পরীক্ষা আর্কাইভ

প্রাইমারি শিক্ষক নিয়োগ প্রস্তুতি [লং কোর্স]

পরীক্ষাপ্রাইমারি শিক্ষক নিয়োগ প্রস্তুতি [লং কোর্স]তারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়09 minutes
মোট প্রশ্ন২০
সিলেবাস
পরীক্ষা - ৪৭: বিষয়: বাংলা টপিক: সমাস, প্রকৃতি-প্রত্যয়, কাল ও কালের প্রয়োগ, এক কথায় প্রকাশ। । উৎস: মাধ্যমিক ব্যাকরণ বই (উভয় সংস্করণ), বাংলা একাডেমি অভিধান, ভাষা শিক্ষা - ড. হায়াৎ মামুদ বা যেকোনো ভালো গাইড বই।
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

প্রাইমারি শিক্ষক নিয়োগ প্রস্তুতি [লং কোর্স]

প্রাইমারি শিক্ষক নিয়োগ প্রস্তুতি [লং কোর্স] · তারিখ অনির্ধারিত · ২০ প্রশ্ন

.
"লৌকিক" শব্দের সঠিক প্রকৃতি-প্রত্যয় কোনটি?
  1. লোক + ষ্ণক
  2. লোক + ঈক
  3. লৌক + ইক
  4. লোক + ষ্ণিক
ব্যাখ্যা
সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়:
- যে তদ্ধিত প্রত্যয় সংস্কৃত বা তৎসম শব্দের সঙ্গে যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ গঠন করে, তাকে সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয় বলে।
যেমন:
- মনু + ষ্ণ = মানব;
- লোক + ষ্ণিক = লৌকিক ইত্যাদি।

তদ্ধিত প্রত্যয়:
- শব্দের সঙ্গে বা শেষে যেসব প্রত্যয় যোগ হয়ে নতুন শব্দ গঠিত হয় সেগুলোকে তদ্ধিত প্রত্যয় বলে।
যেমন: চোর+আ = চোরা, কেষ্ট+আ = কেষ্টা, ডিঙি+আ = ডিঙা, বাঘ্+আ = বাঘা, হাত্+আ = হাতা
বাংলা ভাষায় তদ্ধিত প্রত্যয় তিন প্রকার।
যথা:
১. বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয়।
২. সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়।
৩. বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয়।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, সপ্তম শ্রেণি।
.
কোনটি মিলনার্থক শব্দযোগে গঠিত দ্বন্দ্ব সমাস?
  1. স্বর্গ-নরক
  2. চা-বিস্কুট
  3. দা-কুমড়া
  4. অহি-নকুল
ব্যাখ্যা
দ্বন্দ্ব সমাস:
- যে সমাসে দুই বা ততোধিক পদের মিলন হয় এবং যে সমাসে প্রত্যেকটি সমস্যমান পদের অর্থের প্রাধান্য থাকে, তাকে দ্বন্দ্ব সমাস বলে।
দ্বন্দ্ব সমাস কয়েক প্রকারে সাধিত হয় ।

মিলনার্থক শব্দযোগে গঠিত দ্বন্দ্ব সমাস:
- মা-বাপ,
- মাসি-পিসি,
- জ্বিন-পরি,
- চা-বিস্কুট ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
বিরোধার্থক শব্দযোগে গঠিত দ্বন্দ্ব সমাস হলো:
- অহি-নকুল,
- দা-কুমড়া,
- স্বর্গ-নরক ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ নবম-দশম শ্রেণী ( ২০১৯ সংস্করণ)।
.
"জিত" শব্দের সঠিক প্রকৃতি-প্রত্যয় কোনটি?
  1. √জিত্ + অ
  2. √জিত্ + ই
  3. √জিত্ + আ
  4. √জিত্ + ষ্ণিক
ব্যাখ্যা
অ-প্রত্যয়:
- কেবল ভাববাচ্যে অ-প্রত্যয় যুক্ত হয়। যেমন √ধর্ + অ = ধর, √মার + অ=মার। আধুনিক বাংলায় অ-প্রত্যয় সর্বত্র উচ্চারিত হয় না।
যেমন:
- √হার্ + অ = হার,
- √জিত্ + অ = জিত

• বাংলা ভাষার ব্যাকরণ কোনো কোনো সময় অ-প্রত্যয়যুক্ত কৃদন্ত শব্দের দ্বিত্ব প্রয়োগ হয়।
যেমন
- √কাঁদ্ + অ = কাঁদকাঁদ, 
- √পড় + অ =পড়পড়,
- √মর্ + অ = মরমর ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
.
কোনটি অব্যয়ীভাব সমাসের উদাহরণ?
  1. বেহেড
  2. অনুক্ষণ
  3. পণ্ডিতমূৰ্থ
  4. প্রবচন
ব্যাখ্যা
অব্যয়ীভাব সমাস:
- পূর্বপদে অব্যয়যোগে নিষ্পন্ন সমাসে যদি অব্যয়েরই অর্থ প্রাধান্য থাকে, তবে তাকে অব্যয়ীভাব সমাস বলে। অব্যয়ীভাব সমাসে কেবল অব্যয়ের অর্থযোগে ব্যাসবাক্যটি রচিত হয়।

যেমন:
- দিন দিন = প্রতিদিন,
- ক্ষণে ক্ষণে = প্রতিক্ষণে,
- ক্ষণ ক্ষণ = অনুক্ষণ।

অন্যদিকে,
- নঞ্‌ বহুব্রীহি - বে (নাই) হেড যার = বেহেড।
- নিপাতনে সিদ্ধ বহুব্রীহি - পণ্ডিত হয়েও যে মূর্খ = পণ্ডিতমূৰ্থ।
- প্রাদি সমাস - প্র (প্রকৃষ্ট) যে বচন = প্রবচন।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
.
কোন শব্দটি কৃৎ প্রত্যয়যোগে গঠিত?
  1. ডুবন্ত
  2. বাঘা
  3. ধড়িবাজ
  4. ডাক্তারখানা
ব্যাখ্যা
বাংলা কৃৎ প্রত্যয়:
- সংস্কৃত বা তৎসম ধাতু বিবর্জিত বাংলা ধাতুর সঙ্গে প্রাকৃত ভাষা থেকে আগত যেসব প্রত্যয় যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ গঠিত হয়, তাদের বাংলা কৃৎ প্রত্যয় বলে।
যেমন:
- √নাচ্ + অন = নাচন;
- √ডুব্‌ + অন্ত = ডুবন্ত ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
- তদ্ধিত প্রত্যয়যোগে গঠিত শব্দ: : ডাক্তার + খানা = ডাক্তারখানা, ধড়ি+ বাজ = ধড়িবাজ, বাঘ+ আ = বাঘা।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, সপ্তম শ্রেণি।
.
"এবার মা খেতে ডেকেছেন।" - বাক্যটি কোন কালের উদাহরণ?
  1. সাধারণ অতীত
  2. পুরাঘটিত বর্তমান
  3. সাধারণ বর্তমান
  4. নিত্যবৃত্ত অতীত
ব্যাখ্যা
পুরাঘটিত বর্তমান:
- যে ক্রিয়া কিছু আগে শেষ হয়েছে কিন্তু তার ফল এখনো রয়েছে, তাকে পুরাঘটিত বর্তমান কাল বলে।
যেমন:
- এখন বাবা অফিস থেকে ফিরেছেন।
- এবার মা খেতে ডেকেছেন।
- অবশেষে আমি ইংরেজি পড়া শেষ করেছি।

অন্যদিকে,
নিত্যবৃত্ত অতীত:
- অতীত কালে যে ক্রিয়া সাধারণ অভ্যস্ততা অর্থে ব্যবহৃত হয়, তাকে নিত্যবৃত্ত অতীত কাল বলে।
যেমন:
- আমরা তখন রোজ সকালে নদী তীরে ভ্রমণ করতাম।
- আমি রোজ স্কুলে যেতাম।

সাধারণ বর্তমান:
- যে ক্রিয়া বর্তমানে সাধারণভাবে ঘটে, তার কালকে সাধারণ বর্তমান কাল বলে।
যেমন:
- তানিমা ভাত খায়।

সাধারণ অতীত:
- বর্তমান কালের পূর্বে যে ক্রিয়া সম্পূর্ণ হয়ে গিয়েছে, তার সংঘটন সাধারণ অতীত কাল।
যেমন:
- শিকারি পাখিটিকে গুলি করল।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) ও বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।
.
‘প্রগতি’ কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. নিত্য সমাস
  2. দ্বিগু সমাস
  3. তৎপুরুষ সমাস
  4. প্রাদি সমাস
ব্যাখ্যা
প্রাদি সমাস:
- প্র, প্রতি, অনু প্রভৃতি অব্যয়ের সঙ্গে যদি কৃৎ প্রত্যয় সাধিত বিশেষ্যেও সমাস হয় তাকে বলে প্রাদি সমাস।
যেমন:
- প্র (প্রকৃষ্ট) যে বচন = প্রবচন,
- প্র ( প্রকৃষ্ট রূপে) গতি = প্রগতি

প্রাদি সমাসে-
- ‘প্র’ থাকলে ‘প্রকৃষ্ট’ হবে। যেমন: প্র (প্রকৃষ্ট রূপে) ভাত (আলোকিত) = প্রভাত।
- ‘পরি’ থাকলে ‘চতুর্দিকে’ হবে। যেমন: পরি (চতুর্দিকে) যে ভ্রমণ = পরিভ্রমণ।
- ‘অনু’ থাকলে ‘পশ্চাত’ হবে। যেমন: অনুতে (পশ্চাতে) যে তাপ = অনুতাপ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
.
"আমি ছেলেবেলার কথা ভাবছিলাম।" - বাক্যটি কোন কালের উদাহরণ?
  1. পুরাঘটিত অতীত
  2. সাধারণ অতীত
  3. নিত্যবৃত্ত অতীত
  4. ঘটমান অতীত
ব্যাখ্যা
ঘটমান অতীত:
- যে ক্রিয়া অতীত কালে চলেছিল, তখনো শেষ হয় নি বোঝায়, তাকে ঘটমান অতীতকাল বলে।
যেমন:
- রিতা ঘুমাচ্ছিল।
- সুমন বই পড়ছিল।
- আমি ছেলেবেলার কথা ভাবছিলাম।

অন্যদিকে,
নিত্যবৃত্ত অতীত:
- অতীত কালে যে ক্রিয়া সাধারণ অভ্যস্ততা অর্থে ব্যবহৃত হয়, তাকে নিত্যবৃত্ত অতীত কাল বলে।
যেমন:
- আমরা তখন রোজ সকালে নদী তীরে ভ্রমণ করতাম।
- আমি রোজ স্কুলে যেতাম।

সাধারণ অতীত:
- বর্তমান কালের পূর্বে যে ক্রিয়া সম্পূর্ণ হয়ে গিয়েছে, তার সংঘটন সাধারণ অতীত কাল।
যেমন:
- শিকারি পাখিটিকে গুলি করল।

পুরাঘটিত অতীত:
- অতীতের যে ক্রিয়া বহু পূর্বেই ঘটে গেছে এবং পরে আরো কিছু ঘটনা ঘটেছে, তার কালকে পুরাঘটিত অতীত কাল বলে।
যেমন -
- বৃষ্টি শেষ হওয়ার আগেই আমরা বাড়ি পৌছেছিলাম।
- কাজটি কি তুমি করেছিলে?

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) ও বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।
.
'হাতের প্রথম আঙুল' এর এক কথায় প্রকাশ -
  1. অনামিকা
  2. মধ্যমা
  3. তর্জনী
  4. অঙ্গুষ্ঠ
ব্যাখ্যা
• 'হাতের প্রথম আঙুল' এর এক কথায় প্রকাশ - অঙ্গুষ্ঠ

অন্যদিকে,
- 'হাতের দ্বিতীয় আঙুল' এর এক কথায় প্রকাশ - তর্জনী।
- 'হাতের তৃতীয় আঙুল' এর এক কথায় প্রকাশ - মধ্যমা।
- 'হাতের চতুর্থ আঙুল' এর এক কথায় প্রকাশ - অনামিকা।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১০.
যে সমাসে সংখ্যাবাচক শব্দ পূর্বে বসে সমাহার বোঝায় এবং পরপদের অর্থই প্রাধান্য পায় তাকে কী সমাস বলে?
  1. সংখ্যাবাচক বহুব্রীহি সমাস
  2. দ্বিগু সমাস
  3. অলুক বহুব্রীহি
  4. কোনোটি নয়
ব্যাখ্যা
দ্বিগু সমাস:
- যে সমাসে সংখ্যাবাচক শব্দ পূর্বে বসে সমাহার বোঝায় এবং পরপদের অর্থই প্রাধান্য পায় তাকে দ্বিগু সমাস বলে। দ্বিগু সমাসে সমাস নিষ্পন্ন পদটি বিশেষ্য পদ হয়।
যেমন:
- নব রত্নের সমাহার = নবরত্ন।
- সপ্ত অহের সমাহার = সপ্তাহ।

অথবা, সমাহার (সমষ্টি) বা মিলনার্থে সংখ্যাবাচক শব্দের সঙ্গে বিশেষ্য পদের যে সমাস হয় তাকে দ্বিগু সমাস বলে।
যেমন:
- ত্রি (তিন) কালের সমাহার = ত্রিকাল;
- তে (তিন) মাথার সমাহার = তেমাথা;
- পঞ্চ ঋষির সমাহার = পঞ্চর্ষি;
- শত অব্দের সমাহার = শতাব্দী।

উল্লেখ্য,
সংখ্যাবাচক বহুব্রীহি:
- পূর্বপদ সংখ্যাবাচক এবং পরপদ বিশেষ্য হলে এবং সমস্তপদটি বিশেষণ বোঝালে তাকে সংখ্যাবাচক বহুব্রীহি বলা হয়। এ সমাসে সমস্তপদে 'আ', 'ই' বা 'ঈ' যুক্ত হয়।
যথা:
- দশ গজ পরিমাণ যার = দশগজি,
- চৌ (চার) চাল যে ঘরের = চৌচালা।

অলুক বহুব্রীহি:
- যে বহুব্রীহি সমাসে সমস্যমান পদের পূর্বপদের বিভক্তি অক্ষুন্ন থাকে, তাকে অলুক বহুব্রীহি বলে।
যেমন -
গায়ে এসে পড়ে যে = গায়েপড়া,
কানে খাটো যে = কানেখাটো।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১১.
কোনটি তদ্ধিত প্রত্যয় সাধিত শব্দ?
  1. কর্তব্য
  2. দাতব্য
  3. জ্ঞাত
  4. কুসুমিত
ব্যাখ্যা
সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়ে গঠিত কিছু প্রকৃতি ও প্রত্যয়:
- তেজঃ + বিন = তেজস্বী,
- কুসুম + ইত = কুসুমিত,
- সর্বজন + নীন = সর্বজনীন,
- নীল + ইমন = নীলিমা ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
⇒ ‘ত’ কৃৎ-প্রত্যয় যোগে গঠিত শব্দ হলো-
• √মুচ্ + ত = মুক্ত;
• √জ্ঞা +ত = জ্ঞাত

⇒ ‘তব্য’ কৃৎ-প্রত্যয় যোগে গঠিত শব্দ হচ্ছে:
• √দা + তব্য = দাতব্য;
• √কৃ + তব্য = কর্তব্য

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১২.
"টিটু নাচে।" - বাক্যটি কোন বর্তমান কালের উদাহরণ?
  1. পুরাঘটিত বর্তমান
  2. সাধারণ বর্তমান
  3. ঘটমান বর্তমান
  4. অনুজ্ঞা বর্তমান
ব্যাখ্যা
সাধারণ বর্তমান কাল:
- যে ক্রিয়া বর্তমানে সাধারণভাবে ঘটে, তার কালকে সাধারণ বর্তমান কাল বলে।
যেমন:
- সে ভাত খায়।
- আমি বাড়ি যাই।
- টিটু নাচে।

সাধারণ বর্তমান কালের বিশিষ্ট প্রয়োগ:
(১) অনুমতি প্রার্থনায় (ভবিষ্যৎ কালের অর্থে): এখন তবে আসি।
(২) প্রাচীন লেখকের উদ্ধৃতি দিতে (অতীত কালের অর্থে): চণ্ডীদাস বলেন, 'সবার উপরে মানুষ সত্য, তাহার উপরে নাই।'
(৩) বর্ণিত বিষয় প্রত্যক্ষীভূত করতে (অতীতের স্থলে): আমি দেখেছি, বাচ্চাটি রোজ রাতে কাঁদে।
( ৪) 'নেই', 'নাই' বা 'নি' শব্দযোগে অতীত কালের ক্রিয়ায়: তিনি গতকাল হাটে যাননি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১৩.
"ক্ষুধার্ত" কোন তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ?
  1. তৃতীয়া
  2. চতুর্থী
  3. ষষ্ঠী
  4. সপ্তমী
ব্যাখ্যা
তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস:
- পূর্বপদে তৃতীয়া বিভক্তির লোপে যে সমাস হয় তাকে তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস বলে। ঊন, হীন, শূন্য প্রভৃতি শব্দ উত্তরপদ হলেও তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস হয়।
যথা
- এক দ্বারা ঊন = একোন,
- পাঁচ দ্বারা কম = পাঁচকম,
- অগ্নি দ্বারা উৎপাত = অগ্ন্যুৎপাত,
- ক্ষুধা দ্বারা আর্ত = ক্ষুধার্ত ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ ও ২০১৯ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৪.
'যা সহজে বোঝা যায় না' এর এক কথায় প্রকাশ -
  1. দুর্জ্ঞেয়
  2. ভঙ্গুর
  3. দুর্বোধ্য
  4. দুষ্কর
ব্যাখ্যা
• 'যা সহজে বোঝা যায় না' এর এক কথায় প্রকাশ -  দুর্বোধ্য

অন্যদিকে,
- 'যা সহজে ভেঙে যায়' এর এক কথায় প্রকাশ - ভঙ্গুর।
- 'যা সহজে করা যায় না' এর এক কথায় প্রকাশ - দুষ্কর।
- 'যা সহজে জানা যায় না' এর এক কথায় প্রকাশ - দুর্জ্ঞেয়।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১৫.
কোনটি কৃৎ প্রত্যয় সাধিত শব্দ নয়?
  1. আশিতম
  2. দাতব্য
  3. ছত্র
  4. বহতা
ব্যাখ্যা
তদ্ধিত প্রত্যয়:
- শব্দের পরে যেসব প্রত্যয় যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ তৈরি হয় তাকে বলে তদ্ধিত প্রত্যয়।
যেমন:
- শিশু + অ = শৈশব,
- দীর্ঘ + তম = দীর্ঘতম,
- বাঘ + আ = বাঘা,
- আশি + তম = আশিতম।

অন্যদিকে,
কৃৎ প্রত্যয়:
- ধাতুর পরে যেসব প্রত্যয় যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ তৈরি হয় তাকে বলে কৃৎ প্রত্যয়।
যেমন:
√ বহ্‌ + তা = বহতা,
√ ছদ্‌ + ত্র = ছত্র,
√ দা + তব্য = দাতব্য।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
১৬.
'পদ্মের নাল/ডাটা' এর এক কথায় প্রকাশ -
  1. মৃণাল
  2. মৃণালিনী
  3. ইন্দিবর
  4. কোকনদ
ব্যাখ্যা
• 'পদ্মের নাল/ডাটা' এর এক কথায় প্রকাশ - মৃণাল

অন্যদিকে,
- 'পদ্মের ঝাড়' এর এক কথায় প্রকাশ - মৃণালিনী।
- 'নীল বর্ণের পদ্ম' এর এক কথায় প্রকাশ - ইন্দিবর।
- 'লাল বর্ণের পদ্ম' এর এক কথায় প্রকাশ - কোকনদ।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১৭.
কোনটি সাধারণ অতীত?
  1. জানিয়েছিলে
  2. উঠতাম
  3. দেখলাম
  4. পড়ছিলাম
ব্যাখ্যা
সাধারণ অতীত:
- অতীত কালে যে কাজ সম্পন্ন হয়ে গিয়েছে বোঝায়, তাকে সাধারণ অতীত কাল বলে।
যেমন -
- তারা সেখানে বেড়াতে গেল।
- আমি ছবিটি দেখলাম

অন্যদিকে,
ঘটমান অতীত:
- যে ক্রিয়া অতীত কালে চলছিল বোঝায়, তাকে ঘটমান অতীত কাল বলে।
যেমন -
- আমরা তখন বই পড়ছিলাম

পুরাঘটিত অতীত:
- অতীতের যে ক্রিয়া বহু পূর্বেই ঘটে গেছে এবং পরে আরো কিছু ঘটনা ঘটেছে, তার কালকে পুরাঘটিত অতীত কাল বলে।
যেমন -
- বৃষ্টি শেষ হওয়ার আগেই আমরা বাড়ি পৌছেছিলাম
- খরবটা তুমি আমাকে চিঠিতে জানিয়েছিলে

নিত্য অতীত:
- অতীত কালে প্রায়ই ঘটতো এমন বোঝালে নিত্য অতীত কাল হয়।
যেমন -
- খুব সকালে ঘুম থেকে উঠতাম

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১৮.
'কষ্টে গমন করা যায় যা' এর এক কথায় প্রকাশ -
  1. দুর্নিবার
  2. দুর্গম
  3. দুর্জয়
  4. দুর্দমনীয়
ব্যাখ্যা
• 'কষ্টে গমন করা যায় যা' এর এক কথায় প্রকাশ - দুর্গম

অন্যদিকে,
- 'কষ্টে জয় করা যায় যা' এর এক কথায় প্রকাশ - দুর্জয়।
- কষ্টে দমন করা যায় না' এর এক কথায় প্রকাশ - দুর্দমনীয়।
- কষ্টে নিবারণ করা যায় না যা' এর এক কথায় প্রকাশ - দুর্নিবার।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১৯.
কোনটি পুরাঘটিত অতীত কালের উদাহরণ?
  1. স্কুল ছুটির পর বন্ধুদের সঙ্গে রোজ পড়া নিয়ে আলাপ করতাম।
  2. তুমি কি তার পরীক্ষা নিয়েছিলে?
  3. তখন বাতিটা জ্বলে উঠল।
  4. রিতা ঘুমাচ্ছিল।
ব্যাখ্যা
পুরাঘটিত অতীত:
- অতীতের যে ক্রিয়া বহু পূর্বেই ঘটে গেছে এবং পরে আরো কিছু ঘটনা ঘটেছে, তার কালকে পুরাঘটিত অতীত কাল বলে।
যেমন -
- সন্ধ্যা হওয়ার আগেই আমরা মসজিদে পৌঁছেছিলাম।
- খরবটা তুমি আমাকে চিঠিতে জানিয়েছিলে।
- তুমি কি তার পরীক্ষা নিয়েছিলে?

অন্যদিকে,
→ ঘটমান অতীত - রিতা ঘুমাচ্ছিল।
→ সাধারণ অতীত - তখন বাতিটা জ্বলে উঠল।
→ নিত্যবৃত্ত অতীত - স্কুল ছুটির পর বন্ধুদের সঙ্গে রোজ পড়া নিয়ে আলাপ করতাম।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) ও বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।
২০.
'বিপত্নীক' শব্দটি কোন সমাস?
  1. কর্মধারয় সমাস
  2. প্রাদি সমাস
  3. বহুব্রীহি সমাস
  4. নিত্য সমাস
ব্যাখ্যা
বহুব্রীহি সমাস:
- যে সমাসে সমস্যমান পদগুলোর কোনটির অর্থ না বুঝিয়ে, অন্য কোন পদকে বোঝায় তাকে বহুব্রীহি সমাস বলে। বহুব্রীহি সমাসে পরপদের মাতৃ, পত্নী, পুত্র, স্ত্রী ইত্যাদি শব্দ থাকলে এ শব্দগুলোর সঙ্গে ‘ক’ যুক্ত হয়।

যেমন:
- বি (বিগত) হয়েছে পত্নী যার = বিপত্নীক,
- নদী মাতা (মাতৃ) যার = নদীমাতৃক,
- নাই পুত্র যার = অপুত্রক,
- স্ত্রীর সঙ্গে বর্তমান = সস্ত্রীক,
- জনের মুখ হতে শ্রুত যা = জনশ্রুতি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।