পরীক্ষা আর্কাইভ

বার কাউন্সিল প্রস্তুতি - লং কোর্স [আর্কাইভ]

পরীক্ষাবার কাউন্সিল প্রস্তুতি - লং কোর্স [আর্কাইভ]তারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়50 minutes
মোট প্রশ্ন৮০
সিলেবাস
Exam - 14 Full Model Test - 04 Topic: Full Syllabus
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বার কাউন্সিল প্রস্তুতি - লং কোর্স [আর্কাইভ]

বার কাউন্সিল প্রস্তুতি - লং কোর্স [আর্কাইভ] · তারিখ অনির্ধারিত · ৮০ প্রশ্ন

.
‘‘সোলে ডিক্রিতে আপিল করা যায় না’’ দেওয়ানী কার্যবিধির কত ধারায় বলা হয়েছে?
  1. ৯৬(১)
  2. ৯৬(২)
  3. ৯৬(৩)
  4. আপিল করা যায়।
ব্যাখ্যা
♦ দেওয়ানী কার্যবিধির ৯৬ (৩) ধারায় বলা হয়েছে, আদালত পক্ষদ্বয়ের সম্মতিতে আপস বা সোলে ডিক্রি (Compromise Decree) দিলে তার বিরুদ্ধে আপীল করা যাবে না।
.
ভোট দেওয়ার অধিকার খর্ব হলে সেক্ষেত্রে প্রতিকার কি?
  1. ফৌজদারী মোকদ্দমা
  2. দেওয়ানি মোকদ্দমা
  3. কোনো প্রতিকার নাই
  4. কোনটিই না
ব্যাখ্যা
♦ দেওয়ানি প্রকৃতির মোকদ্দমার ধরণ:
(i) স্থাবর, অস্থাবর সম্পত্তির অধিকার
(ii) অদৃশ্য সম্পত্তি যথা: কপিরাইট/ট্রেডমার্ক এর স্বত্বের অধিকার
(iii) পদের/মর্যাদার অধিকার
(iv) ভোটের অধিকার 
(v) বাটোয়ারা মোকদ্দমা (Partition Suit)
(vi) অগ্রক্রয়ের মোকদ্দমা (Preemption Suit)
(vii) অর্থ লেনদেনের মোকদ্দমা (Money)

অর্থাৎ ভোট দেওয়ার অধিকার খর্ব হলে সেক্ষেত্রে প্রতিকার হল দেওয়ানি মোকদ্দমা দায়ের।
.
বাংলাদেশের আইনে কীভাবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার বিধান রয়েছে?
  1. পাথর ছুড়ে
  2. ফাঁসি দিয়ে
  3. গুলি করে
  4. খ ও গ
ব্যাখ্যা
♦ ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৬৮ ধারামতে কোন ব্যক্তিকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হলে দণ্ডাদেশে নির্দেশ থাকিবে যে, মৃত্যু না হওয়া পর্যন্ত তাকে তার গলায় ফাঁসি দিয়ে ঝুলিয়ে রাখতে হবে। তবে ২০১০ সালে বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলায় আদালত ফায়ারিং স্কোয়াডের মাধ্যমে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের নির্দেশ দিয়েছিল। ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনের (Special Powers Act, 1974) ৩৪ক ধারামতে ২ ভাবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা যাবে। যথা- i) ফাঁসি দিয়ে; অথবা ii) গুলি করে।
.
দেওয়ানি কার্যবিধি অনুযায়ী চূড়ান্ত মিথ্যা বা বিব্রতকর দাবি করা হলে, সেক্ষেত্রে অপর পক্ষকে কত টাকা পর্যন্ত খরচ প্রদানের আদেশ দেয়া যাবে?
  1. ৩০০০
  2. ২০,০০০
  3. ২০০০
  4. ১০,০০০
ব্যাখ্যা
♦ দেওয়ানী কার্যবিধির ধারা ৩৫ক অনুসারে যদি কোন মামলায় কোন ব্যক্তি মিথ্যা বা বিরক্তকর দাবি বা জবাব প্রদান করে তাহলে আদালত তাকে বিশ হাজার টাকা পর্যন্ত ক্ষতিপূরণের আদেশ দিতে পারেন এবং এই আদেশের বাহিরে তার বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলাও দায়ের করা যেতে পারে।
.
১০ বছর বয়সী শিশুর কাজ কখন অপরাধ বলে গণনা হবে না?
  1. অপরিণত বোধ সম্পন্ন হলে
  2. কখনো অপরাধ হবে না
  3. খুন ব্যতীত অন্য ক্ষেত্রে
  4. নিন্দনীয় নরহত্যা ব্যতীত অন্য ক্ষেত্রে
ব্যাখ্যা
♦দণ্ডবিধির ৮৩ ধারামতে ৯ বছরের বেশি কিন্তু ১২ বছরের কম বয়স্ক অপরিণত বোধ সম্পন্ন (immature understanding) শিশুর কাজ অপরাধ নয় ।
♦ তবে পরিপক্কতা অর্জন করলে অর্থাৎ কাজের প্রকৃতি ও পরিণতি উপলব্ধি করতে পারলে উক্ত ৯ বছরের বেশি কিন্তু ১২ বছরের কম বয়স্ক শিশুর কাজ অপরাধ বলে গণ্য হবে।
.
দেওয়ানি কার্যবিধি ১৯০৮ অনুযায়ী নিচের কোনটি আপীল আদালতের ক্ষমতার সাথে অসামঞ্জস্যপূর্ণ?
  1. চূড়ান্ত নিষ্পত্তি
  2. বিচারার্থে প্রেরণ
  3. অতিরিক্ত সাক্ষ্য গ্রহণ না করা
  4. সবগুলো সামঞ্জস্যপূর্ণ
ব্যাখ্যা
♦দেওয়ানি কার্যবিধির ১০৭ ধারা অনুযায়ী কোন আপীল আদালতের নিম্নলিখিত ক্ষমতাবলী থাকবে-
(i) কোন মোকদ্দমা চূড়ান্তভাবে নিষ্পত্তি করার।
(ii) কোন মোকদ্দমা পুনর্বিচারে প্রেরণ করার।
(iii) বিচার্য বিষয় গঠন এবং সেইগুলি বিচারার্থে প্রেরণ করার।
(iv) অতিরিক্ত সাক্ষ্য গ্রহণ বা অনুরূপ সাক্ষ্য গ্রহণ বা তলব করার ক্ষমতা। 
.
কয়টি ক্ষেত্রে আত্মরক্ষার অধিকার প্রয়োগ করা যায়-
  1. ২ টি
  2. ৩ টি
  3. ৪ টি
  4. ৫ টি
ব্যাখ্যা
♦দণ্ডবিধির ৯৭ ধারা মতে ২টি ক্ষেত্রে আত্মরক্ষার অধিকার প্রয়োগ করা যায়।
(i) নিজের অথবা অন্য কারোর দেহ বা শরীরের ক্ষেত্রে আত্মরক্ষার অধিকার (ধারা: ১০০-১০২);
(ii)স্থাবর বা অস্থাবর সম্পত্তির ক্ষেত্রে আত্মরক্ষার অধিকার (ধারা: ১০৩-১০৫)।
.
দেওয়ানি কার্যবিধি কি ধরনের আইন?
  1. মূল আইন
  2. পদ্ধতিগত আইন
  3. মূল আইন ও পদ্ধতিগত আইন
  4. অস্থায়ী আইন
ব্যাখ্যা
♦আইনের প্রকৃতি প্রধানত ধরনের হয়ে থাকে।
যথা-(১) পদ্ধতিগত আইন এবং (২) তত্ত্বগত আইন বা মূল আইন।
♦পদ্ধতিগত আইন: যে আইনে কোন মোকদ্দমা বা মামলার বিচার করার নিয়ম বা পদ্ধতি সম্পর্কে উল্লেখ থাকে, সেই আইনকে পদ্ধতিগত আইন বলে। যেমন: দেওয়ানী কার্যবিধি-১৯০৮, ফৌজদারী কার্যবিধি-১৮৯৮।
♦তত্ত্বগত আইন: যে আইনে কোন অধিকার বা শাস্তিকে সংজ্ঞায়িত করে, সেই আইনকে তত্ত্বগত আইন বলে। যেমন: সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন, ১৮৭৭, দণ্ডবিধি, ১৮৬০।
.
দণ্ডবিধির কত ধারায় ‘‘de minimus non corat lex’’ মতবাদটি প্রতিফলিত হয়েছে?
  1. ৮৫ ধারায়
  2. ১০৫ ধারায়
  3. ৭৫ ধারায়
  4. ৯৫ ধারায়
ব্যাখ্যা
♦দণ্ডবিধির ৯৫ ধারা অনুযায়ী সামান্য, উপেক্ষাযোগ্য এবং তুচ্ছ ঘটনা অপরাধমূলক হলেও দণ্ড দেয়া যাবে না।
♦দণ্ডবিধির ৯৫ ধারায় 'de minimus non curat lex' মতবাদটির প্রতিফলন ঘটেছে। 'de minimus non curat lex' means law would not take action on small & trifling matter.
১০.
দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশগুলো পরিবর্তন বা সংশোধন করতে পারে কে?
  1. রাষ্ট্রপতি
  2. সুপ্রিম কোর্ট
  3. হাই কোর্ট
  4. জজ কোর্ট
ব্যাখ্যা
♦দেওয়ানি কার্যবিধির ১২২ ধারায় সুপ্রীম কোর্টকে দেওয়ানী কার্যবিধির বিধি প্রণয়ন ও সংশোধন করার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। সেই সাথে সংবিধানে জাতীয় সংসদকে আইন প্রণয়ন ও সংশোধন করার যে ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে সেটাকে খর্ব করা হয়নি। কারণ সংবিধান হলো সর্বোচ্চ আইন।
১১.
দণ্ডবিধির ১০০ ধারা মতে দেহ বা শরীরকে প্রতিরক্ষার জন্য কয়টি ক্ষেত্রে মৃত্যু পর্যন্ত ঘটানো যায়?
  1. ৫ টি
  2. ৬ টি
  3. ৭ টি
  4. ৮ টি
ব্যাখ্যা
♦দণ্ডবিধির ১০০ ধারামতে দেহ বা শরীরকে প্রতিরক্ষার জন্য নিম্নলিখিত ৬টি ক্ষেত্রে আক্রমণকারীর মৃত্যু পর্যন্ত ঘটানো যায়। যথা-
   (i) এমন আক্রমন যা মৃত্যু ঘটাতে পারে
   (ii) এমন আক্রমন যা গুরুতর আঘাত তৈরী করতে পারে
   (iii) ধর্ষণের ক্ষেত্রে
   (iv) অপ্রকৃত কাম লালসার ক্ষেত্রে
   (v) মনুষ্যহরণ বা অপহরণের চেষ্টা করলে
   (vi) আইনের আশ্রয় নিতে বাধা দিতে অবৈধভাবে আটক করলে
১২.
Affray এর বিধান রয়েছে কত ধারায়?
  1. ১৫৩ ধারায়
  2. ১৫৯ ধারায়
  3. ১৫৫ ধারায়
  4. ১৪১ ধারায়
ব্যাখ্যা
♦দণ্ডবিধির ১৫৯ ধারায় মারামারির (Affray) সংজ্ঞা রয়েছে। দুই বা ততোধিক ব্যক্তি প্রকাশ্য স্থানে (public place) ঝগড়া করে গণশান্তি (public peace) ভঙ্গ করলে তা মারামারি বা affray বলে গণ্য হবে। অন্যভাবে বলা যায়, ২ বা ততোধিক ব্যক্তি প্রকাশ্য স্থানে কলহ বা ঝগড়া করার ফলে গণশাস্তি বিঘ্নিত হলে তারা মারামারি করেছে বলে গণ্য হবে।
♦ প্রকাশ্য স্থান (public place) বলতে পথ-ঘাট, হাট বাজার অর্থাৎ যেখানে জনসাধারণ সচরাচর যাতায়াত করতে পারে।
১৩.
দেওয়ানি মোকদ্দমা কোথায় দায়ের করতে হবে?
  1. এখতিয়ার সম্পন্ন যেকোনো আদালতে
  2. এখতিয়ার সম্পন্ন আদালতে
  3. এখতিয়ার সম্পন্ন সর্বনিম্ন আদালতে
  4. উপরের সবকটি
ব্যাখ্যা
♦ধারা ১৫ অনুযায়ী দেওয়ানি মোকদ্দমা, বিচার করার ক্ষমতা সম্পন্ন সর্বনিম্ন আদালতে দায়ের করতে হবে।
১৪.
নির্বাচনে মিথ্যা পরিচয় দানের বিধান রয়েছে-
  1. ১৭১ক
  2. ১৭১খ
  3. ১৭১গ
  4. ১৭১ঘ
ব্যাখ্যা
♦দণ্ডবিধির ১৭১(ঘ) ধারায় নির্বাচনে মিথ্যা পরিচয় দানের বিধান রয়েছে। নির্বাচনে মিথ্যা পরিচয় প্রদান বলে গণ্য হবে-
(i) যদি কোন লোক কোন নির্বাচনে অপর কোন জীবিত বা মৃত লোকের নামে ভোটের কাগজের জন্য প্রার্থনা করে;
(ii) অন্য কোন জীবিত বা মৃত লোকের নামে ভোটদান করে;
(iii) কোন কল্পিত নামে ভোটের কাগজ প্রার্থনা বা ভোটদান করে; অথবা
(iv) কোন নির্বাচনে একবার ভোটদানের পর পুনরায় একই নির্বাচনে নিজের নামে ভোটের কাগজ চায়, সেক্ষেত্রে সেই লোক নির্বাচনে মিথ্যা পরিচয়দানের অপরাধে অপরাধী হবে।
১৫.
প্রত্যেকটি সমন স্বাক্ষরিত হবে কার দ্বারা?
  1. আইনজীবী দ্বারা
  2. বিচারক
  3. স্বাক্ষরের উদ্দেশ্যে বিচারক কর্তৃক নিয়োগকৃত কোনো অফিসার দ্বারা
  4. খ ও গ
ব্যাখ্যা
আদেশ ৫ বিধি ১  মোতাবেক মামলা দায়ের হওয়ার পর পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে বিবাদীর প্রতি সমন ইস্যু করা হবে। সমনে বিচারক বা তাঁর দ্বারা নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মকর্তা স্বাক্ষর করবেন এবং সমনে আদালতের সীল থাকবে।
১৬.
দস্যু বা ডাকাতদের আশ্রয়দানের সর্বোচ্চ শাস্তি-
  1. ৩ বছরের কারাদণ্ড
  2. ৫ বছরের কারাদণ্ড
  3. ৭ বছরের কারাদণ্ড
  4. ১০ বছরের কারাদণ্ড
ব্যাখ্যা
♦দণ্ডবিধির ২১৬ক ধারামতে দস্যু বা ডাকাতদের আশ্রয়দানের শাস্তি হলো অনধিক ৭ বছর সশ্রম কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ড।
১৭.
ভুল আদালতে/এখতিয়ারবিহীন আদালতে মোকদ্দমা দায়ের করা হলে বাদী কি করবেন?
  1. আরজি খারিজের আবেদন
  2. আরজি ফেরতের আবেদন
  3. আরজি প্রত্যাহারের আবেদন
  4. আরজি সংশোধনের আবেদন
ব্যাখ্যা
♦দেওয়ানী কার্যবিধির ৭ নং আদেশের বিধি ১০ এ আরজি ফেরত সম্পর্কে বলা হয়েছে-
(i)  মামলার যে কোনো পর্যায়ে প্রকৃতপক্ষে যে আদালতে মামলা দায়ের করা উচিত সেই আদালতে আরজি দাখিল করার জন্য উহা ফেরত দেওয়া যাইবে
(ii) আরজি ফেরত দেওয়ার সময় বিচারক উহার উপর আরজি দাখিল ও ফেরত দেওয়ার তারিখ, দাখিলকারক পক্ষের নাম এবং উহা ফেরত দেওয়ার কারণ সম্পর্কে একটি সংক্ষিপ্ত বিবৃতি লিপিবদ্ধ করিবেন।
♦অর্থাৎ ভুল আদালতে/এখতিয়ারবিহীন আদালতে মোকদ্দমা দায়ের করা হলে বাদীআরজি ফেরতের আবেদন করবেন।
১৮.
Public nuisance এর বিধান রয়েছে কত ধারায়?
  1. ২৫৮ ধারায়
  2. ২৬০ ধারায়
  3. ২৬৮ ধারায়
  4. ২৭৮ ধারায়
ব্যাখ্যা
♦দণ্ডবিধির ২৬৮ ধারায় গণ উৎপাত বা Public nuisance এর সংজ্ঞা রয়েছে। ২৬৮ ধারামতে যদি কোন লোক এমন কোন কাজ করে যার ফলে জনসাধারণের বা নিকটবর্তী সম্পত্তির মালিক বা বসবাসকারী লোকদের কোন ক্ষতি, বিপদের আশঙ্কা বা বিরক্তির সৃষ্টি হয়; তাহলে সেই লোক গণ উৎপাত বা Public nuisance করেছে বলে গণ্য হবে।
১৯.
মূল্যমান শুদ্ধ করার জন্য বা প্রয়োজনীয় স্ট্যাম্প দাখিল করার জন্য আদালত কতদিন সময় নির্ধারণ করতে পারবেন?মূল্যমান শুদ্ধ করার জন্য বা প্রয়োজনীয় স্ট্যাম্প দাখিল করার জন্য আদালত কতদিন সময় নির্ধারণ করতে পারবেন?
  1. সর্বোচ্চ ৭ দিন
  2. সর্বোচ্চ ১৪ দিন
  3. সর্বোচ্চ ২১ দিন
  4. সর্বোচ্চ ৩০ দিন
ব্যাখ্যা
♦দেওয়ানী কার্যবিধি ১৯০৮ এর আদেশ ৭ বিধি ১১ তে কি কি কারণে আরজি প্রত্যাখান (Reject) করা যায় তা বলা হয়েছে:
   (i)  কারণ উল্লেখ না থাকলে
   (ii) দাবীকৃত প্রতিকার কম উল্লেখ করলে
   (iii) অপর্যাপ্ত অর্থাৎ কম মূল্যের স্ট্যাম্পযুক্ত কাগজে আরজি লিখলে
   (iv) আইন দ্বারা বারিত হলে
♦শর্ত থাকে যে, আদালত মোকদ্দমা মূল্যায়ন শুদ্ধ করার জন্য  কিংবা প্রয়োজনীয় স্ট্যাম্প দাখিল করার জন্য যে সময় নির্ধারণ করবেন, তা ২১ (একুশ) দিনের অধিক সময় বাড়াতে পারবেন না।
২০.
বার্ড ফ্লু আছে জানা সত্ত্বেও X বাজারে মুরগির মাংস বিক্রি করেন। X দণ্ডবিধির কত ধারার অধীনে অপরাধ করেছেন বলে গণ্য হবে?
  1. ২৬৮ ধারা
  2. ২৬৯ ধারা
  3. ২৬০ ধারা
  4. ২৭৪ ধারা
ব্যাখ্যা
♦বার্ড ফ্লু আছে জানা সত্বেও X বাজারে মুরগির মাংস বিক্রি করার মাধ্যমে দণ্ডবিধির ২৬৯ ধারার অধীন অপরাধ করেছে বলে গণ্য হবে। যেহেতু বার্ড ফ্লু আক্রান্ত মুরগির মাংস বাজারে বিক্রি করলে প্রাণঘাতী বার্ড ফ্লু ভাইরাস ছড়াতে পারে।

♦দণ্ডবিধির ২৬৯ ধারায় বলা হয়েছে, "যে ব্যক্তি বেআইনিভাবে বা অবহেলাজনিত এমন কোন কাজ করে যার কারণে জীবন বিপন্নকারী কোন রোগের সংক্রমণ বিস্তার লাভের সম্ভাবনা রয়েছে তাকে ছয় মাস পর্যন্ত কারাদণ্ড দেয়া হতে পারে, জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডই হতে পারে।"
২১.
Set off বা পাল্টা দাবী কখন হতে পারে?
  1. বন্টনের মামলায়
  2. নিষেধাজ্ঞার মামলায়
  3. স্বত্বের মামলায়
  4. অর্থের মামলায়
ব্যাখ্যা
♦The Code of Civil Procedure, 1908 এর ৮ আদেশের ৬(১) বিধিতে এ সম্পর্কে বলা হয়েছে যে, পাওনা অর্থ উদ্ধারের দাবিতে দায়েরকৃত কোন মামলায় যদি বাদির নিকট থেকে বিবাদী যে পরিমাণ টাকা দাবি করে তা যদি বাদির দাবিকৃত অর্থ দ্বারা পরিশোধ করতে চায় এবং এই টাকার পরিমাণ যদি নির্ধারিত থাকে এবং তা যদি আদালতের আর্থিক এখতিয়ারের অন্তর্ভুক্ত হয় এবং বাদির মামলার মতো  বিবাদির দাবির ক্ষেত্রেও বাদী এবং বিবাদী একই পর্যায়ে পড়ে, তবে মামলার প্রথম শুনানির তারিখেই বিবাদি তার পাওনা টাকার বিবরণ সহ একটি লিখিত জবাব দাখিল করার অধিকারী হবে।
২২.
A, B এর সাথে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে B এর তলপেটে একটা লাথি দেয়। ফলে B এর তাৎক্ষণিক মৃত্যু ঘটে। A কোন অপরাধটি করেছে?
  1. খুন করেছে
  2. নরহত্যার চেষ্টা করেছে
  3. কোন অপরাধ করেনি
  4. অপরাধজনক নরহত্যা করেছে
ব্যাখ্যা
♦এখানে A অপরাধজনক নরহত্যা করেছে। কেননা এখানে খুন করার উদ্দেশ্যে লাথি দেওয়া হয়নি, বরং আকস্মিক উত্তেজনার বশবর্তী হয়ে দেওয়া হয়। সুতরাং এটি খুনের অপরাধ না হয়ে অপরাধজনক নরহত্যা বলে পরিগণিত হবে।
২৩.
খ একটি ভূমির দখলে আছে। খ কে বাদ দিয়ে ক অন্যান্য ব্যক্তিকে বিবাদী শ্রেনীভুক্তকরে স্বত্ব ঘোষনার ডিক্রী ও খাস দখল প্রাপ্তির মামলা করে। খ এর প্রতিকার কি?
  1. খ কর্তৃক আলাদা মামলা করা
  2. আদেশ ১ বিধি ৯ মতে পক্ষভুক্ত হওয়া
  3. আদেশ ১ বিধি ১০ মোতাবেক পক্ষভুক্ত হওয়া
  4. কোনো প্রতিকার নেই
ব্যাখ্যা
♦দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ-১ এর ১০ (২) বিধি অনুযায়ী মামলা দায়েরের পর আদালত অপ্রয়োজনীয় পক্ষ কর্তন করে প্রয়োজনীয় বা উপযুক্ত পক্ষ সংযুক্ত করার আদেশ দিতে পারে। মূলত এই বিধি আদালতকে মোকদ্দমার যেকোনো সময় পক্ষ সংশোধন করার ক্ষমতা দিয়েছে এবং এই ক্ষমতা আদালতের বিবেচনামূলক।
২৪.
ঠগের সংজ্ঞা ছেয়ে কোথায়?
  1. ৩০১ ধারায়
  2. ৩১০ ধারায়
  3. ৩১১ ধারায়
  4. ৩০০ ধারায়
ব্যাখ্যা
♦দণ্ডবিধির ৩১০ ধারায় ঠগের সংজ্ঞা (Thug) রয়েছে।  খুন অথবা খুন সহকারে দস্যুতা সংঘটন অথবা শিশু অপহরণ করার উদ্দেশ্যে দুষ্টু মন নিয়ে মেলামেশা করাকে ঠগ (Thug) বলে। অর্থাৎ অভ্যাসগতভাবে কাউকে খুন বা শিশু অপহরন করে দস্যুতার উদ্দেশ্যে মেলামেশা করাকে ঠগ বলা হয়। সমস্ত ঠগই দস্যু এবং ডাকাত কিন্তু সমস্ত দস্যু বা ডাকাত ঠগ নয়।
২৫.
অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা মঞ্জুর হলে প্রতিকার কি?
  1. রিভিশন
  2. রিভিউ
  3. আপিল
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
আদেশ ৪৩ বিধি ১ অনুযায়ী অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা মঞ্জুর একটি আপিলযোগ্য আদেশ।
২৬.
দণ্ডবিধির কত ধারায় Assault এর বিধান রয়েছে?
  1. ৩১৫ ধারায়
  2. ৩২৫ ধারায়
  3. ৩৫০ ধারায়
  4. ৩৫১ ধারায়
ব্যাখ্যা
♦দণ্ডবিধির ৩৫১ ধারায় আক্রমণের (Assault) বিধান রয়েছে। যখন কোন প্রকার অঙ্গভঙ্গী বা প্রস্তুতি যা কোন অপরাধজনক বল প্রয়োগের সম্ভাবনা তৈরি করে, কিন্তু প্রকৃত পক্ষে অপরাধজনক বল প্রয়োগ করা হয়না তখন তাকে আক্রমণ (Assault) বলে।
♦শুধু মুখের কথার মাধ্যমে আক্রমণ হবে না, আক্রমণের ক্ষেত্রে অবশ্যই কথার সাথে অঙ্গভঙ্গি (Gesture) বা প্রস্তুতি (preparation) থাকতে হবে।
২৭.
A উচ্চ বেতনের চাকরি দিয়ে বিদেশ পাঠানোর কথা বলে B-কে ৫ লক্ষ টাকা দিতে প্রলব্ধ করে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত A, B কে বিদেশ পাঠায় না এবং টাকা নেয়ার কথা অস্বীকার করে। A কি ধরনের অপরাধ করেছে?
  1. প্রতারণার অপরাধ
  2. সম্পত্তি আত্মসাৎ
  3. অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গ
  4. ক্ষতি সাধন
ব্যাখ্যা
♦এখানে A, দণ্ডবিধির ৪২০ ধারার অধীনে প্রতারণার অপরাধ করেছে বলে গণ্য হবে। ৪২০ ধারায় বলা হয়েছে, যদি কোন ব্যক্তি, প্রতারণা করে এবং তা দ্বারা প্রতারিত ব্যক্তিকে অন্য কোন ব্যক্তির নিকট কোন সম্পত্তি সমর্পণ করতে অথবা কোন মূল্যবান জামানত কিংবা মূল্যবান জামানতে রূপান্তরিত হওয়ার যোগ্য কোন স্বাক্ষরিত বা সীলমোহরকৃত বস্তু প্রস্তুত, পরিবর্তন অথবা সমুদয় অংশ বা অংশবিশেষ বিনাশ করার জন্য অসাধুভাবে প্ররোচিত করে, তাহলে সে ব্যক্তি যে কোন বর্ণনার কারাদন্ডে যার মেয়াদ ৭ বৎসর পর্যন্ত হতে পারে এবং অর্থদন্ডে দণ্ডনীয় হবে।
২৮.
দেওয়ানী কার্যবিধির আদেশ ৩৮ বিধি ৫ এর বিধান কি?
  1. রায়ের পূর্বে ক্রোকাদেশ
  2. আর্জি খারিজ
  3. লিখিত জবাব
  4. বিকল্প সমন জারী
ব্যাখ্যা
আদেশ ৩৮ বিধি ৫ এ রায়ের পূর্বে যে যে ক্ষেত্রে ক্রোক এবং গ্রেফতারের আদেশ দেয়া তা আলোচনা করা হয়েছে।
২৯.
A জেনেশুনে একটি মিথ্যা সার্টিফিকেট স্বাক্ষর ও ইস্যু করে। A কোন ধরনের অপরাধ সংঘটিত করেছে?
  1. প্রতারণা করেছে
  2. জাল দলিল করেছে
  3. জালিয়াতি করেছে
  4. মিথ্যা সাক্ষ্য তৈরি করেছে
ব্যাখ্যা
♦এখানে A, দণ্ডবিধির ৪৬৪ ধারার অধীনে মিথ্যা দলিল প্রণয়ন করার মাধ্যমে জালিয়াতির অপরাধ করেছে। কেননা ৪৬৪ ধারার ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, কোন ব্যক্তির নিজের নাম স্বাক্ষরও জালিয়াতির সামিল হতে পারে।
৩০.
জেলা জজ আদালতে নিচের কোন কোর্টের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে রিভিশন দায়ের হতে পারে?
  1. সহকারি জজ
  2. সিনিয়র সহকারি জজ
  3. যুগ্ম জেলা জজ
  4. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
♦দেওয়ানি কার্যবিধির ধারা ১১৫ এর মাধ্যমে কোনো যুগ্ম জেলা জজ আদালত, সিনিয়র সহকারী জজ আদালত বা সহকারী জজ আদালত আপিলঅযোগ্য কোনো আদেশ প্রদান করলে, সংক্ষুব্ধ পক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে জেলা জজ আদালতকে রিভিশন ক্ষমতা দেয়া হয়েছে।
৩১.
কোন অস্থাবর সম্পত্তি কোন বিশেষ ব্যক্তির স্বত্বাধীনে বলে বোঝানোর জন্য ব্যবহৃত চিহ্নকে কী বলে?
  1. Property mark
  2. Trade mark
  3. Patent
  4. Copyright
ব্যাখ্যা
♦দণ্ডবিধির ৪৭৯ ধারায় সম্পত্তি চিহ্ন (Property mark) এর বিধান রয়েছে। কোন অস্থাবর সম্পত্তি কোন বিশেষ ব্যক্তির স্বত্বাধীন বলে বুঝানোর জন্য ব্যবহৃত চিহ্নকে সম্পত্তি চিহ্ন বলে। অর্থাৎ কোন অস্থাবর সম্পত্তির মালিকানা নির্দেশক চিহ্নকে সম্পত্তি চিহ্ন বা Property mark বলে।
৩২.
The Penal Code এর কোন অধ্যায়ে মানহানি সম্পর্কিত বিধান রয়েছে?
  1. ২১ তম
  2. ১১ তম
  3. ২০ তম
  4. ২২ তত
ব্যাখ্যা
♦দণ্ডবিধি ১৮৬০ সালের আইনে মোট অধ্যায় ২৩ টি এবং মোট ধারা ৫১১ টি। গুরুত্বপূর্ণ কিছু অধ্যায়: দ্বিতীয় অধ্যায় সাধারণ ব্যাখ্যা সমূহ, তৃতীয় অধ্যায় শাস্তি, চতুর্থ অধ্যায় সাধারণ ব্যতিক্রম সমূহ, পঞ্চম অধ্যায়ী অপরাধে সহায়তা বা প্ররোচনা, পঞ্চম (ক) অধ্যায়ে অপরাধ মূলক ষড়যন্ত্র, ষষ্ঠ অধ্যায়ের রাষ্ট্রবিরোধী অপরাধ, নবম অধ্যায়ের সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীর সংক্রান্ত অপরাধ, নবম (ক) অধ্যায় নির্বাচন সংক্রান্ত অপরাধ, ১৬ তম অধ্যায়ে মানবদেহ সংক্রান্ত অপরাধ, ১৭ তম অধ্যায়ে সম্পত্তির বিরুদ্ধে অপরাধ, ২০ তম অধ্যায়ে বিবাহ সংক্রান্ত অপরাধ, ২১তম অধ্যায়ে মানহানি, ২২তম অধ্যায় অপরাধমূলক ভীতি প্রদর্শন, অপমান ও বিরক্তিকরণ, ২৩ তম অধ্যায় অপরাধ সংগঠনের উদ্যোগ।
৩৩.
অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার আদেশ ভঙ্গ করলে সর্বোচ্চ সাজা কি?
  1. ৬ মাসের কারাদণ্ড
  2. ৩ মাসের কারাদণ্ড
  3. ১ বছরের কারাদণ্ড
  4. শুধুমাত্র জরিমানা
ব্যাখ্যা
♦দেওয়ানি কার্যবিধির ৩৯ আদেশের বিধি-২(৩) অনুসারে নিষেধাজ্ঞা ভঙ্গের শাস্তি হলো: সম্পত্তি ক্রোক অথবা উক্ত অমান্যকারীকে ৬ মাস দেওয়ানী কারাবাসে আটক অথবা উভয় প্রকার দণ্ড প্রদান করতে পারেন।
৩৪.
নিম্নোক্ত কোন বিষয়ে সাক্ষীর বিশ্বাসযোগ্যতা সম্পর্কে অভিযোগ করা যায় না?
  1. সাক্ষী বিশ্বাসের অযোগ্য
  2. সাক্ষী ঘুষ গ্রহণ করেছে
  3. সাক্ষী দুশ্চরিত্রা
  4. সাক্ষীর সাক্ষ্য অসামঞ্জস্যপূর্ণ
ব্যাখ্যা
♦সাক্ষ্য আইন (সংশোধন), ২০২২ এর ১৫৫ ধারা অনুযায়ী বর্তমানে সাক্ষীর বিশ্বাসযোগ্যতা সম্পর্কে অভিযোগ করা যায় তিনটি উপায়ে। যথা:-
(i) সাক্ষী যে বিশ্বাসের অযোগ্য তা ব্যক্তিদের সাক্ষ্য দ্বারা;
(ii) সাক্ষীকে যে ঘুষ দেওয়া হয়েছে বা সাক্ষী যে ঘুষের প্রস্তাবে সম্মত হয়েছে, অথবা অন্যকোন দুর্নীতিমূলক প্রলোভনের প্রস্তাবে সম্মত হয়েছে তা প্রমাণ করে;
(iii) বর্তমান সাক্ষের সাথে পূর্বে প্রদত্ত সাক্ষের অসামঞ্জসতা প্রমাণ করে।

♦অর্থাৎ সাক্ষী দুশ্চরিত্রা এই বিষয়ে সাক্ষীর বিশ্বাসযোগ্যতা সম্পর্কে অভিযোগ করা যায় না।
৩৫.
দখল পুনরুদ্ধারের মামলা করতে হয় কোন ধারা অনুযায়ী?
  1. ৭ ধারা
  2. ৮ ধারা
  3. ৯ ধারা
  4. ১০ ধারা
ব্যাখ্যা
♦আইন বহির্ভূতভাবে ও সম্মতি ব্যতীত কোন ব্যক্তিকে স্থাবর সম্পত্তি থেকে দখলচ্যুত করা হলে, উক্ত স্থাবর সম্পত্তির দখল পুনরুদ্ধারের জন্য ৯ ধারামতে মামলা করা যাবে। বাদীকে যে যথাযথ আইনের মাধ্যম ছাড়াই বেদখল করেছে, সে যদি মূল মালিকও হয় কিংবা তার দ্বারা কোন দাবিদারও হয় তবু বাদী তার দখলচ্যুতির তারিখ হতে ছয় মাসের মধ্যে তার স্থাবর সম্পত্তির দখল পুনরুদ্ধার করতে সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৯ ধারায় মামলা করতে পারবে। ৯ ধারামতে যিনি স্থাবর সম্পত্তির দখলে ছিলেন, তিনিই মামলা করতে পারেন। কেননা এই ধরনের মামলায় শুধু বাদীর দখল এবং বেদখল প্রমাণ করতে হয় এবং ৯ ধারার অধীনে দখল উদ্ধারের মামলায় স্বত্বের প্রশ্ন অবান্তর।
৩৬.
ডিজিটাল কমিউনিকেশন এর ক্ষেত্রে কোন ধরনের অনুমান করা হবে?
  1. May
  2. Shall
  3. Conclusive proof
  4. কোন অনুমান করতে হবে না
ব্যাখ্যা
♦সাক্ষ্য আইন (সংশোধন), ২০২২ এর ৮৮(ক) ধারা মতে, আদালত অনুমান করতে পারে, যে প্রেরক ডিজিটাল যোগাযোগ বা বার্তা সার্ভারের মাধ্যমে যে প্রাপকের কাছে বার্তাটি সম্বোধন করতে চান তার কম্পিউটারে দেওয়া বার্তার সঙ্গে সংগতিপূর্ণ একটি ডিজিটাল যোগাযোগ সংক্রমণের জন্য ডিজিটাল ডিভাইসের অন্যান্য ফর্মের মধ্যে দেয়া; কিন্তু আদালতে এই ধরনের বার্তা প্রেরিত ব্যক্তিদের হিসাবে কোন অনুমান করবে না।

♦সাক্ষ্য আইন (সংশোধন), ২০২২ এর ৮৮(ক) ধারা (Presumption as to digital communication section 88A . The Court may presume that a digital communication forwarded by the originator through a digital communication or message server to the addressee to whom the message purports to be addressed corresponds with the message as fed into his computer or fed into other forms of digital device for transmission; but the Court shall not make any presumption as to the persons by whom such message was sent.)
৩৭.
সুনির্দিষ্ট আইনের কত ধারা অনুযায়ী Declaratory Decree প্রদান করা হয়?
  1. ৪১ ধারা
  2. ৪২ ধারা
  3. ৪৩ ধারা
  4. ৪৪ ধারা
ব্যাখ্যা
♦ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৪২ ধারায় ঘোষণামূলক মামলার (Declaratory Suit) বিধান রয়েছে। কোন ব্যক্তির আইনগত পরিচয় (Legal Character) কিংবা সম্পত্তিতে তার স্বত্বের অধিকার কেউ যদি অস্বীকার করে, তখন আইনগত পরিচয় বা কোন সম্পত্তির স্বত্বের অধিকারী (Person entitled to property) ব্যক্তি তার অধিকার ঘোষণা চেয়ে আদালতে যে মামলা দায়ের করে তাকে ঘোষণামূলক মামলা বা Declaratory Suit বা Suit for Declaration বলে। সুতরাং শুধুমাত্র ২টি ক্ষেত্রে অর্থাৎ আইনগত পরিচয় ও সম্পত্তিতে স্বত্বের ক্ষেত্রে আইনগত পরিচয় কিংবা কোন সম্পত্তির স্বত্বের অধিকারী কোন ব্যক্তি ঘোষণামূলক মামলা দায়ের করতে পারে। ঘোষণামূলক মামলায় আদালত ঘোষণা মঞ্জুর করে যে ডিক্রি প্রদান করে, তাকে ঘোষণামূলক ডিক্রি বা Declaratory Decree বলে।
♦অর্থাৎ ৪২ ধারায় আদালত যে ডিক্রি প্রদান করে, তাকে ঘোষণামূলক ডিক্রি বলে।
৩৮.
সাক্ষ্য আইন ১৮৭২ অনুযায়ী নিম্ন লিখিত কোন বিষয়টি আদালত বিচারক দৃষ্টিগোচরে নিতে পারে না?
  1. বাংলাদেশের ভূখণ্ড
  2. বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক স্বীকৃত কোন পদবীর অস্তিত্ব
  3. সংবাদপত্রে প্রকাশিত কোন সংবাদ
  4. সমুদ্র এবং স্থল পথের নিয়ম কানুন
ব্যাখ্যা
♦ সাক্ষ্য আইনের ৫৭ ধারা অনুযায়ী ১১ টি বিষয়ের উপর বিচারক দৃষ্টিগোচর রাখা আদালতের জন্য বাধ্যতামূলক। যথা:-
(i) বাংলাদেশের সকল আইনসমূহ।
(ii) সশস্ত্র বাহিনীর জন্য যাবতীয় অস্ত্র ও রসদ।
(iii) আইনসভার কার্যসমূহ।
(iv) নিম্নলিখিত সীল:-
           a) বাংলাদেশ সকল আদালত সমূহের সীল।
           b) এডমিডালটি ও সামুদ্রিক এখতিয়ার সম্পন্ন আদালত সমূহের সীল।
           c) নোটারি পাবলিকের সীল।
           d) সকল সীল যেটা বাংলাদেশে বলবৎ কোন আইনের দ্বারা কোন ব্যক্তি ব্যবহারের জন্য ক্ষমতাপ্রাপ্ত।
(v) বাংলাদেশে কোন সরকারি পদে কাহারো যোগদানের বিষয়ে সরকারি গ্যাজেট।
(vi) সরকার কর্তৃক স্বীকৃত প্রত্যেক রাষ্ট্র বা সার্বভৌম বা রাজা বা রাণীর অস্তিত্ব, উপাধি ও জাতীয় পতাকা।
(vii) সময়ের বিভাগসমূহ, পৃথিবীর ভৌগোলিক বিভাগসমূহ এবং সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপিত সর্বসাধারণের উৎসব, উপবাস এবং ছুটিসমূহ।
(viii) বাংলাদেশের ভূখণ্ডসমূহ।
(ix) বাংলাদেশের সাথে অপর রাষ্ট্র বা সংগঠনের বিরোধ আরম্ভ হওয়া, চলতে থাকা ও অবসান হওয়া।
(x)  আদালতের সদস্য ও কর্মকর্তাগণ এবং তাদের অধীনস্থ অফিসার এবং সহকারীগণ এবং আদালতের কার্য সম্পাদনকারী অন্যান্য কর্মকর্তাগণের এবং আইন অনুসারে আদালতে উপস্থিত হয়ে মোকাদ্দমা পরিচালনায় ক্ষমতাপ্রাপ্ত সকল এডভোকেট এবং অনন্য ব্যক্তিদের নাম।
(xi) স্থল বা সমুদ্র পথের নিয়মাবলী।
৩৯.
সাক্ষ্য আইনের ৩২ ধারা অনুযায়ী কোন শ্রেণীর ব্যক্তির সাক্ষ্য, সাক্ষ্য হিসেবে অপ্রাসঙ্গিক?
  1. মৃত বা খুঁজে পাওয়া যায় না এমন ব্যক্তি
  2. সাক্ষ্য দিতে অক্ষম হয়ে গেছে এমন ব্যক্তি
  3. অযৌক্তিক বিলম্ব বা ব্যয় ছাড়া যে ব্যক্তিকে হাজির করা যায় না
  4. বিপক্ষ কর্তৃক সাক্ষীকে সরিয়ে রাখা ব্যক্তি
ব্যাখ্যা
♦সাক্ষ্য আইনের ৩২ ধারা অনুযায়ী ৪ শ্রেণীর ব্যক্তির সাক্ষ্য, সাক্ষ হিসেবে প্রাসঙ্গিক যদিও তাদেরকে সাক্ষী হিসেবে আদালতে আহ্বান করা যায় না। যথা:-
(i) মৃত ব্যক্তি;
(ii) খুঁজে পাওয়া যায় না এমন ব্যক্তি;
(iii) সাক্ষ্য দিতে অক্ষম হয়ে গেছে এমন ব্যক্তি; বা
(iv) অযৌক্তিক বিলম্ব বা ব্যয় ছাড়া যে ব্যক্তিকে হাজির করা যায় না।
৪০.
‘A’, ‘B’ এর জন্য একটি ছবি আঁকার ব্যাপারে B এর সাথে চুক্তিবদ্ধ হয় এবং B এর জন্য ১০০০ টাকা প্রদানে সম্মত হয়। ছবিটি আঁকা সম্পন্ন হলে B টাকা পরিশোধ করলেও A ছবি দিতে অস্বীকার করে। এক্ষেত্রে চুক্তি-
  1. সুনির্দিষ্টভাবে বলবৎযোগ্য
  2. সুনির্দিষ্টভাবে বলবৎযোগ্য নয়
  3. আদালত কর্তৃক চুক্তি বাতিলযোগ্য
  4. টাকা ফেরত দিবে
ব্যাখ্যা
♦১২ ধারামতে যেসব ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট কাজ সম্পাদন আদায়যোগ্য সে ক্ষেত্রে কোন চুক্তির সুনির্দিষ্ট কাজ সম্পাদন আদালতের ইচ্ছাধীন ক্ষমতাবলে নিম্নবর্ণিত ক্ষেত্রে আদায় করা যেতে পারে:-
  (i) যখন সম্মতিভুক্ত কাজ সম্পাদন পুরোপুরি বা অংশত একটি জিম্মার অন্তর্ভুক্ত হয়।
  (ii) যখন সম্মতিভুক্ত কাজ সম্পাদন না করলে কার্যত যে ক্ষতি সাধিত হবে, তার নির্ণয় করার কোন মানদণ্ডের অস্তিত্ব থাকে না।
  (iii) যখন সম্মতিভূক্ত কাজ এমন হয় যে, তা সম্পাদন না করে আর্থিক ক্ষতিপূরণের মাধ্যমে পর্যাপ্ত প্রতিকার লাভ করা যায় না।
  (iv) যখন এই সম্ভাবনা থাকে যে, সম্মতিভুক্ত কাজ সম্পাদন না করার জন্য আর্থিক ক্ষতিপূরণ পাওয়া যাবে না।
৪১.
সাক্ষ্য আইনের ১১২ ধারায় সন্তানের বৈধতার অনুমান হলো-
  1. ঘটনা সম্পর্কিত অনুমান
  2. অখণ্ডননযোগ্য আইনগত অনুমান
  3. খণ্ডনযোগ্য আইনগত অনুমান
  4. আইন ও ঘটনার মিশ্র অনুমান
ব্যাখ্যা
♦ সাক্ষ্য আইনের ১১২ ধারার অনুমান হলো চূড়ান্ত প্রমাণ। ১১২ ধারায় সন্তানের বৈধতার অনুমান চূড়ান্ত প্রমাণ হলেও এটা খণ্ডনযোগ্য আইনসম্পর্কিত অনুমান। যেমন কোন সন্তানের পিতা ও মাতার মধ্যে বিবাহ বলবৎ থাকাকালীন সময়ে উক্ত সন্তান জন্মগ্রহণ করে থাকলে ১১২ ধারার অধীন আইনসম্পর্কিত অনুমান হলো উক্ত সন্তানটি বৈধ এবং এই অনুমান হলো চূড়ান্ত প্রমাণ কিন্তু খণ্ডনযোগ্য।
৪২.
ধর্ষণের অপরাধ বা ধর্ষণের চেষ্টার মামলায় ভিকটিমের সাধারণ _______সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদে কোন প্রশ্ন উত্থাপন করা যাবে না।
  1.  সত্যবাদিতা পরীক্ষা করার প্রশ্ন
  2. তার পরিচয় মর্যাদা জানার প্রশ্ন
  3. অনৈতিক চরিত্র বা পূর্ববর্তী যৌন আচরণ প্রশ্ন
  4. তার চরিত্র আঘাত করে বিশ্বাতযোগ্যতা সম্পর্কে দুর্বলতা সৃষ্টি করে প্রশ্ন
ব্যাখ্যা
♦সাক্ষ্য আইন (সংশোধন), ২০২২ এর ১৪৬ ধারা অনুযায়ী জেরায় তিন ধরনের প্রশ্ন করা বৈধ। যে সকল প্রশ্ন যা দ্বারা সাক্ষীর
   (i)  সত্যবাদিতা পরীক্ষা করা যায়
   (ii)  তার পরিচয় মর্যাদা জানা যায়
   (iii) তার চরিত্র আঘাত করে বিশ্বাতযোগ্যতা সম্পর্কে দুর্বলতা সৃষ্টি করা যায়
   ♦তবে শর্ত থাকে যে, ধর্ষণের অপরাধ বা ধর্ষণের চেষ্টার জন্য একটি মামলায় ক্লজ(৩) এর অধীন ভিকটিমের সাধারণ অনৈতিক চরিত্র বা পূর্ববর্তী যৌন আচরণ সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদে কোন প্রশ্ন উত্থাপন করা যাবে না।
৪৩.
Mandatory Injunction সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের কত ধারায় বিধান রয়েছে?
  1. ৫২ ধারায়
  2. ৫৩ ধারায়
  3. ৫৪ ধারায়
  4. ৫৫ ধারায়
ব্যাখ্যা
♦সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৫৫ ধারামতে বাধ্যতামূলক বা আদেশমূলক নিষেধাজ্ঞা (Mandatory injunction) হল কোন প্রত্যক্ষ কাজ (Positive act) অথবা আইনসঙ্গত বাধ্যবাধকতা (legal obligation) পরিপূর্ণ করার আদেশ যার মাধ্যমে ইতিপূর্বে যা করা হয়েছিল তা নষ্ট করা অথবা কোন জিনিসকে পূর্ববর্তী অবস্থায় স্থাপন (Restore) করার নির্দেশ থাকে। আদেশমূলক নিষেধাজ্ঞা এমন একটি আদেশ যার মাধ্যমে আদালত বিবাদীকে তার সৃষ্ট কোন অবস্থার পরিসমাপ্তি ঘটানোর জন্য কোন প্রত্যক্ষ কাজ (positive act) করতে নির্দেশ দেন অথবা তার আইনসঙ্গত বাধ্যবাধকতা পরিপূর্ণ করতে বাধ্য করেন। অর্থাৎ আদালত বাধ্যতামূলক নিষেধাজ্ঞা প্রদান করে বিবাদীর আইনগত বাধ্যবাধকতা পূরণের জন্য নির্দিষ্ট কোন কাজ সম্পাদন করতে তাকে বাধ্য করে।
৪৪.
ফৌজদারী মামলায় চরিত্র সম্পর্কে কোনটি প্রাসঙ্গিক?
  1. পূর্ববর্তী খারাপ চরিত্র
  2. পূর্ববর্তী সৎচরিত্র
  3. খারাপ চরিত্র
  4. কোনটি নয়
ব্যাখ্যা
♦সাক্ষ্য আইনের ৫৩ ধারা অনুযায়ী ফৌজদারি মামলায় পূর্ববর্তী সৎ চরিত্র প্রাসঙ্গিক।
৪৫.
A ধোঁয়া দ্বারা বাতাসকে এতো দূষিত করে যে তা পাশ্ববর্তী বাড়িতে বসবাসরত B ও C এর দৈনন্দিন আরাম-আয়েশে উল্লেখযোগ্যভাবে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়। B ও C সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের কত ধারায় প্রতিকার পেতে পারে?
  1. ৫৪ ধারায়
  2. ৫৫ ধারায়
  3. ৫৭ ধারায়
  4. এই আইনে প্রতিকার নেই
ব্যাখ্যা
♦ উক্ত বিষয়টি নিষেধাত্মক নিষেধাজ্ঞা আওতাধীন হবে। যে নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে আদালত কোন পক্ষকে কোন অন্যায় কার্য করা হতে বিরত থাকার জন্য নির্দেশ দেয়, তাকে নিষেধাত্মক নিষেধাজ্ঞা বা Prohibitory injunction বলে। সাধারনত কোন চুক্তিভঙ্গ রোধ করার প্রয়োজনীয়তা দেখা দিলে এ ধরনের নিষেধাজ্ঞা জারি করা যেতে পারে।নিষেধাত্মক নিষেধাজ্ঞা SR Act এর ৫৪ ধারা কর্তৃক নিয়ন্ত্রিত হয়ে থাকে
৪৬.
কয়টি ক্ষেত্রে দেওয়ানি মামলায় স্বীকারোক্তি প্রাসঙ্গিক নয়?
  1. ৪টি
  2. ৩টি
  3. ২টি
  4. ১টি
ব্যাখ্যা
♦সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২ এর ২৩ ধারা মতে দুইটি ক্ষেত্রে দেওয়ানী মামলায় স্বীকারোক্তি প্রাসঙ্গিক নয়। যথা:-
(i)  যদি স্বীকৃতিটা এই শর্তে করা হয় যে, উক্ত স্বীকারোক্তি সম্পর্কে কোন সাক্ষ্য দেওয়া হবে না।
(ii)  যদি এইরূপ পরিস্থিতিতে স্বীকারোক্তি দেওয়া হয় যে, তাদের মধ্যে কোন চুক্তি ছিল যে তারা এই স্বীকারোক্তি সম্পর্কে কোন সাক্ষ্য দিবে না।
৪৭.
কোন প্রতিকারটি সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের আওতায় পড়ে না?
  1. চুক্তি বাস্তবায়ন
  2. নিষেধাজ্ঞা
  3. স্বত্ত্ব ঘোষণা
  4. আর্থিক ক্ষতিপূরণ
ব্যাখ্যা
♦সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৫ ধারা মতে সুনির্দিষ্ট প্রতিকার প্রদান করাভাবে।
(ক) কোন সম্পত্তি দখল গ্রহণ এবং তা দাবীদারকে অর্পণের মাধ্যমে।
(খ) যা করার ব্যাপারে তার বাধ্যবাধকতা রয়েছে এটি পক্ষকে তেমন কাজ করার আদেশ প্রদানের মাধ্যমে।
(গ) যা না করার বিষয়ে তার বাধ্যবাধকতা রয়েছে, একটি পক্ষকে তেমন কাজ হতে বিরত থাকার মাধ্যমে।
(ঘ) ক্ষতিপূরণের রায় প্রদানের মাধ্যম ব্যতীত অন্য প্রকারে পক্ষ সমূহের অধিকার এবং ঘোষণার মাধ্যমে।
(ঙ) একজন রিসিভার বা তত্ত্বাবধায়ক নিয়োগের মাধ্যমে।
উল্লেখ্য যে, সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনে আর্থিক ক্ষতিপূরণের মাধ্যমে প্রতিকার দেয়া হয় না।
৪৮.
ফৌজদারী কার্যবিধি কত সালের আইন?
  1. ১৮৬০
  2. ১৮৬১
  3. ১৮৯৮
  4. ১৮৭২
ব্যাখ্যা
 ♦ফৌজদারী কার্যবিধি ১৮৯৮ সালের আইন। ফৌজদারী কার্যবিধি হলো প্রধানত একটি পদ্ধতিগত আইন। কারণ এই আইনে ফৌজদারী আদালতের গঠন এবং ক্ষমতা থেকে শুরু করে, অভিযোগ দায়ের, আসামী গ্রেফতার, মামলার তদন্ত, মামলা আমলে নেওয়া, অভিযোগ গঠন, সাক্ষ্য গ্রহণ, রায়, রায়ের বিরুদ্ধে আপীল ইত্যাদি সংক্রান্ত সকল নিয়ম বর্ণনা করা হয়েছে। ১৮৬১ সালে সর্ব প্রথম ফৌজদারী কার্যবিধি ব্রিটিশ পার্লামেন্ট কর্তৃক পাস করা হয়। পরবর্তীতে ১৮৭২ এবং ১৮৮২ সালে ফৌজদারী কার্যবিধি সংস্কার করে, ভারতীয় ম্যাজিস্ট্রেটদের প্রেসিডেন্সি শহরে বিচারিক ক্ষমতা দেয়া হয়। ফৌজদারী কার্যবিধি ১৮৯৮ সালে পুনরায় সংস্কার করে কার্যকর করা হয়। এই আইনটি ১৮৯৮ সালের পহেলা জুলাই হতে কার্যকর করা হয়।
৪৯.
ফৌজদারী কার্যবিধির কোথায় ম্যাজিস্টেটগণের সাধারণ ক্ষমতার কথা উল্লেখ আছে?
  1. দ্বিতীয় তফসিলে
  2. তৃতীয় তফসিলে
  3. ৪র্থ তফসিলে
  4. ৫ম তফসিলে
ব্যাখ্যা
♦ফৌজদারি কার্যবিধির তৃতীয় তফসিলে ম্যাজিস্ট্রেটগণের সাধারণ ক্ষমতা (Ordinary powers of Magistrates) উল্লেখ রয়েছে।ফৌজদারী কার্যবিধিতে বর্তমানে বলবৎ আছে ৪টি তফসিল।
১ম তফসিল- বাতিল।
২য় তফসিল- পেনাল কোডের অপরাধসমূহ কোন আদালত কর্তৃক বিচারযোগ্য, আমলযোগ্য এবং আমলঅযোগ্য অপরাধ, জামিনযোগ্য এবং জামিনঅযোগ্য অপরাধ ইত্যাদি।
৩য় তফসিল- ম্যাজিস্ট্রেটগণের সাধারণ ক্ষমতা।
৪র্থ তফসিল- ম্যাজিস্ট্রেটগণের উপর আরোপযোগ্য অতিরিক্ত ক্ষমতা
৫ম তফসিল- ফরমসমূহ।
৫০.
সাক্ষ্য আইন (সংশোধন), ২০২২ এর ৪৫ দ্বারা অনুযায়ী কয়টি ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞ মতামত প্রাসঙ্গিক করা হয়েছে?
  1. ৫টি
  2. ৯টি
  3. ১১টি
  4. ১৩টি
ব্যাখ্যা
♦সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২ এর ৪৫ দাঁড়ায় পাঁচটি ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞের মতামত সাক্ষী হিসেবে প্রাসঙ্গিক ছিল। কিন্তু সাক্ষ্য আইন (সংশোধন) ২০২২ এর ফলে ৪৫ ধারাটি প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। নতুন ৪৫ ধারা অনুসারে, নিম্নলিখিত ১৩টি ক্ষেত্রে বিশারদের মতামত সাক্ষ্য হিসেবে প্রাসঙ্গিক করা হয়েছে;

   (i) বিদেশী আইন                 (ii) বিজ্ঞান              (iii) শারীর সম্বন্ধীয় বা ফরেনসিক সাক্ষ্য

   (iv) ডিজিটাল রেকর্ড             (v) চারুকলা             (vi) হস্তলিপি বা হাতের লেখা

   (vii) আঙ্গুলের ছাপ বা টিপসহি    (viii) পায়ের ছাপ        (ix) তালুর ছাপ

   (x) চোখের কনীনিকার ছাপ       (xi) টাইপ রাইটিং        (xii) ট্রেড বা টেকনিকাল অভিব্যক্তির ব্যবহার

        (xiii) ব্যক্তি বা প্রাণীর পরিচিতি
৫১.
দায়রা আদালতে সরকারের পক্ষে কে মামলা পরিচালনা করেন?
  1. অভিযোগকারী
  2. পাবলিক প্রসিকিউটর
  3. আসামি পক্ষ
  4. বার এসোসিয়েশন
ব্যাখ্যা
♦ফৌজদারি কার্যবিধির ২৬৫ক ধারা অনুযায়ী দায়রা আদালতে প্রত্যেকটি বিচার কার্যে সরকারি আইনজীবী বা পাবলিক প্রসিকিউটর সরকারের পক্ষে মামলা পরিচালনা করবেন। ২৬৫খ ধারা মতে আসামিকে উপস্থিত করার পর সরকারি আইনজীবী আসামির বিরুদ্ধে আনিত অভিযাগ বর্ণনা করবেন এবং কি সাক্ষ্য দ্বারা তিনি উক্ত অভিযোগ প্রমান করবেন তা বর্ণনা করার মাধ্যমে নিজ বক্তব্য শুরু করবেন।
৫২.
Summary dismissal of appeal এর বিধান রয়েছে কোন ধারায়?
  1. ৪২০ ধারায়
  2. ৪২৩ ধারায়
  3. ৪২২ ধারায়
  4. ৪২১ ধারায়
ব্যাখ্যা
♦ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা- ৪২১: আপিল সংক্ষিপ্তভাবে খারিজ (Summary dismissal of appeal)- ৪২১ ধারামতে আদালত মনে করলে আপিল সংক্ষিপ্তভাবে খারিজ করতে পারেন। তবে আইনজীবীকে বক্তব্য পেশ করার সুযোগ দিতে হবে।
৫৩.
সাক্ষ্য আইনের কোন ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে বিচারক সাক্ষীকে কোনো প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করতে পারেন?
  1. ধারা ১৬৪
  2. ধারা ১৬৫
  3. ধারা ১৬৬
  4. ধারা ১৬৭
ব্যাখ্যা
♦সাক্ষ্য আইনের ১৬৫ ধারার অধীন প্রাসঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে যথাযথ প্রমাণ পেতে আদালত কোন সাক্ষীকে প্রশ্ন করতে পারেন।
৫৪.
৩৪০ ধারা অনুসারে কখন ফৌজদারী আদালতে অভিযুক্ত কোন ব্যক্তি সাক্ষী হতে পারে?
  1. লিখিত অনুরোধের ভিত্তিতে
  2. তদন্তকারীর কর্মকর্তার অনুরোধের ভিত্তিতে
  3. রাষ্ট্রপক্ষের লিখিত অনুরোধের ভিত্তিতে
  4. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
♦ফৌজদারী কার্যবিধির ৩৪০ ধারায় ২টি বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে:
(i) উকিলের মাধ্যমে অভিযুক্ত ব্যক্তির আত্মপক্ষ সমর্থনের অধিকার দেওয়া হয়েছে।
(ii) অভিযুক্ত ব্যক্তির সাক্ষী হওয়ার যোগ্যতা
♦শর্ত হলো অভিযুক্ত ব্যক্তিকে সাক্ষী হিসাবে আহ্বান করা যাবে না তার লিখিত অনুরোধ ছাড়া।
♦অর্থাৎ সাক্ষী শুধুমাত্র লিখিত অনুরোধ করলে, আদালত অভিযুক্ত ব্যক্তিকে আত্মপক্ষ সমর্থনে সাক্ষ্য দেওয়ার জন্য আহ্বান করতে পারে।
৫৫.
নিচের কোন ক্ষেত্রে তামাদি আইন প্রজোয্য হবে না?
  1. Complaint এর মাধ্যমে ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট মামলা দায়েরের ক্ষেত্রে
  2. এজাহার দাখিলের ক্ষেত্রে
  3. FIR এর মাধ্যমে থানায় মামলা দায়েরের ক্ষেত্রে
  4. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
♦তামাদি আইন, ১৯০৮ ফৌজদারি মূল মামলা অর্থাৎ এজাহার, এফ আই আর বা অভিযোগ/নালিশ (complaint) দায়েরের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়, তবে ফৌজদারী আপিল, রিভিশন প্রভৃতি ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। যেমন- মৃত্যুদন্ডের বিরুদ্ধে আর্পিল দায়েরের তামাদির মেয়াদ ৭ দিন।
৫৬.
ফৌজদারী কার্যবিধিতে আদালত অবমাননার মামলা বা ৪৮৫ ও ৪৮৫ক ধারায় শাস্তির ক্ষেত্রে প্রতিকার কী?
  1. আপিল
  2. রিভিশন
  3. রিভিউ
  4. ক ও খ
ব্যাখ্যা
♦ধারা ৪৮৬ আদালত অবমাননার মোকদ্দমায় দণ্ডের বিরুদ্ধে আপিল বিধান রয়েছে। কোন আদালত কর্তৃক ধারা ৪৮০, ৪৮৫ বা ৪৮৫ক এর অধীন দণ্ডিত কোন ব্যক্তি, ইতোপূর্বে যাই বিহিত থাকুক না কেন, সেই আদালতে আপিল করতে পারবে, যে আদালতে উক্ত আদালতের ডিক্রী বা আদেশের বিরুদ্ধে সাধারণত আপিল করা যায়।
৫৭.
‘‘Continuing breaches and wrongs’’ তামাদি আইনের কত ধারায় রয়েছে?
  1. ২২ ধারায়
  2. ২৩ ধারায়
  3. ২৪ ধারায়
  4. ২৫ ধারায়
ব্যাখ্যা
♦তামাদি আইনের ২৩ ধারায় অবিরামভাবে চুক্তি ভঙ্গ বা অনিষ্টের ফলাফল (Continuing breaches and wrongs) সম্পর্কে বলা হয়েছে। ২৩ ধারাটি বিশ্লেষণ করলে প্রতিয়মান হয় যে, এমন কিছু চুক্তির অস্তিত্ব রয়েছে যা লংঙ্ঘন করা হলে প্রতি মুহূর্তেই নালিশের কারণ উদ্ভব হয়ে থাকে। এছাড়া চুক্তি বহির্ভূত এমন কিছু ক্ষতি বা লোকসান রয়েছে যা প্রতি মুহূর্তেই নালিশের কারণের উদ্ভব ঘটায়। এ সকল ক্ষেত্রে তামাদির মেয়াদ নতুন করে বৃদ্ধি পায়। অর্থাৎ কোন চুক্তি ক্রমাগত ভঙ্গ করা হতে থাকলে বা অবিরত অন্যায় আচরণ অব্যাহত রাখা হলে, সেক্ষেত্রে উক্ত অপরাধ সংঘটনের প্রতি মুহূর্তেই নতুন ভাবে মামলার কারণ উদ্ভব হবে।
৫৮.
যখন ম্যাজিস্ট্রেট ফাইনাল রিপোর্ট গ্রহণ করে তখন আসামি-
  1. খালাস পেতে পারে
  2. দণ্ড পেতে পারে
  3. অব্যাহতি পেতে পারে
  4. মুক্তি পেতে পারে
ব্যাখ্যা
♦তদন্ত শেষ হওয়ার পর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ১৭৩ ধারার অধীন ম্যাজিষ্ট্রেটকে যে প্রতিবেদন প্রদান করেন তাই পুলিশ রিপোর্ট। পুলিশ অফিসারের রিপোর্ট ২ প্রকার। যথা-
(i) চূড়ান্ত প্রতিবেদন/ফাইনাল রিপোর্ট  এবং
(ii) অভিযোগপত্র (চার্জশীট)।
♦চূড়ান্ত প্রতিবেদন (Final Report): তদন্তে আসামীর বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সম্পর্কে প্রমান পাওয়া না গেলে আসামীকে অব্যাহতি দেয়ার জন্য তদন্ত কর্মকর্তা যে প্রতিবেদন জমা দেন তাকে চূড়ান্ত প্রতিবেদন বা Final Report বলে। সুতরাং যখন ম্যাজিস্ট্রেট ফাইনাল রিপোট গ্রহণ করে তখন আসামি অব্যাহতি পায়।
৫৯.
দলিলের সময় গণনা ক্ষেত্রে কোন বর্ষপঞ্জি অনুসরণ করতে হবে?
  1. গ্রেগরীয়ান বর্ষপঞ্জি
  2. বাংলা বর্ষপঞ্জি
  3. আরবী বর্ষপঞ্জি
  4. শাস্ত্রীয় বর্ষপঞ্জি
ব্যাখ্যা
♦তামাদি আইনের ২৫ ধারায় দলিলে উল্লেখিত সময় গণনার বিধান রয়েছে। তামাদি আইনের উদ্দেশ্য সাধনকল্পে যাবতীয় দলিল গ্রেগরীয়ান বর্ষপঞ্জী (Gregorian calendar) অনুসারে প্রণীত বলে বিবেচীত হবে।
৬০.
দায়রা আদালতে বিচারের সময় আসামি উম্মাদ বা মানসিকভাবে অসুস্থ হলে আদালত-
  1. মানসিক অসুস্থতা সম্পর্কে বিচার করবেন
  2. মামলার পরবর্তী কার্যক্রম স্থগিত রাখবেন
  3. মামলা চালিয়ে রাখবেন
  4. ক ও খ
ব্যাখ্যা
ধারা-৪৬৫ মতে দায়রা আদালতে বিচারের ক্ষেত্রে আসামী উম্মাদ বা পাগল হলে দায়রা আদালত নিজেই আসামীর মানসিক অসুস্থতার বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন এবং মামলার কার্যক্রম স্থগিত রাখবেন।
ফৌজদারি কার্যবিধির ৪৬৪ ধারায় ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পাগল আসামীর বিচারের বিধান এবং ফৌজদারি কার্যবিধির ৪৬৫ ধারায় দায়রা আদালতে পাগল আসামীর বিচারের বিধান উল্লেখ রয়েছে। আসামী উম্মাদ বা পাগল হলে আদালত মামলার কার্যক্রম স্থগিত রাখবেন।
৬১.
তামাদি আইনের ২৫ ধারায় দলিলে উল্লেখিত সময় গণনার বিধান রয়েছে। তামাদি আইনের উদ্দেশ্য সাধনকল্পে যাবতীয় দলিল গ্রেগরীয়ান বর্ষপঞ্জী (Gregorian calendar) অনুসারে প্রণীত বলে বিবেচীত হবে।
  1. ৩ টি
  2. ৫ টি
  3. ৬ টি
  4. ২ টি
ব্যাখ্যা
♦তামাদি আইনের ৬ ধারামতে আইনগত অপারগতা বা Legal Disability বলতে ৩টি বিষয়কে বুঝায়। যথা- ১) নাবালকত্ব (minor); ২) উন্মাদ (insane) এবং ৩) জড়বুদ্ধ/নির্বোধ ( idiot)।
♦আইনগত অক্ষমতার বিধানসমূহ কেবলমাত্র বাদীর অক্ষমতার ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য হয়, বিবাদীর অক্ষমতার ক্ষেত্রে নয়। কেবলমাত্র মূল মামলা ও ডিক্রি জারির দরখাস্তের ক্ষেত্রেই আইনগত অক্ষমতা প্রযোজ্য হয়- অন্য কোন ক্ষেত্রে নয়।
৬২.
ফৌজদারী কার্যবিধির ৫৪ ধারা অনুযায়ী বিনা পরোয়ানায় পুলিশ একজন ব্যক্তিকে কয়টি ক্ষেত্রে গ্রেফতার করতে পারবেন?
  1. ৮টি
  2. ৭টি
  3. ৯টি
  4. ১০টি
ব্যাখ্যা
♦ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারামতে পুলিশ ম্যাজিস্ট্রেটের আদেশ ব্যতীত এবং বিনা পরোয়ানায় (without warrant) নিম্নলিখিত ৯টি ক্ষেত্রে কোন ব্যক্তিকে গ্রেফতার করতে পারে। যথা-
(i) কোনো ব্যক্তি আমলযোগ্য অপরাধ (cognizable offence) করেছে বা জড়িত থাকার যুক্তিযুক্ত সন্দেহ (reasonable suspicion) থাকলে।
(ii) আইনসঙ্গত কারণ ব্যতীত কোন ব্যক্তির নিকট ঘর ভাঙ্গার সরঞ্জাম (Implement of house breaking) থাকলে।
(iii) কোন ব্যক্তিকে অপরাধী ঘোষণা করা হলে (proclaimed as an offender)।
(iv) কোন ব্যক্তির নিকট চোরাই মাল (stolen property) পাওয়া গেলে বা উক্ত অপরাধ করেছে বলে সন্দেহ হলে।
(v) কোন ব্যক্তি পুলিশ অফিসারের কাজে বাধা দিলে অথবা আইনসঙ্গত হেফাজত হতে পলায়ন করলে (escape from lawful custody) অথবা পলায়নের চেষ্টা করলে।
(vi) সশস্ত্র বাহিনী হতে পলায়নকারী (deserter)।
(vii) বাংলাদেশের বাহিরে বাংলাদেশের আইনে আমলযোগ্য অপরাধ করলে।
(viii) মুক্তিপ্রাপ্ত আসামী (released convict) ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৬৫(৩) ধারা ভঙ্গ করলে; অথবা
(ix) যে ব্যক্তিকে গ্রেফতারের জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।
৬৩.
মামলা করার অধিকার সৃষ্টি হওয়ার পর অপারগতা দেখা দিলে-
  1. তামাদি মেয়াদ চলতে থাকবে
  2. তামাদি মেয়াদ বন্ধ থাকবে
  3. অপারাগতা থাকাকালীন সময় মামলা করা যাবে
  4. তার পক্ষে অন্য কেউ মামলা চালাবে
ব্যাখ্যা
♦তামাদি আইনের ৯ ধারায় 'সময়ের অবিরাম চলন বা Continuous running of time-এর বিধান রয়েছে। ৯ ধারামতে তামাদির সময় একবার চলতে শুরু করলে পরবর্তীকালীন কোন আইনগত অক্ষমতা বা অপরাগতা একে থামাতে পারে না।
৬৪.
আসামির অনুপস্থিতিতে বিচার করার জন্য কমপক্ষে কয়টি জাতীয় দৈনিকে বিজ্ঞাপন প্রকাশিত হতে হবে?
  1. ৫টি
  2. ৩টি
  3. ২টি
  4. ১টি
ব্যাখ্যা
♦ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৩৯খ ধারার অধীন পলাতক বা ফেরারী আসামীর অনুপস্থিতিতে বিচারের পদ্ধতি বলা হয়েছে। ফৌজদারি কার্যবিধির ৮৭ ও ৮৮ ধারার বিধান পালনের পর অর্থাৎ হুলিয়া জারি ও সম্পত্তি ক্রোকের পর যদি আদালত মনে করে যে, আসামী গ্রেফতার ও বিচার এড়ানোর জন্য পলায়ন করেছে, আত্মগোপান করেছে এবং আসামীকে গ্রেফতার করার কোনো আশু সম্ভাবনা নাই, তাহলে মামলা আমল গ্রহণকারী আদালত কমপক্ষে ২টি বহুল প্রচারিত বাংলা দৈনিক জাতীয় পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে আসামীকে একটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দিবেন এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি উক্ত নির্দেশ অনুসারে আদালতে হাজির হতে ব্যর্থ হলে আসামীর অনুপস্থিতিতে বিচার অনুষ্ঠিত হবে। তবে ৩৩৯-খ এর ২ উপধারা অনুযায়ী, আসামী কোন ভাবে আদালতে একবার হাজির হওয়ার পর বা জামিনে মুক্ত হওয়ার পর পলায়ন করলে বা হাজির হতে ব্যর্থ হলে ৮৭ ও ৮৮ ধারার বিধান পালন না করেই তার অনুপস্থিতিতেই আদালত বিচারকার্য পরিচালনা করবেন।
৬৫.
তামাদি আইনের কোন ধারায় ‘‘Acquisition of right to easements’’ রয়েছে?
  1. ২৪ ধারায়
  2. ২৬ ধারায়
  3. ২৮ ধারায়
  4. ২৫ ধারায়
ব্যাখ্যা
♦তামাদি আইনের ২৬ ধারায় সুখাধিকার অর্জনের (Acquisition of right to easements)  বিধান রয়েছে। ২৬ ধারা অনুযায়ী কোন দালানে আলো-বাতাসের প্রবেশ ও ব্যবহার অথবা স্থল ও জল পথের ব্যবহার অথবা পানির ব্যবহার অথবা যে কোন সুখাধিকার অব্যাহতভাবে ২০ বছর (সরকারী সম্পত্তিতে ৬০ বছর) ধরে শান্তিপূর্ণভাবে ও প্রকাশ্যে ভোগ করলে উক্ত সুখাধিকার নিরঙ্কুশ ও অনঙ্গনীয় অধিকারে পরিণত হবে।
♦অর্থাৎ ২৬ ধারামতে কোন দালানে আলো-বাতাসের প্রবেশ ও ব্যবহার অথবা স্থল ও জল পথের ব্যবহার অথবা পানির ব্যবহার অব্যাহতভাবে ২০ বছর ধরে শান্তিপূর্ণভাবে ও প্রকাশ্যে ভোগ করলে সুখাধিকার অর্জন করা যায়। সুখাধিকার দাবি করতে হলে উক্ত অধিকার ২০ বছর ধরে অব্যাহতভাবে, শান্তিপূর্ণভাবে ও প্রকাশ্যে ভোগ করতে হবে। সরকারী সম্পত্তির উপর সুখাধিকার দাবি করতে হলে ৬০ বছর ধরে ভোগ করতে হবে।
৬৬.
সরকারের বাজেয়াপ্তির আদেশ ফৌজদারী কার্যবিধির কোন ধারা অনুযায়ী হাইকোর্ট বিভাগ রদ করতে পারে?
  1. ৯৯ ধারা
  2. ১০০ ধারা
  3. ৯৯ঘ ধারা
  4. ৯৯ক ধারা
ব্যাখ্যা
♦ফৌজদারী কার্যবিধির ধারা-৯৯-ঘ: অনুযায়ী  বাজেয়াপ্তির আদেশ বাতিলের আবেদনপত্র পাবার পর হাইকোট বিভাগের স্পেশাল বেঞ্চ যদি এই মর্মে সন্তুষ্ট হন যে, যে সংবাদপত্র বা পুস্তক বা অন্য দলিল সম্পর্কে বাজেয়াপ্তির আদেশ রদের জন্য আবেদন করা হয়েছে, সে সকল প্রকাশনা সম্পর্কে কোন বিষয়, শব্দ বা দৃশ্যমান উপস্থাপনা নাই, তাহলে স্পেশাল বেঞ্চ বাজেয়াপ্তির আদেশ বাতিল করে দিবেন। স্পেশাল বেঞ্চের বিচারকগণের মধ্যে মতবিরোধ দেখা দিলে সংখ্যাগরিষ্ঠের মতানুসারে সিদ্ধান্ত গৃহীত হবে।
৬৭.
১৪৪ ধারা কখন জারি করা হয়?
  1. নিরাপত্তা বিপন্ন হবার আশঙ্কা থাকলে
  2. দাঙ্গা বা মারামারির আশঙ্কা দেখা দিলে
  3. জনসাধারনের শান্তিভঙ্গের আশঙ্কা থাকলে
  4. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
♦আইন-শৃঙ্খলার অবনতি ঘটলে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট অথবা ক্ষমতাপ্রাপ্ত অন্য কোন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফৌজদারি কার্যবিধির অধীন ১৪৪ ধারা জারি করতে পারে। জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কারো আবেদনের প্রেক্ষিতে অথবা নিজে স্বত্বঃপ্রণোদিত হয়ে নিম্নলিখিত ক্ষেত্রে ১৪৪ ধারা জারি করতে পারে-
(i) আইনানুগভাবে কর্মরত কোন ব্যক্তির প্রতি বাধা, বিরক্তি বা ক্ষতির আশংকা।
(ii) মানুষের জীবন, স্বাস্থ্য বা নিরাপত্তা বিপন্ন হবার আশংকা।
(iii) উৎপাত বা জনসাধারনের শান্তিভঙ্গের আশংকা।
(iv) দাঙ্গা বা মারামারির আশংকা।
(v) আশু প্রতিরোধ ও দ্রুত প্রতিকার প্রয়োজন হলে।
৬৮.
রেহেন পুনরুদ্ধারের জন্য মামলার তামাদি মেয়াদ কত?
  1. ৬ মাস
  2. ৬ বছর
  3. ৬০ বছর
  4. ৩ বছর
ব্যাখ্যা
♦তামাদি আইনে ১৪৮ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রেহেন পুনরুদ্ধারের (redemption) জন্য মামলা করতে হবে; রেহেন পুনরুদ্ধার (redemption) করার অধিকার সৃষ্টি হওয়ার দিন থেকে ৬০ বছরের মধ্যে।
৬৯.
The Limitation Act-1908 অনুযায়ী দায়রা আদালত কোনো ব্যক্তিকে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করলে এর বিরুদ্ধে আাপিল করার সময়সীমা কত?
  1. ১ মাস
  2. ১৪ দিন
  3. ৭ দিন
  4. ৩ মাস
ব্যাখ্যা
♦তামাদি আইনে ১৫০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী মৃত্যুদন্ডাদেশ এর বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে বা হাইকোর্ট বিভাগে আপিল করতে হবে দণ্ডাদেশের দিন থেকে সাত দিনের মধ্যে।
৭০.
আসামির রিমান্ডের ধারা কত?
  1. ফৌজদারি কার্যবিধির ১৫৩
  2. পেনাল কোড ১৫৩
  3. ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৭
  4. ফৌজদারি কার্যবিধির ১৭০
ব্যাখ্যা
♦সাধারণত তদন্তের স্বার্থে এবং তথ্য সংগ্রহের জন্য আদালত কর্তৃক আসামীকে পুলিশ হেফাজতে প্রেরণকে Remand বলে। আদালত ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৭ ধারামতে রিমান্ডের আদেশ প্রদান করতে পারে।
♦যদিও রিমান্ড বলতে আমরা ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৭ ধারাকে বুঝি, কিন্তু ১৬৭ ধারায় রিমান্ড শব্দটি ব্যবহার করা হয়নি। ফৌজদারি কার্যবিধির ৬১ ধারানুযায়ী ২৪ ঘন্টার মধ্যে তদন্ত শেষ না হলে, পুলিশ কর্মকর্তার আবেদনের ভিত্তিতে তৃতীয় শ্রেনীর ম্যাজিস্ট্রেট ব্যতীত যেকোন ধরনের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট অধিকতর তদন্তের স্বার্থে রিমান্ড মঞ্জুর করতে পারেন। সাধারণত চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট, চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট, প্রথম শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেট অথবা সরকার কর্তৃক ক্ষমতা প্রাপ্ত ২য় শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেট রিমান্ডের আদেশ দিতে পারে। তৃতীয় শ্রেনীর ম্যাজিষ্ট্রেট রিমান্ডের আদেশ প্রদান করতে পারে না।
৭১.
পুলিশ অফিসার সাক্ষিদের মৌখিক জবানবন্দি লিপিবদ্ধ করেন কত ধারায়?
  1. ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬১ ধারায়
  2. ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬২ ধারায়
  3. ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৫ ধারায়
  4. ফৌজদারি কার্যবিধির ১৭৫ ধারায়
ব্যাখ্যা
♦ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬১ ধারায় পুলিশ অফিসার কর্তৃক সাক্ষী পরীক্ষার বিধান রয়েছে। ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬১ ধারা অনুযায়ী তদন্ত পরিচালনাকারী কোন পুলিশ অফিসার মামলার সাথে পরিচিত যে কোন ব্যক্তি বা সাক্ষীকে পরীক্ষা করতে পারে বা জবানবন্দী রেকর্ড করতে পারে।
৭২.
অভিযোগ (Complaint) কার নিকট দায়ের করা হয়?
  1. দায়রা জজের নিকট
  2. পুলিশ অফিসারের নিকট
  3. জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট
  4. জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট
ব্যাখ্যা
♦নালিশ (Complaint) হলো অভিযোগ যা মৌখিক বা লিখিত আকারে ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট দায়ের করা হয়। ৪(১) (জ) ধারায় নালিশ (Complaint) -কে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে। ৪(১) (জ) ধারায় বলা হয়েছে, ফৌজদারী কার্যবিধির অধীন ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক কোন ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্দেশ্যে ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট মৌখিক বা লিখিত কোন অভিযোগ এই মর্মে দায়ের করা যে, জ্ঞাত বা অজ্ঞাত কোন ব্যক্তি কোন অপরাধ করেছে, কিন্তু এর মধ্যে পুলিশ রিপোর্ট বা প্রতিবেদন অন্তর্ভুক্ত হবেনা। অভিযোগটি (Allegation) অবশ্যই ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট দায়ের করতে হবে; জ্ঞাত বা অজ্ঞাত কোন ব্যক্তি কোনো অপরাধ করেছে অভিযোগটি সেই সম্পর্কিত হতে হবে; অভিযোগটি মৌখিক বা লিখিত আকারে হতে পারে । নালিশটি অবশ্যই জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট দায়ের করতে হবে। কারণ ফৌজদারী কার্যবিধির ৪ক ধারায় বলা হয়েছে, ম্যাজিস্ট্রেট বলতে জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট নিষ্পত্তির জন্য প্রেরণ বলে ধরতে হবে ।
সুতরাং নালিশ (Complaint) হলো জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট নিষ্পত্তির জন্য মৌখিক বা লিখিত আকারে দায়েরকৃত অভিযোগ।
৭৩.
অ্যাডভোকেটের বিরুদ্ধে পেশাগত অসদাচরণের নালিশ দায়ের করতে হয়-
  1. ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট
  2. বার কাউন্সিলে
  3. হাইকোর্ট বিভাগে
  4. বিচারকের কাছে
ব্যাখ্যা
♦অনুচ্ছেদ-৩২ অনুযায়ী একজন এ্যাডভোকেটের অসদাচরনের জন্য তার বিরুদ্ধে আদালত বা কোন ব্যক্তি প্রথমে বার কাউন্সিলের নিকট অভিযোগ দিতে পারেন, কেননা অসদাচরনের জন্য সরাসরি বার কাউন্সিল ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ করা যায় না। অভিযোগ পাওয়ার পর বার কাউন্সিল অভিযোগের যৌক্তিক কারণ থাকলে, অভিযোগটি অনুচ্ছেদ ৩৩ অনুযায়ী গঠিত বার কাউন্সিল ট্রাইব্যুনালে পাঠাবেন। এছাড়া বার কাউন্সিল নিজ উদ্যোগেও কোন আইনজীবীর বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ পাঠাতে পারে।
♦সুতরাং কোন আইনজীবীর পেশাগত অসদাচরনের বিরুদ্ধে ৩ জন অভিযোগ করতে পারে- i) আদালত, ii) বার কাউন্সিল অথবা iii) অন্য যে কোন ব্যক্তি।
৭৪.
দায়রা আদালতে আসামির অব্যহতি (Discharge) কত ধারায়?
  1. ২৪১ক ধারায়
  2. ২৬৫গ ধারায়
  3. ২৪৫ ধারায়
  4. ২৬৫ঞ ধারায়
ব্যাখ্যা
♦ফৌজদারি কার্যবিধির ২৬৫গ ধারা অনুযায়ী দায়রা আদালত পক্ষদ্বয়ের বক্তব্য, তদন্তকারী কর্মকর্তার নিকট প্রদত্ত জবানবন্দী, মেডিকেল সার্টিফিকেট, প্রাথমিক তথ্য বিবরণী, মামলার নথি এবং দলিল বিবেচনা করবেন। মামলার নথি, দলিল বিবেচনা এবং উভয়পক্ষের শুনানির পর মামলা চালানোর যথেষ্ট কারন খুঁজে না পেলে অর্থাৎ আসামির অপরাধ প্রতিয়মান না হলে দায়রা আদালত আসামিকে অব্যাহতি (Discharge) দিবেন।
৭৫.
বার কাউন্সিল ট্রাইব্যুনালের শুনানীর পূর্বে কতদিন সময় দিতে হয়-
  1. ১৪ দিন
  2. ২১ দিন
  3. ৩০ দিন
  4. ৭ দিন
ব্যাখ্যা
♦বাংলাদেশ লিগ্যাল প্রাকটিশনারস এবং বার কাউন্সিল রুলস, ১৯৭২ এর ৪৫ বিধি অনুযায়ী কোন অ্যাডভোকেটের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রাপ্তির পর, ট্রাইব্যুনাল শুনানীর দিন নির্ধারণ করবে কিন্তু সেটা অভিযোগ প্রাপ্তির ২১ দিনের মধ্যে না এর পরে যে কোনো দিন। ট্রাইব্যুনাল অভিযুক্ত অ্যাভোকেটকে একটি নোটিশ দিবে।
৭৬.
আসামির আত্মপক্ষ সমর্থন ও সাক্ষী হওয়ার যোগ্যতা রয়েছে ফৌজদারি কার্যবিধির কত ধারায়?
  1. ৩৪১ ধারায়
  2. ৩৪০ ধারায়
  3. ৩৪৫ ধারায়
  4. ৩৪২ ধারায়
ব্যাখ্যা
♦ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৪০ ধারামতে ফৌজদারি মামলার আসামী বা অভিযুক্ত ব্যক্তি আত্মপক্ষ সমর্থন করতে পারে ও সাক্ষী হতে পারবে। অর্থাৎ আসামী তার নিজের পক্ষে সাক্ষ্য দিতে পারে এবং একই মামলায় অভিযুক্ত অন্যান্য সকল আসামীর পক্ষে সাক্ষ্য দিতে পারবে। কোন মামলার আসামী বা অভিযুক্ত ব্যক্তি উকিলের মাধ্যমে আত্মপক্ষ সমর্থন করতে পারে।
৭৭.
আইনজীবী হবার আবেদন যোগ্যতা কত ধারায় বলা আছে?
  1. ২৯ (১) অনুচ্ছেদ
  2. ২৭ (১) অনুচ্ছেদ
  3. ২৮ অনুচ্ছেদ
  4. ২৫ অনুচ্ছেদ
ব্যাখ্যা
♦বাংলাদেশ বার কাউন্সিল অর্ডারের ২৭(১) নং অনুচ্ছেদে এ্যাডভোকেট হওয়ার যোগ্যতার বিধান রয়েছে। ২৭(১) নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী এ্যাডভোকেট হতে হলে নিম্নলিখিত যোগ্যতাসমূহ থাকতে হবে:-
   (i) বাংলাদেশের নাগরিক হতে হবে।
   (ii) বয়স ন্যূনতম ২১ বৎসর হতে হবে।
   (iii) আইন বিষয়ে ডিগ্রি থাকতে হবে (বাংলাদেশের অভ্যন্তরীন কোন স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অথবা বার কাউন্সিল স্বীকৃত বাইরের কোন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অথবা ব্যারিষ্টার হলে)।
   (iv) বার কাউন্সিল কর্তৃক নির্ধারিত কোনো কোর্স (যদি থাকে) সম্পন্ন করতে হবে।
   (v)  নিবন্ধন ফি, পরীক্ষার ফি প্রদান করতে হবে।
   (vi) এ্যাডভোকেট তালিকাভূক্তি পরীক্ষায় পাশ করতে হবে।
৭৮.
কোনো জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে বিচারাধীন মামলা অন্য কোন জেলায় অবস্থিত ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে স্থানান্তর করার দরখাস্ত কোন আদালতে করতে হবে?
  1. চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত
  2. চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত
  3. হাইকোর্ট বিভাগ
  4. দায়রা আদালত
ব্যাখ্যা
♦ফৌজদারি কার্যবিধির ৫২৬ ধারায় হাইকোর্ট বিভাগের মামলা স্থানান্তর ও প্রত্যাহারের ক্ষমতা রয়েছে। এই ধারার বিধান অনুযায়ী ফৌজদারি মামলা এক জেলার দায়রা আদালত থেকে অন্য জেলার দায়রা আদালতে মামলা স্থানান্তরের জন্য সরাসরি হাইকোর্টে আবেদন করতে হবে। একই জেলার মধ্যে একই দায়রা জজ আদালতের এক ফৌজদারি আদালত থেকে অন্য ফৌজদারি আদালতে মামলা স্থানান্তরের জন্য প্রথমে দায়রা জজ আদালতে আবেদন করতে হবে, উক্ত দায়রা জজ আদালত আবেদন নাকচ করলে হাইকোর্টে আবেদন করতে হবে।
৭৯.
নিচের কোনটি তত্ত্বগত আইন (Substantive Law)-
  1. দণ্ডবিধি-1860
  2. ফৌজদারি কার্যবিধি 1898
  3. সাক্ষ্য আইন- 1872
  4. তামাদি আইন-1908
ব্যাখ্যা
♦যে আইন কোন অধিকারকে সংজ্ঞায়িত করে, সৃষ্টি করে এবং অর্পণ করে বা কোন শাস্তিকে সংজ্ঞায়িত করে এবং দায় আরোপ করে সেই আইনকে তত্ত্বগত বা মৌলিক আইন [Substantive Law] বলে। যেমন: সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন, দণ্ডবিধি ইত্যাদি। দণ্ডবিধিতে বিভিন্ন অপরাধকে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে, উক্ত অপরাধের শাস্তি উল্লেখ করা হয়েছে। এই কারণে এটি একটি তত্ত্বগত আইন।
৮০.
অ্যাডভোকেট ব্যতিত অন্য কোন ব্যক্তি যদি আইন ব্যবসা করেন, তাহলে তাকে কি শাস্তি দিতে পারে?
  1. ২ মাস পর্যন্ত কারাদণ্ড
  2. ৩ মাস পর্যন্ত কারাদণ্ড
  3. ৬ মাস পর্যন্ত কারাদণ্ড
  4. ৪ মাস পর্যন্ত কারাদণ্ড
ব্যাখ্যা
অনুচ্ছেদ ৪১ অনুযায়ী অ্যাডভোকেট না হয়ে কোন ব্যক্তি আইন ব্যবসা করলে তার ৬ মাস পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে।