পরীক্ষা আর্কাইভ

প্রাইমারি ডেইলি কুইজ

পরীক্ষাপ্রাইমারি ডেইলি কুইজতারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়07 minutes
মোট প্রশ্ন২০
সিলেবাস
বিষয়: বাংলা টপিক: হুমায়ুন আজাদ, ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত, নির্মলেন্দু গুণ, প্রমথ চৌধুরী, বিহারীলাল চক্রবর্তী, মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়, মুনীর চৌধুরী, রুদ্র মুহম্মদ শহীদুল্লাহ, শওকত ওসমান, শামসুর রহমান, সুকান্ত ভট্টাচার্য, সুফিয়া কামাল, জহির রায়হান, স্বর্ণকুমারী দেবী, মুক্তিযুদ্ধ ও ভাষা আন্দোলনের সাহিত্যকর্ম, সমসাময়িক সাহিত্য। উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, মাধ্যমিক সাহিত্যপাঠ বই (NCTB ও উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়), বাংলাপিডিয়া ও যেকোনো ভালো গাইড বই।
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

প্রাইমারি ডেইলি কুইজ

প্রাইমারি ডেইলি কুইজ · তারিখ অনির্ধারিত · ২০ প্রশ্ন

.
'ভ্রমি দেশে দেশে' গ্রন্থের লেখক কে?
  1. হুমায়ুন আজাদ
  2. নির্মলেন্দু গুণ
  3. জীবনানন্দ দাশ
  4. বেগম সুফিয়া কামাল
ব্যাখ্যা

'ভ্রমি দেশে দেশে' নির্মলেন্দু গুণ রচিত ভ্রমণকাহিনি। 
-----------------------
• নির্মলেন্দু গুণ:
-  নির্মলেন্দু গুণ বাংলাদেশের অন্যতম জনপ্রিয় কবি।
- তিনি ১৯৪৫ সালে নেত্রকোণার বারহাট্টার কাশবন গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর ডাকনাম ছিল রতন।
- তাকে “বাংলাদেশের কবিদের কবি” হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়।
- তাঁর কবিতায় প্রেম, বিপ্লব, গ্রামীণ মানুষের জীবনযাত্রা, সমাজের বাস্তবতা এবং রাজনৈতিক চেতনা গভীরভাবে প্রকাশ পেয়েছে। 
- কবিতা ছাড়াও তিনি অনুবাদকৃত কবিতা এবং ছোটগল্প রচনা করেছেন।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থগুলো হলো:
- প্রেমাংশুর রক্ত চাই,
- না প্রেমিক না বিপ্লবী,
- বাংলার মাটি বাংলার জল,
- কবিতা অমীমাংসিত রমণী,
- দীর্ঘ দিবস দীর্ঘ রজনী,
- চৈত্রের ভালোবাসা,
- তার আগে চাই সমাজতন্ত্র,
- চাষাভুষার কাব্য,
- দূর হ দু্ঃশাসন,
- প্রথম দিনের সূর্য,
- নিরঞ্জনের পৃথিবী,
- নেই কেন সে পাখি,
- মুজিব-লেনিন-ইন্দিরা,
- চিরকালের বাঁশি,
- শিয়রে বাংলাদেশ,
- দুঃখ করো না, বাঁচো ইত্যাদি।

• তাঁর অনুবাদকৃত কবিতার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো-
- রক্ত আর ফুলগুলি,
- তোহু,
- রাজনৈতিক কবিতা।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য ছোটগল্প- 
-  অন্তর্জাল,
- আপনদলের মানুষ।

• তাঁর রচিত ভ্রমণকাহিনি:
- ভলগার তীরে,
- গীনসাবার্গের সঙ্গে,
- আমেরিকায় জুয়ালেখার স্মৃতি,
- ভ্রমি দেশে দেশে।
---------------------------------
‘ভ্রমি দেশে দেশে’ ভ্রমণকাহিনি সম্পর্কিত তথ্য:
- নির্মলেন্দু গুণের ‘ভ্রমি দেশে দেশে’ একটি তথ্যসমৃদ্ধ ভ্রমণকাহিনি, যেখানে তিনি নিজের ভ্রমণ অভিজ্ঞতা থেকে টোকিও, সিডনি ও দিল্লি শহরের ইতিহাস, ঐতিহ্য, শিল্প-সাহিত্য এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাপন তুলে ধরেছেন। এটি শুধু পর্যটনকেন্দ্রের বর্ণনা নয়, বরং প্রতিটি শহরের সংস্কৃতি, ইতিহাস এবং সমাজের গভীর বিশ্লেষণও রয়েছে। বইটিতে লেখকের ব্যক্তিগত ভ্রমণস্মৃতি এবং ভ্রমণের মাধ্যমে অর্জিত জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা সংকলিত হয়েছে,

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলাপিডিয়া। 

.
‘বীরবলের হালখাতা’ কী ধরনের সাহিত্যকর্ম? 
  1. কাব্যগ্রন্থ
  2. গল্পগ্রন্থ
  3. প্রবন্ধগ্রন্থ
  4. ভ্রমণকাহিনী
ব্যাখ্যা

‘বীরবলের হালখাতা’ প্রমথ চৌধুরী রচিত প্রবন্ধ। 
-------------------
• প্রমথ চৌধুরী:
- প্রমথ চৌধুরী ছিলেন একজন বাঙালি প্রাবন্ধিক, কবি এবং লেখক।
- তাকে বাংলা চলিত গদ্যরীতির প্রবর্তক বলা হয়।
- তিনি ১৮৬৮ সালের ৭ আগস্ট যশোরে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতা দুর্গাদাস চৌধুরী ছিলেন জমিদার।
- তাঁর ছদ্মনাম ছিল বীরবল, এবং তিনি নিজেকে “বাংলা সাহিত্যের বীরবল” হিসেবে পরিচয় দিয়েছিলেন।
- তিনি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ভাইয়ের মেয়ে ইন্দ্রাদেবীকে বিয়ে করেন।
- তিনি সবুজপত্র পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন।
- পত্রিকাটি ১৯১৪ সালে প্রথম প্রকাশিত হয়।
- তিনি মাসিক সবুজপত্র প্রকাশের মাধ্যমে বাংলা চলিত গদ্যরীতির সূচনা করেন, যা তাঁর জীবনের সর্বোচ্চ কীর্তি হিসেবে বিবেচিত হয়।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনা-
• কাব্যগ্রন্থ: সনেট পঞ্চাশৎ।
• গল্পগ্রন্থ: নীললোহিত ও চার ইয়ারি কথা।
• প্রবন্ধগ্রন্থ: তেল নুন লাকড়ি ও বীরবলের হালখাতা

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা – সৌমিত্র শেখর;
বাংলাপিডিয়া।

.
বিহারীলাল চক্রবর্তী সম্পাদিত পত্রিকা কোনটি?
  1. পূর্ণিমা
  2. সাহিত্য-সংক্রান্তি
  3. অবোধবন্ধু
  4. সবকয়টি 
ব্যাখ্যা

বিহারীলাল চক্রবর্তী:
- বিহারীলাল চক্রবর্তী বাংলা সাহিত্যের একজন কবি এবং গীতিকার ছিলেন।
- তিনি রবীন্দ্রনাথের কাব্যগুরু হিসেবে ও পরিচিত।
- বিহারীলাল চক্রবর্তী বাংলা সাহিত্যের প্রথম গীতি-কবি হিসেবে পরিচিত।
- ১৮৩৫ সালের ২১ মে কলকাতায় তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পূর্বপুরুষদের আদি নিবাস ছিল ফরাসডাঙ্গায় এবং তাঁদের আদি পারিবারিক পদবি ছিল ‘চট্টোপাধ্যায়’।
- বাংলা সাহিত্যে প্রথম বিহারীলাল গীতি কবিতা শুনিয়েছে বলে তাকে বাংলা গীতি কবিতার ভোরের পাখি বলা হয়।
- রবীন্দ্রনাথ বিহারীলাল চক্রবর্তীকে 'ভোরের পাখি' উপাধি দিয়েছেন। 
- বিহারীলাল চক্রবর্তীকে 'ভোরের পাখি' বলা হয় কারণ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর মনে করতেন যে তাঁর গীতিকবিতা বাংলা কবিতার নবজাগরণের সূচনা করেছিল, ঠিক যেমন ভোরের প্রথম পাখির ডাক নতুন দিনের আগমনী বার্তা বহন করে।
- এছাড়াও তাঁর কাব্যধারা ছিল বিশুদ্ধ গীতিকাব্য।

- বিহারীলাল চক্রবর্তী কাব্যচর্চার পাশাপাশি পত্রিকা সম্পাদনার কাজও করেছেন।
- তিনি পূর্ণিমা, সাহিত্য-সংক্রান্তি, অবোধবন্ধু প্রভৃতি পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন।

• বিহারীলালের রচনাবলির মধ্যে রয়েছে:
- সঙ্গীতশতক;
- বন্ধুবিয়োগ;
 - প্রেমপ্রবাহিণী;
- নিসর্গসন্দর্শন;
- বঙ্গসুন্দরী;
- সারদামঙ্গল;
- নিসর্গসঙ্গীত;
- সাধের আসন এবং
- ধূমকেতু।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলাপিডিয়া।

.
মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত প্রথম ছোটগল্প কোনটি? 
  1. অতসী মামী
  2. প্রাগৈতিহাসিক
  3. সরীসৃপ
  4. বৌ  
ব্যাখ্যা

মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত প্রথম গল্প অতসী মামী।
----------------
‘অতসী মামী’ গল্প নিয়ে কিছু কথা:
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রথম ছোটগল্প ‘অতসী মামী’।
- গল্পটি ১৯২৮ সালে কলকাতা থেকে খ্যাতনামা ‘বিচিত্রা’ পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত হয়।
- বন্ধুদের সঙ্গে বাজি ধরে লেখা এই গল্পটি প্রকাশের পরই তিনি সাহিত্যজগতে পরিচিতি লাভ করেন।
- পরবর্তীকালে গল্পটি ‘অতসী মামী ও অন্যান্য গল্প’ (১৯৩৫) গ্রন্থে সংকলিত হয়।

- গল্পটির মূলভাব হলো- জীবনের কঠোর বাস্তবতার ভেতরেও মানবিক সম্পর্কের গভীর টান, বিচ্ছেদের বেদনা এবং আত্মিক অনুভবের প্রকাশ। এখানে সমাজের নিম্ন-মধ্যবিত্ত মানুষের জীবনসংগ্রাম, ভালোবাসার অনুরণন এবং রক্তের সম্পর্কের বাইরেও মানসিক ও আত্মিক সম্পর্কের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে। সম্পর্কের নতুন ব্যাখ্যা, ভালোবাসা ও বিচ্ছেদের যন্ত্রণা, হারিয়ে পাওয়ার আনন্দ–বেদনা—এসবই গল্পটির প্রধান বৈশিষ্ট্য। এই গল্পে মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের গভীর জীবনদর্শন ও বাস্তবধর্মী সাহিত্যশৈলীর স্পষ্ট পরিচয় পাওয়া যায়।
---------------
• মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়:
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় ছিলেন একজন প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক।
- তিনি ১৯০৮ সালের ২৯ মে বিহারের সাঁওতাল পরগনার দুমকা শহরে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম প্রবোধকুমার।
- ‘মানিক’ ছিল তাঁর পারিবারিক ডাকনাম।

- তাঁর পিতা হরিহর বন্দ্যোপাধ্যায় সেটেলমেন্ট বিভাগে চাকরি করে জীবনের শেষদিকে ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট পদ থেকে অবসর গ্রহণ করেন।
- পিতার চাকরির কারণে তাঁকে জীবনের শুরুর দিকে দেশের বিভিন্ন স্থানের স্কুলে পড়াশোনা করতে হয়—দুমকা, আড়া, সাসারাম, কলকাতা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, বারাসাত, টাঙ্গাইল ও মেদিনীপুরে।
- শেষ পর্যন্ত তিনি মেদিনীপুর জেলা স্কুল থেকে ১৯২৬ সালে এন্ট্রান্স পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন।

- মানসিক ও বৌদ্ধিক বিকাশের প্রথম পর্যায়ে তিনি ফ্রয়েড, ইয়ুং ও অ্যাডলারের মনোবৈজ্ঞানিক চিন্তাধারায় প্রভাবিত হলেও পরবর্তী সময়ে তাঁর সাহিত্যচিন্তায় মার্কসবাদের প্রভাব গভীরভাবে প্রতিফলিত হয়।
- ১৯৫৬ সালের ৩ ডিসেম্বর কলকাতায় তাঁর জীবনাবসান ঘটে।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য উপন্যাস:
- জননী;
- পদ্মানদীর মাঝি;
- দিবারাত্রির কাব্য;
- পুতুলনাচের ইতিকথা।

• তাঁর ঐতিহাসিক ছোটগল্প হচ্ছে:
- অতসী মামী
- প্রাগৈতিহাসিক,
- সরীসৃপ,
- বৌ,
- সমুদ্রের স্বাদ।

উৎস:
‘অতসী মামী’ গল্প; 
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; 
বাংলাপিডিয়া। 

.
বেগম সুফিয়া কামালের গ্রন্থ ‘একালে আমাদের কাল’-এ কোন নারীর প্রভাব ও অনুপ্রেরণার কথা বিশেষভাবে উল্লেখ আছে?
  1. সেলিনা হোসেন
  2. বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
  3. সিমোন দ্য বোভোয়ার
  4. কামিনী রায়
ব্যাখ্যা

বেগম সুফিয়া কামালের গ্রন্থ ‘একালে আমাদের কাল’-এ বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনের প্রভাব ও অনুপ্রেরণার কথা বিশেষভাবে উল্লেখ আছে। 
----------------
‘একালে আমাদের কাল’:
- ‘একালে আমাদের কাল’ হলো বিশিষ্ট বাঙালি কবি বেগম সুফিয়া কামাল-এর আত্মজীবনীমূলক রচনা। 
- ১৯৮৮ সালে প্রকাশিত এই স্মৃতিকথা গ্রন্থে তিনি তাঁর শৈশবের দিনগুলি, পারিবারিক জীবন এবং সমাজের বিভিন্ন প্রেক্ষাপট তুলে ধরেছেন। 
- এছাড়া, সুফিয়া কামালের ‘একালে আমাদের কাল’ গ্রন্থে মূলত নারী জাগরণের অগ্রদূত বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন-এর গভীর প্রভাব ও অনুপ্রেরণার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। 
- তিনি নিজের ব্যক্তিগত জীবন ও নারী মুক্তি আন্দোলনে রোকেয়ার আদর্শ দ্বারা গভীরভাবে প্রভাবিত হয়েছেন এবং সেই প্রভাবকে বিশেষভাবে এই আত্মজীবনীর মধ্যে তুলে ধরেছেন।
-------------
• সুফিয়া কামাল:
- সুফিয়া কামাল ছিলেন বাংলাদেশের একজন কিংবদন্তি কবি, লেখক, নারী অধিকার কর্মী এবং বাঙালি জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের পথিকৃৎ।
- তিনি ‘জননী সাহসিকা’ নামে পরিচিত।
- কারণ তিনি কেবল সাহিত্যেই নয়, ভাষা আন্দোলন, নারীবাদী সংগ্রাম এবং সামাজিক উন্নয়নের কাজে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন।
- নারী আন্দোলনের নেত্রী হিসেবে তিনি নারীমুক্তি ও সমান অধিকারের জন্য আজীবন সংগ্রাম করেছেন।

• তাঁর  উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- সাঁঝের মায়া;
- উদাত্ত পৃথিবী।

• তাঁর বিখ্যাত গল্প: ‘কেয়ার কাঁটা’। 
• স্মৃতিকথার ক্ষেত্রে কবির উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ- ‘একাত্তরের ডায়েরী’।

• কবি সুফিয়া কামালের শিশু সাহিত্যেও উল্লেখযোগ্য অবদান রয়েছে।
- তাঁর ‘ইতল বিতল’ এবং ‘নওল কিশোরের দরবারে’ গ্রন্থ দুটি শিশুদের জন্য রচিত ছড়া ও কবিতার সংকলন।
- গ্রন্থ দুইটি বাংলা শিশু সাহিত্যে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে।
- এসব রচনায় শিশুদের কল্পনা, আনন্দ ও মানসিক জগৎ অত্যন্ত সহজ ও প্রাণবন্তভাবে ফুটে উঠেছে।

• এ ছাড়া শিশুদের কেন্দ্র করে লেখা তাঁর বিখ্যাত কবিতা ‘আজিকার শিশু’ শিশু সাহিত্যে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য একটি রচনা হিসেবে বিবেচিত হয়।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলাপিডিয়া। 

.
“হাজার বছর ধরে” উপন্যাসে গ্রামীণ সমাজের প্রধান নেতৃস্থানীয় চরিত্র কে?
  1. গনি মোল্লা 
  2.  মন্তু
  3. মকবুল বুড়ো
  4. টুনি 
ব্যাখ্যা

“হাজার বছর ধরে” উপন্যাসে গ্রামীণ সমাজের প্রধান নেতৃস্থানীয় চরিত্র- মকবুল বুড়ো।
------------
“হাজার বছর ধরে” উপন্যাস নিয়ে কিছু আলোচনা: 
- জহির রায়হানের ‘হাজার বছর ধরে’ (১৯৬৪) উপন্যাসের পটভূমি বাংলাদেশের গ্রামীণ সমাজ। 
- গ্রাম্য জীবন, নদীমাতৃক নিভৃত পরিবেশ, দারিদ্র্য, শোষণ এবং রক্ষণশীল মানসিকতা এখানে ফুটে তোলা হয়েছে। 
- উপন্যাসের প্রধান চরিত্র- মকবুল বুড়ো, টুনি, মন্তু, গনি মোল্লা, আম্বিয়া, ফকীরের মা, শিকদার বাড়ির লোকজন। 

- টুনি উপন্যাসের প্রধান চরিত্র, যার জীবন দুই পুরুষের সঙ্গে জড়িত—বৃদ্ধ স্বামী মকবুল বুড়ো এবং প্রেমিক মন্তু। তার জীবন সুখ-দুঃখ, প্রেম ও সামাজিক বাধার উত্থান-পতনের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়। এছাড়া আম্বিয়া, গনি মোল্লা, ফকীরের মা, শিকদার বাড়ির লোকজন প্রভৃতি চরিত্র গ্রামীণ জীবনের সম্পর্ক, শোষণ এবং সামাজিক দ্বন্দ্বের ছবি তুলে ধরে। সহজভাবে বলতে গেলে, উপন্যাসটি দেখায় কিভাবে গ্রামের মানুষ কুসংস্কার, দারিদ্র্য, শোষণ এবং ব্যক্তিগত সম্পর্কের জটিলতার মধ্য দিয়ে জীবন কাটায় এবং স্বাধীনতা ও প্রেমের জন্য সংগ্রাম করে।
--------------
• জহির রায়হান:
- জহির রায়হান (১৯৩৫–১৯৭২) ছিলেন বাংলা সাহিত্য ও চলচ্চিত্রের এক বহুমুখী প্রতিভা।
- তিনি ঔপন্যাসিক, গল্পকার, সাংবাদিক এবং চলচ্চিত্র নির্মাতা হিসেবে অসাধারণ অবদান রেখে গেছেন।
- জহির রায়হান বাংলা সাহিত্য ও চলচ্চিত্রের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র।
- তাঁর লেখনী ও নির্মাণ বাঙালির ইতিহাস, সংস্কৃতি ও সংগ্রামকে নতুন মাত্রায় তুলে ধরেছে।
- মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি নিখোঁজ হন। 
- তাঁর অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি একুশে পদক ও স্বাধীনতা পুরস্কার লাভ করেন।

• তাঁর উপন্যাসসমূহ:
- শেষ বিকেলের মেয়ে,
- হাজার বছর ধরে (যার জন্য তিনি আদমজী পুরস্কার পান),
- আরেক ফাল্গুন,
- বরফ গলা নদী,
- তুলাসিন্ধু সেতুবন্ধ,
- অপূর্ব, ব্যারিকেড,
- ক্ষয়িষ্ণু,
- ডায়মন্ড নেকলেস ও
- আমি কেন সিরাজী।

• তাঁর গল্পগ্রন্থগুলোর মধ্যে রয়েছে:
- সোনার হরিণ,
- মহামৃত্যু,
- জন্মান্তর,
- ম্যাসাকার এবং
- মানুষের ঘরবাড়ি।

• তাঁর পরিচালিত চলচ্চিত্র:
- কখনও আসেনি,
- কাঁচের দেয়াল,
- জীবন থেকে নেয়া,
- বেহুলা,
- সঙ্গম।

 উৎস:
"হাজার বছর ধরে” উপন্যাস; 
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলাপিডিয়া।

.
শামসুর রাহমানের ডাক নাম কী ছিল?
  1. মিঠু
  2. বাচ্চু
  3. মনা 
  4. টুটুল 
ব্যাখ্যা

শামসুর রাহমান:
- শামসুর রাহমান ছিলেন একজন বিশিষ্ট কবি ও সাংবাদিক।
- শামসুর রাহমান বাংলা সাহিত্যের দ্বিতীয়ার্ধের অন্যতম প্রধান কবি হিসেবে পরিচিত।
- তিনি ১৯২৯ সালের ২৩ অক্টোবর পুরান ঢাকার ৪৬ নম্বর মাহুতটুলীতে জন্মগ্রহণ করেন।
- শামসুর রাহমানের জন্ম তার নানাবাড়িতে।
- তার পৈত্রিক বাড়ি ঢাকা জেলার রায়পুর থানার পাড়াতলী গ্রামে।
- তার পিতা মুখলেসুর রহমান চৌধুরী এবং মাতা আমেনা বেগম।
- শামসুর রাহমানের ডাক নাম ছিল- বাচ্চু।
- শামসুর রাহমানকে প্রধানত “নাগরিক কবি” বলা হয়।
- কারণ তার কবিতায় নগর জীবনের প্রতিচ্ছবি ফুটে ওঠে।
- মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি “মজলুম আদিব” ছদ্মনামে লিখতেন।
-  তিনি দৈনিক বাংলা পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন।
- শামসুর রাহমান তাঁর কবিতায় সাধারণ মানুষ কীভাবে জীবন যাপন করে, শহরের মানুষদের দৈনন্দিন সমস্যা, সুখ–দুঃখ ও সমাজের নানা ঘটনা তুলে ধরেছেন।
- এই অনন্য কবি-কীর্তি ও সত্যনিষ্ঠ কাব্যচর্চার জন্য তাকে বাংলা একাডেমি পুরস্কার এবং একুশে পদক দিয়ে সম্মানিত করা হয়েছে।
- তিনি ২০০৬ সালের ১৭ আগস্ট ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন।

- শামসুর রাহমানের অসংখ্য কাব্যগ্রন্থ রয়েছে।
• উল্লেখযোগ্য কিছু কাব্যগ্রন্থ হলো:
- প্রথম গান, দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে (প্রথম কাব্যগ্রন্থ);
- রৌদ্র করোটিতে;
- বিধ্বস্ত নীলিমা;
- বন্দী শিবির থেকে;
- নিজ বাসভূমে;
- বুক তার বাংলাদেশের হৃদয়;
- এবং উদ্ভট উটের পিঠে চলেছে স্বদেশ। 

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলাপিডিয়া। 

.
নিম্নলিখিত কোনটি রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহর কবিতা নয়?
  1. বাতাসে লাশের গন্ধ
  2. কনসেন্ট্রেশন ক্যাম্প
  3. নদীর গান
  4. চলে যাওয়া মানে প্রস্থান নয় 
ব্যাখ্যা

রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহর কবিতা নয়- “নদীর গান”।
- “নদীর গান” কবিতার রচয়িতা জীবনানন্দ দাশ।
----------------------
• রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ:
- রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ ছিলেন একজন প্রতিবাদী ও রোমান্টিক কবি, গীতিকার এবং সাহিত্যিক।
- তিনি ১৬ অক্টোবর ১৯৫৬ সালে বরিশাল জেলায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল বাগেরহাট জেলার মোংলা উপজেলায়।
- তার প্রকৃত নাম শেখ মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ।
- পরে তিনি ‘রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ’ নামটি গ্রহণ করেন।

- রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ তাঁর ছাত্রজীবনেই দুটি কাব্যগ্রন্থ প্রকাশ করেছিলেন—
- ‘উপদ্রুত উপকূল’ এবং ‘ফিরে চাই স্বর্ণগ্রাম’। 
- তাঁর কবিতায় বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার আকাঙ্ক্ষা স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়েছে।
- সাহিত্যকর্মের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৮০ সালে তিনি ‘মুনীর চৌধুরী স্মৃতিপুরস্কার’ অর্জন করেন। 
- মাত্র ৩৫ বছর বয়সে ২১ জুন ১৯৯১ সালে তাঁর মৃত্যু ঘটে।
- স্বল্পায়ু জীবনে তিনি একাধিক কাব্যগ্রন্থ এবং অসংখ্য গান রচনা করেছেন।

• রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহর উল্লেখযোগ্য কবিতা হলো:
বাতাসে লাশের গন্ধ, 
চলে যাওয়া মানে প্রস্থান নয়, 
আমি সেই অভিমান, 
অভিমানের খেয়া, 
খুব কাছে এসো না, 
কথা ছিলো সুবিনয়, 
হে আমার বিষণ্ণ সুন্দর, 
আমার ভিতর বাহিরে অন্তরে অন্তরে (গীতি কবিতা), 
কনসেন্ট্রেশন ক্যাম্প,
পরাজিত নই, পলাতক নই। 

- রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহর জীবদ্দশায় প্রকাশিত প্রধান কাব্যগ্রন্থগুলো:
- উপদ্রুত উপকূল,
- ফিরে চাই স্বর্ণগ্রাম,
- মানুষের মানচিত্র,
- ছোবল,
- গল্প, দিয়েছিলে সকল আকাশ,
- মৌলিক মুখোশ।

- তাঁর মৃত্যুর পর প্রকাশিত হয়েছে:
- এক গ্লাস অন্ধকার (কাব্যগ্রন্থ),
- বিষ বিরিক্ষের বীজ (কাব্যনাট্য),
- সোনালী শিশির (গল্পগ্রন্থ)।

- এছাড়া, তিনি ‘ভালো আছি ভালো থেকো' গান রচনা করেছেন ও সুর দিয়েছেন।
- এবং এই গানটিসহ তিনি অর্ধশতাধিক গান রচনা করেছেন ও সুর দিয়েছেন।

উৎস:
বাংলা কবিতা [ লিঙ্ক]; 
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলাপিডিয়া।

.
‘জন্ম যদি তব বঙ্গে’ গল্প-সংকলনটির রচনাকারী কে? 
  1. আবদুল গফ্‌ফার চৌধুরী 
  2. হুমায়ুন আজাদ
  3. রফিক আজাদ 
  4.  শওকত ওসমান
ব্যাখ্যা

‘জন্ম যদি তব বঙ্গে’ গল্প-সংকলনটির রচনাকারী- শওকত ওসমান।

• 'জন্ম যদি তব বঙ্গে’ উপন্যাস বিষয়ক কিছু তথ্য:
- শওকত ওসমানের ‘জন্ম যদি তব বঙ্গে’ একটি গল্পসংকলন। 

- এটি মূলত বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ ও তার পরবর্তী সময়ের সামাজিক ও রাজনৈতিক বাস্তবতা তুলে ধরে। এতে ১৯৭১ সালের গণহত্যা, মানুষের ভোগান্তি, মুক্তিযোদ্ধাদের ত্যাগ এবং যুদ্ধোত্তর সমাজের কঠিন পরিস্থিতির চিত্র ফুটে উঠেছে। লেখক গল্পগুলোতে যুদ্ধের পেছনের অজানা কষ্ট, ব্যক্তিগত দুঃখ ও মানবতাবিরোধী অপরাধগুলো নিখুঁতভাবে উপস্থাপন করেছেন। সংকলনের একটি গল্পে সত্তরোর্ধ্ব এক বৃদ্ধের হত্যাযজ্ঞের ঘটনা বর্ণিত, যা এই সাহিত্যকর্মকে মুক্তিযুদ্ধের দলিল ও প্রামাণ্য চিত্র হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ করে তোলে। তাছাড়া এই সংকলনে ওয়াগন ব্রেকার লুৎফর, যাকে লাতু নামেও ডাকা হয়, তার মুক্তিযুদ্ধের সময়ের সাহসী লড়াই এবং যুদ্ধের পেছনের অসাধারণ সংগ্রামের কাহিনী তুলে ধরা হয়েছে।

 
----------------------
• শওকত ওসমান:
- শওকত ওসমান ছিলেন এক বিশিষ্ট কথাসাহিত্যিক ও প্রাবন্ধিক।  
- তিনি ১৯১৭ সালের ২ জানুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার সবলসিংহপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর আসল নাম ছিল শেখ আজিজুর রহমান।
- নাটক, গল্প, উপন্যাস, প্রবন্ধ, রসাত্মক লেখা থেকে শুরু করে শিশু-কিশোর সাহিত্যে পর্যন্ত তাঁর অবদান ছিল উল্লেখযোগ্য। 

• তাঁর সাহিত্যকর্মের মধ্যে উল্লেখযোগ্য উপন্যাসগুলো হলো:
- জননী;
- ক্রীতদাসের হাসি।

• তাঁর মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস:   
- জাহান্নম হইতে বিদায়;
- দুই সৈনিক;
- নেকড়ে অরণ্য;
- জলাঙ্গী।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য নাটক:
- আমলার মামলা;
- পূর্ণ স্বাধীনতা চূর্ণ স্বাধীনতা;
- তস্কর লস্কর;
- কাঁকর মণি।

• শওকত ওসমান এর বিখ্যাত গল্প হল: জন্ম যদি তব বঙ্গে। 
• আর তাঁর ভাষা আন্দোলনভিত্তিক উপন্যাস: আর্তনাদ।

উৎস:
'জন্ম যদি তব বঙ্গে' গল্প সংকলন; 
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলাপিডিয়া।

১০.
হুমায়ুন আজাদ রচিত ‘আব্বুকে মনে পড়ে’ কোন আঙ্গিকের সাহিত্যকর্ম?
  1. মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক কিশোর কাব্য
  2. ভাষা আন্দোলনভিত্তিক কবিতা 
  3. মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক কিশোর উপন্যাস
  4. ভাষা আন্দোলনভিত্তিক উপন্যাস
ব্যাখ্যা

• 'আব্বুকে মনে পড়ে' হলো হুমায়ুন আজাদের শিশু-কিশোরদের জন্য লেখা মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে রচিত উপন্যাস। 
-----------------------
• ‘আব্বুকে মনে পড়ে’ উপন্যাস নিয়ে কিছু কথা:

- হুমায়ুন আজাদ রচিত ‘আব্বুকে মনে পড়ে’ একটি কিশোর উপন্যাস, যা ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময়ের ঘটনা নিয়ে লেখা। গল্পটি একটি শিশুর চোখে দেখা যুদ্ধ এবং তার বাবার হারানোর দুঃখকে তুলে ধরে। কিশোরী বর্ণনাকারী তার বাবার স্মৃতিগুলো মনে করেই গল্প বলছে, যিনি মুক্তিযোদ্ধা হয়ে শহিদ হয়েছেন। উপন্যাসে যুদ্ধের সময় ঢাকা ও গ্রাম, পরিবারের কষ্ট, বাবার অভাব, এবং দেশের প্রতি শিশুর ভালোবাসা সুন্দরভাবে দেখানো হয়েছে। গল্পের প্রধান চরিত্রগুলো হলো রাশেদ (আব্বু), তার মেয়ে এবং মা। হুমায়ুন আজাদ খুব সহজ ও আবেগপূর্ণ ভাষায় পরিবারের বেদনা ও দেশের জন্য মমত্ববোধ প্রকাশ করেছেন।
--------------
• হুমায়ুন আজাদ:
- হুমায়ুন আজাদ ছিলেন কবি, ঔপন্যাসিক, গল্পকার, গবেষক ও ভাষাবিজ্ঞানী।
- তিনি বিক্রমপুরের রাড়িখালে ১৯৪৭ সালের ২৮ এপ্রিল জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতার নাম আবদুর রাশেদ (স্কুল শিক্ষক) এবং মাতার নাম জোবেদা খাতুন।
- তাঁর জন্মনাম ছিল হুমায়ুন কবির, যা ১৯৮৮ সালে তিনি পরিবর্তন করে হুমায়ুন আজাদ রাখেন।

- হুমায়ুন আজাদ সাহিত্যে প্রথাবিরোধী ও বহুমাত্রিক চিন্তাধারার লেখক ছিলেন।
- তিনি যা ভাবতেন তা সাহসের সঙ্গে প্রকাশ করতেন, ফলে বিতর্ক ও বিরোধের মুখে পড়তেন।
- এক পর্যায়ে মৌলবাদীদের হামলায় গুরুতর আহত হয়ে প্রায় পঙ্গু হন।
- ১৯৮৬ সালে তিনি বাংলা একাডেমী পুরস্কার লাভ করেন।
- ২০০৪ সালের ১২ আগস্ট জার্মানির মিউনিখে হুমায়ুন আজাদের মৃত্যু হয়।

- হুমায়ুন আজাদের সাহিত্যকর্ম বিস্তৃত:
• হুমায়ুন আজাদ রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- অলৌকিক ইস্টিমার,
- জ্বলো চিতাবাঘ,
- যতোই গভীরে যাই মধু, যতোই উপরে যাই নীল,
- সবকিছু নষ্টদের অধিকারে যাবে,
- কাফনে মোড়া অশ্রুবিন্দু ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- ছাপ্পান্ন হাজার বর্গমাইল (প্রথম প্রকাশিত)
- মানুষ হিসেবে আমার অপরাধসমূহ,
- সব কিছু ভেঙে পড়ে,
- শুভব্রত তার সম্পর্কিত সুসমাচার,
- রাজনীতিবিদগণ,
- কবি অথবা দণ্ডিত পুরুষ,
- পাক সার জমিন সাদ বাদ,
- একটি খুনের স্বপ্ন। 

• তাঁর রচিত প্রবন্ধ ও গবেষণাসংক্রান্ত গ্রন্থ:
- রবীন্দ্রপ্রবন্ধ: রাষ্ট্র ও সমাজচিন্তা,
- বাংলা ভাষার শত্রুমিত্র,
- Pronominalization In Bengali,
- বাক্যতত্ত্ব,
- বাঙলা ভাষা (দু-খন্ড),
- ভাষা-আন্দোলন: সাহিত্যিক পটভূমি,
- নারী (বিতর্কিত), 
- দ্বিতীয় লিঙ্গ (বিতর্কিত)। 

• তাঁর রচিত শিশু-কিশোর সাহিত্য:
- লাল নীল দীপাবলি,
- ফুলের গন্ধে ঘুম আসে না,
- কতো নদী সরোবর,
- আব্বুকে মনে পড়ে (মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস), 
- বুকপকেটে জোনাকিপোকা,
- আমাদের শহরে একদল দেবদূত,
- অন্ধকারে গন্ধরাজ।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলাপিডিয়া। 

১১.
স্বর্ণকুমারী দেবী কোন পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন? 
  1. সাধনা
  2. ভারতী
  3. পূর্ণিমা
  4. সোমপ্রকাশ 
ব্যাখ্যা

স্বর্ণকুমারী দেবী:
- স্বর্ণকুমারী দেবী (১৮৫৫-১৯৩২) ছিলেন আধুনিক বাংলা সাহিত্যের প্রথম প্রজন্মের একজন উল্লেখযোগ্য মহিলা সাহিত্যিক।
- স্বর্ণকুমারী দেবী ছিলেন বাংলা সাহিত্যের প্রথম মহিলা উপন্যাসিক।
- তিনি জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়ির সদস্য এবং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বড় বোন ছিলেন।
- স্বর্ণকুমারী দেবী কবি, ঔপন্যাসিক, সঙ্গীতজ্ঞ ও সমাজ সংস্কারক হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেন।
- তিনি ‘দীপনির্বাণ’ নামে প্রথম বাংলা উপন্যাস রচনা করেন, যা তাকে প্রথম বাংলা মহিলা ঔপন্যাসিক হিসেবে পরিচিতি দেয়।
- এছাড়াও কবিতা, নাটক ও প্রবন্ধ লিখেছেন।
- তিনি বিখ্যাত সাহিত্য পত্রিকা ভারতী-এর সম্পাদনা করেছিলেন প্রায় এক দশক ধরে।
- এছাড়া তিনি বিজ্ঞান বিষয়ক রচনার অগ্রদূত ছিলেন।
- নারীদের সৃজনশীলতা ও সহায়তার জন্য তিনি সখী সমিতি নামক একটি সংগঠনও প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য উপন্যাস:
- দীপনির্বাণ;
- ছিন্নমুকুল;
- মালতী;
- মিবাররাজ।
------------------------ 
অন্যদিকে,
- সাধনা – সম্পাদনা করেছিলেন হরচন্দ্র বসু।
- পূর্ণিমা – সম্পাদনা করেছিলেন বিহারীলাল চক্রবর্তী।
- সোমপ্রকাশ – সম্পাদনা করেছিলেন দ্বারকানাথ বিদ্যাভূষণ। 

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা – সৌমিত্র শেখর;
বাংলাপিডিয়া।

১২.
'ছাড়পত্র' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত নয় কোন কবিতাটি? 
  1. আঠারো বছর বয়স
  2. বোধন
  3. কলম
  4. বাঙালির গান
ব্যাখ্যা

ছাড়পত্র কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত নয় বাঙালির গান কবিতাটি।
- বাঙালির গান- ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত রচিত কবিতা। 
-----------
• ছাড়পত্র:
- ছাড়পত্র কাব্যগ্রন্থটি সুকান্ত ভট্টাচার্যের রচিত।
- এটি তার মৃত্যুর পর ১৯৪৮ সালে প্রকাশিত হয়।
- এই কাব্যগ্রন্থটির উল্লেখযোগ্য কবিতাগুলোর মধ্যে আছে:
- ‘আঠারো বছর বয়স’,
- ‘বোধন’,
- ‘মজুরদের ঝড়’,
- ‘ঠিকানা’,
- এবং ‘কলম’।
------------------------ 
• সুকান্ত ভট্টাচার্য:
- সুকান্ত ভট্টাচার্য ১৯২৬ জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি কিশোর কবি, মাকর্সবাদী কবি এবং মানবতার কবি হিসেবে পরিচিত।
- তাঁর কাব্যে পৃথিবীর মানুষের, শোষিত মানুষের জীবন-যন্ত্রণা, বিক্ষোভ ও বিদ্রোহের কথা উচ্চারিত হয়েছে।
- নজরুলের পরে সুকান্তের কবিতায় সবচেয়ে বেশি বিদ্রোহের বাণী লক্ষ্য করা যায়।
- সুকান্ত ভট্টাচার্য ১৯৪৭ সালের ১৩ মে মাত্র ২০ বছর বয়সে যক্ষ্মা রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন।

• সুকান্ত ভট্টাচার্য রচিত কাব্যগ্রন্থগুলো:
- পূর্বাভাস,
- ঘুম নেই,
- ছাড়পত্র,
- অভিযান।

উৎস:
"আঠারো বছর বয়স" কবিতা; 
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর;
বাংলাপিডিয়া।

১৩.
‘একাত্তরের হৃদয়ভস্ম’ গ্রন্থটির রচয়িতা কে?
  1. শওকত ওসমান
  2. আবু বকর সিদ্দিক
  3. হাসান আজিজুল হক
  4. জহির রায়হান
ব্যাখ্যা

- ‘একাত্তরের হৃদয়ভস্ম’ গ্রন্থটির রচয়িতা- আবু বকর সিদ্দিক। 
--------------------------- 
• আবু বকর সিদ্দিক:
- আবু বকর সিদ্দিক ছিলেন বাংলা সাহিত্যের একজন বহুমাত্রিক ও শক্তিমান লেখক।
- তিনি কবি, ঔপন্যাসিক, ছোটগল্পকার ও শিক্ষাবিদ—চারটি ক্ষেত্রেই সমানভাবে সক্রিয় ছিলেন।
- ১৯৩৪ সালের ১৯ আগস্ট বাগেরহাটে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর লেখায় সমকালীন সমাজ, মানুষের জীবনসংগ্রাম, রাজনৈতিক অস্থিরতা ও মুক্তিযুদ্ধ-পরবর্তী বাস্তবতার গভীর প্রতিফলন দেখা যায়।
- কবিতায়ও তিনি ছিলেন সমান শক্তিশালী—মানুষ, সভ্যতা, সময় ও শোষণের বিরুদ্ধে তাঁর কবিতা প্রতিবাদী ও গভীর চিন্তামুখর।

- শিক্ষাজীবনে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলা সাহিত্যে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন এবং পরে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন সরকারি কলেজে অধ্যাপনা করেন।
- কর্মজীবনের শেষ দিকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক হিসেবে দায়িত্ব পালন শেষে অবসর নেন।
- সাহিত্যে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি ১৯৮৮ সালে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কারসহ একাধিক সম্মাননা লাভ করেন।
- ২০২৩ সালের ২৮ ডিসেম্বর তাঁর মৃত্যু হয়। 

• আবু বকর সিদ্দিক রচিত বিখ্যাত উপন্যাস- 
- ‘একাত্তরের হৃদভস্ম’ (মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস), 
- ‘জলরাক্ষস’,
- ‘খরাদাহ’,
- ‘বারুদপোড়া প্রহর’। 

• আবু বকর সিদ্দিক–এর উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থগুলোর মধ্যে রয়েছে—
- ধবল দুধের স্বরগ্রাম,
- বিনিদ্র কালের ভেলা,
- হে লোকসভ্যতা,
- শ্যামল যাযাবর,
- মানব হাড়ের হিম। 

• আবু বকর সিদ্দিক–এর উল্লেখযোগ্য ছোটগল্পগ্রন্থের মধ্যে রয়েছে-
- ভূমিহীন দেশ,
- চরবিনাশকাল।
-------------------------------- 
একাত্তরের হৃদয়ভস্ম উপন্যাস:
- একাত্তরের হৃদয়ভস্ম উপন্যাসটি লিখেছেন প্রখ্যাত কবি ও কথাসাহিত্যিক আবু বকর সিদ্দিক। এই উপন্যাসে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের ভয়াবহতা, সাধারণ মানুষের অসহনীয় কষ্ট এবং যুদ্ধ-পরবর্তী মানসিক ও সামাজিক বিপর্যয়ের ছবি তুলে ধরা হয়েছে। স্বাধীনতার পর দেশ পেলেও মানুষের মনে যে গভীর ক্ষত, শোক আর ভাঙনের অনুভূতি রয়ে যায়—সেই যন্ত্রণাই এখানে মূল বিষয়। উপন্যাসটি যুদ্ধের শুধু লড়াইয়ের গল্প নয়; বরং যুদ্ধ মানুষের জীবন, সম্পর্ক ও অনুভূতিকে কীভাবে ছিন্নভিন্ন করে দেয়, তার হৃদয়স্পর্শী বর্ণনা। পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর নিষ্ঠুরতা, নিরীহ মানুষের দুর্ভোগ এবং স্বাধীনতার মূল্য—সব মিলিয়ে একাত্তরের হৃদয়ভস্ম আমাদের মুক্তিযুদ্ধের এক বেদনাময়, বাস্তব ও মানবিক দলিল।

উৎস:
কালি ও কলম; 
প্রথম আলো পত্রিকা। 

১৪.
শহীদুল জহির রচিত ‘জীবন ও রাজনৈতিক বাস্তবতা’ উপন্যাসের মূল প্রেক্ষাপট কোনটি?
  1. মুক্তিযুদ্ধ ও যুদ্ধ-পরবর্তী বাংলাদেশ
  2. ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশ
  3. স্বাধীনতা যুদ্ধের পূর্ববর্তী রাজনৈতিক উত্তেজনা
  4. পাকিস্তান শাসনের সময় গ্রামীণ সমাজের অবস্থা
ব্যাখ্যা

‘জীবন ও রাজনৈতিক বাস্তবতা’ উপন্যাস:
- ‘জীবন ও রাজনৈতিক বাস্তবতা’ উপন্যাসটি মূলত বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ ও যুদ্ধ-পরবর্তী সমাজের জটিল বাস্তবতা তুলে ধরে। উপন্যাসে দেখানো হয়েছে, স্বাধীনতার পর মানুষের জীবন ও রাষ্ট্রব্যবস্থায় রাজনৈতিক অস্থিরতা, আদর্শগত ভাঙন, ক্ষমতার দ্বন্দ্ব এবং সাধারণ মানুষের সংগ্রাম কিভাবে প্রতিফলিত হয়। মুক্তিযুদ্ধের স্বপ্নময় মানবিক ও নৈতিক রাষ্ট্রগঠনের আশা কীভাবে বাস্তব রাজনীতির চাপের মুখে বিকৃত হয়েছে, তা সূক্ষ্ম ও প্রতীকী ভাষায় উপস্থাপন করা হয়েছে। এখানে শুধু ঐতিহাসিক ঘটনার সরল বর্ণনা নেই; বরং যুদ্ধ-পরবর্তী বাংলাদেশের সামাজিক ও রাজনৈতিক বাস্তবতার জটিলতা, ব্যক্তিগত জীবন ও নৈতিক সংকটের সংঘর্ষকে শিল্পময়ভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।
----------------
শহীদুল জহির:
- শহীদুল জহির  (১১ সেপ্টেম্বর ১৯৫৩ – ২৩ মার্চ ২০০৮) ছিলেন বাংলাদেশী গল্পকার, ঔপন্যাসিক ও সরকারি কর্মকর্তা।
- শহীদুল জহির তাঁর লেখায় জাদুবাস্তবতার কৌশল এবং নিম্নবর্গের মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি ব্যবহার করে সাহিত্য রচনা করেছেন।
- তাঁর জন্মস্থান পুরান ঢাকার নারিন্দার ৩৬ ভূতের গলিতে।
- তাঁর আসল নাম মোহাম্মদ শহীদুল হক। 
- ১৯৮১ সালে বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসে যোগদানের পর পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে সচিব পদে দায়িত্ব পালন করেন।। 
- তাঁর রচনায় রাজনৈতিক ও সামাজিক বাস্তবতার সঙ্গে কাল্পনিক উপাদানের মিলন ঘটে, যা “শহীদুল জহিরীয়” ধারার জন্ম দেয়। 
- জীবদ্দশায় তিনি আলাওল সাহিত্য পুরস্কার, আজকের কাগজ সাহিত্য পুরস্কার ও প্রথম আলো বর্ষসেরা সাহিত্য পুরস্কার (মরণোত্তর) লাভ করেছেন।

- শহীদুল জহির বাংলা সাহিত্যের ব্যতিক্রমী কথাশিল্পী।
- তিনি ম্যাজিক রিয়েলিজম বা জাদুবাস্তবতার প্রয়োগে সমগ্র বাংলা কথাসাহিত্যে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছেন।
- তাঁর গল্পে বাস্তব ও পরাবাস্তবের মাঝখানে অনিশ্চিত একটি জায়গায় চরিত্রগুলো ঘুরে বেড়ায়, যেখানে বিমূর্ত ভাষা ব্যবহার করেও জীবনের অন্তর্নিহিত সত্য ও মানুষের দৈনন্দিন অনুভূতি ফুটিয়ে তোলা হয়।
- তিনি নিম্নবর্গের মানুষের অকৃত্রিম ভাষাকে সাহিত্যিক পুঁজি হিসেবে নিয়েছেন।

- তাঁর উল্লেখযোগ্য প্রকাশিত গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে-

• গল্পগ্রন্থ:
- পারাপার,
- ডুমুরখেকো,
- মানুষ ও অন্যান্য গল্প,
- ডলু নদীর হাওয়া ও অন্যান্য গল্প। 

• উপন্যাস:
- জীবন ও রাজনৈতিক বাস্তবতা,
- সে রাতে পূর্ণিমা ছিল,
- মুখের দিকে চেয়ে দেখি। 

উৎস:
‘জীবন ও রাজনৈতিক বাস্তবতা’ উপন্যাস; 
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
কালি ও কলম।

১৫.
"বাঙালির ছেলে আমি, অন্ন নাহি পাই,
তবু রাগে সর্বাঙ্গ জ্বলিয়া যায়;”- উক্তিটি কার রচিত?
  1. জীবনানন্দ দাশ
  2. ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
  3. কাজী নজরুল ইসলাম
  4. সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
ব্যাখ্যা

"বাঙালির ছেলে আমি, অন্ন নাহি পাই, 
তবু রাগে সর্বাঙ্গ জ্বলিয়া যায়;”- উক্তিটি ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত রচিত।  
------------------------
বাঙালির গান
- ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত। 

"বাঙ্গালির ছেলে আমি, অন্ন নাহি পাই,
তবু রাগে সর্বাঙ্গ জ্বলিয়া যায়;
আমি যে মোচা, কেলাকা ফুল বলিতে শিখিয়াছি,
তাই আজ ঈশ্বর গুপ্তের কবিতা সংগ্রহ করিতে বসিয়াছি।
আর যেই কেলা কা ফুল বলুক, ঈশ্বর গুপ্ত মোচা বলেন।"
--------------------------------
‘বাঙালির গান’ কবিতার মূলভাব:
"বাঙালির ছেলে আমি, অন্ন নাহি পাই, 
তবু রাগে সর্বাঙ্গ জ্বলিয়া যায়;”- এই পঙ্‌ক্তি ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তের ‘বাঙালির গান’ কবিতা থেকে নেওয়া। 

- ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তের ‘বাঙালির গান’ কবিতায় তিনি পরাধীন বাংলার সাধারণ মানুষের ক্ষুধা, অভাব এবং দেশের প্রতি ভালোবাসা ও রাগকে ফুটিয়ে তুলেছেন। কবি নিজেকে “বাঙালির ছেলে” হিসেবে উপস্থাপন করে দেখিয়েছেন, খাবার না থাকলেও দেশের জন্য অসন্তোষ ও আবেগ তার শরীরে প্রবাহিত হয়। তিনি মোচা, কেলাকা ফুল, খোল-বিচিলির মতো সাধারণ জিনিসের মাধ্যমে বাঙালির দৈনন্দিন জীবন, ক্ষুদ্র সুখ-দুঃখ এবং টিকে থাকার লড়াই দেখিয়েছেন। সহজ কথায়, কবিতায় দেশের প্রতি ভালোবাসা, দারিদ্র্য ও ক্ষুধার মধ্যে থাকা মানুষের ক্ষোভ এবং পরাধীনতার অবস্থা সুন্দরভাবে প্রকাশ পেয়েছে।
--------------
ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত:
- ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত ছিলেন একজন কবি ও সাংবাদিক।
- ১২১৮ বঙ্গাব্দের ২৫ ফাল্গুন (মার্চ ১৮১২) পশ্চিমবঙ্গের চবিবশ পরগনা জেলার কাঞ্চনপল্লী বা কাঁচড়াপাড়া গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে মধ্যযুগ ও আধুনিক যুগের মিলনকারী কবি হিসেবে পরিচিত।
- 'ভ্রমণকারী বন্ধু' ছিল তাঁর ছদ্মনাম।
- ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত ছিলেন যুগসন্ধিক্ষণের কবি (১৭৬১ – ১৮৬০)।
- তাকে যুগসন্ধিক্ষণের  কবি বলা হয়।
- তাঁর রচনায় মধ্যযুগের সাহিত্যরীতি ও বিষয়বস্তু যেমন ছিল, তেমনি আধুনিক যুগের প্রভাবও ছিল স্পষ্ট।
- তিনি ছিলেন দুই যুগের মেলবন্ধনের প্রতীক।

- ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত ১৮৩১ সালে সংবাদ প্রভাকর নামক সাপ্তাহিক পত্রিকা প্রকাশ শুরু করেন।
- অল্পদিনের মধ্যেই এটি বন্ধ হলেও ১৮৩৬ সালে পুনরায় প্রকাশিত হয়।
- পরবর্তীতে ১৮৩৯ সালে ‘সংবাদ প্রভাকর’ বাংলা ভাষার প্রথম দৈনিক পত্রিকায় পরিণত হয়।
- সাংবাদিকতার মাধ্যমে তিনি সমাজের অবিচার, ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির অত্যাচার ও অন্যায়কর্মের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেছিলেন। -
- ‘সংবাদ প্রভাকর’ ছাড়াও ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত যেসব পত্রিকা সম্পাদনা করেছিলেন—
- সংবাদ রত্নাবলী,
- পাষণ্ডপীড়ন, 
- সংবাদ সাধুরঞ্জন প্রভৃতি।  

- তাঁর সাহিত্যকর্মের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো-
- প্রবোধ প্রভাকর,
- হিত প্রভাকর (গদ্য ও পদ্য মিশ্রিত গল্প আকারে রচিত)।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা – সৌমিত্র শেখর;
বাংলাপিডিয়া, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম; 
লাল নীল দীপাবলী বা বাঙলা সাহিত্যের জীবনী – হুমায়ুন আজাদ।

১৬.
মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক 'জীবন আমার বোন' উপন্যাসটি কার সৃষ্টিকর্ম?
  1. মাহমুদুল হক
  2. শওকত ওসমান
  3. শহীদুল জহির
  4. আবু বকর সিদ্দিক 
ব্যাখ্যা

'জীবন আমার বোন' উপন্যাসটি মাহমুদুল হকের লেখা। 

• 'জীবন আমার বোন' উপন্যাস:
- মাহমুদুল হকের 'জীবন আমার বোন' উপন্যাসটি ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ শুরুর আগে ঢাকার রাজনৈতিক উত্তেজনার সময় নিয়ে লেখা। এটি মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে সাধারণ মানুষের জীবন, আবেগ এবং মানসিক দ্বন্দ্বের গল্প। গল্পের চরিত্রের নামগুলো: জাহেদুল করিম (খোকা), রঞ্জু, মুরাদ, লুলু চৌধুরী, ইয়াসিন, রহমান। গল্পের মূল চরিত্র জাহেদুল করিম (খোকা) একজন সাধারণ যুবক। তিনি রাজনীতি নিয়ে কম চিন্তা করে এবং নিজের সুবিধা বা নিরাপত্তায় বেশি মনোযোগ দেয়। এই উপন্যাসে দেখানো হয়েছে, মুক্তিযুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে এবং চলাকালীন সময়ে সাধারণ মানুষ কীভাবে ভয়, দ্বিধা, সুবিধাবাদ এবং আবেগের মধ্যে জীবন যাপন করে। 

--------------------- 
• মাহমুদুল হক:
- মাহমুদুল হক বাংলা সাহিত্যের একজন প্রখ্যাত কথাশিল্পী, ঔপন্যাসিক ও ছোটগল্পকার।
- তিনি ১৬ নভেম্বর ১৯৪১ সালে বারাসাত, কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি তার স্বতন্ত্র লেখনশৈলী, তীক্ষ্ণ শব্দচয়ন এবং মানুষের জীবন ও সমাজের গভীর বাস্তবতা ফুটিয়ে তোলা জন্য পরিচিত।
- তাঁর লেখায় মানুষের মনস্তত্ত্ব ও সামাজিক-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট সুস্পষ্টভাবে প্রকাশ পেয়েছে।
- ১৯৭৭ সালে তিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কার লাভ করেন।
- ২১ জুলাই ২০০৮ সালে ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন।

- তাঁর উল্লেখযোগ্য উপন্যাসের মধ্যে রয়েছে:
- ‘কালো বরফ’,
- ‘জীবন আমার বোন’ (মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক), 
- ‘মাটির জাহাজ’,
- ‘খেলাঘর’ (মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক), 
- 'অনুর পাঠশালা', 
- 'অশরীরী।' 

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; 
কালি ও কলম। 

১৭.
ভাষা আন্দোলনভিত্তিক ‘একুশের গান’ কবিতার রচয়িতা কে? 
  1. শামসুর রাহমান
  2. জীবনানন্দ দাশ
  3. আল মাহমুদ 
  4. মহাদেব সাহা
ব্যাখ্যা

"একুশের গান" কবিতাটির রচয়িতা বাংলাদেশের প্রখ্যাত কবি মহাদেব সাহা।
- এই কবিতায় তিনি ভাষা আন্দোলন ও বাঙালির অস্তিত্বের সংগ্রামের ভাবকে ফুটিয়ে তুলেছেন।

------------------------
মহাদেব সাহা:
- মহাদেব সাহা বাংলাদেশের আধুনিক কবিতায় একজন বিশিষ্ট কবি।
- তিনি স্বাধীনতা-পরবর্তী বাংলা সাহিত্যের অন্যতম প্রধান কণ্ঠস্বর হিসেবে স্বীকৃত।
- মহাদেব সাহা ৫ আগস্ট ১৯৪৪ সালে সিরাজগঞ্জ জেলার ধানগড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি বগুড়া ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলা সাহিত্যে শিক্ষাগ্রহণ করেছেন।
- পেশাগত জীবনে দীর্ঘকাল সাংবাদিকতা করেছেন।
- তিনি দীর্ঘদিন দৈনিক ইত্তেফাক পত্রিকার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
- বাংলা সাহিত্যে অবদানের জন্য তিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কার (১৯৮৩), একুশে পদক (২০০১) এবং স্বাধীনতা পুরস্কার (২০২১) সহ অসংখ্য সম্মাননা লাভ করেছেন। 

• মহাদেব সাহার কবিতা-
- একুশের গান, 
- ফুল কই শুধু অস্ত্রের উল্লাস,
- ইচ্ছা,
- ছন্দরীতি,
- কে চায় তোমাকে পেলে,
- কাছে আসো সম্মুখে দাঁড়াও,
- কবিতা বাঁচে ভালোবাসায়,
- একবার ভালোবেসে দেখো,
- আর কোনোদিন হইনি এমন মর্মাহত,
- তোমাকে ভুলতে চেয়ে আরো বেশী ভালোবেসে ফেলি,
- এক কোটি বছর তোমাকে দেখি না।

 • মহাদেব সাহার কাব্যগ্রন্থ:
- এই গৃহ এই সন্ন্যাস,
- চাই বিষ অমরতা।
- কী সুন্দর অন্ধ,
- তোমার পায়ের শব্দ,
- আমি ছিন্ন ভিন্ন,
- ভুলি নাই তোমাকে রুমাল,
- অন্তহীন নৃত্যের মহড়া।

• মহাদেব সাহার প্রবন্ধগ্রন্থ:
- আনন্দের মৃত্যু নাই,
- মহাদেব সাহার কলাম,
- কবির দেশ ও অন্যান্য ভাবনা।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলা কবিতা।  

১৮.
ভাষা আন্দোলনভিত্তিক প্রথম উপন্যাস কোনটি?
  1. আরেক ফাল্গুন
  2. যাপিত জীবন
  3. আর্তনাদ
  4. নিয়ন্তর ঘণ্টাধ্বনি
ব্যাখ্যা

ভাষা আন্দোলনভিত্তিক প্রথম উপন্যাস- জহির রায়হানের আরেক ফাল্গুন। 
---------------
• 'আরেক ফাল্গুন’ উপন্যাস নিয়ে কিছু কথা:
- ‘আরেক ফাল্গুন’ জহির রায়হানের লেখা ভাষা আন্দোলনভিত্তিক প্রথম উপন্যাস।
গল্পটির কাহিনী ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের ঘটনাগুলোকে স্মরণ করার মধ্যদিয়ে আবর্তিত হয়েছে। গল্পটির মূল কাহিনীতে  ১৯৫৫ সালের ফেব্রুয়ারির কাহিনী বলা হয়েছে। উপন্যাসে দেখানো হয়েছে কিভাবে ছাত্ররা পাকিস্তানি স্বৈরশাসনের বাধা উপেক্ষা করে শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে সমবেত হয়ে প্রতিবাদ জানায়। প্রধান চরিত্র মুনিম এবং তার সঙ্গী ছাত্রনেতারা সাহসিকতার সঙ্গে অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াই করে। গল্পের সময়কাল মাত্র তিন দিন ও দুই রাত, কিন্তু তা ভাষা আন্দোলনের চেতনা, ছাত্রদের অদম্য সাহস এবং স্বাধীনতার আশা স্পষ্টভাবে ফুটিয়ে তোলে। 
------------------- 
• জহির রায়হান:
- জহির রায়হান (১৯৩৫–১৯৭২) ছিলেন বাংলা সাহিত্য ও চলচ্চিত্রের এক বহুমুখী প্রতিভা।
- তিনি ঔপন্যাসিক, গল্পকার, সাংবাদিক এবং চলচ্চিত্র নির্মাতা হিসেবে অসাধারণ অবদান রেখে গেছেন।
- জহির রায়হান বাংলা সাহিত্য ও চলচ্চিত্রের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র।
- তাঁর লেখনী ও নির্মাণ বাঙালির ইতিহাস, সংস্কৃতি ও সংগ্রামকে নতুন মাত্রায় তুলে ধরেছে।
- মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি নিখোঁজ হন। 
- তাঁর অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি একুশে পদক ও স্বাধীনতা পুরস্কার লাভ করেন।

• তাঁর উপন্যাসসমূহ:
- শেষ বিকেলের মেয়ে,
- হাজার বছর ধরে (যার জন্য তিনি আদমজী পুরস্কার পান),
- আরেক ফাল্গুন,
- বরফ গলা নদী,
- তুলাসিন্ধু সেতুবন্ধ,
- অপূর্ব,
- ব্যারিকেড,
- ক্ষয়িষ্ণু,
- ডায়মন্ড নেকলেস ও
- আমি কেন সিরাজী।
-----------------------------
অন্যদিকে,
- ভাষা আন্দোলন ভিত্তিক উপন্যাস:
- যাপিত জীবন – সেলিনা হোসেন (১৯৫২ সালের একুশে ফেব্রুয়ারির প্রেক্ষাপট)।
- আর্তনাদ – শওকত ওসমান (ভাষা আন্দোলনের পরবর্তী পরিস্থিতি)।
- নিরন্তর ঘণ্টাধ্বনি – সেলিনা হোসেন (ভাষা আন্দোলন ও পরবর্তী সময়ের প্রেক্ষাপট)। 

উৎস:
'আরেক ফাল্গুন’ উপন্যাস; 
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; 
বাংলাপিডিয়া। 

১৯.
ভাষা আন্দোলনভিত্তিক প্রথম কবিতা- 
  1. স্মৃতির মিনার
  2. বর্ণমালা, আমার দুঃখিনী বর্ণমালা
  3. কাঁদতে আসিনি, ফাঁসির দাবি নিয়ে এসেছি
  4. সভ্যতার মনিমধ্যে
ব্যাখ্যা

ভাষা আন্দোলনভিত্তিক প্রথম কবিতা:
- ভাষা আন্দোলনভিত্তিক প্রথম ও ঐতিহাসিক কবিতা হলো "কাঁদতে আসিনি, ফাঁসির দাবি নিয়ে এসেছি"।
- কবিতাটির রচয়িতা মাহবুব উল আলম চৌধুরী।
- তিনি ২১ ফেব্রুয়ারি ১৯৫২ সালের রাতে এই কবিতাটি রচনা করেন ভাষা শহীদদের প্রতি স্মরণ আর তাদের হত্যার প্রতিবাদ হিসেবে।
- পরে ২২ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রামে এটি ছাপানো হয়।
- কবিতাটি একুশের প্রথম প্রতীকী কবিতা হিসেবে পরিচিত।
- এবং এতে আন্দোলনের প্রতিবাদ, সাহস ও তীব্র জাতীয় চেতনা ফুটে উঠেছে।
-------------------- 
অন্যদিকে, 
- স্মৃতির মিনার – কবি আলাউদ্দিন আল আজাদ রচিত মহান ভাষা আন্দোলনের ওপর ভিত্তি করে লেখা একটি বিখ্যাত প্রতিবাদী কবিতা।
- বর্ণমালা, আমার দুঃখিনী বর্ণমালা – শামসুর রাহমান রচিত ভাষা আন্দোলন ভিত্তিক কবিতা।
- সভ্যতার মনিমধ্যে হলো কবি ও সাহিত্যিক সৈয়দ শামসুল হক রচিত ভাষা আন্দোলনভিত্তিক একটি বিখ্যাত কবিতা। 

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; 
বাংলাপিডিয়া, 

২০.
“মানুষ মরে গেলে পচে যায়, বেঁচে থাকলে বদলায়, কারণে-অকারণে বদলায়।” উক্তিটি কোন নাটক থেকে নেওয়া?
  1. স্বদেশ
  2. চিঠি 
  3. দণ্ডকারণ্য
  4. রক্তাক্ত প্রান্তর
ব্যাখ্যা

“মানুষ মরে গেলে পচে যায়, বেঁচে থাকলে বদলায়, কারণে-অকারণে বদলায়।” উক্তিটি মুনীর চৌধুরী রচিত রক্তাক্ত প্রান্তর নাটক থেকে নেওয়া হয়েছে। 
---------------------
‘রক্তাক্ত প্রান্তর’ সম্পর্কিত কিছু তথ্য:
- মুনীর চৌধুরীর উল্লেখযোগ্য নাটক ‘রক্তাক্ত প্রান্তর’ ১৭৬১ সালের পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে রচিত।
- নাটকটি কায়কোবাদের ‘মহাশ্মশান’ কাব্য থেকে অনুপ্রাণিত।
- এই নাটকে তিনি যুদ্ধবিরোধী চেতনা, সাম্প্রদায়িকতার ঊর্ধ্বে মানবিক প্রেম এবং যুদ্ধের ভয়াবহ পরিণতি তুলে ধরেছেন।
- নাটকের মূল বার্তা হলো—যুদ্ধ কখনো প্রকৃত বিজয় আনে না;
- বরং এটি মানবজীবনের জন্য এক গভীর ট্র্যাজেডি।

- মুনীর চৌধুরীর ‘রক্তাক্ত প্রান্তর’ নাটক থেকে নেওয়া উক্তিটি—
- “মানুষ মরে গেলে পচে যায়, বেঁচে থাকলে বদলায়, কারণে-অকারণে বদলায়।”
- এই উক্তিটি মানুষের জীবনের চিরন্তন সত্য এবং পরিবর্তনশীলতাকে তুলে ধরে। অর্থাৎ, মানুষ মৃত্যুর পর নিস্তব্ধ হয়ে যায়, কিন্তু জীবিত থাকলে তাঁর চরিত্র, আচরণ ও মনোভাব সময়, পরিস্থিতি বা কোনো কারণে বা অকারণে পরিবর্তিত হতে পারে। 
--------------
• মুনীর চৌধুরী:
- মুনীর চৌধুরী ছিলেন একজন প্রখ্যাত বাংলাদেশি শিক্ষাবিদ, নাট্যকার, সাহিত্যসমালোচক, ভাষাবিজ্ঞানী ও বুদ্ধিজীবী।
- তিনি তৎকালীন ঢাকা জেলার মানিকগঞ্জ শহরে ২৭ নভেম্বর ১৯২৫ সালে জন্মগ্রহণ করেন।
- ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা রাখার কারণে তিনি পাকিস্তান সরকারের হাতে বন্দী হন।
- কারাগারে থাকাকালীনই তাঁর বিখ্যাত নাটক ‘কবর’ (১৯৫৩) রচনা করেন।
- ১৯৭১ সালের ১৪ ডিসেম্বর পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর সহযোগী আল-বদর বাহিনী তাঁকে তাঁর বাড়ি থেকে অপহরণ করে এবং সেদিনই তাঁকে হত্যা করা হয়।

• মুনীর চৌধুরীর বিখ্যাত নাটক:
- রক্তাক্ত প্রান্তর,
- চিঠি,
- কবর,
- দণ্ডকারণ্য

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলাপিডিয়া।