পরীক্ষা আর্কাইভ

বাংলাবিদ (ব্যাকরণ)

পরীক্ষাবাংলাবিদ (ব্যাকরণ)তারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়07 minutes১৯ বৈধ · অসম্পূর্ণ
মোট প্রশ্ন২০
সিলেবাস
"বাংলাবিদ ব্যাকরণ: পরীক্ষা – ৭ টপিক: সমাস - দ্বন্দ্ব, কর্মধারয় ও তৎপুরুষ সমাস [লাইভ ক্লাস - ১১ ও ১২]"
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলাবিদ (ব্যাকরণ)

বাংলাবিদ (ব্যাকরণ) · তারিখ অনির্ধারিত · ২০ প্রশ্ন

.
সমাস ব্যাকরণের কোন শাখায় আলোচিত হয়?
  1. ধ্বনিতত্ত্ব
  2. রূপতত্ত্ব
  3. বাক্যতত্ত্ব
  4. অর্থতত্ত্ব 
ব্যাখ্যা

সমাস:
- পরস্পর অর্থগত সম্পর্ক ও সামঞ্জস্যযুক্ত দুই বা ততোধিক পদ একত্র হয়ে যখন একটি নতুন একপদে রূপ নেয়, সেই প্রক্রিয়াকেই সমাস বলা হয়।
- যেমন—
- রাজা-বাদশা শব্দটি মূলত ‘রাজা ও বাদশা’ এই দুই পদের মিলনে গঠিত।
- সিংহাসন শব্দটি এসেছে ‘সিংহ চিহ্নিত আসন’ থেকে।
- দশানন অর্থ ‘যার দশটি আনন (মুখ) আছে’।

- সমাস শব্দটি সংস্কৃত ভাষা থেকে আগত।
- এর ব্যুৎপত্তি হলো— সম্ + অস্ + অ।
- এটি ব্যাকরণের একটি পারিভাষিক শব্দ।
- সমাস ব্যাকরণের রূপতত্ত্ব শাখায় আলোচিত হয়।
- ‘সমাস’ শব্দের অর্থ মিলন, সংক্ষেপণ বা একাধিক পদকে একপদে রূপান্তর করা।
- সমাসের বিপরীত শব্দ বিচ্ছেদ বা বিগ্রহ।
- সমাস একটি কৃৎ প্রত্যয় সাধিত শব্দ।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ। 

.
সন্ধি ও সমাসের সম্পর্ক সম্পর্কে সঠিক বক্তব্য কোনটি?
  1. সব সমাসবদ্ধ পদই সন্ধিবদ্ধ
  2. সন্ধিবদ্ধ পদ সমাসবদ্ধ নাও হতে পারে
  3. সন্ধি ও সমাস পরস্পর সম্পূর্ণ অসংযুক্ত
  4. সন্ধিবদ্ধ পদ মানেই সমাসবদ্ধ পদ
ব্যাখ্যা

সন্ধি ও সমাসের পার্থক্য:
- সন্ধি ও সমাস—উভয়ই শব্দগঠনের গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়া হলেও এদের প্রকৃতি ও উদ্দেশ্যে মৌলিক পার্থক্য রয়েছে।

১) সন্ধি ব্যাকরণের ধ্বনিতত্ত্ব শাখায় আলোচিত হয়, কারণ এতে মূলত ধ্বনির সঙ্গে ধ্বনির মিলন ঘটে। 
- অন্যদিকে, সমাস আলোচিত হয় শব্দতত্ত্বে, কারণ এতে ধ্বনির নয়, বরং পদের মিলন ঘটে।

২) সন্ধির প্রধান উদ্দেশ্য হলো উচ্চারণকে সহজ করা এবং ভাষায় ধ্বনিগত মাধুর্য সৃষ্টি করা। ফলে সন্ধিতে শব্দের অর্থের চেয়ে ধ্বনির পরিবর্তনই মুখ্য হয়ে ওঠে।
- সমাসের মূল উদ্দেশ্য হলো বাক্যে ব্যবহৃত শব্দকে সংক্ষেপ করা—অর্থাৎ পরস্পর অর্থসঙ্গত একাধিক পদকে একপদে রূপান্তর করা। এতে ভাষা সংক্ষিপ্ত ও অর্থবহ হয়।

৩) আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য হলো—
- সন্ধিবদ্ধ পদ সবসময়ই সমাসবদ্ধ পদ হিসেবে বিবেচিত হয়, কারণ সেখানে ধ্বনির মিলনের পাশাপাশি অর্থগত সংযোগও থাকতে পারে।
- কিন্তু সমাসবদ্ধ পদ সব সময় সন্ধিবদ্ধ নাও হতে পারে; অনেক ক্ষেত্রে কোনো ধ্বনিগত পরিবর্তন ছাড়াই কেবল পদের সংযোগে সমাস গঠিত হয়।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ। 

.
সমাসের জ্ঞান/প্রতীতি অংশ কোনটি? 
  1. ব্যাসবাক্য
  2. সমস্তপদ
  3. সমস্যমান পদ
  4. সবগুলো 
ব্যাখ্যা

সমাস:
- অর্থসম্বন্ধ আছে এমন দুই বা ততোধিক পদের একপদে পরিণত হওয়াকে সমাস বলে।
- সমাসের জ্ঞান বা প্রতীতি ৫টি-
ব্যাসবাক্য,
• সমস্তপদ,
• সমস্যমান পদ,
• পূর্বপদ ও
• পরপদ

- উদাহরণ
- সিংহ চিহ্নিত আসন → সিংহাসন। 

• ব্যাসবাক্য / বিগ্রহবাক্য / সমাসবাক্য:
- “সিংহ চিহ্নিত আসন” — এটি বিস্তৃত রূপ, যেখানে একাধিক পদ আলাদা আলাদা অবস্থায় আছে।
- একে ব্যাসবাক্য বা বিগ্রহবাক্য বলা হয়।

• সমস্তপদ / সমাসবদ্ধ পদ / সমাসনিষ্পন্ন পদ:
- “সিংহাসন” — এটি সমাসের মাধ্যমে গঠিত একপদ।
- অর্থাৎ, “সিংহ চিহ্নিত আসন” এই বিস্তৃত রূপ সংক্ষেপ হয়ে এক শব্দে পরিণত হয়েছে। এটিই সমস্তপদ বা সমাসবদ্ধ পদ।

• সমস্যমান পদ:
- সমাস গঠনে অংশ নেওয়া পদ অর্থাৎ যে পদগুলো মিলিত হয়ে সমাস গঠন করে, সেগুলোকে সমস্যমান পদ বলে।
- এখানে সমস্যমান পদ দুটি হলো—
- সিংহ ও আসন।  

• পূর্বপদ ও পরপদ:
- সমাসে প্রথম পদকে বলা হয় পূর্বপদ এবং শেষ পদকে বলা হয় পরপদ।
- এখানে—
- সিংহ = পূর্বপদ ও আসন = পরপদ। 

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ। 

.
কোন সমাসে পূর্বপদ ও পরপদের অর্থ সমানভাবে প্রাধান্য পায়?
  1. দ্বন্দ্ব সমাস
  2. অব্যয়ীভাব সমাস
  3. কর্মধারয় সমাস
  4. তৎপুরুষ সমাস
ব্যাখ্যা

• দ্বন্দ্ব সমাস:
- সাধারণ অর্থে ‘দ্বন্দ্ব’ মানে সংঘাত বা বিবাদ হলেও, সমাসের ক্ষেত্রে এটি মিলন, যুগল বা জোড়া বোঝায়।
- যে সমাসে প্রত্যেক সমস্যমান পদের অর্থ সমানভাবে প্রধান থাকে, তাকে দ্বন্দ্ব সমাস বলা হয়।

- নিয়মাবলী:
- দ্বন্দ্ব অর্থ—সংঘাত, বিবাদ ও মিলন।
- পূর্বপদ ও পরপদের অর্থ সমানভাবে প্রধান।
- পূর্বপদ ও পরপদে একই ধরনের পদ থাকতে পারে।
- পূর্বপদ ও পরপদের মাঝে হাইফেন (-) বসে।
- পূর্বপদে অপেক্ষাকৃত সম্মানিত ব্যক্তি রাখা হয়।
- পূর্বপদে স্ত্রীবাচক ও পরপদে পুরুষবাচক শব্দ থাকতে পারে।
- ব্যাসবাক্যে সাধারণত ‘ও’ বসে পদগুলো আলাদা করতে।

- উদাহরণ:
- মা-বাবা = মা ও বাবা;
- সাদা-কালো = সাদা ও কালো;
- কালি-কলম = কালি ও কলম;
- রাজা-বাদশা = রাজা ও বাদশা
-----------------------------
অন্যদিকে,
অব্যয়ীভাব সমাস:
- অব্যয়ীভাব সমাসে পূর্বপদে অব্যয় থাকে এবং সেই অব্যয়ের অর্থই প্রধানরূপে প্রতীয়মান হয়। 
- যেমন-
- কণ্ঠের সমীপে → উপকণ্ঠ,
- কূলের সমীপে → উপকূল। 

কর্মধারয় সমাস:
- কর্মধারয় সমাসে পূর্বপদে বিশেষণ বা বিশেষণভাবাপন্ন পদ থাকে এবং পরপদে বিশেষ্য বা বিশেষ্যভাবাপন্ন পদ থাকে। 
- এই ধরনের সমাসে পরপদের অর্থই প্রধান হয়।
- যেমন- 
- নীল যে পদ্ম → নীলপদ্ম। 

তৎপুরুষ সমাস:
- তৎপুরুষ সমাসে পূর্বপদের বিভক্তি (দ্বিতীয়া থেকে সপ্তমী) গ্রহণ করা হয় এবং সমাসের মূল অর্থ পরপদে প্রতীয়মান হয়।
- যেমন- 
- বিপদকে আপন্ন → বিপদাপন্ন। 

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ। 

.
কোনটি  মিলনার্থক দ্বন্দ্ব সমাসের উদাহরণ?
  1. হাট-বাজার 
  2. ঘর-দুয়ার
  3. জ্বিন-পরি
  4. খাতা-পত্র
ব্যাখ্যা

মিলনার্থক দ্বন্দ্ব সমাসের উদাহরণ- জ্বিন-পরি। 
-----------------------------------------
• দ্বন্দ্ব সমাস:
- যে সমাসে প্রত্যেকটি সমস্যমান পদের অর্থের সমান প্রাধান্য থাকে, তাকে দ্বন্দ্ব সমাস বলে।
- দ্বন্দ্ব সমাসে পূর্বপদ ও পরপদ উভয় পদের অর্থের সমান প্রাধান্য থাকে।
যেমন:
- ক্ষুধা ও পিপাসা = ক্ষুৎপিপাসা।
- জায়া ও পতি =  দম্পতি।
----------------------------------------------------
• মিলনার্থক দ্বন্দ্ব:
- মিলনার্থক দ্বন্দ্ব সমাস হলো এমন একটি সমাস যেখানে দুটি বা তার বেশি পদ সমান প্রাধান্য নিয়ে একে অপরের সঙ্গে সম্পর্ক বা মিল প্রকাশ করে।
- এই সমাসের ব্যাসবাক্যে 'ও', 'এবং', 'আর'-এর মতো সংযোজক অব্যয় থাকে।
- মিলনার্থক দ্বন্দ্ব সমাসে প্রতিটি পদেরই সমান প্রাধান্য থাকে।

- মিলনার্থক দ্বন্দ্ব সমাসের উদাহরণ হলো-
 • মা-বাপ (মা ও বাপ),
• চা-বিস্কুট (চা ও বিস্কুট),
জ্বিন-পরি (জ্বিন ও পরি),
• ভাই-বোন (ভাই ও বোন),
• চাল-ডাল (চাল ও ডাল),
• দিন-রাত (দিন ও রাত),
• তাল-তমাল (তাল ও তমাল), 
• ভালো-মন্দ (ভালো ও মন্দ),
• মাতা-পিতা (মাতা ও পিতা)। 
------------------------------------------------ 
অন্যদিকে, 
- হাট-বাজার, ঘর-দুয়ার, খাতা-পত্র - সমার্থক দ্বন্দ্ব সমাস।

•  সমার্থক দ্বন্দ্ব সমাস:  
- সমার্থক দ্বন্দ্ব সমাস হলো এমন এক ধরনের সমাস যেখানে দুটি একই বা সমান অর্থের শব্দকে ‘ও’ বা ‘এবং’ দিয়ে একসাথে মিলিয়ে লেখা হয়।
- এই সমাসে দুইটি শব্দের গুরুত্ব সমানভাবে থাকে।
- যেমন:
- ‘জন ও মানব’ → জনমানব;
- ‘ধন ও দৌলত’ → ধনদৌলত;
- ‘কাগজ ও পত্র’ → কাগজ-পত্র;
- 'বই ও পুস্তুক'  → বইপুস্তুক; 
- 'কল ও কারখানা' → কল-কারখানা। 

উৎস: 
ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ;
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা। 

.
নিচের কোনটি উপমান কর্মধারয় সমাসের দৃষ্টান্ত?
  1. ভ্রমরকৃষ্ণকেশ
  2. শশব্যস্ত 
  3. হৃদয়পুর
  4. সবগুলো  
অনির্ধারিত
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর ক) ভ্রমরকৃষ্ণকেশ ও খ) শশব্যস্ত।
অপশনে একাধিক সঠিক উত্তর থাকায় প্রশ্নটি বাতিল করা হয়েছে।
-----------
উপমান কর্মধারয় সমাস:
- উপমান কর্মধারয় সমাস হলো এমন সমাস যেখানে প্রত্যক্ষ কোনো বস্তু (উপমেয়) এবং পরোক্ষ কোনো বস্তু (উপমান বা তুলনীয় বস্তু)-এর সাধারণ গুণ বা ধর্মের ভিত্তিতে তুলনা করা হয়।
- উপমান সমাসে পূর্বপদ বিশেষ্য + পরপদ বিশেষণ (N+Ad) থাকে।
- পূর্বপদ অদৃশ্যমান বস্তু বা ভাব, পরপদ দৃশ্যমান বস্তু।
- এখানে সাধারণ বা অভিন্ন গুণের উল্লেখ থাকে এবং তুলনার অর্থ সত্য বা বাস্তব হয়।
- ব্যাসবাক্যে তুলনা বোঝাতে "ন্যায়", "মতো" ইত্যাদি অব্যয় ব্যবহার করা হয়।
- উদাহরণস্বরূপ:
- ভ্রমরকৃষ্ণকেশ → ভ্রমরের ন্যায় কৃষ্ণ কেশ (কালো চুল),
- তুষারধবল → তুষারের ন্যায় ধবল (সাদা),
- মিশকালো → মিশির ন্যায় কালো,  
- অরুণরাঙা → অরুণের ন্যায় রাঙা (লাল),
- কাজলকালো → কাজলের ন্যায় কালো,
- শশব্যস্ত → শশকের ন্যায় ব্যস্ত,

অন্যদিকে,

- হৃদয়পুর → হৃদয় রূপ পুর (অর্থাৎ হৃদয় যেন পুর/নগর/শহর)।

হৃদয়পুর শব্দটি রূপক কর্মধারয় সমাস।
এখানে হৃদয় (পূর্বপদ) হলো উপমান (তুলনীয় বস্তু), এবং পুর (পরপদ) হলো উপমেয় (যার সাথে তুলনা করা হচ্ছে)।
উপমান ও উপমেয়ের মধ্যে অভিন্নতা (রূপক) কল্পনা করা হয়েছে, অর্থাৎ হৃদয়কে সরাসরি পুর (নগর) বলে কল্পনা করা হয়েছে। এজন্য এটি রূপক কর্মধারয় সমাস।
-----------------------
• কর্মধারয় সমাস:  
- কর্মধারয় সমাস হলো এমন সমাস যেখানে পূর্বপদে বিশেষণ বা বিশেষণভাবাপন্ন পদ এবং পরপদে বিশেষ্য বা বিশেষ্যভাবাপন্ন পদ থাকে, এবং সমাসের মূল অর্থ পরপদে প্রতীয়মান হয়।
- অর্থাৎ, সমাসের প্রধান ভাব প্রকাশিত হয় পরপদ দ্বারা।
- এই ধরনের সমাসে পূর্বপদ মূলত পরপদের বিশেষণ বা বৈশিষ্ট্য প্রকাশ করে।
- উদাহরণস্বরূপ:
- নীল যে পদ্ম → নীলপদ্ম,
- মহান যে নবী → মহানবী,
- কাঁচা অথচ মিষ্টি → কাঁচামিঠা। 

- কর্মধারয় সমাসের প্রকারভেদ:
- সাধারণ কর্মধারয়;
- মধ্যপদলোপী কর্মধারয়;
- উপমান কর্মধারয়;
- উপমিত কর্মধারয়;
- রূপক কর্মধারয়। 

উৎস:
ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ;
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা। 

.
“চিরসুখ"- শব্দটি কোন সমাসের দৃষ্টান্ত?
  1. বহুব্রীহি সমাস
  2. নিত্য সমাস
  3. কর্মধারয় সমাস
  4. তৎপুরুষ সমাস 
ব্যাখ্যা

“চিরসুখ" - শব্দটি দ্বিতীয়া তৎপুরুষ সমাসের দৃষ্টান্ত।
------------------
• তৎপুরুষ সমাস:
- তৎপুরুষ সমাস হলো এমন সমাস যেখানে পূর্বপদের বিভক্তি হারিয়ে যায় এবং পরপদের অর্থ প্রধান থাকে।
- এটি দ্বিতীয় থেকে সপ্তম বিভক্তি পর্যন্ত যেকোনো বিভক্তি লোপের মাধ্যমে গঠিত হতে পারে।
- বিভক্তি অনুযায়ী তৎপুরুষ সমাসের প্রকারভেদের নামকরণ করা হয়। 

- তৎপুরুষ সমাস ৯ প্রকারের-
- দ্বিতীয়া তৎপুরুষ, 
- তৃতীয়া তৎপুরুষ,
- চতুর্থী তৎপুরুষ, 
- পঞ্চমী তৎপুরুষ, 
- ষষ্ঠী তৎপুরুষ,
- সপ্তমী তৎপুরুষ,
- নঞ তৎপুরুষ (না-বাচক),
- উপপদ তৎপুরুষ,
- অলুক তৎপুরুষ (বিভক্তি লোপ পায় না)। 
----------------------------
• দ্বিতীয়া তৎপুরুষ সমাস:
- দ্বিতীয়া তৎপুরুষ সমাস হলো সেই সমাস যেখানে পূর্বপদের দ্বিতীয় বিভক্তি (যেমন—কে, রে) বিলীন হয়ে যায়; 
- এবং পরপদের অর্থই মূলভাবে প্রকাশ পায়।

- উদাহরণ:
- 'চিরকাল ধরে সুখ' → 'চিরসুখ'; (ব্যাপ্তি অর্থে কালবাচক পদের সঙ্গে দ্বিতীয়া তৎপুরুষ সমাস হয়)।
- ‘বিপদকে আপন্ন’ → ‘বিপদাপন্ন’; এখানে ‘কে’ বিভক্তি বিলীন হওয়ায় এটি দ্বিতীয় তৎপুরুষ সমাস।
- 'আত্মকে রক্ষা' → 'আত্মরক্ষা'; এখানে ‘কে’ বিভক্তি বিলীন হওয়ায় এটি দ্বিতীয় তৎপুরুষ সমাস।

- দ্বিতীয়া তৎপুরুষ সমাসের আরও কিছু উদাহরণ:
- সাহায্যপ্রাপ্ত = সাহায্যকে প্রাপ্ত, 
- দীর্ঘকাল ধরে স্থায়ী - দীর্ঘস্থায়ী, 
- শরনিক্ষেপ = শরকে নিক্ষেপ,
- ছেলে-ভুলানো = ছেলেকে ভুলানো,
- সাহায্যপ্রাপ্ত = সাহায্যকে প্রাপ্ত,
- গা-ঢাকা = গা-কে ঢাকা,
- তিমিরবিদায়ী = তিমিরকে বিদায়ী,
- দেশভঙ্গ = দেশকে ভঙ্গ,
- বইপড়া = বইকে পড়া,
- দেশত্যাগ = দেশকে ত্যাগ
- দুঃখপ্রাপ্ত = দুঃখকে প্রাপ্ত,
- আমকুড়ানো = আমকে কুড়ানো,
- রথচালান = রথকে চালান,
- দেশবিভাগ = দেশকে বিভাগ,
- বিস্ময়াপন্ন = বিস্ময়কে আপন্ন,
- পুত্রলাভ = পুত্রকে লাভ,
- দুঃখাতীত = দুঃখকে অতীত,
- শরণাগত = শরণকে আগত,
- পরলোকগত = পরলোকে গত,
- চরণাশ্রিত = চরণকে আশ্রিত,
- স্বর্গপ্রাপ্ত = স্বর্গকে প্রাপ্ত। 

টেকনিক:
- পূর্বপদে 'চির' থাকলে দ্বিতীয়া তৎপুরুষ হবে।
- পরপদে 'স্থায়ী' থাকলে দ্বিতীয়া তৎপুরুষ হবে।
- পরপদে 'প্রাপ্ত', 'পন্ন', 'গত', 'আশ্রিত', 'অতীত' থাকলে দ্বিতীয়া তৎপুরুষ হবে।
------------------------------ 
অন্যদিকে,

• বহুব্রীহি সমাস:
- যে সমাসে পূর্বপদ বা পরপদ কোনটির অর্থ না বুঝিয়ে অন্য কোনো তৃতীয় অর্থ প্রকাশ করে, তাকে বহুব্রীহি সমাস বলে।
- বহুব্রীহি সমাসের উদাহরণ:
- নদী মাতা যার = নদীমাতৃক,
- বান্ধবসহ বর্তমান = সবান্ধব,
- বি (বিগত) হয়েছে পত্নী যার = বিপত্নীক,
- নীল বসন যার = নীলবসনা। 

• নিত্য সমাস:  
- যে সমাসের সমস্যমান পদগুলো সর্বদা সমাসবদ্ধ থাকে এবং ব্যাসবাক্য করা যায় না বা করতে গেলে অন্য পদের সাহায্য নিতে হয়, তাকে নিত্য সমাস বলে।
- এই সমাসে ব্যাসবাক্যের প্রথমে- ‘অন্য’ বা ‘কেবল' শব্দটি বসে।
- যেমন- অন্য দেশ = দেশান্তর।
- কেবল দর্শন = দর্শনমাত্র।

- আবার, নিত্য সমাসে ব্যাসবাক্যের শেষে অনেক সময় ‘তুল্য’ শব্দটি থাকে।
- যেমন- দুগ্ধ ফেনার তুল্য = দুগ্ধফেননিভ।
- নিত্য সমাসের কিছু উদাহরণ হলো:
- কালসাপ, আমরা, গ্রামান্তর, বিরানব্বই, উপায়ান্তর, দিগন্তর, ধর্মান্তর, লোকান্তর, দেখামাত্র, নামমাত্র ইত্যাদি। 

• সাধারণ কর্মধারয় সমাস:
- যে সমাসে বিশেষণ বা বিশেষণভাবাপন্ন পদের সাথে বিশেষ্য বা বিশেষ্যভাবাপন্ন পদের সমাস হয় এবং পরপদের অর্থই প্রধানরূপে প্রতীয়মান হয়, তাকে কর্মধারয় সমাস বলে।
- নীল চোখ একটি সাধারন কর্মধারয় সমাস।
- এখানে নীল একটি বিশেষণ এবং চোখ একটি বিশেষ্য।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ। 

.
‘করপল্লব’ কী ধরনের কর্মধারয় সমাস?
  1. সাধারণ কর্মধারয়
  2. উপমান কর্মধারয়
  3. উপমিত কর্মধারয়
  4. রূপক কর্মধারয়
ব্যাখ্যা

‘করপল্লব’ হলো উপমিত কর্মধারয় সমাস। 
----------------------
• উপমিত কর্মধারয়:  
- উপমিত কর্মধারয় সমাস হলো এমন এক ধরনের সমাস, যেখানে সাধারণ গুণের উল্লেখ না করে উপমেয় পদের সাথে উপমানের তুলনা করা হয়।
- উপমিত সমাসে পূর্বপদ ও পরপদ উভয়ই বিশেষ্য (N+N) হয়।
- পূর্বপদ দৃশ্যমান বস্তু, পরপদও দৃশ্যমান বস্তু।
- এতে সাধারণ বা এক ধরনের গুণের উল্লেখ থাকে না এবং তুলনার অর্থ অনেক সময় কাল্পনিক বা অবাস্তব হয়।
- ব্যাসবাক্যে ‘ন্যায়’ শব্দটি মাঝে বা শেষে বসে।
- উদাহরণ:
- কর পল্লবের ন্যায় = করপল্লব,
- মুখ চন্দ্রের ন্যায় = মুখচন্দ্র,
- আঁখি পদ্মের ন্যায় = পদ্মআঁখি,
- চরণ কমলের ন্যায় = চরণকমল,
- পুরুষ সিংহের ন্যায় = সিংহপুরুষ।
-------------------------------- 
অন্যদিকে,
- সাধারণ কর্মধারয় সমাস:
- সাধারণ কর্মধারয় সমাস হলো এমন সমাস যেখানে বিশেষণ বা বিশেষণভাবাপন্ন পদ পূর্বপদে এবং বিশেষ্য বা বিশেষ্যভাবাপন্ন পদ পরপদে থাকে, এবং সমাসের মূল অর্থ পরপদে প্রতীয়মান হয়। 
- এটি উপমান, উপমিত বা মধ্যপদলোপী সমাসের মধ্যে পড়ে না।
- সাধারণ কর্মধারয় সমাসের ব্যাসবাক্য তৈরি করতে সাধারণত ‘যে’, ‘যিনি’ বা ‘হয়’ ব্যবহার করা হয়।
- উদাহরণস্বরূপ:
- নীল যে আকাশ → নীলাকাশ,
- চালাক যে চতুর → চালাক-চতুর,
- যিনি জজ তিনিই সাহেব → জজসাহেব।

- উপমান কর্মধারয় সমাস:
- উপমান কর্মধারয় সমাস হলো এমন সমাস যেখানে প্রত্যক্ষ কোনো বস্তু (উপমেয়) এবং পরোক্ষ কোনো বস্তু (উপমান বা তুলনীয় বস্তু)-এর সাধারণ গুণ বা ধর্মের ভিত্তিতে তুলনা করা হয়।
- যেমন- 
- মিশকালো → মিশির ন্যায় কালো। 

- রূপক কর্মধারয়:    
- কিছু কর্মধারয় সমাসে উপমেয় পদের সাথে উপমান পদের অভেদ কল্পনা করা হয় এগুলোকে রূপক কর্মধারয় সমাস বলে। যেমন-  
• বিষাদ রূপ সিন্ধু = বিষাদসিন্ধু। 

উৎস:
বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ);
ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ। 

.
উপপদ তৎপুরুষ সমাস কোনটি?  
  1. দুগ্ধফেননিভ
  2. উৎকণ্ঠিত
  3. প্রভাকর
  4. যথারীতি
ব্যাখ্যা

উপপদ তৎপুরুষ সমাস:
- উপপদ তৎপুরুষ সমাস হলো এমন এক ধরনের সমাস যেখানে পূর্বপদে কোনো বিশেষ্য (নাম বা বস্তু) থাকে এবং পরপদে কৃদন্ত পদ থাকে।
- কৃদন্ত পদ হলো ধাতুর সঙ্গে কৃৎ-প্রত্যয় যোগে তৈরি শব্দ, যা কোনো কাজ বা কর্মকাণ্ড বোঝায়;
- যেমন: ধরা, চাটা, মারা।
- যখন এই কৃদন্ত পদের আগে কোনো বিশেষ্য পদ যুক্ত হয়, তখন সেটিকে উপপদ বলা হয়।
- উপপদ ও কৃদন্ত পদের মিলনে যে নতুন শব্দ তৈরি হয়, সেটিই উপপদ তৎপুরুষ সমাস।
- এই সমাস সাধারণত কোনো ব্যক্তি, প্রাণী বা উদ্ভিদের কাজ বা কর্মকাণ্ড প্রকাশ করে।

- উপপদ তৎপুরুষ সমাসের কিছু উদাহরণ:
- ছেলেধরা → ছেলে ধরে যে, 
- জলচর → জলে চরে যে, 
- জলদ → জয় দেয় যে/যা, 
- জাদুকর → জাদু করে যে, 
- প্রভাকর → প্রভা করে যে, 
- পকেটমার → পকেট মারে যে, 
- মাছিমারা → মাছি মারে যে,
- প্রিয়ংবদা → প্রিয় কথা বলে যে। 
-------------------- 
অন্যদিকে,
• দুগ্ধ ফেনার তুল্য = দুগ্ধফেননিভ, নিত্য সমাসের উদাহরণ।
• উৎ (উন্নত) কণ্ঠিত = উৎকণ্ঠিত, প্রাদি সমাসের উদাহরণ।
• রীতিকে অতিক্রম না করে = যথারীতি, অব্যয়ীভাব সমাসের উদাহরণ।

উৎস:
বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ); 
ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ। 

১০.
“আমরা” কোন প্রকার দ্বন্দ্ব সমাসের উদাহরণ?
  1. সম্বন্ধবাচক দ্বন্দ্ব
  2. একশেষ দ্বন্দ্ব
  3. সমার্থক দ্বন্দ্ব
  4. মিলনার্থক দ্বন্দ্ব
ব্যাখ্যা

- 'আমরা' হলো একশেষ দ্বন্দ্বের উদাহরণ। 
-----------------------
একশেষ দ্বন্দ্ব:
- একশেষ দ্বন্দ্ব হলো এমন সমাস যেখানে প্রধান পদটি অবশিষ্ট থেকে অন্য পদের লোপ ঘটে এবং শেষ পদ অনুসারে সমস্তপদের রূপ নির্ধারিত হয়।
- এই ধরনের সমাসে সমস্তপদ একটি একক পদ হিসেবে থাকে।
- ব্যাসবাক্যের অন্যান্য পদ লুপ্ত অবস্থায় থাকে।
- এবং সমস্ত পদ সর্বদা বহুবচন হয়।
- যেমন:
- আমরা = সে, তুমি ও আমি,
- আমাদের = তার, তোমার ও আমার,
- তোরা = সে ও তুই। 
---------------------- 
অন্যদিকে,
• সম্বন্ধবাচক দ্বন্দ্ব হলো এমন সমাস যা সম্বন্ধ বোঝায়।
- যেমন:
- দম্পতি = দম্ ও পতি,
- মাসি-পিসি = মাসি ও পিসি,
- কাকা-কাকি = কাকা ও কাকি।

• সমার্থক দ্বন্দ্ব হলো এমন সমাস যেখানে পূর্বপদ ও পরপদে সমার্থক অর্থের শব্দ মিলিত হয়।
- যেমন: হাট-বাজার = হাট ও বাজার,
- জনমানব = জন ও মানব,
- সুখশান্তি = সুখ ও শান্তি।

• মিলনার্থক দ্বন্দ্ব হলো এমন সমাস যা একাধিক পদের মিলন বোঝায়।
- যেমন:
- চা-বিস্কুট = চা ও বিস্কুট, 
- মা-বাপ = মা ও বাপ।
- কালি-কলম = কালি ও কলম। 

উৎস:
ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ;
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা। 

১১.
'নাতিশীতোষ্ণ’ শব্দটি কোন ধরনের সমাস
  1. নঞ তৎপুরুষ সমাস  
  2. দ্বিতীয়া তৎপুরুষ সমাস
  3. নঞ বহুব্রীহি সমাস
  4. কোনটি নয় 
ব্যাখ্যা

• 'নাতিশীতোষ্ণ’ শব্দটি নঞ তৎপুরুষ সমাস। 
-----------------------
• নঞ তৎপুরুষ সমাস:
- নঞ তৎপুরুষ সমাস হলো এমন তৎপুরুষ সমাস যেখানে পূর্বপদে না-বাচক অব্যয় (যেমন: অ, অনা, বে, বি, না, নি, গর) থাকে এবং পরপদের অর্থ প্রধান হয়ে প্রকাশ পায়।
- এটি সাধারণত অবিমূর্ত বা অদৃশ্য বস্তু, ভাব, গুণ বা ধর্ম বোঝায়।

- নঞ তৎপুরুষ সমাসের নিয়ম:
- পূর্বপদ = না-বাচক অব্যয়;
- পরপদ = বিশেষ্য বা বিশেষণ;
- অর্থ প্রধান = পরপদ;
- বোঝানো বস্তু = অবিমূর্ত, যেমন: সত্য, মিথ্যা, বিশ্বাস, ক্ষত, খ্যাত, মঞ্জুর, সুখ ইত্যাদি

- উদাহরণসমূহ:
- অবিশ্বাস → নয় বিশ্বাস,
- অক্ষত → নয় ক্ষত,
- নাতিদীর্ঘ → নয় অতি দীর্ঘ,
- অনিষ্ট → ন ইষ্ট,
- অসময় → ন সময়,
- অনুর্বর → ন উর্বর,
- অসহযোগ → ন সহযোগ,
- অকাল → ন কাল,
- অসুর → ন সুর,
- বেসরকারি → ন সরকারি,
- নামঞ্জুর → নয় মঞ্জুর,
- গরমিল → নাই মিল,
- অনাচার → ন আচার,
- নাতিশীতোষ্ণ → ন অতি শীতোষ্ণ,
- অনশন → ন অশন,
- অনাবশ্যক → নয় আবশ্যক।
-------------------------
অন্যদিকে,

• দ্বিতীয়া তৎপুরুষ সমাস:
- দ্বিতীয়া তৎপুরুষ সমাস হলো সেই সমাস যেখানে পূর্বপদের দ্বিতীয় বিভক্তি (যেমন—কে, রে) বিলীন হয়ে যায়; 
- এবং পরপদের অর্থই মূলভাবে প্রকাশ পায়।
- উদাহরণ:
- ‘বিপদকে আপন্ন’ → ‘বিপদাপন্ন’; এখানে ‘কে’ বিভক্তি বিলীন হওয়ায় এটি দ্বিতীয় তৎপুরুষ সমাস।

• নঞ্ বহুব্রীহি সমাস:
- নঞ্ বহুব্রীহি সমাস সেই সমাস, যেখানে পূর্বপদে না-বাচক অব্যয় (যেমন: ন, না, নেই, নাই, অ, আ) এবং পরপদে বিশেষ্য থাকে, এবং পুরো সমাসের অর্থ মূলত অন্য কোনো বস্তু বা গুণকে নির্দেশ করে।
- সাধারণত এই সমাসে  ব্যাসবাক্যে ‘যার’, ‘যাতে’ ব্যবহৃত হয়।
- উদাহরণ:
- অজ্ঞান = নেই জ্ঞান যার,
- নির্বোধ = নেই বোধ যার,

 উৎস:
ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ;
প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন। 

১২.
নিচের কোনটি বিশেষ্য + বিশেষণ যোগে গঠিত সাধারণ কর্মধারয় সমাসের উদাহরণ? 
  1. হলুদবাটা 
  2. মহাসাগর
  3. ঝরাপাতা
  4. দাদাভাই 
ব্যাখ্যা

সাধারণ কর্মধারয় সমাস:
- সাধারণ কর্মধারয় সমাস হলো এমন সমাস যেখানে বিশেষণ বা বিশেষণভাবাপন্ন পদ পূর্বপদে এবং বিশেষ্য বা বিশেষ্যভাবাপন্ন পদ পরপদে থাকে, এবং সমাসের মূল অর্থ পরপদে প্রতীয়মান হয়।
- এটি উপমান, উপমিত বা মধ্যপদলোপী সমাসের মধ্যে পড়ে না।
- সাধারণ কর্মধারয় সমাসের ব্যাসবাক্য তৈরি করতে সাধারণত ‘যে’, ‘যিনি’ বা ‘হয়’ ব্যবহার করা হয়।

বিশেষ্য + বিশেষণ যোগে গঠিত সাধারণ কর্মধারয় সমাসের উদাহরণ-
-
পটলভাজা = ভাজা যে পটল,
- আলুসিদ্ধ = সিদ্ধ যে আলু,
- হলুদবাটা = বাটা যে হলুদ,
- মাছভাজা = ভাজা যে মাছ,
- চালভাজা = ভাজা যে চাল,
- নরাধম = অধম যে নর,
- নরোত্তম = উত্তম যে নর,
- বেগুনপোড়া = পোড়া যে বেগুন,
- লঙ্কাবাটা = বাটা যে লঙ্কা ইত্যাদি।
----------------------------
অন্যদিকে, 

• বিশেষণ+বিশেষ্য যোগে গঠিত সাধারণ কর্মধারয় সমাসের উদাহরণ-
- কাঁচাকলা = কাঁচা যে কলা, 
- ঝরাপাতা = ঝরা যে পাতা,
- মহাসাগর = মহা যে সাগর,
- গুণিজন = গুণি যে জন,
- মহানবি = মহান যে নবি,
- কুশাসন = কু যে শাসন,
- সুকীর্তি = সুন্দর যে কীর্তি,
- সৎকর্ম = সৎ যে কর্ম,
- খাস-কামরা = খাস যে কামরা,
- সুখ্যাতি = সুন্দর যে খ্যাতি ইত্যাদি।

• বিশেষ্য + বিশেষ্য যোগে গঠিত সাধারণ কর্মধারয় সমাসের উদাহরণ-
- দাদাভাই = যিনি দাদা তিনিই ভাই,
- মৌলভিসাহেব = যিনি মৌলভি তিনিই সাহেব,
- খোকাবাবু = যিনি খোকা তিনিই বাবু,
- খাঁসাহেব = যিনি খাঁ তিনিই সাহেব,
- গুরুদেব = যিনি গুরু তিনিই দেব,
- ঠাকুরদাদা = যিনি ঠাকুর তিনিই দাদা,
- ডাক্তারসাহেব = যিনি ডাক্তার তিনিই সাহেব,
- লাটসাহেব = যিনি লাট তিনিই সাহেব,
- জজসাহেব = যিনি জজ তিনিই সাহেব,
- দেবর্ষি = যিনি দেব তিনিই ঋষি,
- গোলাপফুল = যা গোলাপ তাই ফুল ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ। 

১৩.
অলুক তৎপুরুষ সমাসের দৃষ্টান্ত- 
  1. মাথায় পাগড়ি 
  2. গায়ে- হলুদ 
  3. হাতে খড়ি 
  4. খবরের কাগজ
ব্যাখ্যা

• অলুক তৎপুরুষ সমাস:
- অলুক তৎপুরুষ সমাস হলো এমন সমাস যেখানে পূর্বপদের বিভক্তি ব্যাসবাক্যে লোপ পায় না।
- অর্থাৎ সমস্তপদে পূর্বপদের বিভক্তি থাকে।
- এই সমাসকে অলুক তৃতীয়া, অলুক চতুর্থী, অলুক পঞ্চমী, অলুক ষষ্ঠী এবং অলুক সপ্তমী তৎপুরুষে ভাগ করা হয়।

- উদাহরণস্বরূপ:
ঘোড়ার ডিম = ঘোড়ার ডিম,
গরুর গাড়ি = গরুর গাড়ি,
চিনির কল = চিনির কল,
কলুর বলদ = কলুর বলদ,
হাতের পাঁচ = হাতের পাঁচ,
সোনার তরী = সোনার তরী,
খবরের কাগজ = খবরের কাগজ,
চোখের বালি = চোখের বালি,
দেশের ডাক = দেশের ডাক,
মাটির মানুষ = মাটির মানুষ,
তাসের দেশ = তাসের দেশ,
টাকার কুমির = টাকার কুমির,
চাঁদের আলো = চাঁদের আলো,
গায়ের চাদর = গায়ের জন্য চাদর,
বাঘের দুধ = বাঘের দুধ,
তিলের তেল = তিল থেকে তেল,
কলের জল = কলের থেকে জল ইত্যাদি। 
-------------------------- 
অন্যদিকে, 
- মাথায় পাগড়ি, গায়ে- হলুদ, হাতে খড়ি অলুক বহুব্রীহি সমাসের উদাহরণ। 

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

১৪.
মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস এর উদাহরণ-
  1. মহাপুরুষ
  2. কুসুমকোমল
  3. দম্পতি
  4. কোনটি নয় 
ব্যাখ্যা

মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস:
- যে কর্মধারয় সমাসে ব্যাসবাক্য গঠনের সময় মাঝের বা মধ্যবর্তী পদটি বাদ পড়ে যায়, সেই ধরনের কর্মধারয় সমাসকে মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস বলা হয়।
- এই সমাসে ব্যাসবাক্যের মাঝের অংশ (যেমন: 'মিশ্রিত', 'চিহ্নিত', 'নামক', 'সূচক') সমস্তপদে আর থাকে না, শুধু প্রথম ও শেষ পদটি থাকে। 

- যেমন:
- সিংহ চিহ্নিত আসন = সিংহাসন,
- সাহিত্য বিষয়ক সভা = সাহিত্যসভা, 
- স্মৃতি রক্ষার্থে সৌধ = স্মৃতিসৌধ, 
- পল (মাংস) মিশ্রিত অন্ন = পলান্ন,
- প্রীতিসূচক উপহার = প্রীতিউপহার,
- ছায়া অবলম্বনে যে ছবি = ছায়াছবি, 
- জয় সূচক ধ্বনি = জয়ধ্বনি,
- বিজয় উপলক্ষে উৎসব = বিজয় উৎসব, 
- বিষণ্ণ অথচ মধুর = বিষণ্ণমধুর, 
- পদ্মা নাম্নী নদী = পদ্মানদী,  
- মৌ আশ্রিত মাছি = মৌমাছি, 
- ঘরে আশ্রিত জামাই =ঘরজামাই,
- জ্যোৎস্না শোভিত রাত = জ্যোৎস্নারাত,
- আত্মলিখিত জীবনী = আত্মজীবনী,
- ভিক্ষা লব্ধ অন্ন = ভিক্ষান্ন,
- এণর (মৃগের) অক্ষির ন্যায় অক্ষি = এণাক্ষি,
- বৌ পরিবেশন করা ভাত = বৌভাত,
- রাষ্ট্র সম্পর্কীয় নীতি = রাষ্ট্রনীতি,
- চিনি নির্মাণের কল = চিনিকল,
- চালে জন্মানো কুমড়া = চালকুমড়া,
- গো (ক্ষুরের) পরিমিত পদ বা স্থান = গোষ্পদ,
- প্রাণ যাওয়ার তরে ভয় = প্রাণভয়,
- ধর্মবিহিত ধার্য = ধর্মধার্য,
- এক অধিক বিংশতি = একবিংশতি,
- রেলের ওপর চলে যে গাড়ি = রেলগাড়ি,
- আয়ের ওপর কর = আয়কর,
- হস্ত দ্বারা চালিত শিল্প = হস্তশিল্প,
- বাষ্পে চালিত যান = বাষ্পযান,
- তুফান তুল্য গতিশীল যে মেল = তুফানমেল,
- সাম্য বিষয়ক বাদ = সাম্যবাদ ইত্যাদি।
-----------------------
অন্যদিকে,
- মহান যে পুরুষ = মহাপুরুষ (সাধারণ কর্মধারয় সমাস)।
- কুসুমের মতাে কোমল = কুসুমকোমল (উপমান কর্মধারয় সমাস)।
- জায়া ও পতি = দম্পতি (দ্বন্দ্ব সমাস)।

উৎস:
ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ;
মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৫.
‘অহর্নিশ’ কী ধরনের দ্বন্দ্ব সমাস?
  1. নিপাতনে সিদ্ধ দ্বন্দ্ব
  2. বহুপদী দ্বন্দ্ব
  3. অলুক দ্বন্দ্ব
  4. বিরোধার্থক দ্বন্দ্ব
ব্যাখ্যা

• ‘অহর্নিশ’ হলো নিপাতনে সিদ্ধ দ্বন্দ্ব সমাস। 
---------------------------------
• নিপাতনে সিদ্ধ দ্বন্দ্ব সমাস:
- যে দ্বন্দ্ব সমাস কোনো নির্দিষ্ট ব্যাকরণ বা নিয়ম অনুসরণ করে না, তাকে নিপাতনে সিদ্ধ দ্বন্দ্ব সমাস বলা হয়।
- অর্থাৎ, এই ধরনের সমাসে সমস্যমান পদগুলো স্বাধীনভাবে মিলিত হয়েছে এবং প্রচলিত বিভক্তি বা ব্যাকরণগত নিয়ম মানা হয়নি।
- উদাহরণ:
- অহর্নিশ = অহঃ ও নিশা;
- অহোরাত্র = অহঃ ও রাত্র;
- দিবারাত্র = দিবা ও রাত্রি;
- কুশীলব = কুশ ও লব।
---------------------------- 
অন্যদিকে, 
• বহুপদী দ্বন্দ্ব সমাস:
- বহুপদী দ্বন্দ্ব সমাস হলো এমন সমাস যেখানে দুই বা ততোধিক পদ মিলিত হয়ে একটি দ্বন্দ্ববাচক অর্থ প্রকাশ করে।
- এই ধরনের সমাসে প্রতিটি পদ স্বতন্ত্র থাকলেও একত্রিত হয়ে নতুন একপদ তৈরি করে।
- উদাহরণস্বরূপ:
- তেল-নুন-লাকড়ি = তেল, নুন ও লকড়ি,
- নাক-কান-গলা = নাক, কান ও গলা,
- স্বর্গ-মর্ত্য-পাতাল = স্বর্গ, মর্ত্য ও পাতাল।

অলুক দ্বন্দ্ব সমাস:
- অলুক দ্বন্দ্ব সমাস হলো এমন সমাস যেখানে সমস্যমান পদগুলোর বিভক্তি সমস্ত পদেও যুক্ত থাকে বা কোনো বিভক্তি লোপ পায় না।
- অর্থাৎ, প্রতিটি পদ তার ব্যাকরণগত রূপ ধরে থাকে।
- উদাহরণস্বরূপ:
- দুধে-ভাতে = দুধে ও ভাতে,
- হাতে-কলমে = হাতে ও কলমে,
- ধীরেসুস্থে = ধীরে ও সুস্থে।

বিরোধার্থক দ্বন্দ্ব সমাস:
- বিরোধার্থক বা বিপরীতার্থক দ্বন্দ্ব সমাস হলো এমন সমাস যেখানে পূর্বপদ ও পরপদ বিপরীত বা বৈরী অর্থের শব্দ নিয়ে গঠিত হয়।
- এই ধরনের সমাসে প্রতিটি পদ স্বতন্ত্র অর্থ বহন করে, কিন্তু মিলিত হয়ে একটি দ্বন্দ্ববাচক অর্থ প্রকাশ করে।
- উদাহরণস্বরূপ:
- শত্রু-মিত্র = শত্রু ও মিত্র, 
- দা-কুমড়া = দা ও কুমড়া,
- অহি-নকুল = অহি ও নকুল। 

উৎস:
মাধ্যমিক বাংলা দ্বিতীয় পত্র, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়;
ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

১৬.
রূপক কর্মধারয় সমাসের উদাহরণ-   
  1. বীণাপাণি
  2. জ্ঞানবৃক্ষ
  3. সোনামুখী
  4. নীলপদ্ম
ব্যাখ্যা

• রূপক কর্মধারয় সমাসের উদাহরণ-  জ্ঞানবৃক্ষ। 
--------------
• রূপক কর্মধারয় সমাস:
- রূপক কর্মধারয় সমাস হলো এমন সমাস যেখানে উপমান ও উপমেয়কে অভিন্ন কল্পনা করা হয়।
- এ সমাসে উপমেয় পদটি আগে এবং উপমান পদটি পরে বসে।
- এবং সমস্যমান পদে ‘রূপ’ শব্দটি যোগ করে মূল ব্যাসবাক্য তৈরি হয়।
- উদাহরণস্বরূপ,
• কালরাত্রি = কাল রূপ রাত্রি,
জ্ঞানবৃক্ষ = জ্ঞান রূপ বৃক্ষ,
• মনমাঝি = মন রূপ মাঝি। 

- রূপক কর্মধারয় সমাসের কিছু উদাহরণ:
• বিষাদসিন্ধু,
• কালরাত্রি ,
• কালসর্প ,
• কথামৃত,
• কালচক্র,
• কালস্রোত,
• জীবনতরী, 
• দেহপিঞ্জর, 
• জ্ঞানবৃক্ষ, 
• দেশমাতৃকা, 
• প্রাণবায়ু, 
• বিদ্যারত্ন, 
• শোকসিন্ধু, 
• সংসারসমুদ্র, 
• হৃদয়পিঞ্জর।
---------------------------
অন্যদিকে,
• ব্যাধিকরণ বহুব্রীহি: পূর্বপদ এবং পরপদ দুটোই বিশেষ্য।
- উদাহরণ:
- বীণা পাণিতে যার → বীণাপাণি। 

• মধ্যপদলোপী বহুব্রীহি: ব্যাসবাক্যের মধ্যবর্তী পদ লোপ পায়।
- উদাহরণ:
- সোনার মতো উজ্জ্বল মুখ যার → সোনামুখী। 

• সাধারণ কর্মধারয় সমাস:  
- সাধারণ কর্মধারয় সমাস হলো এমন সমাস যেখানে পূর্বপদে বিশেষণ বা বিশেষণভাবাপন্ন পদ এবং পরপদে বিশেষ্য বা বিশেষ্যভাবাপন্ন পদ থাকে, এবং সমাসের মূল অর্থ পরপদে প্রতীয়মান হয়।
- উদাহরণস্বরূপ:
- নীল যে পদ্ম → নীলপদ্ম। 

উৎস:
বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি - নবম ও দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২২ সংস্করণ),
ভাষা- শিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদ।

১৭.
সম্বন্ধ তৎপুরুষ সমাস নয় কোনটি? 
  1. মৃগশিশু
  2. জলমগ্ন 
  3. উপলখণ্ড
  4. জীবনসঞ্চার 
ব্যাখ্যা

সম্বন্ধ তৎপুরুষ সমাস নয়- জলমগ্ন।  
----------------------- 
• ষষ্ঠী তৎপুরুষ বা সম্বন্ধ তৎপুরুষ সমাস:
- ষষ্ঠী তৎপুরুষ বা হলো এমন সমাস যেখানে পূর্বপদে ষষ্ঠী বিভক্তি (য, এর) লোপ পায় এবং পরপদের অর্থ প্রধানভাবে প্রকাশ পায়।
- এটি মূলত সম্বন্ধ পদ তৈরি করে।
- এই সমাসে পূর্বপদ ও পরপদের মধ্যে যৌক্তিক বা সম্পর্কসূচক অর্থ থাকে।

- উদাহরণস্বরূপ:
চা-বাগান = চায়ের বাগান,
রাজহংস = হংসের রাজা,
মৃগশিশু = মৃগের শিশু, 
উপলখণ্ড = উপলের খণ্ড, 
জীবনসঞ্চার = জীবনের সঞ্চার, 
কবিগুরু = কবিদের গুরু, 
গৃহকর্ত্রী = গৃহের কর্ত্রী, 
মার্তণ্ডপ্রায় = মার্তণ্ডের প্রায়, 
পুষ্পসৌরভ = পুষ্পের সৌরভ, 
পূর্বাহ্ণ = অহ্নের পূর্বভাগ, 
বনস্পতি = বনের পতি, 
গণতন্ত্র = জনগণের তন্ত্র, 
রাজদণ্ড = রাজের দণ্ড, 
রাজপথ = পথের রাজা, 
পুষ্পাঞ্জলি = পুষ্পের অঞ্জলি, 
পৌরসভা = পৌরদের সভা।
-----------------------
অন্যদিকে,
জলমগ্ন (জলে মগ্ন) সপ্তমী তৎপুরুষ বা অধিকরণ তৎপুরুষ সমাস। 

- সপ্তমী তৎপুরুষ বা অধিকরণ তৎপুরুষ সমাস হলো এমন সমাস যেখানে পূর্বপদে সপ্তমী বিভক্তি (যেমন – এ, য়, তে) লোপ পেয়ে সমাস গঠিত হয়।
- এই সমাসের মূল বৈশিষ্ট্য হলো, পূর্বপদকে “কোথায়, কখন, কীসে দ্বারা” প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যাবে তাই সপ্তমী তৎপুরুষ সমাস। 
- উদাহরণস্বরূপ:
- গাছপাকা = গাছে পাকা,
- মাথাব্যথা = মাথায় ব্যথা,
- বনভোজন = বনে ভোজন,
- রথারোহণ = রথে আহোরণ,
- তমাসাচ্ছন্ন = তমসায় আচ্ছন্ন,
- সলিলসমাধি = সলিলে সমাধি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

১৮.
কর্মধারয় সমাসের বিপরীত সমাস কোনটি? 
  1. প্রাদি সমাস 
  2. দ্বন্দ্ব সমাস 
  3. অব্যয়ীভাব সমাস
  4. দ্বিগু সমাস 
ব্যাখ্যা

কর্মধারয় সমাসের বিপরীত হলো অব্যয়ীভাব সমাস।
- কারণ, কর্মধারয় সমাসে পরপদের অর্থ প্রধান থাকে, কিন্তু অব্যয়ীভাব সমাসে পূর্বপদে অব্যয় থাকে এবং সেই অব্যয়ের অর্থ প্রধানভাবে প্রতীয়মান হয়। 
-----------------------
কর্মধারয় সমাস:
- কর্মধারয় সমাস হলো এমন সমাস যেখানে পরপদের অর্থ প্রধানভাবে প্রতীয়মান হয়।
- এটি বিশেষ্য ও বিশেষণ পদ দ্বারা গঠিত হয় এবং সমস্তপদ সাধারণত কোনো গুণ বা ধর্ম বোঝায়।
- ব্যাসবাক্যে সাধারণত ‘যে-সে’, ‘যিনি-তিনি’, ‘ন্যায়’, ‘মতো’, ‘রূপ’ ইত্যাদি শব্দ ব্যবহার করা হয়। 

- কর্মধারয় সমাসের পূর্বপদ ও পরপদ নিম্নোক্ত কোনো একটি পদ্ধতিতে গঠিত হতে পারে:

• বিশেষ্য + বিশেষণ:
- পূর্বপদ বিশেষ্য ও পরপদ বিশেষণ দ্বারা গঠিত সমাস।
- সাধারণত কোনো ক্রিয়া বা গুণ বোঝায়।
- উদাহরণ: আলুসিদ্ধ, হলুদবাটা, নরাধম, মাছভাজা, চালভাজা, পটলভাজা, নরোত্তম, বেগুনপোড়া।

• বিশেষণ + বিশেষ্য:
- পূর্বপদ বিশেষণ ও পরপদ বিশেষ্য দ্বারা গঠিত সমাস।
- সাধারণত পরপদে মূল অর্থ প্রতীয়মান হয়।
- উদাহরণ: কাঁচকলা, মহানগর, কুশাসন, মহানবি, সুকীর্তি, খাসকামরা, সুখ্যাতি, মহাত্মা।

• বিশেষ্য + বিশেষ্য:
- পূর্বপদ ও পরপদ উভয়ই বিশেষ্য।
- ব্যাসবাক্যে ‘যিনি-তিনি’ বা ‘যে-সে’ ধরনের অর্থ প্রকাশ করে।
- উদাহরণ: দাদাভাই, মৌলভিসাহেব, খোকাবাবু, খাঁসাহেব, গোলাপফুল, গুরুদেব, গিন্নিমা, দেবর্ষি।

• বিশেষণ + বিশেষণ:
- পূর্বপদ ও পরপদ উভয়ই বিশেষণ; সাধারণত গুণ বা ধর্ম বোঝায়।
- উদাহরণ: চালাকচতুর, সুস্থসবল, অম্লমধুর, কঠিনকোমল, কাঁচাপাকা, মিঠেকড়া, মোটাতাজা।
------------------------- 
অব্যয়ীভাব সমাস:
- যে সমাসে পূর্বপদে কোনো অব্যয় (উপসর্গ বা অব্যয় পদ) বসে পরপদের অর্থের প্রাধান্য বজায় রেখে নতুন অর্থ তৈরি করে, তাকেই অব্যয়ীভাব সমাস বলে।
- এই সমাসে অব্যয়ের অর্থের প্রাধান্য থাকে। 
- এবং এই সমাসে সাধারণত অভাব, যোগ্যতা, সাদৃশ্য, সীমা বা পৌনঃপুনিক অর্থ প্রকাশ পায়। 

- অব্যয়ীভাব সমাসের উদাহরণ:

• পর্যন্ত অর্থে:
- মরণ পর্যন্ত = আমরণ, 
- কণ্ঠ পর্যন্ত = আকণ্ঠ,
- মাথা থেকে পা পর্যন্ত = আপাদমস্তক, 

• সামীপ্য (নৈকট্য) অর্থে:
- কূলের সমীপে = উপকূল,
- কণ্ঠের সমীপে = উপকণ্ঠনগরের সমীপে = উপনগরী। 

• অভাব অর্থে:
- ভাতের অভাব = হাভাত,
- ভিক্ষার অভাব = দুর্ভিক্ষ,
- মিলের অভাব = গরমিল,
- বিঘ্নের অভাব = নির্বিঘ্ন,
- লাজ (লজ্জা) নাই যার = নিলর্জ্জ। 

• পৌনঃপুনিকতা/বারবার) অর্থে:
- দিন দিন = প্রতিদিন,
- একে একে = প্রত্যেককে,
- ক্ষণে ক্ষণে = প্রতিক্ষণ,
- ঘরে ঘরে = প্রতিঘর

• অনতিক্রম্যতা অর্থে:
- বিধিকে অতিক্রম না করে = যথাবিধি, 
- শক্তিকে অতিক্রম না করে = যথাশক্তি। 

• সাদৃশ্য অর্থে:
- শহরের সদৃশ = উপশহর,
- বর্ণের সদৃশ = উপবর্ণ। 

উৎস:
বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি - নবম ও দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২২ সংস্করণ);
ভাষা- শিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদ।

১৯.
নিচের কোনটি পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ নয়?
  1. সেচনকলস
  2. লোকভয়
  3. পথভ্রষ্ট
  4. ভদ্রেতর
ব্যাখ্যা

পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ নয়- সেচনকলস। 
------------------------------- 
• পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাস:
- পঞ্চমী তৎপুরুষ বা অপাদান তৎপুরুষ সমাস হলো এমন সমাস যেখানে পূর্বপদে পঞ্চমী বিভক্তি (যেমন – হতে, থেকে, চেয়ে) লোপ পেয়ে সমাস গঠিত হয়।
- এই সমাসে পূর্বপদ “কোথা থেকে, কী থেকে, কার থেকে” ইত্যাদি অর্থ প্রকাশ করে এবং পরপদ মূল অর্থ বহন করে।
- সাধারণত চ্যুত, জাত, আগত, ভীত, গৃহীত, বিরত, মুক্ত, ভ্রষ্ট বা পালানো বোঝানো হলে পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাস হয়।

- উদাহরণসমূহ:
লোকভয় = লোক হতে ভয়, 
পথভ্রষ্ট = পথ হতে ভ্রষ্ট, 
ভদ্রেতর = ভদ্র হতে ইতর, 
মেঘমুক্ত = মেঘ হতে মুক্ত, 
জেলমুক্ত = জেল হতে মুক্ত, 
ঝণমুক্ত = ঝণ হতে মুক্ত, 
সত্যভ্রষ্ট = সত্য থেকে ভ্রষ্ট, 
রোগমুক্ত = রোগ হতে মুক্ত, 
দলছুট = দল থেকে ছুট, 
বৃক্ষচ্যুত = বৃক্ষ হতে চ্যুত,
লক্ষ্যচ্যুত = লক্ষ্য হতে চ্যুত। 

- টেকনিক:
- পরপদে ‘ভ্রষ্ট’, ‘মুক্ত’, ‘চ্যুত’, ‘ভয়’, ‘ছুট’ বা সমজাতীয় শব্দ থাকলে তা পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাস হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।
------------------------------- 
অন্যদিকে, 
- সেচনকলস- চতুর্থী তৎপুরুষ বা সম্প্রদান তৎপুরুষ সমাস। 

- চতুর্থী তৎপুরুষ বা সম্প্রদান তৎপুরুষ সমাস:
- চতুর্থী তৎপুরুষ বা সম্প্রদান তৎপুরুষ সমাস হলো এমন সমাস যেখানে পূর্বপদে চতুর্থী বিভক্তি (যেমন – কে, জন্য, নিমিত্ত) লোপ পেয়ে সমাস গঠিত হয়।
- এ ধরনের সমাসে সমস্তপদ দ্বারা পরপদ মূলত পূর্বপদের জন্য বা উদ্দেশ্যে বোঝায়। 

- উদাহরণসমূহ:
সেচনকলস = সেচনের নিমিত্তে কলস,
রান্নাঘর = রান্নার জন্য ঘর,
বসতবাটি = বসতের নিমিত্তে বাটি,
তপোবন = তপের নিমিত্তে বন,
ডাকমাশুল = ডাকের নিমিত্ত মাশুল,
দেশপ্রীতি = দেশের জন্য প্রীতি,
পাঠাগার = পাঠের জন্য আগার,
দেবভক্ত = দেবকে ভক্তি,
ডাকঘর = ডাকের নিমিত্ত ঘর,
মুক্তিযুদ্ধ = মুক্তির জন্য যুদ্ধ। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

২০.
‘পদ্মানদী’ শব্দটি কোন সমাসের দৃষ্টান্ত?
  1. উপমান কর্মধারয় সমাস
  2. উপমিত কর্মধারয় সমাস
  3. রূপক কর্মধারয় সমাস
  4. মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস
ব্যাখ্যা

• ‘পদ্মানদী' শব্দটি মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাসের দৃষ্টান্ত। 
---------------------------------------
• মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস:
- মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস হলো এমন সমাস যেখানে ব্যাসবাক্যের মধ্যপদ লোপ পায়।
- অর্থাৎ, সাধারণ বাক্যে যে মধ্যপদটি থাকে—যেমন: 'নিয়ন্ত্রিত' 'চিহ্নিত', 'বিষয়ক', 'রক্ষার্থে', 'আশ্রিত', 'মিশ্রিত', 'শোভিত' 'নাম্নী' ইত্যাদি—সেই মধ্যপদটি সমাস গঠনের সময় উধাও হয়ে যায়। 
- উদাহরণস্বরূপ- পদ্মা নাম্নী নদী = পদ্মানদী; এখানে ‘নাম্নী’ মধ্যপদটি লোপ পেয়েছে। 

- মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাসের কিছু উদাহরণ:
- সাহিত্য বিষয়ক সভা → ‘সাহিত্যসভা,
- শিক্ষা বিষয়ক মন্ত্রী = শিক্ষামন্ত্রী, 
- জ্যোৎস্না শোভিত রাত = জ্যোৎস্নারাত, 
 - স্মৃতি রক্ষার্থে সৌধ = স্মৃতিসৌধ,
- চালে আশ্রিত কুমড়া = চালকুমড়া,
- হাসি মাখা মুখ = হাসিমুখ,
- গণ নিয়ন্ত্রিত তন্ত্র = গণতন্ত্র,
- পল মিশ্রিত অন্ন = পলান্ন,
- বৌ পরিবেশন করা ভাত = বৌভাত,
- রাষ্ট্র সম্পর্কীয় নীতি = রাষ্ট্রনীতি,
- চিনি নির্মাণের কল = চিনিকল,
- চালে জন্মানো কুমড়া = চালকুমড়া,
- গো (ক্ষুরের) পরিমিত পদ বা স্থান = গোষ্পদ,
- প্রাণ যাওয়ার তরে ভয় = প্রাণভয়,
- ধর্মবিহিত ধার্য = ধর্মধার্য,
- এক অধিক বিংশতি = একবিংশতি,
- রেলের ওপর চলে যে গাড়ি = রেলগাড়ি,
- আয়ের ওপর কর = আয়কর,
- হস্ত দ্বারা চালিত শিল্প = হস্তশিল্প,
- দুধ মিশ্রিত সাগু = দুধসাগু ইত্যাদি।
----------------------------------------------- 
অন্যদিকে, 
• উপমান কর্মধারয় সমাস-
- উপমান কর্মধারয় সমাস হলো এমন সমাস যেখানে সাধারণ ধর্মবাচক পদকে উপমাবাচক পদের সঙ্গে যুক্ত করা হয়।
- এই সমাসে উপমাবাচক পদটি সেই পদকে প্রকাশ করে যার সঙ্গে তুলনা করা হয়।
- উদাহরণ:
- তুষারশুভ্র = তুষারের ন্যায় শুভ্র। 

• উপমিত কর্মধারয় সমাস-
- উপমিত কর্মধারয় সমাস হলো এমন সমাস যেখানে সাধারণ গুণ স্পষ্টভাবে বলা হয় না।
- কিন্তু উপমেয় পদকে উপমানের সঙ্গে যুক্ত করা হয় এবং উপমেয় পদটি আগে আসে।
- উদাহরণ:
- চন্দ্রমুখ = মুখ চন্দ্রের ন্যায়।

• রূপক কর্মধারয় সমাস-
- রূপক কর্মধারয় সমাস হলো এমন সমাস যেখানে উপমান ও উপমেয়কে অভিন্ন কল্পনা করা হয়।
- এ সমাসে উপমেয় পদটি আগে এবং উপমান পদটি পরে বসে।
- এবং সমস্যমান পদে ‘রূপ’ শব্দটি যোগ করে মূল ব্যাসবাক্য তৈরি হয়।
- উদাহরণ:
- বিষাদসিন্ধু = বিষাদ রূপ সিন্ধু,
- মনমাঝি = মন রূপ মাঝি। 

উৎস:
বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি - নবম ও দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২২ সংস্করণ),
ভাষা- শিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদ।।