পরীক্ষা আর্কাইভ

১৪তম - ২০তম গ্রেড পরীক্ষার প্রস্তুতি

পরীক্ষা১৪তম - ২০তম গ্রেড পরীক্ষার প্রস্তুতিতারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়09 minutes
মোট প্রশ্ন২১
সিলেবাস
[নির্দেশিকা: এই রুটিনে সারাবছর জুড়ে পরীক্ষা চলমান থাকে। আপনি আজ ১ম পরীক্ষা দেওয়া শুরু করলে ২৪০ দিনের মধ্যে পুরো সিলেবাস সম্পন্ন হবে।] বিষয়: বাংলা (ব্যাকরণ) টপিক: পরীক্ষার টপিক: ১. ভাষারীতি ২. ব্যাকরণ বিষয়ক গ্রন্থ ও ইতিহাস ৩.পদ প্রকরণ ৪. বচন ও লিঙ্গ
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

১৪তম - ২০তম গ্রেড পরীক্ষার প্রস্তুতি

১৪তম - ২০তম গ্রেড পরীক্ষার প্রস্তুতি · তারিখ অনির্ধারিত · ২১ প্রশ্ন

.
বাংলা ভাষার মৌলিক রূপ কয়টি?
  1. দুইটি
  2. তিনটি
  3. চারটি
  4. একটি
ব্যাখ্যা
• বাংলা ভাষার মৌলিক রূপ- দুইটি।
যথা - 
ক. লৈখিক ও
খ. মৌখিক রূপ।

---------------------
• কিন্তু বাংলা ভাষার মৌলিক অংশ - ৪ টি।
ক. ধ্বনি
খ. শব্দ
গ. বাক্য
ঘ. অর্থ

উৎস : ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণির (২০২২ সংস্করণ)।
.
বাংলা ভাষায় রচিত প্রথম বাংলা ব্যাকরণ গ্রন্থ কোনটি?
  1. এ গ্রামার অব দি বেঙ্গল ল্যাঙ্গুয়েজ
  2. ভোকাবুলারিও এম ইদিওমা বেনগল্লা ই পোরতুগিজ
  3. গৌড়ীয় ব্যাকরণ
  4. বাংলা ভাষার ব্যাকরণ
ব্যাখ্যা
• বাংলা ভাষায় রচিত প্রথম বাংলা ব্যাকরণ গ্রন্থ হচ্ছে — গৌড়ীয় ব্যাকরণ।
- এর রচয়িতা রাজা রামমোহন রায় এবং এটি প্রকাশিত হয় ১৮৩৩ সালে।

অন্যদিকে,
- প্রথম বাংলা ব্যাকরণ প্রকাশিত হয় ১৭৪৩ সালে পর্তুগিজ ভাষায়। এর লেখক ছিলেন মানোএল দা আসসুম্পসাঁউ।
-  গ্রন্থের নাম ছিলো - Vocabulario em Idioma Bengalla E Portugues.
- ১৭৭৮ সালে প্রকাশিত হয় নাথানিয়েল ব্রাসি হ্যালহেড প্রণীত ইংরেজি ভাষায় রচিত পূর্ণাঙ্গ একটি বাংলা ব্যাকরণ। বইটির নাম ‘এ গ্রামার অব দি বেঙ্গল ল্যাঙ্গুয়েজ’।
- ১৮০১ সালে উইলিয়াম কেরি এবং ১৮২৬ সালে রামমোহন রায় ইংরেজি ভাষায় আরো দুটি উল্লেখযোগ্য বাংলা ব্যাকরণ রচনা করেন।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ ২০২১)।
.
'গুণবাচক' বিশেষ্য কোনটি?
  1. মিছিল
  2. সুশ্রী
  3. সুন্দর
  4. মধুরতা
ব্যাখ্যা
• গুণবাচক বিশেষ্য: 
যে বিশেষ্য দ্বারা কোনো বস্তুর দোষ বা গুণের নাম বোঝায়, তাই গুণবাচক বিশেষ্য।
যথা - 
মধুর মিষ্টত্বের গুণ - মধুরতা

গুণবাচক বিশেষ্যের উদাহরণ:
- সৌরভ, স্বাস্থ্য, যৌবন, তারুণ্য, তারল্য, তিক্ততা, সুখ, দুঃখ, উৎকর্ষ ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
- ‘মিছিল’ সমষ্টিবাচক বিশেষ্য।
- বিশেষণ পদ - সুশ্রী, সুন্দর।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২৩ সংস্করণ) এবং মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
বিভক্তিযুক্ত শব্দ বা ধাতুকে কী বলে?
  1. প্রাতিপাদিক
  2. পদ
  3. প্রত্যয়
  4. বচন
ব্যাখ্যা
• বিভক্তিযুক্ত শব্দ বা ধাতুকে- পদ বলে। 

• পদ:
- শব্দে বিভক্তি যুক্ত হলেই তাকে পদ বলা হয়। অর্থাৎ, বিভক্তি যুক্ত শব্দকে পদ বলে।
- বাক্যে ব্যবহৃত প্রতিটি শব্দ বিভক্তিযুক্ত।
- যেসব শব্দে বিভক্তি দেখা যায় না সেসব শব্দে শূন্য বিভক্তি থাকে। তাই বাক্যের প্রতিটি শব্দই পদ।

পদগুলো প্রধানত দুই প্রকার। 
যথা - সব্যয় পদ ও অব্যয় পদ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণী (২০১৯ সংস্করণ)। 
.
বাংলা ভাষার মৌলিক অংশ নয় কোনটি?
  1. ধ্বনি
  2. শব্দ
  3. বাক্য
  4. বর্ণ
ব্যাখ্যা
• কিন্তু বাংলা ভাষার মৌলিক অংশ - ৪ টি।
যথা- 
ক. ধ্বনি;
খ. শব্দ;
গ. বাক্য;
ঘ. অর্থ।

অন্যদিকে,
• বাংলা ভাষার মৌলিক অংশ নয় — "বর্ণ"। 

উৎস : ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণির (২০২২ সংস্করণ)।
.
'বচন' হলো-
  1. পরিমাপের ধারণা
  2. গণনার ধারণা
  3. পদের ধারণা
  4. সংখ্যার ধারণা
ব্যাখ্যা
• 'বচন': 
- বচন ব্যাকরণের একটি পারিভাষিক শব্দ।
- এর অর্থ সংখ্যার ধারণা। ব্যাকরণে বিশেষ্য বা সর্বনামের সংখ্যাগত ধারণা প্রকাশের উপায়কে বলে বচন।
- কেবল বিশেষ্য ও সর্বনাম শব্দের বচনভেদ হয়।

বাংলা ভাষায় বচন দুই প্রকার:
• একবচন। যেমন - একটি বই, একজন খেলোয়াড়।
• বহুবচন। যেমন-  মেয়েরা স্কুলে যাচ্ছ, আমাকে দুটি কলম দিন, তিনজন লোক একসঙ্গে গান গাইছে ইত্যাদি।

------------------
• বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে, 
'বচন'- তৎসম বা সংস্কৃত শব্দ। 

• 'বচন' (বিশেষ্য): 
প্রকৃত- প্রত্যয়: বচ্‌ + অন'।
অর্থ: বাক্য, কথা।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
.
'সুশোভন' - কোন পদ?
  1. বিশেষ্য
  2. গুণবাচক বিশেষ্য
  3. বিশেষণ
  4. ক্রিয়াবিশেষ্য
ব্যাখ্যা
• বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
'সুশোভন' - বিশেষণ পদ।

বিশেষণ :
যে পদ বিশেষ্য, সর্বনাম ও ক্রিয়াপদের দোষ, গুণ, অবস্থা, সংখ্যা, পরিমাণ, ইত্যাদি প্রকাশ করে, তাকে বিশেষণ পদ বলে।
যেমন - 
রক্তাক্ত (বিশেষণ): রক্তে মাখা; রক্তরঞ্জিত।



উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
.
‘রা’, ‘গুলি’, ‘গুলা’ — এগুলো কী নির্দেশ করে?
  1. একবচন
  2. নির্দেশবাচক সর্বনাম
  3. সমষ্টিবোধক বিশেষ্য
  4. বহুবচন
ব্যাখ্যা
• কোনো কোনো সময় টা, টি, খানা, খানি ইত্যাদি যোগ করে বিশেষ্যের একবচন নির্দেশ করা হয়।
যেমন-
গরুটা, বাছুরটা, কলমটা, খাতাখানা, বইখানি ইত্যাদি।

বাংলায় বহুবচন প্রকাশের জন্যরা, এরা, গুলা, গুলি, গুলো, দিগ, দের প্রভৃতি বিভক্তি যুক্ত হয় এবং সব, সকল, সমুদয়, কূল, বৃন্দ, বর্গ, নিচয়, রাজি, রাশি, পাল, দাম, নিকর, মালা, আবলি প্রভৃতি সমষ্টিবোধক শব্দ ব্যবহৃত হয়। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)
.
বাংলা ভাষার প্রথম ব্যাকরণ কে লিখেন?
  1. ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
  2. ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ
  3. স্যার জর্জ গ্রিয়ারসন
  4. মনোএল দ্য আসসুম্পসাঁও
ব্যাখ্যা
• মনোএল দা আসসুম্পসাঁউ সর্বপ্রথম বাংলা ভাষার ব্যাকরণ রচনা করেন।
- তাঁর রচিত ব্যাকরণ `Vocabulario Em Idioma Bengalla, E Portuguez : Dividido em duas partes.'
- অর্থাৎ বাংলা ও পর্তুগিজ ভাষার শব্দকোষ: দুই ভাগে বিভক্ত। ব্যাকরণ টি প্রকাশিত হয় ১৭৪৩ খ্রিষ্টাব্দে। তখন ছাপার জন্য বাংলা অক্ষর তৈরি হয়নি বলে বইটি রোমান অক্ষরে মুদ্রিত হয়।

• নাথানিয়েল ব্যাসি হ্যালহেড ১৭৭৮ খ্রিষ্টাব্দে হুগলি থেকে ইংরেজি ভাষায় বাংলা ভাষার প্রথম ব্যাকরণ গ্রন্থ (A Grammar of the Bangla Language) প্রকাশ করেন।

• বাংলা ভাষায় প্রকাশিত প্রথম বাংলা ব্যাকরণ রেভারেন্ড জেমস্ কিথের ‘বঙ্গভাষার ব্যাকরণ’। এটি ১৮২০ খ্রিষ্টাব্দে প্রকাশিত হয়।

- বাঙালিদের মধ্যে রাজা রামমোহন রায়ই সর্বপ্রথম ১৮২৬ খ্রিষ্টাব্দে বাংলা ভাষার ব্যাকরণ রচনা করেন।
- তাঁর মৃত্যর পর ১৮৩৩ খ্রিষ্টাব্দে এর বাংলা অনুবাদ ‘গৌড়ীয় ব্যাকরণ’ প্রকাশিত হয়।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১০.
'ডাক্তার' - শব্দটি কোন লিঙ্গ?
  1. পুং লিঙ্গ
  2. স্ত্রী লিঙ্গ
  3. ক্লীব লিঙ্গ
  4. উভয় লিঙ্গ
ব্যাখ্যা
• 'ডাক্তার' - উভয় লিঙ্গবাচক শব্দ ।

• লিঙ্গ:
- ‘লিঙ্গ’ শব্দের অর্থ চিহ্ন।
- এটি সংস্কৃত শব্দ এবং এর ব্যুৎপত্তি হলো - লিঙ্গ + অ = লিঙ্গ।
- লিঙ্গ শব্দের ভিন্ন অর্থ থাকলেও ব্যাকরণে এটি শব্দের শ্রেণীবিশেষ বোঝাতে ব্যবহৃত হয়।
- যে সকল শব্দ দ্বারা বিশেষ্য ও সর্বনাম পদের মধ্যে পুরুষ, স্ত্রী বা ভিন্ন জাতি বোঝায়, তাকে লিঙ্গ বলে।
- বাংলা ব্যাকরণে লিঙ্গকে চার ভাগে ভাগ করা হয়েছে। যথা:

১. পুং লিঙ্গ:
- যে সব নামবাচক শব্দের সাহায্যে পুরুষজাতিকে বোঝায়, তাদেরকে বলা হয় পুংলিঙ্গ।
যেমন- কাকা, চাচা, ছেলে, বালক, নানা, বাবা, গোয়ালা, কিশোর, প্রবীণ ইত্যাদি।

২. স্ত্রী লিঙ্গ:
- যে সব নামবাচক শব্দের সাহায্যে স্ত্রীজাতিকে বোঝায়, সেসব শব্দকে স্ত্রীলিঙ্গ বলে।
যেমন- কাকী, মামী, চাচী, মা, আম্মা, কিশোরী, প্রবীণা ইত্যাদি।

৩. ক্লীব লিঙ্গ:
- যে সব শব্দের সাহায্যে পুরুষ ও স্ত্রীজাতি কোনোটিই বোঝায় না, সেসব শব্দকে বলা হয় ক্লীবলিঙ্গ।
যেমন- গাছ, পাহাড়, পর্বত, বই, টেবিল, ফুল, ফল, চেয়ার ইত্যাদি।

ঘ) উভয় লিঙ্গ:
- যে সব শব্দের সাহায্যে স্ত্রী ও পুরুষজাতি উভয়ই বোঝায়, তাকে বলা হয় উভয়লিঙ্গ।
যেমন- শিল্পী, ডাক্তার, শিশু, মানুষ, কবি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা দ্বিতীয় পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১১.
'ইচ্ছা' - এর বিশেষণ কোনটি?
  1. ঐচ্ছিক
  2. ইচ্ছুক
  3. ইচ্ছাময়
  4. ইচ্ছাশীল
ব্যাখ্যা
• ইচ্ছা (বিশেষ্য পদ),
অর্থ:
- অভিলাষ; স্পৃহা; বাসনা।
- রুচি; প্রবৃত্তি (খাওয়ার ইচ্ছা নাই)।
- অভিপ্রায় (খোদার ইচ্ছায় সব হয়)।

অন্যদিকে,
• ইচ্ছুক (বিশেষণ পদ),
অর্থ:
- অভিলাষী;
- বাসনাযুক্ত
- রাজি;
- সম্মত।

• ঐচ্ছিক ( বিশেষণ পদ),
অর্থ:
- ইচ্ছানুরূপ,
- ইচ্ছানুযায়ী,
- ইচ্ছাধীন।

- ঐচ্ছিক এবং ইচ্ছুক দুটিই বিশেষণ পদ।
- কিন্তু এখানে ইচ্ছা- কোন ব্যক্তিকে নির্দেশ করছে না, বরং একটি বিমূর্ত ধারণা প্রকাশ করছে। তাই এর বিশেষণ হিসেবেও এমন শব্দ চয়ন করা উচিত যেটা কোন ব্যক্তিকে নির্দেশ না করে একটি বিমূর্ত ধারণাকে প্রকাশ করবে।

• ইচ্ছুক - সাধারণত ব্যক্তিকেই নির্দেশ করে।
• ঐচ্ছিক - বিমূর্ত ধারণা প্রকাশ করে।

সুতরাং, ‘ইচ্ছা’ শব্দের সর্বাধিক গ্রহণযোগ্য বিশেষণর পদ হচ্ছে- ঐচ্ছিক।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১২.
"পাহাড়" - শব্দটি কোন লিঙ্গের অন্তর্গত?
  1. পুংলিঙ্গ
  2. ক্লীবলিঙ্গ
  3. স্ত্রীলিঙ্গ
  4. উভয়লিঙ্গ
ব্যাখ্যা
• 'পাহাড়' - ক্লীব লিঙ্গ।

• লিঙ্গ:
- ‘লিঙ্গ’ শব্দের অর্থ চিহ্ন।
- এটি সংস্কৃত শব্দ এবং এর ব্যুৎপত্তি হলো লিঙ্গ+অ = লিঙ্গ।
- লিঙ্গ শব্দের ভিন্ন অর্থ থাকলেও ব্যাকরণে এটি শব্দের শ্রেণীবিশেষ বোঝাতে ব্যবহৃত হয়।
- যে সকল শব্দ দ্বারা বিশেষ্য ও সর্বনাম পদের মধ্যে পুরুষ, স্ত্রী বা ভিন্ন জাতি বোঝায়, তাকে লিঙ্গ বলে।
- বাংলা ব্যাকরণে লিঙ্গকে চার ভাগে ভাগ করা হয়েছে। যথা:

১. পুং লিঙ্গ:
- যে সব নামবাচক শব্দের সাহায্যে পুরুষজাতিকে বোঝায়, তাদেরকে বলা হয় পুংলিঙ্গ।
যেমন- কাকা, চাচা, ছেলে, বালক, নানা, বাবা, গোয়ালা, কিশোর, প্রবীণ ইত্যাদি।

২. স্ত্রী লিঙ্গ:
- যে সব নামবাচক শব্দের সাহায্যে স্ত্রীজাতিকে বোঝায়, সেসব শব্দকে স্ত্রীলিঙ্গ বলে।
যেমন- কাকী, মামী, চাচী, মা, আম্মা, কিশোরী, প্রবীণা ইত্যাদি।

৩. ক্লীব লিঙ্গ:
- যে সব শব্দের সাহায্যে পুরুষ ও স্ত্রীজাতি কোনোটিই বোঝায় না, সেসব শব্দকে বলা হয় ক্লীবলিঙ্গ।
যেমন- গাছ, পাহাড়, পর্বত, বই, টেবিল, ফুল, ফল, চেয়ার ইত্যাদি।

ঘ) উভয় লিঙ্গ:
- যে সব শব্দের সাহায্যে স্ত্রী ও পুরুষজাতি উভয়ই বোঝায়, তাকে বলা হয় উভয়লিঙ্গ।
যেমন- শিল্পী, ডাক্তার, শিশু, মানুষ, কবি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা দ্বিতীয় পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৩.
নিচের কোন বাক্যে একবচন ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. ছেলেরা মাঠে খেলছে।
  2. তারা বই পড়ছে।
  3. গাছগুলো কাটা হয়েছে।
  4. শিক্ষক পড়াচ্ছেন।
ব্যাখ্যা
• বচন:
- ‘বচন' ব্যাকরণের একটি পারিভাষিক শব্দ।
- এর অর্থ সংখ্যার ধারণা।
- ব্যাকরণে বিশেষ্য বা সর্বনামের সংখ্যাগত ধারণা প্রকাশের উপায়কে বলে বচন।
- বাংলা ভাষায় বচন দুই প্রকার : একবচন ও বহুবচন ।
 
• একবচন:
যে শব্দ দ্বারা কোনো প্রাণী, বস্তু বা ব্যক্তির একটিমাত্র সংখ্যার ধারণা হয়, তাকে একবচন বলে।
- যেমন- বইটা কোথায় হারিয়ে গেল? 
- শিক্ষক পড়াচ্ছেন। 
- ডাক্তার রুগী দেখছেন। 

• বহুবচন:
যে শব্দ দ্বারা কোনো প্রাণী, বস্তু বা ব্যক্তির একের অধিক অর্থাৎ বহু সংখ্যার ধারণা হয়, তাকে বহু বচন বলে।
যেমন :
- তারা গেল।
- ছেলেরা মাঠে খেলছে।
- তারা বই পড়ছে।
- গাছগুলো কাটা হয়েছে।
- মেয়েরা এখনও আসেনি।
- মানুষ মরণশীল।
- লোকে বলে।
- বনে বাঘ বাস করে।   

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)। 
১৪.
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর রচিত ব্যাকরণ গ্রন্থ কোনটি?
  1. ব্যাকরণ মঞ্জুরী
  2. বাঙ্গালা ব্যাকরণ
  3. ব্যাকরণ কৌমুদী
  4. ভাষা প্রকাশ বাঙ্গালা ব্যাকরণ
ব্যাখ্যা
• ব্যাকরণ কৌমুদী:
- 'ব্যাকরণ কৌমুদী' ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর রচিত ব্যাকরণ গ্রন্থ।
- তিনি মোট চারটি খণ্ডে গ্রন্থটি রচনা করেন।
- প্রথম ও দ্বিতীয় খণ্ড প্রকাশিত হয় ১৮৫৩ সালে, তৃতীয় খণ্ড প্রকাশিত হয় ১৮৫৪ সালে এবং চতুর্থ খণ্ড প্রকাশিত হয় ১৮৬২ সালে।
- ‘ব্যাকরণ কৌমুদী’ গ্রন্থটি ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর বিখ্যাত বৈয়াকরণিক পাণিনির অষ্টাধ্যায়ী নামক সংস্কৃত ব্যাকরণ থেকে অনুবাদ করেন। 

আরো উল্লেখযোগ্য কিছু ব্যাকরণ গ্রন্থ রচয়িতা:
• 'ব্যাকরণ মঞ্জুরী' এর লেখক - ড. মুহম্মদ এনামুল হক।
• 'ব্যাকরণ কৌমুদী' এর লেখক - ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর।
• 'বাঙ্গালা ব্যাকরণ' এর রচয়িতা-ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ। 
• "ভাষা প্রকাশ বাঙ্গালা ব্যাকরণ" - গ্রন্থের রচয়িতা ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়।
• ১৯০০ সালে হৃষিকেশ শাস্ত্রী রচিত ব্যাকরণ গ্রন্থ: 'বাঙ্গালা ব্যাকরণ'।
• ড. সুকুমার সেন - 'ভাষার ইতিবৃত্ত' (১৯৩৯)।
• বাংলা একাডেমি সংক্ষিপ্ত বাংলা অভিধান - আহমদ শরীফ। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১৫.
"লোকটি দরিদ্র্য কিন্তু সৎ।" - এ বাক্যে ‘কিন্তু’ হলো -
  1. সংযোজক অব্যয়
  2. সংকোচক অব্যয়
  3. বিয়োজক অব্যয়
  4. অনুকার অব্যয়
ব্যাখ্যা
সমুচ্চয়ী অব্যয় : যে অব্যয় পদ একটি বাক্যের সঙ্গে অন্য একটি বাক্যের অথবা বাক্যস্থিত একটি পদের সঙ্গে অন্য একটি পদের সংযোজন, বিয়োজন এবং সংকোচন ঘটায় তাকে সমুচ্চয়ী অব্যয় বলে।

সমুচ্চয়ী অব্যয় তিন প্রকার।
যথা- 

সংকোচক অব্যয়: 
- তিনি বিদ্বান, অথচ সৎ ব্যক্তি নন। বাক্যে ‘অথচ’ সংকোচক অব্যয়।
- কিন্তু, বরং শব্দগুলোও সংকোচক অব্যয়।
- "লোকটি দরিদ্র্য কিন্তু সৎ।" - এ বাক্যে ‘কিন্তু’ হলো - সংকোচক অব্যয়।

অন্যদিকে,
বিয়োজক অব্যয়: 
- মন্ত্রের সাধন কিংবা শরীর পাতন। এখানে ''কিংবা'' বিয়োজক' অব্যয়। 
এরকম- কিংবা, বা, অথবা, নতুবা, না হয়, নয়তো, ইত্যাদি।

সংযোজক অব্যয়: 
ক. উচ্চপদ ও সামাজিক মর্যাদা সকলেই চায়। বাক্যে ‘ও’ সংযোজক অব্যয়।
খ. তিনি সৎ, তাই তাঁকে সকলেই শ্রদ্ধা করে। বাক্যে ‘তাই’ সংযোজক অব্যয়।
তাছাড়া আর, অধিকন্তু, সুতরাং সংযোজক অব্যয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১৬.
কোনটি চলিত রীতির শব্দ?
  1. সেই
  2. মস্তক
  3. কিছুক্ষণ
  4. ইচ্ছা
ব্যাখ্যা
• চলিত রীতির শব্দ- 'কিছুক্ষণ'। এর সাধুরূপ - কিয়ৎক্ষণ।

অন্যান্য অপশনগুলো:
গ) সেই - এটি সাধু রীতির শব্দ।
- চলিত রীতিতে: "সে"।

খ) মস্তক - এটি সাধু রীতির শব্দ।
- চলিত রীতিতে: "মাথা"।

ঘ) ইচ্ছা - এটি সাধু রীতির শব্দ।
চলিত রীতিতে: "ইচ্ছে"।
 
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১৭.
নিত্য পুরুষবাচক শব্দ কোনটি?
  1. অধ্যাপক
  2. বাদশা
  3. মহীয়ান
  4. জল্লাদ
ব্যাখ্যা
• নিত্য পুরুষবাচক শব্দ - জল্লাদ।

অন্যদিকে,
• 'অধ্যাপক' এর স্ত্রীবাচক শব্দ- অধ্যাপিকা।
• 'মহীয়ান' এর স্ত্রীবাচক শব্দ- মহীয়সী।
• 'বাদশা'- এর স্ত্রীবাচক শব্দ- বেগম।

--------------------
• নিত্য পুরুষবাচক শব্দ: 
কিছু শব্দ আছে তা কেবল পুরুষকে নির্দেশ করে এদেরকে নিত্য পুরুষবাচক শব্দ বলে।
যেমন: গুন্ডা, জল্লাদ, লম্পট, পুরোহিত, কবিরাজ, কৃতদার, অকৃতদার, ঢাকী ইত্যাদি।

• নিত্য স্ত্রীবাচক শব্দ:
আবার কিছু শব্দ আছে যা কেবল স্ত্রীবাচক, এদের পুরুষবাচক শব্দ নেই, এদেরকে নিত্য স্ত্রীবাচক শব্দ বলে
যেমন: সতীন, সৎমা, সধবা, এয়ো, দাই, অসতী, গর্ববতী ইত্যাদি।  

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ),
১৮.
অকর্মক ক্রিয়ার উদাহরণ কোনটি?
  1. স্বপন চিঠি লিখছে।
  2. আমি সেখানে যাব না।
  3. ছেলেরা মাঠে ফুটবল খেলছে।
  4. ছেলেটি কথা শোনে।
ব্যাখ্যা
• অকর্মক ক্রিয়া:
- বাক্যে ক্রিয়ার কোনো কর্ম না থাকলে সেই ক্রিয়াকে অকর্মক ক্রিয়া বলে।

যেমন - 
- যেমন সে ঘুমায়। 
- এই বাক্যে কোনো কৰ্ম নেই। 
আবার,
আমি সেখানে যাব না। - কী বা ‘কাকে’ দ্বারা প্রশ্ন করলে কোনো উত্তর হয় না। কাজেই ‘যাব’ ক্রিয়াটি অকর্মক ক্রিয়া।

সকর্মক ক্রিয়া:
বাক্যের মধ্যে ক্রিয়ার কর্ম থাকলে সেই ক্রিয়াকে সকর্মক ক্রিয়া বলে।
যেমন -
- নাছরিন খেলা করছে।
এই বাক্যে 'করছে' হলো সকর্মক ক্রিয়া। 'খেলা' হলো 'করছে' ক্রিয়ার কর্ম।

তেমনিভাবে,
স্বপন চিঠি লিখছে।
কাঞ্চন বই পড়ছে।
ছেলেরা মাঠে ফুটবল খেলছে
রহিম বই পড়ে।
ছেলেটি কথা শোনে।
মেয়েটি গান গাচ্ছে।

সূত্র: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১৯.
নিচের কোন জোড়াটি "পতী-পত্নীবাচক" শব্দের উদাহরণ?
  1. শিক্ষক–শিক্ষিকা
  2. খোকা–খুকি
  3. পিতা–মাতা
  4. নেতা–নেত্রী
ব্যাখ্যা
• সাধারণ নারীবাচক শব্দ দুই ধরনের।
যথা- 
• পত্নীবাচক:
- স্বামী-স্ত্রী সম্পর্ক বোঝালে পত্নীবাচক হয়।
যেমন – পিতা-মাতা, চাচা-চাচি, দাদা-দাদি, জেলে-জেলেনি, গুরু-গুরুপত্নী ইত্যাদি।

• অপত্নীবাচক:
- স্বামী-স্ত্রী সম্পর্ক না বোঝালে অপত্নীবাচক হয়। যেমন: খোকা-খুকি, ছাত্র-ছাত্রী, শিক্ষক-শিক্ষিকা, নেতা-নেত্রী, পাগল-পাগলি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
২০.
কোনটি সাধু রীতির শব্দ?
  1. চেয়ে
  2. তথাপি
  3. গিন্নি
  4. তারা
ব্যাখ্যা
• সঠিক উত্তর- খ) তথাপি।

ব্যাখ্যা:
চলিত রীতি হলো আধুনিক বাংলা ভাষার স্বাভাবিক কথ্য রূপ যা সাধারণত লেখায় ব্যবহৃত হয়।

"তথাপি" - সাধু রীতির শব্দ:
- চলিত রীতিতে এর রূপ "তবুও"।

অন্যান্য অপশনগুলো:
ক) চেয়ে - এটি চলিত রীতির শব্দ।
সাধু রীতিতে: "অপেক্ষা"।

খ) গিন্নি - এটি চলিত রীতির শব্দ।
- সাধু রীতিতে: "গৃহিণী"।

গ) তাহারা - এটি সাধু রীতির শব্দ।
- চলিত রীতিতে: "তারা"।
 
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২১.
ব্যক্তিবাচক সর্বনাম কোনটি?
  1. নিজে
  2. আমরা
  3. ইহারা
  4. ইনি
ব্যাখ্যা
• সর্বনাম:
বিশেষ্যের পরিবর্তে ব্যবহৃত শব্দকে সর্বনাম শব্দ বলে।
যেমন - নজরুল ভালো ছেলে। সে নিয়মিত স্কুলে যায়।
দ্বিতিয় বাক্যের ‘সে’ প্রথম বাক্যের ‘নজরুল’- এর পরিবর্তে বসেছে।
- বিশেষ্য শব্দের মতো সর্বনাম শব্দের সঙ্গেও বিভক্তি, নির্দেশক, বচন প্রভৃতি যুক্ত হয়।

• ব্যক্তিবাচক সর্বনাম:
- ব্যক্তিবাচক সর্বনাম ব্যক্তিনামের পরিবর্তে বসে।
- এই সর্বনাম তিন ধরনের। যথা:
→ বক্তা পক্ষের সর্বনাম: আমি, আমরা, আমাকে, আমাদের ইত্যদি।
→ শ্রোতা পক্ষের সর্বনাম: তুমি, তোমরা, তুই, তোরা, আপনি, আপনারা, তোমাকে, তোকে, আপনাকে ইত্যাদি।
→ অন্য পক্ষের সর্বনাম: সে, তারা, তিনি, তাঁরা, এ, এরা, ওর, ওদের ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• আত্মবাচক সর্বনাম - নিজে , স্বয়ং।
• সামীপ্যবাচক সর্বনাম - ইহারা, ইনি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।