পরীক্ষা আর্কাইভ

স্পেশাল বিসিএস (স্বাস্থ্য) - লং কোর্স

পরীক্ষাস্পেশাল বিসিএস (স্বাস্থ্য) - লং কোর্সতারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়14 minutes
মোট প্রশ্ন
সিলেবাস
টপিক: বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন ও মধ্যযুগ। উৎস: ষষ্ঠ থেকে উচ্চ-মাধ্যমিক শ্রেণি পর্যন্ত বাংলা সাহিত্যপাঠ বোর্ড বই [NCTB ও উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়], যেকোনো একজন ভালো একাডেমিক লেখকের বই; বাংলাপিডিয়া; বাজারে প্রচলিত যেকোনো ভালো গাইড বই। [গাইড বই থেকে পড়ার ক্ষেত্রে কনফিউজিং বিষয়গুলো ক্রসচেক করে পড়া উত্তম।]
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

স্পেশাল বিসিএস (স্বাস্থ্য) - লং কোর্স

স্পেশাল বিসিএস (স্বাস্থ্য) - লং কোর্স · তারিখ অনির্ধারিত · প্রশ্ন

.
বাংলা সাহিত্যের কোন যুগে ধর্মই মুখ্য ছিল?
  1. প্রাচীন যুগ
  2. মধ্যযুগ
  3. অন্ধকার যুগ
  4. খ + গ
সঠিক উত্তর:
খ + গ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ + গ
ব্যাখ্যা
• কালবিচারে বাংলা সাহিত্যকে তিনটি প্রধান ভাগে ভাগ করা যায। যথা:
১. প্রাচীন যুগ (৬৫০ - ১২০০),
২. মধ্যযুগ (১২০০ - ১৮০০) ও
৩. আধুনিক যুগ (১৮০০ - বর্তমান)।

• মধ্যযুগ আবার তিনভাগে বিভক্ত। যথা:
১. আদি-মধ্যযুগ বা অন্ধকার যুগ (১২০১ - ১৩৫০),
২. মধ্য-মধ্যযুগ (১৩৫১ - ১৭০০) ও
৩. অন্ত্য-মধ্যযুগ (১৭০১ - ১৮০০)।

• বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন যুগে ব্যক্তি ও সমষ্টিজীবনই প্রধান ছিল, ধর্ম প্রধান ছিল না।
• বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগে ধর্মটাই মুখ্য ছিল, মানুষ হয়ে পড়ে গৌণ।
• আধুনিক যুগে মানুষ মুখ্য হয় এবং মানবতাই একমাত্র কাম্য হয়ে ওঠে, সে সঙ্গে যোগ হয় অন্ধবিশ্বাসের বদলে যুক্তিশীলতা। স্বাজাত্যবোধ, স্বদেশপ্রেম, ব্যক্তিস্বাধীনতা বিশেষ করে নারী-স্বাধীনতা আধুনিক যুগের অন্যতম বৈশিষ্ট্য।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
.
কার মৃত্যুর মধ্য দিয়ে বাংলা সাহিত্যে মধ্যযুগের সমাপ্তি ঘটে?
  1. ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
  2. গঙ্গাকিশোর ভট্টাচার্য
  3. ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর
  4. রামপ্রসাদ সেন
সঠিক উত্তর:
ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর
ব্যাখ্যা
ভারতচন্দ্র রায়গুণাকরের মৃত্যুর মধ্য দিয়ে বাংলা সাহিত্যে মধ্যযুগের সমাপ্তি ঘটে।

অন্যদিকে,
• ভারতচন্দ্র রায়গুণাকরের মৃত্যু (১৭৬০ খ্রিষ্টাব্দ) থেকে ১৮৬০ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত সময়কে বলা হয় যুগসন্ধিক্ষণ।
- যুগসন্ধিক্ষণের কবি বলা হয় ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তকে।
• অন্নদামঙ্গল কাব্য প্রথম মুদ্রিত করেন - গঙ্গাকিশোর ভট্টাচার্য।
• শাক্তপদাবলির আদি ও শ্রেষ্ঠ কবি - রামপ্রসাদ সেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
.
অন্ধকার যুগে বাংলার কোন শাসকের রাজত্বকালে কিছুটা রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ছিল?
  1. আলাউদ্দীন হুসেন শাহ
  2. নাসিরুদ্দীন নুসরত শাহ
  3. ফখরুদ্দীন মুবারক শাহ
  4. শামসুদ্দীন ইলিয়াস শাহ
সঠিক উত্তর:
শামসুদ্দীন ইলিয়াস শাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শামসুদ্দীন ইলিয়াস শাহ
ব্যাখ্যা
অন্ধকার যুগ:
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে ১২০১ খ্রিষ্টাব্দ থেকে ১৩৫০ পর্যন্ত অন্ধকার যুগ হিসেবে পরিচিত।
- ১৩৪২ সালে শামসুদ্দীন ইলিয়াস শাহ বাংলার সিংহাসনে বসলে রাজনৈতিক স্থায়িত্বের সম্ভাবনার সূচনা ঘটে।
- এই রাজবংশ প্রথম পর্যায়ে ৭১ বছর রাজত্ব করে শান্তি ও শৃঙ্খলা স্থাপনে সচেষ্ট হন।

• এ সময়ে বাংলা সাহিত্যের ব্যাপক নিদর্শন পাওয়া না গেলেও অন্যান্য ভাষায় সাহিত্যসৃষ্টির নিদর্শন বর্তমান থাকাতে অন্ধকার যুগের অপবাদের অসারতা প্রমাণিত হয়।
- এ সময়ের প্রথমেই 'প্রাকৃত পৈঙ্গলের' মত প্রাকৃত ভাষার গীতিকবিতা গ্রন্থ সংকলিত হয়েছে।
- রামাই পণ্ডিত রচিত 'শূন্যপুরাণ' এবং এর 'কলিমা জলাল' বা 'নিরঞ্জনের উষ্মা', ডাক ও খনার বচন, হলায়ুধ মিশ্র রচিত 'সেক শুভোদয়ার' অন্তর্গত পীর-মাহাত্ম্যজ্ঞাপক বাংলা 'আর্যা' অথবা 'ভাটিয়ালী রাগেণ গীয়তে' নির্দেশক বাংলা গান প্রভৃতি এ সময়ের বাংলা সাহিত্যসৃষ্টির নমুনা হিসেবে উল্লেখযোগ্য।
- রাহুল সংকৃত্যায়ন এই সময়ে রচিত কিছু চর্যাপদ সংগ্রহ করে প্রকাশ করেছেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
.
'ঘুণ্টি উপাড়ী মেলিলি কাছি।
বাহ তু কামলি সদগুরু পুছি।।' - পদটির রচয়িতা কে?
  1. কঙ্কণপা
  2. কাহ্নপা
  3. কুক্কুরীপা
  4. কম্বলাম্বরপা
সঠিক উত্তর:
কম্বলাম্বরপা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কম্বলাম্বরপা
ব্যাখ্যা
• নৌকার উৎপ্রেক্ষা ব্যবহৃত হয়েছে অনেক চর্যায়।
- নদীমাতৃক বাংলাদেশে নৌকা একটি সাধারণ উপমা।
- ৮, ১৩, ১৪, ১৫, ১৮ ইত্যাদি সংখ্যক চর্যায় নৌকা চালনা, গুণ টানা, জল সেচা ইত্যাদির যে বিবরণ আছে তাতে মনে হয় নৌকা বাওয়া এদেশের জীবনে একটি জনপ্রিয় বৃত্তি ছিল।

ঘুণ্টি উপাড়ী মেলিলি কাছি।
বাহ তু কামলি সদগুরু পুছি।। (চর্যা নং ৮)

অর্থাৎ, খুঁটি উপড়িয়ে কাছি মেলে দিয়ে, কামলি তুমি সদগুরু জিজ্ঞেস করে বেয়ে চল।
- চর্যাপদে সাগরের উল্লেখ আছে। কিন্তু সাগরের বর্ণনা নেই।

কম্বলাম্বরপা:
- তিনি খ্রিষ্টীয় অষ্টম শতকের প্রারম্ভের কবি।
- তিনি কঙ্কর নামক স্থানের রাজপুত্র ছিলেন, মতান্তরে তাঁর জন্মস্থান ছিল উড়িষ্যা।
- তিনি জালন্ধরীপার গুরু ছিলেন।
- তিনি চর্যাপদের ৮নং পদটি রচনা করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
.
কাহ্নপার শিষ্য ছিলেন -
  1. ডোম্বীপা
  2. ধর্মপা
  3. বিরুপা
  4. বীণাপা
সঠিক উত্তর:
ধর্মপা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধর্মপা
ব্যাখ্যা
ধর্মপা:
- খ্রিষ্টীয় নবম শতকে বিক্রমশীলায় তাঁর অবস্থান ছিল।
- তিনি কাহ্নপার শিষ্য ছিলেন।
- চর্যাপদের ৪৭নং পদ তাঁর রচনা।
- এই পদের বিশেষত্ব - এখানে অগ্নিকাণ্ডের প্রতীকে গভীর যোগতত্ত্বের কথা আছে।

অন্যদিকে,
- বিরুপার শিষ্য ছিলেন - ডোম্বীপা।
- জালন্ধরীপার শিষ্য ছিলেন - বিরুপা।
- ভাদেপার শিষ্য ছিলেন - বীণাপা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
.
'বাল্মীকি যেমন সংস্কৃতের আদি কবি কৃত্তিবাসও তেমনি বাঙলার আদি কবি।' - মন্তব্যটি করেছেন কে?
  1. গোপাল হালদার
  2. গোবিন্দ হালদার
  3. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  4. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
সঠিক উত্তর:
গোপাল হালদার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গোপাল হালদার
ব্যাখ্যা
কৃত্তিবাস ওঝা:
 - গঙ্গার তীরে নদীয়া জেলার ফুলিয়া গ্রামে মুখুটি বংশে ১৩৯৮, মতান্তরে ১৪০৩ খ্রিষ্টাব্দে তাঁর জন্ম।
- কৃত্তিবাস ওঝা চৈতন্যপূর্ব যুগের কবি, 'শ্রীরাম পাঁচালি' তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনা।
- কৃত্তিবাসের কৃতিত্ব হলো, তিনি বাংলা ভাষায় প্রথম রামায়ণ  রচনা করেন।
- বাল্মীকির রামায়ণকে সামনে রাখলেও তিনি মহাকাব্যটি অনুবাদ করে মূলত পুনঃরচনাই করেন।
- তাঁর রামায়ণ এতোটাই জনপ্রিয়তা অর্জন করে যে, ১৮০২-০৩ খ্রিষ্টাব্দে শ্রীরামপুরের পাদ্রিরা তাদের নব প্রতিষ্ঠিত প্রেসে গ্রন্থটি মুদ্রণ করেন। এ কারণে গোপাল হালদার মন্তব্য করেছেন, 'বাল্মীকি যেমন সংস্কৃতের আদি কবি কৃত্তিবাসও তেমনি বাঙলার আদি কবি।'
- কৃত্তিবাসের রামায়ণে চরিত্রসমূহ বাঙালি ঘরোয়া আমেজে সকলের পরিচিত হয়ে উঠেছে।
- মধুসূদন দত্ত একটি সনেটে কবিকে 'কীর্তিবাস তুমি' বলে শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করেছেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
.
'নদের চাঁদ' কোন পালার চরিত্র?
  1. কঙ্ক ও লীলা
  2. দেওয়ানা মদিনা
  3. মলুয়া
  4. মহুয়া
সঠিক উত্তর:
মহুয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মহুয়া
ব্যাখ্যা
মহুয়া পালা:
- 'মহুয়া' মৈমনসিংহ-গীতিকার অন্তর্গত একটি পালা।
- নমশূদ্রদের ব্রাহ্মণ কবি দ্বিজ কানাই ১৬৫০ খ্রিষ্টাব্দের দিকে মহুয়া পালা রচনা করেন বলে অধ্যাপক দীনেশচন্দ্র সেনের ধারণা।
- এই পালার কাহিনির সঙ্গে কবির ব্যক্তিগত প্রেমবঞ্চনার বেদনার সাদৃশ্য রয়েছে।
- মহুয়ার পালার উল্লেখযোগ্য চরিত্র: মহুয়া, নদের চাঁদ, হুমরা বেদে, সাধু।
- মহুয়া পালার কয়েকটি পঙ্‌ক্তি -

১. ছয় মাসের শিশু কইন্যা পরমা সুন্দরী।।
রাত্রি নিশাকালে হুমরা তারে করল চুরী।।

২. লজ্জা নাই নির্লজ্জ ঠাকুর লজ্জা নাইরে তর।।
গলায় কলসী বাইন্দা জলে ডুব্যা মর।।
কোথায় পাব কলসী কইন্যা কোথায় পাব দড়ী।।
তুমি হও গহীন গাঙ্গ আমি ডুব্যা মরি।।

• উল্লেখ্য, 'কঙ্ক ও লীলা', 'দেওয়ানা মদিনা', 'মলুয়া' তিনটি পালাও মৈমনসিংহ-গীতিকার অন্তর্গত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
.
বিপ্রদাস পিপিলাই রচিত কাব্যের নাম -
  1. কালিকামঙ্গল
  2. চণ্ডীমঙ্গল
  3. ধর্মমঙ্গল
  4. মনসাবিজয়
সঠিক উত্তর:
মনসাবিজয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মনসাবিজয়
ব্যাখ্যা
• বিপ্রদাস পিপিলাই রচিত কাব্যের নাম - মনসাবিজয়

বিপ্রদাস পিপিলাই:  
- তিনি মনসামঙ্গল কাব্যধারার অন্যতম কবি।
- বিজয় গুপ্তের প্রায় সমসাময়িক কবি বিপ্রদাস পিপিলাই। 
- তিনি বিজয় গুপ্তের মনসামঙ্গল রচনার এক বছর পর তাঁর 'মনসাবিজয়' কাব্য রচনা করেন। 
- কাব্যমধ্যে কবি যে আত্মপরিচয় দিয়েছেন তা থেকে জানা যায় যে, তিনি পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনা জেলার বাদুড়্যা-বটগ্রামে এক সম্ভ্রান্ত ব্রাহ্মণ পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।
- বিপ্রদাস পিপিলাই এর কাব্যে মনসা দেবীর চরিত্র অপেক্ষাকৃত নমনীয় এবং স্নেহমমতা ও করুণায় সমধিক আর্দ্র।
- এ কাব্যে চাঁদ সওদাগরের বাণিজ্যযাত্রার বর্ণনা প্রসঙ্গে সপ্তগ্রামের বিস্তারিত বিবরণ পাওয়া যায়।
- তাঁর কাব্যের আখ্যানধারা বেশ সরল ও কাব্যভাষা সাবলীল; চরিত্রচিত্রণেও তিনি সংযম ও পরিচ্ছন্ন রুচির পরিচয় দিয়েছেন।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস - মাহবুবুল হক ও বাংলাপিডিয়া।