পরীক্ষা আর্কাইভ

নতুনদের বিসিএস প্রস্তুতি - ২০০ দিনে পুরো সিলেবাস

পরীক্ষানতুনদের বিসিএস প্রস্তুতি - ২০০ দিনে পুরো সিলেবাসতারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়17 minutes
মোট প্রশ্ন২৫
সিলেবাস
বিষয় - বাংলা ভাষা ও ব্যাকরণ টপিকসমূহ: ১. শব্দপ্রকরণ [সমাস; উপসর্গ ও অনুসর্গ] ২. পদ-প্রকরণ [পদ ও এর শ্রেণিবিভাগ] ৩. বাক্য প্রকরণ [বাক্য ও বাক্যের প্রকারভেদ; বাক্য ও উক্তির পরিবর্তন; কারক ও বিভক্তি; বাচ্য ও বাচ্যের পরিবর্তন।] উৎস: অষ্টম শ্রেণি ও মাধ্যমিক বাংলা ব্যাকরণ বোর্ড বই (NCTB ও উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়), বাংলা একাডেমির অভিধান অথবা যেকোনো স্কলার (যেমন: ড. হায়াৎ মামুদ)-এর বই। (ব্যাকরণ - এর ক্ষেত্রে গাইড থেকে পড়াশুনা করলে, বিতর্কিত বিষয়গুলো বোর্ড বই ও বাংলা একাডেমি অভিধান থেকে ক্রসচেক করে নিলে উত্তম হবে।)
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

নতুনদের বিসিএস প্রস্তুতি - ২০০ দিনে পুরো সিলেবাস

নতুনদের বিসিএস প্রস্তুতি - ২০০ দিনে পুরো সিলেবাস · তারিখ অনির্ধারিত · ২৫ প্রশ্ন

.
'চালাকচতুর' কোন ধরণের সমাস?
  1. কর্মধারয় সমাস
  2. তৎপুরুষ সমাস
  3. বহুব্রীহি সমাস
  4. দ্বন্দ্ব সমাস
সঠিক উত্তর:
কর্মধারয় সমাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কর্মধারয় সমাস
ব্যাখ্যা
কর্মধারয় সমাস: 
- যে সমাসে পরপদের অর্থ প্রাধান্য পায়, তাকে কর্মধারয় সমাস বলে।
- যেমন: 
• গোলাপ নামের ফুল = গোলাপফুল,
• যা কাঁচা তাই মিঠা = কাঁচা-মিঠা। 

♠ কিছু কর্মধারয় সমাসের সমস্যমান পদে 'যে' যোজক থাকে, যেমন- 
• খাস যে জমি = খাসজমি;
• চিত যে সাঁতার = চিতসাঁতার;
• ভাজা যে বেগুন = বেগুনভাজা;
• সিদ্ধ যে আলু = আলুসিদ্ধ;
• কনক যে চাঁপা = কনকচাঁপা;
• টাক যে মাথা = টাকমাথা; 
• যে চালাক সে চতুর = চালাকচতুর; 
• যে শান্ত সে শিষ্ট = শান্তশিষ্ট। 

♠ মধ্যপদলোপী কর্মধারয় : 
- যে কর্মধারয় সমাসে ব্যাসবাক্যের মধ্যপদের লোপ হয়, তাকে মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস বলে। যথা-
• ঘি মাখানো ভাত = ঘিভাত;
• হাতে পরা হয় যে ঘড়ি = হাতঘড়ি; 
• বিজয় নির্দেশক পতাকা = বিজয়-পতাকা; 
• সিংহ চিহ্নিত আসন = সিংহাসন; 
• সাহিত্য বিষয়ক সভা =  সাহিত্যসভা; 
• স্মৃতি রক্ষার্থে সৌধ= স্মৃতিসৌধ।  

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ) এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।  
.
নিচের কোনটি অনুসর্গের প্রকারভেদ?
  1. বিশেষ্যজাত অনুসর্গ
  2. সর্বনামজাত অনুসর্গ
  3. অব্যয়জাত অনুসর্গ
  4. ক্রিয়াজাত অনুসর্গ
সঠিক উত্তর:
ক্রিয়াজাত অনুসর্গ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্রিয়াজাত অনুসর্গ
ব্যাখ্যা
অনুসর্গ: 
- যেসব শব্দ কোনো শব্দের পরে বসে শব্দটিকে বাক্যের সঙ্গে সম্পর্কিত করে, সেসব শব্দকে অনুসর্গ বলে।
- যেমন:
• সে কাজ ছাড়া কিছুই বোঝে না। - এই বাক্যে ‘ছাড়া’ একটি অনুসর্গ।
• কোন পর্যন্ত পড়েছ? – এই বাক্যে ‘পর্যন্ত’ একটি অনুসর্গ।

♣♣ কয়েকটি অনুসর্গের উদাহরণ:
- অপেক্ষা, অবধি, অভিমুখে, আগে, উপরে, করে, কর্তৃক, কাছে, কারণে, ছাড়া, জন্য, তরে, থেকে, দরুন, দিকে, দিয়ে, দ্বারা, ধরে, নাগাদ, নিচে, পর্যন্ত, পানে, পাশে, পিছনে, প্রতি, বদলে, বনাম, বরাবর, বাইরে, বাদে, বাবদ, বিনা, ব্যতীত, ভিতরে, মতো, মধ্যে, মাঝে, লেগে, সঙ্গে, সম্মুখে, সাথে, সামনে, হতে ইত্যাদি।

- যেসব শব্দের পরে অনুসর্গ বসে, সেসব শব্দের সঙ্গে ‘-কে ‘-র’, ‘- ইত্যাদি বিভক্তিও যুক্ত হতে পারে।
- যেমন:
তোমাকে দিয়ে এ কাজ সম্ভব;
• সে পরীক্ষার জন্য পড়ছে। 

♠ অনুসর্গকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়:
১. সাধারণ অনুসর্গ ও
২. ক্রিয়াজাত অনুসর্গ।  

উৎস:
বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২৩ সংস্করণ)।   
.
নিচের কোনটি 'সংযোগ ক্রিয়ার' উদাহরণ?
  1. ক্যাচ ধরা
  2. কমে আসা
  3. মরে যাওয়া
  4. সরে দাঁড়ানো
সঠিক উত্তর:
ক্যাচ ধরা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্যাচ ধরা
ব্যাখ্যা
ক্রিয়া:
- বাক্যে উদ্দেশ্য বা কর্তা কী করে বা কর্তার কী ঘটে বা হয়, তা নির্দেশ করা হয় যে পদ দিয়ে তাকে ক্রিয়া বলে।
- যেমন: 
• রাজীব খেলছে;
• বৃষ্টি হতে পারে।  
- ক্রিয়ামূল বা ধাতুর সঙ্গে বিভক্তি যুক্ত হয়ে ক্রিয়া গঠিত হয়। যেমন - পড়্‌ + ই = পড়ি।  

♣ ভাব প্রকাশের দিক দিয়ে ক্রিয়া ২ প্রকার:
১. সমাপিকা ক্রিয়া:  
- ভাব সম্পূর্ণ হয়। যেমন: ভালো করে পড়াশোনা করবে। 
২. অসমাপিকা ক্রিয়া:
- ভাব সম্পূর্ণ করতে পারে না। যেমন: ভালো করে পড়াশোনা করলে ভালো ফল হবে। 

♣ গঠন বিবেচনায় ক্রিয়া ৫ প্রকার: 
১. সরল ক্রিয়া:
- যেমন: সে লিখছে; ছেলেরা মাঠে খেলছে। 

২. প্রযোজক ক্রিয়া:
- যেমন: তিনি আমাকে অঙ্ক করাচ্ছেন; রাখাল গরুকে ঘাস খাওয়ায়। 

৩. নামক্রিয়া:
- যেমন: চমকানো, চমকায়, কমা, ছটফটানো (আ বা আনো প্রত্যয় যোগে)।   

৪. সংযোগ ক্রিয়া:
- বিশেষ্য, বিশেষণ বা ধ্বন্যাত্মক শব্দের পরে করা, কাটা হওয়া, দেওয়া, ধরা, পাওয়া, খাওয়া, মারা প্রভৃতি ক্রিয়া যুক্ত হয়ে সংযোগ ক্রিয়া গঠিত হয়।
- যেমন: গান করা, গরম করা, সাঁতার কাটা, বিপদ কাটা, মরচে ধরা, ক্যাচ ধরা। 

৫. যৌগিক ক্রিয়া:
- সমাপিকা ক্রিয়ার সাথে অসমাপিকা ক্রিয়া যুক্ত হয়। 
- যেমন: মরে যাওয়া, কমে আসা, এগিয়ে চলা, বুঝে নেওয়া, সরে দাঁড়ানো। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২৩ সংস্করণ)।
.
হামিদ বলল, “তোমরা আগামীকাল এসো।”- উক্তিটির পরোক্ষ উক্তি কোনটি?
  1. হামিদ বলল যে, তোমরা পরেরদিন এসো।
  2. হামিদ বলল যে, তোমরা আগামীকাল এসো।
  3. হামিদ তাদের পরদিন আসতে বলল।  
  4. হামিদ তাদের বলল পরেরদিন এসো।
সঠিক উত্তর:
হামিদ তাদের পরদিন আসতে বলল।  
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হামিদ তাদের পরদিন আসতে বলল।  
ব্যাখ্যা
উক্তি:  
- বক্তার কথা উপস্থাপনের ধরনকে উক্তি বলে।
- উক্তি দুই প্রকার: প্রত্যক্ষ উক্তি ও পরোক্ষ উক্তি।
- যেমন:   
• ছেলেটি বলেছিল, “আজ আমি অনেক পড়েছি।” - এটি প্রত্যক্ষ উক্তি। 
• ছেলেটি বলেছিল যে, সেদিন সে অনেক পড়েছে। - এটি পরোক্ষ উক্তি।  

- যে উক্তিতে বক্তার কথা সরাসরি উদ্ধৃত করা হয়, তাকে বলে প্রত্যক্ষ উক্তি। 
- আর যে উক্তিতে বক্তার কথা অন্যের দ্বারা বর্ণিত হয়, তাকে বলে পরোক্ষ উক্তি।   

♠ প্রত্যক্ষ উক্তি লেখার সময়ে উদ্ধারচিহ্ন ব্যবহৃত হয়।
- যেমন:   
• রফিক হেসে বললো, “আমি আপনাকে লক্ষ করিনি।” 
• কালো চুলের মানুষটি বলল, “দশ পর্যন্ত গুনতে পারি। যোগ কী আমার ধারণা আছে। কিন্তু বিয়োগ করতে পারি না।” 

উক্তি পরিবর্তন:  
♣ প্রত্যক্ষ উক্তির যেখান থেকে উদ্ধারচিহ্ন শুরু হয়, পরোক্ষ উক্তিতে সেখানে যোজক 'যে' বসে এবং উদ্ধারচিহ্ন উঠে যায়।
- যেমন:  
• প্রত্যক্ষ উক্তি: নেতা বললেন, “আমি জনগণের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করতে চাই।”
• পরোক্ষ উক্তি: নেতা বললেন যে, তিনি জনগণের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করতে চান। 

♣ প্রশ্নবোধক, অনুজ্ঞাসূচক ও আবেগসূচক প্রত্যক্ষ উক্তিকে পরোক্ষ উক্তিতে পরিবর্তন করতে হলে প্রধান খণ্ডবাক্যের ক্রিয়াকে ভাব অনুসারে পরিবর্তন করতে হয়। - যেমন: 
♠ অনুজ্ঞাসূচক বাক্য:  
• প্রত্যক্ষ উক্তি: হামিদ বলল, “তোমরা আগামীকাল এসো।” 
• পরোক্ষ উক্তি: হামিদ তাদের পরদিন আসতে (বা যেতে) বলল। 

• প্রত্যক্ষ উক্তি: তিনি বললেন, “দয়া করে ভেতরে আসুন।”
• পরোক্ষ উক্তি: তিনি (আমাকে) ভেতরে যেতে অনুরোধ করলেন।    

উৎস:
বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২৩ সংস্করণ) এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
.
'মুষলধারে বৃষ্টি হচ্ছে'- বাক্যে বৃষ্টি কোন কারক?
  1. কর্তা কারক
  2. কর্ম কারক
  3. করণ কারক
  4. অধিকরণ কারক
সঠিক উত্তর:
কর্তা কারক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কর্তা কারক
ব্যাখ্যা
কারক:
- কারক শব্দের আক্ষরিক অর্থ ‘যে ক্রিয়া সম্পন্ন করে’। 
- তৎসম বা সংস্কৃত শব্দ, √কৃ + অক(ণক)।
- মূলত ক্রিয়ার সঙ্গে বাক্যের বিশেষ্য ও সর্বনামের যে সম্পর্ক, তাকে কারক বলে। 
- কারক সম্পর্ক বোঝাতে বিশেষ্য ও সর্বনামের সঙ্গে সাধারণত বিভক্তি ও অনুসর্গ যুক্ত হয়ে থাকে। 

♠ কারক ছয় প্রকার: 
১. কর্তা কারক, 
২. কর্ম কারক, 
৩. করণ কারক, 
৪. অপাদান কারক, 
৫. অধিকরণ কারক ও  
৬. সম্বন্ধ কারক। 

♣ কর্তা কারক: 
- ক্রিয়া যার দ্বারা সম্পাদিত হয়, তাকে কর্তাকারক বলে। 
- বাক্যের কর্তা বা উদ্দেশ্যই কর্তা কারক।
- কর্তা কারকে সাধারণত বিভক্তি যুক্ত হয় না।
- যেমন:
আমরা নদীর ঘাট থেকে রিকশা নিয়েছিলাম।
অনেকগুলো বন্য হাতি বাগান নষ্ট করে দিল। 

- কর্তা কারকে কখনো কখনো এ বিভক্তি যুক্ত হয়। 
• যেমন: পাগলে কিনা বলে, ছাগলে কিনা খায়।  
♠♠
আমার যাওয়া হবে না। 
বাঁশি বাজে।
শিক্ষক ছাত্রদের ব্যাকরণ পড়াচ্ছেন। 
বাঘে-মহিষে এক ঘাটে জল খায়।  
• মুষলধারে বৃষ্টি হচ্ছে।   

উৎস:
বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ), বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর। 
.
'বেমালুম' শব্দে 'বে' কোন ধরণের উপসর্গ?
  1. বাংলা উপসর্গ
  2. তৎসম উপসর্গ
  3. আরবি উপসর্গ
  4. ফারসি উপসর্গ
সঠিক উত্তর:
ফারসি উপসর্গ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফারসি উপসর্গ
ব্যাখ্যা
উপসর্গ:
- যেসব অর্থহীন শব্দাংশ অন্য শব্দের শুরুতে বসে নতুন শব্দ গঠন করে, সেগুলোকে উপসর্গ বলে।।
- এদের প্রভাবে শব্দটির কয়েক ধরনের পরিবর্তন সাধিত হয়। 
- উপসর্গ অব্যয়সূচক শব্দাংশ।   
- যেমন: 'কাজ' একটি শব্দ। এর আগে 'অ' অব্যয়টি যুক্ত হলে হয় ‘অকাজ’ – যার অর্থ নিন্দনীয় কাজ। এখানে অর্থের সংকোচন হয়েছে। 

♠ বাংলা ভাষায় তিন প্রকার উপসর্গ আছে: বাংলা, তৎসম (সংস্কৃত) এবং বিদেশি উপসর্গ।   

১. বাংলা উপসর্গ:
• বাংলা উপসর্গ মোট একুশটি:
• অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা। 

২. তৎসম (সংস্কৃত) উপসর্গ:
• তৎসম উপসর্গ বিশটি: 
• প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অপি, অভি, উপ, আ। 

৩. বিদেশি উপসর্গ: 
- ফারসি উপসর্গ: কার্‌, দর্‌, না, নিম্‌, ফি, বদ্‌, বে, বর্‌, ব্‌, কম্‌।
- আরবি উপসর্গ: আম্‌, খাস, লা, গর্‌।
- ইংরেজি উপসর্গ: ফুল, হাফ, হেড, সাব।  
- উর্দু-হিন্দি উপসর্গ: হর।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২৩ সংস্করণ) এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
.
নিচের কোন বাক্য়ে ক্রিয়াজাত অনুসর্গ উপস্থিত?
  1. এমন কাজ তোমার দ্বারা হবে না।
  2. কার কাছে গেলে জানা যাবে?
  3. মন দিয়ে লেখাপড়া করা দরকার।
  4. আজ বাংলাদেশ বনাম ভারতের খেলা।
সঠিক উত্তর:
মন দিয়ে লেখাপড়া করা দরকার।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মন দিয়ে লেখাপড়া করা দরকার।
ব্যাখ্যা
অনুসর্গ:  
- যেসব শব্দ কোনো শব্দের পরে বসে শব্দটিকে বাক্যের সঙ্গে সম্পর্কিত করে, সেসব শব্দকে অনুসর্গ বলে।
- যেমন:
• সে কাজ ছাড়া কিছুই বোঝে না। - এই বাক্যে ‘ছাড়া’ একটি অনুসর্গ।
• কোন পর্যন্ত পড়েছ? – এই বাক্যে ‘পর্যন্ত’ একটি অনুসর্গ।

♣♣ কয়েকটি অনুসর্গের উদাহরণ:
অপেক্ষা, অবধি, অভিমুখে, আগে, উপরে, করে, কর্তৃক, কাছে, কারণে, ছাড়া, জন্য, তরে, থেকে, দরুন, দিকে, দিয়ে, দ্বারা, ধরে, নাগাদ, নিচে, পর্যন্ত, পানে, পাশে, পিছনে, প্রতি, বদলে, বনাম, বরাবর, বাইরে, বাদে, বাবদ, বিনা, ব্যতীত, ভিতরে, মতো, মধ্যে, মাঝে, লেগে, সঙ্গে, সম্মুখে, সাথে, সামনে, হতে ইত্যাদি।

- যেসব শব্দের পরে অনুসর্গ বসে, সেসব শব্দের সঙ্গে ‘-কে ‘-র’, ‘- ইত্যাদি বিভক্তিও যুক্ত হতে পারে।
- যেমন:
• তোমাকে দিয়ে এ কাজ সম্ভব;
• সে পরীক্ষার জন্য পড়ছে। 

♠ অনুসর্গকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়: 
১. সাধারণ অনুসর্গ ও 
২. ক্রিয়াজাত অনুসর্গ।  

সাধারণ অনুসর্গ: 
যেসব অনুসর্গ ক্রিয়া ছাড়া অন্য শব্দ থেকে তৈরি হয়, সেগুলোকে সাধারণ অনুসর্গ বলে।
- যেমন: 
• কার কাছে গেলে জানা যাবে?
• এমন কাজ তোমার দ্বারা হবে না।
• আজ বাংলাদেশ বনাম ভারতের খেলা।    

ক্রিয়াজাত অনুসর্গ: 
- যেসব অনুসর্গ ক্রিয়াপদ থেকে তৈরি হয়েছে, সেগুলোকে ক্রিয়াজাত অনুসর্গ বলে।
- যেমন: 
• মন দিয়ে লেখাপড়া করা দরকার।
• ঢাকা থেকে বরিশাল যেতে পদ্মা নদী পার হতে হয়।  
• বহুদিন ধরে অপেক্ষা করে আছি। 
• সে সঙ্গে যাবে বলে তৈরি হয়ে এসেছে।    

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২৩ সংস্করণ)।
.
বাক্যে গৌণকর্মের সঙ্গে সাধারণত কোন বিভক্তি বসে?
  1. -য়ে বিভক্তি
  2. -রে বিভক্তি
  3. -য়ের বিভক্তি
  4. -র বিভক্তি
সঠিক উত্তর:
-রে বিভক্তি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
-রে বিভক্তি
ব্যাখ্যা
বিভক্তি: 
• বাক্যের মধ্যে অন্য শব্দের সাথে সম্পর্ক বোঝাতে বিশেষ্য ও সর্বনামের সঙ্গে অর্থহীন কিছু লগ্নক যুক্ত হয়, সেগুলোকে বিভক্তি বলে।
 • যেমন: এ, -তে, য়, য়ে, কে, রে, -র, এর, -য়ের ইত্যাদি।  

♣ বিভক্তিগুলোকে তিন ভাগে বিভক্ত করে দেখানো যায়। 
১. -এ, -তে, য়, -য়ে বিভক্তি; 
• সাধারণত ক্রিয়ার স্থান, কাল, ভাব বোঝাতে এ, -তে, য়, -য়ে ইত্যাদি বিভক্তির ব্যবহার হয়। কখনো কখনো বাক্যের কর্তার সঙ্গেও এসব বিভক্তি বসে। 
• যেসব শব্দের শেষে কারচিহ্ন নেই, সেসব শব্দের সঙ্গে -এ বিভক্তি যুক্ত হয়। যেমন: সকালে, দিনাজপুরে, ইমেইলে, কম্পিউটারে, ছাগলে, তিলে ইত্যাদি। 
• শব্দের শেষে ই-কার ও উ-কার থাকলে তে বিভক্তি হয়। যেমন: হাতিতে, রাত্রিতে, মধুতে,রামুতে ইত্যাদি। 
• আ-কারান্ত শব্দের শেষে -য় বিভক্তি হয়। যেমন – ঘোড়ায়, সন্ধ্যায়, ঢাকায় ইত্যাদি। 
• শব্দের শেষে দ্বিস্বর থাকলে -য়ে বিভক্তি হয়। যেমন – ছইয়ে, ভাইয়ে, বউয়ে।
•  ই-কারাপ্ত শব্দের শেষেও -য়ে বিভক্তি দেখা যায়। যেমন – ঝিয়ে, ঘিয়ে। 

২. -কে, -রে বিভক্তি; 
• বাক্যে গৌণকর্মের সঙ্গে সাধারণত -কে এবং -রে বিভক্তি বসে।
• ক্রিয়াকে 'কাকে' প্রশ্ন করলে যে শব্দ পাওয়া যায় তার সঙ্গে এই বিভক্তি যুক্ত হয়।
• যেমন: শিশুকে, দরিদ্রকে, আমাকে, আমারে ইত্যাদি। 

৩. -র, -এর, -য়ের বিভক্তি;
• বাক্যের মধ্যে পরবর্তী শব্দের সঙ্গে সম্বন্ধ বোঝাতে পূর্ববর্তী শব্দের সঙ্গে -র, -এর এবং -য়ের বিভক্তি যুক্ত হয়। 
• সাধারণত আ-কারান্ত, ই/ঈ-কারান্ত ও উ/ঊ-কারান্ত শব্দের শেষে -র বিভক্তি বসে। 
• যেমন: রাজার প্রজার, হাতির, বুদ্ধিজীবীর, তনুর, বধূর। 

• যেসব শব্দের শেষে কারচিহ্ন নেই, সেসব শব্দের শেষে -এর বিভক্তি হয়। যেমন – বলের, শব্দের, নজরুলের, সাতাশের ইত্যাদি। 
• শব্দের শেষে দ্বিস্বর থাকলে -য়ের বিভক্তি হয়। যেমন – ভাইয়ের বইয়ের, লাউয়ের, মৌয়ের ইত্যাদি।   

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
.
নিচের কোনটি অনুজ্ঞাবাচক বাক্য?
  1. তোমার মঙ্গল হোক। 
  2. আমি বলতে চাই। 
  3. সে ঢাকা যাবে না। 
  4. অত উঁচু পাহাড়ে উঠে আমি তো ভয়েই মরি!
সঠিক উত্তর:
তোমার মঙ্গল হোক। 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তোমার মঙ্গল হোক। 
ব্যাখ্যা
♣ বক্তব্যের লক্ষ্য অনুযায়ী বাক্যের প্রকারভেদ: 
♠ অনুজ্ঞাবাচক বাক্য:
- আদেশ, নিষেধ, অনুরোধ, প্রার্থনা ইত্যাদি বোঝাতে অনুজ্ঞাবাচক বাক্য হয়। 
• আমাকে একটি কলম দাও। 
• তোমার মঙ্গল হোক।  
• পরীক্ষায় সফল হও। 
• দীর্ঘজীবী হও। 
• দেশের স্বাধীনতা রক্ষার জন্য যুদ্ধ কর।  

♠ বিবৃতিবাচক বাক্য:
- সাধারণভাবে কোনো বিবরণ প্রকাশ পায় যেসব বাক্যে, সেগুলোকে বিবৃতিমূলক বাক্য বলে। বিবৃতিবাচক বাক্য ইতিবাচক বা নেতিবাচক হতে পারে। যেমন - 
• আমরা রোজ বেড়াতে যেতাম। 
• সে ঢাকা যাবে না। 
• আমি বলতে চাই। 
• তারা তোমাদের ভোলেনি।

♠ প্রশ্নবাচক বাক্য:
- বক্তা কারও কাছ থেকে কিছু জানার জন্য যে ধরনের বাক্য বলে, সেগুলো প্রশ্নবাচক বাক্য। যেমন - 
• তোমার নাম কী?  
• সুন্দরবনকে কোন ধরনের বনাঞ্চল বলা হয়?

♠ আবেগবাচক বাক্য:
- কোনো কিছু দেখে বা শুনে অবাক হয়ে যে ধরনের বাক্য তৈরি হয়, তাকে আবেগবাচক বাক্য বলে। যেমন - 
• দারুণ! আমরা জিতে গিয়েছি। 
• অত উঁচু পাহাড়ে উঠে আমি তো ভয়েই মরি!

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২৩ সংস্করণ) এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১০.
নিচের কোনটি 'অলুক তৎপুরুষ' সমাস?
  1. মামাবাড়ি
  2. গাছপাকা
  3. ছেলে-ভুলানো
  4. চোখের বালি
সঠিক উত্তর:
চোখের বালি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চোখের বালি
ব্যাখ্যা
তৎপুরুষ সমাস 
- সমস্যমান পদের বিভক্তি ও সন্নিহিত অনুসর্গ লোপ পেয়ে যে সমাস হয়, তার নাম তৎপুরুষ সমাস। 
- এই সমাসে পরপদের অর্থ প্রাধান্য পায়।
- যেমন: 
• ছেলেকে ভুলানো = ছেলে-ভুলানো; 
• মামার বাড়ি = মামাবাড়ি;
• ধানের খেত = ধানখেত;
• গাছে পাকা = গাছপাকা; 
• রথকে চালন = রথচালন। 
• বিয়েপাগলা, গ্রামছাড়া, আগাগোড়া, রাজপথ, দুঃখপ্রাপ্ত, অকালমৃত্যু ইত্যাদি। 

♣ কিছু ক্ষেত্রে বিভক্তি লোপ পায় না, এসব তৎপুরুষ সমাসের নাম অলুক তৎপুরুষ, যেমন - 
• গরুর গাড়ি = গরুরগাড়ি; 
• তেলে ভাজা = তেলেভাজা;  
• ঘিয়েভাজা, ঘোড়ার-ডিম, চোখের বালি, গানের-আসর, সোনার-বাংলা ইত্যাদি।    

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ) এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১১.
বিশেষ্য শব্দের মতো সর্বনাম শব্দের সঙ্গেও যুক্ত হয় -
  1. বিভক্তি
  2. নির্দেশক
  3. বচন
  4. উপরের সবগুলো
সঠিক উত্তর:
উপরের সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
সর্বনাম 
- বিশেষ্যের পরিবর্তে ব্যবহৃত শব্দকে সর্বনাম শব্দ বলে।
- বাক্যের মধ্যে বিশেষ্য যে ভূমিকা পালন করে, সর্বনাম অনুরূপ ভূমিকা পালন করে।
- যেমন: “শিমুল মনোযোগের সঙ্গে পড়াশোনা করত। তাই সে পরীক্ষায় ভালো করেছে।” দ্বিতীয় বাক্যের ‘সে’ প্রথম বাক্যের শিমুল’-এর পরিবর্তে বসেছে।
- বিশেষ্য শব্দের মতো সর্বনাম শব্দের সঙ্গেও বিভক্তি, নির্দেশক, বচন প্রভৃতি যুক্ত হয়।   

♣ সর্বনামের শ্রেণিবিভাগ: 
• সর্বনামকে নিচের নয়টি শ্রেণিতে ভাগ করা যায়।  
১. ব্যক্তিবাচক সর্বনাম:
- যেমন: আমি, আমরা আমাকে, আমাদের, তুমি, তোমরা, তুই তোরা, আপনি, আপনারা তোমাকে, তোকে, আপনাকে, সে, তারা, তিনি তাঁরা, এ, এরা, ওর, ওদের ইত্যাদি। 
২. আত্মবাচক সর্বনাম: 
- যেমন: নিজে, স্বয়ং ইত্যাদি।  
৩. নির্দেশক সর্বনাম:
- যেমন: এ, এই, এরা, ইনি, ও, ওই, ওরা, উনি।  
৪.অনির্দিষ্ট সর্বনাম:
- যেমন: কেউ, কোথাও, কিছু, একজন ইত্যাদি। 
৫. প্রশ্নবাচক সর্বনাম:
- যেমন: কে, কারা, কাকে, কার, কী ইত্যাদি।  
৬. সাপেক্ষ সর্বনাম:
- যেমন: যারা-তারা, যে-সে, যেমন-তেমন ইত্যাদি।  
৭. পারস্পরিক সর্বনাম:
- যেমন: পরস্পর, নিজেরা নিজেরা ইত্যাদি। 
৮. সকলবাচক সর্বনাম:
- যেমন: সকলে, সকলকে, সবার, সমস্ত, সব ইত্যাদি।  
৯. অন্যবাচক সর্বনাম:
- যেমন: অন্য, অপর, পর, অমুক ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২৩ সংস্করণ)।
১২.
কোন বাচ্যে রূপান্তরের সময়ে কর্তার সঙ্গে বিভিন্ন অনুসর্গ যোগ করতে হয়?
  1. কর্তাবাচ্যে
  2. কর্মবাচ্যে
  3. ভাববাচ্যে
  4. কর্মকর্তৃ বাচ্যে
সঠিক উত্তর:
কর্মবাচ্যে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কর্মবাচ্যে
ব্যাখ্যা
♠ কর্তাবাচ্য থেকে কর্মবাচ্যে পরিবর্তন:   
- কর্তাবাচ্যের বাক্যকে কর্মবাচ্যে পরিবর্তিত করতে হলে কর্তার সঙ্গে দ্বারা, দিয়ে, কর্তৃক ইত্যাদি অনুসর্গ যোগ করতে হয় এবং ক্রিয়ারূপকে কর্মের অনুসারী করতে হয়। 
- যেমন: 
• কর্তাবাচ্য: জাহানারা ইমাম একাত্তরের দিনগুলি রচনা করেছেন। 
• কর্মবাচ্য: জাহানারা ইমাম কর্তৃক একাত্তরের দিনগুলি রচিত হয়েছে। 

• কর্তাবাচ্য: তারা বাড়িটি তৈরি করেছে। 
• কর্মবাচ্য: তাদের দ্বারা বাড়িটি তৈরি হয়েছে।  

• কর্তাবাচ্য: প্রধান শিক্ষক জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেছেন। 
• কর্মবাচ্য: প্রধান শিক্ষক কর্তৃক জাতীয় পতাকা উত্তোলিত হয়েছে।   

উৎস:
বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ) এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।  
১৩.
'ছি ছি, তুমি এত নীচ!'- এ বাক্যে 'ছি ছি' কোন ধরনের অব্যয়?
  1. সমুচ্চয়ী অব্যয়
  2. পদান্বয়ী অব্যয়
  3. অনন্বয়ী অব্যয়
  4. ধ্বন্যাত্মক অব্যয়
সঠিক উত্তর:
অনন্বয়ী অব্যয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনন্বয়ী অব্যয়
ব্যাখ্যা
অব্যয় পদ: 
• ন ব্যয় = অব্যয়।
• যার ব্যয় বা পরিবর্তন হয় না, অর্থাৎ যা অপরিবর্তনীয় শব্দ তাই অব্যয়।
• অব্যয় শব্দের সাথে কোনো বিভক্তিচিহ্ন যুক্ত হয় না, সেগুলোর একবচন বা বহুবচন হয় না এবং সেগুলোর স্ত্রী ও পুরুষবাচকতা নির্ণয় করা যায় না।
• যে পদ সর্বদা অপরিবর্তনীয় থেকে কখনো বাক্যের শোভা বর্ধন করে, কখনো একাধিক পদের, বাক্যাংশের বা বাক্যের সংযোগ বা বিয়োগ সম্বদ্ধ ঘটায়, তাকে অব্যয় পদ বলে।

♣ অব্যয়ের প্রকারভেদ:   
• অব্যয় প্রধানত চার প্রকার; 
১. সমুচ্চয়ী,
২. অনন্বয়ী,
৩. অনুসর্গ বা পদান্বয়ী, 
৪. অনুকার বা ধ্বন্যাত্মক অব্যয়। 

♠ অনন্বয়ী অব্যয়: 
- যে সকল অব্যয় বাক্যের অন্য পদের সঙ্গে কোনো সম্বন্ধ না রেখে স্বাধীনভাবে নানাবিধ ভাব প্রকাশে ব্যবহৃত হয়, তাদের অনন্বয়ী অব্যয় বলে।
- যেমন: 
• উচ্ছ্বাস প্রকাশে: মরি মরি! কী সুন্দর প্রভাতের রূপ!
• স্বীকৃতি বা অস্বীকৃতি জ্ঞাপনে: হ্যাঁ, আমি যাব। না, আমি যাব না।
• সম্মতি প্রকাশে: আমি আজ আলবত যাব। নিশ্চয়ই পারব। 
• অনুমোদনবাচকতায়: আপনি যখন বলছেন, বেশ তো আমি যাব। 
• সমর্থনসূচক জবাবে: আপনি যা জানেন তা তো ঠিকই বটে।
• যন্ত্রণা প্রকাশে: উঃ! পায়ে বড্ড লেগেছে। নাঃ! এ কষ্ট অসহ্য। 

• ঘৃণা বা বিরক্তি প্রকাশে: ছি ছি, তুমি এত নীচ!
কী আপদ! লোকটা যে পিছু ছাড়ে না।   

• সম্বোধনে: 'ওগো, আজ তোরা যাস নে ঘরের বাহিরে।' 
• সম্ভাবনায়: ‘সংশয়ে সংকল্প সদা টলে; পাছে লোকে কিছু বলে। 

• বাক্যালংকার অব্যয় :
- কয়েকটি অব্যয় শব্দ নিরর্থকভাবে ব্যবহৃত হয়ে বাক্যের শোভাবর্ধন করে, এদের বাক্যালংকার অব্যয় বলে। যেমন-
১. কত না হারানো স্মৃতি জাগে আজও মনে।  
২. ‘হায়রে ভাগ্য, হায়রে লজ্জা, কোথায় সভা, কোথায় সজ্জা।’ 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।   
১৪.
শব্দের শেষে 'ই-কার' ও 'উ-কার' থাকলে সাধারণত কোন বিভক্তি হয়?
  1. -এ বিভক্তি
  2. -তে বিভক্তি
  3. -য় বিভক্তি
  4. -য়ে বিভক্তি
সঠিক উত্তর:
-তে বিভক্তি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
-তে বিভক্তি
ব্যাখ্যা
বিভক্তি: 
• বাক্যের মধ্যে অন্য শব্দের সাথে সম্পর্ক বোঝাতে বিশেষ্য ও সর্বনামের সঙ্গে অর্থহীন কিছু লগ্নক যুক্ত হয়, সেগুলোকে বিভক্তি বলে।
 • যেমন: এ, -তে, য়, য়ে, কে, রে, -র, এর, -য়ের ইত্যাদি।  

♣ বিভক্তিগুলোকে তিন ভাগে বিভক্ত করে দেখানো যায়। 
১. -এ, -তে, য়, -য়ে বিভক্তি; 
• সাধারণত ক্রিয়ার স্থান, কাল, ভাব বোঝাতে এ, -তে, য়, -য়ে ইত্যাদি বিভক্তির ব্যবহার হয়। কখনো কখনো বাক্যের কর্তার সঙ্গেও এসব বিভক্তি বসে। 
• যেসব শব্দের শেষে কারচিহ্ন নেই, সেসব শব্দের সঙ্গে -এ বিভক্তি যুক্ত হয়। যেমন: সকালে, দিনাজপুরে, ইমেইলে, কম্পিউটারে, ছাগলে, তিলে ইত্যাদি। 

• শব্দের শেষে ই-কার ও উ-কার থাকলে -তে বিভক্তি হয়। 

- যেমন: হাতিতে, রাত্রিতে, মধুতে,রামুতে ইত্যাদি। 

• আ-কারান্ত শব্দের শেষে -য় বিভক্তি হয়। যেমন – ঘোড়ায়, সন্ধ্যায়, ঢাকায় ইত্যাদি। 
• শব্দের শেষে দ্বিস্বর থাকলে -য়ে বিভক্তি হয়। যেমন – ছইয়ে, ভাইয়ে, বউয়ে।
•  ই-কারাপ্ত শব্দের শেষেও -য়ে বিভক্তি দেখা যায়। যেমন – ঝিয়ে, ঘিয়ে।  

২. -কে, -রে বিভক্তি। 
৩. -র, -এর, -য়ের বিভক্তি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।  
১৫.
বাংলা উপসর্গের মধ্যে কয়টি উপসর্গ তৎসম (সংস্কৃত) উপসর্গেও বিদ্যমান?
  1. ২টি
  2. ৩টি
  3. ৪টি
  4. ৫টি
সঠিক উত্তর:
৪টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৪টি
ব্যাখ্যা
উপসর্গ: 
- যেসব অর্থহীন শব্দাংশ অন্য শব্দের শুরুতে বসে নতুন শব্দ গঠন করে, সেগুলোকে উপসর্গ বলে।।
- এদের প্রভাবে শব্দটির কয়েক ধরনের পরিবর্তন সাধিত হয়। 
- উপসর্গ অব্যয়সূচক শব্দাংশ।   
- যেমন: 'কাজ' একটি শব্দ। এর আগে 'অ' অব্যয়টি যুক্ত হলে হয় ‘অকাজ’ – যার অর্থ নিন্দনীয় কাজ। এখানে অর্থের সংকোচন হয়েছে। 

♠ বাংলা ভাষায় তিন প্রকার উপসর্গ আছে: বাংলা, তৎসম (সংস্কৃত) এবং বিদেশি উপসর্গ।  
১. বাংলা উপসর্গ:
• বাংলা উপসর্গ মোট একুশটি:
• অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা। 

২. তৎসম (সংস্কৃত) উপসর্গ:
•  তৎসম উপসর্গ বিশটি:  
• প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অপি, অভি, উপ, আ।   

- বাংলা উপসর্গ যেমন বাংলা শব্দের আগে বসে, তেমনি তৎসম উপসর্গ তৎসম (সংস্কৃত) শব্দের আগে বসে।
- বাংলা উপসর্গের মধ্যে আ, সু, বি, নি- এ চারটি উপসর্গ তৎসম শব্দেও পাওয়া যায়। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২৩ সংস্করণ) এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১৬.
'কলমের খোঁচা দিও না'- বাক্যে 'কলমের' কোন কারক? 
  1. কর্তা কারক
  2. কর্ম কারক
  3. করণ কারক
  4. অপাদান কারক
সঠিক উত্তর:
করণ কারক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
করণ কারক
ব্যাখ্যা
♣ করণ কারক: 
- যার দ্বারা বা যে উপায়ে কর্তা ক্রিয়া সম্পাদন করে, তাকে করণ কারক বলে। 
- এই কারকে সাধারণত 'দ্বারা', দিয়ে', 'কর্তৃক' ইত্যাদি অনুসর্গ যুক্ত হয়।  
- যেমন:  
• এ সুতায় কপড় হয় নাহ। 
কথায় কথা বাড়ে।  
কাঁথায় শীত মানে না। 
কলমের খোঁচা দিও না। 
• এখনো তোমার গানে সহসা উদ্বেল হয়ে উঠি।     
ভেড়া দিয়ে চাষ করা সম্ভব নয়।

• ছাত্ররা বল খেলে। 
ফুলে ফুলে ঘর ভরেছে।   
মন দিয়া সব করে বিদ্যা উপার্জন। 
• চাষিরা ধারালো কাস্তে দিয়ে ধান কাটছে।    
চেষ্টায় সব হয়। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ), বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৭.
ভাববাচ্যের বাক্যকে কর্তাবাচ্যে রূপান্তরিত করতে হলে নিচের কোনটিকে কর্তার অনুসারী করতে হয়?
  1. কর্মকে
  2. বিশেষণকে
  3. ক্রিয়াকে
  4. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
ক্রিয়াকে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্রিয়াকে
ব্যাখ্যা
ভাববাচ্য থেকে কর্তাবাচ্য:  
- ভাববাচ্যের বাক্যকে কর্তাবাচ্যে রূপান্তরিত করতে হলে ক্রিয়াকে কর্তার অনুসারী করতে হয়।  
- যেমন: 
• ভাববাচ্য: একটু বাইরে বেড়িয়ে আসা যাক। 
• কর্তাবাচ্য: একটু বাইরে বেড়িয়ে আসি। 

• ভাববাচ্য: এবার বাঁশিটি বাজানো হোক।
• কর্তাবাচ্য: এবার বাঁশিটি বাজাও। 

• ভাববাচ্য: এবার একটি গান করা হোক।
• কর্তাবাচ্য: এবার (তুমি) একটি গান কর।  

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ) এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১৮.
'মেঘ করলে বৃষ্টি হয়' - বাক্যটির জটিল রূপ নিচের কোনটি?
  1. মেঘ করে, এবং তখন বৃষ্টি হয়।
  2. যখন মেঘ করে, বৃষ্টি হয়।
  3. যখন মেঘ করে, তখন বৃষ্টি হয়।
  4. যদি মেঘ করে তখন বৃষ্টি হয়।
সঠিক উত্তর:
যখন মেঘ করে, তখন বৃষ্টি হয়।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যখন মেঘ করে, তখন বৃষ্টি হয়।
ব্যাখ্যা
♠ সরল বাক্য:
- যে বাক্যে একটি সমাপিকা ক্রিয়া থাকে, তাকে সরল বাক্য বলে।
• তুমি এলে আমি যাব।
• দয়া করে সব খুলে বলুন।  
• সূর্যোদয়ে অন্ধকার দূর হয়। 
• সত্য কথা না বলে বিপদে পড়েছ। 
• আমরা তিন ভাইবোন ( ক্রিয়া অনুপস্থিত)।

♠ জটিল বাক্য:  
- যে-সে, যারা-তারা, যিনি-তিনি, যা-তা প্রভৃতি সাপেক্ষ সর্বনাম;
- এবং যদি-তবে, যদিও-তবু, যেহেতু-সেহেতু, যত-তত, যেমন-তেমন প্রভৃতি সাপেক্ষ যোজক দিয়ে যখন অধীন বাক্যগুলো যুক্ত থাকে, তাকে জটিল বাক্য বলে।   
 
• যদিও তিনি ধনী, তথাপি তিনি সুখী না। 
•  যদি সে কাল আসে, তাহলে আমি যাব। 
• যে ছেলেটি এখানে এসেছিল, সে আমার ভাই।
• যখন বৃষ্টি নামল, তখন আমরা ছাতা খুঁজতে শুরু করলাম।  

♣ সরল বাক্য থেকে জটিল বাক্য:  
- যে-সে, যিনি-তিনি, যারা তারা, যা-তা ইত্যাদি সাপেক্ষ সর্বনাম এবং যদি তবে, যেহেতু সেহেতু, যখনতখন, যত-তত, যেমন-তেমন ইত্যাদি সাপেক্ষ যোজক যুক্ত করে সরল বাক্যকে জটিল বাক্যে রূপান্তরিত করা যায়।
- যেমন: 
• সরল বাক্য: মেঘ করলে বৃষ্টি হয়। 
• জটিল বাক্য: যখন মেঘ করে, তখন বৃষ্টি হয়।    

• সরল বাক্য: সূর্যোদয়ে পদ্মফুল ফোটে। 
• জটিল বাক্য: যখন সূর্য উদিত হয়, তখন পদ্মফুল ফোটে।  
• সরল বাক্য: দুর্জন লোক পরিত্যাজ্য। 
• জটিল বাক্য: যেসব লোক দুর্জন, তারা পরিত্যাজ্য। 
• সরল বাক্য: তুমি চেষ্টা না করায় ব্যর্থ হয়েছ। 
• জটিল বাক্য: যেহেতু তুমি চেষ্টা করোনি, তাই ব্যর্থ হয়েছ।    

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২৩ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৯.
নিচের কোনটি মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস?
  1. হাতেখড়ি
  2. বিজয়-পতাকা
  3. চিরুনদাঁতি
  4. বিড়ালচোখী
সঠিক উত্তর:
বিজয়-পতাকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিজয়-পতাকা
ব্যাখ্যা
কর্মধারয় সমাস:  
- যেখানে বিশেষণ বা বিশেষণভাবাপন্ন পদের সাথে বিশেষ্য বা বিশেষ্যভাবাপন্ন পদের সমাস হয় এবং পরপদের অর্থই প্রধান রূপে প্রতীয়মান হয়, তাকে কর্মধারয় সমাস বলে।
- যেমন:
• নীল যে পদ্ম = নীলপদ্ম;
• শান্ত অথচ শিষ্ট = শান্তশিষ্ট;
• কাঁচা অথচ মিঠা = কাঁচামিঠা। 

♠ কর্মধারয় সমাসের প্রকারভেদ 
- কর্মধারয় সমাস কয়েক প্রকার; 
• দ্বিগু কর্মধারয়,
• মধ্যপদলোপী,
• উপমান,
• উপমিত ও
• রূপক কর্মধারয় সমাস।

♣♣ মধ্যপদলোপী কর্মধারয় : 
- যে কর্মধারয় সমাসে ব্যাসবাক্যের মধ্যপদের লোপ হয়, তাকে মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস বলে। যথা-
• ঘি মাখানো ভাত = ঘিভাত;
• হাতে পরা হয় যে ঘড়ি = হাতঘড়ি; 
বিজয় নির্দেশক পতাকা = বিজয়-পতাকা; 
• সিংহ চিহ্নিত আসন - সিংহাসন, 
• সাহিত্য বিষয়ক সভা- সাহিত্যসভা, 
• স্মৃতি রক্ষার্থে সৌধ= স্মৃতিসৌধ।

♠♠
পদলোপী বহুব্রীহি:  
• চিরুনির মতো দাঁত যার = চিরুনদাঁতি;
• হাতে খড়ি দেওয়া হয় যে অনুষ্ঠানে = হাতেখড়ি;
• বিড়ালের চোখের ন্যায় চোখ যে নারীর = বিড়ালচোখী;  
• কমলাক্ষ, শূর্পণখা, দশবছুরে ইত্যাদি।   

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২৩ সংস্করণ) এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২০.
'আকাশ' শব্দটি কোন ধরণের বিশেষ্য?
  1. নাম-বিশেষ্য
  2. জাতি-বিশেষ্য
  3. বস্তু-বিশেষ্য
  4. গুণ-বিশেষ্য
সঠিক উত্তর:
বস্তু-বিশেষ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বস্তু-বিশেষ্য
ব্যাখ্যা
বিশেষ্য: 
- যেসব শব্দ দিয়ে ব্যক্তি, প্রাণী, স্থান, বস্তু, ধারণা ও গুণের নাম বোঝায়, সেগুলোকে বিশেষ্য বলে।
- যেমন: নজরুল, বাঘ, ঢাকা, ইট, ভোজন, সততা ইত্যাদি। 

♣ বিশেষ্য সাধারণত ছয় প্রকার: 
১. নাম-বিশেষ্য:
- ব্যক্তি, স্থান, দেশ, কাল, সৃষ্টি প্রভৃতির সুনির্দিষ্ট নামকে নাম-বিশেষ্য বলা হয়। 
- যেমন: হাবিব, সজল, বাংলাদেশ, পদ্মা, বৈশাখ ইত্যাদি।

২. জাতি-বিশেষ্য:
- জাতি-বিশেষ্য সাধারণ-বিশেষ্য নামেও পরিচিত।
- এ ধরনের বিশেষ্য নির্দিষ্ট কোনো নামকে না বুঝিয়ে প্রাণী ও অপ্রাণীর সাধারণ নামকে বোঝায়।
- যেমন: মানুষ, গরু, ফুল, নদী ইত্যাদি।

৩. বস্তু-বিশেষ্য:
- কোনো দ্রব্য বা বস্তুর নামকে বস্তু-বিশেষ্য বলে।
 
- যেমন: ইট, লবণ, আকাশ ইত্যাদি।   

৪. সমষ্টি-বিশেষ্য:
- এ ধরনের বিশেষ্য দিয়ে ব্যক্তি বা প্রাণীর সমষ্টিকে বোঝায়।  
- যেমন: জনতা, পরিবার, বাহিনী ইত্যাদি।  

৫. গুণ-বিশেষ্য:
- গুণগত অবস্থা ও ধারণার নামকে গুণ-বিশেষ্য বলে। 
- যেমন: সরলতা, দয়া, দীনতা, ধৈর্য ইত্যাদি।   

৬. ক্রিয়া-বিশেষ্য:
- যেমন: ক্রিয়া বা কাজের নাম বুঝায়। পঠন, ভোজন,শয়ন, করা ইত্যাদি।  

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২৩ সংস্করণ)।
২১.
নিচের কোনটি পরিমাণবাচক বিশেষণ নির্দেশ করে?
  1. আধা
  2. তরল
  3. কঠিন
  4. ঘোলা
সঠিক উত্তর:
আধা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আধা
ব্যাখ্যা
বিশেষণ:
- যে শব্দ দিয়ে সাধারণত বিশেষ্য ও সর্বনামের গুণ, দোষ, সংখ্যা, পরিমাণ, অবস্থা ইত্যাদি বোঝায়, তাকে বিশেষণ বলে।
- যেমন: সুন্দর ফুল, বাজে কথা, পঞ্চাশ টাকা।   

♣ বিশেষণের শ্রেণিবিভাগ:
১. বর্ণবাচক:
- রং নির্দেশ করা হয়। যেমন: কালো, নীল, সবুজ, লাল।
২. গুণবাচক:
- গুণ বা বৈশিষ্ট্য বোঝায়। যেমন: চালাক, ঠান্ডা। 
৩. অবস্থাবাচক:
- অবস্থা বোঝায়। যেমন: তাজা, রোগা,  চলন্ত, তরল, কঠিন।   
৪. ক্রমবাচক:
- ক্রমসংখ্যা বোঝায়। যেমন:  এক, আট।
৫. পূরণবাচক:
- পূরণসংখ্যা বোঝায়। যেমন: তৃতীয়, ৩৪তম। 
৬. পরিমাণবাচক:
- পরিমাণ বা আয়তন বোঝায়। যেমন: আধা, অনেক।
৭. উপাদানবাচক:
- উপাদান নির্দেশ করে। যেমন: বেলে, পাথুরে। 
৮. প্রশ্নবাচক:
-প্রশ্নঝচকতা নির্দেশিত হয়। যেমন: কেমন, কতক্ষণ।
৯. নির্দিষ্টবাচক:
- বিশেষিত শব্দকে নির্দিষ্ট করা হয়। যেমন: এই, সেই। 
১০. ভাববাচক:
-বাক্যের অন্তর্গত অন্য বিশেষণকে বিশেষিত করে। যেমন: খুব, বেশ।
১১. বিধেয় বিশেষণ:
- বাক্যের বিধেয় অংশে যেসব বিশেষণ বসে, সেসব বিশেষণকে বিধেয় বিশেষণ বলে। যেমন: যেমন: পাগল, ঘোলা।   

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২৩ সংস্করণ) এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২২.
কোনো কথকের বাক কর্মের নামকে কী বলে?
  1. বাক্য
  2. বাচ্য
  3. উক্তি
  4. প্রবাদ
সঠিক উত্তর:
উক্তি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উক্তি
ব্যাখ্যা
উক্তি:  
- বক্তার কথা উপস্থাপনের ধরনকে উক্তি বলে।
- কোনো কথকের বাক কর্মের নামই উক্তি।  
- উক্তি দুই প্রকার: প্রত্যক্ষ উক্তি ও পরোক্ষ উক্তি।  
- যেমন:   
• ছেলেটি বলেছিল, “আজ আমি অনেক পড়েছি।” - এটি প্রত্যক্ষ উক্তি। 
• ছেলেটি বলেছিল যে, সেদিন সে অনেক পড়েছে। - এটি পরোক্ষ উক্তি।  

- যে উক্তিতে বক্তার কথা সরাসরি উদ্ধৃত করা হয়, তাকে বলে প্রত্যক্ষ উক্তি। 
- আর যে উক্তিতে বক্তার কথা অন্যের দ্বারা বর্ণিত হয়, তাকে বলে পরোক্ষ উক্তি।  

♠ প্রত্যক্ষ উক্তি লেখার সময়ে উদ্ধারচিহ্ন ব্যবহৃত হয়।
- যেমন:   
• রফিক হেসে বললো, “আমি আপনাকে লক্ষ করিনি।”  
• কালো চুলের মানুষটি বলল, “দশ পর্যন্ত গুনতে পারি। যোগ কী আমার ধারণা আছে। কিন্তু বিয়োগ করতে পারি না।” 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২৩ সংস্করণ) এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২৩.
পাভেল বললো, “আমার জানামতে সাগর এ বাসায় থাকে।”- উক্তিটির পরোক্ষ উক্তি নিচের কোনটি?
  1. পাভেল বললো যে, আমার জানামতে সাগর সে বাসায় থাকতো। 
  2. পাভেল বললো যে, তার জানামতে সাগর এ বাসায় থাকতো। 
  3. পাভেল বললো যে, তার জানামতে সাগর সে বাসায় থাকতো।  
  4. পাভেল বললো যে, তার জানামতে সে এ বাসায় থাকতো।
সঠিক উত্তর:
পাভেল বললো যে, তার জানামতে সাগর সে বাসায় থাকতো।  
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পাভেল বললো যে, তার জানামতে সাগর সে বাসায় থাকতো।  
ব্যাখ্যা
উক্তি পরিবর্তন:   
♣ প্রত্যক্ষ উক্তির যেখান থেকে উদ্ধারচিহ্ন শুরু হয়, পরোক্ষ উক্তিতে সেখানে যোজক 'যে' বসে এবং উদ্ধারচিহ্ন উঠে যায়।
- যেমন:  
• প্রত্যক্ষ উক্তি: নেতা বললেন, “আমি জনগণের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করতে চাই।”
• পরোক্ষ উক্তি: নেতা বললেন যে, তিনি জনগণের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করতে চান।

♣ অর্থের সংগতি রাখার জন্য বাক্যে ব্যবহৃত সর্বনামের পরিবর্তন প্রয়োজন হয়।  
- যেমন:   
• প্রত্যক্ষ উক্তি: মিহির বললো, “আমার জানামতে সবুজ বাসায় থাকে।”
• পরোক্ষ উক্তি: মিহির বললো যে, তার জানামতে সবুজ সে বাসায় থাকতো।    

• প্রত্যক্ষ উক্তি: রশিদ বলল, “আমার ভাই আজই ঢাকা যাচ্ছেন।”
• পরোক্ষ উক্তি: রশিদ বলল যে, তার ভাই সেদিনই ঢাকা যাচ্ছিলেন।   

উৎস:
বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২৩ সংস্করণ) এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২৪.
'আমার যাওয়া হবে না'-  বাক্যে আমার কোন কারক? 
  1. কর্তা কারক
  2. কর্ম কারক
  3. করণ কারক
  4. সম্বন্ধ কারক
সঠিক উত্তর:
কর্তা কারক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কর্তা কারক
ব্যাখ্যা
কর্তা কারক: 
- ক্রিয়া যার দ্বারা সম্পাদিত হয়, তাকে কর্তাকারক বলে।  
- বাক্যের কর্তা বা উদ্দেশ্যই কর্তা কারক।
- কর্তা কারকে সাধারণত বিভক্তি যুক্ত হয় না। 
- যেমন:
গরুতে দুধ দেয়। 
বুলবুলিতে ধান খেয়েছে খাজনা দিব কিসে?   
গাঁয়ে মানে না, আপনি মোড়ল।  
আমার যাওয়া হবে না। 
বাঁশি বাজে। 
শিক্ষক ছাত্রদের ব্যাকরণ পড়াচ্ছেন।  
বাঘে-মহিষে এক ঘাটে জল খায়।  
আমরা নদীর ঘাট থেকে রিকশা নিয়েছিলাম। 
অনেকগুলো বন্য হাতি বাগান নষ্ট করে দিল।  
 
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ) এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।  
২৫.
নিচের কোন শব্দটি দুটি উপসর্গযোগে গঠিত?
  1. সম্প্রদান
  2. সম্পূর্ণ
  3. সমৃদ্ধ
  4. সম্মুখ
সঠিক উত্তর:
সম্প্রদান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সম্প্রদান
ব্যাখ্যা
উপসর্গ:
• যেসব অর্থহীন শব্দাংশ অন্য শব্দের শুরুতে বসে নতুন শব্দ গঠন করে, সেগুলোকে উপসর্গ বলে।
• অজানা (অ+জানা), অভিযোগ (অভি+যোগ), বেতার (বে+তার) প্রভৃতি শব্দের ‘অ', 'অভি', 'বে' হলো উপসর্গ। 
• উপসর্গের নিজের অর্থ নেই; কিন্তু নতুন নতুন অর্থবোধক শব্দ তৈরিতে উপসর্গ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
• এজন্য বলা হয় – উপসর্গের অর্থ নেই, কিন্তু অর্থের দ্যোতনা তৈরি করার ক্ষমতা আছে। 

♠ বাংলা ভাষায় তিন প্রকার উপসর্গ আছে: বাংলা, তৎসম (সংস্কৃত) এবং বিদেশি উপসর্গ।   

♣♣ অনেক সময়ে শব্দের শুরুতে একসঙ্গে একাধিক উপসর্গ বসতে পারে।  
- যেমন: 
• 'সম্প্রদান' শব্দে 'দান'-এর আগে ‘সম্‌' এবং ‘প্র’ – এই দুটি উপসর্গ যুক্ত হয়েছে। 
• একইভাবে 'বিনির্মাণ' শব্দে 'মান'-এর আগে বসেছে ‘বি’ এবং ‘নির্’ উপসর্গ। 

♠ সম্পূর্ণ, সমৃদ্ধ, সম্মুখ  প্রভৃতি শব্দে 'সম্‌' উপসর্গটি ব্যবহৃত হয়েছে।  

উৎস
: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২৩ সংস্করণ) এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।