পরীক্ষা আর্কাইভ

সিনিয়র অফিসার নিয়োগ প্রস্তুতি (আর্কাইভ)

পরীক্ষাসিনিয়র অফিসার নিয়োগ প্রস্তুতি (আর্কাইভ)তারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়17 minutes
মোট প্রশ্ন৪৬
সিলেবাস
পরীক্ষা - ৫ টপিক: বাংলা (সম্পূর্ণ সিলেবাস) [মার্কস-৫০]
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

সিনিয়র অফিসার নিয়োগ প্রস্তুতি (আর্কাইভ)

সিনিয়র অফিসার নিয়োগ প্রস্তুতি (আর্কাইভ) · তারিখ অনির্ধারিত · ৪৬ প্রশ্ন

.
'মোলায়েম' শব্দটি কোন ভাষা থেকে এসেছে?
  1. আরবি 
  2. ফারসি 
  3. দেশি 
  4. তৎসম 
সঠিক উত্তর:
আরবি 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আরবি 
ব্যাখ্যা

• বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
'মোলায়েম' শব্দটি আরবি ভাষা থেকে এসেছে।



আরবি ভাষা থেকে আগত কিছু গুরুত্বপূর্ণ শব্দ হলো:
তফসির, তবিয়ত, তম্বি, তরজমা, আমানত, আমামা, আমিন, আমির, আমিরাত, আম্বর, আয়াত, আয়েশ, আরশ, আর্জি, আলামত, আলিশান, আলেম, আশেক, আসর।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

.
কোন বাক্যে অনন্বয়ী অব্যয়ের ব্যবহার হয়েছে?
  1. উচ্চপদ ও সামাজিক মর্যাদা সকলেই চায়।
  2.  ভালো করে খেয়ে নাও।
  3. ওগো, আজ তোরা যাস নে ঘরের বাহিরে।
  4. মাথার উপরে নিল আকাশ।
সঠিক উত্তর:
ওগো, আজ তোরা যাস নে ঘরের বাহিরে।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ওগো, আজ তোরা যাস নে ঘরের বাহিরে।
ব্যাখ্যা

• অনন্বয়ী অব্যয়:
যে সকল অব্যয় বাক্যের অন্য পদের সঙ্গে কোন সম্বন্ধ না রেখে স্বাধীন ভাবে নানাবিধ ভাব প্রকাশে ব্যবহৃত হয়, তাকে অনন্বয়ী অব্যয় বলে।
যেমন:
- উচ্ছ্বাস প্রকাশে: মরি মরি! কী সুন্দর প্রভাতের রূপ!
- সম্মতি অর্থে: আজ আমি আলবত যাবো।
- সম্বোধন অর্থে: 'ওগো, আজ তোরা যাসনে ঘরের বাহিরে'।

অন্যদিকে,
• সমুচ্চয়ী অব্যয়:
- যে অব্যয় পদ একটি বাক্যের সঙ্গে অন্য একটি বাক্যের অথবা বাক্যস্থিত একটি পদের সঙ্গে অন্য একটি পদের সংযোজন, বিয়োজন বা সংকোচন ঘটায়, তাকে সমুচ্চয়ী অব্যয় বা সম্বন্ধবাচক অব্যয় বলে।
যেমন: উচ্চপদ ও সামাজিক মর্যাদা সকলেই চায়।

সমুচ্চয়ী অব্যয়ের উদাহরণ - কিংবা, অধিকন্তু, এবং, তাই।

ক্রিয়াজাত অনুসর্গ:
- যেসব অনুসর্গ ক্রিয়াপদ থেকে তৈরি হয়েছে, সেগুলোকে ক্রিয়াজাত অনুসর্গ বলে।
যেমন:
• করে: ভালো করে খেয়ে নাও।
• ধরে: বহুদিন ধরে অপেক্ষা করে আছি।
• দিয়ে: মন দিয়ে লেখাপড়া করা দরকার।
• বলে: তুমি আসবে বলে আমি দাঁড়িয়ে আছি।

সাধারণ অনুসর্গ:
- যেসব অনুসর্গ ক্রিয়া ছাড়া অন্য শব্দ থেকে তৈরি হয়, সেগুলোকে সাধারণ অনুসর্গ বলে।
যেমন: 
• উপরে: মাথার উপরে নিল আকাশ।
• কাছে: কার কাছে গেলে জানা যাবে?
• দ্বারা: এমন কাজ তোমার দ্বারা হবে না।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ-২০১৯)।

.
বাংলা ভাষায় রচিত প্রথম বাংলা ব্যাকরণ কোনটি? 
  1. এ গ্রামার অব দি বেঙ্গল ল্যাঙ্গুয়েজ
  2. বাঙ্গালা ভাষার ব্যাকরণ 
  3. ব্যাকরণ কৌমুদী
  4. গৌড়ীয় ব্যাকরণ
সঠিক উত্তর:
গৌড়ীয় ব্যাকরণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গৌড়ীয় ব্যাকরণ
ব্যাখ্যা

• রাজা রামমোহন রায় রচিত বাংলা ভাষায় রচিত প্রথম বাংলা ব্যাকরণ গ্রন্থের নাম - 'গৌড়ীয় ব্যাকরণ'।             
- এর রচয়িতা রাজা রামমোহন রায় এবং এটি প্রকাশিত হয় ১৮৩৩ সালে।

এছাড়াও- 
১৭৪৩ সালে, পর্তুগিজ ভাষায় মনোএল দা আসসুম্পসাঁউ রচিত বাংলা ব্যাকরণ প্রকাশিত হয়।

১৭৭৮ সালে নাথানিয়েল ব্রাসি হ্যালহেড রচনা করেন ইংরেজি ভাষায়, এ গ্রামার অব দি বেঙ্গল ল্যাঙ্গুয়েজ নামে।

১৮০১ সালে উইলিয়াম কেরি এবং ১৮২৬ সালে রামমোহন রায় ইংরেজী ভাষা ব্যাকরণ রচনা করেন।

• 'ব্যাকরণ মঞ্জুরী' এর লেখক - ড. মুহম্মদ এনামুল হক।
• 'ব্যাকরণ কৌমুদী' এর লেখক - ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর। 
---------------------------- 
• রাজা রামমোহন রায়: 
- রাজা রামমোহন রায় রচিত ব্যাকরণ গ্রন্থের নাম = গৌড়ীয় ব্যাকরণ।  
- রাজা রামমোহন রায় প্রথম বাঙালি যিনি বাংলা ভাষায় প্রথম বাংলা ব্যাকরণ রচনা করেন। 
- রাজা রামমোহন রায় রচিত বাংলা ভাষায় রচিত প্রথম বাংলা ব্যাকরণ গ্রন্থের নাম- 'গৌড়ীয় ব্যাকরণ'।             
-  রাজা রামমোহন রায় ছিলেন একাধারে সমাজ, শিক্ষা ও ধর্ম সংস্কারক ।
- সতীদাহ প্রথা নিষিদ্ধকরণে তিনি জোর প্রচারণা চালান ।
 
• তার রচিত অন্যান্য গ্রন্থ:
- বেদান্ত গ্রন্থ, 
- বেদান্তসার, 
- পথ্য প্রদান,
- গোস্বামীর সহিত বিচার (সতীদাহ প্রথার অযৌক্তিকতা প্রসঙ্গে)। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, এবং বাংলাপিডিয়া।

.
'Semantics' এর বাংলা পরিভাষা কোনটি?
  1. ধ্বনিতত্ত্ব 
  2. শব্দতত্ত্ব 
  3. বাগর্থবিজ্ঞান
  4. বাক্যতত্ত্ব
সঠিক উত্তর:
বাগর্থবিজ্ঞান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাগর্থবিজ্ঞান
ব্যাখ্যা

• 'Semantics' এর বাংলা পরিভাষা- বাগর্থবিজ্ঞান; অর্থতত্ত্ব; শব্দার্থবিজ্ঞান।

এছাড়া,
- 'Phonology' শব্দের বাংলা পরিভাষা- ধ্বনিতত্ত্ব।
- 'Semantics' শব্দের বাংলা পরিভাষা- অর্থতত্ত্ব,
- 'Syntax' শব্দের বাংলা পরিভাষা- বাক্যতত্ত্ব,
- 'Morphology' শব্দের বাংলা পরিভাষা- শব্দতত্ত্ব বা রূপতত্ত্ব,
- 'Lexicography' শব্দের বাংলা পরিভাষা- অভিধানতত্ত্ব।

উৎস: বাংলা একাডেমি প্রশাসনিক পরিভাষা; বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি ,(সংস্করণ ২০১৯)।

.
ধ্বনিবিজ্ঞানের উপর লেখা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত গ্রন্থ - 
  1. ব্যাকরণ ও ভাষা 
  2. শব্দতত্ত্ব
  3. ধ্বনিপরিচয়
  4. বর্ণপরিচয় 
সঠিক উত্তর:
শব্দতত্ত্ব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শব্দতত্ত্ব
ব্যাখ্যা

• 'শব্দতত্ত্ব' গ্রন্থ:
- শব্দ ও ভাষা সংক্রান্ত ধ্বনিবিজ্ঞানের উপর লেখা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত গ্রন্থ হলো- 'শব্দতত্ত্ব'।
- 'শব্দতত্ত্ব' বইটিতে রবীন্দ্রনাথের প্রায় সারাজীবনের ভাষাচিন্তা, মতান্তর, বিশ্লেষণ-প্রবণতা, ধারণার বিবর্তন ইত্যাদি মুদ্রিত হয়ে আছে।
- মূলত এখানে বাংলাভাষার স্বভাব ও স্বাতন্ত্র্য আবিষ্কারের চেষ্টা করা হয়েছে।

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রবন্ধগ্রন্থ হলো:
- কালান্তর,
- পঞ্চভূত,
- বিচিত্র প্রবন্ধ,
- সাহিত্য,
- শিক্ষা,
- সভ্যতার সংকট,
- মানুষের ধর্ম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

.
দিনাজপুর অঞ্চলে কোন উপভাষা ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. বাঙ্গালি
  2. পূর্বি
  3. বরেন্দ্রি
  4. রাঢ়ি
সঠিক উত্তর:
বরেন্দ্রি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বরেন্দ্রি
ব্যাখ্যা

বাংলা ভাষার আঞ্চলিক কথ্য রীতির পার্থক্য সহজেই অঞ্চল ভেদে বুঝা যায়। আঞ্চলিক ভেদে ভাষার এই ভিন্নতা উপভাষা নামে পরিচিত।
- সেই হিসেবে 'বাঙ্গালি' উপভাষা বাংলাদেশের মধ্য ও দক্ষিণ অঞ্চলে যেসকল জেলা রয়েছে,সেই সব অঞ্চলের ভাষা হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে থাকে।

• কয়েকটি উপভাষার নাম :
- বাঙ্গালি (বাংলাদেশের মধ্য ও দক্ষিণ অঞ্চল),
- পূর্বি (বাংলাদেশের পূর্ব অঞ্চল, ত্রিপুরা এবং আসামের বরাক অঞ্চল),
- বরেন্দ্রি (বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিম অঞ্চল; রাজশাহী; দিনাজপুর; পাবনা; মালদহ),
- কামরূপি (বিহারের পূর্ব অঞ্চল, পশ্চিমবঙ্গের উত্তর অঞ্চল এবং বাংলাদেশের রংপুর অঞ্চল),
- রাঢ়ি (পশ্চিমবঙ্গ),
- ঝাড়খণ্ডি (পশ্চিমবঙ্গের পশ্চিম অঞ্চল ও ঝাড়খণ্ডের পূর্ব অঞ্চল) প্রভৃতি।

• উপর্যুক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায়,
প্রদত্ত অপশনগুলোর মধ্যে ''বরেন্দ্রি''ই সঠিক উত্তর।

উৎস: ভাষা শিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদ; মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।

.
সংবৃত ও উচ্চ স্বরধ্বনি কোনটি?
  1. এ 
  2. ও 
  3. অ 
  4. উ 
সঠিক উত্তর:
উ 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উ 
ব্যাখ্যা

• স্বরধ্বনি:
যেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে বায়ু মুখগহ্বরের কোথাও বাধা পায় না, সেগুলোকে স্বরধ্বনি বলে।

উচ্চারণের সময়ে জিভ কতটা উপরে ওঠে বা কতটা নিচে নামে সেই অনুযায়ী স্বরধ্বনি চার ভাগে বিভক্ত। 
যথা:
১. উচ্চ স্বরধ্বনি - [ই], [উ]।
২. উচ্চ-মধ্য স্বরধ্বনি - [এ], [ও]।
৩. নিম্ন-মধ্য স্বরধ্বনি - [অ্যা], [অ]।
৪. নিম্ন স্বরধ্বনি - [আ]।
- উচ্চ স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভ উপরে ওঠে; নিম্ন স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভ নিচে নামে।

স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ঠোঁট কতটুকু খোলা বা বন্ধ থাকে অর্থাৎ কী পরিমাণ উন্মুক্ত হয়, তার ভিত্তিতে স্বরধ্বনি চার ভাগে বিভক্ত।
যথা:
১. সংবৃত - [ই], [উ]।
২. অর্ধ-সংবৃত - [এ], [ও]।
৩. অর্ধ-বিবৃত - [অ্যা], [অ]।
৪. বিবৃত - [আ]।

- সংবৃত স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ঠোঁট কম খোলে; বিবৃত স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ঠোঁট বেশি খোলে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২-সংস্করণ)।

.
বাংলা ভাষায় মৌলিক ধ্বনি কতটি?
  1. ০৭টি
  2. ৩৭টি
  3. ১১টি
  4. ১০টি
সঠিক উত্তর:
৩৭টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৩৭টি
ব্যাখ্যা

• ধ্বনি ভাষার ক্ষুদ্রতম একক।
- বাংলা ভাষায় ৩৭টি মৌলিক ধ্বনি রয়েছে।

• এই ধ্বনিগুলোকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়:
- স্বরধ্বনি ও ব্যঞ্জনধ্বনি।

• মৌলিক স্বরধ্বনি ৭টি:
[ই], [এ), [অ্যা], [আ], [অ], [ও], [উ]; 

• মৌলিক ব্যঞ্জনধ্বনি ৩০টি:
[প্], [ফ], [ব], ভিা, [ত্], [থ], [দ], [ধ], [ট], [ঠ], [ড], [ঢ়], [চ], [ছ], [জ], [ব],[ক], [খ], [গা,[ঘ], [ম], [ন], [ঙ], [স্], [শ], [হা, [ল], [র], [ড়], [ঢ়।।
- এখানে তৃতীয় বন্ধনী দিয়ে ধ্বনি বা উচ্চারণ নির্দেশ করা হয়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ৯ম-১০ম শ্রেণি, ২০২৫ সালের সংস্করণ।

.
অর্ধমাত্রার স্বরবর্ণ কোনটি?
সঠিক উত্তর:
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যাখ্যা

• বর্ণ প্রকরণ:
ধ্বনির প্রতীককে বলা হয় বর্ণ। এই বর্ণ কানে শোনার বিষয়কে চোখে দেখার বিষয়ে পরিণত করে। ভাষার সবগুলো বর্ণকে একত্রে বলা হয় বর্ণমালা।
- বাংলা বর্ণমালায় মোট বর্ণ ৫০টি। স্বরবর্ণ ১১টি ব্যঞ্জনবর্ণ ৩৯টি।
- মাত্রাহীন বর্ণ: বাংলা বর্ণমালায় মাত্রাহীন বর্ণ ১০টি। এর মধ্যে স্বরবর্ণ ৪টি -(এ, ঐ, ও, ঔ) এবং ব্যঞ্জনবর্ণ ৬টি (ঙ, ঞ, ৎ, ং , ঃ, ঁ)।
- পূর্ণমাত্রা বর্ণ: ৩২টি। এর মধ্যে স্বরবর্ণ ৬টি এবং ব্যঞ্জনবর্ণ ২৬টি।
- অর্ধমাত্রা বর্ণ: ৮টি, এর মধ্যে স্বরবর্ণ ১টি (ঋ) এবং ব্যঞ্জনবর্ণ ৭টি (খ, গ, ণ, থ, ধ, প, শ)।

উৎস: বাংলা দ্বিতীয় পত্র বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১০.
"বাংলা সাহিত্যে রবীন্দ্রনাথের উৎকর্ষতা অপ্রতিদ্বন্দ্বী।" - বাক্যটিতে কোন ধরনের ভুল রয়েছে?
  1. সন্ধিজনিত 
  2. প্রত্যয়জনিত
  3. বানানজনিত
  4. উপসর্গজনিত
সঠিক উত্তর:
প্রত্যয়জনিত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রত্যয়জনিত
ব্যাখ্যা

• 'উৎকর্ষতা' প্রত্যয়জনিত অশুদ্ধ।
- এর শুদ্ধরূপ: উৎকর্ষ, উৎকৃষ্টতা।

তাই বলা চলে, "বাংলা সাহিত্যে রবীন্দ্রনাথের উৎকর্ষতা অপ্রতিদ্বন্দ্বী।" - বাক্যটিতে প্রত্যয়জনিত ভুল রয়েছে।

• '-তা' এবং 'ত্ব' প্রত্যয়ের অপপ্রয়োগ:
- '-তা' এবং 'ত্ব' হলো বিশেষ্যবাচক প্রত্যয়। 
- এই প্রত্যয় কেবল বিশেষণ শব্দকে বিশেষ্য করে।
- তাই বিশেষ্য শব্দের সঙ্গে আবারো '-তা' বা 'ত্ব' যুক্ত করলে তা ভুল হবে।
যেমন -
 • 'উৎকর্ষ' শব্দটি বিশেষ্য।
- ‘উৎকর্ষ' শব্দের সঙ্গে আবারো বিশেষ্যবাচক ‘-তা' প্রত্যয় যুক্ত হলে তা ভুল বলে গণ্য হবে।
অর্থাৎ 'উৎকর্ষতা' প্রত্যয়জনিত অপপ্রয়োগ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ; বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।

১১.
'তমদ্দুন' শব্দের অর্থ- 
  1. আন্দোলন
  2. নতুন
  3. সংস্কৃতি
  4. উপহার
সঠিক উত্তর:
সংস্কৃতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সংস্কৃতি
ব্যাখ্যা

• 'তমদ্দুন' এর অর্থ — 'সংস্কৃতি'।

অন্যদিকে,
• 'ইনকিলাব' এর প্রতিশব্দ: আন্দোলন।
- ‘সওগাত’ শব্দের অর্থ - উপঢৌকন; উপহার।
• 'নতুন' শব্দের প্রতিশব্দ: আধুনিক।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ) ও বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

১২.
কার অনুরোধে আলাওল 'পদ্মাবতী' রচনা করেন?
  1. দৌলত কাজী
  2. কোরেশী মাগন ঠাকুর
  3. সৈয়দ মুহম্মদ
  4. গিয়াস উদ্দিন আজম শাহ
সঠিক উত্তর:
কোরেশী মাগন ঠাকুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কোরেশী মাগন ঠাকুর
ব্যাখ্যা

• কোরেশী মাগন ঠাকুরের অনুরোধে আলাওল 'পদ্মাবতী' রচনা করেন।

পদ্মাবতী:
- এটি হচ্ছে মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের একটি জনপ্রিয় প্রণয়কাব্য।
- ১৬৫২ খ্রিস্টাব্দে আরাকান অমাত্যসভার কবি আলাওল প্রধানমন্ত্রী মাগন ঠাকুরের অনুরোধে হিন্দি পদুমাবৎ কাব্য অবলম্বনে এটি রচনা করেন।
- এটি বিখ্যাত হিন্দি কবি মালিক মুহম্মদ জায়সির 'পদুমাবৎ' এর কাব্যোনুবাদ।
- পদ্মাবতী দুটি পর্বে বিভক্ত।
- প্রথম পর্বে সিংহলের রাজকন্যা পদ্মাবতীকে লাভ করার জন্য চিতোররাজ রত্নসেনের সফল অভিযান।
- দ্বিতীয় পর্বে রাণী পদ্মাবতীকে লাভ করার জন্য দিল্লির সুলতান আলাউদ্দিন খিলজির ব্যর্থ সামরিক অভিযানের বিবরণ আছে।

আলাওল:
- মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি।
- 'পদ্মাবতী' কবি আলাওলের প্রথম ও শ্রেষ্ঠ কাব্য।
- 'পদ্মাবতী' কবি মালিক মুহাম্মদ জয়সীর 'পদুমাবত' কাব্যের অনুবাদ।

আলাওল রচিত বিখ্যাত গ্রন্থ-
- পদ্মাবতী,
- তোহফা,
- সপ্তপয়কার,
- সিকান্দারনামা,
- সয়ফুল্মুলুক বদিউজ্জামাল,
- সতীময়না,
- রাগতালনামা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

১৩.
প্রমথ চৌধুরীর মতে, যৌবনকে এদেশের মানুষ ভয় পায়, কারণ-
  1. যৌবন মানব জীবনে বিরাট এক ফাঁড়া
  2. যৌবন প্রকৃতি বিরুদ্ধ 
  3. যৌবনের অন্তরে শক্তি আছে 
  4. যৌবন শাসনযোগ্য নয়
সঠিক উত্তর:
যৌবনের অন্তরে শক্তি আছে 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যৌবনের অন্তরে শক্তি আছে 
ব্যাখ্যা

প্রমথ চৌধুরীর মতে,
যৌবনকে এদেশের মানুষ ভয় পায়, কারণ- তার অন্তরে শক্তি আছে।' 

'যৌবনে দাও রাজটিকা' প্রবন্ধের অংশবিশেষ:
এদেশে লোকে যে যৌবনের কপালে রাজটিকার পরিবর্তে তার পঠে রাজদণ্ড প্রয়োগ করতে সদাই প্রস্তুত, সেবিষয়ে আর-কোনো সন্দেহ নেই। এর কারণ হচ্ছে যে, আমাদের বিশ্বাস মানবজীবনে যৌবন একটা মস্ত ফাঁড়া কোনোরকমে সেটি কাটিয়ে উঠতে পারলেই বাঁচা যায়। এ অবস্থায় কি জ্ঞানী, কি অজ্ঞানী সকলেই চান যে, একলম্ফে বাল্য হতে বার্ধক্যে উত্তীর্ণ হন। যৌবনের নামে আমরা ভয় পাই, কেননা তার অন্তরে শক্তি আছে। অপরপক্ষে বালকের মনে শক্তি নেই, বালকের জ্ঞান নেই, বন্ধের প্রাণ নেই। তাই আমাদের নিয়ত চেষ্টা হচ্ছে, দেহের জড়তার সঙ্গে মনের জড়তার মিলন করা, অজ্ঞতার সঙ্গে বিজ্ঞতার সন্ধিস্থাপন করা। তাই আমাদের শিক্ষানীতির উদ্দেশ্য হচ্ছে ইচড়ে পাকানো, আর আমাদের সমাজনীতির উদ্দেশ্য হচ্ছে জাগ দিয়ে পাকানো।
 
উৎস: 'যৌবনে দাও রাজটিকা' প্রমথ চৌধুরী। 

১৪.
বাক্যে কমা বা পাদচ্ছেদ থাকলে কতক্ষণ থামতে হয়?
  1. 'এক' বলার দ্বিগুণ সময়
  2. 'এক' সেকেন্ড 
  3. থামতে হয় না 
  4. 'এক' বলতে যে সময় লাগে
সঠিক উত্তর:
'এক' বলতে যে সময় লাগে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
'এক' বলতে যে সময় লাগে
ব্যাখ্যা

বাক্যে যতিচিহ্ন অনুসারে থামার পরিমাণ:
• কমা বা পাদচ্ছেদ থাকলে- 'এক' বলতে যে সময় লাগে সেই পরিমাণ সময় থামতে হয়।
• সেমিকোলন বা অর্ধচ্ছেদ থাকলে- 'এক' বলার দ্বিগুণ সময় থামতে হয়।
• হাইফেন, ইলেক বা লোপ চিহ্ন ও ব্র্যাকেট (বন্ধনী) থাকলে- থামার প্রয়োজন হয় না।
• দাঁড়ি বা পূর্ণচ্ছেদ, প্রশ্নবোধক চিহ্ন, বিস্ময় চিহ্ন, কোলন, কোলন ড্যাস, ড্যাস ইত্যাদি চিহ্ন থাকলে- 'এক' সেকেন্ড থামতে হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।

১৫.
"যে নারী অপরের দ্বারা প্রতিপালিতা" - এর এক কথায় কী বলে?
  1. প্রোষিতভর্তৃকা
  2. পরভৃতিকা
  3. প্রোষিতপত্নীক
  4. অধিবিন্না
সঠিক উত্তর:
পরভৃতিকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পরভৃতিকা
ব্যাখ্যা

যে নারী অপরের দ্বারা প্রতিপালিতা এর এক কথায় প্রকাশ- পরভৃতিকা।

অন্যদিকে,
যে যে নারীর স্বামী বিদেশ থাকে = প্রোষিতভর্তৃকা
যে পুরুষের বউ বিদেশ থাকে = প্রোষিতপত্নীক
যে নারীর স্বামী দ্বিতীয় বিয়ে করেছে = অধিবিন্না।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৬.
‘উত্তম পুরুষ’ উপন্যাসের লেখক কে?
  1. মুনীর চৌধুরী 
  2. শওকত ওসমান
  3. রশীদ করিম
  4. আহসান হাবীব 
সঠিক উত্তর:
রশীদ করিম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রশীদ করিম
ব্যাখ্যা

• 'উত্তম পুরুষ' উপন্যাসের রচয়িতা- 'রশীদ করীম'। 

• 'উত্তম পুরুষ' উপন্যাস: 
- উত্তম পুরুষ উপন্যাসটি ১৯৬১ সালে প্রকাশিত হয়। 
- উপন্যাসটি আধুনিক মননশীলতা, পরিশীলতা, আঙ্গিক, অভিজ্ঞতার নির্লিপ্ত বর্ণনায় পাঠকের পাঠতৃষ্ণার নিবারণ হয়। 

• উপন্যাসটির উল্লেখযোগ্য কিছু চরিত্র :
- শাকের
- সেলিনা
- অণিমা
- শেখর।

রশীদ করীমের  অন্যান্য উপন্যাস :
- আমার যত গ্লানি
- প্রসন্ন পাষাণ
- মায়ের কাছে যাচ্ছি,
- লান্সবক্স,
- সোনার পাথর বাটি ইত্যাদি। 

উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ও বাংলাপিডিয়া।

১৭.
কোনটি উত্তম পুরুষের উদাহরণ?
  1. তুমি
  2. আমি
  3. সে
  4. তিনি 
সঠিক উত্তর:
আমি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আমি
ব্যাখ্যা

• 'আমি'- উত্তম পুরুষের উদাহরণ। 

উত্তম পুরুষ:
স্বয়ং বক্তাই উত্তম পুরুষ। আমি, আমরা, আমাদের ইত্যাদি সর্বনাম শব্দ উত্তম পুরুষ।
যেমন: আমি।

মধ্যম পুরুষ:
প্রত্যক্ষভাবে উদ্দিষ্ট ব্যক্তি বা শ্রোতাই মধ্যম পুরুষ। তুমি, তোমরা, তোমাদের, আপনি, আপনারা, আপনাদের ইত্যাদি সর্বনাম শব্দ মধ্যম পুরুষ।
যেমন: তুমি, আপনি, তুই। 

প্রথম পুরুষ বা নাম পুরুষ:
- যে সর্বনামের দ্বারা বক্তা বা শ্রোতা ছাড়া অন্য ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গকে বোঝায়, তাকে প্রথম পুরুষ বা নাম পুরুষ বলে। 
- আমি ও তুমি এবং এদের দলভুক্ত অন্যান্য সর্বনাম ছাড়া যাবতীয় সর্বনাম পদ  প্রথম পুরুষ বা নাম পুরুষ।
- যেমন: সে, তাকে, তাঁর, তিনি ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ - নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ), প্রমিত বাংলা, প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি- ড. হায়াৎ মামুদ।

১৮.
‘কুজন-কূজন’ শব্দজোড়ের অর্থ যথাক্রমে-
  1. খারাপ লোক ও পাখির ডাক
  2. ধান রাখার পাত্র ও পাখা
  3. মানুষের সমাবেশ ও পাখির ডাক
  4. পাখির ডাক ও খারাপ লোক
সঠিক উত্তর:
খারাপ লোক ও পাখির ডাক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খারাপ লোক ও পাখির ডাক
ব্যাখ্যা

কিছু সমোচ্চারিত শব্দ: 

• ‘কুজন’ শব্দের অর্থ - খারাপ লোক।
• ‘কূজন’ শব্দের অর্থ - পাখির ডাক।

এরূপ কয়েকটি শব্দজোড় হলো:
• ‘জ্যেষ্ঠ’ শব্দের অর্থ - বড়ো।
• ‘জ্যৈষ্ঠ’ শব্দের অর্থ - বাংলা দ্বিতয়ি মাস।

• ‘ডোল’ শব্দের অর্থ - ধান রাখার পাত্র।
• ‘ঢোল’ শব্দের অর্থ - বাদ্যযন্ত্র।

• ‘নিতি’ শব্দের অর্থ - রোজ।
• ‘নীতি’ শব্দের অর্থ - নিয়ম।

• ‘পক্ষ’ শব্দের অর্থ - পাখা।
• ‘পক্ষ্ম’ শব্দের অর্থ - চোখের পাতার লোম।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২৩ সংস্করণ)।

১৯.
'মৌন' এর বিপরীত শব্দ-
  1. শুষ্ক
  2. বিশ্রী
  3. মুখর
  4. সাহসী
সঠিক উত্তর:
মুখর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মুখর
ব্যাখ্যা

• 'মৌন' এর বিপরীত শব্দ- মুখর।

তাছাড়া,
'সিক্ত' এর বিপরীত শব্দ- 'শুষ্ক'।
'সুশ্রী' এর বিপরীত শব্দ- 'বিশ্রী'।
'ভিতু' এর বিপরীত শব্দ- 'সাহসী'।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (সর্বশেষ সংস্করণ)।

২০.
'সিংহ' এর সমার্থক শব্দ কোনটি?
  1. কুঞ্জর
  2. মৃগেন্দ্র
  3. কুরঙ্গ
  4. ভুজঙ্গ
সঠিক উত্তর:
মৃগেন্দ্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মৃগেন্দ্র
ব্যাখ্যা

• 'সিংহ' এর প্রতিশব্দ - মৃগেন্দ্র। 

• ‘সিংহ' এর সমার্থক শব্দ: 
- পশুরাজ, কেশরী, মৃগেন্দ্র, মৃগরাজ।

অন্যদিকে, 
ভুজঙ্গ = 'সাপ' শব্দের প্রতিশব্দ। 
কুরঙ্গ = হরিণ শব্দের প্রতিশব্দ।
কুঞ্জর = ‘হাতি’ এর প্রতিশব্দ। 

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

২১.
নিচের কোন বাক্যটি অশুদ্ধ?
  1. মুমূর্ষু রোগীকে শুশ্রূষা কর।
  2. তোমার তিরস্কার বা পুরস্কার কিছুই চাই না।
  3. অনাবশ্যক ব্যাপারে কৌতূহল ভালো নয়।
  4. আমি সাক্ষী দিব না।
সঠিক উত্তর:
আমি সাক্ষী দিব না।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আমি সাক্ষী দিব না।
ব্যাখ্যা

• অশুদ্ধ বাক্য: আমি সাক্ষী দিব না।
• শুদ্ধ বাক্য: আমি সাক্ষ্য দিব না।

অন্যদিকে,
- মুমূর্ষু রোগীকে শুশ্রূষা কর।
- তোমার তিরস্কার বা পুরস্কার কিছুই চাই না।
- অনাবশ্যক ব্যাপারে কৌতূহল ভালো নয়।
- বাক্যগুলো শুদ্ধ।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি- ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন, বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।

২২.
শামসুর রাহমান রচিত উপন্যাস- 
  1. রৌদ্র করোটিতে
  2. নিরালোকে দিব্যরথ
  3. অদ্ভুত আঁধার এক
  4. নিজ বাসভূমে 
সঠিক উত্তর:
অদ্ভুত আঁধার এক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অদ্ভুত আঁধার এক
ব্যাখ্যা

• ‘অদ্ভুত আঁধার এক’  শামসুর রাহমান রচিত একটি উপন্যাস।

• ‘অদ্ভুত আঁধার এক’:
- ‘অদ্ভুত আঁধার এক’  শামসুর রাহমান রচিত একটি উপন্যাস।
- উপন্যাসটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত হয়।

• শামসুর রাহমান:
• কবি, সাংবাদিক শামসুর রাহমান ১৯২৯ সালের ২৩ অক্টোবর পুরান ঢাকার ৪৬ নম্বর মাহুতটুলীতে জন্মগ্রহণ করেন।
• শামসুর রাহমান বিশ শতকের দ্বিতীয়ার্ধে বাংলা সাহিত্যের অন্যতম কবি হিসেবে খ্যাত।
• ১৯৬০ সালে তাঁর প্রথম কাব্য- "প্রথম গান দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে"- এর প্রকাশ কবিতায় তাঁর অধিকার প্রতিষ্ঠা করে।
• তাঁর অত্যন্ত জনপ্রিয় কবিতা ‘স্বাধীনতা তুমি’ ও ‘তোমাকে পাওয়ার জন্য, হে স্বাধীনতা’।
• যুদ্ধকালীন লেখা কবিতাগুচ্ছ মুক্তিযুদ্ধ শেষে ‘বন্দী শিবির থেকে’ নামে কলকাতা থেকে প্রকাশিত হয়।
• একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের ফসল অজস্র গল্প, উপন্যাস কবিতার মধ্যে ‘বন্দী শিবির থেকে’র কবিতাগুচ্ছ এক অনন্য মর্যাদার অধিকারী।

• শামসুর রাহমান রচিত উপন্যাস:
- অদ্ভুত আঁধার এক,
- অক্টোপাস,
- নিয়ত মন্তাজ,
- এলো সে অবেলায়।

• শামসুর রাহমান রচিত কিছু উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- বাংলাদেশ স্বপ্ন দ্যাখে,
- প্রথম গান দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে,
- রৌদ্র করোটিতে,
- বিধ্বস্ত নীলিমা,
- নিরালোকে দিব্যরথ,
- নিজ বাসভূমে,
- বন্দী শিবির থেকে,
- ফিরিয়ে নাও ঘাতক কাঁটা,
- আমি অনাহারী,
- প্রতিদিন ঘরহীন ঘরে,
- উদ্ভট উটের পিঠে চলেছে স্বদেশ,
- বুক তার বাংলাদেশের হৃদয়,
- হরিণের হাড়,
- তুমি নিঃশ্বাস তুমি হৃদস্পন্দন ইত্যাদি।

উৎস:
১. বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম। 
২. বাংলাপিডিয়া।

২৩.
বর্ণ হলো - 
  1. দৃষ্টিগ্রাহ্য
  2. ধ্বনিকে লিখিত আকারে প্রকাশ করে
  3. ধ্বনির লিখিত রূপ
  4. সবগুলোই
সঠিক উত্তর:
সবগুলোই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সবগুলোই
ব্যাখ্যা

বর্ণ:
বর্ণ হলো ধ্বনির লিখিত রূপ বা চিহ্ন, যা চোখ দিয়ে দেখা যায়। এটি একটি দৃষ্টিগ্রাহ্য (visual) উপাদান। বাংলা বর্ণমালায় স্বরবর্ণ (যেমন: অ, আ, ই) এবং ব্যঞ্জনবর্ণ (যেমন: ক, খ, গ) রয়েছে, যা ধ্বনিকে লিখিত আকারে প্রকাশ করে।

উদাহরণ: যখন আমরা ‘ক’ উচ্চারণ করি, তখন তা ধ্বনি হিসেবে শোনা যায়, কিন্তু যখন লিখি ‘ক’, তখন তা বর্ণ হিসেবে দেখা যায়।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান; বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ), ভাষা শিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদ; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

২৪.
'অপরাহ্ণ' এর সঠিক উচ্চারণ কোনটি?
  1. অপরান্‌হ
  2. অপোরান্‌হো
  3. অপোরান্নো
  4. অপোরানো
সঠিক উত্তর:
অপোরান্‌হো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অপোরান্‌হো
ব্যাখ্যা

• 'অপরাহ্ণ' এর সঠিক উচ্চারণ- 'অপোরান্‌হো'। 

• আরো কিছু সঠিক উচ্চারণ: 
- 'সৌজন্য' এর সঠিক উচ্চারণ- 'শোউজোন্‌নো'।
- 'কাকলি' এর সঠিক উচ্চারণ- (কাকোলি),
- 'প্রণতি' এর সঠিক উচ্চারণ-(প্রোনোতি),
- 'অবগতি' এর সঠিক উচ্চারণ- (অবোগোতি) ইত্যাদি।   

উৎস: ভাষাশিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদ, বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান। 

২৫.
অভিধানে ব্যবহৃত 'কৈশোর' - এর পরে বর্ণানুক্রমে কোন শব্দটি প্রথমে আসবে? 
  1. কোঁদল
  2. কোঙর
  3. কোকেন
  4. কোকনদ
সঠিক উত্তর:
কোঁদল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কোঁদল
ব্যাখ্যা

• অভিধানে ব্যবহৃত 'কৈশোর' এর পরে অভিধানে আগে বসবে - 'কোঁদল' শব্দটি।

বাংলা অভিধানের বর্ণগুলোকে নিম্নোক্ত ক্রমে সাজাতে পারি:


অ, আ, ই, ঈ, উ, ঊ, ঋ, এ, ঐ, ও, ঔ,
ং, ঃ, ঁ, 
ক, খ, গ, ঘ, ঙ,
চ, ছ, জ, ঝ, ঞ,
ট, ঠ, ড,  ড়, ঢ, ঢ়, ণ,
ত, ৎ, থ, দ, ধ, ন,
প, ফ, ব, ভ, ম,
য, য়, র, ল,
শ, ষ, স, হ। 
---------------
সে অনুসারে সঠিক শব্দক্রম হবে,
কোঁদল → কোকনদ → কোকেন → কোঙর। 
 
উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

২৬.
বাংলা বর্ণমালায় তাড়নজাত ধ্বনি কোনটি?
  1. ল 
  2. ড়
সঠিক উত্তর:
ড়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ড়
ব্যাখ্যা

• তাড়নজাত ব্যঞ্জনধ্বনি:
তাড়িত ব্যঞ্জন যে ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের সামনের অংশ দন্তমূলের একটু উপরে অর্থাৎ মূর্ধায় টোকা দেওয়ার মতাে করে একবার ছুঁয়ে যায়, তাকে তাড়িত ব্যঞ্জন বলে।
যেমন, 
বাড়ি, মূঢ় প্রভৃতি শব্দের ড়, ঢ় তাড়িত ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

অন্যদিকে, 
• 'র' — কম্পিত ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।
• 'শ' —  শিশ ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।
• 'ল' — পার্শ্বিক ধ্বনি৷

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি- নবম-দশম শ্রেণি,  (২০২১ সংস্করণ)।

২৭.
কোনটিতে "ষ-ত্ব বিধান" এর নিয়ম লঙ্ঘিত হয়েছে?
  1. স্পষ্ট
  2. শ্রদ্ধাস্পদাসু
  3. মাস্টার
  4. অগ্নিষাৎ
সঠিক উত্তর:
অগ্নিষাৎ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অগ্নিষাৎ
ব্যাখ্যা

• ষ-ত্ব বিধান:
- বাংলা ভাষায় সাধারণত মূর্ধন্য-ষ ধ্বনির ব্যবহার নেই।
- তাই দেশি, তদ্ভব ও বিদেশি শব্দের বানানে মূর্ধন্য-ষ লেখার প্রয়োজন হয় না।
- কেবল কিছু তৎসম শব্দে ষ-এর প্রয়োগ রয়েছে।
- তৎসম শব্দের বানানে মূর্ধন্য-ষ এর ব্যবহারের নিয়মকে ষ-ত্ব বিধান বলে।

• ‘ষ’ ব্যবহারের নিয়ম:
১. 'ঋ' এবং 'ঋ-কার' এর পর 'ষ' হয়। যেমন - ঋষি, কৃষক, উৎকৃষ্ট ইত্যাদি।
২. ট-বর্গীয় ধ্বনির সাথে 'ষ' যুক্ত হয়। যেমন - কষ্ট, স্পষ্ট, নষ্ট, কাষ্ঠ, ওষ্ঠ ইত্যাদি।
৩. অ, আ ভিন্ন অন্য স্বরধ্বনি এবং ক ও র-এর পরে প্রত্যয়ের ‘স’ ‘ষ’ হয়। যেমন- ভবিষ্যৎ, মুমূর্ষু, চক্ষুষ্মান, চিকীর্ষা ইত্যাদি।
৪. ই-কারান্ত এবং উ-কারান্ত উপসর্গের পর কতগুলো ধাতুতে ‘ষ” হয়। যেমন- অভিসেক > অভিষেক, সুসুপ্ত > সুষুপ্ত, অনুসঙ্গ > অনুষঙ্গ, সুসমা > সুষমা ইত্যাদি।
৫. তৎসম শব্দে ‘র’-এর পর ‘ষ’ হয়। যেমন: বর্ষা, ঘর্ষণ, বর্ষণ।
৬. কতগুলো শব্দে স্বভাবতই 'ষ' ব্যবহৃত হয়। যেমন - ষড়ঋতু, রোষ, কোষ, আষাঢ়, ভাষণ, ভাষা, ঊষা, পৌষ, কলুষ, পাষাণ, মানুষ, ঔষধ, ষড়যন্ত্র, ভূষণ, দ্বেষ ইত্যাদি।

• অ, আ ভিন্ন অন্য স্বরধ্বনি এবং ক ও র-এর পরে প্রত্যয়ের স, ষ হয়।
যেমন - শ্রদ্ধাস্পদেষু, শ্রদ্ধাভাজনেষু ইত্যাদি।
- কিন্তু অ, আ স্বরধ্বনি থাকলে 'স' হয়।
যেমন - শ্রদ্ধাস্পদাসু

• যে সব ক্ষেত্রে ষ-ত্ব বিধান প্রযোজ্য নয়:
- আরবি, ফারসি, ইংরেজি ইত্যাদি বিদেশি ভাষা থেকে আগত শব্দে ষ হয় না। যেমন- জিনিস, পোশাক, মাস্টার, পোস্ট ইত্যাদি।

- সংস্কৃত ‘সাৎ’ প্রত্যয়যুক্ত পদেও ‘ষ’ হয় না।
যেমন- অগ্নিসাৎ, ধূলিসাৎ, ভূমিসাৎ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

২৮.
'তরঙ্গনিকর' শব্দের 'নিকর' শব্দের অর্থ কী?
  1. সমূহ 
  2. রাশি 
  3. সাকুল্য 
  4. উপরের সবকটি 
সঠিক উত্তর:
উপরের সবকটি 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপরের সবকটি 
ব্যাখ্যা

• বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
'তরঙ্গনিকর' শব্দের 'নিকর' শব্দের অর্থ - সমূহ; রাশি; সাকুল্য।




উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।

২৯.
নিচের কোন বানানটি অশুদ্ধ?
  1. নির্নিমেষ
  2. অপেক্ষমান
  3. ত্রিনয়ন 
  4. পরিপোষণ  
সঠিক উত্তর:
অপেক্ষমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অপেক্ষমান
ব্যাখ্যা

• বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
'অপেক্ষমান'- অশুদ্ধ বানান।
এর শুদ্ধ বানান- 'অপেক্ষমাণ'।



অন্যদিকে,
শুদ্ধ বানানগুলো হলো: নির্নিমেষ; পরিপোষণ; ত্রিনয়ন।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।

৩০.
'কাঁচকলা' - শব্দটি কোন সমাসের সমস্তপদ?
  1. বহুব্রীহি সমাস 
  2. তৎপুরুষ সমাস 
  3. কর্মধারয় সমাস
  4. দ্বন্দ্ব সমাস
সঠিক উত্তর:
কর্মধারয় সমাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কর্মধারয় সমাস
ব্যাখ্যা

কর্মধারয় সমাস:
- মধ্যপদলোপী, উপমান, উপমিত, রূপক কর্মধারয় সমাস ছাড়া অন্যান্য কর্মধারয় সমাসকে সাধারণ কর্মধারয় সমাস বলে।

যেমন:
- কাঁচা যে কলা = কাঁচকলা,
- দুঃ যে শাসন = দুঃশাসন,
- মহৎ যে আত্মা = মহাত্মা।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৩১.
'অজগরবৃত্তি' বাগ্‌ধারাটির অর্থ- 
  1. দীর্ঘসূত্রিতা
  2. দুর্লভ বস্তু
  3. আলসেমি
  4. অপব্যয়ী
সঠিক উত্তর:
আলসেমি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আলসেমি
ব্যাখ্যা

• 'অজগরবৃত্তি' বাগ্‌ধারাটির অর্থ- আলসেমি।

• কিছু গুরুত্বপূর্ণ বাগ্‌ধারা:
- 'অক্ষরে অক্ষরে' বাগ্‌ধারাটির অর্থ- সম্পূর্ণভাবে।
- 'আঠারো মাসে বছর' বাগ্‌ধারাটির অর্থ - দীর্ঘসূত্রিতা
- 'আকাশের চাঁদ' বাগ্‌ধারাটির অর্থ - দুর্লভ বস্তু
- 'উড়নপেকে' বাগ্‌ধারাটির অর্থ- অপব্যয়ী
- 'চুনোপুঁটি' বাগ্‌ধারাটির অর্থ - সামান্য ব্যাক্তি।
- 'চশমখোর' বাগ্‌ধারাটির অর্থ - নির্লজ্জ। 
- 'ভুঁইফোঁড়' বাগ্‌ধারাটির অর্থ - অর্বাচীন। 

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৩২.
বিশেষ্য থেকে বিশেষণে পরিবর্তনের উদাহরণ -
  1. 'নৌ' থেকে 'নাব্যতা'
  2. 'নৌ' থেকে 'নাব্য'
  3. 'নাব্য' থেকে 'নাব্যতা'
  4. 'নাব্য' থেকে 'নৌ'
সঠিক উত্তর:
'নৌ' থেকে 'নাব্য'
উত্তর
সঠিক উত্তর:
'নৌ' থেকে 'নাব্য'
ব্যাখ্যা

নৌ (বিশেষ্য):
অর্থ: নাও; তরণী; পোত; জলযান।

নাব্য (বিশেষণ):
অর্থ- নৌকা জাহাজ ইত্যাদি চালানোর পক্ষে যোগ্য বা অনুকূল।

সুতরাং, সঠিক উত্তর: 'নৌ' থেকে 'নাব্য'।

সোর্স: বাংলা একাডেমি অভিধান।

৩৩.
কোনটি জাতি-বিশেষ্য?
  1. জানুয়ারি
  2. গীতাঞ্জলি
  3. গুরুত্ব
  4. পর্বত
সঠিক উত্তর:
পর্বত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পর্বত
ব্যাখ্যা

জাতি-বিশেষ্য:
জাতি-বিশেষ্য সাধারণ-বিশেষ্য নামেও পরিচিত। এ ধরনের বিশেষ্য নির্দিষ্ট কোনো নামকে না বুঝিয়ে প্রাণী ও অপ্রাণীর সাধারণ নামকে বোঝায়।

যেমন:
- মানুষ, গরু, ছাগল, ফুল, ফল, নদী, সাগর, পর্বত ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
নাম-বিশেষ্য - গীতাঞ্জলি, জানুয়ারি।
গুণ-বিশেষ্য - গুরুত্ব।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।

৩৪.
নিচের কোন বাক্যে বিরোধ যোজকের উদাহরণ আছে?
  1. লাল বা নীল কলমটা আনো।
  2. তোমাকে ইমেইল করেছি, কিন্তু উত্তর পাইনি।
  3. বসার সময় নেই, তাই যেতে হচ্ছে।
  4. যদি রোদ ওঠে, তবে রওনা দেব।
সঠিক উত্তর:
তোমাকে ইমেইল করেছি, কিন্তু উত্তর পাইনি।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তোমাকে ইমেইল করেছি, কিন্তু উত্তর পাইনি।
ব্যাখ্যা

• বিরোধ যোজক: 
এ ধরনের যোজক বাক্যের দুটি অংশের সংযোগ ঘটায় এবং প্রথম বাক্যের বক্তব্যের সঙ্গে বিরোধ তৈরি করে।
যেমন:
- এত পড়লাম, কিন্তু পরীক্ষায় ভালো করতে পারলাম না।
- তাকে আসতে বললাম, তবু এল না।
- তোমাকে ইমেইল করেছি, কিন্তু উত্তর পাইনি।

 অন্যদিকে,
বিকল্প যোজক:
- এ ধরনের যোজক একাধিক শব্দ বা বাক্যের মধ্যে বিকল্প নির্দেশ করে।

যেমন:
- লাল বা নীল কলমটা আনো।
- চা না-হয় কফি খান।

• কারণ যোজক: এ ধরনের যোজক বাক্যের দুটি অংশের মধ্যে সংযোগ ঘটায় যার একটি অন্যটির কারণ।
যেমন:
- জিনিসের দাম বেড়েছে, কারণ চাহিদা বেশি।
- বসার সময় নেই, তাই যেতে হচ্ছে।

• সাপেক্ষ যোজক: এ ধরনের যোজক একে অন্যের পরিপূরক হয়ে বাক্যে ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
- যদি রোদ ওঠে, তবে রওনা দেব।
- যত পড়ছি, ততই নতুন করে জানছি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি ( ২০২২ সংস্করণ)।

৩৫.
"বিষয়টা জেনে রাখো।" - এ বাক্যে কোন ক্রিয়া রয়েছে?
  1. প্রযোজক
  2. মিশ্র
  3. যৌগিক
  4. সরল 
সঠিক উত্তর:
যৌগিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যৌগিক
ব্যাখ্যা

• "বিষয়টা জেনে রাখো।"- এখানে 'জেনে রাখো'- যৌগিক ক্রিয়া।

যৌগিক ক্রিয়া:
একটি সমাপিকা ও একটি অসমাপিকা ক্রিয়া যদি একত্রে একটি বিশেষ বা সম্প্রসারিত অর্থ প্রকাশ করে, তবে তাকে যৌগিক ক্রিয়া বলে।
যেমন -
- তাগিদ দেয়া অর্থে: ঘটনাটা শুনে রাখ।
- কার্যসমাপ্তি অর্থে: ছেলেমেয়েরা শুয়ে পড়ল।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৩৬.
'ক্রেতা' শব্দটির ধাতু কোনটি?
  1. তৃচ
  2. ক্রী
  3. তা 
  4. ক্রয় 
সঠিক উত্তর:
ক্রী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্রী
ব্যাখ্যা

• 'ক্রেতা' শব্দটির সঠিক প্রকৃতি প্রত্যয়- √ক্রী + তৃচ। অর্থ্যাৎ, এর ধাতু হলো - ক্রী।

• তৃচ-প্রত্যয় ('চ' ইৎ 'তৃ' থাকে) : প্রথমা একবচনে 'তৃ' স্থলে 'তা' হয়।
যেমন-
- √দা + তৃচ=√দা + তৃ=√দা + তা= দাতা;
- √মা + তৃচ্ = মাতা,
- √ক্রী + তৃঢ় = ক্রেতা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।

৩৭.
'নিম' - কোন ভাষার উপসর্গ?
  1. তৎসম
  2. আরবি
  3. ফারসি
  4. খাঁটি বাংলা
সঠিক উত্তর:
ফারসি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফারসি
ব্যাখ্যা

- 'নিম' - একটি ফারসি উপসর্গ।
- ‘নিম উপসর্গটি আধা অর্থে ব্যবহৃত হয়।

বিদেশি উপসর্গ:
- বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত আরবি, ফারসি, ইংরেজি, হিন্দি শব্দের সঙ্গে যেসব উপসর্গ যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ গঠন করে তাদেরকে বিদেশি উপসর্গ বলা হয়।

- নিম্নরূপ কিছু ফারসি উপসর্গের উদাহরণ দেওয়া হলো:
- কার, দর, না, নিম, ফি, বদ, বে, বর, কম ইত্যাদি।

উৎস:
১) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)। 
২) ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৩৮.
"তিনি অন্ধকার থেকে বেরিয়ে এলেন।" - এখানে ‘অন্ধকার থেকে’ কোন কারক?
  1. কর্মকারক 
  2. করণকারক 
  3. অপাদান কারক 
  4. অধিকরণ কারক 
সঠিক উত্তর:
অপাদান কারক 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অপাদান কারক 
ব্যাখ্যা

• অপাদান কারক:
যা থেকে কিছু বিচ্যুত, গৃহীত, জাত, বিরত, আরম্ভ, দূরীভূত ও রক্ষিত হয় এবং যা দেখে কেউ ভীত হয়, তাকেই অপাদান কারক বলে।

যেমন -
- বিচ্যুত: মেঘ থেকে বৃষ্টি পড়ে।
- গৃহীত: দুধ থেকে দই হয়।
- জাত: খেজুর রসে গুড় হয়।
- বিরত: পাপে বিরত হও।
- দূরীভূত: দেশ থেকে পঙ্গপাল চলে গেছে।

- তিনি অন্ধকার থেকে বেরিয়ে এলেন। এখানে 'অন্ধকার থেকে' বিচ্যুতির স্থান বা অবস্থা নির্দেশ করছে, তাই এটি অপাদান কারক।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৩৯.
কর্মজীবনে ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট পদে চাকরি করেন কোন সাহিত্যিক?
  1. আল মাহমুদ
  2. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  3. প্রমথ চৌধুরী
  4. আবু ইসহাক
সঠিক উত্তর:
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা

সাহিত্যসম্রাট বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়: 
-  বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (২৬ জুন ১৮৩৮ – ৮ এপ্রিল ১৮৯৪) বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক ঔপন্যাসিক।
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের জন্ম হয় ১৯৪৮ সালে; বর্তমান উত্তর ২৪ পরগনা জেলার নৈহাটি শহরের নিকটস্থ কাঁঠালপাড়া গ্রামে।
- তিনি বাংলা ভাষার আদি সাহিত্যপত্র বঙ্গদর্শনের প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ছিলেন।
- বঙ্কিম একসময় ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট ও ডেপুটি কালেক্টর পদে চাকরি করেন।

অন্যদিকে,
আল মাহমুদ- সাংবাদিকতার কাজ করেন।
প্রমথ চৌধুরী -  কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন কলেজে কিছুকাল অধ্যাপনা করেন এবং ঠাকুর এস্টেটের ম্যানেজার ছিলেন।
বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৭৩ সালে আবু ইসহাক জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থার উপ-পরিচালক হন। 

- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ১৮৫২ সালে 'সংবাদ প্রভাকর' পত্রিকায় কবিতা প্রকাশের মাধ্যমে সাহিত্যিক জীবন শুরু করেন।
- ১৮৫৬ সালে প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘ললিতা পুরাকালিক গল্প তথা মানস’ প্রকাশিত হয়।
- ১৮৭২ খ্রিস্টাব্দে বঙ্কিমচন্দ্র প্রকাশ করেন বঙ্গদর্শন নামের সাময়িক পত্রিকা।
- বাংলা ভাষার প্রথম সার্থক ঔপন্যাসিক ছিলেন বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়।
- তাঁকে বাংলা উপন‍্যাসের জনক বলা হয়।

- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত প্রথম উপন্যাস 'রাজমোহনস ওয়াইফ'।
- উপন্যাসটি ইংরেজিতে লেখা।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২) বাংলাপিডিয়া।

৪০.
'সূর্য দীঘল বাড়ী' উপন্যাসটি প্রকাশিত হয় কত সালে?
  1. ১৯৩৪ সালে
  2. ১৯৫০ সালে
  3. ১৯৫৫ সালে
  4. ১৯৫৮ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯৫৫ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৫৫ সালে
ব্যাখ্যা

• 'সূর্য দীঘল বাড়ী' উপন্যাস:
- আবু ইসহাকের প্রথম উপন্যাস 'সূর্য দীঘল বাড়ী' প্রকাশিত হয় ১৯৫৫ সালে।
- উপন্যাসটি প্রকাশিত হলে এর রচনাশৈলীও বিষয়বস্তু পাঠকদের আকৃষ্ট করে।
- স্বামী পরিত্যক্তা জয়গুনের দু-সন্তানকে নিয়ে বেঁচে থাকার সংগ্রাম উপন্যাসের মূল বিষয়বস্তু।
- উপন্যাসের প্রধান চরিত্র: জয়গুণ, মায়মুন, শফি, ডা. রমেশ চক্রবর্তী, মোড়ল গদু।
- ‘সূর্য দীঘল বাড়ী’ উপন্যাসটি চলচ্চিত্রায়ন এবং একাধিক বিদেশি ভাষায় অনূদিত হয়।

• আবু ইসহাক:
- আবু ইসহাক (১৯২৬-২০০৩) কথাসাহিত্যিক, অভিধান-প্রণেতা৷
- আবু ইসহাকের প্রথম উপন্যাস 'সূর্য দীঘল বাড়ি'।
- তার দ্বিতীয় উপন্যাস 'পদ্মার পলিদ্বীপ'।
- তাঁর তৃতীয় উপন্যাস ‘জাল’। এটি তাঁর রচিত গোয়েন্দা জাতীয় উপন্যাস।

তাঁর প্রকাশিত গল্পগ্রন্থ:
- 'হারেম ও
- মহাপতঙ্গ।

তাঁর রচিত একমাত্র নাটক:
- জয়ধ্বনি।

অন্যদিকে,
- ‘পদ্মার পলিদ্বীপ’ (আবু ইসহাক রচিত দ্বিতীয় সামাজিক উপন্যাস। এটি পদ্মার বুকে জেগে উঠা চরে শ্রমজীবী মানুষের সংগ্রাম নিয়ে রচিত একটি উপন্যাস।),
- ‘জাল’(তাঁর রচিত গোয়েন্দা উপন্যাস)।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা। 
২) বাংলাপিডিয়া।

৪১.
‘হোসেনের শৃঙ্খল নিয়ম’ এর সাথে কোন নামটি জড়িত?
  1. মোতাহের হোসেন চৌধুরী 
  2. কাজী মোতাহার হোসেন
  3. আবুল হোসেন 
  4. সেলিনা হোসেন 
সঠিক উত্তর:
কাজী মোতাহার হোসেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাজী মোতাহার হোসেন
ব্যাখ্যা

কাজী মোতাহার হোসেন ও ‘হোসেনের শৃঙ্খল নিয়ম’:
তিনি ইন্ডিয়ান স্ট্যাটিসটিক্যাল ইনস্টিটিউট থেকে ১৯৩৮ সালে  পরিসংখ্যান বিষয়ে ডিপ্লোমা এবং একই সঙ্গে  কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গণিত শাস্ত্রে এম.এ ডিগ্রি লাভ করেন।
- ‘পরীক্ষণ প্রকল্প’ (Design of Experiments) শীর্ষক অভিসন্দর্ভের জন্য তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৫১ সালে পরিসংখ্যান শাস্ত্রে পিএইচ.ডি ডিগ্রি অর্জন করেন। কাজী মোতাহার হোসেনের ‘পরীক্ষণ প্রকল্প’ শীর্ষক অভিসন্দর্ভ পরিসংখ্যান গবেষণায় এক নতুন পদ্ধতির প্রবর্তন করে, যা ‘হোসেনের শৃঙ্খল নিয়ম’ (Husain’s Chain Rule) নামে পরিচিত।
----------------------

তাঁর উলেখযোগ্য প্রকাশনাসমূহ হচ্ছে:
- সঞ্চয়ন,
- নজরুল কাব্য পরিচিত,
- সে পথ লক্ষ্য কর,
- সিম্পোজিয়াম গণিত শাস্ত্রের ইতিহা,
- আলোক বিজ্ঞান।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, এবং বাংলাপিডিয়া।

৪২.
'গ্রানাডার শেষ বীর' - কোন ধরনের সাহিত্য রচনা?
  1. কাব্যগ্রন্থ
  2. উপন্যাস
  3. ছোটগল্প
  4. নাটক
সঠিক উত্তর:
উপন্যাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপন্যাস
ব্যাখ্যা

• 'গ্রানাডার শেষ বীর' ঐতিহাসিক উপন্যাসের রচয়িতা- এস ওয়াজেদ আলি।
- এটি ১৯৪০ সালে প্রথম প্রকাশিত হয়।

----------------
তাঁর উল্লেখযোগ্য সাহিত্যকর্মের মধ্যে রয়েছে:
প্রবন্ধ:
- জীবনের শিল্প,
- প্রাচ্য ও প্রতীচ্য,
- ভবিষ্যতের বাঙালী,
- আকবরের রাষ্ট্র সাধনা,
- মুসলিম সংস্কৃতির আদর্শ।

উপন্যাস:
- গ্রানাডার শেষ বীর।

ভ্রমণকাহিনি:
- পশ্চিম ভারত,
- মোটর যোগে রাঁচী সফর প্রভৃতি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৪৩.
মুসলিম বীর তারেক ও স্পেনের সম্রাট রডারিকের সংগ্রামের কাহিনী নিয়ে কাব্যগ্রন্থ 'স্পেন বিজয় কাব্য' এর রচয়িতা কে?
  1. কায়কোবাদ
  2. সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী
  3. সৈয়দ মুজতবা আলী
  4. ফররুখ আহমদ 
সঠিক উত্তর:
সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী
ব্যাখ্যা

• স্পেন বিজয় কাব্য: 
- স্পেন বিজয় কাব্যগ্রন্থে মুসলিম বীর তারেক ও স্পেনের সম্রাট রডারিকের সংগ্রামের কাহিনী বর্ণিত হয়েছে।
- কাব্যগ্রন্থটির রচয়িতা হলেন- ইসমাইল হোসেন সিরাজী।
- এই কাব্যে মুসলিমদের অতীত বীরত্বপূর্ণ অধ্যায় তুলে ধরেছেন।
- তিনি মহাকাব্য লিখতে চেয়েছিলেন কিন্তু বৈশিষ্ট্যের বিচারে এটি মহাকাব্য হয়নি।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- অনল প্রবাহ।
- আকাঙ্ক্ষা।
- উচ্ছ্বাস।
- উদ্বোধন।
- নব উদ্দীপনা।
- স্পেন বিজয় কাব্য।
- সঙ্গীত সঞ্জীবনী।
- প্রেমাঞ্জলি।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য উপন্যাস:
- রায়নন্দিনী।
- তারাবাঈ।
- ফিরোজা বেগম।

• তাঁর রচিত প্রবন্ধ:
- স্বজাতি প্রেম।
- তুর্কিনারী জীবন।
- স্পেনীয় মুসলিম সভ্যতা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, এবং বাংলাপিডিয়া।

৪৪.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'তাসের ঘর' নাটকটি কোন গল্পের নাট্যরুপ?
  1. প্রায়শ্চিত্ত
  2. ছুটি 
  3. একটা আষাঢ়ে গল্প 
  4. ক্ষুধিত পাষাণ 
সঠিক উত্তর:
একটা আষাঢ়ে গল্প 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
একটা আষাঢ়ে গল্প 
ব্যাখ্যা

• তাসের দেশ:
- ‘তাসের দেশ' (১৯৩৩) রূপক নাট্য।
- রবীন্দ্রনাথের নিজেরই ‘একটা আষাঢ়ে গল্প' নামক গল্পের কাহিনি এই নাটকের ভিত্তিভূমি।
- রাজপুত্র এবং সদাগর পুত্র এক অপরিচিত দ্বীপে এসে পৌঁছেছেন, যে দ্বীপের জীবন শাসিত হয় যান্ত্রিক নিয়মানুবর্তিতায়, যুক্তি ও হৃদয়হীন শাসনতন্ত্রের আনুগত্যে।
- রাজপুত্র এবং সদাগর এই নিয়মবন্দি জীবনের মধ্যে আনলেন বিদ্রোহ।
- এই নাটকটি উৎসর্গ করা হয় নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুকে।
- এই রূপক নাটক লিখে উপনিবেশ শাসিত ভারতীয়দের জড়ত্ব ঘোচানোর জন্য একজন সে-রকম মুক্তিদূত রূপী রাজপুত্রের আগমনকে কামনা করেছিলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। 

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কর্তৃক আরো কয়েকটি উৎসর্গকৃত গ্রন্থ:
• তাসের দেশ - উৎসর্গকৃত ব্যক্তি: নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু।
• পূরবী - উৎসর্গকৃত ব্যক্তি: ভিক্টোরিয়া ওকাম্পো।
• বসন্ত - উৎসর্গকৃত ব্যক্তি:কাজী নজরুল ইসলাম।
• খেয়া - উৎসর্গকৃত ব্যক্তি: জগদীশচন্দ্র বসু।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, এবং বাংলাপিডিয়া।

৪৫.
"The Power of a lie" গ্রন্থের 'সত্যমিথ্যা' নামে বাংলা অনুবাদ করেন কে?
  1. আবুল মনসুর আহমদ
  2. গোলাম মোস্তফা
  3. কাজী আব্দুল ওদুদ 
  4. এস ওয়াজেদ আলি 
সঠিক উত্তর:
আবুল মনসুর আহমদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আবুল মনসুর আহমদ
ব্যাখ্যা

• আবুল মনসুর আহমদের 'সত্যমিথ্যা' উপন্যাসটি Johan Bojer-এর "The Power of a lie" গ্রন্থের বাংলা রূপান্তর।

আবুল মনসুর আহমদ:
- তিনি ১৮৯৮ সালে ময়মনসিংহ জেলার ধানিখোলা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি একাধারে সাংবাদিক, আইনজীবী, রাজনীতিবিদ, সাহিত্যিক ছিলেন। 
- তিনি দি মুসলমান পত্রিকায় সাংবাদিকতা করেন ১৯২৬ থেকে ১৯২৯ সাল পর্যন্ত।
- আবুল মনসুর ১৯৩৮ সালের ডিসেম্বর মাসে দৈনিক কৃষক পত্রিকার সম্পাদক নিযুক্ত হন।

- তাঁর সাহিত্যকর্ম:

গল্পগ্রন্থ:
- আয়না,
- ফুড কনফারেন্স।

উপন্যাস:
- সত্যমিথ্যা,
- জীবনক্ষুধা ও
- আবে হায়াত।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

৪৬.
বাংলা লোকসাহিত্যের প্রাচীনতম সৃষ্টি কোনটি?
  1. ছড়া
  2. পদাবলি 
  3. রূপকথা
  4. মঙ্গলকাব্য
সঠিক উত্তর:
ছড়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ছড়া
ব্যাখ্যা

• লোকসাহিত্যের প্রাচীনতম সৃষ্টি - ছড়া।

• লোকসাহিত্য:
- লোকসাহিত্য মৌখিক ধারার সাহিত্য যা অতীত ঐতিহ্য ও বর্তমান অভিজ্ঞতাকে আশ্রয় করে রচিত হয়।
- লোকসাহিত্য লোকসংস্কৃতির একটি জীবন্ত ধারা; এর মধ্য দিয়ে জাতির আত্মার স্পন্দন শোনা যায়।
- লোকসাহিত্যের উপাদান মূলত গ্রামীণ এলাকার অখ্যাত সাহিত্যিকদের রচনা।
- তাই রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর একে 'জনপদের হৃদয়-কলরব' বলে আখ্যায়িত করেছেন।
- লোকসাহিত্যকে প্রধানত লোকসঙ্গীত, গীতিকা, লোককাহিনী, লোকনাট্য, ছড়া, মন্ত্র, ধাঁধা ও প্রবাদ এই আটটি শাখায় ভাগ করা যায়।
- লোক সাহিত্যের প্রাচীনতম সৃষ্টি ছড়া।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম ও বাংলাপিডিয়া।