পরীক্ষা আর্কাইভ

১৪তম - ২০তম গ্রেড পরীক্ষার প্রস্তুতি

পরীক্ষা১৪তম - ২০তম গ্রেড পরীক্ষার প্রস্তুতিতারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়09 minutes
মোট প্রশ্ন১৮
সিলেবাস
[নির্দেশিকা: এই রুটিনে সারাবছর জুড়ে পরীক্ষা চলমান থাকে। আপনি আজ ১ম পরীক্ষা দেওয়া শুরু করলে ২৪০ দিনের মধ্যে পুরো সিলেবাস সম্পন্ন হবে।] বিষয়: বাংলা (ব্যাকরণ) টপিক: ১. ধ্বনি ও বর্ণ, ২. ধ্বনি পরিবর্তন, ৩. বর্ণের উচ্চারণ
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

১৪তম - ২০তম গ্রেড পরীক্ষার প্রস্তুতি

১৪তম - ২০তম গ্রেড পরীক্ষার প্রস্তুতি · তারিখ অনির্ধারিত · ১৮ প্রশ্ন

.
পূর্ণমাত্রার বর্ণ নয় কোনটি?
  1. ত্র
সঠিক উত্তর:
ত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ত্র
ব্যাখ্যা
• পূর্ণমাত্রার বর্ণ নয়- ত্র। 
- 'এ' বর্ণে  ত-য়ে র-ফলা যুক্ত হয়ে (ত্র) যুক্ত-ব্যঞ্জনবর্ণ গঠন হয়েছে। 

--------------
• বর্ণের মাত্রা:

স্বরবর্ণ বা ব্যঞ্জনবর্ণের মাথায় সোজা দাগ থাকলেই সেটাকে মাত্রা বলে। যেমন: এ কিংবা ও অক্ষরের ওপরে মাত্রা থাকে না। মাত্রা দেওয়া মাত্রই-'এ' আর 'ও' সম্পূর্ণ ভিন্ন হরফে রূপান্তরিত হয়ে যায়: মাত্রাসহ 'এ' হয়ে যায় ত-য়ে র-ফলা (ত্র); আর মাত্রাসহ 'ও' হয়ে যায় ত-য়ে-ত (ও)। এ-দুটো হরফই (এ, ও) তখন আর স্বরবর্ণ থাকে না, হয়ে যায় যুক্ত-ব্যঞ্জনবর্ণ।

• পূর্ণমাত্রার বর্ণ ৩২টি। 
যথা: অ, আ, ই, ঈ, উ, উ, ক, ঘ, চ, ছ, জ, ঝ, ট, ঠ, ড, ঢ, ত, দ. ন, ফ, ব, ভ, ম, য, র, ল, ষ, স, হ, ড়, ঢ়, য়।

• অর্ধমাত্রার বর্ণ ৮টি। যথা: ঋ, খ, গ, ণ, থ, ধ, প, শ।
• মাত্রাহীন বর্ণ ১০টি। যথা: এ, ঐ, ও, ঔ, ঙ, ঞ, ৎ, ং, ঃ। 

উৎস: ভাষা-শিক্ষা ড. হায়াৎ মামুদ।
.
বাংলা ভাষায় স্বরধ্বনির সংখ্যা কয়টি?
  1. ৪টি
  2. ৭টি
  3. ১০টি
  4. ১১টি
সঠিক উত্তর:
৭টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৭টি
ব্যাখ্যা
• স্বরধ্বনি:
যে ধ্বনি, অন্য ধ্বনির সাহায্য ছাড়াই অবাধে উচ্চারিত হতে পারে, এবং যাকে আশ্রয় করে অন্য ধ্বনি প্রকাশিত হয় তাকে বলা হয় স্বরধ্বনি। যেমন: অ, আ, ই, উ ইত্যাদি।

• বাংলা মান্য চলিত ভাষায় স্বরধ্বনি আছে সাতটি। এগুলো হলো- অ, আ, ই, উ, এ, অ্যা, ও।
- যেহেতু এই স্বরধ্বনিগুলো বাংলায় শব্দের অর্থপার্থক্য ঘটাতে সক্ষম তাই এগুলো বাংলার স্বরধ্বনিমূল বা স্বর স্বনিম।

কথা বলার সময় আমরা যে কেবল সাতটি স্বরধ্বনিই উচ্চারণ করি তা নয়। এই ধ্বনিগুলোর কাছাকাছি আরো অনেক স্বরধ্বনি আমরা উচ্চারণ করি। তবে পরীক্ষা করে দেখা গেছে যে, কথা বলার সময় আমরা যত রকম উচ্চারণই করি না কেন, সেগুলোর প্রত্যেকটিই এই সাতটির কোনো-না-কোনোটির উচ্চারণ বৈচিত্র্য হিসেবে গ্রাহ্য।

বাংলা ভাষায় স্বরধ্বনির সংখ্যা সাতটি হলেও এর বর্ণমালায় এখন স্বরবর্ণের সংখ্যা এগারোটি। এগুলো হলো: অ, আ, ই, ঈ, উ, ঊ, ঋ, এ, ঐ, ও, ঔ। 

উৎস: ভাষা-শিক্ষা ড. হায়াৎ মামুদ।
.
কোনটি মধ্য স্বরাগমের উদাহরণ?
  1. দিশ্ > দিশা
  2. বেঞ্চ > বেঞ্চি
  3. স্কুল > ইস্কুল
  4. শ্লোক > শোলোক
সঠিক উত্তর:
শ্লোক > শোলোক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শ্লোক > শোলোক
ব্যাখ্যা
• আদি স্বরাগম (Prothesis):
উচ্চারণের সুবিধার জন্য বা অন্য কোনো কারণে শব্দের আদিতে স্বরধ্বনি এলে তাকে বলে আদি স্বরাগম (Prothesis)।
যেমন:
- স্কুল > ইস্কুল,
- স্টেশন > ইস্টিশন।

এরূপ- আস্তাবল, আস্পর্ধা।

• মধ্য স্বরাগম, বিপ্রকর্ষ বা স্বরভক্তি (Anaptyxis):
সময় সময় উচ্চারণের সুবিধার জন্য সংযুক্ত ব্যঞ্জন-ধ্বনির মাঝখানে স্বরধ্বনি আসে। একে বলা হয় মধ্য স্বরাগম বা বিপ্রকর্ষ বা স্বরভক্তি।
যেমন:
অ - রত্ন > রতন, ধর্ম > ধরম, স্বপ্ন > স্বপন, হর্ষ > হরষ ইত্যাদি।
ই - প্রীতি > পিরীতি, ক্লিপ > কিলিপ, ফিল্ম > ফিলিম ইত্যাদি।
উ - মুক্তা > মুকুতা, তুর্ক > তুরুক, ভ্রূ > ভুরু ইত্যাদি।
এ - গ্রাম > গেরাম, প্রেক > পেরেক, স্রেফ > সেরেফ ইত্যাদি।
ও - শ্লোক > শোলোক, মুরগ > মুরোগ > মোরগ ইত্যাদি।

৩. অন্ত্যস্বরাগম (Apothesis):
কোনো কোনো সময় শব্দের শেষে অতিরিক্ত স্বরধ্বনি আসে। এরূপ স্বরাগমকে বলা হয় অন্ত্যস্বরাগম।
যেমন:
- দিশ্ > দিশা,
- পোখত্ > পোক্ত,
- বেঞ্চ > বেঞ্চি,
- সত্য > সত্যি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
.
বাংলায় কয় ধরনের স্বরধ্বনি ব্যবহৃত হয়?
  1. দুই
  2. তিন
  3. চার
  4. পাঁচ
সঠিক উত্তর:
দুই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দুই
ব্যাখ্যা
- বাংলায় দু ধরনের স্বরধ্বনি ব্যবহৃত হয়- মৌখিক / মৌলিক (oral) ও অনুনাসিক (nasalized) স্বরধ্বনি। মৌখিক স্বরধ্বনি সাতটিরই অনুনাসিক রূপ আছে।

• অনুনাসিক স্বরধ্বনি:
- স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময় বাতাস বাধাহীনভাবে একই সঙ্গে মুখ ও নাক দিয়ে বেরিয়ে এলে যেরকম ধ্বনি হয় তাকে বলা হয় অনুনাসিক বা সানুনাসিক স্বরধ্বনি। যেমন: আঁ, আঁ, ই, উ, এ, অ্যাঁ, ওঁ (অঁ-পঁয়ত্রিশ, আঁ- হাঁস, অ্যাঁ-স্যাঁতসেঁতে)।
- যেহেতু অনুনাসিক স্বরধ্বনিগুলো (আঁ, আঁ, ই, উ, এঁ, অ্যাঁ, ওঁ) বাংলায় তাদের মূল স্বরধ্বনির সঙ্গে শব্দের অর্থপার্থক্য ঘটাতে সক্ষম তাই এগুলো বাংলার অনুনাসিক স্বরধ্বনিমূল (nasalized vowel phoneme) বা অনুনাসিক স্বরস্বনিম।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা ড. হায়াৎ মামুদ।
.
অপিনিহিতি ধ্বনি পরিবর্তনের উদাহরণ নয় কোনটি?
  1. সাধু > সাউধ
  2. বিলাতি > বিলিতি
  3. সত্য > সইত্য
  4. রাখিয়া > রাইখ্যা
সঠিক উত্তর:
বিলাতি > বিলিতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিলাতি > বিলিতি
ব্যাখ্যা
• অপিনিহিতি (Apenthesis):
পরের ই-কার আগে উচ্চারিত হলে কিংবা যুক্ত ব্যঞ্জনধ্বনির আগে ই-কার বা উ-কার উচ্চারিত হলে তাকে অপিনিহিতি বলে।
যেমন:
- আজি > আইজ,
- সাধু > সাউধ,
- রাখিয়া > রাইখ্যা,
- বাক্য > বাইক্য,
- সত্য > সইত্য,
- চারি > চাইর,
- মারি > মাইর ইত্যাদি।

• স্বরসঙ্গতি (Vowel harmony):
একটি স্বরধ্বনির প্রভাবে শব্দে অপর স্বরের পরিবর্তন ঘটলে তাকে স্বরসঙ্গতি বলে।
যেমন:
- দেশি > দিশি,
- বিলাতি > বিলিতি,
- মুলা > মুলো ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
.
কার বর্ণ নয় কোনটি ?
  1. ঔ-কার
  2. ঋ-কার
  3. অ-কার
  4. ঊ -কার
সঠিক উত্তর:
অ-কার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অ-কার
ব্যাখ্যা
• কার বর্ণ নয় - অ-কার। 

স্বরবর্ণ ও স্বরবর্ণের সংক্ষিপ্ত রূপ:

- স্বরধ্বনির লিখিত প্রতীক বা চিহ্নকে বলে স্বরবর্ণ। রাংলা স্বরবর্ণ ১১টি- অ, আ, ই, ঈ, উ, ঊ, ঋ, এ, ঐ, ও, ঔ।
- স্বরবর্ণের লিখিত রূপ দুটি:
১. পূর্ণরূপ,
২. সংক্ষিপ্তরূপ বা কার। 

• স্বরবর্ণের পূর্ণরূপ:
স্বরবর্ণ যখন স্বাধীনভাবে ব‍্যবহৃত হয়, তখন এর পূর্ণরূপ লেখা হয়। স্বরবর্ণের পূর্ণরূপ শব্দের শুরুতে, মাঝে, শেষে-তিন অবস্থানেই থাকতে পারে। যেমন: শব্দের শুরুতে-  অনেক, আকাশ, ইলিশ, উকিল, ঋণ, এক। শব্দের মধ্যে-  বেদুইন, বাউল, আউশ, পাউরুটি। শব্দের শেষে-  বই, বউ, যাও, সেমাই, জামাই।

• স্বরবর্ণের সংক্ষিপ্তরূপ বা কারবর্ণ:
অ-ভিন্ন স্বরবর্ণগুলো ব্যঞ্জনবর্ণের সঙ্গে সংযুক্ত হলে পূর্ণরূপের বদলে সংক্ষিপ্ত রূপ পরিগ্রহ করে। স্বরবর্ণের এ ধরনের সংক্ষিপ্তরূপকে 'কার' বলে। স্বরবর্ণের 'কার'-চিহ্ন ১০টি।
যথা:
• আ-কার (া): মা, বাবা, ঢাকা।
• ই-কার (ি) কিনি, চিনি, মিনি।
• ঈ-কার (ী): শশী, সীমানা, রীতি।
• উ-কার (ু): কুকুর, পুকুর, দুপুর।
• ঊ -কার (ূ): ভূত, মূল্য, সূচি।
• ঋ-কার (ৃ): কৃষক, তৃণ, পৃথিবী।
• এ-কার (ে): চেয়ার, টেবিল, মেয়ে।
• ঐ-কার ( ৈ): তৈরি, বৈরী, হৈচৈ।
• ও-কার (াে): খোকা, পোকা, বোকা।
• ঔ-কার (ৗে): নৌকা, মৌসুমি, পৌষ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা ড. হায়াৎ মামুদ।
.
'সুবর্ণ > স্বর্ণ' কোন ধরেনের ধ্বনি পরিবর্তনের উদাহরণ?
  1. বিষমীভবন
  2. ধ্বনি বিপর্যয়
  3. সম্প্রকর্ষ
  4. স্বরসঙ্গতি
সঠিক উত্তর:
সম্প্রকর্ষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সম্প্রকর্ষ
ব্যাখ্যা
• সম্প্রকর্ষ বা স্বরলোপ:
দ্রুত উচ্চারণের জন্য শব্দের আদি, অন্ত্য বা মধ্যবর্তী কোনো স্বরধ্বনির লোপকে বলা হয় সম্প্রকর্ষ।
যেমন: বসতি > বস্তি, জানালা > জালা ইত্যাদি।

• আদিস্বরলোপ (Aphesis): যেমন- অলাবু > লাবু > লাউ, উদ্ধার > উধার > ধার।
মধ্যস্বর লোপ (Syncope): অগুরু > অগ্নু, সুবর্ণ > স্বর্ণ।
• অন্ত্যস্বর লোপ (Apocope): আশা > আশ, আজি > আজ, চারি > চার (বাংলা), সন্ধ্যা > সঞঝা > সাঁঝ।(স্বরলোপ বস্তুত স্বরাগমের বিপরীত প্রক্রিয়া)।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
.
নিচের কোন ব্যঞ্জনবর্ণের নিজেস্ব কোনো ধ্বনি নেই?
সঠিক উত্তর:
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যাখ্যা
ব্যঞ্জনধ্বনির লিখিত প্রতীক বা চিহ্নকে বলে ব্যঞ্জনবর্ণ। বাংলা বর্ণমালায় ৩৯টি ব্যঞ্জনবর্ণ রয়েছে। বাংলা ব্যঞ্জনধ্বনির সঙ্গে ব্যঞ্জনবর্ণের তুলনা করলে দেখা যায় যে, সব ব্যঞ্জন বর্ণের স্বনিম রূপ বাংলা উচ্চারণে নেই। যেমন- ঞ, ণ, য়, য,ঃ ইত্যাদির স্বনিম বা ধ্বনিমূল উচ্চারণে অনুপস্থিত। এগুলো হয় বাংলার অন্যান্য ধ্বনির সঙ্গে মিশে গেছে, না- হয় উচ্চারিত হয় না।

কিছু ব্যঞ্জনবর্ণের নিজেস্ব কোনো ধ্বনি নেই, সেগুলো হলো: ঞ, ণ, ক্ষ, ঢ়, য়, য, স, ৎ, ং, ঃ,'। এগুলো কোনো ধ্বনি প্রকাশ করে না।

• ঞ-এর উচ্চারণ কখনো আঁ যেমন-মিঞ (মিয়ো), মিঞা (মিয়া); কখনো দন্তমূলীয় ন্ ধ্বনির মতো, যেমন-ব্যঞ্জন (ব্যান্‌জোন), লাঞ্ছনা (লাছোনা)।
• ন এবং ণ-এর উচ্চারণে কোনো পার্থক্য নেই। যেমন- বান (বন্যা), বাণ (তীর)।
• ষ এবং স-এর উচ্চারণ শ এর মতো। যেমন- সবিশেষ (শবিশেশ)।
• ত এবং ৎ-এর উচ্চারণও অভিন্ন। যেমন- সত, সৎ।
• ঙ, ং-এর উচ্চারণ একই। যেমন: ব্যাঙ, ব্যাং।

• বিসর্গ (ঃ) এবং চন্দ্রবিন্দু (ঁ) স্বতন্ত্র বর্ণ নয়; এগুলো ধ্বনি প্রকাশের বা উচ্চারণ নির্দেশের অণুচিহ্ন। আরবিতে যেমন হরকত আছে এগুলো তেমনি। বিসর্গের (ঃ) সাহায্যে ধ্বনির দ্বিত্ব উচ্চারণ বোঝায়। যেমন-'অতঃপর' (অতোপ্‌পর), প্রাতঃরাশ (প্রাতোর্‌রাশ। চন্দ্রবিন্দুর সাহায্যে স্বরের অনুনাসিকতা বোঝায়। যেমন- আ > আঁ, ই > ই।

• ঢ়-এর উচ্চারণ বাংলায় নেই।
য় অর্ধস্বর এ এর মতো উচ্চারিত হয়।
• য এর উচ্চারণ জ-এর মতো।

 অন্যদিকে, 
ব, ম, র বর্ণের নিজেস্ব ধ্বনি আছে। 

উৎস: ভাষা-শিক্ষা ড. হায়াৎ মামুদ।
.
প্রগত সমীভবনের উদাহরণ নয় কোনটি?
  1. চক্র > চক্ক
  2. লগ্ন > লগ্গ
  3. পক্ব   > পক্ক
  4. সত্য > সচ্চ
সঠিক উত্তর:
সত্য > সচ্চ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সত্য > সচ্চ
ব্যাখ্যা
• সমীভবন (Assimilation):
শব্দমধ্যস্থ দুটি ভিন্ন ধ্বনি একে অপরের প্রভাবে অল্প-বিস্তর সমতা লাভ করে। এ ব্যাপারকে বলা হয় সমীভবন। যেমন- জন্ম > জন্ম, কাঁদনা > কান্না ইত্যাদি।

• প্রগত সমীভবন:
পূর্ব ধ্বনির প্রভাবে পরবর্তী ধ্বনির পরিবর্তন ঘটে। অর্থাৎ পরবর্তী ধ্বনি পূর্ববর্তী ধ্বনির মতো হয়, একে বলে প্রগত সমীভবন।
যেমন:
- চক্র > চক্ক,
- পক্ব   > পক্ক,
- পদ্ম > পদ্দ,
- লগ্ন > লগ্গ  ইত্যাদি।

• পরাগত সমীভবন:
পরবর্তী ধ্বনির প্রভাবে পূর্ববর্তী ধ্বনির পরিবর্তন হয়, একে বলে পরাগত সমীভবন।
যেমন:
- তৎ + জন্য > তজ্জন্য,
- তৎ + হিত > তদ্ধিত,
- উৎ + মুখ > উন্মুখ ইত্যাদি।

• অন্যোন্য সমীভবন:
যখন পরস্পরের প্রভাবে দুটো ধ্বনিই পরিবর্তিত হয় তখন তাকে বলে অন্যোন্য সমীভবন।
যেমন:
- সত্য > সচ্চ,
- বিদ্যা > বিজ্জা ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
১০.
র-কার লোপ ধ্বনি পরিবর্তনের উদাহারণ নয় কোনটি?
  1. মারল > মাল্ল
  2. তর্ক > তক্ক
  3. করলাম > কল্লাম
  4. সকাল > সক্কাল
সঠিক উত্তর:
সকাল > সক্কাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সকাল > সক্কাল
ব্যাখ্যা
• র-কার লোপ:
আধুনিক চলিত বাংলায় অনেক ক্ষেত্রে র-কার লোপ পায় এবং পরবর্তী ব্যঞ্জন দ্বিত্ব হয়।
যেমন:
- তর্ক > তক্ক,
- করতে > কত্তে,
- মারল > মাল্ল,
- করলাম > কল্লাম।

অন্যদিকে, 
• দ্বিত্ব ব্যঞ্জন বা ব্যঞ্জনদ্বিত্বা:
কখনো কখনো জোর দেয়ার জন্য শব্দের অন্তর্গত ব্যঞ্জনের দ্বিত্ব উচ্চারণ হয়, একে বলে দ্বিত্ব ব্যঞ্জন বা ব্যঞ্জনদ্বিত্বা।
যেমন:
- পাকা > পাক্কা,
- সকাল > সক্কাল ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
১১.
নিচের কোনটি ঘর্ষণজাত ধ্বনি?
সঠিক উত্তর:
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যাখ্যা
• ঘর্ষণজাত ধ্বনি বা শিসধ্বনি বা উষ্মধ্বনি:
এ জাতীয় বাগ্‌ধ্বনি উচ্চারণে বাগ্‌যন্ত্র দুটি খুব কাছাকাছি আসে, কিন্তু একসঙ্গে যুক্ত না হওয়ায় একটি প্রায়-বন্ধ অবস্থার সৃষ্টি হয়। এর ফলে ফুসফুস আগত বাতাস বাধা পায় ও সংকীর্ণ পথে বের হওয়ার সময় ঘর্ষণের সৃষ্টি করে। বাতাসের ঘর্ষণের ফলে উচ্চারিত হয় বলে এগুলোকে ঘর্ষণজাত (fricatives) ধ্বনি বলে। এ জাতীয় ধ্বনিগুলোর এই ঘর্ষণকে শিস দেওয়ার আওয়াজের সঙ্গে সাদৃশ্য ভেবে এগুলোকে শিসধ্বনি বলে। এ ধ্বনিগুলোকে উষ্মধ্বনিও বলে।

• ঘর্ষণজাত ব্যঞ্জন দুইটি- শ এবং হ। দাশ, হাট শব্দের উচ্চারণ এ জাতীয়। উচ্চারণস্থান অনুযায়ী ঘর্ষণজাত ধ্বনিগুলোকে এভাবে দেখানো যায়: পশ্চাৎ দন্তমূলীয়- শ; কণ্ঠনালীয়- হ্।

অন্যদিকে,
• ম, ন নাসিক্য ধ্বনি। 
• 'ল' পার্শ্বিক ধ্বনি। 

উৎস: ভাষা-শিক্ষা ড. হায়াৎ মামুদ।
১২.
কোনটি বিষমীভবন ধ্বনি পরিবর্তনের উদাহরণ?
  1. পিশাচ > পিচাশ
  2. লাল > নাল
  3. লাফ > ফাল
  4. বাক্স > বাস্ক
সঠিক উত্তর:
লাল > নাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লাল > নাল
ব্যাখ্যা
• বিষমীভবন (Dissimilation): দুটো সমবর্ণের একটির পরিবর্তনকে বিষমীভবন বলে।
যেমন:
- শরীর > শরীল,
- লাল > নাল ইত্যাদি।

অন্যদিকে, 
• ধ্বনি বিপর্যয়:
শব্দের মধ্যে দুটি ব্যঞ্জনের পরস্পর পরিবর্তন ঘটলে তাকে ধ্বনি বিপর্যয় বলে।
যেমন:
- বাক্স > বাস্ক,
- রিক্সা > রিস্কা ইত্যাদি।

অনুরূপ-  পিশাচ > পিচাশ, লাফ > ফাল।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
১৩.
চ-বর্গীয় ধ্বনির উচ্চারণ স্থান কোনটি?
  1. ওষ্ঠ্য
  2. দন্ত্য
  3. তালব্য
  4. কণ্ঠ্য
সঠিক উত্তর:
তালব্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তালব্য
ব্যাখ্যা
ব্যঞ্জনধ্বনির উচ্চারণ:
• ক-বর্গীয় ধ্বনি:
ক, খ,গ, ঘ, ঙ- এ পাঁচটি বর্ণে দ্যোতিত ধ্বনির উচ্চারণ জিহ্বার গোড়ার দিকে নরম তালুর পশ্চাৎ ভাগ স্পর্শ করে। এগুলো জিহ্বামূলীয় বা কণ্ঠ্য স্পর্শধ্বনি।

• চ-বর্গীয় ধ্বনি: চ, ছ, জ, ঝ, ঞ-এ পাঁচটি বর্ণে দ্যোতিত ধ্বনির উচ্চারণে জিহ্বার অগ্রভাগ চ্যাপটাভাবে তালুর সম্মুখ ভাগের সঙ্গে ঘর্ষণ করে। এদের বলা হয় তালব্য স্পর্শধ্বনি।

• ট-বর্গীয় ধ্বনি: ট, ঠ, ড, ঢ, ণ, এ পাঁচটি বর্ণে দ্যোতিত ধ্বনির উচ্চারণে জিহ্বার অগ্রভাগ কিঞ্চিৎ উল্টিয়ে ওপরের মাড়ির গোড়ার শক্ত অংশকে স্পর্শ করে। এগুলোর উচ্চারণে জিহ্বা উল্টা হয় বলে এদের নাম দন্তমূলীয় প্রতিবেষ্টিত ধ্বনি। আবার এগুলো ওপরের মাড়ির গোড়ার শক্ত অংশ অর্থাৎ মূর্ধায় স্পর্শ করে উচ্চারিত হয় বলে এদের বলা হয় মূর্ধন্য ধ্বনি।

• ত-বর্গীয় ধ্বনি: ত, থ, দ, ধ, ন- এ পাঁচটি বর্ণে দ্যোতিত ধ্বনির উচ্চারণে জিহ্বা সম্মুখে প্রসারিত হয় এবং অগ্রভাগ ওপরের দাঁতের পাটির গোড়ার দিকে স্পর্শ করে। এদের বলা হয় দন্ত্য ধ্বনি।

• প-বর্গীয় ধ্বনি: প, ফ, ব, ভ, ম- এ পাঁচটি বর্ণে দ্যোতিত ধ্বনির উচ্চারণে ওষ্ঠের সঙ্গে অধরের স্পর্শ ঘটে। এদের ওষ্ঠ্যধ্বনি বলে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)
১৪.
শব্দের মধ্যে দুটি ব্যঞ্জনের পরস্পর পরিবর্তন ঘটলে তাকে কী বলে-
  1. অসমীকরণ
  2. সমীভবন
  3. বিষমীভবন
  4. ধ্বনি বিপর্যয়
সঠিক উত্তর:
ধ্বনি বিপর্যয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধ্বনি বিপর্যয়
ব্যাখ্যা
• ধ্বনি বিপর্যয়:
শব্দের মধ্যে দুটি ব্যঞ্জনের পরস্পর পরিবর্তন ঘটলে তাকে ধ্বনি বিপর্যয় বলে।
যেমন:
- বাক্স > বাস্ক,
- রিক্সা > রিস্কা ইত্যাদি।

অনুরূপ- পিশাচ > পিচাশ, লাফ > ফাল।

-------------------
• বিষমীভবন: দুটো সমবর্ণের একটির পরিবর্তনকে বিষমীভবন বলে।
যেমন:
- শরীর > শরীল,
- লাল > নাল ইত্যাদি।

• সমীভবন:
শব্দমধ্যস্থ দুটি ভিন্ন ধ্বনি একে অপরের প্রভাবে অল্প-বিস্তর সমতা লাভ করে। এ ব্যাপারকে বলা হয় সমীভবন।
যেমন:
- জন্ম > জন্ম,
- কাঁদনা > কান্না ইত্যাদি।

• অসমীকরণ:
একই স্বরের পুনরাবৃত্তি দূর করার জন্য মাঝখানে যখন স্বরধ্বনি যুক্ত হয় তখন তাকে বলে অসমীকরণ।
যেমন:
- ধপ + ধপ > ধপাধপ,
- টপ + টপ > টপাটপ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
১৫.
কোনটি অঘোষ ধ্বনি?
সঠিক উত্তর:
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যাখ্যা
• ধ্বনির কম্পনমাত্রা অনুযায়ী বিভাজন:
ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে স্বরযন্ত্রের ধ্বনিদ্বারে বায়ুর কম্পন কমবেশি হওয়ার ভিত্তিতে ব্যঞ্জনধ্বনিকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়: ঘোষ ও অঘোষ।

• ঘোষ ব্যঞ্জন:
যেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ধ্বনিদ্বারের কম্পন অপেক্ষাকৃত বেশি, সেসব ধ্বনিকে বলা হয় ঘোষধ্বনি। যথা: ব, ভ, , দ, ধ, ন, র, ল, ড, ঢ, ড়, ঢ়,, ঝ, গ, , ঙ, হ।

• অঘোষ ব্যঞ্জন:
যেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ধ্বনিদ্বারের কম্পন অপেক্ষাকৃত কম, সেসব ধ্বনিকে বলা হয় অঘোষধ্বনি। যথা: প, ফ, ত, থ, স, ট, ঠ, চ, ছ, শ, ক. খ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১-সংস্করণ)।
১৬.
কোনটি অল্পপ্রাণ ব্যঞ্জন?
সঠিক উত্তর:
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যাখ্যা
• ধ্বনি সৃষ্টিতে বায়ুর প্রবাহ অনুযায়ী বিভাজন:
ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে বায়ুপ্রবাহের বেগ কমবেশি হওয়ার ভিত্তিতে ব্যঞ্জনধ্বনিকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়: অল্পপ্রাণ ও মহাপ্রাণ।

• অল্পপ্রাণ ব্যঞ্জন:
সেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ফুসফুস থেকে নির্গত বায়ুপ্রবাহের মাত্রা অপেক্ষাকৃত কম, সেগুলোকে বলা হয় অল্পপ্রাণ ধ্বনি। যেমন: প, ব, ত, দ, স, ট, ড, , চ, জ, শ, ক, গ ইত্যাদি।

• মহাপ্রাণ ব্যঞ্জন:
সেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ফুসফুস থেকে নির্গত বায়ুপ্রবাহ অপেক্ষাকৃত বেশি, সেগুলোকে বলা হয় মহাপ্রাণ ধ্বনি। যেমন: ফ, ভ, থ, ধ, ঠ, ঢ, ঢ়, ছ, ঝ, , ঘ, হ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১-সংস্করণ)।
১৭.
ম-এর স্বাভাবিক উচ্চারণ বজায় আছে কোন শব্দে?
  1. জন্ম
  2. স্মরণ
  3. শ্মশান
  4. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
জন্ম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জন্ম
ব্যাখ্যা
• ম বর্ণের উচ্চারণ:
ম বর্ণের সাধারণ উচ্চারণ [ম]। শব্দের প্রথম বর্ণে ম-ফলা থাকলে সেই বর্ণ উচ্চারণের সময়ে ম-এর উচ্চারণ [আঁ]-এর মতো হয়। 

• ম-এর [আঁ] উচ্চারণ: শ্মশান [শঁশান্‌], স্মরণ [শঁরোন্‌]।
• শব্দের মধ্যে ম-ফলা থাকলে সেই বর্ণ উচ্চারণে দ্বিত্ব হয় এবং সামান্য অনুনাসিক হয়। যেমন: আত্মীয় [আত্‌তিঁয়াে], পদ্ম [পদ্‌দোঁ]।
• কিছু ক্ষেত্রে ম-ফলায় ম্- এর উচ্চারণ বজায় থাকে। যেমন: যুগ্ম [জুগ্‌মাে), জন্ম [জন্‌মো), গুল্ম (গুল্‌মো)।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১-সংস্করণ)।
১৮.
'দেশি > দিশি; মুলা > মুলো' কোন ধরনের ধ্বনি পরিবর্তন?
  1. অপিনিহিতি
  2. অন্ত্যস্বরাগম
  3. স্বরসঙ্গতি
  4. অসমীকরণ
সঠিক উত্তর:
স্বরসঙ্গতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্বরসঙ্গতি
ব্যাখ্যা
• স্বরসঙ্গতি:
একটি স্বরধ্বনির প্রভাবে শব্দে অপর স্বরের পরিবর্তন ঘটলে তাকে স্বরসঙ্গতি বলে।
যেমন:
- দেশি > দিশি,
- বিলাতি > বিলিতি,
- মুলা > মুলো ইত্যাদি।

-------------------------
• অন্ত্যস্বরাগম:
কোনো কোনো সময় শব্দের শেষে অতিরিক্ত স্বরধ্বনি আসে। এরূপ স্বরাগমকে বলা হয় অন্ত্যস্বরাগম।
যেমন:
- দিশ্ > দিশা,
- পোখত্ > পোক্ত,
- বেঞ্চ > বেঞ্চি,
- সত্য > সত্যি ইত্যাদি।

• অপিনিহিতি:
পরের ই-কার আগে উচ্চারিত হলে কিংবা যুক্ত ব্যঞ্জনধ্বনির আগে ই-কার বা উ-কার উচ্চারিত হলে তাকে অপিনিহিতি বলে।
যেমন:
- আজি > আইজ,
- সাধু > সাউধ,
- রাখিয়া > রাইখ্যা,
- বাক্য > বাইক্য,
- সত্য > সইত্য,
- চারি > চাইর,
- মারি > মাইর ইত্যাদি।

• অসমীকরণ:
একই স্বরের পুনরাবৃত্তি দূর করার জন্য মাঝখানে যখন স্বরধ্বনি যুক্ত হয় তখন তাকে বলে অসমীকরণ।
যেমন:
- ধপ + ধপ > ধপাধপ,
- টপ + টপ > টপাটপ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।