পরীক্ষা আর্কাইভ

১৯তম জুডিসিয়াল সার্ভিস (BJS) প্রস্তুতি

পরীক্ষা১৯তম জুডিসিয়াল সার্ভিস (BJS) প্রস্তুতিতারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়12 minutes
মোট প্রশ্ন৩০
সিলেবাস
পরীক্ষা - ৩৪ বাংলা পরীক্ষা - ৪ বিষয়: বাংলা টপিক: কাজী নজরুল ইসলাম, পঞ্চপান্ডব, হুমায়ূন আহমেদ, হুমায়ুন আজাদ, ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত, নির্মলেন্দু গুণ, প্রমথ চৌধুরী, বিহারীলাল চক্রবর্তী, মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়, মুনীর চৌধুরী, রুদ্র মুহম্মদ শহীদুল্লাহ, শওকত ওসমান, শামসুর রহমান, সুকান্ত ভট্টাচার্য, সুফিয়া কামাল, জহির রায়হান, স্বর্ণকুমারী দেবী, মুক্তিযুদ্ধ ও ভাষা আন্দোলনের সাহিত্যকর্ম, সমসাময়িক সাহিত্য। উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, মাধ্যমিক সাহিত্যপাঠ বই (NCTB ও উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়), বাংলাপিডিয়া ও যেকোনো ভালো গাইড বই।
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

১৯তম জুডিসিয়াল সার্ভিস (BJS) প্রস্তুতি

১৯তম জুডিসিয়াল সার্ভিস (BJS) প্রস্তুতি · তারিখ অনির্ধারিত · ৩০ প্রশ্ন

.
'পাষণ্ডপীড়ন' পত্রিকাটি সম্পাদনা করতেন-  
  1. ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত 
  2. রাজা রামমোহন রায় 
  3. আবুল হোসেন 
  4. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর 
ব্যাখ্যা

‘পাষণ্ডপীড়ন' পত্রিকাটি সম্পাদনা করতেন- ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত। 
---------------- 
• ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত:
- ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত ছিলেন একজন কবি ও সাংবাদিক।
- ১২১৮ বঙ্গাব্দের ২৫ ফাল্গুন (মার্চ ১৮১২) পশ্চিমবঙ্গের চবিবশ পরগনা জেলার কাঞ্চনপল্লী বা কাঁচড়াপাড়া গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে মধ্যযুগ ও আধুনিক যুগের মিলনকারী কবি হিসেবে পরিচিত।
- 'ভ্রমণকারী বন্ধু' ছিল তাঁর ছদ্মনাম।
- ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত ছিলেন যুগসন্ধিক্ষণের কবি (১৭৬১ – ১৮৬০)।
- তাঁর রচনায় মধ্যযুগের সাহিত্যরীতি ও বিষয়বস্তু যেমন ছিল, তেমনি আধুনিক যুগের প্রভাবও ছিল স্পষ্ট।
- তিনি ছিলেন দুই যুগের মেলবন্ধনের প্রতীক।

- ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত ১৮৩১ সালে সংবাদ প্রভাকর নামক সাপ্তাহিক পত্রিকা প্রকাশ শুরু করেন
- অল্পদিনের মধ্যেই এটি বন্ধ হলেও ১৮৩৬ সালে পুনরায় প্রকাশিত হয়।
- পরবর্তীতে ১৮৩৯ সালে ‘সংবাদ প্রভাকর’ বাংলা ভাষার প্রথম দৈনিক পত্রিকায় পরিণত হয়।
- সাংবাদিকতার মাধ্যমে তিনি সমাজের অবিচার, ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির অত্যাচার ও অন্যায়কর্মের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেছিলেন। -
- ‘সংবাদ প্রভাকর’ ছাড়াও ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত যেসব পত্রিকা সম্পাদনা করেছিলেন—
- সংবাদ রত্নাবলী,
- পাষণ্ডপীড়ন
- সংবাদ সাধুরঞ্জন প্রভৃতি।  

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা – সৌমিত্র শেখর;
লাল নীল দীপাবলী বা বাঙলা সাহিত্যের জীবনী – হুমায়ুন আজাদ।

.
'ধ্রুব' চলচ্চিত্রে নজরুল কোন চরিত্রের ভূমিকায় অভিনয় করেছিলেন?   
  1. নারদ
  2. রাবণ
  3. ধ্রুব
  4. রামায়ণ 
ব্যাখ্যা

'ধ্রুব' চলচ্চিত্রে নজরুল নারদের ভূমিকায় অভিনয় করেছিলেন।
-----------------------
• 'ধ্রুব' চলচ্চিত্র:
-
কাজী নজরুল ইসলাম ১৯৩৪ সালে নির্মিত  ধ্রুব চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছিলেন।
- এটি ছিল তাঁর একমাত্র অভিনীত সিনেমা।
- তিনি এ ছায়াছবিতে নারদের ভূমিকায় অভিনয় করেন।
- নজরুল ‘ধ্রুব’ ছায়াছবির পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন ছাড়াও গান রচনা, সুরারোপ, সঙ্গীত পরিচালনা করেন।
- তাছাড়া তিনি এ ছায়াছবিতে চারটি গানে অংশ নেন।
- এ ছায়াছবির কাহিনি রচনা করেন নাট্যকার গিরিশচন্দ্র ঘোষ।
- পাইওনিয়র ফিল্মের ব্যানারে ছবিটি ১৯৩৪ খ্রিষ্টাব্দের ১লা জানুয়ারি কলকাতার ক্রাউন টকি হাউজে মুক্তি পায়।
--------------------------------- 
• কাজী নজরুল ইসলাম:
- কাজী নজরুল ইসলাম ছিলেন একজন বাঙালি কবি, ঔপন্যাসিক, গীতিকার, দার্শনিক, এবং বাংলাদেশের জাতীয় কবি।
- তিনি বাংলা সাহিত্যে অগ্রগামী ও প্রগতিশীল ভাবনার জন্য বিশেষভাবে পরিচিত। 
- নজরুল ১৮৯৯ সালের ২৪শে মে পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলায় এক দরিদ্র মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। 
- তিনি কৈশোরে থিয়েটার ও সাহিত্যচর্চার সঙ্গে যুক্ত হন।
- ভারতীয় সেনাবাহিনীতে কাজ করার পর সাংবাদিকতা পেশা হিসেবে বেছে নেন। 
- পরবর্তীতে তিনি ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে বিদ্রোহী কবিতা ও সাময়িকী প্রকাশ করা শুরু করেন।
- তাঁর কবিতায় মানুষের প্রতি অন্যায়, সামাজিক শোষণ ও অবিচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ মূলভাব হিসেবে প্রকাশ পেয়েছে।

- নজরুল বাংলা কাব্যে নতুন ধারার জন্ম দেন, ইসলামী সঙ্গীত (গজল), শ্যামা সংগীত ও হিন্দু ভক্তিগীতির মাধ্যমে।
- তিনি প্রায় ৩০০০ গান রচনা করেছেন, যেগুলো নজরুল গীতি নামে পরিচিত।
- তিনি মধ্যবয়সে পিক্স ডিজিজে আক্রান্ত হয়ে সাহিত্যচর্চা ও মানসিক ভারসাম্য হারান।
- ১৯৭২ সালে বাংলাদেশ সরকারের আমন্ত্রণে সপরিবারে ঢাকা আসেন নজরুল  এবং এখানেই তিনি ১৯৭৬ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

• নজরুলের বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ হলো —
- অগ্নিবীণা, বিষের বাঁশি, চক্রবাক, প্রলয় শিখা, দোলনচাঁপা ও ভাঙার গান।

• তাঁর গল্পগ্রন্থ — শিউলিমালা, বেদনার দান ও পদ্মগোখরা।

• তাঁর নাটক — আলেয়া, ঝিলিমিলি, মধুমালা ও পুতুলের বিয়ে।

• তাঁর বিখ্যাত উপন্যাস — বাঁধনহারা, মৃত্যুক্ষুধা ও কুহেলিকা।

• তাঁর প্রবন্ধগ্রন্থ — যুগবাণী (যা নিষিদ্ধ হয়েছিল) ও রাজবন্দীর জবানবন্দী।
------------------------ 
উল্লেখ্য, 
- কাজী নজরুল ইসলাম- গোরা, পাতালপুরী, চৌরঙ্গী চলচ্চিত্রের সঙ্গীত পরিচালক ছিলেন। 

উৎস: 
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা – সৌমিত্র শেখর; 
জাতীয় তথ্য বাতায়ন। 

.
‘স্বদেশ ও সংস্কৃতি’ কোন ধরনের সাহিত্যকর্ম? 
  1. কাব্যগ্রন্থ
  2. নাটক
  3. প্রবন্ধগ্রন্থ 
  4. উপন্যাস
ব্যাখ্যা

‘স্বদেশ ও সংস্কৃতি’ বুদ্ধদেব বসুর রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ।  
------------------------------------------------------
• ‘স্বদেশ ও সংস্কৃতি’র মূলকথা:
- বুদ্ধদেব বসুর স্বদেশ ও সংস্কৃতি প্রবন্ধগ্রন্থে বাঙালি সমাজ, সাহিত্য ও সংস্কৃতির স্বরূপ বিশ্লেষণের মাধ্যমে স্বদেশীয় ঐতিহ্যের মূল্য ও আধুনিকতার সম্পর্ক তুলে ধরা হয়েছে। পাশ্চাত্য সাহিত্য ও সংস্কৃতির প্রভাব স্বীকার করেও তিনি বাঙালির নিজস্ব সাংস্কৃতিক পরিচয়, রুচিবোধ ও মানসিক স্বাধীনতার গুরুত্ব ব্যাখ্যা করেছেন। গ্রন্থটি মূলত আধুনিক বাঙালি জীবনের সংকট, রবীন্দ্র-প্রভাব এবং স্বতন্ত্র সাংস্কৃতিক আত্মঅনুসন্ধানের মননশীল আলোচনা।
----------------------
• বুদ্ধদেব বসু:
- বুদ্ধদেব বসু ছিলেন বাঙালি কবি, প্রাবন্ধিক, নাট্যকার, গল্পকার, অনুবাদক, সম্পাদক ও সাহিত্য সমালোচক।
- বুদ্ধদেব বসু ১৯০৮ সালের ৩০ নভেম্বর কুমিল্লায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পরিবারের আদি নিবাস বিক্রমপুরের মালখানগর।
- তিনি কবি হিসেবে উল্লেখযোগ্য হলেও সম্পাদক হিসেবেও সুপরিচিত ছিলেন।
- তাঁর সম্পাদিত ‘কবিতা’ পত্রিকাটি কলকাতা থেকে ১৯৩৫ সালে প্রকাশিত হয়।
- তিনি পঞ্চপান্ডব কবিদের মধ্যকার একজন। 
- তাকে কল্লোল গোষ্ঠীর কবি হিসেবেও অভিহিত করা হয়। 
- ১৮ মার্চ ১৯৭৪ সালে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য প্রবন্ধগ্রন্থের মধ্যে রয়েছে:
- হঠাৎ আলোর ঝলকানি;
- কালের পুতুল;
- সাহিত্যচর্চা;
- স্বদেশ ও সংস্কৃতি;
- সঙ্গ নিঃসঙ্গতা ও রবীন্দ্রনাথ ইত্যাদি।

উৎস:
বাংলাপিডিয়া;
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা। 

.
প্রমথ চৌধুরীর সাথে 'ইন্দ্রাদেবী' কীভাবে সম্পর্কিত ছিলেন?
  1. ভাইয়ের মেয়ে
  2. কন্যা
  3. ভগ্নী
  4. সহধর্মিণী
ব্যাখ্যা

প্রমথ চৌধুরী:
- প্রমথ চৌধুরী ছিলেন একজন বাঙালি প্রাবন্ধিক, কবি এবং লেখক।
- তাকে বাংলা চলিত গদ্যরীতির প্রবর্তক বলা হয়।
- তিনি ১৮৬৮ সালের ৭ আগস্ট যশোরে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতা দুর্গাদাস চৌধুরী ছিলেন জমিদার।
- তাঁর ছদ্মনাম ছিল বীরবল, এবং তিনি নিজেকে “বাংলা সাহিত্যের বীরবল” হিসেবে পরিচয় দিয়েছিলেন।
- তিনি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ভাইয়ের মেয়ে ইন্দ্রাদেবীকে বিয়ে করেন।
- তিনি সবুজপত্র পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন।
- পত্রিকাটি ১৯১৪ সালে প্রথম প্রকাশিত হয়।
- তিনি মাসিক সবুজপত্র প্রকাশের মাধ্যমে বাংলা চলিত গদ্যরীতির সূচনা করেন, যা তাঁর জীবনের সর্বোচ্চ কীর্তি হিসেবে বিবেচিত হয়।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনা-
• কাব্যগ্রন্থ: সনেট পঞ্চাশৎ।
• গল্পগ্রন্থ: নীললোহিত ও চার ইয়ারি কথা।
• প্রবন্ধগ্রন্থ: তেল নুন লাকড়ি ও বীরবলের হালখাতা।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা – সৌমিত্র শেখর;
বাংলাপিডিয়া।

.
শওকত ওসমানের আর্তনাদ উপন্যাসের প্রেক্ষাপট কী ছিল?
  1. ১৯৪৭ সালের দেশভাগ ও সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা
  2. ১৯৫২ সালের মহান ভাষা আন্দোলন
  3. ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান
  4. ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ
ব্যাখ্যা

শওকত ওসমান রচিত ভাষা আন্দোলনভিত্তিক উপন্যাস- ' আর্তনাদ'।
--------------------------------------
'আর্তনাদ' উপন্যাস বিষয়ক কিছু তথ্য: 
- শওকত ওসমানের ভাষা আন্দোলননির্ভর উপন্যাস আর্তনাদ। 
- উপন্যাসটি প্রকাশিত হয় ১৯৮৫ সালে। 
- উপন্যাসটি নির্মিত হয়েছে ১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারির রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনের পটভূমিতে। 

- উপন্যাসটিতে তৎকালীন পাকিস্তানি শাসনব্যবস্থার দমননীতি, ১৪৪ ধারা অমান্য করে রাজপথে নামা ছাত্র–জনতার প্রতিবাদ, এবং রফিক–সালামের মতো তরুণদের রক্তে ঢাকার রাজপথ রঞ্জিত হওয়ার করুণ বাস্তবতা জীবন্তভাবে তুলে ধরা হয়েছে। ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ও সামষ্টিক বেদনার সংমিশ্রণে লেখক আন্দোলনের অন্তর্গত যন্ত্রণা ও প্রতিবাদের তীব্রতা প্রকাশ করেছেন। বাংলা ভাষার অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য বাঙালির আত্মত্যাগ, সাধারণ মানুষের আশা–আকাঙ্ক্ষা এবং আন্দোলনের আবেগঘন পরিবেশ—সব মিলিয়ে আর্তনাদ ভাষা আন্দোলনের এক শক্তিশালী সাহিত্যিক দলিল।
------------------------------
• শওকত ওসমান:
- শওকত ওসমান ছিলেন এক বিশিষ্ট কথাসাহিত্যিক ও প্রাবন্ধিক।  
- তিনি ১৯১৭ সালের ২ জানুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার সবলসিংহপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর আসল নাম ছিল শেখ আজিজুর রহমান।
- নাটক, গল্প, উপন্যাস, প্রবন্ধ, রসাত্মক লেখা থেকে শুরু করে শিশু-কিশোর সাহিত্যে পর্যন্ত তাঁর অবদান ছিল উল্লেখযোগ্য। 

• তাঁর সাহিত্যকর্মের মধ্যে উল্লেখযোগ্য উপন্যাসগুলো হলো:
- জননী;
- ক্রীতদাসের হাসি।

• তাঁর মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস:   
- জাহান্নম হইতে বিদায়;
- দুই সৈনিক;
- নেকড়ে অরণ্য;
- জলাঙ্গী।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য নাটক:
- আমলার মামলা;
- পূর্ণ স্বাধীনতা চূর্ণ স্বাধীনতা;
- তস্কর লস্কর;
- কাঁকর মণি।

• শওকত ওসমান এর বিখ্যাত গল্প হল: জন্ম যদি তব বঙ্গে;
• আর তাঁর ভাষা আন্দোলনভিত্তিক উপন্যাস: আর্তনাদ।
------------------------------------------------- 

উৎস:
'আর্তনাদ' উপন্যাস; 
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলাপিডিয়া।

.
মুহম্মদ ঘোরীর দিল্লি বিজয় ইতিহাসের ঘটনা তুলে ধরা হয়েছে কোন উপন্যাসে?  
  1. দীপনির্বাণ
  2. নীল রং রক্ত
  3. রাজসিংহ
  4. বাদশাহ নামদার
ব্যাখ্যা

রাজপুতদের অন্তর্দ্বন্দ্বের সুযোগে মুহম্মদ ঘোরীর দিল্লি আক্রমণ- স্বর্ণকুমারী দেবী রচিত 'দীপনির্বাণ' উপন্যাসে প্রতিফলিত হয়েছে।
-------------------------
• স্বর্ণকুমারী দেবী:
- স্বর্ণকুমারী দেবী (১৮৫৫-১৯৩২) ছিলেন আধুনিক বাংলা সাহিত্যের প্রথম প্রজন্মের একজন উল্লেখযোগ্য মহিলা সাহিত্যিক।
- স্বর্ণকুমারী দেবী ছিলেন বাংলা সাহিত্যের প্রথম মহিলা উপন্যাসিক।
- তিনি জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়ির সদস্য এবং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বড় বোন ছিলেন।
- স্বর্ণকুমারী দেবী কবি, ঔপন্যাসিক, সঙ্গীতজ্ঞ ও সমাজ সংস্কারক হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেন।
- তিনি ‘দীপনির্বাণ’ নামে প্রথম বাংলা উপন্যাস রচনা করেন, যা তাকে প্রথম বাংলা মহিলা ঔপন্যাসিক হিসেবে পরিচিতি দেয়।
- এছাড়াও কবিতা, নাটক ও প্রবন্ধ লিখেছেন। ‘

তাঁর অন্যান্য উল্লেখযোগ্য উপন্যাস:
- দীপনির্বাণ;
- ছিন্নমুকুল;
- মালতী;
- মিবাররাজ।
--------------------------------------------- 
'দীপনির্বাণ' নিয়ে কিছু কথা:
- দীপনির্বাণ উপন্যাসটি দ্বাদশ শতকের ভারতের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে লেখা।
- এখানে রাজপুত রাজাদের অন্তর্দ্বন্দ্ব ও মুহম্মদ ঘোরীর দিল্লি আক্রমণ তুলে ধরা হয়েছে।
- এটি স্বর্ণকুমারী দেবীর প্রথম ঐতিহাসিক উপন্যাস।
- উপন্যাসটি দেশপ্রেম, আত্মত্যাগ ও জাতীয়তাবাদী চেতনায় অনুপ্রাণিত।
------------------------------------ 
অন্যদিকে,
• নীল রং রক্ত- সরদার জয়েনউদ্দীন রচিত নীল বিদ্রোহের কাহিনী।
• রাজসিংহ- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক ঐতিহাসিক উপন্যাস
• বাদশাহ নামদার- হুমায়ূন আহমেদ রচিত হুমায়ুন ও শেরশাহের আমলের প্রেক্ষাপট নিয়ে লেখা উপন্যাস। 

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা – সৌমিত্র শেখর;
বাংলাপিডিয়া।

.
হুমায়ুন কবির রচিত একমাত্র বাংলা উপন্যাস কোনটি?
  1. নদী ও নারী
  2. গণদেবতা
  3. আরোগ্য নিকেতন 
  4. দেয়াল 
ব্যাখ্যা

হুমায়ুন কবির:
- হুমায়ুন কবির ছিলেন একজন ভারতীয় বাঙালি দার্শনিক, লেখক, কবি, রাজনীতিবিদ ও শিক্ষাবিদ।
- হুমায়ুন কবির ১৯০৬ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি ফরিদপুর জেলার কোমরপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর সম্পূর্ণ নাম হুমায়ুন জহিরউদ্দিন আমির-ই-কবির।
- ১৯৬৯ সালের ১৮ আগস্ট হৃদরোগে তিনি মারা যান।

- হুমায়ুন কবিরের একমাত্র বাংলা উপন্যাস “নদী ও নারী”।
- এটি মূলত পদ্মা নদীর বিশালতা, চরভূমি এবং চরবাসীর জীবন, সম্পর্ক ও টিকে থাকার সংগ্রামকে কেন্দ্র করে লেখা।
- উপন্যাসটি প্রথমে ১৯৪৫ সালে ইংরেজিতে ‘Men and Rivers’ নামে প্রকাশিত হয়।
- পরে ১৯৫২ সালে “নদী ও নারী” নামে বাংলায় অনূদিত হয়।
- উপন্যাসে নতুন জেগে ওঠা চরভূমিতে মানুষের জীবন-সংগ্রাম, প্রেম, সম্পর্ক এবং প্রকৃতির সঙ্গে তাদের মিথস্ক্রিয়ার চিত্রণ করা হয়েছে।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনাবলী:
- নদী ও নারী (উপন্যাস);
- ইমানুয়েল কান্ট;
- শরৎ সাহিত্যের মূলতত্ত্ব;
- বাংলার কাব্য (সমালোচনা গ্রন্থ)।
--------------------------------- 
অন্যদিকে,
- তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস- গণদেবতা, আরোগ্য নিকেতন। 
- হুমায়ূন আহমেদ রচিত সর্বশেষ উপন্যাস- দেয়াল। 

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলাপিডিয়া।

.
'অনিঃশেষ' কাব্যগ্রন্থটির রচয়িতা কে?   
  1. বুদ্ধদেব বসু
  2. সুকান্ত ভট্টাচার্য
  3. বিষ্ণু দে
  4. অমিয় চক্রবর্তী
ব্যাখ্যা

'অনিঃশেষ' কাব্যগ্রন্থটির রচয়িতা- অমিয় চক্রবর্তী। 
-------------------------------------
• অমিয় চক্রবর্তী:
- অমিয় চক্রবর্তী (১০ এপ্রিল, ১৯০১ – ১২ জুন, ১৯৮৬) ছিলেন একজন বিশিষ্ট কবি, গবেষক ও শিক্ষাবিদ।
- তিনি পশ্চিমবঙ্গের হুগলীর শ্রীরামপুরে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি পঞ্চপান্ডবদের মধ্যের একজন।
- অমিয় চক্রবর্তী পাটনা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বি.এ. (১৯২১) পাস করে শান্তিনিকেতনের গবেষণা বিভাগে যোগ দেন।
- পরে ১৯২৬–১৯৩৩ সাল পর্যন্ত তিনি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সাহিত্য সচিব হিসেবে কাজ করেন।  
- তাঁর প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ হলো কবিতাবলী।
- তিনি মোট ১৫টি কাব্যগ্রন্থ রচনা করেছেন।
- অমিয় চক্রবর্তীর ইংরেজি ভাষায় ৯টি বই প্রকাশিত হয়েছে।
-  বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় তাঁকে ‘দেশিকোত্তম’ (১৯৬৩) এবং ভারত সরকার ‘পদ্মভূষণ’ (১৯৭০) উপাধিতে ভূষিত করেছে।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থগুলোর মধ্যে রয়েছে:
- খসড়া,
- অনিঃশেষ, 
- এক মুঠো,
- মাটির দেয়াল,
- অভিজ্ঞান বসন্ত ইত্যাদি। 
------------------------ 
উল্লেখ্য, 
- তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ কবিতা রচনা করেন। 
- এই কবিতাটি তাঁর অনিঃশেষ কাব্যগ্রন্থে সংকলিত আছে।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলাপিডিয়া।

.
‘বিপন্ন মানবতার নীলকন্ঠ কবি’ বলা হয় কাকে?
  1. সুকান্ত ভট্টাচার্য
  2. জীবনানন্দ দাশ
  3. বিষ্ণু দে 
  4. বুদ্ধদেব বসু
ব্যাখ্যা

‘বিপন্ন মানবতার নীলকন্ঠ কবি’ বলা হয়- জীবনানন্দ দাশকে। 
----------------------------------
• জীবনানন্দ দাশ:
- জীবনানন্দ দাশ ছিলেন বিংশ শতাব্দীর একজন প্রধান আধুনিক বাঙালি কবি, লেখক ও প্রাবন্ধিক।
- জীবনানন্দ দাশ ছিলেন একজন কালসচেতন ও ইতিহাসচেতন কবি। 
- জীবনানন্দ দাশের জন্ম ১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশালে।
- তাঁর পিতা সত্যানন্দ দাশ এবং মা কুসুমকুমারী দাশ দুজনেই সাহিত্যচর্চার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। 
- জীবনানন্দ দাশের প্রথম কাব্য রচিত হয়েছে নজরুল, সত্যেন্দ্রনাথ ও মোহিতলালের কাব্যধারার অনুসরণে।   
- কিন্তু তাঁর দ্বিতীয় কাব্য তিনি নিজস্ব মৌলিক ধারায় রচনা করেছেন। 
- রবীন্দ্রনাথের নিবিড় প্রকৃতিচেতনা তাঁর কবিতায় গভীরভাবে প্রকাশ পেয়েছে। 
- তাঁকে বলা হয় ‘রূপসী বাংলার কবি’, কারণ তাঁর কাব্যে বাংলার প্রকৃতি, মাটি, মানুষ ও স্মৃতিমগ্ন সৌন্দর্য গভীরভাবে প্রকাশ পেয়েছে। 

- জীবনানন্দ দাশকে ‘বিপন্ন মানবতার নীলকণ্ঠ কবি’ বলা হয়;
- কারণ তাঁর কবিতায় যুদ্ধ, দুর্ভিক্ষ ও সামাজিক অবক্ষয়ের কারণে কষ্ট পাওয়া মানুষের যন্ত্রণাকে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। 
- এই যন্ত্রণাকে নীলকণ্ঠের বিষ পান করার সঙ্গে তুলনা করা হয়।

- এছাড়াও তাঁকে বলা হয়:
• ‘ধূসরতার কবি’,
• ‘নিঃসঙ্গতার কবি’,
• ‘তিমির-হননের কবি’,
• পরাবাস্তবতার কবি,
বিপন্ন মানবতার নীলকন্ঠ কবি,
• শুদ্ধতম কবি, 
• এবং বুদ্ধদেব বসু তাঁকে উপাধি দিয়েছিলেন ‘প্রকৃতির কবি’।
- ১৯৫৪ সালের ২২ অক্টোবর কলকাতায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
--------------------
অন্যদিকে, 
• সুকান্ত ভট্টাচার্যকে বলা হয়- 'কিশোর কবি'। 
• বিষ্ণু দে'কে বলা হয়- মার্ক্সবাদী কবি। 

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা – সৌমিত্র শেখর;
বাংলাপিডিয়া।

১০.
হুমায়ূন আহমেদ রচিত 'অনিল বাগচীর একদিন' কোন আঙ্গিকের সাহিত্যকর্ম? 
  1. গীতিনাট্য
  2. চলচ্চিত্র
  3. উপন্যাস
  4. কাহিনি কাব্য
ব্যাখ্যা

হুমায়ূন আহমেদ রচিত ‘অনিল বাগচীর একদিন’ মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস।
------------------------------------
'অনিল বাগচীর একদিন' উপন্যাসের খুঁটিনাটি: 
- হুমায়ূন আহমেদের 'অনিল বাগচীর একদিন' উপন্যাসটি ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের অস্থির ও ভয়াবহ সময়কে কেন্দ্র করে রচিত একটি ট্র্যাজিক আখ্যান।
- অনিল বাগচীর একদিন মূলত এক ভীতু কিন্তু মানবিক মানুষের সাহস ও আত্মত্যাগের বেদনাময় কাহিনি। 
- কাহিনির কেন্দ্রে রয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত তরুণ হিন্দু যুবক অনিল বাগচী। 
- অনিলের জীবন জুড়ে বিরাজ করে নিরাপত্তাহীনতা, ভয় এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর অনিশ্চয়তা।
- ব্যক্তিগত দ্বন্দ্ব, পারিবারিক দায়িত্ব এবং পরিস্থিতির চাপে তার পালিয়ে বাঁচার মানসিকতা ক্রমশ প্রকট হয়ে ওঠে, যা উপন্যাসের আবেগঘন প্রবাহকে গতি দেয়।

- টাঙ্গাইলের রূপেশ্বরে অবস্থানরত বাবা ও ছোট বোন অণিমার নিরাপত্তা নিয়ে সে গভীর উদ্বেগে পড়ে; 
- কারণ চারদিকে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর নিপীড়ন এবং হিন্দু পরিবারগুলোর ওপর সহিংসতার সংবাদ ছড়িয়ে পড়ে।
- উপন্যাসে টাঙ্গাইলে বাবা ও ছোট বোন অণিমার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যাওয়ার পথে পাকিস্তানি সেনা ও দেশীয় দালালদের ভয়ে অনিলের অস্তিত্ব রক্ষার সংগ্রাম চিত্রিত হয়েছে।
- শেষ পর্যন্ত উপন্যাসটি অনিল বাগচীর জীবনের করুণ পরিণতির মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের নির্মম বাস্তবতা ও সাধারণ মানুষের অসহায় অবস্থাকে গভীরভাবে তুলে ধরে।
----------------------------
• হুমায়ূন আহমেদ:
- হুমায়ূন আহমেদ ছিলেন একজন প্রখ্যাত বাংলাদেশি ঔপন্যাসিক, নাট্যকার, গীতিকার, চলচ্চিত্র পরিচালক এবং শিক্ষাবিদ।
- তিনি বিংশ শতাব্দীর অন্যতম জনপ্রিয় বাঙালি সাহিত্যিক।
- তিনি স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশের সাহিত্যে অসামান্য প্রভাব ফেলেছেন।
- তাঁর জনপ্রিয় চরিত্রের মধ্যে রয়েছে হিমু, মিসির আলি এবং শুভ্র।

- তাঁর উল্লেখযোগ্য নাটক:
• আজ রবিবার;
• কোথাও কেউ নেই।

- হুমায়ূন আহমেদের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস:
• সৌরভ;
• জোছনা ও জননীর গল্প;
• শ্যামল ছায়া;
• ১৯৭১;
অনিল বাগচীর একদিন;
• আগুনের পরশমনি।

- এছাড়া তাঁর উল্লেখযোগ্য উপন্যাসের মধ্যে আছে:
• নন্দিত নরকে;
• শঙ্খনীল কারাগার;
• লীলাবালি;
• বাদশা নামদার।
------------------------------------------- 

উৎস:
'অনিল বাগচীর একদিন' উপন্যাস; 
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলাপিডিয়া।

১১.
কাজী নজরুল ইসলামের কোন কাব্যগ্রন্থ রবীঠাকুরকে উৎসর্গ করা হয়েছিল?
  1. অগ্নিবীণা
  2. সঞ্চিতা
  3. বিষের বাঁশী
  4. সাম্যবাদী 
ব্যাখ্যা

• ‘সঞ্চিতা’ গ্রন্থটি নজরুল ইসলাম রবীঠাকুরকে উৎসর্গ করেছিলেন।
------------------------
'সঞ্চিতা' কাব্যগ্রন্থ উৎসর্গের কারণ: 
- কাজী নজরুল ইসলাম তাঁর বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ 'সঞ্চিতা' সেপ্টেম্বর, ১৯২৫ সালে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে উৎসর্গ করেন।
- নজরুলের তীর্থ-পথিক কবিতাটিও রবীন্দ্রনাথকে উৎসর্গ করেছিলেন; 
- যা তাদের পারস্পরিক সম্মান ও সাহিত্যিক বন্ধনকে আরও দৃঢ় করেছিল।

- কাজী নজরুল ইসলাম তাঁর কাব্যগ্রন্থ সঞ্চিতা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে উৎসর্গ করেছিলেন মূলত চারটি কারণে—  
• প্রথমত, তিনি রবীন্দ্রনাথের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও ব্যক্তিগত মুগ্ধতা অনুভব করতেন। 
• দ্বিতীয়ত, এটি একজন অনুজ কবির পক্ষ থেকে অগ্রজ প্রতিম কবিকে সম্মান প্রদর্শনের প্রতীক ছিল।
• তৃতীয়ত, রবীন্দ্রনাথের অসাধারণ প্রতিভার স্বীকৃতি হিসেবে নজরুল তাঁর কাব্য উৎসর্গ করেছিলেন। 
• এবং শেষত, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কাজী নজরুলকে তাঁর গীতিনাট্য বসন্ত উৎসর্গ করেছিলেন। 
- নজরুলকে এই গ্রন্থে রবীঠাকুর কবি হিসেবে স্বীকৃতি দেন। 
- এই স্বীকৃতির প্রতি সম্মানসূচক হিসেবে নজরুল তাঁর সঞ্চিতা কাব্য উৎসর্গ করে। 
---------------------------
• কাজী নজরুল ইসলাম:
- কাজী নজরুল ইসলাম ছিলেন একজন বাঙালি কবি, ঔপন্যাসিক, গীতিকার, দার্শনিক, এবং বাংলাদেশের জাতীয় কবি।
- তিনি ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ (২৪ মে ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তার ডাকনাম ছিল দুখু মিয়া।
- বাংলা সাহিত্যে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’ নামে পরিচিত।

• নজরুলের বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ হলো-
- সঞ্চিতা, 
- অগ্নিবীণা,
- বিষের বাঁশি,
- সাম্যবাদী, 
- সর্বহারা, 
- সন্ধ্যা, 
- জিঞ্জির, 
- চক্রবাক,
- প্রলয় শিখা,
- দোলনচাঁপা,
- ও ভাঙার গান।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা – সৌমিত্র শেখর;
জাতীয় তথ্য বাতায়ন;
বাংলাপিডিয়া। 

১২.
“আঠারো বছর বয়স কী দুঃসহ
স্পধায় নেয় মাথা তোলবার ঝুঁকি,
আঠারো বছর বয়সেই অহরহ
বিরাট দুঃসাহসেরা দেয় যে উঁকি।”- কবিতাংশ কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত? 
  1. ছাড়পত্র
  2. পূর্বাভাস
  3. ঘুম নেই
  4. অভিযান
ব্যাখ্যা

“আঠারো বছর বয়স কী দুঃসহ
স্পধায় নেয় মাথা তোলবার ঝুঁকি,
আঠারো বছর বয়সেই অহরহ
বিরাট দুঃসাহসেরা দেয় যে উঁকি।”- কবিতাংশ “ছাড়পত্র” কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত।
-----------------------------------------------------
• আঠারো বছর বয়স
- সুকান্ত ভট্টাচার্য। 

"আঠারো বছর বয়স কী দুঃসহ
স্পধায় নেয় মাথা তোলবার ঝুঁকি,
আঠারো বছর বয়সেই অহরহ
বিরাট দুঃসাহসেরা দেয় যে উঁকি।

আঠারো বছর বয়সের নেই ভয়
পদাঘাতে চায় ভাঙতে পাথর বাধা,
এ বয়সে কেউ মাথা নোয়াবার নয়-
আঠারো বছর বয়স জানে না কাঁদা।

এ বয়স জানে রক্তদানের পুণ্য
বাষ্পের বেগে স্টিমারের মতো চলে,
প্রাণ দেওয়া-নেওয়া ঝুলিটা থাকে না শূন্য
সঁপে আত্মাকে শপথের কোলাহলে।"
------------------------------------------
• ছাড়পত্র কাব্যগ্রন্থ:
- ছাড়পত্র কাব্যগ্রন্থটি সুকান্ত ভট্টাচার্যের রচিত।
- এটি তার মৃত্যুর পর ১৯৪৮ সালে প্রকাশিত হয়।

- এই কাব্যগ্রন্থটির উল্লেখযোগ্য কবিতাগুলোর মধ্যে আছে:
- ‘আঠারো বছর বয়স’,
- ‘বোধন’,
- ‘মজুরদের ঝড়’,
- ‘ঠিকানা’,
- এবং ‘কলম’।
-----------------------------------------
"আঠারো বছর বয়স" কবিতা নিয়ে কিছু কথা: 
- "আঠারো বছর বয়স" কবিতাটি সুকান্ত ভট্টাচার্যের ছাড়পত্র কাব্যের অন্তর্ভুক্ত। 
- সুকান্ত ভট্টাচার্যের আঠারো বছর বয়স কবিতায় বয়ঃসন্ধিকালের সাহস, সংবেদনশীলতা ও ঝুঁকি নেওয়ার প্রবণতা তুলে ধরা হয়েছে।
- কবিতাটি এই বয়সকে এমন সময় হিসেবে দেখায়, যা অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে শেখায়, আত্মনির্ভরশীল করে এবং তরুণদের ত্যাগ ও দেশভক্তির জন্য অনুপ্রাণিত করে।
-------------------------
সুকান্ত ভট্টাচার্য:
- সুকান্ত ভট্টাচার্য ১৯২৬ জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি কিশোর কবি, মাকর্সবাদী কবি এবং মানবতার কবি হিসেবে পরিচিত।
- তাঁর কাব্যে পৃথিবীর মানুষের, শোষিত মানুষের জীবন-যন্ত্রণা, বিক্ষোভ ও বিদ্রোহের কথা উচ্চারিত হয়েছে।
- নজরুলের পরে সুকান্তের কবিতায় সবচেয়ে বেশি বিদ্রোহের বাণী লক্ষ্য করা যায়।
- সুকান্ত ভট্টাচার্য ১৯৪৭ সালের ১৩ মে মাত্র ২০ বছর বয়সে যক্ষ্মা রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন।

• সুকান্ত ভট্টাচার্য রচিত কাব্যগ্রন্থগুলো:
- পূর্বাভাস,
- ঘুম নেই,
- ছাড়পত্র,
- অভিযান।

উৎস:
"আঠারো বছর বয়স" কবিতা; 
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর;
বাংলাপিডিয়া।

১৩.
‘রক্তাক্ত প্রান্তর’ নাটকটি কার নাট্যকর্ম?
  1. মুনীর চৌধুরী
  2. কায়কোবাদ
  3. মমতাজউদদীন আহমদ
  4. শেখ ওয়াজেদ আলি 
ব্যাখ্যা

‘রক্তাক্ত প্রান্তর’ নাটকটি মুনীর চৌধুরীর নাট্যকর্ম। 
--------------------------------------------
• মুনীর চৌধুরী:
- মুনীর চৌধুরী ছিলেন একজন প্রখ্যাত বাংলাদেশি শিক্ষাবিদ, নাট্যকার, সাহিত্যসমালোচক, ভাষাবিজ্ঞানী ও বুদ্ধিজীবী।
- তিনি তৎকালীন ঢাকা জেলার মানিকগঞ্জ শহরে ২৭ নভেম্বর ১৯২৫ সালে জন্মগ্রহণ করেন।
- ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা রাখার কারণে তিনি পাকিস্তান সরকারের হাতে বন্দী হন।
- কারাগারে থাকাকালীনই তাঁর বিখ্যাত নাটক ‘কবর’ (১৯৫৩) রচনা করেন।
- ১৯৭১ সালের ১৪ ডিসেম্বর পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর সহযোগী আল-বদর বাহিনী তাঁকে তাঁর বাড়ি থেকে অপহরণ করে এবং সেদিনই তাঁকে হত্যা করা হয়।

• মুনীর চৌধুরীর বিখ্যাত নাটক:
- রক্তাক্ত প্রান্তর,
- চিঠি,
- কবর,
- দণ্ডকারণ্য। 
---------------------------------------------
• ‘রক্তাক্ত প্রান্তর’ সম্পর্কিত কিছু তথ্য:
- মুনীর চৌধুরীর উল্লেখযোগ্য নাটক ‘রক্তাক্ত প্রান্তর’ ১৭৬১ সালের পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে রচিত।
- নাটকটি কায়কোবাদের ‘মহাশ্মশান’ কাব্য থেকে অনুপ্রাণিত।
- এই নাটকে তিনি যুদ্ধবিরোধী চেতনা, সাম্প্রদায়িকতার ঊর্ধ্বে মানবিক প্রেম এবং যুদ্ধের ভয়াবহ পরিণতি তুলে ধরেছেন।
- নাটকের মূল বার্তা হলো—যুদ্ধ কখনো প্রকৃত বিজয় আনে না;
- বরং এটি মানবজীবনের জন্য এক গভীর ট্র্যাজেডি।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলাপিডিয়া। 

১৪.
জহির রায়হান রচিত একুশের গল্প-এর কেন্দ্রীয় চরিত্র-  
  1. তপু
  2. মুনীর
  3. সেলিম 
  4. রহমত 
ব্যাখ্যা

জহির রায়হান রচিত একুশের গল্প-এর কেন্দ্রীয় চরিত্র- তপু। 
------------------------------------------- 
• “একুশের গল্প” নিয়ে কিছু আলোচনা: 
-
জহির রায়হান রচিত ‘একুশের গল্প’- এর পটভূমি হচ্ছে ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন।
- জহির রায়হান 'একুশের গল্পে' এক তরুণের (তপুর) আত্মত্যাগের গল্প বলতে চেয়েছেন।
- গল্পে দেখা যায় যে, চার বছর আগে ১৯৫২ সালে হাইকোর্টের মোড়ে মাথায় গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পুলিশ তপুকে নিয়ে গিয়েছিল।
- দীর্ঘ চার বছর পর একটি কঙ্কালের মাথার খুলিতে গুলির ছিদ্র দেখে তার বন্ধু রাহাত বুঝতে পারে সেটিই তপু।
- কঙ্কালের মধ্যে তপুকে নতুন করে খুঁজে পাওয়ার এক ধরনের আকাঙ্ক্ষা জাগে রাহাতের মনে।
- কিন্তু আনন্দ ও আকাঙ্ক্ষার সঙ্গেই গভীর বেদনা ও হৃদয়ের রক্তক্ষরণের মতো যন্ত্রণা যুক্ত হয়।
- এই অনুভূতিগুলো সরাসরি না প্রকাশ করে লেখক ইঙ্গিত ও ব্যঞ্জনার মাধ্যমে প্রকাশ করেছেন। 
------------------------------------------- 
• জহির রায়হান:
- জহির রায়হান (১৯৩৫–১৯৭২) ছিলেন বাংলা সাহিত্য ও চলচ্চিত্রের এক বহুমুখী প্রতিভা।
- তিনি ঔপন্যাসিক, গল্পকার, সাংবাদিক এবং চলচ্চিত্র নির্মাতা হিসেবে অসাধারণ অবদান রেখে গেছেন।
- জহির রায়হান বাংলা সাহিত্য ও চলচ্চিত্রের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র।
- তাঁর লেখনী ও নির্মাণ বাঙালির ইতিহাস, সংস্কৃতি ও সংগ্রামকে নতুন মাত্রায় তুলে ধরেছে।
- মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি নিখোঁজ হন। 
- তাঁর অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি একুশে পদক ও স্বাধীনতা পুরস্কার লাভ করেন।

• তাঁর উপন্যাসসমূহ:
- শেষ বিকেলের মেয়ে,
- হাজার বছর ধরে (যার জন্য তিনি আদমজী পুরস্কার পান),
- আরেক ফাল্গুন,
- বরফ গলা নদী,
- তুলাসিন্ধু সেতুবন্ধ,
- অপূর্ব, ব্যারিকেড,
- ক্ষয়িষ্ণু,
- ডায়মন্ড নেকলেস ও
- আমি কেন সিরাজী।

• তাঁর গল্পগ্রন্থগুলোর মধ্যে রয়েছে:
- সোনার হরিণ,
- মহামৃত্যু,
- জন্মান্তর,
- ম্যাসাকার এবং
- মানুষের ঘরবাড়ি।

• তাঁর পরিচালিত চলচ্চিত্র:
- কখনও আসেনি,
- কাঁচের দেয়াল,
- জীবন থেকে নেয়া,
- বেহুলা,
- সঙ্গম।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলাপিডিয়া।

১৫.
“সুশিক্ষিত লোক মাত্রই স্বশিক্ষিত।”- এই বিখ্যাত উক্তিটি কোন কবির লেখা? 
  1. কাজী নজরুল ইসলাম
  2. প্রমথ চৌধুরী
  3. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় 
  4. সৈয়দ মুজতবা আলী 
ব্যাখ্যা

“সুশিক্ষিত লোক মাত্রই স্বশিক্ষিত।”- এই বিখ্যাত উক্তিটি প্রমথ চৌধুরীর লেখা। 
-------------------------------
• প্রমথ চৌধুরী:
- প্রমথ চৌধুরী (৭ আগস্ট ১৮৬৮ — ২ সেপ্টেম্বর ১৯৪৬) ছিলেন বিংশ শতাব্দীর প্রখ্যাত প্রাবন্ধিক, কবি ও লেখক।
- তিনি প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বিএ (অনার্স) দর্শন, এবং কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি সাহিত্যে এমএ ডিগ্রী লাভ করেন।
- তিনি কিছুদিন ইংরেজি সাহিত্যে অধ্যাপনা করেছেন এবং পরবর্তীতে সাহিত্যচর্চায় মনোনিবেশ করেন।
- প্রমথ চৌধুরী বাংলা গদ্যে চলিতরীতি প্রবর্তক।
- তিনি বাংলা সাহিত্যে বিদ্রূপাত্মক প্রবন্ধের পথিকৃৎ ছিলেন।
- তিনি সবুজপত্র পত্রিকার মাধ্যমে বাংলা সাহিত্যে নতুন গদ্যধারা সূচনা করেন।
- ১৯৪১ সালে তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ‘জগত্তারিণী পদক’ পান।

- তার সাহিত্যকর্মে প্রবন্ধ, গল্প ও কাব্যরচনার সমৃদ্ধি রয়েছে।
- তাঁর উল্লেখযোগ্য প্রবন্ধগ্রন্থ:
• তেল-নুন-লকড়ী, 
• বীরবলের হালখাতা,
• নানাকথা,
• আমাদের শিক্ষা,
• রায়তের কথা,
• নানাচর্চা।

- তাঁর গল্পগ্রন্থ:
• চার-ইয়ারী কথা,
• আহুতি,
• নীললোহিত,
• অনুকথা সপ্তক,
• ঘোষালে ত্রিকথা।

- তাঁর কাব্যগ্রন্থ:
• সনেট-পঞ্চাশৎ,
• পদচারণ। 
-----------------------------------------
প্রমথ চৌধুরীর একটি বিখ্যাত উক্তি হলো, 
- “সুশিক্ষিত লোক মাত্রই স্বশিক্ষিত”।

-  এ উক্তিটি তার বিখ্যাত প্রবন্ধ "বই পড়া"-থেকে নেয়া হয়েছে।
- "বই পড়া" প্রবন্ধটি তাঁর "প্রবন্ধ সংগ্রহ" বইয়ের অন্তর্ভুক্ত

- “সুশিক্ষিত লোক মাত্রই স্বশিক্ষিত”-
- এই উক্তি প্রমাণ করে যে প্রকৃত শিক্ষিত হতে হলে শুধু প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা নয়, নিজের প্রচেষ্টা ও আগ্রহেও জ্ঞান অর্জন করতে হয়।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা – সৌমিত্র শেখর;
বাংলাপিডিয়া।

১৬.
'সারদামঙ্গল' কাব্যগ্রন্থটির লেখক কে? 
  1. বিহারীলাল চক্রবর্তী
  2. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  3. বুদ্ধদেব বসু 
  4. রাজশেখর বসু 
ব্যাখ্যা

'সারদামঙ্গল' গ্রন্থটির লেখক- বিহারীলাল চক্রবর্তী। 
----------------------------------
• 'সারদামঙ্গল' গ্রন্থটির
মূলকথা:
- বিহারীলাল চক্রবর্তীর সারদামঙ্গল বাংলা সাহিত্যের রোমান্টিক গীতিকাব্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ সৃষ্টি। এখানে সারদা বা সরস্বতী দেবীকে কল্পনার মাধ্যমে বন্দনা করা হয়েছে এবং বঙ্গনারীর রূপ-গুণ ও মানসিক অনুভূতির চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। কাব্যটি দশটি সর্গে বিভক্ত। এতে প্রকৃতির সৌন্দর্য, প্রেমের আনন্দ ও বিচ্ছেদের বিষাদ মিলিয়ে রোমান্টিক ভাবধারা প্রকাশ পেয়েছে। 
---------------------------------------
• বিহারীলাল চক্রবর্তী:
- বিহারীলাল চক্রবর্তী বাংলা সাহিত্যের একজন কবি এবং গীতিকার ছিলেন।
- তিনি রবীন্দ্রনাথের কাব্যগুরু হিসেবে ও পরিচিত।
- বিহারীলাল চক্রবর্তী বাংলা সাহিত্যের প্রথম গীতি-কবি হিসেবে পরিচিত।
- ১৮৩৫ সালের ২১ মে কলকাতায় তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পূর্বপুরুষদের আদি নিবাস ছিল ফরাসডাঙ্গায় এবং তাঁদের আদি পারিবারিক পদবি ছিল ‘চট্টোপাধ্যায়’।
- বাংলা সাহিত্যে প্রথম বিহারীলাল গীতি কবিতা শুনিয়েছে বলে তাকে বাংলা গীতি কবিতার ভোরের পাখি বলা হয়।
- রবীন্দ্রনাথ বিহারীলাল চক্রবর্তীকে 'ভোরের পাখি' উপাধি দিয়েছেন। 
- বিহারীলাল চক্রবর্তীকে 'ভোরের পাখি' বলা হয় কারণ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর মনে করতেন যে তাঁর গীতিকবিতা বাংলা কবিতার নবজাগরণের সূচনা করেছিল, ঠিক যেমন ভোরের প্রথম পাখির ডাক নতুন দিনের আগমনী বার্তা বহন করে।
- এছাড়াও তাঁর কাব্যধারা ছিল বিশুদ্ধ গীতিকাব্য। 

বিহারীলালের শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ- সারদামঙ্গল

• বিহারীলালের রচনাবলির মধ্যে রয়েছে:
- সঙ্গীতশতক;
- বন্ধুবিয়োগ;
 - প্রেমপ্রবাহিণী;
- নিসর্গসন্দর্শন;
- বঙ্গসুন্দরী;
- সারদামঙ্গল;
- নিসর্গসঙ্গীত;
- সাধের আসন এবং
- ধূমকেতু।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলাপিডিয়া।

১৭.
‘আমাকে কি মাল্য দেবে দাও’ কবিতাটি কোন প্রেক্ষাপটে রচিত?
  1. ১৯৪৭ সালের দাঙ্গার প্রেক্ষাপট
  2. ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপট  
  3. ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপট
  4. ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপট
ব্যাখ্যা

‘আমাকে কি মাল্য দেবে দাও’ কবিতাটি ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে রচিত। 
---------------------------------
• কবিতা- আমাকে কি মাল্য দেবে দাও।
• কবি- নির্মলেন্দু গুণ।

"তোমার পায়ের নিচে আমিও অমর হব,
 আমাকে কী মাল্য দেবে দাও।
এই নাও আমার যৌতুক, এক বুক রক্তের প্রতিজ্ঞা।
ধুয়েছি অস্থির আত্মা শ্রাবণের জলে, আমিও প্লাবন হব,
শুধু চন্দনচর্চিত হাত একবার বোলাও কপালে।
আমি জলে
স্থলে
অন্তরীক্ষে উড়াব গাণ্ডীব,
তোমার পায়ের কাছে নামাবো পাহাড়।
আমিও অমর হব, আমাকে কী মাল্য দেবে দাও"।
-------------------------
‘আমাকে কি মাল্য দেবে দাও’:
- ‘আমাকে কি মাল্য দেবে দাও’ কবিতাটি নির্মলেন্দু গুণের রচনা।
- এটি মূলত ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন ও একুশে ফেব্রুয়ারির প্রেক্ষাপটে রচিত।
- কবিতায় শহীদদের আত্মত্যাগ, বীরত্ব ও স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা প্রকাশ পেয়েছে।
- কবিতায় “মাল্য” প্রদানের মাধ্যমে শহীদদের বীরত্বকে সম্মান জানানো হয়েছে।
----------------------------------- 
নির্মলেন্দু গুণ:
-  নির্মলেন্দু গুণ বাংলাদেশের অন্যতম জনপ্রিয় কবি।
- তিনি ১৯৪৫ সালে নেত্রকোণার বারহাট্টার কাশবন গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর ডাকনাম ছিল রতন।
- তাকে “বাংলাদেশের কবিদের কবি” হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়।
- তাঁর কবিতায় প্রেম, বিপ্লব, গ্রামীণ মানুষের জীবনযাত্রা, সমাজের বাস্তবতা এবং রাজনৈতিক চেতনা গভীরভাবে প্রকাশ পেয়েছে। 
- কবিতা ছাড়াও তিনি অনুবাদকৃত কবিতা এবং ছোটগল্প রচনা করেছেন।

• তাঁর প্রধান কাব্যগ্রন্থের মধ্যে রয়েছে-
- প্রেমাংশুর রক্ত চাই,
- না প্রেমিক না বিপ্লবি,
- চাষাভূষার কাব্য,
- নিশিকাব্য।

• তাঁর অনুবাদকৃত কবিতার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো-
- রক্ত আর ফুলগুলি,
- তোহু,
- রাজনৈতিক কবিতা।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য ছোটগল্প- 
-  অন্তর্জাল,
- আপনদলের মানুষ। 

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
দৈনিক ইনকিলাব;
বাংলাপিডিয়া। 

১৮.
শামসুর রাহমানকে বলা হয়- 
  1. নাগরিক কবি
  2. মার্ক্সবাদী কবি 
  3. স্বভাব কবি 
  4. সাহিত্যরত্ন
ব্যাখ্যা

শামসুর রাহমান:
- শামসুর রাহমান ছিলেন একজন বিশিষ্ট কবি ও সাংবাদিক।
- শামসুর রাহমান বাংলা সাহিত্যের দ্বিতীয়ার্ধের অন্যতম প্রধান কবি হিসেবে পরিচিত।
- তিনি ১৯২৯ সালের ২৩ অক্টোবর পুরান ঢাকার ৪৬ নম্বর মাহুতটুলীতে জন্মগ্রহণ করেন।
- শামসুর রাহমানের জন্ম তার নানাবাড়িতে।
- তার পৈত্রিক বাড়ি ঢাকা জেলার রায়পুর থানার পাড়াতলী গ্রামে।
- তার পিতা মুখলেসুর রহমান চৌধুরী এবং মাতা আমেনা বেগম।
- শামসুর রাহমানের ডাক নাম ছিল- বাচ্চু।
- শামসুর রাহমানকে প্রধানত “নাগরিক কবি” বলা হয়।
- কারণ তার কবিতায় নগর জীবনের প্রতিচ্ছবি ফুটে ওঠে।
- মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি “মজলুম আদিব” ছদ্মনামে লিখতেন।
-  তিনি দৈনিক বাংলা পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন।
- শামসুর রাহমান তাঁর কবিতায় সাধারণ মানুষ কীভাবে জীবন যাপন করে, শহরের মানুষদের দৈনন্দিন সমস্যা, সুখ–দুঃখ ও সমাজের নানা ঘটনা তুলে ধরেছেন।
- এই অনন্য কবি-কীর্তি ও সত্যনিষ্ঠ কাব্যচর্চার জন্য তাকে বাংলা একাডেমি পুরস্কার এবং একুশে পদক দিয়ে সম্মানিত করা হয়েছে।
- তিনি ২০০৬ সালের ১৭ আগস্ট ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন।

- শামসুর রাহমানের অসংখ্য কাব্যগ্রন্থ রয়েছে।
• উল্লেখযোগ্য কিছু কাব্যগ্রন্থ হলো:
- প্রথম গান, দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে (প্রথম কাব্যগ্রন্থ);
- রৌদ্র করোটিতে;
- বিধ্বস্ত নীলিমা;
- বন্দী শিবির থেকে;
- নিজ বাসভূমে;
- বুক তার বাংলাদেশের হৃদয়;
- এবং উদ্ভট উটের পিঠে চলেছে স্বদেশ। 
--------------------- 
- মার্ক্সবাদী কবি- বলা হয় বিষ্ণু দে'কে। 
- স্বভাব কবি বলা হয়- গোবিন্দ্রচন্দ্র দাসকে।
- সাহিত্যরত্ন বলা হয়- নজিবর রহমানকে।   

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলাপিডিয়া। 

১৯.
'ভ্রমণকারী বন্ধু' কার ছদ্মনাম?
  1. শওকত ওসমান
  2. মীর মোশাররফ হোসেন
  3. সৈয়দ মুজতবা আলী
  4. ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত 
ব্যাখ্যা

ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত:
- ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত ছিলেন ঊনবিংশ শতাব্দীর একজন বিশিষ্ট বাঙালি কবি, সাংবাদিক ও সাহিত্যিক।
- কবি ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত ১৮১২ সালে পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনা জেলার কাঞ্চনপল্লীতে জন্মগ্রহণ করেন। 
- শৈশবেই মায়ের মৃত্যু ঘটে।
- পিতার দ্বিতীয় বিয়োর পর তিনি মামার বাড়িতে কোলকাতায় বসবাস শুরু করেন।
- মাত্র ১৫ বছর বয়সে তাঁর বিয়ে হয়।
- প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষায় খুব অগ্রগতি না হলেও নিজ চেষ্টায় তিনি বাংলা, সংস্কৃত ও ইংরেজি ভাষায় দক্ষতা অর্জন করেন এবং বেদান্তদর্শনে পারদর্শী হন।

- ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত 'ভ্রমণকারী বন্ধু' ছদ্মনামে লিখতেন।
তিনি বাংলা সাহিত্যের যুগসন্ধির কবি হিসেবে পরিচিত ছিলেন। 
- সমকালের সামাজিক ও ঐতিহাসিক বিষয় নিয়ে কবিতা রচনা করলেও তাঁর ভাষা, ছন্দ ও অলঙ্কার মধ্যযুগীয় বৈশিষ্ট্যের ছিল।
- বিশেষত ব্যঙ্গ ও বিদ্রূপকবিতার জন্য তিনি খ্যাতি অর্জন করেছিলেন।
- ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত গ্রামাঞ্চলে ঘুরে প্রাচীন কবিয়ালদের জীবনী ও তথ্য সংগ্রহ করে, মুখে মুখে পদ্য রচনা করতেন। 
- তিনি অজস্র কবিতা লিখেছেন।
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় তাঁর কবিতা সংগ্রহ দীর্ঘ ভূমিকার সঙ্গে প্রকাশ করেন।
- তিনি ১৮৫৯ সালের ২৩ জানুয়ারি মৃত্যুবরণ করেন।
- সাংবাদিক ও কবি ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তের সাহিত্যিক ও সামাজিক অবদান বাঙালি সমাজে চিরস্মরণীয়।
--------------------------------- 
অন্যদিকে, 
• মীর মশাররফ হোসেন যেসব ছদ্মনাম ব্যবহার করতেন: 
- গৌড়তটবাসী মশা, গাজী মিয়া এবং উদাসীন পথিক।

• সৈয়দ মুজতবা আলীর সবচেয়ে প্রচলিত ছদ্মনাম হলো-
- প্রিয়দর্শী, মুসাফির, সত্যপীর।

উৎস: 
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; 
বাংলাপিডিয়া।    

২০.
”বিশ্বে যা-কিছু মহান সৃষ্টি চির-কল্যাণকর
অর্ধেক তার করিয়াছে নারী, অর্ধেক তার নর।
বিশ্বে যা-কিছু এল পাপ-তাপ বেদনা অশ্রুবারি
অর্ধেক তার আনিয়াছে নর, অর্ধেক তার নারী।“ -পংক্তিদ্বয়ের রচয়িতা কে?
  1. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  2. কাজী নজরুল ইসলাম
  3. জীবনানন্দ দাশ
  4. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর 
ব্যাখ্যা

পংক্তিদ্বয়ের রচয়িতা- কাজী নজরুল ইসলাম। 
-----------------------------------
নারী
    —কাজী নজরুল ইসলাম

"সাম্যের গান গাই -
আমার চক্ষে পুরুষ-রমনী কোনো ভেদাভেদ নাই।
বিশ্বে যা-কিছু মহান্ সৃষ্টি চির-কল্যাণকর
অর্ধেক তার করিয়াছে নারী, অর্ধেক তার নর।
বিশ্বে যা-কিছু এল পাপ-তাপ বেদনা অশ্রুবারি
অর্ধেক তার আনিয়াছে নর, অর্ধেক তার নারী।
নরককুন্ড বলিয়া কে তোমা' করে নারী হেয়-জ্ঞান?
তারে বল, আদি-পাপ নারী নহে, সে যে নর-শয়তান।
অথবা পাপ যে - শয়তান যে নর নহে নারী নহে,
ক্লীব সে, তাই সে নর ও নারীতে সমান মিশিয়া রহে।
এ-বিশ্বে যত ফুটিয়াছে ফুল, ফলিয়াছে যত ফল,
নারী দিল তাহে রূপ-রস-মধু-গন্ধ সুনির্মল।
তাজমহলের পাথর দেখেছে, দেখিয়াছ তার প্রাণ?
অন্তরে তার মোমতাজ নারী, বাহিরেতে শা-জাহান।
---------------------------------------------------
কাজী নজরুল ইসলাম:
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে কাজী নজরুল ইসলাম এক অনন্য ব্যক্তিত্ব।
- কাজী নজরুল ইসলাম ছিলেন একজন বাঙালি কবি, ঔপন্যাসিক, গীতিকার, দার্শনিক, এবং বাংলাদেশের জাতীয় কবি।
- তিনি ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ (২৪ মে ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তার ডাকনাম ছিল দুখু মিয়া।
- বাংলা সাহিত্যে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’ নামে পরিচিত।
- তাঁর শক্তিশালী লেখনী এবং সুরেলা কণ্ঠের মাধ্যমে কবি বাঙালির মধ্যে স্বাধীনতা, প্রেম, সাম্য ও মানবতার চেতনাকে জাগিয়ে তুলেছেন।
- তাঁর রচনা ও গানগুলোতে বৈপ্লবিক মনোভাব, অসাম্প্রদায়িক চিন্তা এবং জীবনের গভীর দর্শন স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়।
- ২৯ আগস্ট, ১৯৭৬ সালে (১২ ভাদ্র ১৩৮৩) কবি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
--------------------------------------------- 
'নারী' কবিতা নিয়ে কিছু কথা: 

”বিশ্বে যা-কিছু মহান সৃষ্টি চির-কল্যাণকর
অর্ধেক তার করিয়াছে নারী, অর্ধেক তার নর। 
বিশ্বে যা-কিছু এল পাপ-তাপ বেদনা অশ্রুবারি 
অর্ধেক তার আনিয়াছে নর, অর্ধেক তার নারী।“ 

- কাজী নজরুল ইসলামের নারী কবিতা সাম্যবাদী কাব্যগ্রন্থের অংশ।
- কবিতাটিতে মানব সভ্যতার অগ্রগতিতে নারী ও পুরুষের সমান অবদানকে তুলে ধরা হয়েছে।
- কবি সমতার বাণী প্রচার করেছেন, দেখিয়েছেন যে মহান সৃষ্টি, কল্যাণ ও অগ্রগতির জন্য নারী-পুরুষ দু’পক্ষেরই সমঅংশী অবদান রয়েছে।
- একইভাবে, পৃথিবীর পাপ, বেদনা ও দুর্দশার দায়ভারও সমানভাবে তাদের ওপর বর্তায়।
- নজরুল নারীদের অবহেলা না করে তাদের প্রাপ্য সম্মান ও মর্যাদা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন।
- সমগ্র কবিতাটি নারী-পুরুষ সমমর্যাদা এবং নারীর স্বাধীনতার শক্তিশালী বার্তা বহন করে।

উৎস:
'নারী' কবিতা; 
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলাপিডিয়া। 

২১.
কল্লোলগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত কোন সাহিত্যিক 'অর্কেস্ট্রা' কাব্যগ্রন্থটি লিখেছেন?
  1. বুদ্ধদেব বসু 
  2. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
  3. বিষ্ণু দে
  4. অমিয় চক্রবর্তী  
ব্যাখ্যা

কল্লোলগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত সুধীন্দ্রনাথ দত্ত- 'অর্কেস্ট্রা' কাব্যগ্রন্থটি লিখেছেন। 
-------------------------------------
• সুধীন্দ্রনাথ দত্ত:
-  সুধীন্দ্রনাথ দত্ত ছিলেন কবি, প্রাবন্ধিক ও পত্রিকা সম্পাদক।
- তিনি পঞ্চপান্ডবদের একজন। 
- ১৯০১ সালের ৩০ অক্টোবর কলকাতার হাতীবাগানে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
-  সুধীন্দ্রনাথ দত্ত ত্রিশের দশকের রবীন্দ্রকাব্যধারার বিরোধী হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেন। 
- ফরাসি কবি মালার্মের প্রতীকী কাব্যধারার প্রভাব তার কবিতায় দেখা যায়।
- তার কবিতায় মূলত ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্য, মননশীলতা ফুটে উঠে। 
- সুধীন্দ্রনাথ দত্ত বহুসংখ্যক কাব্যগ্রন্থ রচনা করলেও কোন উপন্যাস রচনা করেননি। 
- তিনি বাংলা গদ্যের আধুনিক রূপের প্রবর্তক হিসেবেও পরিচিত।
- ১৯৬০ সালের ২৫ জুন কলকাতায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ হচ্ছে: 
- তন্বী,
- অর্কেস্ট্রা,
- ক্রন্দসী,
- উত্তরফাল্গুনী,
- সংবর্ত,
- দশমী।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য গদ্যগ্রন্থ হচ্ছে: 
- স্বগত,
- কুলায়,
- কালপুরুষ।

• তাঁর অনুবাদগ্রন্থ হচ্ছে: প্রতিধ্বনি। 

অন্যদিকে, 
• বুদ্ধদেব বসু রচিত উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ- নাম রেখেছি কোমল গান্ধার। 
• বিষ্ণু দে রচিত উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ-
- উর্বশী ও আর্টেমিস;
- চোরাবালি ইত্যাদি। 
• অমিয় চক্রবর্তী রচিত উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ- অনিঃশেষ। 

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলাপিডিয়া। 

২২.
"হাজার বছর ধরে আমি পথ হাঁটিতেছি পৃথিবীর পথে" -এই স্মরণীয় পঙ্‌ক্তিটি কোন কবির লেখা?
  1. রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ
  2. জীবনানন্দ দাশ
  3. কায়কোবাদ
  4. সুকান্ত ভট্টাচার্য
ব্যাখ্যা

“হাজার বছর ধরে আমি পথ হাঁটিতেছি পৃথিবীর পথে”—এই স্মরণীয় পঙ্‌ক্তিটি আধুনিক বাংলা কবিতার অন্যতম প্রধান কবি জীবনানন্দ দাশের রচনা।
----------------------------------------
• বনলতা সেন।  
   —জীবনানন্দ দাশ

"হাজার বছর ধরে আমি পথ হাঁটিতেছি পৃথিবীর পথে,
সিংহল সমুদ্র থেকে নিশীথের অন্ধকারে মালয় সাগরে
অনেক ঘুরেছি আমি; বিম্বিসার অশোকের ধূসর জগতে
সেখানে ছিলাম আমি; আরো দূর অন্ধকারে বিদর্ভ নগরে;
আমি ক্লান্ত প্রাণ এক, চারিদিকে জীবনের সমুদ্র সফেন,
আমারে দুদন্ড শান্তি দিয়েছিল নাটোরের বনলতা সেন।" 
-----------------------------------------
জীবনানন্দ দাশ:
- জীবনানন্দ দাশ ছিলেন বিংশ শতাব্দীর একজন প্রধান আধুনিক বাঙালি কবি, লেখক ও প্রাবন্ধিক।
- জীবনানন্দ দাশের জন্ম ১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশালে।
- তাঁর পিতা সত্যানন্দ দাশ এবং মা কুসুমকুমারী দাশ দুজনেই সাহিত্যচর্চার সঙ্গে জড়িত ছিলেন।
- তাঁকে বলা হয় ‘রূপসী বাংলার কবি’।
- কারণ তাঁর কাব্যে বাংলার প্রকৃতি, মাটি, মানুষ ও স্মৃতিমগ্ন সৌন্দর্য গভীরভাবে প্রকাশ পেয়েছে।   
-------------------------------------
'বনলতা সেন' নিয়ে কিছু কথা: 
- বনলতা সেন জীবনানন্দ দাশের কালজয়ী কবিতা। 
- কবিতাটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯৩৫ সালের ডিসেম্বর মাসে।
- বুদ্ধদেব বসু সম্পাদিত কবিতা পত্রিকায় কবিতাটি প্রকাশিত হয়।
- পরে ১৯৪২ সালে এক পয়সার একটি গ্রন্থমালায় প্রথমবার গ্রন্থাকারে অন্তর্ভুক্ত হয়।
- পরবর্তীতে কবিতাটি ১৯৪৪ সালে মহাপৃথিবী কাব্যে প্রকাশ পায়।
- এবং ১৯৫২ সালে প্রকাশিত বনলতা সেন কাব্যগ্রন্থের দ্বিতীয় সংস্করণেও স্থান লাভ করে।

- জীবনানন্দ দাশের বনলতা সেন কবিতাটি মূলত দীর্ঘ সময়ের ক্লান্ত জীবনযাত্রা ও মানসিক অস্থিরতার পর মানুষের অন্তরে শান্তি, ভালোবাসা ও আশ্রয়ের আকাঙ্ক্ষাকে প্রতীকীভাবে প্রকাশ করে। এটি শুধু প্রেমের কবিতা নয়; বরং জীবনের জীর্ণতা ও একাকিত্বের শেষে কবি বনলতা সেন নামক নারীর উপস্থিতি এবং নাটোরের শান্ত পরিবেশের মধ্য দিয়ে এক গভীর আত্মিক স্বস্তি ও প্রশান্তির সন্ধান পেয়েছেন।

উৎস:
'বনলতা সেন' কবিতা; 
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলাপিডিয়া। 

২৩.
মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘অতসী মামী’ গল্পটি প্রথম কোন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়?
  1. কালীকলম
  2. বিচিত্রা
  3. প্রবাসী
  4. সবুজপত্র
ব্যাখ্যা

বিচিত্রা পত্রিকায় মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত প্রথম গল্প অতসী মামী প্রকাশিত হয়।
--------------------------------------
• মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়:
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় ছিলেন একজন প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক।
- তিনি ১৯০৮ সালের ২৯ মে বিহারের সাঁওতাল পরগনার দুমকা শহরে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম প্রবোধকুমার।
- ‘মানিক’ ছিল তাঁর পারিবারিক ডাকনাম।

- তাঁর পিতা হরিহর বন্দ্যোপাধ্যায় সেটেলমেন্ট বিভাগে চাকরি করে জীবনের শেষদিকে ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট পদ থেকে অবসর গ্রহণ করেন।
- পিতার চাকরির কারণে তাঁকে জীবনের শুরুর দিকে দেশের বিভিন্ন স্থানের স্কুলে পড়াশোনা করতে হয়—দুমকা, আড়া, সাসারাম, কলকাতা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, বারাসাত, টাঙ্গাইল ও মেদিনীপুরে।
- শেষ পর্যন্ত তিনি মেদিনীপুর জেলা স্কুল থেকে ১৯২৬ সালে এন্ট্রান্স পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন।

- মানসিক ও বৌদ্ধিক বিকাশের প্রথম পর্যায়ে তিনি ফ্রয়েড, ইয়ুং ও অ্যাডলারের মনোবৈজ্ঞানিক চিন্তাধারায় প্রভাবিত হলেও পরবর্তী সময়ে তাঁর সাহিত্যচিন্তায় মার্কসবাদের প্রভাব গভীরভাবে প্রতিফলিত হয়।
- ১৯৫৬ সালের ৩ ডিসেম্বর কলকাতায় তাঁর জীবনাবসান ঘটে।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য উপন্যাস:
- জননী;
- পদ্মানদীর মাঝি;
- দিবারাত্রির কাব্য;
- পুতুলনাচের ইতিকথা।

• তাঁর ঐতিহাসিক ছোটগল্প হচ্ছে:
- প্রাগৈতিহাসিক,
- সরীসৃপ,
- বৌ,
- সমুদ্রের স্বাদ।
----------------------------------------------------
‘অতসী মামী’ গল্প নিয়ে কিছু কথা:
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রথম ছোটগল্প ‘অতসী মামী’।
- গল্পটি ১৯২৮ সালে কলকাতা থেকে খ্যাতনামা ‘বিচিত্রা’ পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত হয়।
- বন্ধুদের সঙ্গে বাজি ধরে লেখা এই গল্পটি প্রকাশের পরই তিনি সাহিত্যজগতে পরিচিতি লাভ করেন।
- পরবর্তীকালে গল্পটি ‘অতসী মামী ও অন্যান্য গল্প’ (১৯৩৫) গ্রন্থে সংকলিত হয়।

গল্পটির মূলভাব হলো- জীবনের কঠোর বাস্তবতার ভেতরেও মানবিক সম্পর্কের গভীর টান, বিচ্ছেদের বেদনা এবং আত্মিক অনুভবের প্রকাশ। এখানে সমাজের নিম্ন-মধ্যবিত্ত মানুষের জীবনসংগ্রাম, ভালোবাসার অনুরণন এবং রক্তের সম্পর্কের বাইরেও মানসিক ও আত্মিক সম্পর্কের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে। সম্পর্কের নতুন ব্যাখ্যা, ভালোবাসা ও বিচ্ছেদের যন্ত্রণা, হারিয়ে পাওয়ার আনন্দ–বেদনা—এসবই গল্পটির প্রধান বৈশিষ্ট্য। এই গল্পে মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের গভীর জীবনদর্শন ও বাস্তবধর্মী সাহিত্যশৈলীর স্পষ্ট পরিচয় পাওয়া যায়।


উৎস:
‘অতসী মামী’ গল্প; 
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; 
বাংলাপিডিয়া। 

২৪.
“তোমরা আনিবে ফুল ও ফসল পাখি-ডাকা রাঙা ভোর
জগৎ করিবে মধুময়, প্রাণে প্রাণে বাঁধি প্রীতিডোর।" - কোন কবির শিশু সাহিত্য?
  1. বেগম সুফিয়া কামাল
  2. বন্দে আলী মিয়া
  3. সুকুমার রায়
  4. কামিনী রায় 
ব্যাখ্যা

কবিতাংশটুকু কবি সুফিয়া কামালের 'আজিকার শিশু' কবিতার অংশবিশেষ। 
------------------------------------------------
"আজিকার শিশু"
   —সুফিয়া কামাল

"আমাদের যুগে আমরা যখন খেলেছি পুতুল খেলা।
তোমরা এ যুগে সেই বয়সেই লেখাপড়া কর মেলা।
আমরা যখন আকাশের তলে ওড়ায়েছি শুধু ঘুড়ি
তোমরা এখন কলের জাহাজ চালাও গগন জুড়ি।
উত্তর মেরু, দক্ষিণ মেরু সব তোমাদের জানা,
আমরা শুনেছি সেখানে রয়েছে জিন, পরী, দেও, দানা।
পাতালপুরীর অজানা কাহিনী তোমরা শোনাও সবে
মেরুতে মেরুতে জানা পরিচয় কেমন করিয়া হবে।
তোমাদের ঘরে আলোর অভাব কভু নাহি হবে আর
আকাশ-আলোক বাঁধি আনি দূর করিবে অন্ধকার।
শস্য-শ্যামলা এই মাটি মা'র অঙ্গ পুষ্ট করে
আনিবে অটুট স্বাস্থ্য, সবল দেহ-মন ঘরে ঘরে।
তোমাদের গানে, কল-কলতানে উছসি উঠিবে নদী—
সরস করিয়া তৃণ ও তরুরে বহিবে সে নিরবধি।
তোমরা আনিবে ফুল ও ফসল পাখি-ডাকা রাঙা ভোর
জগৎ করিবে মধুময়, প্রাণে প্রাণে বাঁধি প্রীতিডোর।
------------------------------------------------
সুফিয়া কামাল:
- সুফিয়া কামাল ছিলেন বাংলাদেশের একজন কিংবদন্তি কবি, লেখক, নারী অধিকার কর্মী এবং বাঙালি জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের পথিকৃৎ।
- তিনি ‘জননী সাহসিকা’ নামে পরিচিত।
- কারণ তিনি কেবল সাহিত্যেই নয়, ভাষা আন্দোলন, নারীবাদী সংগ্রাম এবং সামাজিক উন্নয়নের কাজে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন।
- নারী আন্দোলনের নেত্রী হিসেবে তিনি নারীমুক্তি ও সমান অধিকারের জন্য আজীবন সংগ্রাম করেছেন।

• তাঁর  উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- সাঁঝের মায়া;
- উদাত্ত পৃথিবী।

• তাঁর বিখ্যাত গল্প: ‘কেয়ার কাঁটা’। 
• স্মৃতিকথার ক্ষেত্রে কবির উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ- ‘একাত্তরের ডায়েরী’।

• কবি সুফিয়া কামালের শিশু সাহিত্যেও উল্লেখযোগ্য অবদান রয়েছে।
- তাঁর ‘ইতল বিতল’ এবং ‘নওল কিশোরের দরবারে’ গ্রন্থ দুটি শিশুদের জন্য রচিত ছড়া ও কবিতার সংকলন।
- গ্রন্থ দুইটি বাংলা শিশু সাহিত্যে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে।
- এসব রচনায় শিশুদের কল্পনা, আনন্দ ও মানসিক জগৎ অত্যন্ত সহজ ও প্রাণবন্তভাবে ফুটে উঠেছে।

• এ ছাড়া শিশুদের কেন্দ্র করে লেখা তাঁর বিখ্যাত কবিতা ‘আজিকার শিশু’ শিশু সাহিত্যে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য একটি রচনা হিসেবে বিবেচিত হয়।

উৎস:
‘আজিকার শিশু’ কবিতা; 
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলাপিডিয়া। 

২৫.
‘উপদ্রুত উপকূলে’ কবিতাটির রচয়িতা- 
  1. খান আতাউর রহমান
  2. জয় গোস্বামী
  3. রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ
  4. সমর দাস 
ব্যাখ্যা

‘উপদ্রুত উপকূলে’ কবিতাটির রচয়িতা-- রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ।
--------------------------------------------------
উপদ্রুত উপকূল
—রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ 

"রোদ্দুরে পোড়া জোস্নায় ভেজা প্লাবনে ভাসানো মাটি,
চারিপাশে তার রুক্ষ হা-মুখো হাহাকার,
তবু জীবনের বাঁশি বাজে—
উপদ্রুত এ-উপকূলে তবু জীবনের বাঁশি বাজে!
কে বা কারা যেন আজো দাহ করে যায়,
সবুজ পাতায়—
শস্যের মাঠে—"
--------------------------------
• রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ:
- রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ ছিলেন একজন প্রতিবাদী ও রোমান্টিক কবি, গীতিকার এবং সাহিত্যিক।
- তিনি ১৬ অক্টোবর ১৯৫৬ সালে বরিশাল জেলায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল বাগেরহাট জেলার মোংলা উপজেলায়।
- তার প্রকৃত নাম শেখ মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ।
- পরে তিনি ‘রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ’ নামটি গ্রহণ করেন।
- মাত্র ৩৫ বছর বয়সে ২১ জুন ১৯৯১ সালে তাঁর মৃত্যু ঘটে।
- স্বল্পায়ু জীবনে তিনি একাধিক কাব্যগ্রন্থ এবং অসংখ্য গান রচনা করেছেন।

• রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহর উল্লেখযোগ্য কবিতা হলো:
- ‘বাতাসে লাশের গন্ধ’,
- ‘উপদ্রুত উপকূলে’,
- ‘ফিরে চাই স্বর্ণগ্রাম’,
- ‘মানুষের মানচিত্র’,
- ‘ছোবল’,
- ‘দিয়েছিলে সকল আকাশ’,
- ‘মৌলিক মুখোশ’ ইত্যাদি।

- এছাড়া, তিনি ‘ভালো আছি ভালো থেকো' গান রচনা করেছেন ও সুর দিয়েছেন।
- এবং এই গানটিসহ তিনি অর্ধশতাধিক গান রচনা করেছেন ও সুর দিয়েছেন।
- তার কাব্যনাট্য ‘বিষ বিরিক্ষের বীজ’ও উল্লেখযোগ্য।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলাপিডিয়া।

২৬.
“ফেরারী সূর্য” উপন্যাসটি কার লেখা?
  1. সেলিনা হোসেন
  2. রাবেয়া খাতুন
  3. হুমায়ূন আহমেদ
  4. জাহানারা ইমাম
ব্যাখ্যা

- “ফেরারী সূর্য” মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাসটির রচয়িতা- রাবেয়া খাতুন। 
--------------
• “ফেরারী সূর্য” উপন্যাস নিয়ে কিছু কথা:
- রাবেয়া খাতুন রচিত “ফেরারী সূর্য” বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পটভূমিতে রচিত অন্যতম প্রথমদিকের গুরুত্বপূর্ণ উপন্যাস। এতে ১৯৭১ সালের নয় মাসের মুক্তিযুদ্ধের শ্বাসরুদ্ধকর দিনগুলো, পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বর্বরতা এবং সাধারণ মানুষের দুর্দশা ও সংগ্রামের চিত্র সাবলীল ভাষায় তুলে ধরা হয়েছে। বিশেষ করে পুরান ঢাকার জীবন, যুদ্ধের আতঙ্ক, অবরুদ্ধ পরিস্থিতি এবং মানুষের দৈনন্দিন সংগ্রাম এই উপন্যাসে বাস্তবধর্মীভাবে ফুটে উঠেছে। “ফেরারী সূর্য” শুধু একটি যুদ্ধভিত্তিক কাহিনী নয়, বরং মুক্তিযুদ্ধের সময়কার মানুষের জীবন, অনুভূতি ও ত্যাগের এক বাস্তব চিত্রও তুলে ধরে।
----------------  
• রাবেয়া খাতুন:
রাবেয়া খাতুন ছিলেন একজন প্রখ্যাত বাংলাদেশী ঔপন্যাসিক, ছোটগল্পকার। 
সাহিত্যকর্মের পাশাপাশি তিনি সাংবাদিকতা ও শিক্ষকতার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
- তিনি ১৯৩৫ সালের ২৭ ডিসেম্বর বিক্রমপুরে (বর্তমান মুন্সীগঞ্জ) জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ৫০টিরও বেশি উপন্যাস এবং ৪০০টিরও বেশি ছোটগল্প রচনা করেছেন।
- সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে অসামান্য অবদানের জন্য তিনি ১৯৯৩ সালে একুশে পদক এবং ২০১৭ সালে স্বাধীনতা দিবস পুরস্কার লাভ করেন। 
- এছাড়াও তিনি ‘একাত্তরের নয় মাসে’ গ্রন্থে মুক্তিযুদ্ধের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেছেন।
- তিনি ৩ জানুয়ারি ২০২১ সালে ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন।

- তাঁর উল্লেখযোগ্য উপন্যাসের মধ্যে রয়েছে- 
- মধুমতী,
- সাহেব বাজার, 
- ফেরারী সূর্য (মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক), 
- ঘাতক রাত্রি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক), 
- প্রথম বধ্যভূমি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক), 
- বাগানের নাম মালনিছড়া,
- হানিফের ঘোড়া, 
-  মন এক শ্বেত কপোতী,
- অনন্ত অন্বেষা,
- রাজাবাগ, 
- অনেক জনের একজন,
- জীবনের আর এক নাম দিবস রজনী,
- বায়ান্ন গলির এক গলি,
- এই বিরহকাল,
- প্রিয় গুলশানা।

উৎস:
কালি ও কলম; 
দ্যা ডেইলি স্টার বাংলা পত্রিকা [ লিঙ্ক]। 

২৭.
নিচের কোনটি মমতাজ উদ্দীন আহমদ রচিত ভাষা আন্দোলন ভিত্তিক নাটক?  
  1. বিবাহ
  2. কী চাহ শঙ্খচীল
  3. সাত ঘাটের কানাকড়ি
  4. স্বাধীনতা আমার স্বাধীনতা
ব্যাখ্যা

মমতাজ উদ্দীন আহমদ রচিত ভাষা আন্দোলন ভিত্তিক নাটক- বিবাহ। 
------------------------------------- 
• মমতাজ উদ্দীন আহমদ:
- বাংলাদেশের প্রখ্যাত নাট্যকার, কথাশিল্পী ও ভাষাসৈনিক প্রফেসর মমতাজ উদ্দীন আহমদ।
- তিনি জন্মগ্রহণ করেন ১৯৩৫ সালের ১৮ জানুয়ারি, তৎকালীন মালদাহ জেলার হাবিবপুর থানার আইহো গ্রামে, যা বর্তমানে চাঁপাইনবাবগঞ্জের ভোলাহাট উপজেলার অংশ।
- তাঁর পিতার নাম কলিমুদ্দিন আহমদ।
- ১৯৪৭ সালের দেশ-বিভাগের পর পরিবার স্থায়ীভাবে ভোলাহাট উপজেলার কানারহাট গ্রামে বসতি স্থাপন করেন।

- মমতাজ উদ্দীন আহমদ রচনা করেছেন অসংখ্য নাটক ও চিত্রনাট্য।
- তাঁর উল্লেখযোগ্য নাটকগুলির মধ্যে রয়েছে:
• নাট্যত্রয়ী,
• হৃদয়ঘটিত ব্যাপার স্যাপার,
• বকুলপুরের স্বাধীনতা (মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক),
• স্বাধীনতা আমার স্বাধীনতা (মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক), 
• কী চাহ শঙ্খচীল (মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক), 
• জমীদার দর্পণ,
• সাত ঘাটের কানাকড়ি (মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক)। 

- তাঁর চিত্রনাট্যের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ রচনাগুলো হল:
• লাল সবুজের পালা,
• জোহরা,
• কাঠগড়া (রবীন্দ্রনাথের গল্প অবলম্বনে),
• বিরাজ বউ। 

- এছাড়া নাটক বিষয়ে তাঁর প্রবন্ধ ও গবেষণার মধ্যে উল্লেখযোগ্য:
• বাংলাদেশের নাটকের ইতিবৃত্ত,
• বাংলাদেশের থিয়েটারের ইতিবৃত্ত,
• নীলদর্পন (সম্পাদনা),
• সিরাজউদ্দোলা (সম্পাদনা)।

- তাঁর গদ্য রচনার মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য- 
• চার্লি চ্যাপলিন-ভাড় নয় ভব ঘুরে নয়,
• বাংলাদেশ প্রসঙ্গ বঙ্গবন্ধু,
• আমার ভেতরের আমি,
• আমার সময়। 

- তাঁর ভাষা আন্দোলন ভিত্তিক তাঁর অন্যতম নাটক হলো- ‘বিবাহ’। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা। 

২৮.
"গুচ্ছ গুচ্ছ রক্তকরবীর মতো কিংবা সূর্যাস্তের
জ্বলন্ত মেঘের মতো আসাদের শার্ট
উড়ছে হাওয়ায়, নীলিমায়।”- কবিতাংশের রচয়িতা কে?
  1. মহাদেব সাহা  
  2. আল মাহমুদ 
  3. শামসুর রাহমান
  4. আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ 
ব্যাখ্যা

"গুচ্ছ গুচ্ছ রক্তকরবীর মতো কিংবা সূর্যাস্তের
জ্বলন্ত মেঘের মতো আসাদের শার্ট
উড়ছে হাওয়ায়, নীলিমায়।”- কবিতাংশের রচয়িতা শামসুর রাহমান। 
-------------------------------------------
আসাদের শার্ট
  —শামসুর রাহমান।

"গুচ্ছ গুচ্ছ রক্তকরবীর মতো কিংবা সূর্যাস্তের
জ্বলন্ত মেঘের মতো আসাদের শার্ট
উড়ছে হাওয়ায়, নীলিমায়।

বোন তার ভায়ের অম্লান শার্টে দিয়েছে লাগিয়ে
নক্ষত্রের মতো কিছু বোতাম কখনো
হৃদয়ের সোনালি তন্তুর সূক্ষ্মতায়;
বর্ষিয়সী জননী সে-শার্ট
উঠোনের রৌদ্রে দিয়েছেন মেলে কতদিন স্নেহের বিন্যাসে।

ডালিম গাছের মৃদু ছায়া আর রোদ্দুর-শোভিত
মায়ের উঠোন ছেড়ে এখন সে-শার্ট
শহরের প্রধান সড়কে
কারখানার চিমনি-চূড়োয়
গমগমে এভেন্যুর আনাচে-কানাচে
উড়ছে, উড়ছে অবিরাম
আমাদের হৃদয়ের রৌদ্র-ঝলসিত প্রতিধ্বনিময় মাঠে,
চৈতন্যের প্রতিটি মোর্চায়।

আমাদের দুর্বলতা, ভীরুতা কলুষ আর লজ্জা
সমস্ত দিয়েছে ঢেকে একখণ্ড বস্ত্র মানবিক;
আসাদের শার্ট আজ আমাদের প্রাণের পতাকা।" 
---------------------------------------------
শামসুর রাহমান:
- শামসুর রাহমান ছিলেন একজন বিশিষ্ট কবি ও সাংবাদিক।
- শামসুর রাহমান বাংলা সাহিত্যের দ্বিতীয়ার্ধের অন্যতম প্রধান কবি হিসেবে পরিচিত।
- তিনি ১৯২৯ সালের ২৩ অক্টোবর পুরান ঢাকার ৪৬ নম্বর মাহুতটুলীতে জন্মগ্রহণ করেন।
- শামসুর রাহমানের জন্ম তার নানাবাড়িতে।
- তার পৈত্রিক বাড়ি ঢাকা জেলার রায়পুর থানার পাড়াতলী গ্রামে।
- তার পিতা মুখলেসুর রহমান চৌধুরী এবং মাতা আমেনা বেগম।
- শামসুর রাহমানের ডাক নাম ছিল- বাচ্চু।
- শামসুর রাহমানকে প্রধানত “নাগরিক কবি” বলা হয়।
- কারণ তার কবিতায় নগর জীবনের প্রতিচ্ছবি ফুটে ওঠে।
- মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি “মজলুম আদিব” ছদ্মনামে লিখতেন।
-  তিনি দৈনিক বাংলা পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন।

- শামসুর রাহমান তাঁর কবিতায় সাধারণ মানুষ কীভাবে জীবন যাপন করে, শহরের মানুষদের দৈনন্দিন সমস্যা, সুখ–দুঃখ ও সমাজের নানা ঘটনা তুলে ধরেছেন।
- এই অনন্য কবি-কীর্তি ও সত্যনিষ্ঠ কাব্যচর্চার জন্য তাকে বাংলা একাডেমি পুরস্কার এবং একুশে পদক দিয়ে সম্মানিত করা হয়েছে।
- তিনি ২০০৬ সালের ১৭ আগস্ট ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন।

• শামসুর রাহমানের অসংখ্য কবিতা রয়েছে।
• উল্লেখযোগ্য কিছু কবিতা হলো:
- তিনি এসেছেন ফিরে, 
- এই মাতোয়ালা রাইত, 
- আসাদের শার্ট, 
- মাস্টারদার হাতঘড়ি, 
- স্বাধীনতা তুমি, 
- কখনো আমার মাকে, 
- একটি কবিতার জন্য, 
- এ লাশ আমরা রাখবো কোথায়?
- উদ্ধার, 
- তুমি বলেছিলে, 
- অভিশাপ দিচ্ছি, 
- বন্দী-শিবির থেকে, 
- তোমাকে পাওয়ার জন্যে, হে স্বাধীনতা, 
- বর্ণমালা, আমার দুঃখিনী বর্ণমালা।
--------------------------------------------- 
• “আসাদের শার্ট” কবিতা:
"গুচ্ছ গুচ্ছ রক্তকরবীর মতো কিংবা সূর্যাস্তের
জ্বলন্ত মেঘের মতো আসাদের শার্ট
উড়ছে হাওয়ায়, নীলিমায়।”

- “আসাদের শার্ট” কবিতা লিখেছেন শামসুর রাহমান।
- এটি ১৯৬৯ সালের ২০ জানুয়ারি গণঅভ্যুত্থানের সময় পুলিশের গুলিতে শহীদ আসাদের রক্তাক্ত শার্ট দেখে রচিত।
- কবিতায় শহীদ আসাদের শার্টকে কবি শোষকগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ও প্রতিরোধের প্রতীক হিসেবে চিত্রিত করেছে।

উৎস:
“আসাদের শার্ট” কবিতা; 
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলাপিডিয়া। 

২৯.
ভাষা আন্দোলন ভিত্তিক প্রথম গানটির প্রথম চরণ কী?
  1. আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি
  2. এ জ্বলন্ত হিমায়িত হৃদয়
  3. চল চল চল, মুক্তির পথে
  4. ভুলব না, ভুলব না, একুশে ফেব্রুয়ারি ভুলব না
ব্যাখ্যা

ভাষা আন্দোলন ভিত্তিক প্রথম গানটির প্রথম চরণ- ভুলব না, ভুলব না, একুশে ফেব্রুয়ারি ভুলব না।
---------------------------------------- 
•  ভাষা আন্দোলন ভিত্তিক প্রথম গান:
- ভাষা আন্দোলনকে কেন্দ্র করে রচিত প্রথম গান হিসেবে পরিচিত “ভুলব না, ভুলব না, একুশে ফেব্রুয়ারি ভুলব না”।
- ১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি পুলিশের গুলিবর্ষণ ও প্রথম শহীদ মিনার ধ্বংসের ঘটনার তীব্র প্রতিক্রিয়ায় ভাষাসৈনিক আ ন ম গাজীউল হক এই গানটি রচনা করেন।
- পরের বছর, ১৯৫৩ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি আরমানিটোলা ময়দানে অনুষ্ঠিত এক জনসভায় গানটি সর্বপ্রথম পরিবেশিত হয়।

- এই গানের রচয়িতা গাজীউল হক নিজেই।
- গানটির প্রথম পংক্তি ছিল “ভুলব না, ভুলব না, একুশে ফেব্রুয়ারি ভুলব না”।
- গানের সুরারোপ করেন তাঁর অনুজ নিজাম উল হক।
- ভাষা আন্দোলনের রক্তাক্ত প্রেক্ষাপট ও জাতীয় শোক-প্রতিবাদের আবেগ থেকেই তাৎক্ষণিকভাবে জন্ম নেওয়া এই গানটি পরবর্তীকালে আন্দোলনের এক শক্তিশালী সাংস্কৃতিক প্রতীক হয়ে ওঠে।
--------------------
অন্যদিকে,
- “আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি” বাংলাদেশের ভাষা আন্দোলনের একটি গুরুত্বপূর্ণ ও ঐতিহাসিক গান।
- এটি ১৯৫২ সালে সাংবাদিক আবদুল গাফফার চৌধুরী রচনা করেন।
- পরবর্তীতে আলতাফ মাহমুদের সুরে গানটি শহীদদের স্মরণে প্রভাতফেরিতে পরিবেশিত হয়। 
- গানটি এখন ২১শে ফেব্রুয়ারির প্রভাতফেরির অপরিহার্য গানে পরিণত হয়েছে। 
- এটি বিবিসি বাংলার জরিপে অন্যতম সেরা গান হিসেবে স্বীকৃত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা। 

৩০.
'আপনাকে বড়াে বলে – বড়াে সেই নয়;লােকে যাকে বড়াে বলে – বড়াে সেই হয়।’ -এই অমর বাক্যাংশের রচয়িতা কে?
  1. বিষ্ণু দে
  2. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  3. ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
  4. জীবনানন্দ দাশ
ব্যাখ্যা

'আপনাকে বড়াে বলে – বড়াে সেই নয়;লােকে যাকে বড়াে বলে – বড়াে সেই হয়।’ -এই অমর বাক্যাংশের রচয়িতা- ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত। 
---------------------
• বড়াে কে?
    —ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত। 

"আপনাকে বড়াে বলে – বড়াে সেই নয়;
লােকে যাকে বড়াে বলে – বড়াে সেই হয়।
সংসারে বড়াে হওয়া কঠিন ব্যাপার,
সংসারে সে বড়াে হয়, বড়াে গুন যার।

হিতাহিত না বুঝিয়া মরে অহংকারে
নিজে বড়াে হতে চায়, ছােটো বলি তারে ।
গুণেতে হইলে বড়াে, বড়াে বলে সবে,
বড়াে যদি হতে চাও, ছােটো হও তবে।।" 
-----------------
'বড়াে কে?' কবিতার মূলভাব: 
- ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত রচিত কবিতার মূলভাব হলো- 
- যে আত্মম্ভরিতা বা নিজের ওপর অহংকার প্রকৃত বড়ত্বের মানদণ্ড নয়। প্রকৃত বড় মানুষ হলেন সেইজন যারা তাদের সদগুণ, কর্ম ও পরোপকারের মাধ্যমে সমাজ বা জনগণের মধ্যে সম্মান অর্জন করেন। সংসারে বা সমাজে সৎ ও পরোপকারী গুণাবলী অর্জন করেই একজন মানুষ সত্যিকারের মর্যাদা ও সম্মান পেতে পারে।
-----------------  
ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত: 
- কবি ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত ১৮১২ সালে পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনা জেলার কাঞ্চনপল্লী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতা হরিনারায়ণ দাশগুপ্ত আয়ুর্বেদিক চিকিৎসক ছিলেন এবং মায়ের নাম শ্রীমতি দেবী।
- ছোটবেলায় মায়ের মৃত্যু ও পিতার দ্বিতীয় বিয়োর পর তিনি কোলকাতার জোড়াসাঁকোতে মামার বাড়িতে থাকতেন। 
- তাঁর প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষায় অগ্রগতি সীমিত ছিল। 
- তবু নিজ চেষ্টায় তিনি বাংলা, সংস্কৃত ও ইংরেজি ভাষায় দক্ষতা অর্জন করেন এবং বেদান্তদর্শনে পারদর্শী হন।
- তাকে যুগ সন্ধিক্ষণের কবি হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়। 
- ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত সমাজের অনাচার ও চারিত্রিক ত্রুটির প্রতি তীক্ষ্ণ ব্যঙ্গ করেছিলেন। 

- ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত গ্রামাঞ্চলে ঘুরে প্রাচীন কবিয়ালদের তথ্য সংগ্রহ করে জীবনী রচনা করেন।
- বেঁচে থাকাকালীন তিনি অজস্র কবিতা রচনা করেন। 
- তাঁর স্মৃতিশক্তি অত্যন্ত প্রখর ছিল, কঠিন সংস্কৃত শ্লোক একবার শুনে তা কবিতায় রূপ দিতে পারতেন।

- ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত লুপ্তপ্রায় কবিয়ালদের জীবনী উদ্ধার ও প্রকাশের জন্য পরিচিত ছিলেন।
- তিনি রামপ্রসাদ সেনের কবিতা কালীকীর্তন ও প্রবোধ প্রভাকর সম্পাদনা করেন। 
- মৃত্যুর পর তাঁর রচিত হিত প্রভাকর ও বোধেন্দু বিকাশ প্রকাশিত হয়।
- ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত ২৩ জানুয়ারি ১৮৫৯ মৃত্যুবরণ করেন।

- তাঁর বিখ্যাত কবিতার নাম:
• বড়ো কে; 
• মাতৃভাষা; 
• কুলের গৌরব; 
• বাবু; 
• কবিওয়ালা

উৎস:
'বড়াে কে?' কবিতা; 
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা – সৌমিত্র শেখর;
লাল নীল দীপাবলী বা বাঙলা সাহিত্যের জীবনী – হুমায়ুন আজাদ।