পরীক্ষা আর্কাইভ

প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ প্রস্তুতি (আর্কাইভ)

পরীক্ষাপ্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ প্রস্তুতি (আর্কাইভ)তারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়10 minutes
মোট প্রশ্ন২৫
সিলেবাস
পরীক্ষা - ১ বাংলা পরীক্ষা - ১ টপিক: ধ্বনি, বর্ণ, ভাষা, লিঙ্গ ও বচন, প্রকৃতি-প্রত্যয়, পদ প্রকরণ, কাল ও কালের প্রয়োগ, শব্দ ও বাংলা ভাষার শব্দভান্ডার, সমার্থক ও বিপরীতার্থক শব্দ।
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ প্রস্তুতি (আর্কাইভ)

প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ প্রস্তুতি (আর্কাইভ) · তারিখ অনির্ধারিত · ২৫ প্রশ্ন

.
উচ্চারণের স্থান অনুসারে- 'ড়' কোন ধরনের ব্যঞ্জনধ্বনি?
  1. মূর্ধন্য
  2. তালব্য
  3. দন্তমূলীয়
  4. ওষ্ঠ্য
সঠিক উত্তর:
মূর্ধন্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মূর্ধন্য
ব্যাখ্যা

• মূর্ধন্য ব্যঞ্জন:
দন্তমূল এবং তালুর মাঝখানে যে উঁচু অংশ থাকে তার নাম মূর্ধা। যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের ডগা মূর্ধার সঙ্গে লেগে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলোকে মূর্ধন্য ব্যঞ্জন বলে। টাকা, ঠেলাগাড়ি, ডাকাত, ঢোল, গাড়ি, মূঢ় প্রভৃতি শব্দের ট, ঠ, ড, ঢ, ড়, ঢ় মূর্ধন্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

অন্যদিকে,
• দন্তমূলীয় ব্যঞ্জন:
যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের ডগা উপরের পাটির দাঁতের গোড়ার সঙ্গে লেগে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলোকে দন্তমূলীয় ব্যঞ্জন বলে। নানা, রাত, লাল, সালাম প্রভৃতি শব্দের ন, র, ল, স দন্ত্যমূলীয় ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

• তালব্য ব্যঞ্জন:
যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের ডগা খানিকটা প্রসারিত হয়ে শক্ত তালুর কাছে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলোকে তালব্য ব্যঞ্জন বলে। চাচা, ছাগল, জাল, ঝড়, শসা প্রভৃতি শব্দের চ, ছ, জ, ঝ, শ তালব্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

• ওষ্ঠ্য ব্যঞ্জন:
যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ঠোট দুটি কাছাকাছি এসে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলােকে ওষ্ঠ্য ব্যঞ্জন বলে। এগুলাে দ্বি-ওষ্ঠ্য ধ্বনি নামেও পরিচিত।
যেমন: পাকা, ফল, বাবা, ভাই, মা প্রভৃতি শব্দের প, ফ, ব, ভ, ম ওষ্ঠ্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

.
'হর্ষ' এর সমার্থক শব্দ কোনটি?
  1. বিরল
  2. উপহাস 
  3. শুষ্ক 
  4. পুলক
সঠিক উত্তর:
পুলক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পুলক
ব্যাখ্যা

বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,

• 'হর্ষ' অর্থ:
১. আনন্দ, উল্লাস, পুলক
২. উদ্‌গম, উদ্ভেদ।
৩. শিহরন।

• ‘আনন্দ’ শব্দের আরো কিছু সমার্থক শব্দ:
- খুশি, আমোদ, মজা, হর্ষ, আহ্লাদ, স্ফূর্তি, সন্তোষ, পরিতোষ, প্রমোদ, উল্লাস, উচ্ছ্বাস।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

.
‘চাই’ শব্দে অর্ধস্বরধ্বনি কোনটি?
  1. আ 
  2. অ 
  3. ই 
  4. আই 
সঠিক উত্তর:
ই 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ই 
ব্যাখ্যা

অর্ধস্বরধ্বনি:
- যেসব স্বরধ্বনি পুরােপুরি উচ্চারিত হয় না সেগুলােকে অর্ধস্বরধ্বনি বলে।
- বাংলা ভাষায় অর্ধস্বরধ্বনি চারটি: ই্‌, উ্‌, এ্‌, ও্‌।
- স্বরধ্বনি উচ্চারণ করার সময়ে টেনে দীর্ঘ করা যায়, কিন্তু অর্ধস্বরধ্বনিকে কোনােভাবে,দীর্ঘ করা যায় না।
যেমন:
- ‘চাই’ শব্দে দুটি স্বরধ্বনি আছে: [আ] এবং [ই্]। এখানে [আ] হলাে পূর্ণ স্বরধ্বনি, [ই্] হলাে অর্ধস্বরধ্বনি।
- একইভাবে 'লাউ' শব্দে দুটি স্বরধ্বনি আছে: [আ] এবং [উ্]। এখানে [আ] হলাে পূর্ণ স্বরধ্বনি, [উ্] হলাে অর্ধস্বরধ্বনি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।

.
'মেঘ' এর সমার্থক শব্দ নয় কোনটি?
  1. বারিদ
  2. পয়োদ
  3. তোয়দ
  4. সফেদ
সঠিক উত্তর:
সফেদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সফেদ
ব্যাখ্যা

• 'মেঘ' শব্দের সমার্থক শব্দ: 
- জলধর, জীমূত, বারিদ, নীরদ, পয়োদ, ঘন, তোয়দ, পয়োধর, বলাহক, তোয়ধর ইত্যাদি।

অন্যদিকে, 
• 'সাদা' এর সমার্থক শব্দ - সফেদ

উৎস: ভাষা শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ।

.
'কোর্মা' শব্দের উৎস-
  1. ফারসি 
  2. আরবি
  3. তুর্কি
  4. দেশি 
সঠিক উত্তর:
তুর্কি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তুর্কি
ব্যাখ্যা

• 'কোর্মা':
- তুর্কি ভাষা হতে আগত।
- এটি একটি বিশেষ্য পদ।
- তুর্কি পদ্ধতিতে দইসহযোগে অল্প মসলায় রাঁধা মাছ মাংস প্রভৃতি।

আরো কিছু তুর্কি শব্দ:
- কলগি,
- চাকু,
- বাবা,
- বাবুর্চি,
- মুচলেকা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

.
'গোয়ালা' - কোন লিঙ্গবাচক শব্দ?
  1. পুং লিঙ্গ
  2. স্ত্রী লিঙ্গ
  3. ক্লীব লিঙ্গ
  4. উভয় লিঙ্গ
সঠিক উত্তর:
পুং লিঙ্গ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পুং লিঙ্গ
ব্যাখ্যা

• 'গোয়ালা' - পুং লিঙ্গবাচক শব্দ।

• বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,

'গোয়ালা' শব্দের অর্থ - গোপ, দুধ-ব্যবসায়ী।
এর স্ত্রীবাচক শব্দ - গোয়ালিনি।

• লিঙ্গ:
- ‘লিঙ্গ’ শব্দের অর্থ চিহ্ন।
- এটি সংস্কৃত শব্দ এবং এর ব্যুৎপত্তি হলো লিঙ্গ+অ = লিঙ্গ।
- লিঙ্গ শব্দের ভিন্ন অর্থ থাকলেও ব্যাকরণে এটি শব্দের শ্রেণীবিশেষ বোঝাতে ব্যবহৃত হয়।
- যে সকল শব্দ দ্বারা বিশেষ্য ও সর্বনাম পদের মধ্যে পুরুষ, স্ত্রী বা ভিন্ন জাতি বোঝায়, তাকে লিঙ্গ বলে।
- বাংলা ব্যাকরণে লিঙ্গকে চার ভাগে ভাগ করা হয়েছে। যথা:

১. পুং লিঙ্গ:
- যে সব নামবাচক শব্দের সাহায্যে পুরুষজাতিকে বোঝায়, তাদেরকে বলা হয় পুংলিঙ্গ।
যেমন- কাকা, চাচা, ছেলে, বালক, নানা, বাবা, গোয়ালা, কিশোর, প্রবীণ ইত্যাদি।

২. স্ত্রী লিঙ্গ:
- যে সব নামবাচক শব্দের সাহায্যে স্ত্রীজাতিকে বোঝায়, সেসব শব্দকে স্ত্রীলিঙ্গ বলে।
যেমন- কাকী, মামী, চাচী, মা, আম্মা, কিশোরী, প্রবীণা ইত্যাদি।

৩. ক্লীব লিঙ্গ:
- যে সব শব্দের সাহায্যে পুরুষ ও স্ত্রীজাতি কোনোটিই বোঝায় না, সেসব শব্দকে বলা হয় ক্লীবলিঙ্গ।
যেমন- গাছ, পাহাড়, পর্বত, বই, টেবিল, ফুল, ফল, চেয়ার ইত্যাদি।

ঘ) উভয় লিঙ্গ:
- যে সব শব্দের সাহায্যে স্ত্রী ও পুরুষজাতি উভয়ই বোঝায়, তাকে বলা হয় উভয়লিঙ্গ।
যেমন- শিল্পী, ডাক্তার, শিশু, মানুষ, কবি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা দ্বিতীয় পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

.
ধ্বনি ও বর্ণের পার্থক্য কোথায়?
  1. উচ্চারনের বিশিষ্টতায়
  2. লেখার ধরনে
  3. ইন্দ্রিয় গ্রাহ্যে
  4. সংখ্যাগত পরিমানে
সঠিক উত্তর:
ইন্দ্রিয় গ্রাহ্যে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইন্দ্রিয় গ্রাহ্যে
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: গ) ইন্দ্রিয় গ্রাহ্যে।

------------------------------
ব্যাখ্যা:
বাংলা ব্যাকরণে ধ্বনি এবং বর্ণ দুটি ভিন্ন ধারণা, এবং এদের মধ্যে পার্থক্য প্রধানত তাদের প্রকৃতি এবং ইন্দ্রিয়গ্রাহ্যতার মধ্যে নিহিত। নিচে এই পার্থক্য বিশ্লেষণ করা হলো:

ধ্বনি:
ধ্বনি হলো মুখ থেকে উচ্চারিত শব্দ বা কথনের একক, যা কান দিয়ে শোনা যায়। এটি একটি শ্রুতিগ্রাহ্য (auditory) উপাদান। ধ্বনি ভাষার মৌখিক রূপের অংশ এবং এটি উচ্চারণের মাধ্যমে প্রকাশ পায়। উদাহরণ: ‘ক’ ধ্বনি বা ‘আ’ ধ্বনি উচ্চারণের সময় শোনা যায়। ধ্বনির সংখ্যা ভাষার উচ্চারণ প্রক্রিয়ার উপর নির্ভর করে।

বর্ণ:
বর্ণ হলো ধ্বনির লিখিত রূপ বা চিহ্ন, যা চোখ দিয়ে দেখা যায়। এটি একটি দৃষ্টিগ্রাহ্য (visual) উপাদান। বাংলা বর্ণমালায় স্বরবর্ণ (যেমন: অ, আ, ই) এবং ব্যঞ্জনবর্ণ (যেমন: ক, খ, গ) রয়েছে, যা ধ্বনিকে লিখিত আকারে প্রকাশ করে।

উদাহরণ: যখন আমরা ‘ক’ উচ্চারণ করি, তখন তা ধ্বনি হিসেবে শোনা যায়, কিন্তু যখন লিখি ‘ক’, তখন তা বর্ণ হিসেবে দেখা যায়।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান; বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ), ভাষা শিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদ; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

.
উৎস বিবেচনায় তৎসম শব্দ কোনটি?
  1. জিব
  2. টোপর 
  3. আকাশ
  4. ঘোড়া
সঠিক উত্তর:
আকাশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আকাশ
ব্যাখ্যা

উৎস বিবেচনায় শব্দের শ্রেণিবিভাগ-
উৎস বিবেচনায় বাংলা শব্দভাণ্ডারকে চার শ্রেণিতে বিভক্ত করা যায়: তৎসম, তদ্ভব, দেশি ও বিদেশি। এর মধ্যে তৎসম ও তদ্ভব শ্রেণিকে নিজস্ব উৎসের এবং দেশি ও বিদেশি শ্রেণিকে আগন্তুক উৎসের শব্দ হিসেবে গণ্য করা হয়।

১. তৎসম শব্দ:
প্রাচীন ভারতীয় আর্যভাষা থেকে বিবর্তিত যেসব বাংলা শব্দের লিখিত চেহারা সংস্কৃত ভাষার শব্দের অনুরূপ সেগুলোকে তৎসম শব্দ বলে। যথা: পৃথিবী, আকাশ, গ্রহ, বৃক্ষ।

২. তদ্ভব শব্দ:
প্রাচীন ভারতীয় আর্যভাষা থেকে বিবর্তিত যেসব শব্দ বাংলা ভাষায় একেবারেই স্বতন্ত্র, সেগুলোকে তদ্ভব শব্দ বলা হয়। উদাহরণ: হাত, পা, কান, নাক, জিব, দাঁত; হাতি, ঘোড়া, সাপ, পাখি, কুমির ইত্যাদি।

৩. দেশি শব্দ:
বাংলা অঞ্চলের আদিবাসী জনগোষ্ঠীর ভাষা থেকে কিছু শব্দ বাংলা ভাষায় স্থান পেয়েছে, এগুলোকে দেশি শব্দ বলা হয়। উদাহরণ: কুড়ি, পেট, চুলা, কুলা, ডাব, টোপর, ঢেঁকি ইত্যাদি।

৪. বিদেশি শব্দ:
ঐতিহাসিক কারণে বাংলাদেশের সঙ্গে বিভিন্ন দেশের আন্তঃসম্পর্ক তৈরি হওয়ায় সেসব দেশের বহু শব্দ বাংলা ভাষায় স্থান করে নিয়েছে, এই শব্দগুলোকে বিদেশি শব্দ বলে। এসব বিদেশি শব্দের মধ্যে রয়েছে আরবি, ফারসি, ইংরেজি, পর্তুগিজ, ফরাসি, ওলন্দাজ, তুর্কি, হিন্দি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১-সংস্করণ)।

.
অর্থগত দিক বিবেচনায় 'গায়ক' কোন ধরনের শব্দ?
  1. মৌলিক 
  2. যৌগিক
  3. রূঢ়ি
  4. যোগরূঢ়
সঠিক উত্তর:
যৌগিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যৌগিক
ব্যাখ্যা

• যৌগিক শব্দ:
- যে সকল শব্দের ব্যুৎপত্তিগত অর্থ ও ব্যবহারিক অর্থ একই রকম, সেগুলোকে যৌগিক শব্দ বলে।
যেমন -
- গায়ক = গৈ + ণক (অক) অর্থ: গান করে যে।
- কর্তব্য = কৃ + তব্য - অর্থ: যা করা উচিত।
- বাবুয়ানা = বাবু + আনা - অর্থ: বাবুর ভাব।
- মধুর = মধু + র - অর্থ: মধুর মতো মিষ্টি গুণযুক্ত।
- দৌহিত্র = দুহিতা + ষ্ণ্য - অর্থ: কন্যার পুত্র, নাতি।
- চিকামারা = চিকা + মারা - অর্থ: দেওয়ালের লিখন।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

১০.
'আরোহণ'- এর বিপরীতার্থক শব্দ কোনটি?
  1. সংশ্লেষণ
  2. বিসর্জন
  3. আবাহন
  4. অবরোহণ
সঠিক উত্তর:
অবরোহণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অবরোহণ
ব্যাখ্যা

• 'আরোহণ' এর বিপরীতার্থক শব্দ - অবরোহণ। 

• আরো কিছু বিপরীতার্থক শব্দ: 
- 'বিশ্লেষণ' এর বিপরীত শব্দ - সংশ্লেষণ। 
- 'বিসর্জন' শব্দের বিপরীত শব্দ - আবাহন। 
- 'আকুঞ্চন' শব্দের বিপরীতার্থক শব্দ - প্রসারণ।
- 'সংহত' শব্দের বিপরীতার্থক শব্দ - বিভক্ত।
- 'প্রসারিত' শব্দের বিপরীতার্থক শব্দ - সংকুচিত।
- 'হত' শব্দের বিপরীতার্থক শব্দ - জীবিত।
- 'সংযত' শব্দের বিপরীতার্থক শব্দ - অসংযত।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১১.
প্রত্যয় শব্দের কোথায় বসে?
  1. আগে 
  2. পরে 
  3. আগে ও মাঝে 
  4. মাঝে ও পরে 
সঠিক উত্তর:
পরে 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পরে 
ব্যাখ্যা

• প্রত্যয়: 
- শব্দ ও ধাতুর পরে অর্থহীন যেসব শব্দাংশ যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ তৈরি হয়, সেগুলােকে প্রত্যয় বলে।

• কৃৎ প্রত্যয়:
যে-প্রত্যয় ধাতুর সঙ্গে যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ গঠন করে তাকে কৃৎ-প্রত্যয় বলে।
আর কৃৎ প্রত্যয়ান্ত শব্দকে বলে কৃদন্ত শব্দ। (অর্থাৎ যার অন্তে বা শেষে কৃৎ প্রত্যয় আছে) ।
যেমন: পডু + আ = পড়া। এখানে পড়া’ শব্দটি কৃদন্ত শব্দ। কৃৎ প্রত্যয়ে ধাতুর আগে ক্রিয়ামূল বা ধাতুমূল চিহ্ন √ বসে।
- ‘আভাসিত’ শব্দটির প্রত্যয় বিশ্লেষণ: আ + √ ভাসি + ত। 

তদ্ধিত প্রত্যয়:
শব্দের পরে যেসব প্রত্যয় যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ তৈরি হয় তাকে বলে তদ্ধিত প্রত্যয়।
যেমন, মধুর+ষ্ণ = মাধুর্য , - এখানে 'ষ্ণ' প্রত্যয় যোগে নতুন শব্দ তৈরি হয়েছে। 

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান, প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি- ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন।

১২.
নিচের কোন ভাষা থেকে বাংলা ভাষার উদ্ভব হয়েছে?
  1. তৎসম 
  2. অহমিয়া 
  3. প্রাকৃত
  4. বঙ্গ-ভারতীয়
সঠিক উত্তর:
প্রাকৃত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রাকৃত
ব্যাখ্যা

বাংলা ভাষার উৎপত্তি ও বিকাশ:
• বাঙালি জনগোষ্ঠী যে ভাষা দিয়ে তাদের মনের ভাব প্রকাশ করে তার নাম বাংলা ভাষা।
- বাংলা ভাষা ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষা-বংশের অন্তর্গত ইন্দো-ইরানীয় শাখাভুক্ত নব্য-ভারতীয় আদি আর্য বা বৈদিক ভাষা।

• ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষা-পরিবারের আদি ভাষা বহু বিবর্তনের মধ্য দিয়ে বাংলা ভাষায় পরিণত হয়েছে। এই বিবর্তনে যেসব গুরুত্বপূর্ণ স্তর বাংলা ভাষাকে অতিক্রম করেতে হয়েছে।
সেগুলো হলো:
ইন্দো-ইউরোপীয় → ইন্দো-ইরানীয় → ভারতীয় আর্য → প্রাকৃত → বাংলা।

• আনুমানিক এক হাজার বছর আগে পূর্ব ভারতীয় প্রাকৃত ভাষা থেকে বাংলা ভাষার জন্ম হয়েছে বাংলাভাষার লিখিত রূপের প্রাচীনতম নিদর্শন ‘চর্যাপদ’।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি(২০২২ সংস্করণ)।

১৩.
'ক্ষীয়মান' এর বিপরীতার্থক শব্দ কোনটি?
  1. বৃদ্ধিপ্রাপ্ত
  2. বৃহৎ
  3. বর্ধিষ্ণু
  4. বর্ধমান
সঠিক উত্তর:
বর্ধমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বর্ধমান
ব্যাখ্যা

• 'ক্ষীয়মান' এর বিপরীতার্থক শব্দ- 'বর্ধমান'। 

অন্যদিকে, 
• ‘বর্ধিষ্ণু’ শব্দের বিপরীতার্থক শব্দ - 'ক্ষয়িষ্ণু'।
• ‘বৃহৎ’ শব্দের বিপরীতার্থক শব্দ - 'ক্ষুদ্র'।
• ‘বৃদ্ধিপ্রাপ্ত’ শব্দের বিপরীতার্থক শব্দ - 'ক্ষয়প্রাপ্ত'। 

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি : একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি- ড. হায়াৎ মামুদ।

১৪.
নিচের কোন শব্দজোড়া সমার্থক নয়?
  1. স্রোতস্বিনী, তটিনী
  2. পিক , পরভৃত
  3. বীচি, তরঙ্গ
  4. ললাট, অর্ক
সঠিক উত্তর:
ললাট, অর্ক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ললাট, অর্ক
ব্যাখ্যা

- ‘উর্মি’ শব্দের সমার্থক শব্দ - লহরী, ঢেউ, বীচি, তরঙ্গ, কল্লোল ইত্যাদি।
- পিক ও পরভৃত - দুটোই 'কোকিল' এর সমার্থক শব্দ।
- তরঙ্গিনী শব্দের সমার্থক শব্দ - নদী, স্রোতস্বিনী, তটিনী, প্রবাহিনী, শৈবালিনী ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
- ললাট - 'কপাল' এর সমার্থক শব্দ।
- সূর্য শব্দের সমার্থক- অর্ক ইত্যাদি।

সূত্র: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ, বাংলা একাডেমি অভিধান।

১৫.
'ধবল' এর বিপরীতার্থক শব্দ - 
  1. মসৃণ
  2. গরল
  3. কৃষ্ণ
  4. প্রসারণ
সঠিক উত্তর:
কৃষ্ণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কৃষ্ণ
ব্যাখ্যা

• 'ধবল' এর বিপরীতার্থক শব্দ - কৃষ্ণ।

অন্যদিকে, 
'অমৃত' - গরল,
'বন্ধুর' - মসৃণ।
'আকুঞ্চন' - প্রসারণ।

• আরো কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিপরীতার্থক শব্দ: 
'তিক্ত' শব্দের বিপরীতার্থক শব্দ - মধুর।
'অবিরল' এর বিপরীতার্থক শব্দ - বিরল।
'কুটিল' এর বিপরীতার্থক শব্দ - সরল।
'জীবিত' এর বিপরীতার্থক শব্দ  - মৃত।
'হর্ষ' এর বিপরীতার্থক শব্দ  - বিষাদ।

উৎস: ভাষা- শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৬.
'হস্তী' শব্দটির বহুবচন কোনটি?
  1. হস্তীবর্গ
  2. হস্তীসকল
  3. হস্তীগণ
  4. হস্তীযূথ
সঠিক উত্তর:
হস্তীযূথ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হস্তীযূথ
ব্যাখ্যা

• 'হস্তী' শব্দটির বহুবচন - হস্তীযূথ।
- যূথ- বহুবচন বোধক শব্দটি 'হস্তী' শব্দটির পর বসবে।

• পাল ও যূথ শব্দ দুটি কেবল জন্তুর বহুবচনে ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
- হস্তিযূথ মাঠের ফসল নষ্ট করেছে।
- রাখাল গরুর পাল লয়ে যায় মাঠে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

১৭.
'ময়ূর' এর প্রতিশব্দ কোনটি?
  1. বিপিন
  2. শিখরী
  3. কলাপী
  4. পাদপ
সঠিক উত্তর:
কলাপী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কলাপী
ব্যাখ্যা

বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
• 'কলাপী' শব্দের অর্থ: ময়ূর।

- স্ত্রীলিঙ্গ: কলাপিনী/কলাপিনি।

•'ময়ূর'- এর  সমার্থক শব্দ:
- কলাপী,
- কেকী,
- শিখা,
- শিখণ্ডী,
- বর্তী,
- বর্হিণ। 

অন্যদিকে,
- বৃক্ষ শব্দের সমার্থক শব্দ: গাছ, পাদপ, দ্রুম, তরু, বিটপী, শাখী, পণী, শৃঙ্গী, শিখরী, মহীরুহ ইত্যাদি।
- বন এর সমার্থক শব্দ: অরণ্য, কানন, বিপিন, অটবি।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

১৮.
কোনটি বিশেষ্য পদ?
  1. সাহসী
  2. অজ্ঞাত
  3. বুদ্ধিমান
  4. জনতা
সঠিক উত্তর:
জনতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জনতা
ব্যাখ্যা

• সমষ্টি-বিশেষ্য:
এ ধরনের বিশেষ্য দিয়ে ব্যক্তি বা প্রাণীর সমষ্টিকে বোঝায়।
যেমন: জনতা, পরিবার, ঝাঁক, বাহিনী, মিছিল ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• সাহসী, বুদ্ধিমান ও অজ্ঞাত- বিশেষণ পদের উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

১৯.
'কৃপণ' এর বিপরীতার্থক শব্দ কোনটি?
  1. উদ্ধত
  2. প্রদান
  3. বদান্য
  4. চেতন
সঠিক উত্তর:
বদান্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বদান্য
ব্যাখ্যা

• 'কৃপণ' এর বিপরীতার্থক শব্দ - বদান্য।

অন্যদিকে,
• 'উদ্ধত' শব্দের বিপরীতার্থক শব্দ - বিনীত।
• 'চেতন' শব্দের বিপরীত শব্দ = অচেতন। 
• 'আদান' এর বিপরীতার্থক শব্দ - প্রদান।

কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিপরীতার্থক শব্দ হলো:
• 'আকর্ষণ' এর বিপরীতার্থক শব্দ - বিকর্ষণ।
• ‘তফাত’ শব্দের বিপরীতার্থক শব্দ - কাছে।
• 'আবির্ভাব' এর বিপরীতার্থক শব্দ - তিরোধান।
• ‘দূর’ শব্দের বিপরীতার্থক শব্দ - নিকট। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২৩ সংস্করণ) এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

২০.
কৃৎ-প্রত্যয় সাধিত শব্দ কোনটি?
  1. সহিষ্ণু
  2. কাটতি
  3. জ্ঞাত
  4. উপরের সবগুলোই 
সঠিক উত্তর:
উপরের সবগুলোই 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপরের সবগুলোই 
ব্যাখ্যা

কৃৎ-প্রত্যয় সাধিত শব্দ - কাটতি (√কাট্‌ + তি)।
• কৃৎ-প্রত্যয় সাধিত শব্দ - জ্ঞাত (√জ্ঞা + ত)।
• কৃৎ-প্রত্যয় সাধিত শব্দ - সহিষ্ণু (√সহ্‌ + ইষ্ণু)।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

২১.
'পড়ছিলাম' - শব্দটি ক্রিয়ার কোন কালের উদাহরণ?
  1. নিত্য অতীত
  2. সাধারণ অতীত
  3. ঘটমান অতীত
  4. পুরাঘটিত অতীত
সঠিক উত্তর:
ঘটমান অতীত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘটমান অতীত
ব্যাখ্যা

• 'পড়ছিলাম'- পুরাঘটিত অতীত কালের উদাহরণ। 

----------------------- 
• নিত্য অতীত কাল:
- অতীত কালে প্রায়ই ঘটতাে এমন বােঝালে নিত্য অতীত কাল হয়।
যেমন-
খুব সকালে ঘুম থেকে উঠতাম।
তারা সাগরের তীরে ঝিনুক কুড়াত।

• ঘটমান অতীত:
- যে ক্রিয়া অতীত কালে চলছিল বোঝায় তাকে ঘটমান অতীত কাল বলে। 
যেমন:
আমরা তখন বই পড়ছিলাম। 
 
• পুরাঘটিত অতীত: 
অতীতের যে ক্রিয়া বহু পূর্বেই ঘটে গেছে এবং পরে আরাে কিছু ঘটনা ঘটেছে, তার কালকে পুরাঘটিত অতীত কাল বলে।
যেমন:
বৃষ্টি শেষ হওয়ার আগেই আমরা বাড়ি পৌঁছেছিলাম। 

• সাধারণ অতীত কাল: 
- অতীত কালে যে কাজ সম্পন্ন হয়ে গিয়েছে বােঝায় তাকে সাধারণ অতীত কাল বলে।
যেমন:
তারা সেখানে বেড়াতে গেল। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি ( ২০২১ সংস্করণ)।

২২.
"সর্বজনীন" - শব্দে কোন প্রত্যয় যুক্ত হয়েছে?
  1. ইন
  2. নীন
  3. অনীন
  4. অনট
সঠিক উত্তর:
নীন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নীন
ব্যাখ্যা

সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়ে গঠিত কিছু প্রকৃতি ও প্রত্যয়:
- তেজঃ + বিন = তেজস্বী,
- সুভগ + ষ্ণ্য = সৌভাগ্য,
- কুসুম + ইত = কুসুমিত,
- সর্বজন + নীন = সর্বজনীন, (এখানে, 'নীন' প্রত্যয় যুক্ত হয়েছে)
- নীল + ইমন = নীলিমা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

২৩.
বলকযুক্ত শব্দের উদাহরণ কোনটি?
  1. কথাটি 
  2. বাড়িতে 
  3. চলন্ত
  4. আজই
সঠিক উত্তর:
আজই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আজই
ব্যাখ্যা

• বলক:
- যেসব শব্দাংশ পদের সঙ্গে যুক্ত হলে বক্তব্য জোরালাে হয়, সেগুলােকে বলক বলে।
- তখনই বা ‘এখনও পদের ই বা ‘ও’ হলাে বলকের উদাহরণ।

- অনুরূপভাবে,
'যদিও', আজই - শব্দে ‘ও’ হলাে বলকের উদাহরণ।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২১ সংস্করণ)।

২৪.
'চুল' এর প্রতিশব্দ -
  1. শশী
  2. অলক
  3. লোচন
  4. মীনাক্ষী
সঠিক উত্তর:
অলক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অলক
ব্যাখ্যা

• 'চুল' এর প্রতিশব্দ:
- কেশ,
- অলক,
- চিকুর,
- কুন্তল,
- কবরী।

অন্যদিকে, 
'চক্ষু' শব্দের প্রতিশব্দ - লোচন। 
'চাঁদ' শব্দের প্রতিশব্দ - শশী।
'মীনাক্ষী' শব্দের অর্থ - 'মাছের মতো সুন্দর চোখবিশিষ্ট।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি ( ২০২২ সংস্করণ), বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, ভাষা শিক্ষা- হায়াৎ মামুদ।

২৫.
'আপনাকে' - কোন ধরনের সর্বনাম?
  1. অনির্দিষ্ট সর্বনাম
  2. আত্মবাচক সর্বনাম
  3. ব্যক্তিবাচক সর্বনাম
  4. নির্দেশক সর্বনাম
সঠিক উত্তর:
ব্যক্তিবাচক সর্বনাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যক্তিবাচক সর্বনাম
ব্যাখ্যা

সর্বনাম:
- বিশেষ্যের পরিবর্তে ব্যবহৃত শব্দকে সর্বনাম শব্দ বলে। বাক্যের মধ্যে বিশেষ্য যে ভূমিকা পালন করে, সর্বনাম অনুরূপ ভূমিকা পালন করে।

সর্বনামকে নিচের নয়টি শ্রেণিতে ভাগ করা যায়।
১. ব্যক্তিবাচক সর্বনাম:
ব্যক্তিবাচক সর্বনাম ব্যক্তিনামের পরিবর্তে বসে। এই সর্বনাম তিন ধরনের:
- বক্তা পক্ষের সর্বনাম: আমি, আমরা, আমাকে, আমাদের ইত্যদি।
- শ্রোতা পক্ষের সর্বনাম: তুমি, তোমরা, তুই, তোরা, আপনি, আপনারা, তোমাকে, তোকে, আপনাকে ইত্যাদি।
- অন্য পক্ষের সর্বনাম: সে, তারা, তিনি, তাঁরা, এ, এরা, ওর, ওদের ইত্যাদি।
- শ্রোতাপক্ষ ও অন্যপক্ষের সর্বনামকে মর্যাদা অনুযায়ী তিন ভাগে ভাগ করা হয়: সাধারণ সর্বনাম (তুমি, সে), মানী সর্বনাম (আপনি, তিনি, ইনি, উনি) ও ঘনিষ্ঠ সর্বনাম (তুই, এ. ও)।

২. আত্মবাচক সর্বনাম: কর্তা নিজেই কোনো কাজ করেছে, এ ভাবটি জোর দিয়ে বোঝানোর জন্য এ ধরনের সর্বনাম ব্যবহার করা হয়। যেমন নিজে (সে নিজে অঙ্কটা করছে), স্বয়ং ইত্যাদি।

৩. নির্দেশক সর্বনাম: যে সর্বনাম নৈকট্য বা দূরত্ব নির্দেশ করে, তাকে নির্দেশক সর্বনাম বলে। যেমন নিকট নির্দেশক: এ, এই, এরা, ইনি; দূর নির্দেশক: ও, ওই, ওরা, উনি।

৪. অনির্দিষ্ট সর্বনাম: অনির্দিষ্ট বা পরিচয়হীন কিছু বোঝাতে যে সর্বনাম ব্যবহৃত হয়, তাকে অনির্দিষ্ট সর্বনাম বলে। যেমন কেউ, কোথাও, কিছু, একজন (একজন এসে খবরটা দেয়) ইত্যাদি।

৫. প্রশ্নবাচক সর্বনাম: প্রশ্ন তৈরির জন্যে প্রশ্নবাচক সর্বনাম প্রয়োগ করা হয়। যেমন কে, কারা, কাকে, কার, কী (কী দিয়ে ভাত খায়?) ইত্যাদি।

৬. সাপেক্ষ সর্বনাম: পরস্পর নির্ভরশীল দুটি সর্বনামকে সাপেক্ষ সর্বনাম বলে। যেমন যারা-তারা, যে-সে, যেমন-তেমন (যেমন কর্ম তেমন ফল) ইত্যাদি।

৭. পারস্পরিক সর্বনাম: দুই পক্ষের সহযোগিতা বা নির্ভরতা বোঝাতে পারস্পরিক সর্বনাম ব্যবহৃত হয়। যেমন পরস্পর, নিজেরা নিজেরা (যাবতীয় দ্বন্দ্ব নিজেরা নিজেরা মিটমাট করে) ইত্যাদি।

৮. সকলবাচক সর্বনাম: ব্যক্তি, বস্তু বা ভাবের সমষ্টি বোঝাতে সকলবাচক সর্বনাম হয়। যেমন সবাই, সকলে, সকলকে, সবার, সমস্ত, সব ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২৫ সংস্করণ)।