পরীক্ষা আর্কাইভ

প্রাইমারি শিক্ষক নিয়োগ প্রস্তুতি [লং কোর্স]

পরীক্ষাপ্রাইমারি শিক্ষক নিয়োগ প্রস্তুতি [লং কোর্স]তারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়09 minutes১৯ বৈধ · অসম্পূর্ণ
মোট প্রশ্ন২০
সিলেবাস
পরীক্ষা - ৬০: বিষয়: বাংলা টপিক: বাক্য প্রকরণ, বাক্য রূপান্তর, উপসর্গ, বানান ও বাক্য শুদ্ধি। উৎস: মাধ্যমিক ব্যাকরণ বই (উভয় সংস্করণ), বাংলা একাডেমি অভিধান, ভাষা শিক্ষা - ড. হায়াৎ মামুদ বা যেকোনো ভালো গাইড বই।
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

প্রাইমারি শিক্ষক নিয়োগ প্রস্তুতি [লং কোর্স]

প্রাইমারি শিক্ষক নিয়োগ প্রস্তুতি [লং কোর্স] · তারিখ অনির্ধারিত · ২০ প্রশ্ন

.
"কীর্তিমানের মৃত্যু নেই।" এই বাক্যটির জটিল রূপ কোনটি?
  1. কীর্তিমান হইলে মৃত্যু হয় না।
  2. কীর্তিমান মানেই তার মৃত্যু নেই।
  3. তারা কীর্তিমান, তাই তাদের মৃত্যু নেই।
  4. যারা কীর্তিমান, তাদের মৃত্যু নেই।
ব্যাখ্যা
"কীর্তিমানের মৃত্যু নেই।" এই বাক্যটির জটিল রূপ হবে "যারা কীর্তিমান, তাদের মৃত্যু নেই।"

• সরল বাক্য থেকে জটিল বাক্য:
- সরল বাক্যকে জটিল বাক্যে পরিণত করতে হলে সরল বাক্যের কোনো অংশকে খন্ডবাক্যে পরিণত করতে হয় এবং উভয়ের সংযোগ বিধানে সম্বন্ধসূচক (যদি, তবে, যে, সে প্রভৃতি) পদের সাহায্যে উক্ত খণ্ডবাক্য ও প্রধান বাক্যটিকে পরস্পর সাপেক্ষ করতে হয়।
যথা:
- সরল বাক্য: ভালো ছেলেরা শিক্ষকের আদেশ পালন করে।
-জটিল বাক্য: যারা ভালো ছেলে, তারা শিক্ষকের আদেশ পালন করে।

- সরল বাক্য: দুর্জন লোক পরিত্যাজ্য।
- জটিল বাক্য: যেসব লোক দুর্জন, তারা পরিত্যাজ্য।

- সরল বাক্য: তুমি চেষ্টা না করায় ব্যর্থ হয়েছ।
- জটিল বাক্য: যেহেতু তুমি চেষ্টা করোনি, তাই ব্যর্থ হয়েছ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, ৯ম - ১০ম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
.
কোন বাক্যটি শুদ্ধ?
  1. আপনি স্বপরিবারে আমন্ত্রিত।
  2. পূর্বদিকে সূর্য উদয় হয়।
  3. সর্ব বিষয়ে বাহুল্যতা বর্জন করা উচিত।
  4. তাঁর কথা শুনে আমি আশ্চার্যান্বিত হলাম।
ব্যাখ্যা
"তাঁর কথা শুনে আমি আশ্চার্যান্বিত হলাম।" বাক্যটি শুদ্ধ।

 অন্যদিকে,
- অশুদ্ধ বাক্য: পূর্বদিকে সূর্য উদয় হয়।
- শুদ্ধ বাক্য: পূর্বদিকে সূর্য উদিত হয়।

- অশুদ্ধ বাক্য: আপনি স্বপরিবারে আমন্ত্রিত।
- শুদ্ধ বাক্য: আপনি সপরিবারে আমন্ত্রিত।

- অশুদ্ধ বাক্য: সর্ব বিষয়ে বাহুল্যতা বর্জন করা উচিত।
- শুদ্ধ বাক্য: সর্ব বিষয়ে বাহুল্য বর্জন করা উচিত।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
.
"আমি বহু কষ্ট করেছি, ফলে শিক্ষা লাভ করেছি।" এই বাক্যটির সরল রূপ কোনটি?
  1. আমি বহু কষ্ট করেছি, তাই শিক্ষা লাভ করেছি।
  2. আমি বহু কষ্টে শিক্ষা লাভ করেছি।
  3. শিক্ষালাভ অনেক কষ্টের।
  4. আমি বহু কষ্ট করেছি এবং শিক্ষা লাভ করেছি
ব্যাখ্যা
"আমি বহু কষ্ট করেছি, ফলে শিক্ষা লাভ করেছি।" এই বাক্যটির সরল রূপ "আমি বহু কষ্টে শিক্ষা লাভ করেছি।"

• যৌগিক বাক্যকে সরল বাক্যে রূপান্তর:
(১) বাক্যসমূহের একটি সমাপিকা ক্রিয়াকে অপরিবর্তিত রাখতে হয়।
(২) অন্যান্য সমাপিকা ক্রিয়াকে অসমাপিকা ক্রিয়ায় পরিণত করতে হয়।
(৩) অব্যয় পদ থাকলে তা বর্জন করতে হয়।
(৪) কোনো কোনো স্থলে একটি বাক্যকে হেতুবোধক বাক্যাংশে পরিণত করতে হয়।
যথা:
- যৌগিক বাক্য: সত্য কথা বলিনি, তাই বিপদে পড়েছি।
- সরল বাক্য: সত্য কথা না বলে বিপদে পড়েছি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, ৯ম - ১০ম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
.
নিচের কোন বাক্যটিতে ভাষার অপপ্রয়োগ ঘটে নি?
  1. ছেলেটি মারাত্নক মেধাবী।
  2. আকণ্ঠ পর্যন্ত ভোজন করলাম।
  3. অন্নাভাবে ঘরে ঘরে হাহাকার।
  4. তিনি অপমানিতবোধ করেছেন।
ব্যাখ্যা
"অন্নাভাবে ঘরে ঘরে হাহাকার।" বাক্যটি শুদ্ধ।

অন্যদিকে,
- অশুদ্ধ: ছেলেটি মারাত্নক মেধাবী।
- শুদ্ধ: ছেলেটি অত্যন্ত মেধাবী।

- অশুদ্ধ: আকণ্ঠ পর্যন্ত ভোজন করলাম।
- শুদ্ধ: আকণ্ঠ ভোজন করলাম।

- অশুদ্ধ: তিনি অপমানিতবোধ করেছেন।
- শুদ্ধ: তিনি অপমানবোধ করেছেন।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
.
"যতই করিবে দান, তত যাবে বেড়ে।" কোন ধরনের বাক্য?
  1. সরল বাক্য
  2. জটিল বাক্য
  3. যৌগিক বাক্য
  4. খন্ডিত বাক্য
ব্যাখ্যা
• জটিল বাক্য:
- একটি মূল বাক্যের অধীনে এক বা একাধিক আশ্রিত বাক্য বা বাক্যাংশ থাকলে জটিল বাক্য তৈরি হয়।
- যেমন: যতই করিবে দান, তত যাবে বেড়ে।

অন্যদিকে,
• সরল বাক্য:
যে বাক্যে একটিমাত্র কর্তা (উদ্দেশ্য) এবং একটিমাত্র সমাপিকা ক্রিয়া (বিধেয়) থাকে, তাকে সরল বাক্য বলে।
- যথা: পুকুরে পদ্মফুল জন্মে।
- এখানে 'পদ্মফুল' উদ্দেশ্য এবং 'জন্মে' বিধেয়।

• যৌগিক বাক্য:
- পরস্পর নিরপেক্ষ দুই বা ততোধিক সরল বা মিশ্র বাক্য মিলিত হয়ে একটি সম্পূর্ণ বাক্য গঠন করলে তাকে যৌগিক বাক্য বলে।
- জ্ঞাতব্য: যৌগিক বাক্যের অন্তর্গত নিরপেক্ষ বাক্যগুলো এবং, ও, কিন্তু, অথবা, অথচ, কিংবা, বরং, তথাপি প্রভৃতি অব্যয় যোগে সংযুক্ত বা সমন্বিত থাকে।
- যেমন- নেতা জনগণকে উৎসাহিত করলেন বটে, কিন্তু, কোনো পথ দেখাতে পারলেন না।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, ৯ম - ১০ম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
.
নিচের কোন বানানটি শুদ্ধ?
  1. দারিদ্র
  2. অধ্যাবসায়
  3. দীর্ঘজীবী
  4. স্বতস্ফূর্ত
ব্যাখ্যা
• বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
• 'দীর্ঘজীবী' বানানটি শুদ্ধ।


অন্যদিকে,
- দারিদ্র - দারিদ্র্য/দরিদ্রতা।
- অধ্যাবসায় - অধ্যবসায়।
- স্বতস্ফূর্ত - স্বতঃস্ফূর্ত।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
.
"তার বয়স হয়েছে, কিন্তু বুদ্ধি হয়নি।" এই বাক্যের জটিল রূপ-
  1. তার বয়স হলেও বুদ্ধি হয়নি।
  2. তার বয়সের সাথে সাথে বুদ্ধি হয়নি।
  3. যদিও তার বয়স হয়েছে তথাপি তার বুদ্ধি বাড়ে নি।
  4. তার বুদ্ধি বাড়েনি কারণ তার বয়স বেড়েছে।
ব্যাখ্যা
"তার বয়স হয়েছে, কিন্তু বুদ্ধি হয়নি" এই বাক্যের জটিল রূপ - যদিও তার বয়স হয়েছে তথাপি তাঁর বুদ্ধি বাড়েনি।

• যৌগিক বাক্যকে মিশ্র বাক্যে রূপান্তর:

- যৌগিক বাক্যের অন্তর্গত পরস্পর নিরপেক্ষ বাক্য দুটির প্রথমটির পূর্বে 'যদি' কিংবা 'যদিও' এবং দ্বিতীয়টির পূর্বে 'তাহলে' (তাহা হইলে) কিংবা 'তথাপি' অব্যয়গুলো ব্যবহার করতে হয়।

যেমন-
- যৌগিক বাক্য: তিনি অত্যন্ত দরিদ্র কিন্তু তাঁর অন্তঃকরণ অতিশয় উচ্চ।
- মিশ্র বাক্য : যদিও তিনি অত্যন্ত দরিদ্র, তথাপি তাঁর অন্তঃকরণ অতিশয় উচ্চ।

উৎস: উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, ৯ম - ১০ম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
.
"জ্ঞানী লোক সকলের শ্রদ্ধার পাত্র।" এটি কোন ধরনের বাক্য?
  1. সরল বাক্য
  2. জটিল বাক্য
  3. যৌগিক বাক্য
  4. খণ্ড বাক্য
ব্যাখ্যা
"জ্ঞানী লোক সকলের শ্রদ্ধার পাত্র।" এটি সরল বাক্য।

• সরল বাক্য:
- যে বাক্যে একটিমাত্র কর্তা (উদ্দেশ্য) এবং একটিমাত্র সমাপিকা ক্রিয়া (বিধেয়) থাকে, তাকে সরল বাক্য বলে।
- যথা: জ্ঞানী লোক সকলের শ্রদ্ধার পাত্র।
- এখানে 'জ্ঞানী লোক' উদ্দেশ্য এবং 'সকলের শ্রদ্ধার পাত্র' বিধেয়।

• মিশ্র বা জটিল বাক্য:
- যে বাক্যে একটি প্রধান খণ্ডবাক্যের এক বা একাধিক আশ্রিত বাক্য পরস্পর সাপেক্ষ ভাবে ব্যবহৃত হয়, তাকে মিশ্র বা জটিল বাক্য বলে।
- যথা- "যে পরিশ্রম করে, সে-ই সুখ লাভ করে।"
- এই বাক্যে 'যে পরিশ্রম করে' আশ্রিত বাক্য এবং 'সে-ই সুখ লাভ' করে প্রধান খণ্ডবাক্য।

• যৌগিক বাক্য:
- পরস্পর নিরপেক্ষ দুই বা ততোধিক সরল বা মিশ্র বাক্য মিলিত হয়ে একটি সম্পূর্ণ বাক্য গঠন করলে তাকে যৌগিক বাক্য বলে।
- জ্ঞাতব্য: যৌগিক বাক্যের অন্তর্গত নিরপেক্ষ বাক্যগুলো এবং, ও, কিন্তু, অথবা, অথচ, কিংবা, বরং, তথাপি প্রভৃতি অব্যয় যোগে সংযুক্ত বা সমন্বিত থাকে।
- যেমন- নেতা জনগণকে উৎসাহিত করলেন বটে, কিন্তু, কোনো পথ দেখাতে পারলেন না।
- "সে অনেক পড়েছে কিন্তু পাস করতে পারে নি।" বাক্যটি একটি যৌগিক বাক্য।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, ৯ম - ১০ম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
.
'পাভেল করে মাঠে কাজ ' বাক্যটি সার্থক বাক্যের কোন গুণ হারিয়েছে?
  1. আকাঙ্ক্ষা
  2. আসত্তি
  3. আসক্তি
  4. যোগ্যতা
ব্যাখ্যা
•ভাষার বিচারে বাক্যের নিম্নলিখিত তিনটি গুণ থাকা চাই।
যেমন-
(১) আকাঙ্ক্ষা, 
(২) আসত্তি এবং
(৩) যোগ্যতা।

• আসত্তি:

- মনোভাব প্রকাশের জন্য বাক্যে শব্দগুলো এমনভাবে পর পর সাজাতে হবে যাতে মনোভাব প্রকাশ বাধাগ্রস্ত না হয়।
- বাক্যের অর্থসঙ্গতি রক্ষার জন্য সুশৃঙ্খল পদবিন্যাসই আসত্তি।
- যেমন-'পাভেল করে মাঠে কাজ।এই বাক্যে পদ সন্নিবেশ ঠিকভাবে না হওয়ায় শব্দগুলোর অন্তর্নিহিত ভাবটি যথাযথ প্রকাশিত হয়নি।
তাই এটি একটি বাক্য হয়নি।
- মনোভাব পূর্ণ ভাবে প্রকাশ করার জন্য পদগুলোকে নিম্নলিখিতভাবে যথাস্থানে সন্নিবিষ্ট করতে হবে।
যেমন- পাভেল মাঠে কাজ করে। বাক্যটি আসত্তিসম্পন্ন।

উৎস: : বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, ৯ম - ১০ম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১০.
"ছা্গল মাংস খায়।" বাক্যটি অশুদ্ধ কেন?
  1. আসত্তির অভাব
  2. যোগ্যতার অভাব
  3. পদবিন্যাসে ত্রুটি
  4. আকাঙ্ক্ষার অভাব
ব্যাখ্যা
- এখানে বাক্যটিতে যোগ্যতার অভাব রয়েছে।
- "ছা্গল মাংস খায়।" বাক্যটি অশুদ্ধ কারণ ছাগল সাধারণত মাংস খায় না ।
• শুদ্ধ বাক্য: ছা্গল ঘাস খায়।

• যোগ্যতা:
- বাক্যস্থিত পদসমূহের অন্তর্গত এবং ভাবগত মিলবন্ধনের নাম যোগ্যতা।
- যেমন- 'বর্ষার বৃষ্টিতে প্লাবনের সৃষ্টি হয়'।
- এটি একটি যোগ্যতাসম্পন্ন বাক্য।
- কারণ, বাক্যটিতে পদসমূহের অর্থগত এবং ভাবগত সমন্বয় রয়েছে।
- কিন্তু 'বর্ষার রৌদ্র প্লাবনের সৃষ্টি করে।' বললে বাক্যটি ভাবপ্রকাশের যোগ্যতা হারাবে।
- কারণ, রৌদ্র প্লাবন সৃষ্টি করে না।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, ৯ম - ১০ম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১১.
নিচের কোন উপসর্গগুচ্ছ সংস্কৃত?
  1. পরি, প্রতি, অভি
  2. বি, ভর, রাম
  3. অনা, অজ, পরি
  4. স, সা, হা
ব্যাখ্যা
• পরি, প্রতি, অভি সংস্কৃত উপসর্গ।

বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত উপসর্গকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়।
যথা-
১. বাংলা উপসর্গ,
২. সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ এবং
৩. বিদেশি উপসর্গ।

• বাংলা উপসর্গ:
- বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত নিজেস্ব উপসর্গকে বাংলা উপসর্গ বলা হয়।
- বাংলা উপসর্গ ২১ টি।
যথা: - অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, উন (উনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা

• সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ:
- বাংলা ভাষায় যেসকল সংস্কৃত উপসর্গ ব্যবহার করা হয় তাদের সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ বলে।
- সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ ২০ টি।
- যথা: - প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ।

[বাংলা উপসর্গের মধ্যে আ, সু, বি, নি এই চারটি উপসর্গ তৎসম শব্দেও পাওয়া যায়।]

• বিদেশি উপসর্গ:
- আরবি, ফারসি, ইংরেজি, হিন্দি এসব ভাষার বহু শব্দ দীর্ঘকাল ধরে বাংলা ভাষায় প্রচলিত আছে। এছাড়া কিছু বিদেশি উপসর্গও বাংলায় চালু আছে।
- বিদেশি উপসর্গ অনির্দিষ্ট বা অনির্ণেয়।
যেমন: আম, খাস, লা, গর, বাজে, বদ, বে, বর, ব, হেড, সাব, ফুল, হাফ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, ৯ম - ১০ম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১২.
'সে অনেক পড়েছে কিন্তু পাস করতে পারেনি।' এটা কোন ধরনের বাক্য?
  1. সাধারণ বাক্য
  2. সরল বাক্য
  3. মিশ্র বাক্য
  4. যৌগিক বাক্য
ব্যাখ্যা

• যৌগিক বাক্য:
- পরস্পর নিরপেক্ষ দুই বা ততোধিক সরল বা মিশ্র বাক্য মিলিত হয়ে একটি সম্পূর্ণ বাক্য গঠন করলে তাকে যৌগিক বাক্য বলে।
- জ্ঞাতব্য: যৌগিক বাক্যের অন্তর্গত নিরপেক্ষ বাক্যগুলো এবং, ও, কিন্তু, অথবা, অথচ, কিংবা, বরং, তথাপি প্রভৃতি অব্যয় যোগে সংযুক্ত বা সমন্বিত থাকে।
- যেমন- নেতা জনগণকে উৎসাহিত করলেন বটে, কিন্তু, কোনো পথ দেখাতে পারলেন না।
- "সে অনেক পড়েছে কিন্তু পাস করতে পারে নি।" বাক্যটি একটি যৌগিক বাক্য।

• সরল বাক্য:
- যে বাক্যে একটিমাত্র কর্তা (উদ্দেশ্য) এবং একটিমাত্র সমাপিকা ক্রিয়া (বিধেয়) থাকে, তাকে সরল বাক্য বলে।
- যথা: পুকুরে পদ্মফুল জন্মে।
- এখানে 'পদ্মফুল' উদ্দেশ্য এবং 'জন্মে' বিধেয়।

• মিশ্র বা জটিল বাক্য:
- যে বাক্যে একটি প্রধান খণ্ডবাক্যের এক বা একাধিক আশ্রিত বাক্য পরস্পর সাপেক্ষ ভাবে ব্যবহৃত হয়, তাকে মিশ্র বা জটিল বাক্য বলে।
- যথা- "যে পরিশ্রম করে, সে-ই সুখ লাভ করে।"
- এই বাক্যে 'যে পরিশ্রম করে' আশ্রিত বাক্য এবং 'সে-ই সুখ লাভ' করে প্রধান খণ্ডবাক্য।


উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, ৯ম - ১০ম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১৩.
শুদ্ধবাক্য নির্ণয় করুন-
  1. বানান ভুল দূষণীয়।
  2. ইহা প্রমাণ হয়েছে।
  3. অধীনস্ত কর্মচারীরা কাজটি করেছে।
  4. জাপান উন্নতশীল দেশ।
ব্যাখ্যা
"বানান ভুল দূষণীয়।" বাক্যটি শুদ্ধ।

অন্যদিকে,
- অশুদ্ধ: ইহা প্রমাণ হয়েছে।
- শুদ্ধ: ইহা প্রমাণিত হয়েছে।

- অশুদ্ধ: অধীনস্ত কর্মচারীরা কাজটি করেছে।
- শুদ্ধ: অধীন কর্মচারীরা কাজটি করেছে।

- অশুদ্ধ: জাপান উন্নতশীল দেশ।
- শুদ্ধ: জাপান উন্নত দেশ।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৪.
নিচের কোনটি বিদেশি উপসর্গযোগে গঠিত হয়েছে?
  1. পাতিলেবু
  2. বরখাস্ত
  3. অধিপতি
  4. সঞ্চয়
ব্যাখ্যা
- বরখাস্ত 'বর' উপসর্গযোগে গঠিত শব্দ।
- 'বর' একটি ফারসি উপসর্গ।
- 'বর' উপসর্গযোগে গঠিত কিছু শব্দ: বরদাস্ত, বরখেলাপ, বরবাদ

• বিদেশি উপসর্গ:
- আরবি, ফারসি, ইংরেজি, হিন্দি এসব ভাষার বহু শব্দ দীর্ঘকাল ধরে বাংলা ভাষায় প্রচলিত আছে।
- এছাড়া কিছু বিদেশি উপসর্গও বাংলায় চালু আছে।
- বিদেশি উপসর্গ অনির্দিষ্ট বা অনির্ণেয়।
যেমন:
- আরবি উপসর্গ: আম, খাস, লা, গর, বাজে এবং খয়ের।
- ফারসি উপসর্গ: কার, দর, না, নিম, ফি, বদ, বে, বর, ব, কম
- উর্দু উপসর্গ: হর।
- ইংরেজি উপসর্গ: হেড, সাব, ফুল, হাফ।

অন্যদিকে,
- 'পাতি' বাংলা উপসর্গ।
- 'অধি' এবং 'সম' সংস্কৃত উপসর্গ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, ৯ম - ১০ম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১৫.
নিচের কোন শব্দগুচ্ছ শুদ্ধ?
  1. দুর্গা, স্বায়ত্তশাসন,সমীচীন
  2. ত্রিনয়ণ, মরুদ্যান, মূমুর্ষূ
  3. অপরাহ্ন, সমীচিন,পণ্য
  4. আয়ত্তাধীন, অহেরাত্রি, সৌন্দর্য্য
ব্যাখ্যা
• বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
• দুর্গা, স্বায়ত্তশাসন,সমীচীন শব্দগুচ্ছ শুদ্ধ।


অন্যদিকে,
• অশুদ্ধ শব্দ: 
ত্রিনয়ণ, মরুদ্যান, মূমুর্ষূ, অপরাহ্ন, সমীচিন, আয়ত্তাধীন, অহেরাত্রি, সৌন্দর্য্য।

শুদ্ধ শব্দ:
ত্রিনয়ন, মরূদ্যান, মুমূর্ষু, অপরাহ্ণ, সমীচীন, আয়ত্ত, অহোরাত্র, সৌন্দর্য।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
১৬.
শুদ্ধ বাক্য কোনটি?
  1. আসছে আগামীকাল স্কুল বন্ধ হবে।
  2. ইহার আবশ্যক নাই।
  3. গাছটি সমূলে উৎপাটন হয়েছে।
  4. দুর্বলবশত সে আসতে পারে নাই।
অনির্ধারিত
ব্যাখ্যা
২০) শুদ্ধ বাক্য কোনটি?
অপশনের প্রতিটি বাক্যই অশুদ্ধ।
অপশনে সঠিক উত্তর না থাকায় প্রশ্নটি বাতিল করা হলো।
================= 

"গাছটি সমূলে উৎপাটন হয়েছে।" বাক্যটি অশুদ্ধ।
“গাছটি সমূলে উৎপাটিত হয়েছে” - শুদ্ধ বাক্য।

অন্যদিকে,
- অশুদ্ধ: আসছে আগামীকাল স্কুল বন্ধ হবে।
- শুদ্ধ: আগামীকাল স্কুল বন্ধ হবে।

- অশুদ্ধ: ইহার আবশ্যক নাই।
- শুদ্ধ: ইহার আবশ্যকতা নাই।

- অশুদ্ধ: দুর্বলবশত সে আসতে পারেনি।
- শুদ্ধ: দুর্বলতাবশত সে আসতে পারেনি।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৭.
উপসর্গ সম্পর্কে কোন তথ্যটি ভুল?
  1. নতুন অর্থবোধক শব্দ তৈরি করে
  2. শব্দের অর্থ পরিবর্তন করে
  3. নিজস্ব অর্থবাচকতা আছে
  4. শব্দের আগে বসে
ব্যাখ্যা
- উপসর্গের নিজস্ব কোনো অর্থবাচকতা নেই।

• উপসর্গ:

- যেসব অর্থহীন শব্দাংশ অন্য শব্দের শুরুতে বসে নতুন শব্দ গঠন করে, সেগুলোকে উপসর্গ বলে।
 যেমন: অজানা (অ + জানা), বেতার (বে + তার) প্রভৃতি শব্দের 'অ', 'বে' হলো উপসর্গ।

উপসর্গের বৈশিষ্ট্য:
- ধাতু বা শব্দের পূর্বে বসে নতুন শব্দ গঠন করে।
- অব্যয়সূচক শব্দাংশ ধাতুর পূর্বে যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ গঠন করে।
- নতুন অর্থবোধক শব্দ সৃষ্টি করে।
- শব্দের অর্থ সম্প্রসারিত করে।
- শব্দের অর্থ পরিবর্তন করে।
- শব্দের অর্থ পরিপূর্ণ করে। 
- শব্দের অর্থের সীমা সংকুচিত করে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, ৯ম - ১০ম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১৮.
কোন বাক্যটি শুদ্ধ?
  1. দৈন্যতা প্রশংসনীয় নয়।
  2. পাতায় পাতায় পড়ে নিশির শিশির।
  3. নিরাপরাধী লোক কাউকে ভয় করে না।
  4. আমি অপমান হয়েছি।
ব্যাখ্যা
• "পাতায় পাতায় পড়ে নিশির শিশির।" বাক্যটি শুদ্ধ।

অন্যদিকে,
- অশুদ্ধ: দৈন্যতা প্রশংসনীয় নয়।
- শুদ্ধ: দৈন্য প্রশংসনীয় নয়।

- অশুদ্ধ: নিরাপরাধী লোক কাউকে ভয় করে না।
- শুদ্ধ: নিরাপরাধ লোক কাউকে ভয় করে না।

- অশুদ্ধ: আমি অপমান হয়েছি।
- শুদ্ধ: আমি অপমানিত হয়েছি।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৯.
একটি বাক্যে প্রধানত কয়টি অংশ থাকে?
  1. ২টি
  2. ৩টি
  3. ৪টি
  4. ৫টি
ব্যাখ্যা
•প্রতিটি বাক্যে দুটি অংশ থাকে:
১) উদ্দেশ্য ও
২) বিধেয়।

উদ্দেশ্য:
বাক্যের যে অংশে কাউকে উদ্দেশ্য করে কিছু বলা হয়, তাকে উদ্দেশ্য বলে।
যেমন: "খোকা এখন বই পড়ছে" এখানে 'খোকা এখন' উদ্দেশ্য।
• বিধেয়:
উদ্দেশ্য সম্বন্ধে যা বলা হয়, তাকে বিধেয় বলে।
যেমন: "খোকা এখন বই পড়ছে" এখানে 'বই পড়ছে'  বিধেয়।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
২০.
কোনটি ভুল বানান?
  1. যন্ত্রনা
  2. ভুবন
  3. মুহূর্ত
  4. স্বত্ব
ব্যাখ্যা
• বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
•'যন্ত্রনা' বানানটি ভুল।

• সঠিক বানান: 'যন্ত্রণা'।

অন্যদিকে,
- ভুবন, মুহূর্ত, স্বত্ব বানানগুলো সঠিক।

• কিছু শুদ্ধ বানান:
- অপরাহ্ন - অপরাহ্ণ, 
- নিশিথীনি - নিশীথিনী, 
- মনকষ্ট - মনঃকষ্ট, 
- দ্বন্দ - দ্বন্দ্ব, 
- পিপিলিকা - পিপীলিকা, 
- মণিষী- মনীষী, 
- মূমূর্ষু - মুমূর্ষু।  

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।