পরীক্ষা আর্কাইভ

প্রাইমারি শিক্ষক নিয়োগ প্রস্তুতি [লং কোর্স]

পরীক্ষাপ্রাইমারি শিক্ষক নিয়োগ প্রস্তুতি [লং কোর্স]তারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়17 minutes
মোট প্রশ্ন২৪
সিলেবাস
বাংলা ব্যাকরণঃ পদ প্রকরণ, কাল, উপসর্গ, বাক্য। সোর্সঃ যেকোনো গাইড বই, যেকোনো একাডেমিক ব্যক্তির বই এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণী।
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

প্রাইমারি শিক্ষক নিয়োগ প্রস্তুতি [লং কোর্স]

প্রাইমারি শিক্ষক নিয়োগ প্রস্তুতি [লং কোর্স] · তারিখ অনির্ধারিত · ২৪ প্রশ্ন

.
নিচের কোনটি সরল বাক্যের উদাহরণ?
  1. ক) ধনধান্য পুষ্পে ভরা, আমাদের এই বসুন্ধরা
  2. খ) যতই করিবে দান ততই বেড়ে যাবে
  3. গ) যে ভিক্ষা চায় তাকে দান কর
  4. ঘ) স্নেহময়ী জননী স্বীয় সন্তানকে প্রাণাপেক্ষা ভালোবাসেন
সঠিক উত্তর:
ঘ) স্নেহময়ী জননী স্বীয় সন্তানকে প্রাণাপেক্ষা ভালোবাসেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) স্নেহময়ী জননী স্বীয় সন্তানকে প্রাণাপেক্ষা ভালোবাসেন
ব্যাখ্যা

সরল বাক্য : যে বাক্যে একটিমাত্র কর্তা (উদ্দেশ্য) একটিমাত্র সমাপিকা ক্রিয়া থাকে, তাকে সরল বাক্য বলে।
যেমন: - পুকুরে পদ্মফুল ফুটে,
- খোকা আজ স্কুলে গিয়েছে,
- স্নেহময়ী জননী স্বীয় সন্তানকে প্রাণাপেক্ষা ভালোবাসেন,
- বিশ্ববিখ্যাত মহাকবিরা ঐন্দ্রজালিক শক্তিসম্পন্ন লেখনীর দ্বারা অমরতার সঙ্গীত রচনা করেন।

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ - নবম-দশম শ্রেণি।

.
‘সু’ উপসর্গ যোগে গঠিত তৎসম শব্দ কোনটি?
  1. ক) সুকন্ঠ
  2. খ) সুনজর
  3. গ) সুনাম
  4. ঘ) সুদিন
সঠিক উত্তর:
ক) সুকন্ঠ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) সুকন্ঠ
ব্যাখ্যা

তৎসম উপসর্গ বিশটি।
যথা: প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অপি, অভি, উপ, আ।

আ, সু, বি, নি - এই চারটি উপসর্গ বাংলা ও তৎসম উপসর্গে পাওয়া যায়।
এই চারটি যে শব্দের সঙ্গে যুক্ত হয়-- শব্দটি খাঁটি বাংলা হলে উপসর্গটি বাংলা উপসর্গ হবে; আবার শব্দটি তৎসম হলে উপসর্গটি তৎসম উপসর্গ হবে।

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ - নবম-দশম শ্রেণি।

.
বর্ষার রোদ্র প্লাবনের সৃষ্টি করে’-বাক্যটিতে কোন গুণের অভাব রয়েছে?
  1. ক) আসত্তি
  2. খ) যোগ্যতা
  3. গ) উৎকর্ষতা
  4. ঘ) আকাঙ্ক্ষা
সঠিক উত্তর:
খ) যোগ্যতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) যোগ্যতা
ব্যাখ্যা

ভাষার বিচারে বাক্যের তিনটি গুণ থাকা আবশ্যক। যথা- আকাক্সক্ষা, আসত্তি ও যোগ্যতা।
আকাঙ্ক্ষা : বাক্যের অর্থ পরিষ্কারভাবে বোঝার জন্য এক পদের পর অন্য পদ শোনার যে ইচ্ছা তা-ই আকাঙ্ক্ষা।
যেমন: ‘চন্দ্র পৃথিবীর চারদিকে’ বলে শেষ করলে আরও শোনার আকাঙ্ক্ষা থাকে। বাক্যটি হবে ‘চন্দ্র পৃথিবীর চারদিকে ঘোরে’।
আসত্তি : বাক্যের অর্থসঙ্গতি রক্ষার জন্য সুশৃঙ্খল পদবিন্যাসই আসত্তি।
যেমন: কাল বিতরণী হবে উৎসব স্কুলে আমাদের পুরস্কার অনুষ্ঠিত। বাক্যটি যথাযথ হয়নি কারণ, এখানে আসত্তির অভাব রয়েছে। বাক্যটি হবে ‘কাল আমাদের স্কুলে পুরস্কার বিতরণী উৎসব অনুষ্ঠিত হবে’।
যোগ্যতা : বাক্যস্থিত পদসমূহের অন্তর্গত ও ভাবগত মিলবন্ধনের নাম যোগ্যতা।
বর্ষার বৃষ্টি প্লাবনের সৃষ্টি হয়-বাক্যটি যোগ্যতাসম্পন্ন। কিন্তু ‘বর্ষার রোদ্র প্লাবনের সৃষ্টি করে’ বললে বাক্যটি যোগ্যতা হারাবে। কারণ, রোদ্র প্লাবনের সৃষ্টি করে না।

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ - নবম-দশম শ্রেণি।

.
‘দরপাট্টা’ শব্দটিতে ’দর্’ উপসর্গটি কোন অর্থে যুক্ত হয়েছে?
  1. ক) সাধারণ
  2. খ) আধা
  3. গ) সহিত
  4. ঘ) অধীন
সঠিক উত্তর:
ঘ) অধীন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) অধীন
ব্যাখ্যা

ফারসি উপর্গের প্রয়োগ -
উপসর্গ   -    যে অর্থে প্রযুক্ত      -    উদাহরণ
কার        - কাজ                       - কারখানা, কারসাজি, কারচুপি, কারবার।
দর         - মধ্যস্থ,অধীন             - দরপত্তনী, দরপাট্টা, দরদালান।
নিম্        - আধা                       - নিমরাজি, নিমখুন।
ফি         - প্রতি                        - ফি-রোজ, ফি-বছর, ফি-মাস।
বদ্         - মন্দ                        - বদমেজাজ, বদরাগী, বদহজম, বদনাম।
বে          - না                          - বেআদব, বেকসুর, বেতার, বেকার।
বর         - বাইরে,মধ্যে             - বরখাস্ত, বরখেলাপ, বরবাদ।
ব্           - সহিত                     - বমাল, বনাম, বকলম।
কম্        - স্বল্প                        - কমজোর, কম্বখত।

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ - নবম-দশম শ্রেণি।

.
কোনটি সংজ্ঞাবাচক বিশেষ্য?
  1. ক) সমিতি
  2. খ) বীরত্ব
  3. গ) সৌরব
  4. ঘ) বিশ্বনবি
সঠিক উত্তর:
ঘ) বিশ্বনবি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) বিশ্বনবি
ব্যাখ্যা

সংজ্ঞা (বা নাম) বাচক বিশেষ্য : যে পদ দ্বারা কোনো ব্যক্তি, ভৌগোলিক স্থান বা সংজ্ঞা এবং গ্রন্থ বিশেষের নাম বিজ্ঞাপিত হয়, তাকে সংজ্ঞা (বা নাম) বাচক বিশেষ্য বলে।
যথা:
ক. ব্যক্তির নাম : নজরুল, রহিম, সানিয়া।
খ. ভৌগোলিক স্থানের : ঢাকা, মক্কা, দিল্লি।
গ. ভৌগোলিক সংজ্ঞা : (নদী, সমুদ্র, পর্বত ইত্যাদি) মেঘনা, হিমালয়, আরব সাগর।
ঘ. গ্রন্থের নাম : অগ্নিবীণা, গীতাঞ্জলি, বিশ্বনবি।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ - নবম-দশম শ্রেণি।

 
.
কোনটি ভাববাচক বিশেষ্য পদ নয়?
  1. ক) স্বাস্থ্য
  2. খ) দর্শন
  3. গ) ভোজন
  4. ঘ) শয়ন
সঠিক উত্তর:
ক) স্বাস্থ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) স্বাস্থ্য
ব্যাখ্যা

ভাববাচক বিশেষ্য:
যে বিশেষ্য পদে কোনো ক্রিয়ার ভাব বা কাজের ভাব প্রকাশিত হয়, তাকে ভাববাচক বিশেষ্য পদ বলে।
যেমন:
- ভোজন (খাওয়ার কাজ),
- শয়ন (শোয়ার কাজ),
- দর্শন (দেখার কাজ),
- গমন (যাওয়ার ভাব বা কাজ)।
অন্যদিকে,
'স্বাস্থ্য' শব্দটি গুণবাচক বিশেষ্য।



উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ - নবম-দশম শ্রেণি।

.
নিচের কোন দুটি খাঁটি বাংলা উপসর্গ?
  1. ক) অনা, কদ
  2. খ) পরা, অধি
  3. গ) অজ, অভি
  4. ঘ) অঘা, প্র
সঠিক উত্তর:
ক) অনা, কদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) অনা, কদ
ব্যাখ্যা

বাংলা উপসর্গ মোট একুশটি।
যথা: অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, উন (উনা), কদ, কু, নি,পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।
বাংলা উপসর্গ সাধারণত বাংলা শব্দের পূর্বেই যুক্ত হয়ে থাকে।

.
“সাতাশ যদি হতো একশ সাতাশ” - এখানে কী বুঝাতে নিত্যবৃত্ত অতীত ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. ক) কামনা
  2. খ) ইচ্ছা
  3. গ) সম্ভাবনা
  4. ঘ) অসম্ভব কল্পনায়
সঠিক উত্তর:
ঘ) অসম্ভব কল্পনায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) অসম্ভব কল্পনায়
ব্যাখ্যা

নিত্যবৃত্ত অতীত কাল : অতীত কালে যে ক্রিয়া সাধারণ অভ্যস্ততা অর্থে ব্যবহৃত হয়, তাকে নিত্যবৃত্ত অতীত কাল বলে। যেমন : আমরা তখন রোজ সকালে নদীর তীরে ভ্রমণ করতাম।
নিত্যবৃত্ত অতীত কালের বিশিষ্ট প্রয়োগ :
ক. কামনা প্রকাশে : আজ যদি সুমন আসত, কেমন মজা হতো।
খ. অসম্ভব কল্পনায় : সাতাশ যদি হতো একশ সাতাশ।
গ. সম্ভবনা প্রকাশে : তুমি যদি যেতে, তবে ভালোই হতো।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ - নবম-দশম শ্রেণি।

.
কী ভেদে বাংলায় ক্রিয়ার রূপের কোনো পরিবর্তন হয় না?
  1. ক) বচনভেদে
  2. খ) পুরুষভেদে
  3. গ) অর্থভেদে
  4. ঘ) প্রয়োগভেদে
সঠিক উত্তর:
ক) বচনভেদে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) বচনভেদে
ব্যাখ্যা

ক্রিয়াপদ: ক্রিয়ামূল অর্থাৎ ধাতুর সঙ্গে কাল সময় ও পুরুষ জ্ঞাপক (ক্রিয়া) বিভক্তিযোগে ক্রিয়াপদ গঠিত হয়।
ক. পুরুষভেদে ক্রিয়ার রূপের পার্থক্য দেখা যায়। যেমন: আমি যাই। তুমি যাও। আপনি যান। সে যায়। তিনি যান। (সাধারণ ভবিষ্যৎ কালে নাম পুরুষ ও মধ্যম পুরুষের রূপ অভিন্ন।)
খ. বচনভেদে ক্রিয়ার রূপের পার্থক্য হয় না। যেমন: আমি (বা আমরা) যাই। তুমি (বা তোমরা) যাও। সে (বা তারা) যায়।
গ. সাধারণ, সম্ভ্রমাত্মক, তুচ্ছার্থকভেদে মধ্যম ও নাম পুরুষের ক্রিয়ার রূপের পার্থক্য হয় হয়ে থাকে (উত্তম পুরুষের হয় না)।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ - নবম-দশম শ্রেণি।

১০.
সামীপ্যবাচক সর্বনামের উদাহরণ কোনটি?
  1. ক) এই
  2. খ) পরস্পর
  3. গ) যিনি
  4. ঘ) খোদ
সঠিক উত্তর:
ক) এই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) এই
ব্যাখ্যা

বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত সর্বনামসমূহকে নিম্মলিখিত ভাগে ভাগ করা হয়ে থাকে।
ক. ব্যক্তিবাচক : আমি, সে, তারা, তিনি, ও, এরা ইত্যাদি।
খ. আত্মবাচক : স্বয়ং,খোদ, আপনি।
গ. সামীপ্যবাচক : এ, এই, এরা,ইহারা, ইনি।
ঘ. দূরত্ববাচক : ঐ, ঐসব।
ঙ. সাকুল্যবাচক : সব, সকল, সমুদয়, তাবৎ।
চ. প্রশ্নবাচক : কে, কি, কী, কেন, কাহার, কার, কিসে?
ছ. অনির্দিষ্টতাজ্ঞাপক : কোন, কেহ, কেউ, কিছু।
জ. ব্যতিহারিক : নিজে নিজে, পরস্পর ইত্যাদি।
ঝ. সংযোগজ্ঞাপক : যে, যিনি, যারা ইত্যাদি।
ঞ. অন্যাদিবাচক : অন্য, অপর, পর ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ - নবম-দশম শ্রেণি।

১১.
‘পুরুষ’ ব্যাকরণে একটি -
  1. ক) প্রতিশব্দ
  2. খ) পারিভাষিক শব্দ
  3. গ) প্রাতিপাদিক শব্দ
  4. ঘ) দ্বিরুক্ত শব্দ
সঠিক উত্তর:
খ) পারিভাষিক শব্দ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) পারিভাষিক শব্দ
ব্যাখ্যা

‘পুরুষ’ একটি পারিভাষিক শব্দ।
বিশেষ্য, সর্বনাম ও ক্রিয়ার পুরুষ আছে। বিশেষণ ও অব্যয়ের কোনো পুরুষ নেই।
ব্যাকরণে পুরুষ তিন প্রকার।
যথাঃ
- উত্তম পুরুষ,
- মধ্যম পুরুষ ও
- নাম পুরুষ।

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ - নবম-দশম শ্রেণি।

১২.
যেকোনো বিশেষ্য পদ কোন পুরুষ হিসাবে বিবেচিত হয়?
  1. ক) উত্তম পুরুষ
  2. খ) মধ্যম ও নাম পুরুষ
  3. গ) মধ্যম পুরুষ
  4. ঘ) নাম পুরুষ
সঠিক উত্তর:
ঘ) নাম পুরুষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) নাম পুরুষ
ব্যাখ্যা

ব্যাকরণে পুরুষ তিন প্রকার।
যথা- উত্তম, মধ্যম ও নাম পুরুষ।

উত্তম পুরুষ: স্বয়ং বক্তাই উত্তম পুরুষ। আমি, আমরা, আমাদের ইত্যাদি সর্বনাম শব্দ উত্তম পুরুষ।
মধ্যম পুরুষ: প্রত্যক্ষভাবে উদ্দিষ্ট ব্যক্তি বা শ্রোতাই মধ্যম পুরুষ। তুমি, তোমরা, তোমাদের, আপনি, আপনারা, আপনাদের ইত্যাদি সর্বনাম শব্দ মধ্যম পুরুষ।
নাম পুরুষ: অনুপস্থিত বা পরোক্ষভাবে উদ্দিষ্ট ব্যক্তি, বস্তু, প্রাণীই নাম পুরুষ। সে, তারা, তাদের, তিনি, তাহাদের প্রভৃতি নাম পুরুষ। (সমস্ত বিশেষ্য শব্দই নাম পুরুষ)।

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ - নবম-দশম শ্রেণি।

১৩.
“শনশন বায়ু বয়”- এ বাক্যে ‘শনশন’ কোন ধরনের অব্যয়?
  1. ক) অনন্বয়ী অব্যয়
  2. খ) অনুসর্গ অব্যয়
  3. গ) সমুচ্চয়ী অব্যয়
  4. ঘ) অনুকার অব্যয়
সঠিক উত্তর:
ঘ) অনুকার অব্যয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) অনুকার অব্যয়
ব্যাখ্যা

অনুকার অব্যয় : যে সকল অব্যয় অব্যক্ত রব, শব্দ বা ধ্বনির অনুকরণে গঠিত হয়, সেগুলোকে অনুকার অব্যয় বলে।
যেমন :
বজ্রের ধ্বনি - কড় কড়
বাতাসের ধ্বনি - শনশন
নূপুরের আওয়াজ - রুম ঝুম
সিংহের গর্জন - গর গর
রাতের ধ্বনি - কল কল
মেঘের গর্জন - গুড় গুড়
কোকিলের ডাক - কুহু কুহু
চুড়ির শব্দ - টুং টাং

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ - নবম-দশম শ্রেণি।

১৪.
ক্রিয়া বিশেষণের উদাহরণ কোনটি?
  1. ক) চলন্ত গাড়ি
  2. খ) নীল আকাশ
  3. গ) দ্রুত চল
  4. ঘ) করুণাময় তুমি
সঠিক উত্তর:
গ) দ্রুত চল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) দ্রুত চল
ব্যাখ্যা

ক্রিয়া বিশেষণ : যে পদ ক্রিয়া সংঘটনের ভাব, কাল বা রূপ নির্দেশ করে, তাকে ক্রিয়া বিশেষণ বলে।
যথা -
ক. ক্রিয়া সংঘটনের ভাব : ধীরে ধীরে বায়ু বয়।
খ. ক্রিয়া সংঘটনের কাল : পরে একবার এসো।



উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ - নবম-দশম শ্রেণি।

১৫.
সমুচ্চয়ী অব্যয় কত প্রকার?
  1. ক) তিন
  2. খ) পাঁচ
  3. গ) দুই
  4. ঘ) ছয়
সঠিক উত্তর:
ক) তিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) তিন
ব্যাখ্যা

সমুচ্চয়ী অব্যয় : যে অব্যয় পদ একটি বাক্যের সঙ্গে অন্য একটি বাক্যের অথবা বাক্যস্থিত একটি পদের সঙ্গে অন্য একটি পদের সংযোজন, বিয়োজন এবং সংকোচন ঘটায় তাকে সমুচ্চয়ী অব্যয় বলে।
সমুচ্চয়ী অব্যয় তিন প্রকার।
যথাঃ সংযোজক, বিয়োজক এবং সংকোচক।

সংযোজক অব্যয় :
ক. উচ্চপদ ও সামাজিক মর্যাদা সকলেই চায়। বাক্যে ‘ও’ সংযোজক অব্যয়।
খ. তিনি সৎ, তাই তাঁকে সকলেই শ্রদ্ধা করে। বাক্যে ‘তাই’ সংযোজক অব্যয়। তাছাড়া আর, অধিকন্তু, সুতরাং সংযোজক অব্যয়।
বিয়োজক অব্যয় :
ক. হাসেম কিংবা কাসেম এর জন্য দায়ী। বাক্যে ‘কিংবা’ বিয়োজক অব্যয়।
খ. আমরা চেষ্টা করেছি, কিন্তু কৃতকার্য হতে পারিনি। ‘কিন্তু’ অব্যয়টি দুটি বাক্যের বিয়োজক। তাছাড়া বা, অথবা, নতুবা, না হয়, নয়তো, বিয়োজক অব্যয়।
সংকোচক অব্যয় : তিনি বিদ্বান, অথচ সৎ ব্যক্তি নন। বাক্যে ‘অথচ’ সংকোচক অব্যয়। কিন্তু, বরং শব্দগুলোও সংকোচক অব্যয়।

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- নবম-দশম শ্রেণি।

১৬.
কোন বাক্যটির ক্রিয়া সকর্মক?
  1. ক) শিশুটি কাঁদে
  2. খ) মাসুদ সারাদিন খেলেছিল
  3. গ) চুপ করে থাক
  4. ঘ) আকাশে চাঁদ দেখা যায়
সঠিক উত্তর:
ঘ) আকাশে চাঁদ দেখা যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) আকাশে চাঁদ দেখা যায়
ব্যাখ্যা

সকর্মক ক্রিয়া:
যে ক্রিয়ার কর্মপদ আছে তা-ই সকর্মক ক্রিয়া। ক্রিয়ার সাথে কী বা কাকে প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায় তা-ই কর্মপদ।
কর্মপদযুক্ত ক্রিয়াই সকর্মক ক্রিয়া।
যেমন:
- বাবা আমাকে একটি কলম কিনে দিয়েছেন।

অকর্মক ক্রিয়া:
যে ক্রিয়ার কর্ম নেই, তা-ই অকর্মক ক্রিয়া।
যেমন: মেয়েটি হাসে।
‘কী হাসে’ বা ‘কাকে হাসে’ প্রশ্ন করলে কোনো উত্তর পাওয়া যায় না। এজন্য ‘হাসে’ ক্রিয়াটি অকর্মক ক্রিয়া।

প্রশ্নের বাক্যগুলোর মধ্যে শুধু "আকাশে চাঁদ দেখা যায়" বাক্যের ক্রিয়াপদটি সকর্মক।

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ - নবম-দশম শ্রেণি।

১৭.
কোনটিতে প্রযোজক ক্রিয়া আছে?
  1. ক) তিনি ছেলেকে পড়াচ্ছেন
  2. খ) তুমি কোন কাননের ফুল
  3. গ) একি কথা শুনলাম
  4. ঘ) তোমাকে অনেকবার বলেছি
সঠিক উত্তর:
ক) তিনি ছেলেকে পড়াচ্ছেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) তিনি ছেলেকে পড়াচ্ছেন
ব্যাখ্যা

প্রযোজক ক্রিয়া:
যে ক্রিয়া একজনের প্রযোজনা বা চালনায় অন্য কর্তৃক অনুষ্ঠিত হয়, সেই ক্রিয়াকে প্রযোজক ক্রিয়া বলে। (সংস্কৃত ব্যাকরণে এটি ণিজন্ত ক্রিয়া বলা হয়)।
যেমনঃ তিনি ছেলেকে পড়াচ্ছেন।

প্রযোজক কর্তা : যে ক্রিয়া প্রযোজন করে, তাকে প্রযোজক কর্তা বলে।

প্রযোজ্য কর্তা : যাকে দিয়ে ক্রিয়াটি অনুষ্ঠিত হয়, তাকে প্রযোজ্য কর্তা বলে।
যেমন : মা শিশুকে চাঁদ দেখাচ্ছেন।
বাক্যে ‘মা’ প্রযোজক কর্তা, ‘শিশুকে’ প্রযোজ্য কর্তা, ‘চাঁদ দেখাচ্ছেন’ প্রযোজক ক্রিয়া।

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ - নবম-দশম শ্রেণি।

১৮.
‘ঘটনাটি শুনে রাখ’- বাক্যে কোন ক্রিয়া রয়েছে?
  1. ক) যৌগিক ক্রিয়া
  2. খ) মিশ্র ক্রিয়া
  3. গ) প্রযোজক ক্রিয়া
  4. ঘ) অকর্মক ক্রিয়া
সঠিক উত্তর:
ক) যৌগিক ক্রিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) যৌগিক ক্রিয়া
ব্যাখ্যা

যৌগিক ক্রিয়া:
একটি সমাপিকা ও একটি অসাপিকা ক্রিয়া যদি একত্রে একটি বিশেষ বা সম্প্রসারিত অর্থ প্রকাশ করে, তবে তাকে যৌগিক ক্রিয়া বলে।
যেমন:
- সাইরেন বেজে উঠল।
- ঘটনাটি শুনে রাখ।

মিশ্র ক্রিয়া:
বিশেষ্য, বিশেষণ ও ধ্বনাত্মক অব্যয়ের সঙ্গে কর, হ্, দে, পা, যা, কাট্, গা, ছাড়, ধর্, মার্ প্রভৃতি ধাতুযোগে গঠিত ক্রিয়াপদ বিশেষ বিশেষ অর্থে মিশ্র ক্রিয়া গঠন করে।
যেমন:
- আমরা তাজমহল দর্শন করলাম।
- ঝম্ ঝম্ করে বৃষ্টি পড়ছে।

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ - নবম-দশম শ্রেণি।

১৯.
কোন বাক্যটি সাপেক্ষ ভাব প্রকাশ করেছে?
  1. ক) যা হয় হোক
  2. খ) মন দিয়ে পড়
  3. গ) ভালো করে পড়লে সফল হবে
  4. ঘ) অন্যায় কাজ করো না
সঠিক উত্তর:
গ) ভালো করে পড়লে সফল হবে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ভালো করে পড়লে সফল হবে
ব্যাখ্যা

সাপেক্ষ ভাব : একটি ক্রিয়ার সংঘটন অন্য একটি ক্রিয়ার উপর নির্ভর করলে, নির্ভরশীল ক্রিয়াকে সাপেক্ষ ভাবের ক্রিয়া বলে। যেমন :
ক. সম্ভাবনায় : তিনি ফিরে এলে সবকিছুর মীমাংশা হবে, যদি সে পড়ত তবে সে পাশ করত।
খ. উদ্দেশ্য বোঝাতে : ভালো করে পড়লে সফল হবে।
গ. ইচ্ছা বা কামনায় : আজ বাবা বেঁচে থাকলে আমার এত কষ্ট হতো না।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ - নবম-দশম শ্রেণি।

২০.
দুর্ভাগ্যক্রমে দেশ আবার নানা সমস্যাজালে আবদ্ধ হয়ে পড়েছে - ‘দুর্ভাগ্যক্রমে’ কোন প্রকারের বিশেষণ?
  1. ক) ক্রিয়া বিশেষণ
  2. খ) অব্যয়ের বিশেষণ
  3. গ) বিশেষণীয় বিশেষণ
  4. ঘ) বাক্যের বিশেষণ
সঠিক উত্তর:
ঘ) বাক্যের বিশেষণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) বাক্যের বিশেষণ
ব্যাখ্যা

বাক্যের বিশেষণ : কখনো কখনো বিশেষণ পদ একটি সম্পূর্ণ বাক্যকে বিশেষিত করতে পারে, তখন তাকে বাক্যের বিশেষণ বলে। যেমন : দুভাগ্যক্রমে দেশ আবার নানা সমস্যাজালে আবদ্ধ হয়ে পড়েছে।
অব্যয়ের বিশেষণ : যে ভাব-বিশেষণ অব্যয় পদ অথবা অব্যয় পদের অর্থকে বিশেষিত করে, তাকে অব্যয়ের বিশেষণ বলে। যেমন: ধিক্ তারে,শত ধিক্ নির্লজ্জ যে জন।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ - নবম-দশম শ্রেণি।

২১.
যে ক্রিয়া সম্ভবত ঘটে গিয়েছে, সাধারণ ভবিষ্যৎ কালবোধ শব্দ ব্যবহার করে তা বোঝালে তাকে কোন কাল বলে?
  1. ক) সাধারণ ভবিষ্যৎ
  2. খ) পুরাঘটি ভবিষ্যৎ
  3. গ) ঘটমান ভবিষ্যৎ
  4. ঘ) পরাঘটিত অতীত
সঠিক উত্তর:
খ) পুরাঘটি ভবিষ্যৎ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) পুরাঘটি ভবিষ্যৎ
ব্যাখ্যা

পুরাঘটিত ভবিষ্যৎ কাল : যে ক্রিয়া সম্ভবত ঘটে গিয়েছে, সাধারণ কালবোধ শব্দ ব্যবহার করে তা বোঝাতে পুরাঘটিত ভবিষ্যৎ কাল হয়।
পুরাঘটিত ভবিষ্যৎ কালের অর্থ প্রকাশের জন্য মূল ধাতুর সঙ্গে অসমাপিকা ক্রিয়া বিভক্তি-ইয়া/এ যোগ করে এবং যাক্ ও গম্ ধাতুর সঙ্গে সাধারণ ভবিষ্যতের ক্রিয়াবিভক্তি যুক্ত করে যৌগিক ক্রিয়াপদ তৈরি হয়। যথা- গিয়ে থাকব/যাইয়া থাকিব।

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ - নবম-দশম শ্রেণি।

২২.
ক্রিয়া বর্তমানে, অতীতে বা ভবিষ্যতে সম্পন্ন হওয়ার সময় নির্দেশকে কী বলে?
  1. ক) ক্রিয়ার ভাব
  2. খ) ক্রিয়ার কর্ম
  3. গ) ক্রিয়ার কাল
  4. ঘ) ক্রিয়া বিভক্তি
সঠিক উত্তর:
গ) ক্রিয়ার কাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ক্রিয়ার কাল
ব্যাখ্যা

কাল: ক্রিয়া সংঘটনের সময়কে কাল বলে।
ক্রিয়া বর্তমান, অতীত বা ভবিষ্যতে সম্পন্ন হওয়ার সময় নির্দেশই ক্রিয়ার কাল ।
ক্রিয়ার কাল তিন প্রকার। যথা:
১. বর্তমান কাল। যেমন: আমরা বই পড়ি।
২. অতীত কাল। যেমন: কাল তুমি শহরে গিয়েছিলে।
৩. ভবিষ্যত কাল। যেমন: আগামীকাল স্কুল বন্ধ থাকবে।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ - নবম-দশম শ্রেণি।

২৩.
সর্বনামের প্রতিনিধি স্থানীয় কোনটি?
  1. ক) বিশেষ্য
  2. খ) বিশেষণ
  3. গ) অব্যয়
  4. ঘ) ক্রিয়া
সঠিক উত্তর:
ক) বিশেষ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) বিশেষ্য
ব্যাখ্যা

বিশেষ্যের পরিবর্তে যে শব্দ ব্যবহৃত হয়, তাকে সর্বনাম পদ বলে।
সর্বনাম সাধারণত ইতোপূর্বে ব্যবহৃত বিশেষ্যের প্রতিনিধি স্থানীয় শব্দ। যেমন: হস্তী প্রাণিজগতের সর্ববৃহৎ প্রাণী। তার শরীরটি যেন বিরাট এক মাংসের স্তুপ।
বিশেষ্য পদ অনুক্ত থাকলেও ক্ষেত্রবিশেষে বিশেষ্য পদের পরিবর্তে সর্বনাম পদ ব্যবহৃত হতে পারে।
যেমন: যারা দেশের ডাকে সারা দিতে পারে, তারা তো সত্যিকারের দেশপ্রেমিক।

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ - নবম-দশম শ্রেণি।

২৪.
“হাসিমের ভাই এসেছে” - এ বাক্যে ‘হাসিমের’ পদটি কীসের সম্প্রসারক?
  1. ক) ক্রিয়ার সম্প্রসারক
  2. খ) উদ্দেশ্যের সম্প্রসারক
  3. গ) বিশেষণের সম্প্রসারক
  4. ঘ) বিধেয়ের সম্প্রসারক
সঠিক উত্তর:
খ) উদ্দেশ্যের সম্প্রসারক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) উদ্দেশ্যের সম্প্রসারক
ব্যাখ্যা

প্রতিটি বাক্যে দুটি অংশ থাকে: উদ্দেশ্য ও বিধেয়।
বাক্যের যে অংশে কাউকে উদ্দেশ্য করে কিছু বলা হয়, তাকে উদ্দেশ্য এবং উদ্দেশ্য সম্বন্ধে যা বলা হয়, তাকে বিধেয় বলা হয়।
যেমন: খোকা এখন (উদ্দেশ্য) বই পড়ছে (বিধেয়)।

একটি মাত্র পদবিশিষ্ট কর্তৃপদকে সরল উদ্দেশ্য বলে।
উদ্দেশ্যের সঙ্গে বিশেষণাদি যুক্ত থাকলে তাকে সম্প্রসারিত উদ্দেশ্য বলে।

প্রশ্নের বাক্যে,
হাসিমের (উদ্দেশ্য) ভাই এসেছে (বিধেয়)।
সুতরাং, উদ্দেশ্যের সম্প্রসারণ হয়েছে।

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ - নবম-দশম শ্রেণি।