পরীক্ষা আর্কাইভ

প্রাইমারি ডেইলি কুইজ

পরীক্ষাপ্রাইমারি ডেইলি কুইজতারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়07 minutes
মোট প্রশ্ন১৫
সিলেবাস
বিষয়: সাধারণ জ্ঞান (বাংলাদেশ বিষয়াবলি) টপিক: মুক্তিযুদ্ধ ও সমসাময়িক ইতিহাস, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও সংশ্লিষ্ট ঘটনাবলি। উৎস: বাংলাপিডিয়া, জাতীয় তথ্যবাতায়ন, বোর্ড বই (NCTB ও উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়), যেকোনো ভালো গাইড বই।
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

প্রাইমারি ডেইলি কুইজ

প্রাইমারি ডেইলি কুইজ · তারিখ অনির্ধারিত · ১৫ প্রশ্ন

.
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় ঢাকার দেয়ালে শিক্ষার্থীদের আঁকা গ্রাফিতি চিত্র নিয়ে সংকলিত গ্রন্থের নাম কী?
  1. Memory of July
  2. Art of July
  3. Memory of Gen Z
  4. Art of Triumph
ব্যাখ্যা

Art of Triumph:
- জুলাইয়ে শুরু হওয়া ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে শেখ হাসিনা সরকারের পতন ঘটে গত ৫ আগস্ট।
- ৮ আগস্ট অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্ব নেন ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
- জুলাই-আগস্টে অভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর বিভিন্ন দেয়ালে নানা ধরনের গ্রাফিতি আঁকা হয়।
- তরুণ বিপ্লবীদের আঁকা এমন গ্রাফিতি সশরীরে গিয়ে দেখলেন প্রধান উপদেষ্টা।
- জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের সময় ঢাকার দেয়ালে শিক্ষার্থীদের আঁকা গ্রাফিতি চিত্র নিয়ে সংকলিত গ্রন্থের নাম Art of Triumph।

এছাড়াও,
- প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস মঙ্গলবার (২৪ সেপ্টেম্বর) কানাডিয়ান প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডোকে বাংলাদেশে গত জুলাই-আগস্ট মাসে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় রাজধানী ঢাকার দেয়ালে শিক্ষার্থীদের আঁকা বর্ণিল ও বৈচিত্র্যময় গ্রাফিতি চিত্রের একটি সংকলন 'দ্য আর্ট অব ট্রায়াম্ফ' উপহার প্রদান করেন।
- এছাড়াও, মুহাম্মদ ইউনূস প্রখ্যাত প্রাণিবিজ্ঞানী, প্রাইমেটোলজিস্ট ও নৃতত্ত্ববিদ জেন গুডঅলকে 'দ্য আর্ট অব ট্রায়াম্ফ' আর্টবুক উপহার দিয়েছেন। 

উৎস: প্রথম আলো ও  বাংলা ট্রিবিউন পত্রিকা রিপোর্ট।

.
মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার জন্য সমগ্র বাংলাদেশকে কয়টি সেক্টরে বিভক্ত করা হয়?
  1. ৪টি

  2. ৯টি

  3. ১০টি

  4. ১১টি

ব্যাখ্যা

মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনা:
- ১০ই এপ্রিল মুজিবনগর সরকার গঠিত হওয়ার পর মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার জন্য সামরিক, বেসামরিক জনগণকে নিয়ে একটি মুক্তিযোদ্ধা বাহিনী গড়ে তোলার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়।
- ১০ই এপ্রিল সরকার ৪টি সামরিক জোনে বাংলাদেশকে ভাগ করে ৪ জন সেক্টর কমান্ডার নিযুক্ত করে।
- ১১ই এপ্রিল তা পুনর্গঠিত করে ১১টি সেক্টরে বিভক্ত করা হয়
- এ ছাড়া বেশ কিছু সাব-সেক্টর এবং তিনটি ব্রিগেড ফোর্স গঠিত হয়।
- এসব সেক্টরে পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে কর্মরত বাঙালি সেনা কর্মকর্তা, সেনাসদস্য, পুলিশ, ইপিআর, নৌ ও বিমানবাহিনীর সদস্যগণ যোগদান করেন।
- প্রতিটি সেক্টরেই নিয়মিত সেনা, গেরিলা ও সাধারণ যোদ্ধা ছিল।
- এরা মুক্তিযোদ্ধা বা মুক্তিফৌজ নামে পরিচিত ছিল।
- এসব বাহিনীতে দেশের ছাত্র, যুবক, নারী, কৃষক, রাজনৈতিক দলের কর্মী-সমর্থক, শ্রমিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ অংশ নিয়েছিল।
- ভারতের বিভিন্ন প্রশিক্ষণ ক্যাম্পে প্রশিক্ষণ শেষে যোদ্ধাগণ দেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করে পাকিস্তানি সামরিক ছাউনি বা আস্তানায় হামলা চালায়।
- মুক্তিযুদ্ধে সরকারের অধীন বিভিন্ন বাহিনী ছাড়াও বেশ কয়েকটি আঞ্চলিক বাহিনী দেশের অভ্যন্তরে স্বতঃস্ফূর্তভাবে গড়ে উঠেছিল।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।

.
মুক্তিযুদ্ধে ২ নং সেক্টরের সেক্টর কমান্ডার ছিলেন- 
  1. খালেদ মোশাররফ
  2. জিয়াউর রহমান
  3. এ.কে খন্দকার
  4. আব্দুর রব
ব্যাখ্যা

২ নং সেক্টর:
- ঢাকা, কুমিল্লা, ফরিদপুর এবং নোয়াখালি জেলার অংশ নিয়ে গঠিত।
- এ সেক্টরের বাহিনী গঠিত হয় ৪- ইস্টবেঙ্গল এবং কুমিল্লা ও নোয়াখালির ইপিআর বাহিনী নিয়ে।
- আগরতলার ২০ মাইল দক্ষিণে মেলাঘরে ছিল এ সেক্টরের সদরদপ্তর।
- সেক্টর কমান্ডার ছিলেন প্রথমে মেজর খালেদ মোশাররফ এবং পরে মেজর এ.টি.এম হায়দার।
- এই সেক্টরের অধীনে প্রায় ৩৫ হাজারের মতো গেরিলা যুদ্ধ করেছে।
- নিয়মিত বাহিনীর সংখ্যা ছিল প্রায় ৬ হাজার।
- এই সেক্টরে ছয়টি সাব-সেক্টর ছিল।
- এই সেক্টরের বাহিনীর অভিযানের ফলে কুমিল্লা ও ফেনীর মধ্যবর্তী ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক থেকে পাক-বাহিনী সম্পূর্ণ বিতাড়িত হয় এবং মুক্তিযুদ্ধের সামগ্রিককালে এই এলাকা মুক্তিযোদ্ধাদের অধিকারে থাকে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

.
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ১ দফা ঘোষণা হয় কত তারিখে?
  1. ৩১ জুলাই, ২০২৪
  2. ২ আগস্ট, ২০২৪
  3. ৩ আগস্ট, ২০২৪
  4. ৪ আগস্টই, ২০২৪
ব্যাখ্যা

• ৩ আগস্ট ২০২৪ :
- কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক নাহিদ ইসলাম ঘোষণা করেন যে তাদের সরকারের সাথে আলোচনার কোন পরিকল্পনা নেই এবং হাসিনার পদত্যাগ এবং ‘সবার কাছে গ্রহণযোগ্য’ একজন ব্যক্তির নেতৃত্বে ‘জাতীয় সরকার’ গঠনের দাবিতে লংমার্চ টু ঢাকা কর্মসূচি ঘোষণা করেন।
- হাসিনা আলোচনার প্রস্তাব দিলেও ছাত্ররা তার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে।
- বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে, প্রধান সমন্বয়কদের একজন নাহিদ ইসলাম শহিদ মিনারে সমবেত জনতার উদ্দেশ্যে বক্তৃতা করেন, যেখানে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার মন্ত্রিসভার পদত্যাগের জন্য একক দাবি ঘোষণা করে এবং আহ্বান জানায়। 

উল্লেখ্য,
• জুলাই গণঅভ্যুত্থান:
-জুলাই গণঅভ্যুত্থান নামে পরিচিত ছাত্র-জনতার আন্দোলন হচ্ছে বাংলাদেশে একটি গণতান্ত্রিক গণঅভ্যুত্থান যা ২০২৪ সালের ৫ জুন থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত অগণিত প্রাণ বিসর্জন দেয়ার মধ্য দিয়ে বিগত ১৬ বছরের স্বৈরাচারী শাসনের অবসান ঘটিয়েছে।
- ঐতিহাসিক এই বিপ্লবের বিজয়ের ধারার সূচনা হয়েছিল সরকারি চাকুরিতে কোটা পদ্ধতি বাতিলের দাবির আন্দোলনের মধ্য দিয়ে।
- এটি পরে সরকারের কঠোর অবস্থানের কারণে আরো প্রবল হয়ে উঠেছিল যা ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট চূড়ান্ত রূপ লাভ করে শেখ হাসিনার পদত্যাগের মাধ্যমে।

উৎস: বাসস।

.
কনসার্ট ফর বাংলাদেশে অংশ নেওয়া জর্জ হ্যারিসন বিশ্বখ্যাত ব্যান্ডের সদস্য ছিলেন?
  1. দ্য বিটলস
  2. পিংক ফ্লয়েড
  3. দ্য রোলিং স্টোন
  4. নির্‌ভানা
ব্যাখ্যা

• কনসার্ট ফর বাংলাদেশ:
- একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে নিউইয়র্কের ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনে ১৯৭১ সালের ১ আগস্ট অনুষ্ঠিত হয়েছিল ‘দ্য কনসার্ট ফর বাংলাদেশ’।
- পণ্ডিত রবিশংকর মুক্তিযুদ্ধের প্রতি বিশ্বজনমত গড়ে তোলা এবং শরণার্থীদের আর্থিক সহায়তা দেওয়ার জন্য তাঁর শিষ্য-বন্ধু বিশ্বখ্যাত ব্যান্ড বিটলসের শিল্পী জর্জ হ্যারিসনকে নিয়ে এই অবিস্মরণীয় কনসার্টের আয়োজন করেছিলেন।
- তাতে মোট ৪০,০০০ দর্শক উপস্থিত হয়েছিলেন। কনসার্টটির নাম দেওয়া হয়েছিল ‘কনসার্ট ফর বাংলাদেশ’।

- কনসার্ট ফর বাংলাদেশে আয়োজক দুই তারকা ছাড়াও অংশ নেন বিটলসের রিংগো স্টার, বব ডিলান, এরিক ক্ল্যাপটন, বিলি প্রেসটন, লিয়ন রাসেল। রবি শঙ্কর ছাড়াও সরোদ শিল্পী আলী আকবর খান অংশ নিয়েছিলেন এই কনসার্টে।
- এই কনসার্টটি পরিচালনা করেন পল সুইমার। 

- রবি শঙ্কর শুরুতে উদ্যোগটি থেকে বাংলাদেশের জন্য মাত্র ২৫,০০০ ডলার সংগ্রহের আশা করেছিলেন। তবে কনসার্টের টিকিট বিক্রি থেকেই সে সময়ে প্রায় আড়াই লক্ষ ডলারের কাছাকাছি আয় হয়েছিল।
- পরবর্তীতে 'কনসার্ট ফর বাংলাদেশ লাইভ' নামে একটি অ্যালবামও প্রকাশ করা হয়।
- সংগৃহীত অর্থ ইউনিসেফের মাধ্যমে শরণার্থীদের প্রদান করা হয়। 

উৎস: প্রথম আলো এবং বিবিসি।

.
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে প্রথম নারী শহীদ- 
  1. সুলতানা রাজিয়া
  2. নাঈমা সুলতানা
  3. রাজিয়া আখতার
  4. ফিরোজা খানম
ব্যাখ্যা

• জুলাই গণঅভ্যুত্থান:
- সম্প্রতি ৮৩৬ জন জুলাই শহীদের নাম গেজেট আকারে প্রকাশ করেছে।(সেপ্টেম্বর, ২০২৫)
- এর মধ্যে ৬ থেকে ৬০ বছর বয়সী ১০ জন নারীর নাম রয়েছে।
- শহীদ ১০ জন নারীর মধ্যে ৭ জন ঢাকায়, ২ জন নারায়ণগঞ্জে ও ১ জন সাভারে গুলিবিদ্ধ হয়েছিলেন।
- প্রথম নারী শহীদ নাঈমা সুলতানা।
- সময়:  ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই রাজধানীর উত্তরার বাসার বারান্দায় গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যায়।

 উৎস: প্রথম আলো।

.
মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশ বিমানবাহিনী কোথায় গঠিত হয়?
  1. কলকাতা
  2. নাগাল্যান্ড
  3. চট্টগ্রাম
  4. আগরতলা
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশ বিমানবাহিনী:
- ভারতের নাগাল্যান্ডের দিমাপুরে ১৯৭১ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ বিমানবাহিনী গঠিত হয়।
- এর সংগঠক ছিলেন এয়ার কমোডর এ.কে খন্দকার।
- স্কোয়াড্রন লিডার সুলতান মাহমুদ, ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট বদরুল আলম, ক্যাপ্টেন খালেক, সাত্তার, শাহাবুদ্দিন, মুকিত, আকরাম, শরফুদ্দিন এবং ৬৭ জন বিমানসেনা নিয়ে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর যাত্রা শুরু হয়।
- তাদের সম্বল ছিল মাত্র কয়েকটি ডাকোটা, অটার টাইপ বিমান এবং অ্যালুভেট হেলিকপ্টার।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

.
জুলাই গণ অভ্যুত্থানে  'মার্চ টু ঢাকা' কর্মসূচি পালিত হয় কবে?
  1. ২০২৪ সালের ১ আগস্ট

  2. ২০২৪ সালের ৩ আগস্ট

  3. ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট

  4. ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট

ব্যাখ্যা

জুলাই গণ অভ্যুত্থান: 
- জুলাই বিপ্লব নামে পরিচিত ছাত্র-জনতার আন্দোলন হচ্ছে বাংলাদেশে একটি গণতান্ত্রিক গণঅভ্যুত্থান যা ২০২৪ সালের ৫ জুন থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত অগণিত প্রাণ বিসর্জন দেয়ার মধ্য দিয়ে বিগত ১৬ বছরের স্বৈরাচারী শাসনের অবসান ঘটিয়েছে।
- ঐতিহাসিক এই বিপ্লবের বিজয়ের ধারার সূচনা হয়েছিল সরকারি চাকুরিতে কোটা পদ্ধতি বাতিলের দাবির আন্দোলনের মধ্য দিয়ে।
- এটি পরে সরকারের কঠোর অবস্থানের কারণে আরো প্রবল হয়ে উঠেছিল যা ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট চূড়ান্ত রূপ লাভ করে।
- পরিস্থিতি পর্যালোচনায় এক জরুরি সিদ্ধান্তে 'মার্চ টু ঢাকা' কর্মসূচি ৬ আগস্ট থেকে পরিবর্তন করে ৫ আগস্ট করা হয়। 

উৎস: বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (৩০ ডিসেম্বর, ২০২৪) ও প্রথম আলো (৫ আগস্ট ২০২৪)

.
‘জুলাই ৩৬ গেট’ কোথায় উদ্বোধন করা হয়েছে?
  1. পূর্বাচলে
  2. সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে
  3. খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে
  4. রংপুরে
ব্যাখ্যা

• জুলাই ৩৬ গেইট:
- সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে  জুলাই বিপ্লবের স্মৃতি অম্লান রাখতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে প্রতিষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক ‘জুলাই ৩৬ গেইট’ উদ্বোধন করা হয়েছে।
- ২৪ এর জুলাইয়ের শহীদ ও আহত বীর সন্তানদের প্রতি সম্মান জানিয়ে গেইটটির নাম ‘জুলাই ৩৬’ রাখা হয়েছে।
- নামটির প্রতিটি অংশে নিহিত আছে স্মৃতি ও প্রতিজ্ঞা।

উৎস: কৃষি তথ্য সার্ভিস, আঞ্চলিক অফিস, সিলেট।

১০.
মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশের নৌবাহিনী কর্তৃক পরিচালিত প্রথম অভিযানের নাম কী?
  1. অপারেশন কিলোফাইট
  2. অপারেশন ক্লোজ ডোর
  3. অপারেশন জ্যাকপট
  4. অপারেশন ক্লিন হার্ট
ব্যাখ্যা

অপারেশন জ্যাকপট:
- বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় নৌবাহিনীর পরিচালিত প্রথম অভিযান ছিল 'অপারেশন জ্যাকপট'।
- 'অপারেশন জ্যাকপট' পরিচালিত হয় ১৫ই আগস্ট ১৯৭১ সালে।
- দেশের দুইটি সমুদ্রবন্দর—চট্টগ্রাম ও মোংলা এবং দুইটি নদী বন্দর - চাঁদপুর ও নারায়ণগঞ্জে একযোগে একই নামে পরিচালিত অপারেশনগুলো চালানো হয়েছিল।
- অপারেশন জ্যাকপট ছিল একটি আত্মঘাতী অভিযান।
- সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রফিকুল ইসলাম ছিলেন মুক্তিযুদ্ধে এক নম্বর সেক্টরের কমান্ডার।
- অপারেশন জ্যাকপটে চট্টগ্রাম বন্দরের অভিযান তার তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হয়।
- সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর রফিকুল ইসলাম মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বের জন্য বীর উত্তম খেতাব লাভ করেছিলেন।

অন্যদিকে,
- মুক্তিযুদ্ধের সময় সারাদেশে মানুষের কাছে যে অবৈধ অস্ত্র ছিল তা জমা নেওয়ার জন্য যে অভিযান পরিচালিত হয় তা অপারেশন ক্লোজ ডোর।
- অপারেশন ক্লিন হার্ট হল ২০০২ সালে পরিচালিত অপরাধ বিরোধী একটি যৌথ অপারেশনের নাম।
- অপারেশন কিলো ফ্লাইট হলো  মুক্তিযুদ্ধের দুঃসাহসী বিমান অপারেশন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া ও বিবিসি নিউজ।

১১.
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ মীর মাহফুজুর রহমান (মুগ্ধ) কোন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলেন?
  1. বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়
  2. খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়
  3. ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়
  4. ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়
ব্যাখ্যা

• মীর মাহফুজুর রহমান (মুগ্ধ):
- খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত ডিসিপ্লিনের ১৯ ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন মীর মাহফুজুর রহমান (মুগ্ধ)।
- ২০২৩ সালের মার্চে স্নাতক শেষ করে তিনি খুলনা ছেড়ে ঢাকায় চলে যান।
- ১৮ জুলাই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে রাজধানীতে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান তিনি।
- মৃত্যুর আগমুহূর্ত পর্যন্ত তিনি আন্দোলনরত ক্লান্ত-শ্রান্ত শিক্ষার্থী-জনতাকে ‘ভাই, পানি লাগবে? পানি?’ বলছিলেন।
- মুগ্ধ খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ২০২৩ সালে গণিতে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন।
- তিনি বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসে এমবিএ করছিলেন।
- মৃত্যুর সময় তার গলায় বিইউপি আইডি কার্ডটি রক্তমাখা অবস্থায় ছিল।

উৎস: প্রথম আলো।

১২.
মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে কোন দেশ জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে বাংলাদেশের পক্ষে ভেটো ক্ষমতা প্রয়োগ করে?
  1. চীন
  2. যুক্তরাষ্ট্র
  3. ভারত
  4. সোভিয়েত ইউনিয়ন
ব্যাখ্যা

• সোভিয়েত ইউনিয়ন:
- সোভিয়েত ইউনিয়ন (বর্তমান রাশিয়া)ও বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের একটি গুরুত্বপূর্ণ মিত্র ছিল, যদিও তার ভূমিকা প্রধানত কূটনৈতিক এবং রাজনৈতিক সমর্থনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল।
- সেই পরিস্থিতিতে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে বাংলাদেশের পক্ষে ভেটো ক্ষমতা প্রয়োগ করে এবং এই ভেটো প্রয়োগের ফলে পাকিস্তানের উপর আন্তর্জাতিক চাপ বাড়তে থাকে।
- সোভিয়েত ইউনিয়ন বাংলাদেশের পক্ষে আন্তর্জাতিক সমর্থন জোগাড়ে সাহায্য করে এবং মুক্তিযুদ্ধের ন্যায্যতাকে বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরে। 

অন্যদিকে,
- মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানকে সামরিক এবং কূটনৈতিকভাবে সমর্থন দিচ্ছিল যুক্তরাষ্ট্র ও চীন।
- মুক্তিযুদ্ধের সময় যুক্তরাষ্ট্র পাকিস্তানকে সামরিক সহায়তা প্রদান করেছিল।
- চীন জাতিসংঘে পাকিস্তানের পক্ষে কথা বলেছিল এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিল।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি, বাংলাপিডিয়া।

১৩.
নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের প্রধান কে?
  1. বিচারপতি শাহ আবু নাঈম মমিনুর রহমান
  2. ড. ইফতেখারুজ্জামান
  3. আবদুল মুয়ীদ চৌধুরী
  4. ড. বদিউল আলম মজুমদার
ব্যাখ্যা

• দেশের বিভিন্ন সেক্টর সংস্কারে লক্ষে আলাদা কমিশন গঠন করে অন্তর্বর্তী সরকার।

- নির্বাচনব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের প্রধান - বদিউল আলম মজুমদার।
- পুলিশ সংস্কার কমিশনের প্রধান - সফর রাজ হোসেন।
- বিচার বিভাগ সংস্কার কমিশনের প্রধান হিসেবে-  বিচারপতি শাহ আবু নাঈম মমিনুর রহমান।
- দুর্নীতি দমন সংস্কার কমিশনের প্রধান- ড. ইফতেখারুজ্জামান।
- জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশনের প্রধান - আবদুল মুয়ীদ চৌধুরী।
- আর সংবিধান সংস্কার কমিশনের প্রধান হিসেবে প্রথমে বিশিষ্ট আইনজীবী শাহদীন মালিকের নাম ঘোষণা করা হলেও পরে তা পরিবর্তন করে অধ্যাপক আলী রীয়াজকে দায়িত্ব দেওয়া হয়।

উৎস: মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।

১৪.
৫ আগস্ট ২০২৫ এ প্রকাশিত জুলাই ঘোষণাপত্রে কয়টি ধারা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে?
  1. ২৭টি
  2. ২৮টি
  3. ৩০টি
  4. ৩২টি
ব্যাখ্যা

• জুলাই ঘোষণাপত্রে ২৮টি ধারা (clause) অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, এটি রাজনৈতিক, সাংবিধানিক ও শাসন কাঠামোর সংস্কারের পাশাপাশি ছাত্র-জনতা ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনের স্বীকৃতি ও আইনি সুরক্ষা বিষয়গুলোকে সংজ্ঞায়িত করে। 

• জুলাই ঘোষণাপত্র: 
বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ৫ আগস্ট ২০২৫ আনুষ্ঠানিকভাবে জুলাই ঘোষণাপত্র প্রকাশ করেছে।
- জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় এই ঘোষণাপত্র পাঠ করেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস।  

ঘোষণাপত্রের মূল বিষয়গুলো:
- জুলাই অভ্যুত্থানে নিহতদের জাতীয় বীর ঘোষণা।
-  ছাত্র-জনতাকে আইনি সুরক্ষা প্রদান করা হবে।
-  এই ঘোষণাপত্র সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
-  মুক্তিযুদ্ধ ও রাজনৈতিক সংগ্রামের ইতিহাস তুলে ধরা হয়েছে।

উৎস: পত্রিকা রিপোর্ট ও জুলাই ঘোষণাপত্র।

১৫.
১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর পাকিস্তানি বাহিনীর আত্মসমর্পণ দলিলে যৌথবাহিনীর পক্ষে কে স্বাক্ষর করেন?
  1. জগজিৎ সিং অরোরা
  2. স্যাম মানেকশ
  3. আবদুল্লাহ নিয়াজী
  4. জে এফ আর জেকব
ব্যাখ্যা

পাকিস্তানি বাহিনীর আত্মসমর্পণ:
- ১৪ ডিসেম্বর পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান পূর্বাঞ্চলের কমান্ডার জেনারেল এ কে নিয়াজিকে অবিলম্বে যুদ্ধ বন্ধ ও সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের জীবন রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।
- ১৫ ডিসেম্বর ভারতীয় সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল স্যাম মানেকশ পাকিস্তান সেনাবাহিনীকে অস্ত্র সংবরণ করে আত্মসমর্পণের আহ্বান জানান। 
- ১৬ ডিসেম্বর সকাল সোয়া নয়টার সময় মানেকশ ভারতের পূর্বাঞ্চল বাহিনীর চিফ অব জেনারেল স্টাফ মেজর জেনারেল জে এফ আর জেকবকে আত্মসমর্পণের দলিল ও আনুষ্ঠানিকতা চূড়ান্ত করার জন্য ঢাকায় পাঠান।
- অবশেষে মুক্তিযুদ্ধের জয়ী ও পরাজিত দুই পক্ষের মধ্যে ১৬ ডিসেম্বর বিকেলে আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মসমর্পণের ঐতিহাসিক দলিল স্বাক্ষরিত হয়। 
- শেষপর্যন্ত জেনারেল আবদুল্লাহ নিয়াজী ১৬ ডিসেম্বর রেসকোর্সের যে স্থানে বঙ্গবন্ধু ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ দিয়েছিলেন সেখানে ৯৩ হাজার সৈন্য ও অফিসারসহ আত্মসমর্পণের দলিলে স্বাক্ষর করেন।
- যৌথবাহিনীর পক্ষে স্বাক্ষর করেন লে. জেনারেল জগজিৎ সিং অরোরা, জিওসি এবং পূর্বাঞ্চলীয় ভারতীয় বাহিনী ও বাংলাদেশ বাহিনীর সর্বাধিনায়ক। 

উৎস:
- বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্ৰেণী।
- ১৬ ডিসেম্বর ২০১৯, প্রথম আলো।