পরীক্ষা আর্কাইভ

৪৯তম বিসিএস ⎯ বাংলা [১১১]

পরীক্ষা৪৯তম বিসিএস ⎯ বাংলা [১১১]তারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়01 hr 30 mins
মোট প্রশ্ন১১০
সিলেবাস
ফুল মডেল টেস্ট - ৩
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

৪৯তম বিসিএস ⎯ বাংলা [১১১]

৪৯তম বিসিএস ⎯ বাংলা [১১১] · তারিখ অনির্ধারিত · ১১০ প্রশ্ন

.
'Amend' এর বাংলা পরিভাষা কোনটি?
  1. ক্ষতিপূরণ দান করা
  2. সংশোধন করা
  3. সংবেদনশীল
  4. পরিবর্ধন করা
ব্যাখ্যা

• 'Amend' এর বাংলা পরিভাষা - সংশোধন করা।

অন্যদিকে,
• 'Amenable' অর্থ - সংবেদনশীল; চালিত বা নিয়ন্ত্রিত হতে আগ্রহী এমন; বাধ্য; অনুগত।
• 'Amends' অর্থ - ক্ষতিপূরণ দান করা।
• 'Augmenting' অর্থ - পরিবর্ধন করা।

উৎস: বাংলা একাডেমি, প্রশাসনিক পরিভাষা এবং অভিগম্য অভিধান।

.
'বাতাস' শব্দের সমার্থক শব্দ কোনটি?
  1. উদক
  2. হিমানী
  3. প্রভঞ্জন
  4. পায়োদ
ব্যাখ্যা

• 'বাতাস' শব্দের সমার্থক শব্দ:
বায়ু, হাওয়া, পবন, সমীর, সমীরণ, অনিল, মরুৎ, প্রভঞ্জন।

অন্যদিকে,
• 'পানি' শব্দের সমার্থক শব্দ: অম্বু, জল, নীর, সলিল, অপ, উদক, তোয়, জীবন ইত্যাদি।
• 'তুষার' শব্দের সমার্থক শব্দ: বরফ; হিমানী; নীহার।
• 'মেঘ' শব্দের সমার্থক শব্দ: জলধর; জীমূত; বারিদ; নীরদ; পায়োদ; ঘন।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান; অভিগম্য অভিধান এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

.
আঠার শতকের শ্রেষ্ঠ কবি ছিলেন-
  1. বিদ্যাপতি
  2. চণ্ডীদাস
  3. মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
  4. ভারতচন্দ্র রায়
ব্যাখ্যা

• ভারতচন্দ্র রায়:
- কবি রায়গুণাকর ভারতচন্দ্র আঠার শতকের শ্রেষ্ঠ কবি। তিনি মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি হিসেবেও মর্যাদার অধিকারী। মঙ্গলকাব্য ধারার শেষ কবি ভারতচন্দ্র বিদ্যাসুন্দর কাহিনিরও শ্রেষ্ঠ কবি রূপে পরিগণিত।

- কবি ভারতচন্দ্রের প্রতিভার শ্রেষ্ঠ নিদর্শন 'অন্নদামঙ্গল' কাব্য। 'কালিকামঙ্গল' ও 'বিদ্যাসুন্দর' এই কাব্যের অংশমাত্র।
- ভারতচন্দ্র ছিলেন 'ব্যাকরণ অভিধান সাহিত্য নাটক অলঙ্কার সঙ্গীত শাস্ত্রের অধ্যাপক এবং পুরাণ-আগম-পারসী-নাগরী -বেত্তা।'

- ভারতচন্দ্রের জন্মকাল নিয়ে মতানৈক্য আছে। ঈশ্বরগুপ্ত কর্তৃক উল্লেখিত ১৭১২ সাল সঠিক জন্মসাল নয়। বিভিন্ন তথ্য ও অনুমান মিলিয়ে সিদ্ধান্ত করা হয়েছে যে, ভারতচন্দ্র আঠার শতকের গোড়ার দিকে ১৭০৫ থেকে ১৭১০ সালের মধ্যে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। ড. আশুতোষ ভট্টাচার্য সর্বশেষ তথ্য বিবেচনা করে ১৭০৭ সালে ভারতচন্দ্রের জন্ম হয়েছিল বলে মনে করেন। রায়গুণাকর ভারতচন্দ্র বর্তমান বর্ধমান বিভাগের ভুরসুট পরগনায় আধুনিক হাওড়া জেলার পেঁড়ো (পান্ডুয়া) গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।

- চল্লিশ বৎসর বয়সে ভারতচন্দ্র নবদ্বীপের রাজা কৃষ্ণচন্দ্র রায়ের সভাকবি নিযুক্ত হন। তাঁর মাসিক বেতন হয় চল্লিশ টাকা। কবি মহারাজ কৃষ্ণচন্দ্রকে প্রতিদিন কবিতা রচনা করে শোনাতেন। তাঁর কবিত্বে মুগ্ধ হয়ে রাজা তাঁকে 'গুণাকর' উপাধি প্রদান করেন এবং প্রচুর ভূসম্পত্তি উপহার দেন।

- ভারতচন্দ্র মহারাজ কৃষ্ণচন্দ্রের আদেশে 'অন্নদামঙ্গল' কাব্য রচনা করেন। কবি গ্রন্থোৎপত্তি সম্পর্কে বলেছেন যে, একদিকে দেবীর আদেশ, অন্যদিকে রাজার আদেশে কাব্য রচনা করেছেন।

অন্যদিকে,
• বিদ্যাপতি ছিলেন মিথিলার কবি। মিথিলার রাজসভার কবি বিদ্যাপতি মৈথিলি ভাষায় সুন্দর পদাবলি ও অন্যান্য গীতিকবিতা রচনা করে সকলকে মুগ্ধ করেছেন বলে তাঁকে 'মৈথিল কোকিল' বলা হয়। তিনি ছিলেন ব্রজবুলি বৈষ্ণব কবি এবং পদসঙ্গীত ধারার রূপকার। তাঁর শ্রেষ্ঠ কীর্তি হচ্ছে ব্রজবুলিতে রচিত রাধাকৃষ্ণ বিষয়ক পদ।

• চণ্ডীদাস চৈতন্যপূর্ব যুগের কবি ছিলেন। চণ্ডীদাসকে বাংলা ভাষার প্রথম মানবতাবাদী কবি বলা হয়।

• মুকুন্দরাম চক্রবর্তীর উপাধি ছিল কবিকঙ্কন।মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যে মানব রসের তিনি প্রথম এবং একমাত্র স্রষ্টা। মুকুন্দরাম চক্রবর্তীকে দুঃখ-বর্ননার কবি হিসাবেও আখ্যায়িত করা হয়।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহাবুবুল আলম।

.
যোগতন্ত্রশাস্ত্র মতে 'মীননাথ' চর্যাপদের কোন কবির অপর নাম?
  1. কাহ্নপা
  2. ভুসুকুপা
  3. লুইপা
  4. শবরপা
ব্যাখ্যা

• লুইপা:
- 'চয্যাচর্যবিনিশ্চয়'-এর প্রথম কবি লুইপা। তিব্বতি ঐতিহ্যে প্রাপ্ত চুরাশি জন সিদ্ধাচার্যের নামের তালিকায় লুইয়ের নাম আদিতম। অনেক পণ্ডিত লুইপাকে প্রথম চর্যাগীতি রচয়িতা বলে মনে করেন। তাঁর জীবনকাল ৭৩০-৮১০ খ্রিষ্টাব্দের মধ্যে। সে সময় ছিল রাজা ধর্মপালের রাজত্বকাল। হিন্দিভাষীরা লুইপাকে মগধ বা বিহারের অধিবাসী বলে দাবি করেন।

- যোগতন্ত্রশাস্ত্রেও লুইপার উল্লেখ রয়েছে। তন্ত্রশাস্ত্রের লুইপার অন্য নাম মীননাথ বা মৎস্যেন্দ্রনাথ। মৎস্যের সঙ্গে নামের মিল থাকায় কোনো কোনো পণ্ডিত লুইকে শবরপা-এর শিষ্য ও ধীবর সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত বলে উল্লেখ করেন। এ লুইপা আদি সিদ্ধাচার্য (সকল সিদ্ধাচার্যের গুরু) বলে অনেকের ধারণা।

- লুইপাকে সংস্কৃত টীকাকার মুনি দত্ত আদি সিদ্ধাচার্য বলে উল্লেখ করেছেন। তবে, তারানাথের মতে, লুইপা চতুর্থ সিদ্ধাচার্য, আর সরহ হলেন আদি সিদ্ধাচার্য। তাঁর মতে, লুইপা ছিলেন উড্ডীয়ান-রাজ উদয়নের কর্মচারী। তিনি শবর পা-র শিষ্যত্ব গ্রহণ করেছিলেন। চর্যাগীতির লুইপা আর তন্ত্রশাস্ত্রের লুইপা অভিন্ন নয় বলেই মনে করা হয়। কেননা বলা হয়েছে, লুইপা ছিলেন গৌড় অঞ্চলের অধিবাসী। আর তন্ত্রশাস্ত্রের মীননাথ বা মৎস্যেন্দ্রনাথের বাড়ি দক্ষিণবঙ্গে। তিনি ছিলেন গোরক্ষনাথের গুরু। তাই ধারণা করা হয়, লুইপা ও মীননাথ অভিন্ন ব্যক্তি নয়।

- হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর ধারণা লুইপা ছিলেন বাঙালি। রাহুল সাংস্কৃত্যায়নের মতে, লুইপা রাজা ধর্মপালের সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

- লুইপা বহু গ্রন্থ রচনা করেছেন। তিব্বতি অনুবাদের মাধ্যমে লুইয়ের বৌদ্ধ দর্শন বিষয়ক তিনটি গ্রন্থের নাম পাওয়া যায়। এগুলো হলো: 'শ্রীভগবদভিসময়', 'অভিসময়বিভঙ্গ' ও 'তত্ত্বস্বভাবদোহাকোষগীতিকাদৃষ্টিনাম'। প্রথম দুটি বই দর্শনের এবং তৃতীয়টি দোঁহা ও গানের।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহাবুবুল আলম।

.
"সবাই এসো আলোর মিছিলে হে নবীন তরুণ দল।" এখানে 'মিছিল' কোন ভাষার শব্দ?
  1. বাংলা
  2. ফারসি
  3. ওলন্দাজ
  4. ফরাসি
ব্যাখ্যা



মিছিল (বিশেষ্য পদ),
- এটি ফারসি ভাষার শব্দ।
অর্থ:
- শোভাযাত্রা (মহরমের মিছিল)।
- মোকদ্দমা ও তৎসম্বন্ধীয় নথিপত্র।
- বিন্যাস, সিজিল।
- সমান, সমকক্ষ।

• ফারসি ভাষা থেকে আগত কিছু শব্দ হলো:
গ্রেপ্তারি, গ্রেফতার, দারোগা, দারোয়ান, সাদা, খরগোশ, কাজি, খোয়াব, চেহারা, কাগজ, চশমা, চাকর, চারপায়, ছয়লাপ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

.
ধ্বনি উৎপাদনের মূল উৎস-
  1. নাসিকা
  2. মুখ
  3. ফুসফুস
  4. কণ্ঠ
ব্যাখ্যা

• ধ্বনি:
- ভাষার ক্ষুদ্রতম একক ধ্বনি। কোনো ভাষার উচ্চারিত শব্দকে সূক্ষ্মভাবে বিশ্লেষণ করলে তার যে অবিভাজ্য ক্ষুদ্রতম অংশ পাওয়া যায়, তা-ই ধ্বনি। মানুষের বাগ্‌যন্ত্রের সহায়তায় উচ্চারিত ধ্বনি থেকেই ভাষার সৃষ্টি। বস্তুত ভাষাকে বিশ্লেষণ করলে চারটি মৌলিক উপাদান পাওয়া যায়। এই উপাদানগুলো হলো-ধ্বনি, শব্দ, বাক্য ও অর্থ।

- মানুষ তার মনের ভাব প্রকাশ করার জন্য 'কথা' বলে। মানুষের 'কথা' হলো অর্থযুক্ত কিছু ধ্বনি। ব্যাকরণ শাস্ত্রে মানুষের কণ্ঠনিঃসৃত শব্দ বা আওয়াজকেই ধ্বনি বলা হয়। বস্তুত অর্থবোধক ধ্বনিসমূহই মানুষের বিভিন্ন ভাষার বাধ্বনি। ধ্বনিই ভাষার মূল ভিত্তি।

- ধ্বনি নির্গত হয় মুখ দিয়ে। ধ্বনি উৎপাদনে মুখ, নাসিকা, কণ্ঠ প্রভৃতি বাক্-প্রত্যঙ্গ ব্যবহৃত হলেও ধ্বনি উৎপাদনের মূল উৎস হলো ফুসফুস। ফুসফুসের সাহায্যে আমরা শ্বাস গ্রহণ ও ত্যাগ করি। ফুসফুস থেকে বাতাস বেরিয়ে আসার সময় বিভিন্ন বাক্-প্রত্যঙ্গের সংস্পর্শে আসে। ফুসফুস থেকে বাতাস স্বরযন্ত্রের মধ্য দিয়ে বেরিয়ে আসার সময় মুখের বিভিন্ন জায়গায় ঘষা খায়। এই ঘর্ষণের ফলে মুখে নানা ধরনের ধ্বনির সৃষ্টি হয়।

- অর্থাৎ ফুসফুস নির্গত বাতাস স্বরযন্ত্রের মধ্য দিয়ে মুখগহ্বরে প্রবেশের পর বিভিন্ন বাক্-প্রত্যঙ্গের সংস্পর্শে আঘাত লাগার দরুন ধ্বনি গঠিত বা তৈরি হয়। ধ্বনি গঠনে বিভিন্ন বাক্- প্রত্যঙ্গের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, সপ্তম শ্রেণি।

.
'ঘরানা' শব্দটি কোন প্রত্যয় যোগে গঠিত?
  1. সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়
  2. বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয়
  3. সংস্কৃত কৃৎ প্রত্যয়
  4. বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয়
ব্যাখ্যা

• আনা (য়ানা) -আনি (য়ানি) বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয়: ভাব, অভ্যাস বা আচরণ অর্থে বিশেষ্য শব্দ গঠন করে।
যেমন:
ঘর + আনা = ঘরানা,
গরিব + আনা = গরিবানা,
বাবু + আনা = বাবুয়ানা,
বিবি + আনা = বিবিয়ানা ইত্যাদি।

আবার,
বাবু + আনি = বাবুআনি > বাবুয়ানি।

• এরূপ কিছু বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয় হলো-
-ওয়ান, -খানা, -খোর, -গর, -গিরি, -চা > চি, -চী > চি, -তর (তরো), -দান, -দানি, -সার, -নবিশ, -বন্দি, -বাজ /-বাজি, -সহি, সই, -স্তান।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

.
যুক্তবর্ণের অশুদ্ধ গঠন কোনটি?
  1. জ্‌ + ঞ = জ্ঞ
  2. ঞ্‌ + ক = ঙ্ক
  3. ঞ্‌ + জ = ঞ্জ
  4. ঞ্‌ + চ = ঞ্চ
ব্যাখ্যা

• যুক্তবর্ণের অশুদ্ধ গঠন- ঞ্‌ + ক = ঙ্ক।
- শুদ্ধরূপ: ঙ্‌ + ক = ঙ্ক।

---------------
• যুক্তবর্ণ:

একাধিক বর্ণ যুক্ত হয়ে যুক্তবর্ণ তৈরি হয়। যুক্ত হওয়া বর্ণগুলোকে দেখে কখনো সহজে চেনা যায়, কখনো সহজে চেনা যায় না। এদিক দিয়ে যুক্তবর্ণ দুই রকম: স্বচ্ছ ও অস্বচ্ছ।

গুরুত্বপূর্ণ কিছু যুক্তবর্ণ হলো-
- জ্‌ + ঞ = জ্ঞ;
- ঞ্‌ + জ = ঞ্জ;
- ঞ্‌ + চ = ঞ্চ;
- ঞ্‌ + ছ = ঞ্ছ;
- ষ্‌ + ণ = ষ্ণ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

.
'অনাবশ্যকীয় ব্যাপারে কৌতূহল ভালো নয়।' বাক্যে কোন ধরনের অশুদ্ধি ঘটেছে??
  1. বিশেষণের বাহুল্য প্রয়োগজনিত ভুল
  2. বহুবচনের অপপ্রয়োগজনিত অশুদ্ধি
  3. সমাস ঘটিত অশুদ্ধি
  4. বাচ্যজনিত অশুদ্ধি
ব্যাখ্যা

• বিশেষ্যের জায়গায় বিশেষণের কিংবা বিশেষণের বাহুল্য প্রয়োগজনিত ভুল:
বাক্যের মধ্যে ব্যবহৃত বিশেষ্য পদকে বিশেষণ কিংবা বিশেষণ পদকে বিশেষ্য ভেবে পদ পরিবর্তন করলে এ ধরনের ভুল হয়।
যেমন- আবশ্যক শব্দটি বিশেষণ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এর বদলে ঈয় প্রত্যয় যোগ করে আবশ্যকীয় শব্দের ব্যবহার যথাযথ নয়।
যেমন
অশুদ্ধ: অনাবশ্যকীয় ব্যাপারে কৌতূহল ভালো নয়।
শুদ্ধ: অনাবশ্যক ব্যাপারে কৌতূহল ভালো নয়।

অশুদ্ধ: ইহার আবশ্যক নাই।
শুদ্ধ: হার আবশ্যকতা নাই।

অশুদ্ধ: রাঙ্গামাটি পার্বতীয় এলাকা।
শুদ্ধ: রাঙ্গামাটি পার্বত্য এলাকা।

অশুদ্ধ: বাংলাদেশ একটি উন্নতশীল দেশ।
শুদ্ধ: বাংলাদেশ একটি উন্নয়নশীল দেশ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

১০.
বিশেষণ পদ নয় কোনটি?
  1. নিখুঁত
  2. সুকঠিন
  3. দুঃসহ
  4. সততা
ব্যাখ্যা

• বিশেষণ পদ নয়- সততা।
- 'সততা' গুণবাচক বিশেষ্য পদ।

• আদ্য প্রত্যয় বা উপসর্গযুক্ত বিশেষণ: এ ধরনের বিশেষণ আদ্যপ্রত্যয় বা উপসর্গযোগে গঠিত হয়।
যেমন:
- নিখুঁত (নি + খুঁত) কাজ।
- সুকঠিন (সু + কঠিন) প্রতিজ্ঞা।
- দুঃসহ (দুঃ + সহ) দারিদ্র্য।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

১১.
নিচের কোন বানানটি অশুদ্ধ?
  1. প্রশস্ত
  2. অভ্যস্ত
  3. গৃহস্ত
  4. ব্যস্ত
ব্যাখ্যা

• শুদ্ধ বানান: গৃহস্থ।
- এটি বিশেষ্য পদ।
- সংস্কৃত ভাষার শব্দ।
অর্থ:
- সংসার ধর্ম পালন করে এমন,
- গৃহী।

অন্যদিকে,
• প্রশস্ত, অভ্যস্ত ও ব্যস্ত বানানগুলো শুদ্ধ।

• এরূপ কিছু শুদ্ধ শব্দ- ঠোঁটস্থ, মুখস্থ, দ্বারস্থ, অস্ত, কণ্ঠস্থ, গ্রস্ত।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

১২.
১৯৪৭ সালের দেশভাগকে কেন্দ্র করে রচিত উপন্যাস কোনটি?
  1. কালো ঘোড়া
  2. কালো বরফ
  3. খেলাঘর
  4. একটি কালো মেয়ের কথা
ব্যাখ্যা

• 'কালো বরফ' উপন্যাস:
- ১৯৭৭ সালের ২১-৩০ আগস্ট মাহমুদুল হক রচনা করেন 'কালো বরফ' উপন্যাসটি, কিন্তু এর প্রকাশকাল অনেক পরে ১৯৯২ সালে।
- এটি ছেচল্লিশের দাঙ্গা ও ১৯৪৭ সালের দেশভাগকে কেন্দ্র করে রচিত।
- উপন্যাসটিতে হিন্দু-মুসলমানের বিরোধ-দাঙ্গা, দ্বেষ-ক্ষোভ এবং মিলন-বিরহ পরিস্ফুটিত হয়েছে।
- উপন্যাসের প্রধান চরিত্র- আব্দুল খালেক।

অন্যদিকে,
-----------------
• 'খেলাঘর' (১৯৮৮): এটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস। চরিত্র: রেহানা, মুকল ও ইয়াকুব। ২০০৬ সালে উপন্যাসটির চলচ্চিত্রায়ন করা হয়।

• 'একটি কালো মেয়ের কথা' উপন্যাস: বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম নিয়ে রচিত তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপন্যাস- 'একটি কালো মেয়ের কথা'। এটি প্রকাশিত হয় ১৯৭১ খ্রিষ্টব্দে। এটি তাঁর সর্বশেষ উপন্যাস।

• "কালো ঘোড়া" লেখক ইমদাদুল হক মিলন রচিত একটি উপন্যাস। ১৯৮১ সালে পশ্চিম জার্মানির সিনডেল ফিঙেন শহরে বসে তিনি এই উপন্যাসটি রচনা করেন এবং এটি বাংলাদেশের একটি নিবিড় গ্রামকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হয়। ‘কালোঘোড়া’ মুক্তিযুদ্ধের উপন্যাস। ১৯৭১ এর সেই জেগে ওঠার দিনে বাংলাদেশের একটি গ্রামে কেমন চেহারা নিয়েছিল মুক্তিযুদ্ধ, কেমন করে মুক্তিযুদ্ধ প্রভাবিত করেছিল গ্রামের প্রতিটি মানুষকে, কেমন করে মুক্তিযোদ্ধারা এসে আশ্রয় পায় এক বালকের কাছে, কেমন করে প্রাণ হারায় এব বোবা যুবতী, স্বাধীনতা বিরোধী চক্রের হোতা কেমন করে নিহত হয় মুক্তেোদ্ধাদের হাতে আর কেমন করেই বা মুক্তিযোদ্ধাদের আশ্রয়দাতা সেই বালক নিজের অজান্তে হয়ে ওঠে এক মহান মুক্তিযোদ্ধা, প্রাণের বিনিময়ে যে রক্ষা করতে চায় সহযোদ্ধাদের কে, এরকম অনেকগুলো বিষয়কে ‘কালোঘোড়া’ উপন্যাসে উপজীব্য করেছেন ইমদাদুল হক মিলন।

উৎস: 'কালো বরফ' ও "কালো ঘোড়া" উপন্যাস; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১৩.
'অপর্ণা' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কোন নাটকের চরিত্র?
  1. ডাকঘর
  2. মুক্তধারা
  3. বিসর্জন
  4. প্রায়শ্চিত্ত
ব্যাখ্যা

• 'বিসর্জন' নাটক:
- 'বিসর্জন' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত একটি নাটক। 'রাজর্ষি' উপন্যাসের প্রথমাংশ অবলম্বনে 'বিসর্জন' নাটকটি রচিত হয়।

- 'বিসর্জন' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মঞ্চসফল এবং জনপ্রিয় নাটকগুলির অন্যতম। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর স্বয়ং এই নাটকের প্রধান দুটি চরিত্র রঘুপতি ও জয়সিংহের ভূমিকায় বিভিন্ন সময়ে অভিনয় করেন।

- উদার ধর্মবোধ এবং সংকীর্ণ ধর্মীয় বিশ্বাসের মধ্যে দ্বন্দ্ব যেমন এই নাটকের প্রধান উপকরণ, তেমনই বিশ্বাসের উগ্রতা এবং মানব সম্পর্কের নিবিড়তা এই নাটকের প্রধান বৈশিষ্ট্য।
- রবীন্দ্রনাথ রচিত বিসর্জন নাটকে গোমতী নদীর কথা উল্লেখ আছে। নাটকটি অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত।

উল্লেখযোগ্য চরিত্র:
- রঘুপতি,
- জয়সিংহ,
- অপর্ণা,
- গুণবতী,
- গোবিন্দমাণিক্য।

অন্যদিকে,
• 'ডাকঘর' নাটকের উল্লেখযোগ্য চরিত্র: অমল, সুধা, ঠাকুর্দা প্রমুখ।
• 'মুক্তধারা' নাটকের উল্লেখযোগ্য চরিত্র: অভিজিৎ, রণজিত, সুমন, অম্বা, বিভূতি।
• "প্রায়শ্চিত্ত" নাটকের চরিত্রগুলো: ধনঞ্জয়, সুরমা, উদয়াদিত্য, বিভা ইত্যাদি।

-------------------
তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য নাটক:
- রুদ্র চন্দ্র,
- বাল্মিকী প্রতিভা,
- কালের যাত্রা,
- তাসের দেশ,
- ডাকঘর,
- মালিনী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১৪.
নিম্নের কত তারিখে অস্ট্রেলিয়া ফিলিস্তিনকে আনুষ্ঠানিকভাবে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে?
  1. ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
  2. ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
  3. ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
  4. ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
ব্যাখ্যা

• ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি:
- ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ যুক্তরাজ্য, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া ও পর্তুগাল ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দিয়েছে।
- বিশ্বের ধনী দেশগুলোর জোট জি-৭-এর সদস্যদের মধ্যে প্রথম ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দিল যুক্তরাজ্য ও কানাডা।
- এর পর দিন ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ জাতিসংঘের সদর দপ্তর এক অনুষ্ঠানে ফিলিস্তিনকে আনুষ্ঠানিকভাবে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য দেশ ফ্রান্স।
- এ নিয়ে জাতিসংঘের ১৯৩ সদস্যদেশের দেড় শ’র বেশি দেশ ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে।
- এর মধ্যে এশিয়া, আফ্রিকা, লাতিন ও মধ্য আমেরিকার দেশই বেশি।
- ১৯৮৮ সালের ১৬ নভেম্বর ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেয় বাংলাদেশ।
- জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী পাঁচ সদস্যের মধ্যে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে এ পর্যন্ত শুধু যুক্তরাষ্ট্র স্বীকৃতি দেয়নি।

সূত্র- প্রথম আলো পত্রিকা প্রতিবেদন।

১৫.
যুক্তরাষ্ট্রের 'ফেডারেল সিভিল সার্ভিস কমিশন' কত সালে গঠিত হয়?
  1. ১৮৮৩ সালে
  2. ১৮৮৫ সালে
  3. ১৮৮৭ সালে
  4. ১৮৮৯ সালে
ব্যাখ্যা

• ফেডারেল সিভিল সার্ভিস কমিশন:
- মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে সংবিধিবদ্ধভাবে ফেডারেল সিভিল সার্ভিস কমিশন গঠিত হয় ১৮৮৩ সালে।
- The Pendleton Civil Service Reform Act-1883 এর মাধ্যমে।
- ১৯৭৮ সালে ফেডারেল সিভিল সার্ভিস কমিশনে সংস্কার করে একে তিনটি প্রতিষ্ঠানে বিকেন্দ্রীকরণ করা হয়। এগুলো হলো:
- অফিস অব দ্য পার্সোনেল ম্যানেজমেন্ট
- দ্য মেরিট সিস্টেম প্রোটেকশন বোর্ড
- দ্য ফেডারেল লেবার রিলেশন অথরিটি।

উৎস: অফিস অব দ্য পার্সোনেল ম্যানেজমেন্ট ওয়েবসাইট।

১৬.
‘জাপাদ-২০২৫’ নামক সামরিক মহড়া চালিয়েছে -
  1. রাশিয়া ও চীন
  2. জাপান ও ভারত
  3. চীন ও পাকিস্তান
  4. রাশিয়া ও বেলারুশ
ব্যাখ্যা

• জাপাদ-২০২৫:
- জাপাদ-২০২৫ হলো রাশিয়া ও বেলারুশের যৌথ সামরিক মহড়া।
- এই মহড়া ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ শুরু হয় এবং ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ শেষ হয়।
- এই মহড়ায় প্রায় ১ লাখ সেনা অংশগ্রহণ করে, যার মধ্যে ভারী অস্ত্র, বোমারু বিমান, যুদ্ধজাহাজ এবং প্যারাট্রুপারদের সমন্বয়ে ব্যাপক সামরিক কৌশল প্রদর্শন করা হয়।
- যুক্তরাষ্ট্রসহ ২৩টি দেশের প্রতিনিধিরা মহড়া দেখতে বেলারুশে উপস্থিত ছিলেন।
- মহড়ার মূল উদ্দেশ্য ছিল সীমান্তবর্তী অঞ্চলে সম্ভাব্য আগ্রাসন প্রতিহত করার জন্য প্রস্তুতি প্রদর্শন।

তথ্যসূত্র- প্রথম আলো পত্রিকা প্রতিবেদন।

১৭.
‘হাথে রে কাঙ্কাণ মা লোউ দাপণ' চর্যাকার?
  1. ভাদেপা
  2. লুইপা
  3. সরহপা
  4. কাহ্নপা
ব্যাখ্যা

ব্যাখ্যা : চর্যাপদের একটি প্রবাদ বাক্য ‘হাতের কাঙ্কন মা লোউ দাপন । এর অর্থ- হাতের কাঁকন দেখার জন্য দর্পন প্রয়োজন হয় না । এটি চর্যার ৩২নং পদ, এর রচয়িতা সরহপা।

উৎসঃ চর্যাপদ, অতীন্দ্র মজুমদার,  শীকর বাংলা প্রশ্ন-পাঠ, মোহসীনা নাজিলা।

১৮.
“টালত মোর ঘর নাহি পরবেষী, হাড়ীত ভাত নাহি নিতি আবেশী।' এটি কত নং চর্যা
  1. ৬ নং
  2. ৩৯ নং
  3. ৩২ নং
  4. ৩৩ নং
ব্যাখ্যা

ব্যাখ্যা : এটি চর্যার ৩৩নং পদ। রচয়িতা ঢেণ্ডণ পা। এতে কবি বলেছেন- 'টিলার উপর আমার ঘর, কোনও প্রতিবেশী নেই। হাঁড়িতেও ভাত নেই, তবু নিত্য অতিথি আসে। চর্যায় যে সমাজে মানুষের কথা বলা হয়েছে তারা ছিল দরিদ্র গৃহহীন, অন্নহীন।

উৎসঃ চর্যাপদ, অতীন্দ্র মজুমদার, শীকর বাংলা প্রশ্ন-পাঠ, মোহসীনা নাজিলা।

১৯.
সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় ' dog sanskrit' বলেছেন কোনটিকে?
  1. শূন্যপুরাণকে
  2.  'নিরঞ্জনের উম্মাকে
  3. সেক শুভোদয়াকে
  4. শ্রীকৃষ্ণকীর্তনকে
ব্যাখ্যা

সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় সেক শুভোদয়াকে' dog sanskrit' বলেছেন ।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর

২০.
'দুঃখবাদী কবি' হিসাবে কাকে বলা হয়?
  1. ভরতচন্দ্র রায় গুণাকর
  2. মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
  3. কায়কোবাদ
  4. চন্দ্রাবতী
ব্যাখ্যা

ব্যাখ্যা : মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যে 'দুঃখবাদী কবি মুকুন্দরাম চক্রবর্তী। আধুনিক যুগের 'দুঃখবাদী কবি যতীন্দ্রনাথ সেনগুপ্ত ।

উৎসঃ শীকর বাংলা প্রশ্ন-পাঠ, মোহসীনা নাজিলা।

২১.
প্রাক চৈতন্যযুগ? 
  1. ১২০১-১৩০০
  2. ১৭৬০-৭৮৬০
  3. ১২০৩-১৫০০
  4. উপরের কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

 প্রাক চৈতন্যযুগ এর সময়কাল ১২০৩-১৫০০।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

২২.
সংস্কৃত উপনিষদের প্রথম ফারসি অনুবাদক কে?
  1. হাফিজ
  2. আওরঙ্গজেব
  3. সৈয়দ সুলতান
  4. দারা শিকোহ
ব্যাখ্যা

ব্যাখ্যা : মোগল সম্রাট শাহজাহানের পুত্র দারা শিকোহ 'সিরর-ই-আকবর' নামে প্রথম ফারসি ভাষায় উপনিষদের অনুবাদ করেন। দারা শিকোহর এই অনুবাদ থেকে নাথানিয়াল ব্রাসি হ্যালহেড তা ইংরেজীতে অনুবাদ করেন। উল্লেখ্য 'উপনিষদ' শব্দের অর্থ গুরুর কাছে উপবেশন করে প্রশ্নোত্তরের মাধ্যমে অর্জিত জ্ঞান ।


 

২৩.
শ্রী চৈতন্যদেবের জীবনীগ্রন্থ 'চৈতন্যমঙ্গল' এর লেখক কে?
  1. বৃন্দাবন দাস
  2. জ্ঞানদাস
  3. গোবিন্দ চন্দ্র দাস
  4. লোচন দাস
ব্যাখ্যা

ব্যাখ্যা :শ্রী চৈতন্যদেবের জীবনীগ্রন্থ 'চৈতন্যমঙ্গল' রচনা করেন লোচন দাস। চৈতন্য ভাগবত ও চৈতন্য চরিতামৃত-এর মধ্যবর্তী সময়গুলিতে আরও অনেকগুলি কম প্রচারিত চরিতাখ্যান রচিত হয়েছে। এগুলির মধ্যে সর্বাধিক উল্লেখযোগ্য কবি কর্ণপুরের সংস্কৃত গদ্য রচনা কৃষ্ণচৈতন্য চরিতামৃতম মহাকাব্যম (রচনা ১৫৪২), এবং আরও অনেক পরের নাট্যকর্ম চৈতন্য চন্দ্রোদয় নাটকম (রচনা ১৫৭২-৭৯), লোচন দাসের বাংলা রচনা চৈতন্যমঙ্গল (রচনা ১৫৭০-১৫৮০) এবং জয়ানন্দের জনপ্রিয় অথচ বিতর্কমূলক বাংলা আখ্যান যার শিরোনামও চৈতন্যমঙ্গল (রচনা ১৫৫০-৬০)।

উৎসঃ বাংলাপিডিয়া।

২৪.
'দুররে মজলিশ' কাব্যগ্রন্থটির রচয়িতা- 
  1. শাহ মুহম্মদ সগীর
  2. আলাওল
  3. আবদুল হাকিম
  4. দৌলত কাজী
ব্যাখ্যা

ব্যাখ্যা : মধ্যযুগের কবি আবদুল হাকিম রচিত কাব্য- নূরনামা, দুররে মজলিশ, হানিফার লড়াই, ইউসুফ জোলেখা, লালমোতি সয়ফুলমুলুক।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

২৫.
বাংলাদেশের সাহিত্যে লোকসাহিত্য-সংগ্রাহক কে?
  1. ড. কাজী দীন মুহম্মদ
  2. ড. আলাউদ্দিন আল আজাদ
  3. আশরাফ সিদ্দিকী
  4. মুহম্মদ মনসুরউদ্দীন
ব্যাখ্যা

ব্যাখ্যা : মুহম্মদ মনসুর উদ্দীন বাংলা লোকসাহিত্যের অন্যতম প্রধান সংগ্রাহক। তিনি লোকসাহিত্যের সংকলন 'হারামনি' (দশ খণ্ড) সম্পাদনা করেন। এর প্রথম সংগ্রহ ছিল নিজ গ্রামের প্রেমদাস বৈরাগীর কাছ থেকে লালনের একটি গান (প্রবাসী পত্রিকায় প্রকাশিত)।

উৎসঃ শীকর বাংলা প্রশ্ন-পাঠ, মোহসীনা নাজিলা।

২৬.
‘মৈমনসিংহ গীতিকা' নয়-
  1. কঙ্ক ও লীলা
  2. রূপবতী
  3. চন্দ্রাবতী  ও জয়চন্দ্র
  4. চৌধুরীর লড়াই
ব্যাখ্যা

ব্যাখ্যা :
“চৌধুরীর লড়াই” মূলত পূর্ববঙ্গ গীতিকা, মৈমনসিংহ গীতিকা নয়।

মৈমনসিংহ গীতিকায় ১০টি গীতিকা রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে- মহুয়া (দ্বিজ কানাই), মলুয়া (চন্দ্রাবতী), চন্দ্রাবতী ও জয়চন্দ্র (নয়ানচাঁদঘোষ), কমলা (দ্বিজ ঈশান) কঙ্ক ও লীলা, রূপবতী, । নিজাম ডাকাতের পালা, কাফন চোরা, চৌধুরীর লড়াই, আয়না বিবি, ভেলুয়া ইত্যাদি পূর্ববঙ্গ গীতিকা উপাখ্যান।

পূর্ববঙ্গ গীতিকা পালাগুলির সংখ্যা পঞ্চাশের অধিক। সেগুলির মধ্যে ধোপার পাট, মইষাল বন্ধু, কাঞ্চন মালা, কমলা রানীর গান, মদনকুমার ও মধুমালা, নেজাম ডাকাতের পালা, দেওয়ান ঈশা খাঁ, মাঞ্জুর মা, কাফেনচোরা, ভেলুয়া, হাতিখেদা, আয়নাবিবি, কমল সদাগর, চৌধুরীর লড়াই, গোপিনী-কীর্তন, সুজা-তনয়ার বিলাপ, বারতীর্থের গান, নূরুন্নেছা ও কবরের কথা, পরীবানুর হাঁইলা ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া

২৭.
'ফোকলোর' কথাটির উদ্ভাবক
  1. ডরসন
  2. উইলিয়াম থমস
  3. হেনরি গ্লাস
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

ফোকলোর (Folklore) শব্দটির উদ্ভাবনা অবশ্য ইংল্যান্ডে, ১৮৪৬ সালে। এর আগের অ্যান্টিকুইটি (Antiquity) শব্দটি শুধু পুরাতত্ত্বকে বোঝাত না, ফোকলোর-এর ধারণাকেও এর মধ্যে চিহ্নিত করা হতো। এই অস্পষ্টতার বৃত্ত ভেঙে উপযুক্ত অ্যাংলো-স্যাকশন শব্দ Folklore-এর উদ্ভাবন করেন। বৃটিশ পুরাতাত্ত্বিক উইলিয়াম জন থমস (William John Thoms ) ।

উৎসঃ কালি ও কলম।

২৮.
'সন্দিপ' কোন গ্রন্থের চরিত্র ?
  1. চোখের বালি
  2. ঘরেবাইরে
  3. চতুরঙ্গ
  4. চারঅধ্যায়
ব্যাখ্যা

বিমলা, নিখিলেশ ও সন্দীপ 'ঘরেবাইরে' উপন্যাসের চরিত্র ।

​প্রাশ্চাত্য উপন্যাসিক স্টিভেনসনের ' প্রিন্স অটো' উপন্যাসের সাথে মিল আছে 'ঘরেবাইরে' উপন্যাসের?

​স্টিভেনসনের সেরাফিনা , অটো ও গোনডেমার্ক যথাক্রমে রবীন্দ্রনাথের বিমলা, নিখিলেশ ও সন্দীপ।

​উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

২৯.
সুকুমার সেন এর মতে চর্যাপদের নাম- 
  1. আশ্চর্য চর্যাচয়
  2. চর্যাশ্চর্যবিনিশ্চয়
  3. চর্য্যাচর্য্যবিনিশ্চয়
  4. চর্যাগীতিকোষ
ব্যাখ্যা

 সুকুমার সেন এর মতে চর্যাপদের নাম-  চর্যাশ্চর্যবিনিশ্চয়।

হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর মতে, চর্য্যাচর্য্যবিনিশ্চয়।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর

৩০.
‘বিরাজ বউ' নাটকের রচয়িতা-
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. সেলিম আল দ্বীন
  3. দিনবন্ধু মিত্র
  4. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা

ব্যাখ্যা : শরৎচন্দ্র চট্টপাধ্যায়ের নাটক 'বিরাজ বৌ' ।  চরিত্রঃ নীলাম্বর, বিরাজ ।

 

৩১.
বিধবা বিবাহ প্রচলিত হওয়া উচিত কিনা এতদ্বিষয়ক প্রস্তাব' পুস্তিকাটি কত সালে প্রকাশিত হয়?
  1. ১৮৫৩
  2. ১৮৫৪
  3. ১৮৫৫
  4. ১৮৫৬
ব্যাখ্যা

১৮৫৫ সালের জানুয়ারি মাসে 'বিধবা বিবাহ প্রচলিত হওয়া উচিত কি-না এতদ্বিষয়ক প্রস্তাব' পুস্তিকাটি প্রকাশ করেন।
১৮৫৫ সালের চৌঠা অক্টোবর ' বিধবা বিবাহ আইন পাশ করার জন্য ব্রিটিশ সরকারের কাছে আবেদন জানান।
১৮৫৬ সালের ২৬শে জুলাই গভর্ণর জেনারেল এর সম্মতিক্রমে এটি আইনে পরিনত হয়।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

৩২.
'সদুক্তি - কর্ণামৃত' এর লেখক কে
  1. সন্ধ্যাকর নন্দী
  2. গোবর্ধন আচার্য
  3. জয়দেব
  4. শ্রীধরদাস
ব্যাখ্যা

'সদুক্তি - কর্ণামৃত' (১২০৬) এর লেখক কে শ্রীধরদাস।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৩৩.
রবীন্দ্রনাথের রাজনীতি বিষয়ক মতবাদ প্রকাশ পেয়েছে কোন প্রবন্ধ গ্রন্থে?
  1. আত্মশক্তি’
  2. 'শিক্ষা'
  3. শান্তিনিকেতন’
  4. লিপিকা'
ব্যাখ্যা

আত্মশক্তি’, ‘ভারতবর্ষ’, ‘রাজাপ্রজা', 'স্বদেশ', 'পরিচয়', 'কালান্তর', ‘সভ্যতার সঙ্কট' প্রভৃতি গ্রন্থ তাঁর রাজনীতি বিষয়ক মতবাদ প্রকাশক। দেশের রাজনীতি, সমাজনীতি প্রভৃতি বিষয়ে তিনি যে সচেতন ছিলেন তার প্রমাণ এসব গ্রন্থ থেকে লাভ করা যায়।
​‘শিক্ষা' গ্রন্থে রবীন্দ্রনাথ দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার নানা সমস্যার প্রতি আলোকপাত করেছেন।
​ধর্ম’, শান্তিনিকেতন’, ‘মানুষের ধর্ম’ প্রভৃতি তাঁর ধর্ম ও দর্শনবিষয়ক প্রবন্ধগ্রন্থ।
​‘চারিত্র্যপূজা’, ‘পঞ্চভূত’, ‘লিপিকা' প্রভৃতি গ্রন্থে তাঁর বিচিত্র ব্যক্তিমানসের প্রকাশ ঘটেছে।

​উৎসঃ বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

৩৪.
রবীন্দ্রনাথের লিখিত সর্বশেষ উপন্যাস কোনটি?
  1. চার অধ্যায়
  2. মালঞ্চ
  3. শেষলেখা
  4. শেষের কবিতা
ব্যাখ্যা

রবীন্দ্রনাথের লিখিত সর্বশেষ উপন্যাস চার অধ্যায় (১৯৩৪)।

​রবীন্দ্রনাথ রচিত উপন্যাসের সংখ্যা মোট বার। সেগুলো হল : বৌঠাকুরাণীর হাট (১৮৮৩), রাজর্ষি (১৮৮৭), চোখের বালি (১৯০৩), নৌকাডুবি (১৯০৬), গোরা(১৯০৯), ঘরে বাইরে (১৯১৬), চতুরঙ্গ (১৯১৬), যোগাযোগ (১৯২৯), শেষের কবিতা (১৯২৯), দুই বোন (১৯৩৩), মালঞ্চ (১৯৩৩) ও চার অধ্যায় (১৯৩৪) ।

​'শেষলেখা' রবীন্দ্রনাথের লিখিত সর্বশেষ কাব্য।

​উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

৩৫.
মাইকেল মধুসূদন দত্ত কোন গ্রন্থটি ভূদেব মুখোপাধ্যায়কে উৎসর্গ করেন?
  1. হেক্টরবধ
  2. মেঘনাদবধ
  3. ব্রজাঙ্গনা
  4. বীরাঙ্গনা
ব্যাখ্যা

হেক্টরবধ(১৮৭১) হোমারের ইলিয়াড' মহাকাব্যের প্রথম কয়েকটি সর্গের গদ্যে রচিত বঙ্গানুবাদ। গ্রন্থটি ভূদেব মুখোপাধ্যায় কে উৎসর্গ করা হয়েছিলো।
১৮৫৭ সালের সিপাহি বিপ্লবের স্বাধীনতা মন্ত্রে উজ্জীবিত হয়ে রাবণকে নায়ক এবং রামকে খলনায়ক করে মধুসূদন এটি রচনা করেন।
মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত রাধাকৃষ্ণ বিষয়ক গীতিকাব্যের নাম ব্রজাঙ্গনা'। ব্রজাঙ্গনা কাব্যের কবিতাগুলো ওড্ জাতীয় গীতিকবিতা।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৩৬.
আবুল ফজলের রচনা কোনটি?
  1. উত্তম পুরুষ
  2. জননী
  3. শেষ রজনীর চাঁদ
  4. চৌচির
ব্যাখ্যা

ব্যাখ্যা : শওকত ওসমানের প্রথম উপন্যাস 'জননী' (১৯৫৮)। 'উত্তম পুরুষ' রশীদ করিমের উপন্যাস। 'শেষ রজনীর চাঁদ' আবদুল
গাফ্ফার চৌধুরী রচিত উপন্যাস। 'চৌচির' আবুল ফজলের উপন্যাস ।

 

৩৭.
নিচের কোনটি গোয়েন্দাভিত্তিক রচনা?
  1. লাল ফুলকি
  2. জাল
  3. ওয়ারিশ
  4. যাত্রা
ব্যাখ্যা

ব্যাখ্যা : আবু ইসহাকের গোয়েন্দা উপন্যাস 'জাল' (১৯৮৮)। পেশাগত জীবনে ১৯৫০ সালে জাল নোট সংক্রান্ত কয়েকটি মামলা
তদন্তের ভার পড়েছিল লেখকের উপর। সেই তদন্তের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে ‘জাল' উপন্যাস রচনা করেন ।

উৎসঃ শীকর বাংলা প্রশ্ন-পাঠ, মোহসীনা নাজিলা।

৩৮.
রবীন্দ্রনাথ রচিত সাঙ্কেতিক নাটক নয় কোনটি?
  1. কালের যাত্রা'
  2. রাজা’
  3. ‘রুদ্রচণ্ড
  4. প্রায়শ্চিত্ত'
ব্যাখ্যা

‘রুদ্রচণ্ড' (১৮৮১ ‘রবীন্দ্রনাথ রচিত সাঙ্কেতিক নাটক নয়। এটি একটি কাব্যনাট্য।

‘রুদ্রচণ্ড' (১৮৮১), ‘প্রকৃতির প্রতিশোধ' (১৮৮৪), ‘রাজা ও রানী' (১৮৮৯), 'বিসর্জন' (১৮৯০), 'চিত্রাঙ্গদা' (১৮৯২), 'মালিনী' (১৮৯৬) প্রভৃতি তাঁর কাব্যনাট্য।

সাঙ্কেতিক নাটকের মধ্যে উল্লেখযোগ্য : 'শারদোৎসব' (১৯০৮), ‘প্রায়শ্চিত্ত' (১৯০৯), ‘রাজা’(১৯১০), ‘অচলায়তন' (১৯১২), ‘ডাকঘর' (১৯১২), ‘ফাল্গুনী' (১৯১৬), ‘মুক্তধারা’(১৯২৫), ‘রক্তকরবী' (১৯১৬), ‘কালের যাত্রা' (১৯৩২), 'তাসের দেশ' (১৯০৩) ইত্যাদি।

উৎসঃ বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

৩৯.
বিদ্যাসাগরের প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ?
  1. প্রভাবিত সম্ভাষণ
  2. বেতাল পঞ্চবিংশতি'
  3. বাঙ্গালার ইতিহাস
  4. জীবন চরিত
ব্যাখ্যা

বিদ্যাসাগরের প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ ' বেতাল পঞ্চবিংশতি' (১৮৪৭)। হিন্দী কবি লালুজ্জির 'বৈতাল পচ্চিসী' থেকে অনুবাদ করেন।

বেতাল পঞ্চবিংশতি' তে বিদ্যাসাগর প্রথম যতি চিহ্নের সার্থক প্রয়োগ ঘটান।

বিদ্যসাগরের কয়েকটি বিখ্যাত গ্রন্থ
বাঙ্গালার ইতিহাস'(১৮৪৮)
জীবনচরিত'(১৮৪৯)

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৪০.
মীর কাসিমের সঙ্গে ইংরেজদের সংগ্রাম উপজীব্য কোন উপন্যাসের?
  1. ‘মৃণালিনী'
  2. 'দুর্গেশনন্দিনী'
  3. ‘রাজসিংহ'
  4. চন্দ্রশেখর'
ব্যাখ্যা

চন্দ্রশেখর' উপন্যাসের পটভূমিকা ইংরেজ শাসনের প্রতিষ্ঠা এবং মীর কাসিমের সঙ্গে ইংরেজদের সংগ্রাম।
এতে আছে ইতিহাসাশ্রয়ী ঘটনার সঙ্গে গার্হস্থ্য জীবনের কাহিনির সংমিশ্রণ।

উপন্যাসের একদিকে যেমন চন্দ্রশেখর-প্রতাপ- শৈবলিনীর কাহিনি স্থান পেয়েছে, অন্যদিকে তেমনি মীর কাসিম-দলনী বেগমের কাহিনি রূপ লাভ করেছে। ফলে এই দুটি কাহিনির একত্র সম্মিলন উপন্যাসটিতে লক্ষণীয়।

উৎসঃ বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

৪১.
জসীমউদ্দীন রচিত ‘নিমন্ত্রণ' কবিতাটি কোন গ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত?
  1. বালুচর
  2. রাখালী
  3. ধানক্ষেত
  4. মাটির কান্না
ব্যাখ্যা

ধানক্ষেত' কাব্যের কবিতা 'নিমন্ত্রণ' (তুমি যাবে ভাই- যাবে মোর সাথে, আমাদের ছোট গাঁয়/গাছের ছায়ায় লতায় পাতায় উদাসী বনের বায়)।

উৎসঃ শীকর বাংলা প্রশ্ন-পাঠ, মোহসীনা নাজিলা।

৪২.
'মাহবুবা ' নজরুলের কোন গ্রন্থের চরিত্র?
  1. কুহেলিকা
  2. মৃত্যুক্ষুধা
  3. বাঁধনহারা
  4. শিউলিমালা
ব্যাখ্যা

বাঁধনহারা নজরুলের প্রথম উপন্যাস এবং বাংলা সাহিত্যের প্রথম প্রকৃত পত্রোপন্যাস। ১৯২১ সাল থেকে এটি ধারাবাহিকভাবে
'মোসলেম ভারত' পত্রিকায় ছাপা হয়। এই উপন্যাসের প্রধান চরিত্র: নুরুল হুদা, মাহবুবা, সাহসিকা, রাবেয়া।

উৎসঃ বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

৪৩.
কায়কোবাদ এর আখ্যানকাব্য নয় কোনটি ?
  1. শিব মন্দির
  2. অশ্রুমালা
  3. অমিয়ধারা
  4. শ্মশানভষ্ম
ব্যাখ্যা

মহাকাব্য ছাড়া কায়কোবাদ গীতিকবিতা ও কাহিনিকাব্য রচনায় দক্ষতা দেখিয়েছিলেন। তাঁর প্রথম রচিত দুটি কাব্যগ্রন্থ 'বিরহবিলাস'(১৮৭০) ও ‘কুসুমকানন’ (১৮৭৩) অল্প বয়সের রচনা বলে গুরুত্বহীন।

‘অশ্রুমালা' (১৮৯৪) কাব্যটি গীতিকবি হিসেবে কায়কোবাদের প্রতিভার সার্থক পরিচয়বাহক। কাব্যটি এ কারণে তৎকালীন সুধীবৃন্দের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে পেরেছিল।

কায়কোবাদ পরবর্তী পর্যায়ে আখ্যানকাব্য রচনায় মনোযোগী হন। এই প্রসঙ্গে ‘শিব মন্দির’(১৯১৭), অমিয়ধারা (১৯২৩), শ্মশানভষ্ম (১৯২৪), মহরম শরীফ (১৯৩৩) ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য।

এসব কাব্যে কবি ইতিহাসপ্রীতি, স্বাজাত্যবোধ ও নীতিজ্ঞানের পরিচয় দিয়েছেন। কিন্তু এগুলোতে কাব্যকলার উৎকর্ষসাধন মোটেই সম্ভবপর হয় নি।


উৎসঃ বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

৪৪.
কোনটি মীর মশাররফ হোসেনের উপন্যাস ?
  1. 'এর উপায় কি’
  2. গোজীবন'
  3. বেহুলা গীতাভিনয়’
  4. 'গাজী মিঞার বস্তানী'
ব্যাখ্যা

মীর মশাররফ হোসেনের নাটকঃ বেহুলা গীতাভিনয়’।

মশাররফ হোসেনের রচনাবলীর তালিকা দীর্ঘ এবং তা এরূপ :

নাটক : ‘বসন্তকুমারী নাটক’, ‘জমীদার দর্পণ', 'বেহুলা গীতাভিনয়’, ‘টালা অভিনয়’।

উপন্যাস : 'রত্নবতী', 'বিষাদসিন্ধু', 'উদাসীন পথিকের মনের কথা', 'গাজী মিঞার বস্তানী', 'ইসলামের জয়', 'রাজিয়া খাতুন', 'তহমিনা', 'বাঁধা খাতা’, ‘নিয়তি কি অবনতি’।

প্রহসন : 'এর উপায় কি’, 'ভাই ভাই এইত চাই', ‘ফাঁস কাগজ’, 'একি' ।

প্রবন্ধ : 'গোজীবন', 'খোতবা', 'মুসলমানের বাংলা শিক্ষা’, ‘আমার জীবনী', ‘হযরত ইউসোফ’, 'বিবি কুলসুম বা আমার জীবনীর জীবনী'।

উৎসঃ বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

৪৫.
জসীমউদ্দীনের কাব্য নয় কোনটি?
  1. ‘রূপবতী’
  2. মা যে জননী কান্দে'
  3. 'মাটির কান্না'
  4. পদ্মাপার
ব্যাখ্যা

পদ্মাপার’, ‘বেদের মেয়ে', 'মধুমালা', ‘পল্লীবধূ’, ‘ওগো পুষ্পধনু' প্রভৃতি তাঁর গীতিনাট্য। ‘

তাঁর কাব্য গ্রন্থগুলোর নাম : 'রাখালী', 'নকশী কাঁথার মাঠ', 'বালুচর', ‘ধানখেত’, ‘সোজন : বাদিয়ার ঘাট', 'মাটির কান্না', 'হাসু', 'রঙিলা নায়ের মাঝি', 'এক পয়সার বাঁশি', ‘রূপবতী’, ‘গাঙের পাড়’, ‘সকিনা', 'মা যে জননী কান্দে', 'সুচয়নী' ইত্যাদি ।

উৎসঃ বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

৪৬.
'হাতেমতায়ী" ফররুখ আহমদের কোন ধরণের রচনা?
  1. সনেট সঙ্কলন
  2. কাব্যনাট্য
  3. কাহিনিকাব্য
  4. শিশুতোষ গ্রন্থ
ব্যাখ্যা

'হাতেমতায়ী"(১৯৬৬) ফররুখ আহমদের কাহিনিকাব্য।

'মুহূর্তের কবিতা' ফররুখ আহমদের সনেট সংকলন।

'নৌফেল ও হাতেম' তাঁর কাব্যনাট্য।

ফররুখ আহমদের কাব্যগ্রন্থগুলোর নাম : ‘সাত সাগরের মাঝি', 'সিরাজাম মুনীরা', 'পাখির বাসা', 'হরফের ছড়া' ইত্যাদি।

উৎসঃ বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

৪৭.
ঈশ্বর গুপ্তের কবিতা নয় কোনটি?
  1. নীলকর
  2. পায়েস
  3. শাস্ত্রপাঠ
  4. আম্র
ব্যাখ্যা

ঈশ্বর গুপ্তের বিখ্যাত কবিতা হলো।
নীলকর,
পায়েস,
ভাষা,
মানুষ কে?,
শাস্ত্রপাঠ,
তপসে মাছ,
বাঙ্গালির মেয়ে,
স্বদেশ,
পাঁঠা।

তার রচিত এবং সম্পাদিত গ্রন্থসমূহ হলো
প্রবোধ প্রভাকর,
হিত প্রভাকর,
আম্র,(১৮১২)
বোধেন্দু বিকাশ।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৪৮.
যযাতি' কোন নাটকের উল্লেখযোগ্য চরিত্র?
  1. শর্মিষ্ঠা
  2. পদ্মাবতী
  3. কৃষ্ণকুমারী
  4. উপরের কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

শর্মিষ্ঠা (১৮৫৯) বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক নাটক। এবং মধুসূদন দত্তের প্রথম নাটক।

​​শর্মিষ্ঠা নাটকের উল্লেখযোগ্য চরিত্র হলোঃ
দেবযানী,
যযাতি,
শুক্রাচার্য,
বৃষপর্বা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৪৯.
মীর মশাররফ হোসেনের ‘মোসলেম বীরত্ব” কোন ধরনের গ্রন্থ?
  1. উপন্যাস
  2. কাব্যগ্রন্থ
  3. প্ৰবন্ধ
  4. নাটক
ব্যাখ্যা

ব্যাখ্যা : মীর মশাররফ হোসেনের কাব্য- গড়াই ব্রিজ বা গৌরী সেতু (১৮৭৩), মদীনার গৌরব (১৯০৬), মোসলেম বীরত্ব (১৯০৭),
বাজীমাত (১৯০৮, নকশা জাতীয় কাব্য), পঞ্চনারী ।

উৎসঃ শীকর বাংলা প্রশ্ন-পাঠ, মোহসীনা নাজিলা।

৫০.
নিচের কোনটি ব্যতিক্রম?
  1. গীতাঞ্জলি
  2. গীতালি
  3. গীতবিতান
  4. গীতিগুচ্ছ
ব্যাখ্যা

ব্যাখ্যা : সুকান্ত ভট্টাচার্য রচিত গ্রন্থ- গীতিগুচ্ছ। বাকীগুলো রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত গ্রন্থ ।

উৎসঃ শীকর বাংলা প্রশ্ন-পাঠ, মোহসীনা নাজিলা।

৫১.
আল মাহমুদের প্রথম কাব্য ‘লোক-লোকান্তর' কত সালে প্রকাশিত হয়?
  1. ১৯৬২
  2. ১৯৬৩
  3. ১৯৬৪
  4. ১৯৬৫
ব্যাখ্যা

আল মাহমুদের প্রথম কাব্য ‘লোক-লোকান্তর' ১৯৬৩ সালে প্রকাশিত হয়।

উৎসঃ শীকর বাংলা প্রশ্ন-পাঠ, মোহসীনা নাজিলা।

৫২.
'বসুন্ধরা' কবিতা কোন কাব্যের অন্তর্ভুক্ত?
  1. 'চিত্রা'
  2. সোনার তরী'
  3. ‘মানসী'
  4. কড়ি ও কোমল'
ব্যাখ্যা

সোনার তরী' কাব্যের 'বসুন্ধরা' কবিতায় জগতের সৌন্দর্যপিপাসু কবিমানসের পরিচয় প্রকাশ করে কবি জানিয়েছেন : ইচ্ছা করে, বার বার মিটাইতে সাধ পান করি বিশ্বের সকল পাত্র হতে আনন্দমদিরা ধারা নব নব স্রোতে।

উৎসঃ বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

৫৩.
কোনটি রবীন্দ্রনাথের কাব্য নয়?
  1. আকাশ প্রদীপ'
  2. সেঁজুতি’
  3. ‘নবজাতক'
  4. 'লিপিকা'
ব্যাখ্যা

রবীন্দ্রনাথ 'লিপিকা' গদ্যগ্রন্থে গদ্যছন্দের পরীক্ষাকার্য চালিয়েছিলেন এবং পরবর্তী কাব্য 'পুনশ্চ', ‘শেষ সপ্তক', 'পত্রপুট' ও 'শ্যামলী'—এই চারটি গ্রন্থে এই ছন্দে রচিত কবিতা বিধৃত।

কবির পরবর্তী কাব্যগুলো শেষ পর্বের নিদর্শন। 'প্রান্তিক', 'আকাশ প্রদীপ', ‘সেঁজুতি’, ‘নবজাতক', 'সানাই', ‘রোগশয্যায়', 'আরোগ্য', 'জন্মদিনে' প্রভৃতি কাব্যগ্রন্থ এই শ্রেণিভুক্ত। এদের কতকগুলোর মধ্যে শৈথিল্যপূর্ণ কবিকল্পনা সহজ সরল ছন্দ সহকারে প্রকাশ পেয়েছে।

উৎসঃ বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

৫৪.
‘যে জাতি মনে বড় নয়, সে জাতি জ্ঞানেও বড় নয়;' উক্তিটি কোন প্রবন্ধের।
  1. কথার কথা
  2. সাহিত্যে খেলা
  3.  বই পড়া
  4. যৌবনে দাও রাজটিকা
ব্যাখ্যা

যে জাতি মনে বড় নয়, সে জাতি জ্ঞানে বড় নয়' এ কথাপ্রমথ চৌধুরী ‘বইপড়া' প্রবন্ধে  বলেছেন ।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৫৫.
‘সর্বদাই হুহু করে মন / বিশ্ব যেন মরুর মতন' কোন কাব্যের অংশবিশেষ?
  1. ‘সারদা মঙ্গল'
  2. স্বপ্নদর্শন'
  3. ‘বঙ্গসুন্দরী'
  4. ‘নিসর্গ সন্দর্শন'
ব্যাখ্যা

বিহারীলালের প্রথম সার্থক গীতিকবিতার গ্রন্থ ‘বঙ্গসুন্দরী' (১৮৭০)। এ কাব্যে কবি বলেছেন : ‘সর্বদাই হুহু করে মন / বিশ্ব যেন মরুর মতন / চারিদিকে ঝালাপালা / উঃ কি জ্বলন্ত জ্বালা / অগ্নিকুণ্ডে পতঙ্গ পতন।'

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৫৬.
রবীন্দ্রনাথের রাজনীতি বিষয়ক প্রবন্ধ গ্রন্থ কোনটি?
  1. শান্তিনিকেতন
  2. শিক্ষা'
  3. পরিচয়
  4. উপরের কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

‘ধর্ম’, শান্তিনিকেতন’, ‘মানুষের ধর্ম’ প্রভৃতি তাঁর ধর্ম ও দর্শনবিষয়ক প্রবন্ধগ্রন্থ।

‘আত্মশক্তি’, ‘ভারতবর্ষ’, ‘রাজাপ্রজা', 'স্বদেশ', 'পরিচয়', 'কালান্তর', ‘সভ্যতার সঙ্কট' প্রভৃতি গ্রন্থ তাঁর রাজনীতি বিষয়ক মতবাদ প্রকাশক। দেশের রাজনীতি, সমাজনীতি প্রভৃতি বিষয়ে তিনি যে সচেতন ছিলেন তার প্রমাণ এসব গ্রন্থ থেকে লাভ করা যায়।

​‘শিক্ষা' গ্রন্থে রবীন্দ্রনাথ দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার নানা সমস্যার প্রতি আলোকপাত করেছেন।

​উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

৫৭.
জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ঠাকুর এর পিতামহের নাম—
  1. দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. দ্বারকানাথ ঠাকুর
  3. জ্ঞানেন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা

জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ঠাকুর এর পিতামহ দ্বারকানাথ ঠাকুর। দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর এর পিতা।
​জ্ঞানেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ঠাকুর এর ভাই।

​উৎসঃ বাংলাপিডিয়া।

৫৮.
'বিজয়পাণ্ডবকথা' অথবা 'ভারত পাঁচালি' নামে গ্রন্থ অনূদিত করেন কে-
  1. কাশীরাম দাশ
  2. কবিন্দ্র পরমেশ্বর 
  3. ব্যাসদেব
  4. উপরের কেউই নয় 
ব্যাখ্যা

মহাভারত প্রথম অনুবাদ করেন কবীন্দ পরমেশ্বর।

তিনি তার অনুবাদকৃত বইয়ের নাম দিয়েছিলেন  'বিজয়পাণ্ডবকথা' অথবা 'ভারত পাঁচালি ।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর

৫৯.
কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম প্রকাশিত রচনা কোনটি?
  1. বাউণ্ডলের আত্মকাহিনী
  2. মুক্তি
  3. হেবা
  4. বিদ্রোহী
ব্যাখ্যা

ব্যাখ্যা : কাজী নজরুলের প্রথম প্রকাশিত লেখা 'বাউণ্ডলের আত্মকাহিনী' । ১৯১৯ সালে সওগাত পত্রিকার মে-জুন সংখ্যায় প্রকাশিত
হয়।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৬০.
জাতীয় কবি নজরুল ইসলামের মৃত্যু বরণ করেন-
  1. ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৩৮৩ বঙ্গাব্দ
  2. ১ ভাদ্র ১৩৮৩ বঙ্গাব্দ
  3. ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৩৮৩ বঙ্গাব্দ
  4. ১২ ভাদ্র ১৩৮৩ বঙ্গাব্দ
ব্যাখ্যা

ব্যাখ্যা : কবি কাজী নজরুল ইসলাম ১২ ভাদ্র ১৩৮৩ বঙ্গাব্দ সকাল ১০ টা ১০ মিনিটে ঢাকার পিজি হাসপাতালে ইন্তিকাল করেন।

উৎসঃ শীকর বাংলা প্রশ্ন-পাঠ, মোহসীনা নাজিলা।

৬১.
কাজী নজরুল ইসলামের সামাজিক উপন্যাস কোনটি
  1. বাঁধনহারা 
  2. কুহেলিকা
  3. মৃত্যুক্ষুধা
  4. উপরের কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

কাজী নজরুল ইসলামের সামাজিক উপন্যাস  মৃত্যুক্ষুধা ,
কাজী নজরুল ইসলামের রাজনৈতিক উপন্যাস  কুহেলিকা।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৬২.
কবি জসীমউদ্দীন কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেছেন?
  1. রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
  2. ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
  3. করাচি বিশ্ববিদ্যালয়
  4. কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়
ব্যাখ্যা

ব্যাখ্যা : কবি জসীমউদ্দীন ১৯৩৮ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের প্রভাষক হিসেবে যোগদান করেন। ১৯৪৩ সাল পর্যন্ত
এ পদে বহাল ছিলেন। জসীমউদ্দীনের কর্মজীবন শুরু হয় পল্লিসাহিত্যের সংগ্রাহক হিসেবে। স্নাতকোত্তর শ্রেণীতে অধ্যয়নকালে দীনেশচন্দ্র সেনের আনুকূল্যে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক এ কাজে তিনি নিযুক্ত হন। এমএ পাস করার পর থেকে ১৯৩৭ সাল পর্যন্ত তিনি উক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে দীনেশচন্দ্র সেনের অধীনে  রামতনু লাহিড়ী গবেষণা সহকারী ছিলেন। ১৯৩৮ সালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে লেকচারার পদে যোগদান করেন। এখানে ১৯৪৩ সাল পর্যন্ত চাকরি করার পর ১৯৪৪ সাল থেকে তিনি প্রথমে বঙ্গীয় প্রাদেশিক সরকার এবং পরে পূর্ব পাকিস্তান সরকারের প্রচার বিভাগের কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৬২ সালে এখান থেকে ডেপুটি ডাইরেক্টর হিসেবে অবসর গ্রহণ করে তিনি ঢাকার কমলাপুরে নিজ বাড়িতে স্থায়িভাবে বসবাস করেন।

উৎসঃ  বাংলাপিডিয়া

৬৩.
A Poet Apart' লিখেছেন কে?
  1. ক্লিনটন বি সিলি
  2. অরুন্ধতী রায়
  3. ডব্লিউ বি ইয়েটস
  4. অমিতাভ ঘোষ
ব্যাখ্যা

ব্যাখ্যা : মার্কিন অধ্যাপক ক্লিনটন বুথ সিলি কবি জীবনানন্দ দাশের কবিতা নিয়ে পিএইচডি (১৯৭৬) করেছেন। জীবনানন্দ দাশ সম্পর্কে তার লেখা গ্রন্থ 'A Poet Apart: A Literary Biography of the Bengali Poet Jibanananda Das,
(1899-1954)'

 

৬৪.
মীর মশাররফ হোসেনের কোন গ্রন্থের উপজীব্য হিন্দু-মুসলমানের বিরোধ?
  1. গো-জীবন
  2. ইসলামের জয়
  3. এর উপায় কী
  4. বসন্তকুমারী নাটক
ব্যাখ্যা

ব্যাখ্যা : মীর মশাররফ হোসেনের প্রবন্ধ 'গো-জীবন (১৮৮৯)। এ গ্রন্থে তিনি হিন্দু মুসলিম ঐক্য দৃঢ় করতে গরু কোরবানীর বিপক্ষে
মত দেন। ফলে তার বিরুদ্ধে মামলা হয়। শেষ পর্যন্ত আদালতের নির্দেশ দেয় প্রবন্ধটি পুনর্মুদ্রণ না করার জন্য।

উৎসঃ শীকর বাংলা প্রশ্ন-পাঠ, মোহসীনা নাজিলা।

৬৫.
নিচের কোনটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর প্রণীত শিক্ষা বিষয়ক রচনা?
  1. শিক্ষাতত্ত্ব
  2. শিক্ষার বুনিয়াদ
  3. শিক্ষার রুপরেখা
  4. শিক্ষার হেরফের
ব্যাখ্যা

রবীন্দ্রনাথের প্রবন্ধ গ্রন্থ 'শিক্ষা'র একটি প্রবন্ধ ' শিক্ষার হেরফের'।

উৎসঃ রবীন্দ্র রচনাবলি একাদশ খণ্ড।

৬৬.
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে সম্মানসূচক জগত্তারিণী স্বর্ণপদক প্রদান করে কোন বিশ্ববিদ্যালয়?
  1. কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়
  2. ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
  3. আসাম বিশ্ববিদ্যালয়
  4. দিল্লী বিশ্ববিদ্যালয়
ব্যাখ্যা

ব্যাখ্যা : শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে জগত্তারিণী স্বর্ণপদক (১৯২৩), ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডি.লিট
(১৯৩৬) ডিগ্রি অর্জন করেন।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর

৬৭.
“কাটা-কুঞ্জে বসি তুই গাঁথিবি মালিকা দিয়া গেনু ভালে তোর বেদনার টীকা”- এই উদ্ধৃতাংশটি কোন কবির রচনা?
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. কাজী নজরুল ইসলাম
  3. জসীম উদ্দীন
  4. ইসমাইল হোসেন সিরাজী
ব্যাখ্যা

ব্যাখ্যা : কাজী নজরুল ইসলামের 'দারিদ্র্য' কবিতার পঙক্তি- “কাঁটা-কুঞ্জে বসি তুই গাঁথিবি মালিকা দিয়া গেনু ভালে তোর বেদনার টীকা!... গাহি গান, গাঁথি মালা, কণ্ঠ করে জ্বালা দংশিল সর্বাঙ্গে মোর নাগ-নাগবালা!...

৬৮.
‘আজি রক্ত নিশি ভোরে একি এ শুনি ওরে মুক্তি কোলাহল বন্দী-শৃঙ্খলে।' চরণগুলির রচয়িতা কে?
  1. ফররুখ আহমেদ
  2. কাজী নজরুল ইসলাম
  3. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. সুকান্ত ভট্টাচার্য
ব্যাখ্যা

ব্যাখ্যা : কাজী নজরুল ইসলামের 'বিষের বাঁশি' কাব্যগ্রন্থের ‘বন্দি-বন্দনা' কবিতার চরণ-“আজি রক্ত-নিশি-ভোরে একী এ শুনি ওরে, মুক্তি-কোলাহল বন্দি-শৃঙ্খলে, ওই কাহারা কারাবাসে মুক্তি-হাসি হাসে, টুটেছে ভয়-বাধা স্বাধীন হিয়া-তলে ॥”

উৎসঃ শীকর বাংলা প্রশ্ন-পাঠ, মোহসীনা নাজিলা।

৬৯.
জসীম উদদীনের 'ঠাকুর বাড়ির আঙিনায়'-
  1. ভ্রমণকাহিনি 
  2. আত্মজীবনী
  3. স্মৃতিকথা
  4. উপরের কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

ব্যাখ্যা : জসীম উদদীনের 'ঠাকুর বাড়ির আঙিনায়'- 'স্মৃতিকথা জাতীয় গদ্যগ্রন্থ।

 উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর

৭০.
‘আমরা যদি না জাগি মা, কেমনে সকাল হবে'- এই পঙক্তির রচয়িতা কে?
  1. কামিনী রায়
  2. কুসুমকুমারি দাশ
  3. জসীম উদ্দীন
  4. কাজী নজরুল ইসলাম
ব্যাখ্যা

ব্যাখ্যা: কাজী নজরুল ইসলামের ‘খোকার সাধ' (আমি হব সকাল বেলার পাখি) কবিতার চরণ এটি।

উৎসঃ শীকর বাংলা প্রশ্ন-পাঠ, মোহসীনা নাজিলা।

৭১.
ভেঙে আবার গড়তে জানে সে চির-সুন্দর! 
তোরা সব জয়ধ্বনি কর্! ! চরণটি কোন কবিতার-
  1. প্রলয়োল্লাস
  2. বিদ্রোহী
  3. ধূমকেতু
  4. আগমনী
ব্যাখ্যা

ব্যাখ্যা : কাজী নজরুল ইসলামের 'অগ্নিবীণা' কাব্যের 'প্রলয়োল্লাস' কবিতার চরণ- 'ভেঙে আবার গড়তে জানে সে চির-সুন্দর! 
তোরা সব জয়ধ্বনি কর্!

 

৭২.
ধ্বনিয়া উঠিছে শূন্য নিখিলের পাখার এ গানে/ হেথা নয়, অন্য কথা, অন্য কথা, অন্য কোনখানে' কবিতাংশটি রবীন্দ্রনাথের কোন কাব্যের অংশ?
  1. মানসী
  2. বলাকা
  3. পুনশ্চ
  4. চিত্রা
ব্যাখ্যা

' ধ্বনিয়া উঠিছে শূন্য নিখিলের পাখার এ গানে- হেথা নয়, অন্য কথা, অন্য কথা, অন্য কোনখানে। এই অংশটুকু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'বলাকা' কাব্যের '৩৬ সংখ্যক কবিতা।

উৎসঃ বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৭৩.
আমাদের ধর্ম হোক ফসলের সুষম বন্টন, কোন কবি বলেছেন?
  1. সুকান্ত ভট্টাচার্য
  2. সমর সেন
  3. জসীমউদ্দীন
  4. আল মাহমুদ
ব্যাখ্যা

ব্যাখ্যা : 'আমাদের স্বপ্ন হোক ফসলের সুষম বন্টন- কবি আল মাহমুদের বিখ্যাত উক্তি। 
উল্লেখ্য, আল মাহমুদের 'সোনালী কাবিন' কাব্যের চরণ- ‘আমাদের ধর্ম হোক ফসলের সুষম বন্টন ।

উৎসঃ শীকর বাংলা প্রশ্ন-পাঠ, মোহসীনা নাজিলা।

৭৪.
কোনটি পৌরানিক শ্রেণিভুক্ত মঙ্গলকাব্য-
  1. মনসামঙ্গল
  2. কালিকামঙ্গল
  3. গৌরিমঙ্গল 
  4. সারদামঙ্গল
ব্যাখ্যা

 পৌরানিক শ্রেণিভুক্ত মঙ্গলকাব্য-
গৌরিমঙ্গল 
ভবানীমঙ্গল 
দুর্গামঙ্গল 
অন্নদামঙ্গল 
চণ্ডীকামঙ্গল 

 লৌকিক শ্রেণিভুক্ত মঙ্গলকাব্য-
মনসামঙ্গল
কালিকামঙ্গল
সারদামঙ্গল

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর

৭৫.
'এখন যৌবন যার মিছিলে যাবার তার শ্রেষ্ঠ সময়' * এখন যৌবন যার যুদ্ধে যাবার তার শ্রেষ্ঠ সময়'- এই স্মরণীয় পক্তি রচনা করেছেন-
  1. রফিক আজাদ
  2. রুদ্র মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ
  3. হেলাল হাফিজ
  4. সুকান্ত ভট্টাচার্য
ব্যাখ্যা

ব্যাখ্যা : হেলাল হাফিজের বিখ্যাত কবিতা- 'নিষিদ্ধ সম্পাদকীয়'। ১৯৬৯ এর গণঅভ্যূত্থানের সময় লেখা। এ কবিতার প্রথম দুটি
চরণ-
“ এখন যৌবন যার মিছিলে যাবার তার শ্রেষ্ঠ সময়
এখন যৌবন যার যুদ্ধে যাবার তার শ্রেষ্ঠ সময়।”

উৎস, নিষিদ্ধ সম্পাদকীয় হেলাল হাফিজ

৭৬.
কাজী নজরুলের 'কুহেলিকা' কী ধরনের উপন্যাস-
  1. প্রেমমূলক
  2. সামাজিক
  3. রাজনৈতিক
  4. ঐতিহাসিক
ব্যাখ্যা

কাজী নজরুলের 'কুহেলিকা'  রাজনৈতিক উপন্যাস। 

 উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৭৭.
“কী করিছ বনে কুঞ্জভবনে?” চরণটির লেখক
  1. রোকেয়া
  2. রবীন্দ্রনাথ
  3. জসীমউদ্দীন
  4. আল মাহমুদ
ব্যাখ্যা

ব্যাখ্যা : রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'মানসী' কাব্যের ‘নবদম্পতির প্রেমালাপ' কবিতার চরণ- ‘মন সুখস্মৃতি- সমাকুল-- কী করিছ বনে কুঞ্জভবনে? কনে। খেতেছি বসিয়া টোপাকুল।'

উৎসঃ শীকর বাংলা প্রশ্ন-পাঠ, মোহসীনা নাজিলা।

৭৮.
মানুষ যা চায় ভুল করে চায়, যা পায় তা চায় না' কার কথা?
  1. ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
  2. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. শেক্সপিয়ার
  4. কবি কায়কোবাদ
ব্যাখ্যা

ব্যাখ্যা : রবীন্দ্রনাথের 'মরীচিকা' কবিতার উক্তি ‘যাহা চাই তাহা ভুল করে চাই, যাহা পাই তাহা চাই না।'

উৎসঃ শীকর বাংলা প্রশ্ন-পাঠ, মোহসীনা নাজিলা।

৭৯.
‘অনিলা' কোন গল্পের নায়িকা?
  1. স্ত্রীর পত্র
  2. নষ্টনীড়
  3. বোষ্টমী
  4. পয়লা নম্বর
ব্যাখ্যা

ব্যাখ্যা : রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'পয়লা নম্বর' ছোটগল্পের নায়িকা ছিলেন অনিলা। এই নামের অর্থ ‘মৃদু বাতাস' ।

উৎসঃ শীকর বাংলা প্রশ্ন-পাঠ, মোহসীনা নাজিলা।

৮০.
ষোড়শী কোন গ্রন্থের উল্লেখযোগ্য চরিত্র?
  1. বড়দিদি
  2. শ্রীকান্ত
  3. দেনাপাওনা
  4. পল্লীসমাজ
ব্যাখ্যা

‘দেবদাস' উপন্যাসের পার্বতী, ‘দেনাপাওনা' উপন্যাসের ষোড়শী, ‘বড়দিদি'র মাধবী—প্রভৃতি নারী চরিত্রের হৃদয়ের প্রবৃত্তির সঙ্গে সমাজ ও প্রচলিত সংস্কারের দ্বন্দ্বই প্রবল হয়ে দেখা দিয়েছে। কেবল দেহধর্মগত নীতিবোধ মেনে চললেই চরিত্রবান হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়া যায়, শরৎচন্দ্র একথা মোটেই বিশ্বাস করতেন না। তাই তাঁর মতানুসারে দেহধর্মকে কেন্দ্র করে নীতিবোধের প্রাধান্য লাভকেই সতীত্বের একমাত্র মাপকাঠি হিসেবে নির্ধারণ করা চলে না। তাঁর দৃষ্টিতে প্রেম সতীত্বের চেয়েও মহত্তর। শরৎচন্দ্রের কয়েকটি উপন্যাসে এই মতবাদের সমর্থন মিলে। এ ধরনের বাস্তবপ্রিয়তা, গভীর সমাজ সচেতনতা এবং ব্যাপক মনস্তত্ত্বজ্ঞান ভিত্তি করে গড়ে ওঠার জন্য তাঁর সৃষ্ট চরিত্রগুলো জীবন্ত বলে প্রতীয়মান হয়।

উৎসঃ বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

৮১.
‘শর্মিলা' চরিত্রটি রয়েছে কোন সাহিত্যকর্মে?
  1. দুইবোন
  2. মেজোদিদি
  3. বড়দিদি
  4. বউঠাকুরানীর হাট
ব্যাখ্যা

ব্যাখ্যা : রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের দুইবোন উপন্যাসের চরিত্র- শর্মিলা, উর্মিলা, শশাঙ্ক।
উৎসঃ শীকর বাংলা প্রশ্ন-পাঠ, মোহসীনা নাজিলা।

৮২.
‘অমর সিংহ’ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কোন ছোটগল্পের চরিত্র
  1. ভিখারিণী
  2. ল্যাবরেটরী
  3. একরাত্রি
  4. সাধনা
ব্যাখ্যা

ব্যাখ্যা : রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'একরাত্রি' গল্পের চরিত্র সুরবালা। 'ভিখারিনী' গল্পের প্রধান চরিত্র কমল দেবী ও অমর সিংহ। ল্যাবরেটরী
গল্পের প্রধান চরিত্র নন্দকিশোর মল্লিক ও সোহিনী।

উৎসঃ শীকর বাংলা প্রশ্ন-পাঠ, মোহসীনা নাজিলা।

৮৩.
'বিজয়া' কোন গ্রন্থের উল্লেখযোগ্য চরিত্র?
  1. বড়দিদি
  2. পল্লীসমাজ
  3. দেনাপাওনা'
  4. দত্তা'
ব্যাখ্যা

'দত্তা' (১৯১৮) শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত সুখপাঠ্য প্রেমের উপন্যাস। ১৩২৪-'২৫ বঙ্গাব্দে ‘ভারতবর্ষে' প্রকাশিত হয়।এই উপন্যাসটি ‘বিজয়া” (১৯৪৩) নামে নাট্যায়িত হয়।

উল্লেখযোগ্য চরিত্র :বিজয়া, নরেন, রাসবিহারী, . বনমালী।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৮৪.
‘গেছে দেশ দুঃখ নাই, আবার তোরা মানুষ হ ,' প্রবন্ধটি কাজী নজরুল ইসলামের কোন গ্রন্থ থেকে সংকলিত হয়েছে?
  1. যুগবাণী
  2. রুদ্র-মঙ্গল
  3. দুর্দিনের যাত্রী
  4. উপরের কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

ব্যাখ্যা : কাজী নজরুল ইসলামের 'যুগবাণী'' প্রবন্ধগ্রন্থের একটি প্রবন্ধ ‘গেছে দেশ দুঃখ নাই, আবার তোরা মানুষ হ' ।

উৎসঃ যুগবাণী', কাজী নজরুল ইসলাম।

৮৫.
প্রভাত চিন্তা’ ‘নিভৃত চিন্তা’ ‘নিশীথ চিন্তা’ প্রভৃতি গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. কালীপ্রসন্ন সিংহ
  2. কালীপ্রসন্ন ঘোষ
  3. বিহারীলাল চক্রবর্তী
  4. কামিনী রায়
ব্যাখ্যা

 কালীপ্রসন্ন দর্শন ও সমাজ সম্পর্কে অনেক মূল্যবান প্রবন্ধ ও গ্রন্থ রচনা করেন।

তাঁর প্রবন্ধগুলির মধ্যে উল্লেখযোগ্য:
- প্রভাত-চিন্তা (১৮৭৭),
- নিভৃত-চিন্তা (১৮৮৩),
- নারীজাতিবিষয়ক প্রস্তাব (১৮৯৬) ও
- নিশীথ-চিন্তা (১৮৯৬)। 

তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থগুলি হচ্ছে:
- ভ্রান্তিবিনোদ (১৮৮১),
- প্রমোদলহরী (১৮৯৫),
- ভক্তির জয় (১৮৯৫),
- মা না মহাশক্তি (১৯০৫),
- জানকীর অগ্নিপরীক্ষা (১৯০৫),
- ছায়াদর্শন (১৯০৫) প্রভৃতি।

- এ ছাড়া সঙ্গীতমঞ্জরী (১৮৭২) নামে একখানা আধ্যাত্মিক সঙ্গীতসংগ্রহ এবং কোমল কবিতা (১৮৮৮) নামে একখানা শিশুপাঠ্য গ্রন্থও তিনি রচনা করেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

৮৬.
‘রচনার শিল্পগুণ' প্রবন্ধটি কার লেখা? 
  1. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  2. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  3. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. প্রমথ চৌধুরী
ব্যাখ্যা

ব্যাখ্যা : বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের প্রবন্ধ 'রচনার শিল্পগুণ । এখানে তিনি বলেন, রচনার দুটি গুণ হচ্ছে- অর্থব্যক্তি ও প্রাঞ্জলতা ।

উৎসঃ শীকর বাংলা প্রশ্ন-পাঠ, মোহসীনা নাজিলা।

৮৭.
শরৎচন্দ্র' কোন উপন্যাস মৃত্যুর পূর্বে শেষ করতে পারেননি ?
  1. ‘শেষপ্রশ্ন'
  2. শেষের পরিচয়'
  3. ‘মেজদিদি
  4. বড়দিদি'
ব্যাখ্যা

শেষের পরিচয়' (১৯৩৯) শরৎচন্দ্র মৃত্যুর পূর্বে শেষ করতে পারেন নি।

‘শেষপ্রশ্ন' (১৯৩১) শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত বিতর্কপ্রধান সমস্যামূলক উপন্যাস। শরৎচন্দ্রের মূল উপন্যাস ধারা থেকে এটি কিছুটা পৃথক। উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র কমল।
'বড়দিদি' (১৯১৩) শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত প্রথম মুদ্রিত উপন্যাস। এই উপন্যাসটি সরলা দেবী সম্পাদিত ‘ভারতী' পত্রিকায় প্রকাশকালে বাংলা সাহিত্যে আলোড়নের সৃষ্টি করে। প্রথমে এর নাম ছিল ‘শিশু'।

‘মেজদিদি’ (১৯১৫) শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের গল্পগ্রন্থ।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৮৮.
চর্যাপদের ২৩ নং পদটির রচয়িতা-
  1. কাহ্নপা
  2. ভুসুকুপা 
  3. কুক্কুরিপা
  4. তন্ত্রিপা
ব্যাখ্যা

ব্যাখ্যা :  চর্যাপদের ২৩ নং পদটির রচয়িতা ভুসুকুপা। পদটির অর্ধেক  অনুদ্ধার বা বিলুপ্ত । ২৪, ২৫, ৪৮ নং পদ্গুলো অনুদ্ধার বা বিলুপ্ত। 
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর

৮৯.
রামায়নের কান্ড নয়-
  1. অরণ্যকান্ড
  2. পূর্বকান্ড
  3. কিষ্কিন্ধ্যাকান্ড
  4. লঙ্কাকান্ডে
ব্যাখ্যা

আদিকান্ডে রামের জন্ম ও বাল্যজীবন; অযোধ্যাকান্ডে অযোধ্যা থেকে রামের নির্বাসন; অরণ্যকান্ডে রাম-লক্ষ্মণ-সীতার বনবাস ও রাবণ কর্তৃক সীতাহরণ; কিষ্কিন্ধ্যাকান্ডে বানররাজ সুগ্রীবের সঙ্গে রামের মিত্রতা; সুন্দরকান্ডে রামের সসৈন্যে লঙ্কা গমন; লঙ্কাকান্ডে রাম-রাবণের যুদ্ধ, যুদ্ধে রাবণের পরাজয় ও সবংশে মৃত্যু, রাম কর্তৃক সীতা উদ্ধার ও রাবণভ্রাতা বিভীষণকে লঙ্কার রাজা করে সদলে অযোধ্যায় প্রত্যাবর্তন; এবং উত্তরকান্ডে  রামচন্দ্র কর্তৃক সীতাবিসর্জন, লব-কুশের জন্ম, রাম-সীতার পুনর্মিলন এবং মৃত্যু এ বিষয়গুলি বর্ণিত হয়েছে।

উৎসঃ বাংলাপিডিয়া

৯০.
'বিদ্রোহী' কবিতাটি কোন সনে প্রথম প্রকাশিত হয়?
  1. ১৯২১
  2. ১৯২২
  3. ১৯২৩
  4. উপরের কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

ব্যাখ্যা : কাজী নজরুল ইসলামের 'বিদ্রোহী' কবিতাটি 'মোসলেম ভারত' পত্রিকার কার্তিক ১৩২৮ সংখ্যা এবং ১৩২৮ সালের ২২শে
পৌষ (৬ জানুয়ারি, ১৯২২) সাপ্তাহিক বিজলী পত্রিকায় যুগপৎ প্রকাশিত হয়। প্রবাসী পত্রিকার মাঘ ১৩২৮ সংখ্যাও প্রকাশিত হয়।


উৎসঃ নজরুল তারিখ অভিধান, বাংলা একাডেমি।

৯১.
'তোয়ালে' কোন ভাষার অন্তর্গত শব্দ- 
  1. ফারসি
  2. পর্তুগিজ
  3. ওলন্দাজ
  4. পাঞ্জাবি
ব্যাখ্যা

পর্তুগিজ শব্দ: তোয়ালে কপি, কাজু, কামরা, কেদারা, গামলা, গির্জা, গুদাম, চাবি, জানালা, তামাক, তোয়ালে, নিলাম, পাউরুটি, পাদ্রি, পিরিচ, পিস্তল, পেঁপে, পেয়ারা, পেরেক, বালতি, বৈয়াম, বোতল, বোম্বেটে, মাইরি, মার্কা, যিশু, সাবান, সাবু।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৯২.
'সাবান' শব্দটি বাংলা ভাষা গ্রহণ করেছে
  1. আরবি হতে
  2. ফারসি হতে
  3. পর্তুগিজ হতে
  4. ফরাসি হতে
ব্যাখ্যা

সাবান' শব্দটি বাংলা ভাষা গ্রহণ করেছে পর্তুগিজ ভাষা হতে।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর

৯৩.
চলিত রীতির নতুন নাম 'প্রমিত রীতি' হয় কখন?
  1. বিশ শতকের শেষলগ্নে
  2. বিশ শতকের সূচনাকালে
  3. একুশ শতকের সূচনাকালে
  4. একুশ শতকের শেষলগ্নে
ব্যাখ্যা

ব্যাখ্যা: চলিত রীতির নতুন নাম 'প্রমিত রীতি' হয় একুশ শতকের সূচনাকালে। বিশ শতকের মাঝামাঝি চলিত রীতি সাধু রীতিকে প্রতিস্থাপন করে এবং একুশ শতকের শুরুতে এই চলিত রীতিরই একটি আদর্শ রূপকে 'প্রমিত রীতি' বা 'মান রীতি' হিসেবে গ্রহণ করা হয়। 

৯৪.
‘ফৌজদারি' শব্দটি কোন ভাষা থেকে এসেছে? 
  1. আরবি
  2. ফারসি
  3. সংস্কৃত
  4. ফরাসি
ব্যাখ্যা

ফৌজদারি' শব্দটি ফারসি ভাষা থেকে এসেছে।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর

৯৫.
'সুদ'’ শব্দটি কোন ভাষা থেকে এসেছে?
  1. উর্দু
  2. তুর্কি
  3. আরবি
  4. ফারসি
ব্যাখ্যা

সুদ'’ শব্দটি ফারসি' ভাষা থেকে এসেছে।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৯৬.
‘আষাঢ়ে মেঘ থেকে আসার নামে'- এ বাক্যে 'আসার' শব্দের অর্থ কি
  1. জলধারা
  2. জলকণা
  3. জলধর
  4. জলঝড়
ব্যাখ্যা

ব্যাখ্যা : আসার শব্দের অর্থ প্রবল বৃষ্টিপাত, জলকণা, প্রাচীন নিদর্শন, চিহ্ন।

প্রতিপাদিতঃ জামিল চৌধুরী সম্পাদিত বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।

৯৭.
অম্বর” শব্দের সমার্থক শব্দ কোনটি?
  1. শশাঙ্ক
  2. নভঃ
  3. সলিল
  4. তটিনী
ব্যাখ্যা

ব্যাখ্যা : নভঃ শব্দের অর্থ আকাশ, অম্বর। সলিল শব্দের অর্থ পানি। নদী শব্দের সমার্থক- তটিনী।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর

৯৮.
অনুপম'-এর সমার্থক শব্দ কোনটি?
  1. অপরিমিত
  2. অতুলনীয়
  3. মনোরম
  4. অকল্পনীয়
ব্যাখ্যা

অনুপম'-এর সমার্থক শব্দ অতুলনীয়।

প্রতিপাদিতঃ জামিল চৌধুরী সম্পাদিত বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।

৯৯.
‘পয়ঃ' শব্দের অর্থ-
  1. দুধ
  2. বর্জ্য
  3. বাতাস
  4. কাগজ
ব্যাখ্যা

ব্যাখ্যা :‘পয়ঃ' শব্দের অর্থ- পানি, দুধ।

প্রতিপাদিতঃ জামিল চৌধুরী সম্পাদিত বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।

১০০.
‘চারু' শব্দটির প্রতিশব্দ কোনটি?
  1. হেম
  2. অন্ত
  3. কর
  4. ললিত
ব্যাখ্যা

'চারু' শব্দের প্রতিশব্দ- মনোহর, সুন্দর, ললিত।

প্রতিপাদিতঃ জামিল চৌধুরী সম্পাদিত বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।

১০১.
কোন বানানটি অশুদ্ধ-
  1. বৈদ্যুত
  2. বৈদ্যুতিক
  3. বিদ্যুতিনীয়
  4. বৈদ্যুতিকরণ
ব্যাখ্যা

শুদ্ধ বানান- বৈদ্যুত, বৈদ্যুতিক, বিদ্যুতিনীয় ।

প্রতিপাদিতঃ জামিল চৌধুরী সম্পাদিত বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।

১০২.
কোনটি ভুল?
  1. অন্ত্য-আদ্য
  2. আকুঞ্চন-বিকুঞ্চন
  3. আকুঞ্চন-প্রসারণ
  4. আশ্লেষ-সংশ্লেষ
ব্যাখ্যা

ব্যাখ্যা : আশ্লেষ এর বিপরিত বিশ্লেষ। 

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

১০৩.
কোন শব্দটি শুদ্ধ বানানে লেখা হয়েছে?
  1. সমীচিন
  2. শূণ্য
  3. পুন্য
  4. শিরশির
ব্যাখ্যা

শুদ্ধ বানান- শূন্য, পুণ্য, সমীচীন, শিরশির ।

প্রতিপাদিতঃ বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।

১০৪.
কোন চলিত রূপটি  অশুদ্ধ ?
  1. উত্তমর্ণ>মহাজন
  2. অন্তঃকরণ>মন 
  3. অঙ্কন>আঁক
  4. কঙ্কন>কাক
ব্যাখ্যা

 সাধু রীতির সঠিক চলিত রূপ হলো

উত্তমর্ণ>মহাজন
অন্তঃকরণ>মন 
অঙ্কন>আঁক
কঙ্কন>কাঁকন

১০৫.
ভুল কোনটি?
  1. অধিকারিণী
  2. সঙ্গিনী
  3. প্রতিহারিণী
  4. তপস্বিণী
ব্যাখ্যা

কোনো শব্দের শেষে যদি ঈ-কার থাকে, সেই শব্দের সঙ্গে জগৎ, বাচক, বিদ্যা, সভা, ত্ব, তা, নী, ণী, পরিষদ, তত্ত্ব ইত্যাদি যুক্ত হয়ে যদি নতুন শব্দ গঠন করে, তবে পূর্ববর্তী শব্দের ঈ-কার নবগঠিত শব্দে সাধারণত ই-কারে পরিণত হয়।

যেমন : প্রাণী+বিদ্যা = প্রাণিবিদ্যা
প্রাণী+জগৎ = প্রাণিজগৎ
প্রাণী+বাচক = প্রাণিবাচক
মন্ত্রী+সভা = মন্ত্রিসভা
মন্ত্রী+পরিষদ = মন্ত্রিপরিষদ
কৃতী+ত্ব = কৃতিত্ব
স্থায়ী+ত্ব = স্থায়িত্ব
দায়ী+ত্ব = দায়িত্ব
প্রতিদ্বন্দ্বী+তা = প্রতিদ্বন্দ্বিতা
সহমর্মী+তা = সহমর্মিতা
বাগী+তা = বাগ্মিতা
সঙ্গী+নী = সঙ্গিনী
তপস্বী+নী=তপস্বিনী
অধিকারী+ণী = অধিকারিণী
প্রতিহারী+ণী = প্রতিহারিণী ইত্যাদি।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

১০৬.
নিচের যে শব্দে ভুলভাবে ণ-ত্ব বিধান প্রয়োগ করা হয়েছে-
  1. বক্ষমাণ
  2. আবর্তণ
  3. প্রণয়
  4. আপণ
ব্যাখ্যা

ব্যাখ্যা : বাংলা ক্রিয়া পদে অন্তঃস্থিত 'ন' কখনো 'ণ' হয় না। যেমন : আবর্তন, পরিবর্তন।

উৎসঃ শীকর বাংলা প্রশ্ন-পাঠ, মোহসীনা নাজিলা।

১০৭.
শুদ্ধ বানান কোনটি?
  1. ধরণ
  2. দারুন
  3. দরুণ
  4. দরুন
ব্যাখ্যা

তৎসম শব্দে ঋ, র, ষ –এর পর মূর্ধন্য 'ণ' ব্যবহৃত হবে- দারুণ।
ধরণ নয়, ধরন (যেহেতু ধরন শব্দটি তৎসম নয়)। দরুণ নয়, দরুন (যেহেতু দরুন শব্দটি ফারসি)।

উৎসঃ ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

১০৮.
ণ-ত্ব বিধান অনুযায়ী কোনটি অশুদ্ধ?
  1. দুর্ণীতি
  2. নিদারুণ
  3. অবমূল্যায়ন
  4. বর্ণচ্ছটা
ব্যাখ্যা

ব্যাখ্যা : সমাসবদ্ধ শব্দে সাধারণত ণ-ত্ব বিধান খাটে না। এরূপ ক্ষেত্রে ন হয়। যেমন- দুর্নীতি সর্বনাম, দুর্নাম ইত্যাদি ।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

১০৯.
ণ-ত্ব বিধানের নিয়ম অনুসারে কোনটি অশুদ্ধ বানান?
  1. রটনা
  2. রোপন
  3. গ্রহণ
  4. পরিবহণ
ব্যাখ্যা

ঋ র ষ ধ্বনির পর যদি কোন স্বরবর্ণ ক-বর্গ, প-বর্গ, য, ব, হ, ং ধ্বনি থাকে, তার পরে ণ হবে। যেমন: শ্রবণ, পরিবহণ, পরিমাণ, রোপণ, ভ্রমণ, দর্পণ, গ্রহণ, ব্ৰাহ্মণ, নির্মাণ ইত্যাদি।

ঋ র ষ-এর পর চ-বর্গ, ত-বৰ্গ, ট- বর্গের কোনো বর্ণ থাকলে এরপর ণ না হয়ে ন হবে। যেমন: রচনা, রটনা, প্রার্থনা, আবর্জনা ইত্যাদি।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

১১০.
নিচের কোনটি যুগ্মব্যঞ্জন?
  1. ক্ল
  2. ক্র
  3. ত্থ
  4. প্ত
ব্যাখ্যা

যুক্তব্যঞ্জন হলো দুটি পৃথক বা ভিন্ন বর্গীয় বর্ণের যোগ। যেমন- ক+ল=ক্ল, ক+র=ক্র, প+ত=প্ত।

অপরদিকে যুগ্মব্যঞ্জন হলো দুটি সমবর্গীয় বর্ণের যোগ। যেমন ক+ক=ক্ক, ল+ল=ল্ল, ত+থ=ত্থ।

উৎসঃ প্রমিত বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, বাংলা একাডেমি।