পরীক্ষা আর্কাইভ

৯ম - ১৩তম গ্রেড পরীক্ষার প্রস্তুতি

পরীক্ষা৯ম - ১৩তম গ্রেড পরীক্ষার প্রস্তুতিতারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়09 minutes
মোট প্রশ্ন১৪
সিলেবাস
[৯ম - ১৩তম গ্রেড নিয়োগ প্রস্তুতি: পরীক্ষা - ৪] সাধারণ জ্ঞান পরীক্ষা - ১ টপিক: ১. ভৌগোলিক অবস্থান ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়াবলি [নদ-নদী, সাগর-মহাসাগর, পাহাড় ইত্যাদি] ২. বাংলাদেশ ও উপমহাদেশের ইতিহাস প্রাচীন জনপদ ও মধ্যযুগ, ৩. বাংলাদেশের গুরত্বপূর্ণ স্থাপনা, ব্যক্তি। উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ সম্পর্কিত অষ্টম, মাধ্যমিক ও উচ্চ-মাধ্যমিক শ্রেণির বোর্ড বই [NCTB ও উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়], বাংলাপিডিয়া, ওয়ার্ল্ড এটলাস ওয়েবসাইট, ব্রিটানিকা এবং যেকোনো গাইডবই। [গাইড বই থেকে পড়ার ক্ষেত্রে কনফিউজিং বিষয়গুলো ক্রসচেক করে পড়া উত্তম।]।
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

৯ম - ১৩তম গ্রেড পরীক্ষার প্রস্তুতি

৯ম - ১৩তম গ্রেড পরীক্ষার প্রস্তুতি · তারিখ অনির্ধারিত · ১৪ প্রশ্ন

.
মহাস্থানগড় প্রাচীন বাংলার কোন জনপদের রাজধানী ছিল?
  1. গৌড়
  2. পুণ্ড্র
  3. বঙ্গ
  4. রাঢ়
সঠিক উত্তর:
পুণ্ড্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পুণ্ড্র
ব্যাখ্যা
পুণ্ড্র:
- পুণ্ড্র শব্দের অর্থ আখ বা ইক্ষু।
- প্রাচীন বাংলার জনপদগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো পুণ্ড্র।
- খুব সম্ভবত পুণ্ড্র বলে একটি জনগোষ্ঠী এ জনপদ গড়ে তুলেছিল।
- বর্তমান বগুড়া, রংপুর, রাজশাহী ও দিনাজপুর এলাকা নিয়ে এ পুণ্ড্র জনপদটির সৃষ্টি হয়েছিল।
- রাজধানীর নাম ছিল পুণ্ড্রনগর। পরবর্তীকালে এর নাম হয় মহাস্থানগড়।
- মহাস্থানগড় প্রাচীন পুণ্ড্র নগরীর ধ্বংসাবশেষ বলে পণ্ডিতেরা মনে করেন।
- প্রাচীন সভ্যতার নিদর্শনের দিক দিয়ে পুণ্ড্রই ছিল প্রাচীন বাংলার সবচেয়ে সমৃদ্ধ নগরসভ্যতা।
- পাথরের চাকতিতে খোদাই করা লিপি এখানে পাওয়া যায়। লিপিটির নাম মহাস্থান ব্রাহ্মীলিপি।
- ধারণা করা হয়, বাংলাদেশে প্রাপ্ত এটিই প্রাচীনতম শিলালিপি।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
.
ন্যাপ নামক রাজনৈতিক সংগঠন কে প্রতিষ্ঠা করেন?
  1. হোসেন শহীদ সোহ্‌রাওয়ার্দী
  2. মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী
  3. শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক
  4. তাজউদ্দীন আহমদ
সঠিক উত্তর:
মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী
ব্যাখ্যা
মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী: 
- ১৮৮৭ সালে ১৮ ডিসেম্বর সিরাজগঞ্জের কৃতী পুরুষ মজলুম জননেতা মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী সিরাজগঞ্জে জন্মগ্রহণ করেন।
- নানা ঘাত-প্রতিঘাত ও প্রতিকূল অবস্থার মধ্যে যৌবনে পদার্পন করেন করার পর তিনি ব্রিটিশবিরোধী বিপ্লবী সংগঠন ‘অনুশীলন’ দলের প্রাথমিক সদস্য হন।
- পরবর্তীতে নিরাপত্তার অন্বেষায় তিনি আসামে চলে যান।
- মওলানা ভাসানী সারাজীবন কৃষক-শ্রমিক-মেহনতী মানুষের পক্ষে আপোষহীনভাবে সংগ্রাম করতে গিয়ে বহু জেল, জুলুম ও নির্যাতন ভোগ করেছেন।
- তিনি বাংলাদেশের আওয়ামী লীগের (প্রাথমিকভাবে যে দলের নাম মুসলিম আওয়ামী লীগ ছিল) প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ছিলেন।
- ১৯৫৬ সালে ঐতিহাসিক কাগমারী (টাঙ্গাইলের সন্তোষে) সম্মেলনে পররাষ্ট্রনীতির প্রশ্নে মতপার্থক্যের কারণে তিনি আওয়ামী লীগ থেকে পদত্যাগ করেন।  
- এরপর ন্যাপ নামক অপর একটি রাজনৈতিক সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন।
- ঊনবিংশ শতাব্দীতে পাক-ভারত উপমহাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে মওলানা ভাসানী মজলুম জননেতা হিসেবে সুপরিচিত ছিলেন।
- ভাসানী প্রগতিশীল, মানবতাবাদী ও মুক্ত চিন্তা-চেতনায় সমৃদ্ধ বিরল ব্যক্তিত্বের অধিকারী ছিলেন।
- সিরাজগঞ্জের তেজোদীপ্ত প্রাণপুরুষ জননেতা মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী ১৯৭৬ সালে ইন্তেকাল করেন।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন। 
.
লালবাগ দুর্গ কোন আমল এর নিদর্শন?
  1. সুলতানি আমল
  2. আফগান আমল
  3. মোঘল আমল
  4. নবাবি আমল
সঠিক উত্তর:
মোঘল আমল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মোঘল আমল
ব্যাখ্যা
লালবাগ দুর্গ: 
- লালবাগ দুর্গ মোঘল আমল এর একটি চমৎকার নিদর্শন।
- প্রথমে এই কেল্লার নাম ছিল কেল্লা আওরঙ্গবাদ।
- এই কেল্লার নকশা করেন শাহ আজম।
- মোঘল সম্রাট আওরঙ্গজেব-এর ৩য় পুত্র আজম শাহ ১৬৭৮ খ্রিস্টাব্দে ঢাকার সুবেদারের বাসস্থান হিসেবে এ দুর্গের নির্মাণ কাজ শুরু করেন।
- মাত্র এক বছর পরেই দুর্গের নির্মাণকাজ শেষ হবার আগেই মারাঠা বিদ্রোহ দমনের জন্য সম্রাট আওরঙগজেব তাকে দিল্লি ডেকে পাঠান। - এসময় একটি মসজিদ ও দরবার হল নির্মাণের পর দুর্গ নির্মাণের কাজ থেমে যায়।
- নবাব শায়েস্তা খাঁ ১৬৮০ সালে ঢাকায় এসে পুনরায় দুর্গের নির্মাণকাজ শুরু করেন।
- তবে শায়েস্তা খানের কন্যা পরী বিবির মৃত্যুর পর এ দুর্গ অপয়া মনে করা হয় এবং শায়েস্তা খান ১৬৮৪ খ্রিস্টাব্দে এর নির্মাণ বন্ধ করে দেন। 
- ১৯১০ সালে লালবাগ দুর্গের প্রাচীর সংরক্ষিত স্থাপত্য হিসেবে প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের অধীনে আনা হয়।
- অবশেষে নির্মাণের ৩০০ বছর পর গত শতকের আশির দশকে লালবাগ দুর্গের যথাসম্ভব সংস্কার করে এর আগের রূপ ফিরিয়ে আনা হয় এবং দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করা হয়। 

উৎস: বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন। 
.
লালমাই পাহাড় নিচের কোনটির অন্তর্ভুক্ত?
  1. দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়সমূহ
  2. উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়সমূহ
  3. টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহ
  4. প্লাইস্টোসিন কালের সোপানসমূহ
সঠিক উত্তর:
প্লাইস্টোসিন কালের সোপানসমূহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্লাইস্টোসিন কালের সোপানসমূহ
ব্যাখ্যা
প্লাইস্টোসিন কালের সোপানসমূহ বা চত্বরভূমি:
- বাংলাদেশের মোট ভূমির প্রায় ৮% এলাকা নিয়ে এ অঞ্চল গঠিত।
- আনুমানিক ২৫,০০০ বছর পূর্বের সময়কে প্লাইস্টোসিন কাল বলা হয়।
- এই সময়ের আন্তঃবরফ গলা পানিতে প্লাবনের সৃষ্টি হয়ে এসব চত্বরভূমি গঠিত হয়েছিল বলে অনুমান করা হয়।
- প্লাইস্টোসিন কালের সোপানসমূহকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়, যথা- বরেন্দ্রভূমি, মধুপুর ও ভাওয়ালের গড় এবং লালমাই পাহাড়।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
.
বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী কে ছিলেন?
  1. তাজউদ্দিন আহমদ
  2. সৈয়দ নজরুল ইসলাম
  3. এএইচএম কামারুজ্জামান
  4. এম মনসুর আলী
সঠিক উত্তর:
তাজউদ্দিন আহমদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তাজউদ্দিন আহমদ
ব্যাখ্যা
তাজউদ্দিন আহমদ: 
- তাজউদ্দিন আহমদ (১৯২৫-১৯৭৫) আইনজীবী, রাজনীতিক এবং বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী।
- গাজীপুর জেলার কাপাসিয়া থানার দরদরিয়া গ্রামে ১৯২৫ সালের ২৩ জুলাই তাঁর জন্ম।
- তাজউদ্দিন আহমদ ১৯৫৪ সালে যুক্তফ্রন্ট প্রার্থী হিসেবে কাপাসিয়া থেকে পূর্ব পাকিস্তান প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। 
- ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসাবে তিনি জাতীয় পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন।
- ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ পাকবাহিনী গণহত্যা শুরু করলে তিনি তাঁর কতিপয় সহকর্মী সহ ঢাকা ত্যাগ করে ভারত গমন করেন।
 ১০ এপ্রিল প্রবাসী বাংলাদেশ সরকার গঠিত হলে তিনি এ সরকারের প্রধানমন্ত্রী হন এবং মুক্তিযুদ্ধ সংগঠিত করেন।
- মুক্তিবাহিনীর জন্য অস্ত্র সংগ্রহ ও মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে আন্তর্জাতিক সমর্থন লাভের ক্ষেত্রে তিনি বিশেষ ভূমিকা পালন করেন।
- মুক্তিযুদ্ধে চূড়ান্ত বিজয়ের পর ১৯৭১ সালের ২২ ডিসেম্বর তিনি স্বদেশে প্রত্যাবর্তন করেন এবং সদ্য স্বাধীন দেশের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
- এরপর নতুন মন্ত্রিসভা গঠিত হলে (১৯৭২) তাজউদ্দিন আহমদ প্রথমে অর্থ এবং পরে অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রীর দায়িত্ব লাভ করেন।
- বাংলাদেশের সংবিধান প্রণয়ন কমিটির সদস্য হিসেবে তিনি সংবিধান প্রণয়নে বিশিষ্ট ভূমিকা রাখেন। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া। 
.
তিব্বতের মানস সরোবরে কোন নদীর উৎপত্তি হয়েছে?
  1. করতোয়া
  2. ব্রহ্মপুত্র
  3. ধলেশ্বরী
  4. আত্রাই
সঠিক উত্তর:
ব্রহ্মপুত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্রহ্মপুত্র
ব্যাখ্যা
ব্রহ্মপুত্র এবং যমুনা:
- তিব্বতের মানস সরোবরে ব্রহ্মপুত্র নদের উৎপত্তি হয়েছে।
- আসাম হয়ে বাংলাদেশের কুড়িগ্রাম জেলায় এটি প্রবেশ করেছে।
- ব্রহ্মপুত্রের প্রধান ধারাটি এক সময়ে ময়মনসিংহের মধ্য দিয়ে উত্তর-পশ্চিমদিক থেকে দক্ষিণ-পূর্বদিকে আড়াআড়িভাবে প্রবাহিত হতো।
- কিন্তু ১৭৮৭ সালে সংঘটিত ভূমিকম্পে ব্রহ্মপুত্রের তলদেশ উত্থিত হওয়ায় পানি ধারণ ক্ষমতার বাইরে চলে যায় এবং নতুন স্রোতধারার একটি শাখা নদীর সৃষ্টি হয়।
- এই নতুন স্রোত ধারাটি যমুনা নামে পরিচিত হয়।
- এটি দক্ষিণে গোয়ালন্দ পর্যন্ত যমুনা নদী বলে পরিচিত।
- যমুনার শাখা নদী ধলেশ্বরী এবং ধলেশ্বরীর শাখা নদী-বুড়িগঙ্গা।
- ধরলা ও তিস্তা ব্রহ্মপুত্রের উপনদী।
- করতোয়া ও আত্রাই হলো যমুনার উপনদী।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
.
শালবন বিহার এর অবস্থান বাংলার কোন প্রাচীন জনপদে?
  1. সমতট
  2. তাম্রলিপ্তি
  3. চন্দ্রদ্বীপ
  4. বরেন্দ্র
সঠিক উত্তর:
সমতট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সমতট
ব্যাখ্যা
সমতট:
- পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্ব বাংলায় বঙ্গের পাশাপাশি সমতটের অবস্থান।
- সমতটের রাজধানী বড় কামতা এবং দেবপর্বত কুমিল্লার লালমাই পাহাড়ে অবস্থিত।
- গঙ্গা-ভাগীরথীর পূর্ব তীর থেকে শুরু করে মেঘনার মোহনা পর্যন্ত সমুদ্রকূলবর্তী এলাকা এবং বর্তমান ভারতের ত্রিপুরার প্রাচীন অংশই সমতট।
- কুমিল্লার ময়নামতিতে কয়েকটি প্রাচীন নিদর্শনের সন্ধান পাওয়া গেছে।
- শালবন বিহার এদের অন্যতম।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
.
নিচের কোন জেলা নিয়ে বরেন্দ্রভূমি গঠিত নয়?
  1. নওগাঁ
  2. রাজশাহী
  3. বগুড়া
  4. কুষ্টিয়া
সঠিক উত্তর:
কুষ্টিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কুষ্টিয়া
ব্যাখ্যা
প্লাইস্টোসিন কালের সোপানসমূহ: 
- প্লাইস্টোসিন কালের সোপানসমূহকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়, যথা- বরেন্দ্রভূমি, মধুপুর ও ভাওয়ালের গড় এবং লালমাই পাহাড়।
- নওগাঁ, রাজশাহী, বগুড়া, জয়পুরহাট, রংপুর ও দিনাজপুর জেলার অংশবিশেষ নিয়ে বরেন্দ্রভূমি গঠিত।
- এর আয়তন ৯,৩২০ বর্গকিলোমিটার।
- প্লাবন সমভূমি থেকে এর উচ্চতা ৬ থেকে ১২ মিটার।
- এ স্থানের মাটি ধূসর ও লাল বর্ণের।
- ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইল, গাজীপুর ও ঢাকা জেলার অংশবিশেষ নিয়ে মধুপুর ও ভাওয়ালের সোপানভূমি গঠিত।
- এর আয়তন প্রায় ৪,১০৩ বর্গকিলোমিটার।
- সমভূমি থেকে এর উচ্চতা ৬ থেকে ৩০ মিটার। মাটির রং লালচে ও ধূসর।
- কুমিল্লা শহর থেকে ৮ কিলোমিটার পশ্চিমে লালমাই থেকে ময়নামতি পর্যন্ত লালমাই পাহাড়টি বিস্তৃত।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
.
'শামসুদ্দিন ইলিয়াস শাহ' নাম নিয়ে সিংহাসনে বসেন কে?
  1. হাজি ইলিয়াস
  2. আলি শাহ
  3. আলি মুবারক
  4. ফখরুদ্দিন মুবারক শাহ
সঠিক উত্তর:
হাজি ইলিয়াস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হাজি ইলিয়াস
ব্যাখ্যা
ইলিয়াস শাহি বংশ: 
- সোনারগাঁয়ে ফখরুদ্দিন মুবারক শাহ যখন স্বাধীন সুলতান তখন লখনৌতির সিংহাসন দখল করেছিলেন সেখানকার সেনাপতি আলি মুবারক।
- সিংহাসনে বসে তিনি 'আলাউদ্দিন আলি শাহ' উপাধি গ্রহণ করেন।
- লখনৌতিতে তিনিও স্বাধীন রাজ্য গড়ে তোলেন।
- পরে রাজধানী স্থানান্তর করেন পাণ্ডুয়ায় (ফিরোজাবাদ)।
- আলি শাহ ক্ষমতায় ছিলেন ১৩৪২ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত।
- তাঁর দুধভাই ছিলেন হাজি ইলিয়াস।
- তিনি আলি শাহকে পরাজিত ও নিহত করে 'শামসুদ্দিন ইলিয়াস শাহ' নাম নিয়ে সিংহাসনে বসেন।
- বাংলায় তাঁর প্রতিষ্ঠিত রাজবংশের নাম ইলিয়াস শাহি বংশ।
- এরপর ইলিয়াস শাহের বংশধরগণ অনেক দিন বাংলা শাসন করেন।
- মাঝখানে কিছুদিনের জন্য রাজা গণেশের রাজত্বের উত্থান ঘটেছিল।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
১০.
পটুয়া নামে পরিচিতি লাভ করেন কে?
  1. জয়নুল আবেদিন
  2. কামরুল হাসান
  3. এসএম সুলতান
  4. আবদুল আলীম
সঠিক উত্তর:
কামরুল হাসান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কামরুল হাসান
ব্যাখ্যা
কামরুল হাসান: 
- কামরুল হাসান (১৯২১-১৯৮৮) প্রখ্যাত চিত্রশিল্পী।
- প্রকৃত নাম আবু শরাফ মোহাম্মদ কামরুল হাসান।
- ১৯২১ সালের ২ ডিসেম্বর পিতার কর্মস্থল কলকাতায় তিনি জন্মগ্রহণ করেন। 
- দেশবিভাগের পর কামরুল হাসান  ঢাকা চলে আসেন এবং শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিনের সঙ্গে মিলিত হয়ে ঢাকায় একটি আর্ট স্কুল প্রতিষ্ঠা করেন (১৯৪৮)।
- ঢাকায় চিত্রকলার চর্চা ও প্রসারের লক্ষ্যে ১৯৫০ সালে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন আর্ট গ্রুপ।
- ১৯৬০ সালে তিনি ক্ষুদ্র ও কুটিরশিল্প কর্পোরেশনের নকশা কেন্দ্রের প্রধান নকশাবিদ নিযুক্ত হন এবং ১৯৭৮ সালে উক্ত পদ থেকে অবসর গ্রহণ করেন।
- কামরুল হাসান বাংলাদেশের স্বাধিকার ও অসহযোগ আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন (১৯৬৯-৭০) এবং মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। 
- পাকিস্তানের সামরিক প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খানের রক্তপায়ী, হিংস্র মুখমন্ডল সম্বলিত একটি পোস্টার এঁকে আলোড়ন সৃষ্টি করেন।
- পোস্টারটির শিরোনাম: ‘এই জানোয়ারদের হত্যা করতে হবে।
- কামরুল হাসানের চিত্রকলায় লৌকিক ও আধুনিক রীতির মিশ্রণ ঘটায় তিনি ‘পটুয়া কামরুল হাসান’ নামে পরিচিতি লাভ করেন।
- তিনি বাংলাদেশের জাতীয় পতাকার চূড়ান্ত নকশা ও গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সরকারি মনোগ্রাম তৈরি করার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া। 
১১.
বাংলাদেশের দক্ষিণ পূর্বাঞ্চলের প্রধান নদী কোনটি?
  1. বরাক
  2. হালদা
  3. ফেনী
  4. কর্ণফুলী
সঠিক উত্তর:
কর্ণফুলী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কর্ণফুলী
ব্যাখ্যা
কর্ণফুলী:
- বাংলাদেশের দক্ষিণ পূর্বাঞ্চলের প্রধান নদী কর্ণফুলী।
- এর উৎপত্তিস্থল লুসাই পাহাড়ে।
- ৩২০ কি.মি. দৈর্ঘ্যের এ নদীটি চট্টগ্রাম শহরের খুব কাছ দিয়ে বঙ্গোপসাগরে পতিত হয়েছে।
- কর্ণফুলীর প্রধান উপনদী হচ্ছে কাপ্তাই, হালদা, কাসালাং ও রাঙখিয়াং।
- বাংলাদেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর চট্টগ্রাম কর্ণফুলীর তীরে অবস্থিত।
- পানি বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং চট্টগ্রাম বন্দরের জন্য এ নদীর গুরুত্ব অধিক।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
১২.
আহসান মঞ্জিল কে নির্মাণ করেন?
  1. খাজা আহসানুল্লাহ
  2. নওয়াব স্যার সলিমুল্লাহ
  3. নওয়াব আবদুল গনি
  4. নওয়াব কুতুব উদ্দিন
সঠিক উত্তর:
নওয়াব আবদুল গনি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নওয়াব আবদুল গনি
ব্যাখ্যা
আহসান মঞ্জিল: 
- আহসান মঞ্জিল ঢাকা শহরের দক্ষিণে বুড়িগঙ্গা নদীর তীরে অবস্থিত।
- এটি ঢাকার নবাবদের প্রাসাদ ছিল।
- আহসান মঞ্জিল নির্মাণ করেন নওয়াব আবদুল গনি। 
- ১৮৭২ সালে নওয়াব আবদুল গনি তাঁর পুত্র খাজা আহসানুল্লাহর নামে 'আহসান মঞ্জিল' নামকরণ করেন।
- উনিশ শতকের মাঝামাঝি থেকে প্রায় ১০০ বছর পর্যন্ত এই প্রাসাদটি বাংলার একটি প্রধান রাজনৈতিক কেন্দ্র ছিল।
- ২৩ টি গ্যালারী নিয়ে ১৯৯২ সালে দর্শনীয় স্থানটি পুন:সংস্কারের মাধ্যমে জাদুঘরে (আহসান মঞ্জিল জাদুঘর) রুপান্তর করে দর্শকদের জন্য উন্মুক্ত করা হয়।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
১৩.
শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিনের আঁকা চিত্রকর্ম কোনটি?
  1. মনপুরা ৭০
  2. তিনকন্যা
  3. নাইওর
  4. ধানকাটা
সঠিক উত্তর:
মনপুরা ৭০
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মনপুরা ৭০
ব্যাখ্যা
শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন: 
- শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন জীবনের ২৯ বছর বাংলাদেশের শিল্প আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। 
- ঢাকা আর্ট কলেজ, ময়মনসিংহ জয়নুল সংগ্রহশালা, বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশনের সূচনা তার হাত ধরেই হয়েছে। 
- বাংলাদেশের চারু ও ব্যবহারিক কারুকলার প্রাতিষ্ঠানিক প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে তাকে গণ্য করা হয়।
- ১৯৪৮ সালে জয়নুল আবেদিন চিত্রশিল্পী আনোয়ারুল হক, কামরুল হাসান, খাজা শফিক আহমেদ, সফিউদ্দীন আহমেদ এবং হাবিবুর রহমানকে নিয়ে জনসন রোডের একটি বিল্ডিং-এ শুরু করেন সরকারি আর্ট ইন্সটিটিউট।
- জয়নুল আবেদিন ১৯৪৩ সালে দুর্ভিক্ষ চিত্রমালার জন্য বিশেষ খ্যাতি অর্জন করেছেন।
- এ ছাড়াও তার বিখ্যাত শিল্পকর্মগুলোর মধ্যে নৌকা (১৯৫৭), সংগ্রাম(১৯৫৯), বীর মুক্তিযোদ্ধা(১৯৭১), ম্যাডোনা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
- ১৯৭০ সালে তিনি গ্রামবাংলার উৎসব নিয়ে আঁকেন বিখ্যাত ৬৫ ফুট দীর্ঘ ছবি ‘নবান্ন’। 
- ‘সোনার বাংলার শ্মশান’ হওয়ার আখ্যান ছিল ‘নবান্ন’।
- এর পরপরই বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় প্রচন্ড সাইক্লোন ও জলোচ্ছ্বাসের আঘাতে তিন লক্ষাধিক মানুষ প্রাণ হারান। 
- এটি নিয়ে ‘মনপুরা ৭০’ শীর্ষক ৩০ ফুট দৈর্ঘ্যের আরেকটি স্ক্রলচিত্র আঁকেন তিনি।
- এছাড়াও তার ভিন্নধর্মী ছবির মধ্যে আমারা দেখি সাঁওতাল দম্পতি, সাঁওতাল রমণীদ্বয়, মই দেওয়া, সংগ্রাম, বিদ্রোহী, কিংবা কাদায় পড়া কাঠবোঝাই গরুর গাড়ি ঠেলার মতো চিত্রকর্ম।

উল্লেখ্য, 
- তিনকন্যা ও নাইওর কামরুল হাসানের চিত্রকর্ম এবং ধানকাটা এসএম সুলতানের চিত্রকর্ম। 

উৎস: ভয়েস অফ আমেরিকা বাংলা (অক্টোবর ২৬, ২০২৩)।
১৪.
সাঙ্গু নদীর দৈর্ঘ্য কত?
  1. ১২০ কি.মি.
  2. ২৯৪ কি.মি.
  3. ৩২০ কি.মি.
  4. ৩২৪ কি.মি.
সঠিক উত্তর:
২৯৪ কি.মি.
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২৯৪ কি.মি.
ব্যাখ্যা
সাঙ্গু-ফেনী, নাফ, মাতামুহুরী:
- সাঙ্গু নদী উত্তর আরাকান পাহাড় থেকে নির্গত হয়ে বান্দরবান জেলার থানছি উপজেলা দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করে বঙ্গোপসাগরে পতিত হয়েছে।
- এটি ২৯৪ কি.মি. দীর্ঘ।
- পার্বত্য ত্রিপুরায় উৎপত্তি হয়ে ফেনী জেলায় প্রবেশ করেছে ফেনী নদী।
- সন্দ্বীপের উত্তরে ফেনী নদী বঙ্গোপসাগরে পতিত হয়েছে।
- বাংলাদেশ মিয়ানমারের সীমান্তে নাফ নদী অবস্থিত।
- এর মোহনা অত্যন্ত প্রশস্ত। এর দৈর্ঘ্য প্রায় ৫৬ কি. মি। 
- এই নদী বঙ্গোপসাগরে পতিত হয়েছে।
- লামার মাইভার পর্বতে মাতামুহুরী নদীর উৎপত্তি হয়েছে।
- নদীটি কক্সবাজার জেলার চকরিয়ার পশ্চিম পাশ ঘেঁষে বঙ্গোপসাগরে পতিত হয়েছে। এর দৈর্ঘ্য প্রায় ১২০ কি.মি.।

উল্লেখ্য,
- জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের বাংলাদেশের নদ-নদী সংজ্ঞা ও সংখ্যা অনুসারে, সাঙ্গু নদী ২৯৪ কি.মি. দীর্ঘ। 

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।