিত করে।
- তাই বাংলাদেশের স্বাধীনতা-সংগ্রামের ইতিহাসে ২১ নভেম্বর একটি স্মরণীয় দিন।
- এরই মধ্যে দেশের বিভিন্ন এলাকায় উড়তে শুরু করে স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা এবং ১৬ ডিসেম্বর চূড়ান্ত হয় আমাদের বিজয়।
- বিজয় অর্জনের সম্মিলিত প্রয়াসকে স্মরণীয় করে রাখার জন্য ২১ নভেম্বরকে সশস্ত্র বাহিনী দিবস হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়।

⇒ দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার মহান দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি যেকোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় বেসামরিক প্রশাসনকে সহযোগিতাসহ জাতিগঠনমূলক কর্মকাণ্ডে সশস্ত্র বাহিনী প্রশংসনীয় ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে।
- বাংলাদেশে করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধ ও মহামারি মোকাবিলায়ও সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যগণ সাহসিকতার সাথে দায়িত্ব পালন করেছে।
- কেবল দেশেই নয়, সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যগণ জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে অংশ নিয়ে পেশাগত দক্ষতা, সর্বোচ্চ শৃঙ্খলা, সততা ও নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করে বহির্বিশ্বে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করে চলেছেন।
- একটি শক্তিশালী, আধুনিক ও প্রশিক্ষিত সশস্ত্র বাহিনী দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার অন্যতম পূর্বশর্ত।

উৎস: Armed Forces Division(AFD) ওয়েবসাইট।
১২.
বেহুলা-লখিন্দরের বাসর ঘর কোথায় অবস্থিত?
  1. কুমিল্লা
  2. বগুড়া
  3. নরসিংদী
  4. রাজশাহী
সঠিক উত্তর:
বগুড়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বগুড়া
ব্যাখ্যা
বেহুলার বাসর ঘর:
- বেহুলা লক্ষিন্দরের বাসর ঘর একটি প্রাচীন ও ঐতিহাসির স্থাপনা।
- এটি বগুড়া শহর থেকে উত্তরে এবং মহাস্থানগড় থেকে দক্ষিণে গোকুল গ্রামে অবস্থিত।
- স্থানীয়ভাবে এটি বেহুলার বাসর ঘর নামেই অধিক পরিচিত।
- অনেকে এটাকে লক্ষ্মীন্দরের মেধ বলে থাকেন।
- এই ঐতিহাসিক স্তম্ভটির উচ্চতা প্রায় ৪৫ ফুট।
- স্তম্ভের পূর্বার্ধে রয়েছে ২৪ কোণ বিশিষ্ট চৌবাচ্চা সদৃশ একটি কক্ষ।

এছাড়াও,
• মহাস্থানগড়:
- মহাস্থানগড় বাংলাদেশের একটি অন্যতম প্রাচীন পুরাকীর্তি।
- পূর্বে এর নাম ছিল পুণ্ড্রবর্ধন বা পুণ্ড্রনগর।
- এর অবস্থান বগুড়া জেলার শিবগঞ্জ উপজেলায়।
- বগুড়া শহর থেকে প্রায় ১০ কি.মি উত্তরে মহাস্থানগড় অবস্থিত।
- মহাস্থানগড় বগুড়ায় জেলার করতোয়া নদীর তীরে অবস্থিত।
- সেন বংশের শেষ রাজা লক্ষ্মণ সেন (১০৮২-১১২৫) যখন গৌড়ের রাজা ছিলেন তখন এই গড় অরক্ষিত ছিল।
- মহাস্থানগড় বাংলাদেশের অন্যতম একটি প্রাচীন পর্যটন কেন্দ্র।
- এটি বাংলাদেশের প্রাচীনতম নগর কেন্দ্র মহাস্থানগড়।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
১৩.
'অরুণোদয়ের অগ্নিসাক্ষী' চলচ্চিত্রের প্রেক্ষাপট কী?
  1. ভাষা আন্দোলন
  2. ১৯৬৯-এর গণ-অভ্যুত্থান
  3. মুক্তিযুদ্ধ
  4. উপরের কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
মুক্তিযুদ্ধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মুক্তিযুদ্ধ
ব্যাখ্যা
অরুণোদয়ের অগ্নিসাক্ষী:
- স্বাধীনতা-পরবর্তী মুক্তিযুদ্ধের দ্বিতীয় ছবি অরুণোদয়ের অগ্নিসাক্ষী।
- মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে নির্মিত হলেও বিষয়বস্তুতে অনন্যসাধারণ এই চলচ্চিত্রটি।
- সুভাষ মুখোপাধ্যায়ের চলচ্চিত্র ‘অরুণোদয়ের অগ্নিসাক্ষী’। 

⇒ 'লাঞ্ছিত নারীত্বের মর্যাদা দাও, নিষ্পাপ সন্তানদের বরণ কর'- এই স্লোগানে ১৯৭২ সালে প্রখ্যাত পরিচালক সুভাষ দত্ত নির্মাণ করেন অরুণোদয়ের অগ্নিসাক্ষী চলচ্চিত্রটি।
- ছবিটি মূলত একজন অভিনেতাকে কেন্দ্র করেই গড়ে ওঠে; যিনি যুদ্ধের বিভীষিকা থেকে রক্ষা পেতে পার্শ্ববর্তী দেশে পালিয়ে যান।
- কিন্তু দেশ স্বাধীন হওয়ার পর শুরু হয় নিজের বিবেকের দংশন।
- এভাবেই এগিয়ে চলে ছবিটির গল্প।
- এতে বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেন ববিতা, উজ্জল, আনোয়ার হোসেনসহ আরো অনেকে।

উৎস: বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভ।
১৪.
সতীদাহ প্রথা সংস্কার করেন কে এবং কত সালে?
  1. রাজা রামমোহন রায়, ১৮২৯
  2. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, ১৮২৯
  3. রাজা রামমোহন রায়, ১৮৩৮
  4. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, ১৮৩৮
সঠিক উত্তর:
রাজা রামমোহন রায়, ১৮২৯
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাজা রামমোহন রায়, ১৮২৯
ব্যাখ্যা
সতীদাহ প্রথা:
- বহুকাল আগে থেকেই হিন্দু সমাজে অনেক কুপ্রথা প্রচলিত হয়েছিল।
- এর অন্যতম হচ্ছে সতী।
- সতীদাহ প্রথা অনুসারে স্বামী মারা গেলে স্ত্রীকে স্বামীর চিতায় জীবন্ত পোড়ানো হতো।

⇒ ১৭৯৯ সালে উইলিয়াম কেরি এই প্রথা বন্ধের প্রয়াস নেন।
- গভর্নর জেনারেল লর্ড ওয়েলেসলির কাছে তিনি সতীদাহ বন্ধের আবেদন জানান।
- এরপর রামমোহন রায় ১৮১২ সালে সতীদাহবিরোধী সামাজিক আন্দোলন শুরু করেন।
- লর্ড বেন্টিঙ্কের কাছে রামমোহন রায় সতীদাহ প্রথা নিষিদ্ধ ঘোষণার জন্য আবেদন করেন।
- এই সূত্রে ১৮২৯ সালে গভর্নর জেনারেল উইলিয়াম বেন্টিঙ্কের অনুমোদনে সতীদাহ প্রথা বিলুপ্ত ঘোষণা করে আইন পাশ হয়।
- রামমোহন রায়কে সাধারণভাবে রাজা রামমোহন রায় বলা হয়।
- তিনি রাজা উপধিটি পেয়েছিলেন সেসময়ের নামেমাত্র মোগল সম্রাট দ্বিতীয় আকবরের (১৮০৬-১৮৩৭) কাছ থেকে।

উল্লেখ্য,
⇒ রাজা রামমোহন রায়:
- ভারতীয় নবজাগরণের অগ্রদূত রাজা রামমোহন রায়।
- তিনি সুফি মতবাদে বিশেষভাবে প্রভাবিত ছিলেন।
- তিনি বেদান্তসূত্র বেদান্তসারসহ উপনিষদের অনুবাদ প্রকাশ করেন।
- তিনি হিন্দু সমাজের সতীদাহ, বাল্যবিবাহ, কৌলিন্য প্রথা, মূর্তিপুজা ও অন্যান্য কুসংস্কার দূর করে।
- সতীদাহ প্রথার অযৌক্তিকতা প্রসঙ্গে 'গোস্বামীর সহিত বিচার' ও 'প্রবর্তক ও নিবর্তকের সম্বাদ' নামে দুটি গ্রন্থ রচনা করেন।

উৎস: ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৫.
বর্তমানে বাংলাদেশে অর্থনীতির মোট খাত - [ডিসেম্বর, ২০২৪]
  1. ১৪টি
  2. ১৫টি
  3. ১৯টি
  4. ২১টি
সঠিক উত্তর:
১৯টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯টি
ব্যাখ্যা
[এই প্রশ্নের তথ্য পরিবর্তনশীল। অনুগ্রহ করে সাম্প্রতিক তথ্য দেখে নিন। সাম্প্রতিক আপডেট তথ্য জানার জন্য Live MCQ ডাইনামিক ইনফো প্যানেল, সাম্প্রতিক সমাচার বা অথেনটিক সংবাদপত্র দেখুন।]

অর্থনৈতিক সমীক্ষা ২০২৪:
- অর্থনীতির মোট খাত: ১৯টি ।

⇒ ১৯টি খাত হলো -
১। কৃষি ও বনজ এবং মৎস্য সম্পদ (উপখাত - ৪টি)।
২। খনিজ ও খনন (গ্যাস, তেল ইত্যাদি) (উপখাত - ২টি)।
৩। ম্যানুফ্যাকচারিং (উপখাত - ৩টি)।
৪। বিদ্যুৎ, গ্যাস, বাষ্প এবং শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা (উপখাত - ২টি)।
৫। পানি সরবরাহ, পয়নিষ্কাশন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং পুর্নব্যবহার কার্যক্রম।
৬। নির্মাণ।
৭। পাইকারি ও খুচরা বাণিজ্য, যানবাহন ও মোটরসাইকেল মেরামত।
৮। পরিবহণ এবং সংরক্ষণ (উপখাত - ৫টি)।
৯। আবাসন এবং খাদ্য পরিবেশন কার্যক্রম।
১০। তথ্য ও যোগাযোগ।
১১। আর্থিক এবং বীমা কার্যক্রম (উপখাত-৩টি)।
১২। রিয়েল এস্টেট কার্যক্রম।
১৩। পেশাদার, বৈজ্ঞানিক এবং প্রযুক্তিগত কার্যক্রম।
১৪। প্রশাসনিক ও সহায়তামূক পরিষেবা কার্যক্রম।
১৫। জনপ্রশাসন ও প্রতিরক্ষা।
১৬। শিক্ষা।
১৭। মানবস্বাস্থ্য ও সামাজিক সেবা কার্যক্রম।
১৮। শিল্পকলা ও বিনোদন।
১৯। অন্যান্য সেবা কার্যক্রম।

উল্লেখ্য:
- অর্থনৈতিক সমীক্ষা ২০২৪ অনুসারে অর্থনীতির মোট খাত ১৯টি।
- ২০০৫-০৬ ভিত্তি বছরের খাত ছিল ১৫টি।

উৎস: বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সমীক্ষা ২০২৪।
১৬.
কোন চুক্তি বলে ইংরেজরা বাংলা বিহার ও উড়িষ্যার দিউয়ানি লাভ করেছিল?
  1. নদীয়া চুক্তি
  2. এলাহাবাদ চুক্তি
  3. দিল্লি চুক্তি
  4. বর্ধমান চুক্তি
সঠিক উত্তর:
এলাহাবাদ চুক্তি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এলাহাবাদ চুক্তি
ব্যাখ্যা
এলাহাবাদ চুক্তি ও বাংলার ক্ষমতা দখল:
- ১৭৬৫ সালে ইংরেজ কোম্পানির বাংলার দেওয়ানি লাভের ফলে বাংলাদেশে যে রাজনৈতিক পরিস্থিতির উদ্ভব হয়েছিল তাকে ঐতিহাসিকেরা দ্বৈত শাসনব্যবস্থা (Dual system of administration) বলে আখ্যায়িত করেছেন।
- ১৭৬৫ সালে এলাহাবাদ চুক্তি বলে বাংলা বিহার ও উড়িষ্যার দিউয়ানি লাভ করেছিল ইংরেজরা
- দিউয়ানি এবং নিয়ামত-এই দুটি শাসন কাজের ভাগাভাগিকে এক অর্থে দ্বৈত শাসন বলা যায়।
- রাজস্ব আদায় ও দেশ রক্ষার ভার ছিল কোম্পানির উপর।
- অন্যদিকে নিজামত তথা বিচার ও প্রশাসন বিভাগের দায়িত্ব বর্তায় নবাবের উপর।
- কোম্পানির সরাসরি দিউয়ানির দায়িত্ব গ্রহণের জন্য যে অর্থ ও লোকবল প্রয়োজন তা যেমন ছিলনা, তেমনি এদেশীয় ভাষা ও আইন কানুন সম্পর্কে কোম্পানির কর্মচারীদের জ্ঞানও ছিল না।
- তাই রাজস্ব আদায়ের দায়িত্ব সরাসরি গ্রহণ তাদের জন্য সম্ভব ছিল না।
- এ সকল দিক চিন্তা করেই তারা দ্বৈত শাসন নীতি প্রবর্তন করা হয়েছিল।

উল্লেখ্য,
⇒ বক্সার যুদ্ধের পর কোম্পানির কর্মচারীদের মধ্যে দুর্নীতি ও বিশৃঙ্খলা চরমে উঠলে এবং বাংলার রাজনৈতিক পরিবেশ খারাপ হলে, ইংরেজ সরকার ভীত হয়ে পড়লেন।
- ফলে ইংল্যান্ডের কর্তৃপক্ষ কোম্পানির দুর্নীতি দমন ও স্বার্থ বৃদ্ধির জন্য পুনরায় ক্লাইভকে লর্ড উপাধি দান করে বাংলায় দ্বিতীয়বার প্রেরণ করেন (১৭৬৫-১৭৬৭ খ্রি.)।
- এদেশে এসেই তিনি মীর কাশিমের মিত্রশক্তি অযোধ্যার নবাব সুজাউদ্দৌলা ও দিল্লির সম্রাট দ্বিতীয় শাহ আলমের প্রতি নজর দেন।
- বক্সার যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ বাবদ ৫০ লক্ষ টাকা এবং কারা ও এলাহাবাদ জেলা দু'টি পেয়ে অযোধ্যার নবাবের সাথে মিত্রতা স্থাপন করেন।
- তারপর তিনি দিল্লির দুর্বল সম্রাট দ্বিতীয় শাহ আলমের সাথে সন্ধি স্থাপন করেন।
- ক্লাইভ কারা ও এলাহাবাদ জেলা দু'টি ও বাৎসরিক ২৬ লক্ষ টাকা কর প্রদানের বিনিময়ে সম্রাটের নিকট হতে বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যার দিউয়ানি লাভ করলেন (১৭৬৫ খ্রিস্টাব্দে ১২ আগস্ট ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি দিউয়ানি সনদ লাভ করে)।
- এর ফলে বাংলা তথা ভারতবর্ষে ইংরেজ উপনিবেশের পথ উন্মুক্ত হয়ে যায়।

উৎস: i) ইতিহাস ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৭.
কোন সাম্রাজ্যের পতনের ফলে স্বাধীন বঙ্গ রাষ্ট্রের উদ্ভব ঘটে?
  1. গুপ্ত
  2. মৌর্য
  3. পাল
  4. সেন
সঠিক উত্তর:
গুপ্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গুপ্ত
ব্যাখ্যা
স্বাধীন বঙ্গ রাষ্ট্র:
- ৬ষ্ঠ শতাব্দীতে বিশাল গুপ্ত সাম্রাজ্যের পতন ঘটে।
- সেই অস্থিতিশীল পরিবেশে বাংলাদেশে দুটো স্বাধীন রাষ্ট্রের উত্থান ঘটে।
- এর একটি হচ্ছে স্বাধীন 'বঙ্গ রাষ্ট্র', অপরটি 'গৌড় রাজ্য।

উল্লেখ্য,
- গুপ্ত সাম্রাজ্যের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে সমগ্র দক্ষিণ ও পূর্ব বঙ্গে একটি স্বাধীন রাজ্যের উত্থান ঘটে।
- স্বাধীন বঙ্গ রাষ্ট্রের রাজারা তামার পাতে খোদাই করা রাজ নির্দেশ জারি করতেন।
- এগুলোকে তাম্রশাসন বলা হতো।
- এ রকম ৭টি তাম্রশাসন পাওয়া গেছে।
- স্বাধীন বঙ্গরাজ্যে চন্দ্রগুপ্ত, ধর্মাদিত্য ও সমাচারদেব নামের তিনজন রাজা ছিলেন।
- তারা ৫২৫-৬০০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত মোট ৭৫ বছর রাজত্ব করেন।
- তারা 'মহাধিরাজ' উপাধি ধারণ করতেন।
- এতে তাদের সার্বভৌম ক্ষমতার পরিচয় পাওয়া যায়। স্বাধীন বঙ্গের যথেষ্ট যশ, খ্যাতি, প্রভাব ও সমৃদ্ধির কথা জানা যায়।
- সপ্তম শতকের গোড়ার দিকে গৌড়ের রাজা শশাঙ্কের নেতৃত্বে বাংলার পুন্ড্র বা পণ্ড্রবর্ধন, গৌড় এবং বঙ্গকে একত্রিত করে একটি বিশাল গৌড় রাজ্য স্থাপিত হয়।

উৎস: বাংলাদেশ স্টাডিজ, বিবিএস প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৮.
বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দল কত সালে টেস্ট স্ট্যাটাস লাভ করে?
  1. ২০১১ সালে
  2. ২০১২ সালে
  3. ২০২১ সালে
  4. ২০২২ সালে
সঠিক উত্তর:
২০২১ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২০২১ সালে
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দল:
- ২০০৭ সালে থাইল্যান্ডের বিপক্ষে দলটি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক ঘটে।
- বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দল ওয়ানডে স্ট্যাটাস পায় ২০১১ সালে।
- ২০১১ সালের ২৪ নভেম্বর বিশ্বকাপ বাছাই পর্বে যুক্তরাষ্ট্রকে ৯ উইকেটে হারিয়ে ওয়ানডে মর্যাদা পেয়েছিল বাংলাদেশের নারীরা।

⇒ ২০২১ সালে ক্রিকেটের সর্বোচ্চ মর্যাদাপূর্ণ ফরম্যাট টেস্ট স্ট্যাটাস পেয়েছে বাংলাদেশ নারী দল। 

উৎস: প্রথম আলো।
১৯.
বাংলাদেশের সংবিধানের কত নং অনুচ্ছেদ অনুসারে, বাংলাদেশের নাগরিকগণ বাংলাদেশী বলে পরিচিত হবে'?
  1. ২ নং অনুচ্ছেদ
  2. ৫ নং অনুচ্ছেদ
  3. ৬(১) নং অনুচ্ছেদ
  4. ৬(২) নং অনুচ্ছেদ
সঠিক উত্তর:
৬(২) নং অনুচ্ছেদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৬(২) নং অনুচ্ছেদ
ব্যাখ্যা
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান:
⇒ বাংলাদেশের সংবিধানের প্রথম ভাগ:
- বাংলাদেশের সংবিধানের প্রথম ভাগে ৬ নং অনুচ্ছেদে নাগরিকের নাগরিকত্ব সম্পর্কে বলা হয়েছে।
• সংবিধানের ৬(১) নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী 'বাংলাদেশের নাগরিকত্ব আইনের দ্বারা নির্ধারিত ও নিয়ন্ত্রিত হবে।
• সংবিধানের ৬(২) নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী 'বাংলাদেশের জনগণ জাতি হিসাবে বাঙালী এবং নাগরিকগণ বাংলাদেশী বলে পরিচিত হবে।
 
অন্যদিকে,
- অনুচ্ছেদ ১: বাংলাদেশ একটি একক, স্বাধীন ও সার্বভৌম প্রজাতন্ত্র, যা 'গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ' নামে পরিচিতি।
- অনুচ্ছেদ ২: প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রীয় সীমানা।
- অনুচ্ছেদ ৩: প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রভাষা বাংলা।
- অনুচ্ছেদ ৫: প্রজাতন্ত্রের রাজধানী ঢাকা ।
- অনুচ্ছেদ ৬: নাগরিকত্ব।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।
২০.
কোন আমলে ফরাসি পর্যটক ফ্রাঁসোয়া বার্নিয়ার ভারতে এসেছিলেন?
  1. পাল আমলে
  2. মৌর্য আমলে
  3. গুপ্ত আমলে
  4. মুঘল আমলে
সঠিক উত্তর:
মুঘল আমলে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মুঘল আমলে
ব্যাখ্যা
ফ্রাঁসোয়া বার্নিয়ার:
- ফ্রাঁসোয়া বার্নিয়ার ছিলেন একজন ফরাসি চিকিৎসক এবং ভ্রমণকারী।
- তিনি ১৬৫৬ ও ১৬৬৮ সালের মধ্যে ভারত ও বাংলাদেশ সফর করেছিলেন।
- মুঘল আমলে প্রায় ১২ বছর তিনি ভারতে ছিলেন।
- হিন্দুস্থানের সম্রাট, আমীর ওমরাহ থেকে সকল শ্রেণির মানুষের জীবন, সামাজিক ও ধর্মীয় রীতি-নীতি, এমন কি সতীদাহ পর্যন্ত নিজের চোখে দেখেছেন।

উল্লেখ্য,
- সম্রাট শাহজাহান এর পুত্রদের মধ্যে উত্তরাধিকার যুদ্ধে দারাকে বন্দি করে কুচকাওয়াজ সহকারে অসম্মানজনকভাবে রাস্তা দিয়ে যখন নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল, বার্নিয়ার সেই সময় দিল্লিতে অবস্থান করছিলেন।
- বার্নিয়ারের মূল ভ্রমণবৃত্তান্ত ফরাসি ভাষায় লিখিত ও প্রকাশিত।
- Travels in The Mogul Empire, AD 1656-68 শিরোনামে আরচিবল্ড কনস্টেবল (Archibald Constable) পুস্তকটি ১৮৯১ সালে ইংরেজিতে অনুবাদ করেন ও ইংল্যান্ড থেকে প্রকাশ করেন।
- সেই সময় থেকে বাংলাসহ বিভিন্ন ভাষায় পুস্তকটি অনূদিত হয়েছে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
২১.
‘থ্রি-জিরো তত্ত্ব’ এর অন্তর্ভুক্ত নয় কোনটি?
  1. শূন্য দারিদ্র্য
  2. শূন্য দুর্নীতি
  3. শূন্য প্লাস্টিক
  4. খ ও গ
সঠিক উত্তর:
খ ও গ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ ও গ
ব্যাখ্যা
শূন্য প্লাস্টিক ও শূন্য দুর্নীতি ‘থ্রি-জিরো তত্ত্ব’–এর অন্তর্ভুক্ত লক্ষ্য।

থ্রি জিরো তত্ত্ব:

- ড. মুহাম্মদ ইউনূস বাংলাদেশি নোবেল পুরস্কার বিজয়ী ব্যাংকার ও অর্থনীতিবিদ।
- তিনি ক্ষুদ্রঋণ নামক অর্থনৈতিক ব্যবস্থার জনক হিসেবে সমাদৃত।

⇒ ড. মুহাম্মদ ইউনূস বিশ্বজুড়ে আলোচিত তার তিন শূন্য বা থ্রি জিরো তত্ত্বের জন্য।
- সেগুলো হচ্ছে দারিদ্র্য, বেকারত্ব ও কার্বন নিঃসরণ শূন্যে নামিয়ে আনা।
- তা অর্জনে প্রয়োজন তারুণ্য, প্রযুক্তি, সুশাসন ও সামাজিক ব্যবসা।

⇒ গ্রামীণ ব্যাংক ও ক্ষুদ্রঋণ ধারণার প্রবর্তক ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
- আর এই অবদানের জন্য তিনি শান্তিতে নোবেল পান ২০০৬ সালে।
- এই ক্ষুদ্রঋণ ধারণার মূল লক্ষ্যই ক্ষুধামুক্ত বিশ্ব গড়া।

⇒ বাংলাদেশের এই লক্ষ্য অর্জনের ক্ষেত্রে শূন্যে নামিয়ে আনতে হবে দারিদ্র্য, বেকারত্ব ও কার্বন নিঃসরণ।
- এই তত্ত্বের ব্যাপারে নোবেলজয়ী এই অর্থনীতিবিদের ভাষ্য, ‘বর্তমান অর্থনৈতিক ব্যবস্থা নিজেই দারিদ্র্য সৃষ্টি করে এবং এই ব্যবস্থার অধীনে দারিদ্র্য দূর করা সম্ভব নয়।
- এই লক্ষ্য অর্জনে তিনি গুরুত্ব দিচ্ছেন তারুণ্য, প্রযুক্তি, সুশাসন ও সামাজিক ব্যবসায়। তার মতে, ভালো চাকরি না খোঁজে উদ্যোক্তা তৈরিতে জোর দিতে হবে।

উৎস: i) Yunus Centre.
ii) দ্য ডেইলি স্টার।
২২.
বাংলাদেশ কমনওয়েলথে যোগদান করায় কোন দেশ কমনওয়েলথ ত্যাগ করে?
  1. ভারত
  2. পাকিস্তান
  3. চীন
  4. জিম্বাবুয়ে
সঠিক উত্তর:
পাকিস্তান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পাকিস্তান
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশ ও কমনওয়েলথ:
- কমনওয়েলথের মূল রাষ্ট্র যুক্তরাজ্যের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক খুবই ঘনিষ্ঠ।
- বাংলাদেশের মুক্তিসংগ্রামে ১৯৭১ সালে গ্রেট ব্রিটেনের প্রচার মাধ্যমগুলো বিশেষত, বিবিসি, লন্ডন টাইমস, দ্য সান, গার্ডিয়ান, মিরর পত্রিকা স্বাধীনতাকামী বাঙ্গালি জনগণের উপর পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীর নির্মম নির্যাতন প্রচার করে বিশ্বজনমত সৃষ্টি করেছিল।
- ব্রিটেনসহ কমনওয়েলথভুক্ত দেশগুলো ভারতে আশ্রয় নেয়া শরণার্থীদের জন্য ব্যাপক সাহায্য দিয়েছিল।
- স্বাধীনতা লাভের পর বাংলাদেশের বিধ্বস্ত অর্থনীতি পুনর্গঠনে কমনওয়েলথভুক্ত দেশগুলো অকাতরে সাহায্য সহযোগিতা দিয়েছে।

⇒ স্বাধীন দেশ হিসাবে কমনওয়েলথ ভুক্ত দেশগুলো বাংলাদেশকে ১৯৭২ সালেই দ্রুত স্বীকৃতি দেয়।
- বাংলাদেশ কমনওয়েলথের ৩২তম সদস্য।
- বাংলাদেশের স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭৩ সালের অটোয়ায় অনুষ্ঠিত কমনওয়েলথ সম্মেলনে যোগদান করেন।
- বাংলাদেশের অস্থিতিশীল রাজনীতি ও সরকার- বিরাধীদলের দাঙ্গাপূর্ণ সম্পর্ক অবসানে বিভিন্ন সময় কমনওয়েলথ মহাসচিব মধ্যস্থতার চেষ্টা করেছেন।

উল্লেখ্য,
⇒ ১৯৭২ সালের ১৮ এপ্রিল বাংলাদেশ কমনওয়েলথের ৩২তম সদস্য হিসেবে সদস্যপদ লাভ করে।
- এজন্য ক্ষিপ্ত হয়ে পাকিস্তান কমনওয়েলথ ত্যাগ করে ১৯৭২ সালে।

এছাড়াও,
- কমনওয়েলথ ত্যাগকারী দেশ আয়ার‍্যান্ড (১৯৪৬ সালে) ও জিম্বাবুয়ে (৭ ডিসেম্বর ২০০৩)।

উৎস: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, SSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৩.
ছিয়াত্তরের মন্বন্তরের জন্য দায়ী কোনটি?
  1. নিয়ামক আইন
  2. ভারত শাসন আইন
  3. এলাহাবাদ চুক্তি
  4. দ্বৈত শাসন নীতি
সঠিক উত্তর:
দ্বৈত শাসন নীতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দ্বৈত শাসন নীতি
ব্যাখ্যা
দ্বৈত শাসন ও ছিয়াত্তরের মন্বন্তর:
- ১৭৬৫ সালে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির বাংলার গভর্নর রবার্ট ক্লাইভ দ্বৈতশাসন ব্যবস্থা প্রবর্তন করেন।
- দ্বৈতশাসন অনুসারে রাজস্ব প্রশাসন ও দেশ রক্ষার ভার থাকে কোম্পানির হাতে এবং নিয়ামত বা প্রশাসন ও বিচার বিভাগের দায়িত্ব অর্পিত হয় নবাবের হাতে।
- দ্বৈত শাসনের দায়িত্বহীনতার ফলে বাংলার জনজীবনে অরাজকতা নেমে আসে।
- অবাধ লুণ্ঠন ও যথেচ্ছভাবে রাজস্ব আদায়ের ফলে গ্রাম্যজীবন ধ্বংস হয়ে যায়।
- নবাবের হাতে পর্যাপ্ত অর্থ না থাকায় প্রশাসন পরিচালনায় ব্যর্থ হন।
- সারাদেশে শুরু হয় বিশৃঙ্খলা।

⇒ এর ফল হিসেবে ১৭৭০ খ্রিস্টাব্দে (১১৭৬ বঙ্গাব্দ) দেখা দেয় ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ, যা ছিয়াত্তরের মন্বন্তর নামে পরিচিত।
- এই দুর্ভিক্ষে বাংলার জনসংখ্যার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ মৃত্যুমুখে পতিত হয় ৷

⇒ এই পরিস্থিতিতে ১৭৭২ সালে ওয়ারেন হেস্টিংস দ্বৈত শাসন ব্যবস্থা রহিত করেন।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
২৪.
সুপ্রিম কোর্ট দিবস পালিত হয় -
  1. ১৩ ডিসেম্বর
  2. ১৪ ডিসেম্বর
  3. ১৬ ডিসেম্বর
  4. ১৮ ডিসেম্বর
সঠিক উত্তর:
১৮ ডিসেম্বর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৮ ডিসেম্বর
ব্যাখ্যা
সুপ্রিম কোর্ট:
- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের এখতিয়ার বর্ণিত হয়েছে।
- সংবিধানের ৯৪ (১) অনুচ্ছেদে বর্ণিত হয়েছে যে, আপীল বিভাগ এবং হাইকোর্ট বিভাগ নিয়ে বাংলাদেশের জন্য সুপ্রিম কোর্ট গঠিত হবে।
- সুপ্রিম কোর্টের এই দুই বিভাগের পৃথক এখতিয়ার রয়েছে।
- সংবিধান ও সংবিধানের পাশাপাশি দেশের সাধারণ আইন (সংসদ কর্তৃক পাশকৃত আইন) এই এখতিয়ারের উৎস।
- ১৯৭২ সালের ১৮ ডিসেম্বর বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট প্রতিষ্ঠিত করা হয়।

⇒ ১৮ ডিসেম্বর সুপ্রিম কোর্ট দিবস পালিত হয়।
- ২০১৭ সালের ২৫ অক্টোবর সুপ্রিম কোর্টের ফুলকোর্ট সভায় প্রতি বছর ১৮ ডিসেম্বর সুপ্রিম কোর্ট দিবস পালনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

উৎস: i) সুপ্রিম কোর্ট ওয়েবসাইট।
ii) প্রথম আলো।
২৫.
তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তন করা হয় সংবিধানের কোন সংশোধনীর মাধ্যমে?
  1. ত্রয়োদশ সংশোধনী
  2. পঞ্চদশ সংশোধনী
  3. ষোড়শ সংশোধনী
  4. উপরের কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
ত্রয়োদশ সংশোধনী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ত্রয়োদশ সংশোধনী
ব্যাখ্যা
ত্রয়োদশ সংশোধনী:
⇒ তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তন

- ১৯৯৬ সালের ২৭ মার্চ এ সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধানে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য নিরপেক্ষ-নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তন করা হয়।
- আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী জমির উদ্দিন সরকার এই সংশোধনীটি উত্থাপন করেন।
- একজন প্রধান উপদেষ্টা এবং দশ জন উপদেষ্টা নিয়ে এই সরকার গঠিত হতো।

অন্যদিকে,
• পঞ্চদশ সংশোধনী:
⇒ তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল
- এই সংশোধনীর দ্বারা তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করা হয়।
- সেখানে ফিরিয়ে আনা হয়েছে রাজনৈতিক সরকারের অধীনে নির্বাচন ব্যবস্থা।
- এই সংশোধনীতে নির্বাচিত সরকারের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগের ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন করার কথা বলা হয়।
- ২০১১ সালের ৩০ জুন এই সংশোধনী আনা হয়।
- পঞ্চদশ সংশোধনী বিলটি তৎকালীন আইনমন্ত্রী শফিক আহমেদ সংসদে এনেছিলেন।
- এছাড়াও, রাষ্ট্রের মূলনীতি হিসাবে জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র এবং ধর্মনিরপেক্ষতার নীতি সংযোজন করা হয়।
- সংবিধানে ধর্ম নিরপেক্ষতা এবং ধর্মীয় স্বাধীনতা পুনর্বহাল করা হয়।
- তবে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম বহাল রাখা হয়।
- জাতীয় সংসদে মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত আসন সংখ্যা বিদ্যমান ৪৫-এর স্থলে ৫০ করা হয়।

• সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী:
- উত্থাপনকারী: এটি উত্থাপন করেন আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আনিসুল হক।
- গৃহীত: ২০১৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর।
- ৭২-এর সংবিধানের ৯৬ অনুচ্ছেদ পুনঃস্থাপনের মাধ্যমে বিচারপতিদের অপসারণের ক্ষমতা সংসদকে ফিরিয়ে দেওয়ার বিধান পাস করা হয় এই সংশোধনীর মাধ্যমে।

উৎস: i) BBC.
ii) প্রথম আলো।
২৬.
২০২৩-২৪ অর্থবছরে রপ্তানি আয়ে নীটওয়্যার ও তৈরি পোশাকের অবদান -
  1. ৪৮.৩৫%
  2. ৫৮.২৫%
  3. ৬৬.৮৫%
  4. ৮৫.৪৫%
সঠিক উত্তর:
৮৫.৪৫%
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৮৫.৪৫%
ব্যাখ্যা
রপ্তানি আয়:
- ২০২৩-২৪ অর্থবছরে শীর্ষ রপ্তানি খাত তৈরি পোশাক।
- ২০২৩-২৪ অর্থবছরে তৈরি পোশাক ও নীটওয়্যার পণ্যের রপ্তানি আয়: ৩২,৮৫৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।
- এটি মোট রপ্তানি আয়ের ৮৫.৪৫%।

উল্লেখ্য,
- নীটওয়্যার: ১৮,৫৯২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার (৪৮.৩৫%)।
- তৈরি পোশাক: ১৪,২৬৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলার (৩৭.১০%)।

⇔ গুরুত্বপূর্ণ তথ্য:
- দেশ হিসেবে/একক দেশ হিসেবে/রপ্তানি বাণিজ্যের সবচেয়ে বড় অংশীদার দেশ যুক্তরাষ্ট্র।
- যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি পণ্য তৈরি পোশাক।
- ২০২৩-২৪ অর্থবছর- এ বাংলাদেশি পণ্যের প্রধান আমদানিকারক দেশ হিসেবে শীর্ষে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও জার্মানি।
- যুক্তরাষ্ট্র ও জার্মানিতে রপ্তানীকৃত প্রধান প্রধান পণ্যসমূহ হলো তৈরি পোশাক (ওভেন), নিটওয়্যার, হিমায়িত চিংড়ি, কাঁকড়া, গৃহস্থালি বস্ত্র ইত্যাদি।
- ইউরোপের দেশগুলোতে বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি পণ্য তৈরি পোশাক।

উৎস: বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সমীক্ষা ২০২৪।
২৭.
২০২৪ সালে রবীন্দ্র পুরস্কার লাভ করেন -
  1. লাইসা আহমদ
  2. শীলা মোমেন
  3. রাজিয়া সুলতানা
  4. বর্ণিত সবাই
সঠিক উত্তর:
লাইসা আহমদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লাইসা আহমদ
ব্যাখ্যা
রবীন্দ্র পুরস্কার:
- বাংলা একাডেমি বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে ২০১০ সাল থেকে রবীন্দ্র পুরস্কার প্রবর্তন করে।
- রবীন্দ্রসাহিত্যের গবেষণা ও সমালোচনা এবং রবীন্দ্রসংগীতের আজীবন সাধনার স্বীকৃতিস্বরূপ এ পুরস্কার প্রদান করা হয়।
- প্রতিবছর দুই বা তিনজনকে এ পুরস্কার দেওয়া হয়।
- এ পুরস্কারের অর্থমূল্য ৫০ হাজার টাকা।

- ২০২৪ সালে বাংলা একাডেমির ‘রবীন্দ্র পুরস্কার’ পেয়েছেন অধ্যাপক ভীষ্মদেব চৌধুরী ও শিল্পী লাইসা আহমদ।
- কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬৩তম জন্মবার্ষিকী উদ্‌যাপন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তাঁদের এ সম্মাননায় ভূষিত করা হয়।
- বাংলা একাডেমি রবীন্দ্র-সাহিত্যের গবেষণায় অবদানের জন্য অধ্যাপক ভীষ্মদেব চৌধুরীকে এবং রবীন্দ্রসংগীত-চর্চায় অবদানের জন্য অধ্যাপক লাইসা আহমদ লিসাকে রবীন্দ্র পুরস্কার ২০২৪-এ ভূষিত করেছে।

অন্যদিকে,
⇒ রবীন্দ্র গবেষণায় সামগ্রিক অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ বিশিষ্ট শিল্পী শীলা মোমেনকে বাংলা একাডেমি প্রবর্তিত রবীন্দ্র পুরস্কার ২০২৩ দেওয়া হয়।
- ২০২৪ সালে নজরুল পুরস্কার লাভ করেন অধ্যাপক রাজিয়া সুলতানা।
 
উল্লেখ্য,
- রবীন্দ্র পুরস্কার বা রবীন্দ্র স্মৃতি পুরস্কার নামে পশ্চিমবঙ্গেও একটি পুরস্কারের প্রচলন আছে।
- এটি সেখানকার সর্বোচ্চ সাহিত্য পুরস্কার।
- পশ্চিমবঙ্গ সরকার ১৯৫০ সালে এই পুরস্কার প্রবর্তন করে।
- পুরস্কারটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নামে নামকরণ করা হয়েছে।

উৎস: i) বাংলা একাডেমি ওয়েবসাইট।
ii) প্রথম আলো।
২৮.
কৃষি শুমারিতে কৃষির অন্তর্ভুক্ত বিষয় কোনটি?
  1. প্রাণিসম্পদ
  2. শস্য
  3. মৎস্য
  4. বর্ণিত সবগুলো
সঠিক উত্তর:
বর্ণিত সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বর্ণিত সবগুলো
ব্যাখ্যা
কৃষি শুমারি:
- এদেশে ১৯৬০ সালে প্রথমবারের মত নমুনা আকারে কৃষি শুমারি অনুষ্ঠিত হয়।
- স্বাধীনতা পরবর্তী বাংলাদেশে ১৯৭৭ সালে প্রথম কৃষি শুমারি অনুষ্ঠিত হয়।
- এরই ধারাবাহিকতায় ১৯৮৩-৮৪, ১৯৯৬ ও ২০০৮ সালে কৃষি শুমারি অনুষ্ঠিত হয়।
- সর্বশেষ কৃষি শুমারি করা হয় ২০১৯ সালে।
- বিশ্ব খাদ্য ও কৃষি সংস্থার গাইডলাইন অনুসারে পরিসংখ্যান ব্যুরো কৃষি শুমারি পরিচালনা করে।

⇒ কৃষি শুমারি পরিচালনার মাধ্যমে কৃষি খানার সংখ্যা, খানার আকার, ভূমির ব্যবহার, কৃষির প্রকার, শস্যের ধরণ, চাষ পদ্ধতি, গবাদি পশু ও হাঁস-মুরগীর সংখ্যা, মৎস্য উৎপাদন ও চাষাবাদ সংক্রান্ত তথ্যাদি এবং কৃষি ক্ষেত্রে নিয়োজিত জনবল সম্পর্কে তথ্য পাওয়া যায়।
- এ তথ্য-উপাত্ত কৃষি ক্ষেত্রের উন্নয়ন কৌশল নির্ধারণ এবং অগ্রগতি পর্যবেক্ষণে বেঞ্চমার্ক তথ্য হিসেবে ব্যবহার করা হয়।
- প্রতি দশ বছর অন্তর কৃষি শুমারি অনুষ্ঠিত হয়।
- পরিসংখ্যান আইন-২০১৩ অনুযায়ী জনশুমারি এবং অর্থনৈতিক শুমারির পাশাপাশি কৃষি (শস্য, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ) শুমারি পরিচালনা করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

উল্লেখ্য,
- কৃষি শুমারিতে কৃষির অন্তর্ভুক্ত বিষয় ৩টি।
- যথা: শস্য, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ।

উৎস: i) কৃষি মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট।
ii) BBS ওয়েবসাইট।
২৯.
সংবিধানের কোন তফসিল অনুসারে, প্রধান বিচারপতি প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে শপথ পাঠ করান?
  1. ১ম
  2. ২য়
  3. ৩য়
  4. ৪র্থ
সঠিক উত্তর:
৩য়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৩য়
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের সংবিধানের তফসিল:
- বাংলাদেশের সংবিধানে তফসিল ৭টি।
- যথা:
- প্রথম তফসিল: অন্যান্য বিধান সত্ত্বেও কার্যকর আইন,
- দ্বিতীয় তফসিল: রাষ্ট্রপতি নির্বাচন (বর্তমানে বিলুপ্ত),
- তৃতীয় তফসিল: শপথ ও ঘোষণা,
- চতুর্থ তফসিল: ক্রান্তিকালীন ও অস্থায়ী বিধানবলী,
- পঞ্চম তফসিল: ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চের ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে বঙ্গবন্ধুর দেওয়া ঐতিহাসিক ভাষণ,
- ষষ্ঠ তফসিল: ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চের স্বাধীনতার ঘোষণা,
- সপ্তম তফসিল: ১৯৭১ সালের ১০ই এপ্রিল মুজিবনগর সরকারের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র।

⇒ সংবিধানের তৃতীয় তফসিল অনুসারে:
• রাষ্ট্রপতি শপথ বাক্য পাঠ করান:
- প্রধানমন্ত্রী, প্রধান বিচারপতি, মন্ত্রিসভার সদস্যবৃন্দ, স্পিকার, ডেপুটি স্পিকার।
• প্রধান বিচারপতি শপথ বাক্য করান:
- আপিল ও হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতিবৃন্দ, পিএসসির চেয়ারম্যান ও সদস্যবৃন্দ, মহা হিসাব-নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক, প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও কমিশনারবৃন্দ।
• স্পিকার শপথবাক্য পাঠ করান:
- রাষ্ট্রপতি, সংসদ সদস্যবৃন্দ।

উৎস: i) জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
ii) বাংলাদেশের সংবিধান, আরিফ খান।
৩০.
বাংলাদেশ গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশন (বিজিটিএফ) কবে প্রতিষ্ঠিত হয়?
  1. ১৯৭৭ সালে
  2. ১৯৮০ সালে
  3. ১৯৮৩ সালে
  4. ১৯৮৮ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯৮০ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৮০ সালে
ব্যাখ্যা
থিয়েটার নাট্যগ্রুপ:
- ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ স্বাধীন হবার পর জাতীয় আশা-আকাঙ্খার পরিপূরক হিসাবে জন্ম নিতে থাকে গ্রুপ থিয়েটার।
- সমসাময়িক ঘটনা প্রবাহকে উপজীব্য করে সামাজিক ক্রিয়ার অংশগ্রহণ করতে থাকে।
- ফলে নাটক ক্রমশঃ হয়ে ওঠে একটি শক্তিশালী গণমাধ্যম।
- ১৯৮০ সালের ২৯ নভেম্বর গড়ে উঠে বাংলাদেশ গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশান।
- সমাজ ও শিল্পের প্রতি দায়বদ্ধতা এবং হাজার বছরের সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের ধারায় ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধের মূল্যবোধকে সুপ্রতিষ্ঠিত করে স্বপ্নের স্বদেশ বিনির্মাণে পরিচালিত এই নাট্যান্দোলনের সমন্বিত সংগঠন বাংলাদেশ গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশান, যার বর্তমান সদস্য সংগঠন সারা দেশে প্রায় ৪০০টি।
- এই সংগঠনটির প্রতিষ্ঠা পেয়েছিলে যাঁদের হাতে ও নেতৃত্বে তাঁরা হলেন প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি রামেন্দু মজুমদার, প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দীন ইউসুফ, প্রতিষ্ঠাতা সদস্য মামুনু রশীদ , আতাউর রহমান সহ অনেক অগ্রজ নাট্যজন।

⇒ বাংলাদেশ গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশন (বিজিটিএফ) ২৯ নভেম্বর ১৯৮০ সালে ঢাকায় প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।
- বাংলাদেশ গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশনের প্রধান কার্যালয় ঢাকা।
- তিন কমিটি ফেডারেশন কার্যক্রম পরিচালনা করে: সাধারণ কমিটি, কেন্দ্রীয় কমিটি এবং নির্বাহী কমিটি।

উৎস: বাংলাদেশ গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশন ওয়েবসাইট।
৩১.
মুজিবনগর সরকারে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেন কে?
  1. তাজউদ্দিন আহমদ
  2. খন্দকার মোশতাক আহমদ
  3. এএইচএম কামারুজ্জামান
  4. সৈয়দ নজরুল ইসলাম
সঠিক উত্তর:
সৈয়দ নজরুল ইসলাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সৈয়দ নজরুল ইসলাম
ব্যাখ্যা
মুজিবনগর সরকার:
- ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল বাংলাদেশের মুজিবনগর সরকার গঠিত হয়।
- মুজিবনগর সরকার ১৭ এপ্রিল বর্তমান মেহেরপুর জেলার মুজিবনগরে শপথ গ্রহণ করে।
- মুজিবনগর সরকার ছিলো রাষ্ট্রপতিশাসিত সরকার ব্যবস্থা।
- এই সরকারের প্রধান ছিলেন রাষ্ট্রপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
- তার অনুপস্থিতিতে উপরাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেন।

⇒ মুজিবনগর সরকারের মন্ত্রিসভা:
• রাষ্ট্রপতি: বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
• উপরাষ্ট্রপতি ও অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি: সৈয়দ নজরুল ইসলাম।
• প্রধানমন্ত্রী: তাজউদ্দিন আহমদ।
• অর্থ ও বাণিজ্যমন্ত্রী: এম মনসুর আলী।
• স্বরাষ্ট্র, ত্রাণ, পুনর্বাসন ও কৃষিমন্ত্রী: এএইচএম কামারুজ্জামান।
• পররাষ্ট্র ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী: খন্দকার মোশতাক আহমদ।

উৎস: i) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
ii) স্বাধীনতা যুদ্ধের দলিলপত্র: তৃতীয় খণ্ড।
৩২.
মুক্তিযুদ্ধের সময় কোন জেলা ১১ নং সেক্টরের অধীনে ছিল?
  1. ময়মনসিংহ
  2. বরিশাল
  3. দিনাজপুর
  4. সুনামগঞ্জ
সঠিক উত্তর:
ময়মনসিংহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ময়মনসিংহ
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধ:
- মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশকে ১১টি সেক্টরে ভাগ করা হয়েছিলো।

⇒ নৌ-বাহিনীর অধীনে ছিল: ১০ নং সেক্টর (সকল নদী ও -বঙ্গোপসাগর)।
- ১০ নং সেক্টরে কোনো সেক্টর কমান্ডার ছিল না।

• সেক্টরগুলো:
- ১নং সেক্টর: চট্টগ্রাম ও পাবর্ত্য চট্টগ্রাম,
- ২নং সেক্টর: ঢাকা, নোয়াখালী, ফরিদপুর ও কুমিল্লার অংশবিশেষ,
- ৩নং সেক্টর: কুমিল্লা, কিশোরগঞ্জ ও হবিগঞ্জ,
- ৪ নং সেক্টর: মৌলভীবাজার ও সিলেটের পূর্বাংশ,
- ৫নং সেক্টর: সিলেট ও সুনামগঞ্জ,
- ৬নং সেক্টর: রংপুর, দিনাজপুর,
- ৭নং সেক্টর: রাজশাহী, বগুড়া, পাবনা,
- ৮নং সেক্টর: কুষ্টিয়া, যশোর, ফরিদপুর,
- ৯নং সেক্টর: খুলনা, বরিশাল,
- ১০নং সেক্টর: সকল নৌপথ ও সমুদ্র উপকূলীয় অঞ্চল,
- ১১নং সেক্টর: টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৩৩.
নিম্নের কোন ব্যক্তি বাংলাদেশ থেকে র‍্যামন ম্যাগসেসে পুরস্কার লাভ করেন?
  1. সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান
  2. অ্যাঞ্জেলা গোমেজ
  3. ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী
  4. বর্ণিত সবাই
সঠিক উত্তর:
বর্ণিত সবাই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বর্ণিত সবাই
ব্যাখ্যা
র‍্যামন ম্যাগসেসে পুরস্কার:
- ফিলিপাইনের সাবেক প্রেসিডেন্ট র‍্যামন ম্যাগসাইসাইয়ের নামে এ পুরস্কার দেওয়া হয়।
- র‍্যামন ম্যাগসেসে ১৯৫৭ সালের ১৭ মার্চ মর্মান্তিক বিমান দুর্ঘটনায় মারা যান।
- ১৯৫৮ সাল থেকে পুরস্কার দেওয়া শুরু হয়।
- এখন পর্যন্ত ১৩ জন ব্যক্তি বাংলাদেশ থেকে র‍্যামন ম্যাগসেসে পুরস্কার লাভ করেন।

⇒ পুরস্কারপ্রাপ্ত ১৩ বাংলাদেশি:
১. ১৯৭৮ সালে প্রথম র‍্যামন ম্যাগসেসে পান: সমাজসেবী তহরুন্নেসা আবদুল্লাহ।
২. ১৯৮০ সালে: ব্র্যাকের প্রতিষ্ঠাতা স্যার ফজলে হাসান আবেদ।
৩. ১৯৮৪ সালে: গ্রামীণ ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
৪. ১৯৮৫ সালে: গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী।
৫. ১৯৮৭ সালে: ক্যাথলিক ধর্মযাজক রিচার্ড উইলিয়াম টিম।
৬. ১৯৮৮ সালে: দিদার কমপ্রিহেন্সিভ ভিলেজ ডেভেলপমেন্ট কো-অপারেটিভ সোসাইটির প্রতিষ্ঠাতা মোহাম্মদ ইয়াসিন।
৭. ১৯৯৯ সালে: বেসরকারি সংগঠন বাঁচতে শেখার প্রতিষ্ঠাতা অ্যাঞ্জেলা গোমেজ
৮. ২০০৪ সালে: বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ।
৯. ২০০৫ সালে: প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমান।
১০. ২০১০ সালে: বেসরকারি সংগঠন সিডিডির নির্বাহী পরিচালক এ এইচ এম নোমান খান।
১১. ২০১২ সালে: বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) প্রধান নির্বাহী সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান
১২. ২০২১ সালে: প্রখ্যাত বিজ্ঞানী ফেরদৌসী কাদরী।
১৩. ২০২৩ সালে: জাগো ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা বাংলাদেশের করভি রাখসান্দ।

উৎস: i) The Ramon Magsaysay Award Foundation ওয়েবসাইট।
ii) প্রথম আলো।
৩৪.
বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে কে রয়েছেন? [ডিসেম্বর, ২০২৪]
  1. ড. মুহাম্মদ ইউনূস
  2. জনাব সালেহ উদ্দিন আহমেদ
  3. মোঃ তৌহিদ হোসেন
  4. মো: জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী
সঠিক উত্তর:
মো: জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মো: জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী
ব্যাখ্যা
অন্তর্বর্তীকালীন সরকার:
- ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মুখে ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর ৮ আগস্ট, ২০২৪ তারিখে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়েছে।
- নোবেল বিজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে আগস্ট, ২০২৪ সালে দেশে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠিত হয়েছে।
- এই সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

⇒ অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে শপথ বাক্য পাঠ করান রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন।
- শপথ গ্রহণের স্থান: বঙ্গভবন।
- মোট উপদেষ্টা: ২৪ জন।

উল্লেখ্য,
⇒ ড. মুহাম্মদ ইউনূস:
- মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।

⇒ জনাব সালেহ উদ্দিন আহমেদ:
- অর্থ মন্ত্রণালয়, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়।

⇒ জনাব ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ:
- পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়, শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

⇒ জনাব মোঃ তৌহিদ হোসেন:
- পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

⇒ লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো: জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী:
- স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, কৃষি মন্ত্রণালয়।

উৎস: মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। [link]
৩৫.
নিম্নের কোন প্রতিষ্ঠানটি জনসংখ্যা বিষয়ে গবেষণা করে?
  1. NAPE
  2. NICAR
  3. NAEM
  4. NIPORT
সঠিক উত্তর:
NIPORT
উত্তর
সঠিক উত্তর:
NIPORT
ব্যাখ্যা
NIPORT:
- NIPORT-এর পূর্ণরূপ: National Institute of Population Research and Training.
- এটি হলো বাংলাদেশের জনসংখ্যা বিষয়ক জাতীয় গবেষণা প্রতিষ্ঠান।
- এটি ১৯৭৭ সালে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে প্রতিষ্ঠিত হয়, যা ঢাকার আজিমপুরে অবস্থিত।
- সংস্থাটিকে নিয়ন্ত্রণ করে স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়‌।
- নিপোর্ট এই মন্ত্রণায়লের অধীন জেলা, উপজেলা, ইউনিয়ন ও মাঠ পর্যায়ের কর্মকতা-কর্মচারীদের জ্ঞান ও দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করে থাকে।

অন্যদিকে,
• NAPE:
- NAPE-এর পূর্ণরূপ: National Academy for Primary Education.
- জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমি।

• NAEM:
- NAEM-এর পূর্ণরূপ: National Academy for Educational Management.
- জাতীয় শিক্ষা ব্যবস্থাপনা একাডেমি।

• NICAR:
- NICAR-এর পূর্ণরূপ: National Implementation Committee for Administrative Reform.
- প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটি।

উৎস: সংশ্লিষ্ট ওয়েবসাইট।
৩৬.
অর্থনৈতিক সমীক্ষা ২০২৪ অনুযায়ী, গ্যাসের মজুদের পরিমাণের হিসাবে দেশের বৃহত্তম গ্যাসক্ষেত্র কোনটি?
  1. বিয়ানীবাজার
  2. বিবিয়ানা
  3. তিতাস
  4. বাখরাবাদ
সঠিক উত্তর:
তিতাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তিতাস
ব্যাখ্যা
গ্যাসক্ষেত্র:
- জানুয়ারি ২০২৪ সময়ে উত্তোলনযোগ্য অবশিষ্ট মজুদের/নীট মজুদের পরিমাণ ৮.১৭ ট্রিলিয়ন ঘনফুট।
- পেট্রোবাংলার সর্বশেষ প্রাক্কলন অনুযায়ী প্রাথমিক মোট মজুদ গ্যাস-এর পরিমাণ ৪০.৫৩ ট্রিলিয়ন ঘনফুট।
- উত্তোলনযোগ্য, প্রমাণিত ও সম্ভাব্য (2P) গ্যাসের মজুদের পরিমাণের হিসাবে দেশের বৃহত্তম গ্যাসক্ষেত্র তিতাস।
- এর উত্তোলনের পরিমাণ ৬৩৬৭ বিলিয়ন ঘনফুট।
- এটি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় অবস্থিত।

⇒ দ্বিতীয় বৃহত্তম গ্যাসক্ষেত্র বিবিয়ানা।
- এর উত্তোলনের পরিমাণ ৫৮১৮.৩ বিলিয়ন ঘনফুট।
- এটি হবিগঞ্জ জেলায় অবস্থিত।

অন্যদিকে,
- প্রাথমিক মজুদের পরিমাণের হিসাবে বৃহত্তম গ্যাসক্ষেত্র বিবিয়ানা।
- প্রাথমিক মোট মজুদ পরিমাণ – ৮৩৫০.০ বিলিয়ন ঘনফুট।

⇒ দ্বিতীয় বৃহত্তম গ্যাসক্ষেত্র তিতাস।
- এর পরিমাণ ৮১৪৮.৯ বিলিয়ন ঘনফুট।

⇒ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের হিসাব মতে, ২০২২-২৩ অর্থবছরে প্রাকৃতিক গ্যাস সর্বোচ্চ ব্যবহারের কয়েকটি খাত হচ্ছে –
- বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহার – ৩৮৯.৪ বিলিয়ন ঘনফুট (৪২.০০%)।
- শিল্পখাতে ব্যবহার – ১৭৮.৮ বিলিয়ন ঘনফুট (১৯.০০%) [দ্বিতীয়]
- ক্যাপটিভ – ১৬৪.৩ বিলিয়ন ঘনফুট (১৮%) [তৃতীয়]
- গৃহস্থালির কাজে ব্যবহার – ১০০.৬ বিলিয়ন ঘনফুট। (১১.০০%)।

উৎস: বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সমীক্ষা ২০২৪।
৩৭.
১৯৭০ সালের জাতীয় পরিষদ নির্বাচনে পূর্ব পাকিস্তানের নারীদের জন্য সংরক্ষিত আসন ছিল -
  1. ৫টি
  2. ৬টি
  3. ৭টি
  4. ৯টি
সঠিক উত্তর:
৭টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৭টি
ব্যাখ্যা
১৯৭০ সালের নির্বাচন:
- ১৯৬২ সালে মৌলিক গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে জাতীয় পরিষদ গঠন করা হয়।
- ১৯৭০ সালে পাকিস্তানের জনগণ সর্বপ্রথম দেশের কেন্দ্রীয় আইন পরিষদের প্রতিনিধি নির্বাচনের সুযোগ লাভ করে।
- নির্বাচনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ছিলেন বিচারপতি আব্দুস সাত্তার।
- জাতীয় পরিষদের নির্বাচন হয় ১৯৭০ সালের ৭ ডিসেম্বর।
- এবং প্রাদেশিক পরিষদের নির্বাচনের তারিখ নির্দিষ্ট হয় ১৯৭০ সালের ১৭ ডিসেম্বর।

⇒ ১৯৭০ এর পূর্ব পাকিস্তান প্রাদেশিক পরিষদের নির্বাচনে মোট ২৪টি দল অংশগ্রহণ করে।
- আওয়ামী লীগ প্রধান বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান 'নৌকা' প্রতীক নিয়ে ঐতিহাসিক ছয় দফার পক্ষে প্রচারাভিযানে নামেন।
- জাতীয় পরিষদে পূর্ব পাকিস্তানের জন্য নির্ধারিত ১৬৯টি আসনের মধ্যে আওয়ামী লীগ ১৬৭টি আসন লাভ করে।

উল্লেখ্য
⇒ ১৯৭০ সালের জাতীয় পরিষদ নির্বাচনে আসন বন্টন:
- আইনগত কাঠামো আদেশ অনুযায়ী জাতীয় পরিষদের আসন সংখ্যা ৩১৩টি নির্ধারণ করা হয়।
- সাধারণ আসন সংখ্যা ৩০০টি এবং নারীদের জন্য সংরক্ষিত আসন সংখ্যা ১৩টি।
- পূর্ব পাকিস্তানে মোট আসন সংখ্যা ১৬৯টি।
• সাধারণ আসন সংখ্যা ১৬২টি।
• নারীদের জন্য সংরক্ষিত আসন সংখ্যা ৭টি।

অন্যদিকে,
- পশ্চিম পাকিস্তানে মোট আসন সংখ্যা ১৪৪টি।
• সাধারণ আসন সংখ্যা ১৩৮টি।
• নারীদের জন্য সংরক্ষিত আসন সংখ্যা ৬টি।

উৎস: i) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
ii) বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি।
৩৮.
বাংলাদেশের প্রথম বেসরকারি ব্যাংক -
  1. আইএফআইসি ব্যাংক
  2. আরব বাংলাদেশ ব্যাংক
  3. সিটি ব্যাংক
  4. গ্রামীণ ব্যাংক
সঠিক উত্তর:
আরব বাংলাদেশ ব্যাংক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আরব বাংলাদেশ ব্যাংক
ব্যাখ্যা
এবি ব্যাংক পিএলসি:
- বাংলাদেশের সর্বপ্রথম বেসরকারি ব্যাংক এবি ব্যাংক পিএলসি।
- ১৯৮১ সালের ৩১শে ডিসেম্বর এবি ব্যাংক পিএলসি আত্মপ্রকাশ করে।
- শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনের লক্ষ্যে আরব বাংলাদেশ ব্যাংক পরিচিতি নিয়ে ১৯৮২ সালের ১২ই এপ্রিল ব্যাংকটি তার কর্মকান্ড শুরু করে।
- ব্যাংকটি ১৯৯৬ সালে প্রথম এটিএম সেবা চালু করে।
- ১৯৯৯ সালে এটি প্রথম বাংলাদেশি ব্যাংক হিসেবে সুইফট সেবা চালু করে।
- ব্যারিষ্টার খায়রুল আলম চৌধুরী এবি ব্যাংক পিএলসি. -এর সম্মানিত চেয়ারম্যান।

উৎস: এবি ব্যাংক পিএলসি ওয়েবসাইট।
৩৯.
বাংলাদেশের কোন বিজ্ঞানী বিশ্বজুড়ে ‘জুটম্যান’ নামে পরিচিত?
  1. ড. মোবারক আহমদ খান
  2. ডক্টর আবেদ চৌধুরী
  3. মাকসুদুল আলম
  4. উপরের কেউই নয়
সঠিক উত্তর:
ড. মোবারক আহমদ খান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ড. মোবারক আহমদ খান
ব্যাখ্যা
ড. মোবারক আহমদ খান:
- প্লাস্টিকের কোন উপকরণ ছাড়াই পাট দিয়ে তৈরি হচ্ছে পরিবেশবান্ধব পলিথিন ব্যাগ।
- এটি বাজারে প্রচলিত পলি ব্যাগের মতোই, তবে পচনশীল।
- পাট থেকে পলিথিন ব্যাগ উদ্ভাবন করেছেন প্রখ্যাত বিজ্ঞানী পরমাণু শক্তি কমিশনের সাবেক মহাপরিচালক ও বাংলাদেশ জুট মিল করপোরেশনের বৈজ্ঞানিক উপদেষ্টা ড. মোবারক আহমদ খান।
- তিনি এই ব্যাগের নাম দিয়েছেন ‘সোনালি ব্যাগ’।

উল্লেখ্য,
- ২০ বছর ধরে মোবারক আহমদ খান পাটের বাণিজ্যিক ব্যবহার নিয়ে গবেষণা করছেন।
- ২০০৯ সালে এই বিজ্ঞানী পাটের সঙ্গে পলিমারের মিশ্রণ ঘটিয়ে মজবুত, তাপ বিকিরণরোধী ও সাশ্রয়ী ঢেউটিন ‘জুটিন’ বানান।
- এই পদ্ধতি উদ্ভাবনের জন্য বাংলাদেশ বিজ্ঞান একাডেমি তাঁকে ২০১৫ সালে স্বর্ণপদক দেয়।
- বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ক্ষেত্রে অবদানের জন্য ২০২৪ সালে ‘স্বাধীনতা পুরস্কার’ পান ড. মোবারক আহমদ খান।
- তিনি বিশ্বজুড়ে জুট্ম্যান হিসেবে পরিচিত।

অন্যদিকে -
- পাটের জিনোম সিকোয়েন্স বা পাটের জীবনরহস্য উন্মোচন করেন বিজ্ঞানী মাকসুদুল আলম।
- পঞ্চব্রীহি ধান উৎপাদনের পদ্ধতি আবিষ্কার করেন বিজ্ঞানী ডক্টর আবেদ চৌধুরী।

উৎস: i) বাংলাদেশ পাটকল কর্পোরেশন।
ii) প্রথম আলো।
৪০.
নিম্নের কোনটি পূর্বে রোহিতগিরি নামে পরিচিত ছিল?
  1. সীতাকোট বিহার
  2. ময়নামতি
  3. সোমপুর মহাবিহার
  4. মহামুনি বিহার
সঠিক উত্তর:
ময়নামতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ময়নামতি
ব্যাখ্যা
ময়নামতি:
- কুমিল্লা শহর থেকে মাত্র ৭ কিলোমিটার পশ্চিমে ময়নামতি অবস্থিত।
- ময়নামতিতে রয়েছে ৮ম শতকের পুরার্কীতির নিদর্শন।
- ময়নামতির উত্তর - দক্ষিণে রয়েছে প্রায় ১৮ কিলোমিটার দৈর্ঘ্য ও ২ কিলোমিটার প্রস্থ নিয়ে বিস্তৃত প্রাচীনকালের রোহিতগিরি যা লালমাটির পাহাড় নামে পরচিতি।
- এর উত্তরাংশ দশম শতকে দেব বংশের রাজা মানিক্য চন্দ্রর রাজধানীকে কন্দ্রে করে তার স্ত্রী মরণামতরি নামে নামকরণ করা হয় ময়নামতি।

⇒ ময়নামতি বৌদ্ধ বিহার:
- লালমাই ময়নামতি গিরি শ্রেণীর মধ্যবর্তী স্থানে এই বিহারটি অবস্থিত।
- এই বিহারটির প্রত্যেক বাহুর দৈর্ঘ্য ৫৫০ ফুট।
- চারটি বাহুতে মোট ১১৫টি ভিক্ষু কক্ষ আছে যাতে বৌদ্ধ ভিক্ষুরা বসবাস করতেন।
- এর মধ্যবর্তী স্থানে রয়েছে বিশাল প্রবেশ দ্বার।
- উম্মুক্ত চত্বরে ক্রশাকৃতির প্রধান মন্দির।
- মূল বিহারটি দেব বংশের চতুর্থ রাজা ভবদেব কর্তৃক আনুমানিক ৮ম শতাব্দীতে নির্মিত হয়েছে।
- শালবন বিহার খনন করে অসংখ্য মূল্যবান প্রত্নতত্ত্ব আবিস্কার করা হয়েছে।
- এগুলোর মধ্যে আছে ৮টি তাম্রলিপি, ১৮টি স্বর্ণ ও ৩৫০টি রৌপ্য মুদ্রা, স্বর্ণালংকার, নানা ধরণের মূর্তি, পোড়ামাটির বিএফলক, সীল ও নিত্য ব্যবহার্য দ্রব্য।

উৎস: বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন ওয়েবসাইট।
৪১.
'কুসুম্বা মসজিদ' কোন শাসনামলের স্থাপত্য নিদর্শন?
  1. সেন
  2. মুঘল
  3. সুলতানি
  4. ইংরেজ
সঠিক উত্তর:
সুলতানি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুলতানি
ব্যাখ্যা
কুসুম্বা মসজিদ:
- নওগাঁর মান্দা উপজেলায় ঐতিহাসিক কুসুম্বা মসজিদের অবস্থান।
- মসজিদটি ধরে রেখেছে সুলতানি আমলের অনন্য নিদর্শন।
- এর মিহরাবের ওপর সুলতান আলাউদ্দীন হোসেন শাহর নাম লিপিবদ্ধ করা।
- ধারণা করা হয়, তাঁর শাসনামলে মসজিদটি নির্মিত।
- এটি চারকোনাবিশিষ্ট। কালো ও ধূসর রঙের পাথর আর পোড়ামাটির ইটে গড়া এই মসজিদ।

উল্লেখ্য,
- বাংলাদেশের ৫ টাকার নোটে কুসুম্বা মসজিদের ছবি ছাপানো আছে।

উৎস: প্রথম আলো।
৪২.
BFIU-এর পূর্ণরূপ কী?
  1. Bangladesh Bank Financial Intelligence Unit
  2. Bangladesh Financial Intelligence Unit
  3. Bank Financial Intelligence Unit
  4. Banking & Financial Intelligence Unit
সঠিক উত্তর:
Bangladesh Financial Intelligence Unit
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Bangladesh Financial Intelligence Unit
ব্যাখ্যা
BFIU:
- বাংলাদেশ ব্যাংকের আর্থিক গোয়েন্দা সংস্থা বিএফআইইউ।
- BFIU- এর পূর্ণরূপ: Bangladesh Financial Intelligence Unit।

উল্লেখ্য,
- বাংলাদেশ ১৯৯৭ সালে এশিয়া-প্যাসিফিক গ্রুপ অন মানিলন্ডারিং (এপিজি) এর প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হিসেবে যোগদান করার মাধ্যমে মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ কার্যক্রমের আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টার সাথে সম্পৃক্ত হয়।
- পরবর্তীতে বাংলাদেশ সরকার অবৈধ হুন্ডি তৎপরতা, বিদেশে অর্থ পাচার এবং মানিলন্ডারিং তৎপরতা প্রতিরোধ ও দমনের কার্যক্রম জোরদারকরণের লক্ষ্যে ২৭ জানুয়ারি ২০০২ তারিখে বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন ডেপুটি গভর্নরের নেতৃত্বে কেন্দ্রীয় টাস্কফোর্স এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের আঞ্চলিক অফিসভিত্তিক ৭টি আঞ্চলিক টাস্কফোর্স গঠন করে এবং এপ্রিল ২০০২ এ দক্ষিণ এশিয়ার দেশসমূহের মধ্যে বাংলাদেশ প্রথম দেশ হিসেবে মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন জারি করে।
- উক্ত আইনে বর্ণিত দায়িত্ব পালনের জন্য ১৮ জুন ২০০২ তারিখে বাংলাদেশ ব্যাংক 'মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ বিভাগ' নামে একটি পৃথক বিভাগ প্রতিষ্ঠা করে, যা ২০১২ সালে পরিবর্তিত হয়ে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) নাম ধারণ করে।

⇒ উদ্দেশ্য:
- বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) হলো সন্দেহজনক লেনদেন প্রতিবেদন (এসটিআর), নগদ লেনদেন প্রতিবেদন (সিটিআর) এবং রিপোর্টিং এজেন্সি এবং থেকে প্রাপ্ত মানি লন্ডারিং (এমএল) / সন্ত্রাসবাদে অর্থায়ন (টিএফ) সম্পর্কিত তথ্য বিশ্লেষণ করার জন্য দায়ী অন্যান্য উত্স এবং প্রাসঙ্গিক আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কাছে তথ্য/গোয়েন্দা তথ্য প্রচার করা।
- বিএফআইইউ-এর মূল উদ্দেশ্য হল অর্থ পাচার প্রতিরোধ, সন্ত্রাসবাদে অর্থায়ন এবং গণবিধ্বংসী অস্ত্রের বিস্তার রোধে কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে তোলা।

⇒ নির্বাহী পরিচালক ও উপ-প্রধান: একেএম এহসান,
- পরিচালক: মোহাম্মদ আনিসুর রহমান,
- পরিচালক: মোঃ মোস্তাকুর রহমান।

উৎস: i) বাংলাদেশ ব্যাংক ওয়েবসাইট।
ii) BFIU ওয়েবসাইট।
৪৩.
বাংলাদেশের কোন সংস্থাটি বিশ্বের বৃহত্তম এনজিও হিসেবে পরিচিত?
  1. ব্র্যাক
  2. গ্রামীণ ব্যাংক
  3. আশা
  4. বার্ড
সঠিক উত্তর:
ব্র্যাক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্র্যাক
ব্যাখ্যা
BRAC:
- BRAC-এর পূর্ণরূপ: Bangladesh Rural & Advancement Committee।
- এটি বিশ্বের বৃহত্তম এনজিও বা বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা।
- ১৯৭২ সালে স্যার ফজলে হাসান আবেদ BRAC প্রতিষ্ঠা করেন।
- ব্র্যাক হলো একটি আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা।
- এটি নারী ও শিশুদের উপর বিশেষ ফোকাস রেখে কাজ করে।

উৎস: i) ব্র্যাক ওয়েবসাইট।
ii) ৩ নভেম্বর ২০১৭, প্রথম আলো।
৪৪.
‘গাবখান চ্যানেল’ বাংলাদেশের যে জেলায় অবস্থিত -
  1. চট্টগ্রাম
  2. ফেনী
  3. ঝালকাঠি
  4. রাজশাহী
সঠিক উত্তর:
ঝালকাঠি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঝালকাঠি
ব্যাখ্যা
গাবখান চ্যানেল:
- গাবখান চ্যানেল বাংলাদেশের ঝালকাঠি জেলায় অবস্থিত।
- ঝালকাঠির সুগন্ধা-বিষখালী নদীর সাথে পিরােজপুরের সন্ধ্যা নদীর সংযােগ ঘটিয়েছে ১৬ কিমি দীর্ঘ এ গাবখান চ্যানেল।
- গাবখান চ্যানেলটি বাংলাদেশের একমাত্র কৃত্রিম নৌপথ যা বাংলার সুয়েজখাল নামে পরিচিত।
- এর ঝালকাঠি অংশে সুগন্ধা, বিষখালী ও ধানসিঁড়ি নদীর মোহনা এবং পিরোজপুর অংশে কচা নদী।
- এর দৈর্ঘ্য ১৮ কিলোমিটার।

উল্লেখ্য,
- ঝালকাঠি জেলার মাঝখান দিয়ে বয়ে চলা গাবখান নদীর উপর নির্মিত এই সেতুটি ৫ম বাংলাদেশ-চীনমৈত্রী সেতু হিসেবে পরিচিত যা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে গাবখান চ্যানেলের উপর দিয়ে।
- ভারতের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক বৃদ্ধির জন্য ১৯১২ সালে ব্রিটিশরা ঝালকাঠি পৌর শহরের গাবখান থেকে পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলার আমড়াঝড়ি পর্যন্ত খনন করে।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৪৫.
বাংলাদেশের কোন জেলায় দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সমাধিক্ষেত্র রয়েছে?
  1. ঢাকা
  2. কুমিল্লা
  3. চট্টগ্রাম
  4. খ ও গ
সঠিক উত্তর:
খ ও গ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ ও গ
ব্যাখ্যা
ওয়ার সিমেট্রি:
- দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে বার্মায় সংঘটিত যুদ্ধে যে ৪৫০০০ কমনওয়েলথ সৈনিক নিহত হন, তাদের স্মৃতি রক্ষার্থে মায়ানমার (তৎকালীন বার্মা), আসাম, এবং বাংলাদেশে ৯টি রণ সমাধিক্ষেত্র তৈরি করা হয়েছে।
- বাংলাদেশে দুটি কমনওয়েলথ রণ সমাধিক্ষেত্র আছে, যার একটি কুমিল্লায় এবং অপরটি চট্টগ্রামে অবস্থিত।

⇒ ময়নামতি ওয়ার সিমেট্রি বাংলাদেশের কুমিল্লাতে অবস্থিত একটি কমনওয়েলথ যুদ্ধ সমাধি। ময়নামতি রণ সমাধিক্ষেত্র মূলত দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে (১৯০৩-১৯৪৫) নিহত ভারতীয় (তৎকালীন) ও বৃটিশ সৈন্যদের কবরস্থান। এটি ১৯৪৬ সালে তৈরি হয়েছে। কুমিল্লা শহর থেকে প্রায় ৯ কিলোমিটার দূরে কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্টের খুব কাছেই এই যুদ্ধ সমাধির অবস্থান। এই সমাধিক্ষেত্রটি Commonwealth War Graves Commission (CWGC) কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল ও তারাই এ সমাধিক্ষেত্র পরিচালনা করেন। প্রতি বছর নভেম্বর মাসে সকল ধর্মের ধর্মগুরুদের সমন্বয়ে এখানে একটি বার্ষিক প্রার্থনাসভা অনুষ্ঠিত হয়। সমাধিক্ষেত্রটিতে ৭৩৬টি কবর আছে। এর মধ্যে অধিকাংশ কবর হল সে সময়কার হাসপাতালের মৃত সৈনিকগণের। তাছাড়াও যুদ্ধের পর বিভিন্ন স্থান থেকে কিছু লাশ স্থানান্তর করেও এখানে সমাহিত করা হয়। সর্বমোট ৭২৩ জন নিহতের পরিচয় জানা সম্ভব হয়েছিল।

⇒ চট্টগ্রাম রণ সমাধিক্ষেত্র ১৯৪৩-১৯৪৪ সালে তৈরি হয়েছে। চট্টগ্রামে তৎকালীন সময়ে ছিল অনেক বড় হাসপাতাল। এছাড়া চট্টগ্রাম ছিল যুদ্ধ-সরঞ্জাম সরবরাহের ক্ষেত্র, গভীর সমুদ্র বন্দর যেখান থেকে মিত্র বাহিনী আরাকান এলাকায় তাঁদের সামরিক অভিযান পরিচালনা করতো। ব্রিটিশ সেনাবাহিনী দ্বারা নির্মিত এই সমাধিক্ষেত্রে প্রথম দিকে ৪০০টি কবর ছিল। বর্তমানেএই সমাধিক্ষেত্রের ৭৫৫টি কবর আছে। সর্বমোট ৭৩৮ জন নিহতের পরিচয় জানা সম্ভব হয়েছিল।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৪৬.
পাহাড়পুর প্রত্নস্থল সর্বপ্রথম কে পরিদর্শন করেন?
  1. ওয়েস্টম্যাকট
  2. আলেকজান্ডার কানিংহাম
  3. বুকানন হ্যামিল্টন
  4. এনড্রো জেড ফায়ার
সঠিক উত্তর:
বুকানন হ্যামিল্টন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বুকানন হ্যামিল্টন
ব্যাখ্যা
পাহাড়পুর বৌদ্ধ বিহার:
- পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহার বা সোমপুর বিহার বা সোমপুর মহাবিহার বর্তমানে ধ্বংসপ্রাপ্ত একটি প্রাচীন বৌদ্ধ বিহার।
- এই মহাবিহার বাংলাদেশের নওগাঁ জেলার বদলগাছি উপজেলায় অবস্থিত।
- এটি প্রাচীন বাংলার একটি বৌদ্ধ বিহার।

⇒ পালবংশের দ্বিতীয় রাজা শ্রী ধর্মপালদেব অষ্টম শতকের শেষের দিকে বা নবম শতকে এই বিহার তৈরি করছিলেন।
- পাল রাজবংশের রাজা ধর্মপাল (৭৮১-৮২১) অষ্টম শতকের শেষ দিকে এ বিহার নির্মাণ করেন।
- সোমপুর বিহার এশিয়া মহাদেশের মধ্যে বৃহত্তম বিহার।
- এর দৈর্ঘ্য পূর্ব-পশ্চিমে ৯১৯ ফুট এবং উত্তর-দক্ষিণে ৯২২ ফুট।
- মূল ভবনে বৌদ্ধ ভিক্ষুদের জন্য ১৭৭টি কক্ষ ছিল।
- ৮০০ জন ভিক্ষুর বাসপোযোগী ছিল।
- এ বিহারে ১২৫নং কক্ষে মাটির পাত্রে খলিফা হারুন-অর-রশিদের শাসনামলের রৌপ্য মুদ্রা পাওয়া যায়। 

⇒ পূর্বভারতে জরিপ কাজ পরিচালনাকালে ১৮০৭ ও ১৮১২ সালে বুকানন হ্যামিল্টন সর্ব প্রথম প্রত্নস্থলটি পরিদর্শন করেন।
- পরবর্তীকালে ওয়েস্টম্যাকট পাহাড়পুর পরিভ্রমণে আসেন।
- স্যার আলেকজান্ডার কানিংহাম ১৮৭৯ সালে এ স্থান পরিদর্শন করেন ও ২২ ফুট বর্গাকার একটি ইমারত আবিষ্কার করেন।
- প্রত্নস্থলটি ১৯০৯ সালের পুরাকীর্তি আইনের আওতায় ভারতের প্রত্নতাত্ত্বিক জরিপ বিভাগ কর্তৃক ১৯১৯ সালে সংরক্ষিত পুরাকীর্তি হিসেবে ঘোষিত হয়।
- ১৯৮৫ সালে ইউনেস্কো এটিকে বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থানের মর্যাদা দেয়।

উৎস: বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৪৭.
বর্তমানে বাংলাদেশ ব্যাংক বছরে কয়বার মুদ্রানীতি ঘোষণা করেন? [ডিসেম্বর, ২০২৪]
  1. ১ বার
  2. ২ বার
  3. ৩ বার
  4. ৪ বার
সঠিক উত্তর:
২ বার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২ বার
ব্যাখ্যা
মুদ্রানীতি (Monetary policy):
- যে নীতির মাধ্যমে দেশের অর্থ কর্তৃপক্ষ অর্থের যোগান নিয়ন্ত্রণ করে তাকে আর্থিক নীতি বা মুদ্রানীতি বলে।
- দেশের অর্থ কর্তৃপক্ষ বলতে সরকার ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সমন্বিত ব্যবস্থাকে বোঝানো হয়।
- আর্থিক নীতির উল্লিখিত দেশের অর্থ কর্তৃপক্ষ বলতে সরকার ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সমন্বিত ব্যবস্থাকে বোঝানো হয়।
- মুদ্রানীতি হলো মুদ্রার প্রক্ষেপণ যা কেন্দ্রীয় ব্যাংক প্রণয়ন করে থাকে।
- বাংলাদেশ ব্যাংক বছরে দুইবার মুদ্রানীতি ঘোষণা করেন।

উল্লেখ্য।
- পূর্বে বাংলাদেশ ব্যাংক বছরে ১ বার মুদ্রানীতি ঘোষণা করতো।

⇒ বাংলাদেশ ব্যাংকের মুদ্রানীতির মূল উদ্দেশ্য হলো:
1. অভ্যন্তরীণ এবং বাহ্যিক উভয় মূল্যের স্থায়িত্ব,
2. টেকসই বৃদ্ধি এবং উন্নয়ন,
3. উচ্চ কর্মসংস্থান,
4. সম্পদের অর্থনৈতিক এবং দক্ষ ব্যবহার,
5. আর্থিক ও পেমেন্ট সিস্টেমের স্থিতিশীলতা।
- বাংলাদেশ ব্যাংক এক বছরে দুইবার (জানুয়ারি ও জুলাই) মুদ্রানীতি ঘোষণা করে।
- বাংলাদেশে মুদ্রানীতি বাস্তবায়নের সরঞ্জাম ও উপকরণ হল ব্যাংক রেট, ওপেন মার্কেট অপারেশনস (ওএমও), পুনঃক্রয় চুক্তি (রেপো) এবং রিভার্স রেপো, সংবিধিবদ্ধ রিজার্ভ রিকোয়ারমেন্ট (এসএলআর এবং সিআরআর)।

উৎস: Bangladesh Bank ওয়েবসাইট।
৪৮.
কনসার্ট ফর বাংলাদেশ-এ নিম্নের কোন শিল্পী অংশগ্রহণ করেননি?
  1. এরিক ক্ল্যাপটন
  2. জর্জ হ্যারিসন
  3. জন লেনন
  4. বব ডিলান
সঠিক উত্তর:
জন লেনন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জন লেনন
ব্যাখ্যা
কনসার্ট ফর বাংলাদেশ:
- মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে নিউইয়র্কের ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনে ১৯৭১ সালের ১ আগস্ট অনুষ্ঠিত হয়েছিল ‘দ্য কনসার্ট ফর বাংলাদেশ’।
- ৪০ হাজারের বেশি মানুষ নিউইয়র্কের ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনে এমন একটি আয়োজনে যোগ দিয়েছিলেন, যে ধরণের আয়োজন এর আগে বিশ্বের মানুষ কখনও দেখেনি।

⇒ কনসার্ট ফর বাংলাদেশ'-এর প্রধান উদ্যোক্তা ছিলেন নিউইয়র্কে যুক্তরাষ্ট্রের শিল্পী জর্জ হ্যারিসন।
- জর্জ হ্যারিসন 'কন্সার্ট ফর বাংলাদেশ' থেকে প্রাপ্ত অর্থ মুজিবনগর সরকারের কাছে তুলে দেন।
- ভারতের খ্যাতিমান শিল্পী রবি শঙ্কর মুক্তিযুদ্ধে মানুষকে উজ্জীবিত করেন।
- তিনি বাংলাদেশ কনসার্টের আয়োজকদের মধ্যে অন্যতম।
- ১৯৭১ সালের ১লা অগাস্টের সেই আয়োজনে অংশ নিয়েছিলেন পপ সঙ্গীতের তৎকালীন সুপারস্টার বব ডিলান, জর্জ হ্যারিসন এবং এরিক ক্ল্যাপটনের মত তারকারা।
- জর্জ হ্যারিসন, বব ডিলানের মতো তারকাদের মাধ্যমে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ অন্যরকম এক পরিচিতি পায় যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের সাধারণ মানুষের কাছে।

উল্লেখ্য,
- জন লেনন, রিঙ্গো স্টার, বব ডিলান, এরিক ক্ল্যাপটন এবং বিখ্যাত সব পপ শিল্পী এই আয়োজনে অংশ নেওয়ার কথা ছিল।
- তবে জন লেনন শেষ পর্যন্ত কনসার্ট ফর বাংলাদেশে অংশ নেননি।

উৎস: i) বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, অষ্টম শ্রেণি।
ii) ১ অগাস্ট ২০২১, BBC।