পরীক্ষা আর্কাইভ

GKpedia - আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি

পরীক্ষাGKpedia - আন্তর্জাতিক বিষয়াবলিতারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়07 minutes
মোট প্রশ্ন১৪
সিলেবাস
পরীক্ষা – ১ টপিক: বৈশ্বিক ইতিহাস (প্রাচীন যুগ) প্রস্তর যুগ · ধাতুরযুগ, নৃগোষ্ঠী - ককেশীয়, মঙ্গোলীয়, নিগোয়েড ও অস্ট্রেলীয় । সভ্যতা, মেসোপটেমিয়া সভ্যতা (সুমেরীয়, ব্যাবিলনীয়, অ্যাসেরীয় ও ক্যালডীয়) এবং মিশরীয় সভ্যতা, সিন্ধু সভ্যতা ফিনিশীয় সভ্যতা, পারস্য সভ্যতা, হিব্রু সভ্যতা। প্রাচীন যুগ (বাকী অংশ) চৈনিক সভ্যতা, ইজিয়ান সভ্যতা, গ্রীক সভ্যতা, রোমান সভ্যতা। [Live Class - 1 & 2]
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

GKpedia - আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি

GKpedia - আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি · তারিখ অনির্ধারিত · ১৪ প্রশ্ন

.
কোন রাষ্ট্রকে কেন্দ্র করে মোসোপটেমিয়া সভ্যতা গড়ে উঠেছিলো?
  1. ইরান
  2. ইরাক
  3. ফিলিস্তিন
  4. জর্ডান
ব্যাখ্যা
মেসোপটেমীয় সভ্যতা:
- পৃথিবীর সবচেয়ে প্রাচীন সভ্যতা 'মেসোপটেমীয় সভ্যতা'।
- আধুনিক ইরাক রাষ্ট্রের সীমারেখার মধ্যেই প্রাচীনকালে মেসোপটেমীয় সভ্যতা গড়ে উঠেছিল।
- ফোরাত (ইউফ্রেটিস) ও দজলা (টাইগ্রিস) নদীর মাঝখানে গড়ে ওঠা এই সভ্যতা।
- খ্রিস্টপূর্ব ৩৫০০ হতে খ্রিস্টপূর্ব ৩০০০ অব্দের মধ্যে মেসোপটেমিয়ায় অতি উন্নত এক সভ্যতার উন্মেষ ঘটেছিল।
- মেসোপটেমিয় সভ্যতা গড়ে উঠেছিল ইউফ্রেটিস ও টাইগ্রিস নদীর তীরে।
- মেসোপটেমিয় সভ্যতারই চারটি পর্ব ছিল।
- সেগুলো হলো: সুমেরীয় সভ্যতা, ব্যাবিলনীয় সভ্যতা, অ্যাশিরীয় সভ্যতা ও ক্যালডীয় সভ্যতার

উৎস: Britannica.
.
কোন নৃগোষ্ঠীর গায়ের রঙ সাদা বা লালচে সাদা?
  1. ককেশীয়
  2. মঙ্গোলীয়
  3. নিগ্রীয়
  4. অস্ট্রালয়েড
ব্যাখ্যা
ককেশীয়:
- ককেশীয় বা শ্বেতকায় ককেশীয়দের মাথা প্রধানত লম্বাকৃতির হয়।
- এদের মুখ সরু বা লম্বাকৃতির, নাক প্রধানত খাড়া, চিকন, লম্বা ও সরু, চোখের রং হালকা থেকে কালো বাদামি, ঠোঁট পাতলা ধরনের এবং কান মাঝারি গোছের।
- এদের গায়ের রং প্রধানত সাদা বা লালচে সাদা।
- ককেশীয়দের চুলের রং বাদামি বা সোনালি।
- এরা দীর্ঘ দেহের অধিকারী।
- ককেশাস বা (ককেসিয়া) কৃষ্ণ সাগর এবং কাস্পিয়ান সাগরের মাঝে অবস্থিত একটি অঞ্চল।

অন্যদিকে,
- মঙ্গোলীয় নৃগোষ্ঠীর গায়ের রঙ হলদেটে।
- নিগ্রীয় নৃগোষ্ঠীর গায়ের রঙ কৃষ্ণবর্ণের।
- অস্ট্রালয়েড নৃগোষ্ঠীর গায়ের রঙ কালো বা বাদামী।

উৎস: সমাজবিজ্ঞান দ্বিতীয়পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
কোন জাতি ব্যাবিলনীয় সভ্যতা গড়ে তোলে?
  1. ককেশীয় জাতি
  2. আমোরাইট জাতি
  3. অস্ট্রিলীয় জাতি
  4. মঙ্গোলীয়ান জাতি
ব্যাখ্যা
ব্যাবিলনীয় সভ্যতা:
- প্রাচীন ব্যাবিলন নগরকে কেন্দ্র করে এই সভ্যতা গড়ে ওঠে।
- সিরিয়ার মরুভূমি অঞ্চলে আমোরাইট নামক এক জাতি বসবাস করত।
-  অ্যামেরাইট জাতি এই সভ্যতা গড়ে তোলে।

- এরা এক সময় মেসোপটেমিয়ায় এসে নগর সভ্যতা গড়ে তোলে।
- এ সভ্যতার পত্তন হয় খ্রিস্টপূর্ব ২০০০ অব্দে।
- আমোরাইট নেতা হাম্মুরাবী ছিলেন ব্যাবিলনীয় সাম্রাজ্যের সর্বশ্রেষ্ঠ রাজা।
- তাদের বড় অবদান হলো পৃথিবীতে তারাই প্রথম লিখিত আইন প্রণয়ন করে।
- শিক্ষা, সংস্কৃতি, জ্যোতির্বিজ্ঞান এবং চিকিৎসা শাস্ত্রে তারা অনেক উন্নতি করতে পেরেছিল।
- তারাই প্রথম পঞ্জিকা প্রচলন করেন।
- বিশেষ করে আইনের ক্ষেত্রে ব্যাবিলনীয় সভ্যতা চরম উৎকর্ষতা লাভ করেছিল।

উৎস: ইতিহাস, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
কোন জাতিগোষ্ঠী ককেশীয় নৃগোষ্ঠীর অন্তর্গত?
  1. আর্য
  2. সিমেটিক
  3. নর্ডিক
  4. সবগুলো
ব্যাখ্যা
ককেশীয় নৃগোষ্ঠী: 
- তারা সাধারনত লম্বা, ফর্সা, লম্বা নাক ও মুখ, পাতলা ঠোঁট।
- কৃষ্ণসারগ ও কাস্পিয়ান সাগরের মধ্যবর্তী পাহাড়ী অঞ্চল হলো ককাশ অঞ্চল। যেমন: রাশিয়া, জর্জিয়া, আজারবাইজান, আর্মেনিয়া।
- ইউরোপ, উত্তর আফ্রিকা, হর্ণ অব আফ্রিকা, পশ্চিম এশিয়া(মধ্য প্রাচ্য) ককেশিয়ানদের বসবাস।
- ককেশীয়া বৈশিষ্ঠ ধারনকারী কিছু জনগোষ্ঠী হলো:
আর্য,
সিমেটিক,
হেমেটিক,
নর্ডিক,
ইরানীয়,
আর্মেনীয়।

উৎস: ব্রিটানিকা, সমাজবিজ্ঞান ২য় পত্র, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
কোন সভ্যতার মানুষরা ২২টি ব্যঞ্জনবর্ণের উদ্ভাবন করে?
  1. পারস্য
  2. সিন্ধু
  3. ফিনিশীয়
  4. চৈনিক
ব্যাখ্যা
ফিনিশীয় সভ্যতা:
- ভূমধ্যসাগর এবং লেবানন পর্বতের মাঝে একখণ্ড সরু উপকূল অঞ্চলে ফিনিশীয় নামের ক্ষুদ্র রাষ্ট্রটি গড়ে উঠেছিল।
- ফিনিশীয়দের সামনে ছিল সাগর আর পিছনে ছিল পাহাড়।
- প্রাচীন সভ্যতার ইতিহাসে ফিনিশীয়দের পরিচয় শ্রেষ্ঠতম নাবিক ও জাহাজ নির্মাতা হিসেবে।
- মূলত ফিনিশীয়রাই প্রথম পৃথিবীর ইতিহাসে সমৃদ্ধ বাণিজ্যিক সভ্যতা গড়ে তোলে।
 - ফিনিশীয় নাবিকরা রাতে তারা দেখে জাহাজ চালাত। 
- এ কারণে ধ্রুবতারাকে অনেকে ফিনিশীয় তারা বলে থাকে। 
- সভ্যতার ইতিহাসে ফিনিশীয়দের বড় অবদান হলো বর্ণমালার উদ্ভাবন।
- তারা ২২টি ব্যঞ্জনবর্ণের উদ্ভাবন করে।

উৎস: ইতিহাস, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
মধ্যপ্রাচ্যে লোহার ব্যবহার প্রথম শুরু হয় কবে?
  1. খ্রিস্টপূর্ব ১৫০০ অব্দে
  2. খ্রিস্টপূর্ব ২৫০০ অব্দে
  3. খ্রিস্টপূর্ব ১০০০ অব্দে
  4. খ্রিস্টপূর্ব ২০০০ অব্দে
ব্যাখ্যা
লৌহযুগ:
- লোহার আবিষ্কার ও ব্যবহারের সঙ্গে সঙ্গে ব্রোঞ্জযুগের একচেটিয়া অধিকার ও কর্তৃত্ব হ্রাস পেয়েছিল।
- ব্রোঞ্জ ছিল দুষ্প্রাপ্য ও মূল্যবান ধাতু। এর ব্যবহার মূলত অভিজাত শ্রেণির হাতে কেন্দ্রীভূত ছিল। 
- সহজ লভ্য ও দামে সস্তা হওয়ায় লোহার ব্যাপক ব্যবহার পরিলক্ষিত হয়।
- সাধারণ মানুষও তাদের দৈনন্দিন নানা প্রয়োজনে লৌহ নির্মিত যন্ত্রপাতি ব্যবহার করতে শুরু করে।
- এভাবেই লৌহযুগ নামে নতুন এক সভ্যতার বিকাশ লাভ ঘটে।
- এশিয়া মাইনরে হিট্টাইটরা (Hittites) প্রথম লোহার আবিষ্কার ও এর ব্যবহার শুরু করে।
- খ্রিস্টপূর্ব ১৫০০ অব্দে মধ্যপ্রাচ্যে লোহার ব্যবহার শুরু হয়।
- লোহার আবিষ্কার ও ব্যবহার সভ্যতার সামাজিক ভিত্তিকে অনেক মজবুত এবং এর পরিধিকে আরও প্রসারিত করে।
- লৌহযুগে বর্ণমালাভিত্তিক লিখন পদ্ধতির প্রচলন শুরু হয়।
- ব্যবসাবাণিজ্য ও মুদ্রা-অর্থনীতি ব্যাপকতা লাভ করে।
- জাহাজ চলাচল ব্যাপকভাবে শুরু হওয়ার ফলে যাতায়াতব্যবস্থা সহজ হয়। 
- লৌহযুগে শিল্প, বাণিজ্য, নগরায়ন প্রভৃতিকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন পেশাভিত্তিক সামাজিক শ্রেণির উদ্ভব ঘটে।
- লৌহযুগে গ্রিসে এক উন্নত গণতান্ত্রিক নগরসভ্যতার বিকাশ ঘটে।

উৎস: সমাজবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
.
কোনটি মিশরীয় সভ্যতার অবদান?
  1. হায়ারোগ্লিফিক লিপি
  2. সৌর পঞ্জিকা
  3. প্যাপিরাস কাগজ
  4. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
মিশরীয় সভ্যতা:
- মিশরীয় সভ্যতা গড়ে উঠেছিল নীল নদের তীরে।
- এই সভ্যতা ছিল কৃষিনির্ভর। 
- সে কারণে নীল নদের প্লাবন, নাব্যতা, পানি প্রবাহের মাপ জোয়ারভাটা ইত্যাদি ছাড়াও জমির মাপ তাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল।
- তারা অংক শাস্ত্রের দুটি শাখা জ্যামিতি এবং পাটিগণিতের প্রচলন করে। 
- খ্রিস্টপূর্ব ৪২০০ অব্দে তারা পৃথিবীতে প্রথম সৌর পঞ্জিকা আবিষ্কার করে। 
- ৩৬৫ দিনে বছর এ হিসাবের আবিষ্কারকও তারা। 
- প্রাচীন মিশরের অধিবাসীরা সময় নির্ধারণের জন্য সূর্য ঘড়ি, ছায়াঘড়ি, জলঘড়ি আবিষ্কার করে।
- তাদের চিত্রলিপিকে বলা হয় হায়ারোগ্লিফিক।
- চিকিৎসা শাস্ত্রে মিশরীয়রাই সর্বপ্রথম ‘মেটেরিয়া মেডিকা' বা ঔষুধের তালিকা প্রণয়নে সক্ষম হয়।
- প্যাপিরাস হলো পুরু কাগজের অনুরূপ একটি উপাদান যা প্রাচীন কালে লেখার পৃষ্ঠ হিসাবে ব্যবহৃত হত।
- প্রাচীন মিশরীয়রা প্যাপাইরাস গাছ থেকে প্যাপিরাস কাগজ তৈরি করেছিলেন। 

উৎস: i) Britannica.
         ii) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা , SSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
কোন নৃগোষ্ঠী 'দেল' নামক পোশাক পরিধান করে?
  1. ককেশীয়
  2. মঙ্গোলীয়
  3. নিগোয়েড
  4. অস্ট্রিলীয়
ব্যাখ্যা
দেল নামক পোশাক পরিধান করেন মঙ্গোলীয়রা।

মঙ্গোলীয় নৃগোষ্ঠী:

- মঙ্গোলীয় নৃগোষ্ঠীর মূল স্থান মঙ্গোলিয়া, যা চীনের উত্তরাংশে অবস্থিত। এটি ঘন তৃণভূমি এবং প্রচুর উচুঁ পাহাড়ে ভরা।
- মঙ্গোলীয়রা একটি প্রচলিত nomadic (যাযাবর) জীবনযাপন করে। তারা ঘোড়ার পেছনে বেশী নির্ভরশীল এবং ঘোড়া পালনের জন্য পরিচিত।
- মঙ্গোলীয় সংস্কৃতিতে গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে আছে গান, নৃত্য এবং কথাসাহিত্য। তাদের ঐতিহ্যগত গানগুলোর মধ্যে "হোোমেই" নামে এক বিশেষ ধরণের গান উল্লেখযোগ্য।
- ১২শ শতাব্দীতে চেঙিস খান (Genghis Khan) এর নেতৃত্বে মঙ্গোলীয় সাম্রাজ্য বিশ্বে বৃহত্তম সাম্রাজ্যগুলোর একটি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।
- মঙ্গোলীয় নৃগোষ্ঠীর মধ্যে বৌদ্ধ ধর্ম এবং শামানিজম উভয়ই গুরুত্বপূর্ণ। শামানিজম প্রাচীন এবং প্রচলিত বিশ্বাস, যেখানে প্রকৃতি এবং আত্মার প্রতি শ্রদ্ধা থাকে।
- মঙ্গোলীয় ভাষা আলতাইক ভাষা পরিবারের অন্তর্গত। এটি লেখার জন্য একটি নিজস্ব বর্ণমালা ব্যবহার করে।
- মঙ্গোলীয়রা ঐতিহ্যবাহী "দেল" নামে একটি পোশাক পরে, যা সাধারণত উষ্ণ এবং আরামদায়ক।

উৎস: ব্রিটানিকা, Cultural Atlas.
.
কোন সভ্যতার মানুষরা নিজ কক্ষপথে আবর্তনরত পৃথিবীর বর্ণনা দেন?
  1. ফিনিশীয় সভ্যতা
  2. গ্রিক সভ্যতা
  3. পারস্য সভ্যতা
  4. চৈনিক সভ্যতা
ব্যাখ্যা
গ্রিক সভ্যতা:
- প্রাচীন গ্রিক সভ্যতা, মাইসেনিয়ান সভ্যতার পরের সময়কাল।
- প্রাচীন গ্রিস তার উচ্চতায় এশিয়া মাইনর, দক্ষিণ ইতালি, সিসিলি এবং গ্রীক দ্বীপপুঞ্জের বসতি নিয়ে গঠিত।
- এটি শহর-রাজ্যে বিভক্ত ছিল-এথেন্স এবং স্পার্টা।
- গ্রিক সংস্কৃতি হেলেনীয় সংস্কৃতি নামে বেশি পরিচিত।
- সাহিত্যের ক্ষেত্রে প্রাচীন গ্রিসের সৃষ্টি আজও মানব সমাজের মূল্যবান সম্পদ।
- হোমারের মহাকাব্য 'ইলিয়ড' এবং ‘ওডিসি' মহাকাব্যের অপূর্ব নিদর্শন।
- গ্রিকরা প্রথম বিজ্ঞান চর্চা শুরু করে খ্রিস্টপূর্ব ৬০০ অব্দে।
- তারাই প্রথম প্রমাণ করেন যে, পৃথিবী একটি গ্রহ এবং তা নিজ কক্ষপথে আবর্তিত হয়।
- গ্রিক জ্যোতির্বিদরা সূর্য ও চন্দ্ৰ গ্রহণের কারণ নির্ণয় করতে সক্ষম হন।

উৎস: ব্রিটানিকা ও বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১০.
বাংলাদেশের মানুষ প্রধানত কোন গোষ্ঠীভুক্ত?
  1. মঙ্গোলীয় নরগোষ্ঠী
  2. ককেশীয় নরগোষ্ঠী
  3. আদি- অস্ট্রেলীয় নরগোষ্ঠী
  4. নিগ্রয়েড নরগোষ্ঠী
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের মানুষ প্রধানত আদি- অস্ট্রেলীয় নরগোষ্ঠী ভুক্ত।

অস্ট্রেলীয় নৃগোষ্ঠী:

- অ্যাবরিজিনাল জনগণ অস্ট্রেলিয়ার প্রাচীনতম অধিবাসী, যারা প্রায় 65,000 বছর আগে এখানে বসতি স্থাপন করে।
- অস্ট্রেলিয়ার অ্যাবরিজিনাল জনগণের মধ্যে প্রায় ২৫০টিরও বেশি আলাদা ভাষা এবং সংস্কৃতি বিদ্যমান। প্রত্যেক নৃগোষ্ঠীর নিজস্ব রীতিনীতি এবং বিশ্বাস রয়েছে।
- ঐতিহ্যগতভাবে, অ্যাবরিজিনাল জনগণ শিকার এবং সংগ্রহের মাধ্যমে জীবনযাপন করতেন, যেখানে প্রকৃতি এবং পরিবেশের সাথে গভীর সম্পর্ক ছিল।
- তাদের ধর্মীয় বিশ্বাসগুলোর মধ্যে "ড্রিমটাইম" বা স্বপ্নের সময়কালের ধারণা বিদ্যমান, যা তাদের সংস্কৃতির মৌলিক অংশ।
- অ্যাবরিজিনাল শিল্পের মধ্যে পেইন্টিং, খাদ্য প্রস্তুতি, এবং বিভিন্ন হস্তশিল্প অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, যা তাদের সংস্কৃতি ও বিশ্বাসকে প্রকাশ করে।

এছাড়া,
- অস্ট্রেলীয়রাই অস্ট্রিক বা নিশাদ জাতি নামে পরিচিত।
- বাংলাদেশের মানুষ প্রধানত আদি- অস্ট্রেলীয় নরগোষ্ঠী ভুক্ত।

উৎস: ব্রিটানিকা, Australian Government - Indigenous Australians.
১১.
'প্যানথিয়ন' কোন সভ্যতার নিদর্শন?
  1. ফিনিশীয় সভ্যতা
  2. গ্রিক সভ্যতা
  3. ইনকা সভ্যতা
  4. রোমান সভ্যতা
ব্যাখ্যা
সভ্যতায় রোমের অবদান:
- রোম শিল্প, সাহিত্য, দর্শন, স্থাপত্য সর্বক্ষেত্রে গ্রিকদের দ্বারা প্রভাবিত ছিল।
- রোমানদের সবচেয়ে বড় অবদান আইনের ক্ষেত্রে।
- রোমের অর্থনীতি ছিল দাসদের ওপর নির্ভরশীল।
- সম্রাট হার্ডিয়ানের তৈরি ধর্মমন্দির প্যানথিয়ন রোমানদের স্থাপত্যের এক অসাধারণ নিদর্শন।
- ৮০ খ্রিষ্টাব্দে রোমান সম্রাট টিটাস কর্তৃক নির্মিত কলোসিয়াম নাট্যশালা নির্মিত হয়, যেখানে একসঙ্গে ৫৬০০ দর্শক বসতে পারত।
- স্থাপত্যকলার পাশাপাশি রোমান ভাস্কর্যেরও উৎকর্ষ সাধিত হয়েছিল।

উৎস: i) Britannica.
ii) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
১২.
জেরুজালেম নগরীকে কেন্দ্র করে কোন সভ্যতার বিকাশ ঘটে?
  1. হিব্রু সভ্যতা
  2. সিন্ধু সভ্যতা
  3. পারস্য সভ্যতা
  4. ফিনিশীয় সভ্যতা
ব্যাখ্যা
হিব্রু সভ্যতা:
- হিব্রু সভ্যতা হলো বর্তমানের ফিলিস্তিন ও ইসরাইল অঞ্চলকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠা একটি প্রাচীন সভ্যতা।
- হিব্রু সভ্যতা জেরুজালেম নগরকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠে।
- হিব্রু মূলত ভাষার নাম, অর্থ যাযাবর বা নিম্ন শ্রেণি।
- জাতিগতভাবে হিব্রু সভ্যতার লোকজন একটি মিশ্র জাতি।
- প্রধান ধর্মীয় নেতা: হযরত মূসা (আ)।
- হিব্রুদের আদি পুরুষ ইব্রাহিম (আ:)।
- হিব্রু দেবতা যেহোভা।
- পৃথিবীর প্রাচীন ভাষা হিব্রু ভাষা।
- হিব্রু জাতি বর্তমানে ইসরাইলে বসবাস করে।
- হিব্রু সভ্যতার অবদান ধর্ম প্রচার।
- হিব্রুদেরও আইন অনেকটা হাম্মুরাবীর আইনের দ্বারা প্রভাবিত।
- ব্যাবিলনীয় আইনের অনুকরণে তারা যে আইন তৈরী করে তা 'ডিউটোরোনোমিক কোড' নামে পরিচিত ছিল। 

উৎস: i) Britannica.
         ii) ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৩.
কোন নদীর তীরে প্রাচীন চৈনিক সভ্যতা গড়ে উঠেছিলো?
  1. হোয়াংহো
  2. ইয়াংসিকিং
  3. ব্রহ্মপুত্র
  4. ক ও খ
ব্যাখ্যা
চৈনিক সভ্যতা (Chinese Civilization):
- চৈনিক সভ্যতা পৃথিবীতে বিরাজমান সবচেয়ে পুরাতন সভ্যতা।
- খ্রিস্টপূর্ব ২০০০ অব্দ থেকে আজ পর্যন্ত চীন তার সাংস্কৃতিক ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছে। এটিই একমাত্র সভ্যতা যা কোনো সময় পুরোপুরি ধ্বংস প্রাপ্ত হয়নি।
- চীন পূর্ব এশিয়ার বৃহত্তম রাষ্ট্র। খ্রিস্টপূর্ব ১,৫০০ অব্দে চৈনিক সভ্যতা তার চরম শিখরে অবস্থান করেছিল।
- প্রায় ৪০০০ বছর পূর্বে অর্থ্যাৎ খ্রিস্টপূর্ব ২০০০ অব্দে চীনের হোয়াংহো ও ইয়াংসিকিং নদীর তীরে প্রাচীন চৈনিক সভ্যতা গড়ে উঠেছিল বলে ধারনা করা হয়।
- দেশটির তিনটি অঞ্চলে প্রাচীন সভ্যতা গড়ে উঠেছিল। এর মধ্যে একটি হোয়াংহো নদীর তীরে, দ্বিতীয়টি ইয়াংসিকিয়াং নদীর তীরে, তৃতীয়টি দক্ষিণ চীনের ভূখণ্ডে।
- নদীগুলোর প্রভাবে প্রাচীন চীনে কৃষিভিত্তিক সভ্যতা গড়ে উঠেছিল।
- চৈনিক সভ্যতা সৃষ্টি হয়েছিল- শাং রাজবংশ (Shang Dynasty), জোও রাজবংশ (Zhou Dynasty) আমলে।
- এছাড়াও চৈনিক সভ্যতার উত্তরাধিকারী হিসাবে আরো বেশ কয়েকটি রাজবংশ যেমন - জিয়া রাজবংশ (Xia Dynasty), কিন রাজবংশ (Qin Dynasty), মিং রাজবংশ (Ming Dynasty) ইত্যাদি চীন শাসন করে।

উৎস: হিস্টরি.কম
১৪.
ইজিয়ান সভ্যতার কেন্দ্র ছিল-
  1. ইরাক
  2. গ্রিস
  3. ইরান
  4. স্লোভানিয়া
ব্যাখ্যা
ইজিয়ান সভ্যতা:
- ইজিয়ান সভ্যতা প্রস্তর ও ব্রোঞ্জ যুগের সভ্যতা।
- ইজিয়ান সাগরের অঞ্চলে যথাক্রমে প্রায় ৭০০০-৩০০০ খ্রিস্টপূর্বে এবং প্রায় ৩০০০-১০০০ খ্রিস্টপূর্বে গড়ে উঠে।
- ইজিয়ান সভ্যতার অপর নাম মিনীয় (Minoan) সভ্যতা।
- মিনীয় সভ্যতা অঞ্চলটি ক্রিট, সাইক্লেডস এবং অন্যান্য কিছু দ্বীপ এবং গ্রীক মূল ভূখন্ড, পেলোপোনিজ, মধ্য গ্রীস এবং থেসালি নিয়ে গঠিত।
- ইজিয়ান সভ্যতার কেন্দ্র ছিল গ্রিস।
- ইজিয়ান সাগরের তীরবর্তী পূর্ব বলকান অঞ্চল নিয়ে ইজিয়ান সভ্যতা গড়ে উঠে।
- ইজিয়ান সভ্যতার তথ্য পাওয়া যায় গ্রিক কবি হোমারের ইলিয়ড ও ওডেসি মহাকাব্যে।
- ইজিয়ান সভ্যতার পতন ঘটে ১১০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দে।

উৎস: Britannica.