পরীক্ষা আর্কাইভ

ডেইলি কুইজ [২০০ দিন]

পরীক্ষাডেইলি কুইজ [২০০ দিন]তারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়09 minutes
মোট প্রশ্ন
সিলেবাস
বাংলা সাহিত্য: টপিকসমূহ: ১. বাংলা গদ্যের উৎপত্তি ও বিকাশ; ২. বাংলা নাটকের উৎপত্তি ও বিকাশ; ৩. বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগের বিভিন্ন সাহিত্য কর্মের গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র। উৎস: ষষ্ঠ থেকে উচ্চ-মাধ্যমিক শ্রেণি পর্যন্ত বাংলা সাহিত্যপাঠ বোর্ড বই [NCTB ও উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়], যেকোনো একজন ভালো একাডেমিক লেখকের বই; বাংলাপিডিয়া; বাজারে প্রচলিত যেকোনো ভালো গাইড বই। [গাইড বই থেকে পড়ার ক্ষেত্রে কনফিউজিং বিষয়গুলো ক্রসচেক করে পড়া উত্তম।]
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

ডেইলি কুইজ [২০০ দিন]

ডেইলি কুইজ [২০০ দিন] · তারিখ অনির্ধারিত · প্রশ্ন

.
বাংলা গদ্যের আদি নিদর্শন নিচের কোনটি?
  1. ক) চর্যাপদ
  2. খ) শ্রীকৃষ্ণকীর্তন
  3. গ) নরোত্তম দাসের দেহকড়চা
  4. ঘ) কোচবিহারের রাজার লেখা পত্র
ব্যাখ্যা
১৫৫৫ সালে আসামরাজকে লেখা কোচবিহারের রাজার একটি পত্রকে বাংলা গদ্যের প্রাপ্ত প্রাচীনতম নিদর্শন বলে মনে করা হয়
• ষোল শতক থেকে গদ্যরীতির সূচনা হলেও উনিশ শতকের পূর্ব পর্যন্ত এই সুদীর্ঘ সময়ে প্রয়োজনের মধ্যে তা সীমাবদ্ধ থাকে।
• পশ্চাতে খ্রিষ্টান পসরা সাজিয়ে আগত পর্তুগিজ পাদ্রিদের হাতেই বাংলা গদ্যের ব্যাপক ব্যবহারের সূত্রপাত হয়।
• ড. সুকুমার সেন বাংলার গদ্যরীতির চারটি স্তর নির্দেশ করেছেন। যথা:
১. সূচনা: ষোল শতক-১৮০০ সালের পুর্ব পর্যন্ত।
২. উন্মেষ: ১৮০০-১৮৪৭ সালের পুর্ব পর্যন্ত।
৩. অভ্যুদয়: ১৮৪৭-১৮৬৫ সালের পুর্ব পর্যন্ত।
৪. পরিণতি ১৮৬৫ থেকে বর্তমান কাল পর্যন্ত।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
.
কত শতকে নেপালে প্রথম বাংলা নাটক রচিত ও অভিনীত হয়?
  1. ক) সতের শতকে
  2. খ) বিশ শতকে
  3. গ) আঠারো শতকে
  4. ঘ) ষোল শতকে
ব্যাখ্যা
- আঠারো শতকের শেষদিকে নেপালে বাংলা নাটক রচিত ও অভিনীত হয়। কিন্তু বাংলা নাট্যসাহিত্যের ইতিহাসে এসব একটা কৌতূহল ছাড়া অন্য কোন প্রভাব বিস্তার করতে পারে নি।
- বাংলা নাটকের প্রথম অভিনয় হয় ১৭৯৫ সালে।
- হেরিসন লেবেডফ নামে একজন রুশদেশীয় আগন্তুক কলকাতায় বেঙ্গল থিয়েটার নামে একটি রঙ্গলালয় স্থাপন করেন।
- তিনি The Disguise এবং Love is the best Doctor নামে দুখানা নাটক বাংলা ভাষান্তরিত করে এদেশীয় পাত্রপাত্রীর দ্বারা অভিনয় করান।
- এতে ভারতচন্দ্র রচিত গান সংযোজিত হয়েছিল।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
.
বাংলা গদ্যের পথিকৃৎ বলা হয় কাকে?
  1. ক) বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  2. খ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. গ) উইলিয়াম কেরি
  4. ঘ) ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
ব্যাখ্যা
- উইলিয়াম কেরিকে বাংলা গদ্যের পথিকৃৎ বলা হয়।
- তিনি সুশৃঙ্খল গদ্যের পথকিৃৎরূপে বিদেশী ব্যবহারের ও শিক্ষার উপযোগ করে ১৮০১ সালে ‘ কথোপকথন’ গ্রন্থটি শ্রীরামপুর মিশন প্রেস থেকে প্রকাশ করেন।
- ‘কথোপকথন’ গ্রন্থটি ছিল ‍দ্বিভাষিক- এক পৃষ্ঠায় বাংলা , অপর পৃষ্ঠায় ইংরেজি।
- বাংলা ভাষার কথ্যরীতির প্রথম নিদর্শন এই গ্রন্থে বিধৃত।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

================
উল্লেখ্য,
বাংলা গদ্যের জনক ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
- তিনি বাংলা গদ্যে যতি বা বিরামচিহ্নের প্রবর্তন করেন।
- বাংলা গদ্য প্রবাহ সমৃদ্ধির জন্য তিনি ‘উচ্চবচন ধ্বনিতরঙ্গ’ ও ‘অনতিলক্ষ্য ছন্দঃস্রোত’ সৃষ্টি করেন।
- তিনি বাংলা গদ্যকে গতিশীল করে প্রাণদান করেছেন।
- বিদ্যাসাগর বাংলা গদ্যে সুললিত শব্দবিন্যাস, পদবিভাগ ও যতিসন্নিবেশে সুবোধ্য ও শিল্প গুণান্বিত করে তোলেন। 
- বাংলা গদ্যকে তিনি সাহিত্য গুণসম্পন্ন ও সর্বভাব প্রকাশক্ষম করেছিলেন বলেই বিদ্যাসাগরকে বাংলা গদ্যের জনক বলা হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং লাল নীল দীপাবলি, হুমায়ুন আজাদ। 
.
রামনারায়ণ তর্করত্নের বিখ্যাত সামাজিক নাটক কোনটি?
  1. ক) কুলীনকুলসর্বস্ব
  2. খ) বেণীসংহার
  3. গ) রত্নাবলী
  4. ঘ) মালতীমাধব
ব্যাখ্যা
- নাট্যকার হিসেবে রামনারায়ণ তর্করত্ন প্রভূত খ্যাতিলাভের পশ্চাতে রয়েছে তাঁর সামাজিক নাটক ‘কুলীনকুলসর্বস্ব’ (১৮৫৪) সালে অভিনয় সাফল্য লাভ করে।
- তাঁর ‘কুলীনকুলসর্বস্ব’  নাটক তৎকালীন নাট্যসাহিত্যে প্রবল আলোড়ন সৃষ্টি করতে সক্ষম হয়।
- সমকালীন সমাজব্যবস্থার কুসংস্কারাচ্ছন্ন দিকগুলো নাটকে রূপায়িত করতে গিয়ে আঙ্গিকগত দিক থেকে তাঁর চূড়ান্ত সার্থকতা লাভ করা সম্ভব হয় নি।


উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
.
গদ্যে প্রথম সংস্কৃত ব্যাকরণ রচনা করেন -
  1. ক) অক্ষয়কুমার দত্ত
  2. খ) প্যারীচাঁদ মিত্র
  3. গ) কালীপ্রসন্ন সিংহ
  4. ঘ) দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা
- গদ্যে প্রথম সংস্কৃত ব্যাকরণ রচনা করেন দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর
- দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর বাংলা গদ্যের প্রাথমিক পর্যায়ের একজন বিশিষ্ট লেখক হসেবেও উল্লেখযোগ্য।
- ‘তত্ত্ববোধিনী সভা’ ও ‘তত্ত্ববোধিনী পত্রিকা’র প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে তিনি সুপরিচিত।
- তিনি ‘ঋগ্বেদে’র প্রথম বঙ্গানুবাদের সূত্রপাত করেন। 

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম
.
বাংলা গদ্যে সর্বপ্রথম কথ্য বা চলিত ভাষারীতির প্রয়োগ দেখা যায় কোন গ্রন্থে?
  1. ক) কথোপকথন
  2. খ) আলালের ঘরের দুলাল
  3. গ) ইতিহাসমালা
  4. ঘ) হিতোপদেশ
ব্যাখ্যা
- বাংলা গদ্যে প্রথমবারের মত ‘আলালের ঘরের দুলাল’ গ্রন্থের মাধ্যমে প্যারীচাঁদ মিত্র কথ্য বা চরিত ভাষারীতির প্রয়োগ ঘটান।
- তিনি উপলব্ধি করেছিলেন , বাংলা গদ্যের সাধুরীতি কেবল লিখিত রূপেই প্রচলিত এবং বিদ্যালয়ে অধ্যায়নের সুযোগ বঞ্চিত লোকেরা , বিশেষত অন্তঃপুরচারিণীরা এই ভাষারীতি হৃদয়ঙ্গম করতে পারে না।
- এই অসুবিধা দূরীকরণে প্রথমত ‘মাসিক পত্রিকার” মাধ্যমে প্রচেষ্টা চালায় এবং তারই ফলস্বরুপ ‘আলালের ঘরের দুলাল’ এই গ্রন্থটি রচিত।
- এই গ্রন্তের মাধ্যমে বাংলা গদ্যরীতিতে এক অভিনব লঘুভঙ্গি প্রবর্তিত হয় এবং তা  কথ্যরীতির বহুল ব্যবহারের পথ উন্মুক্ত করে।


উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
.
‘ইব্রাহিম কার্দি’ মুনীর চৌধুরী রচিত কোন নাটকের চরিত্র?
  1. ক) কবর
  2. খ) রক্তাক্ত প্রান্তর
  3. গ) চিঠি
  4. ঘ) দণ্ডকারণ্য
ব্যাখ্যা
- মুনীর চৌধুরী একজন শিক্ষাবিদ, নাট্যকার, সাহিত্যসমালোচক।
- মুনীর চৌধুরী রচিত 'রক্তাক্ত প্রান্তর' রচিত হয়েছে মহাকবি কায়কোবাদের 'মহাশ্মশান' গ্রন্থের কাহিনি থেকে।
- 'রক্তাক্ত প্রান্তর' মুনীর চৌধুরীর প্রথম পূর্ণাঙ্গ মৌলিক নাটক।
- পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধের (১৭৬১) ঘটনা অবলম্বনে তিন অঙ্ক বিশিষ্ট নাটকটি রচিত।
- 'রক্তাক্ত প্রান্তর' ঐতিহাসিক নাটক নয়, এটি ইতিহাস-আশ্রিত নাটক। 
- ‘মানুষ মরে গেলে পচে যায়। বেঁচে থাকলে বদলায়।' রক্তাক্ত প্রান্তর— নাটকের একটি জনপ্রিয় উক্তি।
- চরিত্র: ইব্রাহিম কার্দি, জোহরা, হিরণবালা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।