পরীক্ষা আর্কাইভ

১০০ দিনে বিসিএস প্রস্তুতি [বিষয়ভিত্তিক]

পরীক্ষা১০০ দিনে বিসিএস প্রস্তুতি [বিষয়ভিত্তিক]তারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়25 minutes
মোট প্রশ্ন৩৯
সিলেবাস
সাধারণ বিজ্ঞান সম্পূর্ণ [৭০ নাম্বার]
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

১০০ দিনে বিসিএস প্রস্তুতি [বিষয়ভিত্তিক]

১০০ দিনে বিসিএস প্রস্তুতি [বিষয়ভিত্তিক] · তারিখ অনির্ধারিত · ৩৯ প্রশ্ন

.
নবজাতক শিশুর জন্য প্রথম টিকার কাজ করে কোনটি?
  1. ক) বিসিজি ভ্যাক্সিন
  2. খ) পোলিও ভ্যাক্সিন
  3. গ) ডিপিটি ভ্যাক্সিন
  4. ঘ) শালদুধ
ব্যাখ্যা

সন্তান প্রসবের পরপরই মায়ের বুকে যে হলদেটে বর্ণের তরল নিঃসরিত হয়, তাকে শালদুধ বলা হয়।
নবজাতক শিশুর জন্য প্রথম টিকার কাজ করে এই শালদুধ।
কারণ শালদুধে আছে প্রয়োজনীয় এন্টিবডি, খনিজ পদার্থ এবং ভিটামিন যা নবজাতকের বিভিন্ন ধরণের রোগ প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক প্রাণিবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি

.
বায়ুমণ্ডলের কোন অঞ্চলে ঝড়-ঝঞ্ঝার উৎপত্তি ঘটে?
  1. ক) ট্রপোস্ফিয়ার
  2. খ) স্ট্রাটোস্ফিয়ার
  3. গ) মেসোস্ফিয়ার
  4. ঘ) থার্মোস্ফিয়ার
ব্যাখ্যা

ভূপৃষ্ঠ থেকে ১৫ কি.মি. উচ্চতা পর্যন্ত বায়ুমণ্ডলের স্তরকে ট্রপোস্ফিয়ার বলে।
এ অঞ্চলে তাপমাত্রা ও চাপ উচ্চতা বৃদ্ধির সাথে সাথে কমতে থাকে। ট্রপোস্ফিয়ারে ঝড়, ঝঞ্ঝা প্রভৃতি প্রাকৃতিক বিপর্যয় ঘটে থাকে।
প্রায় সব ধরনের বিমান এ অঞ্চলেই চলাচল করে।
তাই ট্রপোস্ফিয়ারকে ক্ষুব্ধ মণ্ডলও বলা হয়।

সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক রসায়ন বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি

.
কৃষ্ণবিবরের ক্ষেত্রে নিচের কোন বিষয়টি ভুল?
  1. ক) অসীম আয়তন
  2. খ) অসীম ভর
  3. গ) অসীম মুক্তিবেগ
  4. ঘ) অসীম ঘনত্ব
ব্যাখ্যা

কৃষ্ণবিবরের অসীম ভর, অসীম ঘনত্ব, অসীম মুক্তিবেগ, অসীম অভিকর্ষজ ত্বরণ হলেও এর আয়তন সসীম।
অর্থাৎ ক্ষুদ্র একটি অংশে বিশাল পরিমাণ ভর কেন্দ্রীভূত অবস্থায় থাকে।
কৃষ্ণবিবরের মহাকর্ষ বল এতই প্রবল যে আলোর কণা ফোটনও এই মহাকর্ষ বলকে অতিক্রম করে দৃষ্টিগ্রাহ্য হতে পারে না।

সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক পদার্থবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি

.
সংক্রামক ব্যাধি কালাজ্বরের বাহক কোনটি?
  1. ক) লিশম্যানিয়া নামক বিশেষ ধরনের পরজীবী
  2. খ) এডিস মশকী
  3. গ) এক ধরনের উকুন
  4. ঘ) বেলেমাছি
ব্যাখ্যা

কালাজ্বর বাংলাদেশের একটি এন্ডেমিক সংক্রামক রোগ। Leishmania donovani নামক এক বিশেষ পরজীবীর সংক্রমণের কারণে কালাজ্বর হয়ে থাকে। অর্থাৎ কালাজ্বরের কারণ হলো এই বিশেষ ধরনের পরজীবী।
Leishmania donovani নামক এই বিশেষ পরজীবী Phlebotomas নামক বিশেষ ধরনের বেলেমাছি বা Sand fly এর মাধ্যমে এক ব্যক্তি থেকে অন্য সুস্থ ব্যক্তির শরীরে ছড়িয়ে পড়ে। তাই কালাজ্বরের বাহক হলো বেলেমাছি।

সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক উদ্ভিদবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি 

.
হৃৎপিণ্ডের সর্বাধিক পেশিবহুল অংশ কোনটি?
  1. ক) ডান অলিন্দ
  2. খ) ডান নিলয়
  3. গ) বাম অলিন্দ
  4. ঘ) বাম নিলয়
ব্যাখ্যা

ডান অলিন্দ হলো হৃৎপিণ্ডের সবচেয়ে কম পেশিবহুল অংশ আর বাম নিলয় হলো সর্বাধিক পেশিবহুল অংশ। ডান অলিন্দ মহাশিরার মাধ্যমে ফুসফুস ছাড়া দেহের অন্য সকল অঙ্গ থেকে অক্সিজেনরিক্ত রক্তগ্রহণ করে। বাম নিলয় মহাধমনির মাধ্যমে ফুসফুস ছাড়া দেহের অন্যান্য অংশে রক্ত পাম্প করে। দেহের প্রায় সমগ্র অংশে রক্ত পাম্প করতে হয় বলে বাম নিলয় হৃৎপিণ্ডের সবচেয়ে পেশিবহুল অংশ।

সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক প্রাণিবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি

.
উদ্ভিদের জন্য প্রয়োজনীয় গৌণ পুষ্টি উপাদান কোনটি?
  1. ক) ম্যাগনেসিয়াম
  2. খ) ম্যাংগানিজ
  3. গ) ফসফরাস
  4. ঘ) নাইট্রোজেন
ব্যাখ্যা

- উদ্ভিদের জন্য প্রয়োজনীয় মুখ্য পুষ্টি উপাদান বা ম্যাক্রোনিউট্রিয়েন্ট হলো ১০টি। এরা হলো নাইট্রোজেন, পটাশিয়াম, ফসফরাস, ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, কার্বন, হাইড্রোজেন, অক্সিজেন, সালফার এবং আয়রন।
- উদ্ভিদের জন্য প্রয়োজনীয় গৌণ পুষ্টি উপাদান বা মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট হলো ৬টি। এরা হলো জিংক, ম্যাংগানিজ, মোলিবডেনাম, বোরন, কপার এবং ক্লোরিন। 

সূত্র: মাধ্যমিক বিজ্ঞান বোর্ড বই, নবম-দশম শ্রেণি 

.
নিচের কোন রাশিটি শুধু মান দ্বারাই সম্পূর্ণভাবে প্রকাশ করা যায়?
  1. ক) দ্রুতি
  2. খ) ত্বরণ
  3. গ) ওজন
  4. ঘ) মন্দন
ব্যাখ্যা

- যে সকল ভৌত রাশিকে সম্পূর্ন রুপে প্রকাশ করার জন্য মান ও দিক উভয়ের প্রয়োজন হয় তাকে ভেক্টর রাশি বলে। যেমন : সরণ, বেগ, ওজন, ত্বরণ, মন্দন ইত্যাদি।
শুধু মান অথবা শুধু দিক অথবা উভয়ের পরিবর্তনে ভেক্টর রাশির পরিবর্তন হয়। 
- যে সকল ভৌত রাশিকে শুধু মান দিয়ে প্রকাশ করা যায়, দিক নির্দেশের প্রয়োজন হয় না তাদের স্কেলার রাশি বলে। যেমন : দৈর্ঘ্য, দ্রুতি, ভর ইত্যাদি।
শুধু মানের পরিবর্তনে স্কেলার রাশির পরিবর্তন হয়।

সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক পদার্থবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি 

.
নিচের কোনটি লবণ?
  1. ক) হাইড্রোজেন ক্লোরাইড
  2. খ) পটাশিয়াম অক্সাইড
  3. গ) সিলভার নাইট্রেট
  4. ঘ) ক্যালসিয়াম হাইড্রোক্সাইড
ব্যাখ্যা

- এসিডের প্রতিস্থাপনীয় হাইড্রোজেন পরমাণু ধাতু বা অপর কোন ধাতুধর্মী মূলক দ্বারা আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিস্থাপিত হয়ে যে যৌগ উৎপন্ন হয় তাকে লবণ বলে। যেমন- সোডিয়াম ক্লোরাইড (NaCl), ম্যাগনেসিয়াম সালফেট (MgSO4), জিংক সালফেট (ZnSO4), অ্যামোনিয়াম ক্লোরাইড (NH4Cl), সিলভার নাইট্রেট (AgNO3) ইত্যাদি। 
ধাতু, ক্ষারক বা ক্ষারের সঙ্গে আংশিক বা সম্পূর্ণ বিক্রিয়ার ফলে হাইড্রোজেন বা জল ছাড়া অপর যে নতুন যৌগটি উৎপন্ন হয় তাকে লবণ বলে। লবণের দুটি অংশে থাকে। ধাতু বা ধাতুধর্মী তড়িৎ ধনাত্মক অংশটিকে ক্ষারকীয় মূলক এবং অধাতু বা এসিডধর্মী তড়িৎ ঋনাত্বক অংশটিকে এসিড মূলক বলে। 
- ক্যালসিয়াম হাইড্রোক্সাইড, পটাশিয়াম অক্সাইড ইত্যাদি হলো ক্ষারক। 
- হাইড্রোজেন ক্লোরাইড হলো হাইড্রোক্লোরিক এসিড। এটি একটি অম্ল। 

সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক রসায়ন বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি 

.
নিচের কোনটি আলাদা?
  1. ক) শব্দ
  2. খ) মাটি
  3. গ) পানি
  4. ঘ) বাতাস
ব্যাখ্যা

- যা ইন্দ্রিয় গ্রাহ্য, যা কিছু স্থান দখল করে, যার ওজন আছে এবং বল প্রয়োগের সাহায্যে যার স্থির বা গতিশীল অবস্থার পরিবর্তন করা যায়, তাকেই পদার্থ বলে। 
মাটি, পানি, বাতাস এরা সবাই পদার্থ। 
- যা কোনো স্থান দখল করে না, ওজন নেই, বল প্রয়োগের সাহায্যে অবস্থান পরিবর্তন করা যায় না, শুধু উপস্থিতি অনুভব করা যায় তাকে বলা হয় শক্তি। 
শব্দ, আলো, বিদ্যুৎ, তাপ ইত্যাদি হলো শক্তি। 

সূত্র: প্রাথমিক বিজ্ঞান বোর্ড বই, পঞ্চম শ্রেণি

১০.
ভূ-চুম্বকের উত্তর মেরু কোথায় অবস্থিত?
  1. ক) এন্টার্কটিকা মহাদেশের ভিক্টোরিয়া অঞ্চলে
  2. খ) কানাডার উত্তর দিকে বুথিয়া উপদ্বীপে
  3. গ) প্রশান্ত মহাসাগরের কিরিবাতি দ্বীপে
  4. ঘ) দক্ষিণ আফ্রিকার উত্তমাশা অন্তরীপে
ব্যাখ্যা

১৬০০ খ্রিস্টাব্দে রাণী এলিজাবেথের পারিবারিক চিকিৎসক ড. গিলবার্ট বিভিন্ন পরীক্ষা দ্বারা প্রমাণ করেন যে পৃথিবী একটি চুম্বক।
এই ভূ-চুম্বকের দক্ষিণ মেরু কানাডার উত্তর দিকে বুথিয়া উপদ্বীপে এবং উত্তর মেরু এন্টার্কটিকা মহাদেশের ভিক্টোরিয়া অঞ্চলে অবস্থিত।
প্রকৃতপক্ষে ভূ-চুম্বকের দক্ষিণ মেরু ভৌগলিক উত্তর মেরু থেকে প্রায় ২৫০০ কিলোমিটার পশ্চিমে এবং ভূ-চুম্বকের উত্তর মেরু ভৌগলিক দক্ষিণ মেরু থেকে প্রায় ২২০০ কিলোমিটার পূর্বে অবস্থিত।

সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক পদার্থবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি

১১.
নিচের কোনটি বর্ণাধার নামে পরিচিত?
  1. ক) মাইটোকন্ড্রিয়া
  2. খ) প্লাস্টিড
  3. গ) কোষগহ্বর
  4. ঘ) নিউক্লিয়াস
ব্যাখ্যা

প্লাস্টিড উদ্ভিদকোষের প্রধান বৈশিষ্ট্য। সাধারণত প্রাণিকোষে প্লাস্টিড থাকে না। প্লাস্টিডকে বলা হয় বর্ণাধার। পাতা, ফুল বা ফলের যে বিচিত্র রঙ দেখা যায়, তা সবই এই প্লাস্টিডের কারণে। সবুজ প্লাস্টিড প্রধানত খাদ্য তৈরিতে সাহায্য করে। বর্ণহীন প্লাস্টিড খাদ্য সঞ্চয় করে। 

সূত্র: বিজ্ঞান বোর্ড বই, ষষ্ঠ শ্রেণি 

১২.
নিচের কোন উদ্ভিদে অগুচ্ছ মূল দেখা যায়?
  1. ক) কেয়া
  2. খ) ধান
  3. গ) নারিকেল
  4. ঘ) সুপারি
ব্যাখ্যা

অস্থানিক মূল হতে পারে দুই ধরনের, যেমন- গুচ্ছ মূল এবং অগুচ্ছ মূল। 
- যেসব মূল একত্রে গাদাগাদি করে গুচ্ছাকারে জন্মায় না বরং পরস্পর থেকে আলাদা থাকে, তাকে অগুচ্ছ মূল বলে। 
কেয়া গছের ঠেশমূল, বটের ঝুরিমূল এ ধরনের অগুচ্ছ মূল। 
- ধান, নারিকেল, সুপারি ইত্যাদি উদ্ভিদের থাকে গুচ্ছ মূল।

সূত্র: বিজ্ঞান বোর্ড বই, ষষ্ঠ শ্রেণি 

১৩.
নিচের কোন ব্যাকটেরিয়া লম্বা দন্ডের ন্যায়?
  1. ক) কক্কাস
  2. খ) ব্যাসিলাস
  3. গ) কমা
  4. ঘ) স্পাইরিলাম
ব্যাখ্যা

- ব্যাসিলাস দেখতে লম্বা দণ্ডের ন্যায়। ধনুষ্টংকার, রক্তামাশয় ইত্যাদি রোগ এরা সৃষ্টি করে। 
- কক্কাস ব্যাকটেরিয়ার আকৃতি গোলাকার। এরা এককভাবে অথবা দলবেঁধে থাকতে পারে, যেমন- নিউমোনিয়া রোগ সৃষ্টিকারী ব্যাকটেরিয়া। 
- কমা ব্যাকটেরিয়া বাঁকা দণ্ডের ন্যায়। মানুষের কলেরা রোগের ব্যাকটেরিয়া এ ধরনের। 
- স্পাইরিলাম ব্যাকটেরিয়ার আকৃতি প্যাঁচানো। 

সূত্র: বিজ্ঞান বোর্ড বই, সপ্তম শ্রেণি

১৪.
নিচের কোনটি অধাতু?
  1. ক) লোহা
  2. খ) এলুমিনিয়াম
  3. গ) পটাশিয়াম
  4. ঘ) হাইড্রোজেন
ব্যাখ্যা

- এলুমিনিয়াম, লোহা, সোডিয়াম, পটাশিয়াম ইত্যাদি হলো ধাতু। ধাতুসমূহ দেখতে চকচকে, তাপ ও বিদ্যুৎ সুপরিবাহী। 
- নাইট্রোজেন, অক্সিজেন, হাইড্রোজেন ইত্যাদি হলো অধাতু। সাধারণত এরা তাপ ও বিদ্যুৎ কুপরিবাহী এবং ধাতুর মতো চকচকে হয় না। 

সূত্র: বিজ্ঞান বোর্ড বই, ষষ্ঠ শ্রেণি 

১৫.
কোনো বস্তু আমরা দেখতে পাই যখন-
  1. ক) বস্তুটি আলো শোষণ করে
  2. খ) বস্তুটি আলো প্রতিফলিত করে
  3. গ) বস্তুটি আলো প্রতিসরিত করে
  4. ঘ) চোখ থেকে আলো বস্তুতে পড়ে
ব্যাখ্যা

আমরা তখনই কোনো বস্তুকে দেখি, যখন ঐ বস্তু থেকে আলো এসে আমাদের চোখে পড়ে। কোনো আলোর উৎস থেকে আলো গিয়ে কোনো বস্তুতে পড়লে, ঐ বস্তু থেকে আলো প্রতিফলিত হয়ে আমাদের চোখে এসে পড়ে- তখনই ঐ বস্তুটি আমরা দেখতে পাই।
কোনো কোনো বস্তুতে আলো পড়লে তা প্রতিফলিত হয় না, বস্তুটি সমস্ত আলো শোষণ করে নেয়। এসব বস্তু তাই দেখতে কালো দেখায়। 

সূত্র: বিজ্ঞান বোর্ড বই, ষষ্ঠ শ্রেণি 

১৬.
p- টাইপ অর্ধপরিবাহকের উদাহরণ কোনটি?
  1. ক) গ্যালিয়াম
  2. খ) আর্সেনিক
  3. গ) এন্টিমনি
  4. ঘ) বিসমাথ
ব্যাখ্যা

- কোনো বিশুদ্ধ অর্ধপরিবাহকে সামান্য পরিমাণে ত্রিযোজী মৌল অপদ্রব্য হিসাবে মেশানো হলে তাকে p- টাইপ অর্ধপরিবাহক বলে।
যেমন- বোরন, এলুমিনিয়াম, গ্যালিয়াম, ইন্ডিয়াম।
- কোনো বিশুদ্ধ অর্ধপরিবাহকে সামান্য পরিমাণে পঞ্চযোজী মৌল অপদ্রব্য হিসাবে মেশানো হলে তাকে n- টাইপ অর্ধপরিবাহক বলে।
যেমন- ফসফরাস, আর্সেনিক, এন্টিমনি, বিসমাথ।

সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক পদার্থবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি

১৭.
জাতীয় টিকাদান কর্মসূচীর আওতায় ১৫-৪৯ বছর বয়সী মহিলাদের কোন রোগের বিরুদ্ধে ভ্যাক্সিন দেওয়া হয়?
  1. ক) ধনুষ্টংকার
  2. খ) পোলিও
  3. গ) হেপাটাইটিস-বি
  4. ঘ) মেনিনজাইটিস
ব্যাখ্যা

জাতীয় টিকাদান কর্মসূচীর আওতায় ধনুষ্টংকার প্রতিরোধে মেয়েদের ১৫ বছর বয়স হলেই যথা শিগগির প্রথম ডোজ টিটেনাস টক্সয়েড টিকা নিতে হবে। তবে সরকারিভাবেই ৪৯ বছর বয়স পর্যন্ত এ টিকা প্রদান করা হয়। প্রথম ডোজের চার সপ্তাহ পর দ্বিতীয় ডোজ, তার ছয় মাস পর তৃতীয় ডোজ, এর এক বছর পর চতুর্থ ডোজ এবং শেষোক্ত ডোজের এক বছর পর পঞ্চম ডোজ বা শেষ ডোজ টিটেনাস টক্সয়েড টিকা নিতে হবে। গর্ভধারণের আগেই এই পাঁচ ডোজ টিকা নেওয়া থাকলে গর্ভকালীন আর টিটি টিকা নেওয়ার দরকার পড়ে না। গর্ভধারণের আগে দুই ডোজ নেওয়া থাকলে গর্ভকালীন তৃতীয় ডোজ এবং সন্তান প্রসবের পর চতুর্থ ও পঞ্চম ডোজ নিতে হবে। গর্ভধারণের আগে তিন ডোজ নেওয়া থাকলে এবং গর্ভকালীন এক বছর অতিক্রান্ত না হলে এ সময় চতুর্থ ডোজ নেওয়ার প্রয়োজন নেই। সন্তান প্রসবের পর চতুর্থ ও পঞ্চম ডোজ নিতে হবে। তবে আগে টিটি টিকা নেওয়া না থাকলে গর্ভকালীন দুই ডোজ টিকা নিতে হবে। এর মধ্যে শেষ ডোজটি সন্তান প্রসবের অন্তত এক মাস আগে নিতে হবে।

সূত্র: স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, বাংলাদেশ সরকার এর dghs.gov.bd ওয়েবসাইট

১৮.
নাইট্রিক এসিডে নিচের কোন মৌলিক পদার্থটি উপস্থিত?
  1. ক) গন্ধক
  2. খ) দস্তা
  3. গ) অক্সিজেন
  4. ঘ) সোডিয়াম
ব্যাখ্যা

নাইট্রিক এসিডের সংকেত হলো HNO3। অর্থাৎ নাইট্রিক এসিডের একটি অণুতে একটি হাইড্রোজেন পরমাণু, একটি নাইট্রোজেন পরমাণু এবং তিনটি অক্সিজেন পরমাণু বিদ্যমান।

সুতরাং নাইট্রিক এসিডে নাইট্রোজেন, হাইড্রোজেন এবং অক্সিজেন এই তিনটি মৌলিক পদার্থ উপস্থিত।

সূত্র: মাধ্যমিক রসায়ন বোর্ড বই, নবম-দশম শ্রেণি

১৯.
ভারি পানিতে নিচের কোনটি বিদ্যমান থাকে?
  1. ক) প্রোটিয়াম
  2. খ) ডিউটেরিয়াম
  3. গ) ট্রিটিয়াম
  4. ঘ) ভ্যানাডিয়াম
ব্যাখ্যা

পানির সংকেত হলো H2O এবং ভারি পানির সংকেত হলো D2O।
পানিতে উপস্থিত থাকে প্রোটিয়াম এবং অক্সিজেন।
ভারি পানিতে উপস্থিত থাকে ডিউটেরিয়াম এবং অক্সিজেন।
প্রোটিয়াম, ডিউটেরিয়াম এবং ট্রিটিয়াম হলো হাইড্রোজেনের তিনটি আইসোটোপ। সাধারণভাবে হাইড্রোজেন বলতে প্রোটিয়ামকেই বোঝায়।

সূত্রঃ মাধ্যমিক রসায়ন বোর্ড বই, নবম-দশম শ্রেণি

২০.
গ্যালভানাইজিং প্রক্রিয়ায় নিচের কোনটি ব্যবহৃত হয়?
  1. ক) নিকেল
  2. খ) জিংক
  3. গ) ক্রোমিয়াম
  4. ঘ) তুঁতে
ব্যাখ্যা

- লোহার তৈরি জিনিসের ওপর জিংকের প্রলেপ দেওয়াকে বলা হয় গ্যালভানাইজিং। গ্যালভানাইজিং এর উদ্দেশ্য হলো লোহার জিনিসকে মরিচার হাত থেকে রক্ষা করা।
- ধাতুর তৈরি জিনিসপত্রের ক্ষয় রোধের জন্য তড়িৎ বিশ্লেষণ পদ্ধতির সাহায্যে একটি ধাতুর ওপর অন্য ধাতুর প্রলেপ দেওয়াকে বলা হয় ইলেকট্রোপ্লেটিং। সাধারণত নিকেল ব ক্রোমিয়াম ধাতু এই প্রক্রিয়ায় ব্যবহার করা হয়।

সূত্র: মাধ্যমিক রসায়ন বোর্ড বই, নবম-দশম শ্রেণি

২১.
নিচের কোনটির সাহায্যে পানি বিশুদ্ধ করা যায়?
  1. ক) ইপসম লবণ
  2. খ) সাদা ভিট্রিওল
  3. গ) পটাশিয়াম ক্লোরাইড
  4. ঘ) পটাশ এলাম
ব্যাখ্যা

পটাশ এলাম বা ফিটকিরি পানিকে জীবাণুমুক্ত করতে সাহায্য করে। ফিটকিরি হলো আর্দ্র এলুমিনিয়াম পটাশিয়াম সালফেট [K2SO4.Al2(SO4)3.24H20]।
পটাশ এলাম ছাড়াও ব্লিচিং পাউডার, ক্লোরিন ট্যাবলেট প্রভৃতিও পানি বিশুদ্ধকরণে ব্যবহৃত হয়।

সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক রসায়ন বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি

২২.
উড পেন্সিলের সীস হিসাবে কোনটি ব্যবহৃত হয়?
  1. ক) কার্বন
  2. খ) ফসফরাস
  3. গ) সালফার
  4. ঘ) সিলভার
ব্যাখ্যা

গ্রাফাইট, হীরক, গ্রাফিন, ফুলারিন প্রভৃতি হলো কার্বনের বিভিন্ন রূপভেদ। উড পেন্সিলের সীস হিসাবে ব্যবহৃত হয় গ্রাফাইট। গ্রাফাইট অধাতু হওয়া সত্ত্বেও তাপ ও বিদ্যুৎ পরিবাহী। এছাড়া সোডিয়াম ধাতু নিষ্কাশনে গ্রাফাইট অ্যানোড তড়িদ্বার হিসাবে ব্যবহৃত হয়।

সূত্র: মাধ্যমিক রসায়ন বোর্ড বই, নবম-দশম শ্রেণি 

২৩.
তড়িৎচুম্বকীয় তরঙ্গের উদ্ভাবক কে?
  1. ক) ভ্যান মুসচেন ব্রোয়েক
  2. খ) বেঞ্জামিন ফ্রাঙ্কলিন
  3. গ) সি. এফ. ডুফে
  4. ঘ) জেমস ক্লার্ক ম্যাক্সওয়েল
ব্যাখ্যা

- লিডেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভ্যান মুসচেন ব্রোয়েক ১৭৪৬ সালে তড়িৎ ধারক অবিষ্কার করেন.।
- বেঞ্জামিন ফ্রাঙ্কলিন ১৭৪৭ সালে আবিষ্কার করেন যে চার্জ দুই প্রকারঃ ধনাত্মক ও ঋণাত্মক।
- সি. এফ. ডুফে ১৭৩৩ সালে আবিষ্কার করেন যে ঘর্ষণের ফলে উৎপন্ন চার্জ বিপরীতধর্মী।
- জেমস ক্লার্ক ম্যাক্সওয়েল তড়িৎচুম্বকীয় তরঙ্গের উদ্ভাবন করেন এবং এর সাহয্যে তিনি তড়িৎ বল এবং চৌম্বক বলকে একীভূত করেন।

সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক পদার্থবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি

২৪.
নিচের কোনটি ব্যতিক্রম?
  1. ক) পানি
  2. খ) ইথানল
  3. গ) বেনজিন
  4. ঘ) ইথার
ব্যাখ্যা

যে পদার্থ অন্যান্য পদার্থকে দ্রবণে দ্রবীভূত করতে পারে তাকে দ্রাবক বলে।
আর যে পদার্থটি দ্রাবক দ্বারা দ্রবণে দ্রবীভূত হয়, তাকে বলা হয় দ্রব।
- পানি, অ্যামোনিয়া ইত্যাদি হলো অজৈব দ্রাবক পদার্থ।
- ইথানল, বেনজিন, ইথার, ক্লোরোফর্ম ইত্যাদি হলো জৈব দ্রাবক পদার্থ।

সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক রসায়ন বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি

২৫.
কোনটির অভাবে রক্তশূন্যতা দেখা দেয়?
  1. ক) থায়ামিন
  2. খ) রাইবোফ্ল্যাভিন
  3. গ) নিয়াসিন
  4. ঘ) কোবালামিন
ব্যাখ্যা

- দেহে থায়ামিনের চরম অভাবে বেরিবেরি রোগের লক্ষণ প্রকাশ পায়। এর অভাবে স্নায়ুর দুর্বলতা, মানসিক অবসাদ, ক্লান্তি, খাওয়ায় অরুচি, ওজনহীনতা ইত্যাদি সমস্যা দেখা দেয়।
- রাইবোফ্ল্যাভিনের অভাবে ঠোঁটের দুপাশে ফাটল দেখা দেয়, মুখে ও জিভে ঘা হয়, ত্বক খসখসে হয়। চোখ দিয়ে পানি পড়ে। এর অভাবে তীব্র আলোতে চোখ খুলতে অসুবিধা হয়।
- নিয়াসিনের অভাবে পেলেগ্রা হয়।
- কোবালামিন/ সায়ানোকোবালামিন/ ভিটামিন B12 এর অভাবে রক্তশূন্যতা দেখা দেয় এবং স্নায়ুর অবক্ষয় ঘটে।

সূত্র: মাধমিক বিজ্ঞান বোর্ড বই, নবম-দশম শ্রেণি 

২৬.
জীবের শ্রেণিবিন্যাসে আন্তর্জাতিক কোড চিহ্নিত কয়টি ধাপ আছে?
  1. ক) ৫টি
  2. খ) ৭টি
  3. গ) ৯টি
  4. ঘ) ২টি
ব্যাখ্যা

একটি জীবকে প্রজাতি পর্যায়ে বিন্যাসে মূলত আন্তর্জাতিক কোড চিহ্নিত সাতটি ধাপ আছে।
যেমন- রাজ্য, পর্ব, শ্রেণি, বর্গ, গোত্র, গণ, প্রজাতি।

সূত্রঃ মাধ্যমিক জীববিজ্ঞান বোর্ড বই নবম-দশম শ্রেণি

২৭.
নিচের কোন ক্ষেত্রে প্রকৃত কোষ দেখা যায়?
  1. ক) ভাইরাস
  2. খ) ব্যাকটেরিয়া
  3. গ) নস্টক
  4. ঘ) ছত্রাক
ব্যাখ্যা

- ভাইরাস অকোষীয়। ভাইরাসের দেহে কেবল নিউক্লিক এসিড এবং প্রোটিন আবরণ উপস্থিত থাকে।
- ব্যাকটেরিয়া, নীলাভ সবুজ শৈবাল (নস্টক) ইত্যাদি ক্ষেত্রে আদিকোষ বা প্রাককেন্দ্রিক কোষ দেখা যায়। এ ধরনের কোষে কোনো সুগঠিত নিউক্লিয়াস থাকে না। এসব কোষে মাইটোকন্ড্রিয়া, প্লাস্টিড, এন্ডোপ্লাজমিক রেটিকুলাম ইত্যাদি অঙ্গাণু থাকে না, তবে রাইবোজোম থাকে।
- অধিকাংশ জীবকোষই প্রকৃত কোষ বা সুকেন্দ্রিক কোষ ধরনের। ছত্রাক, বিরুৎ, গুল্ম, বৃক্ষ, মানুষ, গরু ইত্যাদি প্রায় সকল ক্ষেত্রেই সুকেন্দ্রিক কোষ দেখা যায়। এসব কোষের নিউক্লিয়াস সুগঠিত এবং রাইবোজোমসহ সকল অঙ্গাণু উপস্থিত থাকে।

সূত্র: মাধ্যমিক জীববিজ্ঞান বোর্ড বই, নবম-দশম শ্রেণি

২৮.
উদ্ভিদে উপস্থিত জাইলেম ও ফ্লোয়েম কী ধরনের কোষকলা?
  1. ক) জটিল টিস্যু
  2. খ) সরল টিস্যু
  3. গ) নিঃস্রাবী টিস্যু
  4. ঘ) ক্ষরণকারী টিস্যু
ব্যাখ্যা

বিভিন্ন ধরনের কোষের সমন্বয়ে যে স্থায়ী টিস্যু তৈরি হয়, তাকে জটিল টিস্যু বলে। এরা উদ্ভিদে পরিবহনের কাজ করে, তাই এদের পরিবহন টিস্যুও বলা হয়। এ টিস্যু দুই ধরনের- জাইলেম ও ফ্লোয়েম। এরা একত্রে টিস্যুগুচ্ছ গঠন করে।

সূত্র: মাধ্যমিক জীববিজ্ঞান বোর্ড বই, নবম-দশম শ্রেণি

২৯.
প্রাণিদেহের তরল যোজক কলা কোনটি?
  1. ক) কোমলাস্থি
  2. খ) লসিকা
  3. গ) মূত্র
  4. ঘ) ঘাম
ব্যাখ্যা

- তরল যোজক কলার মাতৃকা তরল। মাতৃকায় বিভিন্ন ধরনের জৈব পদার্থ দ্রবীভূত অবস্থায় থাকে। তরল যোজক কলা দুই ধরনের- রক্ত এবং লসিকা।
- কোমলাস্থি ও অস্থি হলো স্কেলিটাল যোজক টিস্যু।
- মূত্র ও ঘাম হলো দেহ থেকে নির্গত বর্জ্য পদার্থ।

সূত্র: মাধ্যমিক জীববিজ্ঞান বোর্ড বই, নবম-দশম শ্রেণি 

৩০.
মানবদেহের মেরুদণ্ডে হাড়ের সংখ্যা কতটি?
  1. ক) ২৯টি
  2. খ) ২৫টি
  3. গ) ৬০টি
  4. ঘ) ২৬টি
ব্যাখ্যা

একজন পূর্ণ বয়স্ক ব্যক্তির শরীরে মেরুদণ্ডে হাড় থাকে ২৬টি।
আর নবজাতকের শরীরে মেরুদণ্ডে হাড় থাকে ৩৩টি।
পূর্ণ বয়স্ক ব্যক্তির শরীরে মেরুদণ্ডে থাকেঃ
- ৭টি গ্রীবাদেশীয় কশেরুকা
- ১২টি বক্ষদেশীয় কশেরুকা
- ৫টি কটিদেশীয় কশেরুকা
- ৫টি হাড় একীভূত হয়ে একটি শ্রোণিদেশীয় কশেরুকা
- ৪টি হাড় একীভূত হয়ে একটি পুচ্ছদেশীয় কশেরুকা 
- এই সর্বমোট ২৬টি কশেরুকা।
শৈশাবস্থায় শ্রোণিদেশীয় ও পুচ্ছদেশীয় হাড়গুলো একীভূত না হওয়ায় তখন মেরুদণ্ডে মোট অস্থির সংখ্যা থাকে ৩৩টি।

সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক প্রাণিবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি

৩১.
দুর্বলতম মৌলিক বল কোনটি?
  1. ক) মহাকর্ষ বল
  2. খ) তাড়িতচৌম্বক বল
  3. গ) সবল নিউক্লিয় বল
  4. ঘ) দুর্বল নিউক্লিয় বল
ব্যাখ্যা

যে সকল বল মূল বা স্বাধীন অর্থাৎ যে সকল বল অন্য কোনো বল থেকে উৎপন্ন হয় না বা অন্য কোনো বলের কোনো রূপ নয় বরং অন্যান্য বল এই সকল বলের কোনো না কোনো রূপের প্রকাশ তাদেরকে মৌলিক বল বলে।
মৌলিক বল হলো চারটি- মহাকর্ষ বল, তাড়িতচৌম্বক বল, সবল নিউক্লিয় বল, দুর্বল নিউক্লিয় বল।
ভরের কারণে মহাবিশ্বের যেকোনো দুটি বস্তুর মধ্যকার পারস্পরিক আকর্ষণ বলকে মহাকর্ষ বলে। মহাকর্ষ একটি সার্বজনীন বল৷ চারটি মৌলিক বলের মধ্যে মহাকর্ষ হলো দুর্বলতম বল।

সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক পদার্থবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি;

৩২.
শ্রাব্যতার প্রারম্ভিক সীমার তীব্রতা লেভেল কত?
  1. ক) ২০ ডেসিবেল
  2. খ) ২০০০০ ডেসিবেল
  3. গ) ০ ডেসিবেল
  4. ঘ) ১০ ডেসিবেল
ব্যাখ্যা

ব্যবহারিক ক্ষেত্রে কোনো শব্দের তীব্রতা বোঝার জন্য তীব্রতা লেভেল ব্যবহার করা হয়। কোনো শব্দের তীব্রতা ও প্রমাণ তীব্রতার অনুপাতের লগারিদমকে ঐ শব্দের তীব্রতা লেভেল বলে।
শ্রাব্যতার প্রারম্ভিক সীমার তীব্রতা লেভেল ০ ডেসিবেল। স্বাভাবিক শ্বাস-প্রশ্বাসের তীব্রতা লেভেল ১০ ডেসিবেল।
স্বাভাবিক কথোপকথনের তীব্রতা লেভেল ৬০ ডেসিবেল।
শ্রুতি যন্ত্রণার আরম্ভ হয় ১২০ ডেসিবেল তীব্রতা লেভেলে।
মানুষের শ্রাব্যতার সীমার সূচনা হয় ২০ হার্জ কম্পাংক থেকে।

সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক পদার্থবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি

৩৩.
শুষ্ককোষে ধনাত্মক তড়িৎদ্বার হিসাবে কাজ করে কোনটি?
  1. ক) অ্যামোনিয়াম ক্লোরাইড
  2. খ) ধাতব টুপিযুক্ত কার্বন দন্ড
  3. গ) দস্তার চোঙ
  4. ঘ) ম্যাংগানিজ ডাইঅক্সাইড
ব্যাখ্যা

টর্চ লাইট, বিভিন্ন রকম কন্ট্রোলার, নানা রকম খেলনা ইত্যাদি ক্ষেত্রে যে ব্যাটারি ব্যবহার করা হয়, তাকে ড্রাই সেল বা শুষ্ক কোষ বলে। শুষ্ক কোষে দস্তার চোঙ ঋণাত্মক তড়িৎদ্বার বা অ্যানোড হিসাবে কাজ করে আর ধাতব টুপি দিয়ে ঢাকা কার্বন দন্ডের উপরিভাগ ধনাত্মক তড়িৎদ্বার বা ক্যাথোড হিসাবে কাজ করে৷

সূত্র: বিজ্ঞান বোর্ড বই, অষ্টম শ্রেণি

৩৪.
ফটোগ্রাফিক কাগজের উপর আলোকক্রিয়ার জন্য শক্তির কীরূপ পরিবর্তন ঘটে?
  1. ক) তড়িৎশক্তি আলোকশক্তিতে রূপান্তরিত হয়
  2. খ) আলোকশক্তি তড়িৎশক্তিতে রূপান্তরিত হয়
  3. গ) আলোকশক্তি রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়
  4. ঘ) রাসায়নিক শক্তি আলোকশক্তিতে রূপান্তরিত হয়
ব্যাখ্যা

- ফটোগ্রাফিক কাগজের উপর আলোকক্রিয়ায় আলোকশক্তি রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়।
- ফটো- ইলেকট্রিক কোষে আলোকশক্তি তড়িৎশক্তিতে রূপান্তরিত হয়।

সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক পদার্থবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি

৩৫.
সাধারণত সাইক্লোন তৈরি হতে সাগরের তাপমাত্রা কত হওয়া প্রয়োজন?
  1. ক) ২০° ফারেনহাইটের বেশি
  2. খ) ২৭° সেলসিয়াসের বেশি
  3. গ) ১৫ কেলভিনের বেশি
  4. ঘ) ৩৬° সেলসিয়াসের বেশি
ব্যাখ্যা

নিম্নচাপ ও উচ্চ তাপমাত্রা সাইক্লোন সৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সাধারণত সাইক্লোন তৈরিতে সাগরের তাপমাত্রা ২৭° সেলসিয়াসের বেশি হওয়া প্রয়োজন। দুর্ভাগ্যবশত বঙ্গোপসাগরে প্রায় সারা বছরই এই তাপমাত্রার চেয়ে বেশি থাকে।

সূত্র: মাধ্যমিক বিজ্ঞান বোর্ড বই, নবম-দশম শ্রেণি

৩৬.
সাইক্লোনের সময় নদীবন্দরের ক্ষেত্রে কয়টি মহাবিপদ সংকেত ব্যবহৃত হয়?
  1. ক) ১০টি
  2. খ) ২টি
  3. গ) ৪টি
  4. ঘ) ১টি
ব্যাখ্যা

ঝড়ের সময় আবহাওয়া অধিদপ্তরের দেওয়া সমুদ্রবন্দরের ক্ষেত্রে ১০টি এবং নদীবন্দরের ক্ষেত্রে ৪টি সংকেত নির্ধারিত আছে। এই সংকেতগুলো সমুদ্রবন্দর ও নদীবন্দরের ক্ষেত্রে ভিন্ন বার্তা বহন করে।
- ১ নম্বর নৌ সতর্কতা সংকেত: বন্দর এলাকা ক্ষণস্থায়ী ঝোড়ো আবহাওয়ার কবলে নিপতিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৬০ কিলোমিটার গতিবেগের কালবৈশাখীর ক্ষেত্রেও এই সংকেত প্রদর্শিত হয়। এই সংকেত আবহাওয়ার চলতি অবস্থার ওপর সতর্ক নজর রাখারও তাগিদ দেয়।
- ২ নম্বর নৌ হুঁশিয়ারি সংকেত: বন্দর এলাকায় নিম্নচাপের সমতুল্য তীব্রতার একটি ঝড়, যার গতিবেগ ঘণ্টায় অনূর্ধ্ব ৬১ কিলোমিটার বা একটি কালবৈশাখী, যার বাতাসের গতিবেগ ৬১ কিলোমিটার বা তদূর্ধ্ব। নৌযান এদের যেকোনোটির কবলে নিপতিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ৬৫ ফুট বা তার কম দৈর্ঘ্যবিশিষ্ট নৌযানকে দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে হবে।
- ৩ নম্বর নৌ বিপৎসংকেত: বন্দর এলাকা ঝড়ে কবলিত। ঘণ্টায় সর্বোচ্চ একটানা ৬২-৮৮ কিলোমিটার পর্যন্ত গতিবেগের একটি সামুদ্রিক ঝড় শিগগিরই বন্দর এলাকায় আঘাত হানতে পারে। সব নৌযানকে অবিলম্বে নিরাপদ আশ্রয় গ্রহণ করতে হবে।
- ৪ নম্বর নৌ মহাবিপদ সংকেত: বন্দর এলাকা একটি প্রচণ্ড বা সর্বোচ্চ তীব্রতার সামুদ্রিক ঝড়ে কবলিত এবং শিগগিরই বন্দর এলাকায় আঘাত হানবে। ঝড়ে বাতাসের সর্বোচ্চ একটানা গতিবেগ ঘণ্টায় ৮৯ কিলোমিটার বা তদূর্ধ্ব। সব ধরনের নৌযানকে নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে হবে।
১ এবং ২ নম্বর সংকেত কালবৈশাখী এবং বর্ষাকালীন ঝড়ো হাওয়ার জন্য প্রযোজ্য। ৩ এবং ৪ নং সংকেত সমুদ্রবন্দরকেন্দ্রিক বড় ঝড় এবং ঘূর্ণিঝড় এর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। তাই নৌ বন্দরের জন্য ৪টি সতর্কতা সংকেত থাকলেও সাইক্লোন জনিত পূর্বাভাসের জন্য প্রযোজ্য সতর্কতা সংকেত ২টি এবং মহাবিপৎসংকেত ১টি।

সূত্র: খাদ্য ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রনালয় এর দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ব্যুরো কর্তৃক প্রকাশিত ''ঘূর্ণিঝড় ও আবহাওয়ার নতুন সতর্ক সংকেত এবং গণদুর্যোগ বার্তা''।

৩৭.
ফোটন বলতে কী বোঝায়?
  1. ক) শব্দের তরঙ্গ ধর্মের একক
  2. খ) আলোর কণা ধর্মের একক
  3. গ) কোনো ফুটন্ত বস্তুর তাপ প্রবাহের পরিমাপ
  4. ঘ) কৃষ্ণবিবরের ভরের পরিমাপ
ব্যাখ্যা
ফোটন হচ্ছে আলোর কণা বা ক্ষুদ্রতম একক।
প্লাঙ্কের তত্ত্ব অনুসারে - আলোকরশ্মি কোন শক্তি হতে অনবরত বের না হয়ে অসংখ্য ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র বিচ্ছিন্ন প্যাকেট বা শক্তি বের হয়। প্রত্যেক বর্ণের আলোর জন্য এক একটি বিচ্ছিন্ন প্যাকেটের শক্তির নির্দিষ্ট মান রয়েছে। এই এক একটি বিচ্ছিন্ন প্যাকেটকে কোয়ান্টাম বা ফোটন বলে।
ফোটনের কিছু ধর্ম বা বৈশিষ্ট্য দেয়া হলো-
১. পদার্থের ক্ষুদ্র অংশ কে যেমন পরমাণু বলে, তেমনি আলোর ক্ষুদ্র অংশকে ফোটন বলে।
২. ফোটন আলোর বেগে প্রবাহিত হয়।
৩. ফোটনের স্থিতি ভর শূন্য।
৪. প্রতি ফোটনের নির্দিষ্ট শক্তি এবং নির্দিষ্ট রৈখিক ভরবেগ আছে।
৫. ফোটন তড়িৎ নিরপেক্ষ। এর কোন চার্জ নেই।
৬. ফোটন এর কণা-তরঙ্গ দ্বৈত রুপ আছে।
সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক পদার্থবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি
৩৮.
পর পর একটি জোয়ার ও একটি ভাটার মধ্যবর্তী সময় ব্যবধান কত?
  1. ক) ১২ ঘন্টা
  2. খ) ৬ ঘন্টা
  3. গ) ২৪ ঘন্টা
  4. ঘ) ৩ ঘন্টা
ব্যাখ্যা

চন্দ্র ও সূর্যের আকর্ষণ শক্তি এবং পৃথিবীর কেন্দ্রাতিগ শক্তি প্রভৃতি কারণে সমুদ্রের পানি নির্দিষ্ট সময় অন্তর এক জায়গায় ফুলে ওঠে আবার অন্য জায়গায় নেমে যায়। সমুদ্রের পানির এভাবে ফুলে ওঠাকে জোয়ার এবং নেমে যাওয়াকে ভাটা বলে।
সমুদ্রের একই জায়গায় প্রতিদিন দুইবার জোয়ার এবং দুইবার ভাটা হয়। উপকূলের কোনো স্থানে পর পর দুইটি জোয়ার কিংবা পর পর দুইটি ভাটার মধ্যবর্তী সময় ব্যবধান ১২ ঘন্টা। জোয়ারের প্রায় ৬ ঘন্টা পরে হয় ভাটা।

সূত্র: মাধ্যমিক ভূগোল বোর্ড বই, নবম-দশম শ্রেণি

৩৯.
মানুষের জিহ্বা আসলে কী?
  1. ক) বিশেষ ধরনের অনৈচ্ছিক পেশি
  2. খ) এক ধরনের অর্ধকঠিন যোজক কলা
  3. গ) রূপান্তরিত অন্তঃক্ষরা গ্রন্থি
  4. ঘ) কয়েকটি ঐচ্ছিক পেশির সমন্বয়
ব্যাখ্যা

জিহ্বা আসলে বেশ কয়েকটি ঐচ্ছিক পেশির সমন্বিত রূপ। হাইপোগ্লোসাল নামক করোটিক স্নায়ু জিহ্বাতে উপস্থিত বেশিরভাগ পেশির সঞ্চালনের জন্য দায়ী।

সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক প্রাণিবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি