পরীক্ষা আর্কাইভ

৫১তম বিসিএস ফাইনাল মডেল টেস্ট ও রিভিশন

পরীক্ষা৫১তম বিসিএস ফাইনাল মডেল টেস্ট ও রিভিশনতারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়34 minutes
মোট প্রশ্ন৮০
সিলেবাস
৪৭তম বিসিএস প্রস্তুতি - সাবজেক্ট ফাইনাল ও রিভিশন [রাউন্ড ⎯ ১] বিষয়ের নাম: বাংলা সাহিত্য সম্পূর্ণ [১০০ নাম্বার]
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

৫১তম বিসিএস ফাইনাল মডেল টেস্ট ও রিভিশন

৫১তম বিসিএস ফাইনাল মডেল টেস্ট ও রিভিশন · তারিখ অনির্ধারিত · ৮০ প্রশ্ন

.
প্রথমবার কত সালে নেপাল থেকে চর্যাপদের পাণ্ডুলিপি সংগ্রহ করা হয়?
  1. ১৯০১
  2. ১৯১০
  3. ১৯১৬
  4. ১৯০৭
ব্যাখ্যা
• চর্যাপদ:
- এটি বাংলা সাহিত্যের আদি যুগের একমাত্র লিখিত নিদর্শন।
- ড. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী ১৯০৭ সালে নেপালের রাজ দরবার গ্রন্থাগার থেকে এটি আবিষ্কার করেন।
- চর্যাপদের চর্যাগুলো রচনা করেন বৌদ্ধ সহজিয়াগণ।
- চর্যাপদে বৌদ্ধধর্মের কথা বলা হয়েছে।
- ১৯৩৮ সালে প্রবোধচন্দ্র বাগচী চর্যাপদের তিব্বতী ভাষার অনুবাদ আবিষ্কার করেন।
- চর্যাপদ তিব্বতি ভাষায় অনুবাদ করেন কীর্তিচন্দ্র।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস- মাহবুবুল আলম, বাংলাপিডিয়া।
.
নিচের কোনটি চম্পুকাব্য?
  1. মঙ্গলকাব্য
  2. শ্রীকৃষ্ণকীর্তন
  3. শূণ্যপুরাণ
  4. চর্যাপদ
ব্যাখ্যা
• 'শূণ্যপুরাণ':
- এটি বিশেষভাবে ধর্মপূজাপদ্ধতি।
- 'শূণ্যপুরাণ' রামাই পণ্ডিত রচিত একটি ধর্মীয় তত্ত্বের গ্রন্থ - অন্ধকার যুগের সাহিত্য নিদর্শন।
- গদ্যপদ্যে মিশ্রিত এই গ্রন্থটি একপ্রকারের চম্পুকাব্য। গ্রন্থটি ৫১টি অধ্যায়ে বিভক্ত।
- এর প্রথম ৫টি অধ্যায় সৃষ্টিতত্ত্ব সম্বন্ধীয়। গ্রন্থটি অন্ধকার যুগের সাহিত্য নিদর্শন।
- কারো মতে এটি ত্রয়োদশ থেকে অষ্টাদশ শতাব্দীর মধ্যে রচিত।
- শূন্যপুরাণ নামহীন অবস্থায় পাওয়া গিয়েছিল - বিশ্বকোষ প্রণেতা নাগেন্দ্রনাথ বসু তিনটি পুথির পাঠ সংগ্রহ করে ১৩১৪ বঙ্গাব্দে 'বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ' শূন্যপুরাণ নামকরন করে প্রকাশ করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
.
'যাযাবর'- কার ছদ্মনাম?
  1. মণীশ ঘটক
  2. প্রমথ চৌধুরী
  3. নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
  4. বিনয়কৃষ্ণ মুখোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
• 'বিনয়কৃষ্ণ মুখোপাধ্যায়ের' ছদ্মনাম ছিলো- যাযাবর।

অন্যদিকে,
- প্রমথ চৌধুরীর ছদ্মনাম- বীরবল। 
- নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়ের ছদ্মনাম 'সুনন্দ'।
- মণীশ ঘটকের ছদ্মনাম 'যুবনাশ্ব'।
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
.
ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ, কাকে চর্যাপদের সর্বাপেক্ষা প্রাচীন কবি হিসেবে মনে করেন?
  1. লুইপা
  2. কাহ্নপা
  3. ভুসুকুপা
  4. শবরপা
ব্যাখ্যা
শবরপা:
- ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতে, চর্যাপদের সর্বাপেক্ষা প্রাচীন কবি শবরপা।
- তিনি ছিলেন নাগার্জুনের শিষ্য।
- শবরপার জীবনকাল ৬৮০ - ৭৬০ খ্রিস্টাব্দ বলে অনুমান করা হয়।
- শবরপা চর্যাপদের প্রথম পদকর্তা ও লুইপার গুরু ছিলেন।
- ২৮ ও ৫০ নং পদের রচয়িতা তিনি।
- সংস্কৃত ও অপভ্রংশ মিলে তিনি মোট ১৬টি গ্রন্থ রচনা করেন।

শবরপা রচিত উল্লেখযোগ্য পঙক্তি -
"উষ্ণা উষ্ণা পাবত তহিঁ সবই সবরী বালী।
মোরাঙ্গ পীচ্ছ পরিহাণ সবী গীবত গুঞ্জরী।।"

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
.
'শূন্যপুরাণ' গ্রন্থটি কোথা থেকে নামকরণ করা হয়েছিল?
  1. বাংলা একাডেমি
  2. বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ
  3. কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় 
  4. বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্র
ব্যাখ্যা
'শূণ্যপুরাণ':
এটি বিশেষভাবে ধর্মপূজাপদ্ধতি। 'শূণ্যপুরাণ' রামাই পণ্ডিত রচিত একটি ধর্মীয় তত্ত্বের গ্রন্থ - অন্ধকার যুগের সাহিত্য নিদর্শন।

- গদ্যপদ্যে মিশ্রিত এই গ্রন্থটি একপ্রকারের চম্পুকাব্য। গ্রন্থটি ৫১টি অধ্যায়ে বিভক্ত।
- এর প্রথম ৫টি অধ্যায় সৃষ্টিতত্ত্ব সম্বন্ধীয়। গ্রন্থটি অন্ধকার যুগের সাহিত্য নিদর্শন।
- কারো মতে এটি ত্রয়োদশ থেকে অষ্টাদশ শতাব্দীর মধ্যে রচিত।

- শূন্যপুরাণ নামহীন অবস্থায় পাওয়া গিয়েছিল - বিশ্বকোষ প্রণেতা নাগেন্দ্রনাথ বসু তিনটি পুথির পাঠ সংগ্রহ করে ১৩১৪ বঙ্গাব্দে 'বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ' থেকে শূন্যপুরাণ নামকরণ করে প্রকাশ করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
.
কাজী নজরুল ইসলামের 'সাম্যবাদী' কবিতার মূল বার্তা কী?
  1. জাতীয়তাবাদ
  2. শ্রমিক শ্রেণির জয়গান
  3. বৈষম্যহীন মানবসমাজ প্রতিষ্ঠার আহ্বান
  4. মুসলিম জাগরণ 
ব্যাখ্যা
• 'সাম্যবাদী' কবিতার মূলভাব:
এই কবিতায় কাজী নজরুল ইসলাম বৈষম্যহীন অসাম্প্রদায়িক মানবসমাজ প্রতিষ্ঠার কথা বলেছেন। কবির বিশ্বাস মানুষ হিসেবে স্বীকৃতি পেয়ে পরিচিত হয়ে ওঠা সবচেয়ে সম্মানের। নজরুলের এ আদর্শ আজও প্রতিটি মানুষের জীবনপথের প্রেরণা। কিন্তু মানুষ সম্প্রদায়কে ব্যবহার করে রাজনীতি করে, দুর্বলকে শোষণ করে, এখনও একের বিরুদ্ধে অন্যকে উস্কে দেয়। এক জনের প্রতি অন্য জনকে বিমুখ করার ষড়যন্ত্র করে। নজরুল এ কবিতায় বলেছেন- "মানুষেরই মাঝে স্বর্গনরক মানুষেতে সুরাসুর।" নজরুল জোর দেন অন্তর ধর্মের ওপর। ধর্মগ্রন্থ পড়ে অর্জিত জ্ঞান যথার্থভাবে উপলব্ধি করতে প্রয়োজন মানবিকতাবোধ। কবি বলেছেন মানুষের হৃদয়ের চেয়ে শ্রেষ্ঠ কোন মন্দির কাবা নেই। কবি সকল মত, সকল পথের উপরে স্থান দিয়েছেন মানবিকতা। হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান, মুসলিম সকলকে একই মায়ের সন্তানের মতো ভেবেছেন। নজরুল মানবিক মেলবন্ধনের জন্য সংগীত রচনা করেছেন। বাণী ও সুরের মাধ্যমে মানবতার সুবাস ছড়ানোর চেষ্টা করেছেন। নজরুল 'সাম্যবাদী' কবিতায় মন্দির, মসজিদ, গির্জা বা অন্যান্য তীর্থক্ষেত্রের মতো পবিত্র মনে করেছেন মানুষের হৃদয়কে। এ হৃদয় যদি পবিত্র থাকে, হৃদয়ে যদি কারো প্রতি হিংসা, বিদ্বেষ না থাকে, সকলের প্রতি সমদর্শিতা থাকে তাহলে পৃথিবী হবে সুখের আবাসস্থল। সাম্যবাদ মানে জাতি, ধর্ম, বর্ণ বির্বিশেষে রাষ্ট্রের সকল মানুষের সমান অধিকার থাকা উচিত এ মতবাদ। কাজী নজরুল ইসলাম তাঁর 'সাম্যবাদী' কবিতায় সব ধরনের মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠিত করার জন্য সাম্যবাদের বাণী প্রচার করেছেন।

উৎস: 'সাম্যবাদী' কবিতা; মাধ্যমিক বাংলা সাহিত্য- উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
বাংলা ভাষার প্রথম সাময়িকপত্র কোনটি?
  1. সংবাদ প্রভাকর
  2. দিকদর্শন
  3. সমাচার দর্পণ
  4. বাঙ্গাল গেজেট
ব্যাখ্যা
• বাংলা ভাষায় প্রথম সাময়িক পত্র- দিকদর্শন। 

দিকদর্শন: 
- প্রথম বাংলা সাময়িকপত্র “দিকদর্শন” (প্রথম বাংলা মাসিক পত্রিকা)।
- জন ক্লার্ক মার্শম্যান কর্তৃক ১৮১৮ সালে শ্রিরামপুর মিশন থেকে প্রকাশিত হয়।  
---------------------
অন্যদিকে,
সমাচার দর্পণ: 
- “সমাচার দর্পণ” শ্রীরামপুর মিশন থেকে জন ক্লার্ক মার্শম্যান  কর্তৃক সম্পাদিত বাংলা সাহিত্যের প্রথম সাপ্তাহিক পত্রিকা।  
- প্ত্রিকাটির প্রথম সংখ্যা প্রকাশিত হয় ২৩শে মে, ১৮১৮ সালে।   

সংবাদ প্রভাকর: 
- বাংলা ভাষার প্রথম দৈনিক পত্রিকা- “সংবাদ প্রভাকর” ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত কর্তৃক ১৮৩৯ সালে প্রকাশিত হয়।

• 'বাঙ্গাল গেজেট':
- পত্রিকার সম্পাদক - গঙ্গাকিশোর ভট্টাচার্য।
- এটি বাঙালি পরিচালিত প্রথম সাপ্তাহিক পত্রিকা।
- এটি ১৮১৮ সালে প্রকাশিত হয়; পত্রিকাটি দীর্ঘায়ু লাভ করতে পারে নি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
.
'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' গ্রন্থটি আবিষ্কৃত হয়-
  1. ১৯০৭ সালে
  2. ১৯০৯ সালে
  3. ১৯১৬ সালে
  4. ১৯২২ সালে
ব্যাখ্যা
• শ্রীকৃষ্ণকীর্তন:
- বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগের প্রথম কাব্য হিসেবে 'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' স্বীকৃত।
- এ গ্রন্থের লেখক বড়ু চণ্ডীদাস।
- এটি বাংলা ভাষায় কোন লেখকের প্রথম এককগ্রন্থ।
- ১৯০৯ সালে (১৩১৬ বঙ্গাব্দে) বসন্তরঞ্জন রায় বিদ্বদ্বল্লভ পশ্চিমবঙ্গের বাঁকুড়া জেলার কাকিল্যা গ্রামে মল্লরাজগুরু বৈষ্ণবমহন্ত শ্রীনিবাস আচার্যের দৌহিত্র বংশজাত শ্রী দেবেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়ের বাড়ির গোয়ালঘর থেকে শ্রীকৃষ্ণকীর্তনের পুথি আবিষ্কার করেন।
- ১৯১৬ সালে (১৩২৩ বঙ্গাব্দ) বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ থেকে বসন্তরঞ্জন রায়ের সম্পাদনায় পুথিটি 'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' নামে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।

• শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যে মোট ১৩টি খণ্ড রয়েছে।
এগুলো হলো -
- জন্মখণ্ড,
- তাম্বুল খণ্ড,
- দানখণ্ড,
- নৌকাখণ্ড,
- ভারখণ্ড,
- ছত্রখণ্ড,
- বৃন্দাবন খণ্ড,
- কালিয়দমন খণ্ড,
- যমুনা খণ্ড,
- হার খণ্ড,
- বাণ খণ্ড,
- বংশী খণ্ড ও
- বিরহ খণ্ড।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
.
'সেক শুভোদয়া' কে রচনা করেছেন বলে মনে করা হয়?
  1. বড়ু চণ্ডীদাস
  2. রামাই পণ্ডিত
  3. হলায়ুধ মিশ্র
  4. রাজেন্দ্রলাল মিত্র 
ব্যাখ্যা
• অন্ধকার যুগের অন্যতম নিদর্শন 'সেক শুভোদয়া' রচনা করেছেন - হলায়ুধ মিশ্র।

'সেক শুভোদয়া':
- হলায়ুধ মিশ্র ছিলেন রাজা লক্ষ্মণ সেন এর সভাকবি।
- 'সেক শুভোদয়া' হলো বাংলা এবং সংস্কৃত ভাষায় মিশ্রিত একটি চম্পুকাব্য।
- এর রচনাকাল ষোড়শ শতাব্দীর মধ্যে।
- গদ্য-পদ্য মিলিয়ে গ্রন্থটিতে ২৫টি অধ্যায় আছে।
- গ্রন্থটি রাজা লক্ষ্মন সেন ও শেখ জালালুদ্দীন তাবরেজীর অলৌকিক কাহিনি অবলম্বনে রচিত।
- 'শেখের শুভোদয়' অর্থাৎ শেখের গৌরব ব্যাখ্যাই এই পুস্তিকার উদ্দেশ্য।

• অন্ধকার যুগ:
- বাংলা সাহিত্যে ১২০১ থেকে ১৩৫০ সাল পর্যন্ত দেড়'শ বছরকে কেউ কেউ অন্ধকার যুগ বা তামস যুগ বলে অভিহিত করেছেন।
- তথাকথিত অন্ধকার যুগের সাহিত্য সৃষ্টির কোন নিদর্শন পাওয়া যায় নি এ কথা ও সত্য নয়।

- অন্ধকার যুগে প্রাপ্ত কিছু সাহিত্য নিদর্শন:
- প্রাকৃতপৈঙ্গল।
- রামাই পণ্ডিত রচিত 'শূণ্যপূরাণ' এবং এর অংশবিশেষ 'নিরঞ্জনের রুম্মা'।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১০.
এন্টনি ফিরিঙ্গি কী ধরনের সাহিত্যের রচয়িতা?
  1. পুঁথিসাহিত্য
  2. মৈমনসিংহ গীতিকা 
  3. কবিগান
  4. নাথ সাহিত্য
ব্যাখ্যা
• এন্টনি ফিরিঙ্গি কবিগানের রচয়িতা।

• এন্টনি ফিরিঙ্গি:
- তিনি ছিলেন আঠারো শতকের বাংলা ভাষার কবিয়াল।
- তাঁর প্রকৃত নাম এন্টনি হেন্সম্যান ।
- তিনি জাতিতে ছিলেন পর্তুগিজ এবং ধর্মে খ্রিষ্টান।
- তিনি খ্রিষ্টান হলেও বাঙালি কালী সাধক হিন্দুর মত জীবনযাপন করতেন। 
- তিনি হিন্দু বিধবাকে বিয়ে করেন এবং কলকাতার বউবাজারে ফিরিঙ্গি কালীমন্দির প্রতিষ্ঠা করেন।
- তিনি চমৎকার বাংলা কবিগান গাইতে ও গান বাঁধতে পারতেন। 

•তাঁর একটি বিখ্যাত গান -

‘আমি ভজন সাধন জানি নে মা
নিজেত ফিরিঙ্গি
যদি দয়া করে কৃপা কর
হে শিব মাতঙ্গী।’ 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১১.
পাঁচালিকার হিসেবে সবচেয়ে বেশি খ্যাতি অর্জন করেন কে?
  1. রামনিধি গুপ্ত
  2. দাশরথি রায়
  3. চণ্ডীদাস 
  4. রামপ্রসাদ সেন 
ব্যাখ্যা
• পাঁচালিকার হিসেবে সর্বাধিক খ্যাতি অর্জন করেন: দাশরথি রায়। 

• দাশরথি  রায়: 
- ১৮০৬ সালে জন্মগ্রহণ করেন। 
- ১৮৫৭ স্বভাবকবি ও পাঁচালিকার।
- ‘দাশু রায়’ নামেও তিনি পরিচিত ছিলেন।
- পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার কাটোয়া মহকুমার বাঁধমুড়া গ্রামে এক  ব্রাহ্মণ পরিবারে তাঁর জন্ম।
- ১৮৩৬ সালে  আখড়া গঠন করে  ছড়া ও  পাঁচালি রচনায় মনোনিবেশ করেন।
- অল্পদিনের মধ্যেই দাশরথি খ্যাতনামা পাঁচালিকার হিসেবে নবদ্বীপের পন্ডিতসমাজে উচ্চ প্রশংসিত হন।
- তাঁর গানগুলি রাগসুরে রচিত এবং তাতে  টপ্পা অঙ্গের ব্যবহার বিশেষভাবে লক্ষণীয়।
- পাঁচালিকে বিভিন্ন শ্রেণির শ্রোতাদের উপভোগ্য করে তোলেন, যা ‘দাশুরায়ের পাঁচালি’ নামে খ্যাত।
-------------------
• পাঁচালি: 
- পাঁচালি লোকগীতির একটি ধারা। 
- এতে গানের মাধ্যমে কোনো আখ্যান বর্ণিত হয়।
- পঞ্চাল বা পঞ্চালিকা শব্দ থেকে পাঁচালি শব্দের উৎপত্তি।
- আবার এতে গান, বাজনা, ছড়া কাটা, গানের লড়াই ও নাচ এই পঞ্চাঙ্গের সমাবেশে ঘটে বলেও কেউ কেউ একে পাঁচালি বলেন।
- পাঁচালি রচয়িতাদের মধ্যে বিশেষ প্রসিদ্ধ  দাশরথি রায়।
- ‘দাশু রায়ের পাঁচালি’ সারা বাংলায় বিশেষ খ্যাতি অর্জন করে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
 
১২.
"রক্ত উৎপল লাজে জলান্তরে বৈসে।
তাম্বুল রাতুল হৈল অধর পরশে।।"- পঙক্তিদ্বয়ের রচয়িতা কে?
  1. শাহ মুহম্মদ সগীর
  2. কবি নওয়াজিশ খান
  3. আলাওল
  4. জ্ঞানদাস 
ব্যাখ্যা
• "রক্ত উৎপল লাজে জলান্তরে বৈসৈ।
তাম্বুল রাতুল হৈল অধর পরশে।।" - পঙক্তিদ্বয় কবি আলাওলের পদ্মাবতী গ্রন্থের রূপবর্ণনা খণ্ডের অংশ।

পদ্মাবতী:
- পদ্মাবতী কবি আলাওল রচিত ইতিহাসাশ্রিত রোমান্টিক প্রেমকাব্য।
- কবি আলাওল ‘পদ্মাবতী’ গ্রন্থটি আরাকানরাজ সাদ থদোমিন্তারের রাজত্বকালে মন্ত্রী মাগন ঠাকুরের আদেশে ১৬৫১ খ্রিষ্টাব্দে রচনা করেন।
- ‘পদ্মাবতী’ কবি মালিক মুহম্মদ জায়সির হিন্দিকাব্য পদুমাবৎ কাহিনি অবলম্বনে রচিত। গ্রন্থতি অনুবাদ হলেও কবি এখানে অনেক মৌলিকতা দেখিয়েছেন।

‘পদ্মাবতী’র রূপবর্ণনা অংশ থেকে কিছু লাইন দেয়া হলো:
সুচারু সুরস অতি রাতুল অধর।
লাজে বিম্ব বান্ধুলি গমন বনান্তর।।
মাণিক্য প্রবাল অতি নীরস কর্কশ।
অধরের অমিল স্রবে এই মহারস।।
‘রক্ত উৎপল লাজে জলান্তরে বৈসৈ।
তাম্বুল রাতুল হৈল অধর পরশে।।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৩.
বাংলা সাহিত্যের ‘আধুনিক যুগ’ শুরু হয় কোন শতকে?
  1. পনেরো 
  2. বিশ
  3. আঠারো 
  4. উনিশ 
ব্যাখ্যা
• আধুনিক যুগ:
- ১৮০০ খ্রিষ্টাব্দ থেকে বর্তমান হচ্ছে আধুনিক যুগ।
- ১৮০০ থেকে ১৮৬০ সাল পর্যন্ত সময়টুকু ছিলো প্রথম পর্যায়।
- ১৮০০ সালে শুরু হয় আধুনিক যুগ।
- ১৮৬০ সাল থেকে আধুনিক যুগের দ্বিতীয় পর্যায় শুরু হয়।
- আধুনিক যুগের প্রথম পর্যায়ে বাংলা গদ্যের চর্চা শুরু হয়।
- দ্বিতীয় পর্যায়ে ইংরেজি সাহিত্যের প্রভাবে সমৃদ্ধ বাংলা সাহিত্য রচিত হয়।
- মাইকেল মধুসূদন দত্তের 'মেঘনাদবধ' কাব্যের মাধ্যমে মহাকাব্যের ধারার প্রবর্তন হয়। 

• ১৭৬০ থেকে ১৮৬০ খ্রিষ্টাব্দ কে বাংলা সাহিত্যের যুগসন্ধিকাল ধরা হয়।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস - মাহবুল আলম ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৪.
ড. সুকুমার সেনের ‘বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস’ গ্রন্থে কতজন পদকর্তার নাম পাওয়া যায়?
  1. ২২ জন
  2. ২৩ জন
  3. ২৪ জন
  4. ২৫ জন
ব্যাখ্যা
• চর্যাপদ:
চর্যাপদ বাংলা ভাষার প্রথম কাব্যগ্রন্থ/কবিতা সংকলন/ গানের সংকলন। এটি বাংলা সাহিত্যের আদি যুগের একমাত্র লিখিত নিদর্শন। ড. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী ১৯০৭ সালে নেপালের রাজ দরবার গ্রন্থাগার থেকে এটি আবিষ্কার করেন।

- চর্যাপদের চর্যাগুলো রচনা করেন বৌদ্ধ সহজিয়াগণ।
- চর্যাপদে বৌদ্ধধর্মের কথা বলা হয়েছে।
- চর্যাপদ তিব্বতি ভাষায় অনুবাদ করেন - কীর্তিচন্দ্র। 
- ১৯৩৮ সালে ড. প্রবোধচন্দ্র বাগচী চর্যাপদের তিব্বতি ভাষার অনুবাদ আবিষ্কার করেন এবং তা প্রকাশ করে চর্যার জট উন্মোচন করেন।
- এর সংস্কৃত টীকাকার হলেন মুনি দত্ত।

- সুকুমার সেনের 'বাঙ্গালা সাহিত্যের ইতিহাস' (প্রথম খণ্ড) গ্রন্থে চর্যাপদের ২৪ জন পদকর্তার নাম পাওয়া যায়।
- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ সম্পাদিত 'Buddhist Mystic Songs' গ্রন্থে চর্যাপদের ২৩ জন কবির নাম উল্লেখ আছে।
- সুকুমার সেন মনে করেন যে, চর্যাপদের পদসংখ্যা - ৫১টি; তবে তিনি তার 'চর্যাগীতি পদাবলী' গ্রন্থে ৫০টি পদের উল্লেখ করেছেন। আলোচনা অংশে তার বক্তব্য মুনিদত্ত ৫০টি ব্যাখ্যা করেছিলেন।
- আবার ড. শহীদুল্লাহ চর্যাপদের পদ সংখ্যা ৫০টি বলে মনে করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস- মাহবুবুল আলম, বাংলাপিডিয়া।
১৫.
ফোর্ট উইলিয়াম কলেজে বাংলা বিভাগের প্রথম প্রধান কে ছিলেন?
  1. রামরাম বসু
  2. চণ্ডীচরণ মুন্‌শী
  3. উইলিয়াম কেরি
  4. গোলকনাথ শর্মা
ব্যাখ্যা
• ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের বাংলা বিভাগের প্রথম প্রধান ছিলেন : উইলিয়াম কেরি। 

• ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ:
- লর্ড ওয়েলেসলী ১৮০০ সালে কলকাতায় ফোর্ট উইলিয়ম কলেজ প্রতিষ্ঠা করেন। 
- বাংলাসহ ভারতের অনেক ভাষা বিশেষজ্ঞ ও ধর্মপ্রচারক উইলিয়াম কেরীকে স্থানীয় ভাষা বিভাগের প্রধান নিয়োগ করা হয়।
- ১৮০১ সালের মে মাসে উইলিয়াম কেরী ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক নিযুক্ত হন।
- পরবর্তীতে ১৮০৫ সালের মধ্যে কলেজে মোট ১২টি অনুষদ খোলা হয়।
-----------------------
 • উইলিয়াম কেরি:  
- উইলিয়াম কেরি ছিলেন একজন ইংরেজ মিশনারি ।
- বাংলা গদ্যের বিকাশে এই বিদেশির অবদান সর্বাধিক ।
- তিনি "ইতিহাসমালা ও কথোপকথন" নামে দুটি মৌলিক গ্রন্থ রচনা করেন ।
- 'ইতিহাসমালা' বাংলা ভাষার প্রথম গল্পসংগ্রহ ।
- ১৮১০ সালে তিনি দরিদ্র কৃষকদের জন্য কলকাতায় বোর্ডিং স্কুল প্রতিষ্ঠা করেন ।
---------------------
অন্যদিকে,
রামরাম বসু , গোলকনাথ শর্মা,  চণ্ডীচরণ মুন্‌শী - ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর, লাল নীল দীপাবলি (হুমায়ুন আজাদ) এবং বাংলাপিডিয়া। 
১৬.
বৈষ্ণব পদাবলিতে শ্রীরাধাকে কী বলা হয়?
  1. সখী
  2. কালান্তরিতা
  3. পরিনীতা
  4. নায়িকা
ব্যাখ্যা
• পদাবলিতে নায়িকার অবস্থা:
- যে নায়িকা অন্তরে স্বতঃসিদ্ধ কৃষ্ণরতি এবং যা রতির মূলে আছে একমাত্র কৃষ্ণেন্দ্রিয় প্রীতি এবং কৃষ্ণপ্রেমে বশীভূত, তাকে বলা হয় সমর্থা নায়িকা। 
- বৃন্দাবনের শ্রীরাধা, ললিতা, বিশাখা, চন্দ্রাবলি - সমর্থা নায়িকা। এঁদের মধ্যে শ্রীরাধা হলেন সর্বশ্রেষ্ঠ।
- বৈষ্ণব পদাবলিতে কৃষ্ণের প্রধান প্রেমিকা শ্রীরাধাকে নায়িকা বলা হয়।

পদাবলিতে নায়িকার ৮টি অবস্থা।
যথা :
- অভিসারিকা,
- বাসকসজ্জা,
- উৎকণ্ঠিতা,
- বিপ্রলব্ধা,
- খণ্ডিতা,
- কলহান্তরিতা,
- প্রোষিতভর্তৃকা,
- স্বাধীনভর্তৃকা।

উৎস: লাইভ এমসিকিউ লেকচার; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও লাল নীল দীপাবলি।
১৭.
মুসলমান সম্পাদিত প্রথম পত্রিকার নাম কী?
  1. মোসলেম ভারত
  2. হিতকরী
  3. সমাচার সভারাজেন্দ্র
  4. বঙ্গদূত
ব্যাখ্যা
• সমাচার সভারাজেন্দ্র:
- মুসলমান সম্পাদিত প্রথম পত্রিকা ‘সমাচার সভারাজেন্দ্র’।
- ১৮৩১ সালে এটি প্রথম প্রকাশিত হয়।
- 'সমাচার সভারাজেন্দ্র' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন শেখ আলিমুল্লাহ ।
- এটি সাপ্তাহিক পত্রিকা ছিল। 
- এটি পুরোপুরি বাংলা ভাষার পত্রিকা ছিল না। ছিল বাংলা-পারসি দ্বিভাষিক পত্রিকা। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৮.
নিচের কোনটি চর্যাপদের কবি নন?
  1. দারিকপা
  2. কম্বলাম্বরপা 
  3. চাটিল্লপা
  4. কাহারপা
ব্যাখ্যা
• চর্যাপদের কবি নন - কাহারপা।

চর্যাপদের কবিগণ:
চর্যার কবিতের সংখ্যা নিয়ে মতবিরোধ আছে-
- সুকুমার সেনের 'বাঙ্গালা সাহিত্যের ইতিহাস' (প্রথম খণ্ড) গ্রন্থে চর্যাপদের ২৪ জন পদকর্তার নাম পাওয়া যায়।
- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ সম্পাদিত 'Buddhist Mystic Songs' গ্রন্থে চর্যাপদের ২৩ জন কবির নাম উল্লেখ আছে।

কবিগণ হলেন:
কাহ্নপা; কুক্কুরীপা; ধর্মপা; ঢেণ্ডণপা; বিরুপা; বীণাপা; ভাদেপা; ভুসুকুপা, মহীধরপা, লুইপা; শবরপা; শান্তিপা; সরহপা; ডোম্বীপা; কম্বলাম্বরপা; গুণ্ডরীপা; চাটিল্লপা; আর্যদেবপা; দারিকপা; তাড়কপা; কঙ্কণপা; জয়নন্দীপা; তন্ত্রীপা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
১৯.
বাংলা অক্ষরের প্রথম নকশা করেন কে?
  1. উইলিয়াম কেরি 
  2. চার্লস উইলকিন্স
  3. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  4. রাজা রামমোহন রায় 
ব্যাখ্যা
• বাংলা লিপি:
- বাংলা অক্ষর বা লিপি ব্রাহ্মী লিপির কুটিল অংশ থেকে উৎপত্তি লাভ করেছে।
- পাল যুগে লিপির কাজ শুরু হলেও সেন যুগে লিপির সুসংগঠন হয়।
চার্লস উইলকিন্স বাংলা লিপির প্রথম নকশা করেন, কিন্তু আধুনিক রূপ দেন পঞ্চানন কর্মকার।
- তাই বাংলা লিপির জনক বা প্রথম নকশাকারক চার্লস উইলকিন্স হলেও আধুনিকতার রূপকার পঞ্চানন কর্মকার।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ); ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২০.
'ইয়ং বেঙ্গল' গোষ্ঠী - এর মুখপত্র কোনটি?
  1. শিখা 
  2. জ্ঞানাঙ্কুর
  3. তত্ত্ববোধিনী 
  4. জ্ঞানান্বেষণ
ব্যাখ্যা
• ইয়ং বেঙ্গল' গোষ্ঠীর মুখপত্র হিসেবে পরিচিত 'জ্ঞানান্বেষণ' পত্রিকা।
- এর সম্পাদক ছিলেন - দক্ষিণারঞ্জন মুখোপাধ্যায়। এটি প্রথম প্রকাশিত হয় - ১৮৩১ সালে।

•  দক্ষিণারঞ্জন মুখোপাধ্যায়: 
- পত্রিকা-সম্পাদক, সমাজসেবক।
- ১৮১৪ সালে তিনি কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল কাঁচড়াপাড়ার ভাটপাড়ায়।
- তিনি হেয়ার স্কুল ও হিন্দু কলেজে পড়াশুনা করেন এবং সেই সূত্রে ইয়ং বেঙ্গল দলের কর্মী ও ডিরোজিওর প্রিয় পাত্র ছিলেন।
- দক্ষিণারঞ্জন মুখোপাধ্যায় ছাত্রাবস্থায়ই জ্ঞানান্বেষণ (১৮৩১) পত্রিকা সম্পাদনা করেন।
- পরে তিনি ভারত পত্রিকা, সমাচার হিন্দুস্থানী ইত্যাদি পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
২১.
"মধুমালতী" কাব্যের লেখক কে?
  1. সৈয়দ সুলতান 
  2. কবি নওয়াজিশ খান
  3. মুহম্মদ কবীর
  4. দোনা গাজী 
ব্যাখ্যা
• মধুমালতী কাব্য:
- মুহম্মদ কবীর হিন্দি কবি মনঝনের মধুমালত্ বা সাধনের মৈনাসত্ কাব্যের অনুসরণে তাঁর বাংলা ‘মধুমালতী’ কাব্য রচনা করেন।
- এর রচনা কাল ১৫৮৮ খ্রিষ্টাব্দ এবং এ কাহিনি ভারতীয়।
- রাজপুত্র মনোহর ও রাজকন্যা মধুমালতীর রূপকথাসুলভ রোম্যান্টিক প্রেম এতে বর্ণিত হয়েছে।
- মূল কাব্য অধ্যাত্ম রসাত্মক হলেও অনুবাদে তা আদি রসাত্মক কাব্যে পরিণত হয়েছে।
- কাব্যটি তৎকালে এতই জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিল যে, কবিরের পরবর্তী আরও ছয়জন কবি একই নামে কাব্য রচনা করেন। তবে একমাত্র সৈয়দ হামজা ব্যতীত অন্য কারও কাব্য শিল্পসফল হয়নি; আবার সৈয়দ হামজার কাব্যও কবিরের কাব্যের মতো সার্থক নয়।
-------------------
• মুহম্মদ কবীর:
- মুহম্মদ কবীর (১৬শ শতক) মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের কবি।
- প্রণয়োপাখ্যান রচয়িতা হিসেবেই তিনি সমধিক পরিচিত।
- মধুমালতী (১৫৮৮) নামে একখানি রোম্যান্টিক প্রণয়কাব্য তাঁর রচনা। চট্টগ্রামের জোরওয়ারগঞ্জে এর পুথি পাওয়া গেছে বলে কবিকে ওই অঞ্চলের অধিবাসী মনে করা হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
২২.
'বুদ্ধির মুক্তি' আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না কে?
  1. কাজী মোতাহার হোসেন
  2. আবদুল কাদির
  3. আবুল হুসেন
  4. কাজী কাদের নেওয়াজ 
ব্যাখ্যা
'কাজী কাদের নেওয়াজ ' - 'বুদ্ধির মুক্তি' আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না।

• বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলন:
বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলন ধর্মীয় ও সামাজিক কুসংস্কারবিরোধী একটি প্রগতিশীল আন্দোলন।

বাংলার মুসলমান সমাজের যে ধর্মান্ধতা, কুসংস্কার ও কুপ্রথা বিরাজমান ছিল, সেসব দূরীকরণই ছিল এ আন্দোলনের মূল উদ্দেশ্য।
এই আন্দোলনের উল্লেখযোগ্য সদস্যদের মধ্যে ছিলেন কাজী আবদুল ওদুদ, আবুল ফজল, মুহম্মদ শহীদুল্লাহ, কাজী মোতাহার হোসেন, কাজী নজরুল ইসলাম এবং আবদুল কাদির।

- এই সমাজ তাদের মুখপত্র হিসেবে ‘শিখা’ নামে একটি পত্রিকা প্রকাশ করত, যার প্রতিটি সংখ্যায় লেখা থাকত ‘জ্ঞান যেখানে সীমাবদ্ধ, বুদ্ধি সেখানে আড়ষ্ট, মুক্তি সেখানে অসম্ভব'।
- বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলন গঠিত হয় কয়েকজন আলোকিত মানুষের উদ্যোগে।
- তাঁদের মধ্যে ছিলেন: মোতাহের হোসেন চৌধুরী, কাজী মোতাহার হোসেন, আবুল হুসেন, কাজী আবদুল ওদুদ, আবদুল কাদির প্রমুখ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
২৩.
বাংলা একাডেমি কর্তৃক প্রকাশিত কিশোর সাহিত্য পত্রিকা কোনটি?
  1. বার্তা 
  2. ধান শালিকের দেশ
  3. উত্তরাধিকার
  4. বাংলা একাডেমি জার্নাল
ব্যাখ্যা
• বাংলা একাডেমি থেকে প্রকাশিত কিছু গুরুত্বপূর্ণ পত্রিকা ও সাময়িকী:

- ধান শালিকের দেশ - ত্রৈমাসিক কিশোর সাহিত্য পত্রিকা।
- বার্তা  - মাসিক মুখপাত্র।
- বাংলা একাডেমি পত্রিকা - গবেষণামূলক ত্রৈমাসিক।
- বাংলা একাডেমি জার্নাল: ষাণ্মাসিক পত্রিকা।
- উত্তরাধিকার - সৃজনশীল সাহিত্য মাসিক পত্রিকা।

উৎস: বাংলাপিডিয়া; বাংলা একাডেমি ওয়েবসাইট।
২৪.
চর্যাপদের খণ্ডিত পদ কোনটি?
  1. ৫ নং পদ
  2. ১৪ নং পদ
  3. ১৬ নং পদ
  4. ২৩ নং পদ
ব্যাখ্যা
চর্যাপদের মোট পদের সংখ্যা - ৫১টি ও প্রাপ্ত পদ সাড়ে ৪৬টি।
- চর্যাপদের ২৩ নম্বর পদটি খণ্ডিত পাওয়া গেছে।
- এই পদের ৬ টি পঙক্তি পাওয়া গেছে, বাকি ৪ টি পঙক্তি পদ পাওয়া যায়নি।
- এর রচয়িতা - ভুসুকুপা।

- এছাড়াও চর্যাপদের ২৪, ২৫ এবং ৪৮ নং পদটি পাওয়া যায় নি। 

অন্যদিকে,
ডোম্বীপা - চার্যাপদের ১৪নং, চাটিল্লপা - ৫নং ও জয়নন্দী পা - ৪৬ নং পদ রচনা করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২৫.
'ভাওয়াল গড়ের উপাখ্যান' উপন্যাসটি কে রচনা করেন?
  1. আবুল ফজল 
  2. আবু জাফর শামসুদ্দীন
  3. হুমায়ূন আহমেদ 
  4. শওকত আলী 
ব্যাখ্যা
• ভাওয়াল গড়ের উপাখ্যান:
- উনবিংশ শতকের শেষার্ধের পটভূমিকায় বাংলার এক বিশিষ্ট অঞ্চলের জীবনধারা আবু জাফর শামসুদ্দীন সজীব করে তুলে ধরেছেন এই উপন্যাসে।

আবু জাফর শামসুদ্দীন:
- আবু জাফর শামসুদ্দীন একজন সাংবাদিক, সাহিত্যিক।
- ১৯১১ সালের ১২ মার্চ ঢাকা জেলার গাজীপুরের দক্ষিণবাগ গ্রামে তাঁর জন্ম।

আবু জাফর শামসুদ্দীন রচিত উপন্যাস:
- ভাওয়াল গড়ের উপাখ্যান,
- পদ্মা মেঘনা যমুনা,
- সংকর সংকীর্তন,
- দেয়াল,
- পরিত্যক্ত স্বামী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
২৬.
'দীপনির্বাণ' কে রচনা করেন?
  1. নওয়াব ফয়জুন্নেসা চৌধুরী
  2. স্বর্ণকুমারী দেবী
  3. সেলিনা হোসেন
  4. তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
• 'দীপনির্বাণ' স্বর্ণকুমারী দেবী রচিত উপন্যাস।
- ১৮৭৬ সালে প্রকাশিত হয়।

• স্বর্ণকুমারী দেবী:
- স্বর্ণকুমারী দেবী (১৮৫৫-১৯৩২)  কবি, নাট্যকার, সাংবাদিক ও সমাজকর্মী।
- তিনি জোড়াসাকোঁর ঠাকুর পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।
- স্বর্ণকুমারী দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এর দশম সন্তান এবং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এর ভগ্নী।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য উপন্যাস:
- দীপনির্বাণ
- বিদ্রোহ,  
- মেবার  রাজ, 
- ছিন্নমুকুল, 
- হুগলীর ইমামবাড়ী, 
- বিচিত্র, 
- স্বপ্নবাণী ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত নাটক:
- বসন্ত উৎসব,
- বিবাহ উৎসব,
- রাজকন্যা,
- যুগান্তর ইত্যাদি।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং  বাংলাপিডিয়া।
২৭.
ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ সম্পাদিত চর্যাপদের ইংরেজি অনুবাদগ্রন্থের নাম কী?
  1. Ancient Bengali Verses
  2. Mystic Verses of India
  3. Buddhist Mystic Songs
  4. Sacred Songs of Bengal
ব্যাখ্যা
- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ সম্পাদিত চর্যাপদ বিষয়ক গ্রন্থরে নাম - Buddhist Mystic Songs.
- ড.মুহম্মদ শহীদুল্লাহ সম্পাদিত 'Buddhist Mystic Songs’ গ্রন্থে চর্যাপদের ২৩ জন কবির কথা বলেছেন। 
- গ্রন্থটি চর্যাপদের অনুবাদ ও সম্পাদনা কর্ম। তিনি এই গ্রন্থে চর্যাপদের ধর্মতত্ত্ব নিয়েও আলোচনা করেন।

উল্লেখ্য,
- হরপ্রসাদ শাস্ত্রী 'হাজার বছরের পুরান বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধগান ও দোহা'  নামে 'চর্যাপদ' সম্পাদনা ও প্রকাশ করেন।
- সুকুমার সেন সম্পাদিত চর্যাপদ বিষয়ক গ্রন্থরে নাম 'চর্যাগীতি পদাবলী' 

 উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২৮.
গদ্য সাহিত্য কোন যুগের সৃষ্টি?
  1. প্রাচীন যুগ
  2. মধ্যযুগ
  3. উত্তরাধুনিক যুগ
  4. আধুনিক যুগ
ব্যাখ্যা
• গদ্য সাহিত্য রচনার সূচনা:
- উনিশ শতকের (১৮০০-১৮৯৯) শুরুতে বাংলা ভাষার গদ্য সাহিত্য রচনা শুরু হয়।
- এটি বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগের সূচনা হিসেবে ধরা হয়।
- ১৮০১ থেকে আধুনিক যুগের সূচনা হয়।
- ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ প্রতিষ্ঠা, বাংলা বিভাগ প্রতিষ্ঠা এবং আধুনিক চিন্তার কারণে বাংলা সাহিত্যে আধুনিক ধারা তরান্বিত হয়। 
- কাব্য, ছড়া, পালা প্রাচীন ও মধ্যযুগের সৃষ্টি।
- কিন্তু নাটক, উপন্যাস, গল্প, প্রবন্ধ, গদ্য, সাময়িকপত্র আধুনিক যুগের সৃষ্টি।

উল্লেখ্য, 
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরকে বাংলা গদ্যের জনক বলা হয়। 
- বাংলা গদ্যকে সাহিত্য গুণসম্পন্ন ও বহুমুখী প্রকাশক্ষম করার প্রধান কৃতিত্ব ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের।
- এজন্য তাকে "বাংলা গদ্যের জনক" বলা হয়।

উৎস:
- বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
- বাংলাপিডিয়া।
২৯.
কোন পত্রিকাটি ১৯১৪ প্রথম প্রকাশিত হয়?
  1. প্রবাসী
  2. নবনূর
  3. সবুজপত্র
  4. পূর্বাশা
ব্যাখ্যা
• 'সবুজপত্র' পত্রিকা:
- প্রমথ চৌধুরীর সম্পাদনায় ১৯১৪ সালে মাসিক 'সবুজপত্র' পত্রিকা প্রথম প্রকাশিত হয়।
- বাংলা গদ্যরীতির বিকাশে এই পত্রিকার গুরুত্ব অপরিসীম।
- বাংলা বৈশাখ ১৩২১ বঙ্গাব্দে পত্রিকাটি প্রথম প্রকাশিত হয়।
- বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নিজেও এই পত্রিকায় লেখার সুবাদে চলিত গদ্যরীতির স্বাচ্ছন্দ্য অনুভব এবং পরে তা চর্চা করেন।
- সাহিত্য জগতে এই পত্রিকা 'সবুজপত্র গোষ্ঠী' তৈরিতে সক্ষম হয়।
- ১৯২৭ সালে পত্রিকাটি বন্ধ হয়ে যায়।

অন্যদিকে,
• 'প্রবাসী' পত্রিকা ১৯০১ সালে প্রকাশিত হয়।
- রামানন্দ চট্টোপাধ্যায় এটির প্রথম সম্পাদক ছিলেন।

• 'নবনূর' পত্রিকা ১৯০৩ সালে প্রকাশিত হয়।
- সৈয়দ এমদাদ আলী এটির প্রথম সম্পাদক ছিলেন।

• 'পূর্বাশা' পত্রিকা:
- এটি কুমিল্লা থেকে প্রথম প্রকাশিত পত্রিকা।
- এর প্রকাশকাল ছিল ১৯৩২ সাল।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩০.
'কাঁকর মণি‘ নাটকটি কে লিখেছেন?
  1. ড. নীলিমা ইব্রাহীম
  2. সিকান্দার আবু জাফর
  3. আনিস চৌধুরী
  4. শওকত ওসমান 
ব্যাখ্যা
• 'কাঁকর মণি' নাটকটি লিখেছেন - শওকত ওসমান।

• শওকত ওসমান:
- ১৯১৭ সালের ২ জানুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার সবলসিংহপুর গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম 'শেখ আজিজুর রহমান'।

• তাঁর রচিত নাটক:
- কাঁকর মণি, 
- তস্কর লস্কর,
- পূর্ণ স্বাধীনতা চূর্ণ স্বাধীনতা,
- আমলার মামলা,
- কাঁকর মণি,
- বাগদাদের কবি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৩১.
কোন সুলতানের রাজত্বকালে শাহ মুহম্মদ সগীর 'ইউসুফ-জুলেখা' রচনা করেন?
  1. গিয়াসউদ্দিন আযম শাহ
  2. আলাউদ্দিন হোসেন শাহ
  3. নাসিরউদ্দিন মাহমুদ শাহ 
  4. ফখরুদ্দিন মোবারক শাহ
ব্যাখ্যা
• শাহ মুহম্মদ সগীর:
- মধ্যযুগের তথা বাংলা সাহিত্যের প্রথম মুসলিম কবি শাহ মুহম্মদ সগীর।
- তিনি পনের শতকের কবি ছিলেন।
- গৌড়ের সুলতান গিয়াসউদ্দিন আজম শাহের রাজত্বকালে তিনি এ কাব্য রচনা করেন।
- অনুবাদ সাহিত্যে বা রোমাণ্টিক প্রণয়োপাখ্যান ধারার প্রথম কবি - শাহ্‌ মুহম্মদ সগীর।
- শাহ মুহম্মদ সগীরের শ্রেষ্ঠ অনুবাদকর্ম — ইউসুফ-জুলেখা।
- তিনি পারস্যের জামী রচিত 'ইউসুফ জুলেখা' কাব্যের বাংলা অনুবাদ করেন যা এই ধারার আদি গ্রন্থ।
--------------
ইউসুফ-জোলেখা কাব্য:
• ইউসুফ-জোলেখা’ শাহ মুহম্মদ সগীর রচিত কাহিনি কাব্যগ্রন্থ যা রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান ধারার প্রথম কাব্য।
• গৌড়ের সুলতান গিয়াসউদ্দিন আজম শাহের রাজত্বকালে এ কাব্যর রচনা হয়েছিল বলে প্রমাণ মিলেছে।
• বাইবেল ও কোরানে ইউসুফ-জোলেখার কাহিনি বর্ণিত আছে। ইরানের কবি ফেরদৌসিও এই নামে কাব্য রচনা করেছেন। সগীর বাইবেল পড়েন নি। তিনি কোরান ও ফেরদৌসির কাছে থেকেই কাহিনিসূত্র গ্রহণ করে ইউসুফ ও জোলেখার প্রণয়কাহিনি লেখেন।
• পরবর্তীতে মধ্যযুগের আরো অনেক কবি ইউসুফ জুলেখা নাম দিয়ে কাব্য রচনা করেছেন। যেমন- ইউসুফ জুলেখা নিয়ে কাব্য রচনা করেন আব্দুল হাকিম এবং শাহ মুহম্মদ গরীবুল্লাহ। তকে এই কাব্য শাহ মুহাম্মদ সগীরই প্রথম লেখেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩২.
বাংলা প্রহসন রচনার পথিকৃৎ কে?
  1. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  2. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  3. রামনারায়ণ তর্করত্ন
  4. দীনবন্ধু মিত্র
ব্যাখ্যা
• প্রহসন: 
- প্রহসন  হাস্যরসপ্রধান স্বল্পদৈর্ঘ্য নাট্যধর্মী রচনা।
- এতে হাস্য ও ব্যঙ্গ-বিদ্রূপের আবরণে সমাজের অনৈতিকতা, অনাচার, ধর্মীয় গোঁড়ামি ও রক্ষণশীলতা এবং প্রাত্যহিক জীবনের ত্রুটি-বিচ্যুতিসমূহ তুলে ধরা হয়।
- পূর্ণাঙ্গ নাটকের মতো প্রহসনে বিষয়বস্ত্তর বিস্তার ও জটিলতা, রচয়িতার গভীর জীবনবোধ, চরিত্রের সমগ্রতা এবং কাহিনীর পারম্পর্যপূর্ণ অগ্রগমন অনুপস্থিত।
- বরং নকশাধর্মী কাহিনীর মাধ্যমে ঘটনা ও বিষয়বস্ত্তর অতিকথন, টাইপ চরিত্রের সংযোগ এবং হাসি ও ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ সহযোগে খন্ডজীবনের একটি উপভোগ্য নাট্যরূপায়ণই এর প্রধান বৈশিষ্ট্য। 

• বিশেষ তথ্য: 
- রামনারায়ণ তর্করত্ন সংস্কৃত প্রহসনের আদর্শে বাংলা প্রহসন রচনার পথিকৃৎ। তাঁর শ্রেষ্ঠ প্রহসন হচ্ছে কুলীনকুলসর্বস্ব (১৮৫৪)।
- বাংলা সাহিত্যে প্রথম পাশ্চাত্যধারা তথা ইংরেজি Farce-এর বৈশিষ্ট্য ও গুণ সমন্বিত প্রহসন রচনায় কৃতিত্বের অধিকারী হলেন মাইকেল মধুসূদন দত্ত
- তাঁর একেই কি বলে সভ্যতা (১৮৬০) ও বুড় সালিকের ঘাড়ে রোঁ (১৮৬০) প্রহসনদ্বয়ের মধ্য দিয়েই বাংলা প্রহসন তার স্বকীয়তা লাভ করে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া। 
৩৩.
‘শেষের কবিতা’ উপন্যাসের প্রধান পুরুষ চরিত্রের নাম কী?
  1. মধুসূদন
  2. নিখিলেস
  3. অমিত
  4. শোভনলাল
ব্যাখ্যা
• শেষের কবিতা' উপন্যাস:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত 'শেষের কবিতা' একটি উপন্যাস। 
- 'শেষের কবিতা' তাঁর একটি রোমান্টিক- মনস্তাত্ত্বিক কাব্যিক উপন্যাস। 
- এটি প্রকাশিত হয় ১৯২৯ সালে।
- এটিকে কাব্যোপন্যাসও বলা হয়।
- শেষের কবিতা উপন্যাস বিংশ শতকের বাংলার নবশিক্ষিত অভিজাত সমাজের জীবনকথা।
- এ উপন্যাসের প্রধান পুরুষ চরিত্র - 'অমিত'।

এ উপন্যাসের চরিত্র গুলাে হলাে: 
- অমিত,
- লাবণ্য,
- কেতকী রায় এবং
- শােভনলাল। 
--------------
উল্লেখ্য,
- শোভনলাল - শেষের কবিতা উপন্যাসের চরিত্র।
- মধুসূদন- যোগাযোগ উপন্যাসের চরিত্র। 
- নিখিলেস- ঘরে বাইরে উপন্যাসের চরিত্র।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও শেষের কবিতা।
৩৪.
শিবায়ন ধারার প্রথম কবি কে?
  1. বিদ্যাসুন্দর 
  2. দ্বিজ রতিদেব
  3. কবি কঙ্ক
  4. রামপ্রসাদ সেন
ব্যাখ্যা
• শিবায়ন ধারার প্রথম কবি — দ্বিজ রতিদেব।

- কৃষিভিত্তিক সমাজজীবনে বৈদিক দেবতা রুদ্র শিবের রূপ ধারণ করে; শিব বাঙালি হিন্দুর জীবনে ওতপ্রোতভাবে জড়িত, তাই বাঙালির সুখ-দুঃখ ভরা সংসারের কথা স্থান পেয়েছে শিবমঙ্গলে।
- এ ধারার প্রথম কাব্য দ্বিজ রতিদেবের মৃগলুব্ধ (১৬৭৪) পাওয়া গেছে চট্টগ্রামের পটিয়ায়।

অন্যদিকে,
- শিবায়নের শ্রেষ্ঠ কাহিনীর রচয়িতা রামেশ্বর চক্রবর্তী (১৭১০-১১)।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৩৫.
আরাকান রাজসভার কবি ছিলেন-
  1. দৌলত কাজী
  2. আলাওল
  3. আবদুল করিম খন্দকার
  4. সবাই 
ব্যাখ্যা
• আরাকান রাজসভার প্রথম বাঙালি কবি - দৌলত কাজী।

• আরাকান রাজসভার অন্যান্য কবিগণ:
- আলাওল,
- কোরেশী মাগন ঠাকুর,
- মরদন,
- আবদুল করিম খন্দকার,
- শমসের আলী ইত্যাদি।

উৎস: লাল নীল দীপাবলি, হুমায়ুন আজাদ।
৩৬.
'বাঙ্গালীর ইতিহাস' প্রবন্ধটির লেখক কে?
  1. সিরাজুল ইসলাম 
  2. আহমদ ছফা
  3. নীহাররঞ্জন রায়
  4. বদরুদ্দীন উমর 
ব্যাখ্যা
• নীহাররঞ্জন রায় 'বাঙ্গালীর ইতিহাস' গ্রন্থটি লিখেছেন। 

• নীহাররঞ্জন রায়: 
- নীহাররঞ্জন রায়, ভারতের শেষ বহুশাস্ত্রজ্ঞদের মধ্যে অন্যতম একজন।
- মানব অভিজ্ঞতার রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক দিকগুলির মধ্যে সমন্বয় সাধনে নীহাররঞ্জন রায় এর প্রয়াস পরিণতি লাভ করেছে তাঁর প্রধান সাহিত্যকর্ম বাঙ্গালীর ইতিহাস গ্রন্থে।
-------------------------------- 
• ‘বাঙ্গালীর ইতিহাস’ গ্রন্থ: 
- তাঁর প্রধান সাহিত্যকর্ম ‘বাঙ্গালীর ইতিহাস’ গ্রন্থ।
- এই ক্লাসিক সৃষ্টি রাজনৈতিক পরিভাষায় ইতিহাস বিশ্লেষণ থেকে একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক পরিবর্তনের সূচনা ঘটায় এবং তা সাধারণ মানুষকে ইতিহাসবিদদের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু করে তোলে।
- গ্রন্থটির সাহিত্যমূল্যের ক্ষেত্রেও কম গুরুত্বপূর্ণ নয়।
- ‘ভারত ছাড়’ আন্দোলনকালে ১৯৪২ সালে তিনি কারাবন্দি হন এবং জেলখানায়ই ‘বাঙ্গালীর ইতিহাস’ রচনার কাজ শুরু করেন।
- বার্মাতেই তাঁর মনে বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর অবিচ্ছিন্নতার ধারণা দৃঢ়বদ্ধ হয়, যা পূর্ণ পরিণতি লাভ করে ১৯৪৯ সালে প্রকাশিত তাঁর বাঙ্গালীর ইতিহাস গ্রন্থে।

তাঁর রচিত গ্রন্থ:
- Maurya and Sunga Art, 
- বাঙ্গালীর ইতিহাস, 
- Nationalism in India, 
- Idea and Image of Indian Art.

উৎস: বাংলাপিডিয়া
৩৭.
"আত্মোপকারীকে বনবাসে বিসর্জ্জন করা যাহাদিগের প্রকৃতি, তাহারা চিরকাল আত্মোপকারীকে বনবাস দিবে – কিন্তু যত বার বনবাসিত করুক না কেন, পরের কাষ্ঠাহরণ করা যাহার স্বভাব, সে পুনর্ব্বার পরের কাষ্ঠাহরণে যাইবে।" - কোন রচনার অন্তর্গত?
  1. বিষবৃক্ষ
  2. আমার পথ 
  3. কপালকুণ্ডলা
  4. রাজবন্দীর জবানবন্দী 
ব্যাখ্যা
• "কপালকুণ্ডলা – বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়" অংশবিশেষ:
---- এরূপ বিবেচনা করিয়া যাত্রীরা নবকুমার ব্যতীত স্বদেশে গমনই উচিত বিবেচনা করিলেন। নবকুমার সেই ভীষণ সমুদ্রতীরে বনবাসে বিসর্জ্জিত হইলেন।
ইহা শুনিয়া যদি কেহ প্রতিজ্ঞা করেন, কখনও পরের উপবাস নিবারণার্থ কাষ্ঠাহরণে যাইবেন না, তবে তিনি উপহাসাস্পদ। আত্মোপকারীকে বনবাসে বিসর্জ্জন করা যাহাদিগের প্রকৃতি, তাহারা চিরকাল আত্মোপকারীকে বনবাস দিবে – কিন্তু যত বার বনবাসিত করুক না কেন, পরের কাষ্ঠাহরণ করা যাহার স্বভাব, সে পুনর্ব্বার পরের কাষ্ঠাহরণে যাইবে। তুমি অধম – তাই বলিয়া আমি উত্তম না হইব কেন?

• 'কপালকুণ্ডলা' উপন্যাস:
- এটি প্রকাশিত হয় ১৮৬৬ সালে।
- অরণ্যে এক কাপালিক-পালিতা নারী কপালকুণ্ডলাকে কেন্দ্র করে উপন্যাসটির কাহিনী গড়ে উঠেছে।
- বঙ্কিমের জীবৎকালেই এই উপন্যাসের আটটি সংস্করণ হয়।
- উপন্যাসটির উল্লেখযোগ্য চরিত্র: কপালকুণ্ডলা, নবকুমার, কাপালিক ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; 'কপালকুণ্ডলা' উপন্যাস।
৩৮.
ভাষা আন্দোলনের প্রথম সাহিত্য সংকলন ‘একুশে ফেব্রুয়ারি' এর সম্পাদক কে?
  1. হাসান আজিজুল হক 
  2. ড. মুহম্মদ এনামুল হক 
  3. নীলিমা ইব্রাহীম 
  4. হাসান হাফিজুর রহমান
ব্যাখ্যা
• ভাষা আন্দোলনের প্রথম সাহিত্য সংকলন ‘একুশে ফেব্রুয়ারি’-এর সম্পাদক ছিলেন - হাসান হাফিজুর রহমান।
- এই সংকলনটি ১৯৫৩ সালে প্রকাশিত হয় এবং এতে ভাষা আন্দোলনের শহীদদের স্মরণে কবিতা, প্রবন্ধ, গল্প ও চিত্রকলা স্থান পায়। এটি বাংলা ভাষা ও সাহিত্য আন্দোলনের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ দলিল।

একুশে ফেব্রুয়ারি:
- এটি সম্পাদনা করেছেন হাসান হাফিজুর রহমান।
- ১৯৫৩ সালের মার্চ মাসে 'পুথিপত্র' প্রকাশনী থেকে সংকলনটি প্রকাশিত হয়।
- প্রকাশক ছিলেন বিশিষ্ট রাজনৈতিক কর্মী মোহাম্মদ সুলতান ।
- এই সংকলনের অসাধারণ স্কেচগুলো করেন মুর্তজা বশীর।
- এই সংকলনে কবিতা, প্রবন্ধ, গল্প, গান, নকশা, ইতিহাস শিরোনামে ৬টি বিভাগে মোট ২২জন লেখক লিখেছেন। 
- এটি প্রকাশের তিন সপ্তাহের মধ্যে তৎকালীন পাকিস্তান সরকার সংকলনটি বাজেয়াপ্ত করে। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩৯.
বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনের জন্মসাল কোনটি?
  1. ১৮৮৮
  2. ১৯৩২
  3. ১৮৮০
  4. ১৮৯০
ব্যাখ্যা
• রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন:
- নারী জাগরণের পথিকৃৎ বেগম রোকেয়ার জন্ম ৯ই ডিসেম্বর, ১৮৮০, পায়রাবন্দ গ্রাম, রংপুর।
- বাংলাদেশের নারী আন্দোলনের ইতিহাসে বেগম রোকেয়ার অবদান চিরঅম্লান।
- বেগম রোকেয়া প্রতিষ্ঠা করেন আঞ্জুমানে খাওয়াতীনে ইসলাম বা মুসলিম মহিলা সমিতি। 
- 'Sultana’s Dream' গ্রন্থটি রোকেয়া নিজেই বাংলায় অনুবাদ করেন সুলতানার স্বপ্ন  নামে।
- এটি একটি প্রতীকী রচনা এবং এতে বর্ণিত Lady Land  বা নারীস্থান মূলত রোকেয়ারই স্বপ্নকল্পনার প্রতীক।

তাঁর উলে­খযোগ্য রচনা:
- মতিচূর,
- সুলতানার স্বপ্ন, 
- পদ্মরাগ,
- অবরোধবাসিনী।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২) বাংলাপিডিয়া।
৪০.
'চর্যাপদে' কার পদ সবচেয়ে বেশি?
  1. সরহপা
  2. শবরপা
  3. কাহ্নপা
  4. কুক্করীপা
ব্যাখ্যা
• 'কাহ্নপা' সর্বাপেক্ষা বেশি ১৩টি পদ রচনা করেন।
- কাহ্নপা  ১৩ টি পদ রচনা করেন।  
- কাহ্নপা রচিত ২৪ নং পদটি পাওয়া যায় নি।
- তাঁর চর্যাপদে কাহ্নিল, কাহ্নি, কৃষ্ণচর্য, কৃষ্ণবজ্রপাদ, কাহ্নু  নাম পাওয়া যায়।  

• চর্যাপদ:
- চর্যাপদ বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের আদি নিদর্শন। 
- ১৯০৭ খ্রিস্টাব্দে মহামহোপাধ্যায়  হরপ্রসাদ শাস্ত্রী নেপাল রাজদরবারের গ্রন্থাগার থেকে এর পুঁথি আবিষ্কার করেন।
- চর্যাপদের চর্যাগুলো রচনা করেন বৌদ্ধ সহজিয়াগণ।
- চর্যাপদে বৌদ্ধধর্মের কথা বলা হয়েছে।

- কাহ্নপা সর্বাপেক্ষা বেশি ১৩টি পদ রচনা করেন।
- ভুসুকুপা দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৮ টি পদ লেখেন।
- চর্যাপদ গ্রন্থে সাড়ে ছেচল্লিশটি পদ পাওয়া গেছে।
- চর্যাপদের ২৩ নং পদটি খণ্ডিত আকারে পাওয়া গেছে। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৪১.
"লেখাপড়া করে যেই, গাড়ি ঘোড়া চড়ে সেই।" - পঙ্‌ক্তিটির রচয়িতা কে?
  1. রামনারায়ণ তর্করত্ন
  2. সুফিয়া কামাল 
  3. গিরিশচন্দ্র সেন 
  4. মদনমোহন তর্কালঙ্কার
ব্যাখ্যা
• "লেখাপড়া করে যেই, গাড়ি ঘোড়া চড়ে সেই।" - পঙ্‌ক্তিটির রচয়িতা কবি মদনমোহন তর্কালঙ্কার।

• মদনমোহন তর্কালঙ্কার:
- পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার বিল্বগ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পারিবারিক উপাধি ‘চট্টোপাধ্যায়’ হলেও প্রাপ্ত উপাধি ‘তর্কালঙ্কার’ হিসেবেই তিনি সুপরিচিত।
- মদনমোহন বিদ্যাসাগরের সহযোগিতায় ‘সংস্কৃত-যন্ত্র’ (১৮৪৭) নামে একটি ছাপাখানা প্রতিষ্ঠা করেন।
- সেখান থেকে ভারতচন্দ্রের অন্নদামঙ্গল কাব্যটি সর্বপ্রথম গ্রন্থাকারে মুদ্রিত হয়।

তাঁর মৌলিক কাব্যগ্রন্থ:
- রসতরঙ্গিণী,
- বাসবদত্তা।

কবিতা: লেখাপড়া করে যেই।
লেখক: মদনমোহন তর্কালঙ্কার।

লেখাপড়া করে যেই
গাড়ি ঘোড়া চড়ে সেই।
লেখাপড়া যেই জানে
সব লোক তারে মানে।
কটু ভাষী নাহি হবে
মিছা কথা নাহি কবে।
পর ধন নাহি লবে
চিরদিন সুখে রবে।
পিতামাতা গুরুজনে
সেবা কর কায় মনে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৪২.
"তেলা মাথায় তেল দেওয়া মনুষ্যজাতির রোগ-দরিদ্রের ক্ষুধা কেহ বুঝে না।" - কোন রচনার অন্তর্গত?
  1. মহেশ
  2. বিড়াল
  3. সাম্য
  4. বৈকুণ্ঠের উইল
ব্যাখ্যা
• 'বিড়াল' প্রবন্ধের অংশবিশেষ - বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
“দেখ, যদি অমুক শিরোমণি, কি অমুক ন্যায়ালঙ্কার আসিয়া তোমার দুধটুকু খাইয়া যাইতেন, তবে তুমি কি তাঁহাকে ঠেঙ্গা লইয়া মারিতে আসিতে? বরং যোড়হাত করিয়া বলিতে, আর একটু কি আনিয়া দিব? তবে আমার বেলা লাঠি কেন? তুমি বলিবে, তাঁহারা অতি পণ্ডিত, বড় মান্য লোক। পণ্ডিত বা মান্য বলিয়া কি আমার অপেক্ষা তাঁহাদের ক্ষুধা বেশী? তা ত নয়- তেলা মাথায় তেল দেওয়া মনুষ্যজাতির রোগ-দরিদ্রের ক্ষুধা কেহ বুঝে না। যে খাইতে বলিলে বিরক্ত হয়, তাহার জন্য ভোজের আয়োজন কর-আর যে ক্ষুধার জ্বালায় বিনা আহ্বানেই তোমার অন্ন খাইয়া ফেলে, চোর বলিয়া তাহার দণ্ড কর-ছি! ছি!

উৎস: 'বিড়াল' প্রবন্ধ - বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়।
৪৩.
‘গৃহদাহ’ উপন্যাসের অচলার স্বামীর নাম কী?
  1. মহিম
  2. সুরেশ
  3. রমেশ
  4. সব্যসাচী
ব্যাখ্যা
• 'গৃহদাহ' উপন্যাস:
- গৃহদাহ শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় কর্তৃক রচিত একটি শ্রেষ্ঠ উপন্যাস।
- উপন্যাসটি ১৯২০ সালে প্রকাশিত হয়।
- মাসিক ‘ভারতবর্ষে’ উপন্যাসটি প্রকাশিত হয়।
- 'গৃহদাহ' উপন্যাসে ত্রিভুজ প্রেমের চিত্র অঙ্কিত হয়েছে।
- উপন্যাসের নায়িকা অচলা। মহিম ও সুরেশ দুই পুরুষের প্রতি অচলার আকর্ষণ বিকর্ষণ উপন্যাসের আলোচ্য বিষয়। ‘গৃহদাহ’ উপন্যাসের অচলার স্বামীর নাম মহিম।

উল্লেখ্য,
ভালোবেসে মহিমকে বিয়ে করে অচলা সুখী হতে চেয়েছিল, কিন্তু পারেনি। শহুরে আধুনিকা অচলা গ্রামীণ পরিবেশে তার ভালোবাসার মহিমকে খুঁজে পায়নি। এ সুযোগে তার সাক্ষাৎ হয়েছে মহিমেরই ধনাঢ্য বন্ধু সুরেশের সঙ্গে। সেখান থেকেই মহিম-অচলার প্রেমত্রিভুজের আরেক কোণে যুক্ত হয় সুরেশ।

• শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের কিছু উপন্যাসের চরিত্র: 
- চরিত্রহীন উপন্যাসের চরিত্র - সতীশ, সাবিত্রী, কিরণময়ী।
- 'পল্লীসমাজ' উপন্যাসের চরিত্র - রমা, রমেশ, বললাম, বেণী।
- 'শ্রীকান্ত' উপন্যাসের চরিত্র - ইন্দ্রনাথ, রাজলক্ষ্মী, অভয়া, গহর প্রমুখ।
- 'গৃহদাহ' উপন্যাসের চরিত্র - সুরেশ, মহিম, অচলা।
- 'পথের দাবী' উপন্যাসের চরিত্র - ভারতী, সব্যসাচী ওরফে ডাক্তার সাহেব।

উৎস: বাংলা ভাষা ও জিজ্ঞাসা ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
৪৪.
কার উৎসাহে মৈমনসিংহ গীতিকা সংগ্রহ করা হয়?
  1. আশুতোষ মুখার্জি
  2. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী
  3. দীনেশচন্দ্র সেন
  4. রাজা রাজেন্দ্রলাল মিত্র
ব্যাখ্যা
মৈমনসিংহ গীতিকা:
• ময়মনসিংহ অঞ্চলের প্রচলিত গানগুলোকে একত্রে মৈমনসিংহ গীতিকা বলা হয়।
• কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. দীনেশচন্দ্র সেনের আগ্রহে মৈমনসিংহ গীতিকা সংগ্রহ করেন চন্দ্রকুমার দে।
- চন্দ্রকুমার দে ছিলেন ময়মনসিংহ নিবাসী।
• দীনেশচন্দ্র সেনের সম্পাদনায় ১৯২৩ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মৈমনসিংহ গীতিকা প্রকাশিত হয়।
• মৈমনসিংহ গীতিকা বিশ্বের ২৩টি ভাষায় মুদ্রিত হয়।

• মৈমনসিংহ গীতিকায় ১০টি গীতিকা ও রূপকথা স্থান পেয়েছে। যথা :
- মহুয়া,
- মলুয়া,
- চন্দ্রাবতী,
- কমলা,
- দেওয়ান ভাবনা,
- দস্যু কেনারামের পালা,
- রূপবতী,
- কঙ্ক ও লীলা,
- কাজলরেখা (রূপকথা) ও 
- দেওয়ান মদিনা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া।
৪৫.
‘নিরন্তর ঘন্টাধ্বনি’ উপন্যাসটি কোন বিষয়ের উপর রচিত?
  1. মুক্তিযুদ্ধ
  2. দেশ ভাগ 
  3. ভাষা আন্দোলন
  4. তেভাগা আন্দোলন
ব্যাখ্যা
• নিরন্তর ঘন্টাধ্বনি:
- ‘নিরন্তর ঘন্টাধ্বনি’ উপন্যাসটির লেখক সেলিনা হোসেন।

উপন্যাসটি ১৯৩৮ থেকে ১৯৫২ সালের মধ্যে বাংলার রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সংগ্রামের পটভূমিতে রচিত। ১৯৪৭-এ দেশভাগ, রাজনৈতিক বিভাজন, সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা, সঙ্গে ১৯৪৩ সালের দুর্ভিক্ষের (যা পঞ্চাশের মন্বন্তর নামে পরিচিত) ভয়াবহতায় ধ্বংস হয়ে যাওয়া কিছু পরিবারের চিত্র নিয়ে লেখেন ‘নিরন্তর ঘণ্টাধ্বনি’। উপন্যাসে শ্রমিক শোষণ, সাম্রাজ্যবাদ, এবং ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের চিত্র আছে। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন এবং বাঙালির সাংস্কৃতিক আত্মপরিচয়ের লড়াই গভীরভাবে ফুটে উঠেছে। অধিক প্রচলিত এবং গ্রহণযোগ্য উত্তর 'ভাষা আন্দোলন' নেওয়া হলো।
------------------------
• সেলিনা হোসেন:
- বাংলা কথাসাহিত্যের অন্যতম জনপ্রিয় লেখিকা সেলিনা হোসেন।
- তিনি রাজশাহী শহরে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস লক্ষ্মীপুর জেলার হাজিরপাড়া গ্রামে।
- তার রচিত উপন্যাস ‘হাঙ্গর নদী গ্রেনেড’। মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক এ উপন্যাসটি ১৯৭৬ সালে প্রকাশিত হয়।
- পরবর্তীকালে এ উপন্যাস অবলম্বনে চলচ্চিত্র পরিচালক চাষী নজরুল ইসলাম হাঙর নদী গ্রেনেড নামে একটি চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন।

• তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য কয়েকটি উপন্যাস:
- হাঙ্গর নদী গ্রেনেড,
- পোকা মাকড়ের ঘরবসতি,
- নিরন্তর ঘন্টাধ্বনি,
- জলোচ্ছ্বাস ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; ‘নিরন্তর ঘন্টাধ্বনি’ উপন্যাস।
৪৬.
প্রথম মুসলিম নাট্যকার কে?
  1. মুনীর চৌধুরী
  2. কাজী নজরুল ইসলাম
  3. মীর মশাররফ হোসেন
  4. কায়কোবাদ
ব্যাখ্যা
• মীর মশাররফ হোসেন:
- মীর মশাররফ হোসেন একজন ঔপন্যাসিক, নাট্যকার ও গদ্যরচয়িতা৷
- বাংলা সাহিত্যের প্রথম মুসলিম নাট্যকার 'মীর মশাররফ হোসেন'।
- তাকে বাংলা সাহিত্যের প্রথম মুসলিম ঔপন্যাসিক বলা হয়।
- তাঁর রচিত প্রথম গ্রন্থ হলো 'রত্নাবতী'।

• ‘বসন্তকুমারী' (১৮৭৩) নাট্যগ্রন্থটি রচনা করেছেন- 'মীর মশাররফ হোসেন'।
- এটি বাংলা সাহিত্যের প্রথম মুসলিম নাট্যকার রচিত নাটক হিসেবে নির্দেশ করা যায়।

• তাঁর রচিত নাটক:
- বসন্তকুমারী,
- জমীদার দর্পণ,
- বেহুলা গীতাভিনয়।

উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৪৭.
ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌ চর্যাপদের রচনাকাল ধরেছেন-
  1. ৪৫০ থেকে
  2. ৬৫০ থেকে
  3. ৮৫০ থেকে
  4. ৯৫০ থেকে
ব্যাখ্যা
• চর্যাপদের রচনাকাল সম্পর্কিত আলোচনা:
- মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌র মতে ৬৫০ খ্রিষ্টাব্দ থেকে চর্যাপদের রচনা কাল ধরেছেন।
- সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়ের মতে ৯৫০ থেকে ১২০০ খ্রিষ্টাব্দের মধ্যে পদগুলো রচিত। সুকুমার সেন সহ বাংলা সাহিত্যের প্রায় সব পণ্ডিতই সুনীতিকুমারকে সমর্থন করেন।

• চর্যাপদ:
- চর্যাপদ বাংলা ভাষার প্রথম কাব্যগ্রন্থ/কবিতা সংকলন/ গানের সংকলন।
- এটি বাংলা সাহিত্যের আদি যুগের একমাত্র লিখিত নিদর্শন।
- ড. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী ১৯০৭ সালে নেপালের রাজ দরবার গ্রন্থাগার থেকে এটি আবিষ্কার করেন।
- চর্যাপদের চর্যাগুলো রচনা করেন বৌদ্ধ সহজিয়াগণ। চর্যাপদে বৌদ্ধধর্মের কথা বলা হয়েছে।
- সুকুমার সেনের 'বাঙ্গালা সাহিত্যের ইতিহাস' (প্রথম খণ্ড) গ্রন্থে চর্যাপদের ২৪ জন পদকর্তার নাম পাওয়া যায়।

- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ সম্পাদিত 'Buddhist Mystic Songs' গ্রন্থে চর্যাপদের ২৩ জন কবির নাম উল্লেখ আছে।
- সুকুমার সেন মনে করেন যে, চর্যাপদের পদসংখ্যা - ৫১টি; তবে তিনি তার 'চর্যাগীতি পদাবলী' গ্রন্থে ৫০টি পদের উল্লেখ করেছেন। আলোচনা অংশে তার বক্তব্য মুনিদত্ত ৫০টি ব্যাখ্যা করেছিলেন।
- আবার ড. শহীদুল্লাহ চর্যাপদের পদ সংখ্যা ৫০টি বলে মনে করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস- মাহবুবুল আলম, বাংলাপিডিয়া।
৪৮.
মীর মশাররফ হোসেনের ‘জমিদার দর্পণ’ নাটকের প্রকাশকাল কবে?
  1. ১৮৬৫
  2. ১৮৬৯
  3. ১৮৭৩
  4. ১৮৮৫
ব্যাখ্যা
• জমিদার দর্পণ:
- ‘জমিদার দর্পণ’ মীর মশাররফ হোসেন রচিত একটি নাটক।
- প্রকাশিত হয় ১৮৭৩ সালে।
- অত্যাচারী ও চরিত্রহীন জমিদার হায়ওয়ান আলীর অত্যাচার এবং অধীনস্থ প্রজা আবু মোল্লার গর্ভবতী স্ত্রী নূরন্নেহারকে ধর্ষণ ও হত্যার কাহিনি ‘জমিদার দর্পণ’ (১৮৭৩) - এর মূল ঘটনা।
- লেখক লিখেছে, নাটকটির কিছুই সাজানো নয়, অবিকল ছবি তুলে ধরা হয়েছে প্রচলিত সমাজের। 
- নামকরণে দীনবন্ধু মিত্রের 'নীল-দর্পণ' নাটকের প্রভাব যেমন প্রবল, নাটকটির ঘটনা বিন্যাসেও এর ছায়া পড়েছে।  
 ----------------------------- 
• মীর মশাররফ হোসেন:
- মীর মশাররফ হোসেন ছিলেন ঔপন্যাসিক, নাট্যকার, প্রাবন্ধিক।
- ১৮৪৭ সালের ১৩ নভেম্বর কুষ্টিয়া জেলার লাহিনীপাড়ায় তাঁর জন্ম।
- মশাররফ আজিজননেহার ও হিতকরী নামে দুটি পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।
- মীর মশাররফ ছিলেন বঙ্কিমযুগের অন্যতম প্রধান গদ্যশিল্পী ও উনিশ শতকের বাঙালি মুসলমান সাহিত্যিকদের পথিকৃৎ।
- মীর মশাররফের প্রথম উপন্যাস রত্নবতী (১৮৬৯) প্রকাশিত হয়। 
- বঙ্কিমচন্দ্রের দুর্গেশনন্দিনী (১৮৬৫) উপন্যাস প্রকাশিত হওয়ার চার বছর পর, মশাররফের প্রথম উপন্যাস রত্নবতী (১৮৬৯) প্রকাশিত হয়। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৪৯.
মৈমনসিংহ গীতিকায় মোট কতটি গীতিকা ও রূপকথা অন্তর্ভুক্ত আছে?
  1. ৮টি
  2. ১০টি
  3. ১২টি
  4. ১৪টি
ব্যাখ্যা
মৈমনসিংহ গীতিকা:
• ময়মনসিংহ অঞ্চলের প্রচলিত গানগুলোকে একত্রে মৈমনসিংহ গীতিকা বলা হয়।
• কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. দীনেশচন্দ্র সেনের আগ্রহে মৈমনসিংহ গীতিকা সংগ্রহ করেন চন্দ্রকুমার দে। চন্দ্রকুমার দে ছিলেন ময়মনসিংহ নিবাসী।
• দীনেশচন্দ্র সেনের সম্পাদনায় ১৯২৩ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মৈমনসিংহ গীতিকা প্রকাশিত হয়।
• মৈমনসিংহ গীতিকা বিশ্বের ২৩টি ভাষায় মুদ্রিত হয়।

• মৈমনসিংহ গীতিকায় ১০টি গীতিকা ও রূপকথা স্থান পেয়েছে।
যথা :
- মহুয়া,
- মলুয়া,
- চন্দ্রাবতী,
- কমলা,
- দেওয়ান ভাবনা,
- দস্যু কেনারামের পালা,
- রূপবতী,
- কঙ্ক ও লীলা,
- কাজলরেখা (রূপকথা) ও 
- দেওয়ান মদিনা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া।
৫০.
'অশ্রুমালা' কাব্যগ্রন্থের লেখক কে?
  1. গোলাম মোস্তফা
  2. জসীমউদ্‌দীন
  3. কায়কোবাদ
  4. কামিনী রায়
ব্যাখ্যা
• 'অশ্রুমালা' কাব্যগ্রন্থ:
কায়কোবাদ রচিত অশ্রুমালা একটি গীতিকাব্য, যা ১৮৮৫ সালে প্রকাশিত হয়।
- এই কাব্যগ্রন্থের মূল সুর প্রেম। 
- তবে প্রকৃতির প্রতি আকর্ষণবোধও এ কাব্যে খুব লক্ষ করা যায়।

• কায়কোবাদ:
- আধুনিক বাংলা মহাকাব্য ধারার শেষ কবি কায়কোবাদ।
- ১৮৫৭ সালে ঢাকা জেলার নবাবগঞ্জ উপজেলার আগলা গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতা শাহামতউল্লাহ আল কোরেশী ছিলেন ঢাকার জেলা-জজ আদালতের উকিল।
- তাঁর প্রকৃত নাম মোহাম্মদ কাজেম আল কোরেশী।
- ‘কায়কোবাদ’ তাঁর সাহিত্যিক ছদ্মনাম।
- মাত্র তেরো বছর বয়সে তাঁর প্রথম কাব্য বিরহবিলাপ প্রকাশিত হয়।

• তাঁর রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ:
- কুসুম-কানন।
- মহাশ্মশান (পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধ (১৭৬১) অবলম্বনে কাব্যটি রচিত)।
- শিব-মন্দির।
- অমিয়ধারা।
- শ্মশান-ভস্ম।
- মহরম শরীফ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৫১.
‘নিষিদ্ধ লোবান’ অবলম্বনে নির্মিত চলচ্চিত্রটি কোনটি?
  1. মুক্তির গান
  2. গেরিলা
  3. মাটির ময়না
  4. নিষিদ্ধ লোবান
ব্যাখ্যা
• নিষিদ্ধ লোবান - সৈয়দ শামসুল হক রচিত মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক উপন্যাস।
-------------------
‘নিষিদ্ধ লোবান’ উপন্যাস:
• ‘নিষিদ্ধ লোবান’ সৈয়দ শামসুল হকের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস। 
• ‘নিষিদ্ধ লোবান' (১৯৮১) উপন্যাসে মুক্তিযুদ্ধে পাক হানাদার বাহিনী কর্তৃক নারী নির্যাতন, লিবিডো ক্রিয়া, লালসা ও রিরংসাবৃত্তির অভীপ্সা অভিব্যঞ্জিত হয়েছে।
• ‘নিষিদ্ধ লোবান' উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত চলচ্চিত্র ‘গেরিলা’।

• ‘নিষিদ্ধ লোবান’ উপন্যাসের কাহিনি সংক্ষেপ: 
এ উপন্যাসের কাহিনি গড়ে উঠেছে বিলকিস নামের এক নারীকে নিয়ে যে মুক্তিযুদ্ধের শুরুতে তার পিতামাতা, ভাইবোন, আত্মীয়স্বজন, ঘরবাড়ি হারায়। তার স্বামী নিখোঁজ হয়ে যায়। ঘটনাচক্রে তার সঙ্গে পরিচয় হয় প্রদীপকুমার তথা সিরাজের। পাকিস্তানি সৈন্যরা যখন তাদের গুলিতে নিহত মুক্তিযোদ্ধাদের লাশ দাফনে নিষেধাজ্ঞা জারি করে তখন রাতের অন্ধকারে লাশগুলো দাফন করতে গিয়ে তারা পাকিস্তানি মিলিটারির হাতে ধরা পড়ে। কিন্তু অভাবনীয়ভাবে বিলকিস প্রতিবাদে অবিচল থাকে।

উৎস: ‘নিষিদ্ধ লোবান’ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া। 
৫২.
‘হুতোম পেঁচা’ ছদ্মনামটি কার?
  1. কালীপ্রসন্ন সিংহ
  2. দক্ষিণারঞ্জন মিত্রমজুমদার
  3. রাজশেখর বসু
  4. তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
'কালীপ্রসন্ন সিংহ' এর সাহিত্যিক ছদ্মনাম- 'হুতোম পেঁচা'।

অন্যদিকে,
- 'দক্ষিণারঞ্জন মিত্রমজুমদার' এর ছদ্মনাম ছিল- দৃষ্টিহীন।
- 'তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়' এর সাহিত্যিক ছদ্মনাম- হাবু শর্মা।
- রাজশেখর বসুর ছদ্মনাম পরশুরাম।

উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর। 
৫৩.
কোন আন্দোলনের সময় দ্বিজেন্দ্রলাল রায় গণজাগরণমূলক গান রচনা করেন?
  1. স্বদেশি আন্দোলন 
  2. নীল বিদ্রোহ
  3. বঙ্গভঙ্গ আন্দোলন
  4. অসহযোগ আন্দোলন
ব্যাখ্যা
• দ্বিজেন্দ্রলাল রায়:
- ১৮৬৩ সালের ১৯ জুলাই পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার কৃষ্ণনগরে তাঁর জন্ম।
- দ্বিজেন্দ্রলাল ১৯০৫ সালে কলকাতায় 'পূর্ণিমা মিলন' নামে একটি সাহিত্যিক সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন।
- ছাত্রজীবনে তাঁর আর্য্যগাথা এবং বিলেতে থাকাকালে Lyrics of Ind (১৮৮৬) কাব্য প্রকাশিত হয়।
- ১৯০৩ সাল পর্যন্ত তিনি মূলত কাব্যই রচনা করেন এবং এ সময় পর্যন্ত তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ বারোটি।
- ১৯০৫ সালে বঙ্গভঙ্গ আন্দোলনকে কেন্দ্র করে দেশে যে গণজাগরণমূলক গান রচনার প্রচলন শুরু হয়, তাতে দ্বিজেন্দ্রলালের অবদান ছিল অসামান্য।
- দ্বিজেন্দ্রলাল রচিত জনপ্রিয় দেশাত্মবোধক গানগুলির মধ্যে 'বঙ্গ আমার জননী আমার', 'ধনধান্য পুষ্পভরা' ইত্যাদি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
- ১৯১৩ সালের ১৭ মে কলকাতায় তাঁর মৃত্যু হয়।

• ঐতিহাসিক নাটক:
- সাজাহান,
- মেবার পতন,
- নূরজাহান,
- প্রতাপসিংহ,
- তারাবাঈ,
- সিংহল বিজয়,
- তাপসী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, সৌমিত্র শেখর।
৫৪.
'চিলেকোঠার সেপাই' উপন্যাসের প্রেক্ষাপট কোনটি?
  1. ভাষা আন্দোলন
  2. মুক্তিযুদ্ধ 
  3. সামাজিক কুসংস্কার 
  4. ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান
ব্যাখ্যা
• 'চিলেকোঠার সেপাই' উপন্যাস:
- ‘চিলেকোঠার সেপাই’ বিশিষ্ট কথা সাহিত্যিক আখতারুজ্জামান ইলিয়াস এর লেখা।
- এটি তার একটি মহাকাব্যোচিত উপন্যাস।
- ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে লেখা উপন্যাস চিলেকোঠার সেপাই।
- উপন্যাসটির প্রধান চরিত্র ওসমান।
- কোন বাড়ির চিলেকোঠায় বাস করেও স্বাধীনতার লক্ষ্যে গড়ে ওঠা বৃহত্তর আন্দোলনের জোয়ারে সেদিন মিলিত হয়েছিল ওসমান।
- এখানে ইতিবাচক রাজনীতির উপস্থাপনায় বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের অব্যবহিত পূর্বরূপটি ওঠে এসেছে।

আখতারুজ্জামান ইলিয়াস:
- ১৯৪৩ সালে গাইবান্ধা জেলায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি চিলেকোঠার সেপাই, খােয়াবনামা নামে দুটি মহাকাব্যোচিত উপন্যাস রচনা করেছেন।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- চিলেকোঠার সেপাই,
- খােয়াবনামা।

তাঁর রচিত ছােটগল্প:
- অন্য ঘরে অন্য স্বর,
- খোয়ারি,
- দুধেভাতে উৎপাত,
- দোজখের ওম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৫৫.
'সাহিত্যিকেরও বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গি থাকা প্রয়োজন'—এই কথাটি কে বলেছেন?
  1. তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
  2. সুকুমার রায়
  3. মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
  4. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা
• 'মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়' রচিত উপন্যাস- 'পুতুলনাচের ইতিকথা'।
---------------------------
• 'পুতুলনাচের ইতিকথা' উপন্যাস:
- উপন্যাসটি ১৯৩৬ সালে প্রকাশিত হয়।
মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন: 'সাহিত্যিকেরও বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গি থাকা প্রয়োজন।' 'পুতুলনাচের ইতিকথা'য় সেই বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গির প্রয়োগ আছে।
- ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনামলে বাঙালি শিক্ষিত মধ্যবিত্তের অন্তর্গত টানাপোড়েন ও অস্তিত্ব সংকট শশী চরিত্রের মধ্য দিয়ে প্রকাশিত।
- 'পুতুলনাচের ইতিকথা'য় পুতুল বলতে এই মানুষগুলোকেই বোঝানো হয়েছে, যারা চারিত্রিক দৃঢ়তা নিয়ে দাঁড়াতে পারে না; পুতুলের মতো অন্যের অল্প ধাক্কাতেই চালিত হয়।
- উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র: হারু ঘোষ, শশী, কুসুম ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫৬.
‘কিত্তনখোলা’ নাটকের ভাষ্য অনুযায়ী, সেলিম আল দীন কোন এলাকার লোকায়ত জীবন-সংস্কৃতি ও নিসর্গের সাথে পরিচিত হন?
  1. রাজশাহী
  2. ফরিদপুর
  3. মানিকগঞ্জ
  4. পাবনা
ব্যাখ্যা
• ‘কিত্তনখােলা’ নাটক:
- ‘কিত্তনখােলা’ নাটকটের রচয়িতা সেলিম আল দীন।
- জীবনঘনিষ্ঠ নাট্যকর্ম তাঁর ‘কিত্তনখোলা’। ‘কিত্তনখোলা’ রচনার মধ্য দিয়ে সেলিম আল দীন বাংলা-নাট্যশিল্পকে নতুন রূপ দান করেন। - মূলত, এ নাটকের মাধ্যমেই পাশ্চাত্য নাট্যরীতি পরিহারপূর্বক প্রাচ্যীয় রীতির প্রবর্তন শুরু হয়।
- ‘কিত্তনখোলা’ হয়ে ওঠেছে বাঙালির প্রান্তিক জনমানুষের প্রথাগত জীবনে স্থিত সাংস্কৃতিক আচার-আচরণের ইতিবৃত্ত।
- লেখকের ভাষায় - কিত্তনখোলা পর্বে আমি মানিকগঞ্জের লোকায়ত জীবন-সংস্কৃতি এবং এর অপূর্ব নিসর্গের সাথে পরিচিত হই।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া এবং ‘কিত্তনখোলা’ নাটক।
৫৭.
"এতেই ঘাবড়ে গেলেন নাকি? আসছে ফাল্গুনে আমরা কিন্তু দ্বিগুণ হবো।" - কোন রচনার অন্তর্গত?
  1. দুই সৈনিক
  2. আরেক ফাল্গুন
  3. বরফ গলা নদী
  4. পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায় 
ব্যাখ্যা
• "এতেই ঘাবড়ে গেলেন নাকি? আসছে ফাল্গুনে আমরা কিন্তু দ্বিগুণ হবো।" - বিখ্যাত সংলাপটি জহির রায়হান রচিত 'আরেক ফাল্গুন' উপন্যাসের অন্তর্ভুক্ত।

• 'আরেক ফাল্গুন' উপন্যাস:
- বাঙালি জাতীয়তাবাদী আন্দোলন ও ১৯৫২ সালে ২১শে ফেব্রুয়ারি পালনের অভিজ্ঞতায় জহির রায়হান 'আরেক ফাল্গুন' উপন্যাসটি রচনা করেন।
- 'আরেক ফাল্গুন' উপন্যাসটি ১৯৬৮ সালে প্রকাশিত হয়।
- ১৯৪৮ থেকে ১৯৫২ হয়ে ১৯৫৫ পর্যন্ত চলমান আন্দোলন, জনতার সম্মিলন, ছাত্রছাত্রীদের প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণ, তাদের প্রেম- প্রণয় ইত্যাদি উপন্যাসটির মূল বিষয়।
- 'আসছে ফাল্গুনে আমরা দ্বিগুণ হবো'- এই উপন্যাসের সংলাপ।

উপন্যাসের অংশবিশেষ:
নাম ডাকতে ডাকতে হাঁপিয়ে উঠেছিলেন ডেপুটি জেলার সাহেব। এক সময়ে বিরক্তির সাথে বললেন, উহ্‌ এত ছেলেকে জায়গা দেবো কোথায়। জেলখানাতে এমনিতে ভর্তি হয়ে আছে।
ওর কথা শুনে কবি রসুল চিৎকার করে উঠলো, জেলখানা আরো বাড়ান সাহেব। এত ছোট জেলখানায় হবে না।
আর একজন বললো, এতেই ঘাবড়ে গেলেন নাকি? আসছে ফাল্গুনে আমরা কিন্তু দ্বিগুণ হবো।
-------------------
• জহির রায়হান:
- ১৯৩৫ সালে তিনি ফেনী জেলার মজিপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- জহির রায়হান একাধারে চলচ্চিত্র নির্মাতা, লেখক ছিলেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম মোহাম্মদ জহিরুল্লাহ।
- হাজার বছর ধরে উপন্যাসের জন্য তিনি আদমজী পুরস্কার লাভ করেন।
- ১৯৭২ সালে তাঁকে বাংলা একাডেমি পুরস্কার প্রদান করা হয়।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- শেষ বিকেলের মেয়ে।
- হাজার বছর ধরে।
- আরেক ফাল্গুন।
- বরফ গলা নদী।
- আর কত দিন।
- কয়েকটি মৃত্যু।

• তাঁর পরিচালিত অন্যান্য সিনেমা:
- সোনার কাজল।
- কাঁচের দেয়াল।
- বেহুলা।
- জীবন থেকে নেয়া।
- আনোয়ারা।
- সঙ্গম।
- বাহানা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৫৮.
হুমায়ূন আহমেদের পৈত্রিক বাড়ি কোথায়?
  1. নেত্রকোনার মোহনগঞ্জে
  2. সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে
  3. নেত্রকোনার কেন্দুয়ায়
  4. গাজীপুরের কালীগঞ্জে
ব্যাখ্যা
হুমায়ূন আহমেদ:
- হুমায়ূন আহমেদের জন্ম ১৯৪৮ সালের ১৩ নভেম্বর নেত্রকোনা জেলার মোহনগঞ্জে তাঁর মাতামহের বাড়িতে। তাঁর পৈত্রিক বাড়ি নেত্রকোনা জেলার কেন্দুয়া উপজেলার কুতুবপুর গ্রামে।
- শৈশবে হুমায়ূন আহমেদের নাম ছিল শামসুর রহমান।
- ১৯৭০ সালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রসায়ন শাস্ত্রে প্রথম শ্রেণিতে বিএসসি (সম্মান) এবং ১৯৭২ সালে এমএসসি ডিগ্রি লাভ করেন।
- ১৯৭৩ সালে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (ময়মনসিংহ) প্রভাষক হিসেবে শুরু হয় হুমায়ূন আহমেদের কর্মজীবন।
- ১৯৭৪ সালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে রসায়ন বিভাগে প্রভাষক পদে যোগ দেন।
- তিনি একাধারে কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চলচ্চিত্র নির্মাতা, গীতিকার, শিক্ষক ছিলেন।
- ছাত্রজীবনে লেখা নন্দিত নরকে শিরোনামের নাতিদীর্ঘ উপন্যাসের মধ্য দিয়ে বাংলা সাহিত্যে হুমায়ূন আহমেদের আবির্ভাব।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৫৯.
'নবিতুন' কোন উপন্যাসের চরিত্র?
  1. সূর্য দীঘল বাড়ি
  2. লালসালু
  3. সারেং বউ
  4. হাজার বছর ধরে
ব্যাখ্যা
সারেং বউ:
- শহীদুল্লা কায়সার রচিত উপন্যাস সারেং বউ।
- তাঁর 'সারেং বউ' উপন্যাসের চরিত্র কদম সারেং ও তাঁর স্ত্রী নবিতুন।
- এ উপন্যাসে বাংলাদেশের সমুদ্র উপকূলবর্তী জনপদের বিশ্বস্ত চিত্র আছে।
- এছাড়াও পুরো উপন্যাস জুড়ে রয়েছে নবিতুনের সংগ্রামী জীবন কাহিনী।

শহীদুল্লা কায়সার:
- শহীদুল্লা কায়সার একজন কথাসাহিত্যিক, সাংবাদিক, লেখক।
- তিনি ১৯২৭ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি ফেনী জেলার মজুপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম আবু নাঈম মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ।
- ১৯৪৯ সালে ঢাকার সাপ্তাহিক ইত্তেফাক পত্রিকায় শহীদুল্লার সাংবাদিক জীবন শুরু হয়।
- শহীদুল্লা কায়সার বাংলা একাডেমী পুরস্কার (১৯৬২)এবং আদমজী সাহিত্য পুরস্কার (১৯৬২) লাভ করেন।

অন্যদিকে, 
• জহির রায়হানের ‘হাজার বছর ধরে' উপন্যাসের চরিত্র- 'টুনি, মন্তু, মকবুল'। 
• আবু ইসহাকের 'সূর্য দীঘল বাড়ি' উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র 'জয়গুন'।
• সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্ রচিত 'লালসালু' উপন্যাসের মজিদের দ্বিতীয় স্ত্রী জমিলা।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর। 
২) বাংলাপিডিয়া।
৬০.
'গম্ভীরা' হলো -
  1. বাউল গান
  2. মরমি গান
  3. লোকসঙ্গীত
  4. মৈমনসিংহ গীতিকা
ব্যাখ্যা
গম্ভীরা:
- গম্ভীরা গান এক প্রকার জনপ্রিয় লোকসঙ্গীত।
- সাধারণত বৃহত্তর রাজশাহী অঞ্চলে এ গান প্রচলিত।
- ‘গম্ভীরা’ হচ্ছে এক প্রকার উৎসব।
- ধারণা করা হয় যে, গম্ভীরা উৎসবের প্রচলন হয়েছে শিবপূজাকে কেন্দ্র করে।
- শিবের এক নাম ‘গম্ভীর’, তাই শিবের উৎসব গম্ভীরা উৎসব এবং শিবের বন্দনাগীতিই হলো গম্ভীরা গান।
- গম্ভীরা গানের উৎপত্তি পশ্চিমবঙ্গের মালদহ জেলায় হিন্দুসমাজে।
- পাকিস্তান সৃষ্টির পর মালদহ থেকে গম্ভীরা গান রাজশাহীর চাঁপাইনবাবগঞ্জে চলে আসে।

এছাড়াও,
⇒ বিভিন্ন অঞ্চলের লোকসঙ্গীত:
- ময়মনসিংহ অঞ্চলের বিখ্যাত লোকসঙ্গীত হলো ভাটিয়ালি।
- ভাওয়াইয়া বাংলাদেশের রংপুর অঞ্চলের বিখ্যাত লোকসংগীত। রংপুর ও কুচবিহার জেলা এই গানের জন্মস্থান।
- ভাওয়াইয়া গানের বিখ্যাত শিল্পী হলেন আব্বাসউদ্দীন আহমেদ।
- গম্ভীরা হলো চাপাইনবাবগঞ্জ ও রাজশাহী অঞ্চলের বিখ্যাত লোকসঙ্গীত।
- ধামাইল গান প্রধানত সিলেটের হাওরাঞ্চলে প্রচলিত মেয়েদের আচার-কেন্দ্রিক নাচ ও গানের নাম।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৬১.
“রেইনকোট” গল্পের রচয়িতা কে?
  1. সেলিনা হোসেন
  2. আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
  3. শওকত ওসমান
  4. সেলিম আল দীন
ব্যাখ্যা
 “রেইনকোট” ছোটগল্প:
• আখতারুজ্জামান ইলিয়াস রচিত রেইনকোট একটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক ছোটগল্প।
• রেইনকোট ছোটগল্পটিতে মনস্তাত্ত্বিক ব্যাপার থাকলেও এটি মূলত প্রতীকী গল্প৷
• ‘রেইনকোট’ গল্পটি ১৯৯৫ সালে প্রকাশিত হয়।
• মুক্তিযোদ্ধা শ্যালকের রেইনকোট গায়ে দিয়ে ভীতু প্রকৃতির নুরুল হুদার মধ্যে সঞ্চারিত হয় যে উষ্ণতা, সাহস ও দেশপ্রেম - তারই ব্যঞ্জণাময় প্রকাশ ঘটেছে এ গল্পে৷
• এটি লেখকের সর্বশেষ গল্পগ্রন্থ 'জাল স্বপ্ন স্বপ্নের জাল' (১৯৯৭) গ্রন্থে সংকলিত হয়। 
• 'জাল স্বপ্ন স্বপ্নের জাল' আক্তারুজ্জামান ইলিয়াস রচিত সংকলনের বিভিন্ন গল্পে পরোক্ষ বা প্রত্যক্ষভাবে মুক্তিযুদ্ধ এবং যুদ্ধ-পরবর্তী রাজনৈতিক এবং সামাজিক বাস্তবতার চিত্র ফুটে উঠেছে।

উৎস: সাহিত্য পাঠ, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির বোর্ডবই;  বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর;  'জাল স্বপ্ন স্বপ্নের জাল' গল্পগ্রন্থ।
৬২.
‘গুণরাজ খান’ উপাধি কে পেয়েছিলেন?
  1. দৌলত কাজী
  2. বিদ্যাপতি
  3. মালাধর বসু
  4. মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
ব্যাখ্যা
মালাধর বসু ও তাঁর উপাধি: গুণরাজ খান।
মালাধর বসুকে গুণরাজ খান উপাধি দেওয়া হয়েছিল। তবে এই উপাধি কে দিয়েছিলেন, তা নিয়ে মতভেদ রয়েছে। কারণ, তাঁর কাব্যরচনার সময় দুইজন গৌড়েশ্বর ছিলেন:

এরা হলেন - 
• রুকনুদ্দিন বরবক শাহ – কাব্য রচনার প্রথম পর্যায় গৌড়েশ্বর।
• শামসুদ্দিন ইউসুফ শাহ – কাব্য রচনার শেষ পর্যায় গৌড়েশ্বর।

তবে কবির নিজ কাব্য থেকেই পাওয়া যায় এই উক্তি-
“গুণ নাই, অধম মুই, নাহি কোন জ্ঞান।
 গৌড়েশ্বর দিল নাম গুণরাজ খান।”

এই পদ থেকেই ধারণা করা হয়, মালাধর বসুকে গুণরাজ খান উপাধি দিয়েছিলেন রুকনুদ্দিন বরবক শাহ।

উল্লেখ্য:
মালাধর বসু ছিলেন গৌড়ের সুলতান রুকনুদ্দিন বরবক শাহের উচ্চপদস্থ কর্মচারী। তিনি সংস্কৃতপটু, হিন্দু ধর্মালম্বী হয়েও মুসলিম শাসকের কাছ থেকে এই সম্মান লাভ করেন, যা তৎকালীন সময়ের ধর্মীয় সহনশীলতার নিদর্শন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া।
৬৩.
'মর্সিয়া সাহিত্য' মূলত কোন ধরনের কাহিনি অবলম্বনে রচিত? 
  1. পৌরাণিক কাহিনি
  2. লোককথা
  3. ইসলামি বিয়োগান্তক কাহিনি
  4. সুফি সাহিত্য
ব্যাখ্যা
• মর্সিয়া সাহিত্য:
কারবালা ও ইসলামি বিয়ােগান্তক কাহিনি নিয়ে মূলত মুসলমানদের রচিত সাহিত্যই মর্সিয়া সাহিত্য।

- মর্সিয়া সাহিত্যের আদিকবি হলেন শেখ ফয়জুল্লাহ।
- তার গ্রন্থের নাম জয়নাবের চৌতিশা (১৫৭০)। 

- মর্সিয়া সাহিত্যে একজন হিন্দু কবি হলেন রাধারমণ গোপ৷
- তাঁর গ্রন্থ: ইমামগণের কেচ্ছা, আফৎনামা।
- 'মুক্তল হোসেন' হলো মুহম্মদ খান রচিত পারসি থেকে অনূদিত বাংলা মর্সিয়া সাহিত্যগ্রন্থ।  

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর। 
২) বাংলাপিডিয়া।
৬৪.
আল মাহমুদের 'পানকৌড়ির রক্ত' কোন ধরনের সাহিত্যকর্ম?
  1. উপন্যাস
  2. গল্পগ্রন্থ
  3. কাব্যগ্রন্থ
  4. কবিতা
ব্যাখ্যা
⇒ ‘পানকৌড়ির রক্ত' গল্পগ্রন্থ:
- 'পানকৌড়ির রক্ত' কবি আল মাহমুদ রচিত গল্পগ্রন্থ।
- আল মাহমুদ কবি হিসেবেই পরিচিত ছিলেন কিন্তু ১৯৭৫ সালে তাঁর প্রথম গল্পগ্রন্থ ‘পানকৌড়ির রক্ত’ প্রকাশ হওয়ার পরপরই বাংলা সাহিত্য আরেকটি ঝাঁকুনি খায়। সমকালীন লেখক, পাঠক ও সমালোকরা নড়েচড়ে বসেন।
- তাঁর প্রথম গল্পগ্রন্থের পানকৌড়ির রক্ত ও জলবেশ্যা তো আজতক বাংলা সাহিত্যে এক ও অদ্বিতীয়ম। অনুভূতির এমন উত্তুঙ্গতা, ঘটনার এমন অভিনবত্ব, নির্মিতির এমন চমৎকারিত্ব বাংলা সাহিত্য আর দেখেনি।

-----------------------
• আল মাহমুদ:
- কবি আল মাহমুদের প্রকৃত নাম মীর আবদুস শুকুর আল মাহমুদ।
- তিনি একাধারে কবি, ঔপন্যাসিক, প্রাবন্ধিক, ছোটগল্প লেখক, শিশুসাহিত্যিক এবং সাংবাদিক ছিলেন।
- কবি আল মাহমুদ তার অনবদ্য গল্প ও উপন্যাসের জন্য খ্যাতি অর্জন করেছিলেন।

• কবি আল মাহমুদ রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- লোক লোকান্তর,
- সোনালী কাবিন,
- কালের কলস,
- মায়াবী পর্দা দুলে ওঠো,
- আরব্য রজনীর রাজহাঁস,
- বখতিয়ারের ঘোড়া,
- প্রেমের কবিতা ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- কাবিলের বোন,
- চেহারার চতুরঙ্গ,
- উপমহাদেশ,
- ডাহুকী,
- কবি ও কোলাহল ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- পানকৌড়ির রক্ত,
- ময়ূরীর মুখ,
- সৌরভের কাছে পরাজিত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং ‘পানকৌড়ির রক্ত' গল্পগ্রন্থ।
৬৫.
মুসলমান কবিদের মধ্যে পদাবলি রচনা করেছেন-
  1. শেখ কবির
  2. শেখ ফয়জুল্লাহ্
  3. সৈয়দ আইনুদ্দিন
  4. উপরের সবাই
ব্যাখ্যা
• পদাবলি সাহিত্যে মুসলমান কবি:
পদাবলি সাহিত্যে মুসলমান কবিগণের বিশিষ্ট অবদান রয়েছে। একদল মুসলিম কবি উৎকৃষ্ট শ্রেণির বৈষ্ণবপদ রচনা করে বিচিত্র কাব্যপ্রতিভার পরিচয় রেখে গেছেন।

- ড. আহমদ শরীফের মতে, 'তাদের কেউ কেউ করেছেন নেশার ঝোঁকে আর কেউ কেউ করেছেন পেশা হিসাবে।'
- মুসলমান পদকর্তার সঠিক সংখ্যা নির্ণয় করা সম্ভব হয় নি। যতীন্দ্রমোহন ভট্টাচার্য 'বাংলার বৈষ্ণবভাবাপন্ন মুসলমান কবি' গ্রন্থে শতাধিক মুসলমান কবির নামোল্লেখ করেছেন।
- মুসলমান পদকর্তাদের মধ্যে প্রথম কবি হিসাবে 'শেখ কবির'কে বিবেচনা করা হয়।
- অন্যান্যদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো : আফজাল, শেখ ফয়জুল্লাহ্, সৈয়দ আইনুদ্দিন, সৈয়দ মুর্তজা, আলাওল, আলি রজা, কমর আলী, সৈয়দ সুলতান, নওয়াজিস প্রমুখ।

উৎস : বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহাবুবুল আলম।
৬৬.
ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌ কোন জেলায় জন্মগ্রহণ করেন?
  1. কুষ্টিয়া
  2. চব্বিশ পরগনা
  3. বর্ধমান
  4. বরিশাল
ব্যাখ্যা
• ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্:
- ১৮৮৫ সালের ১০ জুলাই পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনা জেলার পেয়ারা গ্রামে তাঁর জন্ম।
- তিনি একাধারে শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক ও ভাষাতত্ত্ববিদ ছিলেন।
- তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তুলনামূলক ভাষাতত্ত্বে এম.এ (১৯১২) পাস করেন। দুবছর পর তিনি বি.এল (১৯১৪) ডিগ্রিও অর্জন করেন।
- ১৯২৬ সালে শহীদুল্লাহ্ উচ্চশিক্ষা গ্রহণের জন্য ইউরোপ যান।
- মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ ছিলেন বহুভাষাবিদ এবং ভাষাবিজ্ঞানের ক্ষেত্রে তিনি স্বচ্ছন্দে বিচরণ করেছেন।
- তিনি ১৮টি ভাষা জানতেন; ফলে বিভিন্ন ভাষায় সংরক্ষিত জ্ঞানভাণ্ডারে তিনি সহজেই প্রবেশ করতে পেরেছিলেন।
- তিনি 'জ্ঞানতাপস' হিসেবে অধিক পরিচিত।
- তাঁকে 'চলিষ্ণু অভিধান' বলা হয়।
- ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে জাতিসত্তা সম্পর্কে ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌র বিখ্যাত উক্তি- ''আমরা হিন্দু বা মুসলমান যেমন সত্য, তার চেয়ে বেশি সত্য আমরা বাঙালি।''

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬৭.
‘ভীমসিংহ’ কোন নাটকের চরিত্র?
  1. পদ্মাবতী
  2. নীলদর্পন
  3. কৃষ্ণকুমারী
  4. জমিদার দর্পণ
ব্যাখ্যা
• 'কৃষ্ণকুমারী' নাটক:
- বাংলা সাহিত্যে প্রথম সার্থক ট্রাজেডি রচনা করেন।  এজন্য নাটকটি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
- 'কৃষ্ণকুমারী' (১৮৬১) নাটকের কাহিনি উইলিয়াম টডের ‘রাজস্থান' নামক গ্রন্থ থেকে সংগৃহীত।
- ১৮৬১ সালে প্রকাশিত হলেও নাটকটি রচিত হয়েছিল ১৮৬০ সালে।
- রচনার প্রায় সাত বছর পর এ নাটক ‘শোভাবাজার থিয়েটারে' ১৮৬৭ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে প্রথম অভিনীত হয়।

এই নাটকের উল্লেখযোগ্য চরিত্র:
- কৃষ্ণকুমারী,
- মদনিকা,
- ভীমসিংহ,
- জগৎসিংহ,
- ধনদাস প্রমুখ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬৮.
শামসুর রাহমানের প্রথম কাব্যগ্রন্থ কোনটি?
  1. রৌদ্র করোটিতে
  2. প্রথম গান, দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে
  3. বাংলাদেশ স্বপ্ন দ্যাখে
  4. অদ্ভুত আঁধার এক
ব্যাখ্যা
• শামসুর রাহমানের প্রথম কাব্যের নাম - প্রথম গান দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে।
- কাব্যটি ১৯৬০ সালে প্রকাশিত হয়।

--------------------------
• শামসুর রাহমান:
- তিনি ১৯২৯ সালের ২৩ অক্টোবর পুরান ঢাকার ৪৬ নম্বর মাহুতটুলীতে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈত্রিক বাড়ি শামসুর রহমানে জেলার রায়পুর থানার পাড়াতলী গ্রামে।
- শামসুর রহমান বিশ শতকের দ্বিতীয়ার্ধে বাংলা সাহিত্যের অন্যতম কবি হিসেবে খ্যাত।

শামসুর রাহমান রচিত কিছু উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- বাংলাদেশ স্বপ্ন দ্যাখে,
- প্রথম গান দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে,
- রৌদ্র করোটিতে,
- বিধ্বস্ত নীলিমা,
- নিরালোকে দিব্যরথ,
- নিজ বাসভূমে,
- বন্দী শিবির থেকে,
- ফিরিয়ে নাও ঘাতক কাঁটা,
- আমি অনাহারী,
- প্রতিদিন ঘরহীন ঘরে,
- উদ্ভট উটের পিঠে চলেছে স্বদেশ,
- বুক তার বাংলাদেশের হৃদয়,
- হরিণের হাড়,
- তুমি নিঃশ্বাস তুমি হৃদস্পন্দন ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• ‘অদ্ভুত আঁধার এক’ শামসুর রাহমান রচিত একটি উপন্যাস।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া।
৬৯.
মধ্যযুগের 'চণ্ডীমঙ্গল' কাব্যের উপাস্য ‘চণ্ডী' কার স্ত্রী?
  1. বিষ্ণু
  2. ব্রহ্মা
  3. শিব
  4. ইন্দ্র
ব্যাখ্যা
• চণ্ডীমঙ্গল কাব্য:
'চণ্ডীমঙ্গল’ চণ্ডী নামক লৌকিক-পৌরাণিক দেবীর পূজা প্রচারের কাহিনী অবলম্বনে লিখিত কাব্য।
- চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের আদি কবি মানিক দত্ত। তিনি চতুর্দশ শতকের কবি।
- চন্ডীমঙ্গল ধারার প্রধান কবির নাম মুকুন্দরাম চক্রবতী। তিনি ষোল শতকের কবি।

চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের দুটি কাহিনী রয়েছে।
যথা -
- কালকেতু ও ফুল্লরার কাহিনী
- ধনপতি - লহনা - খুলনার কাহিনী।

- চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের প্রধান চরিত্রগুলাে হলো:
- কালকেতু,
- ফুল্লরা,
- ধনপতি,
- ভাঁড়ুদত্ত,
- মুরারি শীল প্রমুখ।
-------------------
চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের 'চণ্ডী' দেবতা শিবের স্ত্রী ছিলেন।
- কাব্যে চণ্ডীর ইচ্ছে হয়েছিলো পৃথিবীতে তাঁর পুজো প্রচারের। সেজন্য তাঁর স্বামী শিবকে সে অনুরোধ করে শিবের একনিষ্ট উপাসক "নীলাম্বর"কে পৃথিবীতে পাঠাতে। কিন্তু বিনা অপরাধে তাকে পাঠাতে শিব রাজি হয় নি।
- ষড়যন্ত্র করে 'চণ্ডী' নীলাম্বরকে পৃথিবীতে পাঠায় এবং পরবর্তীতে সে কালকেতু নামে 'ধর্মকেতু' নামর এক ব্যাধের ঘরে জন্ম নেয়। স্বর্গে তাঁর স্ত্রী 'ছায়া' পৃথিবীতে জন্ম নেয় 'ফুল্লুরা' নামে।

উৎস: লাল নীল দীপাবলি এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭০.
জীবনানন্দ দাশকে কী নামে অভিহিত করা হয়?
  1. সৌন্দর্যের কবি
  2. প্রগতির কবি
  3. ধূসরতার কবি
  4. নিসর্গের কবি
ব্যাখ্যা
• জীবনানন্দ দাশ:
- জীবনানন্দ দাশ ১৮৯৯ সালে বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন।
- জীবনানন্দ দাশকে ধূসরতার কবি বলা হয়।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর জীবনানন্দ দাশের কবিতাকে চিত্ররূপময় কবিতা বলেছেন।
- তাঁর রচিত ‘বনলতা সেন’ আধুনিক বাংলা সাহিত্যের খ্যাতনামা গ্রন্থগুলির অন্যতম।
এ কাব্যের ‘বনলতা সেন’ কবিতাটি বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবিতা এবং জীবনানন্দের কবিতদাগুলির মধ্যে জনপ্রিয়।

• জীবনানন্দ দাশ রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- ঝরাপালক (প্রথম প্রকাশিত),
- ধূসর পাণ্ডুলিপি,
- মহাপৃথিবী,
- সাতটি তারার তিমির,
- বেলা অবেলা কালবেলা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
৭১.
‘কালকূট’ নামে লেখেন কোন সাহিত্যিক?
  1. বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায়
  2. অন্নদাশঙ্কর রায়
  3. সমরেশ বসু
  4. অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
ব্যাখ্যা
• সমরেশ বসুর ছদ্মনাম - 'কালকূট'।

অন্যদিকে,
- বনফুল ছদ্মনামে লিখতেন বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় ।
- অন্নদাশঙ্কর রায়ের ছদ্মনাম লীলাময় রায়।
- 'অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত' এর সাহিত্যিক ছদ্মনাম- নীহারিকা দেবী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭২.
বুদ্ধদেব বসু কোন দশকের কবি হিসেবে পরিচিত?
  1. চল্লিশের দশক
  2. তিরিশের দশক
  3. বিশের দশক
  4. ষাটের দশক
ব্যাখ্যা
• বুদ্ধদেব বসু:
- বুদ্ধদেব বসু ছিলেন তিরিশের দশকের একজন সাহিত্যিক, সমালোচক, সম্পাদক।
- ১৯০৮ সালের ৩০ নভেম্বর কুমিল্লায় জন্ম।
- তাঁর পরিবারের আদি নিবাস বিক্রমপুরের মালখানগরে।
- রবীন্দ্রনাথের পর বাংলা সাহিত্যে তাঁকে সব্যসাচী লেখক বলা হয়।
- বাংলা কাব্যের পঞ্চপাণ্ডদের একজন বুদ্ধদেব বসু।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- তিথিডোর,
- সাড়া,
- সানন্দা,
- লালমেঘ,
- পরিক্রমা,
- কালো হাওয়া,
- নির্জন স্বাক্ষর,
- নীলাঞ্জনার খাতা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭৩.
'তেইশ নম্বর তৈলচিত্র' উপন্যাসটি কে লিখেছেন?
  1. সেলিনা হোসেন
  2. আলাউদ্দিন আল আজাদ
  3. আহমদ ছফা
  4. আল মাহমুদ
ব্যাখ্যা
• 'তেইশ নম্বর তৈলচিত্র' উপন্যাস:
- তেইশ নম্বর তৈলচিত্র উপন্যাসটি আলাউদ্দিন আল আজাদের প্রথম উপন্যাস। 
- তেইশ নম্বর তৈলচিত্র (পরিচালক: সুভাষ দত্ত) উপন্যাস অবলম্বনে বসুন্ধরা চলচ্চিত্রটি নির্মিত হয়েছে।
- নির্মিত চলচ্চিত্রটি ১৯৭৭ সালে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করে।

----------------------------
• আলাউদ্দিন আল আজাদ:
- আলাউদ্দিন আল আজাদ একজন  শিক্ষাবিদ, কবি, কথাশিল্পী, প্রাবন্ধিক, শিশুসাহিত্যিক, গবেষক, সাহিত্য-সমালোচক।
- তিনি  ১৯৩২ সালের  ৬ মে , নরসিংদী জেলার রায়পুর থানার রামনগর গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন।
- আলাউদ্দিন আল আজাদ রচিত কবিতা 'স্মৃতিস্তম্ভ' মানচিত্র কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত। 

তাঁর রচিত সাহিত্যকর্মসমূহ:
 • উপন্যাস:
- তেইশ নম্বর তৈলচিত্র, 
- শীতের শেষ রাত বসন্তের প্রথম দিন, 
- কর্ণফুলী, 
- ক্ষুধা ও আশা, 
- খসড়া কাগজ, 
- স্বপ্নশিলা, 
- বিশৃঙ্খলা।  

• কাব্যগ্রন্থ:
- মানচিত্র, 
- ভোরের নদীর মোহনায় জাগরণ, 

• গল্পগ্রন্থ:
- জেগে আছি, 
- মৃগনাভি, 
- ধানকন্যা, 
- যখন সৈকত, 
- অন্ধকার সিঁড়ি, 
- জীবনজামিন,  
- আমার রক্ত স্বপ্ন আমার।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭৪.
সুফিয়া কামাল রচিত গল্পগ্রন্থ কোনটি?
  1. সাঁঝের মায়া
  2. মায়া কাজল
  3. কেয়ার কাঁটা
  4. উদাত্ত পৃথিবী
ব্যাখ্যা
• "কেয়ার কাঁটা" সুফিয়া কামাল রচিত একটি উল্লেখযোগ্য গল্পগ্রন্থ। 
- গ্রন্থটি ১৯৩৭ সালে প্রকাশিত হয়। 

----------------
• সুফিয়া কামাল:
- তিনি ছিলেন কবি, বুদ্ধিজীবী, সমাজনেত্রী। সুফিয়া কামালের জন্ম ১৯১১ সালের ২০শে জুন বরিশালের শায়েস্তাবাদে এক অভিজাত পরিবারে।
- তাঁকে 'জননী সাহসিকা' বলা হয়।
- ১৯২৬ সালে তাঁর প্রথম কবিতা 'বাসন্তী' প্রকাশ করেন। তিনি 'বেগম' (১৯৪৭) পত্রিকার প্রথম মহিলা সম্পাদক ছিলেন।

• তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- মন ও জীবন,
- উদাত্ত পৃথিবী,
- সাঁঝের মায়া,
- অভিযাত্রিক,
- মোর যাদুদের সমাধি পরে,
- মায়া কাজল।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৭৫.
মধ্যযুগের (১৬শ শতকের) বাংলা সাহিত্যের কবি -
  1. শাহ মুহম্মদ সগীর
  2. আলাওল
  3. আবদুল হাকিম
  4. শেখ ফয়জুল্লাহ
ব্যাখ্যা
•  শেখ ফয়জুল্লাহ: 
- শেখ ফয়জুল্লাহ (১৬শ শতক) মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের কবি।
- তাঁর জন্মস্থান নিয়ে মতভেদ আছে। বিভিন্ন মতে তাঁর জন্মস্থান হিসেবে পশ্চিমবঙ্গের বারাসত, দক্ষিণ রাঢ় এবং কুমিল্লার নাম উল্লিখিত হয়েছে।

অন্যদিকে,
• শাহ মুহম্মদ সগীর:
- মধ্যযুগের তথা বাংলা সাহিত্যের প্রথম মুসলিম কবি শাহ মুহম্মদ সগীর।
- তিনি পনের শতকের কবি ছিলেন।
- গৌড়ের সুলতান গিয়াসউদ্দিন আজম শাহের রাজত্বকালে তিনি এ কাব্য রচনা করেন।
- অনুবাদ সাহিত্যে বা রোমাণ্টিক প্রণয়োপাখ্যান ধারার প্রথম কবি - শাহ্‌ মুহম্মদ সগীর।
- শাহ মুহম্মদ সগীরের শ্রেষ্ঠ অনুবাদকর্ম ইউসুফ-জুলেখা।
- তিনি পারস্যের জামী রচিত 'ইউসুফ জুলেখা' কাব্যের বাংলা অনুবাদ করেন যা এই ধারার আদি গ্রন্থ।

• আলাওল:
- আরাকান রাজসভার শ্রেষ্ঠ কবি আলাওল ১৭শতক/ মধ্যযুগের শ্রেষ্ঠ মুসলিম কবি ছিলেন।
- তাঁর আনুমানিক জন্ম ১৬০৭ সালে।

• আবদুল হাকিম:
- আবদুল হাকিম চট্টগ্রামের সন্দীপের ভুলুয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন ১৬২০ খ্রিষ্টাব্দে।
- তিনি সতেরো শতেকের কবি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭৬.
‘লেফাফাদুরস্তি আর শিক্ষা এক কথা নয়’ – এই উক্তিটির রচয়িতা কে?
  1. মোতাহের হোসেন চৌধুরী 
  2. আহমদ শরীফ
  3. ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
  4. আবুল কালাম শামসুদ্দিন
ব্যাখ্যা
'শিক্ষা ও মনুষ্যত্ব' প্রবন্ধ:
- 'সংস্কৃতি কথা' (১৯৫৮) মোতাহের হোসেন চৌধুরীর প্রধান প্রবন্ধগ্রন্থ।
- ‘শিক্ষা ও মনুষ্যত্ব’ প্রবন্ধটি তাঁর ‘সংস্কৃতি কথা’ প্রবন্ধগ্রন্থ থেকে সংকলিত।
- ‘শিক্ষা ও মনুষ্যত্ব’ প্রবন্ধের উক্তি- ‘লেফাফাদুরস্তি আর শিক্ষা এক কথা নয়।’
- ‘শিক্ষা ও মনুষ্যত্ব’ প্রবন্ধে লেখক শিক্ষার ব্যক্তিগত ও সামগ্রিক সুফল প্রত্যাশা করেছেন।

মোতাহের হোসেন চৌধুরী:
- শিক্ষাবিদ, লেখক মোতাহের হোসেন চৌধুরীর জন্ম নোয়াখালী জেলার কাঞ্চনপুর গ্রামে।
- মোতাহের হোসেনের প্রবন্ধের গদ্যশৈলীতে প্রমথ চৌধুরীর এবং মননে রবীন্দ্রনাথের প্রভাব লক্ষ্য করা যায়।
- তিনি বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলনের সাথে যুক্ত ছিলেন।
- ‘সংস্কৃতি কথা’ তাঁর রচিত প্রধান প্রবন্ধ গ্রন্থ।
- 'সুখ' বার্ট্রান্ড রাসেলের Conquest of Happiness গ্রন্থের এবং 'সভ্যতা' ক্লাইভ বেল-এর Civiliszation গ্রন্থের ভাবানুবাদ গ্রন্থ।
- মুক্তবুদ্ধিচর্চার প্রবক্তা, উদার মানবতাবাদী ও মননশীল প্রবন্ধকার হিসেবে মোতাহের হোসেন চৌধুরীর বিশেষ খ্যাতি আছে।

তাঁর রচিত প্রবন্ধ:
- আমাদের দৈন্য,
- আদেশপন্থী ও অনুপ্রেরণাপন্থী,
- মুসলমান সাহিত্যিকদের চিন্তাধারা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৭৭.
‘কাঁদতে আসিনি ফাঁসির দাবি নিয়ে এসেছি’— কবিতাটি কার লেখা?
  1. সিকান্দার আবু জাফর
  2. আহসান হাবীব
  3. মাহবুব উল আলম চৌধুরী
  4. গোলাম মোস্তফা
ব্যাখ্যা
'কাঁদতে আসিনি, ফাঁসির দাবি নিয়ে এসেছি': 
- ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী গুলি চালিয়ে হত্যা করে মাতৃভাষার অধিকার প্রতিষ্ঠার দাবিতে মিছিলরত তরুণদের।
- সেই খবর ছড়িয়ে পড়ে সারা দেশে।
- মাহবুব উল আলম চৌধুরী অসুস্থ শরীরে রাত জেগে তিনি লিখলেন আগুনঝরা কবিতা: ‘কাঁদতে আসিনি, ফাঁসির দাবি নিয়ে এসেছি’।
- ২৩ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রামের লালদীঘি ময়দানে প্রতিবাদ সভায় সে কবিতা পড়লেন তাঁরই সতীর্থ চৌধুরী হারুণ-উর-রশীদ।
- পাকিস্তান সরকার সে কবিতা বাজেয়াপ্ত করে।
- ‘কাঁদতে আসিনি ফাঁসির দাবি নিয়ে এসেছি’ একুশের প্রথম কবিতা।

'কাঁদতে আসিনি, ফাঁসির দাবী নিয়ে এসেছি'- কবিতা, 
মাহবুব উল আলম চৌধুরী। 

ওরা চল্লিশজন কিংবা আরো বেশি
যারা প্রাণ দিয়েছে ওখানে—রমনার রৌদ্রদগ্ধ কৃষ্ণচূড়ার গাছের তলায়
ভাষার জন্য, মাতৃভাষার জন্য—বাংলার জন্য।
যারা প্রাণ দিয়েছে ওখানে
একটি দেশের মহান সংস্কৃতির মর্যাদার জন্য
আলাওলের ঐতিহ্য
কায়কোবাদ, রবীন্দ্রনাথ ও নজরুলের
সাহিত্য ও কবিতার জন্য।

উৎস: প্রথম আলো, ২১ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭৮.
আবু ইসহাকের প্রথম উপন্যাস কোনটি?
  1. পদ্মার পলিদ্বীপ
  2. হারেম
  3. সূর্য দীঘল বাড়ি 
  4. জাল
ব্যাখ্যা
• 'সূর্য দীঘল বাড়ী' উপন্যাস:
আবু ইসহাকের প্রথম উপন্যাস 'সূর্য দীঘল বাড়ী' প্রকাশিত হয় ১৯৫৫ সালে।
- উপন্যাসটি প্রকাশিত হলে এর রচনাশৈলীও বিষয়বস্ত্ত পাঠকদের আকৃষ্ট করে।
- স্বামী পরিত্যক্তা জয়গুনের দু-সন্তানকে নিয়ে বেঁচে থাকার সংগ্রাম উপন্যাসের মূল বিষয়বস্তু।
- উপন্যাসের প্রধান চরিত্র: জয়গুণ, হাস্য, মায়মুন, শফি, ডা. রমেশ চক্রবর্তী, মোড়ল গদু।
- ‘সূর্য দীঘল বাড়ী’ উপন্যাসটি চলচ্চিত্রায়ন এবং একাধিক বিদেশি ভাষায় অনূদিত হয়।

• আবু ইসহাক:
- আবু ইসহাক (১৯২৬-২০০৩) কথাসাহিত্যিক, অভিধান-প্রণেতা৷
- আবু ইসহাকের প্রথম উপন্যাস 'সূর্য দীঘল বাড়ি'।
- তার দ্বিতীয় উপন্যাস 'পদ্মার পলিদ্বীপ'।
- তাঁর তৃতীয় উপন্যাস ‘জাল’। এটি তাঁর রচিত গোয়েন্দা জাতীয় উপন্যাস।

তাঁর প্রকাশিত গল্পগ্রন্থ:
- 'হারেম ও
- মহাপতঙ্গ।

তাঁর রচিত একমাত্র নাটক:
- জয়ধ্বনি।

অন্যদিকে,
- ‘পদ্মার পলিদ্বীপ’(আবু ইসহাক রচিত দ্বিতীয় সামাজিক উপন্যাস। এটি পদ্মার বুকে জেগে উঠা চরে শ্রমজীবী মানুষের সংগ্রাম নিয়ে রচিত একটি উপন্যাস।),
- ‘জাল’(তাঁর রচিত গোয়েন্দা উপন্যাস)।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর। 
২) বাংলাপিডিয়া।
৭৯.
‘সাত সাগরের মাঝি’ কোন কবির প্রথম কাব্যগ্রন্থ?
  1. কায়কোবাদ
  2. আলাওল
  3. ফররুখ আহমদ
  4. মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান
ব্যাখ্যা
ফররুখ আহমদ: 
- ফররুখ আহমদ ১৯১৮ সালের ১০ জুন মাগুরা জেলার শ্রীপুর থানার মাঝাইল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন মুসলিম পুনর্জাগরণবাদী কবি।
- ‘সাত সাগরের মাঝি’ ফররুখ আহমদ রচিত শ্রেষ্ঠ এবং প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ। 
- ১৯৪৪ সালে কলকাতার দুর্ভিক্ষের পটভূমিতে ‘লাশ’ কবিতা লিখে তিনি প্রথম খ্যাতি অর্জন করেন।
- ফররুখ আহমদ তাঁর বিখ্যাত কাহিনী কাব্য 'হাতেমতায়ী' এর জন্য ১৯৬৬ সালে আদমজি পুরস্কার লাভ করেন।
- ১৯৬৬ সালেই 'পাখির বাসা' শিশুতোষের জন্য ইউনেস্কো পুরস্কার লাভ করেন।
- ‘মুহূর্তের কবিতা’ ফররুখ আহমদ রচিত একটি সনেট সংকলন।

উৎস:
১) বাংলাপিডিয়া।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৮০.
'আগুনপাখি' উপন্যাস কে লিখেছেন?
  1. আল মাহমুদ
  2. হাসান আজিজুল হক
  3. আহসান হাবীব 
  4. সৈয়দ শামসুল হক
ব্যাখ্যা
• 'আগুনপাখি' উপন্যাস:
- 'আগুনপাখি' হাসান আজিজুল হকের পৈতৃক নিবাস বর্ধমানের একটি নির্দিষ্ট অঞ্চলকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা ওই এলাকার মানুষের সংগ্রামী জীবন এবং বিভেদকামী রাজনীতি ও সাম্প্রদায়িকতার যথাযথ রূপায়ণ।
- এর মধ্য দিয়েই লেখক জীবনের নেতিবাচকতা পরিহার করে ইতিবাচকতার সন্ধান করেছেন।
- উপন্যাসটিতে প্রথাগত চরিত্র-নাম নেই। তবে সব চরিত্রই বোঝা যায়। এগুলো ত্রিমাত্রিক এবং দ্বন্দ্বসংকুল।
- মেঝ বউ চরিত্রটি উপন্যাসের মূল এবং সমস্ত প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে সুসংবদ্ধতার প্রতীকে পরিণত।

হাসান আজিজুল হক:
- হাসান আজিজুল হক ১৯৩৯ সালে পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলায় জন্মগ্রহণ করেন ।
- হাসান আজিজুল হক মূলত কথাসাহিত্যিক হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
- তিনি ১৯৬৭ সালে আদমজী সাহিত্য পুরস্কার, ১৯৭০ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার, ১৯৯৯ সালে একুশে পদক, ২০১৯ সালে স্বাধীনতা পদক লাভ করেন।
- ১৫ নভেম্বর ২০২১ সালে, হাসান আজিজুল হক মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত গল্প:
- নামহীন গ্রোত্রহীন,
- শীতের অরণ্য,
- আত্মজা ও একটি করবী গাছ,
- আমরা অপেক্ষা করছি,
- পাতালে হাসপাতালে,
- জীবন ঘষে আগুন ইত্যাদি।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- আগুনপাখি,
- সাবিত্রী উপাখ্যান,
- শামুক,
- শিউলি,
- বৃত্তায়ন ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।