• কর্মধারয় সমাসের বিপরীত হলো অব্যয়ীভাব সমাস।
- কারণ, কর্মধারয় সমাসে পরপদের অর্থ প্রধান থাকে, কিন্তু অব্যয়ীভাব সমাসে পূর্বপদে অব্যয় থাকে এবং সেই অব্যয়ের অর্থ প্রধানভাবে প্রতীয়মান হয়।
-----------------------
• কর্মধারয় সমাস:
- কর্মধারয় সমাস হলো এমন সমাস যেখানে পরপদের অর্থ প্রধানভাবে প্রতীয়মান হয়।
- এটি বিশেষ্য ও বিশেষণ পদ দ্বারা গঠিত হয় এবং সমস্তপদ সাধারণত কোনো গুণ বা ধর্ম বোঝায়।
- ব্যাসবাক্যে সাধারণত ‘যে-সে’, ‘যিনি-তিনি’, ‘ন্যায়’, ‘মতো’, ‘রূপ’ ইত্যাদি শব্দ ব্যবহার করা হয়।
- কর্মধারয় সমাসের পূর্বপদ ও পরপদ নিম্নোক্ত কোনো একটি পদ্ধতিতে গঠিত হতে পারে:
• বিশেষ্য + বিশেষণ:
- পূর্বপদ বিশেষ্য ও পরপদ বিশেষণ দ্বারা গঠিত সমাস।
- সাধারণত কোনো ক্রিয়া বা গুণ বোঝায়।
- উদাহরণ: আলুসিদ্ধ, হলুদবাটা, নরাধম, মাছভাজা, চালভাজা, পটলভাজা, নরোত্তম, বেগুনপোড়া।
• বিশেষণ + বিশেষ্য:
- পূর্বপদ বিশেষণ ও পরপদ বিশেষ্য দ্বারা গঠিত সমাস।
- সাধারণত পরপদে মূল অর্থ প্রতীয়মান হয়।
- উদাহরণ: কাঁচকলা, মহানগর, কুশাসন, মহানবি, সুকীর্তি, খাসকামরা, সুখ্যাতি, মহাত্মা।
• বিশেষ্য + বিশেষ্য:
- পূর্বপদ ও পরপদ উভয়ই বিশেষ্য।
- ব্যাসবাক্যে ‘যিনি-তিনি’ বা ‘যে-সে’ ধরনের অর্থ প্রকাশ করে।
- উদাহরণ: দাদাভাই, মৌলভিসাহেব, খোকাবাবু, খাঁসাহেব, গোলাপফুল, গুরুদেব, গিন্নিমা, দেবর্ষি।
• বিশেষণ + বিশেষণ:
- পূর্বপদ ও পরপদ উভয়ই বিশেষণ; সাধারণত গুণ বা ধর্ম বোঝায়।
- উদাহরণ: চালাকচতুর, সুস্থসবল, অম্লমধুর, কঠিনকোমল, কাঁচাপাকা, মিঠেকড়া, মোটাতাজা।
-------------------------
• অব্যয়ীভাব সমাস:
- যে সমাসে পূর্বপদে কোনো অব্যয় (উপসর্গ বা অব্যয় পদ) বসে পরপদের অর্থের প্রাধান্য বজায় রেখে নতুন অর্থ তৈরি করে, তাকেই অব্যয়ীভাব সমাস বলে।
- এই সমাসে অব্যয়ের অর্থের প্রাধান্য থাকে।
- এবং এই সমাসে সাধারণত অভাব, যোগ্যতা, সাদৃশ্য, সীমা বা পৌনঃপুনিক অর্থ প্রকাশ পায়।
- অব্যয়ীভাব সমাসের উদাহরণ:
• পর্যন্ত অর্থে:
- মরণ পর্যন্ত = আমরণ,
- কণ্ঠ পর্যন্ত = আকণ্ঠ,
- মাথা থেকে পা পর্যন্ত = আপাদমস্তক,
• সামীপ্য (নৈকট্য) অর্থে:
- কূলের সমীপে = উপকূল,
- কণ্ঠের সমীপে = উপকণ্ঠনগরের সমীপে = উপনগরী।
• অভাব অর্থে:
- ভাতের অভাব = হাভাত,
- ভিক্ষার অভাব = দুর্ভিক্ষ,
- মিলের অভাব = গরমিল,
- বিঘ্নের অভাব = নির্বিঘ্ন,
- লাজ (লজ্জা) নাই যার = নিলর্জ্জ।
• পৌনঃপুনিকতা/বারবার) অর্থে:
- দিন দিন = প্রতিদিন,
- একে একে = প্রত্যেককে,
- ক্ষণে ক্ষণে = প্রতিক্ষণ,
- ঘরে ঘরে = প্রতিঘর
• অনতিক্রম্যতা অর্থে:
- বিধিকে অতিক্রম না করে = যথাবিধি,
- শক্তিকে অতিক্রম না করে = যথাশক্তি।
• সাদৃশ্য অর্থে:
- শহরের সদৃশ = উপশহর,
- বর্ণের সদৃশ = উপবর্ণ।
উৎস:
বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি - নবম ও দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২২ সংস্করণ);
ভাষা- শিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদ।