পরীক্ষা আর্কাইভ

প্রাইমারি ডেইলি কুইজ

পরীক্ষাপ্রাইমারি ডেইলি কুইজতারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়07 minutes
মোট প্রশ্ন১৮
সিলেবাস
পরীক্ষা - ৫৮: বিষয়: বাংলা টপিক: বাক্য প্রকরণ, বাক্য রূপান্তর। উৎস: মাধ্যমিক ব্যাকরণ বই (উভয় সংস্করণ), বাংলা একাডেমি অভিধান, ভাষা শিক্ষা - ড. হায়াৎ মামুদ বা যেকোনো ভালো গাইড বই।
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

প্রাইমারি ডেইলি কুইজ

প্রাইমারি ডেইলি কুইজ · তারিখ অনির্ধারিত · ১৮ প্রশ্ন

.
"এক ঘণ্টা পর বাস এলো।" - এ বাক্যটির যৌগিক রূপ কোনটি?
  1. যখন এক ঘণ্টা পার হলো তখন বাস এলো।
  2. এক ঘণ্টা অতিক্রান্ত হলো, তারপর বাস এলো।
  3. বাস এলো এবং এক ঘণ্টা পার হলো।
  4. বাস আসতে আসতে এক ঘণ্টা পার হলো।
ব্যাখ্যা
• সরল বাক্যকে যৌগিক বাক্যে রূপান্তর:
- যৌগিক বাক্যে একাধিক সমাপিকা ক্রিয়ার প্রয়োজন হয়।
- এজন্য সরলবাক্যকে যৌগিক বাক্য করতে হলে সরল বাক্যের মাঝখানের অসমাপিকা ক্রিয়াকে সমাপিকা ক্রিয়া রূপান্তর করতে হয়।
- সরল বাক্যে একটি মাত্র ক্রিয়া থাকলে যৌগিক বাক্য গঠনের সময়ে আরেকটি ক্রিয়া তৈরি করে নিতে হয়।
- সরল বাক্যকে যৌগিক বাক্যে পরিণত করতে হলে সরল বাক্যের কোন অংশকে নিরপেক্ষ বাক্যে রূপান্তর করতে হয়।

যেমন:
- সরল বাক্য: এক ঘণ্টা পর বাস এলো।।
- যৌগিক বাক্য: এক ঘণ্টা অতিক্রান্ত হলো, তারপর বাস এলো।।

- সরল বাক্য: পরিশ্রম করলে ফল পাবে।
- যৌগিক বাক্য: পরিশ্রম কর তবেই ফল পাবে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
.
সে পরিশ্রমী হলেও নির্বোধ।- বাক্যটির যৌগিক রূপ-
  1. যদিও সে পরিশ্রমী, তবুও সে নির্বোধ।
  2. সে পরিশ্রমী, কিন্তু নির্বোধ।
  3. সে পরিশ্রমী হলেও, তিনি নির্বোধ।
  4. যেহেতু সে পরিশ্রমী সেহেতু সে নির্বোধ।
ব্যাখ্যা
• সরল বাক্য:
- যে বাক্যে একটি মাত্র কর্তা (উদ্দেশ্য) এবং একটি মাত্র সমাপিকা ক্রিয়া (বিধেয়) থাকে, তাকে সরল বাক্য বলে।

• সরল বাক্যকে যৌগিক বাক্যে রূপান্তর:
- যৌগিক বাক্যে একাধিক সমাপিকা ক্রিয়ার প্রয়োজন হয়।
- এজন্য সরলবাক্যকে যৌগিক বাক্য করতে হলে সরল বাক্যের মাঝখানের অসমাপিকা ক্রিয়াকে সমাপিকা ক্রিয়া রূপান্তর করতে হয়।
- সরল বাক্যে একটি মাত্র ক্রিয়া থাকলে যৌগিক বাক্য গঠনের সময়ে আরেকটি ক্রিয়া তৈরি করে নিতে হয়।
- সরল বাক্যকে যৌগিক বাক্যে পরিণত করতে হলে সরল বাক্যের কোন অংশকে নিরপেক্ষ বাক্যে রূপান্তর করতে হয়।

• সরল বাক্য: সে পরিশ্রমী হলেও নির্বোধ।
• যৌগিক বাক্য: সে পরিশ্রমী বটে, কিন্তু নির্বোধ।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ ও বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
.
'যে অন্ধ তাকে আলো দাও।'- এর সরল রূপ কোনটি?
  1. সে অন্ধ হওয়ায় তাকে আলো দাও।
  2. সে অন্ধ তাই তাকে আলো দাও।
  3. অন্ধকে আলো দাও।
  4. আলো দাও যদি সে অন্ধ হয়।
ব্যাখ্যা
• 'যে অন্ধ তাকে আলো দাও।'- এর সরল রূপ অন্ধকে আলো দাও। 

• জটিল বাক্য থেকে সরল বাক্যে রূপান্তর:
জটিল বাক্য থেকে সরল বাক্যে রূপান্তর করতে হলে বাক্যের মৌলিক অর্থ বা মূল অর্থ অপরিবর্তিত রেখে নিচের সাধারণ সূত্রগুলো অবলম্বন করতে হবে-
সূত্র: বাক্য পরিবর্তিত হলেও মৌলিক অর্থ অপরিবর্তিত থাকবে।
যেমন:
- জটিল: 'ইহারা যেরূপ, এরূপ রূপবতী রমণী আমার অন্তঃপুরে নাই।'
- সরল: 'ইহাদের ন্যায় রূপবতী রমণী আমার অন্তঃপুরে নাই।'

সূত্র:  প্রধান খণ্ডবাক্যকে পরিবর্তন না করে অপ্রধান খণ্ডবাক্যের সমাপিকা ক্রিয়াকে অসমাপিকা ক্রিয়ায় রূপান্তর করা। যেমন:
- জটিল: 'যদি কার্যে ক্ষতি না হয়, তথায় গিয়া অতিথি সৎকার করুন।
- সরল: 'কার্যে ক্ষতি না হইলে তথায় গিয়া অতিথি সৎকার করুন।'

সূত্র: কৃৎ ও তদ্ধিত প্রত্যয়ের প্রয়োগে কিংবা সমাস নিষ্পন্নের দ্বারা সংকুচিত করে পুরো বাক্যটাকে একটি উদ্দেশ্য (কর্তা) ও একটিমাত্র বিধেয় (সমাপিকা) ক্রিয়ায় রূপান্তর করা।
যেমন:
- জটিল : 'পিছন হইতে জেলেদের যে অস্পষ্ট কথাবার্তা, তাহা কানে আসিতে লাগিল।'
- সরল: পিছন হইতে জেলেদের অস্পষ্ট কথাবার্তা কানে আসিতে লাগিল।

সূত্র: ঘ। জটিল বাক্যের সাপেক্ষ সর্বনাম কিংবা সাপেক্ষ যোজক লোপ পায়। যেমন:
জটিল: যদি নাও পড়ি পাশ করব।
সরল: না পড়েও পাশ করব।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
.
'আর ভয় নেই।' বাক্যটিকে অনুজ্ঞাবাচক বাক্যে রূপান্তর করুন-
  1. আরো ভয় কর।
  2. আর ভয় আসবে না।
  3. আর ভয় করো না।
  4. আর ভয় করলে কী হবে?
ব্যাখ্যা
• নির্দেশাত্মক বাক্য থেকে অনুজ্ঞাবাচক বাক্যে রূপান্তর:
নির্দেশাত্মক বাক্য থেকে অনুজ্ঞাবাচক বাক্যে রূপান্তর: নির্দেশাত্মক বাক্য থেকে অনুজ্ঞাবাচক বাক্যে রূপান্তর করতে হলে মৌলিক অর্থ বা মূল অর্থ অপরিবর্তিত রেখে নিচের সাধারণ সূত্রগুলো অবলম্বন করতে হবে:
সূত্র: ক। বাক্যের কর্তা সাধারণত মধ্যম পুরুষের হবে। তবে অনেক সময় না থাকতে পারে।
সূত্র: খ। ক্রিয়াপদের ব্যবহার কর্তা অনুযায়ী হবে।
সূত্র: গ। নির্দেশাত্মক বাক্যের মূল ধাতুটিকে অনুজ্ঞাবাচক ক্রিয়ারূপে পরিণত করতে হয়।
যেমন:
- নির্দেশাত্মক : দেশের সেবা করা কর্তব্য।
- অনুজ্ঞাবাচক: দেশের সেবা করবে।
- নির্দেশাত্মক : ভুলগুলো এখনই সংশোধন করতে বলছি।
-  অনুজ্ঞাবাচক: ভুলগুলো এখনই সংশোধন কর।
- নির্দেশাত্মক: আর ভয় নেই।
- অনুজ্ঞাবাচক: আর ভয় করো না।
- নির্দেশাত্মক : আমাদের পালিয়ে যেতে হবে। অনুজ্ঞাবাচক: চল আমরা পালাই।
- নির্দেশাত্মক: জননী ও জন্মভূমি স্বর্গ হতেও বড়।
- অনুজ্ঞাবাচক: জননী ও জন্মভূমিকে স্বর্গ হতেও বড় মনে কর।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
.
'যে ছেলেটি এখানে এসেছিল, সে আমার ভাই।" কোন ধরনের বাক্যের দৃষ্টান্ত?
  1. জটিল বাক্য
  2. সরল বাক্য
  3. যৌগিক বাক্য
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
• জটিল বাক্য:
একটি মূল বাক্যের অধীনে এক বা একাধিক আশ্রিত বাক্য বা বাক্যাংশ থাকলে জটিল বাক্য তৈরি হয়।
যেমন:
- যদি তোমার কিছু বলার থাকে, তবে এখনই বলে ফেলো।

• যে-সে, যিনি-তিনি, যারা-তারা, যা-তা ইত্যাদি সাপেক্ষ সর্বনাম এবং যদি-তবে, যেহেতু-সেহেতু, যখন- তখন, যত-তত, যেমন-তেমন ইত্যাদি সাপেক্ষ যােজক যুক্ত করে সরল বাক্যকে জটিল বাক্যে রূপান্তরিত করা যায়।
যেমন:
- যদি তোর ডাক শুনে কেউ না আসে তবে একলা চলো রে।
- যদি কাব্য ম্যাজিক হয়, তবে সমালোচনা লজিক হতে বাধ্য।
- যদি তোমার কিছু বলার থাকে, তবে এখনই বলে ফেলো।
- যে ছেলেটি এখানে এসেছিল, সে আমার ভাই।
- যখন তিনি ভাত খাওয়া শেষ করলেন, তখন তিনি ঘুমিয়ে গেলেন।
- যাদের বুদ্ধি নেই, তারাই একথা বিশ্বাস করবে।
- যে সকল পশু মাংস ভোজন করে তারা অত্যন্ত বলবান।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি।
.
'তাঁর সম্মন্ধে জানা দরকার।' এটিকে প্রশ্নাত্মক বাক্যে রূপান্তর করুন-
  1. তাঁর সম্মন্ধে জানার কি দরকার?
  2. তাঁর সম্মন্ধে জানা দরকার কি?
  3. তাঁর সম্মন্ধে জানা দরকার নয় কি?
  4. তাঁর সম্মন্ধে জানা অদরকার নয় কি?
ব্যাখ্যা
• অস্তিবাচক বাক্য থেকে প্রশ্নাত্মক বাক্যে রূপান্তর:
- অস্তিবাচক বাক্য থেকে প্রশ্নাত্মক বাক্যে রূপান্তর:
- অস্তিবাচকবাক্য থেকে প্রশ্নাত্মক বাক্যে রূপান্তর করতে মৌলিক অর্থ বা মূল অর্থ অপরিবর্তিত রেখে নিচের সাধারণ সূত্রগুলো অবলম্বন করতে হবে:

- সূত্র: ক। কর্তার পর সাধারণত প্রশ্নবাচক অব্যয় ব্যবহার করতে হবে।
- সূত্র: খ। ক্রিয়াপদের পর 'না' অব্যয়ের প্রয়োগ করতে হবে।
- সূত্র: গ। বাক্য শেষে প্রশ্নবোধক জিজ্ঞাসা-চিহ্ন থাকবে।
যেমন:
- অস্তিবাচক: তাঁর সম্মন্ধে জানা দরকার।
- প্রশ্নাত্মক: তাঁর সম্মন্ধে জানা দরকার নয় কি?

- অস্তিবাচক: বাংলাদেশের রাজধানীর নাম কি তা জানতে চাই।
- প্রশ্নাত্মক: বাংলাদেশের রাজধানীর নাম জানতে পারি কি?

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
.
'তুমি অধম বলে আমি উত্তম হব না কেন?' কোন ধরনের বাক্য?
  1. জটিল বাক্য
  2. সরল বাক্য
  3. যৌগিক বাক্য
  4. মিশ্র বাক্য
ব্যাখ্যা
• সরল বাক্য:
- যে বাক্যে একটি মাত্র কর্তা (উদ্দেশ্য) এবং একটি মাত্র সমাপিকা ক্রিয়া (বিধেয়) থাকে, তাকে সরল বাক্য বলে।
যেমন:
- পুকুরে পদ্মফুল জন্মে।
- তুমি অধম বলে আমি উত্তম হব না কেন?
- দুর্জন লোক পরিত্যাজ্য।
- চুল পাকলেও তার বুদ্ধি পাকেনি।
- পরিশ্রমী লোকই সাফল্য লাভ করে।
- দারদ্র্য হলেও তিনি সুখী।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
.
'বিপদে ধৈর্য ধর।'- এই বাক্যের নির্দেশাত্মক রূপ কোনটি?
  1. বিপদে ধৈর্য ধরা উচিত নয় কী?
  2. বিপদে ধৈর্য ধরা উচিত।
  3. বিপদে ধৈর্য ধারণ করো।
  4. বিপদ আসলে ধৈর্য ধারণ করো।
ব্যাখ্যা
'বিপদে ধৈর্য ধর।'- এই বাক্যের নির্দেশাত্মক রূপ- বিপদে ধৈর্য ধরা উচিত।

অনুজ্ঞাবাচক বাক্য থেকে নির্দেশাত্মক বাক্যে রূপান্তর:

⇒ সূত্র: অনুজ্ঞাবাচক বাক্য থেকে নির্দেশাত্মক বাক্যে রূপান্তর করতে হলে মৌলিক অর্থ বা মূল অর্থ অপরিবর্তিত রেখে অনুজ্ঞাবাচক ক্রিয়াপদের অন্তর্গত মূল ধাতুর সঙ্গে অসমাপিকা ক্রিয়াবিভক্তি (-ইয়া। -এ, ইতে। -তে, ইলে। লে) বা কৃৎ-প্রত্যয় যোগ করে ক্রিয়াবাচক বিশেষ্য বা বিশেষণ পদ গঠন করতে হয় এবং অনুজ্ঞার ভাবকে দিতে হয়  নির্দেশাত্মক ভাবের পরিণতি। যেমন:
- অনুজ্ঞাবাচক: দরজা খোল।
- নির্দেশাত্মক তোমায় দরজা খুলতে বলছি।
- অনুজ্ঞাবাচক: খবরদার, আর এক পাও এগিয়ো না।
- নির্দেশাত্মক আর এক পাও অগ্রসর না হতে সাবধান করে দিচ্ছি।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
.
নিচের কোনটি যৌগিক বাক্য?
  1. যারা সৎ তারা সুখী।
  2. সে চাকুরী পেয়েছে, তাই আমরা আনন্দিত হয়েছি।
  3. দারদ্র্য হলেও তিনি সুখী।
  4. আমার যে গেঞ্জিটি হারিয়েছিল সেটি ফিরে পেয়েছি।
ব্যাখ্যা
• সে চাকুরী পেয়েছে, তাই আমরা আনন্দিত হয়েছি। একটি যৌগিক বাক্য।

• যৌগিক বাক্য:

দুই বা ততোধিক স্বাধীন বাক্য যখন যোজকের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে একটি বাক্যে পরিণত হয়, তখন তাকে যৌগিক বাক্য বলে।

- এবং, ও, আর, অথবা, বা, কিংবা, কিন্তু, অথচ, সেজন্য, ফলে ইত্যাদি যোজক যৌগিক বাক্যে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। কমা (,), সেমিকোলন (;), কোলন (:), ড্যাশ (−) ইত্যাদি যতিচিহ্নও যোজকের কাজ করে।

যেমন:
- হামিদ বই পড়ছে, আর সীমা রান্না করছে।
- সে ভালো ফল করেছে তাই আমরা আনন্দিত হয়েছি।
- সে ঘর ঝাড়ু দিল, ঘর মুছল, তারপর পড়তে বসল ন

অন্যদিকে,
- যারা সৎ তারা সুখী।- এটি একটি সরল বাক্য।
- সে চাকুরী পেয়েছে, তাই আমরা আনন্দিত হয়েছি।- এটি একটি সরল বাক্য।
- আমার যে গেঞ্জিটি হারিয়েছিল সেটি ফিরে পেয়েছি।- এটি একটি জটিল বাক্য।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১০.
'কষ্ট না করলে কেষ্ট মেলে না।' কোন ধরনের বাক্য?
  1. কার্যকারণাত্মক বাক্য
  2. সন্দেহদ্যোতক বাক্য
  3. ইচ্ছা বা প্রার্থনাসূচক বাক্য
  4. অনুজ্ঞা বা আদেশসূচক বাক্য
ব্যাখ্যা
• কার্যকারণাত্মক বাক্য:
- যদি কোনো বাক্যে ক্রিয়া নিষ্পত্তি কোনো বিশেষ শর্তের অধীনে এমন বোঝায়, তাহলে তাকে কার্যকারণাত্মক বাক্য বলে।
এই ধরনের বাক্যের অন্য নাম শর্তসূচক, শর্তসাপেক্ষ বাক্য।
যেমন:
- কষ্ট না করলে কেষ্ট মেলে না (শর্ত)।
- মন দিয়ে না পড়লে পাশ করা যায় না। (নিয়ম)।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১১.
‘সৎ ব্যক্তি বলে সকলে তাকে সম্মান করে।’- বাক্যটির জটিল রূপ কোনটি?
  1. সে সৎ ব্যক্তি বলেই সকলে তাকে সম্মান করে।
  2. লোকটি সৎ এবং সকলে তাকে সম্মান করে।
  3. যেহেতু সে সৎ ব্যক্তি তাই সকলে তাকে সম্মান করে।
  4. লোকটি সৎ তাই সকলে তাকে সম্মান করে।
ব্যাখ্যা
‘সৎ ব্যক্তি বলে সকলে তাকে সম্মান করে।’- বাক্যটির জটিল রূপ - যেহেতু সে সৎ ব্যক্তি, তাই সকলে তাকে সম্মান করে।

• সরল বাক্যকে যৌগিক বাক্যে রূপান্তর:

সরল বাক্যকে যৌগিক বাক্যে পরিণত করতে হলে সরল বাক্যের কোনো অংশকে নিরপেক্ষ বাক্যে রূপান্তর করতে হয়। এবং যথাসম্ভব সংযোজক বা বিয়োজক অব্যয়ের প্রয়োগ করতে হয়। যেমন-
১. সরল বাক্য: তিনি আমাকে পাঁচ টাকা দিয়ে বাড়ি যেতে বললেন।
যৌগিক বাক্য: তিনি আমাকে পাঁচটি টাকা দিলেন এবং বাড়ি যেতে বললেন।

২. সরল বাক্য: পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার জন্য এখন থেকেই তোমার পড়া উচিত।
যৌগিক বাক্য: এখন থেকেই তোমার পড়া উচিত, তবেই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারবে।

৩. সরল বাক্য: আমি বহু কষ্টে শিক্ষা লাভ করেছি।
যৌগিক বাক্য: আমি বহু কষ্ট করেছি, ফলে শিক্ষা লাভ করেছি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
১২.
'ছন্দে ছন্দে দুলি আনন্দে, আমি বনফুল গো।' কোন ধরনের বাক্য?
  1. অনুজ্ঞা বা আদেশসূচক বাক্য
  2. সন্দেহদ্যোতক বাক্য
  3. বিস্ময় বা আবেগসূচক বাক্য
  4. ইচ্ছা বা প্রার্থনাসূচক বাক্য
ব্যাখ্যা
• বিস্ময় বা আবেগসূচক বাক্য:
- যে বাক্যে বিস্ময়, হর্ষ, শোক, ঘৃণা, ক্রোধ, ভয় ইত্যাদি ভাব প্রকাশ পায় ডাকে আবেগসূচক বাক্য বলে।
যথা:
- বিস্ময়: কী সাংঘাতিক লোক।
- হর্ষ : ছন্দে ছন্দে দুলি আনন্দে, আমি বনফুল গো। হুররে, আমরা জিতেছি।
- ঘৃণা শোক : : ছিঃ ছিঃ। অমন কথা মুখে আনলে কী করে? ছিঃ ছিঃ! তোমার এই কাজ। তুমি এত নীচ।
- ক্রোধ: হায় হায়। কী যন্ত্রণায় যে পড়েছি। আহা। গাছ থেকে পড়ে পা ভেঙেছে। এত বড় স্পর্ধা। মুখের ওপর কথা বলে। আমি তোমাকে দেখে নেব।
- ভয় : ওরে বাবা রে, খেয়ে ফেলল রে!
- আবেগ: বাহ। সুন্দর লিখেছ তো। আদর বড্ড শুকিয়ে গেছিস রে।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৩.
গঠন অনুসারে বাক্য কয় ভাগে ভাগ করা যায়?
  1. দুই ভাগে
  2. তিন ভাগে
  3. চার ভাগে
  4. পাঁচ ভাগে
ব্যাখ্যা
• গঠন অনুসারে বাক্যকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়।

• সরল বাক্য:
যে বাক্যে একটি সমাপিকা ক্রিয়া থাকে, তাকে সরল বাক্য বলে।
যেমন:
- পাখিগুলো নীল আকাশে উড়ছে।

• জটিল বাক্য:
একটি মূল বাক্যের অধীনে এক বা একাধিক আশ্রিত বাক্য বা বাক্যাংশ থাকলে জটিল বাক্য তৈরি হয়।

যে-সে, যারা-তারা, যিনি-তিনি, যাঁরা-তাঁরা, যা-তা প্রভৃতি সাপেক্ষ সর্বনাম এবং যদি-তবে, যদিও-তবু, যেহেতু-সেহেতু, যত-তত, যেটুকু-সেটুকু, যেমন-তেমন, যখন-তখন প্রভৃতি সাপেক্ষ যোজক দিয়ে যখন অধীন বাক্যগুলো যুক্ত থাকে, তাকে জটিল বাক্য বলে।
যেমন:
- যে ছেলেটি এখানে এসেছিল. সে আমার ভাই ।

• যৌগিক বাক্য:
দুই বা ততোধিক স্বাধীন বাক্য যখন যোজকের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে একটি বাক্যে পরিণত হয়, তখন তাকে যৌগিক বাক্য বলে।
এবং, ও, আর, অথবা, বা, কিংবা, কিন্তু, অথচ, সেজন্য, ফলে ইত্যাদি যোজক যৌগিক বাক্যে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। কমা (,), সেমিকোলন (;), কোলন (:), ড্যাশ (−) ইত্যাদি যতিচিহ্নও যোজকের কাজ করে।
যেমন:
- হামিদ বই পড়ছে, আর সীমা রান্না করছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২৪-সংস্করণ)।
১৪.
'দোষ করেছ অতএব শাস্তি পাবে।' এর জটিল রূপ কোনটি?
  1. যেহেতু তুমি দোষ করেছ, সেহেতু তুমি শাস্তি পাবে।
  2. তুমি দোষ কর, তাহলে শাস্তি পাবে।
  3. দোষ করলে শাস্তি পাবে।
  4. দোষ করেছে, তাই সে শাস্তি পাবে।
ব্যাখ্যা
'দোষ করেছ অতএব শাস্তি পাবে।' এর জটিল রূপ- 'যেহেতু তুমি দোষ করেছ, সেহেতু তুমি শাস্তি পাবে।'

যৌগিক-বাক্য থেকে মিশ্র বা জটিল বাক্যে রূপান্তর:

যৌগিক বাক্য থেকে মিশ্র বা জটিল বাক্যে রূপান্তর করছে হলে মৌলিক অর্থ বা মূল অর্থ অপরিবর্তিত রেখে নিচের সাধারণ সূত্রগুলো অবলম্বন করতে হবে-
সূত্র: ক। যৌগিক বাক্যে ব্যবহৃত যোজক বাদ দিতে হবে।
সূত্র: খ। নিরপেক্ষ খণ্ডবাক্যগুলোর মধ্যে একটিকে প্রধান রেখে অন্যান্য নিরপেক্ষ খণ্ডবাক্যকে অপ্রধান খণ্ডবাক্যে পরিণত করতে হবে।
সূত্র : গ। যৌগিক বাক্যের অন্তর্গত স্বনির্ভর বা স্বাধীন খণ্ডবাক্যগুলোর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ স্বনির্ভর খণ্ডবাক্যটি জটিলবাক্যে প্রধান খন্ড বাক্য হয় এবং অপর স্বনির্ভর খণ্ডবাক্য অপ্রধান খন্ডবাক্যে পরিণত হয়।
সূত্র: ঘ। সাপেক্ষবাচক সর্বনাম বা নিত্যসম্বন্ধীয় অব্যয় ব্যবহার করে বাক্যের অর্থ ও সমতা অক্ষুণ্ণ রাখতে হবে।

কতিপয় দৃষ্টান্ত:
যৌগিক: বেলা যায়, কিন্তু গন্তব্যের খোঁজ নেই এখনো।
জটিল: যদিও বেলা যায়, তবু গন্তব্যের খোঁজ নেই এখনো।
যৌগিক: মনোযোগ দিয়ে পড়, তবে পাশ করতে পারবে।
জটিল: যদি মনোযোগ দিয়ে পড়, তবে পাশ করতে পারবে।
যৌগিক: তোমার কথা রসাল বটে, কিন্তু তাতে মন ভরে না।
জটিল: যদিও তোমার কথা রসাল, তবু তাতে মন ভরে না।
যৌগিক: ছেলেরা আনন্দিত হলো এবং দ্রুতবেগে চলে গেল।
জটিল: ছেলেরা যখন আনন্দিত হলো, তখন দ্রুতবেগে চলে গেল।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৫.
'অত উঁচু পাহাড়ে উঠে আমি তাে ভয়েই মরি!' কোন ধরনের বাক্য?
  1. বিবৃতিবাচক বাক্য
  2. আবেগবাচক বাক্য
  3. অনুজ্ঞাবাচক বাক্য
  4. প্রশ্নবাচক বাক্য
ব্যাখ্যা
• আবেগবাচক বাক্য: 
- কোনাে কিছু দেখে বা শুনে অবাক হয়ে যে ধরনের বাক্য তৈরি হয়, তাকে আবেগবাচক বাক্য বলে।
যেমন-
- দারুণ! আমরা জিতে গিয়েছি।
- অত উঁচু পাহাড়ে উঠে আমি তাে ভয়েই মরি!
- দৃশ্যটি কী দারুণ!
- আহা! দৃশ্যটি ভুলবার নয়।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৬.
জটিল বাক্য কোনটি বসে?
  1. বিশেষ্য স্থানীয় আশ্রিত বাক্য
  2. বিশেষণ স্থানীয় আশ্রিত বাক্য
  3. ক্রিয়াবিশেষণ স্থানীয় আশ্রিত বাক্য
  4. উপরেরর সবগুলো
ব্যাখ্যা
• জটিল বা মিশ্র বাক্য (complex sentence):
- যে বাক্যে প্রধান খণ্ডবাক্যের অধীন এক বা একের বেশি অপ্রধান খণ্ডবাক্য থাকে বা একটি প্রধান খণ্ডবাক্যের এক বা একাধিক আশ্রিত বাক্য পরস্পর সাপেক্ষভাবে ব্যবহৃত হয়, তাকে জটিল বা মিশ্র বাক্য বলে।
যেমন: যিনি পরের উপকার করেন (আশ্রিত বাক্য), তাঁকে সবাই শ্রদ্ধা করে (খণ্ডবাক্য)।

• জটিল বাক্যে- ক. বিশেষ্য স্থানীয়, খ. বিশেষণ স্থানীয়, গ. ক্রিয়াবিশেষণ ও বিশেষণীয় বিশেষণস্থানীয় আশ্রিত বাক্য বসে।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৭.
‘যদিও তাঁর টাকা আছে, তথাপি তিনি দান করেন না’- বাক্যটির যৌগিক রূপ কোনটি?
  1. তাঁর টাকা আছে এবং তিনি দান করেন না
  2. তাঁর টাকা আছে, কিন্তু তিনি দান করেন না।
  3. তাঁর টাকা থাকলেও তিনি দান করেন না।
  4. টাকা থাকা সত্ত্বেও তিনি দান করেন না।
ব্যাখ্যা
• মিশ্রবাক্যকে যৌগিক বাক্যে রূপান্তর:
মিশ্র বাক্যকে যৌগিক বাক্যে পরিবর্তন করতে হলে খণ্ডবাক্যগুলোকে এক একটি স্বাধীন বাক্যে পরিবর্তন করে তাদের মধ্যে সংযোজক অব্যয়ের ব্যবহার করতে হয়। যেমন-
(১) মিশ্র বাক্য: যদি সে কাল আসে, তাহলে আমি যাব।
যৌগিক বাক্য: সে কাল আসবে এবং আমি যাব।
(২) মিশ্র বাক্য: যখন বিপদ আসে, তখন দুঃখও আসে।
যৌগিক বাক্য: বিপদ এবং দুঃখ এক সময়ে আসে।
(৩) মিশ্র বাক্য: যদিও তাঁর টাকা আছে, তথাপি তিনি দান করেন না।
যৌগিক বাক্য: তাঁর টাকা আছে, কিন্তু তিনি দান করেন না

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
১৮.
নির্দেশাত্মক বাক্যের অপর নাম কী?
  1. কার্যকারণাত্মক বাক্য
  2. অনুজ্ঞা বাক্য
  3. প্রার্থনাসূচক বাক্য
  4. বর্ণনাত্মক বাক্য
ব্যাখ্যা
• বিবৃতিমূলক বা বর্ণনাত্মক বা নির্দেশাত্মক বাক্য:
- যে বাক্যে কোনো বক্তব্য সাধারণভাবে বিবৃত বা নির্দেশ করা হয় তাকে বর্ণনাত্মক বাক্য বলে।
- একে নির্দেশমূলক, নির্দেশসূচক, নির্দেশাত্মক, বিবৃতিমূলক বাক্যও বলা হয়।
- যেমন:
- সূর্য পূর্বদিকে ওঠে।
- সে রোজ এখানে আসে।
- সে এখন আর আবৃত্তি করে না। 
- নির্দেশাত্মক বাক্যকে, ক. অস্তিবাচক ও খ. নেতিবাচক-এই দুভাগে ভাগ করা হয়েছে।
- প্রকৃতপক্ষে, অর্থানুসারে শ্রেণিভুক্ত সাত প্রকারের বাক্যকে সামগ্রিকভাবে দুটি মৌল শ্রেণিতে ভাগ করা যায়;
- সে দুটি হলো -অস্তিবাচক ও নেতিবাচক বাক্য।
- কেননা প্রতিটি শ্রেণিতেই আছে বক্তব্যের প্রতিষ্ঠাকে স্বীকৃতি ও অস্বীকৃতির দুটি দিক।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।