পরীক্ষা আর্কাইভ

প্রাইমারি ডেইলি কুইজ

পরীক্ষাপ্রাইমারি ডেইলি কুইজতারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়07 minutes
মোট প্রশ্ন১৬
সিলেবাস
বিষয়: বাংলা টপিক: শব্দ প্রকরণ। উৎস: মাধ্যমিক ব্যাকরণ বই (উভয় সংস্করণ), বাংলা একাডেমি অভিধান, ভাষা শিক্ষা - ড. হায়াৎ মামুদ বা যেকোনো ভালো গাইড বই।
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

প্রাইমারি ডেইলি কুইজ

প্রাইমারি ডেইলি কুইজ · তারিখ অনির্ধারিত · ১৬ প্রশ্ন

.
অর্ধ-তৎসম শব্দ কোনটি?
  1. কুৎসিত
  2. গিন্নী
  3. শ্রাদ্ধ
  4. বৈষ্ণব
সঠিক উত্তর:
গিন্নী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গিন্নী
ব্যাখ্যা

• অর্ধ-তৎসম শব্দ:
বাংলা ভাষায় কিছু সংস্কৃত শব্দ কিঞ্চিৎ পরিবর্তিত আকারে ব্যবহৃত হয়। এগুলোকে অর্ধ-তৎসম শব্দ বলে।
- তৎসম মানে সংস্কৃত আর অর্ধ-তৎসম মানে আধা সংস্কৃত।
যেমন :
জ্যোছনা, ছেরাদ্দ, গিন্নী, কুচ্ছিত, বোষ্টম শব্দগুলো অর্ধ-তৎসম শব্দ; যা এসেছে যথাক্রমে সংস্কৃত শব্দ জ্যোৎস্না, শ্রাদ্ধ, গৃহিণী, কুৎসিত, বৈষ্ণব থেকে।

উল্লেখ্য, 
নবম-দশম শ্রেণির নতুন সংস্করণে অর্ধ-তৎসম শব্দ উঠিয়ে নেওয়া হয়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

.
মৌলিক শব্দ নয় কোনটি?
  1. লতা
  2. গোলাপ
  3. বউ
  4. সধবা 
সঠিক উত্তর:
সধবা 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সধবা 
ব্যাখ্যা

• মৌলিক শব্দ নয়- সধবা।
'সধবা' একটি সাধিত শব্দ। কারণ শব্দটিকে বিশ্লেষণ করলে তার মধ্যে এক বা একাধিক অর্থপূর্ণ অংশ থাকে। 
- শব্দের বিশ্লেষণ: সহ + ধবা =  সধবা। 

• মৌলিক শব্দ:
যে-সব শব্দ বিশ্লেষণ করা বা ভাঙা যায় না, গোটা শব্দটাই নিজে নিজেই সমপূর্ণ হয়ে আছে বা স্বয়ংসিদ্ধ, তাকে মৌলিক শব্দ বলে। মৌলিক শব্দ ভাঙতে চাইলেও তার ভগ্ন বা বিশ্লিষ্ট অংশের কোনো অর্থ হয় না; সে কারণে অবিভাজ্য ও অর্থযুক্ত শব্দই মৌলিক শব্দ অর্থাৎ স্পষ্ট অর্থ ও অবিভাজ্যতাই মৌলিক শব্দের প্রধান বৈশিষ্ট্য।
যেমন-
মা, পা, ঘোড়া, উট, বউ, গোলাপ, নাক, লাল, শাল, তিন, লতা ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

.
কোনটি অনুকার দ্বিরুক্ত শব্দের উদাহরণ?
  1. কুটুস-কুটুস
  2. ঝটাঝট 
  3. চুপচাপ
  4. টসটস
সঠিক উত্তর:
চুপচাপ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চুপচাপ
ব্যাখ্যা

• অনুকার দ্বিত্ব:
পরপর প্রয়োগ হওয়া কাছাকাছি চেহারার শব্দকে অনুকার দ্বিত্ব বলে। এতে প্রথম শব্দটি অর্থপূর্ণ হলেও প্রায় ক্ষেত্রে দ্বিতীয় শব্দটি অর্থহীন হয় এবং প্রথম শব্দের অনুকরণে তৈরি হয়। এই অনুকরণ প্রক্রিয়ায় দ্বিতীয় শব্দের শুরুতে ট, ফ, ব, ম, শ প্রভৃতি ধ্বনি যুক্ত থাকতে দেখা যায়। তাতে শব্দকে খানিকটা অনির্দিষ্ট, সাধারণ বা গুরুত্বহীন করা হয়। প্রকাশ পায় 'এই রকম একটা' ভাব।
যেমন-
অঙ্ক-টঙ্ক, আম-টাম, কেক-টেক, ঘর-টর, গরু-টরু, ছাগল-টাগল, ঝাল-টাল, হেন-তেন, লুচিফুচি, টাটু-ফাটু, আগড়ম-বাগড়ম, চাকর-বাকর, এলোমেলো, ঝিকিমিকি, কচর-মচর, ঝিলমিল, শেষ-মেষ, অল্পসল্প, বুদ্ধিশুদ্ধি, গুটিশুটি, নরম-সরম, ব্যাপার-স্যাপার, বুঝে-সুঝে।

• অনুকার দ্বিত্বে অনেক সময়ে স্বরের পরিবর্তন ঘটে, যেমন- আড়াআড়ি, খোঁজাখুঁজি, ঘোরাঘুরি, চুপচাপ, ঠেকাঠেকি, তাড়াতাড়ি, দলাদলি, দামাদামি, পাকাপাকি, বাড়াবাড়ি, মোটামুটি, টুকরো-টাকরা, ধারধোর, জোগাড়-জাগাড়।

অন্যদিকে, 
কুটুস-কুটুস, টসটস, ঝটাঝট ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্বের উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১-সংস্করণ)।

.
পর্তুগিজ ভাষা থেকে আগত শব্দ কোনটি?
  1. চা 
  2. চাহিদা 
  3. চাটাই 
  4. চাবি
সঠিক উত্তর:
চাবি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চাবি
ব্যাখ্যা

• চাবি পর্তুগিজ ভাষার শব্দ। 



পর্তুগিজ ভাষা থেকে আগত কিছু গুরুত্বপূর্ণ শব্দ হলো:
আনারস, গির্জা, পেয়ারা, পেঁপে, সালোয়ার, চাবি, বালতি, গুদাম, পাউরুটি, পাদরি, কামরা, বোতল, জানালা, বোতাম, তুরুপ, তোয়ালে।

অন্যদিকে, 
• 'চা' চীনা শব্দ। 
• বাংলা একাডেমি অভিধান অনুসারে 'চাহিদা' বাংলা শব্দ। এবং নবম-দশম শ্রেণির ব্যাকরণ বই অনুসারে 'চাহিদা' পাঞ্জাবি ভাষার শব্দ। 
• 'চাটাই' দেশি শব্দ।  

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

.
অর্থানুসারে 'পঙ্কজ' কোন ধরনের শব্দ?
  1. যোগরূঢ়
  2. মৌলিক 
  3. মিশ্র 
  4. যৌগিক 
সঠিক উত্তর:
যোগরূঢ়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যোগরূঢ়
ব্যাখ্যা

• যোগরূঢ় শব্দ:
সমাস নিষ্পন্ন যে সকল শব্দ সম্পূর্ণভাবে সমস্যমান পদসমূহের অনুগামী না হয়ে কোনো বিশিষ্ট অর্থ গ্রহণ করে, তাদের যোগরূঢ় শব্দ বলে।
যেমন:
• পঙ্কজ: পঙ্কে জন্মে যা। শৈবাল, শালুক, পদ্মফুল প্রভৃতি উদ্ভিত পঙ্কে জন্মে থাকে। কিন্তু 'পঙ্কজ' শব্দটি একমাত্র 'পদ্মফুল' অর্থেই ব্যবহৃত হয়।
• রাজপুত: 'রাজার পুত্র' অর্থ পরিত্যাগ করে যোগরূঢ় শব্দ হিসেবে অর্থ হয়েছে 'জাতিবিশেষ'।
• মহাযাত্রা: 'মহাসমারোহে যাত্রা' অর্থ পরিত্যাগ করে যোগরূঢ় শব্দরূপে অর্থ 'মৃত্যু'।
• জলধি: 'জল ধারণ করে এমন' অর্থ পরিত্যাগ করে একমাত্র 'সমুদ্র' অর্থেই ব্যবহৃত হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

.
তৎসম শব্দ কোনটি? 
  1. ধরাধরি 
  2. ধরতা 
  3. ধর্ম
  4. ধরনা 
সঠিক উত্তর:
ধর্ম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধর্ম
ব্যাখ্যা

• তৎসম শব্দ:
যেসব শব্দ সংস্কৃত ভাষা থেকে সোজাসুজি বাংলা ভাষায় এসেছে এবং যাদের রূপ অপরিবর্তিত রয়েছে সেসব শব্দকে তৎসম শব্দ বলা হয় 'তৎসম একটি পারিভাষিক শব্দ। এর অর্থ তৎ (তার) সম (সমান) তার সমান অর্থ্যাৎ, সংস্কৃতের সমান।

তৎসম শব্দের উদাহরণ:
- হস্ত
- চন্দ্র,
- সূর্য,
- নক্ষত্র,
- ভবন,
- ধর্ম,
- পাত্র,
- মনুষ্য ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
'ধরাধরি' বাংলা ভাষার শব্দ। 
'ধরতা' হিন্দি ভাষার শব্দ। 
'ধরনা' শব্দটি অর্থের ভিন্নতায় দেশি ও হিন্দি ভাষার শব্দ।
  
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ) এবং বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

.
অর্থ অনুসারে 'প্রভাত' কোন ধরনের শব্দের উদাহরণ?
  1. যোগরূঢ়
  2. যৌগিক
  3. তৎসম 
  4. রূঢ় 
সঠিক উত্তর:
রূঢ় 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রূঢ় 
ব্যাখ্যা

• রূঢ় বা রূঢ়ি শব্দ:
যে সব শব্দের অর্থ তাদের প্রকৃতি ও প্রত্যয়ের অর্থের অনুগামী না হয়ে ভিন্ন অর্থ প্রকাশ করে, সেসব শব্দকে বলা হয় রূঢ় বা রূঢ়ি শব্দ।। উদাহরণ-
- প্রভাত = প্রকৃষ্টভাবে আলোকিত (মূল অর্থ) সকালবেলা (পরিবর্তিত অর্থ)।
- সন্দেশ = সংবাদ (মূল অর্থ) মিষ্টান্ন (পরিবর্তিত অর্থ)।
- চিকন = চকচকে (মূল অর্থ) সরু (পরিবর্তিত অর্থ)।
- জ্যাঠামি = জেঠার ভাব (মূল অর্থ) চাপল্য (পরিবর্তিত অর্থ)।

এরূপ আরও শব্দ হলো- অতিথি, কুশল, গবাক্ষ, দুহিতা, পাঞ্জাবি, বাঁশি, রাখাল, স্নাতক ইত্যাদি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

.
মৌলিক শব্দ কোনটি?
  1. বাঁশি 
  2. ঘোড়া
  3. তৈল 
  4. হস্তী 
সঠিক উত্তর:
ঘোড়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘোড়া
ব্যাখ্যা

• মৌলিক শব্দ:
যে-সব শব্দ বিশ্লেষণ করা বা ভাঙা যায় না, গোটা শব্দটাই নিজে নিজেই সমপূর্ণ হয়ে আছে বা স্বয়ংসিদ্ধ, তাকে মৌলিক শব্দ বলে। মৌলিক শব্দ ভাঙতে চাইলেও তার ভগ্ন বা বিশ্লিষ্ট অংশের কোনো অর্থ হয় না; সে কারণে অবিভাজ্য ও অর্থযুক্ত শব্দই মৌলিক শব্দ অর্থাৎ স্পষ্ট অর্থ ও অবিভাজ্যতাই মৌলিক শব্দের প্রধান বৈশিষ্ট্য।
যেমন-
মা, পা, ঘোড়া, উট, বউ, গোলাপ, নাক, লাল, শাল, তিন, লতা ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
হস্তী, বাঁশি, তৈল- রূঢ়ি ভাষার শব্দ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

.
মিশ্র শব্দ কোনটি?
  1. বেহালা
  2. বেহিসাবি
  3. বেহুঁশ
  4. বেহদ্দ
সঠিক উত্তর:
বেহদ্দ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বেহদ্দ
ব্যাখ্যা

• 'বেহদ্দ' মিশ্র শব্দ।
- এখানে বে (ফারসি শব্দ) আর হদ্দ (আরবি শব্দ)।
- এটি বিশেষণ পদ। 
অর্থ:
- অত্যন্ত, খুব, জবর, বেজায়, অসীম।

অন্যদিকে, 
-------------
• 'বেহালা' পর্তুগিজ ভাষার শব্দ।
অর্থ:
- ছড় দিয়ে বাজানো হয় এমন চারটি তারের বাদ্যযন্ত্রবিশেষ।

• 'বেহিসাবি' ফারসি ভাষার শব্দ।
অর্থ: হিসাব করে চলে না এমন; অপরিণামদর্শী; হঠকারী।

• 'বেহুঁশ' ফারসি ভাষার শব্দ।
অর্থ: অজ্ঞান; মূর্ছিত; বেখেয়াল।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

১০.
বাংলা শব্দ কোনটি? 
  1. চাটনি 
  2. চাকুরে
  3. চাঙ 
  4. চাক্কা 
সঠিক উত্তর:
চাকুরে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চাকুরে
ব্যাখ্যা

• 'চাকুরে' বাংলা ভাষার শব্দ। 


এরূপ বাংলা ভাষার কিছু শব্দ হলো- চাখা, চাটু, চাগা, চাঙড়, চাটি ইত্যাদি। 

অন্যদিকে, 
• 'চাটনি' হিন্দি শব্দ। 
• 'চাঙ' দেশি শব্দ।  
• 'চাক্কা' অর্ধ-তৎসম শব্দ।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান। 

১১.
যোগরূঢ় শব্দ কোনটি?
  1. মধুর
  2. গায়ক 
  3. সরোজ 
  4. মিতালি 
সঠিক উত্তর:
সরোজ 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সরোজ 
ব্যাখ্যা

• সরোজ = “জলে জন্মে যা” — এই অর্থে শব্দটি শৈবাল, শালুক, পদ্মফুল ইত্যাদি সব কিছুর ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য হতে পারত।
কিন্তু, 
- সরোজ = “জলে জন্মে যা” → (মূল অর্থ ত্যাগ করে) → পদ্মফুল অর্থে ব্যবহৃত, তাই এটি একটি যোগরূঢ় শব্দ।

-----------------
• যোগরূঢ় শব্দ:
সমাস নিষ্পন্ন যে সকল শব্দ সম্পূর্ণভাবে সমস্যমান পদসমূহের অনুগামী না হয়ে কোনো বিশিষ্ট অর্থ গ্রহণ করে, তাদের যোগরূঢ় শব্দ বলে।
যেমন:
• পঙ্কজ: পঙ্কে জন্মে যা। শৈবাল, শালুক, পদ্মফুল প্রভৃতি উদ্ভিত পঙ্কে জন্মে থাকে। কিন্তু 'পঙ্কজ' শব্দটি একমাত্র 'পদ্মফুল' অর্থেই ব্যবহৃত হয়।
• রাজপুত: 'রাজার পুত্র' অর্থ পরিত্যাগ করে যোগরূঢ় শব্দ হিসেবে অর্থ হয়েছে 'জাতিবিশেষ'।
• মহাযাত্রা: 'মহাসমারোহে যাত্রা' অর্থ পরিত্যাগ করে যোগরূঢ় শব্দরূপে অর্থ 'মৃত্যু'।
• জলধি: 'জল ধারণ করে এমন' অর্থ পরিত্যাগ করে একমাত্র 'সমুদ্র' অর্থেই ব্যবহৃত হয়।

অন্যদিকে, 
• গায়ক, মধুর, ও মিতালি যৌগিক শব্দ। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

১২.
তৎসম শব্দ নয় কোনটি?
  1. পর্বত
  2. খিদে
  3. ভবন
  4. জলদ
সঠিক উত্তর:
খিদে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খিদে
ব্যাখ্যা

• তৎসম শব্দ নয় - খিদে। 
- 'খিদে' অর্ধ-তৎসম শব্দ। এটি সংস্কৃত 'ক্ষুধা' শব্দ থেকে পরিবর্তিত হয়ে 'খিদে' হয়েছে।  

------------------
•  তৎসম শব্দ:

যে সকল শব্দ সংস্কৃত ভাষা থেকে অবিকৃত অবস্থায় বাংলা ভাষায় এসেছে এবং এখনও তা অবিকৃত অবস্থায় ব্যবহৃত হচ্ছে সেগুলোকে তৎসম শব্দ বলে। 'তৎসম' একটি পারিভাষিক শব্দ । 'তৎ' অর্থ 'তার' এবং ‘সম’ অর্থ ‘সমান'। শব্দটির অর্থ দাঁড়ায় ‘তার সমান'। অর্থাৎ সংস্কৃতের সমান।
যেমন : সূর্য, চন্দ্র, পর্বত, রবি, শশি, নক্ষত্র, মনুষ্য, পিতা, মাতা, ভ্রাতা, ধর্ম, কর্ম, ভোজন, শয়ন, সত্য, ক্ষমা, ক্ষমতা, ঘৃত, চর্ম, জল, জলদ, অদ্য, ক্ষতি, কুণ্ডল, দীক্ষিত, বন্য, মুক্তি, ভবন, পত্র, প্রস্তর ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

১৩.
'ঢোল' কোন ভাষার শব্দ?
  1. দেশি
  2. বাংলা 
  3. হিন্দি 
  4. সংস্কৃত 
সঠিক উত্তর:
দেশি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দেশি
ব্যাখ্যা

বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
• 'ঢোল' দেশি ভাষার শব্দ। 



কিছু দেশি শব্দ:
ঢোল, ডিঙি, টোপর, বাখারি, কয়লা, কামড়, চাউল, ঝোল, ডাহা, ঢিল, পয়লা, ডাঁসা, ডাব, ডাঙর, ঢিল, মাঠ, চাটাই, ঝিনুক, শিকড়, কচি, খড়, পেট।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

১৪.
কোনটি আরবি ভাষার শব্দ?
  1. কোর্ট 
  2. জেল 
  3. পুলিশ 
  4. উকিল
সঠিক উত্তর:
উকিল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উকিল
ব্যাখ্যা

বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
• 'উকিল' আরবি ভাষার।  



অন্যদিকে,
• 'পুলিশ' 'জেল' 'কোর্ট' ইংরেজি ভাষার শব্দ।

----------------------
• আরবি ভাষার আরো কিছু শব্দ:
আল্লাহ, ইসলাম, ইমান, অজুহাত, আদালত, বাকি, ওযু, কোরবানী, কিয়ামত, জান্নাত, জাহান্নাম, তসবি, হজ, যাকাত, হালাল, হারাম, কানুন, খবর, তারিখ, মৌলবি, উকিল ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

১৫.
'সোয়া সাত' এখানে 'সোয়া' কোন ধরনের সংখ্যাবাচক শব্দ? 
  1. তারিখাবাচক 
  2. ভগ্নাংশবাচক 
  3. ক্রমবাচক 
  4. সাধারণ পূরণবাচক 
সঠিক উত্তর:
ভগ্নাংশবাচক 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভগ্নাংশবাচক 
ব্যাখ্যা

• ভগ্নাংশ পূরণবাচক শব্দ:
কখনো পূর্ণসংখ্যার থেকে খানিকটা কম বা খানিকটা বেশি বোঝাতে ভগ্নাংশ পূরণবাচক হয়।
যেমন- আধ, সাড়ে, পোয়া, সোয়া, দেড়, আড়াই, তেহাই ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১-সংস্করণ)।

১৬.
'টনটন' কোন ধরনের দ্বিরুক্ত শব্দ?
  1. ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব
  2. পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব
  3. অনুকার দ্বিত্ব
  4. পদাত্মক দ্বিত্ব
সঠিক উত্তর:
ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব
ব্যাখ্যা

• ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব:
কোনো প্রাকৃতিক ধ্বনির অনুকরণে যেসব শব্দ তৈরি হয়, সেগুলোকে ধ্বন্যাত্মক শব্দ বলে। যেমন- ঠন একটি ধ্বন্যাত্মক শব্দ। কোনো ধাতব পদার্থের সঙ্গে অন্য কোনো ধাতব পদার্থের সংঘর্ষে এই ধরনের ধ্বনি তৈরি হয়। ঠন শব্দটি পরপর দুই বার বা কখনো ততোধিক বার ব্যবহৃত হলে ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব সৃষ্টি হয়। 
অনেক সময়ে কল্পিত ধ্বনির ভিত্তিতেও ধ্বন্যাত্মাক দ্বিত্ব তৈরি হয়। যেমন- ফোড়া টনটন করে, গা ছমছম করে।

কয়েকটি ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্বের উদাহরণ:
কুট কুট, কোঁত কোঁত, কুটুস-কুটুস, খক খক, খুটুর-খুটুর, টুং টুং, ঠুক ঠুক, ধুপ ধুপ, দুম দুম, ঢং ঢং, চকচক, জ্বলজ্বল, ঝমঝম, টসটস, থকথকে, ফুসুর ফুসুর, ভটভট, শোঁ শোঁ, হিস হিস।

কিছু ক্ষেত্রে ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্বের মাঝখানে স্বরধ্বনির আগমন ঘটে। যেমন- খপাখপ, গবাগব, ঝটাঝট, ফটাফট, দমাদম, পটাপট।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১-সংস্করণ)।