পরীক্ষা আর্কাইভ

প্রাইমারি প্রধান শিক্ষক নিয়োগ - ২০২৫

পরীক্ষাপ্রাইমারি প্রধান শিক্ষক নিয়োগ - ২০২৫তারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়12 minutes
মোট প্রশ্ন৩৩
সিলেবাস
পরীক্ষা - ১৪ বিষয়: বাংলা টপিক: সন্ধি, কারক-বিভক্তি, প্রবাদ প্রবচন, শব্দার্থ, সমার্থক ও বিপরীতার্থক শব্দ, দ্বিরুক্ত শব্দ, বাগধারা। উৎস: মাধ্যমিক ব্যাকরণ বই (উভয় সংস্করণ), বাংলা একাডেমি অভিধান, ভাষা শিক্ষা - ড. হায়াৎ মামুদ বা যেকোনো ভালো গাইড বই।
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

প্রাইমারি প্রধান শিক্ষক নিয়োগ - ২০২৫

প্রাইমারি প্রধান শিক্ষক নিয়োগ - ২০২৫ · তারিখ অনির্ধারিত · ৩৩ প্রশ্ন

.
'সমুদ্র' শব্দের সমার্থক শব্দ -
  1.  কল্লোলিনী 
  2. তটিনী
  3. নীলাম্বু
  4. সরিৎ
ব্যাখ্যা

'সমুদ্র' শব্দের সমার্থক শব্দ:
- সিন্ধু, সায়র, দরিয়া, বারিধি,  জলধি, অকূল, নীলাম্বু, পয়োধি ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
'নদী' শব্দের সমার্থক শব্দ:
- নদ, নদনদী, গাঙ, স্রোতস্বিনী, তটিনী, স্রোতস্বতী, শৈবলিনী, সরিৎ, প্রবাহিণী, নির্ঝরণী, তরঙ্গিণী, মন্দাকিনী, কল্লোলিনী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

.
'শিহাব বই পড়ে।' - এখানে 'শিহাব' কোন কারক?
  1. করণ 
  2. কর্ম
  3. কর্তা
  4. অধিকরণ
ব্যাখ্যা

কর্তৃকারক:
- বাক্যস্থিত যে বিশেষ্য বা সর্বনাম পদ ক্রিয়া সম্পন্ন করে তা ক্রিয়ার কর্তা বা কর্তৃকারক। ক্রিয়ার সঙ্গে 'কে' বা 'কারা' যোগ করে প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায়, তা-ই কর্তৃকারক।

কর্তৃকারকে বিভিন্ন বিভক্তির প্রয়োগ:
প্রথমা বিভক্তি: শিহাব বই পড়ে।
দ্বিতীয়া বিভক্তি: শিমুলকে যেতে হবে। 
তৃতীয়া বিভক্তি: নজরুল কর্তৃক অগ্নিবীণা রচিত হয়েছে। 
ষষ্ঠী বিভক্তি: আমার খাওয়া হয় নি। 
সপ্তমী বিভক্তি: ছাগলে কী না খায়।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, সপ্তম শ্রেণি।

.
'পাথর' শব্দের সমার্থক শব্দ -
  1. করী
  2. অশ্ব
  3. দ্বিপ
  4. অশ্ম
ব্যাখ্যা

'পাথর' শব্দের সমার্থক শব্দ:
- পাষাণ, প্রস্তর, শিলা, উপল, অশ্ম, কঙ্কর।

অন্যদিকে,
'হাতি'  শব্দের সমার্থক শব্দ:
- গজ, হস্তী, করী, দ্বিপ, বারণ, মাতঙ্গ, কুঞ্জর, দন্তী, দ্বিরদ, পিল।

‘ঘোড়া’ শব্দের সমার্থক শব্দ:
- অশ্ব, ঘোটক, হয়, বাজী, তুরঙ্গ।  

উৎস:
১) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)। 
২) ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

.
'উড়ো খই গোবিন্দায় নমঃ' প্রবাদ প্রবচনের অর্থ -
  1. বিপদ বা প্রতিকূল অবস্থা সব সময় থাকে না
  2. অল্প বর্ষায় বেশি শীত/অল্প কাজে অধিক লাভ
  3. ইচ্ছাশক্তিতে কঠিন কাজ করা সম্ভব
  4. নাগালের বহির্ভূত জিনিস দানে ব্যবহৃত
ব্যাখ্যা

• 'উড়ো খই গোবিন্দায় নমঃ' প্রবাদ প্রবচনের অর্থ - নাগালের বহির্ভূত জিনিস দানে ব্যবহৃত

অন্যদিকে,
ইচ্ছা থাকলে উপায় হয় - ইচ্ছাশক্তিতে কঠিন কাজ করা সম্ভব।
উন বর্ষা দুনো শীত - অল্প বর্ষায় বেশি শীত/অল্প কাজে অধিক লাভ।
এক মাঘে শীত যায় না - বিপদ বা প্রতিকূল অবস্থা সব সময় থাকে না।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ।

.
'উপগত' এর বিপরীতার্থক শব্দ -
  1. অবনতি
  2. সমাগত
  3. সংঘটিত
  4. বিগত
ব্যাখ্যা

• 'উপগত' এর বিপরীতার্থক শব্দ - বিগত

উল্লেখ্য,
'উপগত' শব্দের অর্থ - সমাগত, লব্ধ, প্রাপ্ত, জাত, সংঘটিত, আসক্ত, অনুরক্ত।
'অপগত' শব্দের অর্থ - বিগত, পলায়িত, অপসৃত, মৃত।

অন্যদিকে,
উন্নতি - অবনতি।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

.
‘আনন্দ’ শব্দের সমার্থক শব্দ কোনটি?
  1. পুলিন
  2. দীপ্তি
  3. পুলক
  4. ঠাট্টা
ব্যাখ্যা

‘আনন্দ’ শব্দের সমার্থক শব্দ:
- খুশি, পুলক, আমোদ, মজা, হর্ষ, আহ্লাদ, স্ফূর্তি, সন্তোষ, পরিতোষ, প্রমোদ, উল্লাস, উচ্ছ্বাস।

অন্যদিকে,
‘ঠাট্টা’ শব্দের সমার্থক শব্দ:
- বিদ্রুপ, শ্লেষ, মশকরা, উপহাস, রসিকতা।

‘দীপ্তি’ শব্দের সমার্থক শব্দ:
- রশ্মি, শিখা, আলোকচ্ছটা, কর, প্রভা, কিরণ, জ্যোতি, অংশু।

‘পুলিন’ শব্দের সমার্থক শব্দ:
- তীর, তট, বেলাভূমি, সৈকত, ধার, বালুকাবেলা, কিনারা, পাড়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

.
'দেবর্ষি' শব্দের শুদ্ধ সন্ধিবিচ্ছেদ কোনটি?
  1. দেবি + ঋষি 
  2. দেব + ঋষ
  3. দেব + ঋষি
  4. দে + ঋষি
ব্যাখ্যা

সন্ধির নিয়ম:
• অ-কার কিংবা আ-কারের পর ঋ-কার থাকলে উভয়ে মিলে 'অর' হয় এবং তা রেফ রূপে পরবর্তী বর্ণের সাথে লেখা হয়। 

যেমন-
- দেব + ঋষি = দেবর্ষি,
- মহা + ঋষি = মহর্ষি।
এরূপ – অধমর্ণ, উত্তমর্ণ, সপ্তর্ষি, রাজর্ষি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।

.
"তুমি বাড়ি বাড়ি হেঁটে চাঁদা তুলেছ।" - এখানে 'বাড়ি বাড়ি' কী অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. আধিক্য
  2. সামান্য 
  3. ধারাবাহিকতা 
  4. ভাবের গভীরতা
ব্যাখ্যা

বিশেষ্য শব্দযুগলের বিশেষণরূপে ব্যবহার: 

যেমন: 
- আধিক্য বোঝাতে: রাশি রাশি ধান, ধামা ধামা ধান
- সামান্য বোঝাতে: আমি জ্বর জ্বর বোধ করছি।
- ধারাবাহিকতা বোঝাতে: তুমি বাড়ি বাড়ি হেঁটে চাঁদা তুলেছ। 
- ভাবের গভীরতা বোঝাতে: তার দুঃখ দেখে সবাই হায় হায় করতে লাগল। 
- অনুভূতি বোঝাতে: ভয়ে গা ছম ছম করছে।

.
‘হাতি’ শব্দের সমার্থক শব্দ কোনটি?
  1. পন্নগ
  2. মাতঙ্গ
  3. সায়র
  4. ভুজঙ্গ
ব্যাখ্যা

'হাতি' শব্দের সমার্থক শব্দ:
- গজ, হস্তী, করী, দ্বিপ, বারণ, মাতঙ্গ, কুঞ্জর, দন্তী ইত্যাদি। 

অন্যদিকে,
'সাপ' শব্দের সমার্থক:
- সৰ্প, অহি, ফণী, নাগ, ভুজগ, ভুজঙ্গ, আশীবিষ, উরগ, বিষধর, পন্নগ ইত্যাদি।

'সমুদ্র' শব্দের সমার্থক:
- সাগর, সিন্ধু, সায়র, দরিয়া, জলধি, অকূল, পাথার, বারিধি, রত্নাকর, নীলাম্বু, পয়োধি ইত্যাদি

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

১০.
'আমারে তুমি করিবে ত্রাণ এ নহে মোর প্রার্থনা।' - এখানে 'আমারে' কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. কর্মে ৭মী
  2. করণে ৬ষ্ঠী
  3. কর্মে ২য়া
  4. কর্তায় ২য়া
ব্যাখ্যা

কর্মকারক:
- যাকে আশ্রয় করে কর্তা ক্রিয়া সম্পাদন করে, তাকে কর্ম কারক বলে। বাক্যের মুখ্য কর্ম ও গৌণ কর্ম - উভয় ধরনের কর্মই কর্ম কারক হিসেবে গণ্য হয়। সাধারণত মুখ্য কর্ম কারকে বিভক্তি হয় না, তবে গৌণ কর্ম কারকে '-কে' বিভক্তি হয়।

যেমন:
→ সে রোজ সকালে এক প্লেট ভাত খায়।
শিক্ষককে জানাও।
আমারে তুমি করিবে ত্রাণ এ নহে মোর প্রার্থনা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০১৯ সংস্করণ)।

১১.
পুনরাবৃত্ত দ্বিত্বের উদাহরণ কোনটি?
  1. দুম দুম
  2. শোঁ শোঁ
  3. গুটিশুটি
  4. জ্বর জ্বর
ব্যাখ্যা

পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব:
- পুনরায় আবৃত্ত হলে তাকে পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব বলে।

যেমন:
- জ্বর জ্বর,
- পর পর,
- কবি কবি,
- কথায় কথায়।

অন্যদিকে,
ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব - দুম দুম, শোঁ শোঁ।
অনুকার দ্বিত্ব - গুটিশুটি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।

১২.
'গরিবের ঘোড়া রোগ’ প্রবাদ প্রবচনের অর্থ -
  1. সৌভাগ্যবান হলে মৃত্যুর হাত থেকেও রক্ষা পাওায়া যায়
  2. মর্মান্তিক আঘাতের উপর আঘাত
  3. অক্ষমের অতিরিক্ত প্রত্যাশা
  4. অপকর্ম প্রকাশিত হয়ে পড়েই
ব্যাখ্যা

• 'গরিবের ঘোড়া রোগ’ প্রবাদ প্রবচনের অর্থ - অক্ষমের অতিরিক্ত প্রত্যাশা

অন্যদিকে,
ধর্মের কল বাতাসে নড়ে - অপকর্ম প্রকাশিত হয়ে পড়েই।
মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা - মর্মান্তিক আঘাতের উপর আঘাত।
রাখে হরি মারে কে? - সৌভাগ্যবান হলে মৃত্যুর হাত থেকেও রক্ষা পাওায়া যায়।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

১৩.
'উন্মীলন' এর বিপরীতার্থক শব্দ -
  1. বিকাশ
  2. সংকীর্ণ
  3. সংকোচন
  4. তলানো
ব্যাখ্যা

'উন্মীলন' এর বিপরীতার্থক শব্দ - সংকোচন

উল্লেখ্য,
'উন্মীলন' শব্দের অর্থ - বিকাশ, উন্মেষ, উদ্ঘাটন, উন্মোচন।
'নিমীলন' শব্দের অর্থ - চোখের পাতা মুদিতকরণ, সংকোচন, মৃত্যু।

অন্যদিকে,
উতরানো - তলানো।
উদার - সংকীর্ণ।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

১৪.
'ছোট ছোট ডাল কেটে ফেল।' - এখানে 'ছোট ছোট' কী অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. সামান্যতা 
  2. ক্রিয়া বিশেষণ
  3. আধিক্য
  4. বিশেষণ রূপে
ব্যাখ্যা

পদের দ্বিরুক্তির প্রয়োগ: 

• বিশেষণ শব্দযুগলের বিশেষণ রূপে ব্যবহার: 
- আধিক্য বোঝাতে- ভালো ভালো আম নিয়ে এসো। ছোট ছোট ডাল কেটে ফেল
- তীব্রতা- গরম গরম জিলাপি, নরম নরম ভাত।
- সামান্যতা বোঝাতে - উড়ু উড়ু ভাব, কালো কালো চেহারা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম ও দশম শ্রেণি ( ২০১৯ সংস্করণ)।

১৫.
পৌনঃপুনিকতা বুঝাতে দ্বিরুক্ত শব্দের ব্যবহার কোনটি?
  1. ডেকে ডেকে হয়রান হয়েছি।
  2. দেখে দেখে যেও।
  3. এ দিকে রোগীর তো যায় যায় অবস্থা।
  4. দেখতে দেখতে আকাশ কালো হয়ে এলো।
ব্যাখ্যা

ক্রিয়াবাচক শব্দের দ্বিরুক্তি:

পৌনঃপুনিকতা বোঝাতে:
- ডেকে ডেকে হয়রান হয়েছি।

অন্যদিকে,
বিশেষণ রূপে:
- এ দিকে রোগীর তো যায় যায় অবস্থা।
- তোমার নেই নেই ভাব গেলো না।

স্বপ্লকাল স্থায়ী বোঝাতে:
- দেখতে দেখতে আকাশ কালো হয়ে এলো।

ক্রিয়া বিশেষণ:
- দেখে দেখে যেও।
- ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে শুনলে কীভাব?

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।

১৬.
'গেঁয়ো যোগী ভিখ পায় না' প্রবাদ প্রবচনের অর্থ -
  1. অক্ষমতা সত্ত্বেও বড়াই করা
  2. বড় রকমের বিপদ থেকে উদ্ধার লাভ
  3. যার জিনিস তাকেই দান করা
  4. স্বজন কর্তৃক বা স্বদেশে সম্মান মেলে না
ব্যাখ্যা

• 'গেঁয়ো যোগী ভিখ পায় না' প্রবাদ প্রবচনের অর্থ - স্বজন কর্তৃক বা স্বদেশে সম্মান মেলে না

অন্যদিকে,
গঙ্গা জলে গঙ্গা পুজো - যার জিনিস তাকেই দান করা।
ঘাম দিয়ে জ্বর ছাড়া - বড় রকমের বিপদ থেকে উদ্ধার লাভ।
ঘটি ডোবে না নামে তালপুকুর - অক্ষমতা সত্ত্বেও বড়াই করা।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

১৭.
'তবু যেন তা মধুতে মাখা।' - বাক্যে 'মধু' কোন কারক?
  1. কর্ম
  2. করণ
  3. অপাদান
  4. অধিকরণ
ব্যাখ্যা

করণ কারক:
- যার দ্বারা বা যে উপায়ে কর্তা ক্রিয়া সম্পাদন করে, তাকে করণ কারক বলে। এই কারকে সাধারণত ‘দ্বারা’, ‘দিয়ে’, ‘কর্তৃক' ইত্যাদি অনুসর্গ যুক্ত হয়।

যেমন:
- ভেড়া দিয়ে চাষ করা সম্ভব নয়।
- চাষিরা ধারালো কাস্তে দিয়ে ধান কাটছে।
- লোকটা জাতিতে বৈষ্ণব।
- তবু যেন তা মধুতে মাখা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০১৯ সংস্করণ)।

১৮.
'পাদপ' শব্দের অর্থ কী?
  1. পুষ্প
  2. সমুদ্র
  3. পৃথিবী
  4. গাছ
ব্যাখ্যা

• 'গাছ' শব্দের অর্থ - বৃক্ষ, তরু; পাদপ, উদ্ভিদ; লতা; গুল্ম, বৃক্ষসদৃশ কাঠের খণ্ড, ঘানিযন্ত্র।

অন্যদিকে,
'উর্বী' শব্দের অর্থ - ধরণি, পৃথিবী
'সমুদ্র' শব্দের অর্থ - সাগর, সিন্ধু, বারিধি, অর্ণব, পারাবার, জলধি, রত্নাকর।
'পুষ্প' শব্দের অর্থ - ফুল, স্ত্রীরজ, চোখের রোগবিশেষ।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

১৯.
প্রাকৃতিক ধ্বনির অনুকরণে কোন শব্দ তৈরি হয়?
  1. পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব
  2. অনুকার দ্বিত্ব
  3. ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা

ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব:
- কোনো প্রাকৃতিক ধ্বনির অনুকরণে যেসব শব্দ তৈরি হয়, সেগুলোকে ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব বলে।
যেমন:
- টুং টুং,
- ঠুকঠুক,
- শোঁ শোঁ,
- খক খক,
- দুম দুম।

অন্যদিকে,
অনুকার দ্বিত্ব - পরপর প্রয়োগ হওয়া কাছাকাছি চেহারার শব্দকে অনুকার দ্বিত্ব বলে। এতে প্রথম শব্দটি অর্থপূর্ণ হলেও প্রায় ক্ষেত্রে দ্বিতীয় শব্দটি অর্থহীন হয় এবং প্রথম শব্দের অনুকরণে তৈরি হয়।
পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব - পুনরায় আবৃত্ত হলে তাকে পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব বলে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১সংস্করণ)।

২০.
'লোকমুখে শুনেছি।' - বাক্যে 'লোকমুখ' কোন কারক?
  1. অধিকরণ
  2. কর্ম
  3. করণ
  4. অপাদান
ব্যাখ্যা

অপাদান কারক:
- যা থেকে কিছু বিচ্যুত, গৃহীত, জাত, বিরত, আরম্ভ, দূরীভূত ও রক্ষিত হয় এবং যা দেখে কেউ ভীত হয়, তাকেই অপাদান কারক বলে।

যেমন:
- বোঁটা-আলগা ফল গাছে থাকে না। 
- মনে পড়ে সেই জ্যৈষ্ঠ দুপুরে পাঠশালা পলায়ন
- বাবাকে বড্ড ভয় পাই।
- লোকমুখে শুনেছি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

২১.
'কুমেরু' এর বিপরীতার্থক শব্দ -
  1. উমেরু
  2. সুমেরু
  3. অমেরু
  4. শুমেরু
ব্যাখ্যা

'কুমেরু' এর বিপরীতার্থক শব্দ - সুমেরু

উল্লেখ্য,
'কুমেরু' শব্দের অর্থ - পৃথিবীর নিরক্ষ রেখার দক্ষিণে ৯০০ অক্ষাংশে অবস্থিত অঞ্চল, দক্ষিণমের।
'সুমেরু' শব্দের অর্থ - পুরাণে কল্পিত পর্বতবিশেষ, (বাংলায়) পৃথিবীর উত্তর মেরু, north pole।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

২২.
নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি নয় -
  1. আ + পদ = আস্পদ
  2. হরি + চন্দ্র = হরিশ্চন্দ্র
  3. সপ্ত + ঋষি = সপ্তর্ষি
  4. এক + দশ = একাদশ
ব্যাখ্যা

• নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি নয়- সপ্তর্ষি। সপ্ত + ঋষি = সপ্তর্ষি, স্বরসন্ধির নিয়মে গঠিত।

নিপাতনে সিদ্ধ ব্যঞ্জনসন্ধি:
কতগুলো সন্ধি কোন নিয়ম অনুসারে হয় না, সেগুলোকে নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি বলে।

নিচে কয়েকটি নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধির উদাহরণ হলো:
- আ + চর্য = আশ্চর্য,
- গো + পদ = গোষ্পদ,
- আ + পদ = আস্পদ,
- পর + পর = পরস্পর,
- ষট্ + দশ = ষোড়শ,
- এক + দশ = একাদশ,
- হরি + চন্দ্র = হরিশ্চন্দ্র,
- পতৎ + অঞ্জলি = পতঞ্জলি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

২৩.
পরপর প্রয়োগ হওয়া কাছাকাছি চেহারার শব্দকে কী বলে?
  1. ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব
  2. অনুকার দ্বিত্ব
  3. পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব
  4. কোনোটি নয়
ব্যাখ্যা

অনুকার দ্বিত্ব:
- পরপর প্রয়োগ হওয়া কাছাকাছি চেহারার শব্দকে অনুকার দ্বিত্ব বলে। এতে প্রথম শব্দটি অর্থপূর্ণ হলেও প্রায় ক্ষেত্রে দ্বিতীয় শব্দটি অর্থহীন হয় এবং প্রথম শব্দের অনুকরণে তৈরি হয়। এই অনুকরণ প্রক্রিয়ায় দ্বিতীয় শব্দের শুরুতে ট, ফ, ব, ম, শ প্রভৃতি ধ্বনি যুক্ত থাকতে দেখা যায়। তাতে শব্দের খানিকটা অনির্দিষ্ট, সাধারণ বা গুরুত্বহীন করা হয়।

যেমন:
- ঝাল-টাল,
- মোটাসোটা,
- নরম-সরম,
- ব্যাপার-স্যাপার,
- বুঝে-সুঝে,
- অল্পস্বল্প,
- বুদ্ধিশুদ্ধি,
- গুটিশুটি,
- অঙ্ক-টঙ্ক,
- আম-টাম।

অন্যদিকে:
পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব - পুনরায় আবৃত্ত হলে তাকে পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব বলে।
ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব - কোনো প্রাকৃতিক ধ্বনির অনুকরণে যেসব শব্দ তৈরি হয়, সেগুলোকে ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব বলে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।

২৪.
'ময়ূখ' শব্দের অর্থ -
  1. কোকিল
  2. কিরণ
  3. কুটুম্ব
  4. কান
ব্যাখ্যা

'ময়ূখ' শব্দের অর্থ - কিরণ, রশ্মি।

অন্যদিকে,
'কান' শব্দের অর্থ - কর্ণম, শ্রবণ, শ্রুতি।
'কুটুম্ব' শব্দের অর্থ - আত্মীয়, জ্ঞাতি, স্বগোত্রজ ব্যক্তি।
'কোকিল' শব্দের অর্থ - পরভৃত, পিক, কাকপুষ্ট।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

২৫.
কোনটি অনুকার দ্বিত্বের উদাহরণ?
  1. জ্বর জ্বর
  2. ব্যাপার-স্যাপার
  3. পর পর
  4. ঠুকঠুক
ব্যাখ্যা

অনুকার দ্বিত্ব:
- পরপর প্রয়োগ হওয়া কাছাকাছি চেহারার শব্দকে অনুকার দ্বিত্ব বলে। এতে প্রথম শব্দটি অর্থপূর্ণ হলেও প্রায় ক্ষেত্রে দ্বিতীয় শব্দটি অর্থহীন হয় এবং প্রথম শব্দের অনুকরণে তৈরি হয়।

যেমন:
- ঝাল-টাল,
- মোটাসোটা,
- নরম-সরম,
- ব্যাপার-স্যাপার,
- বুঝে-সুঝে,
- অল্পস্বল্প,
- বুদ্ধিশুদ্ধি,
- গুটিশুটি,
- অঙ্ক-টঙ্ক,
- আম-টাম।

অন্যদিকে, 
ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব - ঠুকঠুক।
পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব - জ্বর জ্বর, পর পর।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১সংস্করণ)।

২৬.
'সপ্তকাণ্ড রামায়ণ' বাগ্‌ধারার অর্থ -
  1. নিরেট মূর্খ
  2. বৃহৎ বিষয়
  3. ক্ষণস্থায়ী
  4. সবকিছু
ব্যাখ্যা

• 'সপ্তকাণ্ড রামায়ণ' বাগ্‌ধারার অর্থ - বৃহৎ বিষয়

অন্যদিকে,
হাড়হদ্দ - সবকিছু।
শরতের শিশির - ক্ষণস্থায়ী।
হস্তিমূর্খ - নিরেট মূর্খ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

২৭.
'নমস্কার' শব্দের সন্ধিবিচ্ছেদ কোনটি?
  1. নমঃ + কার
  2. নম + কার
  3. নমসঃ + কার
  4. নবঃ + কার
ব্যাখ্যা

• 'নমস্কার' এর সন্ধি বিচ্ছেদ - নমঃ + কার। এটি একটি বিসর্গ সন্ধি।

সন্ধির নিয়ম:
- অঘোষ অল্পপ্রাণ ও অঘোষ মহাপ্রাণ কণ্ঠ্য কিংবা ওষ্ঠ্য ব্যঞ্জন (ক, খ, প, ফ) পরে থাকলে অ বা আ ধ্বনির পরস্থিত বিসর্গ স্থলে অঘোষ দন্ত্য শিশ ধ্বনি (স্) হয় এবং অ বা আ ব্যতীত অন্য স্বরধ্বনির পরস্থিত বিসর্গ স্থলে অঘোষ মূর্ধন্য শিশু ধ্বনি (ষ) হয়।
 
যেমন: 
- নমঃ + কার = নমস্কার।
- পদঃ + খলন = পদস্খলন।
- নিঃ + কর = নিষ্কর।
- দুঃ + কর = দুষ্কর।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

২৮.
'চিকুর' শব্দের অর্থ কী?
  1. কালো
  2. কেশব
  3. ঘোড়া
  4. চুল
ব্যাখ্যা

• 'চিকুর' শব্দের অর্থ - চুল, কেশ।

অন্যদিকে,
'ঘোড়া' শব্দের অর্থ - ঘোটক, বাজী, অশ্ব।
'কেশব' শব্দের অর্থ - বিষ্ণু, কৃষ্ণ, গোপাল।
'কালো' শব্দের অর্থ - কৃষ্ণ, শ্যাম, শ্যামল।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

২৯.
কোন কারকে স্থান, কাল, বিষয় ও ভাব নির্দেশিত হয়?
  1. কর্ম 
  2. অধিকরণ 
  3. করণ 
  4. অপাদান 
ব্যাখ্যা

অধিকরণ কারক:
- যে কারকে স্থান, কাল, বিষয় ও ভাব নির্দেশিত হয়, তাকে অধিকরণ কারক বলে। এই কারকে সাধারণত এ, য়, য়ে, তে ইত্যাদি বিভক্তি শব্দের সঙ্গে যুক্ত হয়।

যেমন:
- রাজীব বাংলা ব্যাকরণে ভালো।
- কাননে কুসুমকলি সকলি ফুটিল। 
- ত্যাগে তিনি নিহঙ্কার।

অন্যদিকে, 
অপাদান কারক - যে কারকে ক্রিয়ার উৎস নির্দেশ করা হয়, তাকে অপাদান কারক বলে।
করণ কারক - 'করণ' শব্দটির অর্থ যন্ত্র, সহায়ক বা উপায়।
কর্ম কারক - যাকে আশ্রয় করে কর্তা ক্রিয়া সম্পাদন করে, তাকে কর্ম কারক বলে।

উৎস:
১) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২১ সংস্করণ)।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৩০.
'দোকান' শব্দের অর্থ নয় -
  1. আপণ
  2. বিপণি
  3. হাট
  4. কায়া
ব্যাখ্যা

'দোকান' শব্দের অর্থ:
- আপণ, বিপণি, হাট, পণ্যশালা, পণ্যনিকেতন, পণ্যগৃহ, পণ্যবিচিত্রা।

অন্যদিকে,
'কায়া' শব্দের অর্থ - দেহ, শরীর, তনু।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

৩১.
'ওঠ ছুড়ি তোর বিয়ে' - প্রবাদ প্রবচনের অর্থ কী?
  1. স্বজন বা সগোত্রের প্রতি অনুরাগ
  2. স্বার্থসিদ্ধির পরে গুরুত্ব না দেয়া বা এড়িয়ে চলা
  3. আকস্মিকভাবে বড় বিষয় সম্পন্নের চেষ্টা
  4. অযোগ্যের বিপরীত নামকরণ
ব্যাখ্যা

• 'ওঠ ছুড়ি তোর বিয়ে' প্রবাদ প্রবচনের অর্থ - আকস্মিকভাবে বড় বিষয় সম্পন্নের চেষ্টা

অন্যদিকে,
কানা-ছেলের নাম পদ্মলোচন - অযোগ্যের বিপরীত নামকরণ।
কাজের বেলায় কাজি, কাজ ফুরালে পাজি - স্বার্থসিদ্ধির পরে গুরুত্ব না দেয়া বা এড়িয়ে চলা।
কাকের মাংস কাকে খায় না - স্বজন বা সগোত্রের প্রতি অনুরাগ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৩২.
'বুদ্ধির ঢেঁকি' বাগ্‌ধারার অর্থ -
  1. সাধু বেশে অসৎ লোক
  2. ভণ্ড তপনী
  3. নির্বোধ
  4. অর্বাচীন
ব্যাখ্যা

• 'বুদ্ধির ঢেঁকি' বাগ্‌ধারার অর্থ - নির্বোধ

অন্যদিকে,
ভুইফোঁড় - অর্বাচীন।
বিড়াল তপস্বী - ভণ্ড তপনী।
ভিজে বেড়াল - সাধু বেশে অসৎ লোক।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৩৩.
'রাশভারী' বাগ্‌ধারার অর্থ -
  1. গম্ভীর প্রকৃতি
  2. ভান করা
  3. নষ্ট করা
  4. সর্বস্বান্ত
ব্যাখ্যা

• 'রাশভারী' বাগ্‌ধারার অর্থ - গম্ভীর প্রকৃতি

অন্যদিকে,
ভিটায় ঘুঘু চরানো - সর্বস্বান্ত।
মাথা খাওয়া - নষ্ট করা।
ভেক ধরা - ভান করা।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।