পরীক্ষা আর্কাইভ

নতুনদের বিসিএস প্রস্তুতি - ২০০ দিনে পুরো সিলেবাস

পরীক্ষানতুনদের বিসিএস প্রস্তুতি - ২০০ দিনে পুরো সিলেবাসতারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়14 minutes
মোট প্রশ্ন৩৫
সিলেবাস
বিষয় - বাংলাদেশ বিষয়াবলি টপিক - বাংলাদেশের জাতীয় বিষয়াবলি [বাংলাদেশের ইতিহাস, কৃষ্টি ও সংস্কৃতি সম্পর্কিত] i) প্রাচীন যুগ - প্রাচীন জনপদ বিভিন্ন রাজবংশের শাসন, কৃষ্টি ও সংস্কৃতি; ii) মধ্যযুগ - মুসলিম শাসন, মুঘল, সুলতানি ও নবাবী আমলে বাংলা ও উপমহাদেশ; iii) উপমহাদেশ ইউরোপীয়দের আগমন, ইংরেজ শাসন ও ইংরেজ শাসনামলে আন্দোলন সংগ্রাম ও উপমহাদেশের ইতিহাস। উৎস: বোর্ড বই (বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা সংশ্লিষ্ট NCTB ও উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের বই), বাংলাপিডিয়া অথবা যেকোনো ভালো গাইড বই। [গাইড বই থেকে পড়ার ক্ষেত্রে কনফিউজিং বিষয়গুলো ক্রসচেক করে পড়া উত্তম।] -------------------------- [নির্দেশিকা: এই রুটিনে সারাবছর জুড়ে পরীক্ষা চলমান থাকে। আপনি আজ ১ম পরীক্ষা দেওয়া শুরু করলে ২০০ দিনের মধ্যে পুরো সিলেবাস সম্পন্ন হবে।]
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

নতুনদের বিসিএস প্রস্তুতি - ২০০ দিনে পুরো সিলেবাস

নতুনদের বিসিএস প্রস্তুতি - ২০০ দিনে পুরো সিলেবাস · তারিখ অনির্ধারিত · ৩৫ প্রশ্ন

.
প্রাচীন বাংলার হরিকেল জনপদ কোন কোন অঞ্চলে বিস্তৃত ছিল?
  1. রাজশাহী ও দিনাজপুর
  2. বরিশাল ও খুলনা
  3. সিলেট ও পার্বত্য চট্টগ্রাম
  4. কুমিল্লা ও নোয়াখালী
সঠিক উত্তর:
সিলেট ও পার্বত্য চট্টগ্রাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সিলেট ও পার্বত্য চট্টগ্রাম
ব্যাখ্যা
- হরিকেল জনপদ আধুনিক সিলেট থেকে পার্বত্য চট্টগ্রাম পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল।  

হরিকেল:

- হরিকেল জনপদের কথা প্রথম জানা যায় প্রথম শতকের চট্টগ্রামে প্রাপ্ত লিপিতে।
- চন্দ্রবংশীয় লিপিতেও হরিকেল রাজ্যের কথা আছে।
- হরিকেল জনপদ আধুনিক সিলেট থেকে পার্বত্য চট্টগ্রাম পর্যন্ত বিস্তৃত ছিলো।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রন্থাগারে সংরক্ষিত দুটি প্রাচীন গ্রন্থের পাণ্ডুলিপিতে হরিকোল (হরিকেল) ও বর্তমান সিলেট বিভাগ অভিন্ন উলিণ্ঢখিত হয়েছে।
- বাংলাদেশের প্রাচীন জনপদগুলোর সংক্ষিপ্ত আলোচনা শেষে এ কথা বলা যায় যে, জনপদগুলোর নির্দিষ্ট সীমারেখা নির্ণয় করা বা যুগে যুগে তাদের সীমার বিস্তার ও সংকোচনের সঠিক তথ্য সংগ্রহ করা দুরূহ কাজ।
- হরিকেল প্রাচীন পূর্ববঙ্গের একটি জনপদ।

সূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
আর্যদের প্রধান ধর্মগ্রন্থ কোনটি?
  1. পুরাণ
  2. মহাভারত
  3. বেদ
  4. রামায়ণ
সঠিক উত্তর:
বেদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বেদ
ব্যাখ্যা
- আর্যদের প্রধান ধর্মগ্রন্থ হলো বেদ। 

আর্য: 
- আর্যদের আদিনিবাস ছিল ইউরাল পর্বতের দক্ষিণে বর্তমান মধ্য এশিয়া - ইরানে।
- ভারতবর্ষে আর্যদের আগমন ঘটেছিল খ্রিষ্টপূর্ব ২০০ অব্দে।
- আর্যদের প্রধান ধর্মগ্রন্থের নাম বেদ। আর্য পুরোহিতগণ বেদের রচয়িতা।
- বেদের রচনাকাল নিয়ে মতভেদ রয়েছে। অনেকের মতে খ্রিস্টপূর্ব ১৫০০ থেকে খ্রিস্টপূর্ব ১০০০ অব্দের মধ্যে বেদের শ্লোকসমূহ রচিত হয়।
- ব্রাহ্মণদের মুখ থেকে বেদের শ্লোক শুনে অনুসারীরা পূণ্য লাভ করতো বিধায় বেদ শ্রুতি নামেও পরিচিত। পরবর্তীতে এগুলো লিখিত রূপ লাভ করে।
- বেদ রচিত হয় সংস্কৃত ভাষায়।
- ধর্মগ্রন্থের পাশাপাশি বেদের সাহিত্যগুণও ছিলো। এটিকে আর্য সাহিত্যের প্রথম নিদর্শন বিবেচনা করা হয়।

সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক ইতিহাস : প্রথমপত্র : উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাপিডিয়া। 
.
‘ইন্ডিকা’ গ্রন্থের রচয়িতা কে ছিলেন?
  1. কৌটিল্য
  2. ফাহিয়েন
  3. হিউয়েন সাঙ
  4. মেগাস্থিনিস
সঠিক উত্তর:
মেগাস্থিনিস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মেগাস্থিনিস
ব্যাখ্যা
- মেগাস্থিনিস গ্রিক ভাষায় রচিত ইন্ডিকা গ্রন্থে মৌর্য সাম্রাজ্য বিশেষ করে চন্দ্রগুপ্ত মৌর্যের শাসনব্যবস্থা বর্ণনা করেন।

মেগাস্থিনিস:
 - ‘মেগাস্থিনিস’ ছিলেন সেলুকাসের প্রেরিত দূত। 
- সিরিয়ার গ্রিক রাজা ছিলেন সেলুকাস। 
- ‘ইন্ডিকা’ গ্রন্থের রচয়িতা মেগাস্থিনিস। 
- এই গ্রন্থে চন্দ্রগুপ্তের ব্যক্তিগত জীবন ও শাসন ব্যবস্থার বিস্তৃত বর্ণনা আছে।
- তিনি গ্রীক বিশ্বের কাছে পরিচিত ভারতের সবচেয়ে সম্পূর্ণ বিবরণ দিয়েছেন। 

সূত্র: ইতিহাস ১ম পত্র, এইচ এস সি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় & ব্রিটানিকা।
.
চন্দ্রদ্বীপ প্রাচীনকালে কোন অঞ্চলে অবস্থিত ছিল?
  1. রাঢ় ও বঙ্গের মাঝামাঝি
  2. বরেন্দ্র ও সমতটের মধ্যে
  3. বলেশ্বর ও মেঘনার মধ্যবর্তী স্থানে
  4. পদ্মা ও যমুনার মধ্যখানে
সঠিক উত্তর:
বলেশ্বর ও মেঘনার মধ্যবর্তী স্থানে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বলেশ্বর ও মেঘনার মধ্যবর্তী স্থানে
ব্যাখ্যা
- চন্দ্রদ্বীপ এটি ছিল বর্তমান দক্ষিণাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ জনপদ, বিশেষ করে বরিশাল কেন্দ্রিক।

জনপদ: 
প্রাচীন যুগে বাংলা কোন একক বা অখন্ড রাজ্য/রাষ্ট্র ছিল না।
- বাংলার বিভিন্ন অংশ তখন অনেকগুলো ছোট ছোট অঞ্চলে বিভক্ত ছিল।
যেমন- পুণ্ড্র, বরেন্দ্র, বঙ্গ, সমতট, চন্দ্রদ্বীপ, হরিকেল, রাঢ় ইত্যাদি।

চন্দ্রদ্বীপ
- বর্তমান বরিশাল জেলা ছিল চন্দ্রদ্বীপের মূল ভূখন্ড ও প্রাণকেন্দ্র।
- মধ্যযুগে চন্দ্রদ্বীপ বেশ সমৃদ্ধ ছিল।
- এ প্রাচীন জনপদটি (চন্দ্রদ্বীপ) বলেশ্বর ও মেঘনার মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত ছিল।

সূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি ও বাংলাপিডিয়া।
.
মুঘল সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা কে ছিলেন?
  1. আকবর
  2. শাহজাহান
  3. বাবর
  4. হুমায়ুন
সঠিক উত্তর:
বাবর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাবর
ব্যাখ্যা
- জহিরউদ্দীন মুহম্মদ বাবর ভারতবর্ষে মুঘল সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন। তিনিই ছিলেন মুঘল রাজবংশের প্রতিষ্ঠাতা।

বাবর:
- জহিরউদ্দীন মুহম্মদ বাবর ভারতবর্ষে মুঘল সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন।
- পিতার দিক থেকে বাবর ছিলেন বিখ্যাত তুর্কি তৈমুর লং-এর অধস্তন পঞ্চম পুরুষ এবং মায়ের দিক থেকে তাঁর পূর্বপুরুষ ছিলেন বিখ্যাত মোঙ্গল নেতা চেঙ্গিস খান।
- উপমহাদেশে বাবরের প্রতিষ্ঠিত রাজবংশ মুঘল বংশ নামে পরিচিত হয়েছে মোঙ্গলদের সাথে তাঁর সম্পর্ক থাকার কারণেই।
- বাবর ১৪৮৩ খ্রিস্টাব্দে মধ্য এশিয়ার ফারগানায় জন্মগ্রহণ করেন।
- পিতার মৃত্যুর পর বাবর বার বছর বয়সে ফারগানার অধিপতি হন।
- ১৫০৪ খ্রিস্টাব্দে উজবেক শাসনের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে প্রথম বারের মতো বাবর কাবুল জয় করেন।
- কাবুল বিজয়ের পরও বাবর পিতৃসিংহাসন পুনরুদ্ধার ও রক্ষায় ব্যর্থ হয়ে ভারতবর্ষের দিকে দৃষ্টি নিবন্ধ করেন।
- কাবুল অধিকারের পর বাবর ভারত বিজয়ের পরিকল্পনা করেন।
- এসময় ভারতের শাসন ক্ষমতায় ছিলেন লোদী সুলতানরা।
- বাবরের আক্রমণের পূর্বে ভারতের শেষ সুলতান ছিলেন ইব্রাহিম লোদী।
- ভারতের কেন্দ্রীয় শক্তির দুর্বলতার সুযোগ গ্রহণ করে বাবর এদেশে মোগল সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন।

সূত্র - ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
'মাৎস্যন্যায়' এর অবসান ঘটিয়ে কে বাংলায় শাসন প্রতিষ্ঠা করেন?
  1. শশাঙ্ক
  2. গোপাল
  3. ধর্মপাল
  4. মহিপাল
সঠিক উত্তর:
গোপাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গোপাল
ব্যাখ্যা
- গোপাল পাল বংশের প্রতিষ্ঠাতা যিনি নৈরাজ্য কাটিয়ে শাসনের স্থিতি আনেন।

মাৎস্যন্যায়:
- প্রাচীন বাংলার ইতিহাসে পাল রাজবংশ দীর্ঘকাল শাসন করেছে।
- পাল রাজারা বাংলা ও বিহার অঞ্চলে অষ্টম শতকের মাঝামাঝি থেকে প্রায় চারশ বছর শাসন করেছেন।
- নৈরাজ্য ও চরম অরাজকতার হাত থেকে বাংলাকে রক্ষা করে গোপাল নামক এক উচ্চবর্গীয় ব্যক্তি এই রাজবংশের প্রতিষ্ঠা করেন।
- ধর্মপাল, দেবপাল, মহিপাল নামে অনেক পাল রাজারা বাংলা শাসন করেছেন ।

উল্লেখ্য, 
- ‘মাৎস্যন্যায়’ বাংলার শশাঙ্ক পরবর্তী সময়কে নির্দেশ করে।
- মাৎস্যন্যায় ও গোপালের উত্থান শশাঙ্কের পর সপ্তম শতকের মাঝামাঝি থেকে অষ্টম শতক পর্যন্ত বাংলায় বিরাজ করছিল এক অন্ধকার যুগ। বাংলার ইতিহাসে এই সময়টি ‘মাৎস্যন্যায়’ নামে খ্যাত।
- অরাজকতা এবং রাষ্ট্রহীনতার অবসান ঘটিয়ে বাংলায় প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল পাল বংশের শাসন।
- শত বছরের হানাহানির অবসান ঘটে যখন গোপাল রাজা হন।
- তাই বলা যায় ‘মাৎস্যন্যায়’ গোপাল পূর্ববর্তী সময়কে নির্দেশ করে।

সূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
সম্রাট হুমায়ুন কে ছিলেন?
  1. আকবরের পিতা
  2. বাবরের পিতা
  3. জাহাঙ্গীরের পিতা
  4. শাহজাহানের পিতা
সঠিক উত্তর:
আকবরের পিতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আকবরের পিতা
ব্যাখ্যা
- হুমায়ুন ছিলেন বাবরের জ্যেষ্ঠপুত্র ও আকবরের পিতা। তিনি বাবরের মৃত্যুর পর সিংহাসনে বসেন।

সম্রাট হুমায়ুন:
- মুঘল বংশের প্রতিষ্ঠাতা জহির উদ্দিন মুহম্মদ বাবরের জ্যেষ্ঠপুত্র হুমায়ুন।
- বাবরের শাসনামলে হুমায়ুন বাদাখশান, হিসার ফিরোজা এবং সম্বলের শাসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
- পিতা বাবরের মৃত্যুর পর ১৫৩০ খ্রিস্টাব্দের ৩০শে ডিসেম্বর মাত্র ২৩ বছর বয়সে পিতৃ মনোনয়ন অনুসারে হুমায়ুন ‘নাসির উদ্দিন মুহম্মদ হুমায়ুন' নাম ধারণ করে দিল্লির সিংহাসনে আরোহণ করেন।
- হুমায়ুনের শাসনামলে বাংলার রাজধানী ছিল গৌড়।
- সম্রাট হুমায়ুন বাংলার নতুন নামকরণ করেন 'জান্নাতাবাদ'।

উল্লেখ্য,
- ১৫২৬ খ্রিস্টাব্দে সম্রাট জহিরউদ্দিন বাবর কর্তৃক ভারতবর্ষে মোগল বংশের শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়।
- সম্রাট আকবর ছিলেন মুঘল সাম্রাজ্যের প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা।
- সম্রাট আকবর এর প্রথম পুত্র জাহাঙ্গীর তাঁর পিতার উত্তরাধিকারী হিসেবে নূরুদ্দীন মুহম্মদ জাহাঙ্গীর উপাধি গ্রহণ করে ১৬০৫ খ্রিস্টাব্দে আগ্রার সিংহাসনে আরোহণ করেন। তাঁর সময়ে ইসলাম খান বাংলার সুবাদার নিযুক্ত হয়েছিলেন। তিনি ১৬১০ খ্রিস্টাব্দে বাংলার রাজধানী রাজমহল থেকে ঢাকায় স্থানান্তর করেন এবং সম্রাটের নামে এর নামকরণ করেন ‘জাহাঙ্গীরনগর’।

সূত্র: ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাপিডিয়া।
.
ইলবার্ট বিল প্রণয়নের মূল উদ্দেশ্য কী ছিল?
  1. কৃষি সংস্কার
  2. প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণ
  3. নৃতাত্ত্বিক সমীক্ষা
  4. বিচার বিভাগের বৈষম্য দূরীকরণ
সঠিক উত্তর:
বিচার বিভাগের বৈষম্য দূরীকরণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিচার বিভাগের বৈষম্য দূরীকরণ
ব্যাখ্যা
- ইলবার্ট বিলের উদ্দেশ্য ছিল ভারতীয় বিচারকদের ইউরোপীয় অপরাধীদের বিচার করার অধিকার দেওয়া ও বিচার বিভাগে বৈষম্য দূর করা।

ইলবার্ট বিল:
- লর্ড রিপন তার শাসনামলে বিভিন্ন সমস্যার সমাধান করেন এবং নতুন নতুন সংস্কার কর্মসূচি গ্রহণ করেন।
- তার শাসনকালীন সময়ের অন্যতম কীর্তি হলো ইলবার্ট বিল নামে একটি আইনের পরিকল্পনা।
- এ বিলের উদ্দেশ্য ছিল বিচার ও প্রশাসনিক ক্ষেত্রে ভারতীয় ও ইউরোপীয়দের মধ্যে যে বৈষম্য ছিল তা দূর করা।
- লর্ড রিপন বিচার বিভাগের বৈষম্য দূরীকরণের জন্য সচিব ইলবার্টকে একটি বিল প্রণয়নের দায়িত্ব দেন।
- যার কারণে স্যার ইলবার্ট এর নামানুসারে এ বিলটি ইলবার্ট বিল নামে পরিচিত।
- এ বিলে ভারতীয় বিচারকদের ইউরোপীয় অপরাধীদের বিচার করার ক্ষমতা দেয়া হয়।
- এ বিলটি ১৮৮৩ সালে পাস হয়।

সূত্র: Britannica ও  বাংলাপিডিয়া।
.
আকবরের শাসনামলে কোন সংগীতজ্ঞ সর্বশ্রেষ্ঠ বলে বিবেচিত ছিলো?
  1. বাইজু বাওরা
  2. আমির খসরু
  3. তানসেন
  4. বীরবল
সঠিক উত্তর:
তানসেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তানসেন
ব্যাখ্যা
-  তানসেন ছিলেন সম্রাট আকবরের দরবারের সর্বশ্রেষ্ঠ সংগীতজ্ঞ ও অন্যতম নবরত্ন।

সম্রাট আকবর:

- তৃতীয় মোগল সম্রাট অবুল ফতেহ জালাল উদ্দিন মোহাম্মদ আকবর।
- পিতা হুমায়ুনের মৃত্যুর পর ১৫৫৬ সালে সিংহাসনে বসেন আকবর।
- তখন তাঁর বয়স ছিল ১৩ বছর।
- তাঁর শাসনামলে রাজনৈতিক, সামরিক ও অর্থনৈতিকভাবে মোগল সাম্রাজ্যের ভিত্তি সুদৃঢ় হয়।
- আকবর সঙ্গীতপ্রিয় ও সঙ্গীতপিপাসু ছিলেন।
- আকবরের দরবারে জ্ঞানী, গুণী, বিদ্যান, বুদ্ধিমান ব্যক্তিদের কদর ও প্রাধান্য ছিল।
- তার দরবারে ভারতীয়, ইরানী তুরানী, কাশ্মীরি গায়ক ছিলেন।
- বিখ্যাত ইতিহাসবিদ আবুল ফজলের তথ্য মতে, আকবরের দরবারে ৩৬ জন গায়ক ছিলেন।
- আইন-ই-আকবরী মুঘল সম্রাট আকবরের (১৫৫৬-১৬০৫) দরবারের ঐতিহাসিক আবুল ফজল কর্তৃক রচিত আকবরনামা গ্রন্থের তৃতীয় খন্ড।
- সম্রাট আকবরের শাসনামলে 'বাংলার বারো ভুঁইয়ার' অভ্যুত্থান ঘটে।
- ভারতের সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ সঙ্গীতজ্ঞ তানসেন সম্রাট আকবরের দরবারের সবচেয়ে প্রতিভাবান বুদ্ধিজীবী এবং শিল্পী ছিলেন।

উল্লেখ্য,
- কৃষিকাজের সুবিধার্থে মুগল সম্রাট আকবর বাংলা সন প্রবর্তন করেন।
- এটি কার্যকর হয় সম্রাট আকবরের সিংহাসন-আরোহণের সময় থেকে।
- নতুন সনটি প্রথমে ‘ফসলি সন’ নামে পরিচিত ছিল, পরে তা বঙ্গাব্দ নামে পরিচিত হয়।
- তাঁর শাসনামলে রাজনৈতিক, সামরিক ও অর্থনৈতিকভাবে মোগল সাম্রাজ্যের ভিত্তি সুদৃঢ় হয়।
- ১৫৮২ সালে আকবর ‘দীন-ই-ইলাহি’ ধর্মের প্রবর্তন করেন।
- খাজনা আদায়ের সুবিধার জন্য তাঁর আদেশে প্রাচীন বর্ষপঞ্জি সংস্কার করে বাংলা সনের প্রবর্তন করা হয়।
- মোগল সম্রাট আকবর 'জিজিয়া কর' রহিত করেন।

সূত্র: ইতিহাস ১ম পত্র, HSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও ইতিহাস, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১০.
বখতিয়ার খলজি বাংলার কোন রাজাকে পরাজিত করেন?
  1. দীনেশ্বর সেন
  2. লক্ষ্মণ সেন
  3. কেশব সেন
  4. সীতাল সেন
সঠিক উত্তর:
লক্ষ্মণ সেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লক্ষ্মণ সেন
ব্যাখ্যা
- বখতিয়ার খলজি লক্ষ্মণ সেনকে পরাজিত করে নদীয়া দখল করেন।

ইখতিয়ার উদ্দিন বখতিয়ার খলজি:
- বখতিয়ার খলজী ছিলেন বাংলার দিল্লি সুলতানাতের একজন মুসলিম সুলতান।
- তিনি ছিলেন একজন তুর্কি সেনাপতি।
- তিনি আফগানিস্তানের গরমশির এলাকার অধিবাসী ছিলেন।
- তিনি তুর্কীদের খিলজী সম্প্রদায়ভুক্ত ছিলেন।
- ইখতিয়ার উদ্দিন বখতিয়ার খলজি দ্বাদশ শতাব্দীতে ভারতবর্ষে আসেন।
- তিনি ৬০১ হিজরিতে (১২০৫ খ্রি.) বিনা বাধায় গৌড় জয় করেন এবং লখনৌতি নাম দিয়ে সেখানে তাঁর রাজধানী স্থাপন করেন।
- উল্লেখ্য, পূর্বে গৌড়ের নাম ছিল লক্ষণাবতী।
- ত্রয়োদশ শতকে তার নদীয়া জয়ের মাধ্যমে বাংলায় মুসলিম শাসনের সূত্রপাত হয়।
- তিনি ১২০৪ সালে বাংলার সেন বংশের রাজা লক্ষ্মণ সেনকে বিনা বাঁধায় পরাজিত করে নদীয়া জয় করেন।
- তিনি স্বল্প সময়ের জন্য নদীয়ায় অবস্থান করেন এবং পরে গৌড়ের দিকে যাত্রা করেন।
- বাংলা জয় করেন ১৩ শতকে।
- ১২০৬ সালে বখতিয়ার খিলজী ইহলোক ত্যাগ করেন।

সূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি এবং বাংলার ইতিহাস; সুলতানি আমল: আব্দুল করিম।
১১.
সম্রাট জাহাঙ্গীরের আত্মজীবনীর নাম কী?
  1. দাস্তান-ই-জাহাঙ্গীরী
  2. জাহাঙ্গীরীনামা
  3. তুজুক-ই-জাহাঙ্গীরী
  4. শাহনামা
সঠিক উত্তর:
তুজুক-ই-জাহাঙ্গীরী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তুজুক-ই-জাহাঙ্গীরী
ব্যাখ্যা
- সম্রাট জাহাঙ্গীর তাঁর আত্মজীবনী তুজুক-ই-জাহাঙ্গীরী রচনায় তাঁর শাসনকালের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাবলি লিপিবদ্ধ করেন।

সম্রাট জাহাঙ্গীর
- সম্রাট জাহাঙ্গীর সকল ধর্ম বিশ্বাসের প্রতি শ্রদ্ধাশীল ছিলেন।
- ফকির, দরবেশ, জ্ঞানী-গুণীদের তিনি সমাদর করতেন।
- সাহিত্য, শিল্পকলা ও চিত্রশিল্পে তাঁর যথেষ্ট অনুরাগ পরিলক্ষিত হয়।
- তুযুক-ই-জাহাঙ্গীরী ছিল তাঁর আত্মজীবনী।
- এখানে সমসাময়িক মোগল ইতিহাসের অনেক মূল্যবান তথ্য পাওয়া যায়।
- তার সময় থেকেই ভারতে ব্রিটিশদের বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ডের বিস্তারের সূত্রপাত ঘটে।

সূত্র: ইতিহাস ১ম পত্র, HSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১২.
বাংলায় স্বাধীন সুলতানি আমল কখন শুরু হয়?
  1. ১২৩৮ সালে
  2. ১৩৩৮ সালে
  3. ১৪৩৮ সালে
  4. ১৫৩৮ সালে
সঠিক উত্তর:
১৩৩৮ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৩৩৮ সালে
ব্যাখ্যা
- ১৩৩৮ সালে ফখরুদ্দিন মুবারক শাহ সোনারগাঁয়ে স্বাধীন সুলতানি শাসনের সূচনা করেন।

স্বাধীন সুলতানি আমল: 
- বাংলায় স্বাধীন সুলতানি আমল প্রায় ২০০ বছর বিদ্যমান ছিলো। এই সময় দিল্লীর সুলতানগণ বাংলাকে তাঁদের শাসনের অধীন রাখতে পারেন নি।
- বাংলায় স্বাধীন সুলতানি আমলের সূচনা করেছিলেন - ফখরুদ্দিন মুবারক শাহ।
- তিনি ১৩৩৮ সালে সোনারগাঁয়ে স্বাধীন সুলতানি শাসনের গোড়াপত্তন করেন।
- পরবর্তীতে শামসুদ্দিন ইলিয়াস শাহ ১৩৫২ সালে শামসুদ্দিন ইলিয়াস শাহ সোনারগাঁ দখলের মাধ্যমে সমগ্র বাংলা একত্রিত করে এক রাজ্যে পরিনট করেন।
- তাই তাকে বাংলায় সুলতানি শাসনের প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা বলা হয়।

সূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা বই, নবম-দশম শ্রেণি।
১৩.
‘The Prince of Builder’ নামে কে পরিচিত?
  1. আকবর
  2. বাবর
  3. শাহজাহান
  4. জাহাঙ্গীর
সঠিক উত্তর:
শাহজাহান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শাহজাহান
ব্যাখ্যা
- স্থাপত্যে অসামান্য অবদানের জন্য শাহজাহানকে “The Prince of Builder” বলা হয়।

শাহজাহান:
- ১৬২৮ খ্রিস্টাব্দের ৪ ফেব্রুয়ারি 'আবুল মুজাফফর শিহাব উদ্দিন মুহাম্মদ শাহজাহান বাদশাহ গাজী' উপাধি ধারণ করে সিংহাসনে অধিষ্ঠিত হন।
- তাঁর ত্রিশ বছরের রাজত্বকালে মোগল সাম্রাজ্য গৌরবের সর্বোচ্চ শিখরে আরোহণ করেছিল।
- মোগল ইতিহাসে সম্রাট শাহজাহানের জীবনালেখ্য বৈচিত্র্যময় ঘটনায় পরিপূর্ণ।
- তিনি প্রশাসনের প্রতিটি স্তরের কার্যক্রম নিজে তদারক করতেন এবং প্রজাদেরকে সন্তানতুল্য বিবেচনা করতেন।
- সম্রাট শাহজাহানের রাজত্বকালে সর্বপ্রথম পশ্চিম এশিয়ার এবং ইউরোপের সাথে ভারতবর্ষের বহির্বাণিজ্যিক সম্পর্ক স্থাপিত হয়।
- সম্রাট শাহজাহান ছিলেন সৌন্দর্য পিপাসু শিল্পমনা মানুষ।
- The Prince of Builder নামে খ্যাত সম্রাট শাহজাহানের আমলে মোগল শিল্প ও স্থাপত্যের চরম উৎকর্ষ সাধিত হয়।
- সম্রাটের স্ত্রী মমতাজ মহলের সমাধির উপর নির্মিত স্মৃতিসৌধ তাজমহল বিশ্বের স্থাপত্য শিল্পের অন্যতম একটি নিদর্শন ও স্ত্রীর প্রতি তার ভালবাসার অনন্য বহি:প্রকাশ।
- তাজমহলকে ঐতিহাসিক হ্যাভেল ভারতের 'ভেনাস দ্যা মিলো' নামে আখ্যায়িত করেছেন।
- এছাড়া মতি মসজিদ, দিওয়ান-ই-আম, দিওয়ান-ই-খাস, জামে মসজিদ তাঁর আমলের স্থাপত্য শিল্পের অন্যতম কীর্তি।
- শাহজাহানের ময়ূর সিংহাসন তাঁর শিল্পানুরাগের এক অপূর্ব নিদর্শন।
- ‘শাহজাহানাবাদ' নামে একটি নতুন নগর তিনি নির্মাণ করান যা বর্তমানে নতুন দিল্লী নামে পরিচিত।

সূত্র - ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৪.
পলাশীর যুদ্ধে ইংরেজ সেনাপতি কে ছিলেন?
  1. ওয়ারেন হেস্টিংস
  2. রবার্ট ক্লাইভ
  3. হেক্টর মুনরো
  4. লর্ড কর্নওয়ালিস
সঠিক উত্তর:
রবার্ট ক্লাইভ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রবার্ট ক্লাইভ
ব্যাখ্যা
- রবার্ট ক্লাইভ ছিলেন পলাশীর যুদ্ধে ইংরেজ সেনাবাহিনীর প্রধান।

পলাশীর যুদ্ধ:
- নবাব সিরাজউদ্দৌলা ১৭৫৭ সালের ২৩ জুন পলাশী যুদ্ধের সময় ইংরেজ সেনাপতি রবার্ট ক্লাইভের নিকট পরাজিত হন।
- সিরাজউদ্দৌলাকে অনেক অভ্যন্তরীণ ও বাইরের ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করতে হয়।
- এর মধ্যে মীর জাফর- নবাবের সেনাপতি, তার বিশ্বাসঘাতকতা করে ইংরেজদের সাথে হাত মেলায়।
- ইংরেজরা মীর জাফরের সাহায্য নিয়ে পলাশী যুদ্ধে সিরাজউদ্দৌলাকে পরাজিত করে।
- নবাবের সেনাপতি মীর মদন ও ফরাসি সেনাপতি সিন ফ্রে লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুত থাকলেও, মীর জাফরের বিশ্বাসঘাতকতার কারণে সিরাজউদ্দৌলা এই যুদ্ধে পরাজিত হন এবং ১৭৫৭ সালে মোহাম্মদী বেগের হাতে নিহত হন।

সূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা (৯ম-১০ম শ্রেণি), বাংলাদেশ উন্মক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাপিডিয়া।
১৫.
আওরঙ্গজেব কোন উপাধি গ্রহণ করেন?
  1. শাহজাহান
  2. জাফর খান
  3. আকবর-ই-আজম
  4. আলমগীর
সঠিক উত্তর:
আলমগীর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আলমগীর
ব্যাখ্যা
- সিংহাসনে বসার পর আওরঙ্গজেব "আলমগীর" উপাধি গ্রহণ করেন, যার অর্থ ‘বিশ্বজয়ী’।

আওরঙ্গজেব:
- ১৬৫৮ খিষ্টাব্দে আওরঙ্গজেব বাদশাহ আলমগীর উপাধি নিয়ে মোগল সিংহাসনে বসেন।
- ভারত উপমহাদেশের ইতিহাসে তিনি একজন অনন্য সাধারণ ব্যক্তিত্ব।
- ঐতিহাসিক স্টেন্সি লেনপুল আওরঙ্গজেবকে মোগল বংশের মধ্যে সর্বাপেক্ষা শক্তিশালী শাসক বলেছেন।
- তিনি আকবর অপেক্ষা বৃহত্তর সাম্রাজ্য শাসন ও বিশালতর সৈন্যবাহিনীর অধিনায়কত্ব করেছিলেন। সম্রাট হয়েও তিনি সরল ও পবিত্র জীবনযাপন করতেন।
- আওরঙ্গজেবের দাক্ষিণাত্য বিজয়কে তিন পর্যায়ে ভাগ করা যায়।
- আওরঙ্গজেব দীর্ঘ ২৫ বছর (১৬৮২- ১৭০৭ খ্রি.) দাক্ষিণাত্যে অবস্থান করেছিলেন।
- এ সময়ে শম্ভুজী পরাজিত ও নিহত হন এবং তাঁর মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত মোগল- মারাঠা সংঘর্ষ অব্যাহত থাকে।

সূত্র - ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৬.
ধর্মপাল কোন ধর্মাবলম্বী ছিলেন?
  1. হিন্দু
  2. বৌদ্ধ
  3. জৈন
  4. কোনটি নয়
সঠিক উত্তর:
বৌদ্ধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বৌদ্ধ
ব্যাখ্যা
- ধর্মপাল বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী ছিলেন এবং বৌদ্ধ ধর্মের প্রচারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।

ধর্মপাল:
- পাল বংশের শ্রেষ্ঠ রাজা ছিলেন ধর্মপাল।
- ধর্মপাল বাংলার পাল বংশের দ্বিতীয় রাজা।
- পাল রাজবংশের প্রতিষ্ঠাতা গোপালের পুত্র ও উত্তরাধিকারী ধর্মপাল পালদের উদীয়মান প্রতিপত্তির যুগের সূচনা করেন।
- পাল শাসন প্রতিষ্ঠা পেয়েছিল গোপালের হাত ধরে।
- গোপাল রাজ্য প্রতিষ্ঠার সূচনা করলেও পাল সাম্রাজ্যকে সুসংহত করেন গোপালের পুত্র ধর্মপাল।
- ধর্মপাল বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী ছিলেন।
- বিক্রমশীল বৌদ্ধ বিহার নির্মাণের কৃতিত্ব তাঁর।
- নয় শতক থেকে বারো শতক পর্যন্ত সমগ্র ভারতে এটি ছিল বৌদ্ধদের একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষাকেন্দ্র।
- এছাড়া পাহাড়পুরের সোমপুর বিহারও ধর্মপালের আরেক কীর্তি।

সূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, SSC Programme, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাপিডিয়া।
১৭.
১৯০৫ সালে নতুন গঠিত প্রদেশ ‘পূর্ব বাংলা ও আসাম’-এর রাজধানী কোথায় ছিল?
  1. কলকাতা
  2. ঢাকা
  3. চট্টগ্রাম
  4. শিলং
সঠিক উত্তর:
ঢাকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঢাকা
ব্যাখ্যা

বঙ্গভঙ্গ:
- ১৯০৫ সালের ১৬ অক্টোবর লর্ড কার্জনের সময়ে বাংলা প্রেসিডেন্সিকে ভেঙ্গে দুটো প্রদেশ করা হয় যা বঙ্গভঙ্গ নামে পরিচিত।
- বঙ্গভঙ্গ অবিভক্ত বাংলায় তথা সমগ্র ভারতীয় উপমহাদেশের রাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা।
- ১৯০৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর বঙ্গভঙ্গের ঘোষণা প্রদান করা হয় এবং ১৫ অক্টোবর থেকে তা কার্যকর হয়।

- ঢাকা, রাজশাহী ও চট্টগ্রাম বিভাগ এবং আসাম নিয়ে গঠিত হয় 'পূর্ববঙ্গ ও আসাম' প্রদেশ। এ প্রদেশের রাজধানী স্থাপিত হয় ঢাকায়।
- পশ্চিমবঙ্গ, বিহার ও উড়িষ্যা নিয়ে গঠিত হয় পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশ। এ প্রদেশের রাজধানী হয় কলকাতা।
- কিন্তু কংগ্রেস ও হিন্দুদের তীব্র বিরোধিতা এবং সহিংস আন্দোলনের কারণে ব্রিটিশ সরকার বঙ্গভঙ্গ রদ করতে বাধ্য হয়।
- লর্ড হার্ডিঞ্জের সময় ১৯১১ সালের ডিসেম্বরে ব্রিটেনের রাজা পঞ্চম জর্জ দিল্লিতে বঙ্গভঙ্গ রদের ঘোষণা দেন।

সূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।

১৮.
মৌর্য সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা কে ছিলেন?
  1. অশোক
  2. সমুদ্রগুপ্ত
  3. চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য
  4. বিক্রমাদিত্য
সঠিক উত্তর:
চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য
ব্যাখ্যা
- চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য ছিলেন ভারতবর্ষের প্রথম বৃহৎ সাম্রাজ্য মৌর্য সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা।

চন্দ্ৰগুপ্ত মৌর্য:
- ভারতবর্ষের প্রথম সাম্রাজ্যের নাম মৌর্য সাম্রাজ্য।
- মৌর্য সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা পুরুষ হচ্ছেন চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য।
- তার রাজত্বকাল খ্রিস্টপূর্ব ৩২২-২৯৮ অব্দ পর্যন্ত।
- তার সময় থেকেই সর্বভারতীয় চিন্তা-চেতনার প্রসার ঘটে, মৌর্য শাসন ব্যবস্থার সূচনা হয়, বৌদ্ধ ধর্মের প্রচার-প্রসার বাড়তে থাকে।
- তার রাজধানী ছিল পাটালিপুত্র।
- সম্রাট চন্দ্রগুপ্ত মৌর্যের প্রধানমন্ত্রী ছিল কৌটিল্য।

সূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি এবং ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৯.
প্রাচীন পুণ্ড্রনগর কোন নদীর তীরে অবস্থিত ছিল?
  1. গঙ্গা
  2. যমুনা
  3. করতোয়া
  4. মেঘনা
সঠিক উত্তর:
করতোয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
করতোয়া
ব্যাখ্যা
পুন্ড্র:
- প্রাচীন পুন্ড্রনগর বাংলাদেশের প্রাচীনতম ও সমৃদ্ধ জনপদগুলোর একটি,
- এর অবস্থান ছিল করতোয়া নদীর তীরে।
- এটি বর্তমান বগুড়া শহরের অদূরে অবস্থিত এবং আজকের দিনে মহাস্থানগড় নামে পরিচিত।
- করতোয়া নদীর তীরে অবস্থিত হওয়ার ফলে এই জনপদে কৃষিভিত্তিক উন্নত নগর সভ্যতার বিকাশ ঘটেছিল।
- নদীর পানির সহজলভ্যতা, সেচব্যবস্থা এবং পরিবহন ব্যবস্থা উন্নত করেছিল পুন্ড্রনগরকে, এর ফলে এটি রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক কেন্দ্র হিসেবে গড়ে ওঠে।
- প্রাচীন কালে এই অঞ্চল ছিল মৌর্য এবং পরে গুপ্ত শাসকদের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রাদেশিক রাজধানী। 

সূত্র: বাংলাদেশ স্টাডিজ, বিবিএস প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাপিডিয়া।
২০.
অস্ট্রোলয়েড জাতিগোষ্ঠী প্রাচীন সাহিত্যে কী নামে পরিচিত ছিল?
  1. নিগ্রো
  2. নিষাদ
  3. দ্রাবিড়
  4. দাস
সঠিক উত্তর:
নিষাদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিষাদ
ব্যাখ্যা

→ প্রাচীন সাহিত্যে অস্ট্রোলয়েডদের 'নিষাদ' নামে উল্লেখ করা হয়েছে।

অস্ট্রোলয়েড: 
- অস্ট্রোলয়েড জাতিগোষ্ঠী প্রাচীন বাংলায় একটি আদিম নৃগোষ্ঠী হিসেবে চিহ্নিত, তাদের প্রাচীন সাহিত্যে “নিষাদ” নামে উল্লেখ করা হয়েছে।
- নৃতত্ত্ববিদদের মতে, এরা আদি অস্ট্রেলীয় জনগোষ্ঠীর অংশ এবং অনেক সময় অস্ট্রিক বা অস্ট্রো-এশীয় বলেও অভিহিত হন।
- মধ্য ও দক্ষিণ ভারত থেকে শুরু করে সিংহল ও অস্ট্রেলিয়া পর্যন্ত এদের বিস্তৃতি ছিল, তবে একটি অংশ কালক্রমে বাংলায় অভিবাসন করে।
- বাংলার প্রাচীন বং ও নেগ্রিটো জাতিগোষ্ঠীর পরে এদের আগমন ঘটে।
- বর্তমান বাংলাদেশের কোল, ভীল, সাঁওতাল, মুন্ডা, মালপাহাড়ি প্রভৃতি গোষ্ঠী এদের উত্তরসূরি।
- অস্ট্রোলয়েডদের কৃষিনির্ভর সভ্যতা, ভাষা ও সামাজিক পদ্ধতির প্রভাব বাংলার সংস্কৃতিতে গভীরভাবে পরিলক্ষিত হয়।

সূত্র: বাংলাপিডিয়া। 

২১.
বাংলার প্রথম স্বাধীন নবাব কে ছিলেন?
  1. আলীবর্দী খান
  2. মুর্শিদকুলি খান
  3. সিরাজউদ্দৌলা
  4. ইলিয়াস শাহ
সঠিক উত্তর:
মুর্শিদকুলি খান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মুর্শিদকুলি খান
ব্যাখ্যা
- মুর্শিদকুলি খান ১৭০০ সালে দিওয়ান নিযুক্ত হন এবং ১৭১৭ সালে রাজধানী স্থানান্তর করে স্বাধীন নবাব হিসেবে বাংলায় শাসন শুরু করেন।

• নবাব:
- সম্রাট আওরঙ্গজেবের পর কোনো কোনো সুবা স্বাধীন হয়ে যায়।
- বাংলাও এর ব্যতিক্রম ছিল না।
- বিশেষ করে মুর্শিদকুলী খানের সময় থেকে বাংলায় নবাবী আমলের সূচনা হয়।
- সম্রাট আওরঙ্গজেব তাঁকে কর তলব খান উপাধি দিয়ে ১৭০০ খ্রিস্টাব্দে বাংলার দিওয়ান নিযুক্ত করেন।
- বাংলার প্রথম স্বাধীন নবাব মুরশিদকুলি খান দায়িত্ব গ্রহণ করে তিনি ঢাকা বাংলার রাজধানী মুর্শিদাবাদে স্থানান্তর করেন ১৭১৭ সালে।
- তিনি অতিরিক্ত রাজস্ব ধার্য না করে সঠিক ব্যবস্থাপনার দ্বারা রাজস্বের পরিমাণ বৃদ্ধি করেন।
- সিরাজউদ্দৌলা ছিলেন বাংলা বিহার উড়িষ্যার শেষ স্বাধীন নবাব।

সূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশবিদ্যালয় ও বাংলাপিডিয়া।
২২.
সম্রাট সমুদ্রগুপ্তের এলাহাবাদ লিপিতে কোন জনপদের উল্লেখ রয়েছে?
  1. হরিকেলা
  2. সমতট
  3. গৌড়
  4. বরেন্দ্র
সঠিক উত্তর:
সমতট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সমতট
ব্যাখ্যা
- চতুর্থ শতকের সমুদ্রগুপ্ত তাঁর পূর্ব সীমান্তে সমতটের উল্লেখ করেন।

সমতট জনপদ:
- চতুর্থ শতকের সম্রাট সমুদ্রগুপ্তের এলাহাবাদ লিপিতে তাঁর রাজ্যের পূর্ব সীমায় সমতটের উল্লেখ রয়েছে।
- সমতট বঙ্গের পূর্বে অবস্থিত ছিল।
- মেঘনা-পূর্ববর্তী অঞ্চলই সমতট বলে পরিচিত ছিল।
- কেন্দ্র ছিল কুমিল্লার নিকটবর্তী ‘লালমাই' এলাকা।
- ত্রিপুরা (কুমিল্লা) ও নোয়াখালী অঞ্চলই নিয়েই ছিল প্রাচীন সমতট।  
- হিউয়েন সাঙ কোন সপ্তম শতকে সমতটে এসেছিলেন।

সূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাপিডিয়া।
২৩.
ইবনে বতুতা কবে বাংলায় সফর করেন?
  1. ১২৪৬ খ্রিস্টাব্দ
  2. ১৩৪৬ খ্রিস্টাব্দ
  3. ১৩৫৬ খ্রিস্টাব্দ
  4. ১৩২৫ খ্রিস্টাব্দ
সঠিক উত্তর:
১৩৪৬ খ্রিস্টাব্দ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৩৪৬ খ্রিস্টাব্দ
ব্যাখ্যা

- ইবনে বতুতা ১৩৪৬ সালের জুলাই-আগস্ট মাসে বাংলায় সফর করেন এবং শাহজালালের সাথে সাক্ষাৎ করেন।

ইবনে বতুতা: 
- মরক্কোর বিখ্যাত পর্যটক ইবনে বতুতা বাংলায় সফর করেন ১৩৪৬ খ্রিস্টাব্দে, জুলাই মাসে।
- তিনি চট্টগ্রামের সাদকাঁও শহরে (বর্তমান চাটগাঁও) পৌঁছান ৯ জুলাই ১৩৪৬ সালে।
- বাংলায় সফরের প্রধান উদ্দেশ্য ছিল কামরূপ অঞ্চলে অবস্থানরত বিখ্যাত সুফিসাধক শেখ জালালউদ্দিনের (হযরত শাহজালাল) সাক্ষাৎ লাভ করা।
- সেখান থেকে তিনি সরাসরি কামরূপের পার্বত্য অঞ্চলে যান।
- এরপর ১৫ দিনের নদীপথ পেরিয়ে ১৪ আগস্ট ১৩৪৬ সালে সোনারগাঁ (সুনুরকাঁও) পৌঁছান এবং সেখান থেকে জাভার উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন।
- বাংলায় তাঁর সফরকাল ছিল মোটামুটি দুই মাসেরও কম (জুলাই-আগস্ট ১৩৪৬)।
- এই স্বল্প সময়ে তিনি বাংলার প্রাকৃতিক দৃশ্য, অর্থনীতি, সমাজব্যবস্থা ও ধর্মীয় অবস্থা সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ বিবরণ লিপিবদ্ধ করেন। তাঁর ভ্রমণকাহিনী পরবর্তীতে ‘রেহ্লা’ নামে আরবি ভাষায় সংকলিত হয়।

সূত্র: বাংলাপিডিয়া। 

২৪.
উত্তর বাংলায় মৌর্য শাসন প্রতিষ্ঠিত হয় কার রাজত্বকালে?
  1. প্রথম চন্দ্রগুপ্তের
  2. সম্রাট অশোকের
  3. চন্দ্রগুপ্ত মৌর্যের
  4. বিন্দুসারের
সঠিক উত্তর:
সম্রাট অশোকের
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সম্রাট অশোকের
ব্যাখ্যা
- উত্তর বাংলায় মৌর্য শাসন প্রতিষ্ঠিত হয় সম্রাট অশোকের রাজত্বকালে।
- মৌর্য রাজবংশ চন্দ্রগুপ্তের হাত দিয়ে শুরু হলেও তার পুত্র বিন্দুসার এবং
- বিন্দুসারের পুত্র অশোকের শাসনামলে সাম্রাজ্য চূড়ান্তভাবে বিকশিত হয়।
- খ্রিস্টপূর্ব ২৩২ অব্দে অশোকের মৃত্যু পর্যন্ত ৪০ বছর তিনি ভারতবর্ষে রাজত্ব করেন।
- সম্রাট অশোকের রাজত্বকালে প্রাচীন পুন্ড্র রাজ্য মৌর্য সাম্রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত হয়।

সূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা - নবম-দশম শ্রেণি ও ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৫.
ভারত ছাড় আন্দোলনের নেতৃত্বে ছিলেন কে?
  1. জওহরলাল নেহরু
  2. সুভাষচন্দ্র বসু
  3. মহাত্মা গান্ধী
  4. বল্লভভাই প্যাটেল
সঠিক উত্তর:
মহাত্মা গান্ধী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মহাত্মা গান্ধী
ব্যাখ্যা

- গান্ধীর নেতৃত্বেই কংগ্রেস অহিংস আন্দোলনের ডাক দেয়।

ভারত ছাড় আন্দোলন:
- ভারত ছাড় আন্দোলনের ডাক দেওয়া হয় মহাত্মা গান্ধীর নেতৃত্বে।
- ১৯৪২ ভারতীয় স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে শ্বেতাঙ্গ-বিরোধী মনোভাবের বহিঃপ্রকাশ স্বরূপ প্রথম স্বতঃস্ফূর্ত ব্যাপক আন্দোলন ভারত ছাড় আন্দোলন।
- ইংরেজ সরকার কোনোভাবেই ভারতীয়দের হাতে ক্ষমতা ছেড়ে দিতে রাজি ছিল না।
- সরকার এই আন্দোলন দমনে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ ছিল।
- ঐ দিনই মধ্য রাতে কংগ্রেসের শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ গান্ধীজি, আবুল কালাম আজাদ, জওহরলাল নেহরুসহ অনেকে গ্রেফতার হন।
- কংগ্রেসকে বেআইনি ঘোষণা করা হয় এবং এক সপ্তাহের মধ্যে প্রায় সব নেতা কারাগারে বন্দি হন।
- নেতৃবৃন্দের গ্রেফতারের কারণে অহিংস আন্দোলন ভয়াবহ সহিংস আন্দোলনে পরিণত হয়।
- ১৯৪২ সালের ৮ আগস্ট নিখিল ভারত কংগ্রেস কমিটির (বোম্বাইর) অধিবেশনে বিখ্যাত ভারত ছাড় আন্দোলনের প্রস্তাব পাস হয় এবং পরপরই যতদূর সম্ভব ব্যাপকভাবে অহিংস পথে গান্ধীর নেতৃত্বে আন্দোলনের ডাক দেওয়া হয়।

সূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাপিডিয়া।

২৬.
প্রাচীন সভ্যতার নিদর্শনের দিক থেকে বাংলাদেশের সবচেয়ে প্রাচীন ও সমৃদ্ধ রাজ্য কোনটি ছিল?
  1. রাঢ়
  2. চন্দ্রদ্বীপ
  3. হরিকেল
  4. পুণ্ড্র
সঠিক উত্তর:
পুণ্ড্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পুণ্ড্র
ব্যাখ্যা
- প্রাচীন জনপদের দিক থেকে পুণ্ড্র ছিল বাংলাদেশের সবচেয়ে প্রাচীন ও সমৃদ্ধ রাজ্য।

পুণ্ড্র জনপদ
- প্রাচীন বাংলার অন্যতম একটি গুরুত্বপূর্ণ জনপদের নাম পুণ্ড্র।
- পুণ্ড্র ‘জন’ বা জাতি এ জনপদ গঠন করেছিল।
- পুণ্ড্ররা বঙ্গসহ অন্যান্য জাতিগোষ্ঠীর নিকটজন ছিল।
- প্রাচীন সভ্যতার নিদর্শনের দিক দিয়ে পুণ্ড্রই ছিল বাংলাদেশের সবচেয়ে প্রাচীন ও সমৃদ্ধ রাজ্য।
- পুণ্ড্রদের রাজ্যের রাজধানীর নাম পুন্ড্রনগর।
- বর্তমান বগুড়া শহরের অদূরে করতোয়া নদীর তীরে পুণ্ড্রনগর অবস্থিত।
- পরবর্তী কালে এর নাম মহস্থানগড় হয়।
- মৌর্য সম্রাট অশোকের রাজত্বকালে প্রাচীন পুণ্ড্র রাজ্য স্বাধীনসত্তা হারায়।
- এ রাজ্যের বিস্তৃতি বর্তমান বগুড়া, রংপুর ,রাজশাহী ও দিনাজপুর পর্যন্ত ছিল।
- পুণ্ড্র রাজ্যের উত্তর অংশের নাম বরেন্দ্র, বরেন্দ্রী অথবা বরেন্দ্রভূমি ছিল।
- রাজশাহী অঞ্চলকে এখনও বরেন্দ্র বলা হয়ে থাকে।

সূত্র: বাংলাদেশ স্টাডিজ, বিবিএস প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়; বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি ও বাংলাপিডিয়া।
২৭.
হিউয়েন সাং ভারতে আসেন কার শাসনামলে?
  1. চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য
  2. হর্ষবর্ধন
  3. অশোক
  4. শশাঙ্ক
সঠিক উত্তর:
হর্ষবর্ধন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হর্ষবর্ধন
ব্যাখ্যা
- হিউয়েন সাং হর্ষবর্ধনের শাসনামলে ভারত ভ্রমণ করেন এবং তাঁর আতিথ্য গ্রহণ করেন।

হিউয়েন সাং:
- ফা-হিয়েনের পরবর্তী তীর্থ-ভ্রমণকারী ছিলেন হিউয়েন-সাং।
- তাঁর বিবরণী থেকে সাত শতকের দ্বিতীয়ার্ধের বাংলা সম্পর্কে কিছুটা তথ্য জানা যায়।
- সে সময় উত্তর ভারতে হর্ষবর্ধন, বাংলায় শশাঙ্ক এবং আসামে ভাস্করবর্মণ শাসন করছিলেন।
- ৬২৯ সালে চীন থেকে যাত্রা শুরু করে হিউয়েন সাং উত্তরের বাণিজ্য পথ ধরে মধ্য এশিয়ার কুশ হয়ে উত্তর ভারতে পৌঁছান।
- হিউয়েন সাং হর্ষবর্ধনের শাসনামলে ভারতবর্ষে আসেন।
- কনৌজনগরে পৌঁছে তিনি ভারতীয় সম্রাট হর্ষবর্ধনের আতিথ্য লাভ করেন।
- হিউয়েন-সাং যখন নালন্দা মহাবিহারে অধ্যয়ন করেন তখন বাঙালি বৌদ্ধ ভিক্ষু শীলভদ্র ছিলেন এর অধ্যক্ষ।
- হিউয়েন-সাং শীলভদ্রের একজন ছাত্র ছিলেন।
- হিউয়েন-সাং ৬৩৮ সালের দিকে বাংলায় আসেন।
- ৬৪৫ সালে হিউয়েন সাং চীনে প্রত্যাবর্তন করলে তাঁকে বিপুল সংবর্ধনা দেওয়া হয়।
- ৬৬৪ সালে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত বৌদ্ধ রচনার অনুবাদে জীবনের বাকি সময় ব্যয় করেন হিউয়েন সাং।
- শৈশব থেকেই তিনি ধর্মগ্রন্থ, বিশেষ করে চৈনিক ধ্রুপদি গ্রন্থ ও প্রাচীন জ্ঞানী লোকদের লেখা পাঠে আগ্রহী হন।

সূত্র: বাংলাপিডিয়া ও বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৮.
পাল বংশের শ্রেষ্ঠ রাজা হিসেবে কাকে বিবেচনা করা হয়?
  1. গোপাল
  2. ধর্মপাল
  3. মহিপাল
  4. দেবপাল
সঠিক উত্তর:
ধর্মপাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধর্মপাল
ব্যাখ্যা
- পাল বংশের মধ্যে ধর্মপাল ছিলেন সবচেয়ে শক্তিশালী ও কৃতী শাসক।

পাল বংশ:
- পাল বংশের শ্রেষ্ঠ রাজা ছিলেন ধর্মপাল।
- পাল রাজবংশের প্রতিষ্ঠাতা গোপালের পুত্র ও উত্তরাধিকারী ধর্মপাল পালদের উদীয়মান প্রতিপত্তির যুগের সূচনা করেন।
- পাল শাসন প্রতিষ্ঠা পেয়েছিল গোপালের হাত ধরে।
- ধর্মপাল বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী ছিলেন।
- বিক্রমশীল বৌদ্ধ বিহার নির্মাণের কৃতিত্ব তাঁর।
- নয় শতক থেকে বারো শতক পর্যন্ত সমগ্র ভারতে এটি ছিল বৌদ্ধদের একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষাকেন্দ্র।
- এছাড়া পাহাড়পুরের সোমপুর বিহারও ধর্মপালের আরেক কীর্তি।

সূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, SSC Programme, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাপিডিয়া।
২৯.
ছিয়াত্তরের মন্বন্তর ছিল কোন শাসনব্যবস্থার পরিণতি?
  1. মারাঠা শাসন
  2. নবাবি শাসন
  3. দ্বৈত শাসন
  4. কোনটি নয়
সঠিক উত্তর:
দ্বৈত শাসন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দ্বৈত শাসন
ব্যাখ্যা
- দ্বৈত শাসনের সময় প্রশাসনিক অদক্ষতা ও লোভ দুর্ভিক্ষকে বাড়িয়ে তোলে।

• 'ছিয়াত্তরের মন্বন্তর:
- দিউয়ানি ও দ্বৈত শাসনের চূড়ান্ত পরিণাম ছিল বাংলায় 'ছিয়াত্তরের মন্বন্তরের' ধ্বংসলীলা।
- একদিকে দ্বৈত শাসনের দায়িত্বহীনতার ফলে বাংলার জনজীবনে অরাজকতা নেমে আসে।
- অন্যদিকে অবাধ লুণ্ঠন ও যথেচ্ছভাবে রাজস্ব আদায়ের ফলে গ্রাম্যজীবন ধ্বংস হয়।
- পরপর দু'বছর অনাবৃষ্টি ও খরার ফলে ১১৭৬ বঙ্গাব্দ অর্থাৎ ১৭৭০ খ্রিস্টাব্দে বাংলায় এক প্রচণ্ড দুর্ভিক্ষ ও মহামারী দেখা দেয়।
- টাকায় একমণ হতে চাউলের মূল্য বাড়তে বাড়তে টাকায় তিন সেরে এসে দাঁড়ালো।
- খোলাবাজারের খাদ্যশস্য বেশি লাভের আশায় কোম্পানির কর্মচারীরা মজুদ করা শুরু করে।
- খাদ্যের অভাবে মোট জনসংখ্যার এক-তৃতীয়াংশ মৃত্যুমুখে পতিত হয়েছিল।

সূত্র: ইতিহাস ১ম পত্র, এইচ এসসি, ‍উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩০.
বরেন্দ্র কোন রাজাদের পিতৃভূমি ছিলো?
  1. পাল রাজা
  2. খড়গ রাজা
  3. মৌর্য রাজা
  4. কোনটি নয়
সঠিক উত্তর:
পাল রাজা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পাল রাজা
ব্যাখ্যা
পাল বংশ:
- শশাঙ্ক পরবর্তী বাংলায় অরাজকতার যুগের অবসান ঘটিয়ে গোপাল বাংলার সিংহাসনে আরোহণ করেন এবং পালবংশের শাসনের সূচনা করেন।
- বরেন্দ্র পাল রাজাদের পিতৃভূমি ছিলো।
- পাল বংশ আট শতকের মাঝামাঝি সময় থেকে প্রায় চারশত বছর বাংলা ও বিহারে শাসনকারী রাজবংশ।
- গোপাল প্রতিষ্ঠিত এ বংশের শাসন চলে নানা ধরনের উত্থান-পতনের মধ্য দিয়ে আঠারো পুরুষ ধরে।
- গোপালের রাজত্বকাল সম্পর্কে সঠিকভাবে জানার উপায় নেই। আর্যমঞ্জুশ্রীমূলকল্পে উল্লেখ আছে যে, তিনি ২৭ বছর রাজত্ব করেন। অনুমান করা হয় গোপাল ৭৫৬ হতে ৭৮১ খিস্টাব্দ পর্যন্ত রাজত্ব করেছিলেন।

সূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি ও জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৩১.
বাহাদুর শাহ জাফরকে কোথায় নির্বাসিত করা হয়?
  1. আন্দামানে
  2. আফগানিস্তানে
  3. রেঙ্গুনে
  4. আফ্রিকায়
সঠিক উত্তর:
রেঙ্গুনে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রেঙ্গুনে
ব্যাখ্যা
- ইংরেজরা সিপাহী বিদ্রোহে নেতৃত্ব দেওয়ার অভিযোগে তাঁকে বার্মায় নির্বাসিত করে।

বাহাদুর শাহ:
- দ্বিতীয় বাহাদুর শাহ জাফর ছিলেন সর্বশেষ মুঘল সম্রাট।
- ১৮৩৭ সালে তিনি দিল্লির সিংহাসনে আরোহন করেন।
- ১৮৫৭ সালে শেষ মোগল সম্রাট দ্বিতীয় বাহাদুর শাহ জাফর ইংরেজ কর্তৃক নির্বাসিত হলে মোগল শাসনের চূড়ান্ত পরিসমাপ্তি হয়।
- তাই ১৭০৭ থেকে ১৮৫৭ সময় কালকে (প্রায় দেড়শ বছর) মোগল বংশের পতনের যুগ বলা হয়। 
- ইংরেজ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানী ১৮৫৭ সালে সিপাহী বিদ্রোহের নেতৃত্ব দেয়ার কারণে মোগল সম্রাট দ্বিতীয় বাহাদুর শাহ জাফরকে রেঙ্গুনে (বার্মা) নির্বাসিত করেন।
- বাহাদুর শাহের নির্বাসনের মধ্য দিয়ে ভারতে মোগল শাসনের চূড়ান্ত অবসান ঘটে।

সূত্র: ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩২.
বল্লাল সেন কার পুত্র ছিলেন?
  1. বিজয় সেন
  2. হেমন্ত সেন
  3. লক্ষ্মণ সেন
  4. গোবিন্দপাল
সঠিক উত্তর:
বিজয় সেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিজয় সেন
ব্যাখ্যা
- বিজয় সেনের মৃত্যুর পর বল্লাল সেন আনুমানিক ১১৬০ সালে সিংহাসনে বসেন।

বল্লাল সেন:
- বিজয় সেনের মৃত্যুর পর আনুমানিক ১১৬০ সালে তার পুত্র বল্লাল সেন সিংহাসনে আরোহণ করেন।
- তিনি রাজ্য জয়ের চেয়ে দেশের ভেতরে উন্নয়ন, নতুন প্রথা চালু ও সংস্কারের কাজে অধিকতর মনোযোগী ছিলেন।
- তবে তিনি গোবিন্দপালকে পরাজিত করে মগধের পূর্বাঞ্চল অধিকার করেন।
- কথিত আছে যে, বল্লাল সেন তাঁর পিতার রাজত্বকালে মিথিলা জয় করেন।
- বল্লাল সেন বিদ্যান ও বিদ্যোৎসাহী রাজা ছিলেন।
- তিনি ব্রতসাগর, আচারসাগর, প্রতিষ্ঠাসাগর, দানসাগর ও অদ্ভুতসাগর নামে পাঁচটি গ্রন্থ রচনা করেন।

সূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা (৯ম-১০ম শ্রেণি), বাংলাদেশ উন্মক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৩.
ফা-হিয়েন ছিলেন—
  1. গ্রিক ইতিহাসবিদ
  2. আরবি পরিব্রাজক
  3. চীনা বৌদ্ধ তীর্থযাত্রী
  4. রোমান সেনাপতি
সঠিক উত্তর:
চীনা বৌদ্ধ তীর্থযাত্রী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চীনা বৌদ্ধ তীর্থযাত্রী
ব্যাখ্যা
- ফা-হিয়েন ছিলেন একজন প্রাচীন চীনা বৌদ্ধ পরিব্রাজক। 

ফা-হিয়েন:
- ফা-হিয়েন প্রাচীন চৈনিক বৌদ্ধ তীর্থযাত্রী।
- তিনি মধ্য এশিয়া, ভারত ও শ্রীলংকা ভ্রমণ করেন ও তাঁর ভ্রমণ বৃত্তান্ত লিপিবদ্ধ করেন।
- ৩৯৯ খ্রিস্টাব্দে তিনি যখন ভারতের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করেন তখন তাঁর বয়স সম্ভবত ৬৪ বছর।
- তিনি তাঁর ভ্রমণের অধিকাংশ সময়ই মধ্য ভারত বা মগধ পরিভ্রমণ অতিবাহিত করেন।
- তাঁর গন্তব্যস্থল ছিল সে সময়ের বিখ্যাত আন্তর্জাতিক বন্দর তাম্রলিপ্তি। 

উল্লেখ্য,
- চিনা পরিব্রাজক ফা-হিয়েন গুপ্ত সম্রাট দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্তের শাসনকালে গৌতমবুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত স্থানগুলি পরিদর্শনের উদ্দেশ্যে ভারত অভিমুখে যাত্রা করেন।
- ফা-হিয়েনের বর্ণনায় পাটলীপুত্র, তাম্রলিপ্তি, তক্ষশীলা, সারনাথ, মথুরা, পেশোয়ার, কুশীনগরসহ বেশ কিছু প্রসিদ্ধ স্থানের বিবরণ আছে।
- তাঁর ভ্রমণ কাহিনী থেকে গুপ্তযুগীয় ভারতের আর্থ-সামাজিক, ধর্মীয় এবং পরোক্ষভাবে রাজনৈতিক অবস্থার কিছু চিত্র পাওয়া যায়, যা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
- ফা-হিয়েন গুপ্ত শাসনের উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করেন।

সূত্র: ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশবিদ্যালয় ও  বাংলাপিডিয়া।
৩৪.
সমতট জনপদ বর্তমান বাংলাদেশের কোন অঞ্চলে অবস্থিত ছিল?
  1. রাজশাহী ও নাটোর
  2. খুলনা ও বাগেরহাট
  3. কুমিল্লা ও নোয়াখালী
  4. ঢাকা ও ফরিদপুর
সঠিক উত্তর:
কুমিল্লা ও নোয়াখালী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কুমিল্লা ও নোয়াখালী
ব্যাখ্যা

- কুমিল্লা ও নোয়াখালী নিয়েই সমতট গঠিত ছিল।

সমতট জনপদ:
- সমুদ্রগুপ্তের এলাহাবাদ লিপিতে তাঁর রাজ্যের পূর্ব সীমায় সমতটের উল্লেখ রয়েছে।
- সমতট বঙ্গের পূর্বে অবস্থিত ছিল।
- কেন্দ্র ছিল কুমিল্লার নিকটবর্তী ‘লালমাই' এলাকা।
- ত্রিপুরা (কুমিল্লা) ও নোয়াখালী অঞ্চলই নিয়েই ছিল প্রাচীন সমতট।  
- মেঘনা-পূর্ববর্তী অঞ্চলই সমতট বলে পরিচিত ছিল।
- হিউয়েন সাঙ কোন সপ্তম শতকে সমতটে এসেছিলেন।

সূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাপিডিয়া।

৩৫.
ইলবার্ট বিলের সময় ভারতের গভর্নর জেনারেল ছিলেন—
  1. লর্ড ডালহৌসি
  2. লর্ড লিটন
  3. লর্ড রিপন
  4. লর্ড কার্জন
সঠিক উত্তর:
লর্ড রিপন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লর্ড রিপন
ব্যাখ্যা

- লর্ড রিপনের শাসনামলে এই সংস্কারমূলক বিলটি প্রণীত হয়।

ইলবার্ট বিল: 
- ইলবার্ট বিল ১৮৮৩ সালে লর্ড রিপনের শাসনামলে উত্থাপিত হয়।
- তিনি ব্রিটিশ ভারতের গভর্নর জেনারেল ও ভাইসরয় হিসেবে উদারপন্থী চিন্তাধারার জন্য পরিচিত ছিলেন।
- ভারতীয় বিচারকদের ইউরোপীয়দের বিচার করার ক্ষমতা প্রদান করে বিচার বিভাগে সমতা আনয়নের উদ্দেশ্যে এই বিলটি উত্থাপন করা হয়।
- বিলটি উত্থাপন করেন লর্ড রিপনের আইনমন্ত্রী সি. পি. ইলবার্ট। তবে বিলটি ইউরোপীয়দের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়ার জন্ম দেয়, যারা ভারতীয় বিচারকদের অধীনে বিচার হতে রাজি ছিল না।
- অবশেষে ইউরোপীয়দের চাপে লর্ড রিপন বিলটি সংশোধন করে জুরি ব্যবস্থার শর্তে পাস করেন।
- এই বিতর্ক ভারতীয় শিক্ষিত মধ্যবিত্ত শ্রেণির মধ্যে রাজনৈতিক সচেতনতা সৃষ্টি করে এবং জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের ভিত গড়ে তোলে।
- পরবর্তীতে এটি ইন্ডিয়ান অ্যাসোসিয়েশন (১৮৮৩) ও ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল কংগ্রেস (১৮৮৫) প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখে।

সূত্র: বাংলাপিডিয়া।