পরীক্ষা আর্কাইভ

শিক্ষক নিবন্ধন (NTRCA) প্রস্তুতি [১৯তম]

পরীক্ষাশিক্ষক নিবন্ধন (NTRCA) প্রস্তুতি [১৯তম]তারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়24 minutes
মোট প্রশ্ন৪০
সিলেবাস
পরীক্ষা - ১০ রিভিশন পরীক্ষা - (৬-৯)
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

শিক্ষক নিবন্ধন (NTRCA) প্রস্তুতি [১৯তম]

শিক্ষক নিবন্ধন (NTRCA) প্রস্তুতি [১৯তম] · তারিখ অনির্ধারিত · ৪০ প্রশ্ন

.
Select the correct spelling-
  1. Guilotine
  2. Guillotine
  3. Guiillotine
  4. Guiilotine
ব্যাখ্যা

Correct answer: Guillotine.

Guillotine (noun)
- English meaning:
1. a machine for beheading by means of a heavy blade that slides down in vertical guides.
 2. a shearing machine or instrument (such as a paper cutter) that in action resembles a guillotine.
- Bangla meaning:
(১) (ফ্রান্সে অপরাধীদের) শিরশ্ছেদ করার যন্ত্রবিশেষ।
(২) বইয়ের কিনার, কাগজ ইত্যাদি কেটে সমান করার যন্ত্রবিশেষ।

Example sentence:
1. The printer used a large guillotine to trim the edges of the brochures.
2. She was condemned to death by guillotine on the 8th of December 1793.

Source:
1. Accessible Dictionary by Bangla Academy.
2. Merriam-Webster Dictionary.

.
The meaning of the idiom "Hit the roof" means-
  1. To be very angry.
  2. To climb very high.
  3. To be successful.
  4. To see everything.
ব্যাখ্যা

Correct answer: To be very angry.

• Hit the roof (phrase)
- English Meaning: to give vent to a burst of anger or angry protest.
- Bangla Meaning: হঠাৎ খুব রেগে যাওয়া; রাগ বা ক্রোধের বহিঃপ্রকাশ ঘটানো।

• Example Sentence:
1. The teacher hit the roof when nobody did their homework.
2. Dad will hit the roof when he finds out I dented the car.

Source:
1. Accessible Dictionary by Bangla Academy.
2. Merriam-Webster Dictionary.

.
The word 'euphemism' means- 
  1. Expression good wish.
  2. A mysterious story.
  3. Inoffensive expression.
  4. A formal greeting.
ব্যাখ্যা

Correct answer: Inoffensive expression.

• Euphemism (Countable noun & Uncountable noun)
- English Meaning: the substitution of an agreeable or inoffensive word or expression for one that is harsh, indelicate, or otherwise unpleasant or taboo.
- Bangla Meaning: সুভাষণ; সত্যিকার শব্দের পরিবর্তে অন্য কোনো শব্দের ব্যবহার।

• Euphemism is a figure of speech that stands for a pleasant way of referring to something unpleasant.
- It refers to a word or phrase used to avoid saying an unpleasant or offensive word.
- A euphemism is a polite word or expression that is used to refer to things which people may find upsetting or embarrassing to talk about, for example, sex, the human body, or death.
- ইংরেজি সাহিত্যে 'Euphemism' শব্দের অর্থ সুভাষণ, কোমল প্রকাশ (inoffensive expression)।

Example:
1. 'Senior citizen' is a euphemism for 'old person'.
2. "Pass away" is a euphemism for "die ".

Source:
1. Accessible Dictionary by Bangla Academy.
2. Merriam-Webster Dictionary.

.
The antonym of the word "fictitious" is-
  1. Artificial
  2. Superficial
  3. Authentic
  4. Profusion
ব্যাখ্যা

Correct answer: Authentic.

Fictitious (adjective)
- English meaning: of relating to, or characteristic of fiction: imaginary.
- Bangla meaning: বাস্তব নয়; কল্পিত বা আবিষ্কৃত।

Authentic (adjective)
- English meaning: not false or imitation : real, actual.
- Bangla meaning: প্রকৃত; খাঁটি; অকৃত্রিম।

Other options:
ক) Artificial
 - English meaning: made, produced, or done by humans especially to seem like something natural.
 - Bangla meaning: প্রাকৃতিক বা স্বাভাবিক নয় এমন; কৃত্রিম।

খ) Superficial
- English meaning: concerned only with the obvious or apparent : not thorough or complete : shallow
- Bangla meaning: ভাসা-ভাসা; অগভীর।

ঘ) Profusion
- English meaning: great quantity: lavish display or supply.
- Bangla meaning: প্রাচুর্য বা অপ্রতুলতা।

Source:
1. Accessible Dictionary by Bangla Academy.
2. Merriam-Webster Dictionary.

.
What is the synonym of the word “Hackneyed”?
  1. Original
  2. Commonplace
  3. Gentle
  4. Malicious
ব্যাখ্যা

Correct answer: Commonplace.

• Hackneyed (adjective)
- Bangla Meaning: বস্তাপচা; গতানুগতিক; পচা; বহুলব্যবহৃত। 
- English Meaning: lacking in freshness or originality.

• Commonplace (adjective)
- Bangla Meaning: গতানুগতিক; বৈশিষ্ট্যহীন।
- English Meaning: commonly found or seen : ordinary, unremarkable.

Other options:
ক) Original
- Bangla Meaning: প্রথম বা সর্বপ্রথম; আদি।
- English Meaning: of, relating to, or constituting an origin or beginning: initial.

গ) Gentle
- Bangla Meaning (Gentle): সদয় / নম্র।
- English Meaning (Gentle): Kind and calm, not intending harm.

ঘ) Malicious
- English meaning: intended to harm or upset other people.
- Bangla meaning: বিদ্বেষপরায়ণ; বিদ্বেষপূর্ণ।।

Source:
1. Accessible Dictionary by Bangla Academy.
2. Merriam-Webster Dictionary.

.
His speech was entirely devoid ________ humor.(Fill in the gap)
  1. with
  2. in
  3. of
  4. by
ব্যাখ্যা

Correct answer: Devoid of.
Complete sentence: His speech was entirely devoid of humor.
- কোনো কিছুতে অভাব থাকা বোঝাতে devoid এর পর সাধারণত preposition হিসেবে ‘of’ ব্যবহার করা হয়। এখানে "devoid of humor" মানে "হাস্যরস বর্জিত" বা "হাস্যরসের অভাব ছিল"।

• Devoid of:

- English Meaning: to lack or be without something that is necessary or usual.
- Bangla Meaning: রিক্ত, বিরহিত, বর্জিত, শূন্য।

• উল্লেখ্য অভাব থাকা বোঝাতে "Devoid" এর সাথে Appropriate Preposition হিসেবে with/in/by এর কোন ব্যবহার নেই।

Source:
1. Accessible Dictionary by Bangla Academy
2. Cambridge Dictionary.

.
The masculine gender of the word 'lady' is -
  1. Lord
  2. Duke 
  3. Baron 
  4. Lad
ব্যাখ্যা

Correct answer: Lord.

Lady (Feminine gender)
- English meaning: a woman having proprietary rights or authority especially as a feudal superior.
- Bangla meaning: সাধারণত সম্ভ্রান্ত শ্রেণির একজন নারী বা ভদ্র মহিলার ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়।

Lord (Masculine gender)
- English meaning: a ruler by hereditary right or preeminence to whom service and obedience are due.
- Bangla meaning: সম্ভ্রান্ত পুরুষের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয় এবং এটি Lady-র পুরুষ লিঙ্গের সমার্থক।

Other options:
খ) Duke হচ্ছে masculine gender.
- এবং এর feminine হচ্ছে duchess. 

গ) Baron হচ্ছে masculine gender.
- এর feminine হচ্ছে Baroness.

ঘ) Lad হচ্ছে masculine gender.
- এর feminine হচ্ছে Lass.

Source:
1. Accessible Dictionary by Bangla Academy
2. Merriam-Webster Dictionary.

.
The greatest obstacle ______  progress is prejudice.(fill in the gap)
  1. on
  2. of
  3. to
  4. for
ব্যাখ্যা

Correct answer: to.
Complete sentence: The greatest obstacle to progress is prejudice.

• Obstacle:
- something that impedes progress or achievement
- বাধা; প্রতিবন্ধক।

• Appropriate preposition এর ক্ষেত্রে,
- "obstacle" পরে সবসময় "to" preposition ব্যবহৃত হয়।
- 'বাধা/ প্রতিবন্ধক' অর্থে obstacle এর সাথে to বসে।
- তাই শূন্যস্থানে to বসালে বাক্যটি পরিপূর্ণ হয়।

• উল্লেখ্য বাধা বা প্রতিবন্ধকতা বোঝাতে "Obstacle" এর সাথে Appropriate Preposition হিসেবে on/of/for এর কোন ব্যবহার নেই।

Source:
1. Accessible Dictionary by Bangla Academy.
2. Merriam-Webster Dictionary.

.
They booked the tickets in advance _______ they wouldn't miss the show.
  1. for
  2. so that
  3. because
  4. lest
ব্যাখ্যা

Correct answer: so that.
Complete sentence: They booked the tickets in advance so that they wouldn't miss the show.
- কাজের উদ্দেশ্য বা লক্ষ্য বোঝাতে - এই বাক্যটিতে Conjunction) হিসেবে "so that" ব্যবহৃত হয়েছে।

• "so that" Conjunction এর ব্যবহার: 
- এখানে 'so that' - Subordinating conjunction হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে।
- কোনো একটি কাজ কেন করা হচ্ছে, তার কারণ বা উদ্দেশ্য বোঝাতে এটি ব্যবহৃত হয়।
- এর অর্থ হলো যাতে, যেন।
- so that এর পর এমন একটি Clause বসে যা কোন একটি উদ্দেশ্য (we may live) প্রকাশ করে। যা করা কর্তার (we) উদ্দেশ্য।

• উল্লিখিত বাকি অপশনগুলো,
ক) For: জন্য; পক্ষে; অভিমুখে; যেহেতু।
- বাক্যে কারণ বোঝাতে একটি "Conjunction" হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
- Ex: I could not go to school, for I was sick.

গ) Because - জন্য; যেহেতু; কারণ।
- কোনো ঘটনা ঘটার কারণ বা ব্যাখ্যা বোঝাতে "Conjunction" হিসেবে  'because' ব্যবহৃত হয়।
- Ex: She stayed home because she felt sick.

ঘ) Lest -এই আশঙ্কায়।
- এটি কোনো কিছু ঘটার ভয় বা আশঙ্কা বোঝাতে "Conjunction" হিসেবে  ব্যবহৃত হয়, এর সাথে সাধারণত 'should' বসে।
- Ex: She whispered, lest the baby should wake up.

Source: Advanced Learner's Communicative English Grammar & Composition By Chowdhury & Hossain.

১০.
He registered to vote ___________ he turned eighteen. (Fill in the gap)
  1. whereas 
  2. so
  3. as soon as
  4. lest
ব্যাখ্যা

Correct answer: as soon as.
Complete sentence: He registered to vote as soon as he turned eighteen.


• বাক্যে "As soon as" এর ব্যবহার:
- As soon as দুটি কাজের মধ্যে সময়গত সম্পর্ক বোঝাতে ব্যবহৃত হয়।
- এর মানে হলো "যেইমাত্র"; "যখনি"; "মাত্র"; "সঙ্গে সঙ্গে" ।"
- এটি সাধারণত একটি কাজ শেষ হওয়ার পরপরই আরেকটি কাজ শুরু হয়।

• Other Options:
ক) বাক্যে "Whereas" এর ব্যবহার:
- দুটি ভিন্ন বিষয় বা অবস্থার মধ্যে পার্থক্য দেখাতে ব্যবহৃত হয়।
- Example: Some people prefer tea, whereas others prefer coffee.

খ) So
- এই বা ঐ পরিমাণে অথবা মাত্রায়; এতটা; অতটা। অর্থ্যাৎ কারণ ও ফলাফল বোঝাতে বাক্যে সংযোজক হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
- He was so tired that he couldn't go to school.

ঘ) Lest -এই আশঙ্কায়।
- এটি কোনো কিছু ঘটার ভয় বা আশঙ্কা বোঝাতে "Conjunction" হিসেবে  ব্যবহৃত হয়, এর সাথে সাধারণত 'should' বসে।
- Ex: She whispered, lest the baby should wake up.

Source: A Passage to the English Language by S.M. Zakir Hussain.

১১.
একজন দোকানদার প্রতি হালি ডিম ২০ টাকা দরে ক্রয় করে প্রতি ২ হালি ৫০ টাকা দরে বিক্রয় করলে তার শতকরা কত লাভ হবে?
  1. ১২%
  2. ১৫%
  3. ২০%
  4. ২৫%
ব্যাখ্যা

প্রশ্ন: একজন দোকানদার প্রতি হালি ডিম ২০ টাকা দরে ক্রয় করে প্রতি ২ হালি ৫০ টাকা দরে বিক্রয় করলে তার শতকরা কত লাভ হবে?

সমাধান: 
১ হালি ডিমের ক্রয়মূল্য ২০ টাকা
∴ ২ হালি ডিমের ক্রয়মূল্য = (২০ × ২) টাকা 
= ৪০ টাকা

∴ লাভ = (৫০ - ৪০) টাকা
= ১০ টাকা।

৪০ টাকায় লাভ হয় ১০ টাকা
১ টাকায় লাভ হয় (১০/৪০) টাকা
১০০ টাকায় লাভ হয় {(১০ × ১০০)/৪০} টাকা
= ২৫ টাকা।

১২.
৩/৫ এবং ৪/৭ এর ল.সা.গু কোনটি?
  1. ১২
  2. ১৬
  3. ২০
  4. ৩০
ব্যাখ্যা

প্রশ্ন: ৩/৫ এবং ৪/৭ এর ল.সা.গু কোনটি?

সমাধান:
লব (৩ ও ৪) গুলোর ল.সা.গু = ১২
হর (৫ ও ৭) গুলোর গ.সা.গু = ১

∴ ভগ্নাংশের ল.সা.গু = লব গুলোর ল.সা.গু/হর গুলোর গ.সা.গু
= ১২/১
= ১২

১৩.
একটি বই ৫৪০ টাকায় বিক্রয় করে ২০% লাভ হল। বইটির ক্রয়মূল্য কত?
  1. ৩৮০ টাকা
  2. ৪২০ টাকা
  3. ৪৫০ টাকা
  4. ৫০০ টাকা
ব্যাখ্যা

প্রশ্ন: একটি বই ৫৪০ টাকায় বিক্রয় করে ২০% লাভ হল। বইটির ক্রয়মূল্য কত?

সমাধান:
২০% লাভে, বিক্রয়মূল্য = (১০০ + ২০) টাকা
= ১২০ টাকা

∴ বিক্রয়মূল্য ১২০ টাকা হলে ক্রয়মূল্য ১০০ টাকা
∴ বিক্রয়মূল্য ১ টাকা হলে ক্রয়মূল্য ১০০/১২০ টাকা
∴ বিক্রয়মূল্য ৫৪০ টাকা হলে ক্রয়মূল্য {(৫৪০ × ১০০)/১২০} টাকা
= ৪৫০ টাকা 

১৪.
৫ : ৪ কে শতকরায় প্রকাশ করলে কত হয়?
  1. ৫০%
  2. ৬৫%
  3. ১২০%
  4. ১২৫%
ব্যাখ্যা

প্রশ্ন: ৫ : ৪ কে শতকরায় প্রকাশ করলে কত হয়?

সমাধান:
৫ : ৪ কে শতকরায় প্রকাশ করলে হয় = (৫/৪) × ১০০
= ১২৫%

১৫.
একটি ভেড়া ৮% ক্ষতিতে বিক্রয় করা হলো। ভেড়াটি আরও ১২০০ টাকা বেশি মূল্যে বিক্রয় করলে ৮% লাভ হতো। ভেড়াটির ক্রয়মূল্য নির্ণয় করুন।
  1. ৫০০০ টাকা
  2. ৭৫০০ টাকা
  3. ৯০০০ টাকা
  4. ১০৫০০ টাকা
ব্যাখ্যা

প্রশ্ন: একটি ভেড়া ৮% ক্ষতিতে বিক্রয় করা হলো। ভেড়াটি আরও ১২০০ টাকা বেশি মূল্যে বিক্রয় করলে ৮% লাভ হতো। ভেড়াটির ক্রয়মূল্য নির্ণয় করুন।

সমাধান:
ভেড়াটির ক্রয়মূল্য ১০০ টাকা হলে, ৮% ক্ষতিতে বিক্রয়মূল্য (১০০ - ৮) টাকা
= ৯২ টাকা।

আবার, ৮% লাভে বিক্রয়মূল্য (১০০ + ৮) টাকা
= ১০৮ টাকা।

∴ বিক্রয়মূল্য বেশি হয় (১০৮ - ৯২) টাকা 
= ১৬ টাকা।

∴ বিক্রয়মূল্য ১৬ টাকা বেশি হয় যখন ক্রয়মূল্য ১০০ টাকা
∴ বিক্রয়মূল্য ১ টাকা বেশি হয় যখন ক্রয়মূল্য (১০০/১৬) টাকা
∴ বিক্রয়মূল্য ১২০০ টাকা বেশি হয় যখন ক্রয়মূল্য {(১০০ × ১২০০)/১৬} টাকা
= ৭৫০০ টাকা

∴ ভেড়াটির ক্রয়মূল্য ৭৫০০ টাকা।

১৬.
দুটি সংখ্যার ল.সা.গু ৪৮ এবং গ.সা.গু ৪। একটি সংখ্যা ১৬ হলে, অপর সংখ্যাটি কত?
  1. ১০
  2. ১২
  3. ২৪
ব্যাখ্যা

প্রশ্ন: দুটি সংখ্যার ল.সা.গু ৪৮ এবং গ.সা.গু ৪। একটি সংখ্যা ১৬ হলে, অপর সংখ্যাটি কত?

সমাধান:
দেওয়া আছে,
দুটি সংখ্যার ল.সা.গু ৪৮ এবং গ.সা.গু ৪

∴ অপর সংখ্যা = (গ.সা.গু × ল.সা.গু)/একটি সংখ্যা 
= (৪৮ × ৪)/১৬
= ৪ × ৩
= ১২ 

১৭.
৪৫ সংখ্যাটি কোন সংখ্যার ৬০%?
  1. ৬০
  2. ৭৫
  3. ৮০
  4. ৯৫
ব্যাখ্যা

প্রশ্ন: ৪৫ সংখ্যাটি কোন সংখ্যার ৬০%?

সমাধান: 
মনে করি, 
সংখ্যাটি ক

প্রশ্নমতে,
ক × ৬০% = ৪৫
৬০ক/১০০ = ৪৫
ক = (৪৫ × ১০০)/৬০ 
ক = ১৫ × ৫
ক = ৭৫ 

১৮.
একজন শ্রমিক ২০২১, ২০২২ এবং ২০২৩ সালের প্রত্যেক বছর পূর্বতন বছর অপেক্ষা ১০% বেশি পারিশ্রমিক পান। ২০২৩ সালে তিনি ২০২১ সাল অপেক্ষা কত বেশি পারিশ্রমিক পান?
  1. ১১%
  2. ১৫%
  3. ২১%
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

প্রশ্ন: একজন শ্রমিক ২০২১, ২০২২ এবং ২০২৩ সালের প্রত্যেক বছর পূর্বতন বছর অপেক্ষা ১০% বেশি পারিশ্রমিক পান। ২০২৩ সালে তিনি ২০২১ সাল অপেক্ষা কত বেশি পারিশ্রমিক পান? 

সমাধান:
ধরি, ২০২১ সালে ঐ শ্রমিক পারিশ্রমিক পেতেন ১০০ টাকা 

১০% বৃদ্ধিতে ২০২২ সালে পারিশ্রমিক পান (১০০ + ১০) টাকা
= ১১০ টাকা

১০% বৃদ্ধিতে ২০২৩ সালে পারিশ্রমিক পান {১১০ + (১১০ × ১০%} টাকা 
= (১১০ + ১১) টাকা
= ১২১ টাকা

∴ শ্রমিকের পারিশ্রমিক বৃদ্ধি পায় (১২১ – ১০০)%
= ২১% 

১৯.
কোন বৃহত্তম সংখ্যা দ্বারা ২৮, ৪২ ও ৬৯ কে ভাগ করলে যথাক্রমে ৪, ৬ ও ৯ ভাগশেষ থাকবে?
  1. ১০
  2. ১১
  3. ১২
  4. ১৩
ব্যাখ্যা

প্রশ্ন: কোন বৃহত্তম সংখ্যা দ্বারা ২৮, ৪২ ও ৬৯ কে ভাগ করলে যথাক্রমে ৪, ৬ ও ৯ ভাগশেষ থাকবে? 

সমাধান:
এখানে, 
২৮ - ৪ = ২৪
৪২ - ৬ = ৩৬
৬৯ - ৯ = ৬০

২৪, ৩৬ এবং ৬০ এর গ.সা.গুই হবে নির্ণেয় বৃহত্তম সংখ্যা।

এখন,
২৪ = ২ × ২ × ২ × ৩
৩৬ = ২ × ২ × ৩ × ৩
৬০ = ২ × ২ × ৩ × ৫

∴ গ.সা.গু = ২ × ২ × ৩ 
= ১২ 

∴ নির্ণেয় বৃহত্তম সংখ্যাটি ১২         

২০.
টাকায় ৫টি করে লেবু ক্রয় করে টাকায় ৪টি করে বিক্রয় করলে শতকরা কত লাভ হবে? 
  1. ২৫%
  2. ২০%
  3. ৫০%
  4. ৪০%
ব্যাখ্যা

প্রশ্ন: টাকায় ৫টি করে লেবু ক্রয় করে টাকায় ৪টি করে বিক্রয় করলে শতকরা কত লাভ হবে? 

সমাধান:
৫ টির ক্রয় মূল্য ১ টাকা
∴ ১ টির ক্রয় মূল্য ১/৫ টাকা

আবার, ৪টির বিক্রয় মূল্য ১ টাকা
∴ ১টির বিক্রয় মূল্য ১/৪ টাকা

∴ লাভ = {(১/৪) - (১/৫)} টাকা
= ১/২০ টাকা

১/৫ টাকায় লাভ হয় ১/২০ টাকা
∴ ১ টাকায় লাভ হয় ৫/২০ টাকা 
∴ ১০০ টাকায় লাভ হয় {(১০০ × ৫)/২০} টাকা
= ২৫ টাকা

∴ লাভ = ২৫%

২১.
‘চশমখোর’ বাগ্‌ধারাটির সঠিক অর্থ কোনটি?  
  1. অমিতব্যয়ী
  2. পক্ষপাতদুষ্ট
  3. চক্ষুলজ্জাহীন
  4. অপটু 
ব্যাখ্যা

‘চশমখোর’ শব্দের অর্থ হলো চক্ষুলজ্জাহীন বা বেহায়া।
- অর্থাৎ যে ব্যক্তি লজ্জা-শরম ছাড়া এমন কাজ করে যা অন্যকে লজ্জিত করবে কিন্তু চশমখোর ব্যক্তিটি তা অবলীলায় করে।
- উদাহরণস্বরূপ, “সে এত বড় অন্যায় করল, কিন্তু তার মধ্যে বিন্দুমাত্র চক্ষুলজ্জা নেই, সে একেবারে চশমখোর।”
-----------------------------
অন্যদিকে,
- উড়নচন্ডী = অমিতব্যয়ী;
- একচোখা = পক্ষপাতদুষ্ট;
- কাঁচা হাত = অপটু।
-------------------------------------------- 
• কিছু গুরুত্বপূর্ণ বাগ্‌ধারা-
- অক্কা পাওয়া = মারা যাওয়া;
- আদায় কাঁচকলায় = ঘোর শত্রুতা;
- কংস মামা = নির্মম আত্মীয়;
- চক্ষুদান করা = চুরি করা;
- জগাখিচুড়ি পাকানো = গোলমাল বাধানো;
- ঝড়ো কাক = বিপর্যস্ত;
- টাকার কুমির = ধনী ব্যক্তি;
- ডুমুরের ফুল = দুর্লভ বস্তু; 
- ঠাঁট বজায় রাখা = অভাব চাপা রাখা;
- অকাল কুষ্মাণ্ড = অপদার্থ, অকেজো;
- আকাশ কুসুম = অসম্ভব কল্পনা;
- ইঁদুর কপালে = নিতান্ত মন্দভাগ্য;
- এলোপাতাড়ি = বিশৃঙ্খলা;
- ওজন বুঝে চলা = অবস্থা বুঝে চলা;
- কচুকাটা করা = নির্মমভাবে ধ্বংস করা;
- খাল কেটে কুমির আনা = বিপদ ডেকে আনা;
- গরজ বড় বালাই = প্রয়োজনে গুরুত্ব;
- ঘর ভাঙানো = সংসার বিনষ্ট করা;
- ঢাক ঢাক গুড় গুড় = গোপন রাখার চেষ্টা;
- তাসের ঘর = ক্ষণস্থায়ী;
- থ বনে যাওয়া = স্তম্ভিত হওয়া। 

উৎস:
ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ; 
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা – সৌমিত্র শেখর।

২২.
“Ordinance” শব্দের বাংলা পরিভাষা কী?
  1. অধ্যাদেশ
  2. আইন প্রণয়ন
  3. আলোচ্যসূচি
  4. সংবিধান
ব্যাখ্যা

'Ordinance' শব্দের অর্থ হলো অধ্যাদেশ। 
- সাধারণত 'Ordinance' বা 'অধ্যাদেশ' হলো- সরকার বা রাষ্ট্রপতির মাধ্যমে জারি করা আইনসমতুল্য নির্দেশ।
-------------------------- 
- কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিভাষার উদাহরণ:
Abolition = বিলোপ;
Act = আইন;
Admission = ভর্তি; 
Advice = উপদেষ্টা;
Affidavit = শপথপত্র, হলফনামা;
Agenda = আলোচ্যসূচি;
- Agent = প্রতিনিধি;
Audit = নিরীক্ষা;
Author = লেখক, গ্রন্থকার;
Bail = জামিন;
Bibliography = গ্রন্থ বিবরণী;
Bond = প্রতিজ্ঞাপত্র;
Cabinet = মন্ত্রীপরিষদ; 
Capital = মূলধন, রাজধানী;
Census = আদমশুমারি;
Constitution = সংবিধান;
Copyright = স্বত্ব / মেধাস্বত্ব;
Deposit = আমানত; 
Donation = দান; 
Dowry = যৌতুক;
Finance = অর্থ, অর্থায়ন। 

উৎস: অক্সফোর্ড ডিকশনারি এবং বাংলা একাডেমি অভিধান।

২৩.
রূপক কর্মধারয় সমাসের উদাহরণ-   
  1. জ্ঞানবৃক্ষ
  2. কালরাত্রি
  3. মনমাঝি
  4. সবগুলো 
ব্যাখ্যা

রূপক কর্মধারয় সমাস-
- রূপক কর্মধারয় সমাস হলো এমন সমাস যেখানে উপমান ও উপমেয়কে অভিন্ন কল্পনা করা হয়।
- এ সমাসে উপমেয় পদটি আগে এবং উপমান পদটি পরে বসে।
- এবং সমস্যমান পদে ‘রূপ’ শব্দটি যোগ করে মূল ব্যাসবাক্য তৈরি হয়।
- উদাহরণস্বরূপ,
কালরাত্রি = কাল রূপ রাত্রি,
• জ্ঞানবৃক্ষ = জ্ঞান রূপ বৃক্ষ, 
• মনমাঝি = মন রূপ মাঝি। 

- রূপক কর্মধারয় সমাসের কিছু উদাহরণ:
• বিষাদসিন্ধু,
• কালরাত্রি ,
• কালসর্প ,
• কথামৃত,
• কালচক্র,
• কালস্রোত,
• জীবনতরী, 
• দেহপিঞ্জর, 
• জ্ঞানবৃক্ষ, 
• দেশমাতৃকা, 
• প্রাণবায়ু, 
• বিদ্যারত্ন, 
• শোকসিন্ধু, 
• সংসারসমুদ্র, 
• হৃদয়পিঞ্জর। 

উৎস:
বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি - নবম ও দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২২ সংস্করণ),
ভাষা- শিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদ।

২৪.
“শুয়ে শুয়ে লেজ নাড়া” বাগ্‌ধারাটি কী অর্থ প্রকাশ করে?
  1. আলস্যে সময় নষ্ট করা
  2. কোনো দায়িত্ব গ্রহণ না করা
  3. অবহেলা করা
  4. সুযোগের সদ্ব্যবহার না করা 
ব্যাখ্যা

“শুয়ে শুয়ে লেজ নাড়া” বাগ্‌ধারার অর্থ হলো- অলসতার কারণে সময় নষ্ট করা বা কাজ না করা।
------------------------------- 
• কিছু গুরুত্বপূর্ণ বাগ্‌ধারা:
শিবরাত্রির সলতে = একমাত্র সন্তান,
শিরে সংক্রান্তি = বিপদ মাথার ওপর,
শরতের শিশির = সুসময়ের বন্ধু,
শত্রুর মুখে ছাই = কুদৃষ্টি এড়ানো,
শ্রীঘর = কারাগার,
ষাঁড়ের গোবর = অযোগ্য,
ষোল আনা = পুরোপুরি,
চোখের বালি = চক্ষুশূল,
চোখ কপালে তোলা = বিস্মিত হওয়া,
চোখে ধুলো দেওয়া = প্রতারণা করা,
চোখের মণি = প্রিয়,
কচুকাটা করা = নির্মমভাবে ধ্বংস করা,
কলম পেষা = কেরানিগিরি,
কপাল ফেরা = সৌভাগ্য লাভ,
কেঁচো খুড়তে সাপ = বিপদজনক পরিস্থিতি,
কেউ কেটা = গণ্যমান্য,
গা ঢাকা দেওয়া = আত্মগোপন,
গায়ে কাঁটা দেওয়া = রোমাঞ্চিত হওয়া,
গায়ে ফুঁ দিয়ে বেড়ানো = কোনো দায়িত্ব গ্রহণ না করা,
ঘরের খেয়ে বনের মোষ তাড়ানো = নিজ খরচে পরের বেগার খাটা,
ঘোড়ার ঘাস কাটা = অকাজে সময় নষ্ট করা,
ঝোপ বুঝে কোপ মারা = সুযোগ মত কাজ করা। 

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াত মামুদ। 

২৫.
“Walk-out” পরিভাষাটির সঠিক বাংলা অর্থ কোনটি?
  1. সভায় অনুপস্থিত থাকা
  2. সভা বর্জন
  3. সভার সিদ্ধান্ত না মেনে নেওয়া
  4. সবগুলো 
ব্যাখ্যা

Walk-out মানে হলো কোনো সভা, অধিবেশন বা আলোচনার প্রতি প্রতিবাদ জানিয়ে ইচ্ছাকৃতভাবে সেখান থেকে বের হয়ে আসা বা সভা বর্জন করা।
- এটি সাধারণত সিদ্ধান্ত, আচরণ বা বক্তব্যের বিরুদ্ধে অসন্তোষ প্রকাশের জন্য করা হয়।
------------------------------ 
• কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিভাষা:
Advice = উপদেশ,
Adviser / Advisor = উপদেষ্টা,
Amended = সংশোধিত,
Affidavit = শপথপত্র, হলফনামা,
Agenda = আলোচ্যসূচি,
Bail = জামিন,
Census = আদমশুমারি,
Constitution = সংবিধান,
Copyright = স্বত্ব / মেধাস্বত্ব,
Carbon dioxide = অঙ্গার-অম্ল-জান,
Embargo = অবরোধ,
Feudal = সামন্তবাদী,
Galaxy = ছায়াপথ,
Grade = পর্যায়,
Immigrant = অভিবাসী,
Imperialism = সাম্রাজ্যবাদ,
Manifesto = ইশতেহার,
 Memorandum = স্বারকলিপি,
Subsidy = ভর্তুকি,
Surplus = উদ্বৃত্ত,
Tax = কর,
Telecommunication = টেলিযোগাযোগ,
Terminology = পরিভাষা. 

উৎস: অক্সফোর্ড ডিকশনারি এবং বাংলা একাডেমি অভিধান।

২৬.
সমাস কোন তত্ত্বের আলোচ্য বিষয়?  
  1. ধ্বনিতত্ত্ব
  2. অর্থতত্ত্ব
  3. রূপতত্ত্ব
  4. অভিধানতত্ত্ব 
ব্যাখ্যা

সমাস রূপতত্ত্বের আলোচ্য বিষয়। 
---------------------------
• সমাস: 
- সমাস হলো কোনো শব্দের সংক্ষেপণ বা একাধিক পদকে একপদিকরণ করা।
- অর্থের দিক থেকে মিল আছে এমন দুই বা ততোধিক শব্দ বা পদ মিলিত হয়ে একটি শব্দ গঠনের প্রক্রিয়াকে সমাস বলা হয়।
- শব্দ গঠনের অন্যতম উপায় হলো সমাস।
- বাক্যে শব্দের ব্যবহার সংক্ষিপ্ত করার উদ্দেশ্যে সমাস সৃষ্টি করা হয়।

- যে সব পদ নিয়ে সমাস গঠিত হয়, তাদের মধ্যে অর্থের মিল এবং পদগুলোর পরস্পরের মধ্যে সঠিক সম্পর্ক থাকতে হবে, যাতে পদগুলোর দ্বারা একটি বিশিষ্ট অর্থ প্রকাশ পায়।
- অর্থযুক্ত পদ থেকেই সমাস গঠিত হয়।
- উদাহরণ:
- ঘি মাখানো ভাত—
- এখানে বাক্যে অর্থের দিক থেকে সামঞ্জস্য রয়েছে এবং বিশেষ অর্থও প্রকাশ পাচ্ছে।
- সেই অর্থ অক্ষুণ্ণ রেখে এই পদগুলোকে মিলিয়ে একটি শব্দে পরিণত করা যায়।
- অর্থাৎ, ঘি মাখানো ভাত = ঘিভাত লেখা যায়। 
- এতে অর্থের কোনও পরিবর্তন হয়না। 

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ। 

২৭.
“কেতা দুরস্ত” বাগ্‌ধারাটির অর্থ কী?
  1. অতিশয় পণ্ডিত
  2. পরিপাটি
  3. অসাবধান
  4. ভণ্ড সাধু 
ব্যাখ্যা

“কেতা দুরস্ত” বাগ্‌ধারাটির অর্থ- পরিপাটি। 
- “কেতা দুরস্ত” বাগধারাটি ব্যবহার করা হয় কোনো ব্যক্তির কাজকর্ম বা শৃঙ্খলাবদ্ধ আচরণ বুঝানোর জন্য। 
- সুন্দরভাবে সজ্জিত বা পরিপাটি হয়ে থাকা ব্যক্তির ক্ষেত্রে এই বিশেষণটি ব্যবহার করা হয়। 
--------------------- 
• কিছু গুরুত্বপূর্ণ বাগ্‌ধারা-
টাকার কুমির = ধনী ব্যক্তি,
ঢিমে তেতালা = মন্থর,
তাসের ঘর = ক্ষণস্থায়ী,
মাছের মায়ের পুত্রশোক = কপট বেদনাবোধ,
মুখ চুন হওয়া = লজ্জায় ম্লান হওয়া,
মুখে ফুল চন্দন পড়া = শুভ সংবাদের জন্য ধন্যবাদ,
ঝাঁকের কৈ = এক দলভুক্ত,
হরিলুট = অপচয়,
হস্তীমূর্খ = বুদ্ধিতে স্থূল,
হাড়ে দুর্বা গজানো = অত্যন্ত অলস হওয়া,
হাতুড়ে বদ্যি = আনাড়ি চিকিৎসক,
হাতের পাঁচ = শেষ সম্বল,
হীরার ধার = অতি তীক্ষ্ণবুদ্ধি,
হোমরা চোমরা = গণ্যমান্য ব্যক্তি,
জগাখিচুড়ি পাকানো = গোলমাল বাধানো,
দুধে ভাতে থাকা = খেয়ে-পড়ে সুখে থাকা,
ধরি মাছ না ছুঁই পানি = কৌশলে কার্যাধার,
বিদ্যার জাহাজ = অতিশয় পণ্ডিত,
বক ধার্মিক = ভণ্ড সাধু,

কেতা দুরস্ত = পরিপাটি,
কাঠের পুতুল = নির্জীব, অসার,
কথায় চিঁড়ে ভেজা = ফাঁকা বুলিতে কার্যসাধন,
কান পাতলা = সহজেই বিশ্বাসপ্রবণ,
কুল কাঠের আগুন = তীব্র জ্বালা,
কেঁচো খুড়তে সাপ = সামান্য থেকে অসামান্য পরিস্থিতি,
গরজ বড় বালাই = প্রয়োজনে গুরুত্ব,
গা ঢাকা দেওয়া = আত্মগোপন,
গায়ে কাঁটা দেওয়া = রোমাঞ্চিত হওয়া,
গুরু মারা বিদ্যা = যার কাছে শিক্ষা তারই উপর প্রয়োগ,
গোকুলের ষাঁড় = স্বেচ্ছাচারী লোক,
গোল্লায় যাওয়া = নষ্ট হওয়া, অধঃপাতে যাওয়া,
বিনা মেঘে বজ্রপাত = আকস্মিক বিপদ,
ভরাডুবি = সর্বনাশ,
শত্রুর মুখে ছাই = কুদৃষ্টি এড়ানো। 

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

২৮.
নিচের কোনটি দ্বিতীয়া তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ নয়?
  1. বিপদাপন্ন 
  2. আত্মরক্ষা
  3. চিরসুখ
  4. একোন 
ব্যাখ্যা

‘একোন’- দ্বিতীয়া তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ নয়। 
--------------------------
তৎপুরুষ সমাস:
- তৎপুরুষ সমাস হলো এমন সমাস যেখানে পূর্বপদের বিভক্তি হারিয়ে যায় এবং পরপদের অর্থ প্রধান থাকে।
- এটি দ্বিতীয় থেকে সপ্তম বিভক্তি পর্যন্ত যেকোনো বিভক্তি লোপের মাধ্যমে গঠিত হতে পারে।
- বিভক্তি অনুযায়ী তৎপুরুষ সমাসের প্রকারভেদের নামকরণ করা হয়। 

- তৎপুরুষ সমাস ৯ প্রকারের-
- দ্বিতীয়া তৎপুরুষ, 
- তৃতীয়া তৎপুরুষ,
- চতুর্থী তৎপুরুষ, 
- পঞ্চমী তৎপুরুষ, 
- ষষ্ঠী তৎপুরুষ,
- সপ্তমী তৎপুরুষ,
- নঞ তৎপুরুষ (না-বাচক),
- উপপদ তৎপুরুষ,
- অলুক তৎপুরুষ (বিভক্তি লোপ পায় না)। 
---------------------------- 
দ্বিতীয়া তৎপুরুষ সমাস:
- দ্বিতীয়া তৎপুরুষ সমাস হলো সেই সমাস যেখানে পূর্বপদের দ্বিতীয় বিভক্তি (যেমন—কে, রে) বিলীন হয়ে যায়; 
- এবং পরপদের অর্থই মূলভাবে প্রকাশ পায়।

- উদাহরণ:
- ‘বিপদকে আপন্ন’ → ‘বিপদাপন্ন’; এখানে ‘কে’ বিভক্তি বিলীন হওয়ায় এটি দ্বিতীয় তৎপুরুষ সমাস।
- 'আত্মকে রক্ষা' → 'আত্মরক্ষা'; এখানে ‘কে’ বিভক্তি বিলীন হওয়ায় এটি দ্বিতীয় তৎপুরুষ সমাস।
- 'চিরকাল ধরে সুখ' → 'চিরসুখ'; (ব্যাপ্তি অর্থে কালবাচক পদের সঙ্গে দ্বিতীয়া তৎপুরুষ সমাস হয়)। 
------------------------------ 
- ‘একোন’- তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ। 

তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস: 
- যে তৎপুরুষ সমাসে পূর্বপদের তৃতীয়া বিভক্তি (যেমন—দ্বারা, দিয়া, কর্তৃক) মিলিয়ে যায় এবং শেষের পদই মূল অর্থ প্রকাশ করে, তাকে তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস বলা হয়।
- উদাহরণ:
- এক দ্বারা ঊন = একোন।
- গুণহীন = গুণ দ্বারা হীন।
- মনগড়া = মন দিয়ে তৈরি।
- বিদ্যাহীন = বিদ্যা দ্বারা হীন। 

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ। 

২৯.
কোনটি নঞ বহুব্রীহি সমাসের উদাহরণ?   
  1. অচেনা
  2. অসীম
  3. অব্যক্ত
  4. অসময় 
ব্যাখ্যা

নঞ বহুব্রীহি সমাসের উদাহরণ- অসীম। 
-----------------------
• বহুব্রীহি সমাস:
যে সমাসে পূর্বপদ বা পরপদ কোনটির অর্থ না বুঝিয়ে অন্য কোনো তৃতীয় অর্থ প্রকাশ করে, তাকে বহুব্রীহি সমাস বলে।
বহুব্রীহি সমাসের উদাহরণ:
- নদী মাতা যার = নদীমাতৃক, 
- বান্ধবসহ বর্তমান = সবান্ধব, 
- বি (বিগত) হয়েছে পত্নী যার = বিপত্নীক, 
- নীল বসন যার = নীলবসনা। 
------------------------------ 
নঞ বহুব্রীহি সমাস:
- নঞ বহুব্রীহি সমাস হলো এমন এক ধরনের বহুব্রীহি সমাস, যেখানে ‘ন’, ‘না’, ‘নয়’ ইত্যাদি না-বাচক অব্যয় পূর্বপদ হিসেবে থাকে 
- এখানে পূর্বপদের অর্থের কোনো প্রাধান্য থাকে না, বরং ‘নেই’ বা ‘নয়’ অর্থ প্রকাশিত হয়।
- নঞ বহুব্রীহি সমাসে সাধিত পদটি বিশেষণ হয়।
- এই সমাসে সমস্যমান পদের অর্থ নয়, বরং একটি নতুন অর্থ মুখ্য হয়।
- যেমন- অসীম (সীমা নেই যার)→ অসীম আকাশ।

- আরও কিছু উদাহরণ:
- অজ্ঞান (ন জ্ঞান যার) : জ্ঞান নেই এমন ব্যক্তি।
- আচার = নয় আচার (আচারহীন/অসৎ)।
- অনাচার (ন আচার) : যে আচার মেনে চলে না।
- বেহায়া (বে হায়া যার) : যার লজ্জা নেই।
- নির্দয় (নাই দয়া যার) : যার দয়া নেই।
- অজানা (ন জানা যা) : যা জানা নেই।
- অসুখ (ন সুখ) : যা সুখকর নয় (রোগ)।
- অনর্থ (ন অর্থ) : যার কোনো অর্থ নেই বা যা অর্থহীন। 
-------------------------
অন্যদিকে, 
- অচেনা, অব্যক্ত, অসময়-  নঞ তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ। 

• নঞ তৎপুরুষ সমাস-
- নঞ তৎপুরুষ সমাস
হলো সেই তৎপুরুষ সমাস যেখানে পূর্বপদে নঞর্থক বা না-বাচক অব্যয় (যেমন: না, নেই, নাই, নয়) ব্যবহৃত হয়, এবং সমাসের মাধ্যমে একটি নতুন পদ বা অর্থ প্রকাশ পায়।
- যেমন- 
- আলুনি, আগাছা, নিখুঁত, অকপট, অকেজো, অনিবার্য, গরমিল, বেকায়দা, অচল, অভদ্র ইত্যাদি। 

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৩০.
যে  সমাসের সমস্যমান পদগুলো সর্বদা সমাসবদ্ধ থাকে এবং ব্যাসবাক্য করা যায় না, তাকে বলা হয়- 
  1. প্রাদি সমাস
  2. সংখ্যা-বাচক বহুব্রীহি সমাস
  3. সাধারণ কর্মধারয় সমাস
  4. নিত্য সমাস 
ব্যাখ্যা

নিত্য সমাস:  
- যে সমাসের সমস্যমান পদগুলো সর্বদা সমাসবদ্ধ থাকে এবং ব্যাসবাক্য করা যায় না বা করতে গেলে অন্য পদের সাহায্য নিতে হয়, তাকে নিত্য সমাস বলে।
- এই সমাসে ব্যাসবাক্যের প্রথমে- ‘অন্য’ বা ‘কেবল' শব্দটি বসে।
- যেমন- অন্য দেশ = দেশান্তর।
- কেবল দর্শন = দর্শনমাত্র। 

- আবার, নিত্য সমাসে ব্যাসবাক্যের শেষে অনেক সময় ‘তুল্য’ শব্দটি থাকে।
- যেমন- দুগ্ধ ফেনার তুল্য = দুগ্ধফেননিভ। 

- নিত্য সমাসের কিছু উদাহরণ হলো:
- কালসাপ, আমরা, গ্রামান্তর, বিরানব্বই, উপায়ান্তর, দিগন্তর, ধর্মান্তর, লোকান্তর, দেখামাত্র, নামমাত্র ইত্যাদি। 
------------------------ 
অন্যদিকে, 

• প্রাদি সমাস:
- প্র, প্রতি, অনু, ইত্যাদি উপসর্গের সঙ্গে যদি কৃদন্ত পদ বা নামপদের সমাস হয় তবে তাকে প্রাদি সমাস বলে।
- যেমন-
- প্র (প্রকৃষ্ট) যে বচন = প্রবচন।
- পরি (চতুর্দিকে) যে ভ্রমণ = পরিভ্রমণ। 

• সংখ্যাবাচক বহুব্রীহি সমাস: 
- যে বহুব্রীহি সমাসের পূর্বপদ সংখ্যাবাচক এবং পরপদ বিশেষ্য হয়, তাকে সংখ্যাবাচক বহুব্রীহি সমাস বলে।
- যেমন:
- দশ ভুজ (হাত) যার = দশভুজা। 

• সাধারণ কর্মধারয় সমাস: 
- যে সমাসে বিশেষণ বা বিশেষণভাবাপন্ন পদের সাথে বিশেষ্য বা বিশেষ্যভাবাপন্ন পদের সমাস হয় এবং পরপদের অর্থই প্রধানরূপে প্রতীয়মান হয়, তাকে কর্মধারয় সমাস বলে।
- নীল চোখ একটি সাধারন কর্মধারয় সমাস।
- এখানে নীল একটি বিশেষণ এবং চোখ একটি বিশেষ্য।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ। 

৩১.
প্রাচীন প্রত্নস্থল ’ওয়ারী বটেশ্বর’ এর অবস্থান কোথায়?
  1. বগুড়া
  2. নারায়ণগঞ্জ
  3. নওগাঁ
  4. নরসিংদী 
ব্যাখ্যা

ওয়ারী বটেশ্বর       

উয়ারী- বটেশ্বর বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ প্রত্নস্থল। নরসিংদী জেলার বেলাব উপজেলা থেকে প্রায় তিন কিলোমিটার পশ্চিমে অবিস্থত উয়ারী এবং বটেশ্বর গ্রাম

- হানিফ পাঠান উয়ারী-বটেশ্বর প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনসংগ্রহের  সূচনা করে গেছেন।
- সেই পথ ধরেই বর্তমানে তাঁর বংশধর সকল প্রত্নতাত্ত্বিক উপকরণ সংরক্ষন করেছেন।
- সে জন্য প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনের কথা বললেই ঠিকানা বলা হয় ‘‘ হানিফ পাঠানের বাড়ি’’।
- বেলাব সদর উপজেলা থেকে উয়ারী-বটেশ্বর প্রত্নস্থলটি ৪ কিলোমিটার দূরে। প্রথমে হানিফ পাঠান এই গ্রামগুলোতে কিছু প্রাচীন ছাপাংকিত রৌপ্য মুদ্রা খুজে পান এবং সন্দেহ করেন তা মৌর্য সভ্যতার সময়কার খ্রিষ্টপূর্ব চতুর্থ শতাব্দী থেকে  খ্রিস্টপূর্ব প্রথম শতাব্দী পর্যন্ত।

- হানিফ পাঠান ও হাবিবুলস্না পাঠান এই কাজ এগিয়ে নিচ্ছেন বছরের পর বছর ধরে।
- ব্যক্তিগত উদ্যোগে একটি মিউজিয়াম গড়ে তুলেছেন। বশত বাড়ীর একটি ঘরের এক পাশে কাচ দিয়ে ঘেরা কতগুলো প্রত্নতাত্ত্বিক নির্দশন রয়েছে যথাক্রমে: ছাপাংকিত রৌপ্য মুদ্রা, ১৯৯৭ সালে প্রাপ্ত ১৫-১৬ শতক আগের ব্রেঞ্জ মূর্তি, ১৯৯৭ সালের পুকুর খননকালে প্রাপ্ত খ্রিস্টপূর্ব ১-২ শক আগের প্রাচীন মৃৎপাত্র, ১৯৮৮ সালের প্রাপ্ত ১৯ শতক আগের ব্রোঞ্জের ১০০০ শতকের লৌহ-কুঠার ও প্রসত্মরীভূত কাঠ ইত্যাদি, ১৭ শতকের মনসা মঙ্গল কাব্য, ১৯ শতকের হসত্ম লিখিত সবচেয়ে ক্ষুদ্র কোরআন শরীফ, মিশরের প্যাপিরাস (সংযুক্ত প্যাপিরাস শিল্পকর্মটি প্রাচীন মিশরীয়গন যে পদ্ধতিতে প্যাপিরাস তৈরি করতো সেই পদ্ধতিতে তৈরি)। ২/১ টি ছড়া বেশিরভাগ প্রত্নবসত্মই, এই উয়ারী-বটেশ্বর থেকে প্রাপ্ত।

- মূলত ২০০০ সালের এপ্রিল মাসেই প্রথমবারের মতো খনন কাজ করা হয়।
- তখন থেকেই নগর বৈশিষ্ট্যের ধারণাটি নিশ্চিত হতে থাকে।
- নেদারল্যান্ডে কার্ব-১৪ টেষ্টে তারিখ নির্ধারণের মাধ্যমে উয়ারী-বটেশ্বর গ্রাম দুটি দেশের সভ্যতার ইতিহাসে সবচেয়ে প্রাচীনস্থান।
- এতে যে সকল নিদর্শন পাওয়া গিয়াছে সেগুলো ২৪৫০ বছর  আগের অর্থাৎ খিস্টের জন্মের ৪৫০ বছর আগের বলে প্রতীয়মান হয়েছে। তখন ছিল মৌর্যবংশের রাজত্বকাল।

- এরপর ২০০২ সালের জুন মাসে দ্বিতীয়বারের মতো  খনন কাজ করা হয়। প্রত্নতাত্ত্বিক খনন ছাড়াই এ অঞ্চল থেকে ভূ-পৃষ্ট সংগ্রহ হিসেবে উয়ারী বটেশ্বর অঞ্চল থেকে এক হাজার লৌহ নিদর্শন, কয়েক হাজার ছাপাঙ্কিত রৌপ্য মুদ্রা এবং প্রচুর সংখ্য স্বল্পমূল্যবান প্রসত্মরের পূজি সংগৃহীত হয়েছে। 

- হাবিবুল্লা পাঠানের মতে এখানে নব্যপ্রস্তর যুগ ও মৌর্য যুগের  নির্দশন পাওয়া গেলেও একটা দীর্ঘ সময়ের ব্যবধানের পর শুধু পাল সময়কার নিদর্শন পাওয়া যায়।
- কিন্তু মাঝামাঝি সময়টাতে আসলে কি ঘটেছিল, সে ব্যাপারে এখনও কিছু জানতে পারা যায় নি।
- তরে তাঁর মতে এই এলাকার সাথে রোম কিংবা দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ারও তখন জলপথে যোগাযোগ ছিল।
- কারণ বর্তমানে গ্রামের পাশের যে শুকিয়ে যাওয়া কয়ড়া নদীটি আছে, এটা একসময় ব্রহ্মপুত্র নামে পরিচিত ছিল।
- আর অতীতেই শুধু নয় এখনও নদীর তীরবর্তী অঞ্চলে বাণিজ্য এলাবা গড়ে উঠে। উয়ারী-বটেশ্বরের ক্ষেত্রেও হয়তো তাই ঘটেছিল।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

৩২.
ভারতীয় উপমহাদেশে মৌর্য বংশের প্রতিষ্ঠা কে ছিলেন?
  1. প্রথম চন্দ্রগুপ্ত
  2. সম্রাট অশোক
  3. রাজা শশাঙ্ক
  4. চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য 
ব্যাখ্যা

 মৌর্য সম্রাজ্য:
- গ্রিক লেখকদের বিবরণ থেকে জানা যায় যে, গ্রিক বীর আলেকজান্ডারের ভারত আক্রমণকালে বর্তমান বাংলাদেশ এলাকায় গঙ্গারিডই নামে সমৃদ্ধশালী রাজ্য ছিল।
- এ রাজ্যের রাজধানীর নাম ছিল গঙ্গা। এ সময়কালকে মৌর্য শাসনামল বলে ধারণা করা হয়।
- পণ্ডিতদের ধারণা হলো, 'গঙ্গারিডই' ছিল বর্তমানকালের বাংলা।
- আর্যদের আগমনের আগেই বাংলায় মৌর্য বংশের শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।
- চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য ৩২১ খ্রিস্ট পূর্বাব্দে ভারতে মৌর্য বংশের প্রতিষ্ঠা করেন।
- উত্তর বাংলায় মৌর্য শাসন প্রতিষ্ঠিত হয় রাজা অশোকের সময়ে ২৬৯-২৩২ খ্রিস্ট পূর্বাব্দে। বাংলা ছিল মৌর্যদের একটি প্রদেশ। এর রাজধানী ছিল প্রাচীন পুণ্ড্র নগর।
- মৌর্য শাসনামলে বাংলার রাজা খুবই প্রতাপশালী ছিলেন। তার বিশাল সামরিক বাহিনীতে ৪ হাজার সুসজ্জিত হাতি ছিল।
- কোন কোন ঐতিহাসিক মনে করেন, বিশাল হস্তী বাহিনীর ও সুসজ্জিত সেনাবাহিনীর খবর শুনে গ্রিক বীর আলেকজান্ডার বাংলা আক্রমণের পরিকল্পনা বাতিল করেন।
- মৌর্য শাসনামলে বাংলা ছিল ঐশ্বর্যপূর্ণ রাজ্য। 'গঙ্গারিডই' (বাংলার পূর্বনাম) রাজ্যের রাজধানীতে সূক্ষ্ম মসলিন কাপড় তৈরি হতো, যা সুদূর পশ্চিমা দেশে রপ্তানি হতো।
- মৌর্য শাসনামলে বাংলার সীমানা বিস্তৃত হয়। মৌর্য সম্রাট অশোকের সময় প্রাচীন পুণ্ড্ররাজ্য মৌর্য সাম্রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত হয়।
- ফলে উত্তরবঙ্গের এ অঞ্চল তখন মৌর্য শাসনাধীন একটা প্রদেশে পরিণত হয়।

অন্যদিকে,
- প্রথম চন্দ্রগুপ্ত ছিলেন গুপ্ত বংশের প্রতিষ্ঠাতা।
- সম্রাট অশোক ছিলেন  মৌর্য সম্রাজ্যের একজন রাজা।
- রাজা শশাঙ্ক ছিলেন, বাংলার প্রথম স্বাধীন রাজা। তিনি স্বাধীন গৌড় রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন।

উৎস:
১. বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম ও দশম শ্রেণি।
২. ইতিহাস ১ম পত্র , বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩৩.
তরাইনের দ্বিতীয় যুদ্ধ অনুষ্ঠিত হয় কত খ্রিস্টাব্দে?
  1. ১০৯২ খ্রি.
  2. ১১৯০ খ্রি.
  3. ১০৯০ খ্রি.
  4. ১১৯২ খ্রি.
ব্যাখ্যা

তরাইনের প্রথম যুদ্ধ (১১৯১ খ্রি.)
- মুহম্মদ ঘোরি পাঞ্জাব দখল করলে ভারতের হিন্দু রাজাগণ শঙ্কিত হয়ে ওঠেন।
- ১১৮৯ খ্রি. ভাতিন্দা দখল করে মুহম্মদ ঘোরি চৌহান রাজ্যের বিরুদ্ধে অগ্রসর হলে দিল্লি ও আজমীরের রাজা পৃথ্বীরাজ চৌহান একটি শক্তি-সংঘ গঠন করেন।
- পৃথ্বীরাজের আহ্বানে অনেক রাজা সাড়া দেন। তবে কনৌজের রাজা জয়চাঁদের সাথে পৃথ্বীরাজের সুসম্পর্ক ছিল না।
- পৃথ্বীরাজ জয়চাঁদের কন্যা সংযুক্তার স্বয়ম্বর সভায় আমন্ত্রণ পাননি।
- তিনি ছদ্মবেশে এসে সংযুক্তাকে হরণ করে নিয়ে বিয়ে করেন।
- মুহম্মদ ঘোরি পৃথ্বীরাজের রাজ্য আক্রমণ করেন।
- ১১৯১ খ্রিস্টাব্দে তরাইন প্রান্তরে মিলিত পৃথ্বীরাজের বাহিনীর সাথে মুহম্মদ ঘোরির প্রচন্ড যুদ্ধ হয়।
- যুদ্ধে মুহম্মদ ঘোরির বাহিনী পরাজিত হলে তিনি নিজে আহত হন ও পলায়ন করেন।
- এটি তরাইনের প্রথম যুদ্ধ নামে পরিচিত ছিল।

• তরাইনের দ্বিতীয় যুদ্ধ (১১৯২ খ্রি.)
- মুহম্মদ ঘোরি প্রথম চেষ্টায় ব্যর্থ হলেও পর বৎসর অর্থাৎ ১১৯২ খ্রিস্টাব্দে ১,২০,০০০ সৈন্য নিয়ে আবার ভারত আক্রমণ করেন।
- এবারও পৃথ্বীরাজের বাহিনীর সাথে তরাইনের প্রান্তরে তাঁর প্রচন্ড যুদ্ধ হয়।
- দু'পক্ষেই বহু সৈন্য নিহত হয়। এবার পৃথ্বীরাজের বাহিনী পরাজিত হলে পৃথ্বীরাজ পলায়ন করেন।
- কিন্তু সরস্বতী নদীর তীরবর্তী সিরসুতী নামক স্থানে তিনি ধরা পড়লে তাঁকে হত্যা করা হয়। 

উৎস: ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩৪.
বাংলায় দ্বৈতশাসন ব্যবস্থা চালু করেন কে?
  1. লর্ড কর্নওয়ালিস
  2. লর্ড ওয়েলেসলি
  3. লর্ড হেস্টিংস
  4. লর্ড ক্লাইভ
ব্যাখ্যা

⇒ বাংলায় দ্বৈতশাসন চালু করেন-  লর্ড ক্লাইভ।

• বাংলায় দ্বৈতশাসন:

- সরাসরি রাজস্ব আদায় করা কোম্পানির জন্য বিপদজনক হয়ে দেখা দেয়।
- কেননা সরাসরি কোম্পানি রাজস্ব গ্রহণ করলে বাংলায় বাণিজ্যরত অন্যান্য ইউরোপীয় বণিকদের সাথে তাদের সংঘর্ষ ছিল অনিবার্য। 
- বাণিজ্যিক শুল্ক আদায় ছিল দিউয়ানির কর্মকাণ্ডের অন্তর্গত।
- অন্য সব ইউরোপীয় কোম্পানিগুলো এদেশীয় সরকারকে শুল্ক দিতে রাজী থাকলেও ইংরেজদের শুল্ক দেয়ার কথা নয়।
- ফলে লর্ড ক্লাইভ কৌশলে দিউয়ানির সমস্ত শাসনভার নামমাত্র দিয়েছিলেন নবাবের উপর।
- আর কোম্পানির কাছে রাখা হয় কেন্দ্রিয়ভাবে তত্ত্বাবধানের ক্ষমতা।
- নবাবের ভাতা এবং শাসনকাজের জন্য নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থকড়ি বরাদ্দ রেখেছিল।
- উদ্বৃত্ত প্রায় সব অর্থ কোম্পানি গ্রহণ করতো।
- তাদের গৃহীত এ ব্যবস্থার ফলে দায়দায়িত্ব কাগজে কলমে না নিয়েও প্রকৃত ক্ষমতা চলে যায় কোম্পানির হাতে।
- এক্ষেত্রে নবাব প্রায় ক্ষমতাহীন থেকেও প্রায় সব দায়-দায়িত্ব পালন করতে থাকে।
- আর কোম্পানি কাগজে কলমে কোনো ক্ষমতা না রেখেও পুরো শাসন ক্ষমতা নিজের হাতে নিয়ে যায় এই দ্বৈতশাসন নীতির মধ্য দিয়ে।

উৎস: ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩৫.
কোন পর্তুগিজ নাবিক প্রথম সমুদ্রপথে ভারত উপমহাদেশে আসেন?
  1. জব চার্নক
  2. ভাস্কো-ডা-গামা
  3. ক্যাপ্টেন হকিন্স
  4. স্যার টমাস রো
ব্যাখ্যা

পর্তুগিজ
- পর্তুগিজদের মধ্যেকার  দুঃসাহসী নাবিক ভাস্কো-ডা-গামা প্রথম সমুদ্রপথে এদেশে আসেন ।
- তিনি ১৪৯৮ সালের ২৭শে মে ভারতের পশ্চিম-উপকূলের কালিকট বন্দরে এসে উপস্থিত হন।
- উপমহাদেশে তাঁর এ আগমন ব্যবসা-বাণিজ্য এবং যোগাযোগ ক্ষেত্রে এক নতুন যুগের সূচনা করে।
- ১৫৩৮ সালে তারা চট্টগ্রাম ও সাতগাঁওয়ে বাণিজ্যঘাঁটি নির্মাণের অনুমতি লাভ করে। ১৫৭৯ সালে হুগলী নামক স্থানে তারা উপনিবেশ গড়ে তোলে। 
- পর্তুগিজদের বিভিন্ন অপকর্ম ও দস্যুতার কারণে বাংলার সুবাদার শায়েস্তা খান তাদের চট্টগ্রাম ও সন্দীপের ঘাঁটি দখল করে বাংলা থেকে বিতাড়ন করেন।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, ৯ম-১০ শ্রেণি।

৩৬.
বক্সারের যুদ্ধ সংঘটিত হয় কত সালে?
  1. ১৭৬৩ সালে
  2. ১৭৬৪ সালে
  3. ১৭৬৫ সালে
  4. ১৭৬২ সালে
ব্যাখ্যা

• মীর কাসিম ও বক্সারের যুদ্ধ:
- ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ১৭৬০ সালের ২০ অক্টোবর মীর জাফরকে সরিয়ে দিয়ে তার জামাতা মীর কাসিমকে মুর্শিদাবাদের সিংহাসনে অধিষ্ঠিত করেছিল।
- তার মাত্র চার বছরের রাজত্বকাল ১৭৬০ থেকে শুরু হয়ে ১৭৬৪ খ্রিষ্টাব্দে শেষ হয়েছিল।
- মীর কাসিম নবাব হয়ে স্বাধীনতা পুনরুদ্ধারে বদ্ধপরিকর হয়েছিলেন।
- ইংরেজদের ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শোষণের বিরুদ্ধে তিনি রুখে দাঁড়াতে চেষ্টা করেন।

- ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির বিনাশুল্কে বাণিজ্য করার অন্যায় অধিকার থেকে ইংরেজ কর্মচারীরা ব্যক্তিগত ফায়দা নিতে থাকে। 
- এর ফলে নবাবের অনেক আর্থিক ক্ষতি হয়েছিল। তিনি ইংরেজ গভর্নরের কাছে এর প্রতিকার দাবি করেছিলেন।
- তবে তারা এর উপযুক্ত সদুত্তর দিতে ব্যর্থ হওয়ায় মীর কাসিম পরবর্তী সময়ে দেশীয় বণিকদের ওপর থেকেও বাণিজ্য শুল্ক প্রত্যাহার করে নিয়েছিলেন। 
- এতে ইংরেজ কোম্পানির কর্মচারীদের অযৌক্তিক সুবিধা পাওয়ার পথ বদ্ধ হলে তারা তা মেনে নিতে পারেনি। 
- নবাব মীর কাসিমের সাথে ইংরেজদের বিরোধ চরমে উঠলে তা পাটনায় সংঘর্ষের রূপ নেয়।
- এরপর ১৭৬৩ সালের ৭ জুলাই নবাব বাহিনীর সাথে ইংরেজদের ভয়াবহ যুদ্ধ শুরু হয়। 
- পরপর কাটোয়া, ঘেরিয়া, মুর্শিদাবাদ, সুটি, উদয়নালা ও মুঙ্গেরে নবাব বাহিনীর সাথে ইংরেজদের যুদ্ধ হয়েছিল।
- নবাব তখন পরাজিত হয়ে পাটনায় পালিয়ে গিয়েছিলেন। 
- এরপর অযোধ্যার নবাব সুজাউদ্দৌলা এবং মুঘল সম্রাট দ্বিতীয় শাহ আলমের সাহায্য নিয়ে তিনি বাংলাকে পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করেন।
- ১৭৬৪ সালের ২২ অক্টোবর বিহারের বক্সার নামক স্থানে দু'পক্ষে প্রচণ্ড সংঘর্ষ হয়। 
- তাদের সম্মিলিত বাহিনী বক্সারের যুদ্ধে ইংরেজদের কাছে পরাজিত হয়। 
- নিদারুণ দুঃখকষ্ট ও দারিদ্র ভোগ করে ১৭৭৭ সালের ৬ জুন জন্মভূমি থেকে অনেক দূরে শাজাহানাবাদের এক অখ্যাত পল্লীতে মৃত্যুবরণ করেছিলেন মীর কাসিম।

উৎস: ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩৭.
ফকির আন্দোলনের প্রধান নেতা ছিলেন কে?
  1. ভবানী পাঠক
  2. মুসা শাহ
  3. করিম শাহ
  4. মজনু শাহ
ব্যাখ্যা

• ফকির-সন্ন্যাসী আন্দোলন:
- বাংলার ফকির-সন্ন্যাসী আন্দোলন ছিল ব্রিটিশবিরোধী।

- পলাশি যুদ্ধের ১৫–২০ বছর পর এই আন্দোলন শুরু হয়।
- ফকির-সন্ন্যাসীরা মূলত ভিক্ষাবৃত্তি বা মুষ্টি সংগ্রহের মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করত।
- ধর্মীয় উৎসব ও তীর্থস্থান দর্শনের জন্য তারা সারা বছর এক স্থান থেকে অন্য স্থানে ভ্রমণ করত।
- নিরাপত্তার জন্য তাদের সঙ্গে হালকা অস্ত্রও থাকত।
- বাংলায় ব্রিটিশ শাসন প্রতিষ্ঠার আগে তারা স্বাধীন ও মুক্ত ছিল।
- ইংরেজ সরকার তাদের চলাফেরায় বাধা সৃষ্টি করতে থাকে।
- তীর্থস্থান দর্শনের ওপর কর আরোপ করে এবং ভিক্ষা/মুষ্টি সংগ্রহকে বেআইনি ঘোষণা করে।
- ফকির-সন্ন্যাসীদের ডাকাত-দস্যু বলে আখ্যায়িত করা হতো।
- এতে ক্ষুব্ধ হয়ে তারা ইংরেজদের বিরুদ্ধে দীর্ঘ আন্দোলনে নেমে পড়ে।
- ফকির দলের নেতার নাম: মজনু শাহ।
- সন্ন্যাসীদের নেতার নাম: ভবানী পাঠক।
- তাদের মূল লক্ষ্য ছিল সরকারি কুঠি, জমিদারদের কাছারি ও নায়েব-গোমস্তার বাড়ি আক্রমণ।
- ১৭৬০ সালে পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলায় সন্ন্যাসীরা প্রথম বিদ্রোহ শুরু করে।
- ১৭৭১ সালে মজনু শাহ উত্তর বাংলায় ইংরেজবিরোধী তৎপরতা শুরু করেন।
- ১৭৭৭–১৭৮৬ সালে রংপুর, রাজশাহী, দিনাজপুর ও ময়মনসিংহে মজনু শাহ বহু সংঘর্ষে লিপ্ত হন।
- তাঁর যুদ্ধকৌশল ছিল গেরিলা পদ্ধতি: অতর্কিতে আক্রমণ করে নিরাপদে সরে যাওয়া।
- ইংরেজরা তাকে চূড়ান্তভাবে পরাজিত করতে পারেননি।
- ১৭৮৭ সালে মজনু শাহ মৃত্যুবরণ করলে নেতৃত্ব নেন: মুসা শাহ, সোবান শাহ, চেরাগ আলী শাহ, করিম শাহ, মাদার বক্স প্রমুখ ফকির।
- এই নেতারা কয়েক বছর ইংরেজ প্রশাসনকে ব্যস্ত রাখেন।
- ১৮০০ সালে ফকিররা চূড়ান্তভাবে পরাজিত হয়।
- সন্ন্যাসী বিদ্রোহের নেতা ভবানী পাঠক ১৭৮৭ সালে লেফটেন্যান্ট ব্রেনানের নেতৃত্বে একদল ব্রিটিশ সৈন্যের আক্রমণে নিহত হন।
- ভবানী পাঠকের মৃত্যুর সঙ্গে সঙ্গে সন্ন্যাসী আন্দোলনের অবসান ঘটে।
 
উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, ৯ম-১০ শ্রেণি।

৩৮.
বাংলার স্বাধীন সুলতানি যুগ শুরু হয় কোন শাসকের মাধ্যমে?
  1. রাজা গণেশ
  2. গিয়াসউদ্দিন আজম শাহ
  3. শামসুদ্দিন ইলিয়াস শাহ
  4.  ফখরুদ্দিন মুবারক শাহ
ব্যাখ্যা

- ১২০৪ খ্রিস্টাব্দে ইখতিয়ারউদ্দিন মুহম্মদ বিন বখতিয়ার খলজি বাংলায় মুসলিম শাসনের সূচনা করেন।
- এরপর থেকে রাজা গণেশের স্বল্পকালীন শাসন ব্যতীত ১৭৬৫ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত বাংলা মুসলিম শাসনের অধীনে থাকে।
- ১২০৪–১৩৩৮ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত খলজি, তুর্কি ও বলবনী শাসকগণ প্রধানত দিল্লির সুলতানদের নিয়োগপ্রাপ্ত ছিলেন।
- অনেক শাসক দূরবর্তী বাংলায় স্বাধীনতার সুযোগ পেয়ে দিল্লির বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করতেন।
- বাংলাকে তখন “বুলঘাকপুর” বা “বিদ্রোহের নগরী” বলা হতো।
- ১৩৩৮ খ্রিস্টাব্দে ফখরুদ্দিন মুবারক শাহ সোনারগাঁও-এ স্বাধীন সুলতানি যুগ শুরু করেন।
- ১৩৩৮–১৫৩৮ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত বাংলা প্রায় দুই শতাব্দী স্বাধীন থাকে।
- এই স্বাধীন যুগে শাসক ছিলেন ফখরুদ্দিন মুবারক শাহ, ইলিয়াস শাহী বংশ, রাজা গণেশের বংশ, হাবশি সুলতান ও হোসেন শাহী বংশ।
শাসকগণ ভারতবর্ষের শ্রেষ্ঠ নৃপতিদের পাশে স্থান করে নেন।
- তারা বাংলায় সুশাসন প্রতিষ্ঠা, শিক্ষাসংস্কৃতি উন্নয়ন ও জনকল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
- এই দুই শতাব্দীর স্বাধীন সুলতানি যুগকে বাংলার গৌরবময় যুগ বলা হয়।

উৎস: ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩৯.
সিন্ধু বিজয়ী মুসলিম সেনাপতি কে ছিলেন?
  1. মুহাম্মদ বিন কাসিম
  2. ওবায়দুল্লাহ 
  3. বুদাইল 
  4. মুহাম্মাদ বখতিয়ার খলজি
ব্যাখ্যা

সিন্ধু বিজয়ী মুসলিম সেনাপতি ছিলেন- মুহাম্মদ বিন কাসিম।

সিন্ধু আভযানের ঘটনা :
- ইরাকের গভর্নর হাজ্জাজ বিন-ইউসুফ সিন্ধু বিজয়ের সিদ্ধান্ত নিলেন।
- ওবায়দুল্লাহ ও বুদাইল নেতৃত্বে প্রথম দুই অভিযান ব্যর্থ হয়।
- তিনি তৃতীয় অভিযান পাঠালেন, এই অভিযানের নেতৃত্ব দিলেন তাঁর ভ্রাতুস্পুত্র ও জামাতা মুহম্মদ বিন-কাসিমকে।
- তরুণ সেনানায়ক ছিলেন অসীম মনোবলের অধিকারী।
- নেতৃত্ব দেয়ার সকল গুণাবলীই তাঁর ছিল।
- মুহম্মদ মাকরানের ভেতর দিয়ে অগ্রসর হলেন।
- মাকরানের শাসকের সাথে তিনি বন্ধুত্ব গড়ে তোলেন।
- মাকরানের শাসক মুহম্মদকে আরও একটি সৈন্যবাহিনী দিয়ে সাহায্য করেন।
- তখনকার সময় সিন্ধু রাজা দাহিরের অত্যাচারে অতিষ্ঠ জাঠ ও মেওয়াট গণ মুসলমানদের পক্ষে যোগ দেয়। 
- হাজ্জাজ জলপথেও মুসলমানদের শক্তি বৃদ্ধির জন্য একদল সৈন্য পাঠান।
- এছাড়া 'বলিস্ত' নামক একপ্রকার যন্ত্রও হাজ্জাজ পাঠিয়েছিলেন।
- বলিস্ত ছিল এক ধরণের ক্ষেপণাস্ত্র

 এই যমুহম্মদ বিন-কাসিম প্রথমেই দেবল বন্দর অবরোধ করেন।
- তিনি ছিলেন খুবই বুদ্ধিমান সেনানায়ক।
- দেবলের প্রধান মন্দিরের চূড়ায় একটি লাল নিশান উড়ানো ছিল।
- তিনি বলিস্ত দিয়ে পাথর ছুড়ে নিশানটি ধ্বংস করে ফেলেন।
- এতে দেবলের সৈনিকদের মনোবল ভেঙ্গে পড়ে।
- তাদের ধারণা ছিল মন্দিরের চূড়ায় যতক্ষণ নিশান উড়বে ততক্ষণ বাইরের কোন শত্রু দেবল দখল করতে পারবে না।

- মুসলমানদের দখলে এলো দেবল বন্দর।
- দেবল দখলের পর মুহম্মদ বিন-কাসিম সিন্ধু নদের তীর ধরে উত্তর দিকে এগিয়ে নীরুন, সিওয়ান ও সিসাম শহরগুলো একের পর এক জয় করলেন। 

- কিন্তু রাওয়ার দুর্গ দখলের ব্যাপারে মুহম্মদ বিন-কাসিমকে প্রচণ্ড বাঁধার মুখে পড়তে হয়।
- এখানে রাজা দাহির এক বিশাল সৈন্যবাহিনীর সমাবেশ ঘটান।
- মুহম্মদ বিন-কাসিম নৌকার সেতু তৈরি করে সিন্ধু নদ পার হন।
- অতঃপর দাহিরের বাহিনীর সাথে মুসলমানদের প্রচণ্ড যুদ্ধ হয়।
- রাজা দাহির বীর বিক্রমে যুদ্ধ করে যুদ্ধক্ষেত্রেই প্রাণ ত্যাগ করেন। 

- রাওয়ার দুর্গ দখলের পর মুহম্মদ বিন কাসিম ব্রাহ্মণাবাদ অধিকার করেন। 
- এরপর সিন্ধুর রাজধানী আলোর দুর্গের পতন ঘটে। 
- আলোর জয় করে তিনি সিন্ধু অঞ্চলে সুশাসনের ব্যবস্থা করেন। 
- এরপর মুহম্মদ বিন-কাসিম আরও উত্তরে অগ্রসর হয়ে মলতান জয় করেন। 
- মুলতানের পথে তিনি বাড়ী নদীর তীরে অবস্থিত উচু দখল করেন।
- মূলতান দখল করতে তাঁকে বেশ বেগ পেতে হয়েছিল।
- মুলতান রক্ষার জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে স্থানীয় যোদ্ধারা প্রায় দু'মাস মুলতান দুর্গ রক্ষায় সক্ষম হয়। 
- অবশেষে তাদের সকল প্রতিরোধ চূর্ণ করে মুহম্মদ বিন-কাসিম মুলতান দখল করতে সক্ষম হন। 
- মুলতান দখলের মধ্য দিয়ে রাজা দাহিরের রাজ্যের পুরোটাই মুসলমানদের অধিকারে চলে আসে।

উল্লেখ্য,
-  ইখতিয়ার উদ্দীন মুহাম্মাদ বখতিয়ার খলজি বাংলা জয় করেন ১২০৪ খ্রিস্টাব্দে।

উৎস: ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪০.
প্রাচীন কালের ‘সমতট’ অঞ্চলের বর্তমান অবস্থান-
  1. সিলেট
  2. ভোলা
  3. নোয়াখালী 
  4. বান্দরবান
ব্যাখ্যা

সমতট : 
- দক্ষিণ-পূর্ব বাংলার একটি প্রাচীন জনপদ।
- সমতট নামটি বর্ণনামূলক, অর্থ “তটের সমান্তরাল”।
- চতুর্থ শতকে সম্রাট সমুদ্রগুপ্তের এলাহাবাদ লিপিতে সমতটের উল্লেখ আছে।
- কালিদাসের রঘুবংশ কাব্যের মাধ্যমে জানা যায় সমতট বঙ্গের পূর্বে অবস্থিত ছিল।
- সপ্তম শতকে হিউয়েন সাঙ সমতটে এসেছিলেন।
- হিউয়েন সাঙের বর্ণনা অনুযায়ী, কুমিল্লার লালমাই অঞ্চলই সমতট।
- মূলত মেঘনা-পূর্ববতী অঞ্চলই সমতট হিসেবে পরিচিত ছিল।
- এ অঞ্চলের কেন্দ্র ছিল কুমিল্লার নিকটবর্তী লালমাই এলাকা।
- সঠিকভাবে সমতটের সীমা নির্ধারণ করা যায় না।
- প্রাচীন সমতট অন্তর্ভুক্ত ছিল ত্রিপুরা (কুমিল্লা) ও নোয়াখালী অঞ্চল।

অন্যদিকে,
- হরিকেল জনপদের অন্তর্ভুক্ত ছিল- সিলেট, পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চল।
- চন্দ্রদ্বীপ জনপদের অন্তর্ভুক্ত ছিল- ভোলা।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম ও দশম শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।