পরীক্ষা আর্কাইভ

ডেইলি কুইজ [২০০ দিন]

পরীক্ষাডেইলি কুইজ [২০০ দিন]তারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়09 minutes
মোট প্রশ্ন২৩
সিলেবাস
বিষয় - আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি অধ্যায়: আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ও আন্তরাষ্ট্রীয় ক্ষমতা সম্পর্ক টপিকসমূহ: i) কূটনৈতিক ও নিরাপত্তাসংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি, সনদ ও সম্মেলন, কূটনৈতিক পরিভাষা। উৎস: বোর্ড বই [NCTB ও উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়], ব্রিটানিকা, ওয়ার্ল্ড এটলাস ওয়েবসাইট, সংশ্লিষ্ট ওয়েবসাইট এবং যেকোনো গাইডবই। [গাইড বই থেকে পড়ার ক্ষেত্রে কনফিউজিং বিষয়গুলো ক্রসচেক করে পড়া উত্তম।] ------------------------- [নির্দেশিকা: এই রুটিনে সারাবছর জুড়ে পরীক্ষা চলমান থাকে। আপনি আজ ১ম পরীক্ষা দেওয়া শুরু করলে ২০০ দিনের মধ্যে পুরো সিলেবাস সম্পন্ন হবে।]
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

ডেইলি কুইজ [২০০ দিন]

ডেইলি কুইজ [২০০ দিন] · তারিখ অনির্ধারিত · ২৩ প্রশ্ন

.
নেকড়েযোদ্ধা কূটনীতি চালু হয় প্রধানত কার প্রশাসনের অধীনে?
  1. হু জিনতাও
  2. দেং শিয়াওপিং
  3. লি কিয়াং
  4. শি জিনপিং
ব্যাখ্যা

নেকড়েযোদ্ধা কূটনীতি:
- 'নেকড়ে যোদ্ধা' কূটনীতি চীন দেশের সাথে সংশ্লিষ্ট।
- মূলত র‍্যাম্বো স্টাইলের চীনা চলচ্চিত্র 'উলফ ওরিয়র-২' থেকে 'নেকড়ে যোদ্ধা' পরিভাষাটি ধার করা হয়েছে।

⇒ চীনের 'নেকড়ে যোদ্ধা' কূটনীতি প্রথম শুরু করেন দেশটির প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং।
- শি জিনপিংয়ের মহান কূটনৈতিক দর্শন থেকে এই পরিভাষাটি বেছে নেয়া হয়েছে।
- নিজের মর্যাদা বাড়াতে ও ক্ষমতাকে আরও পাকাপোক্তে কৌশলের অংশ হিসেবে চীনাদের জাতীয়তাবাদী অনুভূতি শক্তিশালী করতে শি জিনপিং এমন কৌশল নিয়েছিলেন।

⇒ মার্কিন চাপে জি৭ দেশগুলো যাতে নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে না পারে, তা নিশ্চিত করতেই নতুন পথ বেছে নিয়েছে বিশ্বের দ্বিতীয় শীর্ষ অর্থনীতি।

উৎস: The National Bureau of Asian Research (NBR).

.
ন্যাটোর কোন অনুচ্ছেদে 'Open Door Policy' সম্পর্কে বর্ণনা করা হয়েছে?
  1. অনুচ্ছেদ - ৬
  2. অনুচ্ছেদ - ৮
  3. অনুচ্ছেদ - ১০
  4. অনুচ্ছেদ - ১২
ব্যাখ্যা

NATO:
- ন্যাটো প্রতিষ্ঠার চুক্তিটি ১৪টি ধারার।

⇒ অনুচ্ছেদ - ১০: Open Door Policy [নতুন সদস্য দেশ অন্তর্ভূক্তি]। 
ন্যাটোর নতুন সদস্য দেশ অন্তর্ভূক্তি হয় এই অনুচ্ছেদ অনুসারে।
ন্যাটোর সদস্য হওয়ার পূর্ব শর্ত হলো - দেশটিকে ইউরোপিয়ান দেশ হতে হবে।

⇒ ন্যাটোর অনুচ্ছেদ:
অনুচ্ছেদ ১: শান্তিপূর্ণ সমাধান,
অনুচ্ছেদ ২: বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক,
অনুচ্ছেদ ৩: প্রতিরক্ষা সক্ষমতা,
অনুচ্ছেদ ৪: পরামর্শ,
অনুচ্ছেদ ৫: সম্মিলিত প্রতিরক্ষা,
অনুচ্ছেদ ৬: আক্রমণের সংজ্ঞা ,
অনুচ্ছেদ ৭: জাতিসংঘ সনদের বাধ্যবাধকতা,
অনুচ্ছেদ ৮: অ-দ্বন্দ্বমূলক সম্পৃক্ততা,
অনুচ্ছেদ ৯: বাস্তবায়ন পরিষদ,
অনুচ্ছেদ ১০: অতিরিক্ত পক্ষসমূহ,
অনুচ্ছেদ.১১: চুক্তি অনুমোদন এবং প্রয়োগ,
অনুচ্ছেদ ১২: চুক্তি পর্যালোচনা,
অনুচ্ছেদ ১৩: জোটের সদস্যতা ত্যাগ,
অনুচ্ছেদ ১৪: চুক্তির অন্যান্য সংস্করণের গ্রহণযোগ্যতা।

উৎস: NATO ওয়েবসাইট।

.
P5+1 দেশগুলো ইরানের সঙ্গে যে চুক্তি করে তার নাম কী?
  1. CWC
  2. BWC
  3. JCPOA
  4. START-II
ব্যাখ্যা

Joint Comprehensive Plan of Action:
- এটি সমঝোতা ‘ইরান ডিল’ নামেও পরিচিত।
- চুক্তিটি হয়েছিল ইরান ও জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের পাঁচ স্থায়ী সদস্য দেশ তথা যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, চীন, যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সের মধ্যে।
- এই চুক্তিতে স্থায়ী পাঁচ সদস্য দেশের সাথে জার্মানিও ছিল।
- এজন্য এই পক্ষকে ‘পি৫ + ১’ বলা হয়ে থাকে।

⇒ স্বাক্ষরিত হয়: ১৪ জুলাই, ২০১৫।
- কার্যকর হয়: ১৬ জানুয়ারি, ২০১৬।
- মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার সময় চুক্তিটি স্বাক্ষর ও কার্যকর হয়।

⇒ চুক্তি অনুযায়ী, ইরান পরবর্তী ১৫ বছর পর্যন্ত ৩ দশমিক ৬৭ শতাংশের বেশি ইউরেনিয়ামসমৃদ্ধ করতে পারবে না। ইতিমধ্যেই সমৃদ্ধকৃত ১০ হাজার কেজি ইউরেনিয়ামের মজুদের মধ্যে মাত্র ৩০০ কেজি রেখে অবশিষ্ট ইউরেনিয়াম পারমাণবিক ক্ষমতাধর অন্য কোনো দেশের (রাশিয়া) কাছে হস্তান্তর করতে হবে। পরবর্তী ১৫ বছর পর্যন্ত ইরান এই ৩০০ কেজির চেয়ে বেশি আংশিক সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম মজুদ রাখতে পারবে না। এছাড়াও চুক্তি অনুযায়ী ইরানের ২০ হাজার পারমাণবিক কেন্দ্রের মধ্যে মাত্র ৫ হাজার ৬০টি কেন্দ্র পরবর্তী ১০ বছর পর্যন্ত সক্রিয় রাখা যাবে। সীমিত পারমাণবিক চুল্লিগুলোর জন্য প্রয়োজনীয় ভারি পানি রেখে বাকি সব পানি আন্তর্জাতিক বাজারে ন্যায্যমূল্যে বিক্রি করে দিতে হবে এবং পরবর্তী ১৫ বছর পর্যন্ত নতুন কোনো ভারি পানি উৎপাদন করা যাবে না।

উল্লেখ্য,
- ২০১৮ সালে চুক্তি থেকে বের হয়ে যায় যুক্তরাষ্ট্র।
- ২০২০ সালের শুরুর দিকে পরমাণু চুক্তি থেকে সরে আসার ঘোষণা দেয় ইরান।

উৎস: U.S. Department of State (.gov) ওয়েবসাইট।

.
গুড ফ্রাইডে চুক্তির প্রধান উদ্দেশ্য কী ছিল?
  1. বেলফাস্টে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য উন্নয়ন
  2. পারমাণবিক অস্ত্র সীমিত করা
  3. উত্তর আয়ারল্যান্ডে শান্তি প্রতিষ্ঠা
  4. ইরানের পারমাণবিক কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ
ব্যাখ্যা

বেলফাস্ট চুক্তি:
- 'বেলফাস্ট চুক্তির' অপর নাম গুড ফ্রাইডে' চুক্তি বা Good Friday Agreement.
- চুক্তি স্বাক্ষর: ১০ এপ্রিল, ১৯৯৮।
- চুক্তি কার্যকর: ডিসেম্বর, ১৯৯৯।
- চুক্তি স্বাক্ষরের স্থান: বেলফাস্ট, উত্তর আয়ারল্যান্ড।
- চুক্তির পক্ষ: ব্রিটিশ সরকার, আয়ারল্যান্ড ও উত্তর আয়ারল্যান্ডের কয়েকটি রাজনৈতিক দল।
- চুক্তির মধ্যস্থতাকারী: লর্ড ট্রিম্বল (যুক্তরাজ্যের উত্তর আয়ারল্যান্ডের সাবেক ফার্স্ট মিনিস্টার)।
- গুড ফ্রাইডে' চুক্তির প্রধান উদ্দেশ্য ছিল উত্তর আয়ারল্যান্ডে শান্তি প্রতিষ্ঠা।

⇒ শুক্রবারে সই হওয়ায় এটি গুড ফ্রাইডে চুক্তি (জিএফএ) নামেই বেশি পরিচিতি।
- এই চুক্তির শর্তানুযায়ী, উত্তর আয়ারল্যান্ডে সরকার পরিচালনায় প্রোটেস্ট্যান্ট ও ক্যাথলিকদের মধ্যে অংশীদারত্বের ভিত্তিতে ক্ষমতা ভাগাভাগি করে সরকার গঠনের বিধান গৃহীত হয়। সেই সঙ্গে যুক্তরাজ্যের একটি অংশ হিসেবে উত্তর আয়ারল্যান্ডের সাংবিধানিক মর্যাদা স্বীকার করে নেওয়া হয়। পাশাপাশি সংযুক্ত আয়ারল্যান্ড গঠন করার একটি নীতিও গ্রহণ করা হয়।

উল্লেখ্য,
- ১৯২১ সালে যুক্তরাজ্যের অংশ হিসেবে নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডের যাত্রা শুরু হয়। সে সময় আয়ারল্যান্ডের বাকি অংশ স্বাধীন সার্বভৌম দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়। ফলে অঞ্চলটির জনগণ দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে যায়। এক দল আয়ারল্যান্ডের সঙ্গে একত্রিত হতে চেয়েছিল, আরেক দল চেয়েছিল যুক্তরাজ্যের অংশ হয়েই থাকতে। বিষয়টি নিয়ে প্রায় ৩০ বছরের সহিংস সংঘর্ষের অবসান ঘটেছিল গুড ফ্রাইডে চুক্তির মাধ্যমে। এই সংঘর্ষে প্রাণ হারায় প্রায় সাড়ে ৩ হাজার মানুষ।

উৎস: Britannica.

.
New START চুক্তি কোন দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত হয়?
  1. যুক্তরাষ্ট্র এবং চীন
  2. যুক্তরাষ্ট্র এবং রাশিয়া
  3. যুক্তরাষ্ট্র এবং যুক্তরাজ্য
  4. যুক্তরাষ্ট্র এবং ফ্রান্স
ব্যাখ্যা

New START চুক্তি:
- New START চুক্তি হলো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং রাশিয়ার মধ্যে একটি পারমাণবিক অস্ত্র হ্রাস চুক্তি।
- স্বাক্ষরিত হয়: ৮ এপ্রিল, ২০১০।
- কার্যকর হয়: ৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১১।
- স্বাক্ষর করেছিলেন: প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ও দিমিত্রি মেদভেদেভ।
- মস্কো ও ওয়াশিংটন মোট কতসংখ্যক কৌশলগত পারমাণবিক অস্ত্র মোতায়েন করতে পারবে, তার সর্বোচ্চ সীমা নির্ধারিত করে দিয়েছিল এই চুক্তি।

⇒ ২০২৩ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি ‘নিউ স্টার্ট চুক্তি’ স্থগিতের ঘোষণা দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন।

উৎস: Nuclear Threat Initiative.

.
Ping Pong Diplomacy'র সাথে জড়িত কোন দুটি দেশ?
  1. যুক্তরাষ্ট্র ও চীন
  2. উত্তর কোরিয়া ও দক্ষিণ কোরিয়া 
  3. চীন ও জাপান 
  4. তাইওয়ান ও জাপান
ব্যাখ্যা

Ping Pong Diplomacy:
- পিং পং ডিপলোমেসির ইংরেজি প্রতিশব্দ Shuttle Diplomacy.
- যুক্তরাষ্ট্রের সাথে চীনের সম্পর্ক উন্নয়নে টেবিল টেনিস বা পিংপং খেলা গুরত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
- ইতিহাসে এই ঘটনা পিংপং ডিপ্লোমেসি নামে পরিচিত।
- পিং পং ডিপ্লোম্যাসির (Ping pong diplomacy) মাধ্যমে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে চলা ২০ বছরের বৈরি সম্পর্কের সমাপ্তি ঘটে।

⇒ ১৯৪৯ সালে মাও সেতুং এর নেতৃত্বে চীনে কমিউনিজম প্রতিষ্ঠার পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সম্পর্কের অবনতি হয়।
- ১৯৭১ সালে জাপানের নাগোয়াতে অনুষ্ঠিত ৩১তম বিশ্ব টেবিল টেনিস চ্যাম্পিয়নশিপ প্রতিযােগীতায় আসা যুক্তরাষ্ট্রের টীমকে চীনে আমন্ত্রন জানিয়ে এই অচলবস্থা সহজ হয়ে আসে।
- ১৯৪৯ সালের পর কোনো মার্কিন প্রতিনিধির এটাই প্রথম চীন সফর।
- সেই ঐতিহাসিক সফরের পর চীন-মার্কিন সম্পর্কের ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মুক্ত হয়।

⇒ ১৯৭১ সালের জুলাইয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা উপদেষ্টা হেনরি কিসিঞ্জার এক গােপন সফরে চীন যান।
- ১৯৭২ সালে চীন তাদের টেবিল টেনিস টীম যুক্তরাষ্ট্র সফরে পাঠায়।
- ১৯৭১ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রেসিডেন্ট নিক্সন চীন সফরে যান এবং তারপর থেকে চীনের সাথে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক স্বাভাবিক হয়ে আসে।
- এটি চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক উন্নয়নে বড় অবদান রেখেছে।

উল্লেখ্য,
- টেবিল টেনিস খেলাটি ২০ শতকের প্রথম দিকে ইংল্যান্ডে উদ্ভাবিত হয়েছিল এবং টেবিল টেনিস নামটি ১৯২১-২২ সালে গৃহীত হয়েছিল। 
- প্রথম বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপ ১৯২৬ সালে লন্ডনে অনুষ্ঠিত হয়েছিল, এবং তারপর থেকে ১৯৩৯ সাল পর্যন্ত খেলায় মধ্য ইউরোপের খেলোয়াড়দের দ্বারা আধিপত্য ছিল।

উৎস: Britannica.

.
Biological Weapons Convention (BWC) কত সালে কার্যকর হয়?
  1. ১৯৭২ সালে
  2. ১৯৭৩ সালে
  3. ১৯৭৪ সালে
  4. ১৯৭৫ সালে
ব্যাখ্যা

Biological Weapons Convention (BWC):
- জৈবিক অস্ত্র কনভেনশন বা Biological Weapons Convention (BWC) হলো একটি আইনত বাধ্যতামূলক চুক্তি যা জৈব অস্ত্র নিষিদ্ধ করে।
- স্বাক্ষরের জন্য উন্মুক্ত হয়: ১০ এপ্রিল, ১৯৭২।
- কার্যকর হয়: ২৬ মার্চ, ১৯৭৫।
- সদস্য দেশ: ১৯০টি।
- বিষয়বস্তু: সব ধরনের জীবাণু ও বিষাক্ত অস্ত্রের উন্নয়ন, উৎপাদন, মজুদ নিষিদ্ধকরণ এবং ধ্বংস সাধন।

উৎস: i) The Nuclear Threat Initiative. 
ii) Arms Control Association ওয়েবসাইট।

.
CWC-এর লক্ষ্য কোন ধরনের অস্ত্র প্রতিরোধ করা?
  1. পারমাণবিক অস্ত্র
  2. রাসায়নিক অস্ত্র
  3. জৈবিক অস্ত্র
  4. স্থলমাইন 
ব্যাখ্যা

Chemical Weapons Convention:
- Chemical Weapons Convention হলো আন্তর্জাতিক নিরস্ত্রীকরণ চুক্তি।
- স্বাক্ষরিত হয়: ১৩ জানুয়ারি, ১৯৯৩ (প্যারিসে)।
- কার্যকর হয়: ২৯ এপ্রিল, ১৯৯৭।
- বর্তমান সদস্য: ১৯৩টি দেশ।
- নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা: Organisation for the Prohibition of Chemical Weapons (OPCW)।
- সদর দপ্তর: দ্য হেগ, নেদারল্যান্ডস।

⇒ মূল উদ্দেশ্য:
- রাসায়নিক অস্ত্র নির্মাণ ও মজুদ নিষিদ্ধকরণ।
- বিদ্যমান রাসায়নিক অস্ত্রের ধ্বংস নিশ্চিত করা।
- রাসায়নিক অস্ত্রের ব্যবহার রোধ।
- শিল্পখাতে রাসায়নিকের শান্তিপূর্ণ ব্যবহার নিশ্চিত করা।

উৎস: i) OPCW ওয়েবসাইট।
ii) Arms Control Association ওয়েবসাইট।

.
গণহত্যা সনদ (Genocide Convention) কবে স্বাক্ষরিত হয়?
  1. ১২ জানুয়ারি, ১৯৪৮
  2. ৯ ডিসেম্বর, ১৯৪৮
  3. ১২ জানুয়ারি, ১৯৫১
  4. ৯ ডিসেম্বর, ১৯৫১
ব্যাখ্যা

গণহত্যা সনদ (Genocide Convention):
- গণহত্যা সনদ (Genocide Convention) হল একটি আন্তর্জাতিক আইন।
- এই সনদেই প্রথমবারের মতো গণহত্যার (জেনোসাইড) অপরাধকে আইনগতভাবে সংজ্ঞায়িত করা হয়।
- পূর্ণ নাম: Convention on the Prevention and Punishment of the Crime of Genocide.
- স্বাক্ষরিত হয়: ৯ ডিসেম্বর, ১৯৪৮।
- কার্যকর হয়: ১২ জানুয়ারি, ১৯৫১।
- উদ্দেশ্য: গণহত্যার প্রতিরোধ করা ও গণহত্যার অপরাধীদের শাস্তি নিশ্চিত করা।

⇒ ১৯৪৮ সালে জাতিসংঘের সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে সনদটি চূড়ান্ত করা হয়।
- সনদে প্রদত্ত সংজ্ঞা অনুযায়ী, ‘জাতিগত, নৃগোষ্ঠী, বর্ণ বা ধর্মীয় গোষ্ঠীকে সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে ধ্বংস’ করার উদ্দেশ্যে সংঘটিত অপরাধই গণহত্যা। এই সনদ অনুযায়ী, গণহত্যা যুদ্ধকালীন বা শান্তিকালীন সময়েও সংঘটিত হতে পারে। তবে রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড বা তথাকথিত ‘সাংস্কৃতিক গণহত্যা’ এই সনদের অন্তর্ভুক্ত নয়।

উৎস: i) International Committee of the Red Cross (ICRC) ওয়েবসাইট।
ii) UNTC ওয়েবসাইট।

১০.
কোন দেশ CTBT-তে স্বাক্ষর করেছে কিন্তু অনুমোদন করেনি?
  1. চীন
  2. যুক্তরাষ্ট্র
  3. ইরান
  4. বর্ণিত সবগুলো
ব্যাখ্যা

CTBT:
- CTBT-এর পূর্ণরূপ: Comprehensive Nuclear Test Ban Treaty.
- এই চুক্তির উদ্দেশ্য হলো সামরিক-বেসামরিক সকল পারমাণবিক পরীক্ষা নিষিদ্ধকরণ।
- জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ CTBT চুক্তিটি গ্রহণ করে: ১০ সেপ্টেম্বর, ১৯৯৬।
- স্বাক্ষরিত হয়: ২৪ সেপ্টেম্বর, ১৯৯৬।
- স্বাক্ষরিত দেশ: ১৮৭টি।
- অনুমোদিত দেশ: ১৭৮টি।
- বাস্তবায়ন সংস্থা: CTBTO (Comprehensive Nuclear-Test-Ban Treaty Organization) (সদর দপ্তর: ভিয়েনা, অস্ট্রিয়া)।

⇒ ৯টি দেশ CTBT-তে স্বাক্ষর করেছে কিন্তু অনুমোদন করেনি।
- এগুলো হলো: চীন, মিশর, ইরান, ইসরায়েল, নেপাল, রাশিয়া, সোমালিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, ইয়েমেন।

উৎস: i) CTBTO ওয়েবসাইট। 
ii) Arms Control Association ওয়েবসাইট।

১১.
কোন ক্ষেত্রে সাধারণত "Persona non grata" শব্দটি ব্যবহৃত হয়?
  1. ক্রীড়া প্রতিযোগিতা
  2. কূটনৈতিক প্রেক্ষাপট
  3. ব্যবসায়িক চুক্তি
  4. শিক্ষা কার্যক্রম
ব্যাখ্যা

Persona non grata: 
- শব্দের আক্ষরিক অর্থ অবাঞ্ছিত বা অগ্রহণযােগ্য ব্যক্তি। 
- এটি একটি ল্যাটিন শব্দ।
- এর মাধ্যমে কোনো ব্যক্তিকে কোনো দেশে প্রবেশ বা অবস্থানের জন্য অগ্রহণযোগ্য ঘোষণা করা হয়। 

​⇒ কূটনৈতিক প্রেক্ষাপটে "Persona non grata" সাধারণত কোনো বিদেশী কূটনীতিকের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হয়। যদি কোনো দেশের সরকার কোনো কূটনীতিককে তাদের দেশে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে, তবে তাকে "Persona non grata" হিসেবে বিবেচনা করা হয় এবং তাকে অবশ্যই সেই দেশ ত্যাগ করতে হয়।

উৎস: The National Museum of American Diplomacy (.gov).

১২.
যুদ্ধবন্দীদের সুরক্ষা সম্পর্কিত জেনেভা কনভেনশন কোনটি?
  1. ১ম জেনেভা কনভেনশন
  2. ২য় জেনেভা কনভেনশন
  3. ৩য় জেনেভা কনভেনশন
  4. ৪র্থ জেনেভা কনভেনশন
ব্যাখ্যা

জেনেভা কনভেনশন:
- জেনেভা কনভেনশন হলো আন্তর্জাতিক আইন যা যুদ্ধকালীন মানবাধিকার এবং মানবিক আচরণ সংক্রান্ত কিছু মৌলিক নীতি নির্ধারণ করে।
- এই কনভেনশনগুলি মূলত যুদ্ধবন্দী, আহত বা অসুস্থ সেনা সদস্য এবং সাধারণ নাগরিকদের সুরক্ষা ও মর্যাদা রক্ষার জন্য প্রতিষ্ঠিত।
- সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় ‘জেনেভা কনভেনশন’ স্বাক্ষরিত হয়।
- এর আওতায় ৪টি চুক্তি ও ৩টি প্রটোকল রয়েছে।
- এই চুক্তিকে ‘চারটি রেডক্রস কনভেনশন’ বলা হয়।

⇒ মূল জেনেভা কনভেনশনগুলো:
১. প্রথম কনভেনশন (১৮৬৪): আহত ও অসুস্থ সেনা সদস্যদের সুরক্ষা এবং তাদের চিকিৎসার ব্যবস্থা সম্পর্কে।
২. দ্বিতীয় কনভেনশন (১৯০৬): সমুদ্রে যুদ্ধরত সেনাদের সুরক্ষা ও তাদের চিকিৎসা সংক্রান্ত। ১৯০৭ সালে ‘হেগ চুক্তি’ সংশোধন করে এটি স্বাক্ষরিত হয়।
৩. তৃতীয় কনভেনশন (১৯২৯): যুদ্ধবন্দীদের সুরক্ষা এবং তাদের প্রতি মানবিক আচরণ।
৪. চতুর্থ কনভেনশন (১৯৪৯): সাধারণ নাগরিকদের সুরক্ষা, বিশেষত যুদ্ধক্ষেত্র বা দখলদারিত্বের সময়।

⇒ উল্লেখ্য, কনভেনশনের সংশোধন ও আধুনিকায়ন:
- ১৯৪৯ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর কনভেনশনগুলোর সংস্করণ আরো উন্নত ও আধুনিক করা হয় এবং ১৯৭৭ ও ২০০৫ সালে আরও প্রোটোকল যুক্ত করা হয়।
- এর মাধ্যমে যুদ্ধের সময় মানবাধিকার রক্ষা নিশ্চিত করার প্রচেষ্টা আরও জোরদার হয়েছে।

উৎস: INTERNATIONAL COMMITTEE OF THE RED CROSS.

১৩.
কোনটি Nuclear Non- Proliferation Treaty চুক্তি দ্বারা স্বীকৃত পারমাণবিক অস্ত্রধারী রাষ্ট্র নয়?
  1. যুক্তরাজ্য
  2. ফ্রান্স
  3. ভারত
  4. চীন
ব্যাখ্যা

'NPT' চুক্তি:
- NPT-এর পূর্ণরূপ: Nuclear Non- Proliferation Treaty.
- এটি হলো পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তি।
- স্বাক্ষরিত হয়: ১ জুলাই, ১৯৬৮।
- কার্যকর হয়: ৫ই মার্চ, ১৯৭০।
- স্বাক্ষরিত দেশ: ১৯১টি।

⇒ পারমাণবিক অস্ত্র উৎপাদক মোট রাষ্ট্রের সংখ্যা ৫টি।
- রাষ্ট্রগুলো হলো: চীন, ফ্রান্স, রাশিয়া, যুক্তরাজ্য এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।

⇒ এর মধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে NPT দ্বারা পারমাণবিক অস্ত্রের অধিকারী হিসাবে স্বীকৃত রাষ্ট্র (NWS) হলো ৫টি।
- চুক্তিটি এই দেশগুলির পারমাণবিক অস্ত্রাগারকে স্বীকৃতি দেয়।
- কিন্তু NPT-এর ৬ অনুচ্ছেদের অধীনে তাদের চিরস্থায়ীভাবে এই ধরনের অস্ত্র তৈরি এবং বজায় রাখার উল্লেখ নেই।

অন্যদিকে,
- ভারত, পাকিস্তান এবং ইসরায়েল কখনই NPT-এ যোগ দেয়নি। কিন্তু দেশগুলি পারমাণবিক অস্ত্রের অধিকারী বলে পরিচিত।
- উত্তর কোরিয়া একটি অ-পারমাণবিক অস্ত্র রাষ্ট্র হিসাবে NPT-এ যোগদান করেছিল। কিন্তু ২০০৩ সালে NPT থেকে প্রত্যাহারের ঘোষণা করেছিল।

উৎস: i) Arms Control Association ওয়েবসাইট।
ii) UNODA ওয়েবসাইট।

১৪.
গুমবিরোধী আন্তর্জাতিক সনদ (ICPPED)-এ কয়টি অনুচ্ছেদ রয়েছে? 
  1. ১১টি
  2. ৩৩টি
  3. ৪০টি
  4. ৪৫টি
ব্যাখ্যা

গুমবিরোধী আন্তর্জাতিক সনদ (ICPPED):
- ICPPED-এর পূর্ণরূপ: International Convention for the Protection of All Persons from Enforced Disappearance.
- স্বাক্ষরিত হয়: ২০ ডিসেম্বর, ২০০৬। 
- কার্যকর হয়: ২৩ ডিসেম্বর, ২০১০। 
- ICPPED জাতিসংঘের আওতাধীন একমাত্র আন্তর্জাতিক কনভেনশন যা এনফোর্স ডিসএপিয়ান্সকে কেন্দ্র করে গৃহীত হয়েছে, যার লক্ষ্য হলো গুম বন্ধের পাশাপাশি এই অপরাধের জন্য দায়মুক্তি বন্ধ করা, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা ও ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের সহায়তা দেওয়া।
- সনদে মোট ৪৫টি অনুচ্ছেদ আছে। 

⇒ আগস্ট ২৯, ২০২৪ তারিখে বাংলাদেশ গুমবিরোধী আন্তর্জাতিক সনদে স্বাক্ষর করেছে। 

উল্লেখ্য,
- ৩০ আগস্ট আন্তর্জাতিক গুমবিরোধী দিবস। 

উৎস: i) OHCHR ওয়েবসাইট।
ii) UNTC ওয়েবসাইট।

১৫.
Antarctic Treaty কত সালে স্বাক্ষরিত হয়েছিল?
  1. ১৯৫৯ সালে
  2. ১৯৬০ সালে
  3. ১৯৬১ সালে
  4. ১৯৬২ সালে
ব্যাখ্যা

এন্টার্কটিক ট্রিটি (Antarctic Treaty):
- চুক্তিটি অ্যান্টার্কটিকা মহাদেশের শান্তিপূর্ণ এবং বৈজ্ঞানিক গবেষণার জন্য একটি বিশেষ অঞ্চল হিসেবে সংরক্ষণ করার উদ্দেশ্য স্বাক্ষরিত হয়েছিল।
- স্বাক্ষরিত হয়: ১ ডিসেম্বর ১৯৫৯ সালে।
- কার্যকর হয়: ১৯৬১ সালে।
- চুক্তি স্বাক্ষরের স্থান: ওয়াশিংটন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।
- চুক্তি প্রথমে স্বাক্ষর করেছিল: ১২টি দেশ।
- বর্তমানে সদস্য: ৫৮টি দেশ।

উল্লেখ্য,
- ১৯৫৭-৫৮ সালের আন্তর্জাতিক ভূ-পদার্থিক বছর (IGY) চলাকালীন অ্যান্টার্কটিকায় এবং তার আশেপাশে অবস্থিত দেশের বিজ্ঞানীরা এই চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছিল।
- চুক্তিটি প্রথমে ১৯৫৯ সালে ১২টি দেশ (যারা অ্যান্টার্কটিকায় বৈজ্ঞানিক গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনা করছিল) দ্বারা স্বাক্ষরিত হয়।

⇒ অ্যান্টার্কটিক চুক্তির গুরুত্বপূর্ণ বিধান:
- শান্তিপূর্ণ ব্যবহার: অ্যান্টার্কটিকা শুধুমাত্র শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হবে (আর্টিকেল I)।
- বৈজ্ঞানিক গবেষণা: অ্যান্টার্কটিকায় বৈজ্ঞানিক তদন্তের স্বাধীনতা থাকবে এবং গবেষণা ফলাফল বিনিময় করা হবে (আর্টিকেল II ও III)।
- আঞ্চলিক দাবি নিষিদ্ধ: চুক্তির অধীনে নতুন আঞ্চলিক সার্বভৌমত্বের দাবি বা পুরনো দাবির প্রসারণ নিষিদ্ধ (আর্টিকেল IV)।
- কোনো সামরিক কার্যকলাপ নয়: অ্যান্টার্কটিকায় কোনো সামরিক কার্যকলাপ বা পারমাণবিক পরীক্ষা করা যাবে না।

উৎস: Antarctic Treaty ওয়েবসাইট।

১৬.
অটোয়া চুক্তি অনুযায়ী সদস্য দেশগুলোকে কত বছরের মধ্যে মজুদকৃত স্থলমাইন ধ্বংস করতে হবে?
  1. ৪ বছর
  2. ৫ বছর
  3. ৮ বছর
  4. ১০ বছর
ব্যাখ্যা

স্থলমাইন নিষিদ্ধকরণ চুক্তি (Anti-Personnel Landmines Convention):
- এর আরেক নাম অটোয়া চুক্তি।
- চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়: ১৮ সেপ্টেম্বর, ১৯৯৭ সালে।
- কার্যকর হয়: ১ মার্চ, ১৯৯৯ সালে।
- স্বাক্ষরের স্থান: অটোয়া, কানাডা।
- স্বাক্ষরকারী দেশ: ১৬৪টি।
- এর উদ্দেশ্য হলো Anti-Personnel Landmines বা স্থলমাইন ব্যবহার, মজুদ, উৎপাদন ও পরিবহন নিষিদ্ধ।

⇒ অটোয়া চুক্তি অনুযায়ী, সদস্য দেশগুলোকে চুক্তি কার্যকর হওয়ার ৪ বছরের মধ্যে তাদের মজুদকৃত স্থলমাইন ধ্বংস করতে হবে।
- এবং ১০ বছরের মধ্যে মাটির খনি ধ্বংস করতে হবে।
- ধ্বংসের বাধ্যবাধকতা পূরণের জন্য দেশগুলি ১০ বছর পর্যন্ত নবায়নযোগ্য সম্প্রসারণের অনুরোধ করতে পারে।

উল্লেখ্য,
- মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, চীন, ভারত, পাকিস্তান এবং রাশিয়াসহ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ল্যান্ডমাইন উৎপাদক এবং ব্যবহারকারী দেশ এই চুক্তিতে স্বাক্ষর করেনি।
- বাংলাদেশ এই চুক্তি স্বাক্ষর করে: ৭ মে, ১৯৯৮ সালে। চুক্তি অনুমোদন করে: ৬ সেপ্টেম্বর, ২০০০ সালে।

উৎস: Arms Control Association ওয়েবসাইট। [link]

১৭.
মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলন (MSC) প্রথম কবে অনুষ্ঠিত হয়?
  1. ১৯৫১ সালে 
  2. ১৯৫৩ সালে
  3. ১৯৬১ সালে
  4. ১৯৬৩ সালে
ব্যাখ্যা

মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলন:
- মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলন (Munich Security Conference - MSC) হলো একটি বার্ষিক আন্তর্জাতিক সম্মেলন যা মূলত নিরাপত্তা এবং প্রতিরক্ষা সম্পর্কিত বিষয় নিয়ে আলোচনা করতে আয়োজন করা হয়।
- ১৯৬৩ সালে সর্বপ্রথম মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
- এটি বিশ্বের অন্যতম প্রভাবশালী নিরাপত্তা সম্মেলন হিসেবে বিবেচিত।
- এর লক্ষ্য হলো বৈশ্বিক নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জগুলো নিয়ে আলোচনা করা এবং সমাধান খোঁজা।
- এটি প্রতি বছর ফেব্রুয়ারিতে জার্মানির মিউনিখে অনুষ্ঠিত হয়।
- বিশ্বের বিভিন্ন শক্তিশালী দেশের রাষ্ট্রপ্রধান, পররাষ্ট্রমন্ত্রী, প্রতিরক্ষা মন্ত্রী, কূটনীতিক এবং নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা এই সম্মেলনে অংশ নেন।

⇒ মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলনের প্রধান দুই উদ্যোক্তা এভাল্ড ভন ক্লাইস্ট ও হোর্স্ট টেল্টশিক।
- প্রথম এক দশক এই সম্মেলনে শুধু যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটো জোটভুক্ত দেশগুলোই অংশ নিত।
- স্নায়ুযুদ্ধের অবসানের পর মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলনের এভাল্ড ভন ক্লাইস্ট ও হোর্স্ট টেল্টশিক এই সম্মেলনকে বিশ্বজনীন রূপ দেওয়ার প্রয়াসে নতুন রূপরেখা তৈরি করেন।
- তারপর থেকে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রনায়কেরা মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলনে অংশ নিয়ে পারস্পরিক সম্পর্কের বিভিন্ন দিক ও সমস্যা নিয়ে আলোচনা করছেন।

⇒ ২০২৫ মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলন:
- ২০২৫ সালে ৬১তম মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে।

উৎস: Munich Security Conference ওয়েবসাইট।

১৮.
ABM Treaty কবে বাতিল হয়?
  1. ১৩ ডিসেম্বর, ২০০১
  2. ১৩ ডিসেম্বর, ২০০২
  3. ১৩ জুন, ২০০১
  4. ১৩ জুন, ২০০২
ব্যাখ্যা

ABM Treaty:
- ABM-এর পূর্ণরূপ: Anti Ballistic Missile Treaty.
- এটি একটি ক্ষেপণাস্ত্র সীমিতকরণ দ্বিপাক্ষিক চুক্তি।
- যুক্তরাষ্ট্র ও সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের মধ্যে চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়।
- চুক্তিটি Treaty on the Limitation of Anti- Ballistic Missile Systems নামেও পরিচিত।
- চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়: ২৬ মে, ১৯৭২ সাল।
- চুক্তি কার্যকর হয়: ৩ অক্টোবর, ১৯৭২ সাল।
- চুক্তি স্বাক্ষরের স্থান: মস্কো, রাশিয়া।
- চুক্তির বিষয়: দ্বিপাক্ষিক অস্ত্র সীমিতকরণ।
- চুক্তি বাতিল: ১৩ জুন, ২০০২ সাল।

উল্লেখ্য,
- ১৩ ডিসেম্বর, ২০০১-এ, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র চুক্তি থেকে প্রত্যাহার করার সিদ্ধান্ত নেয় এবং ৬ মাস পরে জুন, ২০০২ সালে এই প্রত্যাহার কার্যকর হয়।
 
উৎস: Arms Control Association ওয়েবসাইট।

১৯.
সামরিক ভাষায় WMD-এর পূর্ণরূপ কী?
  1. Weapons of Modern Design
  2. World Military Defense
  3. World Medical Department
  4. Weapons of Mass Destruction
ব্যাখ্যা

WMD:
- সামরিক ভাষায় WMD-এর পূর্ণরূপ: Weapons of Mass Destruction.
- WMD বা গণবিধ্বংসী অস্ত্র।
- ২০০৩ সালে WMD আছে এমন আশঙ্কায় মার্কিন জোট ইরাকে আক্রমণ করেছিল।
- বোমারু বিমানের ব্যাপক ধ্বংসের ক্ষমতা বর্ণনা করতে ১৯৩৭ সালে এই শব্দের প্রথম ব্যবহার করা হয়।

⇒ Weapons of mass destruction অন্তর্ভুক্ত অস্ত্রগুলো হলো:
- Nuclear Weapon,
- Chemical Weapon,
- Biological weapon.

উৎস: Britannica.

২০.
TPNW-এর পূর্ণরূপ কী?
  1. Treaty on the Protection of Nuclear Weapons
  2. Treaty on the Prohibition of Nuclear Weapons
  3. Treaty on the Promotion of Nuclear Weapons
  4. Treaty on the Prevention of Nuclear War
ব্যাখ্যা

TPNW:
- TPNW-এর পূর্ণরূপ: The Treaty on the Prohibition of Nuclear Weapons.
- এটি পারমাণবিক অস্ত্র নিষিদ্ধকরণ চুক্তি।
- এই চুক্তিতে যেকোনো পারমাণবিক অস্ত্র কার্যক্রমে অংশগ্রহণের উপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।
- এর মধ্যে রয়েছে পারমাণবিক অস্ত্রের বিকাশ, পরীক্ষা, উৎপাদন, অর্জন, অধিকার, মজুদ, ব্যবহার বা হুমকি না দেওয়ার অঙ্গীকার।

⇒ পরমাণু অস্ত্র মুক্ত বিশ্ব গড়ার লক্ষ্যে ২০১৭ সালের ৭ জুলাই পরমাণু অস্ত্র নিষিদ্ধকরণ বিষয়ক চুক্তি গৃহিত হয়।
- চুক্তির পক্ষে ভোট দেয়: ১২২টি দেশ।
- চুক্তির বিপক্ষে ভোট দেয়: ১টি দেশ (নেদারল্যান্ডস)।
- স্বাক্ষরিত হয়: ২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৭।
- কার্যকর হয়: ২২ জানুয়ারি, ২০২১।
- স্বাক্ষরিত দেশ: ৯৪টি।

উল্লেখ্য,
- বাংলাদেশ ২০১৭ সালের ২০ সেপ্টেম্বর এটিতে স্বাক্ষর করে এবং ২০১৯ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর অনুমোদন করে।

উৎস: United Nations Treaty Collection ওয়েবসাইট।

২১.
কোয়াড কোন অঞ্চলের জন্য একটি চতুর্পক্ষীয় নিরাপত্তা ফোরাম হিসেবে কাজ করে?
  1. আটলান্টিক মহাসাগরীয় অঞ্চল
  2. ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল
  3. ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চল
  4. লোহিতসাগরীয় অঞ্চল
ব্যাখ্যা

QUAD (কোয়াড):
- QUAD-এর পূর্ণরূপ: Quadrilateral Security Dialogue.
- QUAD হলো ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের (ভারত-প্রশান্ত মহাসাগর অঞ্চল) ‘চতুর্পক্ষীয় নিরাপত্তা ফোরাম’।
- গঠিত হয়: ২০০৭ সালে।
- সদস্য দেশ: ৪টি (যথা: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ভারত, অস্ট্রেলিয়া এবং জাপান)।

⇒ কোয়াড এর মূল উদ্দেশ্য: ভারত-প্রশান্ত মহাসাগর অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখা, কৌশলগত, সামরিক এবং অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা, বৃহত্তর আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে একে অপরের প্রতি নির্ভরশীলতা বৃদ্ধি করা।

উল্লেখ্য,
- ২০২৫ সালে কোয়াডের ৫ম সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে ভারতে।

উৎস: Department of the Prime Minister and Cabinet.

২২.
Arms Trade Treaty (ATT)-এর মূল উদ্যোক্তা কে?
  1. অস্কার অ্যারিয়াস
  2. মেনাচেম বেগিন
  3. রিচার্ড নিক্সন
  4. বর্ণিত সবাই
ব্যাখ্যা

Arms Trade Treaty (ATT)  চুক্তি:
- এটি প্রচলিত আন্তর্জাতিক অস্ত্র বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণ চুক্তি।
- এর প্রস্তাবক জাতিসংঘ।
- স্বাক্ষরিত হয়: ২ এপ্রিল, ২০১৩ (জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে)।
- কার্যকর হয়: ২৪ ডিসেম্বর, ২০১৪।
- চুক্তিটি অনুমোদনকারী দেশ: ১১৬টি।
- স্বাক্ষর করেছে কিন্তু এখনও অনুমোদন করেনি: ২৬টি।
- উদ্দেশ্য: প্রচলিত অস্ত্রের অবৈধ বাণিজ্য রোধ ও মানবাধিকার রক্ষা।

⇒ নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী কোস্টারিকার প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি অস্কার অ্যারিয়াস (Oscar Arias) ATT ধারণার মূল প্রবক্তা ছিলেন।
- যুক্তরাজ্য ২০০৬ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে ATT প্রস্তাব জাতিসংঘে উত্থাপন করে।
- অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এবং অক্সফাম ATT এর পক্ষে ব্যাপক প্রচারণা চালায়।
- ATT ২০১৩ সালে চূড়ান্তভাবে স্বাক্ষরিত হয়।

উৎস: i) UN ওয়েবসাইট। [link]
ii) Arms Trade Treaty ওয়েবসাইট।

২৩.
'শাংরি-লা ডায়ালগ ২০২৫' কোথায় অনুষ্ঠিত হয়েছে?
  1. চীন
  2. সিঙ্গাপুর 
  3. মালয়েশিয়া 
  4. ইন্দোনেশিয়া
ব্যাখ্যা

শাংরি-লা ডায়ালগ ২০২৫ (Shangri-La Dialogue 2025):
- শাংরি-লা ডায়ালগ ২০২৫ (Shangri-La Dialogue 2025) সিঙ্গাপুরে অনুষ্ঠিত হয়েছে। 
- এই সম্মেলনটি ২০২৫ সালের ৩০ মে - ১ জুন পর্যন্ত সিঙ্গাপুরের শাংরি-লা হোটেল-এ অনুষ্ঠিত হয়। 
- এটি এশিয়ার প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা বিষয়ক শীর্ষ সম্মেলন শাংরি-লা ডায়ালগের ২২তম আসর। 
- এটি এশিয়ার শীর্ষ প্রতিরক্ষা সম্মেলন হিসেবে বিবেচিত এবং ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (IISS) দ্বারা আয়োজিত হয়।

⇒ ২০২৫ সালের শাংরি-লা ডায়ালগে ৪৭টি দেশের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন, যার মধ্যে ৪০টি দেশের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী, ২০টি দেশের সেনাপ্রধান এবং ২০টিরও বেশি উচ্চপদস্থ প্রতিরক্ষা কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।
- সম্মেলনে আলোচ্য বিষয়গুলোর মধ্যে থাকবে—আঞ্চলিক সহযোগিতা, যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা নীতি, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, এবং সাম্প্রতিক মার্কিন শুল্ক নীতির প্রভাব।

উৎস: The International Institute for Strategic Studies.