পরীক্ষা আর্কাইভ

১৯তম জুডিসিয়াল সার্ভিস (BJS) প্রস্তুতি

পরীক্ষা১৯তম জুডিসিয়াল সার্ভিস (BJS) প্রস্তুতিতারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়12 minutes
মোট প্রশ্ন২৯
সিলেবাস
পরীক্ষা – ৭১: আইন বিষয়াবলী - ২৭ Subject: The State Acquisition and Tenancy Act,1950 & The Non-Agricultural Tenancy Act,1949 Topic: Full Acts
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

১৯তম জুডিসিয়াল সার্ভিস (BJS) প্রস্তুতি

১৯তম জুডিসিয়াল সার্ভিস (BJS) প্রস্তুতি · তারিখ অনির্ধারিত · ২৯ প্রশ্ন

.
SAT Act, 1950 এর কত ধারায় “চাষাবাদকারী রায়ত” এর সংজ্ঞা দেয়া আছে?
  1. ধারা ২(৯)
  2. ধারা ২(১১)
  3. ধারা ২(১৩)
  4. ধারা ২(১৫)
ব্যাখ্যা
The State Acquisition and Tenancy Act, 1950 এর ধারা ২(৯):
“চাষাবাদকারী রায়ত” বা “চাষাবাদকারী অধীন-রায়ত” বলতে সেই রায়ত বা অধীন-রায়তকে বোঝায়, যিনি নিজে, অথবা তাঁর পরিবারের সদস্যগণ, বা চাকর, বা বর্গাদার, বা ভাড়াটে শ্রমিকদের সাহায্যে, অথবা অংশীদারদের সহায়তায় জমি চাষ করেন।

The State Acquisition and Tenancy Act,1950 Section 2(9):
[“cultivating raiyat” or “cultivating under-raiyat” means a raiyat or an under-raiyat, as the case may be, who holds land by cultivating it either by himself or by members of his family or by servants or by bargadars or by or with the aid of hired labourers or with the aid of partners]
.
রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইনের ৫ ধারায় কোন ধরনের জমির ভাড়া নির্ধারণের বিধান আছে?
  1. খাস জমি
  2. বন্দোবস্ত জমি
  3. ফসলি জমি
  4. করাতল জমি
ব্যাখ্যা
The State Acquisition and Tenancy Act, 1950 এর ধারা ৫: ভাড়াগ্রহীতাদের খাস জমির ভাড়া নির্ধারণ:
যত শীঘ্র সম্ভব ধারা ৩(১) উপধারায় উল্লেখিত বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর, রাজস্ব কর্মকর্তা উক্ত বিজ্ঞপ্তিতে উল্লিখিত সমস্ত ভাড়াগ্রহীতার খাস দখলে থাকা জমির প্রতিটি খণ্ডের ভাড়া নির্ধারণ করবেন। এই নির্ধারণ ধারা ২৩, ২৪, ২৫, ২৫ক, ২৬, ২৭ এবং ২৮-এ বর্ণিত নীতিমালা অনুযায়ী করতে হবে, এবং এসব জমি সেই এস্টেট, তালুক, তনুর, হোল্ডিং বা টেনান্সির অন্তর্ভুক্ত হবে যার সাথে উক্ত বিজ্ঞপ্তি সম্পর্কিত।
.
খসড়া রেকর্ড অব রাইটস প্রকাশের উদ্দেশ্য কী?
  1. ভূমি কর নির্ধারণ
  2. কৃষকদের তালিকা তৈরি
  3. জমি বিক্রির অনুমোদন
  4. আপত্তি গ্রহণ ও বিবেচনা করা
ব্যাখ্যা
ধারা ১৯: Draft and final publication of the record-of-rights (রেকর্ড অব রাইটস-এর খসড়া ও চূড়ান্ত প্রকাশনা)-
(১) যখন কোনো রেকর্ড অব রাইটস (খতিয়ান) প্রস্তুত বা সংশোধিত হয়ে ধারা ১৮-এ উল্লেখিত তথ্যসমূহ অন্তর্ভুক্ত করে তখন রাজস্ব কর্মকর্তা নির্ধারিত পদ্ধতি ও নির্ধারিত সময়সীমা অনুযায়ী উক্ত রেকর্ড অব রাইটস-এর একটি খসড়া প্রকাশ করবেন এবং প্রকাশনার সময়সীমার মধ্যে উক্ত রেকর্ডের কোনো তথ্যের বিরুদ্ধে বা কোনো তথ্য বাদ পড়ার বিষয়ে আপত্তি জানালে তা গ্রহণ ও বিবেচনা করবেন।

(২) উপ-ধারা (১) অনুযায়ী করা আপত্তির ওপর রাজস্ব কর্মকর্তার দ্বারা প্রদত্ত আদেশে কেউ যদি অসন্তুষ্ট হন, তাহলে তিনি নির্ধারিত নিয়ম ও নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে সহকারী সেটেলমেন্ট অফিসার-সমমর্যাদার বা তদূর্ধ্ব কোনো নির্ধারিত রাজস্ব কর্তৃপক্ষের কাছে আপিল করতে পারবেন।

(৩) উপর্যুক্ত সকল আপত্তি ও আপিল সরকার কর্তৃক প্রণীত বিধি অনুসারে বিবেচনা ও নিষ্পত্তি করার পর, রাজস্ব কর্মকর্তা রেকর্ডটি চূড়ান্তভাবে প্রণয়ন করবেন এবং নির্ধারিত পদ্ধতিতে তা চূড়ান্তভাবে প্রকাশ করবেন। এই চূড়ান্ত প্রকাশনা একটি চূড়ান্ত প্রমাণ হিসাবে গণ্য হবে যে রেকর্ডটি এই অধ্যায় অনুযায়ী সঠিকভাবে প্রস্তুত বা সংশোধিত হয়েছে।

(৪) উপ-ধারা (৩) অনুযায়ী যখন রেকর্ড অব রাইটস চূড়ান্তভাবে প্রকাশিত হবে, তখন রাজস্ব কর্মকর্তা রাজস্ব বোর্ড কর্তৃক নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে এই চূড়ান্ত প্রকাশনা ও তার তারিখ উল্লেখ করে একটি সনদ প্রস্তুত করবেন এবং উক্ত সনদে তার নাম ও পদবিসহ তারিখ লিখে স্বাক্ষর করবেন।
.
১ বছরের বেশি কিন্তু ১২ বছরের কম সময় অকৃষি ভূমির দখলে থাকলে, কোনটি করা যাবে না?
  1. বৃক্ষ রোপণ
  2. বৃক্ষের ফুল, ফল ভোগ
  3. পাকা অবকাঠামো নির্মাণ
  4. পাকা অবকাঠামো ব্যতীত যেকোন অবকাঠামো নির্মাণ
ব্যাখ্যা
• 'পাকা অবকাঠামো নির্মাণ' করা যাবে না।

অকৃষি প্রজাস্বত্ব আইন, ১৯৪৯: ধারা ৬- অকৃষি ভূমি ব্যবহারের পদ্ধতি:
যেক্ষেত্রে কোন অকৃষি প্রজা ১২ বৎসর বা তার অধিক সময়ের জন্য কোন অকৃষি ভূমিতে দখলে থাকে সেই ক্ষেত্রে উক্ত অকৃষি ভূমিতে সে নিম্নলিখিত কার্য করার অধিকারী হবে-
ক. পাকা অবকাঠামোসহ যেকোন অবকাঠামো নির্মাণ করতে;
খ. মসজিদ, মন্দির বা অন্য যেকোন উপাসানালয়ের স্থান নির্মাণ করতে;
গ. যেকোন পুকুর খনন করতে; এবং
ঘ. এমন ভূমিতে গাছ রোপণ, উক্ত বৃক্ষের ফুল, ফল এবং অন্যান্য পণ্য ভোগ করতে এবং উক্ত বৃক্ষের কাঠ ব্যবহার বা হস্তান্তর করতে;

অন্যদিকে,
যেক্ষেত্রে কোন অকৃষি প্রজা ১২ বৎসরের কম কিন্তু ১ বৎসরের অধিক সময়ের জন্য কোন অকৃষি ভূমিতে দখলে থাকে সেই ক্ষেত্রে সে উক্ত অকৃষি ভূমিতে নিম্নলিখিত কার্য করার অধিকারী হবে-
ক. পাকা অবকাঠামো ব্যতীত যেকোন অবকাঠামো নির্মাণে;
খ. যেকোন বৃক্ষ রোপন করতে, এবং এমন বৃক্ষের ফুল, ফল এবং অন্যান্য পণ্য ভোগ করতে;
গ. উক্ত বৃক্ষের কাঠ ব্যবহার বা হস্তান্তর করতে।
.
রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইনের ধারা ২১ অনুসারে, কীসের ভিত্তিতে ভাড়া নির্ধারণ করা হবে?
  1. বাজারদর অনুযায়ী
  2. জমির মালিকের দাবির ভিত্তিতে
  3. রাজস্ব কর্মকর্তার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী
  4. আইন অনুযায়ী নির্ধারিত ন্যায্য ও সঙ্গত হারে
ব্যাখ্যা
ধারা ২১: দখলে রাখা জমির ভাড়া পরিশোধ:
যেসব জমি ধারা ২০ অনুসারে কোনো ভাড়াগ্রহীতা, চাষি রায়ত, চাষি অধিরায়ত বা অকৃষি প্রজা তাদের দখলে রাখেন, সেইসব জমি তাদের কাছে থাকবে এই শর্তে যে, তারা আইন অনুযায়ী নির্ধারিত ন্যায্য ও সঙ্গত ভাড়া প্রদান করবেন।

[All lands, of which a rent-receiver, a cultivating raiyat, a cultivating under-raiyat or a non-agricultural tenant retains possession under section 20, shall be held on payment of such fair and equitable rent as may be determined under the provisions of this Act.]
.
“অকৃষি জমি” বলতে কোন ধরনের জমিকে বোঝানো হয়?
  1. শুধুমাত্র শহরের জমি
  2. সরকারি খাস জমি
  3. যা কৃষি কাজে ব্যবহৃত হয়
  4. যা কৃষি বা উদ্যানবিদ্যার সঙ্গে সম্পর্কিত নয়
ব্যাখ্যা
The Non-Agricultural Tenancy Act, 1949 এর ধারা ২(৪):
“অকৃষি জমি” বলতে এমন জমিকে বোঝায় যা কৃষি বা উদ্যানবিদ্যার (horticulture) সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কোনো উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হচ্ছে না এবং এর মধ্যে এমন জমিও অন্তর্ভুক্ত যা কৃষি বা উদ্যানবিদ্যার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নয় এমন উদ্দেশ্যে লিজে ধরা হয়েছে - এমনকি বাস্তবে কৃষি বা উদ্যানবিদ্যা কাজে ব্যবহার না হলেও।

তবে এর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত নয়:
(খ) যে জমি মূলত কৃষি বা উদ্যানবিদ্যার উদ্দেশ্যে লিজে দেওয়া হয়েছিল কিন্তু এখন তা মালিকের সরাসরি বা পরোক্ষ সম্মতি ছাড়া অন্য কোনো কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে এবং এভাবে ব্যবহার করার সময়কাল ১২ বছরের কম।

(গ) যে জমি চা চাষ বা চা প্রস্তুতকারণের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কোনো উদ্দেশ্যে ধরে রাখা হয়েছে।
শর্ত থাকে যে, যদি ধারা ৭২-এর অধীনে কোনো জমিকে (যা অকৃষি জমি নয়) এমন ভাড়াটিয়া ব্যবস্থায় রূপান্তরিত করা হয় যাতে এই আইনের বিধান প্রযোজ্য হয়, তাহলে সেই জমিকে অকৃষি জমি হিসেবে গণ্য করা হবে।
.
SAT Act, 1950 এর কত ধারায় রাজস্ব কর্মকর্তাকে অকৃষি প্রজার ভাড়া নির্ধারণের ক্ষমতা দেয়া হয়েছে?
  1. ২৫ ধারায়
  2. ২৬ ধারায়
  3. ২৭ ধারায়
  4. ২৮ ধারায়
ব্যাখ্যা
SAT Act, 1950 ধারা ২৫: অকৃষি প্রজাদের ন্যায্য ও সঙ্গত ভাড়া নির্ধারণ-
এই অধ্যায়ের অধীনে রেকর্ড-অফ-রাইটস প্রস্তুত বা সংশোধন করার সময়, রাজস্ব কর্মকর্তা অকৃষি ভূমি অধিকারী সকল অকৃষি প্রজার (টেনিওর-হোল্ডার বাদে) জমির ন্যায্য ও সঙ্গত ভাড়া নির্ধারণ করবেন, যা ধারা ২৩-এর বিধান অনুসারে নির্ধারিত হবে, যতদূর তা অকৃষি ভূমির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।

শর্ত:
যদি কোনো অকৃষি প্রজা ওই জমি সরাসরি এমন কোনো ব্যক্তির অধীনে ভোগ করে যিনি প্রোপাইটর বা টেনিওর-হোল্ডার না হন, তখন রাজস্ব কর্মকর্তা ধরে নেবেন যে, সেই প্রজার বর্তমান প্রদেয় ভাড়া ন্যায্য ও সঙ্গত। তবে যদি সেই ভাড়া, ওই ব্যক্তির অধীনে থাকা একই জমির জন্য প্রদেয় ন্যায্য ও সঙ্গত ভাড়ার চেয়ে পঞ্চাশ শতাংশ (৫০%) বা তার বেশি বেশি হয়, তাহলে রাজস্ব কর্মকর্তা সেই ভাড়াকে সেই ব্যক্তির প্রদেয় ন্যায্য ও সঙ্গত ভাড়ার তুলনায় পঞ্চাশ শতাংশের বেশি বাড়ানোর অধিকার দেবেন না।
.
জমির দখল, মালিকানা নির্ধারণ ও ভূমি উন্নয়ন কর নির্ধারণের জন্য জরিপের মাধ্যমে যে দলিল তৈরি করা হয়, তাকে _______ বলা হয়।
  1. পর্চা
  2. খতিয়ান
  3. রেকর্ড অব রাইটস
  4. উল্লিখিত সব
ব্যাখ্যা
খতিয়ান(Record of Rights - RoR):
- "খতিয়ান" শব্দটি ফারসি (Persian) শব্দ।
- খতিয়ান হলো জমি চিহ্নিতকরণের একটি দলিল।
- জমির দখল, মালিকানা নির্ধারণ ও ভূমি উন্নয়ন কর (Land Development Tax) নির্ধারণের জন্য জরিপের মাধ্যমে যে দলিল তৈরি করা হয়, তাকে খতিয়ান বলা হয়।
- এটি Record of Rights (অধিকার লিপি), সত্তলিপি বা পরচা নামেও পরিচিত।
- খতিয়ান মালিকানার চূড়ান্ত প্রমাণ নয়, এটি শুধুমাত্র জমির উপর অধিকার বা দখলের রেকর্ড।
.
The Non-Agricultural Tenancy Act, 1949 এর অধীনে অকৃষি প্রজার প্রধান দুটি শ্রেণি কী?
  1. কৃষক ও শ্রমিক
  2. মালিক ও অধীন-মালিক
  3. প্রজা ও অধীন-প্রজা
  4. কৃষক ও মালিক
ব্যাখ্যা
The Non-Agricultural Tenancy Act, 1949 এর ধারা ৩-
(১) এই আইনের উদ্দেশ্যে নিম্নলিখিত শ্রেণির অকৃষি ভাড়াটিয়া থাকবে, যথা—
(ক) প্রজা (Tenant), এবং
(খ) অধীন-প্রজা (Under-tenant)।

(২) “প্রজা” বলতে এমন ব্যক্তিকে বোঝায়, যিনি কোনো মালিক বা করপ্রদায়ী (tenure-holder) থেকে অকৃষি জমি এই আইনে নির্ধারিত যেকোনো উদ্দেশ্যে ধারনের অধিকার অর্জন করেছেন এবং এই অধিকার অর্জনকারীদের উত্তরাধিকারীরাও এতে অন্তর্ভুক্ত।

(৩) “অধীন-প্রজা” বলতে এমন ব্যক্তিকে বোঝায়, যিনি কোনো প্রজার অধীন (সরাসরি বা পরোক্ষভাবে) অকৃষি জমি এই আইনে উল্লিখিত যেকোনো উদ্দেশ্যে ধারনের অধিকার অর্জন করেছেন এবং এরূপ অধিকার অর্জনকারীদের উত্তরাধিকারীরাও এতে অন্তর্ভুক্ত।
১০.
একজন অকৃষি প্রজা কোন উদ্দেশ্যে জমি ব্যবহার করতে পারেন না?
  1. ব্যবসায়িক কাজে
  2. ধর্মীয় উদ্দেশ্যে
  3. চা চাষের উদ্দেশ্যে
  4. আবাসিক উদ্দেশ্যে
ব্যাখ্যা
The Non-Agricultural Tenancy Act, 1949 ধারা ৪: অকৃষি প্রজা যে সকল উদ্দেশ্যে অকৃষি জমি ব্যবহার করতে পারেন-
(ক) গৃহস্থালি বা আবাসিক উদ্দেশ্যে;
(খ) শিল্প বা ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যে;
(গ) ধর্মীয় বা অন্যান্য উদ্দেশ্যে।

⇒ 'চা চাষ' কৃষি কাজের (agricultural) অন্তর্গত, তাই এটি অকৃষি প্রজার জমি ব্যবহারের বৈধ উদ্দেশ্য নয়।
১১.
অকৃষি প্রজাকে কোর্ফা পত্তন থেকে কোন ধারা নিষিদ্ধ করে?
  1. NAT Act, 1949 এর ৯৩ ধারা
  2. SAT Act, 1950 এর ২৬ ধারা
  3. NAT Act, 1949 এর ২৬ক ধারা
  4. SAT Act, 1950 এর ৯৩ ধারা
ব্যাখ্যা
NAT Act, 1949 ধারা ২৬ক: কোর্ফা পত্তন নিষিদ্ধ (Bar to Sub-let):
(১) এই আইন, বা প্রচলিত অন্য কোনো আইন, কিংবা কোনো চুক্তিতে ভিন্ন কিছু থাকলেও, কোনো অকৃষি প্রজা (non-agricultural tenant) তার ভাড়া নেওয়া জমির পুরোটা বা কোনো অংশ অন্য কাউকে কোর্ফা পত্তন দিতে পারবে না- যে কোনো শর্তেই হোক না কেন।

(২) যদি কেউ এই নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘন করে তার ভাড়াকৃত জমি বা তার কোনো অংশ কোর্ফা পত্তন করে, তাহলে-
- সেই প্রজার জমির ওপর অধিকার বাতিল (extinguished) হয়ে যাবে।
- এবং সেই জমি বা তার অংশ সকল দায়-দেনা মুক্তভাবে সরকার (প্রাদেশিক সরকার)-এর অধীনে চলে যাবে।
১২.
অকৃষি প্রজাস্বত্ব আইনে “উন্নয়ন” (Improvement) বলতে কী বোঝায়?
  1. জমিতে নতুন দখল প্রতিষ্ঠা
  2. কৃষি কাজে জমির ব্যবহার বৃদ্ধি
  3. জমির উপযোগিতা হ্রাস করে এমন কাজ
  4. জমির মূল্য বৃদ্ধি করে এমন কাজ
ব্যাখ্যা
ধারা ৬৪: "Improvement" (উন্নয়ন)-
এই আইনের উদ্দেশ্যে "উন্নয়ন" (Improvement) বলতে এমন কোনো কাজকে বোঝায়- যা কোনো অকৃষি জমির মূল্য বৃদ্ধি করে, যা সেই জমির জন্য উপযোগী, এবং ধারা ৪-এ উল্লিখিত যেকোনো নির্ধারিত ব্যবহার অনুযায়ী কাজটি উপযুক্ত, এবং কাজটি যদি সরাসরি সেই জমির ওপর করা না হয়, তবুও তা যদি সেই জমির উপকারে আসে, তাহলে সেটি "উন্নয়ন" হিসেবে গণ্য হবে।

এইরূপ উন্নয়নমূলক কাজের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত হবে, যথা-
(ক) পথ বা রাস্তা তৈরি করা,
(খ) বায়ু চলাচলের জন্য খোলা স্থান রাখা,
(গ) পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা,
(ঘ) ড্রেনেজ (পয়নিষ্কাশন) সংযোগ স্থাপন করা।

তবে, কোনো অকৃষি প্রজার দ্বারা সম্পাদিত এমন কোনো কাজ, যা বাড়িওয়ালার (জমিদারের) সম্পত্তির মূল্য উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস করে, তা "উন্নয়ন" হিসেবে গণ্য হবে না।
১৩.
ভূমি জরিপ ট্রাইব্যুনাল মামলার চূড়ান্ত শুনানির তারিখ থেকে কত দিনের মধ্যে বিচার শেষ করতে বাধ্য থাকবে?
  1. ৬০ দিনের মধ্যে
  2. ৯০ দিনের মধ্যে
  3. ১৮০ দিনের মধ্যে
  4. ৩৬০ দিনের মধ্যে
ব্যাখ্যা
The State Acquisition and Tenancy Act, 1950 ধারা ১৪৫ক: ভূমি জরিপ ট্রাইব্যুনাল (Land Survey Tribunal) – 
(১) সরকার প্রয়োজন অনুযায়ী, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, এমন সংখ্যক ভূমি জরিপ ট্রাইব্যুনাল গঠন করতে পারবে যা ধারা ১৪৪ অনুযায়ী প্রস্তুতকৃত সর্বশেষ সংশোধিত রেকর্ড অব রাইটসের চূড়ান্ত প্রকাশনার ভিত্তিতে উদ্ভূত মামলাসমূহ নিষ্পত্তির জন্য প্রয়োজন হবে।

(২) সরকার সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা যেকোনো ভূমি জরিপ ট্রাইব্যুনালের বিচারাধীন এলাকার সীমা নির্ধারণ বা পরিবর্তন করতে পারবে।

(৩) সরকার, সুপ্রীম কোর্টের সঙ্গে পরামর্শক্রমে, ভূমি জরিপ ট্রাইব্যুনালের বিচারক হিসেবে যুগ্ম জেলা জজদের মধ্য থেকে নিয়োগ প্রদান করবে।

(৩ক) যতক্ষণ না (৩) উপধারার অধীনে কোনো বিচারক নিয়োগ দেওয়া হয়, ততক্ষণ পর্যন্ত সরকার প্রত্যেক জেলায় একজন যৌথ জেলা জজকে ট্রাইব্যুনালের বিচারক হিসেবে ক্ষমতাপ্রাপ্ত করতে পারবে।

(৩খ) (৩ক) উপধারায় ক্ষমতাপ্রাপ্ত যৌথ জেলা জজকে এই ধারার অধীনে নিয়োগপ্রাপ্ত ট্রাইব্যুনালের বিচারক বলে গণ্য করা হবে।

(৩গ) প্রয়োজনে, সরকার এক বা একাধিক সিনিয়র সহকারী জজ বা সহকারী জজ-কে ট্রাইব্যুনালের বিচারক হিসেবে নিয়োগ দিতে পারবে, যারা ট্রাইব্যুনালের প্রধান বিচারক কর্তৃক স্থানান্তরিত মামলা নিষ্পত্তি করবেন।

(৪) ধারা ১৪৪ অনুযায়ী প্রস্তুতকৃত রেকর্ড অব রাইটসের চূড়ান্ত প্রকাশনার ভিত্তিতে উদ্ভূত মামলাসমূহ ছাড়া অন্য কোনো মামলা ভূমি জরিপ ট্রাইব্যুনালে গ্রহণযোগ্য হবে না।

(৫) যদি ট্রাইব্যুনাল স্থাপনের পূর্বে সংশ্লিষ্ট মামলা কোনো দেওয়ানি আদালতে দায়ের করা হয়ে থাকে, তাহলে ট্রাইব্যুনাল স্থাপিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মামলাটি ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তরিত হবে।

(৬) যে কেউ চূড়ান্ত রেকর্ড অব রাইটস দ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তিনি প্রকাশের তারিখ থেকে এক বছরের মধ্যে অথবা ট্রাইব্যুনাল স্থাপনের তারিখ থেকে এক বছরের মধ্যে (যেটি পরবর্তীতে ঘটে) মামলা দায়ের করতে পারবেন।

(৭) যথাযথ কারণ দেখাতে পারলে, ট্রাইব্যুনাল পরবর্তী এক বছর পর্যন্ত বিলম্ব মঞ্জুর করতে পারে।

(৭ক) ট্রাইব্যুনাল মামলার চূড়ান্ত শুনানির তারিখ থেকে ১৮০ দিনের মধ্যে বিচার শেষ করতে বাধ্য থাকবে।

(৮) ট্রাইব্যুনাল রেকর্ড অব রাইটস ভুল ঘোষণা করতে পারবে, সংশ্লিষ্ট অফিসকে সংশোধন করার নির্দেশ দিতে পারবে, এবং প্রয়োজনীয় অন্য যে কোনো আদেশ দিতে পারবে।
১৪.
যদি অধীনস্ত প্রজার লিখিত চুক্তি থাকে কিন্তু তাতে কোনো মেয়াদ নির্ধারিত না থাকে, তবে তাকে উচ্ছেদ করার জন্য প্রয়োজন-
  1. মৌখিক নোটিশ
  2. আদালতের আদেশ
  3. দুই মাসের লিখিত নোটিশ
  4. ছয় মাসের লিখিত নোটিশ
ব্যাখ্যা
The Non-Agricultural Tenancy Act, 1949 ধারা ২০: অধীন-প্রজাকে উচ্ছেদ (Ejectment of an under-tenant):

বর্তমানে কার্যকর কোনো আইন বা চুক্তিতে ভিন্ন কিছু থাকলেও, এই আইনের বিধান অনুযায়ী একজন অধীন-প্রজা (under-tenant) কেবল নিচের যে কোনো একটি বা একাধিক কারণে উচ্ছেদের জন্য দায়ী হবেন; অন্য কোনো কারণে নয়:
(ক) যদি তিনি তার অধীনে থাকা অকৃষি জমিকে এমনভাবে ব্যবহার করেন, যাতে তা ধারা ৪-এ উল্লিখিত উদ্দেশ্যগুলোর জন্য ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়ে।
(খ) যদি তিনি লিখিত চুক্তির (written lease) অধীনে জমি ধারণ করে থাকেন এবং চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়ে যায়।

তবে,
যদি কোনো অধীন-প্রজা লিখিত চুক্তি ছাড়া বা এমন লিখিত চুক্তির অধীনে থাকেন যেখানে মেয়াদ নির্দিষ্ট নেই, তাহলে মালিক তাকে এক বছরের শেষে কার্যকর ছয় মাসের লিখিত নোটিশ প্রদান করে এবং ডেপুটি কমিশনার কর্তৃক নির্ধারিত উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ প্রদানের মাধ্যমে উচ্ছেদ করতে পারেন।
১৫.
জমি কত দিনের মধ্যে স্বস্থানে পুনঃউদ্ভব (reformation in situ) হলে, তাতে মূল মালিকের স্বত্ব-স্বার্থ অক্ষুন্ন থাকবে?
  1. ১৫ বছর
  2. ২০ বছর
  3. ৩০ বছর
  4. ৪০ বছর
ব্যাখ্যা

• The State Acquisition and Tenancy Act, 1950 এর ৮৬ ধারায় সিকস্থি [Diluvion] এবং ৮৭ ধারায় পয়স্তি [Alluvion] সংক্রান্ত বিধান আলোচনা করা হয়েছে।

ধারা ৮৬ (২) মোতাবেক:
সিকস্তির কারণে নদীগর্ভে সিকস্তি জমি ৩০ বছরের মধ্যে স্বস্থানে পুনরায় জেগে উঠলে [Reformation-in-situ] অনুরূপ জমির স্বত্বাধিকারী বা তার স্বার্থের উত্তরাধিকারীর স্বত্ব, স্বার্থ এবং মালিকানা বজায় থাকবে।

বি.দ্র:
সরকার বা ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষ কর্তৃক বা কোনো আইনের অধীনে উন্নয়নমূলক কাজের ফলে কৃত্রিম বা যান্ত্রিক পদ্ধতিতে জমিটি পুনঃউদ্ভব হলে সে ক্ষেত্রে উক্ত ধারার বিধান প্রযোজ্য হবে না (ধারা ৮৬ (৭))।

১৬.
No non-agricultural tenant shall be ejected from the tenancy which he holds except in execution of ______________.
  1. collector's order
  2. landlord’s written notice
  3. a decree of a competent Civil Court
  4. a order of land administration board
ব্যাখ্যা
The Non-Agricultural Tenancy Act, 1949 ধারা ৭০: 
No non-agricultural tenant shall be ejected from the tenancy or from any non-agricultural land which he holds except in execution of a decree of a competent Civil Court.
কোনো অকৃষি ভাড়াটিয়াকে তার ভাড়া নেওয়া জমি বা অকৃষি জমি থেকে উচ্ছেদ (eject) করা যাবে না, যদি না তা কোনো উপযুক্ত দেওয়ানি আদালতের ডিক্রির (decree) মাধ্যমে কার্যকর করা হয়।

অর্থাৎ,
ভাড়াটিয়াকে সরিয়ে দিতে হলে-
- অবশ্যই আদালতের ডিক্রি থাকতে হবে;
- এবং সেটি কার্যকর করতে হবে আইনগতভাবে।
১৭.
রায়তের দখলে থাকা চা বাগানের খাস জমি কার লিখিত অনুমতি ছাড়া হস্তান্তর করা যাবে না?
  1. ভূমি সংস্কার বোর্ড
  2. ডেপুটি কমিশনার
  3. জেলা ভূমি অফিসার
  4. উপজেলা নির্বাহী অফিসার
ব্যাখ্যা
ধারা ৮৮: রায়াতদের হোল্ডিং-এর হস্তান্তরযোগ্যতা:
রায়তের হোল্ডিং বা তার অংশ বা হিস্যা, এই আইন অনুযায়ী, অন্যান্য স্থাবর সম্পত্তির মতোই রায়তের দ্বারা হস্তান্তর করা যাবে।

তবে,
- চা বাগানের খাস জমি (যা ধারা ২০(২) অনুযায়ী রায়তের দখলে থাকে) বা তার অংশ, ডেপুটি কমিশনারের লিখিত অনুমতি ছাড়া হস্তান্তর করা যাবে না, এবং এই হস্তান্তর চা বাগানের পূর্ণতা বা চা চাষের কার্যক্রমে কোনো ধরনের বাধা সৃষ্টি করতে পারবে না।

অর্থাৎ The State Acquisition and Tenancy Act এর ধারা ৮৮ অনুযায়ী, রায়তের দখলে থাকা চা বাগানের খাস জমি বা তার অংশ ডেপুটি কমিশনারের লিখিত অনুমতি ছাড়া হস্তান্তর করা যাবে না। এছাড়া, হস্তান্তর চা বাগানের পূর্ণতা বা চা চাষের কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টি করতে পারবে না। 
১৮.
অকৃষি জমির অগ্রক্রয়ের আবেদনের সাথে কত শতাংশ ক্ষতিপূরণ জমা দিতে হয়?
  1. ২%
  2. ৫%
  3. ৬.২৫%
  4. ১২.৫%
ব্যাখ্যা
NAT ACT 1949 এর ধারা ২৪:
অগ্রক্রয়ের ধারণা:
অগ্রক্রয়ের অধিকার হল একটি অধিকার যার মাধ্যমে কোন ব্যক্তি জমি কিনতে চাওয়া হলে অন্য একটি ব্যক্তি প্রাথমিক অধিকার রাখে সেই জমি কেনার। সাধারণত এটি তখন ঘটে যখন জমি বিক্রির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

ধারা ২৪ অনুযায়ী, আবেদন করতে পারবে:
কোন প্রজা অ-কৃষি জমির অংশ/শেয়ার হস্তান্তর/বিক্রয় করলে, ঐ জমির এক বা একাধিক সহ-অংশীদার [co-sharer] ঐ জমির অংশ/শেয়ার হস্তান্তর/ক্রয় করতে আবেদন করতে পারবে।

আবেদনের সময়সীমা:
১. নোটিশ প্রদান করা হলে- নোটিশ জারি/প্রদানের তারিখ হইতে ৪ মাসের মধ্যে।
২. নোটিশ প্রদান করা না হলে- হস্তান্তর/বিক্রয় সম্পর্কে অবগত হওয়ার ৪ মাসের মধ্যে।

আদালতে জমা দিতে হবে:
- নোটিশে উল্লেখিত মূল্যের টাকা [Consideration Money];
- নোটিশে উল্লেখিত মূল্যের টাকার উপর ৫% হারে ক্ষতিপূরণ;
- ভূমি হস্তান্তরের তারিখ হতে আবেদনের সমনের নোটিশ প্রদানের তারিখের মধ্যে ভূমি হস্তান্তর করা হয়েছে সেখানে কোন দালান, স্থাপনা বা কোন উন্নয়ন করার জন্য যে ব্যয় হয়েছে সেই ব্যয়ের উপর ৬.২৫% হারে বার্ষিক সুদ প্রদান।

The Non-Agricultural Tenancy Act, 1949 এর ধারা ২৪ অনুযায়ী, অকৃষি জমির অগ্রক্রয়ের আবেদন করার সময় আবেদনকারীর কাছ থেকে নোটিশে উল্লেখিত মূল্যের ওপর ৫% হারে ক্ষতিপূরণ (compensation) জমা দিতে হয়।
৬.২৫% বার্ষিক সুদ জমা দিতে হতে পারে জমি হস্তান্তরের পর উন্নয়নের জন্য খরচের ওপর, কিন্তু ক্ষতিপূরণের নির্দিষ্ট শতাংশ ৫%।
১৯.
লিখিত ইজারার মাধ্যমে ধর্মীয় উদ্দেশ্যে অকৃষি ভূমি দখলে নেয়া হলে এবং তিন বছরের বেশি সময় ধর্মীয় কাজে ব্যবহার না হলে কী হবে?
  1. কর মওকুফ হবে
  2. জমি সরকারি মালিকানায় যাবে
  3. ভাড়াটিয়াকে উচ্ছেদ করা যাবে
  4. চুক্তি স্বয়ংক্রিয়ভাবে নবায়ন হবে
ব্যাখ্যা
ধারা ১০: ধর্মীয় উদ্দেশ্যে নির্দিষ্ট ভাড়ার জন্য বিশেষ বিধান-
এই আইনের অন্য কোথাও বা বর্তমান কার্যকর কোনো আইনে বা কোনো চুক্তিতে অন্য কিছু বলা থাকলেও, যদি কোনো অকৃষি ভূমি কোনো লিখিত ইজারার মাধ্যমে নির্দিষ্ট ধর্মীয় উদ্দেশ্যে নির্ধারিত সময়ের জন্য ধরা হয়ে থাকে এবং সেই চুক্তিতে ধর্মীয় উদ্দেশ্যের কথা উল্লেখ থাকে, তাহলে সেই ভাড়াভিত্তিক জমিকে ধারা ৭-এ উল্লিখিত শ্রেণির ভাড়াভুক্ত জমি হিসেবে গণ্য করা হবে।

তবে শর্ত থাকে যে,
ভাড়াটিয়া সেই জমি থেকে তখনই উচ্ছেদযোগ্য হবেন যদি তিনি:
- জমিটি নির্ধারিত ধর্মীয় উদ্দেশ্যে ছাড়া অন্য কোনো উদ্দেশ্যে ব্যবহার করেন; অথবা
- তিন বছরের বেশি সময় ধরে ধর্মীয় উদ্দেশ্যে ব্যবহার না করেন।
২০.
Bengal Tenancy Act, 1885-এর অধীনে কোন খতিয়ান প্রণয়ন করা হয়েছে?
  1. এস. এ খতিয়ান
  2. বি. এস খতিয়ান
  3. সি. এস খতিয়ান
  4. আর. এস খতিয়ান
ব্যাখ্যা
বিভিন্ন প্রকার খতিয়ান:
১. সি.এস (CS) খতিয়ান:
- সি.এস খতিয়ান Bengal Tenancy Act, 1885 এর অধীনে প্রস্তুত করা হয়েছিল।
- এটি Cadastral Survey (ক্যাডাস্ট্রাল জরিপ) নামে পরিচিত।
- এই জরিপ শুরু হয়েছিল ১৮৮৮ সালে কক্সবাজার জেলার রামু উপজেলা থেকে এবং শেষ হয়েছিল ১৯৪০ সালে।
- এটি বাংলাদেশের প্রথম ও প্রাথমিক খতিয়ান হিসেবে বিবেচিত।

২. আর.এস (RS) খতিয়ান:
- সি.এস জরিপের প্রায় ৫০ বছর পর একটি নতুন জরিপ চালু হয়, যেটিকে বলা হয় Revisional Survey (পুনঃজরিপ)।
- এই জরিপের মাধ্যমে যেসব খতিয়ান তৈরি হয়, সেগুলোকে বলা হয় আর.এস খতিয়ান।
- এই জরিপের উদ্দেশ্য ছিল: জমির পরিমাণ হালনাগাদ করা, মালিকের নাম সংশোধন, দখলদারের নাম অন্তর্ভুক্ত করা।
- এটি সি.এস খতিয়ানের চেয়ে বেশি নির্ভরযোগ্য বলে গণ্য করা হয়।

৩. এস.এ (SA) খতিয়ান:
- এই খতিয়ান State Acquisition and Tenancy Act, 1950 এর অধীনে প্রস্তুত করা হয়েছিল।
- এটি বাস্তব/মাঠ জরিপের ভিত্তিতে তৈরি নয়, বরং জমিদার বা মালিকের দেওয়া তথ্যের উপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছিল।
- SA খতিয়ান বলতে বোঝায় State Acquisition খতিয়ান, অথবা Settlement Attestation খতিয়ান।
- এটি অনেক সময় PS খতিয়ান বা Pakistan Survey খতিয়ান নামেও পরিচিত।
- এই খতিয়ান খুব একটা নির্ভরযোগ্য নয়।

৪. বি.এস (BS) খতিয়ান:
- বি.এস খতিয়ান হলো সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য ও আধুনিক খতিয়ান।
- এটি ১৯৭০ সালে শুরু হওয়া একটি জরিপ (Bangladesh Survey) এর ভিত্তিতে প্রস্তুত করা হয় এবং এখনো পর্যন্ত চলছে।
- এই জরিপের মাধ্যমে তৈরি খতিয়ানকে বলা হয়: বি.এস বা Bangladesh Survey খতিয়ান
- এটি জমির মালিকানা নির্ধারণে সবচেয়ে বেশি স্বীকৃত এবং নির্ভরযোগ্য দলিল।
২১.
কোনো রায়ত যদি উইল না করে মারা যান, তবে তার হোল্ডিং-
  1. উত্তরাধিকারসূত্রে বণ্টিত হবে
  2. রাষ্ট্র রক্ষণাবেক্ষণ করবে
  3. মালিকের কাছে ফেরত যাবে
  4. আদালতের মাধ্যমে বাজেয়াপ্ত করা হবে
ব্যাখ্যা
ধারা ৮৪: রায়তের মৃত্যুর পর জমির উত্তরাধিকার (Devolution of holding on the death of a raiyat):
যদি কোনো রায়ত তার জীবদ্দশায় উইল বা অছিয়তপত্র না রেখে মারা যান (intestate), তাহলে তার হোল্ডিং (চাষযোগ্য জমির অধিকার)- এই আইনের বিধানগুলোর পরিপন্থী না হয়ে- তার অন্যান্য স্থাবর সম্পত্তির মতো উত্তরাধিকারসূত্রে বণ্টিত হবে।

তবে, যদি এমন কোনো ক্ষেত্রে উত্তরাধিকার আইন অনুযায়ী তার অন্য সম্পত্তি রাষ্ট্রের অনুকূলে যায়, তাহলে তার হোল্ডিং-এর অধিকার বিলুপ্ত (extinguished) হয়ে যাবে, অর্থাৎ সেই জমির ওপর তার বা তার উত্তরাধিকারীদের কোনো অধিকার থাকবে না।
২২.
জেলা কালেক্টরের আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করা হবে-
  1. হাইকোর্টে
  2. ভূমি মন্ত্রণালয়ে
  3. ভূমি প্রশাসন বোর্ডে
  4. বিভাগীয় কমিশনারের কাছে
ব্যাখ্যা
ধারা ১৪৭: আপিল (Appeals):
এই অংশে বা এই আইনের অধীনে প্রণীত বিধিমালায় আপিল সংক্রান্ত যেকোনো বিশেষ বিধানের অধীন থাকা সাপেক্ষে, এই অংশের অধীন রাজস্ব কর্মকর্তার দ্বারা গৃহীত প্রতিটি মূল বা আপিল আদেশের বিরুদ্ধে নিম্নরূপভাবে আপিল করা যাবে—

(ক) যদি আদেশ কোনো কালেক্টরের অধীনস্থ রাজস্ব কর্মকর্তা দ্বারা প্রদান করা হয়ে থাকে, তবে আপিল করা যাবে জেলা কালেক্টরের কাছে;

(ক)(১) যদি আদেশ জেলা কালেক্টর দ্বারা প্রদান করা হয়ে থাকে, তবে আপিল করা যাবে বিভাগীয় কমিশনারের কাছে;

(গ) যদি আদেশ বিভাগীয় কমিশনার দ্বারা প্রদান করা হয়ে থাকে, তবে আপিল করা যাবে ভূমি প্রশাসন বোর্ড (Board of Land Administration)-এর কাছে।
২৩.
Under section 145G of SAT Act, 1950, who has the authority to abolish Land Survey Tribunals?
  1. The Supreme Court
  2. The Government
  3. The Land Commission
  4. The District Judge
ব্যাখ্যা
ধারা ১৪৫ছ: ট্রাইব্যুনাল বিলুপ্ত করার ক্ষমতা-
সরকার, যেকোনো সময় সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন জারি করে, ধারা ১৪৫ক এর অধীনে গঠিত ভূমি জরিপ ট্রাইব্যুনাল এবং ধারা ১৪৫খ এর অধীনে গঠিত ভূমি জরিপ আপিল ট্রাইব্যুনাল বিলুপ্ত করতে পারবে।
এবং এ ধরনের বিলুপ্তির সময়, একই প্রজ্ঞাপনে সরকারকে উল্লেখ করতে হবে- যেসব মামলা, আপিল বা অন্যান্য কার্যক্রম ঐ ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন রয়েছে, সেগুলো কোন আদালতে স্থানান্তরিত হবে এবং সেই আদালত কর্তৃক তা নিষ্পত্তি করা হবে।

[The Government may, by notification in the official Gazette, at any time, abolish any Land Survey Tribunal established under section 145A and any Land Survey Appellate Tribunal established under section 145B, and while so abolishing, the Government shall, in the same notification, specify the courts where the suits, appeals and other proceedings pending in such Tribunals at the time of such abolition shall be transferred to and be disposed of.]
২৪.
SAT Act, 1950 এর ধারা ৩০(২) অনুযায়ী, কোন বিষয়ে সিভিল কোর্টে মামলা করা যাবে না?
  1. ঋণ চুক্তি
  2. জমি ক্রয়ের চুক্তি
  3. জমির মালিকানা পরিবর্তন
  4. রেকর্ড-অফ-রাইটস প্রস্তুত সংক্রান্ত আদেশ
ব্যাখ্যা
SAT Act, 1950 ধারা ৩০: সিভিল কোর্টের বিচারাধীন ক্ষমতার সীমাবদ্ধতা-
(১) ধারা ১৭ অনুযায়ী যদি কোনো এলাকায় রেকর্ড-অফ-রাইটস প্রস্তুত বা সংশোধনের আদেশ দেয়া হয়, তাহলে সেই এলাকার কোনো ভাড়ার পরিবর্তন, প্রজার মর্যাদা, বা সম্পত্তির অধিকার-অধিকার সম্পর্কিত বিষয়ে সিভিল কোর্ট কোনো মামলা বা আবেদন গ্রহণ করবে না।
যদি আদেশের দিন যেকোনো সিভিল কোর্টে এমন মামলা চলমান থাকে, তবে তা আর চলবে না এবং অবসান ঘটবে।

ব্যাখ্যা: এখানে ‘মামলা’ শব্দের মধ্যে আপিলও অন্তর্ভুক্ত।

(২) এই অধ্যায়ের অধীনে রেকর্ড-অফ-রাইটস প্রস্তুত বা সংশোধনের আদেশ, অথবা এর ফ্রেমিং, প্রকাশনা, স্বাক্ষর বা স্বীকৃতি বিষয়ক কোনো আদেশের বিরুদ্ধে সিভিল কোর্টে মামলা করা যাবে না।

(৩) কোনো সিভিল কোর্ট বা হাইকোর্টে জমি সম্পর্কিত মামলা, আপিল বা বিচার কোনোভাবেই রেকর্ড-অফ-রাইটস বা ক্ষতিপূরণ নির্ধারণের কাজকে বাধা দিতে পারবে না।
২৫.
The Non-Agricultural Tenancy Act, 1949 এর কত ধারায় সম্পত্তি হস্তান্তর আইন, ১৮৮২ প্রয়োগের বৈধতা দেয়া হয়েছে?
  1. ধারা ৭০
  2. ধারা ৭১
  3. ধারা ৭২
  4. ধারা ৭৩
ব্যাখ্যা
ধারা ৭১: সম্পত্তি হস্তান্তর আইন, ১৮৮২ এর প্রয়োগ এবং অন্যান্য আইন-
যে সমস্ত ভাড়াটিয়াদের ক্ষেত্রে এই আইন প্রযোজ্য, সেসব ক্ষেত্রে সম্পত্তি হস্তান্তর আইন, ১৮৮২ এবং অন্য যে কোনও প্রযোজ্য আইন, যদি এই আইনের বিধানের সাথে বিরোধ না করে, সেগুলো প্রযোজ্য থাকবে এবং প্রয়োগ চালু থাকবে।

[The provisions of the Transfer of Property Act, 1882, and of any other law for the time being in force, in so far as they may be applicable and in so far as they are not inconsistent with the provisions of this Act shall continue to apply to all tenancies to which the provisions of this Act apply.]
২৬.
SAT Act, 1950 এর ধারা ৮১ অনুযায়ী, কোনো এলাকায় কৃষি ভূমির অধিকারী হিসাবে কোন শ্রেণি স্বীকৃত?
  1. প্রজা
  2. মালিক
  3. ইজারাদার
  4. ক ও খ উভয়
ব্যাখ্যা
ধারা ৮১: কৃষি প্রজাদের শ্রেণী এবং তাদের অধিকার ও দায়-দায়িত্ব নিয়ন্ত্রণ (বাংলা অর্থ)
(১) কোনো এলাকায় এই অংশের (Part) সব ধারা কার্যকর হওয়ার তারিখ থেকে, ওই এলাকায় শুধুমাত্র এক শ্রেণির কৃষিজমির অধিকারী থাকবে, যার নাম হবে "মালিক" (Malik), এবং সেই মালিকদের অধিকার ও দায়-দায়িত্ব এই অংশের বিধান অনুযায়ী নিয়ন্ত্রিত হবে।

- এই ধারার কোনো কিছুই কোনো মালিককে তার খতিয়ানের উপ-মাটি বা খনিজ সম্পদের ওপর অধিকার প্রদান করে না।
- যখন সরকার কোনো নির্দিষ্ট সময়ের জন্য কারো কাছে জমি ইজারা দেয়, তখন সেই ইজারাদারের অধিকার ও দায়-দায়িত্ব ইজারার চুক্তিতে নির্ধারিত শর্তাবলী অনুযায়ী নিয়ন্ত্রিত হবে।
২৭.
অকৃষি জমির উন্নয়ন কাজ সংক্রান্ত প্রশ্ন দেখা দিলে, কে সিদ্ধান্ত দিবেন?
  1. ভূমি রাজস্ব কর্মকর্তা
  2. ডেপুটি কমিশনার
  3. ভূমি জরিপ কর্মকর্তা
  4. দেওয়ানি আদালত
ব্যাখ্যা
• অকৃষি প্রজাস্বত্ব আইন, ১৯৪৯ এর ৬৬ ধারার বিধান- উন্নয়ন ইত্যাদি করার অধিকারের প্রশ্নে কালেক্টর সিদ্ধান্ত দিবেন:
১) যদি অকৃষি প্রজা ও তার ভূ-স্বত্বাধিকারীর মধ্যে এমন প্রশ্ন উঠে-
ক) উন্নয়ন কাজ করার অধিকার সম্বন্ধে; বা
খ) কোন বিশেষ একটি কাজ উন্নয়নমূলক কি না, 

তখন যে কোন পক্ষের আবেদন অনুযায়ী ডেপুটি কমিশনার সে সম্পর্কে সিদ্ধান্ত প্রদান করবেন।

২) ডেপুটি কমিশনারের প্রদত্ত আদেশের তারিখ থেকে ৩০ দিনের মধ্যে জেলা জজের নিকট আপিল করা যাবে। এরূপ আপিলের ক্ষেত্রে জেলা জজের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত।
২৮.
'কোনো রায়তের তাহার জোতের অন্তর্ভুক্ত ভূমি তাহার ইচ্ছামাফিক ভোগ-দখল করার অধিকার থাকিবে।'- SAT Act, 1950 এর কত ধারায় বলা আছে?
  1. ৮০ ধারায়
  2. ৮৩ ধারায়
  3. ৮৬ ধারায়
  4. ৮৭ ধারায়
ব্যাখ্যা
রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ এবং প্রজাস্বত্ব আইনের ৮৩ ধারার বিধান- রায়তের ভূমি ব্যবহার সম্পর্কিত অধিকার:
কোনো রায়তের তাহার জোতের অন্তর্ভুক্ত ভূমি তাহার ইচ্ছামাফিক ভোগ-দখল করার অধিকার থাকিবে।

⇒ Section 83- Rights of raiyat in respect of use of land:
A raiyat shall have the right to occupy and use the land comprised in his holding in any manner he likes.
২৯.
ভূমি জরিপ আপিল ট্রাইব্যুনালের বিচারক নিযুক্ত না হওয়া পর্যন্ত সরকার কাকে বিচারক হিসেবে ক্ষমতায়ন করতে পারে?
  1. জেলা জজ
  2. যুগ্ম জেলা জজ
  3. সহকারী জজ
  4. সিনিয়র সহকারী জজ
ব্যাখ্যা
ধারা ১৪৫খ: ভূমি জরিপ আপিল ট্রাইব্যুনাল (Land Survey Appellate Tribunal) –

(১) সরকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন জারির মাধ্যমে, প্রয়োজনে যতগুলি প্রয়োজন হয় ততগুলি ভূমি জরিপ আপিল ট্রাইব্যুনাল গঠন করতে পারবে, যা ভূমি জরিপ ট্রাইব্যুনালের রায়, ডিক্রি বা আদেশের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত আপিল শুনানির জন্য গঠিত হবে।

(২) সরকার সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা ভূমি জরিপ আপিল ট্রাইব্যুনালের বিচারাধীন এলাকার সীমা নির্ধারণ বা পরিবর্তন করতে পারবে।

(৩) সরকার, জেলা জজদের মধ্য থেকে ভূমি জরিপ আপিল ট্রাইব্যুনালের বিচারক নিয়োগ করবে।

(৩ক) যতক্ষণ না (৩) উপধারার অধীনে কোনো বিচারক নিয়োগ দেওয়া হয়, ততক্ষণ পর্যন্ত সরকার প্রত্যেক জেলায় জেলা জজকে আপাতভাবে ভূমি জরিপ আপিল ট্রাইব্যুনালের বিচারক হিসেবে ক্ষমতাপ্রাপ্ত করতে পারবে।

(৩খ) (৩ক) উপধারায় ক্ষমতাপ্রাপ্ত জেলা জজকে এই ধারার অধীনে নিয়োগপ্রাপ্ত বিচারক বলে গণ্য করা হবে।

(৩গ) প্রয়োজনে সরকার এক বা একাধিক অতিরিক্ত জেলা জজকে এই ট্রাইব্যুনালের বিচারক হিসেবে নিয়োগ দিতে পারবে, যিনি মূল বিচারকের কাছ থেকে স্থানান্তরিত আপিল শুনানি করবেন।

(৪) ভূমি জরিপ ট্রাইব্যুনালের রায়, ডিক্রি বা আদেশ থেকে উদ্ভূত আপিল ব্যতীত অন্য কোনো আপিল ভূমি জরিপ আপিল ট্রাইব্যুনালে গ্রহণযোগ্য নয়।

(৫) যে কোনো ব্যক্তি যিনি ভূমি জরিপ ট্রাইব্যুনালের রায়, ডিক্রি বা আদেশে ক্ষতিগ্রস্ত, তিনি রায়ের তারিখ থেকে তিন মাসের মধ্যে ভূমি জরিপ আপিল ট্রাইব্যুনালে আপিল দায়ের করতে পারবেন।

(৬) যদি আপিলকারী যথাযথ বিলম্বের কারণ ব্যাখ্যা করতে পারেন, তবে ট্রাইব্যুনাল সেই ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট হলে পরবর্তী তিন মাসের মধ্যে আপিল গ্রহণ করতে পারে।