পরীক্ষা আর্কাইভ

৪৯তম বিসিএস ⎯ ইতিহাস [১৮১]

পরীক্ষা৪৯তম বিসিএস ⎯ ইতিহাস [১৮১]তারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়25 minutes
মোট প্রশ্ন৩৪
সিলেবাস
Exam 9 Topic: Part-II: Part-A Group-I: Sultanate Period a. Coming of Muslims: Invasion of Sindh, Invasion of Sultan Mahmud of Ghazni, Ghoride invasion. b. Sultans: Iltutmish, Balban, Alauddin Khilji, Mohammad bin Tughlaq. Source: Class – 5, relevant books
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

৪৯তম বিসিএস ⎯ ইতিহাস [১৮১]

৪৯তম বিসিএস ⎯ ইতিহাস [১৮১] · তারিখ অনির্ধারিত · ৩৪ প্রশ্ন

.
Who was Muhammad bin Qasim?/মুহাম্মদ বিন কাসেম কে ছিলেন?
  1. A Mughal Emperor / একজন মুঘল সম্রাট
  2. An Arab General / একজন আরব সেনাপতি
  3. A Turkish Sultan / একজন তুর্কি সুলতান
  4. A Persian King / একজন পারস্যের রাজা
ব্যাখ্যা

 মুহাম্মদ বিন কাসিম আস ছিলেন একজন তরুণ আরব সেনাপতি। উমাইয়া সেনাপতি ও মুসলিম বিজেতা। তিনি ভারতীয় উপমহাদেশের অন্তর্ভুক্ত সিন্ধু নদসহ সিন্ধু এবং মুলতান জয় করে তা ইসলামি উমাইয়া খিলাফতের অন্তর্ভুক্ত করেন। তার সিন্ধু বিজয়ের ফলে মুসলিমদের জন্য ভারত বিজয়ের পথ প্রশস্ত হয়। বিন কাসিম ৭১২ সালে মাত্র ১৭ বছর বয়সে তৎকালীন রাজা দাহিরকে পরাজিত করে সিন্ধু জয় করেন। তার নেতৃত্বে আরব বাহিনী প্রথমবারের মতো ভারতীয় উপমহাদেশে প্রবেশ করে। তার জয়যাত্রার মাধ্যমে ভারতীয় উপমহাদেশে ইসলাম প্রচারের ভিত্তি স্থাপিত হয়। তাই তাকে ভারতবর্ষে মুসলিম শাসনের প্রথম প্রতিষ্ঠাতা সেনাপতি বলা হয়।

উৎস 

স্ট্যানলি লেন-পুল, Medieval India
যদুনাথ সরকার, History of India

.
In which year did Muhammad bin Qasim invade Sindh?/মুহাম্মদ বিন কাসেম কত সালে সিন্ধ আক্রমণ করেন?
  1. 661 AD / খ্রিষ্টাব্দ ৬৬১
  2. 712 AD / খ্রিষ্টাব্দ ৭১২
  3. 750 AD / খ্রিষ্টাব্দ ৭৫০
  4. 800 AD / খ্রিষ্টাব্দ ৮০০
ব্যাখ্যা

মুহাম্মদ বিন কাসিম ৬০০০ অশ্বারোহী ও ৬০০০ উষ্ট্রারোহী নিয়ে সিন্ধু অভিযানে যাত্রা করেন। এই বিশাল বাহিনীর রসদ বহনের জন্য ৩০০০ উট ছিল। বিশাল সৈন্যবাহিনী নিয়ে কাসিম সিরাজ ও মাকরানের পথ ধরে দেবলের দিকে অগ্রসর হন। হিন্দু শাসকের প্রতি বিরূপভাবাপন্ন স্থানীয় বহু জাট ও মেভ কাসিমের বাহিনীতে যোগদান করেন। ৭১২ খ্রিস্টাব্দের বসন্তকালে কাসিম দেবলে উপস্থিত হন। এই আক্রমণের মূল কারণ-
১.হাজ্জাজের কঠোর শাসনে কিছু আরব বিদ্রোহ করে এবং তারা সিন্ধুতে আশ্রয় গ্রহণ করে। হাজ্জাজ তাদের ফেরৎ চাইলে সিন্ধুর রাজা দাহির তাদের ফিরিয়ে দিতে অস্বীকার করেন। ফলে হাজ্জাজ রাগানি¦ত হয়ে সিন্ধু আক্রমণের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। 
২.ভারতের অতুল ঐশ্বর্য অতি প্রাচীনকাল থেকেই তাঁর বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। আরবদের সিন্ধু আক্রমণের আগে ও পরে বহু বিদেশী শক্তিই ভারতের ধন-সম্পদের লোভে এদেশ আক্রমণ করেছিল। 
৩.সিন্ধু উপকূলে জলদস্যু কর্তৃক আরবদের জাহাজ লুণ্ঠন ছিল আরবদের সিন্ধু অভিযানের প্রত্যক্ষ কারণ।

 

উৎস- প্রভাতাংশু মাইতি- ভারত ইতিহাস পরিক্রমা

.
During whose reign did India have deep cultural contacts with the Arabs?/ আরবদের সঙ্গে ভারতের গভীর সাংস্কৃতিক যোগাযোগ ঘটে কাদের সময়ে?
  1. Age of Umaiya / উমাইয়া যুগে
  2. Age of Abbasiyad/ আব্বাসীয় যুগে
  3. Age of Khulafai Rashedin/ খোলাফায়ে রাশিদীনের সময়
  4. During Muhammad (sm.) / মহানবীর সময়ে
ব্যাখ্যা

মুহাম্মদ বিন কাসিমের সিন্ধু বিজয়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ফলাফল দেখা যায় সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে। উমাইয়া যুগের মুসলমান সংস্কৃতি ভারতীয়দের দ্বারা দারুণভাবে প্রভাবিত হয়েছিল। আরবরা এদেশে এসে এখানকার উঁচু মানের সভ্যতা দেখে বিস্মিত হয়েছিল। আরবরা ভারতীয় সঙ্গীতজ্ঞ, চিত্রশিল্পী, দার্শনিক, পন্ডিত ও কারিগরদের ভূয়সী প্রশংসা করেছিল। তাবারির বিবরণ থেকে জানা যায় যে অসুস্থ হয়ে পড়লে খলিফা হারুন-উর-রশিদ ভারত থেকে একজন চিকিৎসক নিয়ে গিয়েছিলেন এবং তাঁর চিকিৎসাতেই খলিফা আরোগ্য লাভ করেছিলেন। ভারতীয় বহু চিকিৎসাশাস্ত্র গ্রন্থও আরবি ভাষায় অনুদিত হয়। এগুলোর মধ্যে শশ্রু ও চরকের গ্রন্থ দুটি আরবে বিশেষ জনপ্রিয়তা লাভ করেছিল। পশু-চিকিৎসা এবং সর্পদংশন চিকিৎসা সম্পর্কিত কয়েকটি গ্রন্থও আরবিতে অনুবাদ করা হয়েছিল। এ থেকে বোঝা যায় যে, আরবরা ভারতীয় চিকিৎসাশাস্ত্রের কাছে বিশেষভাবে ঋণী।

উৎস
স্ট্যানলি লেন-পুল, Medieval India
যদুনাথ সরকার, History of India
প্রভাতাংশু মাইতি- ভারত ইতিহাস পরিক্রমা

.
Who imprisoned Muhammad bin Qasim later in his life?/পরবর্তী জীবনে মুহাম্মদ বিন কাসেমকে কে কারাগারে পাঠায়?
  1. Caliph Umar II / খলিফা উমর I
  2. Raja Dahir’s sons / রাজা দাহিরের পুত্ররা
  3. Caliph Suleman / খলিফা সুলাইমান
  4. Hajjaj bin Yusuf / হাজ্জাজ বিন ইউসুফ
ব্যাখ্যা

মুহাম্মদ বিন কাসিমের মৃত্যু সম্পর্কে বিতর্কিত তথ্যাদি পাওয়া যায়। একটি উৎসানুসারে দাহিরের মৃত্যুর পর তাঁর দুই কন্যাকে খলিফার কাছে পাঠানো হয়। তাঁরা খলিফার কাছে মুহাম্মদ বিন কাসিমের বিরুদ্ধে তাঁদের শ্লীলতাহানির অভিযোগ করলে খলিফা মুহাম্মদ বিন কাসিমকে কাঁচা চামড়ার থলিতে ঢুকিয়ে তাঁর কাছে পাঠাবার নির্দেশ দেন। মুহাম্মদ বিন কাসিম নিজেই কাঁচা চামড়ার থলিতে ঢুকেন এবং দুএকদিনের মধ্যেই মারা যান। চামড়ার থলি খলিফার কাছে পৌঁছালে দাহিরের কন্যারা তাঁদের মিথ্যা অভিযোগের কথা স্বীকার করে। ক্রুদ্ধ খলিফা দাহিরের দুই মেয়েকে ঘোড়ার লেজের সঙ্গে বেঁধে মারা না যাওয়া পর্যন্ত তাদের রাস্তায় রাস্তায় টানার আদেশ দেন। অনেকের মতে এটা একটা বানানো বাহিনী, তবে মুহাম্মদ বিন কাসিমের শেষ জীবন যে অত্যন্ত বেদনাদায়ক ছিল তাতে কোনো সন্দেহ নেই। অন্য একটি উৎসানুসারে বন্দি করে মুহাম্মদ বিন কাসিমকে খলিফার কাছে পাঠানোর পরে খলিফার আদেশে অত্যাচার করে তাঁকে মারা হয়। কোনো কোনো ঐতিহাসিক মুহাম্মদ বিন কাসিমের বেদনাদায়ক শেষ পরিণতির জন্য দামেস্কে উমাইয়া খলিফার পরিবর্তন এবং হাজ্জাজ বিন ইউসুফের বংশের প্রতি নতুন খলিফার নিষ্ঠুর নীতিকে দায়ী করেন। খলিফা ওয়ালিদের আমলে সিন্ধু বিজিত হয় এবং তখন হাজ্জাজের ছিল প্রবল প্রতিপত্তি। কিন্তু পরবর্তী খলিফা সোলায়মান ছিলেন হাজ্জাজের শত্রু। ইতোমধ্যে হাজ্জাজের মৃত্যু হলে খলিফার রোষ পড়ে তাঁর বংশধর মুহাম্মদ বিন কাসিমের ওপর এবং এ কারণেই মুহাম্মদ বিন কাসিমের এ করুণ পরিণতি ঘটে। 

উৎস
আব্দুল করিম, ভারতীয় উপমহাদেশে মুসলিম রাজত্বের ইতিহাস
প্রভাতাংশু মাইতি- ভারত ইতিহাস পরিক্রমা

.
Who was the father of Sultan Mahmud?/ সুলতান মাহমুদের পিতা কে ছিলেন?
  1. Alptigin / আলপ্তেগন
  2. Tughril Beg / তুঘরিল বেগ
  3. Ghiyasuddin / গিয়াসউদ্দিন
  4. Sebuktigin / সবুক্তিগন
ব্যাখ্যা

৯৭৭ সালে আলপ্তিগীনের মৃত্যুর পর তাঁর ক্রীতদাস ও জামাতা সবুক্তিগীন গজনীর সিংহাসনে আরোহণ করেন। সবুক্তিগীনের মৃত্যুর পর তাঁর পুত্র মাহমুদ ৯৯৭ সালে গজনীর অধিপতি হন। গজনীর তুর্কি সুলতান মাহমুদই ভারতে মুসলমান অভিযানের দ্বিতীয় পর্যায়ে নায়ক।

উৎস 

আব্দুল করিম, ভারতীয় উপমহাদেশে মুসলিম রাজত্বের ইতিহাস
প্রভাতাংশু মাইতি- ভারত ইতিহাস পরিক্রমা

.
How many times did Mahmud of Ghazni invade India?/ সুলতান মাহমুদ গজনী ভারত আক্রমণ করেন কতবার?
  1. 10 times / ১০ বার
  2. 15 times / ১৫ বার
  3. 17 times / ১৭ বার
  4. 20 times / ২০ বার
ব্যাখ্যা

স্যার হেনরি ইলিয়টের মতে ,তেত্রিশ বছরের রাজত্বকালে (৯৯৭-১০৩০ খ্রি:) সুলতান মাহমুদ ১৭ বার ভারত আক্রমণ করেছিলেন এবং প্রতিবারই সাফল্য অর্জন করেছিলেন। রাজত্বের শেষ দিকে তিনি শুধু পাঞ্জাব, সিন্ধু এবং মুলতান তাঁর দখলে রেখেছিলেন। এগুলো ছাড়া বিজিত বা আক্রান্ত অন্য কোনো রাজ্য বা অঞ্চল তিনি তাঁর সাম্রাজ্যভুক্ত করেন নি।

উৎস
আব্দুল করিম, ভারতীয় উপমহাদেশে মুসলিম রাজত্বের ইতিহাস
প্রভাতাংশু মাইতি- ভারত ইতিহাস পরিক্রমা

.
What was the main purpose of Mahmud’s invasions of India?/ মাহমুদের ভারতের আক্রমণের প্রধান উদ্দেশ্য কী ছিল?
  1. To spread Islam / ইসলাম প্রচার
  2. To plunder wealth / ধনসম্পদ লুণ্ঠন
  3. To establish Turkey Empire / তুর্কি সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা
  4. To defeat the Hindu / হিন্দুদের পরাজিত করা
ব্যাখ্যা

সুলতান মাহমুদ অব গাজনভী ভারতের প্রতি ১৭টি আক্রমণ পরিচালনা করেছিলেন। প্রধান উদ্দেশ্য ছিল ভারতীয় মন্দির ও নগরসমূহে প্রচুর ধন ও মূল্যবান সামগ্রী লুট করা। ভারতে স্থায়ী রাজ্য স্থাপনের কোন চেষ্টা তিনি করেন নি। সামরিক অভিযানের বিরাট ব্যয় নির্বাহ করতে সুলতান মাহমুদ ভারত থেকে ধনরত্ন লুট করে নিয়ে যান।ইসলাম প্রচার ছিল আংশিক উদ্দেশ্য, তবে প্রধান লক্ষ্য অর্থ ও সম্পদ অর্জন।

উদাহরণস্বরূপ, সোমনাথ মন্দির আক্রমণ এবং অন্যান্য দক্ষিণ ও পশ্চিম ভারতীয় রাজ্য আক্রমণ তাঁর ধনলুট ও ক্ষমতা প্রদর্শনের জন্য করা হয়েছিল।

উৎস 

আব্দুল করিম, ভারতীয় উপমহাদেশে মুসলিম রাজত্বের ইতিহাস
প্রভাতাংশু মাইতি- ভারত ইতিহাস পরিক্রমা

.
Which famous temple did Mahmud destroy in 1024-25 AD?/মাহমুদ ১০২৪-২৫ খ্রিষ্টাব্দে কোন বিখ্যাত মন্দির ধ্বংস করেন?
  1. Somnath Temple / সোমনাথ মন্দির
  2. Jagannath Temple / জগন্নাথ মন্দির
  3. Kashi Vishwanath Temple / কাশী বিশ্বনাথ মন্দির
  4. Konark Temple / কোনরাক মন্দির
ব্যাখ্যা

সুলতান মাহমুদের ভারতীয় অভিযানগুলোর মধ্যে ১০২৪ খ্রিস্টাব্দে সোমনাথ আক্রমণ ছিল সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য। দুর্গাধিপতি পালিয়ে গেলেও তাঁর সৈন্যরা দুর্গ রক্ষা করার চেষ্টা করেছিল। প্রচন্ড যুদ্ধের পর দুর্গের পতন ঘটলে সুলতান মাহমুদ সোমনাথ মন্দিরে প্রবেশ করেন। সোমনাথ মন্দিরের মূর্তি তিনি ভেঙ্গে ফেলেন এবং এ মন্দির থেকে প্রচুর ধনরত্ন লাভ করেন। মন্দির থেকে অন্যান্য মণিমুক্তা ছাড়াও সুলতান মাহমুদ ২০,০০০,০০০ দিনার পেয়েছিলেন। কথিত আছে যে, সুলতান মাহমুদ সোমনাথ মন্দিরের দেবমূর্তি ভাঙ্গতে উদ্যত হলে ব্রাহ্মণরা প্রচুর ধনরতের বিনিময়ে মূর্তিটি রক্ষা করার চেষ্টা করে। কিন্তু মাহমুদ ঘোষণা করেন যে ভাবীকালে তিনি মূর্তি ধ্বংসকারী হিসাবে স্মরণীয় হয়ে থাকতে চান, মূর্তি বিক্রেতা রূপে নয়।

উৎস
আব্দুল করিম, ভারতীয় উপমহাদেশে মুসলিম রাজত্বের ইতিহাস
প্রভাতাংশু মাইতি- ভারত ইতিহাস পরিক্রমা

.
Which Persian poet wrote ‘Shahnama’ in Mahmud’s court?/মাহমুদের দরবারে কোন পারসিক কবি ‘শাহনামা’ রচনা করেন?
  1. Sa’di / সাদি
  2. Firdausi / ফেরদৌসি
  3. Omar Khayyam / ওমর খৈয়াম
  4. Rumi / রুমি
ব্যাখ্যা

গজনির সুলতান মাহমুদের রাজদরবারে উপস্থিত হন আবুল কাশেম। সঙ্গে নিয়েছিলেন নিজের লেখা কবিতা। সে কবিতা আবৃত্তি করে শোনান আবুল কাশেম। সুলতান আবৃত্তি শুনে বললেন, ‘হে ফেরদৌসি, তুমি সত্যিই আমার দরবারকে যেন বেহেশতে পরিণত করে দিয়েছ।’ তিনি তাকে ‘ফেরদৌসি’ উপাধি দিলেন। সেই থেকে আবুল কাশেম নামটিকে ছাপিয়ে গেল ফেরদৌসি। মহাকাব্য শাহনামার রচয়িতা ফেরদৌসি। বিশ্ব তাকে চেনে ফারসি মহাকবির পরিচয়ে। তার পুরো নাম হাকিম আবুল কাসেম ফেরদৌসি তুসি। শাহনামা পারস্যের ইতিহাস, বীরত্বগাথা ও কিংবদন্তিকে কবিতার মাধ্যমে উপস্থাপন করে।মাহমুদ গাজনভীর দরবারে ফেরদৌসি সাহিত্য ও কবিতার জন্য সম্মানিত ছিলেন। যদিও ফেরদৌসি উপন্যাসিক সাহিত্যের মধ্যে অর্থনৈতিক সমস্যার কারণে তিনি মাহমুদ গাজনভীর কাছ থেকে প্রত্যাশিত পুরস্কার পাননি, তথাপি তাঁর শাহনামা পারস্যের সাহিত্য ও সংস্কৃতির অন্যতম গ্রন্থ  হিসেবে পরিচিত। এটি পারসিক সাহিত্যের এক অমূল্য রচনা, যা রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও ঐতিহাসিক তথ্য বহন করে।

উৎস 

আব্দুল করিম, ভারতীয় উপমহাদেশে মুসলিম রাজত্বের ইতিহাস
প্রভাতাংশু মাইতি- ভারত ইতিহাস পরিক্রমা

১০.
Who was Shamsuddin Iltutmish? / শামসুদ্দিন ইলতুতমিশ কে ছিলেন?
  1. Turkish poet / তুর্কি কবি
  2. Afghan ruler / আফগান শাসক
  3. Mughal Emperor / মুঘল সম্রাট
  4. Slave king of Delhi / দিল্লির দাস বংশের সুলতান
ব্যাখ্যা

ইলতুৎমিশ (১২১১-১২৩৬)  দিল্লি সালতানাতের প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে বিবেচিত শামসুদ্দীন ইলতুৎমিশ তুর্কিস্তানের ইলবারি গোত্রের এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি দিল্লির সুলতান কুতুবউদ্দীনের অধীনে বদায়ুনের শাসনকর্তা নিযুক্ত হন। তার সঙ্গে সুলতানের এক কন্যার বিবাহ দেওয়া হয়। ইলতুৎমিশ ১২১১ খ্রিস্টাব্দে দিল্লির সিংহাসনে আরোহণ করেন।

উৎস- বাংলাপিডিয়া

১১.
When did Iltutmish become the Sultan of Delhi?/ইলতুতমিশ কবে দিল্লির সুলতান হন?
  1. 1193 AD / খ্রি. ১১৯৩
  2. 1211 AD / খ্রি. ১২১১
  3. 1220 AD / খ্রি. ১২২০
  4. 1236 AD / খ্রি. ১২৩৬
ব্যাখ্যা

শামসুদ্দিন ইলতুতমিশ ১২১১ খ্রিষ্টাব্দে দিল্লির দাসবংশের তৃতীয় সুলতান হিসেবে সিংহাসনে বসেন। তার আগে তিনি দাস সাম্রাজ্যের একজন সশস্ত্র সেনাপতি ও প্রশাসক হিসেবে খ্যাত ছিলেন। ইলতুতমিশের শাসনকালে দিল্লি রাজনৈতিক ও সামরিকভাবে শক্তিশালী কেন্দ্রে পরিণত হয়। তিনি দিল্লি দাসবংশকে সংহত করা, নতুন অঞ্চল অধিগ্রহণ এবং প্রশাসনিক সংস্কার চালু করা–এর জন্য স্মরণীয়।

উৎস 

আব্দুল করিম, ভারতীয় উপমহাদেশে মুসলিম রাজত্বের ইতিহাস
প্রভাতাংশু মাইতি- ভারত ইতিহাস পরিক্রমা

১২.
Which famous coin system was introduced by Iltutmish?/ ইলতুতমিশ কোন বিখ্যাত মুদ্রা প্রবর্তন করেন?
  1. Jitol and Tanka / জিতল ও টঙ্কা
  2. Gold Dinar / সোনার দিনার
  3. Silver Dirham / রৌপ্য দিরহাম
  4. Copper Paisa / তামার পয়সা
ব্যাখ্যা

ইলতুতমিশ দিল্লি সুলতানতের শাসনকালে জিতল ও টঙ্কা মুদ্রা ব্যবস্থা চালু করেন। টঙ্কা ছিল রৌপ্য মুদ্রা এবং টঙ্কা ছিল তামার মুদ্রা। এ ছাড়া সোনার মুদ্রাও ছিল তার সময়ে।  রুপার মুদ্রার ওজন ছিল ১৭৫ গ্রাম।এই মুদ্রা ব্যবস্থার মাধ্যমে রাজস্ব সংগ্রহ ও বাণিজ্য পরিচালনা সহজ হয়। ইলতুতমিশের প্রবর্তিত মুদ্রা ব্যবস্থা দিল্লি সুলতানতের আর্থিক ও অর্থনৈতিক ভিত্তি মজবুত করে। পরবর্তী সময়ে এই মুদ্রা ব্যবস্থা ভারতের বিভিন্ন মুসলিম শাসকদের মধ্যে প্রচলিত হয়। 

উৎস 

প্রভাতাংশু মাইতি- ভারত ইতিহাস পরিক্রমা

১৩.
Who completed the Qutub Minar after Qutbuddin Aibak’s death?/কুতুবউদ্দিন আইবকের মৃত্যুর পর কুতুব মিনার কে সম্পূর্ণ করেন?
  1. Razia Sultan / রজিয়া সুলতানা
  2. Alauddin Khilji / আলাউদ্দিন খিলজি
  3. Balban / বলবন
  4. Iltutmish / ইলতুতমিশ
ব্যাখ্যা

কুতুব মিনার ভারতের নতুন দিলিস্নতে অবস্থিত একটি স্তম্ভ বা মিনার, যা বিশ্বের সর্বোচ্চ ইটনির্মিত মিনার। দিল্লি সালতানাতের প্রথম শাসক কুতুবুদ্দিন আইবেকের আদেশে ১১৯৩ খ্রিষ্টাব্দে কুতুব মিনারের নির্মাণকাজ শুরু হয়। কুতুবউদ্দিন আইবকের মৃত্যুর পর ইলতুতমিশ  কুতুব মিনার  সম্পূর্ণ করেন ।তবে ১৩৮৬ খ্রিষ্টব্দে মিনারের ওপরের তলাগুলোর কাজ সম্পূর্ণ করেন ফিরোজ শাহ তুঘলক। কুতুব মিনার ইন্দো-ইসলামি স্থাপত্যের এক গুরুত্বপূর্ণ এবং অন্যতম প্রাচীন নিদর্শন। এর আশপাশে আরও বেশ কিছু প্রাচীন এবং মধ্যযুগীয় স্থাপনা ও ধ্বংসাবশেষ রয়েছে, যা একত্রে কুতুব মিনার চত্বর হিসেবে পরিচিত। এই চত্বরটি ইউনেস্কো কর্তৃক বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান হিসেবে তালিকাবদ্ধ হয়েছে। 

উৎস 

প্রভাতাংশু মাইতি- ভারত ইতিহাস পরিক্রমা

১৪.
Who was the first woman ruler of Delhi Sultanate and daughter of Iltutmish?/ দিল্লি সুলতানির প্রথম নারী শাসক ও ইলতুতমিশের কন্যা কে ছিলেন?
  1. Razia Sultan / সুলতানা রজিয়া
  2. Gulbadan Begum / গুলবদন বেগম
  3. Mumtaz Mahal / মুমতাজ মহল
  4. Nur Jahan / নূরজাহান
ব্যাখ্যা

ইলতুতমিশ তার জীবদ্দশায় তার কন্যা রাজিয়াকেই তার সিংহাসনের উত্তরাধিকারী হিসেবে মসোসীত করেন। সুলতানা রজিয়া ছিলেন দিল্লি সুলতানির প্রথম নারী শাসক এবং ইলতুতমিশের কন্যা। তিনি ১২৩৬  খ্রিষ্টাব্দে সিংহাসনে বসেন, যখন তার পিতা ইলতুতমিশ মৃত্যুবরণ করেন। রজিয়ার শাসনকাল ছিল সংক্ষিপ্ত, কিন্তু তাঁর দক্ষতা, নীতি এবং সামরিক নেতৃত্ব তাকে স্মরণীয় করেছে। তিনি পুরুষদের মতো সামরিক অভিযান ও প্রশাসন পরিচালনা করতেন, যা নারী শাসকের জন্য বিরল। সুলতানা রজিয়া দিল্লি সুলতানতের ইতিহাসে এক ব্যতিক্রমী চরিত্র হিসেবে পরিচিত। ১২৪০ সালে তিনি ক্ষমতাচ্যুত ও নিহত হন।

উৎস 

প্রভাতাংশু মাইতি- ভারত ইতিহাস পরিক্রমা

১৫.
Which administrative group was created by Iltutmish to control nobles?/ ইলতুতমিশ অভিজাতদের নিয়ন্ত্রণে কোন প্রশাসনিক সংস্থা তৈরি করেছিলেন?
  1. Iqta system / ইকতা পদ্ধতি
  2. Diwan-i-Arz / দিওয়ান-ই-আর্জ
  3. Mansabdari system / মনসবদারি পদ্ধতি
  4. Chahalgani (Group of Forty) / চেহেলগানি (চল্লিশ জনের দল)
ব্যাখ্যা

চেহেলগানি হলো ইলতুতমিশের তৈরি একটি প্রশাসনিক ও সামরিক সংস্থা। এটি ৪০ জন বাছাই করা ক্রীতদাসকে শাসনকার্যের বিশেষ দায়িত্ব দেন।  উদ্দেশ্য ছিল দিল্লি দাসবংশের অভিজাতদের শক্তি ও প্রভাব নিয়ন্ত্রণ করা।এই সংস্থা রাজ্য প্রশাসন ও সামরিক নেতৃত্বকে শক্তিশালী ও নিয়ন্ত্রিত রাখে, যাতে কোনো অভিজাত বা সেনাপতি স্বতন্ত্রভাবে শাসনের বিরুদ্ধে যেতে না পারে। চেহেলগানি ইলতুতমিশের শাসনব্যবস্থা সংহত করার মূল কৌশল ছিল।

উৎস 

প্রভাতাংশু মাইতি- ভারত ইতিহাস পরিক্রমা

১৬.
Which theory did Balban use to enhance the image of kingship?/রাজশক্তির মর্যাদা বাড়াতে বলবন কোন মতবাদ ব্যবহার করেছিলেন?
  1. Theory of Divine Kingship / ঐশ্বরিক রাজতত্ত্ব
  2. Social Contract Theory / সামাজিক চুক্তি তত্ত্ব
  3. Democratic Theory / গণতান্ত্রিক তত্ত্ব
  4. Feudal Theory / সামন্ততান্ত্রিক তত্ত্ব
ব্যাখ্যা

তিনি সালতানাতের মর্যাদা বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। তিনি বলতেন, রাজা হচ্ছেন আল্লাহর প্রতিনিধি।এর দ্বারা তিনি অন্যাণ্য র্তুকী র্কমচারীরা সুলতান অপক্ষো হীন এ কথা বুঝানোর চষ্টো করতনে। তিনি রাজার দৈবসত্ত্বায় বিশ্বাস করতেন। বলবন ‘জিল্লুল্লাহ’ উপাধি গ্রহণ করেন। তিনি সালতানাতের প্রতি জন সাধারণের শ্রদ্ধা বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে রাজদরবারে পারসিক রীতির প্রবর্তন করেন। 
উৎস- ইসলামরে ইতহাস ও সংস্কৃতি (উচ্চমাধ্যমকি ২য় পত্র)

১৭.
Balban suppressed which rebel group in his reign?/ তার শাসনকালে বালবান কোন বিদ্রোহী গোষ্ঠী দমন করেন?
  1. Pathans / পাঠান
  2. Turks / তুর্কি
  3. Afghans / আফগান
  4. Rajputs / রাজপুত
ব্যাখ্যা

দুধর্ষ মেওয়াটি দস্যুরা ছিল মেওয়াট বা আলোয়ারের পার্বত্য অঞ্চলের অধিবাসী। এই রাজপুত মেওয়াটি দস্যুগণ প্রকাশ্যে দিল্লির রাজপথে পথিকদের সবকিছু লুঠ করে নিয়ে যেত। সুলতান বলবন দিল্লির উপকণ্ঠ থেকে এসকল দস্যুদের বিতাড়িত করেন এবং তাদের অনেককে হত্যা করেন। সুলতান নিজেই মেওয়াটি দস্যুদের প্রধান ঘাঁটি কাম্পিল, পাতিয়ালী, ভোজপুর প্রভৃতি স্থানে সামরিক অভিযান পরিচালনা করেন। মেওয়াটি দস্যুদের ভবিষ্যত আক্রমণ থেকে দিল্লিকে রক্ষার জন্য সুলতান বলবন গোপালগীরের দুর্গ নির্মাণ করেন এবং জালালী দুর্গটি সংস্কার করেন। 
উৎস- ইসলামরে ইতহাস ও সংস্কৃতি (উচ্চমাধ্যমকি ২য় পত্র)

১৮.
Who was the founder of the Khilji Dynasty in India?/ ভারতে খলজি বংশের প্রতিষ্ঠাতা কে ছিলেন?
  1. Jalaluddin Khalji / জালালউদ্দিন খলজি
  2. Alauddin Khalji / আলাউদ্দিন খলজি
  3. Mubarak Shah / মুবারক শাহ
  4. Qutbuddin Aibak / কুতুবউদ্দিন আইবক
ব্যাখ্যা

জালালউদ্দিন ফিরোজ খলজি ছিলেন খলজি বংশের প্রতিষ্ঠাতা। তিনি ১২৯০ খ্রিস্টাব্দে দিল্লিতে ক্ষমতা গ্রহণ করে খলজি বংশের শাসন শুরু করেন। তার শাসনকাল সংক্ষিপ্ত হলেও, তিনি দিল্লি সুলতানতের সংহতি রক্ষা ও বেসামরিক শান্তি বজায় রাখার চেষ্টা করেছিলেন। খলজি বংশের শক্তিশালী ও প্রসিদ্ধ সুলতান পরবর্তীতে ছিলেন আলাউদ্দিন খলজি, যিনি তার নীতিমালা ও সামরিক অভিযানকে ব্যাপকভাবে প্রসারিত করেন।

উৎস
প্রভাতাংশু মাইতি- ভারত ইতিহাস পরিক্রমা

১৯.
Who established the agricultural department named ‘Diwan-i-Kohi’ for the improvement of agriculture in India?/ কোন সুলতান ভারতের কৃষির উন্নতির জন্য ‘দিউয়ান-ই-কোহি’ নামে কৃষি বিভাগ সৃষ্টি করেন?
  1. Alauddin Khalji / আলাউদ্দিন খলজি
  2. Balban / বলবন
  3. Muhammad bin Tughlaq / মুহাম্মদ বিন তুঘলক
  4. Sher Shah Suri / শের শাহ সূর
ব্যাখ্যা

মুহাম্মদ বিন তুঘলক (1325–1351 খ্রি.) ছিলেন দিল্লি সুলতানাতের এক বিতর্কিত শাসক। তিনি বহু নতুন পরিকল্পনা গ্রহণ করেছিলেন। কৃষির উন্নয়নের জন্য তিনি ‘দিউয়ান-ই-কোহি’ (Diwan-i-Kohi) নামে একটি নতুন কৃষি বিভাগ সৃষ্টি করেন। এর মূল উদ্দেশ্য ছিল—

• কৃষকদের ঋণ প্রদান,
• পতিত জমি আবাদে আনা,
• সেচ ব্যবস্থার উন্নতি করা।

তবে তার পরিকল্পনাগুলো অনেক ক্ষেত্রে বাস্তবসম্মত না হওয়ায় টেকসই হয়নি। এজন্য ইতিহাসে তাকে অনেক সময় “Wisest Fool” (জ্ঞানের মূর্খ) বলা হয়।

উৎস
প্রভাতাংশু মাইতি- ভারত ইতিহাস পরিক্রমা,
এ কে এম শাহনেওয়াজ,ভারত উপমহাদেশের ইতিহাস; মধ্যযুগ: সুলতানি পর্ব।

২০.
Who was Alauddin Khalji’s famous general that conquered South India?/ দক্ষিণ ভারত বিজেতা আলাউদ্দিন খলজির বিখ্যাত সেনাপতি কে ছিলেন?
  1. Amir Khusrau / আমির খসরু
  2. Qutbuddin / কুতুবউদ্দিন
  3. Balban / বলবন
  4. Malik Kafur / মালিক কাফুর
ব্যাখ্যা

১২৯৭ খ্রিস্টাব্দে সুলতান আলাউদ্দিন খলজি নিজ ভ্রাতা উলুঘ খান এবং মন্ত্রী নুসরাত খানকে গুজরাট অভিযানে প্রেরণ করেন। গুজরাটের তৎকালীন রাজা ছিলেন দ্বিতীয় রায় কণর্দেব। সুলতানের বাহিনীর আক্রমণে ভীত সন্ত্রস্ত হয়ে রাজা রায় কর্ণদেব তার কন্যা দেবলাদেবীকে নিয়ে দাক্ষিণাত্যের দেবগিরির রাজা রামচন্দ্র দেবের রাজপ্রাসাদে আশ্রয় গ্রহণ করেন। সুলতানের বাহিনী রাজধানী আনহিলওয়ারাসহ সমগ্র গুজরাট ও ক্যাম্বে হস্তগত করেণ। রানী কমলাদেবীসহ কাফুর নামক একজন খোজাকে বন্দি করে দিল্লিতে নিয়ে আসা হয়। সুলতান আলাউদ্দিন খলজি রানী কমলাদেবীকে বিবাহ করেন। আর খোজা কাফুর-পরবর্তীতে মালিক কাফুর নামে প্রসিদ্ধি লাভ করেন। তিনি আলাউদ্দিন খলজির প্রধান সেনাপতি ও অমাত্যেও পদ অলংকৃত করেন।

তিনি দক্ষিণ ভারতের বিভিন্ন রাজ্য জয় করে অমীর আলাউদ্দিনের সাম্রাজ্য সম্প্রসারণ করেছিলেন।

মালিক কাফুরের নেতৃত্বে চল্লিশ দিনের মধ্যে দক্ষিণ ভারতের সমৃদ্ধ রাজ্যগুলো征服 করা হয়, যার মধ্যে দ্রাবিড় রাজ্য ও রাজপুতানা অঞ্চলের উপনিবেশ অন্তর্ভুক্ত ছিল।
তিনি সেনাবাহিনীর শক্তি ও শাসকের নীতি অনুযায়ী লুটপাট ও রাজস্ব সংগ্রহ নিশ্চিত করেছিলেন।
মালিক কাফুরের অভিযান খলজি সাম্রাজ্যের দক্ষিণ ভারত পর্যন্ত বিস্তার এবং অর্থনৈতিক শক্তি বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

উৎস:
প্রভাতাংশু মাইতি- ভারত ইতিহাস পরিক্রমা,
এ কে এম শাহনেওয়াজ,ভারত উপমহাদেশের ইতিহাস; মধ্যযুগ: সুলতানি পর্ব।

২১.
Which famous traveler visited India during the reign of Muhammad bin Tughlaq?/মুহাম্মদ বিন তুঘলকের রাজত্বকালে ভারতবর্ষে কোন ঐতিহাসিক পর্যটকের আগমন ঘটে?
  1. Marco Polo / মার্কো পোলো
  2. Hiuen Tsang / হিউয়েন সাঙ
  3. Ibn Battuta / ইবনে বতুতা
  4. Al-Biruni / আল-বিরুনি
ব্যাখ্যা

ইবনে বতুতা (Ibn Battuta) ছিলেন মরক্কোর এক খ্যাতনামা মুসলিম ভ্রমণকারী। তিনি ১৩৩৩ খ্রিস্টাব্দে মুহাম্মদ বিন তুঘলকের রাজত্বকালে ভারতে আগমন করেন। সুলতান তাকে দিল্লির কাজি (Chief Qazi) পদে নিয়োগ দিয়েছিলেন। তার ভ্রমণ কাহিনী ‘রিহলা’ (Rihla) গ্রন্থে লিপিবদ্ধ আছে, যা সে সময়কার ভারতের ইতিহাস জানার অন্যতম প্রধান উৎস।

উৎস
প্রভাতাংশু মাইতি- ভারত ইতিহাস পরিক্রমা
 এ কে এম শাহনেওয়াজ,ভারত উপমহাদেশের ইতিহাস; মধ্যযুগ: সুলতানি পর্ব

২২.
Which capital did Muhammad bin Tughlaq shift from Delhi?/ মুহাম্মদ বিন তুঘলক দিল্লি থেকে রাজধানী কোথায় স্থানান্তর করেছিলেন?
  1. Agra / আগ্রা
  2. Daulatabad (Devagiri) / দৌলতাবাদ (দেবগিরি)
  3. Lahore / লাহোর
  4. Kannauj / কনৌজ
ব্যাখ্যা

কৌশলগত ভৌগোলিক অবস্থান, উত্তর-পশ্চিম সীমান্তে ক্রমাগত মোঙ্গল আক্রমণের আশঙ্কা, দাক্ষিণাত্যের ধন-দৌলত, মুসলিম সভ্যতা ও সংস্কৃতির প্রসার এবং সর্বোপরি সাম্রাজ্যের মধ্যস্থলে অবস্থানের কারণে ১৩২৬-২৭ খ্রি. সুলতান মুহম্মদ বিন তুঘলক দিল্লি হতে ৭০০ মাইল দূরে অবস্থিত দেবগিরিতে রাজধানী স্থানান্তর করেন। দেবগিরির নতুন নামকরণ করেন দৌলতাবাদ। প্রায় ৮ বছর দৌলতাবাদে অবস্থানের পর সুলতান সবাইকে নিয়ে পুনরায় দিল্লিতে প্রত্যাবর্তন করেন। ফলে সুলতানের রাজধানী স্থানান্তর পরিকল্পনা ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়।

উৎস 
১. প্রভাতাংশু মাইত-ি ভারত ইতহিাস পরক্রিমা,
২. এ কে এম শাহনওেয়াজ,ভারত উপমহাদশেরে ইতহিাস; মধ্যযুগ: সুলতানি র্পব।

২৩.
Why is Muhammad bin Tughlaq called the ‘Wisest Fool’?/ মুহাম্মদ বিন তুঘলককে কেন "Wisest Fool" বলা হয়?
  1. For bravery / বীরত্বের কারণে
  2. For religious tolerance / ধর্মীয় সহিষ্ণুতার জন্য
  3. For impractical schemes despite good ideas / ভালো চিন্তার পরও অবাস্তব পরিকল্পনার জন্য
  4. For conquests / বিজয়ের জন্য
ব্যাখ্যা

মুহাম্মদ বিন তুঘলক (Muhammad bin Tughlaq) কে ইতিহাসে “Wisest Fool” বলা হয়। কারণ তিনি অসাধারণ চিন্তা ও উদ্ভাবনী নীতি প্রবর্তন করেছিলেন, যেমন: দিল্লি থেকে দেবগিরিতে রাজধানী স্থানান্তর,তাম্র মুদ্রা চালু করা। তবে এই নীতিগুলো প্রায়শই বাস্তবায়নযোগ্য হয়নি এবং জনগণ ও রাজ্যের জন্য বিপদজনক প্রমাণিত হয়। অর্থাৎ, তার উদ্ভাবনী মনন ছিল দূরদর্শী, কিন্তু বাস্তবায়নে ব্যর্থতার কারণে ভুল হিসেব হয়েছিল। এই মিলিত বৈশিষ্ট্যের কারণে তিনি “Wisest Fool” বা বুদ্ধিমান কিন্তু ভুলকারী শাসক হিসেবে স্মরণীয়।

উৎস
প্রভাতাংশু মাইতি- ভারত ইতিহাস পরিক্রমা
এ কে এম শাহনেওয়াজ,ভারত উপমহাদেশের ইতিহাস; মধ্যযুগ: সুলতানি পর্ব

২৪.
What was the time span of the Delhi Sultanate?/দিল্লীর সুলতানি আমলের সময়কাল কত?
  1. 1106 – 1526 AD
  2. 1206 – 1526 AD
  3. 1192 – 1526 AD
  4. 1206 – 1600 AD
ব্যাখ্যা

মাহাম্মদ ঘুরীর সাফল্যকে উপজীব্য করে ভারতে যে মুসলিম রাজত্বের সূত্রপাত হয় তার শাসনকেন্দ্র রূপে নির্বাচিত হয় দিল্লি। ১২০৬ সালে কুতুবউদ্দিন আইবেক থেকে শুরু করে ১৫২৬ সাল পর্যন্ত বাবরের নেতৃত্বে এই দিল্লিকে কেন্দ্র করে মোগল শাসন পত্তনের পূর্ব পর‌্যন্ত  দিল্লির মুসলমান শাসকরা সকলেই সুলতান উপাধি ধারন করতেন। তাই এ সময়কাল সুলতানি যুগ হিসেবে সমধিক পরিচিত। 

উৎস
প্রভাতাংশু মাইতি- ভারত ইতিহাস পরিক্রমা
এ কে এম শাহনেওয়াজ,ভারত উপমহাদেশের ইতিহাস; মধ্যযুগ: সুলতানি পর্ব

২৫.
Who was the real founder of the Muslim empire in the Indian subcontinent?/ভারত উপমহাদেশে মুসলিম সাম্রাজ্যের প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা কে ছিলেন?
  1. Qutbuddin Aibak / কুতুবউদ্দিন আইবক
  2. Iltutmish / ইলতুৎমিশ
  3. Muhammad Ghori / মুহাম্মদ ঘুরী
  4. Alauddin Khalji / আলাউদ্দিন খলজি
ব্যাখ্যা

ভারত উপমহাদেশে মুসলিম সাম্রাজ্যের প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা  ছিলেন মুহাম্মদ ঘুরী। কারণ ইত:পূর্বে ভারতে পরিচালিত দুটো মুসলিম সামরিক অভিযানে উপমহাদেশে মুসলিম রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার কোন লক্ষণ দেখা যায়নি। মুহাম্মদ বিন কাসিম ভারতের সিন্ধু বিজয় করলেও অল্প বয়সে তার মৃত্যু হওয়ায় ইসলামি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন ভঙ্গ হয়ে যায়। দ্বিতীয় আক্রমনকারী রুপে গজনীর সুলতান মাহমুদ ভারতে বারবার অভিযান পরিচালনা করলেও তার মধ্যে সাম্রাজ্য গড়ার কোন চেষ্টা লক্ষ্য করা যায়নি। এদিক থেকে তৃতীয় তুর্কি আক্রমণকারী মুহাম্মদ ঘুরী প্রথম ভারতে মুসলিম সাম্রাজ্য স্থাপন করেন।

উৎস
প্রভাতাংশু মাইতি- ভারত ইতিহাস পরিক্রমা
এ কে এম শাহনেওয়াজ,ভারত উপমহাদেশের ইতিহাস; মধ্যযুগ: সুলতানি পর্ব

২৬.
Who was the chief general of Muhammad Ghori? / মুহাম্মদ ঘুরীর প্রধান সেনাপতি কে ছিলেন?
  1. Qutb-ud-din Aibak / কুতুবউদ্দিন আইবক
  2. Iltutmish / ইলতুতমিশ
  3. Balban / বালবান
  4. Alauddin Khalji / আলাউদ্দিন খলজি
ব্যাখ্যা

কাজি ফখরুদ্দিনের মৃত্যুর পর তাঁর পুত্রগণ কুতুবউদ্দিনকে এক দাস ব্যবসায়ীর নিকট বিক্রি করে দেয়। এ ব্যবসায়ী তাঁকে অন্য অনেকের সাথে গজনীতে নিয়ে আসেন। গজনীর শাসক মুহাম্মদ ঘোরি কুতুবউদ্দিনকে ক্রয় করেন। বাহ্যিকভাবে অসুন্দর হলেও বিপুল প্রতিভার অধিকারী কুতুবউদ্দিন আইবেক স্বীয় মেধা, মনন, পরিশ্রম এবং চারিত্রিক দৃঢ়তা বলে অল্প দিনের মধ্যে মালিক মুহাম্মদ ঘোরির অত্যন্ত আস্থাভাজন ব্যক্তিত্বে পরিণত হন। সুলতান মুহাম্মদ ঘোরি কুতুবউদ্দিনের আচরণে সন্তুষ্ট হয়ে পুরষ্কার স্বরূপ তাঁকে রাজকীয় অশ্বশালার প্রধান বা ‘আমির-ই-আকুর’ পদে নিয়োগ করেন। ১১৯২ খ্রিস্টাব্দে সংঘটিত তরাইনের দ্বিতীয় যুদ্ধে কুতুবউদ্দিন আইবেক সুলতান ঘোরির পক্ষে প্রধান সেনাপতির দায়িত্ব পালন করেন।

উৎস 
প্রভাতাংশু মাইত-ি ভারত ইতহিাস পরক্রিমা
এ কে এম শাহনওেয়াজ,ভারত উপমহাদশেরে ইতহিাস; মধ্যযুগ: সুলতানি র্পব

২৭.
Where is the Qutub Minar located?/ কুতুব মিনার কোথায় অবস্থিত?
  1. Lahore / লাহোর
  2. Jaipur / জয়পুর
  3. Delhi / দিল্লি
  4. Agra / আগ্রা
ব্যাখ্যা

কুতুব মিনার ভারতের নতুন দিল্লিতে অবস্থিত একটি স্তম্ভ বা মিনার, যা বিশ্বের সর্বোচ্চ ইটনির্মিত মিনার। দিল্লী সালতানাতের প্রথম শাসক কুতুবুদ্দিন আইবেকের আদেশে ১১৯৩ খ্রিস্টাব্দে কুতুব মিনারের নির্মাণকাজ শুরু হয় তবে ১৩৮৬ খ্রিস্টাব্দে মিনারের উপরের তলাগুলোর কাজ সম্পূর্ণ করেন ফিরোজ শাহ তুঘলক। 

উৎস 

প্রভাতাংশু মাইতি- ভারত ইতিহাস পরিক্রমা

২৮.
When did Muhammad bin Tughlaq introduce token copper currency?/ মুহাম্মদ বিন তুঘলক প্রতীক তাম্র মুদ্রা প্রচলন করেন কবে?
  1. 1296 AD / ১২৯৬ খ্রি.
  2. 1329–1330 AD / ১৩২৯–১৩৩০ খ্রি.
  3. 1347 AD / ১৩৪৭ খ্রি.
  4. 1351 AD / ১৩৫১ খ্রি.
ব্যাখ্যা

বিশাল সেনাবাহিনীর ব্যয় সংকুলান, সুলতানের দানশীলতা, শাসনকার্যে অত্যাধিক ব্যয়, দোয়াব অঞ্চলে দুর্ভিক্ষ, উত্তরপশ্চিম
সীমান্তে মোঙ্গল আক্রমণ প্রতিহতকরণ, রাজ্য বিজয় পরিকল্পনা, দেবগিরিতে রাজধানী স্থানান্তরজনিত ব্যয়ভার প্রভৃতি কারণে রাজকোষে আর্থিক সংকট দেখা দিলে ১৩২৯-১৩৩০ খ্রিস্টাব্দে সুলতান মুহম্মদ বিন তুঘলক পরীক্ষামূলক পদক্ষেপ হিসেবে প্রতীক তাম্র-মুদ্রা প্রর্বতন করেন। সুলতান ২০০ গে্ের নর স্বর্ণমুদ্রা (দিনার) এবং ১৪০ গে্ের নর রৌপ্যমুদ্রার (আদালী) প্রবর্তন করেন। এডওয়ার্ড থমাস সুলতান মুহম্মদ বিন তুঘলককে ‘চৎরহপব ড়ভ গড়হবুবৎং’ বা ‘মুদ্রা প্রবর্তকদেও রাজকুমার’ উপাধিতে ভূষিত করেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সুলতানের এই পরিকল্পনাও বিফলতায় পর্যবসিত হয়।

উৎস 
প্রভাতাংশু মাইতি ভারত ইতহিাস পরক্রিমা
এ কে এম শাহনওেয়াজ,ভারত উপমহাদশেরে ইতহিাস; মধ্যযুগ: সুলতানি র্পব।

২৯.
Which Sultan was described by Vincent Smith as a "Savage Tyrant"?/ ভিনসেন্ট স্মিথ কোন সুলতানকে ‘বর্বর স্বৈরাচারী’ বলে আখ্যা দিয়েছেন?
  1. Iltutmish / ইলতুতমিশ
  2. Alauddin Khalji / আলাউদ্দিন খলজি
  3. Ghiyasuddin Tughlaq / গিয়াসউদ্দিন তুঘলক
  4. Muhammad bin Tughlaq / মুহাম্মদ বিন তুঘলক
ব্যাখ্যা

Vincent Smith ছিলেন একজন ব্রিটিশ ইতিহাসবিদ। তিনি তার বই The Oxford History of India এবং অন্যান্য গ্রন্থে দিল্লি সুলতানদের শাসনব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা করেছেন। আলাউদ্দিন খলজিকে তিনি (বর্বর স্বৈরাচারী) বলেছেন, কারণ—

কঠোর শাসননীতি – আলাউদ্দিন খলজি কঠোর আইন প্রণয়ন করেছিলেন, যেমন দাম নিয়ন্ত্রণ, মদ্যপান ও জুয়া নিষিদ্ধ করা, গোপনচর ব্যবস্থা প্রবর্তন ইত্যাদি।
স্বৈরশাসন – তিনি আমির–উমরাহ ও সম্ভ্রান্তদের ক্ষমতা দমন করেছিলেন, যাতে কেউ তার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করতে না পারে।
নৃশংস দমননীতি – বিদ্রোহ বা ষড়যন্ত্রকারীদের প্রতি তিনি নির্মম ছিলেন এবং কঠোর শাস্তি দিতেন। নিজ পরিবারের লোকদের প্রতি তার কোন দয়ামায় ছিলনা। নিজ স্ত্রী-পুত্রদের হত্যা করতে দ্বিধা করেননি।
ব্যক্তিগত স্বভাব – ভিনসেন্ট স্মিথের মতে, আলাউদ্দিন ছিলেন সন্দেহপ্রবণ, কঠোর এবং নিষ্ঠুর স্বৈরশাসক, যার প্রধান উদ্দেশ্য ছিল ক্ষমতা ধরে রাখা। তবে আধুনিক ইতিহাসবিদরা মনে করেন, আলাউদ্দিন খলজির এই কঠোরতা আসলে ছিল তার রাষ্ট্রকে শক্তিশালী ও স্থিতিশীল করার কৌশল, যা তাকে একজন দক্ষ শাসকও প্রমাণ করে। তাই তাকে শুধু “বর্বর স্বৈরাচারী” বললে পূর্ণাঙ্গ চিত্র পাওয়া যায় না।

উৎস
প্রভাতাংশু মাইতি- ভারত ইতিহাস পরিক্রমা
এ কে এম শাহনেওয়াজ,ভারত উপমহাদেশের ইতিহাস; মধ্যযুগ: সুলতানি পর্ব।

৩০.
What was the name of the intelligence department during Alauddin Khalji’s reign?/ আলাউদ্দিন খলজির সময়কালে গোয়েন্দা বিভাগের নাম কি?
  1. Barid & Munshi / বারিদ ও মুন্সি
  2. Wazir / ওয়াজির
  3. Diwan-i-Khas / দিওয়ান-ই-খাস
  4. Faujdar / ফৌজদার
ব্যাখ্যা

আলাউদ্দিন খলজি তার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ প্রতিকার করার জন্য দেশের সর্বত্র গুপ্তচর নিয়োগ দেন। তাদেরকে বারিদ ও মুন্সী বলা হত। বারিদ নামক কর্মচারীরা গুপ্তচরদের কর্তা হিসেবে তাদের নিয়ন্ত্রণ করত। অভিজাতদের যাবতীয় কার‌্যাবলী নজরদারির জন্য মুন্সি নিয়োগ করা হয়। অভিজাতদের যাতায়াত, ও কাজকর্মের উপরে, বাজারে গুজবের ব্যাপারে এবং মূল্য তালিকার দিকে মুন্সী সর্বদা তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রাখতেন।

উৎস
প্রভাতাংশু মাইতি- ভারত ইতিহাস পরিক্রমা
এ কে এম শাহনেওয়াজ,ভারত উপমহাদেশের ইতিহাস; মধ্যযুগ: সুলতানি পর্ব

৩১.
Which Sultan of India introduced the system of uniform and branding in the army?/ ভারতের কোন সুলতান সৈন্য বাহিনীতে হুলিয়া ও দাগ প্রথার প্রবর্তন করেন?
  1.  Sher Shah Suri / শের শাহ সূর
  2. Muhammad bin Tughlaq / মুহম্মদ বিন তুঘলক
  3. Alauddin Khalji / আলাউদ্দিন খলজি
  4. Ghiyasuddin Tughlaq / গিয়াসউদ্দিন তুঘলক
ব্যাখ্যা

সেনাবাহিনীর মধ্যে বিরাজমান দুর্নীতি দূর করার লক্ষ্যে সুলতান আলাউদ্দিন মুসলিম ভারতের ইতিহাসে সর্বপ্রথম অশ্বচিহ্নিত করার প্রথা ‘দাগ’ এবং সেনাবাহিনীর বিস্তারিত বর্ণনা সম্বলিত তালিকা করার রীতি প্রবর্তন করেন, যা ‘হুলিয়া’ নামে সর্বজন পরিচিত। তিনি ছিলেন খলজি সামরিক পদ্ধতির গোড়াপত্তনকারী। সুলতান আলাউদ্দিন খলজির শাসনামলে সেনা বাহিনীকে প্রধানত তিন ভাগে ভাগ করা হয়েছিল। যথা- অশ্বারোহী বাহিনী, পদাতিক বাহিনী এবং হস্তী বাহিনী। ঐতিহাসিক ফিরিস্তার বর্ণনা হতে জানা যায় যে, আলাউদ্দিন খলজির অশ্বারোহী বাহিনীর সংখ্যা ছিল প্রায় ৪,৭৫,০০০। সুলতানের পদাতিক বাহিনীর সংখ্যা ছিল অশ্বারোহী বাহিনীর প্রায় দ্বিগুণ। তিনি তার সেনাবাহিনীর দুর্নীতি বন্ধ করার জন্য হুলিয়া ও দাগ প্রথার প্রচলন করেন। নিংমিত সেনারা যুদ্ধেও সময় হাজিরা না দিয়ে অশিক্ষিত লোকদের বদলী হিসেবে পাঠাত এবং যুদ্ধেও ভাল ঘোড়ার বদলে চাষের ঘোড়া পাঠাত। এই দুর্নীতি বন্ধ করার জন্যই তিনি হুলিয়া ও দাগ প্রথার প্রচলন করেন।

উৎস 
প্রভাতাংশু মাইতি ভারত ইতহিাস পরক্রিমা
এ কে এম শাহনওেয়াজ,ভারত উপমহাদশেরে ইতহিাস; মধ্যযুগ: সুলতানি র্পব

৩২.
Who was the real founder of Delhi Sultanate? / দিল্লি সুলতানতের প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা কে?
  1. Qutbuddin Aibak / কুতুবউদ্দিন আইবক
  2. Iltutmish / ইলতুৎমিশ
  3. Balban / বলবন
  4. Alauddin Khalji / আলাউদ্দিন খলজি
ব্যাখ্যা

ড.আর.পি. ত্রিপাটি মন্তব্য করেছেন, ভারতে মুসলিম সার্বভৌম অথবা সুলতানি প্রকৃতপক্ষে ইলতুৎমিশের আমল থেকে শুরু হয়। কুতুবউদ্দিন আইবক ছিলেন মুহাম্মদ ঘুরীর দাস ও সেনাপতি। তিনি ঘুরীর মৃত্যুর পর 1206 খ্রিস্টাব্দে দিল্লিতে স্বাধীন শাসন শুরু করেন। এজন্য তাঁকে দিল্লি সুলতানতের প্রথম শাসক বলা হয়। কিন্তু আইবক কেবলমাত্র ভিতি স্থাপন করেছিলেন, প্রকৃতপক্ষে তিনি খুব শক্তিশালী শাসন গড়ে তুলতে পারেননি। তাঁর উত্তরসূরি ইলতুৎমিশ (1211–1236) দিল্লি সুলতানাতকে সুসংগঠিত করেন, রাজধানী স্থাপন করেন, প্রশাসন গড়ে তোলেন এবং আব্বাসীয় খলিফার কাছ থেকে শাসন বৈধতা অর্জন করেন। তাই ইতিহাসবিদেরা ইলতুৎমিশকেই দিল্লি সুলতানতের প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা বলে আখ্যায়িত করেছেন।

উৎস
আব্দুল করিম, ভারতীয় উপমহাদেশে মুসলিম রাজত্বের ইতিহাস
প্রভাতাংশু মাইতি- ভারত ইতিহাস পরিক্রমা
বাংলাপিডিয়া

৩৩.
In the reign of Iltutmish, what were the nobles called? / ইলতুতমিশের আমলের আমিরগণকে কী বলা হতো?
  1. Muijji Amir / মুইুজ্জি আমির
  2. Chahalgani / চাহেলগানি
  3. Kutubi Amir / কুতুবী আমির
  4. Shamsi Amir / শামসী আমির
ব্যাখ্যা

 দিল্লির আমিরগণ তাই কুতুবউদ্দিনের জামাতা ও বদায়ুনের শাসনকর্তা ইলতুৎমিশকে সুলতান পদ গ্রহণ করার জন্য আহ্বান করেন। ইলতুৎমিশ এতে রাজী হন। দিল্লির অদূরে আরাম শাহের সাথে তাঁর যুদ্ধ হয়। যুদ্ধে জয়ী হয়ে ১২১১ খ্রিস্টাব্দে ইলতুৎমিশ দিল্লির সিংহাসনে বসেন। তাঁর রাজকীয় উপাধি হয় সুলতান শামসউদ্দিন ইলতুৎমিশ। আমিরদের মধ্যেও রেষারেষী ছিল। তাঁরা ছিলেন তিনভাগে বিভক্ত। মুহম্মদ ঘোরির আমলের আমিরগণ “মুইজ্জী আমির”, কুতুবউদ্দিনের আমলের আমিরগণ “কুতুবী আমির” এবং ইলতুৎমিশের আমলের আমিরগণ “শামসী আমির” নামে অভিহিত হতেন। কুতুবী আমিরগণ ইলতুৎমিশকে সমকক্ষ এবং মুইজ্জী আমিরগণ তাঁকে তাঁদের চেয়ে কম যোগ্যতা সম্পন্ন বলে গণ্য করতেন।

উৎস-
ইসলামরে ইতহাস ও সংস্কৃতি (উচ্চমাধ্যমকি ২য় পত্র
এ কে এম শাহনওেয়াজ,ভারত উপমহাদশেরে ইতহিাস; মধ্যযুগ: সুলতানি র্পব

৩৪.
The Khalji Revolution took place in which year?/খলজি বিপ্লব কত সালে সংঘটিত হয়েছিল?
  1. 1290 AD / ১২৯০ খ্রিঃ
  2. 1206 AD / ১২০৬ খ্রিঃ
  3. 1320 AD / ১৩২০ খ্রিঃ
  4. 1250 AD / ১২৫০ খ্রিঃ
ব্যাখ্যা

১২৯০ খ্রিঃ সেনাপতি জলালউদ্দিন ফিরোজ খলজি) কায়কোবাদকে হত্যা করে দিল্লির সুলতান হন। এর ফলে ইলবারি তুর্কি বংশের অবসান হয় এবং খলজি বংশের সূচনা হয়। এই ঘটনাকেই ইতিহাসে “খলজি বিপ্লব” বলা হয়। স্যার উলিয়াম মুইর ও স্ট্যানলি লেন-পুল তাঁদের রচনায় লিখেছেন যে, 1290 খ্রিঃ “The Khalji Revolution” দিল্লি সুলতানাতের এক নতুন যুগের সূচনা করে। 

উৎস
আব্দুল করিম, ভারতীয় উপমহাদেশে মুসলিম রাজত্বের ইতিহাস
প্রভাতাংশু মাইতি- ভারত ইতিহাস পরিক্রমা।